كتاب الجنائز

১৬. জানাযা-কাফন-দাফনের অধ্যায়

অধ্যায় ১৬ · ১৫০ টি হাদীস

১৮০. গুনাহ মার্জনাকারী রোগের বর্ণনা।

باب الأَمْرَاضِ الْمُكَفِّرَةِ لِلذُّنُوبِ

৩০৭৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يُقَالُ لَهُ أَبُو مَنْظُورٍ عَنْ عَمِّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي، عَنْ عَامِرٍ الرَّامِ، أَخِي الْخُضْرِ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ النُّفَيْلِيُّ هُوَ الْخُضْرُ وَلَكِنْ كَذَا قَالَ - قَالَ إِنِّي لَبِبِلاَدِنَا إِذْ رُفِعَتْ لَنَا رَايَاتٌ وَأَلْوِيَةٌ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا لِوَاءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ تَحْتَ شَجَرَةٍ قَدْ بُسِطَ لَهُ كِسَاءٌ وَهُوَ جَالِسٌ عَلَيْهِ وَقَدِ اجْتَمَعَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِمْ فَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَسْقَامَ فَقَالَ " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَصَابَهُ السَّقَمُ ثُمَّ أَعْفَاهُ اللَّهُ مِنْهُ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى مِنْ ذُنُوبِهِ وَمَوْعِظَةً لَهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ وَإِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مَرِضَ ثُمَّ أُعْفِيَ كَانَ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عَقَلُوهُ وَلَمْ يَدْرِ لِمَ أَرْسَلُوهُ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِمَّنْ حَوْلَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الأَسْقَامُ وَاللَّهِ مَا مَرِضْتُ قَطُّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُمْ عَنَّا فَلَسْتَ مِنَّا " . فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ عَلَيْهِ كِسَاءٌ وَفِي يَدِهِ شَىْءٌ قَدِ الْتَفَّ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمَّا رَأَيْتُكَ أَقْبَلْتُ إِلَيْكَ فَمَرَرْتُ بِغَيْضَةِ شَجَرٍ فَسَمِعْتُ فِيهَا أَصْوَاتَ فِرَاخِ طَائِرٍ فَأَخَذْتُهُنَّ فَوَضَعْتُهُنَّ فِي كِسَائِي فَجَاءَتْ أُمُّهُنَّ فَاسْتَدَارَتْ عَلَى رَأْسِي فَكَشَفْتُ لَهَا عَنْهُنَّ فَوَقَعَتْ عَلَيْهِنَّ مَعَهُنَّ فَلَفَفْتُهُنَّ بِكِسَائِي فَهُنَّ أُولاَءِ مَعِي . قَالَ " ضَعْهُنَّ عَنْكَ " . فَوَضَعْتُهُنَّ وَأَبَتْ أُمُّهُنَّ إِلاَّ لُزُومَهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " أَتَعْجَبُونَ لِرُحْمِ أُمِّ الأَفْرَاخِ فِرَاخَهَا " . قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَوَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ أُمِّ الأَفْرَاخِ بِفِرَاخِهَا ارْجِعْ بِهِنَّ حَتَّى تَضَعَهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُنَّ وَأُمُّهُنَّ مَعَهُنَّ " . فَرَجَعَ بِهِنَّ .

حدَّثنا عبدُ الله بن محمدِ النُّفيليُّ وإبراهيمُ بن مَهديٍّ المِصِّيصِيُّ -المعنى- قالا: حدَّثنا أبو المليحِ، عن محمدِ بن خالدٍ قال إبراهيم: السُّلَمي -عن أبيه عن جده- وكانت له صحبةٌ من رسول الله -صلَّى الله عليه وسلم- قال: سمعتُ رسولَ الله -صلَّى الله عليه وسلم- يقول: "إن العَبدَ إذا سَبَقَت له من الله عزَّ وجلَّ منزلَةٌ لم يَبلُغْها بعملِه، ابتلاه اللهُ جل وعز في جَسَدِه، أو في مالِه، أو في وَلَدِه -زاد ابنُ نُفَيلِ: "ثم صَبَّرَه على ذلك" ثم اتفقا- "حتَّى يُبلغَهُ المنزلةَ التي سبقتْ له من الله جل وعز

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৭৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ....... আমের রাম (যিনি খুযর সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমাদের শহরে ছিলাম। হঠাৎ আমরা কিছু নিশান ও পতাকা দেখতে পাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এ সব কি? লোকেরা বলেঃ এ সব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিশান। তখন আমি তাঁর কাছে আসি। এ সময় তিনি একটি গাছেব নীচে কম্বলের উপর বসা ছিলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও চারদিকে উপবিষ্ট ছিলেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে সেখানে বসে পড়ি।

এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন ধরনের অসুখ সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যখন কোন মুমিন রোগগ্রস্ত হয়, এরপর আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করেন, ঐ অসুখ তার বিগত জীবনের গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায় এবং তার ভবিষ্যত জীবনের জন্য তা নসীহতস্বরূপ হয়। অপরপক্ষে, যখন কোন মুনাফিক অসুস্থ হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠে, তার উদাহরণ ঐ উটের ন্যায়, যাকে তার মালিক বেঁধে রাখার পর পুনরায় বন্ধনমুক্ত করে দেয়। অথচ সে জানে না, তাকে কি জন্য বাঁধা হয়েছিল এবং কেন বন্ধনমুক্ত করা হলো।

তখন তাঁর পাশের জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অসুখ কি জিনিস? আল্লাহর শপথ! আমি তো কখনো অসুস্থ হইনি! তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি এখান থেকে উঠে যাও, তুমি আমাদের দলভুক্ত নও। এমতাবস্থায় আমরা যখন তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলাম, তখন সেখানে কম্বল পরিহিত জনৈক ব্যক্তি হাযির হয়, যার হাতে কিছু জিনিস ছিল। তখন সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে দেখার পর যখন আপনার নিকট আসছিলাম, তখন পথিমধ্যে একটা ঝোপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন সেখানে আমি চড়ুই পাখির বাচ্চার কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাই, যাদের ধরে আমি আমার কম্বলের মাঝে রাখি। এ সময় এদের মা এসে আমার মাথার উপর ঘুরতে থাকে। তখন আমি বাচ্চাদের উপর হতে কম্বল সরিয়ে নিলে তৎক্ষণাৎ চড়ুই পাখিটি তার বাচ্চাদের উপর আছড়ে পড়ে। ফলে আমি এদের সকলকে আমার কম্বলের মাঝে জড়িয়ে ফেলি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ওদের এখানে রেখে দাও। তখন আমি ওদের সেখানে রেখে দেই, কিন্তু সে সময়ও ওদের মা বাচ্চার কাছেই ছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কি চড়ুই পাখিটির তার শাবকের প্রতি ভালবাসা দেখে বিস্মিত হয়েছ? তখন তারা বলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ ঐ যাতের শপথ! যিনি আমাকে সত্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর এর চাইতেও বেশী স্নেহশীল, যতটুকু এ পাখি তার বাচ্চাদের প্রতি স্নেহপ্রবণ। তুমি এদের সেখানে রেখে এস, যেখান থেকে তাদের নিয়ে এসেছ এবং ওদের মাতাকেও রেখে এসো। এরপর তিনি তাদের (বাসায়) ফেরত দিয়ে আসেন।

মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোনো ব্যক্তির জন্য বিনাশ্রমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদার আসন নির্ধারিত হলে আল্লাহ তার দেহ, সম্পদ অথবা সন্তানকে বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে শেষ পর্যন্ত বরকতময় মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত উক্ত মর্যাদার স্তরে উপনীত হয়।

১৮১. যখন কোন লোক কোন নেক-কাজে অভ্যস্ত হয়, পরে অসুখের বা সফরের কারণে তা আদায় করতে ব্যর্থ হয়-সে সম্পর্কে।

باب إِذَا كَانَ الرَّجُلُ يَعْمَلُ عَمَلاً صَالِحًا فَشَغَلَهُ عَنْهُ مَرَضٌ أَوْ سَفَرٌ

৩০৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّكْسَكِيِّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ يَقُولُ " إِذَا كَانَ الْعَبْدُ يَعْمَلُ عَمَلاً صَالِحًا فَشَغَلَهُ عَنْهُ مَرَضٌ أَوْ سَفَرٌ كُتِبَ لَهُ كَصَالِحِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ مُقِيمٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩০৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)কে বহুবার এরূপ বলতে শুনেছিঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন নেক কাজ করে, কিন্তু অসুখ বা সফরের কারণে তা আদায়ে অক্ষম হয়, তখন তার জন্য ঐ পরিমাণ নেকী লেখা হয়, যে পরিমাণ নেকী তার সুস্থতার সময় বা বাড়ীতে থাকার সময় নেক কাজ করার পরিবর্তে লেখা হতো।

১৮২. মহিলা রোগীদের সেবা প্রসঙ্গে।

باب عِيَادَةِ النِّسَاءِ

৩০৭৯

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أُمِّ الْعَلاَءِ، قَالَتْ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضَةٌ فَقَالَ " أَبْشِرِي يَا أُمَّ الْعَلاَءِ فَإِنَّ مَرَضَ الْمُسْلِمِ يُذْهِبُ اللَّهُ بِهِ خَطَايَاهُ كَمَا تُذْهِبُ النَّارُ خَبَثَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল আলা (রাঃ)

৩০৭৯. সাহল ইবনে বাককার (রাহঃ) .... উম্মু আলা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সেবা-শুশ্রূষা করতে এসে বলেনঃ হে উম্মু আলা! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা, মুসলমানদের অসুখের দ্বারা আল্লাহ তাদের গুনাহ তেমনি দূর করে দেন, যেমনি অগ্নি সোনা-রূপার মরিচা দূর করে দেয়।

৩০৮০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ بَشَّارٍ - عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْخَزَّازِ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ أَشَدَّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَالَ " أَيَّةُ آيَةٍ يَا عَائِشَةُ " . قَالَتْ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ( مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ ) قَالَ " أَمَا عَلِمْتِ يَا عَائِشَةُ أَنَّ الْمُؤْمِنَ تُصِيبُهُ النَّكْبَةُ أَوِ الشَّوْكَةُ فَيُكَافَأُ بِأَسْوَإِ عَمَلِهِ وَمَنْ حُوسِبَ عُذِّبَ " . قَالَتْ أَلَيْسَ اللَّهُ يَقُولُ ( فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا ) قَالَ " ذَاكُمُ الْعَرْضُ يَا عَائِشَةُ مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ بَشَّارٍ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৮০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কুরআনের সব চাইতে কঠিন আয়াত সম্পর্কে অবহিত আছি। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আয়িশা! তা কোন আয়াত? তিনি বলেনঃ তা আল্লাহর এ বাণীঃ

مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ

অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ করবে, তাকে এর বিনিময় দেওয়া হবে।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি এ অবগত নও যে, যখন কোন মুসলমানের উপর কোন বিপদ আসে, বা সে কাঁটাবিদ্ধ হয়, তখন তা তার বদ-আমলের জন্য কাফফারা স্বরূপ হয়ে যায়? অবশ্য যার হিসাব (কিয়ামতের দিন) নেয়া হবে, তাকে আযাব দেওয়া হবে। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ আল্লাহ কি এরূপ বলেন নিঃ

فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا

অচিরেই সহজভাবে হিসাব নেয়া হবে।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আইাশা! এর অর্থ হলোঃ আমল পেশ করে দেওয়া। অবশ্য যার হিসাব গ্রহণের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে, তাকে অবশ্যই আযাব দেওয়া হবে।

১৮৩. রোগীর পরিচর্যা সম্পর্কে।

باب فِي الْعِيَادَةِ

৩০৮১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ عَرَفَ فِيهِ الْمَوْتَ قَالَ " قَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ حُبِّ يَهُودَ " . قَالَ فَقَدْ أَبْغَضَهُمْ أَسْعَدُ بْنُ زُرَارَةَ فَمَهْ فَلَمَّا مَاتَ أَتَاهُ ابْنُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ قَدْ مَاتَ فَأَعْطِنِي قَمِيصَكَ أُكَفِّنْهُ فِيهِ . فَنَزَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَمِيصَهُ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৩০৮১. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ...... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিক) কে মৃত্যু শয্যায় তাকে দেখার জন্য গমন করেন। তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করেন, তখন তিনি তার মাঝে মুত্যুর আলামত দেখে বলেনঃ আমি তোমাকে ইয়াহুদীদের সাথে মহব্বত রাখতে নিষেধ করতাম! তখন সে বলেঃ আস’আদ ইবনে যুরারা তাদের সাথে শক্রতা পোষণ করে কি পেয়েছে? সেও তো মারা গেছে। আর সে মারা গেলে, তার ছেলে (যিনি খাঁটি মু’মিন ছিলেন) তাঁর নিকট এসে বলেঃ হে আল্লাহর নবী! আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা গেছে। সুতরাং আপনি আপনার জামাটা আমাকে দিন, যা দিয়ে আমি তার কাফন দিতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জামা খুলে তাঁকে প্রদান করেন।

১৮৪. যিম্মী কাফিরের পরিচর্যা সম্পর্কে।

باب فِي عِيَادَةِ الذِّمِّيِّ

৩০৮২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ غُلاَمًا، مِنَ الْيَهُودِ كَانَ مَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ " أَسْلِمْ " . فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ أَبُوهُ أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ . فَأَسْلَمَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ بِي مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৮২. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক ইয়াহুদীর ছেলে রোগাক্রান্ত হলে নবী (ﷺ) তাকে দেখতে যান। তিনি তার শিয়রে বসে বলেনঃ তুমি ইসলাম কবুল কর। তখন ছেলেটি তার পিতার দিকে তাকায়, যে তার শিয়রে বসা ছিল। তখন তার পিতা তাকে বলেঃ তুমি আবুল কাসিমের আনুগত্য স্বীকার করে নাও। তখন ছেলেটি ইসলাম কবুল করে। তখন নবী (ﷺ) এরূপ বলতে বলতে দাঁড়ানঃ সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমার কারণে তাকে দোযখের আগুন হতে মুক্তি দিয়েছেন।

১৮৫. পায়ে হেঁটে রোগী দেখতে যাওয়া সস্পর্কে।

باب الْمَشْىِ فِي الْعِيَادَةِ

৩০৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي لَيْسَ بِرَاكِبِ بَغْلٍ وَلاَ بِرْذَوْنٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৮৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আমার রোগাক্রান্ত হওয়ার সময় আমাকে দেখতে আসতেন। এ সময় তিনি খচ্চর বা তুর্কী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আসতেন না, বরং পায়ে হেঁটে আসতেন।

১৮৬. উযুর সাথে রোগী দেখার ফযীলত সম্পর্কে।

باب فِي فَضْلِ الْعِيَادَةِ عَلَى وُضُوءٍ

৩০৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحِ بْنِ خُلَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دَلْهَمٍ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَعَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ مُحْتَسِبًا بُوعِدَ مِنْ جَهَنَّمَ مَسِيرَةَ سَبْعِينَ خَرِيفًا " . قُلْتُ يَا أَبَا حَمْزَةَ وَمَا الْخَرِيفُ قَالَ الْعَامُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالَّذِي تَفَرَّدَ بِهِ الْبَصْرِيُّونَ مِنْهُ الْعِيَادَةُ وَهُوَ مُتَوَضِّئٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ তাঈ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভালভাবে উযু করে সাওয়াবের নিয়তে তার রোগগ্রস্ত মুসলমান ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ৭০ খারীফ দূরে রাখা হবে।

রাবী বলেনঃ আমি আবু হামযাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ খারীফ কি? তিনি বললেনঃ এর অর্থ হলো এক বছর।
৩০৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَعُودُ مَرِيضًا مُمْسِيًا إِلاَّ خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ أَتَاهُ مُصْبِحًا خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলা কোন রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখতে যায়, তবে তার সঙ্গে সত্তর হাজার ফিরিশতা নির্গত হয়, যারা তার জন্য সকাল পর্যন্ত মাগফিরাত কামনা করতে থাকে এবং বেহেশতে তার জন্য একটি বাগান নির্ধারিত করা হয়। আর যে ব্যক্তি সকাল বেলা কোন রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখতে যায়, তার সঙ্গেও সত্তর হাজার ফিরিশতা বের হয়, যারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকে এবং বেহেশতে তার জন্য একটি বাগান নির্ধারিত করা হয়।

৩০৮৬
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ لَمْ يَذْكُرِ الْخَرِيفَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مَنْصُورٌ عَنِ الْحَكَمِ أَبِي حَفْصٍ كَمَا رَوَاهُ شُعْبَةُ .

