كتاب السنة

৩৫. সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়

অধ্যায় ৩৫ · ১৭৪ টি হাদীস

১. সুন্নতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে।

باب شَرْحِ السُّنَّةِ

৪৫২৫

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " افْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى أَوْ ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَتَفَرَّقَتِ النَّصَارَى عَلَى إِحْدَى أَوْ ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫২৫. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়া (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়য়াহূদীরা একাত্তর বা বাহাত্তর ফিরকায় (দলে) বিভক্ত হয়েছে; নাসারারাও একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে।

৪৫২৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنِي صَفْوَانُ، نَحْوَهُ قَالَ حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَازِيُّ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّهُ قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلاَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِينَا فَقَالَ " أَلاَ إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَهِيَ الْجَمَاعَةُ " . زَادَ ابْنُ يَحْيَى وَعَمْرٌو فِي حَدِيثَيْهِمَا " وَإِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ تَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ لِصَاحِبِهِ " . وَقَالَ عَمْرٌو " الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ لاَ يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلاَ مَفْصِلٌ إِلاَّ دَخَلَهُ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪৫২৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেনঃ জেনে রাখ! তোমাদের আগের আহলে-কিতাব (ইয়াহূদ ও নাসারা)গণ বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, আর এ মিল্লাতের লোকগণ অদূর ভবিষ্যতে তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। এক ফিরকা হবে জান্নাতী; আর তারা ঐ জামাআতভূক্ত, যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নতের অনুসারী হবে।

রাবী ইবনে ইয়াহয়া এবং আমর (রাহঃ) তাদের হাদীসে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে এমন একদল লোক সৃষ্টি হবে, যাদের মাঝে গুমরাহী এভাবে বিস্তার লাভ করবে, যেমন ক্ষিপ্ত কুকুরের কাঁমড়ানোর ফলে সৃষ্ট রোগ (যা রোগীকে পাগল বানিয়ে দেয়)। রাবী আমার (রাহঃ) বলেনঃ ক্ষিপ্ত কুকুরের দংশন জনিত রোগ এমন একটা মারাত্মক ব্যাধি যার বিষাক্ত প্রভাব থেকে রোগীর দেহের রগ ও জোড় কিছুই রক্ষা পায় না।

২. কুরআন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা ও মুতাশাবিহাতের বর্ণনা প্রসঙ্গে।

باب النَّهْىِ عَنِ الْجِدَالِ، وَاتِّبَاعِ، مُتَشَابِهِ الْقُرْآنِ

৪৫২৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الآيَةَ ( هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ ) إِلَى ( أُولُو الأَلْبَابِ ) قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّى اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৫২৭. কা’নবী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত পাঠ করেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনার উপর এমন কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত ’মুহকাম’ বা স্পষ্ট, যা কিতাবের মূল এবং কিছু আয়াত ’মুতাশাবিহ’ বা দ্ব্যর্থবোধক ......... আর জ্ঞানী ব্যক্তিরাই নসীহত কবুল করে থাকে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন তোমরা লোকদের ’মুতাশাবিহ’, আয়াতের অনুসরণ করতে দেখবে; তখন জানবে যে, এরা তারা যাদের নাম আল্লাহ বর্ণনা করেছেন। কাজেই তোমরা এদের থেকে দূরে থাকবে।

৩. বিদ’আতী স্বেচ্ছাচারীদের প্রভাব থেকে দূরে থাকা সম্পর্কে।

باب مُجَانَبَةِ أَهْلِ الأَهْوَاءِ وَبُغْضِهِمْ

৪৫২৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الأَعْمَالِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৫২৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম আমল হলো আল্লাহর জন্য ভালবাসা এবং আল্লাহর জন্য শক্রতা পোষণ করা।

৪৫২৯

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ فَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، - وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ - قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، - وَذَكَرَ ابْنُ السَّرْحِ قِصَّةَ تَخَلُّفِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ - قَالَ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا أَيُّهَا الثَّلاَثَةُ حَتَّى إِذَا طَالَ عَلَىَّ تَسَوَّرْتُ جِدَارَ حَائِطِ أَبِي قَتَادَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَوَاللَّهِ مَا رَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ . ثُمَّ سَاقَ خَبَرَ تَنْزِيلِ تَوْبَتِهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে কা‘ব ইবনে মালিক (রহঃ)

৪৫২৯. ইবনে সারহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কা’ব (রাযিঃ)-কে চলাফেরা করাতেন, যখন তিনি অন্ধ হয়ে যান। তিনি বলেনঃ আমি কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাবী ইবনে সারহ (রাহঃ)ও তাবূকের যুদ্ধের সময় নবী (ﷺ) থেকে কা’বের পেছনে থেকে যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তিনি (কা’ব) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিন জনের সাথে সমস্ত মুসলমানদের কথা বলতে মানা করে দেন। এভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, আমি আমার চাচাতো ভাই ইবনে কাতাদা (রাযিঃ)-এর বাগানের প্রাচীর টপকিয়ে প্রবেশ করে, তাকে সালাম দেই। কিন্তু আল্লাহর শপথ! তিনি আমার সালামের জবাব দেননি। এরপর তিনি তার তাওবা কবুল হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন।

৪. বিদ’আতীদের সালামের জবাব না দেয়া প্রসঙ্গে।

باب تَرْكِ السَّلاَمِ عَلَى أَهْلِ الأَهْوَاءِ

৪৫৩০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى أَهْلِي وَقَدْ تَشَقَّقَتْ يَدَاىَ فَخَلَّقُونِي بِزَعْفَرَانٍ فَغَدَوْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ وَقَالَ " اذْهَبْ فَاغْسِلْ هَذَا عَنْكَ " .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৪৫৩০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দু’হাত ফাঁটা অবস্থায় আমি আমার পরিবার-পরিজনের কাছে আসলে, তারা আমার দু’হাত যাফরান রং লাগিয়ে দেয়। পরদিন সকালে আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে সালাম করলে, তিনি তার জবাব না দিয়ে বলেনঃ তুমি চলে যাও এবং তোমার হাত থেকে এ রং ধুয়ে ফেল।

৪৫৩১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ سُمَيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّهُ اعْتَلَّ بَعِيرٌ لِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَىٍّ وَعِنْدَ زَيْنَبَ فَضْلُ ظَهْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِزَيْنَبَ " أَعْطِيهَا بَعِيرًا " . فَقَالَتْ أَنَا أُعْطِي تِلْكَ الْيَهُودِيَّةَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَجَرَهَا ذَا الْحِجَّةَ وَالْمُحَرَّمَ وَبَعْضَ صَفَرٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৫৩১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাযিঃ)-এর উট অসুস্থ হয় এবং সে সময় যয়নাব (রাযিঃ)-এর কাছে একটা অতিরিক্ত উট ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যয়নাব (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি উটটি ওকে দিয়ে দাও। তিনি বলেনঃ ঐ ইয়াহুদীকে দেব! একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হন এবং তিনি যিলহজ্জ, মুহাররম ও সফর মাসের কয়েক দিন তাঁর সাথে কথাবার্তা বন্ধ রাখেন।

৫. কুরআনের মধ্যে ঝগড়া করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنِ الْجِدَالِ، فِي الْقُرْآنِ

৪৫৩২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৩২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআনের মধ্যে নিজের মত ব্যক্ত করে ঝগড়ার সৃষ্টি করা কুফর।

৬. সুন্নতের অনুসরণ করা জরুরী।

باب فِي لُزُومِ السُّنَّةِ

৪৫৩৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَلاَ إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلاَ يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلاَلٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ أَلاَ لاَ يَحِلُّ لَكُمْ لَحْمُ الْحِمَارِ الأَهْلِيِّ وَلاَ كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ وَلاَ لُقَطَةُ مُعَاهِدٍ إِلاَّ أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَعَلَيْهِمْ أَنْ يَقْرُوهُ فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُ فَلَهُ أَنْ يُعْقِبَهُمْ بِمِثْلِ قِرَاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

৪৫৩৩. আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) .... মিকদাম ইবনে মা’দীকরাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জেনে রাখ! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং এর সাথে অনুরূপ (হাদীস) দেয়া হয়েছ। অদূর ভবিষ্যতে একজন অভাবহীন তৃপ্ত ব্যক্তি তার খাটের উপর অবস্থান করে বলবেঃ তোমরা এ কুরআনকে গ্রহণ কর এবং এতে যা হালাল বলা হয়েছে, তা হালাল হিসাবে গ্রহণ কর; আর যা হারাম বলা হয়েছে তা হারাম হিসাবে গ্রহণ কর।

জেনে রাখ! গৃহ-পালিত গাধার গোশত তোমাদের জন্য হালাল নয়, কোন হিংস্র জন্তুর গোশতও হালাল নয়, কোন যিম্মীর পরিত্যক্ত মাল হালাল নয়, তবে যদি তার মালিক তা থেকে বে-পরওয়া হয়, সে আলাদা ব্যাপার। আর যদি কেউ মেহমান হিসেবে কোন কওমের কাছে যায়, তবে তাদের উচিত তার মেহমানদারী করা। তারা যদি সে ব্যক্তি মেহমানদারী না করে, তবে তাদের নিকট থেকে মেহমানের হক গ্রহণ করার অধিকার তার থাকবে।
৪৫৩৪

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيَّ، عَائِذَ اللَّهِ أَخْبَرَهُ أَنَّ يَزِيدَ بْنَ عُمَيْرَةَ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ قَالَ كَانَ لاَ يَجْلِسُ مَجْلِسًا لِلذِّكْرِ حِينَ يَجْلِسُ إِلاَّ قَالَ اللَّهُ حَكَمٌ قِسْطٌ هَلَكَ الْمُرْتَابُونَ فَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ يَوْمًا إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ فِتَنًا يَكْثُرُ فِيهَا الْمَالُ وَيُفْتَحُ فِيهَا الْقُرْآنُ حَتَّى يَأْخُذَهُ الْمُؤْمِنُ وَالْمُنَافِقُ وَالرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ وَالصَّغِيرُ وَالْكَبِيرُ وَالْعَبْدُ وَالْحُرُّ فَيُوشِكُ قَائِلٌ أَنْ يَقُولَ مَا لِلنَّاسِ لاَ يَتَّبِعُونِي وَقَدْ قَرَأْتُ الْقُرْآنَ مَا هُمْ بِمُتَّبِعِيَّ حَتَّى أَبْتَدِعَ لَهُمْ غَيْرَهُ فَإِيَّاكُمْ وَمَا ابْتُدِعَ فَإِنَّ مَا ابْتُدِعَ ضَلاَلَةٌ وَأُحَذِّرُكُمْ زَيْغَةَ الْحَكِيمِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَقُولُ كَلِمَةَ الضَّلاَلَةِ عَلَى لِسَانِ الْحَكِيمِ وَقَدْ يَقُولُ الْمُنَافِقُ كَلِمَةَ الْحَقِّ . قَالَ قُلْتُ لِمُعَاذٍ مَا يُدْرِينِي رَحِمَكَ اللَّهُ أَنَّ الْحَكِيمَ قَدْ يَقُولُ كَلِمَةَ الضَّلاَلَةِ وَأَنَّ الْمُنَافِقَ قَدْ يَقُولُ كَلِمَةَ الْحَقِّ قَالَ بَلَى اجْتَنِبْ مِنْ كَلاَمِ الْحَكِيمِ الْمُشْتَهِرَاتِ الَّتِي يُقَالُ لَهَا مَا هَذِهِ وَلاَ يُثْنِيَنَّكَ ذَلِكَ عَنْهُ فَإِنَّهُ لَعَلَّهُ أَنْ يُرَاجِعَ وَتَلَقَّ الْحَقَّ إِذَا سَمِعْتَهُ فَإِنَّ عَلَى الْحَقِّ نُورًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا وَلاَ يُنْئِيَنَّكَ ذَلِكَ عَنْهُ مَكَانَ يُثْنِيَنَّكَ . وَقَالَ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْمُشَبَّهَاتِ مَكَانَ الْمُشْتَهِرَاتِ وَقَالَ لاَ يُثْنِيَنَّكَ كَمَا قَالَ عُقَيْلٌ . وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ بَلَى مَا تَشَابَهَ عَلَيْكَ مِنْ قَوْلِ الْحَكِيمِ حَتَّى تَقُولَ مَا أَرَادَ بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪৫৩৪. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে উমায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ)-এর সাথী ছিলেন, তিনি বলেনঃ মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) যখন কোন যিক্‌রের মজলিসে বসতেন, তখন এরূপ বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সন্দেহ পোষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে। একদিন তিনি বলেনঃ তোমাদের পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ফিতনার সৃষ্টি হবে। সে সময় ধন-সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। ফলে, মু’মিন, মুনাফিক, স্ত্রী-পুরুষ, ছোট-বড় গোলাম ও স্বাধীন ব্যক্তি তার জ্ঞান অর্জন করবে।

তখন এক ব্যক্তি এরূপ বলবেঃ লোকদের কি হয়েছে? তারা আমার অনুসরণ কেন করে না, অথচ আমি কুরআন পড়েছি! তারা ততক্ষণ আমার অনুসরণ করবে না, যতক্ষণ না আমি কুরআন ব্যতীত অন্য জিনিস তাদের সামনে পেশ করি। কাজেই, কেউ যদি এরূপ কিছু করে, তবে তোমরা তা অস্বীকার করবে। কেননা, এরূপ যা কিছু উদ্ভাবিত হবে, তা গুমরাহী এবং আমি আলিমদের গুমরাহী সম্পর্কে অধিক শংকিত। কেননা, শয়তান কখনো কখনো আলিমদের মুখ থেকে গুমরাহীর কথা বের করে দেয় এবং কোন কোন সময় মুনাফিকও সত্য কথা বলে।

রাবী বলেনঃ তখন আমি মু’আয (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ জ্ঞানী ব্যক্তি যে অজ্ঞানের মত কথা বলতে পারে এবং মুনাফিক ও কোন সময় সত্য কথা বলতে পারে, তা আমরা কিভাবে অবগত হতে পারি? তিনি বলেনঃ তোমরা জ্ঞানীদের সে সব কথা পরিহার করবে, যা ভুল ও মিথ্যার সাথে প্রসিদ্ধি লাভ করবে এবং লোকেরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে। এ সময় ও তোমরা তাদের সাথে সস্পর্কচ্ছেদ করবে না; কেননা, হয়তো তারা তা থেকে ফিরে আসতে পারে। তোমরা তাদের থেকে সত্য কথা শ্রবণ করবে এবং তা গ্রহণ করবে। কেননা, হকের মধ্যে সত্যের নূর নিহিত থাকে।
৪৫৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ كَتَبَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَسْأَلُهُ عَنِ الْقَدَرِ، ح وَحَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ دُلَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يُحَدِّثُنَا عَنِ النَّضْرِ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ قَبِيصَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، عَنْ أَبِي الصَّلْتِ، - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ ابْنِ كَثِيرٍ وَمَعْنَاهُمْ - قَالَ كَتَبَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَسْأَلُهُ عَنِ الْقَدَرِ فَكَتَبَ أَمَّا بَعْدُ أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالاِقْتِصَادِ فِي أَمْرِهِ وَاتِّبَاعِ سُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَرْكِ مَا أَحْدَثَ الْمُحْدِثُونَ بَعْدَ مَا جَرَتْ بِهِ سُنَّتُهُ وَكُفُوا مُؤْنَتَهُ فَعَلَيْكَ بِلُزُومِ السُّنَّةِ فَإِنَّهَا لَكَ بِإِذْنِ اللَّهِ عِصْمَةٌ ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّهُ لَمْ يَبْتَدِعِ النَّاسُ بِدْعَةً إِلاَّ قَدْ مَضَى قَبْلَهَا مَا هُوَ دَلِيلٌ عَلَيْهَا أَوْ عِبْرَةٌ فِيهَا فَإِنَّ السُّنَّةَ إِنَّمَا سَنَّهَا مَنْ قَدْ عَلِمَ مَا فِي خِلاَفِهَا وَلَمْ يَقُلِ ابْنُ كَثِيرٍ مَنْ قَدْ عَلِمَ . مِنَ الْخَطَإِ وَالزَّلَلِ وَالْحُمْقِ وَالتَّعَمُّقِ فَارْضَ لِنَفْسِكَ مَا رَضِيَ بِهِ الْقَوْمُ لأَنْفُسِهِمْ فَإِنَّهُمْ عَلَى عِلْمٍ وَقَفُوا وَبِبَصَرٍ نَافِذٍ كَفَوْا وَلَهُمْ عَلَى كَشْفِ الأُمُورِ كَانُوا أَقْوَى وَبِفَضْلِ مَا كَانُوا فِيهِ أَوْلَى فَإِنْ كَانَ الْهُدَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ لَقَدْ سَبَقْتُمُوهُمْ إِلَيْهِ وَلَئِنْ قُلْتُمْ إِنَّمَا حَدَثَ بَعْدَهُمْ . مَا أَحْدَثَهُ إِلاَّ مَنِ اتَّبَعَ غَيْرَ سَبِيلِهِمْ وَرَغِبَ بِنَفْسِهِ عَنْهُمْ فَإِنَّهُمْ هُمُ السَّابِقُونَ فَقَدْ تَكَلَّمُوا فِيهِ بِمَا يَكْفِي وَوَصَفُوا مِنْهُ مَا يَشْفِي فَمَا دُونَهُمْ مِنْ مَقْصَرٍ وَمَا فَوْقَهُمْ مِنْ مَحْسَرٍ وَقَدْ قَصَّرَ قَوْمٌ دُونَهُمْ فَجَفَوْا وَطَمَحَ عَنْهُمْ أَقْوَامٌ فَغَلَوْا وَإِنَّهُمْ بَيْنَ ذَلِكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ كَتَبْتَ تَسْأَلُ عَنِ الإِقْرَارِ بِالْقَدَرِ فَعَلَى الْخَبِيرِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَعْتَ مَا أَعْلَمُ مَا أَحْدَثَ النَّاسُ مِنْ مُحْدَثَةٍ وَلاَ ابْتَدَعُوا مِنْ بِدْعَةٍ هِيَ أَبْيَنُ أَثَرًا وَلاَ أَثْبَتُ أَمْرًا مِنَ الإِقْرَارِ بِالْقَدَرِ لَقَدْ كَانَ ذَكَرَهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ الْجُهَلاَءُ يَتَكَلَّمُونَ بِهِ فِي كَلاَمِهِمْ وَفِي شِعْرِهِمْ يُعَزُّونَ بِهِ أَنْفُسَهُمْ عَلَى مَا فَاتَهُمْ ثُمَّ لَمْ يَزِدْهُ الإِسْلاَمُ بَعْدُ إِلاَّ شِدَّةً وَلَقَدْ ذَكَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَيْرِ حَدِيثٍ وَلاَ حَدِيثَيْنِ وَقَدْ سَمِعَهُ مِنْهُ الْمُسْلِمُونَ فَتَكَلَّمُوا بِهِ فِي حَيَاتِهِ وَبَعْدَ وَفَاتِهِ يَقِينًا وَتَسْلِيمًا لِرَبِّهِمْ وَتَضْعِيفًا لأَنْفُسِهِمْ أَنْ يَكُونَ شَىْءٌ لَمْ يُحِطْ بِهِ عِلْمُهُ وَلَمْ يُحْصِهِ كِتَابُهُ وَلَمْ يَمْضِ فِيهِ قَدَرُهُ وَإِنَّهُ مَعَ ذَلِكَ لَفِي مُحْكَمِ كِتَابِهِ مِنْهُ اقْتَبَسُوهُ وَمِنْهُ تَعَلَّمُوهُ وَلَئِنْ قُلْتُمْ لِمَ أَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ كَذَا وَلِمَ قَالَ كَذَا . لَقَدْ قَرَءُوْا مِنْهُ مَا قَرَأْتُمْ وَعَلِمُوا مِنْ تَأْوِيلِهِ مَا جَهِلْتُمْ وَقَالُوا بَعْدَ ذَلِكَ كُلِّهِ بِكِتَابٍ وَقَدَرٍ وَكُتِبَتِ الشَّقَاوَةُ وَمَا يُقَدَّرْ يَكُنْ وَمَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ وَلاَ نَمْلِكُ لأَنْفُسِنَا ضَرًّا وَلاَ نَفْعًا ثُمَّ رَغَبُوا بَعْدَ ذَلِكَ وَرَهِبُوا .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান ছাওরী (রহঃ)

৪৫৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ......... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর নিকট পত্রযোগে তাকদীর সম্পর্কে জানতে চান। আবুস সালত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তাকদীর সম্পর্কে জানার জন্য উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)-কে পত্র লেখেন। এর জবাবে তিনি লেখেনঃ আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি আল্লাহকে ভয় করার জন্য এবং তাঁর হুকুম মেনে চলার জন্য এবং তাঁর নবীর সুন্নতের অনুসরণ করাব জন্য। আর বিদ’আতিগণ যা উদ্ভাবন করেছে, তা পরিহার করার জন্য আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি। বিদ’আতীরা এসব কথা তখন উদ্ভাবন করেছে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ’আত সৃষ্টির পর তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। তোমার উচিত, সুন্নতকে দুঢ়ভাবে ধারণ করা। কেননা, সুন্নতের উপর আমল করলে তুমি আল্লাহর হুকুমে গুমরাহী থেকে বেঁচে যাবে।

জেনে রাখ! লোকেরা এমন কোন বিদ’আত সৃষ্টি করিনি, যা বাতিল হওয়ার জন্য দলীল বর্ণিত হয়নি এবং তা দেখাতে শিক্ষা হয়নি। আর সুন্নতকে তিনি জারী করেছেন, যিনি জানতেন, এর বিরোধিতা করলে কিরূপ গুনাহ, ক্রটি-বিচ্যূতি ও আহমকী হবে। কাজেই তুমি সে তরীকার অনুসরণ কর, যে তরীকা অনুসরণ করেছিল পূর্ববর্তীগণ। কেননা, তাঁরা দ্বীনের ইলম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানী ছিলেন। আর যে কাজ করতে তাঁরা নিষেধ করেছেন, তা জেনে-শুনেই করেছেন। তারা দ্বীনের অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে আমাদের চাইতে অনেক ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আর তাদের মাঝে যে যোগ্যতা ছিল, তা ছিল উন্নতমানের।

তোমরা যে তরীকার উপর প্রতিষ্ঠিত আছ, যদি তা-ই হিদায়াত হয়, তবে তোমরা অগ্রগামী হয়ে যাবে। আর যদি তোমরা বল, যারা দ্বীনের মধ্যে নতুন কথা সৃষ্টি করেছে; তবে আমরা বলবোঃ আগের লোকেরাই উত্তম ছিল এবং তারা এদের চাইতে অগ্রগামী ছিল। যতটুকু বর্ণনা করার, তা তাঁরা করেছেন। আর যতটুকু বলা দরকার, তা সবই করেছেন; এর উপরেও কিছু বলার নেই এবং নীচেও কিছু বলার নেই। কিছু লোক তাদের থেকে কম বর্ণনা করেছে, তারা ক্ষতি করেছে; আর কিছু লোক তাদের চাইতে বেশী বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী আলিমগণ মধ্যপন্থী ছিলেন এবং তাঁরা সোজা-সরল রাস্তার অনুসরণকারী ছিলেন।

তুমি পত্রে তাকদীর সম্পর্কে জানতে চেয়েছ। আল্লাহর হুকুমে তুমি এ প্রশ্ন সম্পর্কে তাদের চাইতে অধিক জ্ঞানী। আমি মনে করি, যত বিদ’আতী সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা যা নতুন উদ্ভাবন করেছে, এর মধ্যে তাকদীরের বর্ণনা খুবই স্পষ্ট এবং মজবুত। জাহিলী যুগের লোকেরা তাদের কথাবার্তায় তাকদীরের কথা বলতো এবং তাদের কবিতায় তাকদীর থেকে মুসীবত দূর করে দিত। অবশেষে ইসলাম এ ধারণাকে আরো শক্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বা দুই হাদীসে নয়, বরং অনেক হাদীসে তাকদীরের কথা বর্ণনা করেছেন। মুসলমানেরা তাঁর থেকে এসব শুনেছেন এবং অন্যের কাছে বর্ণনাও করেছেন তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও; এর উপর বিশ্বাস রেখে এবং মেনে নিয়ে।

আর নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে জেনে যে এমন কিছুই নেই, যা আল্লাহ জানেন না এবং তাঁর কিতাবে লেখা নেই, অথবা এ ব্যাপারে আল্লাহর-ফায়সালা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্লেখ্য যে, তাকদীরের বর্ণনা আল্লাহর মজবুত কিতাবে রয়েছে, তা থেকে পূর্ববর্তীগণ তাকদীরের মাসআলা-মাসায়েল শিখেছে। যদি তুমি বলঃ কেন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন, আর কেন এমন বলেন (যা বাহ্যতঃ তাকদীরের বিপরীত)? এর জবাব হলোঃ আগের যুগের লোকেরা এ আয়াত পড়েছিল এবং তারা এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিল, যা তোমরা জান না। তারা আল্লাহর কিতাব ও তাকদীর সম্পর্কে বলতোঃ তা-ই হবে, যা আল্লাহ চান ; আর তা হবে না, যা তিনি চান না। আর আমরা আমাদের উপকার ও অপকারের পূর্ণ ক্ষমতা রাখি না। এ বিশ্বাসের উপর পূর্ববর্তীগণ উত্তম কাজ করতেন এবং খারাপ কাজ করতে ভয় পেতেন।
৪৫৩৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أَيُّوبَ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ لاِبْنِ عُمَرَ صَدِيقٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يُكَاتِبُهُ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَكَلَّمْتَ فِي شَىْءٍ مِنَ الْقَدَرِ فَإِيَّاكَ أَنْ تَكْتُبَ إِلَىَّ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي أَقْوَامٌ يُكَذِّبُونَ بِالْقَدَرِ " .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৪৫৩৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর একজন দোস্ত ছিল শাম দেশে, যিনি তার সাথে পত্রালাপ করতেন। একবার ইবনে উমর (রাযিঃ) তাকে লেখেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি তাকদীরের ব্যাপারে কথাবার্তা বলেছ! এখন থেকে তুমি আমার কাছে আর পত্র লিখবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক সৃষ্টি হবে যারা তাকদীরকে অস্বীকার করবে।

