كتاب اللباس

২৭. পোশাক-পরিচ্ছদের ইসলামী বিধান

অধ্যায় ২৭ · ১৩৭ টি হাদীস

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

৩৯৭৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ إِمَّا قَمِيصًا أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ " . قَالَ أَبُو نَضْرَةَ فَكَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَبِسَ أَحَدُهُمْ ثَوْبًا جَدِيدًا قِيلَ لَهُ تُبْلِي وَيُخْلِفُ اللَّهُ تَعَالَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৭৯. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন নতুন কাপড় পরতেন, তা জামা হোক বা পাগড়ী, তিনি তার নাম নিয়ে এ দুআ পড়তেনঃ (অর্থ) হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমারই। তুমি আমাকে এ পরিধান করিয়েছ। আমি তোমার নিকট এর বরকত এবং যার জন্য এ নির্মিত হয়েছে,তার বরকত প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট খারাবী যার জন্য এর তৈরী হয়েছে, অমঙ্গল হতে পানাহ চাচ্ছি।

রাবী আবু নযরা (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) সাহাবীদের এর অভ্যাস এই ছিল যে, যখন তাদের কেউ নতুন কাপড় পরিধান করতো, তখন লোকেরা তাকে বলতোঃ তুমি এই কাপড় পরিধান করে পুরান কর এবং আল্লাহ তোমাকে আরো নতুন কাপড় পরিধান করান।
৩৯৮০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৮০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবীর (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত আছে।

৩৯৮১

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ أَبَا سَعِيدٍ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৮১. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৯৮২

حَدَّثَنَا نُصَيْرُ بْنُ الْفَرَجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أَيُّوبَ - عَنْ أَبِي مَرْحُومٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ طَعَامًا ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ وَمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ " .

বর্ণনাকারী: মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী রাযি.

৩৯৮২. নাসীর ইবনে ফারাজ (রাহঃ) .... মু’আয ইবনে আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাওয়ার পর এ দুআ পাঠ করবেঃ (অর্থ) ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে খাওয়াইছেন এবং আমাকে এ রিযিক দিয়েছেন, আমার চেষ্টা ও শক্তি ব্যতিরেকে।’ তার জীবনের আগের পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

আর যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরিধান করে এ দুআ পড়বেঃ (অর্থ) সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে পড়িয়েছেন এবং এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আমার শক্তি ও চেষ্টা ছাড়া” তার আগের ও পরের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

১. নতুন কাপড় পরিধানকারীকে কী বলে সম্ভাষণ জানাবে?

باب مَا يَقُولُ إِذَا لَبِسَ ثَوْبًا جَدِيدًا

৩৯৮৩

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْجَرَّاحِ الأَذَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ خَالِدٍ بِنْتِ خَالِدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِكِسْوَةٍ فِيهَا خَمِيصَةٌ صَغِيرَةٌ فَقَالَ " مَنْ تَرَوْنَ أَحَقَّ بِهَذِهِ " . فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَقَالَ " ائْتُونِي بِأُمِّ خَالِدٍ " . فَأُتِيَ بِهَا فَأَلْبَسَهَا إِيَّاهَا ثُمَّ قَالَ " أَبْلِي وَأَخْلِقِي " . مَرَّتَيْنِ وَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَى عَلَمٍ فِي الْخَمِيصَةِ أَحْمَرَ أَوْ أَصْفَرَ وَيَقُولُ " سَنَاهْ سَنَاهْ يَا أُمَّ خَالِدٍ " . وَسَنَاهْ فِي كَلاَمِ الْحَبَشَةِ الْحَسَنُ .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ)

৩৯৮৩. ইসহাক ইবনে জাররাহ (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কয়েকটি কাপড় আসে, যার মধ্যে একটি ডোরা কাটা পশমী চাদরও ছিল। তখন বলেনঃ তোমরা কাকে এ চাদর পাওয়ার উপযুক্ত মনে কর? তখন সকলে চুপ করে থাকলে, তিনি বলেনঃ তোমরা উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তখন তাকে আনা হলে, তিনি তাকে সে চাদর পরিয়ে দেন এবং দু’বার এরূপ বলেনঃ তুমি একে পরিধান করে পুরানা করে ফেল। আর তিনি সে চাদরের লাল ও হলুদ রংয়ের ডোবার দিকে তাকিয়ে বলেনঃ সানাহ, সানাহ! হে উম্মু খালিদ! উত্তম কোন বস্তুকে হাবশী ভাষায় সানাহ বলা হয়। (অর্থাৎ বেশ, খুব সুন্দর, চমৎকার!)

২. কামীস সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْقَمِيصِ

৩৯৮৪
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ بْنِ خَالِدٍ الْحَنَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ أَحَبَّ الثِّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَمِيصُ .

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ ثَوْبٌ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَمِيصٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৯৮৪. ইবরাহীম ইবন মুসা (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সব চাইতে পছন্দনীয় কাপড় ছিল কামীস।

যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রাহ) .... উম্মু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জামার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় কোনো পোশাক ছিলো না
৩৯৮৫

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ كَانَتْ يَدُ كُمِّ قَمِيصِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الرُّصْغِ .

বর্ণনাকারী: আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)

৩৯৮৫. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামার আস্তিন কব্জি পর্যন্ত লম্বা ছিল।

৩. কাবা’-জামা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الأَقْبِيَةِ

৩৯৮৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، - الْمَعْنَى - أَنَّ اللَّيْثَ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - حَدَّثَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّهُ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبِيَةً وَلَمْ يُعْطِ مَخْرَمَةَ شَيْئًا فَقَالَ مَخْرَمَةُ يَا بُنَىَّ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ قَالَ ادْخُلْ فَادْعُهُ لِي قَالَ فَدَعَوْتُهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِ وَعَلَيْهِ قِبَاءٌ مِنْهَا فَقَالَ " خَبَأْتُ هَذَا لَكَ " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ - زَادَ ابْنُ مَوْهَبٍ - مَخْرَمَةُ - ثُمَّ اتَّفَقَا - قَالَ رَضِيَ مَخْرَمَةُ . قَالَ قُتَيْبَةُ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ لَمْ يُسَمِّهِ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৩৯৮৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেকগুলি ক্বাবা (জামা) বিতরণ করেন কিন্তু মাখরামাকে কিছু দেননি। তখন আমি তার সাথে যাই। তিনি সেখানে পৌঁছে আমাকে বলেনঃ তুমি ভেতরে যাও এবং তাঁকে আমার কাছে ডেকে আনো। মিসওয়ার বলেনঃ তখন আমি তাঁকে ডেকে আনি। তিনি ঐ ক্বাবা থেকে একটি জামা পরে বেরিয়ে আসেন এবং বলেনঃ আমি তোমার জন্য এটা লুকিয়ে রেখেছিলাম। রাবী বলেনঃ তখন মাখারামা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ মাখরামা সন্তুষ্ট হয়ে যায়।

৪. প্রচারের জন্য অহংকারী পোশাক পরা।

باب فِي لُبْسِ الشُّهْرَةِ

৩৯৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيسَى - عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنِ الْمُهَاجِرِ الشَّامِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - قَالَ فِي حَدِيثِ شَرِيكٍ يَرْفَعُهُ - قَالَ " مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ أَلْبَسَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَوْبًا مِثْلَهُ " . زَادَ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ " ثُمَّ تُلَهَّبُ فِيهِ النَّارُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গর্ব ও অহংকার প্রকাশের জন্য পোশাক পরিধান করে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ঐ ধরনের পোশাক পরাবেন, এরপর তাতে দোযখের আগুন লাগিয়ে দেবেন।

৩৯৮৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৮৮. মুসাদ্দা (রাহঃ) .... আবু আওয়ানা (রাযিঃ) এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে অসম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন।

৩৯৮৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي مُنِيبٍ الْجُرَشِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৮৯. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কওমের (সম্প্রদায়ের) অনুসরণ-অনুকরন করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।*

*অর্থাৎ এমন অনুসরণ ও অনুকরণ করা, যাতে কাফির ও মুসলমানের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি তাদের দলভুক্ত হিসাবে পরিগণিত হবে যাদের সে অনুসরণ করবে। যেমন বর্তমানে অনেক ফ্যাসান-পূজারীদের দেখা যায়, যারা দাঁড়ি লম্বা-লম্বা গোঁফ রাখে; যার ফলে তারা কাফির, মুশরিকদের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। অনেকে হিন্দু, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মত কাপড়ও পরিধান করে, যা তাদের অনুকরণের ফলশ্রুতি। নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন - (অনুবাদক)

৫. রেশম ও পশমের কাপড় পরিধান সম্পর্কে।

باب فِي لُبْسِ الصُّوفِ وَالشَّعْرِ

৩৯৯০

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، وَحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ . وَقَالَ حُسَيْنٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا . - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلاَءِ الزُّبَيْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَقِيلِ بْنِ مُدْرِكٍ عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ قَالَ اسْتَكْسَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَسَانِي خَيْشَتَيْنِ فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي وَأَنَا أَكْسَى أَصْحَابِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৯৯০. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন একখানি কালো ডোরাদার পশমী চাদর গায়ে দিয়ে বের হন।

রাবী হুসাইন (রাহঃ) উতবা ইবনে আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কাপড় চাইলে তিনি আমাকে পশমী কাতানের দু’খানি কাপড় প্রদান করেন, যা পরার পর অন্যদের থেকে আমাকে সুন্দর দেখাচ্ছিল।
৩৯৯১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ قَالَ لِي أَبِي يَا بُنَىَّ لَوْ رَأَيْتَنَا وَنَحْنُ مَعَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَصَابَتْنَا السَّمَاءُ حَسِبْتَ أَنَّ رِيحَنَا رِيحُ الضَّأْنِ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৩৯৯১. আমর ইবনে আওন (রঃ) .... আবু বুরদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে একদা আমার পিতা আমাকে সম্বোধন করে বলেনঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! যদি তুমি আমাদের সে সময় দেখতে, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করতাম, তবে তোমার মনে হত যে আমাদের শরীর থেকে বকরীর গন্ধ বের হচ্ছে।

৩৯৯২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ مَلِكَ، ذِي يَزَنَ أَهْدَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُلَّةً أَخَذَهَا بِثَلاَثَةٍ وَثَلاَثِينَ بَعِيرًا أَوْ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ نَاقَةً فَقَبِلَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৯২- আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে একদা যী-য়াযান বাদশাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য এক জোড়া কাপড় হাদিয়া স্বরূপ পেশ করেন, যা তিনি তেত্রিশটি উট বা উটের বিনিময়ে খরিদ করেন। তিনি তা কবুল করেন।

৩৯৯৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْتَرَى حُلَّةً بِبِضْعَةٍ وَعِشْرِينَ قَلُوصًا فَأَهْدَاهَا إِلَى ذِي يَزَنَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৯৯৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারিছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যী-য়াযান বাদশাহর জন্য বিশ থেকে অধিক উটয় বিনিময়ে একজোড়া কাপড় খরিদ করে হাদিয়া স্বরূপ প্রেরণ করেন।

৩৯৯৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - الْمَعْنَى - عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَأَخْرَجَتْ إِلَيْنَا إِزَارًا غَلِيظًا مِمَّا يُصْنَعُ بِالْيَمَنِ وَكِسَاءً مِنَ الَّتِي يُسَمُّونَهَا الْمُلَبَّدَةَ فَأَقْسَمَتْ بِاللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُبِضَ فِي هَذَيْنِ الثَّوْبَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৩৯৯৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু বুরদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদিন আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি একখানি মোটা কাপড়ের লুঙ্গী এবং একটি কম্বল যাকে মুলাববাদা বলা হয়, আমাকে দেখিয়ে শপথ করে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় ইনতিকাল করেন।

৩৯৯৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ أَبُو ثَوْرٍ الْكَلْبِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ بْنِ الْقَاسِمِ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا خَرَجَتِ الْحَرُورِيَّةُ أَتَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - فَقَالَ ائْتِ هَؤُلاَءِ الْقَوْمَ . فَلَبِسْتُ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنْ حُلَلِ الْيَمَنِ - قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَجُلاً جَمِيلاً جَهِيرًا - قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَتَيْتُهُمْ فَقَالُوا مَرْحَبًا بِكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ مَا هَذِهِ الْحُلَّةُ قَالَ مَا تَعِيبُونَ عَلَىَّ لَقَدْ رَأَيْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنَ الْحُلَلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৯৯৫. ইবরাহীম ইবনে খালিদ(রঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন হারূরী গোত্রের লোকেরা (আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য) বের হয়, তখন আমি আলী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হই। তিনি বলেনঃ তুমি এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাও। তখন আমি ইয়ামানের তৈরী উত্তম পোশাক পরে বের হই।

রাবী আবু যুমায়ল (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সুন্দর ও সুশ্রী ব্যক্তি ছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ যখন আমি তাদের কাছে পৌছাই, তখন তারা বলেঃ হে ইবনে আব্বাস! তোমার জন্য মুবারকবাদ! তুমি এ কী পরেছ? তিনি বলেনঃ তোমরা এ পোশাক পরার জন্য আমাদের বিদ্রূপ করছ! আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এর চাইতে উত্তম পোশাকও পরিধান করতে দেখেছি।

৬. মোটা রেশমী বস্ত্র বা গরদ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْخَزِّ

৩৯৯৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَنْمَاطِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَخْبَرَنِي أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً بِبُخَارَى عَلَى بَغْلَةٍ بَيْضَاءَ عَلَيْهِ عِمَامَةُ خَزٍّ سَوْدَاءُ فَقَالَ كَسَانِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . هَذَا لَفْظُ عُثْمَانَ وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৯৯৬. উসমান ইবনে মুহাম্মাদ (রঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি বুখারাতে কাল রেশমী পাগড়ী পরিহিত, সাদা রংয়ের গাধার উপর উপবিষ্ট, এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই। যিনি বলেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পাগড়ী পরিয়ে দেন।

৩৯৯৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا عَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ غَنْمٍ الأَشْعَرِيَّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ، أَوْ أَبُو مَالِكٍ - وَاللَّهِ يَمِينٌ أُخْرَى مَا كَذَبَنِي - أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْخَزَّ وَالْحَرِيرَ " . وَذَكَرَ كَلاَمًا قَالَ " يُمْسَخُ مِنْهُمْ آخَرُونَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৯৯৭. আব্দুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রঃ) .... আবু আমির বা আবু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শোনেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে (পরবর্তীকালে) এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা রেশম মিশ্রিত বা শুধু রেশমের তৈরী কাপড় (ব্যবহার করাকে) হালাল মনে করবে। এরপর তিনি অন্য কিছু বর্ণনা করার পর বলেনঃ এদের কিছু লোক কিয়ামত পর্যন্ত বানর ও শুকরে রূপান্তরিত হবে।

৭. রেশমী পোশাক পরিধান সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ

৩৯৯৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ تُبَاعُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ " . ثُمَّ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ فَأَعْطَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَوْتَنِيهَا وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدٍ مَا قُلْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . فَكَسَاهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَخًا لَهُ مُشْرِكًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৯৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) মসজিদের দরজার নিকট এক জোড়া রেশমী কাপড় বিক্রি হতে দেখে বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি এ খরিদ করে জুমআর দিন আর যখন বিভিন্ন গোত্রের অধিপতিরা আপনার সামনে সাক্ষাতের জন্য আসে, তখন পরিধান করতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ সব কাপড় তো তারাই ব্যবহার করে যাদের আখিরাতে কিছুই প্রাপ্য নেই।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ জাতিয় কিছু কাপড় আসলে, তিনি উমর (রাযিঃ)-কে এর একজোড়া কাপড় দেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে এর এক জোড়া প্রদান করলেন, অথচ আপনি উতারিদ ইবনে হাজিব (এক ব্যক্তির নাম) এর কাপড় জোড়া সম্পর্কে এরূপ বিরূপ মন্তব্য করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাকে এ কাপড় জোড়া পরার জন্য দেইনি। তখন উমর (রাযিঃ) ঐ কাপড় জোড়া তার এক মুশরিক ভাই (উছমান ইবনে হাকীম) কে দিয়ে দেন।
৩৯৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ حُلَّةَ إِسْتَبْرَقٍ . وَقَالَ فِيهِ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهِ بِجُبَّةِ دِيبَاجٍ وَقَالَ " تَبِيعُهَا وَتُصِيبُ بِهَا حَاجَتَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৯৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তার পিতা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ঐ কাপড়ের জোড়া এক ধরনের রেশমের তৈরী ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেনঃ নবী (ﷺ) তার কাছে এক জোড়া রেশমী কাপড় প্রেরণ করে বলেনঃ তুমি এটি বিক্রি করে তোমার প্রয়োজন পূরণ কর।

৪০০০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ كَتَبَ عُمَرُ إِلَى عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحَرِيرِ إِلاَّ مَا كَانَ هَكَذَا وَهَكَذَا أُصْبُعَيْنِ وَثَلاَثَةً وَأَرْبَعَةً .

বর্ণনাকারী: আবু উসমান নাহদী (রহঃ)

৪০০০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রঃ) .... আবু উছমান নাহদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) উতবা ইবনে ফারহাদ (রাযিঃ)-কে লেখেন যে নবী (ﷺ) রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তবে দুই, তিন বা চার আঙ্গুল পরিমাণ ব্যবহারে কোন ক্ষতি নেই।

৪০০১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ أُهْدِيَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُلَّةٌ سِيَرَاءُ فَأَرْسَلَ بِهَا إِلَىَّ فَلَبِسْتُهَا فَأَتَيْتُهُ فَرَأَيْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ وَقَالَ " إِنِّي لَمْ أُرْسِلْ بِهَا إِلَيْكَ لِتَلْبَسَهَا " . وَأَمَرَنِي فَأَطَرْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০১. সুলাইমান ইবনে হারব (রঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হাদিয়া স্বরূপ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক জোড়া রেশমী কাপড় আসলে, তিনি তা আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। আমি তা পরিধান করে তার নিকট উপস্থিত হলে আমি তার চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখতে পাই। তখন তিনি বলেন, আমি এটা তোমার পরিধান করার জন্য পাঠাইনি। পরে তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে তা আমি আমার স্ত্রীদের মাঝে বিতরণ করে দেই।

৮. রেশমী কাপড় পরিধানে নিষেধাজ্ঞা।

باب مَنْ كَرِهَهُ

৪০০২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ لُبْسِ الْمُعَصْفَرِ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنِ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০২. কা’নবী (রঃ) .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (পুরুষদের জন্য) রেশমী বস্ত্র, হলুদ রংয়ের কাপড়, সোনার আংটি ও রুকুতে কিরাত পড়তে নিষেধ করেছেন।

৪০০৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي الْمَرْوَزِيَّ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا قَالَ عَنِ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০৩. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাযিঃ) .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি রুকু ও সিজদার মধ্যে কিরাত পড়তে নিষেধ করেছেন।

৪০০৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، بِهَذَا زَادَ وَلاَ أَقُولُ نَهَاكُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে এতটুকু অতিরিক্ত আছে যে, “আমি বলছি না যে, তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন।”

৪০০৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ مَلِكَ الرُّومِ، أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقَةً مِنْ سُنْدُسٍ فَلَبِسَهَا فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يَدَيْهِ تَذَبْذَبَانِ ثُمَّ بَعَثَ بِهَا إِلَى جَعْفَرٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . قَالَ فَمَا أَصْنَعُ بِهَا قَالَ أَرْسِلْ بِهَا إِلَى أَخِيكَ النَّجَاشِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোমের বাদশাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য হাদিয়া স্বরূপ একটি রেশমী-চোগা (এক ধরনের জামা) প্রেরণ করেন। তিনি তা পরিধান করেন, যা পরিধানের পর তাঁর হাত হেলানের দৃশ্য এখনও আমার চোখে উদ্ভাসিত। পরে তিনি তা জা’ফর (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তা পরিধান করে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেনঃ আমি এটা তোমার পরার জন্য দেয়নি। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তবে এটা কি করবো? তিনি বলেনঃ তুমি এটা তোমার ভাই নাজাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।

৪০০৬

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ أَرْكَبُ الأُرْجُوَانَ وَلاَ أَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ وَلاَ أَلْبَسُ الْقَمِيصَ الْمُكَفَّفَ بِالْحَرِيرِ " . قَالَ وَأَوْمَأَ الْحَسَنُ إِلَى جَيْبِ قَمِيصِهِ . قَالَ وَقَالَ " أَلاَ وَطِيبُ الرِّجَالِ رِيحٌ لاَ لَوْنَ لَهُ أَلاَ وَطِيبُ النِّسَاءِ لَوْنٌ لاَ رِيحَ لَهُ " . قَالَ سَعِيدٌ أُرَاهُ قَالَ إِنَّمَا حَمَلُوا قَوْلَهُ فِي طِيبِ النِّسَاءِ عَلَى أَنَّهَا إِذَا خَرَجَتْ فَأَمَّا إِذَا كَانَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا فَلْتَطَّيَّبْ بِمَا شَاءَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪০০৬. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি লাল রংের জীনের উপর আরোহণ করি না, কুসুম (হলুদ) রংের কাপড় পরিধান করিনা এবং এমন জামা ব্যবহার করি না যার সাথে রেশম মিশ্রিত থাকে। তিনি আরো বলেনঃ পুরুষের খোশবু হলো এমন যাতে সুগন্ধি থাকবে, কিন্তু রং থাকবেনা এবং মহিলাদের খোশবু হবে রং বিশিষ্ট, তবে সুগন্ধ হীন।

রাবী সাঈদ (রাযিঃ) বলেনঃ মহিলাদের জন্য এ নির্দেশ তখন, যখন তারা বাইরে বের হবে। কিন্তু যখন তারা স্বামীর সাথে থাকবে, তখন তারা খুশীমত যে কোন খোশবু ব্যবহার করতে পারবে।
৪০০৭

عَنْ أَبِي الْحُصَيْنِ، - يَعْنِي الْهَيْثَمَ بْنَ شَفِيٍّ - قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَصَاحِبٌ، لِي يُكْنَى أَبَا عَامِرٍ - رَجُلٌ مِنَ الْمَعَافِرِ - لِنُصَلِّيَ بِإِيلْيَاءَ وَكَانَ قَاصَّهُمْ رَجُلٌ مِنَ الأَزْدِ يُقَالُ لَهُ أَبُو رَيْحَانَةَ مِنَ الصَّحَابَةِ قَالَ أَبُو الْحُصَيْنِ فَسَبَقَنِي صَاحِبِي إِلَى الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَدِفْتُهُ فَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَسَأَلَنِي هَلْ أَدْرَكْتَ قَصَصَ أَبِي رَيْحَانَةَ قُلْتُ لاَ . قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَشْرٍ عَنِ الْوَشْرِ وَالْوَشْمِ وَالنَّتْفِ وَعَنْ مُكَامَعَةِ الرَّجُلِ الرَّجُلَ بِغَيْرِ شِعَارٍ وَعَنْ مُكَامَعَةِ الْمَرْأَةِ الْمَرْأَةَ بِغَيْرِ شِعَارٍ وَأَنْ يَجْعَلَ الرَّجُلُ فِي أَسْفَلِ ثِيَابِهِ حَرِيرًا مِثْلَ الأَعَاجِمِ أَوْ يَجْعَلَ عَلَى مَنْكِبَيْهِ حَرِيرًا مِثْلَ الأَعَاجِمِ وَعَنِ النُّهْبَى وَرُكُوبِ النُّمُورِ وَلُبُوسِ الْخَاتَمِ إِلاَّ لِذِي سُلْطَانٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০০৭. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আবুল হুসাইন হায়ছাম ইবনে শাকী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার সঙ্গীর সাথে, যার কুনিয়াত ছিল আবু আমির এবং সে ছিল মুআফির গোত্রের লোক, বায়তুল মুকাদ্দাসে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে গমন করি। তখন আযদ গোত্রের আবু রায়হারা (রাযিঃ) নামক এক সাহাবী সেখানকার ওয়ায-নসীহতকারী ছিল।

রাবী আবুল হুসাইন (রাহঃ) বলেন, আমার সাথী প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে, তারপর আমি করি এবং তার পাশে গিয়ে বসি। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি আবু রায়হান (রাযিঃ) এর বক্তৃতা শুনেছ? আমি বলিঃ না। তখন তিনি বলেনঃ আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলোঃ

১) দাঁত ধারালো করতে,
২) চামড়ার উপর সুচ দিয়ে খোদায় করতে,
৩) চুল উপড়াতে,
৪) দু’জন পুরুষের বিবস্ত্র অবস্থায় একই চাদরের নীচে শয়ন করতে,
৫) দু’জন স্ত্রীলোকের বিবস্ত্র অবস্থায় একই চাদরের নীচে শুতে,
৬) অনারবদের মত কোন ব্যক্তিকে নিজের কাপড়ের নীচে রেশম লাগাতে,
৭) আজমীদের মত কাঁধে রেশম লাগাতে,
৮) লুট-তরাজ করতে,
৯) হিংস্র জন্তুর চামড়ার উপর সওয়ার হতে এবং
১০) বাদশাহ ব্যতীত অন্যদের আংটি পরিধান করতে।
৪০০৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ نَهَى عَنْ مَيَاثِرِ الأُرْجُوَانِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০৮. ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) লাল রংয়ের জিন-পোশ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

৪০০৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ وَعَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০০৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোনার আংটি ও রেশমের বস্ত্র পরিধান করতে লাল জিন-পোশের উপর সওয়ার হতে নিষেধ করেছেন।

৪০১০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي خَمِيصَةٍ لَهَا أَعْلاَمٌ فَنَظَرَ إِلَى أَعْلاَمِهَا فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ " اذْهَبُوا بِخَمِيصَتِي هَذِهِ إِلَى أَبِي جَهْمٍ فَإِنَّهَا أَلْهَتْنِي آنِفًا فِي صَلاَتِي وَأْتُونِي بِأَنْبِجَانِيَّتِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو جَهْمِ بْنُ حُذَيْفَةَ مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০১০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি নকশাওয়ালা চাদর গায়ে দিয়ে নামায আদায় করেন, যার কারুকার্যের প্রতি দৃষ্টি তার আকৃষ্ট হয়। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার এ চাদরটি নিয়ে জাহমের নিকট যাও এবং তার নিকট হতে সাদা চাদর আনো; কেননা, এর কারুকার্য আমার নামাযের মধ্যে অমনোযোগিতার সৃষ্টি করেছে।

৪০১০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، نَحْوَهُ وَالأَوَّلُ أَشْبَعُ ‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

উসমান ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত। তবে প্রথম বর্ণনাটি অধিক শুদ্ধ।

৯. রেশমী সেলাই ও কারুকার্যের অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب الرُّخْصَةِ فِي الْعَلَمِ وَخَيْطِ الْحَرِيرِ

৪০১১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ أَبُو عُمَرَ، مَوْلَى أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ فِي السُّوقِ اشْتَرَى ثَوْبًا شَامِيًّا فَرَأَى فِيهِ خَيْطًا أَحْمَرَ فَرَدَّهُ فَأَتَيْتُ أَسْمَاءَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهَا فَقَالَتْ يَا جَارِيَةُ نَاوِلِينِي جُبَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَأَخْرَجَتْ جُبَّةَ طَيَالِسَةَ مَكْفُوفَةَ الْجَيْبِ وَالْكُمَّيْنِ وَالْفَرْجَيْنِ بِالدِّيبَاجِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৪০১১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমর (রাহঃ) যিনি আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) এর দাসী ছিলেন, তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বাজার থেকে একখানি শাল খরিদ করতে দেখি। তিনি তাতে একটি লাল রংয়ের রেশমী সূতা দেখে তা ফিরিয়ে দেন। তা দেখে আমি আসমা (রাযিঃ) এর নিকট এসে এ সম্পর্কে বর্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ হে দাসী! তুমি আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জুব্বাটি (জামাটি) আনো। তখন সে একটি কম কারুকার্য খচিত জুব্বা আনে, যার পকেট, আস্তীন এবং সামনে পিছনে রেশমের কাজ করা ছিল।

৪০১২

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الثَّوْبِ الْمُصْمَتِ مِنَ الْحَرِيرِ فَأَمَّا الْعَلَمُ مِنَ الْحَرِيرِ وَسَدَى الثَّوْبِ فَلاَ بَأْسَ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০১২ (ক). ইবনে নুফায়ল (রঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খালিস রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তবে যে বস্ত্রের বুটি বা তার তানা রেশমের তা ব্যবহারে কোন ক্ষতি নেই।

পরিচ্ছেদঃ ১০. কোন কারণবশত রেশমী কাপড় পরিধান করা।

باب فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ لِعُذْرٍ

৪০১২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَلِلزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ فِي قُمُصِ الْحَرِيرِ فِي السَّفَرِ مِنْ حِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০১২ (খ). নুফায়লী (রঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ এবং যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাযিঃ)-কে কোন এক সফরে, তাদের পাঁচড়া হওয়ার কারণে, রেশমী কাপড় পড়ার অনুমতি দেন।

১১. মহিলাদের খালিস রেশমী বস্ত্র পরিধান করা।

باب فِي الْحَرِيرِ لِلنِّسَاءِ

৪০১৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي أَفْلَحَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ، - يَعْنِي الْغَافِقِيَّ - أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - يَقُولُ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ حَرِيرًا فَجَعَلَهُ فِي يَمِينِهِ وَأَخَذَ ذَهَبًا فَجَعَلَهُ فِي شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০১৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একবার ডান হাতে রেশমী বস্ত্র এবং বাম হাতে সোনা নিয়ে বলেনঃ এ দুটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।

৪০১৪

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَكَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، رَأَى عَلَى أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُرْدًا سِيَرَاءَ . قَالَ وَالسِّيَرَاءُ الْمُضَلَّعُ بِالْقَزِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০১৪. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উম্মু কুলছুম বিনতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে রেশমী পাড়ওয়ালা চাদর ব্যবহার করতে দেখেছি।

৪০১৫

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، - يَعْنِي الزُّبَيْرِيَّ - حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا نَنْزِعُهُ عَنِ الْغِلْمَانِ، وَنَتْرُكُهُ، عَلَى الْجَوَارِي . قَالَ مِسْعَرٌ فَسَأَلْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ عَنْهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০১৫. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ছেলেদের থেকে রেশমী কাপড় ছিনিয়ে মেয়েদের পরতে দিতাম। রাবী মিসআর (রাহঃ) বলেনঃ আমি এ ব্যাপারে আমর ইবনে দীনার (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তিনি এ সম্পর্কে কিছু অবহিত নন।

৪০১৬

حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ قُلْنَا لأَنَسٍ - يَعْنِي ابْنَ مَالِكٍ - أَىُّ اللِّبَاسِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَعْجَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْحِبَرَةُ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৪০১৬ হুদবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ নবী (ﷺ) কোন ধরনের পোশাক অধিক প্রিয় ছিল? অথবা তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন? তিনি বলেনঃ “হিবারা” অর্থাৎ ইয়ামানের তৈরী সবুজ ডোরা বিশিষ্ট চাদর।

১৩. সাদা কাপড় সম্পর্কে।

باب فِي الْبَيَاضِ

৪০১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا خَيْرُ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَإِنَّ خَيْرَ أَكْحَالِكُمُ الإِثْمِدُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০১৭. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় ব্যবহার করবে; কেননা তা উত্তম কাপড় এবং মৃতদের কাফন সাদা কাপড়ে দিয়ে দেবে। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ‘ইছমাদ’, যা দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে এর তার দ্বারা পলকের পশম উৎপন্ন হয়।

১৪. কাপড়-চোপড় ধুয়ে পরিস্কার রাখা।

باب فِي غَسْلِ الثَّوْبِ وَفِي الْخُلْقَانِ

৪০১৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، نَحْوَهُ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى رَجُلاً شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ " أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ " . وَرَأَى رَجُلاً آخَرَ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ فَقَالَ " أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০১৮. নুফায়লী (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এসে এক ব্যক্তির মাথার চুল আলু থালু দেখে বলেনঃ এ ব্যক্তির কি চুল আঁচড়ানোর মত কিছু নেই। অপর এক ব্যক্তির পরিধানে ময়লা কাপড় দেখে বলেনঃ সে কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য পানি পায় না।

৪০১৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي ثَوْبٍ دُونٍ فَقَالَ " أَلَكَ مَالٌ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " مِنْ أَىِّ الْمَالِ " . قَالَ قَدْ أَتَانِيَ اللَّهُ مِنَ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ وَالْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ . قَالَ " فَإِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثَرُ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

৪০১৯. নুফায়লী (রাহঃ) .... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদিন আমি নবী (ﷺ) এর নিকট ময়লা কাপড় পরে গেলে, তিনি বলেনঃ তুমি কি মালদার নও? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কোন ধরনের মালের অধিকারী? জবাবে তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ আমাকে উট, বকরী, ঘোড়ার পাল, গোলাম দান করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন আল্লাহ তোমাকে মালদার করেছেন, তখন তাঁর নিআমত ও কারামতের নিদর্শন তোমার মাঝে প্রকাশ পাওয়া উচিত।

১৫. হলুদ রং দ্বারা রঞ্জিত করা।

باب فِي الْمَصْبُوغِ بِالصُّفْرَةِ

৪০২০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَسْلَمَ - أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَصْبُغُ لِحْيَتَهُ بِالصُّفْرَةِ حَتَّى تَمْتَلِئَ ثِيَابُهُ مِنَ الصُّفْرَةِ فَقِيلَ لَهُ لِمَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْبُغُ بِهَا وَلَمْ يَكُنْ شَىْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْهَا وَقَدْ كَانَ يَصْبُغُ بِهَا ثِيَابَهُ كُلَّهَا حَتَّى عِمَامَتَهُ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

৪০২০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) হলুদ রং দিয়ে তাঁর দাড়ি রঞ্জিত করতেন, যার ফলে তাঁর কাপড়-চোপড় হলুদ বর্ণ ধারণ করতো। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ আপনি কেন এভাবে রঞ্জিত করেন? তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ দিয়ে রংীন করতে দেখেছি। আর এ রং তাঁর কাছে খুবই প্রিয় ছিল এবং তিনি এ রং দিয়ে নিজের সমস্ত কাপড়-চোপড়, এমনকি পাগড়ী ও রঞ্জিত করতেন।

১৬. সবুজ রং সম্পর্কে।

باب فِي الْخُضْرَةِ

৪০২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ إِيَادٍ - حَدَّثَنَا إِيَادٌ، عَنْ أَبِي رِمْثَةَ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي نَحْوَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُ عَلَيْهِ بُرْدَيْنِ أَخْضَرَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আবু রিমসা তায়মী (রাঃ)

৪০২১. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবুল রামছা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমি আমার পিতার সাথে গিয়ে নবী (ﷺ)কে দুটি সবুজ রংয়ের চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই।

১৭. লাল রং সম্পর্কে।

باب فِي الْحُمْرَةِ

৪০২২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ هَبَطْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثَنِيَّةٍ فَالْتَفَتَ إِلَىَّ وَعَلَىَّ رَيْطَةٌ مُضَرَّجَةٌ بِالْعُصْفُرِ فَقَالَ " مَا هَذِهِ الرَّيْطَةُ عَلَيْكَ " . فَعَرَفْتُ مَا كَرِهَ فَأَتَيْتُ أَهْلِي وَهُمْ يَسْجُرُونَ تَنُّورًا لَهُمْ فَقَذَفْتُهَا فِيهِ ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا فَعَلَتِ الرَّيْطَةُ " . فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " أَلاَ كَسَوْتَهَا بَعْضَ أَهْلِكَ فَإِنَّهُ لاَ بَأْسَ بِهِ لِلنِّسَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০২২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা এবং দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একটি টিলা থেকে অবতরণ কালে, তিনি আমার প্রতি লক্ষ্য করেন। এসময় আমার গায়ে একটি কুসুম রংয়ের চাদর ছিল। তখন তিনি বলেনঃ তুমি এ কি ধরণের চাদর পরেছ? আমি তাঁর কথার মধ্যে নারাজীর আভাস পাই। আমি সে সময় ঘরে ফিরি, যখন গৃহবাসীরা চুলা জ্বালিয়ে (রান্না বান্না) করছিল; তখন আমি সেটি আগুনে নিক্ষেপ করি। পরদিন আমি যখন তাঁর কাছে হাযির হই, তখন তিনি বলেনঃ হে আব্দুল্লাহ! তুমি সে চাদরটি কি করেছ? আমি তাঁকে এ ব্যাপারে খবর দিলে, তিনি বলেনঃ তুমি এটা তোমার স্ত্রীকে কেন দিলেনা? কেননা, এটি ব্যবহারে মহিলাদের কোন ক্ষতি নেই।

৪০২৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ هِشَامٌ - يَعْنِي ابْنَ الْغَازِ - الْمُضَرَّجَةُ الَّتِي لَيْسَتْ بِمُشَبَّعَةٍ وَلاَ الْمُوَرَّدَةُ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনুল গায (রহঃ)

৪০২৩. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... হিশাম ইবনে গায (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) যে চাদর পরে ছিলেন, তা অধিক লাল বা সম্পূর্ণ গোলাপী রংয়ের ছিল না; বরং তা এ দুয়ের মাঝামাঝি রংয়ের।

৪০২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ شُفْعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ أَبُو عَلِيٍّ اللُّؤْلُؤِيُّ أُرَاهُ - وَعَلَىَّ ثَوْبٌ مَصْبُوغٌ بِعُصْفُرٍ مُوَرَّدٍ فَقَالَ " مَا هَذَا " . فَانْطَلَقْتُ فَأَحْرَقْتُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا صَنَعْتَ بِثَوْبِكَ " . فَقُلْتُ أَحْرَقْتُهُ . قَالَ " أَفَلاَ كَسَوْتَهُ بَعْضَ أَهْلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ثَوْرٌ عَنْ خَالِدٍ فَقَالَ مُوَرَّدٌ وَطَاوُسٌ قَالَ مُعَصْفَرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০২৪. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান দিমাশকী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখেন। আবুল আলী (রাহঃ) বলেনঃ তাকে দেখেন এ অবস্থায় যে, তাঁর পরনে কুসুম রংয়ের একটি কাপড় ছিল। তখন তিনি বলেনঃ এটা কি? আমি বাড়ি গিয়ে তা আগুনে ভস্মীভূত করে ফেলি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তোমার কাপড়টি কি করেছ? আমি বলিঃ তা জ্বালিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেনঃ তুমি এটি তোমার কোন স্ত্রীকে কেন দিলে না?

৪০২৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُزَابَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ مَنْصُورٍ - حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ مَرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَحْمَرَانِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০২৫. মুহাম্মাদ ইবনে খাযাবা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার জনৈক ব্যক্তি দুটি লাল রংয়ের কাপড় পরে নবী (ﷺ) এর পাশ দিয়ে গমনকালে তাঁকে সালাম করেন। কিন্তু নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব দেননি।

৪০২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ، - يَعْنِي ابْنَ كَثِيرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي حَارِثَةَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَوَاحِلِنَا وَعَلَى إِبِلِنَا أَكْسِيَةً فِيهَا خُيُوطُ عِهْنٍ حُمْرٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أَرَى هَذِهِ الْحُمْرَةَ قَدْ عَلَتْكُمْ " . فَقُمْنَا سِرَاعًا لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَفَرَ بَعْضُ إِبِلِنَا فَأَخَذْنَا الأَكْسِيَةَ فَنَزَعْنَاهَا عَنْهَا .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৪০২৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... রাফি’ ইবনে খাদিজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হই, এ সময় তিনি আমাদের উটের পালানের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, যার উপর পশমের তৈরী লাল রংয়ের দাগ বিশিষ্ট জীনপোশ ছিল। তা দেখে তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদের উপর লাল রংয়ের প্রাধান্য দেখছি না? আমরা তাঁর এ কথা শুনে এত দ্রুত দাঁড়িয়ে যাই যে, তাতে কোন কোন উট ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর আমরা জীনপোশ পালান থেকে সরিয়ে ফেলি।

৪০২৭

حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنِي أَبِي، - قَالَ ابْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ وَقَرَأْتُ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ - قَالَ حَدَّثَنِي ضَمْضَمٌ - يَعْنِي ابْنَ زُرْعَةَ - عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ حُرَيْثِ بْنِ الأَبَحِّ السَّلِيحِيِّ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ قَالَتْ كُنْتُ يَوْمًا عِنْدَ زَيْنَبَ امْرَأَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَصْبُغُ ثِيَابًا لَهَا بِمَغْرَةٍ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى الْمَغْرَةَ رَجَعَ فَلَمَّا رَأَتْ ذَلِكَ زَيْنَبُ عَلِمَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَرِهَ مَا فَعَلَتْ فَأَخَذَتْ فَغَسَلَتْ ثِيَابَهَا وَوَارَتْ كُلَّ حُمْرَةٍ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجَعَ فَاطَّلَعَ فَلَمَّا لَمْ يَرَ شَيْئًا دَخَلَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০২৭. ইবনে আওফ তায়ী (রাহঃ) .... হুরায়ছ ইবনে আবাজ সুলায়হী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আসাদ গোত্রের জনৈকা মহিলা বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী যয়নাব (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম, আর আমরা তাঁর কাপড় গেরুয়া রংে রংীন করে দিতাম। আমরা এ অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট উপস্থিত হন। তিনি গেরুয়া রং দেখে ফিরে যান। যয়নাব (রাযিঃ) এ অবস্থা দেখে বুঝতে পারেন যে, তিনি যা করেছেন, তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাখোশ হয়েছেন। তখন তিনি তাঁর কাপড় নিয়ে সে লাল রং ধুয়ে ফেলেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এসে যখন দেখেন যে, ঐ রংয়ের কিছুই অবশিষ্ট নেই, তখন তিনি গৃহে প্রবেশ করেন।

১৮. লাল রং ব্যবহারের অমুমতি।

باب فِي الرُّخْصَةِ

৪০২৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُ شَعْرٌ يَبْلُغُ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ وَرَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ لَمْ أَرَ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪০২৮. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল এবং আমি কাউকে তাঁর চাইতে অধিক সুন্দর দেখিনি।

৪০২৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى يَخْطُبُ عَلَى بَغْلَةٍ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ أَحْمَرُ وَعَلِيٌّ - رضى الله عنه - أَمَامَهُ يُعَبِّرُ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হিলাল ইবনে আমের (রহঃ)

৪০২৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হিলাল ইবনে আমির (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মিনাতে খচ্চরের পিঠ হতে খুতবা দেওয়ার সময় তাঁর গায়ে একটি লাল রংের চাদর দেখি। এ সময় আলী (রাযিঃ) তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তা লোকদের কাছে পৌছে দিচ্ছিলেন।

১৯. কাল রং সম্পর্কে।

باب فِي السَّوَادِ

৪০৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ صَنَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُرْدَةً سَوْدَاءَ فَلَبِسَهَا فَلَمَّا عَرَقَ فِيهَا وَجَدَ رِيحَ الصُّوفِ فَقَذَفَهَا . قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَالَ وَكَانَ تُعْجِبُهُ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৩০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নবী (ﷺ) এর জন্য আমি একটি চাদর কাল রংে রাঙিয়ে দেই, তিনি তা পরিধান করেন। পরে ঘামে ভিজে তা থেকে পশমের গন্ধ বের হওয়ায়, তিনি তা ফেলে দেন। রাবী বলেনঃ নবী (ﷺ) এর নিকট খুশবু খুবই প্রিয় ছিল।

২০. কাপড়ের পাশে ঝালর সম্পর্কে।

باب فِي الْهُدْبِ

৪০৩১

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ أَبِي خِدَاشٍ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمٍ - قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْتَبٍ بِشَمْلَةٍ وَقَدْ وَقَعَ هُدْبُهَا عَلَى قَدَمَيْهِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৩১. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখি যে, তিনি একটি চাদর জড়িয়ে আছেন এবং এর ঝালর তাঁর দু’পায়ের উপর পড়েছে।

২১. পাগড়ী সম্পর্কে।

باب فِي الْعَمَائِمِ

৪০৩২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৩২. আবু ওয়লীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিজয়ের বছর যখন মক্কাতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় কাল পাগড়ী ছিল।

৪০৩৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُسَاوِرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ قَدْ أَرْخَى طَرَفَيْهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবন হুরায়স (রাঃ)

৪০৩৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আমর ইবনে হুরায়ছ (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ)কে মিম্বরের উপর দেখি এ সময় তিনি কাল পাগড়ী পরিধান করেন; যার পার্শ্বদেশ তা দু’কাধের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

৪০৩৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، عَنْ أَبِي جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رُكَانَةَ، صَارَعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَصَرَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رُكَانَةُ وَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فَرْقُ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُشْرِكِينَ الْعَمَائِمُ عَلَى الْقَلاَنِسِ " .

বর্ণনাকারী: রুকানা (রাঃ)

৪০৩৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে রুকানা (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রুকানা একদিন নবী (ﷺ) এর সঙ্গে কুস্তি লড়লে, তিনি তাকে পরাস্ত করেন। রুকানা (রাযিঃ) আরো বলেন, আমি নবী (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আমাদের ও মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য এই যে, আমরা টুপির উপর পাগড়ী ব্যবহার করি এবং তারা তা করে না।

৪০৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُثْمَانَ الْغَطَفَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ خَرَّبُوذَ، حَدَّثَنِي شَيْخٌ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، يَقُولُ عَمَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَدَلَهَا بَيْنَ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِي .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

৪০৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার মাথায় পাগড়ী বেধে দেন, যার প্রান্তভাগকে তিনি সামনের ও পেছনের দিকে ঝুলিয়ে দেন।

২২. জড়িয়ে পেঁচিয়ে কাপড় পরা।

باب فِي لِبْسَةِ الصَّمَّاءِ

৪০৩৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لِبْسَتَيْنِ أَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ مُفْضِيًا بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ وَيَلْبَسَ ثَوْبَهُ وَأَحَدُ جَانِبَيْهِ خَارِجٌ وَيُلْقِي ثَوْبَهُ عَلَى عَاتِقِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৩৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ভাবে কাপড় জড়িয়ে-পেঁচিয়ে পরতে নিষেধ করেছেনঃ (এক) এভাবে, যাতে তার লজ্জাস্থান আসমান পর্যন্ত উন্মুক্ত হয়ে যায়, (দুই) যাতে তার শরীরের একাংশ খোলা থাকে এবং কাপড় তার কাঁধে জড়ানো থাকে।

৪০৩৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৩৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই কাপড়ে ‘সাম্মা’ ও ‘ইহতিবা’* থেকে নিষেধ করেছেন।

*‘সাম্মা’ বলা হয়- এমনভাবে চাদর গায়ে জড়ানকে, যাতে হাত চাদরের মধ্যে আব্দ্ধ থাকে। এতে হঠাৎ কাপড় খুলে গিয়ে সতর অনাবৃত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
আর ‘ইহতিবা’ বলা হয়-একই কাপড়ে শরীর ঢেকে বসাকে। যাতে সতর উম্মুক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে খুবই বেশী। তাই নবী (ﷺ) এ দু’ভাবে বসতে নিষেধ করেছেন। - অনুবাদক

২৩. জামার বুকের অংশ খোলা রাখা।

باب فِي حَلِّ الأَزْرَارِ

৪০৩৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عُرْوَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - قَالَ ابْنُ نُفَيْلٍ ابْنُ قُشَيْرٍ أَبُو مَهَلٍ الْجُعْفِيُّ - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ مِنْ مُزَيْنَةَ فَبَايَعْنَاهُ وَإِنَّ قَمِيصَهُ لَمُطْلَقُ الأَزْرَارِ - قَالَ - فَبَايَعْتُهُ ثُمَّ أَدْخَلْتُ يَدِي فِي جَيْبِ قَمِيصِهِ فَمَسِسْتُ الْخَاتَمَ . قَالَ عُرْوَةُ فَمَا رَأَيْتُ مُعَاوِيَةَ وَلاَ ابْنَهُ قَطُّ إِلاَّ مُطْلِقِي أَزْرَارِهِمَا فِي شِتَاءٍ وَلاَ حَرٍّ وَلاَ يُزَرِّرَانِ أَزْرَارَهُمَا أَبَدًا .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

৪০৩৮. নুফায়লী (রাহঃ) .... মুআবিয়া ইবনে কুররা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুযায়না গোত্রের এক দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি। এ সময় আমরা তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করি, আর এ সময় তাঁর জামার বুকের অংশ খোলা ছিল। রাবী বলেনঃ আমি তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণের পর, তাঁর জামার বুকের দিকের খোলা অংশের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে ‘‘মোহরে-নবুওয়াত’’ স্পর্শ করি।

রাবী উরওয়া (রাহঃ) বলেনঃ আমি মুআবিয়া (রাযিঃ) এবং তাঁর ছেলেকে শীত-গ্রীষ্ম সব সময়ই তাদের জামার বুকের অংশ খুলে রাখতে দেখেছি এবং উভয়ই তাদের জামার বোতাম ব্যবহার করতেন না।

২৪. কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকা।

باب فِي التَّقَنُّعِ

৪০৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي بَيْتِنَا فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ قَالَ قَائِلٌ لأَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُقْبِلاً مُتَقَنِّعًا فِي سَاعَةٍ لَمْ يَكُنْ يَأْتِينَا فِيهَا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَدَخَلَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক সময় আমি দুপুরের দিকে (আমার পিতার ঘরে) বসে ছিলাম। এ সময় জনৈক ব্যক্তি আবু বকর (রাযিঃ) কে বলেনঃ এই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আর তিনি এ সময় তাঁর চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে আমার নিকটে আসেন। সাধারণতঃ তিনি এমন সময় আমাদের নিকট আসতেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে অনুমতি চাইলে আবু বকর (রাযিঃ) তাঁকে অনুমতি দেন। এরপর তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন।

২৫. লুঙ্গী পাজামা ঝুলিয়ে পায়ের গিঁঠের নীচে পরা।

باب مَا جَاءَ فِي إِسْبَالِ الإِزَارِ

৪০৪০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي غِفَارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ، - وَأَبُو تَمِيمَةَ اسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ - عَنْ أَبِي جُرَىٍّ، جَابِرِ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً يَصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَأْيِهِ، لاَ يَقُولُ شَيْئًا إِلاَّ صَدَرُوا عَنْهُ قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ عَلَيْكَ السَّلاَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ . قَالَ " لاَ تَقُلْ عَلَيْكَ السَّلاَمُ . فَإِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ " . قَالَ قُلْتُ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَنَا رَسُولُ اللَّهِ الَّذِي إِذَا أَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهُ كَشَفَهُ عَنْكَ وَإِنْ أَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهُ أَنْبَتَهَا لَكَ وَإِذَا كُنْتَ بِأَرْضٍ قَفْرَاءَ أَوْ فَلاَةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَتُكَ فَدَعَوْتَهُ رَدَّهَا عَلَيْكَ " . قُلْتُ اعْهَدْ إِلَىَّ . قَالَ " لاَ تَسُبَّنَّ أَحَدًا " . قَالَ فَمَا سَبَبْتُ بَعْدَهُ حُرًّا وَلاَ عَبْدًا وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ شَاةً . قَالَ " وَلاَ تَحْقِرَنَّ شَيْئًا مِنَ الْمَعْرُوفِ وَأَنْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَأَنْتَ مُنْبَسِطٌ إِلَيْهِ وَجْهُكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنَ الْمَعْرُوفِ وَارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْمَخِيلَةَ وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وَعَيَّرَكَ بِمَا يَعْلَمُ فِيكَ فَلاَ تُعَيِّرْهُ بِمَا تَعْلَمُ فِيهِ فَإِنَّمَا وَبَالُ ذَلِكَ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে সুলাইম (রাঃ)

৪০৪০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে সালিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এমন এক লোককে দেখতে পাই, তিনি যা বলতেন লোকেরা কবুল করতো। আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এ ব্যক্তি কে? তারা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন আমি তাঁকে দু’বার বলিঃ আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ আলাইকাস সালাম বলো না; কেননা মৃতদের এভাবে সালাম করা হয়। তুমি বলঃ আস্-সালামু আলাইকা। আমি জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি সেই আল্লাহর রাসূল, যিনি বিপদের সময় তুমি দুআ করলে তোমার বিপদ দূর করে দেন এবং তোমার উপর দুর্ভিক্ষ আপতিত হলে, তোমার দুআর বরকতে তিনি খাদ্য-শস্য ও তৃণলতা পয়দা করেন। আর যখন তুমি এমন কোন স্থানে থাক, যার বিজন মরুভূমিতে তোমার উট হারিয়ে যায়, তখন তোমার দুআর ফলে তিনি তা তোমার কাছে ফিরিয়ে দেন। রাবী বলেন, তখন আমি বলিঃ আমাকে কিছু নসিহত করুন। তিনি বলেনঃ তুমি কখনো কাউকে গালি দেবে না।

রাবী জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর থেকে আমি কোন দিন কোন স্বাধীন ব্যক্তি, গোলাম, উট এবং বকরীকে গালি দেইনি। তিনি আরো বলেনঃ তুমি কখনো কোন উত্তম বস্তুকে অধম মনে করবে না, যদি তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলার সময় হাসিমুখে কথা বল, এটাও একটা ভাল কাজ। আর তুমি তোমার লুঙ্গী ও পাজামাকে পায়ের গোছার উপর রাখবে, যদি তা সম্ভব না হয়, তবে পায়ের গিঁট পর্যন্ত রাখবে। সাবধান, তুমি লুঙ্গী বা পাজামাকে পায়ের গিঁটের নীচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরিধান করবে না। কেননা, এতে গর্ব ও অহংকার প্রকাশ পায় এবং মহান আল্লাহ গর্বকারীকে পছন্দ করেন না। আর যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় এবং তোমার গোপন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে দেয়, তবে তুমি তার গোপন দোষ-ত্রুটি যা জান তা প্রকাশ করবে না। কেননা, তার কৃতকর্মের ফল সে ভোগ করবে।
৪০৪১

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ أَحَدَ جَانِبَىْ إِزَارِي يَسْتَرْخِي إِنِّي لأَتَعَاهَدُ ذَلِكَ مِنْهُ . قَالَ " لَسْتَ مِمَّنْ يَفْعَلُهُ خُيَلاَءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৪১. নুফায়লী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের গর্ব-অহংকার প্রকাশের জন্য নিজের কাপড় (পায়ের গিঁটের নীচে) ঝুলিয়ে পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।

তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ আমার লুঙ্গীর প্রান্তভাগ ঝুলে থাকে, আর এটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তাদের মধ্যে নও, যারা গর্বভরে এরূপ করে থাকে।
৪০৪২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُصَلِّي مُسْبِلاً إِزَارَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبْ فَتَوَضَّأْ " . فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ ثُمَّ قَالَ " اذْهَبْ فَتَوَضَّأْ " . فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ أَمَرْتَهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ ثُمَّ سَكَتَّ عَنْهُ قَالَ " إِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ مُسْبِلٌ إِزَارَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبَلُ صَلاَةَ رَجُلٍ مُسْبِلٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি তার লুঙ্গী পায়ের গিঁটের নীচে ঝুলিয়ে নামায আদায় করা কালে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি যাও এবং উযু কর। সে ব্যক্তি উযু করে আসলে, তিনি আবার বলেনঃ যাও, উযু কর। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কী হয়েছে, আপনি তাকে উযু করতে বলছেন; আর সে উযু করার পর আপনি নীরব থাকছেন? তখন তিনি বলেনঃ এ ব্যক্তি লুঙ্গী ঝুলিয়ে নামায আদায় করে, অথচ যে এভাবে নামায আদায় করে, আল্লাহ্ তার নামায কবুল করেন না।

৪০৪৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ " . قُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ خَابُوا وَخَسِرُوا أَعَادَهَا ثَلاَثًا . قُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَابُوا وَخَسِرُوا فَقَالَ " الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ " . أَوِ " الْفَاجِرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪০৪৩. হাফস ইবনে আমর (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, আর না তাদের গুনাহ্ থেকে পবিত্র করবেন এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এরা কারা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যারা বরবাদী ও ধ্বংসের শিকার হবে? তিনি বলেনঃ যারা গর্বভরে কাপড় পায়ের গিঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে, উপকার করে খোঁটা দেয় এবং যে সব ব্যবসায়ী মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে।
৪০৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا وَالأَوَّلُ أَتَمُّ قَالَ " الْمَنَّانُ الَّذِي لاَ يُعْطِي شَيْئًا إِلاَّ مَنَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪০৪৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এরূপই বলেছেন। তবে প্রথমে বর্ণিত হাদিছটি অধিক সম্পূর্ণ। তিনি বলেনঃ ‘মান্নান’ হলো সে, যে কাউকে কিছু দেয়ার পর খোঁটা দেয়।

৪০৪৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، - يَعْنِي عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَمْرٍو - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ بِشْرٍ التَّغْلِبِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، - وَكَانَ جَلِيسًا لأَبِي الدَّرْدَاءِ - قَالَ كَانَ بِدِمَشْقَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ وَكَانَ رَجُلاً مُتَوَحِّدًا قَلَّمَا يُجَالِسُ النَّاسَ إِنَّمَا هُوَ صَلاَةٌ فَإِذَا فَرَغَ فَإِنَّمَا هُوَ تَسْبِيحٌ وَتَكْبِيرٌ حَتَّى يَأْتِيَ أَهْلَهُ فَمَرَّ بِنَا وَنَحْنُ عِنْدَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ كَلِمَةً تَنْفَعُنَا وَلاَ تَضُرُّكَ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَقَدِمَتْ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَجَلَسَ فِي الْمَجْلِسِ الَّذِي يَجْلِسُ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِرَجُلٍ إِلَى جَنْبِهِ لَوْ رَأَيْتَنَا حِينَ الْتَقَيْنَا نَحْنُ وَالْعَدُوُّ فَحَمَلَ فُلاَنٌ فَطَعَنَ فَقَالَ خُذْهَا مِنِّي وَأَنَا الْغُلاَمُ الْغِفَارِيُّ كَيْفَ تَرَى فِي قَوْلِهِ قَالَ مَا أُرَاهُ إِلاَّ قَدْ بَطَلَ أَجْرُهُ فَسَمِعَ بِذَلِكَ آخَرُ فَقَالَ مَا أَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا فَتَنَازَعَا حَتَّى سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤْجَرَ وَيُحْمَدَ " . فَرَأَيْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ سُرَّ بِذَلِكَ وَجَعَلَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَيْهِ وَيَقُولُ أَنْتَ سَمِعْتَ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ نَعَمْ . فَمَا زَالَ يُعِيدُ عَلَيْهِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ لَيَبْرُكَنَّ عَلَى رُكْبَتَيْهِ . قَالَ فَمَرَّ بِنَا يَوْمًا آخَرَ فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ كَلِمَةً تَنْفَعُنَا وَلاَ تَضُرُّكَ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُنْفِقُ عَلَى الْخَيْلِ كَالْبَاسِطِ يَدَهُ بِالصَّدَقَةِ لاَ يَقْبِضُهَا " . ثُمَّ مَرَّ بِنَا يَوْمًا آخَرَ فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ كَلِمَةً تَنْفَعُنَا وَلاَ تَضُرُّكَ . قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نِعْمَ الرَّجُلُ خُرَيْمٌ الأَسَدِيُّ لَوْلاَ طُولُ جُمَّتِهِ وَإِسْبَالُ إِزَارِهِ " . فَبَلَغَ ذَلِكَ خُرَيْمًا فَعَجِلَ فَأَخَذَ شَفْرَةً فَقَطَعَ بِهَا جُمَّتَهُ إِلَى أُذُنَيْهِ وَرَفَعَ إِزَارَهُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ . ثُمَّ مَرَّ بِنَا يَوْمًا آخَرَ فَقَالَ لَهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ كَلِمَةً تَنْفَعُنَا وَلاَ تَضُرُّكَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّكُمْ قَادِمُونَ عَلَى إِخْوَانِكُمْ فَأَصْلِحُوا رِحَالَكُمْ وَأَصْلِحُوا لِبَاسَكُمْ حَتَّى تَكُونُوا كَأَنَّكُمْ شَامَةٌ فِي النَّاسِ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْفُحْشَ وَلاَ التَّفَحُّشَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ هِشَامٍ قَالَ حَتَّى تَكُونُوا كَالشَّامَةِ فِي النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৪০৪৫. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... কায়স ইবনে নসর তাগলিবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, যিনি আবু দারদা (রাযিঃ) এর বন্ধু ছিলেন। তিনি বলেনঃ দামিশ শহরে ইবনে হানজালিয়া (রাযিঃ) নামে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন সাহাবী বাস করতেন। তিনি একাকী থাকতে পছন্দ করতেন এবং লোকদের সাথে মেলামেশা করতেন না। তিনি অধিকাংশ সময় নামাযে রত থাকতেন এবং অবশিষ্ট সময তাসবিহ ও তাকবীর পাঠে রত থাকতেন, এরপর নিজের ঘরে ফিরে যেতেন। রাবী বলেনঃ একদা তিনি ঘরে ফেরার সময় আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় আমরা আবু দারদা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আবু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ আপনি আমাদের এমন কিছু বলুন, যা আমাদের উপকারে আসে এবং আপনার কোন ক্ষতি না হয়।

তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধের জন্য একদল সৈন্য পাঠান। তারা ফিরে আসে এবং তাদের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেখানে বসতেন সেখানে গিয়ে বসে পড়ে এবং তার পাশের লোককে সম্বোধন করে বলেঃ যদি তোমরা আমাদের দেখতে, যখন আমরা শত্রুদের সাথে যুদ্ধরত ছিলাম। তখন আমাদের অমুক ব্যক্তি বল্লম উচিয়ে বলেছিলঃ আমার এ আঘাত গ্রহণ কর এবং আমি গিফার গোত্রের লোক। তুমি তার এ কথাকে কিরূপ মনে কর? তখন সে ব্যক্তি বলেঃ আমার বিবেচনায় তার সাওয়াব বিনষ্ট হয়েছে। তার এ কথা শুনে অপর এক ব্যক্তি বলেঃ আমার মতে এরূপ বলাতে কোন ক্ষতি হয়নি। তারা ঝগড়া শুরু করলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শুনে বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! এতে ক্ষতির কি আছে, যদি সে সাওয়াব পায় এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে?

রাবী বলেনঃ তখন আমি দেখতে পাই যে, আবু দারদা (রাযিঃ) তা শুনে খুব খুশি হয়েছেন। তিনি তাঁর মাথা উচু করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি ইহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। রাবী বলেনঃ এরপর আবু দারদা (রাযিঃ) বারবার প্রশ্ন করতে করতে শেষ ব্যক্তির এত নিকটবর্তী হল যে, আমার মনে হচ্ছিল, তিনি তাঁর কাঁধের উপর চেপে বসবেন।

(রাবী বিশর বলেনঃ) আরেকদিন সে ব্যক্তি আমাদের পাশ দিয়ে গমনকালে আবু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ এমন কিছু বলেন, যাতে আমাদের উপকার হয় এবং আপনার কোন ক্ষতি না হয়। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেনঃ ঘোড়ার জন্য যে ব্যক্তি খরচ করে, তার তুলনা এরূপ, যে মুক্ত হস্তে দান করে এবং তা থেকে বিরত হয় না।

এরপর সে ব্যক্তি পুনরায় একদিন আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আবু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ আমাদের কিছু উপকারী কথা বলুনঃ যাতে আপনার কোন ক্ষতি না হয়। তখন তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেনঃ খুরায়ম আসদী কি উত্তম ব্যক্তি। তবে যদি তার চুল লম্বা না হতো এবং লুঙ্গী ঝুলিয়ে না পরতো। এ খবর খুরায়ম (রাযিঃ) এর নিকট পৌছলে তিনি তৎক্ষণাৎ এক খানি ছুরি নিয়ে তার লম্বা চুল কেটে ছোট করেন এবং নিজের পরিধেয় বস্ত্র পায়ের গোছা পর্যন্ত উঠান।

পরে আরো একদিন সে ব্যক্তি আমাদের পাশ দিয়ে গমনকালে আবু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ আপনি আমদের এমন কিছু শোনান, যাতে আমাদের উপকার হয় এবং আপনার কোন ক্ষতি না হয়। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ এখন তোমরা তোমাদের ভাইদের সাথে মিলিত হতে চলেছ, কাজেই তোমরা তোমাদের যানবাহনকে ঠিক কর এবং তোমাদের পোশাক -পরিচ্ছদ পরিস্কার কর, যাতে তারা সহজে তোমাদের চিনতে পারে। জেনে রাখ! মহান আল্লাহ বেহুদা কথোপকথনকারী এবং ময়লা-অপরিস্কার থাকা ব্যক্তিকে ভালবাসেন না। যাতে তোমরা লোকদের মাঝে অপয়া হও।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আবু নুআয়ম (রাহঃ) হিশাম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এমনকি তোমরা লোকদের মাঝে অপয়া হও।

২৬. গর্ব ও অহংকার সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْكِبْرِ

৪০৪৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ السَّرِيِّ - عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ مُوسَى عَنْ سَلْمَانَ الأَغَرِّ، - وَقَالَ هَنَّادٌ عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - قَالَ هَنَّادٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... হান্নাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, ‘‘অহংকার আমার চাদর এবং শ্রেষ্ঠত্ব আমার লুঙ্গী স্বরূপ। তাই, যে ব্যক্তি এ দু’টি জিনিসে আমার শরীক হতে চায়, আমি তাকে দোজখে নিক্ষেপ করবো।’’

৪০৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ وَلاَ يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ خَرْدَلَةٍ مِنْ إِيمَانٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْقَسْمَلِيُّ عَنِ الأَعْمَشِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০৪৭. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও অহংকার থাকবে। আর সে ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে।

৪০৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وَكَانَ رَجُلاً جَمِيلاً - فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ حُبِّبَ إِلَىَّ الْجَمَالُ وَأُعْطِيتُ مِنْهُ مَا تَرَى حَتَّى مَا أُحِبُّ أَنْ يَفُوقَنِي أَحَدٌ - إِمَّا قَالَ بِشِرَاكِ نَعْلِي . وَإِمَّا قَالَ بِشِسْعِ نَعْلِي - أَفَمِنَ الْكِبْرِ ذَلِكَ قَالَ " لاَ وَلَكِنَّ الْكِبْرَ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ وَغَمَطَ النَّاسَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা জনৈক সুশ্রী ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সৌন্দর্যকে পছন্দ করি এবং আমাকে তা দেওয়া হয়েছে, যেমন আপনি দেখছেন। আমি পছন্দ করি যে, সৌন্দর্যে কেউ যেন আমার জুতার ফিতার সমতুল্যও না হতে পারে। এরূপ বলা কি অহংকার? তিনি বলেনঃ না। বরং অহংকার হলো-সত্যকে মিথ্যা করা এবং লোকদের হেয় প্রতিপন্ন করা।

২৭. পাজামার সীমা সম্পর্কে।

باب فِي قَدْرِ مَوْضِعِ الإِزَارِ

৪০৪৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ عَنِ الإِزَارِ، فَقَالَ عَلَى الْخَبِيرِ سَقَطْتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ وَلاَ حَرَجَ - أَوْ لاَ جُنَاحَ - فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فَهُوَ فِي النَّارِ مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০৪৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ)-কে পাজামা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ আপনি একজন অভিজ্ঞ লোকের নিকট প্রশ্ন করেছেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মুসলমানের পাজামা পায়ের গোছার অর্ধেক হয়ে থাকে, তবে তা পায়ের গিরা পর্যন্ত হলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই এবং গুনাহ্ নেই। অবশ্য এর নীচ পর্যন্ত হলে সে দোজখে যাবে। আর যে ব্যক্তি অহংকার করে নিজের পাজামা ঝুলিয়ে পরবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৪০৫০

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الإِسْبَالُ فِي الإِزَارِ وَالْقَمِيصِ وَالْعِمَامَةِ مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৫০. হান্নান ইবনে সারী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পাজামা, জামা ও পাগড়ীর মধ্যে ‘ইসবাল’ বা মাত্রাধিক্যতা আছে। কাজেই, যে ব্যক্তি এসব ব্যবহারের সময় সীমালংঘন করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেবেন না।

৪০৫১

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي الصَّبَّاحِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُمَيَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الإِزَارِ فَهُوَ فِي الْقَمِيصِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৫১. হান্নাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা কিছু পাজামা সম্পর্কে বলেছেন, তা জামার ব্যাপারেও প্রযোজ্য।

৪০৫২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، أَنَّهُ رَأَى ابْنَ عَبَّاسٍ يَأْتَزِرُ فَيَضَعُ حَاشِيَةَ إِزَارِهِ مِنْ مُقَدَّمِهِ عَلَى ظَهْرِ قَدَمَيْهِ وَيَرْفَعُ مِنْ مُؤَخَّرِهِ . قُلْتُ لِمَ تَأْتَزِرُ هَذِهِ الإِزْرَةَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتَزِرُهَا .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৪০৫২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এমনভাবে লুঙ্গী পরতে দেখেন, যাতে তার সামনের অংশ পায়ের পাতার উপর গিয়ে পড়ে এবং পেছনের দিক উপরে উঠে যায়। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি এভাবে কেন লুঙ্গী পরেন? তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এভাবে লুঙ্গী পরতে দেখেছি।

২৮. মহিলাদের পোশাক সম্পর্কে।

باب لِبَاسِ النِّسَاءِ

৪০৫৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَعَنَ الْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ وَالْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৫৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পুরুষদের অনুসরণকারী মহিলাদের এবং মহিলাদের অনুকরণকারী পুরুষদের উপর লা’নত করেছেন।

৪০৫৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৫৪. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীলোকদের পোশাক পরিধানকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের পোশাক পরিধানকারিণী স্ত্রীলোকদের উপর লা’নত করেছেন।

৪০৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، لُوَيْنٌ - وَبَعْضُهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ قِيلَ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ . فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلَةَ مِنَ النِّسَاءِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৪০৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আবু মুলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি আয়িশা (রাযিঃ)-কে (পুরুষের জুতা পরিধানকারিণী) এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষের বেশ ধারণকারিণী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন।

২৯. আল্লাহর বাণী- "মহিলাদের চাদর ব্যবহার সম্পর্কে"।

باب فِي قَوْلِهِ تَعَالَى { يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلاَبِيبِهِنَّ }

৪০৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّهَا ذَكَرَتْ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فَأَثْنَتْ عَلَيْهِنَّ وَقَالَتْ لَهُنَّ مَعْرُوفًا وَقَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ سُورَةُ النُّورِ عَمَدْنَ إِلَى حُجُورٍ - أَوْ حُجُوزٍ شَكَّ أَبُو كَامِلٍ - فَشَقَقْنَهُنَّ فَاتَّخَذْنَهُ خُمُرًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৫৬. আবু কামিল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি আনসার মহিলাদের প্রশংসা করে বলেনঃ যখন সূরা নূরে পর্দার আয়াত নাযিল হয়, তখন তারা তাদের তহবন্দ বা পর্দার কাপড় ছিড়ে চাদর তৈরী করেন।

৪০৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ ( يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلاَبِيبِهِنَّ ) خَرَجَ نِسَاءُ الأَنْصَارِ كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِهِنَّ الْغِرْبَانُ مِنَ الأَكْسِيَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন এ আয়াত নাযিল হয়- ‘‘মহিলারা যেন তাদের দেহকে চাদর দিয়ে আবৃত করে।’’ তখন আনসার মহিলারা কালো কাপড়ে শরীর আবৃত করে এমনভাবে বের হত যে, মনে হত তাদের মাথার উপর কাক বসে আছে।

৩০. মহান আল্লাহর বাণী- "মহিলাদের ওড়না ব্যবহার সম্পর্কে"।

باب فِي قَوْلِهِ تَعَالَى { وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ }

৪০৫৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، ح وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، وَابْنُ السَّرْحِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالُوا أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي قُرَّةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَعَافِرِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ يَرْحَمُ اللَّهُ نِسَاءَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلَ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ ( وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ ) شَقَقْنَ أَكْنَفَ - قَالَ ابْنُ صَالِحٍ أَكْثَفَ - مُرُوطِهِنَّ فَاخْتَمَرْنَ بِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৫৮. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ প্রথম দিকে হিজরতকারিণী মহিলাদের উপর রহম করুন। কেননা, আল্লাহ যখন এ আয়াত নাযিল করেন (অর্থ) ‘আর তারা যেন তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ ওড়না দিয়ে আবৃত করে।’’ তখন তারা তাদের পর্দার কাপড় ছিড়ে ওড়না তৈরী করে নেয়।

৪০৫৮

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، قَالَ: رَأَيْتُ فِي كِتَابِ خَالِي، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ

ইবনুস সারহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার মামার কিতাবে উকাইল থেকে ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে ভিন্ন সনদে অনুরূপ অর্থের হাদীস লিপিবদ্ধ দেখেছি।

৩১. মহিলাদের শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা জায়েয।

باب فِيمَا تُبْدِي الْمَرْأَةُ مِنْ زِينَتِهَا

৪০৫৯

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الأَنْطَاكِيُّ، وَمُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خَالِدٍ، - قَالَ يَعْقُوبُ ابْنُ دُرَيْكٍ - عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ، دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهَا ثِيَابٌ رِقَاقٌ فَأَعْرَضَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " يَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلاَّ هَذَا وَهَذَا " . وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُرْسَلٌ خَالِدُ بْنُ دُرَيْكٍ لَمْ يُدْرِكْ عَائِشَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৫৯. ইয়াকুব ইবনে কা’ব (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাতলা কাপড় পরে হাযির হলে, তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং বলেনঃ হে আসমা! যখন মেয়েরা সাবালিকা হয়, তখন তাদের এমন পাতলা কাপড় পরা উচিত নয়, যাতে তাদের শরীর দেখা যায়। তবে তিনি ইশারা করে মুখমণ্ডল ও দু’হাতের কব্জা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেন।

৩২. গোলামের জন্য মনিব-স্ত্রীর খোলা মস্তক দেখা।

باب فِي الْعَبْدِ يَنْظُرُ إِلَى شَعْرِ مَوْلاَتِهِ

৪০৬০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، مَوْهَبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، اسْتَأْذَنَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحِجَامَةِ فَأَمَرَ أَبَا طَيْبَةَ أَنْ يَحْجُمَهَا . قَالَ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ كَانَ أَخَاهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ أَوْ غُلاَمًا لَمْ يَحْتَلِمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৬০. কুতায়বা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট শিংগা লাগাবার জন্য অনুমতি চান। তখন তিনি আবু তায়বা (রাযিঃ)-কে শিংগা লাগাবার জন্য নির্দেশ দেন। রাবী বলেনঃ আমার ধারণা আবু তায়বা (রাযিঃ) উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর দুধ ভাই ছিলেন, অথবা তিনি তখন নাবালক ছিলেন। (যে জন্য তার নিকট পর্দার প্রয়োজন ছিল না।)

৪০৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو جُمَيْعٍ، سَالِمُ بْنُ دِينَارٍ عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى فَاطِمَةَ بِعَبْدٍ قَدْ وَهَبَهُ لَهَا قَالَ وَعَلَى فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ثَوْبٌ إِذَا قَنَّعَتْ بِهِ رَأْسَهَا لَمْ يَبْلُغْ رِجْلَيْهَا وَإِذَا غَطَّتْ بِهِ رِجْلَيْهَا لَمْ يَبْلُغْ رَأْسَهَا فَلَمَّا رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا تَلْقَى قَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكِ بَأْسٌ إِنَّمَا هُوَ أَبُوكِ وَغُلاَمُكِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৬১. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) একটি গোলাম নিয়ে, যাকে তিনি ফাতিমা (রাযিঃ) কে দান করেন। তাঁর নিকট উপস্থিত হন। এ সময় ফাতিমা (রাযিঃ) এর পরিধানে এমন কাপড় ছিল, যা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা অনাবৃত হয়ে যায় এবং পা ঢাকলে মাথা অনাবৃত হয়ে যায়। নবী (ﷺ) তাঁর এ অবস্থা দেখে বলেনঃ এতে তোমার দোষের কিছু নেই; কেননা, তোমার সামনে তোমার পিতা এবং তোমার গোলাম আছে।

৩৩. নপুংসক ব্যক্তিদের সম্পর্কে।

باب فِي قَوْلِهِ { غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ }

৪০৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ يَدْخُلُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُخَنَّثٌ فَكَانُوا يَعُدُّونَهُ مِنْ غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ فَدَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَهُوَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ وَهُوَ يَنْعَتُ امْرَأَةً فَقَالَ إِنَّهَا إِذَا أَقْبَلَتْ أَقْبَلَتْ بِأَرْبَعٍ وَإِذَا أَدْبَرَتْ أَدْبَرَتْ بِثَمَانٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أَرَى هَذَا يَعْلَمُ مَا هَا هُنَا لاَ يَدْخُلَنَّ عَلَيْكُنَّ هَذَا " . فَحَجَبُوهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৬২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এর বিবিগণের নিকট একজন নপুংসক ব্যক্তি যাতায়াত করতো এবং তাঁরা তাকে ‘‘পুরুয়দের মধ্যে যৌন কামনা-রহিত পুরুষ’’ বলে ধারণা করতেন। একদিন নবী (ﷺ) যখন আমাদের নিকট আসেন, তখন সে হিজড়া তাঁর কোন বিবির নিকট বসে অন্য এক মহিলার প্রশংসা করে বলছিলঃ যখন সে সামনের দিকে আসে, তখন তার পেটে চারটি ভাঁজ দেখা যায়। আর যখন সে পেছনের দিকে যায়, তখন তার পেটের দু’দিকে আটটি ভাঁজ দেখা যায়। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এ ব্যক্তিও মহিলাদের সম্পর্কে জ্ঞাত। কাজেই, আর যেন সে তোমাদের কাছে না আসে। এরপর থেকে নবী (ﷺ) এর বিবিগণ তার থেকে পর্দা করতেন।

৪০৬৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، بِمَعْنَاهُ .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ وَأَخْرَجَهُ فَكَانَ بِالْبَيْدَاءِ يَدْخُلُ كُلَّ جُمُعَةٍ يَسْتَطْعِمُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদিছের অর্থে হাদিছ বর্ণিত হয়েছে।

আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, নবী (ﷺ) তাকে ‘‘বায়দা’’ নামক প্রান্তরে পাঠিয়ে দেন। প্রতি শুক্রবারে খাদ্যের সন্ধানে সে শহরে আসতো।
৪০৬৪

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ إِذًا يَمُوتُ مِنَ الْجُوعِ فَأَذِنَ لَهُ أَنْ يَدْخُلَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ فَيَسْأَلَ ثُمَّ يَرْجِعَ .

বর্ণনাকারী: আওযায়ী (রহঃ)

৪০৬৪. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আওযাঈ (রাহঃ) এ হাদিছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ (যখন সে হিজড়াকে শহর থেকে বের করে দেওয়া হয়), তখন বলা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো না খেয়ে মারা যাবে। তখন তিনি তাকে সপ্তাহে দু’দিন শহরে আসার অনুমতি দেন, যাতে চেয়ে নিয়ে ফিরে যেতে পারে।

৩৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ "বলুন, মু’মিন স্ত্রীলোকদের দৃষ্টি সংযত রাখতে"

باب فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ { وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ }

৪০৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ ) الآيَةَ فَنُسِخَ وَاسْتُثْنِيَ مِنْ ذَلِكَ ( وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللاَّتِي لاَ يَرْجُونَ نِكَاحًا ) الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৬৫. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (অর্থ) ‘আপনি মু’মিন নারীদের বলুন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখতে’’ এ আয়াতের হুকুম পরবর্তী আয়াতঃ (অর্থ) ‘‘বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না’’ দ্বারা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এসব মহিলারা বাদ পড়েন, যাদের বিবাহের যোগ্যতা নেই।

৪০৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي نَبْهَانُ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ مَيْمُونَةُ فَأَقْبَلَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَذَلِكَ بَعْدَ أَنْ أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْتَجِبَا مِنْهُ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَعْمَى لاَ يُبْصِرُنَا وَلاَ يَعْرِفُنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং মায়মুনা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তখন সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) আসেন। আর এটি ছিল পর্দার আয়াত নাযিলের পর। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জন এর থেকে পর্দা কর। তখন আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখতে পায়না, চিনতেও পারেনা। তখন নবী (ﷺ) বলেন তোমরাও কি অন্ধ, তোমরা দু’জন কি তাকে দেখছো না?

৪০৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمَيْمُونِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَوَّجَ أَحَدُكُمْ عَبْدَهُ أَمَتَهُ فَلاَ يَنْظُرْ إِلَى عَوْرَتِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০৬৭. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা ও দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার গোলামের বিয়ে দাসীর সাথে দেবে, তখন ঐ দাসীর সতরের দিকে তাকাবে না।

৪০৬৮

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ سَوَّارٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَوَّجَ أَحَدُكُمْ خَادِمَهُ عَبْدَهُ أَوْ أَجِيرَهُ فَلاَ يَنْظُرْ إِلَى مَا دُونَ السُّرَّةِ وَفَوْقَ الرُّكْبَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ صَوَابُهُ سَوَّارُ بْنُ دَاوُدَ الْمُزَنِيُّ الصَّيْرَفِيُّ وَهِمَ فِيهِ وَكِيعٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০৬৮. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার দাসীর বিয়ে কোন গোলামের সাথে বা অন্য কোন কর্মচারীর সাথে দেবে, তখন তার জন্য ঐ দাসীর নাভীর নীচ থেকে হাঁটুর উপরের অংশ দেখা বৈধ নয়।

৩৫. ওড়না কিরূপে বাঁধবে।

باب فِي الاِخْتِمَارِ

৪০৬৯

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ وَهْبٍ، مَوْلَى أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا وَهِيَ تَخْتَمِرُ فَقَالَ " لَيَّةً لاَ لَيَّتَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مَعْنَى قَوْلِهِ " لَيَّةً لاَ لَيَّتَيْنِ " . يَقُولُ لاَ تَعْتَمَّ مِثْلَ الرَّجُلِ لاَ تُكَرِّرْهُ طَاقًا أَوْ طَاقَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৬৯. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) তার নিকট এমন সময় আসেন, যখন তার মাথায় দো-পাট্টা (ওড়না) বাঁধা ছিল। তিনি বলেনঃ একবার পেঁচানোই যথেষ্ট, দু’বারের প্রয়োজন নেই।

৩৬. মহিলাদের পাতলা কাপড় পরা।

باب فِي لُبْسِ الْقَبَاطِيِّ لِلنِّسَاءِ

৪০৭০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، حَدَّثَهُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ دِحْيَةَ بْنِ خَلِيفَةَ الْكَلْبِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبَاطِيَّ فَأَعْطَانِي مِنْهَا قُبْطِيَّةً فَقَالَ " اصْدَعْهَا صَدْعَيْنِ فَاقْطَعْ أَحَدَهُمَا قَمِيصًا وَأَعْطِ الآخَرَ امْرَأَتَكَ تَخْتَمِرُ بِهِ " . فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ " وَأْمُرِ امْرَأَتَكَ أَنْ تَجْعَلَ تَحْتَهُ ثَوْبًا لاَ يَصِفُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ فَقَالَ عَبَّاسُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: দিহইয়া ইবনে খলীফা কালবী (রাঃ)

৪০৭০. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) .... দেহিয়া ইবনে খালীফা কালবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট (মিসর থেকে) কিছু পাতলা কাপড় আসলে, তিনি তা থেকে আমাকে একটি কাপড় দেন এবং বলেনঃ তুমি একে দু’ টুকরা কর। এক টুকরা দিয়ে জামা বানাও এবং অন্য টুকরাটি তোমার স্ত্রীকে দিয়ে দাও, যা দিয়ে সে ওড়না বানাবে।

রাবী বলেনঃ দেহিয়া (রাযিঃ) যখন পশ্চাদগমন করে, তখন তিনি বলেনঃ তোমার স্ত্রীকে এর নীচে অন্য কাপড় লাগিয়ে নিতে বলবে, যাতে তার শরীর দেখা না যায়। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) বলেনঃ আব্বাস ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

৩৭. মহিলাদের পাজামা লম্বা করা।

باب فِي الذَّيْلِ

৪০৭১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ ذَكَرَ الإِزَارَ فَالْمَرْأَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " تُرْخِي شِبْرًا " . قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ إِذًا يَنْكَشِفُ عَنْهَا . قَالَ " فَذِرَاعًا لاَ تَزِيدُ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৭১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাজামা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসালাল্লাহ! মহিলারা পাজামা কতটুকু লম্বা করবে? তিনি বলেনঃ তারা পায়ের গোছা থেকে এক বিঘত লম্বা করবে, তখন উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেনঃ এতে তো মহিলাদের সতর খোলা থাকবে। তিনি বলেনঃ তবে এক হাত লম্বা করবে, এর অধিক নয়।

৪০৭২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَأَيُّوبُ بْنُ مُوسَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৭২. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে উপরোক্ত হাদিছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে ইসহাক এবং আইয়ুব ইবনে মুসা (রাহঃ) নাফি’ (রাহঃ) থেকে, তিনি সাফিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

৪০৭৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنِي زَيْدٌ الْعَمِّيُّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فِي الذَّيْلِ شِبْرًا ثُمَّ اسْتَزَدْنَهُ فَزَادَهُنَّ شِبْرًا فَكُنَّ يُرْسِلْنَ إِلَيْنَا فَنَذْرَعُ لَهُنَّ ذِرَاعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৭৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের পাজামাকে এক বিঘত পরিমাণ লম্বা (গোছা থেকে) করার অনুমতি দেন। এরপর তিনি এর উপর আরো এক বিঘত বাড়াবার অনুমতি দেন, যখন তাঁরা বৃদ্ধির অনুমতি চায়। নবী (ﷺ) এর বিবিগণ তাঁদের কাপড় আমাদের কাছে পাঠাতেন আমরা হাত দিয়ে তা মেপে দিতাম।

৩৮. মৃত জানোয়ারের কাঁচা চামড়া সম্পর্কে।

باب فِي أُهُبِ الْمَيْتَةِ

৪০৭৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ وَوَهْبٌ - عَنْ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ أُهْدِيَ لِمَوْلاَةٍ لَنَا شَاةٌ مِنَ الصَّدَقَةِ فَمَاتَتْ فَمَرَّ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلاَ دَبَغْتُمْ إِهَابَهَا فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيْتَةٌ . قَالَ " إِنَّمَا حُرِّمَ أَكْلُهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৪০৭৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... মায়মুনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের জনৈক আযাদকৃত দাসীর জন্য একটি বকরী হাদিয়া স্বরূপ আসে, কিন্তু সেটি মারা যায়। তখন নবী (ﷺ) তার পাশ দিয়ে গমনকালে বলেনঃ তুমি এর চামড়াকে দাবাগত (পাকা) করে তোমার প্রয়োজনে কেন ব্যবহার করছো না? তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তো মৃত। তিনি বলেনঃ এর গোশত খাওয়া হারাম করা হয়েছে (এর চামড়া নয়)।

৪০৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرْ مَيْمُونَةَ قَالَ فَقَالَ " أَلاَ انْتَفَعْتُمْ بِإِهَابِهَا " . ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَاهُ لَمْ يَذْكُرِ الدِّبَاغَ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪০৭৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... যুহরী (রাহঃ) এ হাদিছ বর্ণনা প্রসঙ্গে যে সনদের উল্লেখ করেছেন, তাতে মায়মুনার নাম উল্লেখ নেই। তিনি বলেছেনঃ তুমি এর চামড়াকে তোমার প্রয়োজনে কেন ব্যবহার করছো না? এরপর তিনি ঐ হাদিছের উল্লেখ করেন, যেখানে দাবাগাতের কথা উল্লেখ নেই।

৪০৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ قَالَ مَعْمَرٌ وَكَانَ الزُّهْرِيُّ يُنْكِرُ الدِّبَاغَ وَيَقُولُ يُسْتَمْتَعُ بِهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرِ الأَوْزَاعِيُّ وَيُونُسُ وَعُقَيْلٌ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ الدِّبَاغَ وَذَكَرَهُ الزُّبَيْدِيُّ وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَحَفْصُ بْنُ الْوَلِيدِ ذَكَرُوا الدِّبَاغَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... মুআম্মার (রাহঃ) বলেনঃ যুহরী (রাহঃ) চামড়ার দাবাগত করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে, তা দিয়ে সব ধরনের প্রয়োজন মিটানো যায়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আওযাঈ, ইউনুস ও আকীল (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিছে দাবাগতের কথা উল্লেখ করেননি। পক্ষান্তরে যুবায়দী, সাঈদ ইবনে আযীয এবং হাফস ইবনে ওয়ালীদ দাবাগতের কথা বলেছেন।
৪০৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا دُبِغَ الإِهَابُ فَقَدْ طَهُرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, যখন চামড়া দাবাগত করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।

৪০৭৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَنْ يُسْتَمْتَعَ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ إِذَا دُبِغَتْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৭৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত জন্তুর চামড়া দাবাগতের পর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

৪০৭৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَوْنِ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ أَتَى عَلَى بَيْتٍ فَإِذَا قِرْبَةٌ مُعَلَّقَةٌ فَسَأَلَ الْمَاءَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيْتَةٌ . فَقَالَ " دِبَاغُهَا طُهُورُهَا " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

৪০৭৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাবূকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক ঘরে আসেন, যেখানে একটি (পানি ভর্তি) মশক ঝুলান ছিল। তিনি পানি চাইলে, লোকেরা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এতো মৃত জন্তুর চামড়া। তিনি বলেনঃ দাবাগতের ফলে এটি পবিত্র হয়ে গেছে।

৪০৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنْ كَثِيرِ بْنِ فَرْقَدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكِ بْنِ حُذَافَةَ، حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ الْعَالِيَةِ بِنْتِ سُبَيْعٍ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ لِي غَنَمٌ بِأُحُدٍ فَوَقَعَ فِيهَا الْمَوْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهَا فَقَالَتْ لِي مَيْمُونَةُ لَوْ أَخَذْتِ جُلُودَهَا فَانْتَفَعْتِ بِهَا . فَقَالَتْ أَوَيَحِلُّ ذَلِكَ قَالَتْ نَعَمْ . مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِجَالٌ مِنْ قُرَيْشٍ يَجُرُّونَ شَاةً لَهُمْ مِثْلَ الْحِمَارِ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا " . قَالُوا إِنَّهَا مَيْتَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُطَهِّرُهَا الْمَاءُ وَالْقَرَظُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৪০৮০. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) .... আলীয়া বিনতে সুবা’ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদ পাহাড়ের উপর আমার একটি বকরীর পাল ছিল, তারা মড়কে মারা যাচ্ছিল। তখন আমি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করি। তখন মায়মুনা (রাযিঃ) আমাকে বলেনঃ যদি তুমি এদের চামড়া খুলে নিতে, তবে উপকৃত হতে। আমি জিজ্ঞাসা করিঃ মৃত জন্তুর চামড়া দিয়ে উপকার নেয়া কি উচিত? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। একদা কুরাইশদের কিছু লোক একটি মৃত বকরীকে গাধার মত টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা যদি এর চামড়া খুলে নিতে, তবে ভাল হতো। তারা বলেনঃ এটি তো মৃত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পানি এবং কারায (সলম পতা) দিয়ে চামড়া পরিস্কার করলে তা পাক হয়ে যায়।

৩৯. মৃত জন্তুর কাঁচা চামড়া কাজে ব্যবহার না করা।

باب مَنْ رَوَى أَنْ لاَ يُنْتَفَعَ بِإِهَابِ الْمَيْتَةِ

৪০৮১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ، قَالَ قُرِئَ عَلَيْنَا كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَرْضِ جُهَيْنَةَ وَأَنَا غُلاَمٌ شَابٌّ " أَنْ لاَ تَسْتَمْتِعُوا مِنَ الْمَيْتَةِ بِإِهَابٍ وَلاَ عَصَبٍ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম (রাঃ)

৪০৮১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উকায়ম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জুহায়না নামক স্থানে আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ পাঠ করে শোনান হয়, আর এ সময় আমি যুবক ছিলাম। তাতে লেখা ছিলঃ তোমরা মৃত জন্তুর কাঁচা চামড়া এবং এর পাছাকে কাজে ব্যবহার করবে না, (দাবাগত করা ব্যতীত)।

৪০৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا الثَّقَفِيُّ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، أَنَّهُ انْطَلَقَ هُوَ وَنَاسٌ مَعَهُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ - رَجُلٍ مِنْ جُهَيْنَةَ - قَالَ الْحَكَمُ فَدَخَلُوا وَقَعَدْتُ عَلَى الْبَابِ فَخَرَجُوا إِلَىَّ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُكَيْمٍ أَخْبَرَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى جُهَيْنَةَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ أَنْ لاَ يَنْتَفِعُوا مِنَ الْمَيْتَةِ بِإِهَابٍ وَلاَ عَصَبٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فَإِذَا دُبِغَ لاَ يُقَالُ لَهُ إِهَابٌ إِنَّمَا يُسَمَّى شَنًّا وَقِرْبَةً

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম (রাঃ)

৪০৮২. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... হাকাম ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার তিনি কিছু লোকের সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে উকায়মের নিকট যান, যিনি জুহায়না গোত্রের লোক ছিলেন। রাবী হাকাম (রাহঃ) বলেনঃ সব লোক ভেতরে প্রবেশ করলে আমি দরজার উপর বসে পড়ি। তারা আমার কাছে এসে বলে, আব্দুল্লাহ ইবনে উকায়ম (রাযিঃ) তাদের বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ইন্‌তিকালের আগে জুহায়না গোত্রের নিকট এ মর্মে একটি নির্দেশ প্রেরণ করেন যে, তারা যেন মৃত জন্তুর চামড়া এবং তার পাছা কোন কাজে ব্যবহার না করে।

৪০. চিতা বাঘের চামড়া সম্পর্কে।

باب فِي جُلُودِ النُّمُورِ

৪০৮৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ أَبِي الْمُعْتَمِرِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَرْكَبُوا الْخَزَّ وَلاَ النِّمَارَ " . قَالَ وَكَانَ مُعَاوِيَةُ لاَ يُتَّهَمُ فِي الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪০৮৩. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) .... মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রেশমের তৈরী জিন ও চিতা-বাগের চামড়ার তৈরী জিনের উপর আরোহণ করবে না। রাবী বলেনঃ মুআবিয়া (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস বর্ণনায় আদৌ দোষী ছিলেন না।

৪০৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصْحَبُ الْمَلاَئِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جِلْدُ نَمِرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশ্শার (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফিরিশতারা ঐ সব লোকের কাছে যায় না, যাদের কাছে চিতা-বাঘের চামড়া থাকে। (কেননা, এর ব্যবহারে গর্ব ও অহংকার প্রকাশ পায়)।

৪০৮৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدٍ، قَالَ وَفَدَ الْمِقْدَامُ بْنُ مَعْدِيكَرِبَ وَعَمْرُو بْنُ الأَسْوَدِ وَرَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ مِنْ أَهْلِ قِنَّسْرِينَ إِلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لِلْمِقْدَامِ أَعَلِمْتَ أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ تُوُفِّيَ فَرَجَّعَ الْمِقْدَامُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَتَرَاهَا مُصِيبَةً قَالَ لَهُ وَلِمَ لاَ أَرَاهَا مُصِيبَةً وَقَدْ وَضَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حِجْرِهِ فَقَالَ " هَذَا مِنِّي وَحُسَيْنٌ مِنْ عَلِيٍّ " . فَقَالَ الأَسَدِيُّ جَمْرَةٌ أَطْفَأَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ . قَالَ فَقَالَ الْمِقْدَامُ أَمَّا أَنَا فَلاَ أَبْرَحُ الْيَوْمَ حَتَّى أُغِيظَكَ وَأُسْمِعَكَ مَا تَكْرَهُ . ثُمَّ قَالَ يَا مُعَاوِيَةُ إِنْ أَنَا صَدَقْتُ فَصَدِّقْنِي وَإِنْ أَنَا كَذَبْتُ فَكَذِّبْنِي قَالَ أَفْعَلُ . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الذَّهَبِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ جُلُودِ السِّبَاعِ وَالرُّكُوبِ عَلَيْهَا قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَوَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ هَذَا كُلَّهُ فِي بَيْتِكَ يَا مُعَاوِيَةُ . فَقَالَ مُعَاوِيَةُ قَدْ عَلِمْتُ أَنِّي لَنْ أَنْجُوَ مِنْكَ يَا مِقْدَامُ قَالَ خَالِدٌ فَأَمَرَ لَهُ مُعَاوِيَةُ بِمَا لَمْ يَأْمُرْ لِصَاحِبَيْهِ وَفَرَضَ لاِبْنِهِ فِي الْمِائَتَيْنِ فَفَرَّقَهَا الْمِقْدَامُ فِي أَصْحَابِهِ قَالَ وَلَمْ يُعْطِ الأَسَدِيُّ أَحَدًا شَيْئًا مِمَّا أَخَذَ فَبَلَغَ ذَلِكَ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ أَمَّا الْمِقْدَامُ فَرَجُلٌ كَرِيمٌ بَسَطَ يَدَهُ وَأَمَّا الأَسَدِيُّ فَرَجُلٌ حَسَنُ الإِمْسَاكِ لِشَيْئِهِ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪০৮৫. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... খালিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মিকদাম ইবনে সা’দী কারাব (রাযিঃ), আমর ইবনে আসওয়াদ ও কিনসিরীন বংশোদ্ভূত আসাদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি একত্রে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) এর নিকট যান। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) মিকদাম (রাযিঃ) কে বলেনঃ তুমি কি জান, হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) ইনতিকাল করেছেন? তখন মিকদাম (রাযিঃ) ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন’’ পড়েন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেঃ আপনি কি এটা মুসীবত মনে করেন? তিনি বলেনঃ আমি কেন একে মুসীবত মনে করবো না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে (হাসান) কোলে নিয়ে বলতেনঃ হাসান আমার এবং হুসাইন আলীর। তখন আসাদ গোত্রের লোকটি বলেঃ তিনি তো এক টুকরা অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ স্বরূপ ছিলেন, যাকে আল্লাহ নিভিয়ে দিয়েছেন।

এরপর মিকদাম (রাযিঃ) বলেনঃ আজ আমি আপনাকে নারায ও অসন্তুষ্ট না করে ছাড়বো না। পরে তিনি বলেন, হে মুআবিয়া! যদি আমি সত্য বলি, তবে আপনি আমাকে মিথ্যাবাদী বলবেন। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, আমি এরূপই করবো।

মিকদাম (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সোনার জিনিস ব্যবহারে নিষেধ করতে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি জানেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী-বস্ত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি জানেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিংস্র জন্তুর চামড়া পরিধান করতে এবং তার উপর বসতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

তখন মিকদাম (রাযিঃ) বলেনঃ হে মুআবিয়া! এ সবই তো আমি আপনার ঘরে দেখতে পাচ্ছি! মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেনঃ আমি জানি, আমি তোমার হাত থেকে রেহাই পাব না।

রাবী খালিদ (রাহঃ) বলেনঃ এরপর মুআবিয়া (রাযিঃ) মিকদাম (রাযিঃ)-কে এত পরিমাণ ধন-সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন, যা তাঁর অন্য সঙ্গীদ্বয়ের জন্য দেননি এবং তাঁর পুত্রের জন্যও দুইশত দীনার প্রদান করেন। তখন মিকদাম (রাযিঃ) তাঁর সাথীদের মাঝে সব সম্পদ বন্টন করে দেন এবং আসাদ গোত্রের লোকটি কাউকে কিছু দেয়নি। এ খরব মুআবিয়া (রাযিঃ) এর কাছে পৌছলে, তিনি বলেনঃ মিকদাম (রাযিঃ), সে তো তার সম্পদকে উত্তমরূপে আগলে রাখে।
৪০৮৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَاهُمُ - الْمَعْنَى، - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ جُلُودِ السِّبَاعِ .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

৪০৮৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু মালীহ ইবনে উসামা (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিংস্র জন্তুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

৪১. জুতা পরিধান সম্পর্কে।

باب فِي الاِنْتِعَالِ

৪০৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَقَالَ: أَكْثِرُوا مِنَ النِّعَالِ، فَإِنَّ الرَّجُلَ لَا يَزَالُ رَاكِبًا مَا انْتَعَلَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৮৭. মুহাম্মাদ ইবন সব্বাহ আল বায্যায (রাহঃ) .... জাবের (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমরা (সফরকালে) জুতা বেশী রাখবে। কারণ জুতা পরিধান করে সব সময় সফর করা যায়।

৪০৮৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَعْلَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم كَانَ لَهَا قِبَالاَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর জুতায় দু’টি ফিতা লাগানো ছিল।

৪০৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ أَبُو يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْتَعِلَ الرَّجُلُ قَائِمًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে জুতা পরিধান না করে।

৪০৮৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَمْشِي أَحَدُكُمْ فِي النَّعْلِ الْوَاحِدَةِ لِيَنْتَعِلْهُمَا جَمِيعًا أَوْ لِيَخْلَعْهُمَا جَمِيعًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে চলাফেরা না করে। হয়তো দু’টি জুতাই পরবে, নয়তো দু’টিই খুলে রাখবে।

৪০৯০

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا انْقَطَعَ شِسْعُ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَمْشِ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ حَتَّى يُصْلِحَ شِسْعَهُ وَلاَ يَمْشِ فِي خُفٍّ وَاحِدٍ وَلاَ يَأْكُلْ بِشِمَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৯০. আবু ওয়ালীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো জুতার ফিতা যখন ছিঁড়ে যাবে, তখন সে যেন একটি জুতা পরে চলাফেরা না করে, যতক্ষণ না সে অন্যটি ঠিক করে নেয়। আর তোমাদের কেউ যেন একটি মোজা পরে চলাফেরা না করে এবং বাম হাতে না খায়।

৪০৯১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَارُونَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي نَهِيكٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مِنَ السُّنَّةِ إِذَا جَلَسَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْلَعَ نَعْلَيْهِ فَيَضَعَهُمَا بِجَنْبِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৯১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুন্নত হলো-যখন কেউ কোথাও বসবে, তখন সে তার জুতা খুলে পাশে রাখবে।

৪০৯২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِالْيَمِينِ وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالشِّمَالِ لِتَكُنِ الْيَمِينُ أَوَّلَهُمَا يَنْتَعِلُ وَآخِرَهُمَا يَنْزِعُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৯২. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে যেন ডান পা থেকে শুরু করে। আর যখন কেউ জুতা খুলবে তখন সে যেন বাম পা থেকে শুরু করে। তাহলে ডান পা পরার সময় আগে থাকবে এবং খোলার সময় শেষে থাকবে।

৪০৯৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ فِي طُهُورِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَنَعْلِهِ . قَالَ مُسْلِمٌ وَسِوَاكِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَنْ شُعْبَةَ مُعَاذٌ وَلَمْ يَذْكُرْ سِوَاكَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৯৩. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধ্যমত তাঁর সব কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। যেমন, উযু করার সময়, চিরুনি করার সময় এবং জুতা পরার সময়ও। মুসলিম (রাহঃ) বলেনঃ মিসওয়াক করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করতেন। তিনি ‘‘তাঁর সাধ্যমত’’ কথাটি উল্লেখ করেননি।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এটি মুআয (রাহঃ) শুবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি সেখানে মিসওয়াক করার কথা উল্লেখ করেননি।
৪০৯৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا لَبِسْتُمْ وَإِذَا تَوَضَّأْتُمْ فَابْدَءُوا بِأَيَامِنِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৯৪. নুফায়লী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কাপড় পরবে এবং উযু করবে, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে।

৪২. বিছানা সম্পর্কে।

باب فِي الْفُرُشِ

৪০৯৫

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الْهَمْدَانِيُّ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْفُرُشَ فَقَالَ " فِرَاشٌ لِلرَّجُلِ وَفِرَاشٌ لِلْمَرْأَةِ وَفِرَاشٌ لِلضَّيْفِ وَالرَّابِعُ لِلشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৯৫. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিছানা প্রসঙ্গে বলেনঃ একটি বিছানা নিজের জন্য, অপরটি স্ত্রীর জন্য এবং আরো একটি মেহমানের জন্য হওয়া দরকার। আর চতুর্থ বিছানাটি শয়তানের জন্য; (কাজেই এর প্রয়োজন নেই)।

৪০৯৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ فَرَأَيْتُهُ مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ - زَادَ ابْنُ الْجَرَّاحِ - عَلَى يَسَارِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ أَيْضًا عَلَى يَسَارِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪০৯৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ) এর ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পাই যে, তিনি একটি বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছেন। ইবনে জাররাহ (রাহঃ) বলেনঃ তিনি (ﷺ) তাঁর বাম দিকে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ইসরাঈল (রাহঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার বাম পাশে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন।
৪০৯৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ رَأَى رُفْقَةً مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ رِحَالُهُمُ الأَدَمُ فَقَالَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى أَشْبَهِ رُفْقَةٍ كَانُوا بِأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَؤُلاَءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৯৭. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি তাঁর ইয়ামানের কয়েকজন সফর সঙ্গীর বিছানা দেখেন যে, তা চমাড়ার তৈরী। তখন তিনি বলেনঃ যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের ন্যায় সফর সঙ্গী দেখতে চায়, তারা যেন এদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে।

৪০৯৮

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَّخَذْتُمْ أَنْمَاطًا " . قُلْتُ وَأَنَّى لَنَا الأَنْمَاطُ قَالَ " أَمَا إِنَّهَا سَتَكُونُ لَكُمْ أَنْمَاطٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০৯৮. ইবনে সারহ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি তোশক বানিয়েছ? আমি বলিঃ আমরা কিরূপে তোশক বানাবো! (অর্থাৎ আমাদের তো সাধ্য নেই)। তখন তিনি বলেনঃ অচিরেই তোমরা তোশকের মালিক হয়ে যাবে।

৪০৯৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ وِسَادَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ ابْنُ مَنِيعٍ - الَّتِي يَنَامُ عَلَيْهَا بِاللَّيْلِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৯৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বালিশ, যা মাথায় দিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতেন, তা দাবাগত করা চামড়ার তৈরী ছিল এবং তাতে খেজুরের পাতা ভরা ছিল।

৪১০০

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ حَيَّانَ - عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَتْ ضِجْعَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১০০. আবু তাওবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিছানা চামড়ার তৈরী ছিল। যাতে খেজুরের পাতা ভরা ছিল।

৪১০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ فِرَاشُهَا حِيَالَ مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪১০১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর বিছানা নবী (ﷺ) এর জায়নামাযের সামনে ছিল।

৪৩. রং্গীন কারুকার্য খচিত পর্দা ব্যবহার সম্পর্কে।

باب فِي اتِّخَاذِ السُّتُورِ

৪১০২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى فَاطِمَةَ رضى الله عنها فَوَجَدَ عَلَى بَابِهَا سِتْرًا فَلَمْ يَدْخُلْ قَالَ وَقَلَّمَا كَانَ يَدْخُلُ إِلاَّ بَدَأَ بِهَا فَجَاءَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَرَآهَا مُهْتَمَّةً فَقَالَ مَا لَكِ قَالَتْ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَىَّ فَلَمْ يَدْخُلْ فَأَتَاهُ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَاطِمَةَ اشْتَدَّ عَلَيْهَا أَنَّكَ جِئْتَهَا فَلَمْ تَدْخُلْ عَلَيْهَا . قَالَ " وَمَا أَنَا وَالدُّنْيَا وَمَا أَنَا وَالرَّقْمَ " . فَذَهَبَ إِلَى فَاطِمَةَ فَأَخْبَرَهَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ قُلْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَأْمُرُنِي بِهِ . قَالَ " قُلْ لَهَا فَلْتُرْسِلْ بِهِ إِلَى بَنِي فُلاَنٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১০২.উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতিমা (রাযিঃ) এর গৃহে উপস্থিত হয়ে তাঁর দরজায় একটি কারুকার্য খচিত পর্দা ঝুলতে দেখেন, যে কারণে তিনি ভেতরে প্রবেশ না করে ফিরে আসেন। কদাচিৎ এরূপ হতো যে, নবী (ﷺ) ভেতরে প্রবেশের আগে ফাতিমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতেন না। এ সময় আলী (রাযিঃ) ঘরে ফিরে ফাতিমা (রাযিঃ)-কে চিন্তাযুক্ত দেখে জিজ্ঞাসা করেনঃ ব্যাপার কি, তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেনঃ আমার কাছে নবী (ﷺ) এসেছিলেন, কিন্তু তিনি ভিতরে প্রবেশ করেননি।

তখন আলী (রাযিঃ) তাঁর কাছে গিয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ফাতিমার নিকট গিয়ে ঘরে প্রবেশ না করায় তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছেন। তখন তিনি বলেনঃ দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক, কারুকার্যের সাথে আমার কী সম্পর্ক? এরপর তিনি ফাতিমার কাছে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্য শুনালে, তিনি বলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বলুন, তিনি এ ব্যাপারে আমাকে কি করতে বলেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ সে যেন তা অমুক লোকের নিকট পাঠিয়ে দেয়।
৪১০৩

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الأَسَدِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ وَكَانَ سِتْرًا مَوْشِيًّا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১০৩. ওয়াসেল ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) .... ইবনে ফুযায়ল (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ ঐ চাদরটি কারুকার্য খচিত ছিল।

৪৪. ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কাপড় সম্পর্কে।

باب فِي الصَّلِيبِ فِي الثَّوْبِ

৪১০৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حِطَّانَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتْرُكُ فِي بَيْتِهِ شَيْئًا فِيهِ تَصْلِيبٌ إِلاَّ قَضَبَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১০৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে এমন কোন বস্তু-যাতে ক্রুশ চিহ্ন বা অন্য কিছুর ছবি থাকতো, তা কেটে ফেলা বা ছিঁড়ে ফেলা পর্যন্ত ক্ষান্ত হতেন না।

৪৫. ছবি সম্পর্কে।

باب فِي الصُّوَرِ

৪১০৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلاَ كَلْبٌ وَلاَ جُنُبٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪১০৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে কোন ছবি, কুকুর ও অপবিত্র মানুষ থাকে, সেখানে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করে না।

৪১০৬

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تِمْثَالٌ " . وَقَالَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ نَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ . فَانْطَلَقْنَا فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ أَبَا طَلْحَةَ حَدَّثَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِكَذَا وَكَذَا فَهَلْ سَمِعْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ ذَلِكَ قَالَتْ لاَ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكُمْ بِمَا رَأَيْتُهُ فَعَلَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ وَكُنْتُ أَتَحَيَّنُ قُفُولَهُ فَأَخَذْتُ نَمَطًا كَانَ لَنَا فَسَتَرْتُهُ عَلَى الْعَرَضِ فَلَمَّا جَاءَ اسْتَقْبَلْتُهُ فَقُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَعَزَّكَ وَأَكْرَمَكَ فَنَظَرَ إِلَى الْبَيْتِ فَرَأَى النَّمَطَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ شَيْئًا وَرَأَيْتُ الْكَرَاهِيَةَ فِي وَجْهِهِ فَأَتَى النَّمَطَ حَتَّى هَتَكَهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَأْمُرْنَا فِيمَا رَزَقَنَا أَنْ نَكْسُوَ الْحِجَارَةَ وَاللَّبِنَ " . قَالَتْ فَقَطَعْتُهُ وَجَعَلْتُهُ وِسَادَتَيْنِ وَحَشَوْتُهُمَا لِيفًا فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَلَىَّ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৪১০৬. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়া (রাহঃ) .... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করে না। রাবী যায়দ ইবনে খালিদ (রাহঃ) সাঈদ ইবনে ইয়াসার (রাহঃ)-কে তার সঙ্গে উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য যেতে অনুরোধ করেন। রাবী বলেনঃ আমরা তাঁর কাছে গিয়ে বলিঃ হে উম্মুল মু’মিনীন! আবু তালহা (রাযিঃ) আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ হাদিছ বর্ণনা করেছেন। আপনি কি নবী (ﷺ) থেকে এ ধরনের কোন হাদিছ শুনেছেন? তিনি বলেনঃ না, তবে আমি তোমাদের কাছে আমার চোখে দেখা একটি ঘটনা বর্ণনা করব যা তিনি করেন।

একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক যুদ্ধে গেলে, আমি তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় আমি একটি পর্দা নিয়ে দরজায় ঝুলিয়ে দেই। তিনি ফিরে আসলে আমি তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রতি সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি আপনাকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করেছেন। তিনি ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে, আমার সালামের কোন জবাব দিলেন না এবং আমি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখতে পাই। এরপর তিনি পর্দার কাছে গিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন এবং বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আমাকে এরূপ নির্দেশ দেননি যে, আমি তাঁর প্রদত্ত রিযিক থেকে ইট-পাথরকে কাপড় পরিধান করাই। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি সেটি দুই টুকরা করে, তার মধ্যে খেজুরের পাতা ভরে দু’টি বালিশ তৈরী করি; এতে তিনি কোনরূপ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নি।
৪১০৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ فَقُلْتُ يَا أُمَّهْ إِنَّ هَذَا حَدَّثَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَقَالَ فِيهِ سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ مَوْلَى بَنِي النَّجَّارِ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৪১০৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সাহল (রাযিঃ) থেকে এ হাদিছ এভাবেই বর্ণনা করেছেন। যাতে তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন। রাবী আরো বলেনঃ সাঈদ ইবনে ইয়াসার নাজ্জার গোত্রের আযাদকৃত গোলাম ছিলেন।

৪১০৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لاَ تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ " . قَالَ بُسْرٌ ثُمَّ اشْتَكَى زَيْدٌ فَعُدْنَاهُ فَإِذَا عَلَى بَابِهِ سِتْرٌ فِيهِ صُورَةٌ فَقُلْتُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيِّ رَبِيبِ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلَمْ يُخْبِرْنَا زَيْدٌ عَنِ الصُّوَرِ يَوْمَ الأَوَّلِ فَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ أَلَمْ تَسْمَعْهُ حِينَ قَالَ إِلاَّ رَقْمًا فِي ثَوْبٍ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৪১০৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে জীব-জন্তুর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করে না। রাবী বুসর (রাহঃ) বলেনঃ যায়দ অসুস্থ হলে আমরা তাঁর সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর কাছে গিয়ে, তাঁর ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত পর্দা দেখতে পাই। তখন আমি উবাইদুল্লাহ খাওলানীকে, যিনি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিঃ) এর বংশের লোক ছিলেন, বলিঃ যায়দ কি আমাদের প্রথমে ছবির সম্পর্কে খবর দেননি? তখন উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেনঃ তোমরা কি তাঁর থেকে এ-ও শোননি, যখন তিনি বলেন যে, তবে পর্দার নিষ্প্রাণ বৃক্ষের ছবিতে কোন দোষ নেই।

৪১০৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ عَقِيلٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - زَمَنَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ أَنْ يَأْتِيَ الْكَعْبَةَ فَيَمْحُوَ كُلَّ صُورَةٍ فِيهَا فَلَمْ يَدْخُلْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مُحِيَتْ كُلُّ صُورَةٍ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১০৯. হাসান ইবনে সাববাহ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন, যখন তিনি ‘বাতহা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তখন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে এমর্মে নির্দেশ দেন যে, তুমি কাবা ঘরে যাও এবং সেখানে যত ছবি আছে, তা সব মুছে ফেল। আর নবী (ﷺ) সেখানে ততক্ষণ প্রবেশ করেননি, যতক্ষণ না সেখানকার সব ছবি নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়।

৪১১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ السَّبَّاقِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ وَعَدَنِي أَنْ يَلْقَانِيَ اللَّيْلَةَ فَلَمْ يَلْقَنِي " . ثُمَّ وَقَعَ فِي نَفْسِهِ جَرْوُ كَلْبٍ تَحْتَ بِسَاطٍ لَنَا فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِهِ مَاءً فَنَضَحَ بِهِ مَكَانَهُ فَلَمَّا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ إِنَّا لاَ نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةٌ فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ حَتَّى إِنَّهُ لَيَأْمُرُ بِقَتْلِ كَلْبِ الْحَائِطِ الصَّغِيرِ وَيَتْرُكُ كَلْبَ الْحَائِطِ الْكَبِيرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪১১০. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিঃ) বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আজ রাতে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার সঙ্গে দেখা করেননি। এরপর তিনি অনুভব করেন যে, তাঁর খাটের নীচে একটি কুকুরের ছানা আছে। তখন তিনি তাকে বের করে ফেলার নির্দেশ দেন এবং নিজের হাতে পানি নিয়ে সেখানে ছিটিয়ে দেন। এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেনঃ আমি সে ঘরে প্রবেশ করি না, যেখানে কুকুর এবং ছবি থাকে। এরপর নবী (ﷺ) সকালে কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দেন। এমন কি তিনি ছোট বাগানের সংরক্ষণকারী কুকুরও হত্যার নির্দেশ দেন এবং বড় বাগানের কুকুরকে হত্যা করা হতে অব্যাহতি দেন।

৪১১১

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ لِي أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ عَلَى الْبَابِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِي فِي الْبَيْتِ يُقْطَعُ فَيَصِيرُ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ فَلْيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مَنْبُوذَتَيْنِ تُوطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَلْيُخْرَجْ " . فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِذَا الْكَلْبُ لِحَسَنٍ أَوْ حُسَيْنٍ كَانَ تَحْتَ نَضَدٍ لَهُمْ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১১১. আবু সালিহ মাহবুব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে এসে বলেন, আমি গতরাতে আপনার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু আমি প্রবেশ করিনি। কারণ ঘরের দরজায় ছবি ছিলো। এবং আপনার বাড়িতে (দরজায়) একটি নকশা করা পর্দা ছিল যার মধ্যে ছবি ছিল এবং ঘরের ভিতরে ছিলো কুকুর। এতএব, আপনি ঘরের মধ্যে যে ছবিগুলো আছে, তাদের মাথা কেটে ফেলতে বলুন, যাতে তা গাছের ন্যায় অবশিষ্ট থাকে। আর আপনি পর্দা ছিড়ে দু’টি বালিশ বানাতে বলুন, যাতে আপনি হেলান দিয়ে বসতে পারেন এবং ঘর থেকে কুকুর বের করার নির্দেশ দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেরূপ করেন। এ সময় হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) এর চৌকির নীচে যে কুকুর শুয়ে ছিল, নবী (ﷺ) এর হুকুমে তা বের করা হয়।