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، قَالَ: وَكَانَ نَافِعٌ غُلَامُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: جَاءَ أَبُو مُوسَى، إِلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، يَعُودُهُ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَسَاقَ مَعْنَى حَدِيثِ، شُعْبَةَ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: أُسْنِدَ هَذَا عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ صَحِيحٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৮৬. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে ’খারীফের’ কথা উল্লেখ নেই।

আবু জাফর ’আব্দুল্লাহ ইবনু নাফি’ (রহঃ) বলেন, একদা আল-হাসান ইবনু আলী (রাঃ) অসুস্থ হলে তাকে আবু মুসা (রাঃ) দেখতে আসেন। আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের বর্ণনা শু’বাহ (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের সনদসূত্র নবী (ﷺ) পর্যন্ত মারফূ করা হয়েছে, তবে এটি যথার্থ নয়।

১৮৭. বারবার রোগী পরিদর্শন করা সম্পর্কে।

باب فِي الْعِيَادَةِ مِرَارًا

৩০৮৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أُصِيبَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَمَاهُ رَجُلٌ فِي الأَكْحَلِ فَضَرَبَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ فَيَعُودُهُ مِنْ قَرِيبٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৮৭. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন সা’দ ইবনে মু’আয (রাযিঃ) খন্দকের যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তির তীরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন, যা তাঁর হাতের শিরায় বিদ্ধ হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্য মসজিদে (নববীতে) একটা তাঁবু খাটিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি নিকটে থেকে বারবার তাঁর দেখাশুনা করতে পারেন।

১৮৮. চোখের রোগীর পরিচর্যা সম্পর্কে।

باب فِي الْعِيَادَةِ مِنَ الرَّمَدِ

৩০৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ وَجَعٍ كَانَ بِعَيْنَىَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৩০৮৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দু’চোখ উঠে বেদনা হলে দেখার জন্য এসেছিলেন।

১৮৯. মহামারীর স্থান হতে অন্যত্র গমন সম্পর্কে।

باب الْخُرُوجِ مِنَ الطَّاعُونِ

৩০৮৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلاَ تُقْدِمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ " . يَعْنِي الطَّاعُونَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

৩০৮৯. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন তোমরা কোন স্থানে মহামারীর খবর পাও, তখন সেখানে যাবে না। আর যখন তোমাদের বসতি এলাকায় মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়, তখন তা হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্যত্র গমন করবে না।

১৯০. রোগী দেখার সময় তার রোগ মুক্তির জন্য দুআ করা সম্পর্কে।

باب الدُّعَاءِ لِلْمَرِيضِ بِالشِّفَاءِ عِنْدَ الْعِيَادَةِ

৩০৯০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَاهَا، قَالَ اشْتَكَيْتُ بِمَكَّةَ فَجَاءَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِي ثُمَّ مَسَحَ صَدْرِي وَبَطْنِي ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا وَأَتْمِمْ لَهُ هِجْرَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩০৯০. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... আয়িশা বিনতে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা বর্ণনা করেছেনঃ মক্কাতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন এবং তাঁর পবিত্র হাত আমার কপালের উপর রাখেন। এরপর তিনি দুআ করেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি সা’দকে রোগমুক্ত করুন এবং তাঁর হিজরত পূর্ণ করুন।

৩০৯১

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْعِمُوا الْجَائِعَ وَعُودُوا الْمَرِيضَ وَفُكُّوا الْعَانِيَ " . قَالَ سُفْيَانُ وَالْعَانِي الأَسِيرُ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩০৯১. ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে আহার করাবে, রোগীর খোঁজ-খবর নেবে এবং কয়েদীকে মুক্ত করবে।

১৯১. রোগী দেখার সময় তার জন্য দুআ করা সম্পর্কে।

باب الدُّعَاءِ لِلْمَرِيضِ عِنْدَ الْعِيَادَةِ

৩০৯২

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَبُو خَالِدٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ عَادَ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ فَقَالَ عِنْدَهُ سَبْعَ مِرَارٍ أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلاَّ عَافَاهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৯২. রাবী ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন রোগীকে দেখতে যায়, যার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি, সে যেন তার নিকট বসে এ দুআটি সাতবার পাঠ করেঃ

أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ

অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর নিকটে দুআ করছি, যিনি মহান আরশের অধিপতি, যেন তিনি তোমাকে রোগমুক্ত করেন। এ দুআর ফলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করবেন।
৩০৯৩

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حُيَىِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنِ ابْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ يَعُودُ مَرِيضًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِي لَكَ إِلَى جَنَازَةٍ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَقَالَ ابْنُ السَّرْحِ: إِلَى صَلَاةٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩০৯৩. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে রামলী (রাহঃ) ..... ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন রোগীকে দেখতে যায়, তখন সে যেন এ দুআ পাঠ করেঃ

اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِي لَكَ إِلَى جَنَازَةٍ

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাকে রোগমুক্ত করুন, যে আপনার দুশমনকে যখম করবে এবং আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য কোন (মৃতের) জানাযার সাথে চলবে।

১৯২. মৃত্যু কামনা করা অনুচিত হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ تَمَنِّي الْمَوْتِ

৩০৯৪

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَدْعُوَنَّ أَحَدُكُمْ بِالْمَوْتِ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ وَلَكِنْ لِيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৯৪. বিশর ইবনে হিলাল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন কষ্টের কারণে মৃত্যুর জন্য দুআ না করে; বরং সে যেন এরূপ দুআ করেঃ

اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আমাকে ততদিন জীবিত রাখুন, যতদিন জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয় এবং আমাকে তখন মৃত্যু দান করুন, যখন তা আমার জন্য মঙ্গলময় হবে।
৩০৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ " . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

১৯৩. হঠাৎ মৃত্যু সম্পর্কে।

باب مَوْتِ الْفَجْأَةِ

৩০৯৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، أَوْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ، - رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَرَّةً عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ مَرَّةً عَنْ عُبَيْدٍ - قَالَ " مَوْتُ الْفَجْأَةِ أَخْذَةُ أَسَفٍ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৯৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উবাইদ ইবনে খালিদ সালামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হঠাৎ মারা যাওয়া আল্লাহর গযবের পাকড়াও স্বরূপ, (যাতে সে তওবার সুযোগ না পায়)।[১]

[১] এ অবশ্য কাফিরদের ক্ষেত্রে। পক্ষান্তরে, মুমিনদের জন্য এ রহমতস্বরূপ। কেননা, মুমিন সব সময় মৃত্যুর জন্য তৈরী থাকে। হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) দাউদ ও সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) হঠাৎ মারা যান।

১৯৪. মহামারীতে মৃত্যুবরণকারীর ফযীলত।

باب فِي فَضْلِ مَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ

৩০৯৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ عَتِيكِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَتِيكٍ، - وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو أُمِّهِ - أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمَّهُ جَابِرَ بْنَ عَتِيكٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَابِتٍ فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ فَصَاحَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُجِبْهُ فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " غُلِبْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا الرَّبِيعِ " . فَصَاحَ النِّسْوَةُ وَبَكَيْنَ فَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكٍ يُسْكِتُهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلاَ تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ " . قَالُوا وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْمَوْتُ " . قَالَتِ ابْنَتُهُ وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا فَإِنَّكَ كُنْتَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ " . قَالُوا الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আতীক (রাঃ)

৩০৯৭. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আতীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুল্লাহ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-এর রোগের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য আসেন। এ সময় তিনি তাঁকে বেহুশ অবস্থায় পান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জোরে ডাকেন, কিন্তু তিনি কোন জওয়াব দেননি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন’ পাঠ করেন এবং বলেনঃ হে আবু রাবী! আমি তোমার ব্যাপারে পরাস্ত হয়েছি।[১] এ কথা শুনে মহিলারা চিৎকার দিয়ে কাঁদা শুরু করে। তখন ইবনে আতীক (রাযিঃ) তাদের শান্ত হতে বলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তাদের ছেড়ে দাও, (অর্থাৎ কাঁদতে দাও)। অবশ্য যখন ওয়াজিব হবে, তখন যেন কোন ক্রন্দনকারী আর না কাঁদে। তখন তারা জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওয়াজিব হওয়ার অর্থ কি? তিনি বলেনঃ মৃত্যু।

(রাবী বলেনঃ) তখন আব্দুল্লাহ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-এর কন্যা বললঃ আল্লাহর শপথ! আমার তো এরূপ ধারণা ছিল যে, তুমি শহীদ হবে। কেননা, তুমি যুদ্ধের জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছিলে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাকে তার নিয়তের সাওয়াব প্রদান করবেন। তোমরা শাহাদত বলতে কি মনে কর? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় কতল হয়ে যাওয়াকে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ছাড়াও আরো সাত ধরনের শহীদ আছে যথাঃ

(১) মহামরীতে মৃত্যু বরণকারীও শহীদ;

(২) পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণকারীও শহীদ;

(৩) পক্ষাঘাতে মৃত্যু বরণকারীও শহীদ;

(৪) পেটের রোগের কারণে (কলেরা, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে) মৃত্যু বরণকারীও শহীদ;

(৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণকারীও শহীদ;

(৬) কোন কিছুর নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু বরণকারীও শহীদ এবং

(৭) যে মহিলা গর্ভাবস্থায় মারা যাবে, সেও শহীদ।

[১] অর্থাৎ তোমার মৃত্যু আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত সময়ে হবে। এখানে আমার করার কিছু নেই।

১৯৫. রোগীর নখ কাটা ও লজ্জাস্থানের লোম মুণ্ডন সম্পর্কে।

باب الْمَرِيضِ يُؤْخَذُ مِنْ أَظْفَارِهِ وَعَانَتِهِ

৩০৯৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ جَارِيَةَ الثَّقَفِيُّ، حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي هُرَيْرَةَ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ابْتَاعَ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ عَامِرِ بْنِ نَوْفَلٍ خُبَيْبًا - وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ قَتَلَ الْحَارِثَ بْنَ عَامِرٍ يَوْمَ بَدْرٍ - فَلَبِثَ خُبَيْبٌ عِنْدَهُمْ أَسِيرًا حَتَّى أَجْمَعُوا لِقَتْلِهِ فَاسْتَعَارَ مِنَ ابْنَةِ الْحَارِثِ مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَأَعَارَتْهُ فَدَرَجَ بُنَىٌّ لَهَا وَهِيَ غَافِلَةٌ حَتَّى أَتَتْهُ فَوَجَدَتْهُ مُخْلِيًا وَهُوَ عَلَى فَخِذِهِ وَالْمُوسَى بِيَدِهِ فَفَزِعَتْ فَزْعَةً عَرَفَهَا فِيهَا فَقَالَ أَتَخْشَيْنَ أَنْ أَقْتُلَهُ مَا كُنْتُ لأَفْعَلَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذِهِ الْقِصَّةَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عِيَاضٍ أَنَّ ابْنَةَ الْحَارِثِ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهُمْ حِينَ اجْتَمَعُوا - يَعْنِي لِقَتْلِهِ - اسْتَعَارَ مِنْهَا مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَأَعَارَتْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৯৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বনু-হারিছ ইবনে আমির ইবনে নওফল খুবাইব (রাযিঃ) কে ক্রয় করেন। আর খুবাইব (রাযিঃ) হারিছ ইবনে আমিরকে বদরের যুদ্ধে হত্যা করেন। এরপর (ঘটনাক্রমে) খুবাইব (রাযিঃ) তাদের হাতে বন্দী হন, তখন তারা তাকে হত্যা করার জন্য একত্রিত হয়। তখন খুবাইব (রাযিঃ) হারিছের কন্যার কাছে তার লজ্জাস্থানের লোম পরিষ্কার করার জন্য একখানা ক্ষুর চান। তখন সে (মহিলা) তাঁকে একখানা ক্ষুর প্রদান করে।

সে সময় সে মহিলার এক বাচ্চা খুবাইব (রাযিঃ)-এর কাছে গিয়ে পৌছায়, যার সম্পর্কে তার মাতা গাফিল ছিল। যখন সে মহিলা এসে দেখল যে, সে বাচ্চাটি খুবাইব (রাযিঃ)-এর জানুর উপর বসে আছে এবং খুবাইব (রাযিঃ) এর হাতে ক্ষুর ও আছে, তখন সে ভীত-সন্ত্রন্ত হয়ে উঠে। যা খুবাইব (রাযিঃ) অনুধাবন করতে পারেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি এরূপ ধারণা করছ যে, আমি তাকে হত্যা করে ফেলব? আমি কখনই এরূপ করব না।

আবু দাউদ (রাযিঃ) বলেনঃ এ ঘটনাটি শুআয়ব ইবনে আবী হামযা (রাহঃ) যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়ায (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হারিছের কন্যা তার কাছে এরূপ বলেছেনঃ যখন তারা তাকে (খুবাইব (রাযিঃ)-কে) হত্যার জন্য একত্রিত হয়, তখন তিনি তার কাছে স্বীয় লজ্জাস্থানের পশম পরিষ্কার করার জন্য একখানা ক্ষুর চান। যা সে (মহিলা) তাঁকে দিয়েছিল।

[১] বস্তুত বনৃ-হারিছ খুবায়র (রা.)-কে হত্যা করার জন্য সমবেত হয়েছিল। এজন্য হারিছ কণ্যা এরূপ সন্দেহ করে যে, হয়ত খুবাইব(রা.) তার বাচ্চাকে হত্যা করতে পারে। তখন খুবাইব (রা.) বলেন: আমি তাকে কখনই হত্যা করব না। এরপর কাফিররা যখন তাঁকে তাসায়ীম নামক স্থানে গুলিবিদ্ধ করে মারার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তিনি বলেনঃতোমরা আমাকে এতটুকু সময় দাও, যাতে আমি দু'রাকাআত নামায আদায় করে নিতে পারি। কাফিররা তাঁকে এ সময় দিলে, নামায শেষে তিনি একথা পাঠ করেন, যার অর্থ হলোঃ যখন আমি মুসলমান হয়ে মৃত্যুবরণ করছি, তখন আমার কোন পরোয়া নেই যে কোনভাবে আল্লাহর জন্য আমার মৃত্যু হবে। এ কতল তো আল্লাহরই জন্য। যদি তিনি চান, তবে সব অংগের জন্য তিনি বরকত দেবেন।

১৯৬. মৃত্যুর সময় আল্লাহ সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করা।

باب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ حُسْنِ الظَّنِّ بِاللَّهِ عِنْدَ الْمَوْتِ

৩০৯৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِثَلاَثٍ قَالَ " لاَ يَمُوتُ أَحَدُكُمْ إِلاَّ وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে এরূপ বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ তোমাদের সকলের উচিত আল্লাহ সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করা (অর্থাৎ তাঁর রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা)।

১৯৭. মৃত্যুর সময় মৃত্যু বরণকারী ব্যক্তিকে কাফনের পবিত্র কাপড় পরানো সম্পর্কে।

باب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَطْهِيرِ ثِيَابِ الْمَيِّتِ عِنْدَ الْمَوْتِ

৩১০০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُبْعَثُ فِي ثِيَابِهِ الَّتِي يَمُوتُ فِيهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১০০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তিনি নতুন বস্ত্র চেয়ে নিয়ে তা পরিধান করেন এবং বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে ঐ কাপড়ে (কবর হতে) উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মারা যায়।

১৯৮. মৃত্যু পথযাএীর কাছে কি ধরনের কথা বলা উচিত।

باب مَا يُسْتَحَبُّ أَنْ يُقَالَ عِنْدَ الْمَيِّتِ مِنَ الْكَلاَمِ

৩১০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَيِّتَ فَقُولُوا خَيْرًا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ " . فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَقُولُ قَالَ " قُولِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَأَعْقِبْنَا عُقْبَى صَالِحَةً " . قَالَتْ فَأَعْقَبَنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩১০১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হবে, তখন ভাল কথাবার্তা বলবে। কেননা, তোমাদের কথার সমর্থনে ফিরিশতারা আমীন বলেন। এরপর আবু সালামা (রাযিঃ) যখন ইনতিকাল করেন, তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (এখন) কি বলব? তখন তিনি বলেনঃ তুমি বলঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَأَعْقِبْنَا عُقْبَى صَالِحَةً

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আপনি একে ক্ষমা করুন এবং আমাদের উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।

উম্মু সালাম (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহ আমাকে এর বিনিময়ে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে প্রদান করেন।[১]

[১] কেননা, আবু সালামা (রা.)-এর মৃত্যুর পর নবী (সা.) উম্মে সালামাকে বিবাহ করে তাঁকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দেন যা উম্মু-সালামা (রা.)-এর জন্য দুর্লভ ও অতুলনীয় মর্যাদার কারণ হয়েছিল।

১৯৯. তালকীন [১] সম্পর্কে।

باب فِي التَّلْقِينِ

৩১০২

حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ أَبِي عَرِيبٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ آخِرُ كَلاَمِهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩১০২. মালিক ইবনে আব্দিল ওয়াহিদ মাসমাঈ (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সর্বশেষ কালিমা (কথা) হবে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

[১] মৃত্যুপথযাত্রীর নিকট “কালিমায়ে তাওহীদ" পাঠ করাকে 'তালকীন' বলে।

১৯৯. তালকীন সম্পর্কে।

باب فِي التَّلْقِينِ

৩১০৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ قَوْلَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১০৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত্যুপথযাত্রীকে কালিমার তালকীন দিবেন (অর্থাৎ তার কানের কাছে আস্তে আস্তে ’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করতে থাকবে)।

২০০. মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করা সম্পর্কে।

باب تَغْمِيضِ الْمَيِّتِ

৩১০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ أَبُو مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي سَلَمَةَ وَقَدْ شَقَّ بَصَرُهُ فَأَغْمَضَهُ فَصَيَّحَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ " لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلاَّ بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ " . ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ افْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " وَتَغْمِيضُ الْمَيِّتِ بَعْدَ خُرُوجِ الرُّوحِ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ الْمُقْرِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مَيْسَرَةَ رَجُلًا عَابِدًا يَقُولُ: غَمَّضْتُ جَعْفَرًا الْمُعَلِّمَ وَكَانَ رَجُلًا عَابِدًا فِي حَالَةِ الْمَوْتِ، فَرَأَيْتُهُ فِي مَنَامِي لَيْلَةَ مَاتَ، يَقُولُ: أَعْظَمُ مَا كَانَ عَلَيَّ تَغْمِيضُكَ لِي قَبْلَ أَنْ أَمُوتَ "

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩১০৪. আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব আবু মারওয়ান (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু সালামা (রাযিঃ)-এর মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট হাযির হন। এ সময় তাঁর চোখ খোলা ছিল। তিনি তাঁর চোখ বন্ধ করে দেন। এ দেখে তাঁর পরিবার-পরিজন চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকে। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের ক্রন্দনের মাঝে তার জন্য (মৃতের) কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই চাবে না। কেননা, ফিরিশতারা তোমাদের কথার সমর্থনে ’আমীন’ বলে থাকেন। এরপর তিনি বলেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ افْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু সালামাকে মাফ করে দিন এবং তাঁর মর্যাদা, যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের ন্যায় সমুন্নত করুন। তাঁর পরিবার-পরিজন, যারা তাঁর পশ্চাতে আছে, আপনি তাদের যিম্মাদারী গ্রহণ করুন। হে সারা জাহানের রব! আপনি আমাদের এবং একে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাঁর জন্য তাঁর কবরকে প্রশস্ত করে দিন এবং তা তাঁর জন্য আলোকিত করুন।

২০১. ’’ইন্না লিল্লাহ’’ পড়া সম্পর্কে।

باب فِي الاِسْتِرْجَاعِ

৩১০৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَصَابَتْ أَحَدَكُمْ مُصِيبَةٌ فَلْيَقُلْ ( إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ) اللَّهُمَّ عِنْدَكَ أَحْتَسِبُ مُصِيبَتِي فَآجِرْنِي فِيهَا وَأَبْدِلْ لِي خَيْرًا مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩১০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ আসে, তখন এরূপ বলবেঃ

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ عِنْدَكَ أَحْتَسِبُ مُصِيبَتِي فَآجِرْنِي فِيهَا وَأَبْدِلْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

অর্থাৎ আমরা আল্লাহরই জন্য এবং আমরা অবশ্যই তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। ইয়া আল্লাহ! আমি আমার মুসীবত তোমারই কাছে পেশ করছি। তুমি আমাকে এর সাওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে আমাকে উত্তম প্রতিফল প্রদান কর।