৪৫৩৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ يَا أَبَا سَعِيدٍ أَخْبِرْنِي عَنْ آدَمَ، لِلسَّمَاءِ خُلِقَ أَمْ لِلأَرْضِ قَالَ لاَ بَلْ لِلأَرْضِ . قُلْتُ أَرَأَيْتَ لَوِ اعْتَصَمَ فَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ الشَّجَرَةِ قَالَ لَمْ يَكُنْ لَهُ مِنْهُ بُدٌّ . قُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى ( مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ * إِلاَّ مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ ) قَالَ إِنَّ الشَّيَاطِينَ لاَ يَفْتِنُونَ بِضَلاَلَتِهِمْ إِلاَّ مَنْ أَوْجَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَحِيمَ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৫৩৭. আব্দুল্লাহ ইবনে জাররাহ (রাহঃ) ..... খালিদ হাযযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাসান বসরী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ হে আবু সাঈদ! আমাকে বলুন, আদম (আলাইহিস সালাম)-কে কি আসমানের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, না যমীনের জন্য? তিনি বলেনঃ তাকে যমীনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমি বলিঃ যদি তিনি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতেন এবং নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ না করতেন? তিনি বলেনঃ এ ছাড়া তার গত্যন্তর ছিল না, (কেননা, তাঁর তাকদীরে এরূপ লেখা ছিল)। আমি বলি, আপনি আমাকে এ আয়াত সম্পর্কে বলুনঃ শয়তান তোমাদের কাউকে গুমরাহ করতে পারে না, তবে তাকে, যে জাহান্নামের যাবে। তিনি বলেনঃ অবশ্যই শয়তান তার গুমরাহীতে কাউকে আব্দ্ধ করতে পারে না, তবে তাকে, যার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম অবধারিত করেছেন।

৪৫৩৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى ( وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ ) قَالَ خَلَقَ هَؤُلاَءِ لِهَذِهِ وَهَؤُلاَءِ لِهَذِهِ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৫৩৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... হাসান (রাহঃ) এ আয়াত সম্পর্কে বলেনঃ (وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ) অর্থাৎ আল্লাহ তাদের এজন্য সৃষ্টি করেছেন। এ ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাদের পয়দা করেছেন জান্নাতের জন্য এবং ওদের (কাফিরদের) সৃষ্টি করেছেন জাহান্নামের জন্য।

৪৫৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ ( مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ * إِلاَّ مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ ) قَالَ إِلاَّ مَنْ أَوْجَبَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ أَنَّهُ يَصْلَى الْجَحِيمَ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৫৩৯. আবু কামিল (রাহঃ) .... খালিদ হাযযা (রাহঃ) বলেনঃ আমি হাসান (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, এ আয়াতের অর্থ কি? যেখানে বলা হয়েছেঃ শয়তান তোমাদের কাউকে গুমরাহ করতে পারে না, তবে যে জাহান্নামে যাবে, (তার কথা স্বতন্ত্র)। তিনি বলেনঃ অবশ্যই শয়তান তার গুমরাহীর ফাঁদে তাকেই আব্দ্ধ করবে, যার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম ওয়াজিব করেছেন।

৪৫৪০

حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، قَالَ كَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ لأَنْ يُسْقَطَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَقُولَ الأَمْرُ بِيَدِي .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ আত তাবীল (রহঃ)

৪৫৪০. হিলাল ইবনে বিশর (রাহঃ) ..... হুমায়দ (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, হাসান (রাহঃ) বলতেনঃ আসমান থেকে যমীনে পতিত হওয়া এরূপ বলা থেকে উত্তম যে, সব কর্তৃত্ব আমার হাতে।

৪৫৪১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا الْحَسَنُ مَكَّةَ فَكَلَّمَنِي فُقَهَاءُ أَهْلِ مَكَّةَ أَنْ أُكَلِّمَهُ فِي أَنْ يَجْلِسَ لَهُمْ يَوْمًا يَعِظُهُمْ فِيهِ . فَقَالَ نَعَمْ . فَاجْتَمَعُوا فَخَطَبَهُمْ فَمَا رَأَيْتُ أَخْطَبَ مِنْهُ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ خَلَقَ الشَّيْطَانَ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ خَلَقَ اللَّهُ الشَّيْطَانَ وَخَلَقَ الْخَيْرَ وَخَلَقَ الشَّرَّ . قَالَ الرَّجُلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ كَيْفَ يَكْذِبُونَ عَلَى هَذَا الشَّيْخِ .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ আত তাবীল (রহঃ)

৪৫৪১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... হুমায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাসান (রাহঃ) মক্কায় আমাদের নিকট আসলে, মক্কার ফকীহগণ আমাকে বলেনঃ আপনি হাসান (রাহঃ)-কে বলুন, তিনি যেন একদিন ওয়াজ করেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক আছে। এরপর লোকেরা একত্রিত হলে হাসান (রাহঃ) তাদের সামনে ওয়াজ করেন। আমি তাঁর চাইতে উত্তম বক্তা আর কাউকে দেখিনি। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ হে আবু সাঈদ! শয়তানকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ ছাড়া আর কেউ স্রষ্টা আছে কি? আল্লাহ শয়তানকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি ভাল ও মন্দ সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কিরূপে এ বুযূর্গের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়।

৪৫৪২

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنِ الْحَسَنِ، ( كَذَلِكَ نَسْلُكُهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ ) قَالَ الشِّرْكُ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৫৪২. ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... হুমায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাসান (রাহঃ) বলেনঃ আল্লাহর বাণীঃ এভাবেই আমি একে গুনাহগারদের অন্তরে নিক্ষেপ করি, অর্থাৎ শিরককে।

৪৫৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ رَجُلٍ، قَدْ سَمَّاهُ غَيْرِ ابْنِ كَثِيرٍ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عُبَيْدٍ الصِّيدِ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ ) قَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الإِيمَانِ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৫৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ......... হাসান (রাহঃ) বলেনঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ তাদের মধ্যে এবং তারা যা চায় তার মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়েছে। তিনি বলেনঃ এর অর্থঃ তাদের মধ্যে এবং ঈমানের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়েছে।

৪৫৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ كُنْتُ أَسِيرُ بِالشَّامِ فَنَادَانِي رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ فَقَالَ يَا أَبَا عَوْنٍ مَا هَذَا الَّذِي يَذْكُرُونَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ قُلْتُ إِنَّهُمْ يَكْذِبُونَ عَلَى الْحَسَنِ كَثِيرًا .

বর্ণনাকারী: ইবনে আউন (রহঃ)

৪৫৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ..... ইবনে আওন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি শামের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে আমাকে একজন ডাকে। আমি তাকিয়ে দেখি, সে হলো-রজা’ ইবনে হাইওয়া। তিনি বলেনঃ হে আবু আওন! লোকেরা হাসান (রাহঃ) থেকে এসব কী বর্ণনা করে? আমি বলিঃ তারা অধিকাংশ সময় তার উপর মিথ্যা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে।

৪৫৪৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَيُّوبَ، يَقُولُ كَذَبَ عَلَى الْحَسَنِ ضَرْبَانِ مِنَ النَّاسِ قَوْمٌ الْقَدَرُ رَأْيُهُمْ وَهُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُنَفِّقُوا بِذَلِكَ رَأْيَهُمْ وَقَوْمٌ لَهُ فِي قُلُوبِهِمْ شَنَآنٌ وَبُغْضٌ يَقُولُونَ أَلَيْسَ مِنْ قَوْلِهِ كَذَا أَلَيْسَ مِنْ قَوْلِهِ كَذَا

বর্ণনাকারী: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৪৫৪৫. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আইয়ুব (রাহঃ) বলেনঃ হাসান (রাহঃ)-এর উপর দু’ধরনের লোক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। একটি হলো কাদরীয়া-তারা চায় যে, তার নাম ব্যবহারে তাঁদের বক্তব্য গৃহীত হোক। দ্বিতীয় শ্রেণী হলো তারা- যারা শক্রতাবশত তার সম্পর্কে এরূপ বলে যে, তিনি এরূপ বলেছেন, সেরূপ বলেছেন।

৪৫৪৬

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، أَنَّ يَحْيَى بْنَ كَثِيرٍ الْعَنْبَرِيَّ، حَدَّثَهُمْ قَالَ كَانَ قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ يَقُولُ لَنَا يَا فِتْيَانُ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى الْحَسَنِ فَإِنَّهُ كَانَ رَأْيُهُ السُّنَّةَ وَالصَّوَابَ .

বর্ণনাকারী: কুররা ইবনে খালিদ (রহঃ)

৪৫৪৬. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... কুররা ইবনে খালিদ (রাহঃ) আমাদের এরূপ বলতেনঃ হে যুবকেরা! তোমরা হাসান (রাহঃ)-কে কাদরীয়া মতবাদের অনুসারী মনে করো না। তাঁর অভিমত আহলে সুন্নতুল জামাআতের অনুরূপ এবং সঠিক।

৪৫৪৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ لَوْ عَلِمْنَا أَنَّ كَلِمَةَ، الْحَسَنِ تَبْلُغُ مَا بَلَغَتْ لَكَتَبْنَا بِرُجُوعِهِ كِتَابًا وَأَشْهَدْنَا عَلَيْهِ شُهُودًا وَلَكِنَّا قُلْنَا كَلِمَةٌ خَرَجَتْ لاَ تُحْمَلُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে আউন (রহঃ)

৪৫৪৭. ইবনে মুছান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে আওন (রাহঃ) বলেনঃ যদি আমরা জানতাম যে, হাসান (রাহঃ) যা বলেছেন, তা প্রসিদ্ধ হয়ে যাবে, তবে তাঁর কাছে গিয়ে একটা কিতাব রচনা করতাম এবং লোকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমরা এমন কথা বলেছি, যা প্রত্যাহার যোগ্য নয়।

৪৫৪৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ لِيَ الْحَسَنُ مَا أَنَا بِعَائِدٍ، إِلَى شَىْءٍ مِنْهُ أَبَدًا .

বর্ণনাকারী: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৪৫৪৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আইয়ুব (রাহঃ) বলেনঃ হাসান (রাহঃ) বলেছেনঃ আমি আর কখনো এরূপ কথা বলবো না।

৪৫৪৯

حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ عُثْمَانَ الْبَتِّيِّ، قَالَ مَا فَسَّرَ الْحَسَنُ آيَةً قَطُّ إِلاَّ عَلَى الإِثْبَاتِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৫৪৯. হিলাল ইবনে বিশর (রাহঃ) .... উছমান বাততী (রাহঃ) বলেনঃ হাসান (রাহঃ) যখনই কোন আয়াতের তাফসীর করেছেন, তখনই তাকদীরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

৪৫৫০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لاَ نَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

৪৫৫০. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু রাফি (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের মাঝে কাউকে এরূপ পাব না, যে তার খাটের উপর বালিশে হেলান দিয়ে থাকে। যদি তার কাছে আমার কোন আদেশ বা নিষেধ আসে, তখন সে বলেঃ আমি তো এ জানি না। বরং আমি আল্লাহর কিতাবে যে নির্দেশ পেয়েছি, তার অনুসরণ করি।*

* আলোচ্য হাদীসে নবী (ﷺ) অহংকারীদের সতর্ক করে দিয়েছেন, যারা নিজেদের আরাম-আয়েশের জন্য এরূপ বলবে এবং হাদীসের নির্দেশ পরিত্যাগ কর কেবলমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধার জন্য কুরআনের অনুসারী হওয়ার দাবী করবে। এরা সত্যিকারের মুসলিম নয়। বরং প্রকৃত মুসলমান তারা - যারা কুরআন ও হাদীসের পূর্ণ অনুসরণ করবে। - (অনুবাদক)
৪৫৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ " . قَالَ ابْنُ عِيسَى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَنَعَ أَمْرًا عَلَى غَيْرِ أَمْرِنَا فَهُوَ رَدٌّ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৫৫১. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন করবে, যা এতে নেই তা পরিত্যাজ্য। রাবী ঈসা (রাহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা যা করিনি, যদি এমন কাজ কেউ করে, তাবে তা পরিত্যাজ্য।

৪৫৫২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ، وَحُجْرُ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ أَتَيْنَا الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ وَهُوَ مِمَّنْ نَزَلَ فِيهِ ( وَلاَ عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ ) فَسَلَّمْنَا وَقُلْنَا أَتَيْنَاكَ زَائِرِينَ وَعَائِدِينَ وَمُقْتَبِسِينَ . فَقَالَ الْعِرْبَاضُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا فَقَالَ " أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৫৫২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... হাজার ইবনে হাজার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) এর নিকট গমন করি, যার শানে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তাদের জন্য কোন অসুবিধা নেই, যারা আপনার নিকট এ জন্য আসে যে, আপনি তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করবেন। আপনি বলেনঃ আমি তো তোমাদের জন্য কোন বাহন পাই না।

রাবী বলেনঃ আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম করি এবং বলিঃ আমরা আপনাকে দেখার জন্য, আপনার খিদমতের জন্য এবং আপনার কাছ থেকে কিছু সংগ্রহের জন্য এসেছি। তখন তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সঙ্গে নামায আদায়ের পর, আমাদের দিকে ফিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যাতে আমাদের চোখ অশ্রু ভারাক্রান্ত হয় এবং অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হয়। আমাদের মধ্যে একজন বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মনে হচ্ছে এ আপনার বিদায়ী ভাষণ, কাজেই আপনি আমাদের আরো কিছু অছীয়ত করুন।

তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বনের জন্য বলছি এবং শোনা ও মানার জন্যও, যদিও তোমাদের আমীর হাবশী গোলাম হয়। কেননা, তোমাদের মাঝে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের উচিত হবে আমার ও আমার খুলাফায়ে-রাশেদার সুন্নতের অনুসরণ করা, যারা সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। তোমরা তাদের দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে। তোমরা বিদ’আতের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হতে দূরে থাকবে। কেননা, প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ’আত এবং প্রত্যেক বিদ’আতই গুমরাহী।
৪৫৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ عَتِيقٍ - عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৫৫৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অধিক বচসা ও ঝগড়াকারী লোকেরা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি তিনবার এরূপ বলেন।

৭. সুন্নতের অনুসরণের ফযীলত সম্পর্কে।

باب لُزُومِ السُّنَّةِ

৪৫৫৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - قَالَ أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৫৪. ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লোকদের হিদায়াতের দিকে আহবান করবে, সে ঐ লোকের সম-পরিমাণ সাওয়াব পাবে, যে তার অনুসরণ করবে। আর তাদের বিনিময় থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি লোকদের গুমরাহীর দিকে ডাকবে, সে ব্যক্তি তাদের গুনাহের সম-পরিমাণ ভাগী হবে, যারা তার অনুসরণ করবে। আর তাদের গুনাহ থেকে কিছুই কম করা হবে না।

৪৫৫৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ أَمْرٍ لَمْ يُحَرَّمْ فَحُرِّمَ عَلَى النَّاسِ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪৫৫৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সাঈদ (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের মাঝে সব চাইতে বড় গুনাহগার ঐ ব্যক্তি, যে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, যা হারাম ছিল না; কিন্তু তার জিজ্ঞাসার কারণে তা হারাম হয়ে যায়।

৮. সাহাবীদের ফযীলত সস্পর্কে।

باب فِي التَّفْضِيلِ

৪৫৫৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نَقُولُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا ثُمَّ عُمَرَ ثُمَّ عُثْمَانَ ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَفَاضُلَ بَيْنَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৫৫৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম (ﷺ) এর যামানায় বলতামঃ আবু বকর (রাযিঃ)-এর সমতুল্য আর কেউ নেই। এরপর উমর (রাযিঃ) এবং তারপর উছমান (রাযিঃ)। এদের পর আমরা নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের কাউকে অন্য কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম না।

৪৫৫৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَىٌّ أَفْضَلُ أُمَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ عُثْمَانُ رضى الله عنهم أَجْمَعِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৫৫৭. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় এরূপ বলতাম যে, নবী (ﷺ)-এর উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর এবং এরপর উছমান (রাযিঃ)।

৪৫৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ أَبِي رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي أَىُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ عُمَرُ . قَالَ ثُمَّ خَشِيتُ أَنْ أَقُولَ ثُمَّ مَنْ فَيَقُولَ عُثْمَانُ فَقُلْتُ ثُمَّ أَنْتَ يَا أَبَةِ قَالَ مَا أَنَا إِلاَّ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রহঃ)

৪৫৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে হানাফীয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার পিতা আলী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি বলেনঃ আবু বকর (রাযিঃ)। আমি আবার জিজ্ঞাসা করিঃ এরপর কে? তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ)।

রাবী বলেনঃ আমার ভয় হয়, যদি আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এরপর কে? আর তিনি বলেনঃ উছমান (রাযিঃ)। তাই আমি তাকে বলি হে আমার পিতা! এরপর কি আপনি শ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তো মুসলমানদের মধ্যে একজন। (এটা তাঁর বিনয়ের প্রকাশ)।
৪৫৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي الْفِرْيَابِيَّ - قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ، يَقُولُ مَنْ زَعَمَ أَنَّ عَلِيًّا، عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ أَحَقَّ بِالْوِلاَيَةِ مِنْهُمَا فَقَدْ خَطَّأَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارَ وَمَا أُرَاهُ يَرْتَفِعُ لَهُ مَعَ هَذَا عَمَلٌ إِلَى السَّمَاءِ .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান ছাওরী (রহঃ)

৪৫৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে মিসকীন (রাহঃ) .... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ মনে করবে যে, আলী (রাযিঃ) আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) অপেক্ষা খিলাফতের জন্য অধিক উপযুক্ত ছিলেন; তবে সে ব্যক্তি আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) এবং সমস্ত আনসার ও মুহাজিরদের ক্রটি চিহ্নিত করবে। (কেননা আবু বকর (রাযিঃ) মুহাজির ও আনসারদের সর্ব সম্মতিক্রমে খলীফা নির্বাচিত হয়েছিলেন)। তিনি আরো বলেনঃ যার এরূপ ধারণা পোষণ করবে, তাদের আমল (আল্লাহর নিকট পৌছাবে) যাবে বলে আমার মনে হয় না।

৪৫৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ السَّمَّاكُ، قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ الْخُلَفَاءُ خَمْسَةٌ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ رضى الله عنهم .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান ছাওরী (রহঃ)

৪৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খলীফা পাঁচজনঃ আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ), উসমান (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) এবং উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)।

৯. খিলাফাত সম্পর্কে।

باب فِي الْخُلَفَاءِ

৪৫৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - قَالَ مُحَمَّدٌ كَتَبْتُهُ مِنْ كِتَابِهِ - قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلاً أَتَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي أَرَى اللَّيْلَةَ ظُلَّةً يَنْطِفُ مِنْهَا السَّمْنُ وَالْعَسَلُ فَأَرَى النَّاسَ يَتَكَفَّفُونَ بِأَيْدِيهِمْ فَالْمُسْتَكْثِرُ وَالْمُسْتَقِلُّ وَأَرَى سَبَبًا وَاصِلاً مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ فَأَرَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخَذْتَ بِهِ فَعَلَوْتَ بِهِ ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَعَلاَ بِهِ ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَعَلاَ بِهِ ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَانْقَطَعَ ثُمَّ وُصِلَ فَعَلاَ بِهِ . قَالَ أَبُو بَكْرٍ بِأَبِي وَأُمِّي لَتَدَعَنِّي فَلأَعْبُرَنَّهَا . فَقَالَ " اعْبُرْهَا " . قَالَ أَمَّا الظُّلَّةُ فَظُلَّةُ الإِسْلاَمِ وَأَمَّا مَا يَنْطِفُ مِنَ السَّمْنِ وَالْعَسَلِ فَهُوَ الْقُرْآنُ لِينُهُ وَحَلاَوَتُهُ وَأَمَّا الْمُسْتَكْثِرُ وَالْمُسْتَقِلُّ فَهُوَ الْمُسْتَكْثِرُ مِنَ الْقُرْآنِ وَالْمُسْتَقِلُّ مِنْهُ وَأَمَّا السَّبَبُ الْوَاصِلُ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ فَهُوَ الْحَقُّ الَّذِي أَنْتَ عَلَيْهِ تَأْخُذُ بِهِ فَيُعْلِيكَ اللَّهُ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ بَعْدَكَ رَجُلٌ فَيَعْلُو بِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَيَعْلُو بِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَيَنْقَطِعُ ثُمَّ يُوصَلُ لَهُ فَيَعْلُو بِهِ أَىْ رَسُولَ اللَّهِ لَتُحَدِّثَنِّي أَصَبْتُ أَمْ أَخْطَأْتُ . فَقَالَ " أَصَبْتَ بَعْضًا وَأَخْطَأْتَ بَعْضًا " . فَقَالَ أَقْسَمْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَتُحَدِّثَنِّي مَا الَّذِي أَخْطَأْتُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُقْسِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৬১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি রাতে স্বপ্নে দেখি যে, এক টুকরা মেঘ, যা থেকে ঘি ও মধু বর্ষিত হচ্ছে। এরপর আমি দেখি যে, লোকেরা হাত বাড়িয়ে তা আহরণ করছে, কেউ বেশী আর কেউ কম। এরপর আমি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত একটা ঝুলন্ত রশি দেখতে পাই। আমি দেখি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সে রশি ধরে উপরে উঠে গেলেন। তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি তা ধরে উপরে উঠে যায়। পরে আর এক ব্যক্তি তা ধরে উপরে চলে যায়। এরপর এক ব্যক্তি তা ধরলে, সেটি ছিড়ে যায়, পরে তা ঠিক হলে, তিনি তা ধরে উপরে গমন করে।

একথা শুনে আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি আমাকে এ স্বপ্নের তা’বীর বর্ণনা করার অনুমতি দিন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আচ্ছা, তুমি এ স্বপ্নের তা’বীর বর্ণনা কর। আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ মেঘের টুকরা হলো দীন ইসলাম। আর যে ঘি ও মধু তা থেকে বর্ষিত হচ্ছে, তা হলো কুরআনের মিষ্টি-মধুর বচন এবং কম-বেশী সংগ্রহকারীর অর্থ হলো- কুরআনের ইলম কম-বেশী অর্জনকারী। আর আসমান ও যমীনের মাঝে ঝুলন্ত রশির অর্থ হলো ঐ সত্য দ্বীন, যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত।

তারপর আল্লাহ আপনাকে উঠিয়ে নিলে, খিলাফতের ঐ দায়িত্ব আর এক ব্যক্তি গ্রহণ করবে, তাকেও উঠিয়ে নেয়া হবে। এরপর আর এক ব্যক্তি সে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তাকেও উঠিয়ে নেয়া হবে। পরে এক ব্যক্তি সে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, রশি ছিড়ে যাবে, পরে তা মিলিত হবে এবং তাকেও উঠিয়ে নেয়া হবে। এরপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বলুন, আমি স্বপ্নের তা’বীর কি সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পেরেছি, না ভুল হয়েছে? তিনি বলেনঃ তুমি কিছু ঠিক এবং কিছু ভুল বর্ণনা দিয়েছ। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শপথ দিয়ে বলছি, আমি যা ভুল করেছি, তা আমাকে বলে দিন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কসম খেয়ো না।
৪৫৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأَبَى أَنْ يُخْبِرَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-এর ক্রটি সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে অস্বীকার করেন। হাদীসের এ অংশ উপরোক্ত ঘটনার অংশ।

৪৫৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ " مَنْ رَأَى مِنْكُمْ رُؤْيَا " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا رَأَيْتُ كَأَنَّ مِيزَانًا نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ فَوُزِنْتَ أَنْتَ وَأَبُو بَكْرٍ فَرُجِحْتَ أَنْتَ بِأَبِي بَكْرٍ وَوُزِنَ عُمَرُ وَأَبُو بَكْرٍ فَرُجِحَ أَبُو بَكْرٍ وَوُزِنَ عُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرُجِحَ عُمَرُ ثُمَّ رُفِعَ الْمِيزَانُ فَرَأَيْنَا الْكَرَاهِيَةَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪৫৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? তখন এক ব্যক্তি বলেঃ আমি স্বপ্নে দেখি যে, আসমান থেকে একটা দাঁড়ি-পাল্লা নাযিল হয়েছে, তাতে আপনাকে ও আবু বকর (রাযিঃ)-কে মাপা হলে, আপনার ওজন আবু বকর (রাযিঃ) থেকে অধিক হয়। এরপর উমর ও আবু বকর (রাযিঃ)-কে মাপা হলে, আবু বকর (রাযিঃ)-এর পাল্লা ভারী হয়। তারপর উমর ও উছমান (রাযিঃ)-কে মাপা হলে, উমর (রাযিঃ)-এর পাল্লা অধিক ওজন বিশিষ্ট হয়। এরপর সে দাঁড়ি-পাল্লা উপরে উঠে যায়। রাবী বলেনঃ এ বৃত্তান্ত শোনার পর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ দেখতে পাই।

৪৫৬৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ " أَيُّكُمْ رَأَى رُؤْيَا " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرِ الْكَرَاهِيَةَ . قَالَ فَاسْتَاءَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي فَسَاءَهُ ذَلِكَ فَقَالَ " خِلاَفَةُ نُبُوَّةٍ ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪৫৬৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আবু বাকরা (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মাঝে কে স্বপ্ন দেখেছে? এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ নেই, বরং এরূপ উল্লেখ আছে যে, এ স্বপ্নকে তিনি ভাল মনে করেননি। নবী (ﷺ) বলেনঃ খিলাফত হবে নবুওয়াতের। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন, সুলতানাত (বাদশাহী) দান করবেন।

৪৫৬৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيَ اللَّيْلَةَ رَجُلٌ صَالِحٌ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ نِيطَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنِيطَ عُمَرُ بِأَبِي بَكْرٍ وَنِيطَ عُثْمَانُ بِعُمَرَ " . قَالَ جَابِرٌ فَلَمَّا قُمْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا أَمَّا الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا تَنَوُّطُ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ فَهُمْ وُلاَةُ هَذَا الأَمْرِ الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ يُونُسُ وَشُعَيْبٌ لَمْ يَذْكُرَا عَمْرًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৫৬৫. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আজকের রাতে একজন নেক-বখত লোককে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, আবু বকর (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে; আর উমর (রাযিঃ)-কে আবু বকর (রাযিঃ)-এর সংযুক্ত করা হয়েছে এবং উছমান (রাযিঃ)-কে উমর (রাযিঃ)-এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রাবী জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে গমন করি, তখন আমার মনে এরূপ উদয় হয় যে, নেককার ব্যক্তি হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আর একজন অপর জনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার অর্থ হলোঃ তাঁরা নবী (ﷺ) ঐ কাজের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যে জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন।
৪৫৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنِي عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُ كَأَنَّ دَلْوًا دُلِّيَ مِنَ السَّمَاءِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ بِعَرَاقِيهَا فَشَرِبَ شُرْبًا ضَعِيفًا ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِعَرَاقِيهَا فَشَرِبَ حَتَّى تَضَلَّعَ ثُمَّ جَاءَ عُثْمَانُ فَأَخَذَ بِعَرَاقِيهَا فَشَرِبَ حَتَّى تَضَلَّعَ ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَخَذَ بِعَرَاقِيهَا فَانْتَشَطَتْ وَانْتَضَحَ عَلَيْهِ مِنْهَا شَىْءٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৪৫৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি এরূপ বর্ণনা করেন যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি যে, আসমান থেকে একটা বালতি ঝুলানো হয়েছে। আবু বকর (রাযিঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে সামন্য পানি পান করেন। এরপর উমর (রাযিঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে তৃপ্তির সাথে পানি পান করেন। তারপর উছমান (রাযিঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে পরিতৃপ্তির সাথে পানি পান করেন। এরপর আলী (রাযিঃ) এসে সে বালতির দু’পাশ ধরে উপুড় করলে, তা থেকে কিছু পানি তাঁর শরীরে গিয়ে পড়ে।

৪৫৬৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ لَتَمْخُرَنَّ الرُّومُ الشَّامَ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا لاَ يَمْتَنِعُ مِنْهَا إِلاَّ دِمَشْقُ وَعَمَّانُ .