২০২. মৃতের দেহ বস্ত্রাবৃত করা সম্পর্কে।

باب فِي الْمَيِّتِ يُسَجَّى

৩১০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُجِّيَ فِي ثَوْبٍ حِبَرَةٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১০৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর তাঁর দেহ মুবারক ইয়ামানের তৈরী চাদর দিয়ে আবৃত করা হয়েছিল।

২০৩. মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির নিকট কুরআন তিলাওয়াত করা সম্পর্কে।

باب الْقِرَاءَةِ عِنْدَ الْمَيِّتِ

৩১০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيٍّ الْمَرْوَزِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، - وَلَيْسَ بِالنَّهْدِيِّ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اقْرَءُوا ( يس ) عَلَى مَوْتَاكُمْ " . وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْعَلَاءِ

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

৩১০৭. মুহাম্মাদ ইবনে আলা ও মুহাম্মাদ ইবনে মক্কী (রাহঃ) ..... মা’কাল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত্যু বরণকারী ব্যক্তির নিকট ’সূরা ইয়াসীন’ পাঠ করবে।

২০৪. বিপদের সময় বসে পড়া সম্পর্কে।

باب الْجُلُوسِ عِنْدَ الْمُصِيبَةِ

৩১০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا قُتِلَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ وَجَعْفَرٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ الْحُزْنُ وَذَكَرَ الْقِصَّةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১০৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন যায়দ ইবনে হারীছ (রাযিঃ) জা’ফর এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা [১] (রাযিঃ) শহীদ হন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ খবর জানার পর মসজিদে গিয়ে বসেন। তখন তাঁর চেহারা মুবারকে বিষাদের চিহ্ন দেখা দেয়। এরপর অবশিষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

[১] এঁরা সবাই মুতার যুদ্ধে শহীদ হন। স্মর্তব্য যে. মুতার যুদ্ধের সেনাদল বিদায়লগ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.) এঁদের একের পর এক আল্লাহর ইশারায় জনৈক মুসলিম যোদ্ধা প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ইনি ছিলেন হযরত খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.)।

২০৫. মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করা।

باب فِي التَّعْزِيَةِ

৩১০৯

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ سَيْفٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَبَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي مَيِّتًا - فَلَمَّا فَرَغْنَا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْصَرَفْنَا مَعَهُ فَلَمَّا حَاذَى بَابَهُ وَقَفَ فَإِذَا نَحْنُ بِامْرَأَةٍ مُقْبِلَةٍ - قَالَ أَظُنُّهُ عَرَفَهَا - فَلَمَّا ذَهَبَتْ إِذَا هِيَ فَاطِمَةُ - عَلَيْهَا السَّلاَمُ - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَخْرَجَكِ يَا فَاطِمَةُ مِنْ بَيْتِكِ " . فَقَالَتْ أَتَيْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهْلَ هَذَا الْبَيْتِ فَرَحَّمْتُ إِلَيْهِمْ مَيِّتَهُمْ أَوْ عَزَّيْتُهُمْ بِهِ . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلَعَلَّكِ بَلَغْتِ مَعَهُمُ الْكُدَى " . قَالَتْ مَعَاذَ اللَّهِ وَقَدْ سَمِعْتُكَ تَذْكُرُ فِيهَا مَا تَذْكُرُ . قَالَ " لَوْ بَلَغْتِ مَعَهُمُ الْكُدَى " . فَذَكَرَ تَشْدِيدًا فِي ذَلِكَ فَسَأَلْتُ رَبِيعَةَ عَنِ الْكُدَى فَقَالَ الْقُبُورُ فِيمَا أَحْسِبُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩১০৯. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে মাওয়াহব হামদানী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে থেকে জনৈক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করি। আমরা দাফনের কাজ সম্পন্ন করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে আসেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে ফিরে আসি। এরপর তিনি মৃত ব্যক্তির বাড়ীর দরওয়াযার নিকট পৌছে দাঁড়িয়ে যান। হঠাৎ আমরা সামনের দিক থেকে জনৈক মহিলাকে আসতে দেখি। রাবী বলেনঃ আমার ধারণা, তিনি তাকে চিনতে পারলেন। সে মহিলা চলে যাওয়ার পর জানা গেল যে, তিনি ছিলেন ফাতিমা (রাযিঃ)।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসে তোমাকে তোমার ঘর থেকে বের করে এনেছে? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এ মৃত ব্যক্তির পরিবারদের কাছে এ জন্য গিয়েছিলাম যে, আমি তাদের সান্ত্বনা দেব এবং তাদের সাথে শোকে অংশ গ্রহণ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা কর, সম্ভবত তুমি তাদের সঙ্গে কবরস্তানেও গিয়েছিলে? এর জওয়াবে ফাতিমা (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহ পানাহ! আমি তো আপনার কাছ থেকে মহিলাদের কবরস্তানে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা শ্রবণ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ যদি তুমি তাদের সঙ্গে যেতে, (তবে এর পরিণতি খারাপ হতো)। এরপর তিনি এ সম্পর্কে আরো কঠোর বক্তব্য পেশ করেন।

২০৬. মুসীবতের সময় সবর করা।

باب الصَّبْرِ عِنْدَ الصَّدْمَةِ

৩১১০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَتَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ تَبْكِي عَلَى صَبِيٍّ لَهَا فَقَالَ لَهَا " اتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي " . فَقَالَتْ وَمَا تُبَالِي أَنْتَ بِمُصِيبَتِي فَقِيلَ لَهَا هَذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَتْهُ فَلَمْ تَجِدْ عَلَى بَابِهِ بَوَّابِينَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَعْرِفْكَ فَقَالَ " إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى " . أَوْ " عِنْدَ أَوَّلِ صَدْمَةٍ " .

حدَّثنا محمد بن المُصفّى، حدَّثنا بقيّةُ، عن إسماعيلَ بن عياشٍ، عن عاصم بن رجاء بن حيوةَ، عن أبي عمران، عن أبي سلّام الحبشي، عن ابن غنم عن أبي موسى، قال: سمعتُ رسولَ الله -صلَّى الله عليه وسلم- يقول: "الصبر رضاً

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১১০. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) এমন একজন মহিলার কাছে গেলেন, যে তার বাচ্চার শোকে ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং সবর কর। সে মহিলা বলেঃ আপনি তো আমার মত মুসীবতে পতিত হননি। তখন তাকে বলা হলোঃ ইনি তো নবী (ﷺ)! তখন সে মহিলা তাঁর নিকট উপস্থিত হলো এবং তাঁর দরওয়াযায় কোন দারোয়ান পেল না। এরপর সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো আপনাকে চিনতে পারিনি, (কাজেই আমার বেয়াদবী নেবেন না)। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ দুঃখ-বেদনা শুরু হলে অথবা শোকের প্রথম হতে সবর করা প্রয়োজন।

২০৭. মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা।

باب فِي الْبُكَاءِ عَلَى الْمَيِّتِ

৩১১১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ ابْنَةً لِرَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ وَأَنَا مَعَهُ وَسَعْدٌ وَأَحْسِبُ أُبَيًّا أَنَّ ابْنِي أَوْ بِنْتِي قَدْ حُضِرَ فَاشْهَدْنَا . فَأَرْسَلَ يُقْرِئُ السَّلاَمَ فَقَالَ " قُلْ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَمَا أَعْطَى وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجَلٍ " . فَأَرْسَلَتْ تُقْسِمُ عَلَيْهِ فَأَتَاهَا فَوُضِعَ الصَّبِيُّ فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ مَا هَذَا قَالَ " إِنَّهَا رَحْمَةٌ وَضَعَهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ مَنْ يَشَاءُ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৩১১১. আবু ওলীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) ..... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা (যয়নাব) এক ব্যক্তিকে তাঁর নিকট প্রেরণ করেন। এ সময় আমি, সা’দ এবং আমার ধারণা আমার পিতাও তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন। যয়নাব (রাযিঃ) বলে পাঠান যে, আমার ছেলে বা মেয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সবাই তাঁর কাছে হাযির হই। অতঃপর তিনি তাঁকে সালাম পৌছান এবং দূতকে এরূপ বলতে বলেনঃ যা কিছু আল্লাহ নিয়ে নেন, তা তাঁর এবং তিনি যা কিছু প্রদান করেন তাও তাঁর। তাঁর (আল্লাহর) নিকট প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটা সময়কাল নির্ধারিত আছে।

অতঃপর যয়নাব (রাযিঃ) শপথ পূর্বক নবী (ﷺ)কে আহবান করেন। তখন তিনি তার নিকট উপস্থিত হলে যয়নাব (রাযিঃ) বাচ্চাকে তার কোলে সমর্পণ করেন। এ সময় বাচ্চার মৃত্যু-কষ্ট হাচ্ছিল, যা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চোখ থেকে পানি বেরিয়ে আসে। তখন সা’দ (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কি? তিনি বললেনঃ এতো রহমত, আল্লাহ যার অন্তরে চেয়েছেন এ রহমত রেখে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে যারা দয়ালু, তিনি তাদের প্রতি রহম করেন।
৩১১২

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وُلِدَ لِيَ اللَّيْلَةَ غُلاَمٌ فَسَمَّيْتُهُ بِاسْمِ أَبِي إِبْرَاهِيمَ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ أَنَسٌ لَقَدْ رَأَيْتُهُ يَكِيدُ بِنَفْسِهِ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَمَعَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يَرْضَى رَبُّنَا إِنَّا بِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১১২. শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আজ রাতে আমার ঘরে একটা পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। আমি আমার দাদার নামানুসারে তার নাম রেখেছি ইবরাহীম। অতঃপর উক্ত হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে সে বাচ্চার জান বের হচ্ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চোখ হতে অশ্রু নির্গত হচ্ছিল। এ সময় তিনি বলছিলেনঃ চোখ থেকে পানি বের হচ্ছে এবং অন্তর বেদনাতুর, তবু আমরা তা-ই বলব, যাতে আমাদের রব রাযী এবং খুশী থাকেন (অর্থাৎ ইন্নালিল্লাহ....)। হে ইবরাহীম! আমরা সত্যিই তোমার জন্য ব্যথিত।

২০৮. বিলাপ করা সম্পর্কে।

باب فِي النَّوْحِ

৩১১৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَانَا عَنِ النِّيَاحَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১১৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন।

৩১১৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّائِحَةَ وَالْمُسْتَمِعَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১১৪. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাপকারী এবং বিলাপ শ্রবণকারী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন।

৩১১৫

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، وَأَبِي، مُعَاوِيَةَ - الْمَعْنَى - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ " . فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ فَقَالَتْ وَهِلَ - تَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - إِنَّمَا مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَبْرٍ فَقَالَ " إِنَّ صَاحِبَ هَذَا لَيُعَذَّبُ وَأَهْلُهُ يَبْكُونَ عَلَيْهِ " . ثُمَّ قَرَأَتْ ( وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ) قَالَ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَلَى قَبْرِ يَهُودِيٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১১৫. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনদের ক্রন্দন হেতু আযাব দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) ভুলে গেছেন। বরং নবী (ﷺ) একদা একটা কবরের পথ দিয়ে গমনকালে বলেনঃ এ কবরবাসীর উপর আযাব হচ্ছে এবং এর পরিজনরা এর জন্য ক্রন্দন করছে। এরপর আয়িশা (রাযিঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ

وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى

অর্থাৎ কোন বোঝা বহনকারী, অন্য কারও বোঝা বহন করবে না।

রাবী আবু মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর বর্ণনায় এরূপ আছে যে, ঐটি ছিল একটি ইয়াহুদীর কবর।
৩১১৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهُوَ ثَقِيلٌ فَذَهَبَتِ امْرَأَتُهُ لِتَبْكِي أَوْ تَهُمَّ بِهِ فَقَالَ لَهَا أَبُو مُوسَى أَمَا سَمِعْتِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ بَلَى . قَالَ فَسَكَتَتْ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو مُوسَى - قَالَ يَزِيدُ - لَقِيتُ الْمَرْأَةَ فَقُلْتُ لَهَا مَا قَوْلُ أَبِي مُوسَى لَكِ أَمَا سَمِعْتِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَكَتِّ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَّا مَنْ حَلَقَ وَمَنْ سَلَقَ وَمَنْ خَرَقَ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩১১৬. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে আওস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু মুসা (রাযিঃ) এর কাছে গিয়েছিলাম, যিনি তখন অসুস্থ ছিলেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী কাঁদছিল অথবা কাঁদার উপক্রম করছিল। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) তাকে বলেনঃ তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ শ্রবণ করনি? সে বলেঃ হ্যাঁ। এরপর সে চুপ হয়ে যায়।

রাবী বলেনঃ আবু মুসা যখন মারা যান, তখন আমি (ইয়াযীদ) সে মহিলার সাথে দেখা করে জিজ্ঞাসা করি যে, আবু মুসা তোমাকে কি বলেছিল? (যখন তিনি বলেছিলেনঃ) তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ শোননি-এরপর তুমি চুপ হয়ে গিয়েছিলে? তখন সে মহিলা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, (যে মৃতের জন্য শোকাতুর হয়ে) তার মাথা মুড়ায় এবং চিৎকার দিয়ে কাঁদে, নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং স্বীয় মুখের উপর আঘাত করে।
৩১১৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، - عَامِلٌ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَلَى الرَّبَذَةِ حَدَّثَنِي أَسِيدُ بْنُ أَبِي أَسِيدٍ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنَ الْمُبَايِعَاتِ قَالَتْ كَانَ فِيمَا أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَعْرُوفِ الَّذِي أَخَذَ عَلَيْنَا أَنْ لاَ نَعْصِيَهُ فِيهِ أَنْ لاَ نَخْمِشَ وَجْهًا وَلاَ نَدْعُوَ وَيْلاً وَلاَ نَشُقَّ جَيْبًا وَأَنْ لاَ نَنْشُرَ شَعْرًا .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩১১৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জনৈক বায়’আত গ্রহণকারী মহিলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছ থেকে যে সব ব্যাপারে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন, তার মাঝে উত্তম ব্যাপার এ ছিল যে, আমরা তাঁর নাফরমানী করব না, আমাদের চেহারা নখ দিয়ে আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত করব না, ধ্বংসের আহবান করব না, জামার বক্ষদেশ ফেঁড়ে ফেলব না এবং মাথার চুল অবিন্যস্ত করব না।

২০৯. মৃত ব্যক্তির পরিজনদের খাদ্য দান করা সম্পর্কে।

باب صَنْعَةِ الطَّعَامِ لأَهْلِ الْمَيِّتِ

৩১১৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اصْنَعُوا لآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَإِنَّهُ قَدْ أَتَاهُمْ أَمْرٌ شَغَلَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৩১১৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা বলেন, তোমরা জা’ফরের পরিবার-পরিজনদের জন্য খাবার জিনিস তৈরী কর। কেননা, তাদের উপর এমন মুসীবত নাযিল হয়েছে, যা তাদের ব্যস্ত রেখেছে।

২১০. শহীদের গোসল দিতে হবে কিনা?

باب فِي الشَّهِيدِ يُغَسَّلُ

৩১১৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ رُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فِي صَدْرِهِ أَوْ فِي حَلْقِهِ فَمَاتَ فَأُدْرِجَ فِي ثِيَابِهِ كَمَا هُوَ - قَالَ - وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১১৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তির গলায় অথবা বুকে তীর বিঁধেছিল, ফলে সে মারা যায়। অতঃপর তাকে ঐভাবে কাপড় পেঁচিয়ে দাফন করা হয়, যেভাবে সে ছিল। জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম।

৩১২০

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ يُنْزَعَ عَنْهُمُ الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَأَنْ يُدْفَنُوا بِدِمَائِهِمْ وَثِيَابِهِمْ . «وَهَذَا لَفْظُ زياد».

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১২০. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের ব্যাপারে এরূপ নির্দেশ দেন যে, তাদের দেহ হতে অস্ত্রশস্ত্র ও লৌহবর্ম খুলে তাদের রক্তমাখা বস্ত্রসহ দাফন করা হোক।

৩১২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُمْ أَنَّ شُهَدَاءَ أُحُدٍ لَمْ يُغَسَّلُوا وَدُفِنُوا بِدِمَائِهِمْ وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১২১. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদ যুদ্ধের শহীদদের গোসল দেওয়া হয়নি এবং রক্তমাখা কাপড়সহ দাফন করা হয়, আর তাদের উপর জানাযার নামাযও পড়া হয়নি।

৩১২২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحُبَابِ - ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ، - يَعْنِي الْمَرْوَانِيَّ - عَنْ أُسَامَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، - الْمَعْنَى - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى حَمْزَةَ وَقَدْ مُثِّلَ بِهِ فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ تَجِدَ صَفِيَّةُ فِي نَفْسِهَا لَتَرَكْتُهُ حَتَّى تَأْكُلَهُ الْعَافِيَةُ حَتَّى يُحْشَرَ مِنْ بُطُونِهَا " . وَقَلَّتِ الثِّيَابُ وَكَثُرَتِ الْقَتْلَى فَكَانَ الرَّجُلُ وَالرَّجُلاَنِ وَالثَّلاَثَةُ يُكَفَّنُونَ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ - زَادَ قُتَيْبَةُ - ثُمَّ يُدْفَنُونَ فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُ " أَيُّهُمْ أَكْثَرُهُمْ قُرْآنًا " . فَيُقَدِّمُهُ إِلَى الْقِبْلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১২২. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদের যুদ্ধ শেষে হামযা (রাযিঃ) এর পাশ দিয়ে গমন করেন, যাঁর নাক ও কান (হিন্দা) কেটে নিয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ আমি যদি সাফিয়্যা (রাযিঃ) এর কষ্টের কথা চিন্তা না করতাম, যিনি হামযা (রাযিঃ)-এর বোন ছিলেন, তাহলে আমি তাঁর লাশকে পড়ে থাকতে দিতাম, যাতে পশু-পাখিরা তা ভক্ষণ করতে পারত এবং হাশরের দিন তিনি তাদের পেট হতে বের হতেন। এ সময় কাপড় কম থাকায় এক-এক, দুই-দুই এবং তিন-তিন ব্যক্তিকে একই কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়।

রাবী কুতায়বা (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তাঁদের একই কবরে দাফন করা হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ জিজ্ঞাসা করতে থাকেন যে, এদের মাঝে কোন ব্যক্তি কুরআন বেশী জানতো? এরপর তাকে আগে কিবলার দিকে রাখা হতো।
৩১২৩

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِحَمْزَةَ وَقَدْ مُثِّلَ بِهِ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الشُّهَدَاءِ غَيْرِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১২৩. আব্বাস আনবারী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) হামযা (রাযিঃ)-এর পাশ দিয়ে যান, যার নাক-কান কেটে ফেলা হয়। আর তিনি হামযা (রাযিঃ) ব্যতীত অন্য কারো জানাযার নামায পড়াননি।

৩১২৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ وَيَقُولُ " أَيُّهُمَا أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ " . فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ وَقَالَ " أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلاَءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ وَلَمْ يُغَسَّلُوا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১২৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে মাওহীব (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু-জনকে একই কবরে দাফনের নির্দেশ দেন এবং এ সময় তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এদের মাঝে কে অধিক কুরআনের হাফিয? অতঃপর যখন তাদের একজনের প্রতি ইশারা করা হতো, তখন তিনি তাঁকে আগে কবরে রাখতে বলতেন। অবশেষে তিনি বলেনঃ আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী দেব। তিনি তাঁদের রক্তমাখা অবস্থায় দাফনের নির্দেশ দেন এবং তাঁদের গোসল দেওয়া হয়নি।

৩১২৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ قَالَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ .

বর্ণনাকারী: লাইছ ইবনে সা'দ (রহঃ)

৩১২৫. সুলাইমান ইবনে দাউদ মোহরী (রাহঃ) .... লায়ছ উপরোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ তিনি উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু-দু ব্যক্তিদের একই কাপড়ে দাফন করেন।

২১১. গোসলের সময় মৃত ব্যক্তির লজ্জাস্থান আবৃত রাখা সম্পর্কে।

باب فِي سَتْرِ الْمَيِّتِ عِنْدَ غَسْلِهِ

৩১২৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أُخْبِرْتُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلاَ تَنْظُرَنَّ إِلَى فَخِذِ حَىٍّ وَلاَ مَيِّتٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩১২৬. আলী ইবনে সাহল রামলী (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার নিজের রান খুলবে না এবং জীবিত বা মৃত ব্যক্তির রানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।

৩১২৭

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ لَمَّا أَرَادُوا غَسْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا وَاللَّهِ مَا نَدْرِي أَنُجَرِّدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثِيَابِهِ كَمَا نُجَرِّدُ مَوْتَانَا أَمْ نُغَسِّلُهُ وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَلَمَّا اخْتَلَفُوا أَلْقَى اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّوْمَ حَتَّى مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلاَّ وَذَقْنُهُ فِي صَدْرِهِ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ مُكَلِّمٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ لاَ يَدْرُونَ مَنْ هُوَ أَنِ اغْسِلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَقَامُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَسَلُوهُ وَعَلَيْهِ قَمِيصُهُ يَصُبُّونَ الْمَاءَ فَوْقَ الْقَمِيصِ وَيُدَلِّكُونَهُ بِالْقَمِيصِ دُونَ أَيْدِيهِمْ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا غَسَّلَهُ إِلاَّ نِسَاؤُهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৩১২৭. নুফায়লী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যখন সাহাবীরা নবী (ﷺ)কে গোসল দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁরা বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমরা বুঝতে পারছি না যে, আমরা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় খুলে ফেলব, যেমন আমরা আমাদের অন্যান্য মৃত ব্যক্তির কাপড় খুলে ফেলি অথবা আমরা তাকে কাপড় পরা অবস্থায় গোসল দেব? যখন তারা মতভেদ করলো, তখন আল্লাহ তাদের সকলকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে ফেলেন, এমন কি তাদের একজনও এমন ছিল না (নিদ্রার কারণে) যার থুতনী তার বক্ষের উপর আপতিত হয়নি।

এ সময় জনৈক ব্যক্তি ঘরের এক কোণা হতে বলল, তাঁরা জানত না-তিনি কে? তোমরা নবী (ﷺ) কে তাঁর পরিধেয় কাপড়সহ গোসল দাও। তখন সাহাবীগণ উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কাপড়সহ গোসল দিতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর দেহ তাঁর পবিত্র জামা ছিল। তাঁরা জামার উপর পানি ঢেলে, ঐ জামা দিয়ে তাঁর দেহ ঘর্ষণ করেন এবং তাঁরা তাঁর দেহে হাত লাগান নি।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি যদি আগে বুঝতে পারতাম, যা আমি পরে বুঝতে পারি, তবে তাঁকে তাঁর বিবিগণ ছাড়া আর কেউ-ই গোসল দিতে পারত না।

২১২. মৃত ব্যক্তির গোসল দানের পদ্ধতি।

باب كَيْفَ غُسْلُ الْمَيِّتِ

৩১২৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَتِ ابْنَتُهُ فَقَالَ " اغْسِلْنَهَا ثَلاَثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ - إِنْ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ - بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي " . فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ فَأَعْطَانَا حَقْوَهُ فَقَالَ " أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ " . قَالَ عَنْ مَالِكٍ يَعْنِي إِزَارَهُ وَلَمْ يَقُلْ مُسَدَّدٌ دَخَلَ عَلَيْنَا .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১২৮. আল-কা’নবী (রাহঃ) .... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমাদের নিকট উপস্থিত হন, যখন তাঁর কন্যা ইনতিকাল করেন। তিনি বলেনঃ তোমরা তাঁকে তিন বা পাঁচবার, আর যদি প্রয়োজন মনে কর, তবে এর থেকেও অধিক বার কুলপাতা মিশান সিদ্ধ পানি দিয়ে গোসল দেবে এবং শেষবার গোসল দেওয়ার সময় পানিতে কর্পূর মিশিয়ে নেবে অথবা কর্পূরের মত অন্য কোন সুগন্ধ বস্তু মিশিয়ে নেবে। তোমরা তাঁর গোসল দেওয়ার কাজ শেষ করে আমাকে খবর দেবে। অতঃপর তাঁর গোসল দেওয়ার কাজ শেষ করে আমরা তাঁকে এ খবর দিলে, তিনি তাঁর ব্যবহৃত তহবন্দ আমাদের দিয়ে বলেনঃ এটি তাঁর শরীরে জড়িয়ে দাও।[১]

[১] নবী (সা.) তাবারক হিসাবে তাঁর একখণ্ড বস্তু, তাঁর কন্যা যয়নব (রা.) কে প্রদান করেন। যা তাঁর কাফনের সাহ তাঁর শরীরে জড়িয়ে দেওয়া হয়।
৩১২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، وَأَبُو كَامِلٍ - بِمَعْنَى الإِسْنَادِ - أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ حَفْصَةَ، أُخْتِهِ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ مَشَطْنَاهَا ثَلاَثَةَ قُرُونٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১২৯. আহমদ ইবনে আব্দা ও আবু কামিল (রাহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা তাঁর [যয়নাব (রাযিঃ)]-এর চুল আঁচড়িয়ে তিন ভাগে বিভক্ত করে বেণী বেঁধে দেই।

৩১৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ وَضَفَّرْنَا رَأْسَهَا ثَلاَثَةَ قُرُونٍ ثُمَّ أَلْقَيْنَاهَا خَلْفَهَا مُقَدَّمَ رَأْسِهَا وَقَرْنَيْهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১৩০. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা তাঁর [যয়নাব (রাযিঃ)] এর চুল তিন ভাগে বিভক্ত করে তাঁর পিছনের দিকে রেখে দেই। যার একটি অংশ ছিল মধ্য মাথার এবং বাকী দু’অংশ ছিল মাথার দু’পাশের।

৩১৩১

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُنَّ فِي غُسْلِ ابْنَتِهِ " ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১৩১. আবু কামিল (রাহঃ) ..... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কন্যার গোসলদানকারী মহিলাদের বলেনঃ তোমরা তাঁর ডান পাশের উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হতে গোসল দেওয়া শুরু করবে।

৩১৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ زَادَ فِي حَدِيثِ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ بِنَحْوِ هَذَا وَزَادَتْ فِيهِ " أَوْ سَبْعًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ رَأَيْتُنَّهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১৩২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ...... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) এভাবে বর্ণনা প্রসঙ্গে এটুকু অতিরিক্ত বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তাকে সাত বার গোসল দেবে এবং প্রয়োজনে এর চাইতে অধিক বারও গোসল দিতে পার।

৩১৩৩

حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، أَنَّهُ كَانَ يَأْخُذُ الْغُسْلَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، يَغْسِلُ بِالسِّدْرِ مَرَّتَيْنِ وَالثَّالِثَةَ بِالْمَاءِ وَالْكَافُورِ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৩১৩৩. হুদবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মু ’আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা করেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ প্রথম দুবার কুলপাতা মিশান পানি দিয়ে গোসল দিতে হবে এবং তৃতীয় বার কর্পূর মিশান পানি দিয়ে গোসল দিতে হবে।

২১৩. কাফন সম্পর্কে।

باب فِي الْكَفَنِ

৩১৩৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَطَبَ يَوْمًا فَذَكَرَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِهِ قُبِضَ فَكُفِّنَ فِي كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ وَقُبِرَ لَيْلاً فَزَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ يُضْطَرَّ إِنْسَانٌ إِلَى ذَلِكَ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৩৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) খুতবা দেওয়ার সময় তাঁর জনৈক সাহাবী সম্পর্কে উল্লেখ করেন, যিনি ইনতিকাল করেন। লোকেরা রাতের বেলায় ত্রুটিপূর্ণ কাফনে তাঁকে দাফন করেছিল।

বস্তুত নবী (ﷺ) জানাযার নামায আদায়ের আগে রাতের বেলায় কোন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। অবশ্য বিশেষ কারণে তিনি রাতের বেলায় দাফনের অনুমতিও প্রদান করেন।

নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার ভাইকে কাফন প্রদান করবে, তখন তার উচিত হবে তাকে উত্তম কাফন দেওয়া।
৩১৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُدْرِجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَوْبٍ حِبَرَةٍ ثُمَّ أُخِّرَ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৩৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে প্রথমে ডোরাদার ইয়ামানী চাদরে কাফন দেওয়া হয়েছিল। পরে তা পাল্টিয়ে সাদা চাদর দেওয়া হয়েছিল।

৩১৩৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَقِيلِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبٍ، - يَعْنِي ابْنَ مُنَبِّهٍ - عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تُوُفِّيَ أَحَدُكُمْ فَوَجَدَ شَيْئًا فَلْيُكَفَّنْ فِي ثَوْبٍ حِبَرَةٍ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৩৬. হাসান ইবনে সাব্বাহ বাযযার (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের থেকে কেউ ইনতিকাল করে এবং তার সামর্থও আছে, তখন উচিত হবে ইয়ামানী চাদর দিয়ে সে মৃত ব্যক্তিকে দাফন দেওয়া (অর্থাৎ মূল্যবান কাপড় দিয়ে তাকে দাফন করতে হবে)।

৩১৩৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، قَالَتْ كُفِّنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَةٍ بِيضٍ لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلاَ عِمَامَةٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৩৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইয়ামানে তৈরী তিনটি সাদা কাপড়ে দাফন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোন কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

৩১৩৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، مِثْلَهُ زَادَ مِنْ كُرْسُفٍ . قَالَ فَذُكِرَ لِعَائِشَةَ قَوْلُهُمْ فِي ثَوْبَيْنِ وَبُرْدِ حِبَرَةٍ فَقَالَتْ قَدْ أُتِيَ بِالْبُرْدِ وَلَكِنَّهُمْ رَدُّوهُ وَلَمْ يُكَفِّنُوهُ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৩৮. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। তবে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যে, ঐ কাপড় ছিল তুলার-সুতার তৈরী। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ নবী (ﷺ) এর কাফনে কি দুটি সাদা কাপড় এবং একটা ডোরাদার ইয়ামানী চাদর ছিল? তিনি বলেনঃ ইয়ামানী চাদর দেওয়া হয়েছিল, তবে সাহাবীরা তা ফিরিয়ে দেন এবং ঐ কাপড় কাফনের মাঝে শামিল করা হয়নি (বরং কাফনের তিনটি কাপড়ই ছিল সাদা)।

৩১৩৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي زِيَادٍ - عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُفِّنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ نَجْرَانِيَّةٍ الْحُلَّةُ ثَوْبَانِ وَقَمِيصُهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ عُثْمَانُ فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ حُلَّةٍ حَمْرَاءَ وَقَمِيصِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৩৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ও উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নাযরানে তৈরী তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল। ঐ কাপড়ের মাঝে একটা ছিল চাদর, একটা তহবন্দ এবং অন্যটি ছিল ঐ জামা, যা গায়ে থাকা অবস্থায় তিনি ইনতিকাল করেন।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ উছমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনটি কাপড়ের মাঝে দুটি ছিল লাল এবং ঐ জামা, যা গায়ে থাকা অবস্থায় তিনি ইনতিকাল করেন।

২১৪. দামী কাফন ব্যবহার না করা সস্পর্কে।

باب كَرَاهِيَةِ الْمُغَالاَةِ فِي الْكَفَنِ

৩১৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ أَبُو مَالِكٍ الْجَنْبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ لاَ تَغَالِ لِي فِي كَفَنٍ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَغَالَوْا فِي الْكَفَنِ فَإِنَّهُ يُسْلَبُهُ سَلْبًا سَرِيعًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩১৪০. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ মুহারিবী (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা বেশী দামী কাফন ব্যবহার করবে না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ বেশী দামী কাফন ব্যবহার করবে না। কেননা, তা অতি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

৩১৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ إِنَّ مُصْعَبَ بْنَ عُمَيْرٍ قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ إِلاَّ نَمِرَةٌ كُنَّا إِذَا غَطَّيْنَا بِهَا رَأْسَهُ خَرَجَ رِجْلاَهُ وَإِذَا غَطَّيْنَا رِجْلَيْهِ خَرَجَ رَأْسُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غَطُّوا بِهَا رَأْسَهُ وَاجْعَلُوا عَلَى رِجْلَيْهِ شَيْئًا مِنَ الإِذْخِرِ " .

বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)

৩১৪১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুস’আব ইবনে উমায়র (রাযিঃ) উহুদের যুদ্ধে শাহাদত লাভ করেন। এ সময় তাঁর কাছে (কাফনের জন্য) একটা কম্বল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। (আর তা এত ছোট ছিল যে,) যখন তা দিয়ে আমরা তাঁর মাথা ঢাকছিলাম, তখন তার দু’টি পা বেরিয়ে যাচ্ছিল এবং আমরা যখন তার পা দুটি ঢাকছিলাম, তখন তাঁর মাথা বেরিয়ে যাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ঐ কম্বল দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দাও এবং পা দুটির উপর ইযখার (এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত ঘাস) দিয়ে দাও।

৩১৪২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ الْكَفَنِ الْحُلَّةُ وَخَيْرُ الأُضْحِيَةِ الْكَبْشُ الأَقْرَنُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩১৪২. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উত্তম কাফন হলো হুল্লা অর্থাৎ চাদর এবং তহবন্দ এবং উত্তম কুরবানীর পশু হলো শিংওয়ালা দুম্বা।

২১৫. স্ত্রীলোকের কাফন সম্পর্কে।

باب فِي كَفَنِ الْمَرْأَةِ

৩১৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي نُوحُ بْنُ حَكِيمٍ الثَّقَفِيُّ، - وَكَانَ قَارِئًا لِلْقُرْآنِ - عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ يُقَالُ لَهُ دَاوُدُ قَدْ وَلَّدَتْهُ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَى بِنْتِ قَانِفٍ الثَّقَفِيَّةِ قَالَتْ كُنْتُ فِيمَنْ غَسَّلَ أُمَّ كُلْثُومٍ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ وَفَاتِهَا فَكَانَ أَوَّلُ مَا أَعْطَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحِقَاءَ ثُمَّ الدِّرْعَ ثُمَّ الْخِمَارَ ثُمَّ الْمِلْحَفَةَ ثُمَّ أُدْرِجَتْ بَعْدُ فِي الثَّوْبِ الآخِرِ قَالَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ عِنْدَ الْبَابِ مَعَهُ كَفَنُهَا يُنَاوِلُنَاهَا ثَوْبًا ثَوْبًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৪৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... লায়লা বিনতে কায়েফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে মহিলারা উম্মু কুলছুম বিনতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর ইন্তিকালের পর গোসল দিয়েছিল, আমিও তাদের একজন ছিলাম। (তাঁর গোসল সম্পন্ন হওয়ার পর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাফনের জন্য সর্বপ্রথম আমাদের তহবন্দ প্রদান করেন, এরপর জামা, সিরবন্দ, চাদর এবং শেষে এমন একটা কাপড় প্রদান করেন, যা উপরে জড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দরওয়াযার উপর বসা ছিলেন এবং কাফনের কাপড় তাঁর কাছেই ছিল। তিনি সেখান হতে এক-একটা কাপড় প্রদান করছিলেন।

২১৬. মৃত ব্যক্তির জন্য মিশকের খুশবু ব্যবহার প্রসঙ্গে।

باب فِي الْمِسْكِ لِلْمَيِّتِ

৩১৪৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْيَبُ طِيبِكُمُ الْمِسْكُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৪৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের জন্য সব চাইতে উত্তম খোশবু হলো মিশক।

২১৭. দাফন-কাফনের জন্য জলদি করা।

باب التَّعْجِيلِ بِالْجَنَازَةِ

৩১৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُطَرِّفٍ الرُّؤَاسِيُّ أَبُو سُفْيَانَ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عِيسَى، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ ابْنُ يُونُسَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُثْمَانَ الْبَلَوِيِّ، عَنْ عَزْرَةَ، - وَقَالَ عَبْدُ الرَّحِيمِ عُرْوَةُ بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحُصَيْنِ بْنِ وَحْوَحٍ، أَنَّ طَلْحَةَ بْنَ الْبَرَاءِ، مَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَقَالَ " إِنِّي لاَ أَرَى طَلْحَةَ إِلاَّ قَدْ حَدَثَ فِيهِ الْمَوْتُ فَآذِنُونِي بِهِ وَعَجِّلُوا فَإِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لِجِيفَةِ مُسْلِمٍ أَنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانَىْ أَهْلِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৪৫. আব্দুর রহীম ইবনে মুতাররিফ রুয়াসী আবু সুফিয়ান ও আহমদ ইবনে জানাব (রাহঃ) .... হুসাইন ইবনে ওয়াহূজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তালহা ইবনে বারাআ অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) তাঁকে দেখার জন্য আসেন। তখন তিনি বলেনঃ আমার ধারণা, শীঘ্রই তালহা প্রাণত্যাগ করবে। কাজেই তোমরা আমাকে এ খবর দেবে এবং তার দাফন-কাফনের ব্যাপারে জলদি করবে। কেননা, মুসলমানদের লাশ তাদের পরিবার-পরিজনদের কাছে বেশীক্ষণ রাখা উচিত নয়।

২১৮. মৃত ব্যক্তির গোসলদাতার গোসল সম্পর্কে।

باب فِي الْغُسْلِ مِنْ غَسْلِ الْمَيِّتِ

৩১৪৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ شَيْبَةَ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ أَرْبَعٍ مِنَ الْجَنَابَةِ وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمِنَ الْحِجَامَةِ وَغُسْلِ الْمَيِّتِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৪৬. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) চারটি ব্যাপারে গোসল করতেনঃ (১) স্ত্রী-সহবাসের পর, (২) জুম’আর দিন, (৩) শিংগা লাগানোর পর এবং (৪) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পর।

৩১৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ غَسَّلَ الْمَيِّتَ فَلْيَغْتَسِلْ وَمَنْ حَمَلَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৪৭. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মৃতকে গোসল করায়, সে যেন নিজে গোসল করে। আর যে তা বহন করে, সে যেন উযু করে।

৩১৪৮

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ إِسْحَاقَ، مَوْلَى زَائِدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مَنْسُوخٌ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ وَسُئِلَ عَنِ الْغُسْلِ مِنْ غَسْلِ الْمَيِّتِ فَقَالَ يُجْزِيهِ الْوُضُوءُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَدْخَلَ أَبُو صَالِحٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ - يَعْنِي إِسْحَاقَ مَوْلَى زَائِدَةَ - قَالَ وَحَدِيثُ مُصْعَبٍ ضَعِيفٌ فِيهِ خِصَالٌ لَيْسَ الْعَمَلُ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৪৮. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে এরূপেই বর্ণিত হয়েছে।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি মানসূখ বা বাতিল। আমি আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ)-এর কাছে শুনেছি, যখন তাকে মৃত ব্যক্তির গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেনঃ তার জন্য কেবল উযু করাই যথেষ্ট।

২১৯. মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করা।

باب فِي تَقْبِيلِ الْمَيِّتِ

৩১৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ حَتَّى رَأَيْتُ الدُّمُوعَ تَسِيلُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উছমান ইবনে মাযউন (রাযিঃ)-কে [১] তাঁর মৃত্যুর পর চুম্বন করতে দেখেছি। এমনকি আমি তাঁর চোখ থেকে পানিও বের হতে দেখেছি।

[১] হযরত উছমান ইবনে মাযউন (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দুধ-ভাই ছিলেন। তিনি প্রথমে হাবশা ও পরে মদীনাতে হিজরত করেন। তিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয় ।

২২০. রাত্রিতে দাফন করা।

باب فِي الدَّفْنِ بِاللَّيْلِ

৩১৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - أَوْ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، - قَالَ رَأَى نَاسٌ نَارًا فِي الْمَقْبَرَةِ فَأَتَوْهَا فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقَبْرِ وَإِذَا هُوَ يَقُولُ " نَاوِلُونِي صَاحِبَكُمْ " . فَإِذَا هُوَ الرَّجُلُ الَّذِي كَانَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالذِّكْرِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৫০. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে বুযায় (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কবরস্থানে আলো দেখতে পেয়ে সেখানে গমন করে। তখন তারা দেখতে পায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে কবরের মাঝে দাঁড়িয়ে বলছেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীকে (মৃত ব্যক্তিকে) আমার কাছে দাও। আর তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি উচ্চস্বরে আল্লাহর যিক্‌র করতেন।[১]

[১] তাঁর নাম ছিল 'আব্দুল্লাহ।

২২১. মৃত ব্যক্তির লাশ এক স্থান হতে অন্যস্থানে নেয়া।

باب فِي الْمَيِّتِ يُحْمَلُ مِنْ أَرْضٍ إِلَى أَرْضٍ

৩১৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا حَمَلْنَا الْقَتْلَى يَوْمَ أُحُدٍ لِنَدْفِنَهُمْ فَجَاءَ مُنَادِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَدْفِنُوا الْقَتْلَى فِي مَضَاجِعِهِمْ فَرَدَدْنَاهُمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৫১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা উহুদ যুদ্ধের শহীদদের লাশ অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলাম দাফনের জন্য। এ সময় নবী (ﷺ) এর ঘোষক এসে বলেনঃ তিনি তোমাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শহীদদের লাশ তাদের শাহাদতের স্থানে দাফন করবে। তখন আমরা তাদের লাশ সেখানে দাফন করি।

২২২. জানাযার নামাযে কাতারবন্দী হওয়া।

باب فِي الصُّفُوفِ عَلَى الْجَنَازَةِ

৩১৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدٍ الْيَزَنِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيُصَلِّي عَلَيْهِ ثَلاَثَةُ صُفُوفٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ أَوْجَبَ " . قَالَ فَكَانَ مَالِكٌ إِذَا اسْتَقَلَّ أَهْلَ الْجَنَازَةِ جَزَّأَهُمْ ثَلاَثَةَ صُفُوفٍ لِلْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুবায়রা (রাঃ)

৩১৫২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ....... মালিক ইবনে হুবায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য জীবিত মুসলমানরা তিন কাতার করে (তার জানাযার) নামায পড়লে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন।

রাবী বলেনঃ এ জন্য মালিক (রাহঃ) যখন কোন ব্যক্তির জানাযায় লোক কম দেখতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিভক্ত করে দিতেন।

২২৩. মৃত ব্যক্তির লাশের পেছনে মহিলাদের যাওয়া নিষেধ।

باب اتِّبَاعِ النِّسَاءِ الْجَنَائِزَ

৩১৫৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ نُهِينَا أَنْ نَتَّبِعَ، الْجَنَائِزَ وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩১৫৩. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... উম্মু আতীয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের জানাযার অনুগমন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের উপর কঠোরতা আরোপ করা হয়নি।

২২৪. সালাতুল জানাযা আদায় করা ও লাশের অনুগমন করার ফযীলত।

باب فَضْلِ الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَائِزِ وَتَشْيِيعِهَا

৩১৫৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَرْوِيهِ قَالَ مَنْ تَبِعَ جَنَازَةً فَصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ تَبِعَهَا حَتَّى يُفْرَغَ مِنْهَا فَلَهُ قِيرَاطَانِ أَصْغَرُهُمَا مِثْلُ أُحُدٍ أَوْ أَحَدُهُمَا مِثْلُ أُحُدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন জানাযার অনুগমন করে, তার সালাতুল জানাযা আদায় করে, সে এক কীরাত সাওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি জানাযার সাথে গমন করে তার দাফনেও শরীক হয়, সে ব্যক্তি দু’কীরাত সাওয়াব পায়। ঐ দু’কীরাতের ছোট কীরাতের পরিমাণ হলো উহুদ পাহাড়ের সমান, অথবা দু’কীরাতের মাঝে এক কীরাত হলো উহুদ পাহাড় সমতুল্য।[১]

[১] মৃত ব্যক্তির লাশর সাথে গমন করা, তার জানাযার নামাযে শরীক হওয়া এবং দাফনে ও সহযোগিতা করা মুসলমানদের পরস্পরের হক বা অধিকারের বিষয়ও বটে।
৩১৫৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُسَيْنٍ الْهَرَوِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، - وَهُوَ حُمَيْدُ بْنُ زِيَادٍ - أَنَّ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ دَاوُدَ بْنَ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِذْ طَلَعَ خَبَّابٌ صَاحِبُ الْمَقْصُورَةِ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَلاَ تَسْمَعُ مَا يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ إِنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ خَرَجَ مَعَ جَنَازَةٍ مِنْ بَيْتِهَا وَصَلَّى عَلَيْهَا " . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ سُفْيَانَ فَأَرْسَلَ ابْنُ عُمَرَ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ صَدَقَ أَبُو هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৫. হারুন ইবনে আব্দিল্লাহ ও আব্দুর রহমান ইবনে হুসাইন হারবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শ্রবণ করেছেন, যিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন জানাযার সাথে তার ঘর থেকে বের হবে, তার সালাতুল জানাযা আদায় করবে, সে ব্যক্তি এক কীরাত সাওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি দাফনেও শরীক থাকবে, সে দু’কীরাতের সমান সাওয়াব পাবে।

যখন ইবনে উমর (রাযিঃ) এ হাদীস শ্রবণ করেন, তখন এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জনৈক ব্যক্তিকে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সত্য বলেছেন।
৩১৫৬

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ السَّكُونِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لاَ يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلاَّ شُفِّعُوا فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৫৬. ওয়ালীদ ইবনে সূজা সাকূনী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন কোন মুসলমান লাশের উপর এমন চল্লিশজন লোক তার জানাযার নামায পড়ে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে না, তাদের সুপারিশ ঐ মৃত ব্যক্তির পক্ষে কবুল করা হয়।

২২৫. জানাযার সাথে আগুন নেয়া নিষেধ।

باب فِي النَّارِ يُتْبَعُ بِهَا الْمَيِّتُ

৩১৫৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَرْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ شَدَّادٍ - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنِي بَابُ بْنُ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُتْبَعُ الْجَنَازَةُ بِصَوْتٍ وَلاَ نَارٍ " . زَادَ هَارُونُ " وَلاَ يُمْشَى بَيْنَ يَدَيْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৫৭. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জানাযার পেছনে চিৎকার করতে করতে এবং আগুন নিয়ে যাবে না।[১]

রাবী হারুন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ জানাযার আগে আগেও গমন করবে না।

[১] আহলে-কিতাব বা ইয়াহূদ ও নাসারারা জানাযার সাথে আগুণ নিয়ে যায়, (মৃতের মুখে আগুন দেওয়ার জন্য)। এ আচরণের সাথে যেন উম্মতে মুহাম্মাদীর আচরণের কোন মিল না ঘটে, সেজন্য আগুন নিতে নিষেধ করা হয়েছে।

২২৬. জানাযা আসতে দেখে দাঁড়ান সম্পর্কে।

باب الْقِيَامِ لِلْجَنَازَةِ

৩১৫৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمُ الْجَنَازَةَ فَقُومُوا لَهَا حَتَّى تُخَلِّفَكُمْ أَوْ تُوضَعَ " .

বর্ণনাকারী: আমির ইবনে রবীআ (রাঃ)

৩১৫৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আমির ইবনে রাবী’আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তোমরা কোন জানাযা (মৃত ব্যক্তির লাশ) দেখবে, তখন তোমরা তার সম্মানে দাঁড়াবে, যতক্ষণ না তা তোমাদের অতিক্রম করে অথবা দাফনের জন্য রাখা হয়।

৩১৫৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَبِعْتُمُ الْجَنَازَةَ فَلاَ تَجْلِسُوا حَتَّى تُوضَعَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الثَّوْرِيُّ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ فِيهِ حَتَّى تُوضَعَ بِالأَرْضِ وَرَوَاهُ أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ سُهَيْلٍ قَالَ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسُفْيَانُ أَحْفَظُ مِنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৫৯. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন জানাযার অনুগমন করবে, তখন তোমরা ততক্ষণ বসবে না, যতক্ষণ না তাকে (যমীনে) রাখা হয়।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ছাওরী উক্ত হাদীস সুহাঈল হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। যাতে এরূপ বর্ণিত আছেঃ যতক্ষণ না সে জানাযাকে যমীনে রাখা হয়।

রাবী আবু মুআবিয়া (রাহঃ) সুহাঈল হতে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ যতক্ষণ না সে জানাযাকে (লাশকে) কবরে রাখা হয়।
৩১৬০

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِقْسَمٍ، حَدَّثَنِي جَابِرٌ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّتْ بِنَا جَنَازَةٌ فَقَامَ لَهَا فَلَمَّا ذَهَبْنَا لِنَحْمِلَ إِذَا هِيَ جَنَازَةُ يَهُودِيٍّ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا هِيَ جَنَازَةُ يَهُودِيٍّ . فَقَالَ " إِنَّ الْمَوْتَ فَزَعٌ فَإِذَا رَأَيْتُمْ جَنَازَةً فَقُومُوا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৬০. মুআম্মাল ইবনে ফযল হাররানী (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় একটা জানাযা আমাদের পাশ দিয়ে নেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে যান। আমরা সে জানাযা বহনের উদ্দেশ্যে সেখানে পৌছে জানতে পারি যে, তা একজন ইয়াহুদীর জানাযা (লাশ)। তখন তিনি বলেনঃ নিশ্চয় মৃত্যু তো ভয়ের জিনিস। কাজেই তোমরা যখন কোন জানাযা দেখবে, তখন তোমরা দাঁড়িয়ে যাবে।

৩১৬১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ وَاقِدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ مَسْعُودِ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي الْجَنَائِزِ ثُمَّ قَعَدَ بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩১৬১. আল-কা’নবী (রাহঃ) ...... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) প্রথম দিকে কোন জানাযা দেখার পর দাঁড়াতেন কিন্তু পরে তিনি বসে থাকতেন।

৩১৬২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ بَهْرَامَ الْمَدَائِنِيُّ، أَخْبَرَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَسْبَاطِ الْحَارِثِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ فِي الْجَنَازَةِ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ فَمَرَّ بِهِ حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالَ هَكَذَا نَفْعَلُ . فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " اجْلِسُوا خَالِفُوهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩১৬২. হিশাম ইবনে বাহরাম মাদাইনী (রাহঃ) .... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন জানাযার উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন, তখন তিনি ততক্ষণ বসতেন না, যতক্ষণ না সে লাশকে কবরে রাখা হতো। অতঃপর জনৈক ইয়াহুদী আলিম তাঁর নিকট দিয়ে গমনকালে বলেঃ আমরাও এরূপ করে থাকি। তখন নবী (ﷺ) বসে পড়েন এবং বলেনঃ তোমরাও বস এবং তাদের (ইয়াহুদীদের) বিপরীত কাজ কর।

২২৭. জানাযার সাথে বাহনে সওয়ার হয়ে যাওয়া নিষেধ।

باب الرُّكُوبِ فِي الْجَنَازَةِ

৩১৬৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ ثَوْبَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِدَابَّةٍ وَهُوَ مَعَ الْجَنَازَةِ فَأَبَى أَنْ يَرْكَبَهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ أُتِيَ بِدَابَّةٍ فَرَكِبَ فَقِيلَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ كَانَتْ تَمْشِي فَلَمْ أَكُنْ لأَرْكَبَ وَهُمْ يَمْشُونَ فَلَمَّا ذَهَبُوا رَكِبْتُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৩১৬৩. ইয়াহয়া ইবনে মুসা বালখী (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তির জানাযার অনুগমন করাকালে তাঁর জন্য একটা বাহন আনা হয়। তখন তিনি তার পিঠে চড়তে অস্বীকার করেন। অতঃপর তিনি যখন সেখান হতে ফিরে আসতে ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর জন্য বাহন আনা হলে তিনি তাতে আরোহণ করেন। তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ উক্ত জানাযার সঙ্গে ফিরিশতারা পায়ে হেঁটে চলছিল, তাই আমি বাহনে সওয়ার হওয়া ভাল মনে করিনি। এখন তাঁরা চলে গেছেন, তাই আমি বাহনে আরোহণ করেছি।

৩১৬৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى ابْنِ الدَّحْدَاحِ وَنَحْنُ شُهُودٌ ثُمَّ أُتِيَ بِفَرَسٍ فَعُقِلَ حَتَّى رَكِبَهُ فَجَعَلَ يَتَوَقَّصُ بِهِ وَنَحْنُ نَسْعَى حَوْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩১৬৪. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আলী ইবনে দাহদাহ নামক জনৈক সাহাবীর জানাযার নামায আদায় করেন। আর এ সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর তাঁর আরোহণের জন্য একটা ঘোড়া আনা হলে তিনি সেটিকে বেঁধে রাখেন। এরপর তিনি তার পিঠে সওয়ার হলে সেটি লাফালাফি করে চলতে থাকে। এ সময় আমরা নবী (ﷺ)-এর পাশাপাশি দৌড়ে চলছিলাম।

২২৮. জানাযার আগে আগে যাওয়া সম্পর্কে।

باب الْمَشْىِ أَمَامَ الْجَنَازَةِ

৩১৬৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩১৬৫. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ), আবু বকর এবং উমর (রাযিঃ)-কে জানাযার আগে আগে যেতে দেখেছি।

৩১৬৬

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، - وَأَحْسَبُ أَنَّ أَهْلَ، زِيَادٍ أَخْبَرُونِي أَنَّهُ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - قَالَ " الرَّاكِبُ يَسِيرُ خَلْفَ الْجَنَازَةِ وَالْمَاشِي يَمْشِي خَلْفَهَا وَأَمَامَهَا وَعَنْ يَمِينِهَا وَعَنْ يَسَارِهَا قَرِيبًا مِنْهَا وَالسِّقْطُ يُصَلَّى عَلَيْهِ وَيُدْعَى لِوَالِدَيْهِ بِالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৩১৬৬. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইউনুস বলেছেনঃ আমার ধারণা, যিয়াদের অধিবাসীরা এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আরোহীর উচিত জানাযার পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করা। আর পদব্রজে গমনকারী জানাযার আগে, পিছে, ডানে ও বামে যেতে পারে এবং সাথে সাথেও চলতে পারে।

গর্ভপাত হওয়ার ফলে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তার জানাযার নামায পড়তে হবে এবং তার মাতাপিতার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দুআ করতে হবে।

২২৯. জানাযা দ্রুত বহন করা।

باب الإِسْرَاعِ بِالْجَنَازَةِ

৩১৬৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৬৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জানাযাকে দ্রুত নিয়ে যাবে। কেননা যদি সে নেককার হয়, তবে তোমরা তাকে তার কল্যাণের দিকে দ্রুত পৌছে দেবে। আর যদি সে বদকার হয়, তবে তোমরা একটা অকল্যাণ তোমাদের গরদান হতে দ্রুত নামিয়ে দিলে।

৩১৬৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ فِي جَنَازَةِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ وَكُنَّا نَمْشِي مَشْيًا خَفِيفًا فَلَحِقَنَا أَبُو بَكْرَةَ فَرَفَعَ سَوْطَهُ فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَرْمُلُ رَمَلاً .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩১৬৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ তিনি উসমান ইবনে আবিল আসের জানাযায় শরীক ছিলেন। আমরা তার জানাযা নিয়ে আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম। এ সময় আবু বাকরা (রাযিঃ) আমাদের সাথে যোগ দেন। তিনি আমাদের আস্তে আস্তে চলতে দেখে লাঠি উঁচিয়ে বলেনঃ তোমরা তো দেখেছ, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে জানাযা (লাশ) নিয়ে দ্রুত গমন করেছি।

৩১৬৯

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ عُيَيْنَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالاَ فِي جَنَازَةِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ وَقَالَ فَحَمَلَ عَلَيْهِمْ بَغْلَتَهُ وَأَهْوَى بِالسَّوْطِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩১৬৯. হুমায়দা ইবনে মাস’আদা (রাহঃ) .... উয়াইনা উপরিউক্ত হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, উক্ত জানাযা ছিল আব্দুর রহমান ইবনে সামুরার। রাবী বলেনঃ আবু বাকরা (রাযিঃ) দ্রুত তাঁর খচ্চর হাঁকিয়ে আসেন এবং লাঠির ইশারায় লাশ দ্রুত বহন করতে বলেন।