বর্ণনাকারী: মাকহুল শামী (রহঃ)

৪৫৬৭. আলী ইবনে সাহল (রাহঃ) .... মাকহূল (রাহঃ) বলেনঃ রোমের লোকেরা শামে চল্লিশ দিন থাকবে। দামিশক ও আম্মান ছাড়া কোন শহর তাদের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

৪৫৬৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَامِرٍ الْمُرِّيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الأَعْيَسِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَلْمَانَ، يَقُولُ سَيَأْتِي مَلِكٌ مِنْ مُلُوكِ الْعَجَمِ يَظْهَرُ عَلَى الْمَدَائِنِ كُلِّهَا إِلاَّ دِمَشْقَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৫৬৮. মুসা ইবনে আমির (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান (রাযিঃ) বলেনঃ আজমী বাদশাহদের থেকে একজন বাদশাহ অচিরেই বের হবেন, যিনি দামিশক ছাড়া আর সব শহর দখল করবেন।

৪৫৬৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا بُرْدٌ أَبُو الْعَلاَءِ، عَنْ مَكْحُولٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَوْضِعُ فُسْطَاطِ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمَلاَحِمِ أَرْضٌ يُقَالُ لَهَا الْغُوطَةُ " .

বর্ণনাকারী: মাকহুল শামী (রহঃ)

৪৫৬৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... মাকহূল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যুদ্ধের সময় মুসলমানদের তাঁবু একস্থানে অবস্থিত থাকবে, যাকে ’গুতা’ বলা হয়। (এটি শাম দেশে, দামিশকের কাছে অবস্থিত একটা স্থানের নাম।)

৪৫৭০

حَدَّثَنَا أَبُو ظَفَرٍ عَبْدُ السَّلاَمِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ عَوْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، يَخْطُبُ وَهُوَ يَقُولُ إِنَّ مَثَلَ عُثْمَانَ عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ يَقْرَؤُهَا وَيَفُسِّرُهَا ( إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَىَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا ) يُشِيرُ إِلَيْنَا بِيَدِهِ وَإِلَى أَهْلِ الشَّامِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৫৭০. আবু জা’ফর (রাহঃ) ..... আওফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ-কে খুতবার মধ্যে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ উছমান (রাযিঃ)-এর মর্যাদা আল্লাহর কাছে ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর মত। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেনঃ যখন আল্লাহ বলেনঃ হে ঈসা! আমি তোমাকে (পরে) মৃত্যুদান করবো, আর (এখন) তোমাকে কাফিরদের থেকে। আর তোমার অনুসারীদের বিজয়ী করবো কাফিরদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত। এ সময় হাজ্জাজ তার হাত দিয়ে আমাদের দিকে ইশারা করেন এবং শামের অধিবাসীদের উপর।

৪৫৭১

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ خَالِدٍ الضَّبِّيِّ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، يَخْطُبُ فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ رَسُولُ أَحَدِكُمْ فِي حَاجَتِهِ أَكْرَمُ عَلَيْهِ أَمْ خَلِيفَتُهُ فِي أَهْلِهِ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي لِلَّهِ عَلَىَّ أَلاَّ أُصَلِّيَ خَلْفَكَ صَلاَةً أَبَدًا وَإِنْ وَجَدْتُ قَوْمًا يُجَاهِدُونَكَ لأُجَاهِدَنَّكَ مَعَهُمْ . زَادَ إِسْحَاقُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ فَقَاتَلَ فِي الْجَمَاجِمِ حَتَّى قُتِلَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৫৭১. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... দাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজ-কে খুতবা দিতে শুনি। আর তিনি তার খুতবায় বলেনঃ তোমাদের মধ্যে প্রেরিত কোন রাসূল শ্রেষ্ঠ অথবা সে, যে তার আহলের মধ্যে খলীফা?

রাবী বলেনঃ তখন আমি মনে মনে বলিঃ এখন আল্লাহর হক আমার উপর এই যে, আমি তোমার পেছনে আর কখনো নামায আদায় করবো না। আর আমি যদি এমন কোন কওম পাই, যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তবে অবশ্যই আমি তাদের সাথী হয়ে তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।

রাবী ইসহাক (রাহঃ) তার হাদীসে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ’জামাজিম’ নামক স্থানে (তার বিরুদ্ধে জিহাদ করে) শহীদ হন।
৪৫৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ اتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ لَيْسَ فِيهَا مَثْنَوِيَّةٌ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا لَيْسَ فِيهَا مَثْنَوِيَّةٌ لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَبْدِ الْمَلِكِ وَاللَّهِ لَوْ أَمَرْتُ النَّاسَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنْ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَخَرَجُوا مِنْ بَابٍ آخَرَ لَحَلَّتْ لِي دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ وَاللَّهِ لَوْ أَخَذْتُ رَبِيعَةَ بِمُضَرَ لَكَانَ ذَلِكَ لِي مِنَ اللَّهِ حَلاَلاً وَيَا عَذِيرِي مِنْ عَبْدِ هُذَيْلٍ يَزْعُمُ أَنَّ قِرَاءَتَهُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا هِيَ إِلاَّ رَجَزٌ مِنْ رَجَزِ الأَعْرَابِ مَا أَنْزَلَهَا اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَعَذِيرِي مِنْ هَذِهِ الْحَمْرَاءِ يَزْعُمُ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَرْمِي بِالْحَجَرِ فَيَقُولُ إِلَى أَنْ يَقَعَ الْحَجَرُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ فَوَاللَّهِ لأَدَعَنَّهُمْ كَالأَمْسِ الدَّابِرِ . قَالَ فَذَكَرْتُهُ لِلأَعْمَشِ فَقَالَ أَنَا وَاللَّهِ سَمِعْتُهُ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

৪৫৭২. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজকে মিম্বর থেকে খুতবা দেয়ার সময় বলতে শুনিঃ তোমরা আল্লাহকে যথা সম্ভব ভয় কর, এতে কোন শর্ত নেই। এ ভাবেই শোন এবং অনুসরণ কর শর্তহীনভাবে মু’মিনদের আমীর আব্দুল মালিকের। আল্লাহর শপথ! আমি যদি লোকদের নির্দেশ দেই মসজিদের এ দরজা দিয়ে বের হওয়ার, আর তারা অন্য দরজা দিয়ে বের হয়, তবে তাদের রক্ত ও মাল আমার জন্য হালাল হয়ে যাবে।

আল্লাহর শপথ! যদি আমি ’মুদার’ গোত্রের অপরাধে ’রাবীআ’ গোত্রেকে পাঁকড়াও করি, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা আমার জন্য হালাল। আমার কাছে আব্দে হুযায়লের পক্ষ থেকে ওযর পেশ করবে, যে মনে করে, আমি যে ভাবে কুরআন তিলাওয়াত করি, তা আল্লাহর থেকে? আল্লাহর শপথ! তা তো একটা গীত মাত্র, আরবদের সঙ্গীত থেকে। আল্লাহ তা তাঁর নবীর উপর নাযিল করেননি।

আমার কাছে ঐ আজমী লোকদের পক্ষ থেকে ওযর পেশ করবে, তারা তো পাথর নিক্ষেপ করে অর্থাৎ ফিতনা-ফ্যাসাদের কথা সৃষ্টি করে এবং বলেঃ দেখ! এ পাথর কোন পর্যন্ত যায়। আল্লাহর শপথ! আমি তাদের গত দিনের মত নাস্তানাবুদ করে দেব। রাবী বলেনঃ আমি এ কথাগুলো আমাশ (রাহঃ)-এর কাছে বর্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি হাজ্জাজ থেকে এরূপ শুনেছি!
৪৫৭৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ هَذِهِ الْحَمْرَاءُ هَبْرٌ هَبْرٌ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ قَرَعْتُ عَصًا بِعَصًا لأَذَرَنَّهُمْ كَالأَمْسِ الذَّاهِبِ يَعْنِي الْمَوَالِي .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৪৫৭৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আমাশ (রাহঃ) বলেনঃ আমি হাজ্জাজকে মিম্বর থেকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আজমী লোকেরা কাঁটার মত। আল্লাহর শপথ! যদি আমি কাঠকে কাঠের উপর আঘাত করি, তবে তাকে এ ভাবে নাস্তানাবুদ করে দেব, যেমন গত কাল চলে গেছে!

৪৫৭৪

حَدَّثَنَا قَطَنُ بْنُ نُسَيْرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ، ح حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، قَالَ جَمَّعْتُ مَعَ الْحَجَّاجِ فَخَطَبَ فَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ قَالَ فِيهَا فَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا لِخَلِيفَةِ اللَّهِ وَصَفِيِّهِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৪৫৭৪. কুতন ইবনে নুসায়র (রাহঃ) .... আমাশ (রাহঃ) বলেনঃ আমি হাজ্জাজের সাথে জুমআর নামায আদায় করি। তিনি খুতবা দেন। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। হাজ্জাজ এ খুতবায় বলেনঃ তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহর খলীফা এবং তাঁর মনোনীত বান্দা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের, এ ভাবেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৪৫৭৫

حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خِلاَفَةُ النُّبُوَّةِ ثَلاَثُونَ سَنَةً ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ - أَوْ مُلْكَهُ - مَنْ يَشَاءُ " . قَالَ سَعِيدٌ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ عَلَيْكَ أَبَا بَكْرٍ سَنَتَيْنِ وَعُمَرَ عَشْرًا وَعُثْمَانَ اثْنَتَىْ عَشْرَةَ وَعَلِيٌّ كَذَا . قَالَ سَعِيدٌ قُلْتُ لِسَفِينَةَ إِنَّ هَؤُلاَءِ يَزْعُمُونَ أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ لَمْ يَكُنْ بِخَلِيفَةٍ . قَالَ كَذَبَتْ أَسْتَاهُ بَنِي الزَّرْقَاءِ يَعْنِي بَنِي مَرْوَانَ .

বর্ণনাকারী: সাফীনা (রাঃ)

৪৫৭৫. সওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... সাফীনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নবুওয়াতের খিলাফত এর সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন।

রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ সাফীনা (রাযিঃ) আমাকে বলেনঃ তুমি হিসাব কর। আবু বকর (রাযিঃ)-এর শাসনকাল হবে দু’ বছর, উমর (রাযিঃ)-এর দশ বছর, উছমান (রাযিঃ)-এর বার বছর এবং আলী (রাযিঃ)-এর অর্থাৎ ছ’বছর।

রাবী সাঈদ বলেনঃ তখন আমি সাফীনা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, বনু-মারওয়ান এরূপ ধারণা করে যে, আলী (রাযিঃ) খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি বলেনঃ বনু-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে।
৪৫৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ الْمَازِنِيِّ، قَالَ ذَكَرَ سُفْيَانُ رَجُلاً فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ الْمَازِنِيِّ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ فُلاَنٌ الْكُوفَةَ أَقَامَ فُلاَنٌ خَطِيبًا فَأَخَذَ بِيَدِي سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فَقَالَ أَلاَ تَرَى إِلَى هَذَا الظَّالِمِ فَأَشْهَدُ عَلَى التِّسْعَةِ إِنَّهُمْ فِي الْجَنَّةِ وَلَوْ شَهِدْتُ عَلَى الْعَاشِرِ لَمْ إِيثَمْ - قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ وَالْعَرَبُ تَقُولُ آثَمْ - قُلْتُ وَمَنِ التِّسْعَةُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى حِرَاءٍ " اثْبُتْ حِرَاءُ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ " . قُلْتُ وَمَنِ التِّسْعَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ . قُلْتُ وَمَنِ الْعَاشِرُ فَتَلَكَّأَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَالَ أَنَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ عَنِ ابْنِ حَيَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ بِإِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৪৫৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে জালিম মাযিনী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফায়ল (রাযিঃ) থেকে শ্রবণ করেছি যে, যখন অমুক ব্যক্তি কূফায় এসে অমুক ব্যক্তিকে খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড় করিয়ে দেয়, তখন সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) আমার হাত ধরে বলেনঃ তুমি কি ঐ জালিম ব্যক্তিকে দেখছো না; আমি নয়জন ব্যক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। আর আমি যদি দশম ব্যক্তি সম্পর্কেও সাক্ষ্য দেই, তবুও আমি গুনাহগার হবো না।

এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ঐ নয় ব্যক্তি কারা? তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিরা পর্বতের উপর উঠলে, তা কাঁপতে থাকে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ ওহে হিরা! তুমি স্থির হও। আমি আবার প্রশ্ন করিঃ ঐ নয় ব্যক্তি কে কে? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তারা হলোঃ ১। আবু বকর (রাযিঃ) ২। উমর (রাযিঃ) ৩। উছমান (রাযিঃ) ৪। আলী (রাযিঃ) ৫। তালহা (রাযিঃ) ৬। যুবাইর (রাযিঃ) ৭। সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ৮। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) ৯। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ দশম ব্যক্তিটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেনঃ আমি নিজে।*

* এখানে আটজন সাহাবীর নাম উল্লেখের পর দশম সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নবম সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই। তিনি হলেন- সা'দ ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ)। -অনুবাদক
৪৫৭৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَخْنَسِ، أَنَّهُ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ فَذَكَرَ رَجُلٌ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَامَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي سَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ " عَشْرَةٌ فِي الْجَنَّةِ النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدُ بْنُ مَالِكٍ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ " . وَلَوْ شِئْتَ لَسَمَّيْتُ الْعَاشِرَ . قَالَ فَقَالُوا مَنْ هُوَ فَسَكَتَ قَالَ فَقَالُوا مَنْ هُوَ فَقَالَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৪৫৭৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আখনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি মসজিদে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি আলী (রাযিঃ) সম্পর্কে আলোচনা করলে, সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, দশ ব্যক্তি বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে। তাঁরা হলেনঃ ১। নবী করীম (ﷺ) জান্নাতে যাবেন, ২। আবু বকর (রাযিঃ) জান্নাতী, ৩। উমর (রাযিঃ) জান্নাতী, ৪। উছমান (রাযিঃ) জান্নাতী, ৫। আলী (রাযিঃ) জান্নাতী, ৬। তালহা (রাযিঃ) জান্নাতী, ৭। যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) জান্নাতী ৮। সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ) জান্নাতী, ৯। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) জান্নাতী।

তিনি বলেনঃ আমি ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। তখন লেকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ সে লোকটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেনঃ তিনি হলেন সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ), অর্থাৎ তিনি নিজে।
৪৫৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْمُثَنَّى النَّخَعِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي، رِيَاحُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ فُلاَنٍ فِي مَسْجِدِ الْكُوفَةِ وَعِنْدَهُ أَهْلُ الْكُوفَةِ فَجَاءَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ فَرَحَّبَ بِهِ وَحَيَّاهُ وَأَقْعَدَهُ عِنْدَ رِجْلِهِ عَلَى السَّرِيرِ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ يُقَالُ لَهُ قَيْسُ بْنُ عَلْقَمَةَ فَاسْتَقْبَلَهُ فَسَبَّ وَسَبَّ فَقَالَ سَعِيدٌ مَنْ يَسُبُّ هَذَا الرَّجُلُ قَالَ يَسُبُّ عَلِيًّا . قَالَ أَلاَ أَرَى أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَبُّونَ عِنْدَكَ ثُمَّ لاَ تُنْكِرُ وَلاَ تُغَيِّرُ أَنَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَإِنِّي لَغَنِيٌّ أَنْ أَقُولَ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَقُلْ فَيَسْأَلُنِي عَنْهُ غَدًا إِذَا لَقِيتُهُ " أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ " . وَسَاقَ مَعْنَاهُ ثُمَّ قَالَ لَمَشْهَدُ رَجُلٍ مِنْهُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْبَرُّ فِيهِ وَجْهُهُ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِ أَحَدِكُمْ عُمْرَهُ وَلَوْ عُمِّرَ عُمْرَ نُوحٍ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৪৫৭৮. আবু কামিল (রাহঃ) ..... রাবাহ ইবনে হারিছ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি কূফার মসজিদে অমুক ব্যক্তির পাশে বসা ছিলাম। এ সময় কূফার লোকেরা তার কাছে উপস্থিত হয়। এ সময় সেখানে সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফায়ল (রাযিঃ) আসলে, মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং সালাম বিনিময়ের পর তাঁকে তিনি তার পায়ের নিকটবর্তী আসনে বসান। এরপর সেখানে কায়স ইবনে আলকামা (রাহঃ) নামক কূফার একজন অধিবাসী আসেন। মুগীরা (রাযিঃ) তাকেও অভ্যর্থনা জানান। তখন সে ব্যক্তি আলী (রাযিঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করলে, সাঈদ (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যক্তি কার সম্পর্কে কটুক্তি করছে? তখন মুগীরা (রাযিঃ) বলেনঃ আলী (রাযিঃ) সম্পর্কে।

এ সময় সাঈদ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আপনার কাছে এমন কিছু লোককে দেখতে পাচ্ছি, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মন্দ বলছে! অথচ আপনি তাদের তা থেকে নিষেধ করছেন না এবং বিরত থাকতেও বলছেন না। এরপর তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি!

রাবী বলেনঃ এ ব্যাপারে আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবে আমি আপনার ব্যাপারে এমন কিছু বলবো, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেননি। যে কারণে তিনি কিয়ামতের দিন আমাকে পাঁকড়াও করবেন, যখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হবে। তিনি বলেনঃ আবু বকর জান্নাতী, উমর জান্নাতী।

তারপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ সাহাবীগণের মাঝে যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সোহবত লাভ করেছেন এবং এজন্য তাদের মুখ মগুলে ধূলাবালি নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তারা তোমাদের মধ্যকার ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম, যে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর হায়াত কালের সমান নেক আমল করে।
৪৫৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ أُحُدًا فَتَبِعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ فَضَرَبَهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِجْلِهِ وَقَالَ " اثْبُتْ أُحُدُ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৫৭৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করেন এবং সে সময় তাঁর সাথে আবু বকর, উমর ও উছমান (রাযিঃ) ছিলেন। এ সময় পাহাড় কাঁপতে থাকলে, নবী (ﷺ) তাকে পদাঘাত করে বলেনঃ তুমি স্থির হও। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছে।

৪৫৮০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৫৮০. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা রিদওয়ান বৃক্ষের নীচে বায়’আত গ্রহণ করেছে, তাদের কেউ জাহান্নামে যাবে না।

৪৫৮১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مُوسَى " فَلَعَلَّ اللَّهَ " . وَقَالَ ابْنُ سِنَانٍ " اطَّلَعَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীদের এরূপ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তোমরা তোমাদের খুশীমত আমল কর, আমি তোমাদের মাফ করে দিয়েছি।

৪৫৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ ثَوْرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ فَأَتَاهُ - يَعْنِي عُرْوَةَ بْنَ مَسْعُودٍ - فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكُلَّمَا كَلَّمَهُ أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ قَائِمٌ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ السَّيْفُ وَعَلَيْهِ الْمِغْفَرُ فَضَرَبَ يَدَهُ بِنَعْلِ السَّيْفِ وَقَالَ أَخِّرْ يَدَكَ عَنْ لِحْيَتِهِ . فَرَفَعَ عُرْوَةُ رَأْسَهُ فَقَالَ مَنْ هَذَا قَالُوا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৪৫৮২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... মিসওর ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) হুদায়বিয়ার সন্ধি স্থানে গমন করেন। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন সেখানে উরওয়া ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এসে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা-বার্তা বলতে থাকেন এবং মহব্বতের কারণে তাঁর দাঁড়ি মুবারকে হাত দিতে থাকেন। (এটা ছিল তৎকালীন আরবের প্রচলিত রীতি।)

এ সময় মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার হাতে ছিল তলোয়ার এবং মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। তিনি উরওয়ার হাতে তরবারির খোঁচা দিয়ে বলেনঃ তুমি তোমার হাতকে নবী (ﷺ)-এর দাঁড়ি থেকে দূরে সরিয়ে নেও। তখন উরওয়া মাথা তুলে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ লোকটি কে? সাহাবীগণ বলেনঃ ইনি হলেন মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ)।
৪৫৮৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، مَوْلَى آلِ جَعْدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَرَانِي بَابَ الْجَنَّةِ الَّذِي تَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ مَعَكَ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৮৩. হান্নাদ ইবনে সিরী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে এসে, আমার হাত ধরে, আমাকে জান্নাতের সে দরজাটি দেখান, যা দিয়ে আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইচ্ছা হচ্ছে, যদি এ সময় আমি আপনার সাথে থাকতাম, তা হলে জান্নাতের সে দরজা দেখতে পেতাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আবু বকর! আমার উম্মতের মধ্যে তুমি-ই সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।

৪৫৮৪

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ إِيَاسٍ الْجُرَيْرِيَّ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، عَنِ الأَقْرَعِ، مُؤَذِّنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ بَعَثَنِي عُمَرُ إِلَى الأُسْقُفِّ فَدَعَوْتُهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ وَهَلْ تَجِدُنِي فِي الْكِتَابِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ كَيْفَ تَجِدُنِي قَالَ أَجِدُكَ قَرْنًا . فَرَفَعَ عَلَيْهِ الدِّرَّةَ فَقَالَ قَرْنُ مَهْ فَقَالَ قَرْنٌ حَدِيدٌ أَمِينٌ شَدِيدٌ . قَالَ كَيْفَ تَجِدُ الَّذِي يَجِيءُ مِنْ بَعْدِي فَقَالَ أَجِدُهُ خَلِيفَةً صَالِحًا غَيْرَ أَنَّهُ يُؤْثِرُ قَرَابَتَهُ . قَالَ عُمَرُ يَرْحَمُ اللَّهُ عُثْمَانَ ثَلاَثًا فَقَالَ كَيْفَ تَجِدُ الَّذِي بَعْدَهُ قَالَ أَجِدُهُ صَدَأَ حَدِيدٍ فَوَضَعَ عُمَرُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ يَا دَفْرَاهُ يَا دَفْرَاهُ . فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ خَلِيفَةٌ صَالِحٌ وَلَكِنَّهُ يُسْتَخْلَفُ حِينَ يُسْتَخْلَفُ وَالسَّيْفُ مَسْلُولٌ وَالدَّمُ مُهْرَاقٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الدَّفْرُ النَّتْنُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৫৮৪. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) আমাকে নাসারাদের একজন পাদরীর কাছে পাঠান। তখন আমি তাকে ডেকে আনি। তখন উমর (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমার কোন অবস্থার বর্ণনা তোমাদের কিতাবে আছে কি? সে বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তা কিরূপ। তখন সে পাদরী বলেঃ ’কারনা’ হিসাবে আপনাকে পাই। তখন উমর (রাযিঃ) তার উপর দোররা উঠিয়ে বলেনঃ ’কারনা’ কি? তখন সে বলেঃ আমানতদার, মজবুত এবং শক্তিশালী।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমার পরে যে খলীফা হবে, তার অবস্থা কি? সে বলেঃ আমি তাকে নেককার খলীফা মনে করি, তবে তিনি তাঁর আপনজনদের খেয়াল বেশী রাখবেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহ উছমানের উপর রহম করুন! তিনি একথা তিনবার বলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তার পরে যে খলীফা হবে সে ব্যক্তির অবস্থা কি? সে বলেঃ তিনি তো লোহার প্রতি আকৃষ্ট হবেন, (অর্থাৎ তিনি সব সময় যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত থাকবেন)। তখন উমর (রাযিঃ) তার মাথায় হাত রেখে বলেনঃ হে খাবীছ, দুর্গন্ধ ! তুমি কি বলছো! তখন সে বলেঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! তিনি নেককার খলীফা হবেন। তবে যখন তিনি খলীফা হবেন, তখন তলোয়ার কোষমুক্ত থাকবে এবং রক্তপাত হতে থাকবে।