৩১৭০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ يَحْيَى الْمُجَبِّرِ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّيْمِيُّ - عَنْ أَبِي مَاجِدَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلْنَا نَبِيَّنَا صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَشْىِ مَعَ الْجَنَازَةِ فَقَالَ " مَا دُونَ الْخَبَبِ إِنْ يَكُنْ خَيْرًا تَعَجَّلْ إِلَيْهِ وَإِنْ يَكُنْ غَيْرَ ذَلِكَ فَبُعْدًا لأَهْلِ النَّارِ وَالْجَنَازَةُ مَتْبُوعَةٌ وَلاَ تُتْبَعُ لَيْسَ مَعَهَا مَنْ تَقَدَّمَهَا " . ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَهُوَ ضَعِيفٌ هُوَ يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ يَحْيَى الْجَابِرُ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَهَذَا كُوفِيٌّ وَأَبُو مَاجِدَةَ بَصْرِيٌّ» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " أَبُو مَاجِدَةَ، هَذَا لَا يُعْرَفُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩১৭০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের নবী (ﷺ)-কে জানাযার সাথে চলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ দৌড়ের চাইতে কিছু কম গতিতে চলবে। যদি সে নেককার হয়, তবে তাকে পৌছানোর জন্য জলদি করবে। আর যদি সে নেককার না হয়, তবে জাহান্নামীদের থেকে দূরে থাকাই ভাল এবং জানাযার পেছনে যাওয়াই শ্রেয়। আর তার লাশের আগে যাবে না। যে ব্যক্তি জানাযার আগে যায়, সে ঐ জানাযার সাথীদের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

২৩০. আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামাযে ইমামের শরীক না হওয়া।

باب الإِمَامِ لاَ يُصَلِّي عَلَى مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ

৩১৭১

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ سَمُرَةَ، قَالَ مَرِضَ رَجُلٌ فَصِيحَ عَلَيْهِ فَجَاءَ جَارُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ إِنَّهُ قَدْ مَاتَ . قَالَ " وَمَا يُدْرِيكَ " . قَالَ أَنَا رَأَيْتُهُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَمْ يَمُتْ " . قَالَ فَرَجَعَ فَصِيحَ عَلَيْهِ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ مَاتَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَمْ يَمُتْ " . فَرَجَعَ فَصِيحَ عَلَيْهِ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ . فَقَالَ الرَّجُلُ اللَّهُمَّ الْعَنْهُ . قَالَ ثُمَّ انْطَلَقَ الرَّجُلُ فَرَآهُ قَدْ نَحَرَ نَفْسَهُ بِمِشْقَصٍ مَعَهُ فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ فَقَالَ " مَا يُدْرِيكَ " . قَالَ رَأَيْتُهُ يَنْحَرُ نَفْسَهُ بِمَشَاقِصَ مَعَهُ . قَالَ " أَنْتَ رَأَيْتَهُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " إِذًا لاَ أُصَلِّي عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩১৭১. ইবনে নুফায়ল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পরে তার মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়ে। তখন তার প্রতিবেশী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ সে ব্যক্তি মারা গেছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কিরূপে এ খবর জানলে? সে বলেঃ আমি তাকে দেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে মারা যায়নি। রাবী বলেনঃ তখন সে ব্যক্তি ফিরে যায়। ইত্যবসরে তাঁর জন্য কান্নার রোল শোনা গেলে, সে ব্যক্তি (প্রতিবেশী) আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বললঃ অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ না, সে মারা যায়নি। রাবী বলেনঃ তখন সে ব্যক্তি ফিরে যায়। তখন তার জন্য আবার কান্নার রোল শোনা গেল এবং সে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তাকে (প্রতিবেশী) বললঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে এ খবর দিন।

তখন সে ব্যক্তি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি এর উপর লা’নত করুন! রাবী বলেনঃ তখন সে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির কাছে হাযির হয়ে দেখতে পেল যে, সে তীরের ফলা দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে। তখন সে নবী (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে খবর দিল যেঃ সে ব্যক্তি মারা গেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কিরূপে এ খবর জানলে? সে বলেঃ আমি দেখে এসেছি যে, সে ব্যক্তি তার নিজের তীরের ফলা দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেনঃ তুমি কি তাকে এরূপই দেখে এসেছ? তখন সে বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তাহলে আমি তার জানাযার নামায পড়ব না।

২৩১. শরীআতের বিধান অনুসারে বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ عَلَى مَنْ قَتَلَتْهُ الْحُدُودُ

৩১৭২

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، حَدَّثَنِي نَفَرٌ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُصَلِّ عَلَى مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ وَلَمْ يَنْهَ عَنِ الصَّلاَةِ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৩১৭২. আবু কামিল (রাহঃ) .... আবু বারযা আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর জানাযার নামায পড়েননি। তবে তিনি অন্যদের তার জানাযার নামায পড়তে নিষেধ করেননি।[১]

[১] মাইয ইবন মালিক (রা.) কে যিনার অভিযোগের কারণে পাথর মেরে হত্যা করা হয়। এজন্য নবী জানাযার নামায নিজে পড়েননি। তবে তিনি অন্যদের তাঁর জানাযার নামায পড়তে নিষেধ করেননি।

২৩২. শিশুর সালাতুল জানাযা পড়া সম্পর্কে।

باب فِي الصَّلاَةِ عَلَى الطِّفْلِ

৩১৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَاتَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর পুত্র ইবরাহীম আঠার মাস বয়সের সময় মারা যান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সালাতুল জানাযা পড়েননি।[১]

[১] কেননা, তিনি মা'সূম বা নিষ্পাপ ছিলেন। অথবা অন্যান্যদের সাথে নিয়ে তিনি (ﷺ) তাঁর জানাযার নামায় পড়েননি; বরং তিনি একাকী পড়েছিলেন। যেমন পরবর্তী হাদীসে উল্লেখ আছে।
৩১৭৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَهِيَّ، قَالَ لَمَّا مَاتَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَقَاعِدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَرَأْتُ عَلَى سَعِيدِ بْنِ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيِّ قِيلَ لَهُ حَدَّثَكُمُ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ الْقَعْقَاعِ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ ابْنُ سَبْعِينَ لَيْلَةً .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৭৪. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... ওয়ায়েল ইবনে দাউদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বাহী থেকে শ্রবণ করেছি, যখন নবী (ﷺ) এর পুত্র ইবরাহীম মারা যান, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বসার স্থানে তাঁর (ইবরাহীমের) জানাযার নামায পড়েন।

২৩৩. মসজিদে জানাযার নামায আদায় সস্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَازَةِ فِي الْمَسْجِدِ

৩১৭৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ عَجْلاَنَ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ وَاللَّهِ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى سُهَيْلِ ابْنِ الْبَيْضَاءِ إِلاَّ فِي الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৭৫. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহাঈল ইবনে বায়যা (রাযিঃ) এর জানাযার নামায মসজিদেই পড়েছিলেন।

৩১৭৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى ابْنَىْ بَيْضَاءَ فِي الْمَسْجِدِ سُهَيْلٍ وَأَخِيهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৭৬. হারুন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়যা (রাযিঃ)-এর দুই ছেলে সুহাঈল এবং তাঁর ভাইয়ের জানাযার নামায মসজিদেই পড়েছিলেন।

৩১৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنِي صَالِحٌ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَلاَ شَىْءَ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৭৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মসজিদে কোন ব্যক্তির জানাযার নামায পড়বে, তার কোন গুনাহ হবে না।

২৩৪. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় দাফন না করা।

باب الدَّفْنِ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَعِنْدَ غُرُوبِهَا

৩১৭৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، قَالَ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ أَوْ كَمَا قَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩১৭৮. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিনটি সময়ে নামায আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্যোদয়ের সময় হতে সূর্য উপরে উঠার আগ পর্যন্ত, (২) ঠিক দুপুর হতে সূর্য পশ্চিম আকাশে না হেলা পর্যন্ত এবং (৩) সূর্যাস্তের সময় হতে সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত।

২৩৫. পুরুষ এবং মহিলার জানাযা এক সাথে হাযির হলে কার জানাযা (লাশ) আগে থাকবে।

باب إِذَا حَضَرَ جَنَائِزَ رِجَالٍ وَنِسَاءٍ مَنْ يُقَدِّمُ

৩১৭৯

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ صُبَيْحٍ، حَدَّثَنِي عَمَّارٌ، مَوْلَى الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ أَنَّهُ شَهِدَ جَنَازَةَ أُمِّ كُلْثُومٍ وَابْنِهَا فَجُعِلَ الْغُلاَمُ مِمَّا يَلِي الإِمَامَ فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ وَفِي الْقَوْمِ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ وَأَبُو قَتَادَةَ وَأَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالُوا هَذِهِ السُّنَّةُ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবনে আবু আম্মার (রহঃ)

৩১৭৯. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে মাওয়াহব রামলী (রাহঃ) .... হারিছ ইবনে নওফলের আযাদকৃত গোলাম আম্মার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তিনি উম্মু কুলছূম (রাযিঃ) এবং তাঁর পুত্রের জানাযায় শরীক ছিলেন। তখন পুত্রের জানাযা (লাশ) ইমামের নিকটবর্তী রাখা হয় (এবং মহিলার লাশ দূরে)।

রাবী বলেনঃ ব্যাপারটি আমার কাছে প্রিয় মনে হয়নি। এ সময় লোকদের মাঝে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ), আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ), আবু কাতাদা (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেনঃ এটাই সুন্নত তরীকা।

২৩৬. জানাযা নামায পড়ার সময় ইমাম মৃত ব্যক্তির কোন স্থান বরাবর দাঁড়াবে।

باب أَيْنَ يَقُومُ الإِمَامُ مِنَ الْمَيِّتِ إِذَا صَلَّى عَلَيْهِ

৩১৮০

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ نَافِعٍ أَبِي غَالِبٍ، قَالَ كُنْتُ فِي سِكَّةِ الْمِرْبَدِ فَمَرَّتْ جَنَازَةٌ مَعَهَا نَاسٌ كَثِيرٌ قَالُوا جَنَازَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ فَتَبِعْتُهَا فَإِذَا أَنَا بِرَجُلٍ عَلَيْهِ كِسَاءٌ رَقِيقٌ عَلَى بُرَيْذِينَتِهِ وَعَلَى رَأْسِهِ خِرْقَةٌ تَقِيهِ مِنَ الشَّمْسِ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا الدِّهْقَانُ قَالُوا هَذَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ . فَلَمَّا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ قَامَ أَنَسٌ فَصَلَّى عَلَيْهَا وَأَنَا خَلْفَهُ لاَ يَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَىْءٌ فَقَامَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ لَمْ يُطِلْ وَلَمْ يُسْرِعْ ثُمَّ ذَهَبَ يَقْعُدُ فَقَالُوا يَا أَبَا حَمْزَةَ الْمَرْأَةُ الأَنْصَارِيَّةُ فَقَرَّبُوهَا وَعَلَيْهَا نَعْشٌ أَخْضَرُ فَقَامَ عِنْدَ عَجِيزَتِهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا نَحْوَ صَلاَتِهِ عَلَى الرَّجُلِ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ الْعَلاَءُ بْنُ زِيَادٍ يَا أَبَا حَمْزَةَ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الْجَنَازَةِ كَصَلاَتِكَ يُكَبِّرُ عَلَيْهَا أَرْبَعًا وَيَقُومُ عِنْدَ رَأْسِ الرَّجُلِ وَعَجِيزَةِ الْمَرْأَةِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ يَا أَبَا حَمْزَةَ غَزَوْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ غَزَوْتُ مَعَهُ حُنَيْنًا فَخَرَجَ الْمُشْرِكُونَ فَحَمَلُوا عَلَيْنَا حَتَّى رَأَيْنَا خَيْلَنَا وَرَاءَ ظُهُورِنَا وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ يَحْمِلُ عَلَيْنَا فَيَدُقُّنَا وَيَحْطِمُنَا فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ وَجَعَلَ يُجَاءُ بِهِمْ فَيُبَايِعُونَهُ عَلَى الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ عَلَىَّ نَذْرًا إِنْ جَاءَ اللَّهُ بِالرَّجُلِ الَّذِي كَانَ مُنْذُ الْيَوْمِ يَحْطِمُنَا لأَضْرِبَنَّ عُنُقَهُ . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجِيءَ بِالرَّجُلِ فَلَمَّا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُبْتُ إِلَى اللَّهِ . فَأَمْسَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُبَايِعُهُ لِيَفِيَ الآخَرُ بِنَذْرِهِ . قَالَ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَتَصَدَّى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَأْمُرَهُ بِقَتْلِهِ وَجَعَلَ يَهَابُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْتُلَهُ فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لاَ يَصْنَعُ شَيْئًا بَايَعَهُ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَذْرِي . فَقَالَ " إِنِّي لَمْ أُمْسِكْ عَنْهُ مُنْذُ الْيَوْمِ إِلاَّ لِتُوفِيَ بِنَذْرِكَ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَوْمَضْتَ إِلَىَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَيْسَ لِنَبِيٍّ أَنْ يُومِضَ " . قَالَ أَبُو غَالِبٍ فَسَأَلْتُ عَنْ صَنِيعِ أَنَسٍ فِي قِيَامِهِ عَلَى الْمَرْأَةِ عِنْدَ عَجِيزَتِهَا فَحَدَّثُونِي أَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ لأَنَّهُ لَمْ تَكُنِ النُّعُوشُ فَكَانَ الإِمَامُ يَقُومُ حِيَالَ عَجِيزَتِهَا يَسْتُرُهَا مِنَ الْقَوْمِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . نَسَخَ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ الْوَفَاءَ بِالنَّذْرِ فِي قَتْلِهِ بِقَوْلِهِ إِنِّي قَدْ تُبْتُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৮০. দাউদ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ..... নাফি আবু গালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি সিক্কাতুল মিওবাদ নামক স্থানে ছিলাম। এ সময় সেখান দিয়ে একটি জানাযা (লাশ) অতিক্রম করছিল, যার সাথে অনেক লোক ছিল। লোকেরা বলাবলি করছিলঃ এটা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর জানাযা। তখন আমিও তাদের অনুসরণ করি। এ সময় আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই, যিনি পাতলা চাদর মুড়ি দিয়ে একটি ছোট মুখ বিশিষ্ট অশ্বে সওয়ার ছিলেন। আর রোদের তাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মাথার উপর একখণ্ড কাপড়ও ছিল। তাঁকে দেখে আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইনি কোন জমিদার? লোকেরা বলেঃ ইনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)।

অতঃপর যখন জানাযা (লাশ) রাখা হয়, তখন আনাস (রাযিঃ) দাঁড়ান এবং জানাযার নামায পড়ান। এ সময় আমি তাঁর পেছনে ছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে আর কোন অন্তরায় ছিল না। তিনি তাঁর (মৃত ব্যক্তির) মাথা বরাবর দাঁড়ান এবং চার তাকবীরে নামায শেষ করেন, যা অধিক দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত ছিল না। অতঃপর তিনি বসার জন্য গমন করেন। তখন লোকেরা তাঁকে বলেঃ হে আবু হামযা! এটি একটি আনসার মহিলার জানাযা। তখন তারা সেটি নিকটে নিয়ে আসে এবং সেটি সবুজ গিলাফে ঢাকা ছিল।

তখন তিনি [আনাস (রাযিঃ)] তাঁর কোমর বরাবর খাড়া হয়ে ঐরূপে জানাযা নামায আদায় করেন, যেরূপ তিনি পুরুষ লোকটির নামায পড়িয়েছিলেন। অতঃপর তিনি উপবেশন করেন। তখন আলা ইবনে যিয়াদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু হামযা! আপনি যেভাবে জানাযার নামায আদায় করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনার মত করে সালাতুল-জানাযা আদায় করতেন? তিনি কি চার তাকবীর বলতেন এবং পুরুষের জানাযার মাথা বরাবর ও স্ত্রীলোকদের জানাযার কোমর বরাবর দণ্ডায়মান হতেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

অতঃপর তিনি (আলা) বলেনঃ হে আবু হামযা! আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে জিহাদে শরীক হয়েছিলেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। আমি তার সঙ্গে হুনায়নের যুদ্ধে শরীক হয়েছিলাম। এ সময় মুশরিকরা (তাদের দুর্গ হতে) বেরিয়ে এসে আমাদের উপর (প্রচণ্ড) হামলা করে। ফলে আমরা আমাদের ঘোড়াকে আমাদের পেছনে দেখতে পাই। আর মুশরিকদের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে আমাদের উপর (তীব্র) হামলা করেছিল এবং তরবারির আঘাতে আমাদের ক্ষত-বিক্ষত করছিল। অবশেষে আল্লাহ তাদের পরাজিত করেন। তিনি তাদের নিয়ে আসেন এবং তারা এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করতে থাকে।

এ সময় নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী এরূপ মান্নত করেন যে, সে দিন যে ব্যক্তি আমাদের তরবারির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল, আল্লাহ যদি তাকে এনে দেন, তবে আমি তার শিরশ্ছেদ করব। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তিকে আনা হয়। সে ব্যক্তি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখে, তখন বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বায়’আত করা হতে বিরত থাকেন, যাতে অপর ব্যক্তি (সাহাবী) তাঁর মান্নত পুরা করার সুযোগ পায়। অপরপক্ষে সে সাহাবী এ অপেক্ষায় ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হত্যার নির্দেশ দিবেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন দেখলেন যে, সে (সাহাবী) কিছুই করছে না, তখন তাকে বায়’আত করেন। তখন সে ব্যক্তি (সাহাবী) বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মান্নত কিরূপে পূর্ণ হবে? তিনি বলেনঃ আমি তাকে আজকের পূর্ব পর্যন্ত বায়’আত করাতে এ জন্য বিরত ছিলাম, যাতে তুমি তোমার মান্নত পুরা করতে পার। তখন সে (সাহাবী) বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে কেন ইশারা করলেন না? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ ইশারা করা নবীর শান নয়।

রাবী আবু গালিব বলেনঃ অতঃপর আমি লোকদের কাছে আনাস (রাযিঃ) মহিলার জানাযার নামায পড়বার সময় কেন তার কোমর বরাবর দাঁড়ালেন, এর কারণ জিজ্ঞাসা করি। তখন তারা আমাকে বলেনঃ প্রথম যুগে খাটিয়ার প্রচলন ছিল না, (যাতে মহিলাদের লাশ ঢেকে রাখা যেত)। এ জন্য ইমাম মহিলা জানাযার (লাশের) কোমর বরাবর দাঁড়াতেন, যাতে তা মুক্তাদীদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে।
৩১৮১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ صَلَّيْتُ وَرَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ مَاتَتْ فِي نِفَاسِهَا فَقَامَ عَلَيْهَا لِلصَّلاَةِ وَسَطَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩১৮১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-এর পেছনে এমন একজন মহিলার জানাযার নামায পড়েছিলাম, যিনি নিফাসের অবস্থায় ইনতিকাল করেন। তিনি তাঁর জানাযার নামায পড়বার সময় তার (লাশের) মাঝখান বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।

২৩৭. জানাযার নামাযের তাকবীর প্রসঙ্গে।

باب التَّكْبِيرِ عَلَى الْجَنَازَةِ

৩১৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِقَبْرٍ رَطْبٍ فَصَفُّوا عَلَيْهِ وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا . فَقُلْتُ لِلشَّعْبِيِّ مَنْ حَدَّثَكَ قَالَ الثِّقَةُ مَنْ شَهِدَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৩১৮২. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা নতুন কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন সাহাবীগণ কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালে তিনি চার তাকবীরের সাথে জানাযার নামায আদায় করেন।

রাবী আবু ইসহাক বলেনঃ আমি শা’বী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনার নিকট এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেনঃ একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, যিনি সেখানে নবীজীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)।
৩১৮৩

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ كَانَ زَيْدٌ - يَعْنِي ابْنَ أَرْقَمَ - يُكَبِّرُ عَلَى جَنَائِزِنَا أَرْبَعًا وَإِنَّهُ كَبَّرَ عَلَى جَنَازَةٍ خَمْسًا فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَنَا لِحَدِيثِ ابْنِ الْمُثَنَّى أَتْقَنُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

৩১৮৩. আবু ওয়ালিদ তায়ালীসি (রাহঃ) ..... ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) আমাদের জানাযার নামায পড়ানোর সময় চার তাকবির বলতেন। একবার তিনি এক নামাযে পাচ তাকবির বলেন। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন সময় পাচ তাকবির বলতেন।

২৩৮. জানাযার নামাযে যা পড়তে হবে।

باب مَا يُقْرَأُ عَلَى الْجَنَازَةِ

৩১৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَقَالَ إِنَّهَا مِنَ السُّنَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাসির (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আওফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করি। সে সময় তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং বললেন এটি সুন্নত।

২৩৯. মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা।

باب الدُّعَاءِ لِلْمَيِّتِ

৩১৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৫. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া হুররানি (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমরা কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করবে, তখন তার জন্য ইখলাস বা আন্তরিকতার সাথে দুআ করবে।

৩১৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْجُلاَسِ، عُقْبَةُ بْنُ سَيَّارٍ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ شَمَّاخٍ، قَالَ شَهِدْتُ مَرْوَانَ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الْجَنَازَةِ قَالَ أَمَعَ الَّذِي قُلْتَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ كَلاَمٌ كَانَ بَيْنَهُمَا قَبْلَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا لِلإِسْلاَمِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلاَنِيَتِهَا جِئْنَاكَ شُفَعَاءَ فَاغْفِرْ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৬. আবু মা’মার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আলী ইবনে শামমাখ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মারওয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে সময় তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মৃত ব্যক্তির জন্য কিরূপে দুআ করতে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ আপনি কি আমাকে ঐ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন, যা আপনি বলেছেন? মারওয়ান বলেনঃ হ্যাঁ।

রাবী বলেনঃ ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে উভয়ের মাঝে কিছুটা বাদানুবাদ হয়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) এরূপ দুআ করতেনঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا لِلإِسْلاَمِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلاَنِيَتِهَا جِئْنَاكَ شُفَعَاءَ فَاغْفِرْ لَهُ

অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আপনি এর রব। আপনি একে পয়দা করেছিলেন। আপনিই তাকে ইসলামের উপর হিদায়াত দিয়েছিলেন। এখন আপনি তার রুহ কবয করে নিয়েছেন এবং আপনি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যাপারে অধিক অবহিত। আমরা তার জন্য সুপারিশকারী হিসাবে এসেছি। আপনি তাকে ক্ষমা করুন।
৩১৮৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَنَازَةٍ فَقَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الإِيمَانِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِسْلاَمِ اللَّهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلاَ تُضِلَّنَا بَعْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৭. মুসা ইবনে মারওয়ান রুককী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায়ের পর এরূপ দুআ করেনঃ

ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবিত ও মৃতদের ক্ষমা করুন। আমাদের ছোট ও বড়, পুরুষ ও স্ত্রী, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ঈমানের উপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দেন, তাকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের বিনিময় হতে মাহরূম করবেন না এবং এরপর আর আমাদের গুমরাহ করবেন না।
৩১৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ، - وَحَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَتَمُّ - حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ جُنَاحٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنَّ فُلاَنَ بْنَ فُلاَنٍ فِي ذِمَّتِكَ فَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ " . قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ " فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَمْدِ اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ " . قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ جُنَاحٍ .

বর্ণনাকারী: ওয়াছিলা ইবনে আসকা‘ (রাঃ)

৩১৮৮. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ) ..... ওয়াছিলা ইবনে আসকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করি। তখন আমি তাঁকে এরূপ দুআ করতে শুনিঃ

″ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মায়। আপনি তাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করুন।″

রাবী আব্দুর রহমান এরূপ দুআর কথা বলেছেনঃ ″এ ব্যক্তি আপনার যিম্মায় এবং আপনার প্রতিবেশী। আপনি একে কবরের আযাবের ফিতনা ও জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করুন। আপনি ওয়াদা পূর্ণকারী এবং সত্যের প্রতীক। ইয়া আল্লাহ! আপনি একে ক্ষমা করুন এবং তার উপর রহম করুন। আপনি মহাক্ষমাশীল, মেহেরবান।

২৪০. কবরের উপর সালাতুল জানাযা আদায় করা।

باب الصَّلاَةِ عَلَى الْقَبْرِ

৩১৮৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، سَوْدَاءَ أَوْ رَجُلاً كَانَ يَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَفَقَدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عَنْهُ فَقِيلَ مَاتَ . فَقَالَ " أَلاَّ آذَنْتُمُونِي بِهِ " . قَالَ " دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ " . فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮৯. সুলাইমান ইবনে হারব ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক কাল বর্ণের মহিলা বা পুরুষ মসজিদে নববী ঝাঁড়ু দিত। নবী (ﷺ) তাকে দেখতে না পেয়ে লোকদের নিকট তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তাকে বলা হয়ঃ সে মারা গেছে। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে এ সম্পর্কে কেন অবহিত করলে না? তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তখন লোকেরা কবর দেখিয়ে দিলে তিনি তার কবরের উপর জানাযার নামায আদায় করেন।

২৪১. মুশরিকদের দেশে মৃত্যুপ্রাপ্ত মুসলমানের সালাতুল জানাযা আদায় সম্পর্কে।

باب فِي الصَّلاَةِ عَلَى الْمُسْلِمِ يَمُوتُ فِي بِلاَدِ الشِّرْكِ

৩১৯০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى لِلنَّاسِ النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৯০. আল-কানা’বী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের নাজ্জাশীর মৃত্যুর দিনে তার ইন্তিকালের খবর জানিয়ে দেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঈদগাহে সমবেত হন এবং তাঁদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীরের সাথে (নাজ্জাশীর) সালাতুল জানাযা আদায় করেন।[১]

[১] অর্থাৎ গায়েবানা জানাযা আদায় করেন। হাবশ বা আবিসিনিয়ার অধিপতিকে নাজাশী বলা হয়। উক্ত নাজাশীর নাম ছিল-আসহাম। তিনি ইসলাম কবুল করেছিলেন এবং আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলমানদের প্রভূত উপকার করেছিলেন।
৩১৯১

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَنْطَلِقَ إِلَى أَرْضِ النَّجَاشِيِّ فَذَكَرَ حَدِيثَهُ قَالَ النَّجَاشِيُّ أَشْهَدُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّهُ الَّذِي بَشَّرَ بِهِ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَلَوْلاَ مَا أَنَا فِيهِ مِنَ الْمُلْكِ لأَتَيْتُهُ حَتَّى أَحْمِلَ نَعْلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৩১৯১. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আবু বুরদা তাঁর পিতা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এ মর্মে নির্দেশ দেন যে, আমরা যেন নাজ্জাশীর দেশে গমন করি। অতঃপর তাঁর কথা বর্ণনা করেন। নাজ্জাশী বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল। আর তিনি সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে ঈসা ইবনে মারয়াম সুসংবাদ দিয়েছেন। আমি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে ব্যস্ত না থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর নিকট হাযির হতাম, এমনকি তাঁর জুতাজোড়া বহন করতাম।

২৪২. কয়েকজন মৃত ব্যক্তিকে একই কবরে দাফন করা এবং কবর চিহ্নিত করা সস্পর্কে।

باب فِي جَمْعِ الْمَوْتَى فِي قَبْرٍ وَالْقَبْرُ يُعَلَّمُ

৩১৯২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سَالِمٍ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْفَضْلِ السِّجِسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - بِمَعْنَاهُ عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ الْمَدَنِيِّ، عَنِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ لَمَّا مَاتَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ أُخْرِجَ بِجَنَازَتِهِ فَدُفِنَ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً أَنْ يَأْتِيَهُ بِحَجَرٍ فَلَمْ يَسْتَطِعْ حَمْلَهُ فَقَامَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَسَرَ عَنْ ذِرَاعَيْهِ - قَالَ كَثِيرٌ قَالَ الْمُطَّلِبُ قَالَ الَّذِي يُخْبِرُنِي ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ - كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ ذِرَاعَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ حَسَرَ عَنْهُمَا ثُمَّ حَمَلَهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَأْسِهِ وَقَالَ " أَتَعَلَّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِي " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৯২. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) .... মুত্তালিব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন উছমান ইবনে মায’উন (রাযিঃ) ইনতিকাল করেন, তখন তাঁর জানাযা (লাশ) বের করা হয়, অতঃপর দাফন করা হয়। তখন নবী (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে একখণ্ড পাথর আনার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু সে তা বহন করতে অক্ষম হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটি নিজে আনার জন্য অগ্রসর হন এবং তাঁর দু’হাতের জামার আস্তিন গুটিয়ে ফেলেন।

রাবী কাছীর বলেনঃ মুত্তালিব (রাহঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উভয় বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই, যখন তিনি তাঁর দু’হাতের জামার আস্তিন গুটান এবং সে পাথর বয়ে নিয়ে এসে তার (উছমান ইবনে মাযউনের) শিয়রে রাখেন। আর তিনি বলেনঃ এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিহ্নিত করছি। আমি এর পাশে তাদের দাফন করব, যারা আমার পরিবার থেকে মারা যাবে।

২৪৩. কবর খননকারী যদি মৃত ব্যক্তির হ্যাঁড় পায়, তরে সেখানে কবর খুঁড়বে না।

باب فِي الْحَفَّارِ يَجِدُ الْعَظْمَ هَلْ يَتَنَكَّبُ ذَلِكَ الْمَكَانَ

৩১৯৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سَعْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৯৩. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হ্যাঁড় চূর্ণ করা, জীবিত ব্যক্তির হ্যাঁড় চূর্ণ করার মত।

২৪৪. লাহাদ বা বগলী কবর সম্পর্কে।

باب فِي اللَّحْدِ

৩১৯৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَكَّامُ بْنُ سَلْمٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৯৪. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ’লাহাদ’ (বুগলী বা পাশ কবর) আমাদের জন্য এবং ’শাক’ (খোলা বা সিন্দুক কবর) আমাদের ব্যতীত অন্যদের।

২৪৫. মুর্দা রাখার জন্য কতজন কবরে প্রবেশ করবে।

باب كَمْ يَدْخُلُ الْقَبْرَ

৩১৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ غَسَّلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيٌّ وَالْفَضْلُ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَهُمْ أَدْخَلُوهُ قَبْرَهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي مُرَحَّبٌ أَوِ ابْنُ أَبِي مُرَحَّبٍ أَنَّهُمْ أَدْخَلُوا مَعَهُمْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ فَلَمَّا فَرَغَ عَلِيٌّ قَالَ إِنَّمَا يَلِي الرَّجُلَ أَهْلُهُ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৩১৯৫. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ...... আমির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আলী (রাযিঃ), ফযল (রাযিঃ) এবং উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) গোসল দিয়েছিলেন এবং এরাই তাকে কবরে নামিয়েছিলেন। রাবী বলেনঃ আমার নিকট মারহাব অথবা ইবনে আবী মারহাব বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-কেও তাদের সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁরা দাফনক্রিয়া শেষ করলে আলী (রাযিঃ) বলেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তির (দাফনের) কাজ তার স্বজনদের করা উচিত।

৩১৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي مُرَحَّبٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، نَزَلَ فِي قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ أَرْبَعَةً .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩১৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... আবু মারহাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর কবরে অবতরণ করেছিলেন।

রাবী মারহাব বলেনঃ আমি এখনও তাঁদের চারজনকে দেখছি, অর্থাৎ আলী (রাযিঃ), ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ), উসামা (রাযিঃ) এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-কে।

২৪৬. মরদেহ কিরূপে প্রবেশ করাবে।

باب فِي الْمَيِّتِ يُدْخَلُ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ

৩১৯৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ أَوْصَى الْحَارِثُ أَنْ يُصَلِّيَ، عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ أَدْخَلَهُ الْقَبْرَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَىِ الْقَبْرِ وَقَالَ هَذَا مِنَ السُّنَّةِ .

বর্ণনাকারী: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৩১৯৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হারিছ (রাযিঃ) এরূপ ওসীয়ত করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ যেন তাঁর জানাযার নামায পড়ান। সে মতে তিনি [আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)] তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং তাঁর পায়ের দিক হতে তাঁকে কবরে নামান, আর বলেনঃ এটাই সুন্নত তরীকা।

২৪৭. কবরের পাশে কিভাবে বসবে।

باب الْجُلُوسِ عِنْدَ الْقَبْرِ

৩১৯৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمْ يُلْحَدْ بَعْدُ فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَجَلَسْنَا مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩১৯৮. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে জনৈক আনসার সাহাবীর জানাযার নামায পড়ার জন্য গমন করি। আমরা কবরের নিকট পৌছে দেখতে পাই যে, তখনও কবর খোঁড়া শেষ হয়নি। তখন নবী (ﷺ) সেখানে কিবলার দিকে মুখ করে বসে পড়েন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে বসে পড়ি।

২৪৮. লাশ কবরে রাখার সময় দুআ পড়া।

باب فِي الدُّعَاءِ لِلْمَيِّتِ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ

৩১৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا وَضَعَ الْمَيِّتَ فِي الْقَبْرِ قَالَ " بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " . هَذَا لَفْظُ مُسْلِمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, তিনি বলতেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

অর্থাৎ আল্লাহর নামের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নত তরীকায় (এ ব্যক্তিকে কবরে রাখছি)।

এটি মুসলিম (রাহঃ)-এর ভাষ্য।

২৪৯. মুসলমানের কোন মুশরিক স্বজন মারা গেলে।

باب الرَّجُلِ يَمُوتُ لَهُ قَرَابَةُ مُشْرِكٍ

৩২০০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ نَاجِيَةَ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ عَمَّكَ الشَّيْخَ الضَّالَّ قَدْ مَاتَ . قَالَ " اذْهَبْ فَوَارِ أَبَاكَ ثُمَّ لاَ تُحْدِثَنَّ شَيْئًا حَتَّى تَأْتِيَنِي " . فَذَهَبْتُ فَوَارَيْتُهُ وَجِئْتُهُ فَأَمَرَنِي فَاغْتَسَلْتُ وَدَعَا لِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩২০০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে এ মর্মে অবহিত করি যে, আপনার বৃদ্ধ পথভ্রষ্ট চাচা (আবু তালিব) মারা গেছেন। তখন তিনি বলেনঃ যাও এবং তোমার পিতাকে মাটির মধ্যে দাফন করে এস। আমার কাছে ফিরে আসার আগে আর কিছু করবে না। এরপর আমি যাই এবং তার লাশকে দাফন করি এবং তাঁর কাছে ফিরে আসি। তখন তিনি আমাকে গোসলের নির্দেশ দেন। আমি গোসল শেষ করলে তিনি আমার জন্য দুআ করেন।

২৫০. কবর অধিক গভীর করা।

باب فِي تَعْمِيقِ الْقَبْرِ

৩২০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَهُمْ عَنْ حُمَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ جَاءَتِ الأَنْصَارُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالُوا أَصَابَنَا قَرْحٌ وَجَهْدٌ فَكَيْفَ تَأْمُرُنَا قَالَ " احْفِرُوا وَأَوْسِعُوا وَاجْعَلُوا الرَّجُلَيْنِ وَالثَّلاَثَةَ فِي الْقَبْرِ " . قِيلَ فَأَيُّهُمْ يُقَدَّمُ قَالَ " أَكْثَرُهُمْ قُرْآنًا " . قَالَ أُصِيبَ أَبِي يَوْمَئِذٍ عَامِرٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ أَوْ قَالَ وَاحِدٌ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে আমের (রাঃ)

৩২০১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা কা’নবী (রাহঃ) .... হিশাম ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উহুদের যুদ্ধ শেষে আনসার সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলেনঃ আমরা আহত হয়েছি এবং খুবই ক্লান্ত; এখন আপনি আমাদের কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তোমরা প্রশস্ত করে কবর খোঁড় এবং প্রত্যেক কবরে দুই-দুই এবং তিন-তিন ব্যক্তিকে দাফন কর।

তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ আগে কাকে রাখব? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ, তাকে আগে রাখবে।

রাবী বলেনঃ আমার পিতা আমির (রাযিঃ)-ও সেদিন শাহাদতপ্রাপ্ত হন, যাঁকে দুই অথবা এক ব্যক্তির সঙ্গে (একই কবরে) দাফন করা হয়।
৩২০২

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، - يَعْنِي الأَنْطَاكِيَّ - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ فِيهِ " وَأَعْمِقُوا " .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে আমের (রাঃ)

৩২০২. আবু সালিহ (রাহঃ) .... হুমায়দ ইবনে হিলাল (রাহঃ) উপরিউক্ত সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাতে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা গভীর গর্ত করে কবর খুঁড়বে।

৩২০৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ - عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، بِهَذَا

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে হিশাম (রহঃ)