১০. নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের ফযীলত সম্পর্কে।

باب فِي فَضْلِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

৪৫৮৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ح، وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " . وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَذَكَرَ الثَّالِثَ أَمْ لاَ " ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَنْذِرُونَ وَلاَ يُوفُونَ وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ وَيَفْشُو فِيهِمُ السِّمَنُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৫৮৫. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম উম্মত হলো তারা, যাদের কাছে আমি প্রেরিত হয়েছি। এরপর তারা শ্রেষ্ঠ-যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর তারা উত্তম-যারা তাদের পরবর্তী যুগের লোক। আল্লাহ ভাল জানেন, নবী (ﷺ) তৃতীয় যুগের লোকদের কথা বলেছিলেন কিনা? রাবী বলেনঃ এরপর এমন লোক হবে, যারা বিনা আহবানে সাক্ষ্য দেবে এবং মান্নত করে তা পূরা করবে না। তারা আমানতে খিয়ানত করবে এবং হারাম খাওয়ার ফলে মোটা-তাজা হবে।

১১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের মন্দ বলা নিষেধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنْ سَبِّ، أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

৪৫৮৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنْفَقَ أَحَدُكُمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৫৮৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদের সম্পর্কে কোনরূপ কটুক্তি করবে না। যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, যদি তোমাদের কেউ (তাদের পরে) উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করে; তবে তাঁরা দ্বীনের জন্য যে এক বা অর্ধ মুদ সম্পদ (যা খুবই নগণ্য) খরচ করেছে, তার সমান হবে না।

৪৫৮৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ الْمَاصِرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قُرَّةَ، قَالَ كَانَ حُذَيْفَةُ بِالْمَدَائِنِ فَكَانَ يَذْكُرُ أَشْيَاءَ قَالَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِي الْغَضَبِ فَيَنْطَلِقُ نَاسٌ مِمَّنْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنْ حُذَيْفَةَ فَيَأْتُونَ سَلْمَانَ فَيَذْكُرُونَ لَهُ قَوْلَ حُذَيْفَةَ فَيَقُولُ سَلْمَانُ حُذَيْفَةُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُ فَيَرْجِعُونَ إِلَى حُذَيْفَةَ فَيَقُولُونَ لَهُ قَدْ ذَكَرْنَا قَوْلَكَ لِسَلْمَانَ فَمَا صَدَّقَكَ وَلاَ كَذَّبَكَ . فَأَتَى حُذَيْفَةُ سَلْمَانَ وَهُوَ فِي مَبْقَلَةٍ فَقَالَ يَا سَلْمَانُ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تُصَدِّقَنِي بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَلْمَانُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْضَبُ فَيَقُولُ فِي الْغَضَبِ لِنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَيَرْضَى فَيَقُولُ فِي الرِّضَا لِنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ أَمَا تَنْتَهِي حَتَّى تُوَرِّثَ رِجَالاً حُبَّ رِجَالٍ وَرِجَالاً بُغْضَ رِجَالٍ وَحَتَّى تُوقِعَ اخْتِلاَفًا وَفُرْقَةً وَلَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ فَقَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي سَبَبْتُهُ سَبَّةً أَوْ لَعَنْتُهُ لَعْنَةً فِي غَضَبِي - فَإِنَّمَا أَنَا مِنْ وَلَدِ آدَمَ أَغْضَبُ كَمَا يَغْضَبُونَ وَإِنَّمَا بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ - فَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ صَلاَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ أَوْ لأَكْتُبَنَّ إِلَى عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৫৮৭. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আমর ইবনে আবু কুররা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযাইফা (রাযিঃ) মাদায়েনে ছিলেন এবং তিনি লোকদের কাছে ঐ সব হাদীস বর্ণনা করতেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগাম্বিত অবস্থায় লোকদের বলতেন। যারা হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে এ ধরনের হাদীস শুনতেন, তারা সালমান (রাযিঃ)-এর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করতেন। তখন সালমান (রাযিঃ) বলতেনঃ হুযাইফা (রাযিঃ) যা কিছু বলেনঃ সে ব্যাপারে তিনি অভিজ্ঞ। একথা লোকেরা হুযাইফা (রাযিঃ)-এর কাছে গিয়ে বললো যে, আমরা আপনার বর্ণিত হাদীস সালমান (রাযিঃ)-এর কাছে পেশ করলে, তিনি তা সম্পর্কে সত্য বা মিথ্যা কিছুই বলেন না।

একথা শুনে হুযাইফা (রাযিঃ) সালমান (রাযিঃ)-এর কাছে যান এবং এ সময় তিনি তরকারীর ক্ষেতে ছিলেন। তিনি তাকে বলেনঃ হে সালমান! আপনি আমার বর্ণিত ঐ সব হাদীস কেন সত্যায়িত করেননি, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শ্রবণ করেছি? তখন সালমান (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন সময় রাগাম্বিত হতেন, তখন তিনি রাগান্বিত অবস্থায় সাহাবীদের সাথে কথা বলতেন। আর কখনো তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন, তখন তিনি তাদের সাথে খোশ-মেজাযে কথা বলতেন। এরপর সালমান (রাযিঃ) বলেনঃ আপনি কি এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকবেন না, যাতে একে অন্যের প্রতি রাগ-বিরাগের সৃষ্টি হয়? আর সম্ভবতঃ এর ফলে লোকদের মাঝে মতানৈক্যের সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরো বলেনঃ আপনি এ বিষয়ে অবহিত আছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দেয়ার সময় বলেনঃ আমি রাগান্বিত থাকার কারণে যদি আমার উম্মতকে কোন খারাপ কথা বলে থাকি বা তার উপর লা’নত করে থাকি, (তবে তা এজন্য যে,) আমিও আদম সন্তান। আমিও সেরূপ রাগান্বিত হই, যেরূপ অন্যরা হয়ে থাকে। অবশ্য মহান আল্লাহ আমাকে সারা জাহানের আমার খারাপ উক্তি ও লা’নতকে, (যা আমি করেছি,) কিয়ামতের দিন তা ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত স্বরূপ করে দেবেন। এরপর সালমান (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! হয় আপনি এরূপ করা থেকে বিরত থাকবেন, নয়তো আমি উমর (রাযিঃ)-কে চিঠি দিয়ে সব জানিয়ে দেব।

১২. আবু বকর (রাযিঃ)-এর খিলাফতের দলীল।

باب فِي اسْتِخْلاَفِ أَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه

৪৫৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، قَالَ لَمَّا اسْتُعِزَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عِنْدَهُ فِي نَفَرٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ دَعَاهُ بِلاَلٌ إِلَى الصَّلاَةِ فَقَالَ مُرُوا مَنْ يُصَلِّي لِلنَّاسِ . فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَمَعَةَ فَإِذَا عُمَرُ فِي النَّاسِ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ غَائِبًا فَقُلْتُ يَا عُمَرُ قُمْ فَصَلِّ بِالنَّاسِ فَتَقَدَّمَ فَكَبَّرَ فَلَمَّا سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَوْتَهُ وَكَانَ عُمَرُ رَجُلاً مُجْهِرًا قَالَ " فَأَيْنَ أَبُو بَكْرٍ يَأْبَى اللَّهُ ذَلِكَ وَالْمُسْلِمُونَ يَأْبَى اللَّهُ ذَلِكَ وَالْمُسْلِمُونَ " . فَبَعَثَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَجَاءَ بَعْدَ أَنْ صَلَّى عُمَرُ تِلْكَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবন যাম'আহ রাযি.

৪৫৮৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে যাম’আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রোগ-যন্ত্রণা যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন অন্যান্য মুসলমানদের সাথে আমিও তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে সময় বিলাল (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-কে নামাযের জন্য ডাকতে আসলে, তিনি বলেনঃ কোন এক ব্যক্তিকে বল, সে যেন লোকদের (ইমাম হয়ে) নামায পড়িয়ে দেয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে যাম’আ (রাযিঃ) বেরিয়ে উমর (রাযিঃ)-কে লোকদের মাঝে দেখতে পান; আর আবু বকর (রাযিঃ) অনুপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলিঃ হে উমর! আপনি উঠুন এবং লোকদের নিয়ে নামায আদায় করুন। তখন উমর (রাযিঃ) সামনে গিয়ে উচ্চ স্বরে তাকবীর পাঠ করে নামায শুরু করলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শুনে বলেনঃ আবু বকর কোথায়? আল্লাহ তাআলা এটা (উমরের ইমামতি) অপছন্দ করেন এবং মুসলমানরাও তা অপছন্দ করে।

তিনি আবু বকর (রাযিঃ)-কে ডেকে পাঠান এবং তিনি সেখানে তখন উপস্থিত হন, যখন উমর (রাযিঃ) লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে ফেলেন। এরপর (আবু বকর) লোকদের নিয়ে সে নামায পুনরায় আদায় করেন।
৪৫৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَمْعَةَ، أَخْبَرَهُ بِهَذَا الْخَبَرِ، قَالَ لَمَّا سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَوْتَ عُمَرَ قَالَ ابْنُ زَمَعَةَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَطْلَعَ رَأْسَهُ مِنْ حُجْرَتِهِ ثُمَّ قَالَ " لاَ لاَ لاَ لِيُصَلِّ لِلنَّاسِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ " . يَقُولُ ذَلِكَ مُغْضَبًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবন যাম'আহ রাযি.

৪৫৮৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে যাম’আ (রাযিঃ) এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যখন নবী করীম (ﷺ) উমর (রাযিঃ) এর কণ্ঠস্বর শ্রবণ করেন, তখন তিনি বাইরে চলে আসেন, এমন কি তিনি তাঁর মাথা হুজরার বাইরে এনে বলেনঃ না, না, না! আবু কুহাফার ছেলের উচিত লোকদের নিয়ে নামায আদায় করা। নবী করীম (ﷺ) রাগাম্বিত হয়ে এরূপ উক্তি করেন।

১৩. ফিতনা-ফাসাদের সময় চুপ থাকা সস্পর্কে।

باب مَا يَدُلُّ عَلَى تَرْكِ الْكَلاَمِ فِي الْفِتْنَةِ

৪৫৯০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ " إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ يُصْلِحَ اللَّهُ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنْ أُمَّتِي " . وَقَالَ فِي حَدِيثِ حَمَّادٍ " وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَظِيمَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪৫৯০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) সম্পর্কে বলেনঃ এ আমার ছেলে, সায়্যিদ। আমি আশা করি, আল্লাহ তাআলা তার মধ্যস্থতায় আমার উম্মতের দু’টি প্রতিদ্বন্দী দলের মাঝে সন্ধি স্থাপন করে দেবেন।

রাবী হাম্মাদ (রাহঃ)-এর বর্ণনায় এরূপ আছেঃ সম্ভবতঃ আল্লাহ তাআলা তার মধ্যস্থতায় দু’টি দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে দেবেন। (বস্তুত ইমাম হাসান (রাযিঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর সাথে সন্ধি করে একটি ফিতনার রাস্তা বন্ধ করেন।)
৪৫৯১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ حُذَيْفَةُ مَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ تُدْرِكُهُ الْفِتْنَةُ إِلاَّ أَنَا أَخَافُهَا عَلَيْهِ إِلاَّ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَضُرُّكَ الْفِتْنَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৫৯১. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... হুজায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) ব্যতীত আর কাউকে ফিতনার মধ্যে নিপতিত হওয়ার পর রক্ষা পেতে দেখিনি, যে ফিতনা সম্পর্কে আমি নিজেও ভীত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনি যে, (হে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা), ফিতনার কারণে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।

৪৫৯২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ ضُبَيْعَةَ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى حُذَيْفَةَ فَقَالَ إِنِّي لأَعْرِفُ رَجُلاً لاَ تَضُرُّهُ الْفِتَنُ شَيْئًا . قَالَ فَخَرَجْنَا فَإِذَا فُسْطَاطٌ مَضْرُوبٌ فَدَخَلْنَا فَإِذَا فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا أُرِيدُ أَنْ يَشْتَمِلَ عَلَىَّ شَىْءٌ مِنْ أَمْصَارِكُمْ حَتَّى تَنْجَلِيَ عَمَّا انْجَلَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৫৯২. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) .... ছা’লাবা ইবনে দুবাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি হুযাইফা (রাযিঃ)-এর নিকট গেলে, তিনি বলেনঃ আমি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানি, ফিতনায় যার কোন ক্ষতি হবে না। আমি তার নিকট থেকে বাইরে এসে একটা তাঁবু খাটানো দেখতে পাই। আমি সেখানে প্রবেশ করে দেখি, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) সেখানে রয়েছেন। আমি তাঁর কাছে এর কারণ জানতে চাইলে, তিনি বলেনঃ আমি চাই না যে, তোমাদের শহরের কোন স্থান আমাকে আব্দ্ধ করে রাখুক, যতক্ষণ না তা ঐ জিনিস থেকে পবিত্র হয়, যা থেকে পবিত্র হওয়া উচিত অর্থাৎ ফিতনা থেকে।

৪৫৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ ضُبَيْعَةَ بْنِ حُصَيْنٍ الثَّعْلَبِيِّ، بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৫৯৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... দুবাইয়া ইবনে হুসাইন ছা’লাবী (রাহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৪৫৯৪

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهُذَلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَلِيٍّ رضى الله عنه أَخْبِرْنَا عَنْ مَسِيرِكَ هَذَا أَعَهْدٌ عَهِدَهُ إِلَيْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ رَأْىٌ رَأَيْتَهُ فَقَالَ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ وَلَكِنَّهُ رَأْىٌ رَأَيْتُهُ .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

৪৫৯৪. ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... কায়স ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি যে (মুআবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য) বের হচ্ছেন, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তরফ থেকে কি কোন নির্দেশ আছে, না আপনি নিজ সিদ্ধান্তে এরূপ করছেন? তিনি বলেনঃ না, এসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন নির্দেশ দেননি, বরং এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত।

৪৫৯৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ عِنْدَ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهَا أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৫৯৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের মাঝে মতানৈক্যের সময় এমন এক দলের সৃষ্টি হবে, যারা ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, যারা সত্যের অধিক নিকটবর্তী।

১৪. আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে ফযীলত সম্পর্কে।

باب فِي التَّخْيِيرِ بَيْنَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ

৪৫৯৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ يَحْيَى - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُخَيِّرُوا بَيْنَ الأَنْبِيَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৫৯৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর মাঝে একজনকে অপরের উপর প্রাধান্য দেবে না।

৪৫৯৭

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى . فَرَفَعَ الْمُسْلِمُ يَدَهُ فَلَطَمَ وَجْهَ الْيَهُودِيِّ فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ فَإِذَا مُوسَى بَاطِشٌ فِي جَانِبِ الْعَرْشِ فَلاَ أَدْرِي أَكَانَ مِمَّنْ صَعِقَ فَأَفَاقَ قَبْلِي أَوْ كَانَ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ ابْنِ يَحْيَى أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫৯৭. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়াকুব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ইয়াহুদী বলেঃ ঐ জাতের কসম! যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে নবী (ﷺ) হিসাবে মনোনীত করেন। একথা শুনে একজন মুসলিম তার গালে চড় মারে। তখন সে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করলে নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আমাকে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, কিয়ামতের দিন যখন সবাই বেহুশ হয়ে যাবে, তখন আমিই প্রথম হুশপ্রাপ্ত হয়ে দেখবো যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) আরশের কোণা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানি না, যারা বেহুশ হবে, মুসা (আলাইহিস সালাম) তাদের মাঝে প্রথম হুশ ফিরে পাবেন, না আল্লাহ তাকে বেহুশ করবেন না।

৪৫৯৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫৯৮. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... ইবনে শিহাব (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তা হতে শ্রেষ্ঠ।

৪৫৯৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ أَنْ يَقُولَ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৪৫৯৯. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেতেনঃ কোন নবীর জন্য এরূপ বলা উচিত নয় যে আমি ইউনুস ইবনে মাত্তা (আলাইহিস সালাম) থেকে উত্তম।

৪৬০০
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، يَذْكُرُ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا خَيْرَ الْبَرِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَاكَ إِبْرَاهِيمُ " .

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَرُّوخَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَأَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الأَرْضُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬০০. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ″ইয়া খায়রুল বারীআ″ বা হে সৃষ্টির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে সম্বোধন করলে, তিনি বলেনঃ তা হলেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)।

আমর ইবন উসমান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আদম সন্তানের নেতা এবং আমাকে সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠানো হবে এবং আমি সর্বপ্রথম সুপারিশকারী হবো এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।
৪৬০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَمَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَدْرِي أَتُبَّعٌ لَعِينٌ هُوَ أَمْ لاَ وَمَا أَدْرِي أَعُزَيْرٌ نَبِيٌّ هُوَ أَمْ لاَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬০১. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জানি না কওমে তুব্বা লা’নতের উপযুক্ত কিনা? আর আমি এ-ও জানি না যে, উযায়র (আলাইহিস সালাম) নবী ছিলেন কিনা?

৪৬০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِابْنِ مَرْيَمَ الأَنْبِيَاءُ أَوْلاَدُ عَلاَّتٍ وَلَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ نَبِيٌّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬০২. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, অন্য নবীদের চাইতে ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা অধিক। কেননা, নবীগণ পরস্পর ভাই স্বরূপ। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম)-ও আমার মাঝে আর কোন নবী নেই।

১৫. মুরজীয়া* ফিরকার বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে।

باب فِي رَدِّ الإِرْجَاءِ

৪৬০৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬০৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানের শাখা-প্রশাখা সত্তরেরও অধিক। এর সর্বোত্তম শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হলো, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জাও ঈমানের একটি অঙ্গ।

*মুরজীয়া সম্প্রদায়ের অভিমত হলো-নেক আমল ঈমানের অংশ নয় এবং ঈমান থাকাবস্থায় গুনাহে লিপ্ত হওয়া ক্ষতিকর নয়। এ মতবাদ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। - অনুবাদক

১৫. মুরজীয়া ফিরকার বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে।

باب فِي رَدِّ الإِرْجَاءِ

৪৬০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ قَالَ " أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ " شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৬০৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল কায়সের প্রতিনিধি দল যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসে, তখন তিনি তাদের ঈমান আনার জন্য বলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি জান, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ কী? তারা বলেঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ এবং তার রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ তা হলো- এরূপ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইল্লাহ নেই, আর মুহাম্মাদ (ﷺ) তার রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রোযার মাসে রোযা রাখা এবং মালে গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।

৪৬০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৬০৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা এবং কুফরীর মধ্যবর্তী বিষয় হলো- নামায পরিত্যাগ করা।

৪৬০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا تَوَجَّهَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْكَعْبَةِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ الَّذِينَ مَاتُوا وَهُمْ يُصَلُّونَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৬০৬. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন কাবার দিকে মুখ ফিরানো (নামাযের মধ্যে) শুরু করেন, তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের কি অবস্থা হবে, যারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায়কালীন সময়ে মারা গেছে? তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ আল্লাহ তোমাদের ঈমান অর্থাৎ নামায বিনষ্ট করবেন না।

৪৬০৭

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪৬০৭. মুআম্মাল ইবনে ফাদল (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালবাসবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুশমনী করবে; আর দান করবে আল্লাহর জন্য এবং দান করা থেকে বিরত থাকবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সে ব্যক্তি তার ঈমান পরিপূর্ণ করেছে।

৪৬০৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَلاَ دِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبٍّ مِنْكُنَّ " . قَالَتْ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ " أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ شَهَادَةُ رَجُلٍ وَأَمَّا نُقْصَانُ الدِّينِ فَإِنَّ إِحْدَاكُنَّ تُفْطِرُ رَمَضَانَ وَتُقِيمُ أَيَّامًا لاَ تُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬০৮. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলাদের বলেনঃ আমি তোমাদের ন্যায় আর কাউকে- অপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী, অপূর্ণ দ্বীনের অধিকারী এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের জ্ঞান হরণকারী- দেখিনি। জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করেনঃ আকল ও দ্বীনের অপূর্ণতার অর্থ কী? তিনি বলেনঃ জ্ঞানের অপূর্ণতা হলো-দুজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান; আর দ্বীনের অপূর্ণতা হলো তোমরা মাহে-রমযানে ইফতার (রোযা ভঙ্গ) কর এবং (প্রতিমাসে) কিছু দিন নামায আদায় করো না।*

* অর্থাৎ হায়েয ও নিফাসকালীন সময়ে মহিলারা ধর্মীয় বিধান, যথা নামায, রোযা আদায় করতে পারে না। নামায কাযার প্রয়োজন না থাকলেও রোযা পরে আদায় করতে হয়। - (অনুবাদক)

১৬. ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া ও কমে যাওয়া সম্পর্কে।

باب الدَّلِيلِ عَلَى زِيَادَةِ الإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ

৪৬০৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬০৯. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ মু’মিন, যার স্বভাব-চরিত্র ভাল।

৪৬১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَسَّمَ بَيْنَ النَّاسِ قَسْمًا فَقُلْتُ أَعْطِ فُلاَنًا فَإِنَّهُ مُؤْمِنٌ . قَالَ " أَوْ مُسْلِمٌ إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ الْعَطَاءَ وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُ مَخَافَةَ أَنْ يُكَبَّ عَلَى وَجْهِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪৬১০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) লোকদের মাঝে গনিমতের মাল বণ্টন করেন, (কিন্তু তিনি এক ব্যক্তিকে কিছু দেননি)। তখন আমি বলিঃ অমুক ব্যক্তিকে কিছু দিন, সে তো মু’মিন। তিনি বলেনঃ অথবা সে তো মুসলিম! আমি কোন কোন সময় লোকদের মাঝে বন্টনের সময় আমার প্রিয় ব্যক্তিদের বাদ দেই, যাতে লোকেরা (তাদের দেয়ার কারণে অহেতু সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে) অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত না হয়।

৪৬১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِجَالاً وَلَمْ يُعْطِ رَجُلاً مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَلَمْ تُعْطِ فُلاَنًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْ مُسْلِمٌ " . حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلاَثًا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوْ مُسْلِمٌ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أُعْطِي رِجَالاً وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُمْ لاَ أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪৬১১. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) সকলকে প্রদান করেন, কিন্তু এক ব্যক্তিকে কিছু দেননি। তখন সা’দ (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক অমুককে দিয়েছেন, কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি, অথচ সে মু’মিন! তিনি বলেনঃ অথবা সে মুসলিম! সা’দ (রাযিঃ) এ বাক্যটি তিনবার উচ্চারণ করেন। আর নবী (ﷺ) বলেনঃ অথবা সে মুসলিম। এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি কিছু লোককে দেই এবং আমার প্রিয় ব্যক্তিদের দেই না-এ ভয়ে যে, (লোকেরা এজন্য সমালোচনা করায়) তারা অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

৪৬১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ ( قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا ) قَالَ نَرَى أَنَّ الإِسْلاَمَ الْكَلِمَةُ وَالإِيمَانَ الْعَمَلُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪৬১২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... যুহরী (রাহঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলার এ বাণীঃ (আরবরা বলে; আমরা ঈমান এনেছি) আপনি বলুনঃ তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলঃ আমরা ইসলাম কবুল করেছি। রাবী বলেন, আামাদের কাছে এর অর্থ হলোঃ ইসলাম হলো, মুখে উচ্চারণ করা এবং ঈমান হলো নেক আমল করা।

৪৬১৩

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ وَاقِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬১৩. আবু ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার তিরোধানের পর কাফির হয়ে যেও না এবং একে অন্যকে হত্যা করবে না।

৪৬১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَكْفَرَ رَجُلاً مُسْلِمًا فَإِنْ كَانَ كَافِرًا وَإِلاَّ كَانَ هُوَ الْكَافِرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬১৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে কাফির বলে আর সে প্রকৃত কাফির হয়, তবে তো উত্তম। আর যদি সে কাফির না হয়, তবে যে কাফির বলবে, সে-ই কাফির হয়ে যাবে।

৪৬১৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ خَالِصٌ وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَلَّةٌ مِنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَلَّةٌ مِنْ نِفَاقٍ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৬১৫. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি স্বভাব বিদ্যমান থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যে ব্যক্তির মধ্যে এর একটা স্বভাব থাকবে, তার চরিত্রে, নিফাকের একটা স্বভাব থাকবে, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। আর তা হলোঃ

১। যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে;
২। আর যখন সে ওয়াদা করে, তা খেলাফ করে;
৩। আর যখন সে অঙ্গীকার করে, তখন তা ভঙ্গ করে;
৪। আর যখন সে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তখন গালি-গালাজ করে।
৪৬১৬

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ الأَنْطَاكِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَالتَّوْبَةُ مَعْرُوضَةٌ بَعْدُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬১৬. আবু সালিহ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যিনাকার ব্যক্তি যখন যিনা করে, তখন তার ঈমান থাকে না, চোর যখন চুরি করে, তখন সে মু’মিন থাকে না এবং মদ পানকারী মদ পানের সময় মু’মিন থাকে না। এরপর কেবল তাওবার রাস্তা খোলা থাকে। (অর্থাৎ এ ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর, যদি কেউ খালিছভাবে তাওবা করে, তবে তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে)।

৪৬১৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ - قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا زَنَى الرَّجُلُ خَرَجَ مِنْهُ الإِيمَانُ كَانَ عَلَيْهِ كَالظُّلَّةِ فَإِذَا انْقَطَعَ رَجَعَ إِلَيْهِ الإِيمَانُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬১৭. ইসহাক ইবনে সুওযায়দ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কেউ যিনা করে, তখন তার থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা তার মাথার উপর মেঘের ন্যায় অবস্থান করে। আর যখন সে তা থেকে বিরত হয়, তখন ঈমান তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে।

১৭. তাকদীর সম্পর্কে।

باب فِي الْقَدَرِ

৪৬১৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي بِمِنًى، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْقَدَرِيَّةُ مَجُوسُ هَذِهِ الأُمَّةِ إِنْ مَرِضُوا فَلاَ تَعُودُوهُمْ وَإِنْ مَاتُوا فَلاَ تَشْهَدُوهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬১৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কাদেরীয়ারা* এ উম্মতের মধ্যে মাজুস বা অগ্নি-উপাসকদের মত। যদি তারা পীড়িত হয়, তবে তোমরা তাদের সেবা-শুশ্রূষা করবে না। আর যদি তারা মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় শরীক হবে না।

* কাদেরীয়াদের মতবাদ এই যে, বান্দা নিজেই তার কাজের স্রষ্টা । তারা এ কারণে অগ্নি-উপাসকদের মত, যেহেতু তারা বলেঃ ভাল কাজের স্রষ্টা ‘ইয়াযদান' এবং খারাপ কাজের স্রষ্টা আহরমন'। কিন্তু আহলে -সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মত এই যে, আল্লাহ-ই সব কাজের স্রষ্টা ও নিয়ামক। যেমন তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের এবং তোমাদের সব কাজকে সৃষ্টি করেছেন। - অনুবাদক
৪৬১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُمَرَ، مَوْلَى غُفْرَةَ عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِكُلِّ أُمَّةٍ مَجُوسٌ وَمَجُوسُ هَذِهِ الأُمَّةِ الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ قَدَرَ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ فَلاَ تَشْهَدُوا جَنَازَتَهُ وَمَنْ مَرِضَ مِنْهُمْ فَلاَ تَعُودُوهُمْ وَهُمْ شِيعَةُ الدَّجَّالِ وَحَقٌّ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُلْحِقَهُمْ بِالدَّجَّالِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৬১৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে ’মাজুস’ আছে; আর আমার উম্মতের মধ্যে তারাই ’মাজুস’ যারা বলেঃ তাকদীর বলে কিছু নেই। তাদের কেউ মারা গেলে তোমরা তাদের জানাযায় শরীক হবে না। আর এদের কেউ যদি পীড়িত হয়, তবে তাদের সেবা-শুশ্রূষার জন্য যাবে না। কেননা এরা দাজ্জালের অনুসারী, আর আল্লাহ অবশ্যই তাদের দাজ্জালের সাথে মিলিত করবেন।

৪৬২০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، وَيَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، حَدَّثَاهُمْ قَالاَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَسَامَةُ بْنُ زُهَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ مِنْ قَبْضَةٍ قَبَضَهَا مِنْ جَمِيعِ الأَرْضِ فَجَاءَ بَنُو آدَمَ عَلَى قَدْرِ الأَرْضِ جَاءَ مِنْهُمُ الأَحْمَرُ وَالأَبْيَضُ وَالأَسْوَدُ وَبَيْنَ ذَلِكَ وَالسَّهْلُ وَالْحَزْنُ وَالْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ " . زَادَ فِي حَدِيثِ يَحْيَى " وَبَيْنَ ذَلِكَ " . وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ يَزِيدَ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪৬২০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম-(আলাইহিস সালাম)-কে এমন এক মুষ্টি মাটি দিয়ে তৈরী করেন, যা তিনি যমীনের সব অংশ থেকে নেন। আর এ কারণেই আদম সন্তান ঐ মাটির স্বভাব অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছ; যেমনঃ কেউ সাদা, কেউ লাল এবং কেউ কাল, আর কেউ এর মাঝামাঝি রংয়ের। আর এ জন্য তাদের কারো স্বভাব নরম, কারো কঠোর; আর কেউ খাবীছ (কাফির, মুশরিক) আবার কেউ পবিত্র স্বভাবের অর্থাৎ মুসলমান।

৪৬২১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ مَنْصُورَ بْنَ الْمُعْتَمِرِ، يُحَدِّثُ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَةٍ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِالْمِخْصَرَةِ فِي الأَرْضِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ إِلاَّ قَدْ كَتَبَ اللَّهُ مَكَانَهَا مِنَ النَّارِ أَوْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلاَّ قَدْ كُتِبَتْ شَقِيَّةً أَوْ سَعِيدَةً " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَفَلاَ نَمْكُثُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ لَيَكُونَنَّ إِلَى السَّعَادَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشِّقْوَةِ لَيَكُونَنَّ إِلَى الشِّقْوَةِ قَالَ " اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ أَمَّا أَهْلُ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِلسَّعَادَةِ وَأَمَّا أَهْلُ الشِّقْوَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِلشِّقْوَةِ " . ثُمَّ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ " ( فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * . فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৬২১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা এক ব্যক্তির জানাযার নামাযে শরীক ছিলাম, যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও ছিলেন- ’বাকীয়ে গারকাদ’ নামক স্থানে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে এসে বসেন এবং তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে মৃদুভাবে যমীনে আঘাত করতে থাকেন। এরপর তিনি মাথা উচুঁ করে বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির বা নফসের জন্য আল্লাহ তাআলা হয়তো জান্নাতে-নয়তো জাহান্নামে তার স্থান নির্ধারণ করেছেন; আর সে ব্যক্তি কি নেককার বা বদকার হবে, তা ও নির্ধারণ করেছেন।

তখন এক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে কি আমরা আমল পরিত্যাগ করে কেবল তাকদীরের উপর ভরসা করবো? কেননা, যে ব্যক্তি নেককার হওয়ার, সে তো তা হবেই, আর যে বদকার হওয়ার-সে তো তা হবেই। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আমল করতে থাক। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শক্তি প্রদান করা হয়। কাজেই নেককার ভাল কাজ করে এবং বদকার খারাপ কাজ করে।

এরপর নবী (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ আর যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহকে ভয় করে, তাওহীদের কালিমাকে স্বীকার করে, আমি তাকে তা সহজভাবে সম্পন্ন করার তাওফীক দেই। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কৃপণতা করে, নেক আমল করা হতে বিরত থাকে এবং তাওহীদকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য বদ-আমলকে সহজ করে দেই।
৪৬২২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ كَانَ أَوَّلَ مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْقَدَرِ بِالْبَصْرَةِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ فَقُلْنَا لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلاَءِ فِي الْقَدَرِ . فَوَفَّقَ اللَّهُ لَنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ دَاخِلاً فِي الْمَسْجِدِ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلاَمَ إِلَىَّ فَقُلْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَفَقَّرُونَ الْعِلْمَ يَزْعُمُونَ أَنْ لاَ قَدَرَ وَالأَمْرُ أُنُفٌ . فَقَالَ إِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْهُمْ وَهُمْ بُرَآءُ مِنِّي وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ أَنَّ لأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ نَعْرِفُهُ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلاَمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِسْلاَمُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً " . قَالَ صَدَقْتَ . قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ . قَالَ " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ " . قَالَ صَدَقْتَ . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ . قَالَ " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ " . قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا . قَالَ " أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ " . قَالَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬২২. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ..... ইয়াহয়া ইবনে ইয়ামার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বসরার অধিবাসী মা'বাদ জুহানী সর্ব প্রথম তাকদীরের সমালোচনা করেন। এ সময় আমি এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান হিময়ারী (রাহঃ) হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে বের হই। আমরা বলাবলি করিঃ যদি আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন সাহাবীর দেখা হয়, তবে আমরা তার সঙ্গে এ ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করবো, যারা তাকদীর সম্পর্কে এরূপ বলে। তখন আল্লাহর মেহেরবানীতে আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর দেখা পাই মসজিদে প্রবেশ করার সাথে-সাথেই।

আমি এবং আমার সাথী তাকে ঘিরে ধরি এবং আমি মনে করি আমার সাথী আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবে। তখন আমি তাকে বলিঃ হে আবু আব্দুর রহমান! আমাদের মাঝে এমন কিছু লোকের সৃষ্টি হয়েছে, যারা কুরআন পাঠ করে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বলেঃ তাকদীর বলে কিছুই নেই। সব কিছুই এমনিতেই হয়ে থাকে। এ কথা শুনে তিনি বলেনঃ যখন তাদের সাথে তোমাদের দেখা হবে, তখন তাদের বলবে, আমি তাদের উপর অসন্তুষ্ট এবং তারাও আমার উপর অসন্তুষ্ট। ঐ জাতের (আল্লাহর) কসম! যার কসম আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) করছে; যদি তাদের কারো কাছে উহুদ পরিমাণ সোনা থাকে এবং তারা তা (আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, তবু ও আল্লাহ ততক্ষণ তা কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে।

এরপর তিনি বলেনঃ আমার কাছে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বসা ছিলাম। সে সময় সেখানে সাদা পোশাক পরিহিত, কাল চুল বিশিষ্ট একজন আসে, যার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না এবং তাঁর দুই জানু নবী (ﷺ)-এর জানুদ্বয়ের নিকট রেখে, স্বীয় দু’হাত নবী (ﷺ)-এর জানুর উপর রেখে জিজ্ঞাসা করেঃ হে মুহাম্মাদ! ইসলাম কি, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ ইসলাম হলো-এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর রাসূল। তুমি নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং রমযানের রোযা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘর যিয়ারত (হজ্জ) করবে। তখন সে বলেঃ আপনি সত্য বলেছেন।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তার এরূপ উক্তিতে আমরা বিস্মিত হই এ জন্য যে, সে নিজে প্রশ্ন করছে এবং নিজেই তা সত্যায়িত করছে! এরপর সে জিজ্ঞাসা করেঃ ঈমান কি? নবী (ﷺ) বলেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, ফিরিশতা, কিতাব, রাসূল এবং কিয়ামতের দিনের উপর দৃঢ়-বিশ্বাস রাখবে, আর এও ইয়াকীন রাখবে যে, তাকদীরের ভাল-মন্দ সবই আল্লাহর তরফ থেকে হয়। এ কথা শুনে সে বলেঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ আমাকে ইহসান সম্পর্কে কিছু বলুন। জবাবে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর ইবাদত এভাবে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছো। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে এরূপ মনে করবে যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।

এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ কিয়ামত কবে হবে? তিনি বলেনঃ এ সম্পর্কে যাকে জিজ্ঞাসা করে হয়েছে, সে প্রশ্নকারী থেকে অধিক অবহিত নয়। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ তাহলে এর আলামত সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ দাসী তার মনিবের জন্ম দেবে (অর্থাৎ সন্তান তার মায়ের নাফরমানী করবে); আর তুমি দেখবে যে, খালি পা ও খালি গায়ের অধিকারী মুখাপেক্ষী রাখাল সম্প্রদায়ের লোকেরা উঁচু-উঁচু প্রাসাদ তৈরী করে গর্ব প্রকাশ করবে। রাবী বলেনঃ পরে সে ব্যক্তি চলে গেলে, আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করি। তিনি বলেনঃ হে উমর! তুমি কি জান, এ প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে? আমি বলিঃ আল্লাহ এবং তাঁর এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ ইনি হলেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম), যিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার জন্যে।
৪৬২৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، وَحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ لَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَذَكَرْنَا لَهُ الْقَدَرَ وَمَا يَقُولُونَ فِيهِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ زَادَ قَالَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ مُزَيْنَةَ أَوْ جُهَيْنَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَا نَعْمَلُ أَفِي شَىْءٍ قَدْ خَلاَ أَوْ مَضَى أَوْ شَىْءٍ يُسْتَأْنَفُ الآنَ قَالَ " فِي شَىْءٍ قَدْ خَلاَ وَمَضَى " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَوْ بَعْضُ الْقَوْمِ فَفِيمَ الْعَمَلُ قَالَ " إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ أَهْلَ النَّارِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৪৬২৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইয়াহয়া ইবনে ইয়া’মার ও হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একদা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর সাথে দেখা করি, তাকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, মুযায়না বা জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কিরূপ খেয়াল করে আমল করবো-তাকদীরে যা ছিল হয়ে গেছে না আরো কিছু হবে? তিনি বলেনঃ তোমরা এরূপ খেয়াল করে আমল করবে যে, তোমাদের তাকদীরে যা আছে, তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। তখন জনৈক ব্যক্তি বলেঃ তা হলে আর আমলের প্রয়োজন কী? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের অধিবাসীদের জান্নাতের অনুরূপ কাজের সামর্থ প্রদান করা হয় এবং জাহান্নামীদের দোজখের কাজের।

৪৬২৪

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنِ ابْنِ يَعْمَرَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ فَمَا الإِسْلاَمُ قَالَ " إِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَحَجُّ الْبَيْتِ وَصَوْمُ شَهْرِ رَمَضَانَ وَالاِغْتِسَالُ مِنَ الْجَنَابَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَلْقَمَةُ مُرْجِئٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬২৪. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনু্রূপ বর্ণিত হয়েছে। এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে, ইসলাম কি? তিনি বলেনঃ নামায কায়েম করা, যাকাত দেয়া, আল্লাহর ঘরে হজ্জ আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা এবং হতে পবিত্রতা হাসিলের জন্য গোসল করা-এ হলো ইসলাম।

৪৬২৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْلِسُ بَيْنَ ظَهْرَىْ أَصْحَابِهِ فَيَجِيءُ الْغَرِيبُ فَلاَ يَدْرِي أَيُّهُمْ هُوَ حَتَّى يَسْأَلَ فَطَلَبْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَجْعَلَ لَهُ مَجْلِسًا يَعْرِفُهُ الْغَرِيبُ إِذَا أَتَاهُ - قَالَ - فَبَنَيْنَا لَهُ دُكَّانًا مِنْ طِينٍ فَجَلَسَ عَلَيْهِ وَكُنَّا نَجْلِسُ بِجَنْبَتَيْهِ وَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الْخَبَرِ فَأَقْبَلَ رَجُلٌ فَذَكَرَ هَيْئَتَهُ حَتَّى سَلَّمَ مِنْ طَرْفِ السِّمَاطِ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ . قَالَ فَرَدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৬২৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু যর এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের সাথে বসতেন, তখন কোন অচেনা লোক সেখানে আসলে, জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত নবী (ﷺ)-কে চিনতে পারতো না। এ জন্য আমরা মনে করি, তাঁর বসার জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্ধারিত করা দরকার, যাতে অচেনা লোক সহজেই তাঁকে চিনতে পারে। এরপর আমরা নবী (ﷺ)-এর জন্য একটি চত্বর তৈরী করি, যেখানে তিনি বসতেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসতাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি আসে-যার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে মজলিসের এক পাশ হতে সালাম দিয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রতি সালাম। তখন নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব দেন।

৪৬২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ خَالِدٍ الْحِمْصِيِّ، عَنِ ابْنِ الدَّيْلَمِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ فَقُلْتُ لَهُ وَقَعَ فِي نَفْسِي شَىْءٌ مِنَ الْقَدَرِ فَحَدِّثْنِي بِشَىْءٍ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُذْهِبَهُ مِنْ قَلْبِي . فَقَالَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَوَاتِهِ وَأَهْلَ أَرْضِهِ عَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ وَلَوْ رَحِمَهُمْ كَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ وَلَوْ أَنْفَقْتَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ وَتَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ وَأَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ وَلَوْ مُتَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا لَدَخَلْتَ النَّارَ . قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ - قَالَ - ثُمَّ أَتَيْتُ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ - قَالَ - ثُمَّ أَتَيْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَحَدَّثَنِي عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪৬২৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে দায়লামী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; একদা আমি উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ আমার অন্তরে তাকদীরের ব্যাপারে কিছু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, আপনি সে সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন, যাতে আল্লাহ আমার অন্তর থেকে তা দূর করে দেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ যদি আসমান ও যমীনের সব মাখলূককে আযাব দেন, তবে এজন্য তাঁকে জালিম বলা যাবে না। আর যদি তিনি সকলের উপর রহম করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের জন্য, তাদের আমলের চাইতে উত্তম।

আর যদি তুমি আল্লাহর রাস্তায় উহুদ পরিমাণ সোনা ব্যয় কর, তবে আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ তা কবুল করবেন না, যতক্ষণ না তুমি তাকদীরের উপর ঈমান আনবে। আর তুমি বিশেষভাবে মনে রাখবে যে, তোমার যা পাওনা ছিল, তা অবশ্যই পেয়েছ; আর তুমি যা পাওয়ার নও-তা কখনো পাবে না। আর যদি তুমি এরূপ বিশ্বাস ব্যতীত-অন্য বিশ্বাসের উপর মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

রাবী বলেনঃ এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর কাছে আসলে, তিনি বলেনঃ তারপর আমি হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ)-এর কাছে গেলে, তিনিও অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাবী বলেনঃ পরে আমি যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-এর কাছে গেলে, তিনি নবী করীম (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
৪৬২৭

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ الْهُذَلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ رَبَاحٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ أَبِي حَفْصَةَ، قَالَ قَالَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ لاِبْنِهِ يَا بُنَىَّ إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَعْمَ حَقِيقَةِ الإِيمَانِ حَتَّى تَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ فَقَالَ لَهُ اكْتُبْ . قَالَ رَبِّ وَمَاذَا أَكْتُبُ قَالَ اكْتُبْ مَقَادِيرَ كُلِّ شَىْءٍ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " . يَا بُنَىَّ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ مَاتَ عَلَى غَيْرِ هَذَا فَلَيْسَ مِنِّي " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৪৬২৭. জা’ফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) ...... আবু হাফস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উবাদা ইবনে ছামিত (রাযিঃ) তার পুত্রকে বলেনঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি ততক্ষণ ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না তুমি অনুধাবন কর যে, তুমি যা পেয়েছ, তা কিছুতেই ফেলতে পারতে না; আর তুমি যা পাওনি, তা অবশ্যই তুমি পাবে না। এরপর তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ সর্ব প্রথম কলম তৈরী করেন। এরপর তিনি কলমকে বলেনঃ লিখ। কলম বলেঃ হে আমার প্রতিপালক, আমি কি লিখব? তখন আল্লাহ বলেনঃ তুমি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্ট সমস্ত জীবের তাকদীর লিখ। হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস ব্যতীত মারা যাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

৪৬২৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، - الْمَعْنَى - قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ طَاوُسًا، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُخْبِرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ مُوسَى يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُونَا خَيَّبْتَنَا وَأَخْرَجْتَنَا مِنَ الْجَنَّةِ . فَقَالَ آدَمُ أَنْتَ مُوسَى اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِكَلاَمِهِ وَخَطَّ لَكَ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ تَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدَّرَهُ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سَنَةً فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ طَاوُسٍ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬২৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ একদা আদম (আলাইহিস সালাম) ও মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে (রূহের জগতে)-বাদানুবাদ হয়। মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ হে আদম! আপনি আমাদের পিতা আপনি আমাদের বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করেছেন। তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ তুমি তো মুসা! তোমাকে আল্লাহ তাঁর কালাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন; আর তিনি তোমার জন্য তাওরাত স্বহস্তে লিখেছেন। তুমি আমাকে অভিযুক্ত করছো এমন বিষয়ের জন্য, যা আল্লাহ তাআলা আমার তাকদীরে, আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগে নির্ধারিত করেন। সুতরাং এ তর্কে আদম (আলাইহিস সালাম) মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপর বিজয়ী হন।

৪৬২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مُوسَى قَالَ يَا رَبِّ أَرِنَا آدَمَ الَّذِي أَخْرَجَنَا وَنَفْسَهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَأَرَاهُ اللَّهُ آدَمَ فَقَالَ أَنْتَ أَبُونَا آدَمُ فَقَالَ لَهُ آدَمُ نَعَمْ . قَالَ أَنْتَ الَّذِي نَفَخَ اللَّهُ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَعَلَّمَكَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا وَأَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَمَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ أَخْرَجْتَنَا وَنَفْسَكَ مِنَ الْجَنَّةِ فَقَالَ لَهُ آدَمُ وَمَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا مُوسَى . قَالَ أَنْتَ نَبِيُّ بَنِي إِسْرَائِيلَ الَّذِي كَلَّمَكَ اللَّهُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ لَمْ يَجْعَلْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ رَسُولاً مِنْ خَلْقِهِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ أَفَمَا وَجَدْتَ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ فِي كِتَابِ اللَّهِ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَفِيمَ تَلُومُنِي فِي شَىْءٍ سَبَقَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى فِيهِ الْقَضَاءُ قَبْلِي " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৬২৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা মুসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহকে বলেনঃ হে আমার রব! আপনি আমাকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাত করান, যিনি নিজে জান্নাত থেকে বের হয়েছেন এবং আমাদেরও বের করেছেন। তখন আল্লাহ তাকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাত করান। মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ আপনি কি আমাদের পিতা আদম (আলাইহিস সালাম) নন? আদম (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ হ্যাঁ। মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ আপনি তো সেই আদম, যার মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট সমস্ত রূহ ফুঁকে দিয়েছিলেন, আর তিনি সব কিছুর নাম আপনাকে শিখিয়েছিলেন; আর আল্লাহর নির্দেশে ফিরিশতারা আপনাকে সিজদা করেছিল? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

তখন মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ বলুন তো, কি কারণে আপনি নিজে জান্নাত থেকে বের হলেন এবং আমাদের ও বের করলেন? আদম (আলাইহিস সালাম) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কে? তিনি বলেনঃ আমি মুসা। আদম (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ তুমি তো বনু ইসরাঈলের সেই নবী, আল্লাহ তো তোমার সাথে কোন রাসূল (ফিরিশতা) ব্যতীত পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ হ্যাঁ। তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ তুমি কি অবগত নও যে, আমি যা কিছু করেছি তা আমার জন্মের আগেই কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল? মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ হ্যাঁ। তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ তবে কেন তুমি এমন একটা বিষয়ের জন্য অভিযুক্ত করেছো, যে ব্যাপারে মহান আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই ফায়সালা দিয়েছেন? এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ তর্কযুদ্ধে আদম (আলাইহিস সালাম) মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপর বিজয়ী হন।
৪৬৩০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، أَنَّ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، أَخْبَرَهُ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سُئِلَ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ( وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ) قَالَ قَرَأَ الْقَعْنَبِيُّ الآيَةَ . فَقَالَ عُمَرُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ آدَمَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ بِيَمِينِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلاَءِ لِلْجَنَّةِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلاَءِ لِلنَّارِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفِيمَ الْعَمَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُدْخِلَهُ بِهِ الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخِلَهُ بِهِ النَّارَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৬৩০. আব্দুল্লাহ কা’নবী (রাহঃ) .... মুসলিম ইবনে জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি উমর ইবনে খাওাব (রাযিঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনঃ

إِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ

অর্থাৎ স্মরণ কর! তোমার রব আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারুক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেঃ নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষী থাকলাম। (৭ঃ১৭২)

রাবী বলেনঃ কা’নবী এ আয়াত তিলাওয়াত করলে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনি। জবাবে তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করার পর, তার পিঠকে স্বীয় ডান হাত দিয়ে মাসাহ করেন। ফলে অনেক আদম সন্তান সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমি এদের জান্নাতে জন্য সৃষ্টি করেছি। এরা জান্নাতীদের ন্যায় আমল করবে। এরপর আল্লাহ তার হাত দিয়ে আদমের পিঠকে মাসাহ করেন। ফলে তার আরো সন্তান সৃষ্টি হয়। তিনি বলেনঃ আমি এদের জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তারা জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করবে।

তখন এক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমলের প্রয়োজনীয়তা কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকে দিয়ে জান্নাতীদের আমল করিয়ে নেন। ফলে, সে ব্যক্তি জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে করতে মারা যায়। যদ্দরুন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকে দিয়ে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করান। ফলে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করতে করতে মারা যায়। যদ্দরুন আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।
৪৬৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ جُعْثُمَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَحَدِيثُ مَالِكٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৬৩১. মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফফা (রাহঃ) .... নু’আয়ম ইবনে রাবী’আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর কাছে ছিলাম। এরপর তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন। রাবী মালিক (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ।

৪৬৩২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَقَبَةَ بْنِ مَصْقَلَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْغُلاَمُ الَّذِي قَتَلَهُ الْخَضِرُ طُبِعَ كَافِرًا وَلَوْ عَاشَ لأَرْهَقَ أَبَوَيْهِ طُغْيَانًا وَكُفْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪৬৩২. কা’নবী (রাহঃ) ...... উবাই্যা ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খিযির (আলাইহিস সালাম) যে বালকটিকে হত্যা করেছিল, সে ছিল স্বভাবজাত কাফির। যদি সে জীবিত থাকতো, তবে সে তার মাতা-পিতার নাফরমানী করতো এবং তাদের কষ্ট দিত।

৪৬৩৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي قَوْلِهِ ( وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ ) " وَكَانَ طُبِعَ يَوْمَ طُبِعَ كَافِرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪৬৩৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... উবাই্যা ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ ঐ বালকটি (যাকে খিযির (আলাইহিস সালাম) হত্যা করেন), তার মাতা-পিতা মু’মিন ছিল। যে দিন সে পয়দা হয়, সে দিন সে কাফির অবস্থায় পয়দা হয়।

৪৬৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْصَرَ الْخَضِرُ غُلاَمًا يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَتَنَاوَلَ رَأْسَهُ فَقَلَعَهُ فَقَالَ مُوسَى ( أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً ) " . الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪৬৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান (রাহঃ) .... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খিযির (আলাইহিস সালাম) একটি বালককে কয়েকটি বালকের সাথে খেলতে দেখেন। তিনি তার ঘাড় মটকিয়ে দেন, (ফলে সে মারা যায়)। তখন মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি একটি নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করলেন?

৪৬৩৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ سُفْيَانَ - عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ " إِنَّ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجْمَعُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يُبْعَثُ إِلَيْهِ مَلَكٌ فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ فَيُكْتَبُ رِزْقُهُ وَأَجَلُهُ وَعَمَلُهُ ثُمَّ يُكْتَبُ شَقِيٌّ أَوْ سَعِيدٌ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ الرُّوحُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلاَّ ذِرَاعٌ أَوْ قِيدُ ذِرَاعٍ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلاَّ ذِرَاعٌ أَوْ قِيدُ ذِرَاعٍ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৬৩৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সত্যবাদী নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের কাউকে যখন সৃষ্টি করা হয়, তখন তাকে তার মায়ের গর্ভে বীর্যাকারে চল্লিশ দিন রাখা হয়, পরে তা রক্ত-পিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর তা গোশত-পিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর মহান আল্লাহ একজন ফিরিশতাকে তার কাছে পাঠান চারটি হুকুম সহ। সে ফিরিশতা তার রিযিক, তার হায়াত, তার আমল এবং সে নেক-বখত না বদ-বখত- তা লিপিবদ্ধ করে। এরপর সে জড় দেহে রূহ ফুঁকে দেয়া।

অনেক সময় তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে থাকে, এমন কি সে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝে কেবলমাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। এ সময় তার তাকদীর-তার উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল শুরু করে। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। পক্ষান্তরে অনেক সময় তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত আমল করতে থাকে, এমন কি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। এরপর তার তাকদীর- তার উপর প্রভাব বিস্তার করায় সে জান্নাতীদের ন্যায় আমল শুরু করে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।
৪৬৩৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعُلِمَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَفِيمَ يَعْمَلُ الْعَامِلُونَ قَالَ " كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৬৩৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর জ্ঞানে কি জান্নাতী ও জাহান্নামীরা আগে থেকেই পরিচিত? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ তাহলে আমলকারীরা কোন আশায় আমল করবে? নবী (ﷺ) বলেনঃ আমল কর, যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেয়া হয়।

৪৬৩৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ شَرِيكٍ الْهُذَلِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ تُجَالِسُوا أَهْلَ الْقَدَرِ وَلاَ تُفَاتِحُوهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহঃ) .... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা তাকদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করো না এবং তোমাদেরকে সম্বোধন করার আগে তাদেরকে সম্বোধন করো না।

১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।

باب فِي ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِينَ

৪৬৩৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ أَوْلاَدِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৬৩৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ)-কে মুশরিকদের মৃত শিশু-সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেনঃ তারা বড় হয়ে যে আমল করতো, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুবই অবহিত। (তাই তিনি তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দেবেন।)

৪৬৩৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، وَكَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَذْحِجِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَرَارِيُّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَ " هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِلاَ عَمَلٍ قَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَرَارِيُّ الْمُشْرِكِينَ قَالَ " مِنْ آبَائِهِمْ " . قُلْتُ بِلاَ عَمَلٍ قَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৬৩৮. আব্দুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মু’মিন ব্যক্তিদের মৃত শিশু-সন্তানদের অবস্থা কী হবে? তিনি বলেনঃ সে তার মাতা-পিতার সাথী হবে। আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমল করা ছাড়াই তাদের এ অবস্থা হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যা সে (বড় হয়ে) করতো। আমি আবার জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুশরিকদের মৃত শিশু-সন্তানের অবস্থা কী হবে? তিনি বলেনঃ তারাও তাদের মাতা-পিতার সাথী হবে। আমি বলিঃ আমল ব্যতীতই এরূপ হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যা সে (বড় হয়ে) করতো।

৪৬৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ مِنَ الأَنْصَارِ يُصَلِّي عَلَيْهِ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ طُوبَى لِهَذَا لَمْ يَعْمَلْ شَرًّا وَلَمْ يَدْرِ بِهِ . فَقَالَ " أَوَغَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْجَنَّةَ وَخَلَقَ لَهَا أَهْلاً وَخَلَقَهَا لَهُمْ وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ وَخَلَقَ النَّارَ وَخَلَقَ لَهَا أَهْلاً وَخَلَقَهَا لَهُمْ وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৬৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট একজন আনসার বালকের লাশ আনা যায়, তার জানাযার নামায পড়ানোর জন্য। তিনি বলেনঃ তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ বালকের জন্য খোশ-খবর, যে কোন গুনাহ-ই করেনি, আর গুনাহ কি, তা-ও সে জানেনা।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি যা বুঝেছ, আসল ব্যাপার তা নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, মহান আল্লাহ জান্নাত তৈরী করেছেন এবং তার জন্য কিছু লোকও তখন সৃষ্টি করেছেন, যখন তারা তাদের মাতা-পিতার ঔরসে ছিল। আর মহান আল্লাহ জাহান্নামও তৈরী করেছেন এবং তার জন্য কিছু লোকও তখন পয়দা করেছেন, যখন তারা তাদের মাতা-পিতার ঔরসে ছিল।
৪৬৪০
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ كَمَا تَنَاتَجُ الإِبِلُ مِنْ بَهِيمَةٍ جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّ مِنْ جَدْعَاءَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ مَنْ يَمُوتُ وَهُوَ صَغِيرٌ قَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَخْبَرَكَ يُوسُفُ بْنُ عَمْرٍو، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا، قِيلَ لَهُ إِنَّ أَهْلَ الأَهْوَاءِ يَحْتَجُّونَ عَلَيْنَا بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ مَالِكٌ احْتَجَّ عَلَيْهِمْ بِآخِرِهِ . قَالُوا أَرَأَيْتَ مَنْ يَمُوتُ وَهُوَ صَغِيرٌ قَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৪০. কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মানব শিশু ফিতরাতের (স্বভাব ধর্ম ইসলামের) উপর জন্মগ্রহণ করে। পরে তার মাতা-পিতার প্রভাবে সে ইয়াহুদী এবং নাসারা হয়। যেমন, কোন উটের বাচ্চা যখন প্রসব হয়, তখন তার কান কাটা থাকে না। তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার কি অবস্থা হবে, যে শিশুকালে মারা যায়? তিনি বলেনঃ আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত, যা তারা বড় হয়ে করতো। (কাজেই তাদের ব্যাপারে সেরূপ ফায়সালা হবে)।

৪৬৪১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ سَمِعْتُ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ، يُفَسِّرُ حَدِيثَ " كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ " . قَالَ هَذَا عِنْدَنَا حَيْثُ أَخَذَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْعَهْدَ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ حَيْثُ قَالَ ( أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৪১. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাযিঃ)-কে ″প্রত্যেক মানব শিশু ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে″ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনিঃ যখন আল্লাহ তাদের থেকে, তার মাতা-পিতার ঔরসে থাকাবস্থায় অঙ্গীকার গ্রহণ করেন, তখন তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিলঃ হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদের রব।

৪৬৪২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَائِدَةُ وَالْمَوْءُودَةُ فِي النَّارِ " . قَالَ يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا قَالَ أَبِي فَحَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ أَنَّ عَامِرًا حَدَّثَهُ بِذَلِكَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৬৪২. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জীবন্ত প্রথিত কন্যা এবং তার মা- উভয়ই জাহান্নামী।

৪৬৪৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ أَبِي قَالَ " أَبُوكَ فِي النَّارِ " . فَلَمَّا قَفَّى قَالَ " إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৪৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা কোথায়? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। যখন সে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বলেনঃ আমার ও তোমার পিতা জাহান্নামে।*

* নবী (ﷺ) সে ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এরূপ বলেন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আখিরাতে নিজের ব্যতীত অন্যের কোন আমল উপকারে আসবে না এবং কাফিরদেরকে কেউই আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে না। অবশ্য কোন কোন আলিমদের অভিমত এই যে, নবী করীম (ﷺ)-এর পিতা-মাতা শিরক হতে মুক্ত ছিলেন। সে জন্য তারা নাজাতপ্রাপ্ত হবেন। কোন কোন আলিম এ সম্পর্কে কোনরূপ মন্তব্য করা থেকে চুপ থাকাকে ভাল মনে করেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ-ই ভাল জানেন। - অনুবাদক
৪৬৪৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৪৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শয়তান মানব শরীরে রক্তের মত প্রবাহিত হয়।

৪৬৪৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ شَرِيكٍ الْهُذَلِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُجَالِسُوا أَهْلَ الْقَدَرِ وَلاَ تُفَاتِحُوهُمُ الْحَدِيثَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৬৪৫. আহমদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ....... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাদরীয়া সম্প্রদায়ের সাথে উঠা-বসা করবে না এবং তাদের সাথে প্রথমে কথা-বার্তা বলবে না।

১৯. জাহমীয়া সম্প্রদায় সস্পর্কে।

باب فِي الْجَهْمِيَّةِ

৪৬৪৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يُقَالَ هَذَا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ آمَنْتُ بِاللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৪৬. হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা পরস্পর এরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকবে যে, এ সৃষ্টি জগৎ তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু মহান আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন। আর যার অন্তরে এরূপ সন্দেহ সৃষ্টি হবে, সে যেন বলেঃ আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।

৪৬৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - قَالَ حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ مُسْلِمٍ، مَوْلَى بَنِي تَيْمٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ " فَإِذَا قَالُوا ذَلِكَ فَقُولُوا ( اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ ) ثُمَّ لْيَتْفُلْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاَثًا وَلْيَسْتَعِذْ مِنَ الشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি। এরপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেনঃ লোকেরা যখন এরূপ বলবে তখন তোমরা বলবেঃ আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
৪৬৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ كُنْتُ فِي الْبَطْحَاءِ فِي عِصَابَةٍ فِيهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّتْ بِهِمْ سَحَابَةٌ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ " مَا تُسَمُّونَ هَذِهِ " . قَالُوا السَّحَابَ . قَالَ " وَالْمُزْنَ " . قَالُوا وَالْمُزْنَ . قَالَ " وَالْعَنَانَ " . قَالُوا وَالْعَنَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ أُتْقِنِ الْعَنَانَ جَيِّدًا قَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مَا بُعْدُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . قَالُوا لاَ نَدْرِي . قَالَ " إِنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَهُمَا إِمَّا وَاحِدَةٌ أَوِ اثْنَتَانِ أَوْ ثَلاَثٌ وَسَبْعُونَ سَنَةً ثُمَّ السَّمَاءُ فَوْقَهَا كَذَلِكَ " . حَتَّى عَدَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ " ثُمَّ فَوْقَ السَّابِعَةِ بَحْرٌ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاَهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ بَيْنَ أَظْلاَفِهِمْ وَرُكَبِهِمْ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ عَلَى ظُهُورِهِمُ الْعَرْشُ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاَهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَوْقَ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

৪৬৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ..... আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ’বাতহা’ নামকস্থানে একদল লোকের সাথে বসেছিলাম, যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এক মেঘ টুকরা ভেসে গেলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা একে কি নামে অভিহিত কর? তারা বলেনঃ ’সাহাব’ বা মেঘখণ্ড। তিনি বলেনঃ মুযন নয় কি? তারা বলেনঃ আমরা মুযনও বলি। এরপর জিজ্ঞাসা করেনঃ আনান নয় কি? তারা বলেনঃ আমরা আনানও বলি।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আনান সম্পর্কিত বর্ণনাটি তেমন জোরাল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আসমান ও যমীনের মাঝে দূরত্ব কতটুকু? তারা বলেনঃ আমরা জানি না। তখন তিনি বলেনঃ এর দূরত্ব হলো একাত্তর, বাহাত্তর বা তিয়াত্তর বছরের রাস্তার সমান। এর সমান দূরত্বে দ্বিতীয় আসমান অবস্থিত। আর এভাবে তিনি সাত আসমানের দূরত্বের বর্ণনা দেন।

এরপর তিনি বলেনঃ সাত আসমানের উপর একটা সমুদ্র আছে, যার উপর ও নীচের দূরত্ব হলো, এক আসমান থেকে অপর আসমানের সমান। এর উপর আটটি বকরি আছে, যাদের পায়ের খুর ও কাধের দূরত্ব হলো এক আসমান থেকে অপর আসমানের সমান। এদের পিঠের উপর আল্লাহ তাআলার আরশ অবস্থিত, যার উপর ও নীচের দূরত্ব হলো, এক আসমান থেকে অপর আসমান পর্যন্ত। এর উপরে রয়েছেন মহান আল্লাহ।
৪৬৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سِمَاكٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৪৬৪৯. আমহদ ইবনে আবু শুরায়হ (রাহঃ) ..... সিমাক (রাহঃ) থেকে এরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৪৬৫০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ الطَّوِيلِ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৪৬৫০. আমহদ ইবনে আবু হাফস (রাহঃ) .... সিমাক (রাহঃ) থেকে এরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৪৬৫১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الرِّبَاطِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، - قَالَ أَحْمَدُ كَتَبْنَاهُ مِنْ نُسْخَتِهِ وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ يُحَدِّثُ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ جُهِدَتِ الأَنْفُسُ وَضَاعَتِ الْعِيَالُ وَنُهِكَتِ الأَمْوَالُ وَهَلَكَتِ الأَنْعَامُ فَاسْتَسْقِ اللَّهَ لَنَا فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى اللَّهِ وَنَسْتَشْفِعُ بِاللَّهِ عَلَيْكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَيْحَكَ أَتَدْرِي مَا تَقُولُ " وَسَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ ثُمَّ قَالَ " وَيْحَكَ إِنَّهُ لاَ يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ مِنْ خَلْقِهِ شَأْنُ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَيْحَكَ أَتَدْرِي مَا اللَّهُ إِنَّ عَرْشَهُ عَلَى سَمَوَاتِهِ لَهَكَذَا " . وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ مِثْلَ الْقُبَّةِ عَلَيْهِ " وَإِنَّهُ لَيَئِطُّ بِهِ أَطِيطَ الرَّحْلِ بِالرَّاكِبِ " . قَالَ ابْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِ " إِنَّ اللَّهَ فَوْقَ عَرْشِهِ وَعَرْشُهُ فَوْقَ سَمَوَاتِهِ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ عَبْدُ الأَعْلَى وَابْنُ الْمُثَنَّى وَابْنُ بَشَّارٍ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالْحَدِيثُ بِإِسْنَادِ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدٍ هُوَ الصَّحِيحُ وَافَقَهُ عَلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَعَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَرَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ كَمَا قَالَ أَحْمَدُ أَيْضًا وَكَانَ سَمَاعُ عَبْدِ الأَعْلَى وَابْنِ الْمُثَنَّى وَابْنِ بَشَّارٍ مِنْ نُسْخَةٍ وَاحِدَةٍ فِيمَا بَلَغَنِي .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৪৬৫১. আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ..... জু্বায়র ইবনে মুত’ঈম (রাযিঃ) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গ্রাম্য একটা লোক এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুর্ভিক্ষের কারণে লোকেরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, পরিবার-পরিজন বরবাদ হচ্ছে, ধন-সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং পশু মারা যাচ্ছে। আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে জন্য দুআ করুন। আমরা আপনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে চাই এবং আপনার সামনেও আমরা আল্লাহর সুপারিশ পেশ করছি।

একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আহমক, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি জান তুমি কী বলছো? এরপর তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করেন এবং অনেকক্ষণ তাসবীহ পাঠে রত থাকেন। এমনকি তাঁর সাহাবীদের চেহারায় সে ব্যক্তির কথার প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে থাকে। এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ ওহে মূর্খ! আল্লাহ তাআলার কোন মাখলুকের সামনে তাঁর সুপারিশ করা যায় না। আল্লাহর মর্যাদা এ থেকে অনেক বড়। হে অজ্ঞ ব্যক্তি! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি আল্লাহর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কিছু জান? মহান আল্লাহর আরশ তাঁর আসমানের উপর এরূপ। এ বলে তিনি তাঁর আঙ্গুলসমূহে গম্বুজের মত করে ইশারা করেন। এতদসত্ত্বেও আসমান তাঁর মর্যাদার কারণে এমন চির-চির শব্দ করে, যেমন আরোহীর নীচে তার পালানোর শব্দ হয়।

রাবী ইবনে বিশশার (রাহঃ) তার বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর এবং তাঁর আরশ তাঁর সৃষ্ট আসমানের উপর।
৪৬৫২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُذِنَ لِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ مَلَكٍ مِنْ مَلاَئِكَةِ اللَّهِ مِنْ حَمَلَةِ الْعَرْشِ إِنَّ مَا بَيْنَ شَحْمَةِ أُذُنِهِ إِلَى عَاتِقِهِ مَسِيرَةُ سَبْعِمِائَةِ عَامٍ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৬৫২. আহমদ ইবনে হাফস (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে আরশবাহী একজন ফিরিশতা সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তা এরূপঃ তার কানের নীচের অংশ থেকে কাঁধের দূরত্ব হলো, সাতশো বছরের রাস্তা!

৪৬৫৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، - يَعْنِي ابْنَ عِمْرَانَ - حَدَّثَنِي أَبُو يُونُسَ، سُلَيْمُ بْنُ جُبَيْرٍ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقْرَأُ هَذِهِ الآيَةَ ( إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا ) إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى ( سَمِيعًا بَصِيرًا ) قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ إِبْهَامَهُ عَلَى أُذُنِهِ وَالَّتِي تَلِيهَا عَلَى عَيْنِهِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ . رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا وَيَضَعُ إِصْبَعَيْهِ قَالَ ابْنُ يُونُسَ قَالَ الْمُقْرِئُ يَعْنِي ( إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ) يَعْنِي أَنَّ لِلَّهِ سَمْعًا وَبَصَرًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا رَدٌّ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৫৩. আলী ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি এ আয়াত পড়তে থাকেন এবং বলতে থাকেনঃ আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতের মাল তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে .... কেননা, তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু দেখেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মধ্যম আঙ্গুল কানের উপর এবং শাহাদাত আঙ্গুল চোখের উপর রাখেন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এ আয়াত পাঠ করতেনঃ তখন তিনি তাঁর আঙ্গুল কানে ও চোখে রাখতেন। মাকরী (রাহঃ) বলেনঃ এ বক্তব্যটি জাহমীয়া সম্প্রদায়ের মতবাদ খণ্ডনকারী। (কেননা, তারা ’আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শনের’ অর্থ নেয়- তাঁর জ্ঞান দিয়ে।)

২০. মহান আল্লাহর দীদার সম্পর্কে।

باب فِي الرُّؤْيَةِ

৪৬৫৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَوَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُلُوسًا فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْلَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ فَقَالَ " إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا " . ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ ( فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا )

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৪৬৫৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বসেছিলাম। এ সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেনঃ অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে, যেরূপ তোমরা এ চাঁদকে দেখছো। তোমাদের রবের দর্শনে তোমাদের কোন কষ্ট হবে না। কাজেই, যদি তোমাদের জন্য সম্ভব হয়, তবে তোমরা সূর্য উঠার আগের এবং সুর্য ডুবার আগের নামায (ফজর ও আসর) যথাযথভাবে আদায় করবে। এরপর নবী (ﷺ) এ আয়াত পাঠ করেনঃ পবিত্রতা বর্ণনা কর তোমার রবের, সূর্য উঠার আগে এবং সূর্য ডুবার আগে।

৪৬৫৫

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ نَاسٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ " هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ فِي الظَّهِيرَةِ لَيْسَتْ فِي سَحَابَةٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ فِي سَحَابَةٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ إِلاَّ كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৫৫. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের মহান রবকে কিয়ামতের দিন দেখতে পাব? তিনি বলেনঃ যখন আকাশে কোন মেঘ থাকে না, তখন দুপুরের সূর্য দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? তারা বলেনঃ না এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ পূর্ণিমার রাতে আকাশে যখন কোন মেঘ থাকে না, তখন ঐ চাঁদকে দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? তারা বলেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, তাঁর শপথ! সূর্য ও চাঁদ দেখতে তোমাদের যেমন অসুবিধা হয় না, এরূপ মহান আল্লাহর দর্শনে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না।

৪৬৫৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، - الْمَعْنَى - عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ مُوسَى - ابْنُ عُدُسٍ عَنْ أَبِي رَزِينٍ، - قَالَ مُوسَى الْعُقَيْلِيُّ - قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكُلُّنَا يَرَى رَبَّهُ قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ مُخْلِيًا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَا آيَةُ ذَلِكَ فِي خَلْقِهِ قَالَ " يَا أَبَا رَزِينٍ أَلَيْسَ كُلُّكُمْ يَرَى الْقَمَرَ " . قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ " لَيْلَةَ الْبَدْرِ مُخْلِيًا بِهِ " . ثُمَّ اتَّفَقَا قُلْتُ بَلَى . قَالَ " فَاللَّهُ أَعْظَمُ " . قَالَ ابْنُ مُعَاذٍ قَالَ " فَإِنَّمَا هُوَ خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ فَاللَّهُ أَجَلُّ وَأَعْظَمُ " .

বর্ণনাকারী: আবু রাযীন (রহঃ)

৪৬৫৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু রাযীন (রাহঃ) বলেনঃ মুসা আকীলী (রাহঃ) বলেছেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করিঃ কিয়ামতের দিন সবাই কি তার রবকে দেখবে? এর উদাহরণ কিরূপ? নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আবু রাযীন! তোমরা সবাই কি চাঁদকে দেখতে পাও না? তিনি বলেনঃ পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখতে পায় না? তিনি বলেনঃ পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে!

এরপর দু’জন রাবী একত্র হয়ে বর্ণনা করেন, আমরা বলিঃ হ্যাঁ। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তো মহান। এরপর আবু রাযীন (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চাঁদ তো তাঁরই সৃষ্ট একটি বস্তু, (তা যখন দেখতে পাও), তখন মহান আল্লাহর শান তো অনেক বড়, (কাজেই, কিয়ামতের দিন জান্নাতীদের তাকে দেখতে কোন অসুবিধা হবে না।)
৪৬৫৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ أَبَا أُسَامَةَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ، قَالَ قَالَ سَالِمٌ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَطْوِي اللَّهُ السَّمَوَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ثُمَّ يَطْوِي الأَرَضِينَ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ " . قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ " بِيَدِهِ الأُخْرَى ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬৫৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সমস্ত আসমানকে একত্রিত করে, তাঁর ডান হাতে ধরে বলবেনঃ আমি-ই একমাত্র বাদশাহ! (দুনিয়ার সেই) অত্যাচারী ও গর্বকারী শাসকরা কোথায়? এরপর তিনি সব যমীনকে একত্রিত করার পর অন্যহাতে ধরে বলবেনঃ আমি-ই একচ্ছত্র অধিপতি। (দুনিয়ার সেই) জালিম ও অহংকারী শাসকরা কোথায়?

৪৬৫৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرِ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৫৮. কা’নবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের রব প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে এসে বলেনঃ আমার কাছে কে দুআ করবে? আমি তার দুআ কবুল করবো! কে আমার কাছে চাবে, আমি তাকে তা দেব। আমার কাছে কে গুনাহ মাফ চাবে, আমি তার গুনাহ মাফ করে দেব।

২২. কিয়ামত এবং শিংগা-ধ্বনি প্রসঙ্গে।

باب فِي ذِكْرِ الْبَعْثِ وَالصُّورِ

৪৬৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْرِضُ نَفْسَهُ عَلَى النَّاسِ فِي الْمَوْقِفِ فَقَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَحْمِلُنِي إِلَى قَوْمِهِ فَإِنَّ قُرَيْشًا قَدْ مَنَعُونِي أَنْ أُبَلِّغَ كَلاَمَ رَبِّي " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৬৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাতে অবস্থানকালে লোকদের কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কেউ আছে কি, যে আমাকে আমার কওম কুরাইশদের কাছে নিয়ে যেতে পারে? কেননা, কুরাইশরা আমার রবের কথা মানুষের কাছে পৌছাতে বাধার সৃষ্টি করছে।

২১. কুরআন সম্পর্কে।

باب فِي الْقُرْآنِ

৪৬৬০

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، - يَعْنِي الشَّعْبِيَّ - عَنْ عَامِرِ بْنِ شَهْرٍ، قَالَ : كُنْتُ عِنْدَ النَّجَاشِيِّ فَقَرَأَ ابْنٌ لَهُ آيَةً مِنَ الإِنْجِيلِ فَضَحِكْتُ فَقَالَ : أَتَضْحَكُ مِنْ كَلاَمِ اللَّهِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৬৬০. ইসমাঈল ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আমির ইবনে শাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নাজ্জাশী বাদশার নিকটে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার এক ছেলে ইনজীলের একটি আয়াত পাঠ করলে, আমার হাসি পায়। তখন বাদশাহ আমাকে বলেনঃ কি ব্যাপার, তুমি আল্লাহর কালাম শুনে হাসছো?

৪৬৬১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَعَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَدِيثِ، عَائِشَةَ وَكُلٌّ حَدَّثَنِي طَائِفَةً، مِنَ الْحَدِيثِ قَالَتْ وَلَشَأْنِي فِي نَفْسِي كَانَ أَحْقَرَ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللَّهُ فِيَّ بِأَمْرٍ يُتْلَى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৬৬১. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নিজেকে এর উপযুক্ত মনে করতাম না যে, মহান আল্লাহ আমার সম্পর্কে এমন কোন আয়াত নাযিল করবেন, যা সব সময় পড়া হবে।

৪৬৬২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ : " أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ " . ثُمَّ يَقُولُ : " كَانَ أَبُوكُمْ يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৬৬২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-এর জন্য এরূপ দুআ করতেনঃ আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর কালামের আশ্রয়ে রাখতে চাই, সব ধরনের শয়তান হতে, কষ্টদায়ক বস্তু হতে এবং সব ধরনের বদ-নজর হতে। এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এই কালামের দ্বারা ইসমাঈল ও ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন।

৪৬৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " إِذَا تَكَلَّمَ اللَّهُ بِالْوَحْىِ سَمِعَ أَهْلُ السَّمَاءِ لِلسَّمَاءِ صَلْصَلَةً كَجَرِّ السِّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفَا فَيُصْعَقُونَ، فَلاَ يَزَالُونَ كَذَلِكَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ جِبْرِيلُ حَتَّى إِذَا جَاءَهُمْ جِبْرِيلُ فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ " . قَالَ : " فَيَقُولُونَ : يَا جِبْرِيلُ مَاذَا قَالَ رَبُّكَ فَيَقُولُ : الْحَقَّ فَيَقُولُونَ : الْحَقَّ الْحَقَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৬৬৩. আহমদ ইবনে আবু সূরায়হ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তাআলা ওহী প্রেরণের জন্য কথা বলেন, তখন এক আসমানের অধিবাসী অন্য আসমান থেকে এরূপ শব্দ শোনে যে, যেমন সাফা পাহাড়ের উপর লোহার শিকল টানলে শব্দ হয়। যা শুনে তারা সবাই বেহুশ হয়ে পড়ে এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকে। এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন তাদের কাছে আসে, তখন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়ে বলেঃ হে জিবরাঈল! আপনার রব কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ তিনি সত্য বলেছেনঃ। একথা শুনে সকল ফিরিশতা বলতে থাকেঃ সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন।

২২. কিয়ামত এবং শিংগা-ধ্বনি প্রসঙ্গে।

باب فِي ذِكْرِ الْبَعْثِ وَالصُّورِ

৪৬৬৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا أَسْلَمُ، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " الصُّورُ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৬৬৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ ’সূর’ হলো শিংগা, যাতে ফুঁৎকার দেয়া হবে।

৪৬৬৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " كُلَّ ابْنِ آدَمَ تَأْكُلُ الأَرْضُ إِلاَّ عَجْبَ الذَّنَبِ، مِنْهُ خُلِقَ وَفِيهِ يُرَكَّبُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৬৫. কা’নবী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানব দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ মাটিতে খেয়ে ফেলে, কিন্তু মেরুদণ্ডের হ্যাঁড় খেতে পারে না। তা দিয়েই মানুষকে তৈরী করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়বার তা দিয়েই তাদের সৃষ্টি করা হবে।

২৩. শাফা’আত সস্পর্কে।

باب فِي الشَّفَاعَةِ

৪৬৬৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا بِسْطَامُ بْنُ حُرَيْثٍ، عَنْ أَشْعَثَ الْحُدَّانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " شَفَاعَتِي لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৬৬. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ আমার শাফা’আত আমার উম্মতের মধ্যে যারা কবীরা গুনাহ করে, তাদের জন্য হবে। (যেমন- যারা যিনা করে, চুরি করে, শরাব খায় ইত্যাদি লোকের জন্য)।

৪৬৬৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَةِ مُحَمَّدٍ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৬৬৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর শাফা’আতে কিছু লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের জাহান্নামী হিসাবে আখ্যায়িত করা হবে।

৪৬৬৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৬৬৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের অধিবাসীরা জান্নাতেই পানাহার করবে।

২৪. জান্নাত ও জাহান্নামের - সৃষ্টি সম্পর্কে।

باب فِي خَلْقِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ

৪৬৬৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ قَالَ لِجِبْرِيلَ : اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا . فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ : أَىْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لاَ يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلاَّ دَخَلَهَا ثُمَّ حَفَّهَا بِالْمَكَارِهِ ثُمَّ قَالَ : يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ : أَىْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لاَ يَدْخُلَهَا أَحَدٌ " . قَالَ : " فَلَمَّا خَلَقَ اللَّهُ النَّارَ قَالَ : يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا . فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ : أَىْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لاَ يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلُهَا فَحَفَّهَا بِالشَّهَوَاتِ ثُمَّ قَالَ : يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا . فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ : أَىْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لاَ يَبْقَى أَحَدٌ إِلاَّ دَخَلَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৬৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ যখন জান্নাত সৃষ্টি করেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বলেনঃ যাও জান্নাত দেখে এসো। তিনি জান্নাত দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! যে কেউ এ জান্নাতের কথা শোনবে, সে এতে প্রবেশের আকাংক্ষা করবে। এরপর আল্লাহ জান্নাতকে কিছু কঠিন ও মুশকিল আমল দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং বলেনঃ হে জিবরাঈল! এখন গিয়ে তা দেখে এসো। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তা দেখে এসে বলবেঃ হে আমার রব! তোমার ’ইজ্জতের কসম’! আমার ভয় হচ্ছে, এখন হয়তো আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।

এরপর আল্লাহ জাহান্নাম সৃষ্টি করার পর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বলেনঃ হে জিবরাঈল! সেখানে যাও এবং দেখে এসো। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তা দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! আপনার ’ইজ্জতের কসম’! যারা এর অবস্থা শোনবে, তারা কেউ-ই সেখানে যেতে চাবে না। এরপর আল্লাহ শাহয়াত (কুরিপু) দিয়ে তাকে ঢেকে দেন এবং বলেনঃ হে জিবরাঈল! এখন সেখানে যাও এবং দেখে এসো। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তা দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! এখন আমার ভয় হচ্ছে যে, হয়তো সব লোক এতে প্রবেশ করবে।

২৫. হাওয-কাউসার সম্পর্কে।

باب فِي الْحَوْضِ

৪৬৭০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا مَا بَيْنَ نَاحِيَتَيْهِ كَمَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬৭০. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সামনে (হাশরের দিন) একটা হাওয হবে, এর দু’টি তীরের দূরত্ব হবে- জারয়া থেকে আজরু নামক স্থান পর্যন্ত। (শাম দেশের দু’টি গ্রামের নাম, এ দু’টি গ্রামের মাঝে দূরত্ব হলো তিন দিনের পথের সমান।)

৪৬৭১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ : كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فَقَالَ : " مَا أَنْتُمْ جُزْءٌ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ جُزْءٍ مِمَّنْ يَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ " . قَالَ قُلْتُ : كَمْ كُنْتُمْ يَوْمَئِذٍ قَالَ : سَبْعَمِائَةٍ أَوْ ثَمَانَمِائَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৪৬৭১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একস্থানে অবস্থান করা কালে তিনি বলেনঃ তোমরা তাদের লক্ষ ভাগের এক ভাগও নও, যারা হাওয কাউসারের কাছে আসবে। রাবী বলেন, আমি যায়দ ইবনে আকরাম (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ সেদিন কত লোক আপনারা সেখানে ছিলেন? তিনি বলেনঃ সাতশো বা আটশো লোক।

৪৬৭২

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ : أَغْفَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِغْفَاءَةً فَرَفَعَ رَأْسَهُ مُتَبَسِّمًا، فَإِمَّا قَالَ لَهُمْ وَإِمَّا قَالُوا لَهُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ ضَحِكْتَ فَقَالَ : " إِنَّهُ أُنْزِلَتْ عَلَىَّ آنِفًا سُورَةٌ " . فَقَرَأَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ) حَتَّى خَتَمَهَا فَلَمَّا قَرَأَهَا قَالَ : " هَلْ تَدْرُونَ مَا الْكَوْثَرُ " . قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ : " فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيهِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فِي الْجَنَّةِ، وَعَلَيْهِ خَيْرٌ كَثِيرٌ عَلَيْهِ حَوْضٌ تَرِدُ عَلَيْهِ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ آنِيَتُهُ عَدَدُ الْكَوَاكِبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৭২. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়ার পর হাসি মুখে মাথা উঠিয়ে হয়তো নিজে তাদের বলেন, নয়তো সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বলেনঃ এখনই আমার উপর একটা সূরা নাযিল হয়েছে।

এরপর তিনি তা তিলাওয়াত করেনঃ অবশ্যই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষে পোষণকারীই তো নির্বংশ।

সূরা পাঠ শেষে তিনি প্রশ্ন করেনঃ তোমরা কি জান, কাউসার কী? তারা বলেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তা হলো একটা নহর, যা আমার রব আমাকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। সেখানে অনেক কল্যাণ নিহিত আছে এবং সেখানে হাওয আছে, যেখানে কিয়ামতের দিন আমার উম্মত সমবেত হবে। আর এর পান পাত্র তারকারাজীর চাইতে অধিক হবে।
৪৬৭৩

حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ : لَمَّا عُرِجَ بِنَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنَّةِ - أَوْ كَمَا قَالَ - عُرِضَ لَهُ نَهْرٌ حَافَتَاهُ الْيَاقُوتُ الْمُجَيَّبُ أَوْ قَالَ الْمُجَوَّفُ، فَضَرَبَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعَهُ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَ مِسْكًا فَقَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم لِلْمَلَكِ الَّذِي مَعَهُ : " مَا هَذَا " . قَالَ : هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৭৩. আসিম ইবনে নযর (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মি’রাজের রাতে জান্নাত পরিভ্রমণকালে নবী (ﷺ)-এর সামনে একটা নহর (নদী) আনা হয়, যার দু’পাশ ছিল নিরেট ইয়াকূতে ভরপুর। এ সময় তাঁর সঙ্গী ফিরিশতা সেখানে হাত দিয়ে একটা মশক বের করেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁর সঙ্গী ফিরিশতাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইহা কি? তিনি বলেনঃ ইহা ঐ কাউসার, যা মহান আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন।

৪৬৭৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ أَبُو طَالُوتَ، قَالَ شَهِدْتُ أَبَا بَرْزَةَ دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ فَحَدَّثَنِي فُلاَنٌ، سَمَّاهُ مُسْلِمٌ وَكَانَ فِي السِّمَاطِ فَلَمَّا رَآهُ عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ : إِنَّ مُحَمَّدِيَّكُمْ هَذَا الدَّحْدَاحُ، فَفَهِمَهَا الشَّيْخُ فَقَالَ مَا كُنْتُ أَحْسِبُ أَنِّي أَبْقَى فِي قَوْمٍ يُعَيِّرُونِي بِصُحْبَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ إِنَّ صُحْبَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَكَ زَيْنٌ غَيْرُ شَيْنٍ ثُمَّ قَالَ : إِنَّمَا بُعِثْتُ إِلَيْكَ لأَسْأَلَكَ عَنِ الْحَوْضِ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ فِيهِ شَيْئًا فَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ : نَعَمْ لاَ مَرَّةً وَلاَ ثِنْتَيْنِ وَلاَ ثَلاَثًا وَلاَ أَرْبَعًا وَلاَ خَمْسًا، فَمَنْ كَذَّبَ بِهِ فَلاَ سَقَاهُ اللَّهُ مِنْهُ ثُمَّ خَرَجَ مُغْضَبًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৪৬৭৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আব্দুস সালাম ইবনে আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু বারযা (রাযিঃ)-কে উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ (রাহঃ) এর কাছে যেতে দেখি। এরপর আমার কাছে মুসলিম নামে এক ব্যক্তি, যিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বলেনঃ উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ (রাহঃ) আবু বারযা (রাযিঃ)-কে দেখে বলেনঃ দেখ! তোমাদের এ মুহাম্মাদী (মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবী) মোটা পা বিশিষ্ট। একথা শুনে আবু বারযা (রাযিঃ) বুঝতে পারেন যে (ইবনে যিয়াদ ঘৃণাভরে এরূপ উক্তি করছে।) তখন তিনি বলেনঃ আমি এরূপ খেয়াল করিনি যে, আমি এরূপ লোকদের সাথে অবস্থান করবো, যে আমাকে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবী হওয়ার জন্য দোষারোপ করবে।

একথা শুনে উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বলেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সোহবত তো আপনার জন্য গৌরবের বিষয়, এটা কোন দোষের ব্যাপার নয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে এ জন্য ডেকেছি যে, আমি আপনার কাছে হাওয-কাউসার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবো। আপনি কি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিছু শুনেছেন? আবু বারযা (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, শুনেছি। এক, দুই, তিন, চার বা পাঁচবার নয়, বরং বহুবার শুনেছি। আর যে ব্যক্তি এ কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, আল্লাহ তাকে সে হাওযের পানি পান করাবেন না। এরপর তিনি সেখানে থেকে রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে আসেন।

২৬. কবরের প্রশ্ন ও শাস্তির বর্ণনা।

باب فِي الْمَسْأَلَةِ فِي الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ

৪৬৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ فَشَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৬৭৫. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) ......... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যখন কোন মুসলমানকে কবরে প্রশ্ন করা হয়, আর সে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর রাসূল। এ কথা আল্লাহর ঐ বাণীর বাস্তবতাঃ মহান আল্লাহ ঈমানদারদের দুনিয়া ও আখিরাতে প্রতিষ্ঠিত রাখেন সত্য কথার উপর।

৪৬৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ أَبُو نَصْرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ : إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ نَخْلاً لِبَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَ صَوْتًا فَفَزِعَ فَقَالَ : " مَنْ أَصْحَابُ هَذِهِ الْقُبُورِ " . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ نَاسٌ مَاتُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ . فَقَالَ : " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ " . قَالُوا : وَمِمَّ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ : " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكٌ فَيَقُولُ لَهُ : مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَإِنِ اللَّهُ هَدَاهُ قَالَ : كُنْتُ أَعْبُدُ اللَّهَ . فَيُقَالُ لَهُ : مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ : هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَمَا يُسْأَلُ عَنْ شَىْءٍ غَيْرَهَا فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى بَيْتٍ كَانَ لَهُ فِي النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ : هَذَا بَيْتُكَ كَانَ لَكَ فِي النَّارِ وَلَكِنَّ اللَّهَ عَصَمَكَ وَرَحِمَكَ فَأَبْدَلَكَ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ : دَعُونِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأُبَشِّرَ أَهْلِي . فَيُقَالُ لَهُ : اسْكُنْ . وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكٌ فَيَنْتَهِرُهُ فَيَقُولُ لَهُ : مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَيَقُولُ : لاَ أَدْرِي . فَيُقَالُ لَهُ : لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ . فَيُقَالُ لَهُ : فَمَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ : كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ . فَيَضْرِبُهُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا الْخَلْقُ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজ্জার গোত্রের একটি খেজুরের বাগানে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি একটা শব্দ শুনে ভীত হয়ে পড়েন এবং বলেনঃ এ কবরগুলি কাদের? তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা জাহিলী যুগে মারা গেছে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আল্লাহর কবরের আযাব ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তখন তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কেন এরূপ করবে।

তখন নবী (ﷺ) বলেন যখন কোন মু’মিন ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয়, তখন একজন ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি কার ইবাদত করতে? তখন মহান আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করেন। তখন সে বলেঃ আমি আল্লাহর ইবাদত করতাম। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবেঃ তুমি এ ব্যক্তির (মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর) ব্যাপারে কিরূপ ধারণা পোষণ করতে? তখন সে বলবেঃ তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। এরপর তাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। এরপর তাকে এমন একস্থানে নেয়া হয়, যা তার জন্য জাহান্নামে বানানো হয়েছিল। তখন তাকে বলা হবেঃ এটা এটা তোমার জাহান্নামের ঘর ছিল। আল্লাহ তোমাকে এ থেকে রক্ষা করেছেন এবং তোমার উপর রহম করেছেন এবং এর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটা চিরস্থায়ী ঘর দান করেছেন। তখন সে বলেঃ আমাকে ছেড়ে দাও, যাতে আমি আমার পরিবার-পরিজনদের এ সুসংবাদ দিতে পারি। তখন তাকে বলা হয়ঃ তুমি শান্ত হও।

অপরপক্ষে যখন কোন কাফিরকে কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে একজন ফিরিশতা আসে এবং ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি কার ইবাদত করতে? সে বলবেঃ আমি জানি না। তখন তাকে বলা হয়ঃ তুমি নিজেও জ্ঞান অর্জন করনি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ এ ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার ধারণা কিরূপ ছিল? তখন সে বলেঃ তাঁর ব্যাপারে লোকদের যেরূপ ধারণা ছিল, আমার ধারণাও সেরূপ। এ কথা শুনে ফিরিশতা তার মাথায় লোহার মুগুর দিয়ে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে, ফলে সে এত জোরে চিৎকার করে যে, জ্বীন ও ইনসান ব্যতীত সে চিৎকার সব সৃষ্ট জীব শুনতে পায়।
৪৬৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، بِمِثْلِ هَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ قَالَ : " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيَقُولاَنِ لَهُ " . فَذَكَرَ قَرِيبًا مِنْ حَدِيثِ الأَوَّلِ قَالَ فِيهِ : " وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُ فَيَقُولاَنِ لَهُ " . زَادَ : " الْمُنَافِقُ " . وَقَالَ : " يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৬৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) উপরোক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় এবং লোকেরা তাকে দাফন করে ফিরে আসে, আর সে (মৃত ব্যক্তি) তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়; সে সময় তার কাছে দু’জন ফিরিশতা এসে প্রশ্ন করে। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যাতে কাফির ও মুনাফিক শব্দের উল্লেখ আছে। এরপর দু’জন ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞাসা করে। এখানে মুনাফিক শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। রাবী আরো বলেনঃ সে শব্দ তার আশপাশে যারা থাকে, সবাই শোনে; জ্বীন ও ইনসান ব্যতীত।

৪৬৭৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - وَهَذَا لَفْظُ هَنَّادٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ : خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ، وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الأَرْضِ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : " اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ هَا هُنَا - وَقَالَ : " وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ : يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ " . قَالَ هَنَّادٌ قَالَ : " وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : رَبِّيَ اللَّهُ . فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : دِينِي الإِسْلاَمُ . فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَيَقُولاَنِ : وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ " . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ : " فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا ) " . الآيَةَ . ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ : " فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ " . قَالَ : " فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا " . قَالَ : " وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ " . قَالَ : " وَإِنَّ الْكَافِرَ " . فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ : " وَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولاَنِ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِي . فَيَقُولاَنِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِي . فَيَقُولاَنِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لاَ أَدْرِي . فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ " . قَالَ : " فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا " . قَالَ : " وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاَعُهُ " . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ : " ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ، لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا " . قَالَ : " فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلاَّ الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا " . قَالَ : " ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৬৭৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একজন আনসার সাহাবীর জানাযার নামাযে শরীক হই, এমন কি তার কবরের কাছে যাই, যা তখনও তৈরী হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে বসেন এবং আমরা ও তাঁর সাথে তাঁর চারদিকে শান্তভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসা। এ সময় নবী (ﷺ)-এর হাতে একখণ্ড কাঠ ছিল, যা দিয়ে তিনি যমীনের উপর আঘাত করছিলেন। এরপর তিনি মাথা উঁচু করে দুই বা তিনবার বলেনঃ তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে নাজাত চাও।

রাবী জারীরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, দাফনের পর লোকেরা যখন ফিরে যায় এবং সে লোক তাদের শব্দ শুনতে পায়, সে সময় তাকে এরূপ প্রশ্ন করা হয়ঃ হে ব্যক্তি! তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি এবং তোমার নবী কে?

রাবী হান্নাদ (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তখন তার কাছে দু’জন ফিরিশতা আসে এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার রব কে? তখন সে বলেঃ আল্লাহ আমার রব। তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দ্বীন কী? সে বলেঃ আমার দ্বীন ইসলাম। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠান হয়েছিল? তখন সে বলেঃ ইনি হলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন ফিরিশতারা আবার জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি এ কিরূপে জানলে? তখন সে বলেঃ আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর উপর ঈমান এনেছি এবং একে সত্য বলে মনে করি। রাবী জারীর বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ″আল্লাহ তাআলা মু’মিনদের ইহজীবন ও পরজীবনে শাশ্বত- বাণীর (কালিমার) উপর দূর রাখেন।″ এর অর্থ ইহাই।

রাবী বলেনঃ এরপর আসমান থেকে একজন আহবানকারী এরূপ ঘোষণা দিতে থাকেঃ আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার কবরে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। রাবী বলেনঃ তখন তার কবরে জান্নাতের মৃদুমন্দ বাতাস ও খোশবু আসতে থাকে এবং সে ব্যক্তির কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করে দেয়া হয়।

এরপর তিনি কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেনঃ কবরে রাখার পর তার আত্মাকে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। তখন দু’জন ফিরিশতা এসে তাকে বসায় এবং প্রশ্ন করেঃ তোমার রব কে? তখন সে বলেঃ হা - হা - লা - আদরী; অর্থাৎ আফসোস, আমি তো জানি না। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দ্বীন কী? সে বলেঃ আফসোস আমি জানি না। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে দুনিয়াতে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? তখন সে বলেঃ হায় আফসোস! আমি জানি না।

তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এরূপ বলতে থাকেঃ সে মিথ্যা বলেছে। তার কবরে আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবর থেকে জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও; যাতে তার কবরে জাহান্নামের আগুনের প্রচণ্ড তাপ ও ভাঁপ আসতে থাকে। এরপর কবর তার জন্য এতই সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার পাজরের একপাশ অপরপাশে চলে যায়।

রাবী জারীর আরো বর্ণনা করেনঃ এরপর সে ব্যক্তির জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফিরিশতাকে নিয়োগ করা হয় এবং তার হাতে এমন একটা লোহার মুগুর থাকে, যদি তা দিয়ে দুনিয়ার কোন পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয়, তবে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটিতে পরিণত হবে। এরপর সে ফিরিশতা মুগুর দিয়ে তাকে এমনভাবে পিটাতে থাকে, যার শব্দ জ্বীন ও ইনসান ব্যতীত পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত মাখলূক (সৃষ্টজীব) শুনতে পায় এবং তার দেহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলায় পরিণত হয়। এরপর তার মধ্যে পুনরায় রুহ ফুঁকে দেয়া হয়।
৪৬৭৯

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا الْمِنْهَالُ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، : زَاذَانَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৬৭৯. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... আবু আমর (রাহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ)-কে নবী করীম (ﷺ) হতে এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

২৭. মীযান বা পাল্লা সম্পর্কে।

باب فِي ذِكْرِ الْمِيزَانِ

৪৬৮০

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَا يُبْكِيكِ " . قَالَتْ : ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَمَّا فِي ثَلاَثَةِ مَوَاطِنَ فَلاَ يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا : عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُّ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ ( هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ) حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَىْ جَهَنَّمَ " . قَالَ يَعْقُوبُ : عَنْ يُونُسَ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৬৮০. ইয়া’কূব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? তিনি বলেনঃ জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আমি কাঁদছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবার-পরিজনের কথা মনে রাখবেন? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তিনটি স্থান এমন আছে, যেখানে কেউ কারো কথা স্মরণ করবে না। যথা-

১। মীযান বা মাপের সময়, যতক্ষণ না কেউ জানতে পারবে, তার পাল্লা ভারী- না হালকা,

২। কিতাব বা আমলনামা পাওয়ার সময়, যখন বলা হবেঃ দৌড়ে এসো এবং নিজ নিজ আমলনামা পাঠ কর। যতক্ষণ কেউ জানতে পারবে না যে, তা কোন দিক থেকে আসে- ডান, বাম না পেছনের দিক থেকে এবং

৩। সে সময়- যখন সে পুল-সিরাতের উপর থাকবে এবং তা জাহান্নামের উপর রাখা হবে।

২৮. দাজ্জাল সম্পর্কে।

باب فِي الدَّجَّالِ

৪৬৮১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُرَاقَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ بَعْدَ نُوحٍ إِلاَّ وَقَدْ أَنْذَرَ الدَّجَّالَ قَوْمَهُ، وَإِنِّي أُنْذِرُكُمُوهُ " . فَوَصَفَهُ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ : " لَعَلَّهُ سَيُدْرِكُهُ مَنْ قَدْ رَآنِي وَسَمِعَ كَلاَمِي " . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ قُلُوبُنَا يَوْمَئِذٍ أَمِثْلُهَا الْيَوْمَ قَالَ : " أَوْ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)

৪৬৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পর এমন কোন নবী যাননি, যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি-প্রদর্শন করেননি। আর আমিও তোমাদেরকে তার সম্পর্কে সতর্ক করছি। নবী (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ সম্ভবতঃ যে আমাকে দেখেছে এবং আমার কথা শুনেছে, সে দাজ্জালকে দেখবে। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেদিন আমাদের দিন কেমন হবে? আজকের দিনের মত? তিনি বলেনঃ আজকের দিন থেকেও উত্তম হবে।

৪৬৮২

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، فَذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ : " إِنِّي لأُنْذِرُكُمُوهُ، وَمَا مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ قَدْ أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ، لَقَدْ أَنْذَرَهُ نُوحٌ قَوْمَهُ، وَلَكِنِّي سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ : إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬৮২. মুখাল্লাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... সালিম (রাহঃ) তার পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করেন। এরপর তিনি দাজ্জালের ব্যাপারে বলেনঃ আমি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি-প্রদর্শন করছি। আর প্রত্যেক নবী (ﷺ) তাঁর উম্মতকে তার সম্পর্কে সতর্ক করেন। আমি তার সম্পর্কে এমন কথা বলবো, যা পূর্ববর্তী কোন নবীরা তাদের উম্মতের কাছে বলেননি। জেনে রাখ! সে হবে কানা; আর তোমাদের রব কানা নন।

২৯. খারেজীদের সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে।

باب فِي قَتْلِ الْخَوَارِجِ

৪৬৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ وَمَنْدَلٌ عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِي جَهْمٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ وَهْبَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الإِسْلاَمِ مِنْ عُنُقِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৬৮৩. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (আহলে সুন্নাহ ওয়াল) জামাআত থেকে এক বিঘতও সরে যাবে, সে তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি নিক্ষেপ করবে।

৪৬৮৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُطَرِّفُ بْنُ طَرِيفٍ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ وَهْبَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " كَيْفَ أَنْتُمْ وَأَئِمَّةٌ مِنْ بَعْدِي يَسْتَأْثِرُونَ بِهَذَا الْفَىْءِ " . قُلْتُ : إِذًا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ أَضَعُ سَيْفِي عَلَى عَاتِقِي، ثُمَّ أَضْرِبُ بِهِ حَتَّى أَلْقَاكَ أَوْ أَلْحَقَكَ . قَالَ : " أَوَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ تَصْبِرُ حَتَّى تَلْقَانِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৬৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পরে সে সময় তোমাদের অবস্থা কিরূপ হবে, যখন শাসনকর্তা গনিমতের মালকে নিজের মাল হিসাবে মনে করবে? আমি বলিঃ ঐ জাতের কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন, তখন আমি আমার তরবারি কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবো এবং তা দিয়ে জিহাদ করবো- যতক্ষণ না আমি আপনার সাথে মিলিত হই। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে কোন উত্তম পন্থা জানিয়ে দেব না? আর তা হলো, তুমি আমার সাথে মেলার আগ পর্যন্ত সবর করবে।

৪৬৮৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، وَهِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ ضَبَّةَ بْنِ مِحْصَنٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ أَئِمَّةٌ تَعْرِفُونَ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ أَنْكَرَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ هِشَامٌ : " بِلِسَانِهِ فَقَدْ بَرِئَ، وَمَنْ كَرِهَ بِقَلْبِهِ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ " . فَقِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نَقْتُلُهُمْ قَالَ ابْنُ دَاوُدَ : " أَفَلاَ نُقَاتِلُهُمْ " . قَالَ : " لاَ مَا صَلَّوْا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪৬৮৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতিসত্ত্বর তোমাদের উপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে যার- কাজকর্ম ভাল হবে এবং মন্দও হবে। সে সময় যে ব্যক্তি তার মন্দ-কাজের প্রতিবাদ মুখ দিয়ে করবে, সে দোষমুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তা অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে, সে ও দোষমুক্ত হবে; আর যে ব্যক্তি তার কাজ-কর্মকে অস্বীকার করবে, সে নাজাত প্রাপ্ত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি তাদের হত্যা করবো না? তিনি বলেনঃ না, যতক্ষণ তারা নামায আদায় করতে থাকবে।

৪৬৮৬

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ ضَبَّةَ بْنِ مِحْصَنٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ : " فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ، وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ " . قَالَ قَتَادَةُ : يَعْنِي مَنْ أَنْكَرَ بِقَلْبِهِ، وَمَنْ كَرِهَ بِقَلْبِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪৬৮৬. ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাকে খারাপ মনে করবে, সে দোষমুক্ত হবে; আর যে তাকে অস্বীকার করবে, সে নাজাত প্রাপ্ত হবে।

রাবী কাতাদা (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাকে অন্তর দিয়ে খারাপ জানবে এবং অস্বীকার করবে।
৪৬৮৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَلاَقَةَ، عَنْ عَرْفَجَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " سَتَكُونُ فِي أُمَّتِي هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَهَنَاتٌ، فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يُفَرِّقَ أَمْرَ الْمُسْلِمِينَ وَهُمْ جَمِيعٌ فَاضْرِبُوهُ بِالسَّيْفِ كَائِنًا مَنْ كَانَ " .

বর্ণনাকারী: আরফাজা ইবনে আসআদ (রাঃ)

৪৬৮৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আরফাজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ অতিসত্ত্বর আমার উম্মতের মধ্যে ফিতনা-ফ্যাসাদ হবে ফিতনার সৃষ্টি, ফ্যাসাদ হবে। এ সময় যে ব্যক্তি মুসলমানদের ঐক্যে ফাঁটল সৃষ্টি করতে চাবে, সে যে-ই হোক না কেন, তোমরা তাকে তরবারি দিয়ে হত্যা করবে।

৪৬৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، : أَنَّ عَلِيًّا، ذَكَرَ أَهْلَ النَّهْرَوَانِ فَقَالَ : فِيهِمْ رَجُلٌ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مُخْدَجُ الْيَدِ، أَوْ مَثْدُونُ الْيَدِ لَوْلاَ أَنْ تَبْطَرُوا لَنَبَّأْتُكُمْ مَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ : أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْهُ قَالَ : إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৬৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ...... উবাইদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাযিঃ) নাহরাওয়ানের লোকদের সম্পর্কে বলেনঃ তাদের মাঝে এক ব্যক্তি ছোট হাত বিশিষ্ট হবে। যদি তোমরা আমার কথা মানতে, তবে মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর যবাণীতে তাদের হত্যা করলে যে সাওয়াবের কথা বলেছেনঃ সে সম্বন্ধে আমি তোমাদের অবহিত করতাম।

রাবী বলেন, তখন আমি আলী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কি তা নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ! কাবার রবের শপথ! (আমি তা তাঁর কাছ থেকে শুনেছি।)
৪৬৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ : بَعَثَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذُهَيْبَةٍ فِي تُرْبَتِهَا، فَقَسَّمَهَا بَيْنَ أَرْبَعَةٍ بَيْنَ : الأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ الْحَنْظَلِيِّ ثُمَّ الْمُجَاشِعِيِّ، وَبَيْنَ عُيَيْنَةَ بْنِ بَدْرٍ الْفَزَارِيِّ وَبَيْنَ زَيْدِ الْخَيْلِ الطَّائِيِّ ثُمَّ أَحَدِ بَنِي نَبْهَانَ وَبَيْنَ عَلْقَمَةَ بْنِ عُلاَثَةَ الْعَامِرِيِّ ثُمَّ أَحَدِ بَنِي كِلاَبٍ قَالَ فَغَضِبَتْ قُرَيْشٌ وَالأَنْصَارُ وَقَالَتْ : يُعْطِي صَنَادِيدَ أَهْلِ نَجْدٍ وَيَدَعُنَا . فَقَالَ : " إِنَّمَا أَتَأَلَّفُهُمْ " . قَالَ : فَأَقْبَلَ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ نَاتِئُ الْجَبِينِ كَثُّ اللِّحْيَةِ مَحْلُوقٌ قَالَ : اتَّقِ اللَّهَ يَا مُحَمَّدُ . فَقَالَ : " مَنْ يُطِعِ اللَّهَ إِذَا عَصَيْتُهُ أَيَأْمَنُنِي اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الأَرْضِ وَلاَ تَأْمَنُونِي " . قَالَ : فَسَأَلَ رَجُلٌ قَتْلَهُ أَحْسِبُهُ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ - قَالَ - فَمَنَعَهُ . قَالَ : فَلَمَّا وَلَّى قَالَ : " إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا أَوْ فِي عَقِبِ هَذَا قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ، يَقْتُلُونَ أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَيَدَعُونَ أَهْلَ الأَوْثَانِ لَئِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُمْ قَتَلْتُهُمْ قَتْلَ عَادٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৬৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট কিছু মাটি মিশ্রিত সোনা পাঠান, যা তিনি আকরা ইবনে হাবিস হানযালী (রাযিঃ), উয়াইনা ইবনে বদর ফাযারী (রাযিঃ), বনু নাবহানের এক ব্যক্তি যায়দ খায়ল তায়ী (রাযিঃ) এবং বনু কিলাবের এক ব্যক্তি ইবনে উলাছা আমিরী (রাযিঃ) এ চার ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করে দেন।

রাবী বলেনঃ এতে কুরাইশ ও আনসারগণ রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ আপনি নজদের অধিপতিদের দিচ্ছেন, অথচ আমাদের কিছুই দিচ্ছেন না! তিনি বলেনঃ আমি এ দিয়ে তাদের দিলকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করছি। এ সময় সেখানে এমন এক ব্যক্তি আসে- যার চোখ কোঠরাগত, চোয়াল উঁচু, কপাল উন্নত, ঘন দাড়ি-বিশিষ্ট ও মস্তক মুণ্ডিত ছিল। সে বলেঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি যদি আল্লাহর নাফরমানী করি, তবে আর কে তাঁর ফরমাবরদার হবে? মহান আল্লাহ যমীনের উপর আমাকে আমানতদার বানিয়েছেন, অথচ তুমি আমাকে আমানতদার মনে কর না।

রাবী বলেনঃ তখন এক ব্যক্তি, আমার ধারণায় তিনি হলেন- খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) তাকে কতল করার জন্য অনুমতি চাইলে নবী (ﷺ) নিষেধ করেন।

রাবী বলেনঃ সে ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) বলেনঃ এ ব্যক্তির বংশে এমন কিছু লোক জন্ম নেবে, যারা কুরআন পাঠ করবে সত্য, তবে তা তাদের গলার নীচে যাবে না, (অর্থাৎ তা তাদের অন্তরে কোন আছর করবে না।) তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে, যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা মুসলমানদের হত্যা করবে এবং মূর্তি-পূজারীদের ছেড়ে দেবে। যদি আমি তাদের পাই, তবে আমি তাদের ’কওমে আদের’ মত (পাইকারীহারে) কতল করবো।
৪৬৯০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، وَمُبَشِّرٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ الْحَلَبِيَّ عَنْ أَبِي عَمْرٍو، قَالَ - يَعْنِي الْوَلِيدَ - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلاَفٌ وَفُرْقَةٌ، قَوْمٌ يُحْسِنُونَ الْقِيلَ وَيُسِيئُونَ الْفِعْلَ وَيَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ لاَ يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ عَلَى فُوقِهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ طُوبَى لِمَنْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ، يَدْعُونَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَلَيْسُوا مِنْهُ فِي شَىْءٍ، مَنْ قَاتَلَهُمْ كَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ مِنْهُمْ " . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِيمَاهُمْ قَالَ : " التَّحْلِيقُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৬৯০. নসর ইবনে আসিম (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী ও আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে মত-পাথর্ক্য ও মতানৈক্য সৃষ্টির ফলে এমন কিছু ফিরকার সৃষ্টি হবে, যারা ভাল কথা বলবে, কিন্তু খারাপ কাজ করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের গলার নীচে যাবে না। বস্তুত তারা দীন থেকে এরূপ বেরিয়ে, যাবে যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায় এবং তারা তাদের রাস্তা (মতবাদ) থেকে ফিরে আসবে না, যেরূপ নিক্ষিপ্ত তীর নিক্ষেপের স্থানে ফিরে আসে না। তারা সমস্ত মাখলূকের মাঝে এবং সমস্ত মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হবে। এরপর যারা তাদের হত্যা করবে, বা তাদের হাতে নিহত হবে- তারা সৌভাগ্যবান। তারা লোকদের আল্লাহর কিতাবের প্রতি আহবান করবে, কিন্তু এর (কুরআনের) সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। আমার উম্মতের মধ্যে যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, তারা আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়পাত্র হবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের পরিচয় কি? তিনি বলেনঃ তারা হবে মাথা মুণ্ডনকারী।

৪৬৯১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ : " سِيمَاهُمُ التَّحْلِيقُ وَالتَّسْبِيدُ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ فَأَنِيمُوهُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : التَّسْبِيدُ اسْتِئْصَالُ الشَّعْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬৯১. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তাদের পরিচয় হলো তারা হবে মস্তকমুণ্ডনকারী এবং চুল পরিষ্কারকারী। আর তোমরা যখন তাদের দেখবে, তখন অবশ্যই তাদের কতল করবে।

৪৬৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ : إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا فَلأَنْ أَخِرَّ مِنَ السَّمَاءِ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أَكْذِبَ عَلَيْهِ وَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ فَإِنَّمَا الْحَرْبُ خُدْعَةٌ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ قَوْلِ خَيْرِ الْبَرِيَّةِ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে গাফালা (রহঃ)

৪৬৯২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ......... সুওয়াদ ইবনে গাফলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন তাঁর হাদীস সম্পর্কে মিথ্যা বলার চাইতে আসমান থেকে পতিত হওয়াকে আমি শ্রেয় মনে করি। আর আমি যখন তোমাদের কাছে আমার নিজের পক্ষ থেকে কিছু বর্ণনা করি, তখন বুঝবে যে যুদ্ধের অপর নাম তো কৌশল অবলম্বন করা।

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ শেষ যামানায় এমন কিছু লোক জন্ম নেবে, যাদের বয়স কম হবে এবং বুদ্ধি ও কম হবে। তারা সমস্ত মাখলূকের মধ্যে উত্তম কথাবার্তা বলবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এরূপ বেরিয়ে যাবে, যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের গলার নীচে যাবে না। কাজেই তোমরা এ ধরনের লোকদের যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে। কেননা, যারা তাদের হত্যা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত এর সাওয়াব পেতে থাকবে।
৪৬৯৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ الْجُهَنِيُّ، : أَنَّهُ كَانَ فِي الْجَيْشِ الَّذِينَ كَانُوا مَعَ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ الَّذِينَ سَارُوا إِلَى الْخَوَارِجِ فَقَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ : أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَيْسَتْ قِرَاءَتُكُمْ إِلَى قِرَاءَتِهِمْ شَيْئًا وَلاَ صَلاَتُكُمْ إِلَى صَلاَتِهِمْ شَيْئًا وَلاَ صِيَامُكُمْ إِلَى صِيَامِهِمْ شَيْئًا، يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَحْسَبُونَ أَنَّهُ لَهُمْ وَهُوَ عَلَيْهِمْ، لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمْ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لَوْ يَعْلَمُ الْجَيْشُ الَّذِينَ يُصِيبُونَهُمْ مَا قُضِيَ لَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم لَنَكَلُوا عَلَى الْعَمَلِ، وَآيَةُ ذَلِكَ أَنَّ فِيهِمْ رَجُلاً لَهُ عَضُدٌ وَلَيْسَتْ لَهُ ذِرَاعٌ، عَلَى عَضُدِهِ مِثْلُ حَلَمَةِ الثَّدْىِ عَلَيْهِ شَعَرَاتٌ بِيضٌ " . أَفَتَذْهَبُونَ إِلَى مُعَاوِيَةَ وَأَهْلِ الشَّامِ وَتَتْرُكُونَ هَؤُلاَءِ يَخْلُفُونَكُمْ فِي ذَرَارِيِّكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَكُونُوا هَؤُلاَءِ الْقَوْمَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ سَفَكُوا الدَّمَ الْحَرَامَ، وَأَغَارُوا فِي سَرْحِ النَّاسِ فَسِيرُوا عَلَى اسْمِ اللَّهِ . قَالَ : سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ : فَنَزَّلَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ مَنْزِلاً مَنْزِلاً حَتَّى مَرَّ بِنَا عَلَى قَنْطَرَةٍ قَالَ فَلَمَّا الْتَقَيْنَا وَعَلَى الْخَوَارِجِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الرَّاسِبِيُّ فَقَالَ لَهُمْ : أَلْقُوا الرِّمَاحَ وَسُلُّوا السُّيُوفَ مِنْ جُفُونِهَا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يُنَاشِدُوكُمْ كَمَا نَاشَدُوكُمْ يَوْمَ حَرُورَاءَ قَالَ : فَوَحَّشُوا بِرِمَاحِهِمْ وَاسْتَلُّوا السُّيُوفَ وَشَجَرَهُمُ النَّاسُ بِرِمَاحِهِمْ - قَالَ - وَقَتَلُوا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضِهِمْ . قَالَ : وَمَا أُصِيبَ مِنَ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ رَجُلاَنِ فَقَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ : الْتَمِسُوا فِيهِمُ الْمُخْدَجَ فَلَمْ يَجِدُوا قَالَ : فَقَامَ عَلِيٌّ رضى الله عنه بِنَفْسِهِ حَتَّى أَتَى نَاسًا قَدْ قُتِلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ فَقَالَ : أَخْرِجُوهُمْ فَوَجَدُوهُ مِمَّا يَلِي الأَرْضَ فَكَبَّرَ وَقَالَ : صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ . فَقَامَ إِلَيْهِ عَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ فَقَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَقَدْ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِي وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ حَتَّى اسْتَحْلَفَهُ ثَلاَثًا وَهُوَ يَحْلِفُ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ওয়াহব (রহঃ)

৪৬৯৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে ওয়াহাব যুহানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ)-এর ঐ সেনাবাহিনীর সাথে ছিলাম, যারা খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য গিয়েছিল। তখন আলী (রাযিঃ) বলেনঃ হে লোকগণ! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা কুরআন এমন সুন্দরভাবে পড়বে যে, তাদের তুলনায় তোমাদের কিরাত কিছুই হবে না। তাদের নামাযের তুলনায় তোমাদের নামায কিছুই হবে না এবং তাদের রোযার তুলনায় তোমাদের রোযা কিছুই হবে না। বস্তুত তারা এ মনে করে কুরআন পড়ে যে, তারা এর সাওয়াব পাবে, কিন্তু আসলে তারা এর কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। তাদের নামায তাদের গলার নীচে নামবে না এবং তারা ইসলাম থেকে এরূপ বেরিয়ে যাবে, যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়।

যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাদের বিনিময় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তার নবীর যবাণীতে যা বর্ণনা করেছেন, তা যদি তারা জানতো, তবে তারা সব ধরনের আমল ছেড়ে দিত। তাদের পরিচয় এই যে, তাদের মাঝে এমন এক ব্যক্তি থাকবে, যার বাহুমূল থাকবে, কিন্তু তার হাত থাকবে না। তার সে বাহুতে স্তনের বোঁটার মত থাকবে, যার উপর সাদা পশম হবে। কী ব্যাপার! তোমরা মুআবিয়া এবং শামবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাচ্ছ, অথচ তোমরা তাদেরকে তোমাদের মাল ও সন্তান-সন্ততিদের কাছে রেখে যাচ্ছ! (যারা তাদের ক্ষতি করবে।) আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয়, এরাই তারা, (যাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন), যারা হারাম রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং লোকদের চারণভূমি লুন্ঠন করেছে। কাজেই, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমন কর।

রাবী সালামা ইবনে কুহায়ল (রাহঃ) বলেনঃ যায়দ ইবনে ওয়াহাব (রাহঃ) আমাকে এমন একস্থানে নিয়ে যান, যেখানে আমরা একটা পুলের উপর দিয়ে যাই; সেখানে দু’পক্ষের সৈন্যরা মুখোমুখি হয় এবং সেখানে খারিজীদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবও উপস্থিত ছিল। সে তার সেনাবাহিনীর প্রতি এরূপ নির্দেশ দেয়ঃ তোমরা বল্লম ফেলে দাও এবং খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা, আমার আশঙ্কা হচ্ছে, এরা তোমাদের সেরূপ বিচ্ছিন্ন করবে, যেরূপ ’হারুরার’* দিন করেছিল।

রাবী বলেনঃ তার এ নির্দেশ পাওয়ার পর সৈন্যরা তাদের বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি ধারণ করে। তখন মুসলমানরা বল্লম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তাদের হত্যা করে গাদা দিয়ে রাখে।

রাবী বলেনঃ এ দিনের যুদ্ধে আলী (রাযিঃ)-এর পক্ষে মাত্র দু’জন শহীদ হন। এরপর আলী (রাযিঃ) এরূপ নির্দেশ দেনঃ লাশের স্তুপের মধ্য থেকে মাখদাজ অর্থাৎ ছোট হাত-বিশিষ্ট ব্যক্তির লাশ বের কর। কিন্তু সৈন্যরা তার লাশের সন্ধান পায় না।

রাবী বলেনঃ অবশেষে আলী (রাযিঃ) সেখানে যান, যেখানে লাশ গাদা দেয়া ছিল এবং বলেনঃ এদের আলাদা করে রাখ। এরপর সমস্ত লাশকে আলাদা করে রাখার পর দেখা যায় যে, সে ব্যক্তির লাশ সবার নীচে মাটির উপর পড়ে আছে। এ সময় তিনি ’আল্লাহ আকবর’ ধ্বনি দিয়ে বলেনঃ মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূল তা আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। একথা শুনে উবাইদা সালমানী (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়া আমীরুল মু’মিনীন। ঐ জাতের কসম! যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, আপনি কি ইহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন? জবাবে তিনি বলেনঃ ঐ আল্লাহ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, আমি ইহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। বাকী তিনবার শপথপূর্বক এর জবাব দেন।

* ‘হারুরা' একটি স্থানের নাম যেখানে খারিজীরা সর্বপ্রথম একত্রিত হয়েছিল। এ সময় আলী (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-কে তাদের কাছে পাঠান বুঝাবার জন্য। ফলে, কিছু লোক তার কথা মানে এবং কতক অমান্য করে। এরপর তারা নাহরাওন নামক স্থানে গিয়ে একত্রিত হয়। - অনুবাদক
৪৬৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ جَمِيلِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْوَضِيءِ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ : اطْلُبُوا الْمُخْدَجَ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَاسْتَخْرَجُوهُ مِنْ تَحْتِ الْقَتْلَى فِي طِينٍ، قَالَ أَبُو الْوَضِيءِ : فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ حَبَشِيٌّ عَلَيْهِ قُرَيْطَقٌ لَهُ إِحْدَى يَدَيْنِ مِثْلُ ثَدْىِ الْمَرْأَةِ عَلَيْهَا شُعَيْرَاتٌ مِثْلُ شُعَيْرَاتِ الَّتِي تَكُونُ عَلَى ذَنَبِ الْيَرْبُوعِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৬৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ..... আবু ওযযী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাযিঃ) সে যুদ্ধের সময় বলেনঃ তোমরা মাখদাজকে অনুসন্ধান কর। এরপর তিনি এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন লোকেরা তার লাশকে মৃতদের লাশের নীচে যমীন থেকে উদ্ধার করে।

রাবী আবু ওযযী (রাহঃ) বলেনঃ আমি যেন এখনো তার লাশকে দেখছি। সে একটা হাবশী কুর্তা (জামা) পরে ছিল এবং তার একটা বাহু স্ত্রীলোকের স্তনের বোঁটার মত ছিল, যার উপর বুনো ইদুরের চুলের মত পশম ছিল।
৪৬৯৫

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : إِنْ كَانَ ذَلِكَ الْمُخْدَجَ لَمَعَنَا يَوْمَئِذٍ فِي الْمَسْجِدِ نُجَالِسُهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَكَانَ فَقِيرًا وَرَأَيْتُهُ مَعَ الْمَسَاكِينِ يَشْهَدُ طَعَامَ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ مَعَ النَّاسِ وَقَدْ كَسَوْتُهُ بُرْنُسًا لِي . قَالَ أَبُو مَرْيَمَ : وَكَانَ الْمُخْدَجُ يُسَمَّى نَافِعًا ذَا الثُّدَيَّةِ، وَكَانَ فِي يَدِهِ مِثْلُ ثَدْىِ الْمَرْأَةِ عَلَى رَأْسِهِ حَلَمَةٌ مِثْلُ حَلَمَةِ الثَّدْىِ عَلَيْهِ شُعَيْرَاتٌ مِثْلُ سِبَالَةِ السِّنَّوْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৬৯৫. বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... নু’আয়ম ইবনে হাকীম (রাহঃ) আবু মারয়াম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই মাখদাজ একদা আমাদের সাথে মসজিদে উপস্থিত ছিল এবং সে দিন-রাত মসজিদেই বসে থাকতো। সে ফকীর ছিল এবং আমি তাকে ফকীরদের সাথে আনতে দেখেছি। একদা আলী (রাযিঃ) যখন খানা খাচ্ছিলেন, তখন আমি তাকে একখানা কাপড় দেই।

রাবী আবু মারয়াম (রাহঃ) এ-ও বলেছেনঃ নাফি (রাহঃ) তার নাম দিয়েছিল- ’যূ-ছাদিয়া অর্থাৎ স্তন-বিশিষ্ট ব্যক্তি। কেননা, তার হাতে স্ত্রীলোকদের স্তনের মত স্তন ছিল। যার অগ্রভাগে স্ত্রীলোকদের স্তনের বোঁটার মত বোঁটাও ছিল এবং তার উপর বিড়ালের গোঁফের মত পশমও ছিল।

৩০. চোরদের মুকাবিলা করা সম্পর্কে।

باب فِي قِتَالِ اللُّصُوصِ

৪৬৯৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَسَنٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي، إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ أُرِيدَ مَالُهُ بِغَيْرِ حَقٍّ فَقَاتَلَ فَقُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৬৯৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মাল কেউ নাহকভাবে (চুরি করে) নিতে, আর সে ব্যক্তি চোরের মুকাবিলা করার সময় নিহত হয়, সে শহীদ হবে।

৪৬৯৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، - يَعْنِي أَبَا أَيُّوبَ الْهَاشِمِيَّ - عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ أَوْ دُونَ دَمِهِ أَوْ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৪৬৯৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা যাবে, সে শহীদ। আর যে ব্যক্তি নিজের সন্তান-সন্ততি বা নিজের জীবন অথবা দ্বীনের হিফাজত করতে গিয়ে নিহত হবে, সেও শহীদ।