৩২০৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে হিশাম ইবনে আমির (রাহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৫১. কবর সমতল করা।

باب فِي تَسْوِيَةِ الْقَبْرِ

৩২০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي هَيَّاجٍ الأَسَدِيِّ، قَالَ بَعَثَنِي عَلِيٌّ قَالَ لِي أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ أَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتُهُ وَلاَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩২০৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আবু হায়্যাজ আসদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রাযিঃ) আমাকে পাঠান এবং বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন একটি কাজের জন্য প্রেরণ করবো যে কাজের জন্য আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠান? (তা হলোঃ) আমি যেন কোন উঁচু কবর সমান করা ছাড়া এবং কোন মূর্তি ভেঙ্গে যমীনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া ছাড়া, নিবৃত্ত না হই।

৩২০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ كُنَّا مَعَ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ بِرُودِسَ مِنْ أَرْضِ الرُّومِ فَتُوُفِّيَ صَاحِبٌ لَنَا فَأَمَرَ فَضَالَةُ بِقَبْرِهِ فَسُوِّيَ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِتَسْوِيَتِهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رُودِسُ جَزِيرَةٌ فِي الْبَحْرِ .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩২০৫. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহা (রাহঃ) .... আবু আলী হামদানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ফুযালার সঙ্গে রোম দেশের রাওযেস নামক স্থানে ছিলাম। সেখানে আমাদের একজন সাথী ইনতিকাল করেন। তখন ফুযালার নির্দেশে সে ব্যক্তির কবর মাটির সমান করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কবর সমান করে দেওয়ার হুকুম দিতে শুনেছি।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাওযেস হলো সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপের নাম।
৩২০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ هَانِئٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ يَا أُمَّهْ اكْشِفِي لِي عَنْ قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبَيْهِ رضى الله عنهما فَكَشَفَتْ لِي عَنْ ثَلاَثَةِ قُبُورٍ لاَ مُشْرِفَةٍ وَلاَ لاَطِئَةٍ مَبْطُوحَةٍ بِبَطْحَاءِ الْعَرْصَةِ الْحَمْرَاءِ قَالَ أَبُو عَلِيٍّ يُقَالُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُقَدَّمٌ وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَ رَأْسِهِ وَعُمَرُ عِنْدَ رِجْلَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

৩২০৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ...... কাসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি যে, হে আমার প্রিয় মাতা! আপনি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর দু’জন সঙ্গী [আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)]-এর কবর উন্মোচন করুন। তখন তিনি আমার জন্য তিনটি কবরের (আবরণ) উন্মোচন করেন, যা বেশী উঁচু ছিল না এবং বেশী নীচুও ছিল না; (বরং মাটি হতে এক বিঘত উঁচু ছিল)। আর এগুলের উপর ময়দানের লাল কাঁকর ছড়ানো ছিল।

রাবী আবু আলী বলেনঃ এরূপ বলা হতো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখ ভাগে; আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর পবিত্র মাথার নিকট এবং উমর (রাযিঃ) তাঁর কদম বরাবর অবস্থিত। অর্থাৎ উমর (রাযিঃ)-এর মাথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দু’ পা বরাবর অবস্থিত।

২৫২. লাশ দাফন করে ফিরে আসার সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মুর্দার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

باب الاِسْتِغْفَارِ عِنْدَ الْقَبْرِ لِلْمَيِّتِ فِي وَقْتِ الاِنْصِرَافِ

৩২০৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ، عَنْ هَانِئٍ، مَوْلَى عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ " اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الآنَ يُسْأَلُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَحِيرُ بْنُ رَيْسَانَ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৩২০৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) .... উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন কোন মৃত ব্যক্তির দাফন পক্রিয়া সম্পন্ন করতেন, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা কর এবং সে যেন সুদৃঢ় থাকতে পারে, তার জন্য দুআ কর। কেননা, এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।[১]

[১] মৃত ব্যক্তিকে কবরে, দাফন করে জীবিত ব্যক্তির ফিরে আসার সাথে-সাথেই 'মুনকির ও নাকীর' নামক দু'জন ফিরিশতা কবরে, উপস্থিত হয় এবং মৃত ব্যক্তিকে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আখিরাতের মঞ্জিলের এটি প্রথম ধাপ এবং খুবই মারাত্মক স্থান। কাজেই, মৃত ব্যক্তি যাতে ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে ফিরিশতাদের প্রশ্নের ওয়াৰ ঠিকমত দিতে পারে, সে জন্য দু'আ করা উচিত।

২৫৩. কবরের পাশে যবেহ না করা।

باب كَرَاهِيَةِ الذَّبْحِ عِنْدَ الْقَبْرِ

৩২০৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ عَقْرَ فِي الإِسْلاَمِ " . قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ كَانُوا يَعْقِرُونَ عِنْدَ الْقَبْرِ بَقَرَةً أَوْ شَاةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩২০৮. ইয়াহয়া ইবনে মুসা বালখী (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে কোন আকর নেই।

রাবী আব্দুর রাযযাক (রাহঃ) বলেনঃ জাহিলীয়াতের যুগে লোকেরা (মৃত ব্যক্তির) কবরের পাশে গিয়ে গরু বা ছাগল যবেহ করতো এ ধরনের কাজকে আকর বলা হয়। নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।

২৫৪. কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির কবরের উপর জানাযার নামায পড়া।

باب الْمَيِّتِ يُصَلَّى عَلَى قَبْرِهِ بَعْدَ حِينٍ

৩২০৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمًا فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلاَتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ ثُمَّ انْصَرَفَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩২০৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা হতে বের হন এবং উহুদ-যুদ্ধের শহীদদের (কবরের উপর) জানাযার নামায আদায় করে ফিরে আসেন।

৩২১০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ بَعْدَ ثَمَانِ سِنِينَ كَالْمُوَدِّعِ لِلأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব (রহঃ)

৩২১০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের (কবরের উপর) আট বছর পরে গিয়ে এভাবে জানাযার নামায পড়েন, যেন তিনি জীবিত এবং মৃত ব্যক্তিদের নিকট হতে বিদায় নিচ্ছিলেন।

২৫৫. কবরের উপর সৌধ নির্মাণ না করা।

باب فِي الْبِنَاءِ عَلَى الْقَبْرِ

৩২১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُقْعَدَ عَلَى الْقَبْرِ وَأَنْ يُقَصَّصَ وَيُبْنَى عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩২১১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এরূপ শুনেছি যে, নবী (ﷺ) কবরের উপর উপবেশন করতে, কবর পাকা করতে এবং কবরের উপর সৌধ নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।

৩২১২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، وَعَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ عُثْمَانُ أَوْ يُزَادَ عَلَيْهِ وَزَادَ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَوْ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْهِ وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ أَوْ يُزَادَ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ خَفِيَ عَلَىَّ مِنْ حَدِيثِ مُسَدَّدٍ حَرْفُ وَأَنْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩২১২. মুসাদ্দাদ ও উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, উছমান (রাহঃ) বলেছেনঃ এর থেকে কিছু অধিক বর্ণনা আছে। সুলাইমান ইবনে মুসা (রাহঃ) এ অতিরিক্ত বিষয় বর্ণনা করেছেন যে, তার (কবরের) উপর বসে কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন।

রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) তাঁর হাদীসে এ বাক্যটি উল্লেখ করেননি। রাবী আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ মুসাদ্দাদ (রাহঃ)-এর বর্ণনায় এ শব্দটির অর্থ আমার নিকট অজ্ঞাত।

২৫৬. কবরের উপর না বসা।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْقُعُودِ عَلَى الْقَبْرِ

৩২১৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২১৩. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন। কেননা, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।

৩২১৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتَحْرِقَ ثِيَابَهُ حَتَّى تَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২১৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি কোন আগুনের ফুলকির উপর উপবেশন করে, ফলে তার কাপড় পুড়ে আগুন চামড়া পর্যন্ত পৌছে যায়-এটি তার জন্য কবরের উপর বসার চাইতে উত্তম।

৩২১৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ - عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ وَاثِلَةَ بْنَ الأَسْقَعِ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَرْثَدٍ الْغَنَوِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ وَلاَ تُصَلُّوا إِلَيْهَا " .

বর্ণনাকারী: আবূ মারছাদ আল-গানাবী (রা)

৩২১৫. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) ..... বুসর ইবনে উবাইদিল্লাহ (রাহঃ) বলেন, আমি ওযাসেলা ইবনে আসকা (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু মারছাদ গানবী (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করবে না।

২৫৭. জুতা পায়ে দিয়ে কবরস্তানে চলাফেরা করা।

باب الْمَشْىِ فِي النَّعْلِ بَيْنَ الْقُبُورِ

৩২১৬

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سُمَيْرٍ السَّدُوسِيِّ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ بَشِيرٍ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ اسْمُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ زَحْمُ بْنُ مَعْبَدٍ فَهَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا اسْمُكَ " . قَالَ زَحْمٌ . قَالَ " بَلْ أَنْتَ بَشِيرٌ " . قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أُمَاشِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ " لَقَدْ سَبَقَ هَؤُلاَءِ خَيْرًا كَثِيرًا " . ثَلاَثًا ثُمَّ مَرَّ بِقُبُورِ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ " لَقَدْ أَدْرَكَ هَؤُلاَءِ خَيْرًا كَثِيرًا " . وَحَانَتْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَظْرَةٌ فَإِذَا رَجُلٌ يَمْشِي فِي الْقُبُورِ عَلَيْهِ نَعْلاَنِ فَقَالَ " يَا صَاحِبَ السِّبْتِيَّتَيْنِ وَيْحَكَ أَلْقِ سِبْتِيَّتَيْكَ " . فَنَظَرَ الرَّجُلُ فَلَمَّا عَرَفَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلَعَهُمَا فَرَمَى بِهِمَا .

বর্ণনাকারী: বশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ)

৩২১৬. সাহল ইবনে বাক্কার (রাহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জাহিলীয়াতের যুগে তার নাম ছিল যাহম ইবনে মা’বাদ। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হিজরত করেন। এ সময় তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার নাম কি? তখন তিনি বলেনঃ যাহম। এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ বরং তুমি হলে বাশীর। তিনি বলেনঃ যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হ্যাঁটছিলাম এবং তিনি মুশরিকদের কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেনঃ এরা অধিক কল্যাণপ্রাপ্তির আগে চলে গেছে।

তিনি এরূপ তিন বার বলেন। অতঃপর তিনি মুসলমানদের কবরের পাশ দিয়ে গমনকালে বলেনঃ এরা অধিক কল্যাণ হাসিল করেছে। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি দুপায়ে জুতা দিয়ে কবরস্তানের মাঝে হ্যাঁটছে। তখন তিনি তাকে বলেনঃ হে দু’পায়ে জুতা পরিহিত ব্যক্তি! তোমার জন্য আফসোস! তুমি তোমার দু’পায়ের জুতা খুলে ফেল! সে ব্যক্তি লক্ষ্য করে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে চিনতে পারলো, তখন সে তার দু’পায়ের জুতা খুলে দূরে নিক্ষেপ করলো।
৩২১৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩২১৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আনবারী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন কোন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা তার থেকে ফিরে আসে, তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়।

২৫৮. বিশেষ কারণে মৃত ব্যক্তিকে কবর থেকে বের করা।

باب فِي تَحْوِيلِ الْمَيِّتِ مِنْ مَوْضِعِهِ لِلأَمْرِ يَحْدُثُ

৩২১৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ دُفِنَ مَعَ أَبِي رَجُلٌ فَكَانَ فِي نَفْسِي مِنْ ذَلِكَ حَاجَةٌ فَأَخْرَجْتُهُ بَعْدَ سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَمَا أَنْكَرْتُ مِنْهُ شَيْئًا إِلاَّ شُعَيْرَاتٍ كُنَّ فِي لِحْيَتِهِ مِمَّا يَلِي الأَرْضَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩২১৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতার সঙ্গে অপর এক ব্যক্তিকে একই কবরে দাফন করা হয়। এজন্য আমার ধারণা ছিল যে, আমি তাঁর লাশ অন্যত্র সরিয়ে নেব। সে মতে ছ’মাস পর আমি তাঁর (পিতার) লাশ সরিয়ে নেই। এ সময় তাঁর শরীরের আকৃতিতে কোনরূপ পরিবর্তন আসেনি। অবশ্য তাঁর কয়েকটি দাঁড়ি, যা মাটির সাথে মিশে ছিল, তা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।

২৫৯. মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা।

باب فِي الثَّنَاءِ عَلَى الْمَيِّتِ

৩২১৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَرُّوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجَنَازَةٍ فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ " وَجَبَتْ " . ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ " وَجَبَتْ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ شُهَدَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২১৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কয়েক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একটা জানাযার (লাশের) পাশ দিয়ে গমনকালে মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করেন। তখন তিনি বলেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেছে (অর্থাৎ তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব)। অতঃপর তাঁরা অন্য একটি জানাযার পাশ দিয়ে গমনকালে সে ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ উক্তি করলে তিনি বলেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেছে (অর্থাৎ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব)। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা একজন অপর জনের জন্য সাক্ষী স্বরূপ।

২৬০. কবর যিয়ারত করা সম্পর্কে।

باب فِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ

৩২২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي تَعَالَى عَلَى أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي فَاسْتَأْذَنْتُ أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِي فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ بِالْمَوْتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২২০. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আনবারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর আম্মাজানের কবর যিয়ারত করার জন্য গমন করেন। এ সময় তিনি কাঁদেন এবং তাঁর সাথীরাও কাঁদেন। এরপর তিনি বলেনঃ আমি আমার রবের কাছে, আমার মায়ের জন্য ইস্তিগফার করতে চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। অতঃপর আমি তাঁর কবর যিয়ারত করতে চাইলে তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কেননা, এ মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

৩২২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُعَرِّفُ بْنُ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةً " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩২২১. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইতিপূর্বে আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কেননা, কবর যিয়ারতের ফলে মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়।

২৬১. মহিলাদের কবর যিয়ারত করা সম্পর্কে।

باب فِي زِيَارَةِ النِّسَاءِ الْقُبُورَ

৩২২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَائِرَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২২২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবর যিয়ারতকারিণী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন। আর যারা কবরের উপর মসজিদ বানায় এবং বাতি জ্বালায়, তাদের উপরও তিনি অভিসম্পাত করেছেন।

২৬২. কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি বলবে?

باب مَا يَقُولُ إِذَا زَارَ الْقُبُور

৩২২৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبَرَةِ فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ " . .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২২৩. আল-কা’নবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবরস্থানে গমন করেন। তখন তিনি বলেনঃ

السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ

অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে মু’মিনদের গৃহে বসবাসকারী। আর অবশ্যই আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব।

২৬৩. কেউ ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে কি করতে হবে?

باب الْمُحْرِمِ يَمُوتُ كَيْفَ يُصْنَعُ بِهِ

৩২২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ وَقَصَتْهُ رَاحِلَتُهُ فَمَاتَ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ " كَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَاغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُلَبِّي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ خَمْسُ سُنَنٍ " كَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ " . أَىْ يُكَفَّنُ الْمَيِّتُ فِي ثَوْبَيْنِ " وَاغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ " . أَىْ إِنَّ فِي الْغَسَلاَتِ كُلِّهَا سِدْرًا " وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ " . وَلاَ تُقَرِّبُوهُ طِيبًا وَكَانَ الْكَفَنُ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২২৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হয়, যার উট তার ঘাড় ভেঙ্গে দিয়েছিল। ফলে সে মারা যায়, আর সে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় ছিল। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাঁকে দু’টি কাপড়ে কাফন দেবে এবং কুলের পাতা মিশান পানি দিয়ে তাঁর গোসল দেবে এবং তাঁর মাথা ঢাকবে না। কেননা, আল্লাহ তাআলা তাঁকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া (লাব্বায়েক, আল্লাহুমা লাব্বায়েক) পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, উক্ত হাদীসে পাঁচটি সুন্নতের কথা উল্লেখ আছে। যথাঃ

(১) মৃত ব্যক্তিকে দুটি কাপড়ে কাফন দেওয়া,

(২) কুলের পাতা মিশান পানি দিয়ে গোসল দেওয়া,

(৩) ইহরাম অবস্থায় মৃত্যু বরনকারীর মাথা না ঢাকা,

(৪) তার দেহে খোশবু না লাগান এবং

(৫) (ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তির কাছে যে টাকা থাকে) সে টাকা হতে প্রথমে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করবে।
৩২২৫
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرٍو، وَأَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ قَالَ " وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ أَيُّوبُ " ثَوْبَيْهِ " . وَقَالَ عَمْرٌو " ثَوْبَيْنِ " . وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ قَالَ أَيُّوبُ " فِي ثَوْبَيْنِ " . وَقَالَ عَمْرٌو " فِي ثَوْبَيْهِ " . زَادَ سُلَيْمَانُ وَحْدَهُ " وَلاَ تُحَنِّطُوهُ " .

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، بِمَعْنَى سُلَيْمَانَ فِي ثَوْبَيْنِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২২৫. সুলাইমান ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেনঃ তাঁকে (ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তি) দুটি কাপড়ে কাফন দেবে।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, সুলাইমান বলেছেন যে, আবু আইয়ুব বর্ণনা করেছেনঃ তাঁকে (মৃত মুহরিম ব্যক্তি) দুটি কাপড়ে কাফন দিতে হবে। রাবী আমর (রাহঃ) বলেছেনঃ দুটি কাপড়ে কাফন দিতে হবে। ইবনে উবাইদ বলেন, রাবী আইয়ুব বলেছেনঃ দুটি কাপড়ে কাফন দিতে হবে। আমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ দুটি কাপড়ে কাফন দিতে হবে। রাবী সুলাইমান একা এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তার দেহে খোশবু লাগাবে না (কারণ ইহরাম অবস্থায় খোশবু ব্যবহার নিষেধ)।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সুলাইমানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
৩২২৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَقَصَتْ بِرَجُلٍ مُحْرِمٍ نَاقَتُهُ فَقَتَلَتْهُ فَأُتِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " اغْسِلُوهُ وَكَفِّنُوهُ وَلاَ تُغَطُّوا رَأْسَهُ وَلاَ تُقَرِّبُوهُ طِيبًا فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يُهِلُّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২২৬. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তিকে তার উট ঘাড় ভেঙ্গে মেরে ফেলে। তখন সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হলে তিনি বলেনঃ তাঁকে গোসল দিয়ে কাফন পরাও এবং তার মাথা ঢাকবে না। আর তার দেহে খোশবু লাগাবে না। কেননা, কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে।