كتاب المناسك

৫. হজ্ব আদায়ের নিয়মাবলীর বিবরণ

অধ্যায় ৫ · ৩২১ টি হাদীস

১. হজ্জ ফরজ হওয়ার বর্ণনা।

باب فَرْضِ الْحَجِّ

১৭২১

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْمَعْنَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ سَنَةٍ أَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ " بَلْ مَرَّةً وَاحِدَةً فَمَنْ زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ أَبُو سِنَانٍ الدُّؤَلِيُّ كَذَا قَالَ عَبْدُ الْجَلِيلِ بْنُ حُمَيْدٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ عُقَيْلٌ عَنْ سِنَانٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭২১. যুহাইর ইবনে হারব ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আকরা’ ইবনে হাবিস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! হজ্জ কি প্রতি বছরই ফরয, নাকি জীবনে একবার? তিনি বলেন, বরং (জীবনে) একবার (হজ্জ করা ফরয)। এর অধিক যদি কেউ করে তবে তা তার জন্য অতিরিক্ত।

১৭২২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ ابْنٍ لأَبِي، وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لأَزْوَاجِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ " هَذِهِ ثُمَّ ظُهُورُ الْحُصْرِ " .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াকিদ লায়ছী (রাঃ)

১৭২২. আন্ নুফায়লী ..... ইবনে আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বিদায় হজ্জের সময় তাঁর স্ত্রীদের বলতে শুনেছি, এ হজ্জের পর তোমরা আর হজ্জের জন্য ঘর হতে বের হবে না।

২. মহিলাদের সাথে মুহরিম পুরুষ ছাড়া হজ্জে যাওয়া।

باب فِي الْمَرْأَةِ تَحُجُّ بِغَيْرِ مَحْرَمٍ

১৭২৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ مُسْلِمَةٍ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ لَيْلَةٍ إِلاَّ وَمَعَهَا رَجُلٌ ذُو حُرْمَةٍ مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, কোন মুসলিম মহিলার জন্য কোন মুহরিম [১] পুরুষ সঙ্গী ব্যতীত এক রাতের পরিমাণ দূরত্বও সফর করা বৈধ নয়।
[১] শরী'আতের দৃষ্টিতে যার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম তাকে মুহরিম বলে। যেমনঃ পিতা, পূত্র, দাদা, চাচা, ভাতিজা প্রভৃতি।
১৭২৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، وَالنُّفَيْلِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِيهِ، ثُمَّ اتَّفَقُوا - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ يَوْمًا وَلَيْلَةً " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَلَمْ يَذْكُرِ الْقَعْنَبِيُّ، وَالنُّفَيْلِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، رَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ مَالِكٍ، كَمَا قَالَ الْقَعْنَبِيُّ،

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, যে মহিলা আল্লাহ্ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার জন্য একদিন ও একরাত সফর করা বৈধ নয় ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে।

১৭২৫

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " بَرِيدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২৫. ইউসুফ ইবনে মুসা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু আরো বলেন, যদি উহার দূরত্ব এক বারীদ [১] ]পরিমাণ হয়।
[১] এক বারীদ হল বারো মাইল পরিমাণ দূরত্ব।
১৭২৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادٌ، أَنَّ أَبَا مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعًا، حَدَّثَاهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ سَفَرًا فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلاَّ وَمَعَهَا أَبُوهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ زَوْجُهَا أَوِ ابْنُهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৭২৬. উসমান ইবনে আবু শায়রা ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ্ ও আখিরাতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে তার জন্য একসঙ্গে তিন দিনের অধিক দূরত্বে সফর করা বৈধ নয়। যদি তার সাথে পিতা বা ভাই বা তার স্বামী বা পুত্র বা অন্য কোন মুহরিম ব্যক্তি না থাকে।

১৭২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ ثَلاَثًا إِلاَّ وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭২৭. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, কোন মহিলা যেন তিন দিনের পথ কোন মুহরিম সাথী ব্যতীত সফর না করে।

১৭২৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يُرْدِفُ مَوْلاَةً لَهُ يُقَالُ لَهَا صَفِيَّةُ تُسَافِرُ مَعَهُ إِلَى مَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১৭২৮. নসর ইবনে আলী ...... নাফি’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর ক্রীতদাসী সাফিয়্যাকে সাথে করে একই উটে আরোহণ করে (তাকে পেছনে বসিয়ে) মক্কায় সফর করেন।

৩. ইসলামে কোন বৈরাগ্য নেই।

باب " لاَ صَرُورَةَ " فِي الإِسْلاَمِ

১৭২৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ حَيَّانَ الأَحْمَرَ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَرُورَةَ فِي الإِسْلاَمِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭২৯. উসমান ইবনে আবু শায়রা ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ইসলামে কোন বৈরাগ্য নেই।[১]
[১] হাদীসটির দ্বিবিধ অর্থ গ্রহণের অবকাশ আছে। বিবাহের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করা এবং হজ্জ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করে সন্ন্যাস জীবনযাপন করা ইসলামের নীতি নয়। এটা অনৈসলামিক প্রথা যা খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের মধ্যে প্রচলিত।
১৭৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ، - يَعْنِي أَبَا مَسْعُودٍ الرَّازِيَّ - وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانُوا يَحُجُّونَ وَلاَ يَتَزَوَّدُونَ - قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ كَانَ أَهْلُ الْيَمَنِ أَوْ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ يَحُجُّونَ وَلاَ يَتَزَوَّدُونَ - وَيَقُولُونَ نَحْنُ الْمُتَوَكِّلُونَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ ( وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى ) الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩০. আহমদ ইবনুল ফুরাত ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হজ্জে আসত, কিন্তু সাথে কোন পাথেয় আনতো না। আবু মাস্‘উদ (রাযিঃ) বলেন, ইয়ামানের অধিবাসীদের অথবা ইয়ামানের কিছু লোক হজ্জে আসত, কিন্তু সাথে পাথেয় আনতো না বরং তারা বলতো, আমরা (আল্লাহ্ তাআলার ওপর) তাওয়াক্কুলকারী। বরং এরা লোকের উপর নির্ভরশীল হতো এবং ভিক্ষা করতো। তখন আ্ল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (অর্থ) তোমরা তোমাদের সাথে পাথেয় লও, আর উত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া বা আল্লাহ্ ভীতি।’’

১৭৩১

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ ( لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ ) قَالَ كَانُوا لاَ يَتَّجِرُونَ بِمِنًى فَأُمِرُوا بِالتِّجَارَةِ إِذَا أَفَاضُوا مِنْ عَرَفَاتٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩১. ইউসুফ ইবনে মুসাু আব্দুল্লাহ ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী (মুজাহিদ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ (অর্থ) ‘‘তোমাদের ওপর কোন গুনাহ্ নেই, যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান কর’’ এবং বলেন, লোকেরা মিনাতে (হজ্জের সময়) বেচাকেনা করতো না। এরপর তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নির্দেশ দেয়া হয় যখন তারা আরাফার হতে প্রত্যাবর্তন করে।

৪. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

১৭৩২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مِهْرَانَ أَبِي صَفْوَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩২. মুসাদ্দাদ ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইচ্ছা করে সে যেন অবিলম্বে তা সম্পন্ন করে।

৫. (হজ্জের সময়) পশু ভাড়ায় খাটানো।

باب الْكَرِيِّ

১৭৩৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ التَّيْمِيُّ، قَالَ كُنْتُ رَجُلاً أُكْرِي فِي هَذَا الْوَجْهِ وَكَانَ نَاسٌ يَقُولُونَ لِي إِنَّهُ لَيْسَ لَكَ حَجٌّ فَلَقِيتُ ابْنَ عُمَرَ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي رَجُلٌ أُكْرِي فِي هَذَا الْوَجْهِ وَإِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ لِي إِنَّهُ لَيْسَ لَكَ حَجٌّ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَلَيْسَ تُحْرِمُ وَتُلَبِّي وَتَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَتُفِيضُ مِنْ عَرَفَاتٍ وَتَرْمِي الْجِمَارَ قَالَ قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَإِنَّ لَكَ حَجًّا جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ مِثْلِ مَا سَأَلْتَنِي عَنْهُ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُجِبْهُ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ ) فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَرَأَ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةَ وَقَالَ " لَكَ حَجٌّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৩৩. মুসাদ্দা্দ (রাহঃ) ...... আবু উমামা আত-তায়মী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন এক ব্যক্তি যে এই (হজ্জের সফরের) উদ্দেশ্যে (জন্তু-যান) ভাড়ায় দিতাম এবং লোকেরা (আমাকে) বলতঃ তোমার হজ্জ শুদ্ধ হয় না। (কেননা তুমি আসলে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হও না, বরং ব্যবসার উদ্দেশ্যে নির্গত হও)। অতএব আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি এই (হজ্জের সফরের) উদ্দেশ্যে (জন্তুযান) ভাড়ায় দিয়ে থাকি। আর লোকেরা বলেঃ তোমার হজ্জ হয় না।

ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি কি ইহরামের বস্ত্র পরিধান কর না, তালবিয়া পাঠ কর না, আল্লাহর ঘর তাওয়াফ কর না, আরাফাতে অবস্থান কর না এবং জামরায় কংকর নিক্ষেপ কর না? রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, সবই করি। তিনি (ইবনে উমর) বলেন, নিশ্চয় তবে তো তোমার হজ্জ হয়ে গেল। একব্যক্তি নবী করিম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এরূপ প্রশ্ন করেন, যেরূপ প্রশ্ন তুমি আমাকে করেছ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চুপ থাকেন। যতক্ষণ না এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই’’। (সূরা বাকারা: ১৯৮)। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন এবং তার সামনে আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং বলেন, তোমার হজ্জ শুদ্ধ হয়েছে।
১৭৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّاسَ، فِي أَوَّلِ الْحَجِّ كَانُوا يَتَبَايَعُونَ بِمِنًى وَعَرَفَةَ وَسُوقِ ذِي الْمَجَازِ وَمَوَاسِمِ الْحَجِّ فَخَافُوا الْبَيْعَ وَهُمْ حُرُمٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ ( لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ ) فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ . قَالَ فَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُهَا فِي الْمُصْحَفِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের প্রাথমিক সময়ে লোকেরা মিনা, আরাফা ও যুল-মাজাযের বাজারে এবং হজ্জের মওসুমে বেচাকেনা করতো। এরপর তারা ইহরাম অবস্থায় বেচাকেনা করতে শংকাবোধ করে। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (অর্ধ): ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই- হজ্জের মওসুমে’’। উবাইদ ইবনে উমায়ের বলেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাঁর মাসহাফে উপরোক্ত পাঠ পড়তেন।

১৭৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، - قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ كَلاَمًا مَعْنَاهُ أَنَّهُ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّاسَ، فِي أَوَّلِ مَا كَانَ الْحَجُّ كَانُوا يَبِيعُونَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ إِلَى قَوْلِهِ مَوَاسِمِ الْحَجِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩৫. আহমাদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের প্রাথমিক লোকেরা ক্রয়-বিক্রয় করতো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন ‘‘হজ্জের মওসুমে’’ পর্যন্ত।

৬. অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হজ্জ।

باب فِي الصَّبِيِّ يَحُجُّ

১৭৩৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالرَّوْحَاءِ فَلَقِيَ رَكْبًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ " مَنِ الْقَوْمُ " . فَقَالُوا الْمُسْلِمُونَ . فَقَالُوا فَمَنْ أَنْتُمْ قَالُوا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَفَزِعَتِ امْرَأَةٌ فَأَخَذَتْ بِعَضُدِ صَبِيٍّ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ مِحَفَّتِهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِهَذَا حَجٌّ قَالَ " نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাওহা নামক স্থানে ছিলেন। ঐ সময় তাঁর সাথে একদল সওয়ারীর সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাঁদের সালাম করেন এবং বলেনঃ তোমরা কোন কাওমের অন্তর্ভুক্ত ? তারা বলেন, আমরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তারা জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কারা? সাহাবীগণ বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)। তা শুনে এক মহিলা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছোট বাচ্চার বাহু ধরে স্বীয় হাওদা হতে বাইরে আসেন এবং বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর জন্য হজ্জ আছে কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, এবং তোমার সাওয়াব হবে।

৭. মীকাতসমূহের [১] বর্ণনা।

باب فِي الْمَوَاقِيتِ

১৭৩৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنًا وَبَلَغَنِي أَنَّهُ وَقَّتَ لأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৩৭. আল কা‘নবী ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনাবাসীদের জন্য যুল্-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নাজদবাসীদের জন্য কারণ নামক স্থানকে (হজ্জ ও উমরার) মীকাত নির্দিষ্ট করেন। রাবী বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নামক স্থানকে মীকাত নির্ধারণ করেন।
[১] হজ্জ ও উমরার জন্য ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট স্থানকে মীকাত বলে।

৭. মীকাতসমূহের বর্ণনা।

باب فِي الْمَوَاقِيتِ

১৭৩৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالاَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ أَحَدُهُمَا وَلأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ . وَقَالَ أَحَدُهُمَا أَلَمْلَمَ قَالَ " فَهُنَّ لَهُمْ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ . - قَالَ ابْنُ طَاوُسٍ - مِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ قَالَ وَكَذَلِكَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৩৮. সুলাইমান ইবনে হারব ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে এবং ইবনে তাউস (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মীকাত নির্ধারণ করেছেন .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

তাঁদের একজন বলেন, ইয়ামানবাসীদের (মীকাত হল) ইয়ালামলাম এবং অপরজন বলেন, আলামলাম। এরপর তিনি বলেন, উক্ত স্থানগুলো তাদের জন্য মীকাতস্বরূপ। আর যারা হজ্জ এবং উমরার উদ্দেশ্যে স্বীয় মীকাত ব্যতীত অন্য স্থান হতে আসবে তাদের জন্য নির্ধারিত মীকাত-ই তাদের মীকাত হবে। আর যারা এর ব্যতিক্রম হবে ইবনে তাউস বলেন, তারা যেখান হতে সফর শুরু করবে, সেখানকার মীকাত-ই তাদের নির্দিষ্ট স্থান হবে। এমনকি মক্কাবাসিগণও তাদের বসবাসের স্থান হতে ইহরাম বাঁধবে।
১৭৩৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ بَهْرَامَ الْمَدَائِنِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ أَفْلَحَ، - يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ - عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَّتَ لأَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتَ عِرْقٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৩৯. হিশাম ইবনে বাহরাম আল মাদায়েনী ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরাকবাসীদের জন্য ‘যাতু ইরক’-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন।

১৭৪০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَهْلِ الْمَشْرِقِ الْعَقِيقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৪০. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ (ﷺ) পূর্বাঞ্চলের লোকদের জন্য আকীক’ নামক স্থানকে মীকাত নির্ধারণ করেন।

১৭৪১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يُحَنَّسَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ جَدَّتِهِ، حُكَيْمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ أَوْ عُمْرَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ الأَقْصَى إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ " . أَوْ " وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " . شَكَّ عَبْدُ اللَّهِ أَيَّتَهُمَا قَالَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَرْحَمُ اللَّهُ وَكِيعًا أَحْرَمَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ يَعْنِي إِلَى مَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৭৪১. আহমাদ ইবনে সালিহ ....... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে কেউ মসজিদুল আকসা হতে মসজিদুল হারামের দিকে হজ্জ বা উমরা করার জন্য ইহরাম বাঁধবে, তাঁর পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ্ মার্জিত হবে। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তার জন্য জান্নাত অবধারিত।

আবু দুউদ (রাহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা ওয়াকী (রাহঃ)-কে রহম করুন, তিনি বায়তুল মাকদিস থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতেন।
১৭৪২

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنِي زُرَارَةُ بْنُ كُرَيْمٍ، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو السَّهْمِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِمِنًى أَوْ بِعَرَفَاتٍ وَقَدْ أَطَافَ بِهِ النَّاسُ قَالَ فَتَجِيءُ الأَعْرَابُ فَإِذَا رَأَوْا وَجْهَهُ قَالُوا هَذَا وَجْهٌ مُبَارَكٌ . قَالَ وَوَقَّتَ ذَاتَ عِرْقٍ لأَهْلِ الْعِرَاقِ .

বর্ণনাকারী: হারিস ইবন আমর বাহিলী (রাঃ)

১৭৪২. আবু মা‘মার আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আবুল হাজ্জাজ ...... আল হারিস ইবনে আমর আস সাহমী (রাযিঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হই, যখন তিনি মিনাতে ছিলেন অথবা আরাফাতে। আর তাঁর চতুর্দিকে বহু লোক ছিল। তখন তাঁর নিকট বেদুঈনরা আসত আর বলত, এটা মোবারক চেহারা। রাবী বলেন, তিনি ইরাকের অধিবাসীদের জন্য মীকাতস্বরূপ যাতু-ইরককে নির্ধারণ করেন।

৮. ঋতুবতী স্ত্রীলোকের হজ্জের ইহরাম বাঁধা।

باب الْحَائِضِ تُهِلُّ بِالْحَجِّ

১৭৪৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ نُفِسَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ بِمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بِالشَّجَرَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ أَنْ تَغْتَسِلَ فَتُهِلَّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৪৩. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল হুলাইফার শাজারায় আসমা বিনতে উমায়শ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেন যে, সে (আসমা) যেন গোসল করেন এবং ইহরাম বাঁধেন।

১৭৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو مَعْمَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، وَمُجَاهِدٍ، وَعَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْحَائِضُ وَالنُّفَسَاءُ إِذَا أَتَتَا عَلَى الْوَقْتِ تَغْتَسِلاَنِ وَتُحْرِمَانِ وَتَقْضِيَانِ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ " . قَالَ أَبُو مَعْمَرٍ فِي حَدِيثِهِ حَتَّى تَطْهُرَ وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ عِيسَى عِكْرِمَةَ وَمُجَاهِدًا قَالَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَقُلِ ابْنُ عِيسَى " كُلَّهَا قَالَ: «الْمَنَاسِكَ إِلَّا الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, হায়য ও নিফাসওয়ালী স্ত্রীলোক যখন মীকাতের নিকটবর্তী হবে, তখন তারা যেন গোসল করে, ইহরাম বাঁধে এবং আল্লার ঘর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।

৯. ইহরামের সময় সুগন্ধি ব্যবহার।

باب الطِّيبِ عِنْدَ الإِحْرَامِ

১৭৪৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلإِحْلاَلِهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৪৫. আল কা‘নবী ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং ইহরাম খোলার সময় বাইতুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম।

১৭৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ الْمِسْكِ فِي مَفْرِقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْرِمٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৪৬. মুহাম্মাদ ইবনুস সাববাহ্ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় রাসূলু্ল্লাহ্ (ﷺ) এর সিঁথিতে সুগন্ধির চাকচিক্য যেন আমি দেখতে পাচ্ছি।

১০. মাথার চুল জমাটবদ্ধ করা।

باب التَّلْبِيدِ

১৭৪৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُهِلُّ مُلَبِّدًا .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৭৪৭. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে দাউদ ..... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে চুল জমাটবদ্ধ অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি।

১৭৪৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَبَّدَ رَأْسَهُ بِالْعَسَلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৪৮. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) নিজের মাথার চুল মধুর সাহায্যে জমাটবদ্ধ করেন।

১১. কুরবানীর পশুর বর্ণনা।

باب فِي الْهَدْىِ

১৭৪৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، - الْمَعْنَى - قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ - يَعْنِي ابْنَ أَبِي نَجِيحٍ - حَدَّثَنِي مُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْدَى عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِي هَدَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمَلاً كَانَ لأَبِي جَهْلٍ فِي رَأْسِهِ بُرَةُ فِضَّةٍ . قَالَ ابْنُ مِنْهَالٍ بُرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ زَادَ النُّفَيْلِيُّ يَغِيظُ بِذَلِكَ الْمُشْرِكِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৪৯ আন নুফায়লী ..... ইবনে আব্ববাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হুদায়বিয়ার বছর কতগুলো পশু কুরবানীর জন্য সাথে নেন। পশুর মধ্যে একটি উটের মালিক ছিল আবু জাহল। এর নাসারন্ধ্রের আংটি ছিল রূপার তৈরী। রাবী ইবনে মিনহাল (রাহঃ) বলেন, সোনার তৈরী। রাবী নুফায়লী আরও বলেছেন যে, তা কুরবানীর উদ্দেশ্য ছিল মুশরিকদের রাগান্বিত করা।

১২. গরু কুরবানী করা।

باب فِي هَدْىِ الْبَقَرِ

১৭৫০

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحَرَ عَنْ آلِ مُحَمَّدٍ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بَقَرَةً وَاحِدَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৫০. ইবনুস সারাহ্ .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন।

১৭৫১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَبَحَ عَمَّنِ اعْتَمَرَ مِنْ نِسَائِهِ بَقَرَةً بَيْنَهُنَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৫১. আমর ইবনে উসমান মুহাম্মাদ ইবনে মোহরান ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) তাঁর স্ত্রীগণের মধ্যে যাঁরা উমরা করেন তাঁদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন।

১৩. ইশআর বা কুরবানীর পশুর রক্তচিহ্ন দান।

باب فِي الإِشْعَارِ

১৭৫২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، - قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ - قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ دَعَا بِبَدَنَةٍ فَأَشْعَرَهَا مِنْ صَفْحَةِ سَنَامِهَا الأَيْمَنِ ثُمَّ سَلَتَ عَنْهَا الدَّمَ وَقَلَّدَهَا بِنَعْلَيْنِ ثُمَّ أُتِيَ بِرَاحِلَتِهِ فَلَمَّا قَعَدَ عَلَيْهَا وَاسْتَوَتْ بِهِ عَلَى الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ بِالْحَجِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৫২. আবুল ওয়ালীদ আত তালিসী ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যুল হুলাইফাতে যোহরের নামায আদায় করেন। এরপর তিনি তাঁর কুরবানীর একটি উট আনতে বলেন এবং এর কুঁজের ডানপাশ (ধারালো অস্ত্রের দ্বারা) ফেঁড়ে দেন। এরপর তিনি তার রক্তের চিহ্ন মুছে দেন এবং এর গলায় দুটি জুতার মালা পরিয়ে দেন। এরপর তিনি স্বীয় বাহনের নিকট যান। তিনি বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে তালবীয়া পাঠ শুরু করেন।

১৭৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَى أَبِي الْوَلِيدِ قَالَ ثُمَّ سَلَتَ الدَّمَ بِيَدِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هَمَّامٌ قَالَ سَلَتَ الدَّمَ عَنْهَا بِإِصْبَعِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مِنْ سُنَنِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ الَّذِي تَفَرَّدُوا بِهِ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

১৭৫৩. মুসাদ্দাদ ..... শু‘বা (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, এরপর তিনি স্বহস্তে এর রক্ত মুছে দেন।

১৭৫৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَمَرْوَانَ، أَنَّهُمَا قَالاَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَلَمَّا كَانَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْىَ وَأَشْعَرَهُ وَأَحْرَمَ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

১৭৫৪. আব্দুল আ‘লা ...... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) ও মারওয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসলুল্লাহ্ (ﷺ) হুদায়বিয়ার বছর (মদীনা হতে উমরার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হন। তিনি যুল হুলাইফাতে পৌঁছে কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরান, এবং ইশআর করেন ও ইহরাম বাঁধেন।

১৭৫৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْدَى غَنَمًا مُقَلَّدَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৫৫. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর পশু হিসাবে একটি মালা পরিহিত বকরী (মক্কায়) প্রেরণ করেন।

১৪. কুরবানীর পশু পরিবর্তন।

باب تَبْدِيلِ الْهَدْىِ

১৭৫৬

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ خَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ خَالُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ رَوَى عَنْهُ، حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ - عَنْ جَهْمِ بْنِ الْجَارُودِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَهْدَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ نَجِيبًا فَأُعْطِيَ بِهَا ثَلاَثَمِائَةِ دِينَارٍ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَهْدَيْتُ نَجِيبًا فَأُعْطِيتُ بِهَا ثَلاَثَمِائَةِ دِينَارٍ أَفَأَبِيعُهَا وَأَشْتَرِي بِثَمَنِهَا بُدْنًا قَالَ " لاَ انْحَرْهَا إِيَّاهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لأَنَّهُ كَانَ أَشْعَرَهَا .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৭৫৬. আন্ নুফায়লী (রাহঃ) .... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) একটি বুখতী[১] উট কুরবানীর পশু হিসাবে প্রেরণ করেন। এরপর তাঁকে এর বিনিময়ে তিনশ’ দীনার প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কুরবানীর জন্য একটি বুখতী প্রাপ্ত হই, কিন্তু এর বিনিময়ে আমাকে তিনশ’ দীনার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি কি তা বিক্রয় করে দিব, আর ঐ মূল্যে অন্য একটি উট ক্রয় করব? তিনি বলেনঃ না, তুমি বরং এটিই কুরবানী কর।
[১] আরবী ও আজমী ( জাতের ) সংমিশ্রণে জম্ম লাভকারী উট।

১৫. কুরবানীর পশু (মক্কায়) প্রেরণের পর হালাল অবস্থায় থাকা।

باب مَنْ بَعَثَ بِهَدْيِهِ وَأَقَامَ

১৭৫৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَتَلْتُ قَلاَئِدَ بُدْنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَىَّ ثُمَّ أَشْعَرَهَا وَقَلَّدَهَا ثُمَّ بَعَثَ بِهَا إِلَى الْبَيْتِ وَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَىْءٌ كَانَ لَهُ حِلاًّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৫৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল-কা‘নবী(রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর কিলাদা (মালা) আমি নিজের হাতে পাকিয়েছি। এরপর তিনি তা স্বহস্তে ইশআর করেছেন এবং গলায় কিলাদা বেঁধেছেন। তারপর তিনি সেগুলো বায়তুল্লাহর দিকে প্রেরণ করে মদীনায় অবস্থান করেন এবং হালাল কোন জিনিস তাঁর জন্য নিষিদ্ধ হয়নি।

১৭৫৮

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ الْهَمْدَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُمْ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهْدِي مِنَ الْمَدِينَةِ فَأَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْيِهِ ثُمَّ لاَ يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُ الْمُحْرِمُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৫৮. ইয়াযিদ ইবনে খালিদ রামিলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনা হতে (মক্কায়) কুরবানীর পশু পাঠাতেন। আর আমি তার গলায় বাঁধার জন্য রশি পাকিয়ে দিতাম। এগুলো প্রেরণের পরও তিনি ঐ সমস্ত বিষয় বর্জন করতেন না, যা একজন মুহরিম (ইহরামধারী) ব্যক্তির জন্য বর্জনীয়।

১৭৫৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ، - زَعَمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهُمَا، جَمِيعًا وَلَمْ يَحْفَظْ حَدِيثَ هَذَا مِنْ حَدِيثِ هَذَا وَلاَ حَدِيثَ هَذَا مِنْ حَدِيثِ هَذَا - قَالاَ قَالَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْهَدْىِ فَأَنَا فَتَلْتُ قَلاَئِدَهَا بِيَدِي مِنْ عِهْنٍ كَانَ عِنْدَنَا ثُمَّ أَصْبَحَ فِينَا حَلاَلاً يَأْتِي مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৫৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর পশু (মক্কায়) প্রেরণ করেন এবং আমি স্বহস্তে এগুলোর জন্য তুলার তৈরী কিলাদা পাকিয়ে দেই। অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে রাত কাটান এবং আমাদের সাথে সেই কাজ করেন যা সাধারণ অবস্থায় কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে করে থাকে।

১৬. কুরবানীর উটের পিঠে আরোহণ করা।

باب فِي رُكُوبِ الْبُدْنِ

১৭৬০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً . فَقَالَ " ارْكَبْهَا " . قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ . فَقَالَ " ارْكَبْهَا وَيْلَكَ " . فِي الثَّانِيَةِ أَوْ فِي الثَّالِثَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৬০. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে কুরবানীর একটি উট হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বলেন, এর পিঠে আরোহণ করে চলে যাও। লোকটি বলল, এটা তো কুরবানীর পশু। তিনি আবার বলেন, তুমি এর পিঠে আরোহণ কর। দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়বারে (রাবীর সন্দেহ) তিনি লোকটিকে বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়, তুমি এর পিঠে আরোহণ কর।

১৭৬১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رُكُوبِ الْهَدْىِ، فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " ارْكَبْهَا بِالْمَعْرُوفِ إِذَا أُلْجِئْتَ إِلَيْهَا حَتَّى تَجِدَ ظَهْرًا " .

বর্ণনাকারী: আবুয যুবায়র (রহঃ)

১৭৬১. আহমাদ ইবনে হাম্মল (রাহঃ) .... আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট কুরবানীর পশুর পিঠে আরাহণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা উত্তমভাবে এর পিঠে আরোহণ করবে, যখন অন্য কোন বাহন পাবে না। আর অন্য বাহন পেয়ে গেলে এর পিঠে আরোহণ করবে না।

১৭. কুরবানীর পশু গণ্তব্যে (মক্কা) পৌঁছার পূর্বেই অবসন্ন হয়ে পড়লে।

باب فِي الْهَدْىِ إِذَا عَطِبَ قَبْلَ أَنْ يَبْلُغَ

১৭৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نَاجِيَةَ الأَسْلَمِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مَعَهُ بِهَدْىٍ فَقَالَ " إِنْ عَطِبَ مِنْهَا شَىْءٌ فَانْحَرْهُ ثُمَّ اصْبَغْ نَعْلَهُ فِي دَمِهِ ثُمَّ خَلِّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৭৬২. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... নাজিয়া আল আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার সাথে কুরবানীর পশু প্রেরণ করেন এবং বলেন, যদি এগুলোর মধ্যে কোনটি অচল হয়ে পড়ে তবে তা যবেহ করবে। এরপর এর গলায় পরিহিত জুতা রক্তে রঞ্জিত করবে, এরপর তা মানুষের খাওয়ার জন্য রেখে যাবে।

১৭. কুরবানীর পশু গন্তব্যে (মক্কা) পৌঁছার পূর্বেই অবসন্ন হয়ে পড়লে।

باب فِي الْهَدْىِ إِذَا عَطِبَ قَبْلَ أَنْ يَبْلُغَ

১৭৬৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، - وَهَذَا حَدِيثُ مُسَدَّدٍ - عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فُلاَنًا الأَسْلَمِيَّ وَبَعَثَ مَعَهُ بِثَمَانَ عَشْرَةَ بَدَنَةً فَقَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ أُزْحِفَ عَلَىَّ مِنْهَا شَىْءٌ قَالَ " تَنْحَرُهَا ثُمَّ تَصْبُغُ نَعْلَهَا فِي دَمِهَا ثُمَّ اضْرِبْهَا عَلَى صَفْحَتِهَا وَلاَ تَأْكُلْ مِنْهَا أَنْتَ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِكَ " . أَوْ قَالَ " مِنْ أَهْلِ رُفْقَتِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الَّذِي تَفَرَّدَ بِهِ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَوْلُهُ " وَلاَ تَأْكُلْ مِنْهَا أَنْتَ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ رُفْقَتِكَ " . وَقَالَ فِي حَدِيثِ عَبْدِ الْوَارِثِ " ثُمَّ اجْعَلْهُ عَلَى صَفْحَتِهَا " . مَكَانَ " اضْرِبْهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ يَقُولُ إِذَا أَقَمْتَ الإِسْنَادَ وَالْمَعْنَى كَفَاكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৬৩. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসলাম গোত্রের অমুককে (মক্কায়) প্রেরণ করেন এবং তাঁর সাথে আঠারটি কুরবানীর উটও পাঠান। সে (আসলামী) জিজ্ঞাসা করে আপনার কী মত, পথিমধ্যা যদি এর কোনটি চলতে অক্ষম হয়ে পড়ে? তিনি বলেন, তবে তা যবেহ্ করবে এবং এর জুতাকে (যা উহার গলায় পরিহিত আছে) এর রক্তে রঞ্জিত করবে। এরপর ঐ রঞ্জিত জুতা এর কুঁজের নিকট রাখবে। আর তুমি এবং তোমার সাথীরা তা হতে কোন গোশত খাবে না। অথবা তিনি বলেন, তোমার সহযাত্রীগণ এর গোশত খাবে না।

১৭. কুরবানীর পশু গণ্তব্যে (মক্কা) পৌঁছার পূর্বেই অবসন্ন হয়ে পড়লে।

باب فِي الْهَدْىِ إِذَا عَطِبَ قَبْلَ أَنْ يَبْلُغَ

১৭৬৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، وَيَعْلَى، ابْنَا عُبَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ لَمَّا نَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُدْنَهُ فَنَحَرَ ثَلاَثِينَ بِيَدِهِ وَأَمَرَنِي فَنَحَرْتُ سَائِرَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৭৬৪. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নিজের উট কুরবানী করেন, তখন তিনি স্বহস্তে আরও ত্রিশটি পশু কুরবানী করেন। এরপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে বাকি সব পশু আমি কুরবানী করি।

১৭৬৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - وَهَذَا لَفْظُ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُحَىٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَعْظَمَ الأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَوْمُ النَّحْرِ ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ " . قَالَ عِيسَى قَالَ ثَوْرٌ وَهُوَ الْيَوْمُ الثَّانِي . قَالَ وَقُرِّبَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدَنَاتٌ خَمْسٌ أَوْ سِتٌّ فَطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إِلَيْهِ بِأَيَّتِهِنَّ يَبْدَأُ فَلَمَّا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا - قَالَ فَتَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ خَفِيَّةٍ لَمْ أَفْهَمْهَا فَقُلْتُ مَا قَالَ - قَالَ " مَنْ شَاءَ اقْتَطَعَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ বিন কুরত আযদী (রাঃ)

১৭৬৫. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে কুরত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, নাহরের (কুরবানীর) দিন। এরপর এর পরবর্তী দিন (কুরবানীর দ্বিতীয় দিন)। রাবী বলেন, ঐ দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পাঁচটি বা ছয়টি (রাবীর সন্দেহ) কুরবানীর উট পেশ করা হয়। প্রতিটি উট তাঁর সামনে আসতে থাকে যে, তিনি কোনটি আগে কুরবানী করবেন (এটা মহানবী (ﷺ) এর একটি মু‘জিযা যে, পশুরাও তাঁর অনুগত হয়ে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করে।) এরপর এগুলো যখন পার্শ্বের উপর (নাহরের পর) পড়ে যায় তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অস্পষ্ট স্বরে এমন কিছু বলেন যা আমি বুঝতে পারিনি। জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারি যে, তিনি বলেছেন, কেউ (খাওয়ার জন্য) চাইলে এর গোশত কেটে নিতে পারে।

১৭৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الأَزْدِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ غَرَفَةَ بْنَ الْحَارِثِ الْكِنْدِيَّ، قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَأُتِيَ بِالْبُدْنِ فَقَالَ " ادْعُوا لِي أَبَا حَسَنٍ " . فَدُعِيَ لَهُ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - فَقَالَ لَهُ " خُذْ بِأَسْفَلِ الْحَرْبَةِ " . وَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَعْلاَهَا ثُمَّ طَعَنَ بِهَا فِي الْبُدْنِ فَلَمَّا فَرَغَ رَكِبَ بَغْلَتَهُ وَأَرْدَفَ عَلِيًّا رضى الله عنه .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহঃ)

১৭৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক আল-আযদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফা ইবনুল হারিস আল কিন্দীকে বলতে শুনেছি, আমি বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। কুরবানীর পশু আনা হলে তিনি বলেন, তোমরা হাসানের পিতাকে (আলী) আমার নিকট ডেকে আন। তখন আলী (রাযিঃ)-কে তাঁর নিকট ডেকে আনা হয়। তিনি তাঁকে বলেন, তুমি বল্লমের নীচের প্রান্ত ধর, আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উপরের প্রান্ত ধরেন, এরপর তারা উভয়ে একত্রে যবেহ্ করেন। যবেহ্ শেষে তিনি তাঁর খচ্চরে আরোহণ করেন এবং আলী (রাযিঃ)-কে পেছনে বসান।

১৮. কুরবানীর উট কিভাবে যবেহ্ করা হবে।

باب كَيْفَ تُنْحَرُ الْبُدْنُ

১৭৬৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ كَانُوا يَنْحَرُونَ الْبَدَنَةَ مَعْقُولَةَ الْيُسْرَى قَائِمَةً عَلَى مَا بَقِيَ مِنْ قَوَائِمِهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৬৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বলেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ কুরবানীর পশুর সম্মুখের বাম পা বেঁধে এবং বাকি তিন পায়ের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় কুরবানী করতেন।

১৭৬৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ جُبَيْرٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِمِنًى فَمَرَّ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَنْحَرُ بَدَنَتَهُ وَهِيَ بَارِكَةٌ فَقَالَ ابْعَثْهَا قِيَامًا مُقَيَّدَةً سُنَّةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: যিয়াদ ইবনে জুবাইর (রহঃ)

১৭৬৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল ...... যিয়াদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি মিনাতে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে তার উট বসা অবস্থায় কুরবানী করতে চাচ্ছিল। তিনি তাকে বলেন, একে উঠিয়ে দাও এবং বেঁধে দাঁড় করিয়ে যাবাহ করো। এটাই মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সুন্নত।

১৭৬৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، - يَعْنِي ابْنَ عُيَيْنَةَ - عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ وَأَقْسِمَ جُلُودَهَا وَجِلاَلَهَا وَأَمَرَنِي أَنْ لاَ أُعْطِيَ الْجَزَّارَ مِنْهَا شَيْئًا وَقَالَ " نَحْنُ نُعْطِيهِ مِنْ عِنْدِنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৭৬৯. আমর ইবনে আওন ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কুরবানীর পশুর নিকট যেতে নির্দেশ দেন এবং এর জিনপোশ ও চামড়া বণ্টন করে দিতে বলেন এবং তিনি আমাকে এই নির্দেশও দেন যে, আমি যেন তা হতে কসাইকে (পারিশ্রমিক বাবদ) কিছু দান না করি। তিনি আরো বলেন, আমরা কসাইকে আমাদের পক্ষ হতে (আলাদাভাবে পারিশ্রমিক) প্রদান করতাম।

১৯. ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট সময়।

باب فِي وَقْتِ الإِحْرَامِ

১৭৭০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي خُصَيْفُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَزَرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ يَا أَبَا الْعَبَّاسِ عَجِبْتُ لاِخْتِلاَفِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِهْلاَلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَوْجَبَ . فَقَالَ إِنِّي لأَعْلَمُ النَّاسِ بِذَلِكَ إِنَّهَا إِنَّمَا كَانَتْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةٌ وَاحِدَةٌ فَمِنْ هُنَاكَ اخْتَلَفُوا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجًّا فَلَمَّا صَلَّى فِي مَسْجِدِهِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْهِ أَوْجَبَ فِي مَجْلِسِهِ فَأَهَلَّ بِالْحَجِّ حِينَ فَرَغَ مِنْ رَكْعَتَيْهِ فَسَمِعَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ فَحَفِظْتُهُ عَنْهُ ثُمَّ رَكِبَ فَلَمَّا اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ أَهَلَّ وَأَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ وَذَلِكَ أَنَّ النَّاسَ إِنَّمَا كَانُوا يَأْتُونَ أَرْسَالاً فَسَمِعُوهُ حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ يُهِلُّ فَقَالُوا إِنَّمَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ وَأَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ فَقَالُوا إِنَّمَا أَهَلَّ حِينَ عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أَوْجَبَ فِي مُصَلاَّهُ وَأَهَلَّ حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ وَأَهَلَّ حِينَ عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ . قَالَ سَعِيدٌ فَمَنْ أَخَذَ بِقَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَهَلَّ فِي مُصَلاَّهُ إِذَا فَرَغَ مِنْ رَكْعَتَيْهِ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

১৭৭০. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর ...... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলি, হে আবুল আব্বাস! আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে মতানৈক্য দেখে আশ্চর্যান্বিত হই যে, নবী করীম (ﷺ) হজ্জের জন্য কখন ইহরাম বাঁধতেন।

তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে সকলের চেয়ে অধিক জানি। তা এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাত্র একবারই হজ্জ করেছেন। আর এ কারণেই লোকেরা মতানৈক্য করছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (মদীনা হতে) হজ্জে রওয়ানা হন। তিনি পথিমধ্যে যুল হুলাইফা নামক স্থানে অবতরণ করে সেখানকার মসজিদে (ইহরামের জন্য) দুই রাকআত নামায আদায় করেন। এই দুই রাকআত নামায শেষে তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। এ সময় কিছু লোক তাঁর তালবিয়া পাঠ শোনেন এবং তারা এটা তাঁর নিকট হতে সংরক্ষণ করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর উটে সওয়ার হন। তারা যখন নবী করীম (ﷺ)কে নিয়ে চলতে শুরু করে তখন তিনি জোরে জোরে তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন। কিছু লোক তাঁর নিকট হতে এটা শুনে সংরক্ষণ করেন। আর এ ব্যাপারটি (অর্থাৎ তালবিয়া শুরু) সম্পর্কে মতানৈক্যের কারণ এই যে, লোকেরা এ সময় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করতো। এমতাবস্থায় তারা তাঁকে উটের উপর বসে চলমান অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছিলেন। সে কারণে তাদের ধারণা হল যে, তিনি তখন হতেই তালবিয়া পাঠ শুরু করেন যখন তাঁর উট তাঁকে নিয়ে চলতে শুরু করে। (বস্তুত তারা জানত না যে, তিনি ইতিপূর্বেই তালবিয়া পাঠ শুরু করেছেন।)

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সম্মুখে অগ্রসর হন। তিনি যখন বায়দার উচ্চভূমিতে ওঠেন, তখন সেখানেও তালবিয়া পাঠ করেন। এখানে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি তা শুনতে পেয়ে বলেন, তিনি বায়দার উচ্চভূমিতে তালবিয়া পাঠ শুরু করেন। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামায আদায়ের পরই ইহরাম বাঁধেন এবং জোরে জোরে তালবিয়া পাঠ শুরু করেন, যখন তিনি উটের পৃষ্ঠে সওয়ার হন। বায়দার উচ্চভূমিতেও তিনি জোরে জোরে তালবিয়া পাঠ করেন।

রাবী সাঈদ বলেন, যে ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর বর্ণনানুযায়ী কাজ করে, সে যেন দু রাকআত নামায আদায়ের পর ইহরাম বাঁধেন এবং তালবিয়া পাঠ শুরু করেন।
১৭৭১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ بَيْدَاؤُكُمْ هَذِهِ الَّتِي تَكْذِبُونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ عِنْدِ الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ ذِي الْحُلَيْفَةِ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৭৭১. আল কা‘নবী (রাহঃ) .... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদেরএ বায়দার উচ্চভূমি- যদ্দরুন তোমরা (অজ্ঞতাবশত) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যা দোষারোপ কর। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদ হতে অর্থাৎ যুল হুলাইফার মসজিদ হতে (দুই রাকআত নামায আদায়ের পর) ইহরাম বাঁধেন এবং তালবিয়া পাঠ শুরু করেন।

১৭৭২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا . قَالَ مَا هُنَّ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَمَّا الأَرْكَانُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمَسُّ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ فِإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُ النِّعَالَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَعْرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا وَأَمَّا الصُّفْرَةُ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْبُغُ بِهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا وَأَمَّا الإِهْلاَلُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৭২. আল কা‘নবী (রাহঃ) .... উবাইদ ইবনে জুরাইজ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি আপনাকে চারটি কাজে লিপ্ত দেখি, যা আপনার সঙ্গীদের কাউকে করতে দেখি না। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, হে ইবনে জুরাইজ, তা কী?

তিনি বলেন, আমি আপনাকে কখনও দুই রুকনে ইয়ামানী [১] ব্যতীত অন্য রুকনগুলো স্পর্শ করতে দেখিনি। আর আমি আপনাকে এমন জুতা পরিধান করতে দেখি, যার চামড়ায় পশম নেই। আমি আপনাকে (কাপড় বা মাথা) হলুদ রং-এ রঞ্জিত করতে দেখি। আর আরো দেখি যে, যখন আপনি মক্কায় অবস্থান করেন আর সেখানকার অধিবাসীরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথেই ইহরাম বাঁধে, কিন্তু আপনি তালবিয়ার দিন[২] (৮ই যিলহজ্জ ) না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেন না।

আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রুকনগুলো (খানায়ে কা‘বার কোনাগুলো) স্পর্শ করা সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে উভয় রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোনো কোনা (রুকন) স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমবিহীন জুতা সম্পর্কে আমার বক্তব্য হল, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এমন জুতা পরিধান করতে দেখেছি যাতে পশম ছিল না। তিনি উযু করেও তা পরিধান করতেন। কাজেই আমিও তা পরিধান করতে ভালবাসি। আর হলুদ রং এর ব্যাপারে হল, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে হলুদ রং দ্বারা রঞ্জিত হতে দেখেছি। তাই আমিও তা দ্বারা রঞ্জিত হতে ভালবাসি। আর ইহরাম বাঁধা (এ বিষয়ে) আমার বক্তব্য হল, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে ঐ সময় পর্যন্ত ইহরাম বাঁধতে দেখিনি, যতক্ষণ তিনি তাঁর বাহনে সওয়ার না হতেন।

[১] খানায়ে কা'বার যে কোনায় হাজরে আস্ওয়াদ স্থাপিত তাকে রুকনে ইয়ামানী বলে।
[২] নবী করীম (ﷺ) মক্কায় অবস্থানকালে সাধারণত ৮ই যিল-হজ্জের আগে হজ্জের বা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধতেন না এবং তালবিয়া ও পাঠ করতেন না।
১৭৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَصَلَّى الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ بَاتَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ حَتَّى أَصْبَحَ فَلَمَّا رَكِبَ رَاحِلَتَهُ وَاسْتَوَتْ بِهِ أَهَلَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৭৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় চার রাকআত যোহরের নামায আদায় করেন এবং যুল হুলাইফাতে উপনীত হয়ে দুই রাকআত আসরের নামায আদায় করেন। তিনি ভোর পর্যন্ত এখানে রাত যাপন করেন। তিনি সেখান থেকে (যোহরের নামায আদায়ের পর) স্বীয় বাহনে সওয়ার হন এবং বায়দা নামক স্থানে উপনীত হয়ে তালবিয়া পাঠ শুরু করেন।

১৭৭৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ رَاحِلَتَهُ فَلَمَّا عَلاَ عَلَى جَبَلِ الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৭৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যোহরের নামায (যুল- হুলায়ফাতে) আদায় করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহনে আরোহণ করে যখন বায়দার উচ্চভূমিতে উপনীত হন তখন তালবিয়া পাঠ শুরু করেন।

১৭৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَرِيرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَتْ قَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَخَذَ طَرِيقَ الْفُرْعِ أَهَلَّ إِذَا اسْتَقَلَّتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ وَإِذَا أَخَذَ طَرِيقَ أُحُدٍ أَهَلَّ إِذَا أَشْرَفَ عَلَى جَبَلِ الْبَيْدَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৭৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আয়িশা বিতন সা‘দ আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা‘দ (রাযিঃ) বলেছেন, নবী করীম (ﷺ) যখন (হজ্জের উদ্দেশে) আল ফুরাআ নামক স্থানের দিকে যেতেন তখন সাওারির পিঠে চড়া মাত্রই তালবিয়া পড়তেন। তিনি যখন উহুদের পথে রওয়ানা হতেন, তখন আল বায়দা পর্বতে উঠার সময় তালবিয়া পড়তেন (ইহরাম বাঁধতেন )।

২০. হজ্জে শর্তারোপ করা।

باب الاِشْتِرَاطِ فِي الْحَجِّ

১৭৭৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ ضُبَاعَةَ بِنْتَ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ أَأَشْتَرِطُ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَتْ فَكَيْفَ أَقُولُ قَالَ " قُولِي لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَمَحِلِّي مِنَ الأَرْضِ حَيْثُ حَبَسْتَنِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৭৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা যুবাআ বিনতে যুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয়ে আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি হজ্জের ইচ্ছা করেছি। এতে কি কোন শর্ত আরোপ করতে পারি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, আমি কিরূপে বলব? তিনি ইরশাদ করেনঃ তুমি বলবে, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, এবং আমার ইহরাম খোলার স্থান ঐ জায়গা যেখানে তুমি আমাকে আটকে রাখবে।

২১. হজ্জে ইফরাদ।

باب فِي إِفْرَادِ الْحَجِّ

১৭৭৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৭৭. আল কা‘নবী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হজ্জে ইফরাদ[১] আদায় করেন।

[১] হজ্জে ইফরাদ হল : হজ্জের মাসসমূহে কেবল হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধা এবং এর অনুষ্ঠানগুলো সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা।
১৭৭৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُوَافِينَ هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ فَلَمَّا كَانَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَالَ " مَنْ شَاءَ أَنْ يُهِلَّ بِحَجٍّ فَلْيُهِلَّ وَمَنْ شَاءَ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهِلَّ بِعُمْرَةٍ " . قَالَ مُوسَى فِي حَدِيثِ وُهَيْبٍ " فَإِنِّي لَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ " . وَقَالَ فِي حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ " وَأَمَّا أَنَا فَأُهِلُّ بِالْحَجِّ فَإِنَّ مَعِيَ الْهَدْىَ " . ثُمَّ اتَّفَقُوا فَكُنْتُ فِيمَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ " مَا يُبْكِيكِ " . قُلْتُ وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ خَرَجْتُ الْعَامَ . قَالَ " ارْفُضِي عُمْرَتَكِ وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي " . قَالَ مُوسَى " وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ " . وَقَالَ سُلَيْمَانُ " وَاصْنَعِي مَا يَصْنَعُ الْمُسْلِمُونَ فِي حَجِّهِمْ " . فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ الصَّدَرِ أَمَرَ - يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَذَهَبَ بِهَا إِلَى التَّنْعِيمِ . زَادَ مُوسَى فَأَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ مَكَانَ عُمْرَتِهَا وَطَافَتْ بِالْبَيْتِ فَقَضَى اللَّهُ عُمْرَتَهَا وَحَجَّهَا . قَالَ هِشَامٌ وَلَمْ يَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ هَدْىٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ مُوسَى فِي حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْبَطْحَاءِ طَهُرَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৭৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যিলহজ্জের নতুন চাঁদ উদয়ের কিছু আগে রওয়ানা হলাম। যুল হুলাইফাতে পৌঁছে তিনি বলেন, যে কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধতে পায়, সে যেন তা বাঁধে আর যদি কেউ উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় তবে সে যেন তা-ই করে।

উহাইবের সূত্রে মুসা কতৃৃর্ক বর্ণিত হাদীসে আছে, যদি আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকত, তবে আমি উমরার জন্য ইহরাম বাঁতাম। আর হাম্মাদ ইবনে সালামের বর্ণনায় আছে, আমি (উমরার সাথে) হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। কেনানা আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। এরপর উভয় হাদীসের বর্ণনাকারী একমত হয়ে (হাদীসের বাকী অংশ) বর্ণনা করেন।

এরপর আমি (আয়িশা) ছিলাম উমরার ইহরামধারীর দলভূক্ত। পথিমধ্যে আমার হায়য শুরু হল এবং আমি কাঁদতে লাগলাম। নবী করীম (ﷺ) আমার কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি, যদি আমি এ বছর (হজ্জে) বের না হতাম, তবে ভাল ছিল। তখন তিনি বলেন, তোমার উমরা ত্যাগ কর, তোমার মাথার চুল খুলে ফেল এবং চিরুনি কর, এবং (রাবী মুসার বর্ণনা মতে) হজ্জের ইহরাম বাঁধ। রাবী সুলাইমানের বর্ণনায় আছে এবং মুসলমানেরা তাদের হজ্জে যা করে তুমিও তা-ই কর (তাওয়াফ ব্যতীত)।

এরপর তাওয়াফে যিয়ারতের রাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্দুর রহমান (রাযিঃ)-কে (আয়িশার ভাই) নির্দেশ দিলে তিনি তাঁকে তানঈম [১] নামক স্থানে যান। রাবী মুসার বর্ণনায় আরো আছে, এরপর তিনি (আয়িশা) তাঁর পূরববর্তী উমরার পরিবর্তে (নতুন) উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করেন এবং আল্লাহ্ তাঁর হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করেন। রাবী হিশামের বর্ণনায় আছে, আর এরূপ করার জন্য তাঁর উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে সালামার হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, বাতহার (মিনায় অবস্থানের) রাতে তিনি (হায়য থেকে) পবিত্র হন।

[১] যুল-হুলায়ফার সম্মুখ উচ্চভূমি।
১৭৭৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৭৯. আল কা‘নবী ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (মদীনা হতে) রওয়ানা হলাম। আমাদের কেউ উমরার ইহরাম বাঁধে, কেউ হজ্জ ও উমরার একত্রে ইহরাম বাঁধে, কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। আর যারা শুধু হজ্জের অথবা একত্রে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধে তারা কুরবানীর দিন পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারে নি।

১৭৮০

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ زَادَ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَأَحَلَّ .

বর্ণনাকারী: আবুল আসওয়াদ দুআলী (রহঃ)

১৭৮০. ইবনুস সারহ ..... আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় আরও আছে, যারা উমরার ইহরাম বাঁধেন তাঁরা ইহরাম খুলে ফেলেন।

১৭৮১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا " . فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ " . قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ " هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ " . قَالَتْ فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَانُوا جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، وَمَعْمَرٌ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، نَحْوَهُ لَمْ يَذْكُرُوا طَوَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِعُمْرَةٍ وَطَوَافَ الَّذِينَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৮১. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় আমরা (মদীনা হতে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা উমরার ইহরাম বাঁধলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে যেন হজ্জের সাথে উমরারও ইহরাম বাঁধে এবং ইহরাম খুলবে না, যতক্ষণ হজ্জ ও উমরার যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না হয়। আমি হায়য অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হই। ফলে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি বলেন, তুমি তোমার মাথার চুল খুলে ফেল এবং তাতে চিরুনী কর আর হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ এবং উমরা ত্যাগ কর।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি তা-ই করলাম। আমি হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ করলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে (আমার ভাই) আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের সাথে তানঈম (ইহরাম বাঁধার) স্থান (অথবা এটা তোমার পূর্বেকার উমরার কাযা)। রাবী বলেন, যারা কেবল উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা‘ঈ করার পরে ইহরাম খুলে ফেলে। এরপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে তাদের হজ্জের জন্য পুনর্বার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে। অপরপক্ষে যারা হজ্জ ও উমরার একত্রে ইহরাম বাঁধে তারা মাত্র একবার তাওয়াফ করে।
১৭৮২

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ " مَا يُبْكِيكِ يَا عَائِشَةُ " . فَقُلْتُ حِضْتُ لَيْتَنِي لَمْ أَكُنْ حَجَجْتُ . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّمَا ذَلِكَ شَىْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ " . فَقَالَ " انْسُكِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ " . فَلَمَّا دَخَلْنَا مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ شَاءَ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً فَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ " . قَالَتْ وَذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ الْبَقَرَ يَوْمَ النَّحْرِ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْبَطْحَاءِ وَطَهُرَتْ عَائِشَةُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَرْجِعُ صَوَاحِبِي بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَأَرْجِعُ أَنَا بِالْحَجِّ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَذَهَبَ بِهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَلَبَّتْ بِالْعُمْرَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৮২. আবু সালামা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের জন্য রওয়ানা হই। সারিফ নামক স্থানে পৌছে আমার হায়য শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট উপস্থিত হন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, হে আয়িশা! তোমার কান্নার কারণ কী? আমি বলি, আমি ঋতুবতী হয়েছি। হায়! আমি যদি (এ বছর) হজ্জের জন্য না আসতাম (তবে ভাল হতো)। তখন তিনি সুবহানাল্লাহ্ বলেন, (এরপর ইরশাদ করেন) আল্লাহ্ তাআলা এটা (হায়য) আদমের কন্যাদের জন্য বেঁধে দিয়েছেন।

অতঃপর তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ব্যতীত তুমি অন্যান্য হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন কর। এরপর আমরা মক্কায় প্রবেশের পর রাসূলু্ল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যারা এটিকে (হজ্জ) উমরায় রূপান্তরিত করতে চায় তারা তা করতে পারে, তবে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে তারা ছাড়া। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে একটি গরু কুুরবাণী করেন। এরপর বাতহার রাতে আয়িশা (রাযিঃ) হায়য হতে পবিত্রতা অর্জন করেন এবং বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার সাথীরা হজ্জ ও উমরা সম্পন্ন করে ফিরে যাবে, আর আমি কি কেবল হজ্জ করে ফিরব? তখন রাসূলু্ল্লাহ্ (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবনে বকর (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেন। তখন তিনি তাঁকে সহ তানঈম যান আর তিনি সে স্থান হতে উমরার ইহরাম বাঁধেন।
১৭৮৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ نَرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ فَلَمَّا قَدِمْنَا تَطَوَّفْنَا بِالْبَيْتِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْىَ أَنْ يُحِلَّ فَأَحَلَّ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْىَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৮৩. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হই। আর এটা ছিল আমাদের জন্য (কেবল) হজ্জ। আমরা যখন মক্কায় উপনীত হই, তখন আমরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করি। পরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নির্দেশ দেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেনি, সে যেন ইহরামমুক্ত হয়। অতএব, যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরামমুক্ত হয়।

১৭৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمَا سُقْتُ الْهَدْىَ " . قَالَ مُحَمَّدٌ أَحْسِبُهُ قَالَ " وَلَحَلَلْتُ مَعَ الَّذِينَ أَحَلُّوا مِنَ الْعُمْرَةِ " . قَالَ أَرَادَ أَنْ يَكُونَ أَمْرُ النَّاسِ وَاحِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যা আমি পরে জানতে পেরেছি, যদি তা আগে জানতে পাতাম তবে আমার সাথে কুরবানীর পশু আনতাম না।

রাবী মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া বলেন, আমার ধারণা (আমার শায়খ উসমান ইবনে উমর) বলেছেন, যারা উমরা সমাপনের পর হালাল হয়েছে, আমিও তাদের সাথে হালাল হতাম। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এই বক্তব্যের দ্বারা রাসূলু্লাহ্ (ﷺ) সকলের হজ্জের অনুষ্ঠান একরূপ হওয়া কামনা করেছেন।
১৭৮৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مُهِلِّينَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ مُفْرَدًا وَأَقْبَلَتْ عَائِشَةُ مُهِلَّةً بِعُمْرَةٍ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بِسَرِفَ عَرَكَتْ حَتَّى إِذَا قَدِمْنَا طُفْنَا بِالْكَعْبَةِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُحِلَّ مِنَّا مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ قَالَ فَقُلْنَا حِلُّ مَاذَا فَقَالَ " الْحِلُّ كُلُّهُ " . فَوَاقَعْنَا النِّسَاءَ وَتَطَيَّبْنَا بِالطِّيبِ وَلَبِسْنَا ثِيَابَنَا وَلَيْسَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ أَرْبَعُ لَيَالٍ ثُمَّ أَهْلَلْنَا يَوْمَ التَّرْوِيَةِ ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَائِشَةَ فَوَجَدَهَا تَبْكِي فَقَالَ " مَا شَأْنُكِ " . قَالَتْ شَأْنِي أَنِّي قَدْ حِضْتُ وَقَدْ حَلَّ النَّاسُ وَلَمْ أَحْلِلْ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَالنَّاسُ يَذْهَبُونَ إِلَى الْحَجِّ الآنَ . فَقَالَ " إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ أَهِلِّي بِالْحَجِّ " . فَفَعَلَتْ . وَوَقَفَتِ الْمَوَاقِفَ حَتَّى إِذَا طَهُرَتْ طَافَتْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ قَالَ " قَدْ حَلَلْتِ مِنْ حَجِّكِ وَعُمْرَتِكِ جَمِيعًا " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ فِي نَفْسِي أَنِّي لَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ حِينَ حَجَجْتُ . قَالَ " فَاذْهَبْ بِهَا يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ " . وَذَلِكَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৮৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম (বাঁধা) অবস্থায় হজ্জে ইরফাদ আদায়েরর জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হই। আর আয়িশা (রাযিঃ) কেবলমাত্র উমরার ইহরাম বাঁধেন। এরপর যখন তিনি সারীফ নামক স্থানে উপনীত হন, তখন তিনি ঋতুবতী হন। আমরা মক্কায় উপস্থিত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ সম্পন্ন করি। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে হালাল হতে নির্দেশ দেন।

রাবী (জাবির) বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করি, এই হালাল হওয়া অর্থ কি? তিনি বলেন, সর্বপ্রকার কাজের জন্য হালাল হওয়া। আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলাম, সুগন্ধি মাখলাম এবং (সেলাই করা) কাপড় পরিধান করলাম আর আমাদের মধ্যে ও আরাফাতের (দিনের) মধ্যে মাত্র চার রাত্রের ব্যবধান ছিল। এরপর আমরা তার অষ্টম দিন (হজ্জের) ইহরাম বাঁধি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে কাঁদতে দেখেন। তিনি তার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী হয়েছি। মানুষেরা (উমরার অনুষ্ঠানাদি শেষে) ইহরাম খুলেছে, আর আমি ইহরাম খুলতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফও করতে পারলাম না। আর লোকেরা এখন হজ্জের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা এটাকে (হায়য) আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। তুমি গোসল কর এবং হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। অতএব, তিনি তা-ই করলেন এবং অবস্থানের স্থানসমূহে অবস্থান করেন। এরপর তিনি পবিত্রতা হাসিলের পর বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এখন তুমি তোমার হজ্জ হতে হালাল হয়েছ এবং তোমার উমরা হতেও। তিনি (আয়িশা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মনে হচ্ছে , হজ্জের সময় আমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিনি। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, হে আব্দুর রহমান! তুমি তাকে নিয়ে তানঈম নামক স্থানে যাও এবং তাকে উমরা করাও। আর এটা ছিল হাসবার রাত (১৪ যিল-হজ্জের রাত)।
১৭৮৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَائِشَةَ بِبَعْضِ هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ " وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ " . " ثُمَّ حُجِّي وَاصْنَعِي مَا يَصْنَعُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ وَلاَ تُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৮৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এই বর্ণনায় আরও আছে, ‘‘তুমি হজ্জের ইহরাম বাঁধ, হজ্জ আদায় কর এবং হজ্জীগণ যা করেন তুমিও তা-ই কর, কিন্তু তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না এবং নামায পড়বে না।’’

১৭৮৭

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَهْلَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ خَالِصًا لاَ يُخَالِطُهُ شَىْءٌ فَقَدِمْنَا مَكَّةَ لأَرْبَعِ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَطُفْنَا وَسَعَيْنَا ثُمَّ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَحِلَّ وَقَالَ " لَوْلاَ هَدْيِي لَحَلَلْتُ " . ثُمَّ قَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مُتْعَتَنَا هَذِهِ أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِلأَبَدِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَلْ هِيَ لِلأَبَدِ " . قَالَ الأَوْزَاعِيُّ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ يُحَدِّثُ بِهَذَا فَلَمْ أَحْفَظْهُ حَتَّى لَقِيتُ ابْنَ جُرَيْجٍ فَأَثْبَتَهُ لِي .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৮৭. আল আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ ইবনে মুরীদ (রাহঃ) ....... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে কেবল হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। যিলহজ্জের চার রাত অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা মক্কায় উপনীত হই এবং (বায়তুল্লাহ্) তাওয়াফ ও (সাফা- মারওয়ার মধ্যে) সা‘ঈ করি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, যদি আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকত তবে আমিও হালাল হতাম।

তখন সুরাকা ইবনে মালিক (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ ধরনের ফায়দা গ্রহণের সুযোগ কি কেবল এ বছরের জন্য না চিরকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, বরং চিরকালের জন্য। রাবী আওয়ায়ী (রাহঃ) বলেন, আমি আতা ইবনে আবু রিবাহকে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। কিন্তু আমি তা সংরক্ষণ করতে পারিনি। এরপর আমি ইবনে জুরায়জের সাথে সাক্ষাত করলে তিনি তা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেন।
১৭৮৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ لأَرْبَعِ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَلَمَّا طَافُوا بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوهَا عُمْرَةً إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ " . فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ أَهَلُّوا بِالْحَجِّ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ قَدِمُوا فَطَافُوا بِالْبَيْتِ وَلَمْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৮৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ যিলহজ্জের চার রাত অতিবাহিত হওয়ার পর মক্কায় প্রবেশ করেন। অতঃপর তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা-ঈ সম্পন্ন করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তোমরা (তাওয়াফ ও সা-ঈ) উমরা হিসেব গণ্য কর, অবশ্য যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে যেন এরূপ না করে। এরপর তারবিয়ার রাতে তারা হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। এরপর নাহরের দিন সমাগম হলে তারা (মক্কায়) এসে (বায়তুল্লাহ্) তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ (সা‘ঈ) পরিহার করেন।

১৭৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ، - يَعْنِي الْمُعَلِّمَ - عَنْ عَطَاءٍ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهَلَّ هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ وَلَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ هَدْىٌ إِلاَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَطَلْحَةَ وَكَانَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ وَمَعَهُ الْهَدْىُ فَقَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَصْحَابَهُ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً يَطُوفُوا ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ فَقَالُوا أَنَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذُكُورُنَا تَقْطُرُ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِيَ الْهَدْىَ لأَحْلَلْتُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৭৮৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু তখন নবী করীম (ﷺ) ও তালহা (রাযিঃ) ব্যতীত আর কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর এ সময় আলী (রাযিঃ) ইয়ামান হতে আগমন করেন এবং তার সাথেও কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আমিও সেরূপ ইহরাম বাঁধলাম।

নবী করীম (ﷺ) তাঁর সাথীদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন এটাকে উমরায় পরিণত করে এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে এবং মস্তক মুণ্ডনের (বা চুল ছোট করে কর্তনের) পর হালাল হয়। অবশ্য যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে তারা ব্যতীত। তারা বলেন, আমরা মিনার দিকে এমন অবস্থায় যাই যে আমরা স্ত্রী সহবাস করেছি। এই কথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আমি যা পরে অবহিত হয়েছি যদি তা পূর্বে অবগত হতে পারতাম তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না। আর আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম খুলে ফেলতাম।
১৭৯০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " هَذِهِ عُمْرَةٌ اسْتَمْتَعْنَا بِهَا فَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ هَدْىٌ فَلْيَحِلَّ الْحِلَّ كُلَّهُ وَقَدْ دَخَلَتِ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُنْكَرٌ إِنَّمَا هُوَ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৯০. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, এ সে উমরা যার মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি। যার সাথে কুরবানীর পশু নেই সে যেন পুরোপুরি হালাল হয়। আর উমরা কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

১৭৯১

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا النَّهَّاسُ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَهَلَّ الرَّجُلُ بِالْحَجِّ ثُمَّ قَدِمَ مَكَّةَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ حَلَّ وَهِيَ عُمْرَةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَطَاءٍ دَخَلَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ خَالِصًا فَجَعَلَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمْرَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৯১. উবাইহল্লাহ্ ইবনে মুআয (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, যখন কোন লোক হজ্জের ইহরাম বাঁধে এবং মক্কায় উপনীত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা-ঈ সম্পন্ন করে, অতঃপর সে হালাল হয় তা (তার) উমরা।

১৭৯২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ شَوْكَرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، - قَالَ ابْنُ مَنِيعٍ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْمَعْنَى، - عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ فَلَمَّا قَدِمَ طَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ - وَقَالَ ابْنُ شَوْكَرٍ وَلَمْ يُقَصِّرْ ثُمَّ اتَّفَقَا - وَلَمْ يَحِلَّ مِنْ أَجْلِ الْهَدْىِ وَأَمَرَ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْىَ أَنْ يَطُوفَ وَأَنْ يَسْعَى وَيُقَصِّرَ ثُمَّ يَحِلَّ . زَادَ ابْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ أَوْ يَحْلِقَ ثُمَّ يَحِلَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৯২. আল হাসান ইবনে শাওকার ও আহমেদ ইবনে মুনি (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) হজ্বের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাধেঁন। অতঃপর তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ ও (সাফা-মারওয়ার) মধ্যে সাঈ সম্পন্ন করেন। রাবী ইবনে শাওকার বলেন, কুরবানীর পশু সঙ্গে আনাতে নবী করীম (ﷺ) মাথার চুল খাটো করেননি ও হালালও হননি। আর যারা নিজেদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আনেননি, তিনি তাদেরকে (উমরার জন্য) তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করার পর চুল খাটো করা ও হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন।

১৭৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو عِيسَى الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - فَشَهِدَ عِنْدَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ يَنْهَى عَنِ الْعُمْرَةِ قَبْلَ الْحَجِّ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

১৭৯৩. আহমাদ ইবনে সালিহ সাঈদ ..... ইবনুল মুসাইয়াব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) এর একজন সাহাবী উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর মৃত্যুকালীন রোগে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় হজ্জের পূর্বে উমরা করা নিষধ করতে শুনেছি।

১৭৯৪

حَدَّثَنَا مُوسَى أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي شَيْخٍ الْهُنَائِيِّ، خَيْوَانَ بْنِ خَلْدَةَ مِمَّنْ قَرَأَ عَلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ لأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كَذَا وَكَذَا وَعَنْ رُكُوبِ جُلُودِ النُّمُورِ قَالُوا نَعَمْ . قَالَ فَتَعْلَمُونَ أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُقْرَنَ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَقَالُوا أَمَّا هَذَا فَلاَ . فَقَالَ أَمَا إِنَّهَا مَعَهُنَّ وَلَكِنَّكُمْ نَسِيتُمْ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১৭৯৪. মুসা আবু সালামা (রাহঃ) ..... মুআবিআ ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কি অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অমুক, অমুক জিনিস ও চিতাবাঘের চামড়ার উপর সওয়ার হতে নিষেধ করেছেন? তাঁরা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আপনারা কি অবহিত আছেন যে, তিনি হজ্জ ও উমরা একত্রে করতে নিষেধ করেছেন? তাঁরা বলেন, এ সম্পর্কে আমরা কিছুই অবগত নই। তিনি আরও বলেন, এটাও ঐ সমস্ত নিষিদ্ধ বস্তুর অন্তর্গত; কিন্তু আপনারা তা ভুলে গেছেন।

২২. হজ্জে কিরান।

باب فِي الإِقْرَانِ

১৭৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، وَحُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُمْ سَمِعُوهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُلَبِّي بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ جَمِيعًا يَقُولُ " لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৯৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তারা (ইয়াহয়া, আব্দুল আযীয প্রমুখ) তাঁকে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলতেনঃ (لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا) আমি হজ্জ ও উমরার জন্য (হে আল্লাহ্) তোমার সমীপে হাজির।

১৭৯৬

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَاتَ بِهَا - يَعْنِي بِذِي الْحُلَيْفَةِ - حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ عَلَى الْبَيْدَاءِ حَمِدَ اللَّهَ وَسَبَّحَ وَكَبَّرَ ثُمَّ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَأَهَلَّ النَّاسُ بِهِمَا فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَ النَّاسَ فَحَلُّوا حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ أَهَلُّوا بِالْحَجِّ وَنَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ بَدَنَاتٍ بِيَدِهِ قِيَامًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: الَّذِي تَفَرَّدَ بِهِ يَعْنِي أَنَسًا مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ بَدَأَ بِالْحَمْدِ وَالتَّسْبِيحِ وَالتَّكْبِيرِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৯৬. আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) যুল হুলাইফায় রাত যাপন করেন। অতঃপর সকাল হলে তিনি উটে আরোহণ করেন। বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলে তিনি আল্লাহ্ তাআলার হামদ, তাসবীহ্ ও তাকবীর আদায় করেন এবং পরে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। আর তাঁর সাথী সাহাবীগণও হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। এরপর আমরা মক্কায় উপনীত হলে তিনি নির্দেশ দেন এবং তদুনুযায়ী লোকেরা ইহরাম মুক্ত হয় (যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না)। অতঃপর তারবিয়ার দিন সমাগত হলে তারা হজ্জের ইহরাম বাঁধেন এবং রাসূলু্লাহ্ (ﷺ) নিজ হাতে সাতটি দণ্ডায়মান অবস্থায় যবেহ্ করেন।

১৭৯৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيٍّ حِينَ أَمَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْيَمَنِ قَالَ فَأَصَبْتُ مَعَهُ أَوَاقِيَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ فَاطِمَةَ - رضى الله عنها - قَدْ لَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا وَقَدْ نَضَحَتِ الْبَيْتَ بِنَضُوحٍ فَقَالَتْ مَا لَكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَ أَصْحَابَهُ فَأَحَلُّوا قَالَ قُلْتُ لَهَا إِنِّي أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " كَيْفَ صَنَعْتَ " . فَقَالَ قُلْتُ أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَإِنِّي قَدْ سُقْتُ الْهَدْىَ وَقَرَنْتُ " . قَالَ فَقَالَ لِي " انْحَرْ مِنَ الْبُدْنِ سَبْعًا وَسِتِّينَ أَوْ سِتًّا وَسِتِّينَ وَأَمْسِكْ لِنَفْسِكَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ وَأَمْسِكْ لِي مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ مِنْهَا بَضْعَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৭৯৭. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন (রাহঃ) ...... বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে ইয়ামানের আমীর নিযুক্ত করে পাঠান। রাবী বলেন, আমি তাঁর সাথে কিছু স্বর্ণ জমা করি। তিনি বলেন, এরপর আলী (রাযিঃ) যখন ইয়ামান হতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট (মক্কায়) আগমন করেন, আলী (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি ফাতিমা (রাযিঃ)-কে একখণ্ড রংিন কাপড় পরিহিতা অবস্থায় দেখতে পাই। আর তিনি ঘর সুগন্ধিতে ভরে তোলেন। তিনি আলীকে বলেন. আপনার কী হল? আপনি ইহরাম খোলছেন না? অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবীদের ইহরামমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, আমি নবী করীম (ﷺ) এর অনুরূপ (নিয়তে ইহরাম বেধেঁছি)। আলী (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কীরূপ ইহরাম বেঁধেছ? আমি বলি, আমি নবী করীম (ﷺ) এর অনুরূপ ইহরাম বেধেছি। তখন তিনি বলেন, আমি তো কুরবানীর পশু পাঠিয়েছি এবং কিরান হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি। আলী (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাকে বললেন, তুমি ৬৭টি বা ৬৬টি উট কুরবানী কর আর ৩৩টি বা ৩৪টি (আমার জন্য) রেখে দাও। আর প্রতিটি উট হতে আমার জন্য এক টুকরা করে গোশত রেখে দাও।
১৭৯৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ الصُّبَىُّ بْنُ مَعْبَدٍ أَهْلَلْتُ بِهِمَا مَعًا . فَقَالَ عُمَرُ هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াইল (রহঃ)

১৭৯৮. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) ...... আবু ওয়ায়েল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল সুবাই ইবনে মা‘বাদ বলেছেন, আমি একত্রে হজ্জ ও উমরার জন্য ইহরাম বাঁধি। উমর (রাযিঃ) আমাকে বলেন, তুমি তোমার নবীর সুন্নত পেয়ে গেছ।

১৭৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ الصُّبَىُّ بْنُ مَعْبَدٍ كُنْتُ رَجُلاً أَعْرَابِيًّا نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ فَأَتَيْتُ رَجُلاً مِنْ عَشِيرَتِي يُقَالُ لَهُ هُذَيْمُ بْنُ ثُرْمُلَةَ فَقُلْتُ لَهُ يَا هَنَاهُ إِنِّي حَرِيصٌ عَلَى الْجِهَادِ وَإِنِّي وَجَدْتُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ مَكْتُوبَيْنِ عَلَىَّ فَكَيْفَ لِي بِأَنْ أَجْمَعَهُمَا قَالَ اجْمَعْهُمَا وَاذْبَحْ مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْىِ . فَأَهْلَلْتُ بِهِمَا مَعًا فَلَمَّا أَتَيْتُ الْعُذَيْبَ لَقِيَنِي سَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ وَزَيْدُ بْنُ صُوحَانَ وَأَنَا أُهِلُّ بِهِمَا جَمِيعًا فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلآخَرِ مَا هَذَا بِأَفْقَهَ مِنْ بَعِيرِهِ . قَالَ فَكَأَنَّمَا أُلْقِيَ عَلَىَّ جَبَلٌ حَتَّى أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي كُنْتُ رَجُلاً أَعْرَابِيًّا نَصْرَانِيًّا وَإِنِّي أَسْلَمْتُ وَأَنَا حَرِيصٌ عَلَى الْجِهَادِ وَإِنِّي وَجَدْتُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ مَكْتُوبَيْنِ عَلَىَّ فَأَتَيْتُ رَجُلاً مِنْ قَوْمِي فَقَالَ لِي اجْمَعْهُمَا وَاذْبَحْ مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْىِ وَإِنِّي أَهْلَلْتُ بِهِمَا مَعًا . فَقَالَ لِي عُمَرُ رضى الله عنه هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াইল (রহঃ)

১৭৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আ‘য়ুন ও উসমান ইবনে আবু শায়রা ...... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল সুবাই ইবনে মা‘বাদ বললেন, আমি একজন খ্রিষ্টান বেদুইন ছিলাম। আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। এরপর আমি হুযাইম ইবনে সুরমালা নামে কথিত আমার গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট এলাম। আমি তাকে বললাম, হে তুমি! আমি জিহাদে যোগদানে আগ্রহী এবং এদিকে আমি নিজের উপর হজ্জ ও উমরাও বাধ্যতামূলক দেখছি। উভয়টি (হজ্জ-উমরা) আমি কীভাবে একত্র করবো?

সে বলল, তুমি একত্রে উভয়টির জন্য ইহরাম বাঁধ এবং তোমার জন্য সহজলভ্য পশু কুরবানী কর। অতএব আমি একত্রে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধলাম। আমি আল উযাইব নামক স্থানে পৌঁছলে সালমান ইবনে রবীআ ও যায়দ ইবনে সাওহান আমার সাথে মিলিত হন, তখন আমি হজ্জ ও উমরা উভয়ের তালবিয়া পাঠরত ছিলাম। তখন তাদের একজন অপরজনকে বলেন, এই ব্যক্তি তার উটের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান নয়।

রাবী বলেন, আমার মাথায় যেন পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল। আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট এসে তাঁকে বললাম, হে আমিরুল মু’মিনীন! আমি একজন খ্রিষ্টান বেদুইন ছিলাম। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি জিহাদে যোগদানে আগ্রহী এবং অপর দিকে আমি নিজের উপর হজ্জ ও উমরারও বাধ্যতামূলক দেখছি। আমি (এর সমাধান পেতে) আমার গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট এলে তিনি বলেন, তুমি একত্রে উভয়টির ইহরাম বাঁধ এবং তোমার জন্য সহজলভ্য পশু কুরবানী কর। আমি উভটির জন্য একত্রে উহরাম বেঁধেছি। উমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি তোমার নবীর সুন্নত (পথ) পেয়ে গেছ।
১৮০০

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ عِنْدِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ وَهُوَ بِالْعَقِيقِ " وَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقَالَ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ " وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ " وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ " .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

১৮০০. আন্ নুফায়লী (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমার নিকট উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন যে, এক রাতে আমার নিকট একজন আগমনকারী আমার মহিমান্বিত রবের নিকট হতে আগমন করেন। উমর (রাযিঃ) বলেন, ঐ সময় তিনি আকীক নামক স্থানে অবস্থানরত ছিলেন। সেই আগমনকারী বলেন, আপনি এই পবিত্র প্রান্তরে নামায আদায় করুন এবং বলুন হজ্জের মধ্যেই উমরা (অর্থাৎ হজ্জ ও উমরা একত্রে আদায় করা ভাল)।

১৮০১

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنِي الرَّبِيعُ بْنُ سَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ بِعُسْفَانَ قَالَ لَهُ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ الْمُدْلِجِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْضِ لَنَا قَضَاءَ قَوْمٍ كَأَنَّمَا وُلِدُوا الْيَوْمَ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ أَدْخَلَ عَلَيْكُمْ فِي حَجِّكُمْ هَذَا عُمْرَةً فَإِذَا قَدِمْتُمْ فَمَنْ تَطَوَّفَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ حَلَّ إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ " .

বর্ণনাকারী: রবী ইবনে সাবরা জুহানী (রহঃ)

১৮০১. হান্নাদ ইবনুস সারী ..... আর-রাবী’ ইবনে সাবুরা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা (মদীনা হতে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হই। আমরা যখন উসফান নামক স্থানে ছিলাম, তখন সুরাকা ইবনে মালিক মুদলাজী (রাযিঃ) তাকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের বিস্তারিত (হজ্জের বিষয়) এমনভাবে বুঝিয়ে দিন যেভাবে সদ্য শিশুদের বুঝানো হয় (অর্থাৎ উত্তমরূপে বুঝিয়ে দিন যাতে মূর্খরাও বুঝতে পারে)। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ তোমাদের এই হজ্জের মধ্যে উমরাকেও প্রবেশ করিয়েছেন। কাজেই তোমরা মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা-ঈ করবে, অতঃপর হালাল হবে। অবশ্য যদি কারো সাথে কুরবানীর পশু থাকে, তবে সে হালাল হবে না।

১৮০২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - الْمَعْنَى - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، أَخْبَرَهُ قَالَ قَصَّرْتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِشْقَصٍ عَلَى الْمَرْوَةِ . أَوْ رَأَيْتُهُ يُقَصَّرُ عَنْهُ عَلَى الْمَرْوَةِ بِمِشْقَصٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮০২. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিন বলেন, মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি মারওয়া নামক স্থানে নবী করীম (ﷺ) এর চুল তীরের ফলার সাহায্যে ছোট করে দেই। অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি মারওয়া নামক স্থানে তাঁর চুল তীরের ফলার সাহায্যে কাটাতে দেখি।

১৮০৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ، قَالَ لَهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنِّي قَصَّرْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِشْقَصِ أَعْرَابِيٍّ عَلَى الْمَرْوَةِ - زَادَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ - لِحَجَّتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮০৩. আল হাসান ইবনে আলী ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, আপনি কি অবহিত যে, আমি রাসূলুাল্লহ্ (ﷺ) এর চুল মারওয়া নামক স্থানে আরবীয় তীরের অগ্রবর্তী অংশের সাহায্যে ছোট করেছিলাম? রাবী আল হাসানের বর্ণনায় আরও আছে, তাঁর হজ্জের সময়।

১৮০৪

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، أَخْبَرَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُسْلِمٍ الْقُرِّيِّ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَهَلَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعُمْرَةٍ وَأَهَلَّ أَصْحَابُهُ بِحَجٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮০৪. ইবনে মুআয ..... মুসলিম আল কুরা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)- কে বলতে শুনেছেন, নবী করীম (ﷺ) উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের (ইহরাম বাঁধেন)।

১৮০৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، ( عَنْ جَدِّي، ) عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَأَهْدَى وَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْىَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَكَانَ مِنَ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْىَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِ " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَهُ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لْيُهِلَّ بِالْحَجِّ وَلْيُهْدِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ " . وَطَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَىْءٍ ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ مِنَ السَّبْعِ وَمَشَى أَرْبَعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ رَكَعَ حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضَى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ النَّاسُ مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْىَ مِنَ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৮০৫. আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে লাইস ..... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিদায় হজ্জে তামাত্তো হজ্জ করেন, অর্থাৎ হজ্জের পূর্বে উমরা করেন। তিনি যুল হুলাইফা হতে ইহরাম বাঁধেন এবং নিজের সাথে কুরবানীর পশু নেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর হজ্জ এরূপে শুরু করেন যে, তিনি প্রথমে উমরার ইহরাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। আর লোকেরাও নবী করীম (ﷺ) এর সাথে হজ্জের পূর্বে উমরা করেন।

কতিপয় লোক কুরবানীর পশু নেন আর কারো সাথে তা ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কায় উপনীত হন, তখন তিনি লোকদের বলেন, যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে তারা হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরামুক্ত হতে পারবে না। আর যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘ঈ সম্পন্ন করে, মাথার চুল কেটে এরপর উমরা হতে হালাল হবে, তারপর হজ্জের যাবতীয় ইহরাম বাঁধবে এবং কুরবানী করবে। আর যে ব্যক্তি কুরবানী করতে অক্ষম সে যেন হজ্জের মধ্যে (সময়ে) তিনদিন এবং পরে নিজের পরিবারে প্রত্যাবর্তনের পর সাতদিন রোযা রাখে।

আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কায় উপনীত হওয়ার পর সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর সাতবার তাওয়াফের মধ্যে প্রথম তিন (বার) তাওয়াফ তিনি দ্রুত পদক্ষেপে সম্পন্ন করেন এবং বাকি চার (বার) তাওয়াফ সাধারণ গতিতে হেঁটে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। অতঃপর হজ্জ সমাপন, কুরবানীর দিন কুরবানী করা এবং এরপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুলেননি। এরপর যাবতীয় হারাম বস্তু হতে হালাল হন। (অর্থাৎ স্ত্রী সহবাস, শিকার ও অন্যান্য বস্তু যা হজ্জের মধ্যে নিষিদ্ধ ছিল তা হালাল হয়) আর যেসব লোক কুরবানীর পশু সঙ্গে এনেছিলেন তাঁরাও ঐরূপ করেন, যেরূপ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) করেছেন।
১৮০৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا شَأْنُ النَّاسِ قَدْ حَلُّوا وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ فَقَالَ " إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ الْهَدْىَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৮০৬. আল কা‘নবী ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! লোকদের অবস্থা কি, তারা তো (উমরার পরে) হালাল হয়েছে (ইহরাম খুলেছে)। কিন্তু আপনি তো আপনার উমরার পরে হালাল হননি? তিনি বলেন, আমি আমার মাথার চুল জমাটবদ্ধ করেছি এবং আমার কুরবানীর উটের (পশুর) গলায় কিলাদা (মালা) পরিধান করিয়েছি। কাজেই যতক্ষণ না আমি আমার কুরবানীর পশু যবেহ্ করব, ততক্ষণ হালাল হতে পারব না।

২৩. যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তা উমরায় পরিবর্তন করে।

باب الرَّجُلُ يُهِلُّ بِالْحَجِّ ثُمَّ يَجْعَلُهَا عُمْرَةً

১৮০৭

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ السَّرِيِّ - عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ سَلِيمِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ أَبَا ذَرٍّ، كَانَ يَقُولُ فِيمَنْ حَجَّ ثُمَّ فَسَخَهَا بِعُمْرَةٍ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ إِلاَّ لِلرَّكْبِ الَّذِينَ كَانُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

১৮০৭. হান্নাদ ইবনুস সারী ..... সুলাইম ইবনুল আসওয়াদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। আবু যর (রাযিঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তা উমরাতে পরিণত করে, এরূপ করা ঠিক নয় বরং তা কেবল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে যারা ছিলেন তাদের জন্য বৈধ ছিল।

১৮০৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسْخُ الْحَجِّ لَنَا خَاصَّةً أَوْ لِمَنْ بَعْدَنَا قَالَ " بَلْ لَكُمْ خَاصَّةً " .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে হারিস (রাঃ)

১৮০৮. আন নুফায়লী ..... হারিস ইবনে বিলাল ইবনুল হারিস (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তা উমরায় পরিবর্তন করার সুযোগ কি কেবল আমাদের জন্য, না কি তা আমাদের পরবর্তী লোকেরাও করতে পারবে? তিনি বলেন, বরং তা বিশেষভাবে তোমাদেরই জন্য।

২৪. যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষে (বদলী ) হজ্জ করে।

باب الرَّجُلِ يَحُجُّ عَنْ غَيْرِهِ

১৮০৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ تَسْتَفْتِيهِ فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَثْبُتَ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ " نَعَمْ " . وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮০৯. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) একই বাহনে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলেন। এ সময় খাছআম গোত্রের জনৈক মহিলা, তাঁর নিকট ফাতওয়া গ্রহণের জন্য আসে। তখন ফযল (রাযিঃ) মহিলার প্রতি এবং মহিলা ফযলের প্রতি তাকাতে থাকলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফযলের মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন। মহিলা জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলার বান্দাদের উপর তাঁর ফরযকৃত হজ্জ আমার পিতার উপর এমন অবস্থায় ফরয করা হয়েছে যে, বার্ধক্যের কারণে তার পক্ষে বাহণে স্থির হয়ে বসে থাকা সম্ভব নয়। আমি কি তার পক্ষে (বদলী) হজ্জ করতে পারি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর এটা ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার ঘটনা।

১৮১০

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - بِمَعْنَاهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، - قَالَ حَفْصٌ فِي حَدِيثِهِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ وَلاَ الْعُمْرَةَ وَلاَ الظَّعْنَ . قَالَ " احْجُجْ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৮১০. হাফস ইবনে উমর ও মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আমির গোত্রের আবু রাযীন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, আর তিনি হজ্জ ও উমরা আদায় করতে অসমর্থ এবং সওয়ার হতেও অপারগ। তিনি বলেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও উমরা কর।

১৮১১

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالَ إِسْحَاقُ - حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ . قَالَ " مَنْ شُبْرُمَةَ " . قَالَ أَخٌ لِي أَوْ قَرِيبٌ لِي . قَالَ " حَجَجْتَ عَنْ نَفْسِكَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮১১. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনেন, ‘‘লাব্বায়েক আন্ শুবরুমা’’ (আমি শুবরুমার পক্ষে হাযির)। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ শুবরুমা কে? সে ব্যক্তি বলে, আমার ভাই অথবা আমার বন্ধু। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আচ্ছা তুমি কি হজ্জ করেছ? সে বলে, না। তিনি বলেনঃ প্রথমে তুমি নিজের হজ্জ আদায় কর, পরে শুবরুমার হজ্জ সম্পন্ন কর।

২৫. তালবিয়া কীভাবে পড়বে।

باب كَيْفَ التَّلْبِيَةُ

১৮১২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ تَلْبِيَةَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ " . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَزِيدُ فِي تَلْبِيَتِهِ " لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮১২. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর তালবিয়া ছিলঃ

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

অর্থাৎ আমি হাযির হে আল্লাহ্! আমি হাযির, আমি হাযির, কোন শরীক নেই তোমার, আমি হাযির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিআমত তোমারই এবং সকল সাম্রাজ্যও তোমার, কোন শরীক নেই তোমার।

রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর তালবিয়ার আরম্ভে বলতেনঃ

لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ

‘‘হে রব! আমি উপস্থিত (তিনবার) এবং সৌভাগ্য ও করুণা আপনার হাতেই এবং আকর্ষণ আপনাতেই। আমাদের কাজের প্রতিদানও আপনার অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল।
১৮১৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ التَّلْبِيَةَ مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ وَالنَّاسُ يَزِيدُونَ " ذَا الْمَعَارِجِ " . وَنَحْوَهُ مِنَ الْكَلاَمِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْمَعُ فَلاَ يَقُولُ لَهُمْ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮১৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইহরাম বাঁধেন। এরপর ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তালবিয়ার উল্লেখ করেছেন। জাবির (রাযিঃ) আরো বলেন, লোকেরা তালবিয়ার মধ্যে ‘‘যাল মাআরিজ’’ ইত্যাদি শব্দ বলত এবং নবী করীম (ﷺ) তাতে কিছু বলতেন না।

১৮১৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتَانِي جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي وَمَنْ مَعِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ - أَوْ قَالَ - بِالتَّلْبِيَةِ " . يُرِيدُ أَحَدَهُمَا .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে খাল্লাদ (রাঃ)

১৮১৪. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... খাল্লাদ ইবনুস সায়িব আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট এসে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন আমার সাথী ও সাহাবীদের নির্দেশ দেই, তারা যেন উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করে।

২৬. তালবিয়া পাঠ কখন বন্ধ করবে।

باب مَتَى يَقْطَعُ التَّلْبِيَةَ

১৮১৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَبَّى حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ .

বর্ণনাকারী: ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ)

১৮১৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জামরাতুল আকাবাতে প্রস্তর নিক্ষেপ করার পূর্বে তালবিয়া পাঠ করতেন।

১৮১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَدَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَاتٍ مِنَّا الْمُلَبِّي وَمِنَّا الْمُكَبِّرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮১৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যুষে আমরা রাসুল (ﷺ) এর সাথে মিনা হতে আরাফাতে রওয়ানা হই। এ সময় আমাদের মধ্যে কেউ তালবিয়া আর কেউ তাকবীর পাঠে রত ছিল।

২৭. উমরা পালকারী কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে।

باب مَتَى يَقْطَعُ الْمُعْتَمِرُ التَّلْبِيَةَ

১৮১৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُلَبِّي الْمُعْتَمِرُ حَتَّى يَسْتَلِمَ الْحَجَرَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَهَمَّامٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮১৭. মুসা’দ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, উমরাকারী হাজরে আসওয়াদ চুম্বন না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকবে।

২৮. ইহরা্ম অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নিজ গোলামকে প্রহার করলে।

باب الْمُحْرِمِ يُؤَدِّبُ غُلاَمَهُ

১৮১৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَّاجًا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْعَرْجِ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَزَلْنَا فَجَلَسَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي وَكَانَتْ زِمَالَةُ أَبِي بَكْرٍ وَزِمَالَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحِدَةً مَعَ غُلاَمٍ لأَبِي بَكْرٍ فَجَلَسَ أَبُو بَكْرٍ يَنْتَظِرُ أَنْ يَطْلُعَ عَلَيْهِ فَطَلَعَ وَلَيْسَ مَعَهُ بَعِيرُهُ قَالَ أَيْنَ بَعِيرُكَ قَالَ أَضْلَلْتُهُ الْبَارِحَةَ . قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ بَعِيرٌ وَاحِدٌ تُضِلُّهُ قَالَ فَطَفِقَ يَضْرِبُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَبَسَّمُ وَيَقُولُ " انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْمُحْرِمِ مَا يَصْنَعُ " . قَالَ ابْنُ أَبِي رِزْمَةَ فَمَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ يَقُولَ " انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْمُحْرِمِ مَا يَصْنَعُ " . وَيَتَبَسَّمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

১৮১৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (বিদায় হজ্জের সময়) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমরা আরাজ নামক স্থানে উপনীত হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং আমরাও অবতরণ করলাম। আয়িশা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর পার্শ্বে উপবেশন করেন এবং আমি আমার পিতা (আবু বকর) এর পার্শ্বে উপবেশন করি। আবু বকর (রাযিঃ) ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খাদ্য পানীয় ও সফরের সরঞ্জাম একই সঙ্গে আবু বকরের একটি গোলামের নিকট (একটি উটের পৃষ্ঠে) রক্ষিত ছিল।

আবু বকর (রাযিঃ) গোলামের অপেক্ষায় ছিলেন (যেন খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা যায়)। কিন্তু সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হল যে, সে উট তার সাথে ছিল না। তিনি (আবু বকর) জিজ্ঞাসা করেন, তোমার সে উটটি কোথায়? জবাবে সে বলল, আমি গতকাল তাকে হারিয়ে ফেলেছি। আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, মাত্র একটি উট, তুমি তাও হারিয়ে ফেললে? রাবী বলেন, তখন তিনি তাকে মারধর করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুচকি হেসে বলেনঃ তোমরা এ মুহরিম ব্যক্তির দিকে দেখ, কী করছে। রাবী ইবনে আবু রিযমা বলেন, রাসুল (ﷺ) এ উক্তির চাইতে অধিক কিছু বলেননি যে, ‘তোমরা এ মুহরিম ব্যক্তির দিকে দেখ কী কাজ করছে, আর তিনি মুচকি হাসছিলেন।

২৯. পরিধেয় বস্ত্রে ইহরাম বাঁধা।

باب الرَّجُلِ يُحْرِمُ فِي ثِيَابِهِ

১৮১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، أَخْبَرَنَا صَفْوَانُ بْنُ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِالْجِعْرَانَةِ وَعَلَيْهِ أَثَرُ خَلُوقٍ - أَوْ قَالَ صُفْرَةٍ - وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصْنَعَ فِي عُمْرَتِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْوَحْىَ فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْهُ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ الْعُمْرَةِ " . قَالَ " اغْسِلْ عَنْكَ أَثَرَ الْخَلُوقِ - أَوْ قَالَ أَثَرَ الصُّفْرَةِ - وَاخْلَعِ الْجُبَّةَ عَنْكَ وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ مَا صَنَعْتَ فِي حَجَّتِكَ " .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

১৮১৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনে ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়্যা (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি জিইররানা নামক স্থানে নবী (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়। এ সময় তার (কাপড়ের) উপর খালুকের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল, অথবা (রাবীর সন্দেহ) হলুদ বর্ণের চিহ্ন ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এ ব্যাপারে আমাকে কী নির্দেশ দেন, যদি আমি আমার উমরা এরূপ (পরিধেয় বস্ত্রে সম্পাদন) করি? তখন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তাআলা নবী করীম (ﷺ) এর উপর ওহী নাযিল করেন। অতঃপর তাঁর উপর হতে ওহী নাযিলের প্রভাব দূর হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ উমরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তিটি কোথায়? এরপর (সে উপস্থিত হলে) তিনি বলেনঃ তুমি তোমার শরীর ও কাপড়ে যে সুগন্ধি আছে, তা ধুয়ে ফেলবে। অথবা তিনি বলেন, তোমার শরীর বা কাপড়ের যে জাফরানী রং আছে তা ধুয়ে ফেল। আর তোমার পরিধেয় জুব্বাটি খুলে ফেল এবং তোমার হজ্জের মধ্যে যা কিছু করেছ, উমরাতেও তদ্রূপ করবে।

১৮২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، وَهُشَيْمٌ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فِيهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اخْلَعْ جُبَّتَكَ " . فَخَلَعَهَا مِنْ رَأْسِهِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

১৮২০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... সাফওয়ান ইবনে ইয়া‘লা তাঁর পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে আরও আছে, নবী করীম (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি তোমার জুব্বা খুলে ফেল। অতএব সে তার মাথার দিক থেকে তা খুলে ফেললো।

১৮২১

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ الرَّمْلِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ يَعْلَى ابْنِ مُنْيَةَ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فِيهِ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْزِعَهَا نَزْعًا وَيَغْتَسِلَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

১৮২১. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ .... সাফওয়ান ইবনে ইয়া‘লা ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে পূর্বোক্ত হাদীসে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে আরো আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেন যে, সে যেন জুব্বাটি খুলে ফেলে এবং শরীরের মধ্যকার সুগন্ধির স্থানগুলো দুই বা তিনবার ধুয়ে ফেলে।

১৮২২

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْجِعْرَانَةِ وَقَدْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ وَهُوَ مُصَفِّرٌ لِحْيَتَهُ وَرَأْسَهُ وَسَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

১৮২২. উকবা ইবনে মুকাররাম (রাহঃ) ....... সাফওয়ান ইবনে ইয়া‘লা ইবনে উমাঈয়্যা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। জি‘ইররানা নামক স্থানে জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়, সে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধে এবং তার পরিধানে ছিল একটি জুব্বা। আর তার দাঁড়ি ও মাথা হলুদ রং এ রঞ্জিত।

৩০. মুহরিম ব্যক্তি কী ধরনের পোশাক পরিধান করবে।

باب مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ

১৮২৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَتْرُكُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَ " لاَ يَلْبَسُ الْقَمِيصَ وَلاَ الْبُرْنُسَ وَلاَ السَّرَاوِيلَ وَلاَ الْعِمَامَةَ وَلاَ ثَوْبًا مَسَّهُ وَرْسٌ وَلاَ زَعْفَرَانٌ وَلاَ الْخُفَّيْنِ إِلاَّ لِمَنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ فَمَنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا حَتَّى يَكُونَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৩. মুসাদ্দাদ ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (ﷺ)কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, মুহরিম ব্যক্তি কী ধরণের পোশাক পরিহার করবে? তিনি বলেন, সে কামীজ (জামা), টুপি, পায়জামা এবং পাগড়ী পরিধান করবে না। ঐ সমস্ত কাপড়ও (পরিধান করবে না) যা ওয়ারসও জাফরান মিশ্রিত এবং মোজাও পরিধান করবে না। অবশ্য যার জুতা নেই, সে মোজা পরিধান করবে কিন্তু তা (মোজা) কেটে নেবে, যাতে গোছার নীচে থাকে।

১৮২৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

১৮২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . زَادَ " وَلاَ تَنْتَقِبُ الْمَرْأَةُ الْحَرَامُ وَلاَ تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَلَى مَا قَالَ اللَّيْثُ وَرَوَاهُ مُوسَى بْنُ طَارِقٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَمَالِكٌ وَأَيُّوبُ مَوْقُوفًا وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَدِينِيُّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " الْمُحْرِمَةُ لاَ تَنْتَقِبُ وَلاَ تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَدِينِيُّ شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَيْسَ لَهُ كَبِيرُ حَدِيثٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে. .. পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, মুহরিম স্ত্রীলোকেরা যেন মুখমণ্ডলে নেকাব না ঝুলায় এবং হাতমোজা পরিধান না করে।

১৮২৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَدِينِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُحْرِمَةُ لاَ تَنْتَقِبُ وَلاَ تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মুহরিম স্ত্রীলোকেরা যেন চেহারায় নেকাব না ঝুলায় এবং হাতমোজা পরিধান না করে।

১৮২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ فَإِنَّ نَافِعًا مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ حَدَّثَنِي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى النِّسَاءَ فِي إِحْرَامِهِنَّ عَنِ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذَلِكَ مَا أَحَبَّتْ مِنْ أَلْوَانِ الثِّيَابِ مُعَصْفَرًا أَوْ خَزًّا أَوْ حُلِيًّا أَوْ سَرَاوِيلَ أَوْ قَمِيصًا أَوْ خُفًّا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ نَافِعٍ عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ إِلَى قَوْلِهِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ . وَلَمْ يَذْكُرَا مَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৭. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসুল (ﷺ)কে মুহরিম স্ত্রীলোকদেরকে হাতমোজা না পরতে এবং মুখমণ্ডলে নেকাব না ঝুলাতে নিষেধ শুনেছেন এবং ওয়ারস ও জা‘ফরান মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন। তাছাড়া অন্যান্য প্রকারের কাপড় তারা পরিধান করতে পারবে, যদিও তা হলুদ রং বিশিষ্ট হয়, অথবা রেশমী কাপড় বা গহনাপত্র, কিংবা পায়জামা কিংবা কামীস বা মোজা হয়।

১৮২৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ وَجَدَ الْقُرَّ فَقَالَ أَلْقِ عَلَىَّ ثَوْبًا يَا نَافِعُ . فَأَلْقَيْتُ عَلَيْهِ بُرْنُسًا فَقَالَ تُلْقِي عَلَىَّ هَذَا وَقَدْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَلْبَسَهُ الْمُحْرِمُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮২৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) ঠাণ্ডা অনুভব করলে নাফে’কে বলেন, আমার উপর একখণ্ড কাপড় বিছিয়ে দাও আমি তার উপর একটি বোরখা সাদৃশ কাপড় বিছিয়ে দেই। তিনি বলেন, তুমি এটা আমার উপর বিছিয়ে দিলে? অথচ মুহরিম ব্যক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এটার ব্যবহার নিষেধ করেছেন।

১৮২৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " السَّرَاوِيلُ لِمَنْ لاَ يَجِدُ الإِزَارَ وَالْخُفُّ لِمَنْ لاَ يَجِدُ النَّعْلَيْنِ " . . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا حَدِيثُ أَهْلِ مَكَّةَ وَمَرْجِعُهُ إِلَى الْبَصْرَةِ إِلَى جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَالَّذِي تَفَرَّدَ بِهِ مِنْهُ ذِكْرُ السَّرَاوِيلِ وَلَمْ يَذْكُرِ الْقَطْعَ فِي الْخُفِّ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮২৯. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, মুহরিম ব্যক্তির লুঙ্গি না থাকলে পায়জামা পরিধান করতে পারে এবং যার জুতা নেই সে মোজা পরিধান করতে পারে।

১৮৩০

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْجُنَيْدِ الدَّامَغَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - حَدَّثَتْهَا قَالَتْ كُنَّا نَخْرُجُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ فَنُضَمِّدُ جِبَاهَنَا بِالسُّكِّ الْمُطَيَّبِ عِنْدَ الإِحْرَامِ فَإِذَا عَرِقَتْ إِحْدَانَا سَالَ عَلَى وَجْهِهَا فَيَرَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ يَنْهَاهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৩০. আল হুসাইন ইবনে জুনায়দ দামেগালী (রাহঃ) ..... উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূল্ (ﷺ) এর সাথে (মদীনা হতে) মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতাম। ইহরাম পরিহিত অবস্থায় আমরা একধরণের সুগন্ধি আমাদের চেহারায় প্রলেপ দিতাম। অতঃপর আমাদের কেউ যখন ঘামিয়ে যেত তখন তার চেহারা থেকে ঘামের সাথে সেই সুগন্ধি বেয়ে পড়তো। নবী করীম (ﷺ) তা দেখা সত্ত্বেও তাকে এরূপ করতে নিষেধ করতেন না।

১৮৩১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ ذَكَرْتُ لاِبْنِ شِهَابٍ فَقَالَ حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - كَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ - يَعْنِي يَقْطَعُ الْخُفَّيْنِ لِلْمَرْأَةِ الْمُحْرِمَةِ - ثُمَّ حَدَّثَتْهُ صَفِيَّةُ بِنْتُ أَبِي عُبَيْدٍ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَ رَخَّصَ لِلنِّسَاءِ فِي الْخُفَّيْنِ فَتَرَكَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৩১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) মুহরিম স্ত্রীলোকদের (লম্বা) মোজা কেটে দিতেন। অতঃপর তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুহরিম স্ত্রীলোকদের মোজা পরিধানের অনুমতি প্রদান করেছেন (লম্বা অংশ কর্তন ব্যতীত)। ফলে তিনি (ইবনে উমর) তা কর্তন করা থেকে বিরত থাকেন।

৩১. মুহরিম ব্যক্তির যুদ্ধাস্ত্র বহন।

باب الْمُحْرِمِ يَحْمِلُ السِّلاَحَ

১৮৩২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ لَمَّا صَالَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ الْحُدَيْبِيَةِ صَالَحَهُمْ عَلَى أَنْ لاَ يَدْخُلُوهَا إِلاَّ بِجُلْبَانِ السِّلاَحِ فَسَأَلْتُهُ مَا جُلْبَانُ السِّلاَحِ قَالَ الْقِرَابُ بِمَا فِيهِ .

বর্ণনাকারী: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

১৮৩২. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু ইসহাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারাআ’ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে হুদায়বিয়ার সন্ধি করেন তখন তাদের সাথে এই শর্তে সন্ধি হয় যে, নবী করীম (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ মক্কায় প্রবেশকালে কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত আর কিছুই সঙ্গে আনতে পারবে না। আমি তাঁকে ‘জালবানুস সিলাহ’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তা হলো খাপবদ্ধ তরবারি।

৩২. মুহরিম স্ত্রী লোকের মুখমণ্ডল ঢাকা।

باب فِي الْمُحْرِمَةِ تُغَطِّي وَجْهَهَا

১৮৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا إِلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৩৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনেক কাফেলা (হজ্জের মওসুমে) আমাদের অতিক্রম করছিল আর আমরা ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তারা আমাদের সম্মুখে এসে পড়লে আমাদের স্ত্রী লোকেরা মাথায় কাপড় টেনে মুখ ঢাকতেন। আর তারা আমাদের সম্মুখ হতে দুরে সরে গেলে আমরা আমাদের মুখমণ্ডল খুলতাম।

৩৩. মুহরিম ব্যক্তির সূর্যের কিরণ থেকে ছায়া গ্রহণ।

باب فِي الْمُحْرِمِ يُظَلَّلُ

১৮৩৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أُمِّ الْحُصَيْنِ، حَدَّثَتْهُ قَالَتْ، حَجَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَجَّةَ الْوَدَاعِ فَرَأَيْتُ أُسَامَةَ وَبِلاَلاً وَأَحَدُهُمَا آخِذٌ بِخِطَامِ نَاقَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالآخَرُ رَافِعٌ ثَوْبَهُ لِيَسْتُرَهُ مِنَ الْحَرِّ حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৮৩৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... উম্মুল হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ﷺ) এর সাথে বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলাম। আমি উসামা ইবনে যায়দ ও বিলাল (রাযিঃ) এর মধ্যে একজনকে নবী করীম (ﷺ) এর উটের লাগাম ধরতে এবং অন্যজনকে স্বীয় বস্ত্র দ্বারা রৌদ্রের তাপ হতে নবীজীকে ছায়া প্রদান করতে দেখি, যতক্ষণ না তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেন।

৩৪. মুহরিম ব্যক্তির দেহে সিংগা লাগানো।

باب الْمُحْرِمِ يَحْتَجِمُ

১৮৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، وَطَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৩৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) মুহরিম থাকাবস্থায় (নিজের দেহে) শিংগা (রক্তমোক্ষণ) লাগান।

১৮৩৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ فِي رَأْسِهِ مِنْ دَاءٍ كَانَ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৩৬. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন রোগের কারণে মুহরিম থাকাবস্থায় স্বীয় মস্তকে শিংগা লাগান।

১৮৩৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ عَلَى ظَهْرِ الْقَدَمِ مِنْ وَجَعٍ كَانَ بِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: سَمِعْت أَحْمَدَ، قَالَ ابْنُ أَبِي عَرُوبَةَ: أَرْسَلَهُ يَعْنِي عَنْ قَتَادَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৮৩৭. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় নিজের পায়ের ব্যথার কারণে সিংগা লাগান।

৩৫. মুহরিম ব্যক্তির সুরমা ব্যবহার।

باب يَكْتَحِلُ الْمُحْرِمُ

১৮৩৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ اشْتَكَى عُمَرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ عَيْنَيْهِ فَأَرْسَلَ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ - قَالَ سُفْيَانُ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَوْسِمِ - مَا يَصْنَعُ بِهِمَا قَالَ اضْمِدْهُمَا بِالصَّبِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُثْمَانَ - رضى الله عنه - يُحَدِّثُ ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: নুবাইহ ইবনে ওয়াহব (রহঃ)

১৮৩৮. আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) ..... নুবায়হ্ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মা‘মার (রাহঃ) তাঁর চোখের অসুখ সম্পর্কে অভিযোগ করলে তাকে আবান ইবনে উসমানের নিকট প্রেরণ করা হয়। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, তিনি (আবান) ছিলেন আমিরুল হজ্জ এবং তাঁকে এ সম্পর্কে (চোখের রোগ) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাতে মুসব্বার (সাবার নামক তিতা গাছের রস) লাগাও, কেননা আমি উসমান (রাযিঃ)-কে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।

১৮৩৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: নুবাইহ ইবনে ওয়াহব (রহঃ)

১৮৩৯. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... নুবায়হ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৬. মুহরিম ব্যক্তির গোসল করা।

باب الْمُحْرِمِ يَغْتَسِلُ

১৮৪০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، اخْتَلَفَا بِالأَبْوَاءِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ وَقَالَ الْمِسْوَرُ لاَ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ فَأَرْسَلَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ فَوَجَدَهُ يَغْتَسِلُ بَيْنَ الْقَرْنَيْنِ وَهُوَ يُسْتَرُ بِثَوْبٍ قَالَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ هَذَا قُلْتُ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُنَيْنٍ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَسْأَلُكَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ فَوَضَعَ أَبُو أَيُّوبَ يَدَهُ عَلَى الثَّوْبِ فَطَأْطَأَهُ حَتَّى بَدَا لِي رَأْسُهُ ثُمَّ قَالَ لإِنْسَانٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ اصْبُبْ . قَالَ فَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ حَرَّكَ أَبُو أَيُّوبَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৪০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে হুনায়ন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) আবওয়া নামক স্থানে (মুহরিম ব্যক্তির মাথা ধৌত করা সম্পর্কে) মতভেদ করেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধৌত করতে পারে এবং ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধুইতে পারে না। তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাঁকে (ইবনে হুনায়নকে) আবু আইয়ুব আল আনসারী (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন। তিনি (ইবনে হুনায়ন) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে একটি কাপড়ের দুটি দন্তের (খুটির) মধ্যে কাপড় দ্বারা পর্দা করে গোসলরত অবস্থায় পান।

রাবী বলেন আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞাসা করেন কে? আমি বলি, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে হুনায়ন। আমাকে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আপনার নিকট জানতে পাঠিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় কিরূপে তার মাথা ধৌত করতেন? রাবী বলেন, তখন আবু আইয়ুব (রাযিঃ) স্বীয় হস্ত দ্বারা পর্দার কাপড় সরিয়ে দেন, যাতে আমি স্পষ্টভাবে তাঁর মাথা দেখতে পাই। অতঃপর তিনি জনৈক ব্যক্তিকে তাঁর মাথায় পানি ঢালতে বললে সে তার মাথায় পানি ঢেলে দেয়। অতঃপর তিনি তাঁর মাথার চুলে হাত দিয়ে তা একবার সম্মুখের দিকে এবং আবার পশ্চাতের দিকে ফিরান। এরপর বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি।

৩৭. মুহরিম ব্যক্তির বিবাহ করা।

باب الْمُحْرِمِ يَتَزَوَّجُ

১৮৪১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، أَخِي بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَرْسَلَ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ يَسْأَلُهُ وَأَبَانُ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْحَاجِّ وَهُمَا مُحْرِمَانِ إِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أُنْكِحَ طَلْحَةَ بْنَ عُمَرَ ابْنَةَ شَيْبَةَ بْنِ جُبَيْرٍ فَأَرَدْتُ أَنْ تَحْضُرَ ذَلِكَ . فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ أَبَانُ وَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ أَبِي عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَلاَ يُنْكَحُ " .

বর্ণনাকারী: নুবাইহ ইবনে ওয়াহব (রহঃ)

১৮৪১. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... নুবাইহ্ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনে উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) এক ব্যক্তিকে আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফানের নিকট এতদসম্পর্কে (মুহরিম ব্যক্তির বিবাহ) জিজ্ঞাসা করার জন্য প্রেরণ করেন। আবান (রাহঃ) সে সময় আমীরুল হজ্জ্ ছিলেন। তাঁরা উভয়েই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি তালহা ইবনে উমরের সাথে শায়বা ইবনে যুবাইরের কন্যাকে বিবাহ দিতে চাই। আমি আশা করি আপনি অনুষ্ঠানে হাযির থাকবেন। আবান (রাহঃ) তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন এবং বলেন, আমি আমার পিতা উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ মুহরিম অবস্থায় কোন ব্যক্তি বিবাহও করতে পারবে না এবং (কাউকে) বিবাহ দিতেও পারবে না।

১৮৪২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ مَطَرٍ، وَيَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عُثْمَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ مِثْلَهُ زَادَ " وَلاَ يَخْطُبُ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১৮৪২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, মুহরিম ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাবও দিতে পারবে না।

১৮৪৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ ابْنِ أَخِي، مَيْمُونَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ حَلاَلاَنِ بِسَرِفَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

১৮৪৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) আমাকে সারিফ নামক স্থানে বিবাহ করেন এবংএই সময় আমরা উভয়েই হালাল অবস্থায় ছিলাম।

১৮৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৪৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) মায়মুনা (রাযিঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেন।

১৮৪৫

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ وَهِمَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي تَزْوِيجِ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

১৮৪৫. ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনুল মুস্যায়্যাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক মায়মুনা (রাযিঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে হওয়ার বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সন্দেহে পড়েছেন।

৩৮. ইহরাম অবস্থায় যেসব জীবজন্তু হত্যা করা যাবে।

باب مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ مِنَ الدَّوَابِّ

১৮৪৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَمَّا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ مِنَ الدَّوَابِّ فَقَالَ " خَمْسٌ لاَ جُنَاحَ فِي قَتْلِهِنَّ عَلَى مَنْ قَتَلَهُنَّ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ الْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْحِدَأَةُ وَالْغُرَابُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৪৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মুহরিম ব্যক্তি কোন কোন জীবজন্তু হত্যা করতে পারবে? তিনি বলেন, পাঁচ শ্রেনীর জীবজন্তু হত্যায় কোন গুনাহ্ নেই, যদি এগুলোকে হেল্ বা হেরেম এলাকায় বা হেরেমের বাহিরেও হত্যা করা হয়। যথাঃ বিচ্ছু, ইঁদুর, কাক, চিল ও পাগলা কুকুর।

১৮৪৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ قَتْلُهُنَّ حَلاَلٌ فِي الْحَرَمِ الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْحِدَأَةُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৪৭. আলী ইবনে বাহার (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, ইহরাম অবস্থায় পাঁচ ধরনের জীবজন্তু হত্যা করা বৈধঃ সাপ, বিচ্ছু, চিল ,ইঁদুর ও পাগলা কুকুর।
১৮৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي نُعْمٍ الْبَجَلِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَمَّا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ قَالَ " الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفُوَيْسِقَةُ وَيَرْمِي الْغُرَابَ وَلاَ يَقْتُلُهُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ وَالْحِدَأَةُ وَالسَّبُعُ الْعَادِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৮৪৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ মুহরিম ব্যক্তি কী কী হত্যা করতে পারে? তিনি বলেনঃ সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, পাগলা কুকুর ও হিংস্র প্রাণী। তিনি কাক সম্পর্কে বলেন, উহাকে তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করবে না।

৩৯. মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকারের গোশত।

باب لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ

১৮৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ الْحَارِثُ، خَلِيفَةَ عُثْمَانَ عَلَى الطَّائِفِ فَصَنَعَ لِعُثْمَانَ طَعَامًا فِيهِ مِنَ الْحَجَلِ وَاليعَاقِيبِ وَلَحْمِ الْوَحْشِ قَالَ فَبَعَثَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَجَاءَهُ الرَّسُولُ وَهُوَ يَخْبِطُ لأَبَاعِرَ لَهُ فَجَاءَهُ وَهُوَ يَنْفُضُ الْخَبَطَ عَنْ يَدِهِ فَقَالُوا لَهُ كُلْ . فَقَالَ أَطْعِمُوهُ قَوْمًا حَلاَلاً فَإِنَّا حُرُمٌ . فَقَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه أَنْشُدُ اللَّهَ مَنْ كَانَ هَا هُنَا مِنْ أَشْجَعَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْدَى إِلَيْهِ رَجُلٌ حِمَارَ وَحْشٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَهُ قَالُوا نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৮৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ...... ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। আর হারিস খলীফা উসমান (রাযিঃ) এর শাসনামলে তায়েফের গভর্ণর ছিলেন। তিনি (হারীস) উসমানের মেহমানদারীর জন্য একধরনের খাদ্য প্রস্তুত করেন, যার মধ্যে হুজাল ও ই’আকীব (দু‘টি বিশেষ প্রজাতির) পাখির গোশতও ছিল এবং আরো ছিল বণ্য গাধার গোশত। তিনি লোক মারফত আলী (রাযিঃ)-কেও উক্ত আপ্যায়নের শরীক হওয়ার দাওয়াত পাঠান। সে যখন আলী (রাযিঃ) এর নিকট পৌঁছে তখন তিঁনি তাঁর উটের জন্য গাছের পাতা পেড়ে জড়ো করছিলেন। আলী (রাযিঃ) দাওয়াতে হাযির হলে তাঁরা তাঁকে বলেন, খাদ্য গ্রহণ করুন। তিনি বলেন, এটা তাদের খাওয়ান, যারা হালাল অবস্থায় আছে। আর আমি তো ইহরাম অবস্থায় আছি। অতঃপর আলী (রাযিঃ) বলেন, এখানে উপস্থিত গোত্রের লোকদের আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো যে, একদা রাসূলু্লাহ্ (ﷺ) মুহরিম অবস্থায় থাকাকালে জনৈক ব্যক্তি তাঁর খিদমতে বণ্য গাধার গোশত পেশ করলে তিনি তা খেতে অসম্মতি প্রকাশ করেন? তখন তাঁরা বলেন, হ্যাঁ।

১৮৫০

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا زَيْدُ بْنَ أَرْقَمَ هَلْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُهْدِيَ إِلَيْهِ عُضْوُ صَيْدٍ فَلَمْ يَقْبَلْهُ وَقَالَ " إِنَّا حُرُمٌ " . قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে যায়দ ইবনে আরকাম! আপনি কি জানেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর শিকার করা জন্তুর গোশত হাদিয়াস্বরূপ পেশ করা হলে তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং বলেন, আমি ইহরাম অবস্থায় আছি। তিনি বলেন, হ্যাঁ।

১৮৫১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي الإِسْكَنْدَرَانِيَّ الْقَارِيَّ - عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " صَيْدُ الْبَرِّ لَكُمْ حَلاَلٌ مَا لَمْ تَصِيدُوهُ أَوْ يُصَدْ لَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا تَنَازَعَ الْخَبَرَانِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُنْظَرُ بِمَا أَخَذَ بِهِ أَصْحَابُهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮৫১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে অবদুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, স্থলভাগের শিকার করা জন্তুর গোশত তোমাদের জন্য ভক্ষণ করা হালাল, যদি তা তোমরা নিজেরা শিকার না করে থাক অথবা তোমাদের জন্য শিকার না করা হয়।

১৮৫২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ التَّيْمِيِّ عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ تَخَلَّفَ مَعَ أَصْحَابٍ لَهُ مُحْرِمِينَ وَهُوَ غَيْرُ مُحْرِمٍ فَرَأَى حِمَارًا وَحْشِيًّا فَاسْتَوَى عَلَى فَرَسِهِ قَالَ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ أَنْ يُنَاوِلُوهُ سَوْطَهُ فَأَبَوْا فَسَأَلَهُمْ رُمْحَهُ فَأَبَوْا فَأَخَذَهُ ثُمَّ شَدَّ عَلَى الْحِمَارِ فَقَتَلَهُ فَأَكَلَ مِنْهُ بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَى بَعْضُهُمْ فَلَمَّا أَدْرَكُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّمَا هِيَ طُعْمَةٌ أَطْعَمَكُمُوهَا اللَّهُ تَعَالَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৮৫২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সফরকারী ছিলেন। মক্কার কোন রাস্তায় তিনি তাঁর কতিপয় মুহরিম সাহাবীসহ পিছনে পড়ে যান এবং তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। এই সময় তিনি একটি বণ্য গাধা দেখতে পেয়ে অশ্বপৃষ্ঠে সওয়ার হন। রাবী বলেন, তাঁর চাবুক পড়ে গেলে তিনি তার সাহাবীদেরকে তা তুলে দিতে বলেন। কিন্তু তাঁর সাথীরা (মুহরিম থাকায় তা তুলে দিতে) অস্বীকার করেন। তখন তিনি তাদের নিকট তাঁর বর্শাটি চাইলে তাঁরা তাও দিতে অস্বীকার করেন। অতঃপর তাঁরা রসাূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দেখা হলে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ বস্তুত এটা একটি খাদ্য, আল্লাহ্ তাআলা তা তোমাদেরকে ভক্ষণ করিয়েছেন।

৪০. মুহরিম ব্যক্তির ফড়িং মারা জায়েয কিনা।

باب فِي الْجَرَادِ لِلْمُحْرِمِ

১৮৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ جَابَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجَرَادُ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ পঙ্গপাল হল সামুদ্রিক শিকারের অর্ন্তভূক্ত।
১৮৫৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَصَبْنَا صِرْمًا مِنْ جَرَادٍ فَكَانَ رَجُلٌ مِنَّا يَضْرِبُهُ بِسَوْطِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ هَذَا لاَ يَصْلُحُ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ " . سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ أَبُو الْمُهَزِّمِ ضَعِيفٌ وَالْحَدِيثَانِ جَمِيعًا وَهَمٌ .
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ جَابَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ الْجَرَادُ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৫৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা ফড়িংয়ের একটি দল দেখতে পাই। ইহরামধারী এক ব্যক্তি তার চাবুক দিয়ে সেগুলো মারতে থাকে। জনৈক ব্যক্তি তাকে বলে, এটা ভাল কাজ নয়। অতঃপর এ সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা তো সামুদ্রিক শিকারের অর্ন্তভূক্ত।

মুসা (রাহঃ) .... কা’ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফড়িং সামুদ্রিক শিকারের অন্তর্ভুক্ত।

৪১. ফিদয়া ( ক্ষতিপূরণ)।

باب فِي الْفِدْيَةِ

১৮৫৫

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ الطَّحَّانِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ " قَدْ آذَاكَ هَوَامُّ رَأْسِكَ " . قَالَ نَعَمْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْلِقْ ثُمَّ اذْبَحْ شَاةً نُسُكًا أَوْ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ ثَلاَثَةَ آصُعٍ مِنْ تَمْرٍ عَلَى سِتَّةِ مَسَاكِينَ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৮৫৫. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) ...... কা‘ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (ﷺ) হুদায়বিয়ার (সন্ধির) কালে তাঁর পাশ দিয়ে গমনকালে তিনি তাঁর মস্তক হতে উকুন ছাড়াতে দেখে বলেন, তোমাকে তোমার মাথার উকুন কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। নবী করীম (ﷺ) তাঁকে বলেন, তুমি তোমার মাথা মুণ্ডন কর অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন মিসকীনকে তিন সা’ খেজুর দাও।

১৮৫৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " إِنْ شِئْتَ فَانْسُكْ نَسِيكَةً وَإِنْ شِئْتَ فَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَإِنْ شِئْتَ فَأَطْعِمْ ثَلاَثَةَ آصُعٍ مِنْ تَمْرٍ لِسِتَّةِ مَسَاكِينَ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৮৫৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... কা‘ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বলেন, যদি চাও তবে তুমি একটি পশু কুরবানী কর অথবা তিনদিন রোযা রাখ, অথবা ছয়জন মিসকীনকে তিন সা’ খেজুর দান কর।

১৮৫৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَذَكَرَ الْقِصَّةَ فَقَالَ " أَمَعَكَ دَمٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ تَصَدَّقْ بِثَلاَثَةِ آصُعٍ مِنْ تَمْرٍ عَلَى سِتَّةِ مَسَاكِينَ بَيْنَ كُلِّ مِسْكِينَيْنِ صَاعٌ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৮৫৭. ইবনুল মুছান্না ও নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... কা‘ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর পাশ দিয়ে গমন করেন ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার সাথে কি সাদ্‌কা দেয়ার মত পশু আছে? সে বললো না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন রোযা রাখ, অথবা ছয়জর মিসকিনকে তিন সা’ খেজুর দান কর, প্রতি দুইজন মিসকিন যেন এক সা’ খেজুর পায়।

১৮৫৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ أَخْبَرَهُ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - وَكَانَ قَدْ أَصَابَهُ فِي رَأْسِهِ أَذًى فَحَلَقَ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُهْدِيَ هَدْيًا بَقَرَةً .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৮৫৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... কা‘ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর মাথায় উকুনের উপদ্রব দেখা দিলে তিনি স্বীয় মস্তক মুণ্ডন করেন। নবী করীম (ﷺ) তাঁকে একটি গাভী কুরবানী করার নির্দেশ দেন।

১৮৫৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي أَبَانُ، - يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ - عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ أَصَابَنِي هَوَامُّ فِي رَأْسِي وَأَنَا مَعَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ حَتَّى تَخَوَّفْتُ عَلَى بَصَرِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى ( فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ ) الآيَةَ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " احْلِقْ رَأْسَكَ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ فَرَقًا مِنْ زَبِيبٍ أَوِ انْسُكْ شَاةً " . فَحَلَقْتُ رَأْسِي ثُمَّ نَسَكْتُ .
[حَدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ, عَنْ مَالِكٍ, عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَالِكٍ الْجَزَرِيِّ, عَنْ عَبدِ الرَّحمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى, عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ, فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ, زَادَ: أَيَّ ذَلِكَ فَعَلْتَ أَجْزَأَ عَنْكَ]

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৮৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... কা‘ব ইবনে উজরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মাথায় উকুনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আর আমি তখন হুদায়বিযার বছরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এমনকি আমি আমার দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে শংকিত হয়ে পড়ি। তখন আল্লাহ তাআলা আমার শানে এই আয়াত নাযিল করেনঃ

(فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ)

(অর্থ) ″অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পিড়ীত হয় অথবা তার মাথায় (উকুন ইত্যাদির) কোন কষ্ট থাকে ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডেকে মাথা মুণ্ডন করতে বলেন এবং তিনদিন রোযা রাখতে বা ছয়জন মিসকীনকে খেজুর প্রদান করতে অথবা একটা বকরী কুরবানী করতে নির্দেশ দেন। অতএব, আমি আমার মাথা মুণ্ডন করি এবং একটি বকরী কুরবানী করি।

৪২. ইহরামের পর যদি হজ্জ করতে অপারগ বা বাধাপ্রাপ্ত হয়.

باب الإِحْصَارِ

১৮৬০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ بْنَ عَمْرٍو الأَنْصَارِيَّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كُسِرَ أَوْ عَرِجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ الْحَجُّ مِنْ قَابِلٍ " . قَالَ عِكْرِمَةُ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالاَ صَدَقَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

১৮৬০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনে আমর আনসারী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যদি কেউ শত্রুর কারণে বা চলনশক্তি রহিত হওয়ার কারণে (ইহরামের পর হজ্জ বা উমরা করতে) অক্ষম হয়, তবে তার জন্য হালাল হওয়া বৈধ। তবে তাকে পরবর্তী বছর হজ্জ করতে হবে। রাবী ইকরিমা বলেন, অতঃপর আমি এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে এর সত্যতা স্বীকার করেন।

১৮৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَسَلَمَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كُسِرَ أَوْ عَرِجَ أَوْ مَرِضَ " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ ، قَالَ: سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ

বর্ণনাকারী: হাজ্জাজ ইবনে আমর আনসারী (রাঃ)

১৮৬১. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াক্কিল (রাহঃ) ..... আল হাজ্জাজ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি শত্রুর কারণে বা চলণশক্তি রহিত হওয়ার ফলে অথবা রোগের কারণে (ইহরামের পর হজ্জ করতে অসমর্থ হয়) .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

১৮৬২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَاضِرٍ الْحِمْيَرِيَّ، يُحَدِّثُ أَبِي مَيْمُونَ بْنَ مِهْرَانَ قَالَ خَرَجْتُ مُعْتَمِرًا عَامَ حَاصَرَ أَهْلُ الشَّأْمِ ابْنَ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ وَبَعَثَ مَعِي رِجَالٌ مِنْ قَوْمِي بِهَدْىٍ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى أَهْلِ الشَّأْمِ مَنَعُونَا أَنْ نَدْخُلَ الْحَرَمَ فَنَحَرْتُ الْهَدْىَ مَكَانِي ثُمَّ أَحْلَلْتُ ثُمَّ رَجَعْتُ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ خَرَجْتُ لأَقْضِيَ عُمْرَتِي فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ أَبْدِلِ الْهَدْىَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَصْحَابَهُ أَنْ يُبْدِلُوا الْهَدْىَ الَّذِي نَحَرُوا عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ .

বর্ণনাকারী: মাইমুন ইবনে মিহরান (রহঃ)

১৮৬২. নুফায়লী (রাহঃ) .... মায়মুনা ইবনে মিহরান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমরার নিয়তে রওয়ানা হই, যে বছর সিরিয়ার অধিবাসীরা ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-কে মক্কায় ঘেরাও করে। আমার কওমের লোকেরা আমার সাথে তাদের কুরবানীর পশুও প্রেরণ করে। অতঃপর আমি সিরিয়াবাসীদের নিকটবর্তী হলে তারা আমাদেরকে হেরেমের এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করে। আমি আমার সঙ্গের কুরবানীর পশু ঐ স্থানেই কুরবানী করি, অতঃপর হালাল হয়ে প্রত্যাবর্তন করি। অতঃপর পরবর্তী বছর আমি আমার উমরা আদায়ের জন্য রওয়ানা হই এবং ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে কুরবানী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি পুনরায় কুরবানী করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে তারা হুদায়বিয়ার বছর যেরূপ কুরবানী করিয়েছিলেন পরবতী তে উমরা আদায়ের সময়েও সেরূপে আবার কুরবানী করতে নির্দেশ দেন।

৪৩. মক্কায় প্রবেশ।

باب دُخُولِ مَكَّةَ

১৮৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا قَدِمَ مَكَّةَ بَاتَ بِذِي طُوًى حَتَّى يُصْبِحَ وَيَغْتَسِلَ ثُمَّ يَدْخُلُ مَكَّةَ نَهَارًا وَيَذْكُرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ فَعَلَهُ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১৮৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ .... নাফে’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) মক্কায় এলে তিনি রাত্রিতে যি-তুওয়া নামক স্থানে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করেন। অতঃপর গোসল করে দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন । আর তিনি বর্ণনা করেন, নবী করীম (ﷺ) এরূপ করতেন।

১৮৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْبَرْمَكِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَابْنُ، حَنْبَلٍ عَنْ يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْخُلُ مَكَّةَ مِنَ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا - قَالاَ عَنْ يَحْيَى إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْخُلُ مَكَّةَ مِنْ كَدَاءَ مِنْ ثَنِيَّةِ الْبَطْحَاءِ - وَيَخْرُجُ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى . زَادَ الْبَرْمَكِيُّ يَعْنِي ثَنِيَّتَىْ مَكَّةَ وَحَدِيثُ مُسَدَّدٍ أَتَمُّ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৬৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে জা‘ফর আল বারমাকী (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) সানিয়তুল উলইয়া নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়তুস সুফলা নামক জায়গা দিয়ে বের হতেন। রাবী বারমাকী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, (এ দুটি স্থান) ‘মক্কার দু‘টি উপত্যকা।

১৮৬৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ مِنْ طَرِيقِ الشَّجَرَةِ وَيَدْخُلُ مِنْ طَرِيقِ الْمُعَرَّسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৬৫. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) মদীনা হতে (মক্কার উদ্দেশ্যে) রওয়ানাকালে যুল হুলাইফার নিকট যে বৃক্ষ আছে সেখান দিয়ে আসতেন এবং ফেরার পথে মুআররাসের রাস্তায় (যেখানে যুল হুলাইফার মসজিদ অবস্থিত) প্রবেশ করতেন।

১৮৬৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءَ مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ وَدَخَلَ فِي الْعُمْرَةِ مِنْ كُدًى قَالَ وَكَانَ عُرْوَةُ يَدْخُلُ مِنْهُمَا جَمِيعًا وَكَانَ أَكْثَرُ مَا كَانَ يَدْخُلُ مِنْ كُدًى وَكَانَ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৬৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর কুদা নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন, যা মক্কার উচ্চভূমিতে অবস্থিত, আর উমরা পালনের সময় কুদ্দা নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন (যা নিম্নভূমিতে অবস্থিত)। উরওয়া ও এই দু‘টি স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় তিনি কুদ্দা দিয়ে প্রবেশ করতেন, যা তাঁর বাড়ীর অধিক নিকটবর্তী ছিল।

১৮৬৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ مَكَّةَ دَخَلَ مِنْ أَعْلاَهَا وَخَرَجَ مِنْ أَسْفَلِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৬৭. ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) মক্কায় উহার উচ্চভূমি দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং বের হওয়ার সময় এর নিম্নভূমি দিয়ে বের হতেন।

৪৪. বায়তুল্লাহ্ শরীফ দৃষ্টিগোচর হলে হাত উত্তোলন করা।

باب فِي رَفْعِ الْيَدَيْنِ إِذَا رَأَى الْبَيْتَ

১৮৬৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَزَعَةَ، يُحَدِّثُ عَنِ الْمُهَاجِرِ الْمَكِّيِّ، قَالَ سُئِلَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الرَّجُلِ، يَرَى الْبَيْتَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فَقَالَ مَا كُنْتُ أَرَى أَحَدًا يَفْعَلُ هَذَا إِلاَّ الْيَهُودَ وَقَدْ حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَكُنْ يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: মুহাজির মক্কী (রহঃ)

১৮৬৮. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ...... মুহাজির আল মক্কী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে বায়তুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হলে হাত উত্তোলন করে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি ইয়াহুদীদেরে ব্যতীত আর কাউকে এরূপ করতে দেখিনি। আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে হজ্জ করেছি, কিন্তু তিনি এরূপ করেননি।

১৮৬৯

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَلْفَ الْمَقَامِ يَعْنِي يَوْمَ الْفَتْحِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৬৯. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) মক্কায় প্রবেশ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পশ্চাতে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। আর এ দিনটি ছিল মক্কা বিজয়ের দিন।

১৮৭০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، وَهَاشِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْقَاسِمِ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ مَكَّةَ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْحَجَرِ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ أَتَى الصَّفَا فَعَلاَهُ حَيْثُ يَنْظُرُ إِلَى الْبَيْتِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَذْكُرُ اللَّهَ مَا شَاءَ أَنْ يَذْكُرَهُ وَيَدْعُوهُ قَالَ وَالأَنْصَارُ تَحْتَهُ قَالَ هَاشِمٌ فَدَعَا وَحَمِدَ اللَّهَ وَدَعَا بِمَا شَاءَ أَنْ يَدْعُوَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৭০. ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) মদীনা হতে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। অতঃপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করে হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হন এবং তাতে চুম্বন দেন। পরে তিনি বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ সম্পন্ন করেন, অতঃপর সাফা ও মারওয়া প্রদক্ষিণ করা কালে তাঁর দৃষ্টি বায়তুল্লাহর দিকে পতিত হলেই তিনি দুআর জন্য হাত উঠাতেন এবং তিনি যতক্ষণ ইচ্ছা আল্লাহর যিক্‌র ও দুআয় মগ্ন থাকতেন। এ সময় আনসারগণ তাঁর নীচের দিকে ছিলেন।

৪৫. হাজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া।

باب فِي تَقْبِيلِ الْحَجَرِ

১৮৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى الْحَجَرِ فَقَبَّلَهُ فَقَالَ إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَنْفَعُ وَلاَ تَضُرُّ وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৮৭১. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ...... উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হয়ে তাতে চুমু দেন এবং বলেন, তুমি একটি পাথর মাত্র, তোমার মধ্যে উপকার বা ক্ষতি করার কোন ক্ষমতা নেই। যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম তবে আমিও তোমায় চুমু দিতাম না।

৪৬. বায়তুল্লাহর রুকনসমূহ ( কোণসমূহ) স্পর্শ করা।

باب اسْتِلاَمِ الأَرْكَانِ

১৮৭২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ مِنَ الْبَيْتِ إِلاَّ الرُّكْنَيْنِ الْيَمَانِيَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৭২. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসি (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দুটি রুকনে ইয়ামেনি ব্যতীত বাইতুল্লাহর অন্য কিছুকে স্পর্শ করতে দেখিনি।

১৮৭৩

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ أُخْبِرَ بِقَوْلِ، عَائِشَةَ رضى الله عنها إِنَّ الْحَجَرَ بَعْضُهُ مِنَ الْبَيْتِ . فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَظُنُّ عَائِشَةَ إِنْ كَانَتْ سَمِعَتْ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لأَظُنُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَتْرُكِ اسْتِلاَمَهُمَا إِلاَّ أَنَّهُمَا لَيْسَا عَلَى قَوَاعِدِ الْبَيْتِ وَلاَ طَافَ النَّاسُ وَرَاءَ الْحِجْرِ إِلاَّ لِذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৭৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খানায়ে কা‘বার পশ্চিম পার্শ্বস্থ পাথরের কিছু অংশ বায়তুল্লাহর অর্ন্তগত। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আয়িশা (রাযিঃ) এটা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট শুনেছেন, আর আমার আরো বিশ্বাস যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা (রুকনে-শামীগুলো) স্পর্শ করা পরিত্যাগ করেননি, যদিও তা বায়তুল্লাহর ভিত্তির অন্তর্ভূক্ত নয়। আর লোকেরা হাতীমে কা‘বাকে এ কারণেই তাওয়াফ করে থাকেন।

১৮৭৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَدَعُ أَنْ يَسْتَلِمَ الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ وَالْحَجَرَ فِي كُلِّ طَوْفَةٍ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৭৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেকবার তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী চুম্বন করতেন। রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-ও এরূপ করতেন।

৪৭. তাওয়াফে ( যিয়ারত) বাধ্যতামূলক।

باب الطَّوَافِ الْوَاجِبِ

১৮৭৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ عَلَى بَعِيرٍ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৭৫. আহমাদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটে সওয়ার হয়ে (বায়তুল্লাহর) তাওয়াফ করেন এবং রুকনে ইয়ামানীকে তাঁর হাতের লাঠি দ্বারা (ইশারায়) চুম্বন করেন।

১৮৭৬

حَدَّثَنَا مُصَرِّفُ بْنُ عَمْرٍو الْيَامِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ لَمَّا اطْمَأَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ طَافَ عَلَى بَعِيرٍ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ فِي يَدِهِ . قَالَتْ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

১৮৭৬. মুসাররাফ ইবনে আমর ...... সাফিয়্যা বিনতে শায়বা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়েরর বছর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বস্তি লাভের পর উটে আরোহণ করে (বায়তুল্লাহ্) তাওয়াফ করেন। ঐ সময় তিনি হাজরে আসওয়াদকে তাঁর হাতের লাঠির সাহায্যে (ইশারায়) চুম্বন করেন। রাবী (সাফিয়্যা) বলেন, আমি এই দৃশ্য স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।

১৮৭৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ مَعْرُوفٍ، - يَعْنِي ابْنَ خَرَّبُوذَ الْمَكِّيَّ - حَدَّثَنَا أَبُو الطُّفَيْلِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عَلَى رَاحِلَتِهِ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنِهِ ثُمَّ يُقَبِّلُهُ زَادَ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَطَافَ سَبْعًا عَلَى رَاحِلَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৭৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে তাঁর বাহনের উপর সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে দেখেছি। ঐ সময় তিনি তাঁর হাতের লাঠির সাহায্যে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে তাতে চুমু দেন। রাবী মুহাম্মাদের বর্ণনায় আরো আছে, অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় যান এবং স্বীয় বাহনে উপবিষ্ট অবস্থায় তাতে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন।

১৮৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لِيَرَاهُ النَّاسُ وَلِيُشْرِفَ وَلِيَسْأَلُوهُ فَإِنَّ النَّاسَ غَشُوهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮৭৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম (ﷺ) তাঁর বাহনে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ্ ও সাফা মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ করেন। আর এরূপ তাওয়াফ করার উদ্দেশ্য ছিল, যাতে লোকেরা তাঁকে দেখতে পায় এবং তাদের জ্ঞাতব্য বিষয় সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারে। কারণ, তখন লোকজনের ভিড় ছিল খুব বেশী।

১৮৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ مَكَّةَ وَهُوَ يَشْتَكِي فَطَافَ عَلَى رَاحِلَتِهِ كُلَّمَا أَتَى عَلَى الرُّكْنِ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ طَوَافِهِ أَنَاخَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৭৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অসুস্থ অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন। ঐ সময় তিনি স্বীয় বাহনে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। তিনি যখন হাজরে আসওয়াদের নিকট আসতেন, তখন তা লাঠির সাহায্যে স্পর্শ করতেন। তাওয়াফ শেষ করে তিনি উট বসান এবং দু‘ রাকআত নামায আদায় করেন।

১৮৮০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَشْتَكِي فَقَالَ " طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ " . قَالَتْ فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ وَهُوَ يَقْرَأُ بِـ ( الطُّورِ * وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ ) .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৮৮০. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আমার অসুখের কথা বললাম। তিনি বলেন, তুমি তোমার সওয়ারীতে আরোহণ করে সব লোকদের পেছন থেকে তোমার তাওয়াফ সম্পন্ন কর। তিনি বলেন, আমি ঐ অবস্থায় (বিদায়ী) তাওয়াফ সম্পন্ন করি। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বায়তুল্লাহর পার্শ্বে (ফজরের) নামাযে রত ছিলেন। নামাযে তিনি তিলাওয়াত করেছিলেন সূরা তূর।

৪৮. তাওয়াফের সময় ডান বগলের নীচে দিয়ে, বাম কাঁধের উপর চাঁদর পেঁচানো।

باب الاِضْطِبَاعِ فِي الطَّوَافِ

১৮৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ يَعْلَى، عَنْ يَعْلَى، قَالَ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُضْطَبِعًا بِبُرْدٍ أَخْضَرَ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

১৮৮১. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... ইয়া‘লা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) একটি সবুজ চাদর তাঁর ডান বগলের নীচে দিয়ে তার দু’পাশ বাম কাঁধে পেঁচানো অবস্থায় (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।

১৮৮২

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ اعْتَمَرُوا مِنَ الْجِعْرَانَةِ فَرَمَلُوا بِالْبَيْتِ وَجَعَلُوا أَرْدِيَتَهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ قَدْ قَذَفُوهَا عَلَى عَوَاتِقِهِمُ الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৮২. আবু সালামা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ জি‘ইররানা নামক স্থান হতে উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং দ্রুতপদে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। আর এ সময় তাঁরা নিজেদের চাদর ডান বগলের নিচ কাঁধের উপর পেঁচিয়ে রাখেন।

৪৯. রমল করা।

باب فِي الرَّمَلِ

১৮৮৩

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْغَنَوِيُّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ . قَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ . فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَجِيئُوا مِنَ الْعَاِمِ الْمُقْبِلِ فَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاَثًا " . وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ . قُلْتُ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ مَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ طَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ كَانَ النَّاسُ لاَ يُدْفَعُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يُصْرَفُونَ عَنْهُ فَطَافَ عَلَى بَعِيرٍ لِيَسْمَعُوا كَلاَمَهُ وَلِيَرَوْا مَكَانَهُ وَلاَ تَنَالَهُ أَيْدِيهِمْ .

বর্ণনাকারী: আবু তুফাইল লাইছী (রাঃ)

১৮৮৩. আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আবু তুফাইল (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার সম্প্রদায় ধারণা করে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাওয়াফের সময় রমল করেছেন, আর তা সুন্নত। তিনি বলেন, তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যা বলেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কী সত্য বলেছে আর কী মিথ্যা বলেছে? তিনি বলেন, তারা রমলের ব্যাপারে সত্য বলেছে আর সুন্নতের ব্যাপারে মিথ্যা বলেছে।

প্রকৃত ব্যাপার এই যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশরা বলে, মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের ছেড়ে দাও, যাতে তারা উটের ন্যায় নাকের সংক্রামক ব্যাধিতে মারা যায়। অতঃপর সন্ধি চুক্তিতে যখন স্থির হয় যে, তারা আগামী বছর মক্কায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করতে পারবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পরবর্তী বছর যখন মক্কায় উপনীত হন, তখন মুশরিকরা কুআয়কিআন পাহাড়ের নিকট এলো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে বলেন, তোমরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় তিনবার রমল করবে। এটা মূলত সুন্নত নয়। (রাবী বলেন) আমি বলি, আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা ধারণা করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ করেন তাঁর উটে সওয়ার হয়ে এবং এটা সুন্নত।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও। আমি জিজ্ঞাসা করি, তারা কী সত্য বলেছে এবং কী মিথ্যা বলেছে? তিনি বলেন তারা সত্য বলেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উটে আরোহণ অবস্থায় সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করেন। আর মিথ্যা এই যে, তা আসলে সুন্নত নয়। বরং প্রকৃত ব্যাপার এই যে, লোকেরা নবী(ﷺ) এর নিকট যাতায়াত করতে পারছিল না এবং তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারছিল না। এমতাবস্থায় তিনি উটে আরোহণ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন, যাতে লোকেরা তাঁকে সহজে দেখতে পায়, তাঁর বক্তব্য শুনতে পায় এবং তাদের হাত যাতে তাঁর দিকে সম্প্রসারিত না হয়।
১৮৮৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّهُ حَدَّثَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ وَقَدْ وَهَنَتْهُمْ حُمَّى يَثْرِبَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ إِنَّهُ يَقْدَمُ عَلَيْكُمْ قَوْمٌ قَدْ وَهَنَتْهُمُ الْحُمَّى وَلَقُوا مِنْهَا شَرًّا فَأَطْلَعَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَا قَالُوهُ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَرْمُلُوا الأَشْوَاطَ الثَّلاَثَةَ وَأَنْ يَمْشُوا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ فَلَمَّا رَأَوْهُمْ رَمَلُوا قَالُوا هَؤُلاَءِ الَّذِينَ ذَكَرْتُمْ أَنَّ الْحُمَّى قَدْ وَهَنَتْهُمْ هَؤُلاَءِ أَجْلَدُ مِنَّا . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَأْمُرْهُمْ أَنْ يَرْمُلُوا الأَشْوَاطَ إِلاَّ إِبْقَاءً عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৮৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় উপনীত হন উমরাতুল কাযা আদায়ের উদ্দেশ্যে। এই সময় ইয়াসরিবের সংত্রামক জ্বর তাদের দুর্বল করে দিয়েছিল্। মক্কার কুরাইশরা বলাবলি করতে থাকে যে, তোমাদের নিকট এমন একটি কওম আসবে, যারা জ্বরের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আল্লাহ্ তাআলা তাদের এই কথা নবীকে জানিয়ে দেন। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের বায়তুল্লাহ তাওাফের সময় তিনবার রমল করার নির্দেশ দেন এবং রুকনে ইয়ামানী এবং হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে হেঁটে তাওয়াফ করতে বলেন। (মুশরিকরা) তাঁদেরকে (মুসলিমদেরকে) রমল করতে দেখে বলাবলি করতে থাকে যে, এরা তো তারাই যাদের সম্পর্কে তোমরা বলতে যে, জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে বরং এরা তো আমাদের চাইতেও শক্তিশালী। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি তাঁদেরকে প্রত্যেক চক্করে (তাওয়াফে) রমল করতে নির্দেশ দেননি, বরং (তিনটি ছাড়া) বাকি চক্কর স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

১৮৮৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ فِيمَ الرَّمَلاَنُ الْيَوْمَ وَالْكَشْفُ عَنِ الْمَنَاكِبِ، وَقَدْ أَطَّأَ اللَّهُ الإِسْلاَمَ وَنَفَى الْكُفْرَ وَأَهْلَهُ مَعَ ذَلِكَ لاَ نَدَعُ شَيْئًا كُنَّا نَفْعَلُهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

১৮৮৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রমল ও কাঁধ খোলা রাখার দ্বারা আল্লাহ্ তাআলা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং কাফির ও তাদের কুফরীকে পর্যদুস্ত করেছেন। আর এ কারণেই আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে যা করতাম, তা ত্যাগ করিনি।

১৮৮৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْىُ الْجِمَارِ لإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৮৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা মারওয়ার সা‘ঈ ও কংকর নিক্ষেপ ব্যবস্থা আল্লাহর যিক্‌র কায়েম করার জন্যই।

১৮৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اضْطَبَعَ فَاسْتَلَمَ وَكَبَّرَ ثُمَّ رَمَلَ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ وَكَانُوا إِذَا بَلَغُوا الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ وَتَغَيَّبُوا مِنْ قُرَيْشٍ مَشَوْا ثُمَّ يَطْلُعُونَ عَلَيْهِمْ يَرْمُلُونَ تَقُولُ قُرَيْشٌ كَأَنَّهُمُ الْغِزْلاَنُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكَانَتْ سُنَّةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার বলেন এবং তাওয়াফের তিন চক্করে রমল করেন। আর তাঁরা যখন রুকনে ইয়ামীনের নিকট পৌঁছতেন এবং কুরাইশদের দৃষ্টি সীমার বাইরে যেতেন, তখন হ্যাঁটতেন। আবার তাঁরা যখন তাদের (মুশরিক) সম্মুখীন হতেন, তখন রমল করতেন। এতদ্দর্শনে কুরাইশগণ বলত, এরা তো হরিণের ন্যায়। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর এটা সুন্নত হিসেবে পরিগণিত হয়।

১৮৮৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ اعْتَمَرُوا مِنَ الْجِعْرَانَةِ فَرَمَلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاَثًا وَمَشَوْا أَرْبَعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৮৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ জি‘ইররানা হতে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় তিনবার রমল করেন এবং চারবার (আস্তে) হ্যাঁটেন।

১৮৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، رَمَلَ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ وَذَكَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১৮৮৯. আবু কামিল .... নাফে’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।

৫০. তাওয়াফের সময় দুআ করা।

باب الدُّعَاءِ فِي الطَّوَافِ

১৮৯০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ ( رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ) .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

১৮৯০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনুস সায়েব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে দু’ রুকনের মাঝখানে বলতে শুনেছিঃ ‘‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের কল্যাণ দান করো এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করো।″

১৮৯১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا طَافَ فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ أَوَّلَ مَا يَقْدَمُ فَإِنَّهُ يَسْعَى ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ وَيَمْشِي أَرْبَعًا ثُمَّ يُصَلِّي سَجْدَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮৯১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ....... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হজ্জ ও উমরার তাওয়াফ করতেন, প্রথমে মক্কায় আগমনের পর তাওয়াফের তিন চক্করে রমল করতেন এবং বাকি চার চক্করে হ্যাঁটতেন। অতঃপর তিনি দুই রাকআত নামায আদায় করতেন।

৫১. আসরের পরে তাওয়াফ করা।

باب الطَّوَافِ بَعْدَ الْعَصْرِ

১৮৯২

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَالْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهْ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْنَعُوا أَحَدًا يَطُوفُ بِهَذَا الْبَيْتِ وَيُصَلِّي أَىَّ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ " . قَالَ الْفَضْلُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لاَ تَمْنَعُوا أَحَدًا " .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

১৮৯২. ইবনুস সারহ (রাহঃ) .... জুবাইর ইবনে মুত‘ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা (হে বনী আব্দুল মুত্তালিব এবং বনী আব্দে মানাফ) কাউকেও কোন সময় এই ঘর (বাতুল্লাহ্) তাওয়াফ করতে এবং দিন রাতের যে কোনো সময় এখানে নামায আদায় করতে নিষেধ করো না।

৫২. হজ্জে কিরান আদায়কারীর তাওয়াফ সম্পর্কে।

باب طَوَافِ الْقَارِنِ

১৮৯৩

حَدَّثَنَا ابْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمْ يَطُفِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ أَصْحَابُهُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ إِلاَّ طَوَافًا وَاحِدًا طَوَافَهُ الأَوَّلَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮৯৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর সাথে তাঁর সাহাবীগণ সাফা-মারওয়ার মধ্যে একবারের অধিক তাওয়াফ করেননি এবং এটাই ছিল তাঁর প্রথম তাওয়াফ।

১৮৯৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَصْحَابَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِينَ كَانُوا مَعَهُ لَمْ يَطُوفُوا حَتَّى رَمَوُا الْجَمْرَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৯৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাঁর সাহাবীগণ কংকর নিক্ষেপের আগে তাওয়াফ করেননি।

১৮৯৫

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، أَخْبَرَنِي الشَّافِعِيُّ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا " طَوَافُكِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ يَكْفِيكِ لِحَجَّتِكِ وَعُمْرَتِكِ " . قَالَ الشَّافِعِيُّ كَانَ سُفْيَانُ رُبَّمَا قَالَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ . وَرُبَّمَا قَالَ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮৯৫. আর-রাবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) তাঁকে বলেন, তোমার বায়তুল্লাহ্ ও সাফা -মারওয়ার (একবার) তাওয়াফ তোমার হজ্জের সময় ও উমরার জন্য যথেষ্ট।

৫৩. মূলতাযাম।[১]

باب الْمُلْتَزَمِ

১৮৯৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَفْوَانَ، قَالَ لَمَّا فَتَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قُلْتُ لأَلْبَسَنَّ ثِيَابِي - وَكَانَتْ دَارِي عَلَى الطَّرِيقِ - فَلأَنْظُرَنَّ كَيْفَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقْتُ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ خَرَجَ مِنَ الْكَعْبَةِ هُوَ وَأَصْحَابُهُ وَقَدِ اسْتَلَمُوا الْبَيْتَ مِنَ الْبَابِ إِلَى الْحَطِيمِ وَقَدْ وَضَعُوا خُدُودَهُمْ عَلَى الْبَيْتِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسْطَهُمْ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৮৯৬. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে সাফওয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয় করেন তখন আমি (মনে মনে) বলি, আমি আমার বস্ত্র পরিধান করব, আর আমার ঘর ছিল রাস্তার পাশে অবস্থিত এবং দেখব যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরূপ ব্যবহার করেন। আমি আমার ঘর হতে বের হয়ে দেখতে পাই যে, নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ কা‘বা হতে বের হয়ে বায়তুল্লাহ্ চুমু দেন, এর দরজা ও হাতীমের মধ্যবর্তী স্থানে। তাঁরা তাঁদের চিবুক বায়তুল্লাহর উপর স্থাপন করেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের মাঝখানে ছিলেন।

[১] খানায়ে কা'বার প্রাচীর, যা এর দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যে অবস্থিত। এ স্থানকে এজন্য মুলতাযাম বলা হয় যে, হাজীরা প্রত্যাবর্তন করতে ইচ্ছা করে তখন বিদায়ী তাওয়াফ এই স্থান হতে করে যা মুস্তাহাব। এটা দুআ কবুলের স্থান।

৫৩. মূলতাযাম।

باب الْمُلْتَزَمِ

১৮৯৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ طُفْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ فَلَمَّا جِئْنَا دُبَرَ الْكَعْبَةِ قُلْتُ أَلاَ تَتَعَوَّذُ . قَالَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ . ثُمَّ مَضَى حَتَّى اسْتَلَمَ الْحَجَرَ وَأَقَامَ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْبَابِ فَوَضَعَ صَدْرَهُ وَوَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَكَفَّيْهِ هَكَذَا وَبَسَطَهُمَا بَسْطًا ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১৮৯৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে তাওয়াফ করি। অতঃপর আমরা খানায়ে কা‘বার পশ্চাতে আসি, তখন আমি তাঁকে বলি, আপনি কি (আল্লাহ তাআলার নিকট) পানাহ্ চাইবেন না? তিনি বলেন, আমি আল্লাহ্ তাআলার নিকট দোজখের আগুন হতে পানাহ্ চাচ্ছি। অতঃপর তিনি হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে যান এবং তাতে চুমু দেন। অতঃপর তিনি রুকনে ইয়ামানী ও মুলতাযিমের মাঝখানে দন্ডয়মান হয়ে তাঁর বুক, চেহারা, দুই হাত ও হাতের তালু স্থাপন করে তা বিস্তৃত করে দেন এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি।

১৮৯৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا السَّائِبُ بْنُ عُمَرَ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُودُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَيُقِيمُهُ عِنْدَ الشُّقَّةِ الثَّالِثَةِ مِمَّا يَلِي الرُّكْنَ الَّذِي يَلِي الْحَجَرَ مِمَّا يَلِي الْبَابَ فَيَقُولُ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ أُنْبِئْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي هَا هُنَا فَيَقُولُ " نَعَمْ " . فَيَقُومُ فَيُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

১৮৯৮. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে সায়েব (রাযিঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপবেশন করতেন। আর তিনি (ইবনে আব্বাস) তাঁকে (বায়তুল্লাহর) দেওয়ালের তৃতীয়াংশের (অর্থাৎ মুলতাযামের) নিকট দাঁড় করিয়ে দিতেন, যা হাজরে আসওয়াদ ও মূলতাযামের নিকট অবস্থিত ছিল। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, আচ্ছা! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এ স্থানে দাঁড়িয়ে নামায পড়তেন? তিনি (সায়েব) বলেন, হ্যাঁ। তখন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সেখানে দণ্ডায়মান হন এবং (মুলতাযামের নিকট) নামায আদায় করেন।

৫৪. সাফা মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করা।

باب أَمْرِ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ

১৮৯৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ) فَمَا أَرَى عَلَى أَحَدٍ شَيْئًا أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا . قَالَتْ عَائِشَةُ كَلاَّ لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ كَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي الأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ) .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

১৮৯৯. আল কা‘নবী ..... হিশাম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। আমি নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ)-কে আমার ছেলেবেলায় জিজ্ঞাসা করি, আপনি আমাকে আল্লাহ্ তা‘লার বাণীঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নির্দেশাবলীর অর্ন্তভূক্ত’’ সম্পর্কে কিছু বলেন। আমার মনে হয়, যদি কেউ এর তাওয়াফ ত্যাগ করে সে গুনাহগার হবে না। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এরূপ কখনো নয়। তুমি যেরূপ বলেছ, যদি তা ই হতো তবে আয়াতটি এরূপ হতোঃ তার উপর (হজ্জ্ ও উমরাকারীর) কোন গুনাহ্ নেই, যদি সে উভয়ের তাওয়াফ না করে। বরং আয়াতটি আনসারদের শানে নাযিল হয়। তারা মানাতের[১] (যিয়ারতের) উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধত। মানাত ছিল কুদায়দ নামক স্থানে প্রতিষ্ঠত। তারা (জাহিলীয়াতের যুগে) সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ বর্জন করত। ইসলামের অভ্যূদয়ের পর তারা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে মহান আল্লাহ্ এই আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।’’

[১] একটি মূর্তি, যাকে আমর ইব্‌ন লিহয়া সমুদ্রের দিকে স্থাপন করে। অন্য বর্ণনায় আছে, এটা একটি প্রস্তুর (মূর্তি) যা হুযায়েল গোত্র স্থাপন করে।
১৯০০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَمَرَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَهُ مَنْ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَقِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ أَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْكَعْبَةَ قَالَ لاَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

১৯০০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উমরা (কাযা) আদায়ের সময় (মক্কার কাফিরদের কষ্ট প্রদান হতে) রক্ষার জন্য, তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণও ছিলেন। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হয় যে, এ সময় কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেছিলেন? তিনি বলেন, না (কেননা সে সময় তা মূর্তিতে ভরপুর ছিল)।

১৯০১

حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ ثُمَّ أَتَى الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ فَسَعَى بَيْنَهُمَا سَبْعًا ثُمَّ حَلَقَ رَأْسَهُ .

বর্ণনাকারী: ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ (রহঃ)

১৯০১. তামীম ইবনুল মুনতাসির (রাহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আওফা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শ্রবন করেছি। তবে এই বর্ণনায় আছে, অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার সা‘ঈ করেন এবং পরে মাথা মুণ্ডন করেন।

১৯০২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ جُمْهَانَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي أَرَاكَ تَمْشِي وَالنَّاسُ يَسْعَوْنَ قَالَ إِنْ أَمْشِ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَإِنْ أَسْعَ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْعَى وَأَنَا شَيْخٌ كَبِيرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯০২. আন নুফায়লী ...... কাসীর ইবনে জুমহান (রাহঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে জিজ্ঞাসা করেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি আপনাকে হ্যাঁটতে দেখেছি, অন্য লোকেরা দৌড়াচ্ছে? তিনি বলেন, আমি যদি হেঁটে থাকি তবে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে হ্যাঁটতে দেখেছি। আর আমি যদি সা‘ঈ করে থাকি তবে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সা‘ঈ করতে দেখেছি। আমি (এখন) অধিক বৃদ্ধ।

৫৫. মহানবী (ﷺ) - এর বিদায় হজ্জের বিবরণ।

باب صِفَةِ حَجَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

১৯০৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيَّانِ، - وَرُبَّمَا زَادَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ الْكَلِمَةَ وَالشَّىْءَ - قَالُوا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهِ سَأَلَ عَنِ الْقَوْمِ حَتَّى انْتَهَى إِلَىَّ فَقُلْتُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ . فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَأْسِي فَنَزَعَ زِرِّي الأَعْلَى ثُمَّ نَزَعَ زِرِّي الأَسْفَلَ ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ ثَدْيَىَّ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلاَمٌ شَابٌّ . فَقَالَ مَرْحَبًا بِكَ وَأَهْلاً يَا ابْنَ أَخِي سَلْ عَمَّا شِئْتَ . فَسَأَلْتُهُ وَهُوَ أَعْمَى وَجَاءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ فَقَامَ فِي نِسَاجَةٍ مُلْتَحِفًا بِهَا يَعْنِي ثَوْبًا مُلَفَّقًا كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبِهِ رَجَعَ طَرَفَاهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا فَصَلَّى بِنَا وَرِدَاؤُهُ إِلَى جَنْبِهِ عَلَى الْمِشْجَبِ . فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ بِيَدِهِ فَعَقَدَ تِسْعًا . ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ ثُمَّ أُذِّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجٌّ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيَعْمَلَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى أَتَيْنَا ذَا الْحُلَيْفَةِ فَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ أَصْنَعُ قَالَ " اغْتَسِلِي وَاسْتَذْفِرِي بِثَوْبٍ وَأَحْرِمِي " . فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتَّى إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ . قَالَ جَابِرٌ نَظَرْتُ إِلَى مَدِّ بَصَرِي مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ مِنْ رَاكِبٍ وَمَاشٍ وَعَنْ يَمِينِهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَعَنْ يَسَارِهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَمِنْ خَلْفِهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا وَعَلَيْهِ يَنْزِلُ الْقُرْآنُ وَهُوَ يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ فَمَا عَمِلَ بِهِ مِنْ شَىْءٍ عَمِلْنَا بِهِ فَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتَّوْحِيدِ " لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ " . وَأَهَلَّ النَّاسُ بِهَذَا الَّذِي يُهِلُّونَ بِهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا مِنْهُ وَلَزِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَلْبِيَتَهُ . قَالَ جَابِرٌ لَسْنَا نَنْوِي إِلاَّ الْحَجَّ لَسْنَا نَعْرِفُ الْعُمْرَةَ حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ فَرَمَلَ ثَلاَثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ثُمَّ تَقَدَّمَ إِلَى مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ فَقَرَأَ ( وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ) فَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ قَالَ فَكَانَ أَبِي يَقُولُ قَالَ ابْنُ نُفَيْلٍ وَعُثْمَانُ وَلاَ أَعْلَمُهُ ذَكَرَهُ إِلاَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ سُلَيْمَانُ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بِـ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) وَبِـ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْبَيْتِ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ ثُمَّ خَرَجَ مِنَ الْبَابِ إِلَى الصَّفَا فَلَمَّا دَنَا مِنَ الصَّفَا قَرَأَ ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ) " نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ " . فَبَدَأَ بِالصَّفَا فَرَقِيَ عَلَيْهِ حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ فَكَبَّرَ اللَّهَ وَوَحَّدَهُ وَقَالَ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ " . ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ وَقَالَ مِثْلَ هَذَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الْمَرْوَةِ حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ رَمَلَ فِي بَطْنِ الْوَادِي حَتَّى إِذَا صَعِدَ مَشَى حَتَّى أَتَى الْمَرْوَةَ فَصَنَعَ عَلَى الْمَرْوَةِ مِثْلَ مَا صَنَعَ عَلَى الصَّفَا حَتَّى إِذَا كَانَ آخِرُ الطَّوَافِ عَلَى الْمَرْوَةِ قَالَ " إِنِّي لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقِ الْهَدْىَ وَلَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيَحْلِلْ وَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً " . فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا إِلاَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ جُعْشُمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِلأَبَدِ فَشَبَّكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ فِي الأُخْرَى ثُمَّ قَالَ " دَخَلَتِ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ " . هَكَذَا مَرَّتَيْنِ " لاَ بَلْ لأَبَدِ أَبَدٍ لاَ بَلْ لأَبَدِ أَبَدٍ " . قَالَ وَقَدِمَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - مِنَ الْيَمَنِ بِبُدْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ فَاطِمَةَ - رضى الله عنها - مِمَّنْ حَلَّ وَلَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا وَاكْتَحَلَتْ فَأَنْكَرَ عَلِيٌّ ذَلِكَ عَلَيْهَا وَقَالَ مَنْ أَمَرَكِ بِهَذَا فَقَالَتْ أَبِي . فَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ بِالْعِرَاقِ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُحَرِّشًا عَلَى فَاطِمَةَ فِي الأَمْرِ الَّذِي صَنَعَتْهُ مُسْتَفْتِيًا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذِي ذَكَرَتْ عَنْهُ فَأَخْبَرْتُهُ أَنِّي أَنْكَرْتُ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ إِنَّ أَبِي أَمَرَنِي بِهَذَا . فَقَالَ " صَدَقَتْ صَدَقَتْ مَاذَا قُلْتَ حِينَ فَرَضْتَ الْحَجَّ " . قَالَ قُلْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَإِنَّ مَعِيَ الْهَدْىَ فَلاَ تَحْلِلْ " . قَالَ وَكَانَ جَمَاعَةُ الْهَدْىِ الَّذِي قَدِمَ بِهِ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ وَالَّذِي أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ مِائَةً فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا إِلاَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ قَالَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَوَجَّهُوا إِلَى مِنًى أَهَلُّوا بِالْحَجِّ فَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِمِنًى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالصُّبْحَ ثُمَّ مَكَثَ قَلِيلاً حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ وَأَمَرَ بِقُبَّةٍ لَهُ مِنْ شَعَرٍ فَضُرِبَتْ بِنَمِرَةَ فَسَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ تَشُكُّ قُرَيْشٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَجَازَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ فَنَزَلَ بِهَا حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ فَرُحِلَتْ لَهُ فَرَكِبَ حَتَّى أَتَى بَطْنَ الْوَادِي فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ " إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلاَ إِنَّ كُلَّ شَىْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَىَّ مَوْضُوعٌ وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ وَأَوَّلُ دَمٍ أَضَعُهُ دِمَاؤُنَا دَمُ " . قَالَ عُثْمَانُ " دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ " . وَقَالَ سُلَيْمَانُ " دَمُ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " . وَقَالَ بَعْضُ هَؤُلاَءِ كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ " وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُهُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ اتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَإِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ كِتَابَ اللَّهِ وَأَنْتُمْ مَسْئُولُونَ عَنِّي فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ " . قَالُوا نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ . ثُمَّ قَالَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكِبُهَا إِلَى النَّاسِ " اللَّهُمَّ اشْهَدِ اللَّهُمَّ اشْهَدِ اللَّهُمَّ اشْهَدْ " . ثُمَّ أَذَّنَ بِلاَلٌ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتَّى أَتَى الْمَوْقِفَ فَجَعَلَ بَطْنَ نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءَ إِلَى الصَّخَرَاتِ وَجَعَلَ حَبْلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَذَهَبَتِ الصُّفْرَةُ قَلِيلاً حِينَ غَابَ الْقُرْصُ وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ خَلْفَهُ فَدَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَنَقَ لِلْقَصْوَاءِ الزِّمَامَ حَتَّى إِنَّ رَأْسَهَا لَيُصِيبُ مَوْرِكَ رَحْلِهِ وَهُوَ يَقُولُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى " السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ " . كُلَّمَا أَتَى حَبْلاً مِنَ الْحِبَالِ أَرْخَى لَهَا قَلِيلاً حَتَّى تَصْعَدَ حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَجَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ - قَالَ عُثْمَانُ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ اتَّفَقُوا - ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ فَصَلَّى الْفَجْرَ حِينَ تَبَيَّنَ لَهُ الصُّبْحُ - قَالَ سُلَيْمَانُ بِنِدَاءٍ وَإِقَامَةٍ ثُمَّ اتَّفَقُوا - ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتَّى أَتَى الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ فَرَقِيَ عَلَيْهِ قَالَ عُثْمَانُ وَسُلَيْمَانُ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ وَهَلَّلَهُ زَادَ عُثْمَانُ وَوَحَّدَهُ فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى أَسْفَرَ جِدًّا ثُمَّ دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاسٍ وَكَانَ رَجُلاً حَسَنَ الشَّعْرِ أَبْيَضَ وَسِيمًا فَلَمَّا دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ الظُّعُنُ يَجْرِينَ فَطَفِقَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهِنَّ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ وَصَرَفَ الْفَضْلُ وَجْهَهُ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ وَحَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ وَصَرَفَ الْفَضْلُ وَجْهَهُ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ يَنْظُرُ حَتَّى أَتَى مُحَسِّرًا فَحَرَّكَ قَلِيلاً ثُمَّ سَلَكَ الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّذِي يُخْرِجُكَ إِلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى حَتَّى أَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الشَّجَرَةِ فَرَمَاهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ فَرَمَى مِنْ بَطْنِ الْوَادِي ثُمَّ انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَنْحَرِ فَنَحَرَ بِيَدِهِ ثَلاَثًا وَسِتِّينَ وَأَمَرَ عَلِيًّا فَنَحَرَ مَا غَبَرَ - يَقُولُ مَا بَقِيَ - وَأَشْرَكَهُ فِي هَدْيِهِ ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ فَطُبِخَتْ فَأَكَلاَ مِنْ لَحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا قَالَ سُلَيْمَانُ ثُمَّ رَكِبَ ثُمَّ أَفَاضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْبَيْتِ فَصَلَّى بِمَكَّةَ الظُّهْرَ ثُمَّ أَتَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُمْ يَسْقُونَ عَلَى زَمْزَمَ فَقَالَ " انْزِعُوا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَلَوْلاَ أَنْ يَغْلِبَكُمُ النَّاسُ عَلَى سِقَايَتِكُمْ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ " . فَنَاوَلُوهُ دَلْوًا فَشَرِبَ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: জাফর সাদেক ইবনে মুহাম্মাদ বাকের (রহঃ)

১৯০৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুয়াফলী .... জা‘ফর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার পর (অন্ধ হওয়া কারণে আগমনকারীদের সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করেন। আমার নিকট তাঁর প্রশ্নটি সমাপ্ত হওয়ার পর আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (রাযিঃ)। এতদশ্রবণে তিনি আমার মাথায় তাঁর হাত বোলান এবং কামীসের (জামার) উপর ও নিম্নাংশ টেনে তাঁর হস্ততালু আমার বুকের উপর স্থাপন করেন। এ সময় আমি যুবক ছিলাম।

অতঃপর তিনি (জাবির) বলেনঃ তোমার জন্য মারহাবা ও খোশ-আমদেদ! হে ভ্রাতুষ্পুত্র তোমার যা ইচ্ছা, আমাকে জিজ্ঞাসা কর। আমি তাঁকে প্রশ্ন করি, আর তিনি ছিলেন অন্ধ। অতঃপর নামাযের সময় উপস্থিত হওয়ায় তিনি (জাবির) জায়নামাযে দণ্ডায়মান হন, এমতাবস্থায় যে, তাঁর কাঁধে ভাঁজ করা চাঁদর ঝুলন্ত ছিল। অতঃপর তিনি (ইমাম) আমাদের সাথে নামায আদায় করেন এবং তাঁর বড় চাদর আলনায় সংরক্ষিত ছিল। আমি বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে কিছু বলুন।

জাবির (রাযিঃ) তাঁর হাতের প্রতি ইশারা করেন এবং (দু’ হাতের) নয়টি আঙ্গুল বন্ধ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় নয় বছর অবস্থান করেন এবং এই সময় তিনি কোন হজ্জ সম্পন্ন করেননি। অতঃপর (অষ্টম হিজরীতে) মক্কা বিজয়ের পর, দশম হিজরীতে লোকদের নিকট এরূপ ঘোষণা দেয়া হয়ঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হজ্জে গমন করবেন। এতে মদীনায় অসংখ্য লোকের সমাগম হয় এবং প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর ইক্তিদা করে তাঁর অনুরূপ আমল করতে চায়।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রওয়ানা হলে, আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হই। অতঃপর আমরা যুল হুলাইফাতে উপনীত হই। ঐ সময় আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করেন। তখন তিনি (আসমা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ইহরামের ব্যাপারে কী করবেন, তা জানার জন্য লোক পাঠান। তিনি বলেন, তুমি (পবিত্রতা হাসিলের জন্য) গোসল কর, কাপড় দ্বারা নিজের লজ্জাস্থান ব্যান্ডেজ কর এবং ইহরাম বাঁধ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলাইফার মসজিদে দু‘ই রাকআত নামায আদায় করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর বাহণে (কাসওয়ায়) আররোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপস্থিত হন। জাবের (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁর সম্মুখভাগে, আমার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত কেবল আরোহী এবং পদাতিক লোকদের দেখি। তাঁর ডানে, বামে এবং পশ্চাতেও অনুরূপ লোক ছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট তখনও কুরআন নাযিল হচ্ছিল। আর তিনি এর ব্যাখ্যা সম্পর্কেও ওয়াকিফহাল ছিলেন। আর তিনি যেরূপ আমল করছিলেন, আমরাও সেরূপ করছিলাম।

অতঃপর তিনি তালবিয়া পাঠ শুরু করেন, যা তাওহীদ ভিত্তিক ছিল। (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ) (অর্থ) ‘আমি উপস্থিত হে আল্লাহ্! আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত, তোমার কোনো শরীক নেই, আমি উপস্থিত, সকল প্রশংসা ও নেআমত তোমারই এবং সাম্রাজ্য, তোমার কোনো শরীক নেই।’’ আর লোকেরা এ কথার দ্বারা এবং এর অধিক দ্বারাও তালবিয়া পাঠ করছিল; কিন্তু এতদসত্তেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিষেধ করেননি। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখেন।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা হজ্জের নিয়ত করি এবং উমরা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। অতঃপর (যিল হজ্জের চতুর্থ দিনে) আমরা তাঁর সাথে বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী হই। তিনি হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করেন এবং তিনবার রমল এবং চারবার হেঁটে (তাওয়াফ) সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি মাকামে উপস্থিত হন এবং বলেন, তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থানে পরিণত কর। অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমের পশ্চাতে দু‘ই রাকআত নামায আদায় করেন। রাবী (জা‘ফর ইবনে মুহাম্মাদ) বলেন, আমার পিতা (মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন) বলতেন, রাবী ইবনে নুফায়ল ও উসমান বলেন, তিনি নামাযে কী পড়েন তা আমার জানা নেই। তবে সুলাইমান নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দুই রাকআতের এক রাকআতে সূরা ইখলাস ও অন্য রাকআতে সূরা কাফিরূণ পড়বে।

অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহর নিকট আগমন করেন এবং হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। অতঃপর এর দরজা দিয়ে বের হয়ে তিন সাফার দিকে গমন করেন। তিনি সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলোওয়াত করেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া, আল্লাহর নির্দেশবিলীর অন্যতম।’’ অতঃপর তিনি সাফা হতে সা‘ঈ শুরু করেন এবং এর উপর আরোহণ করে বায়তুল্লাহর ঘর দেখে বলেনঃ অর্থাৎ আল্লাহ্ই সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, তাঁর জন্যই সাম্রাজ্য, আর তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা, তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। এক একক আল্লাহ্ ভিন্ন কোনো ইলাহ্ নেই, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং তা বান্দা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সাহায্য করেছেন, এবং তিনি একাই সকল বাহিনীকে পরাভূত করেছেন।’’

অতঃপর তিনি এর মধ্যে দুআ করেন এবং তিনবার উত্তমরূপ ইরশাদ করেন। অতঃপর তিনি মারওয়ার দিকে গমন করেন এবং দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে রমল করেন। তিনি মারওয়ার উপর আরোহণ করে ঐ সমস্ত আমল করেন, যা তিনি সাফা পাহাড়ের উপর উঠে করেছিলেন। অতঃপর তিনি মারওয়ার তাওয়াফ সমাপ্ত করে বলেন, যা আমি পরে অবগত হয়েছি, যদি তা পূর্বে অবগত হতে পাতাম, তবে আমি কুরবানীর পশু অগ্রে প্রেরণ করতাম না এবং একে (হজ্জকে) উমরায় রূপান্তরিত করতাম। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা যেন উমরার পর হালাল হয়, যাতে তা কেবল উমরা হয়।

তখন নবী করীম (ﷺ) এবং ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গ যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত অন্য সমস্ত লোকেরা হালাল হয় এবং তাদের চুল মুণ্ডন বা ছোট করে। তখন সুরাকা ইবনে জাআশাম দন্ডয়মান হয়ে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরূপ ব্যবস্থা (হজ্জের মধ্যে উমরা পালন) কি কেবল এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর একহাতের অঙ্গুলি দু‘বার উচ্চারণ করেন। আর তা সর্বকালের জন্য।

অতঃপর তিনি (জাবির) বলেন, এ সময় আলী (রাযিঃ) ইয়ামান হতে তাঁর নবী করীম (ﷺ) এর কুরবানীর পশু সহ আগমন করেন। ঐ সময় তিনি ফাতিমা (রাযিঃ)-কে হালাল অবস্থায় রংিন কাপড় পরিহিতা এবং সুরমা ব্যবহারকারিণী দেখতে পেয়ে অপছন্দ করেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, তোমাকে কে এরূপ করতে বলেছে? তিনি বলেন, আমার পিতা। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আলী (রাযিঃ), যিনি তখন ইরাকের শাসনকর্তা ছিলেন বলেন, আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে ফাতিমার কাজে রাগান্বিত হয়ে উপস্থিত হই এবং ঐ সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করি, যা সে আমাকে বলেছিল। আর আমি তার কাজে অসুন্তুষ্ট হওয়ার কথা প্রকাশ করায়, ‘আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে বলছে’’, তাও তাঁর কাছে বলি। তিনি বলেন, সে সত্য বলেছে, সে সত্য বলেছে।

আচ্ছা, তুমি যখন হজ্জের নিয়ত করেছ, তখন কী বলেছ? তিনি বলেন, আমি বলেছে, ইয়া আল্লাহ্! আমি ঐরূপ ইহরাম বাঁধছি, যেরূপ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেঁধেছেন। তিনি বলেন, আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে, কাজেই তুমি আমার মত হালাল হতে পারবে না। জাবির বলেন, কুরবানীর পশু, যা আলী (রাযিঃ) ইয়ামান হতে সঙ্গে আনেন এবং যা মদীনা হতে নবী করীম (ﷺ) এর সাথে এনেছিলেন এর মোট সংখ্যা ছিল এক‘শ। এমতাবস্থায় নবী করীম (ﷺ) এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত অন্য সকলে হালাল হয় এবং তাদের মস্তক মুণ্ডন বা চুল ছোট করে।

রাবী (জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তালবিয়ার দিন (৮ই যিল হজ্জ) আসলে, তাঁরা মিনায় গমন করেন এবং হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাহণে সওয়ার হন এবং মিনায় পৌঁছে যোহর, আসর, মাগরিব এশা এবং ফজরের আযান আদায় করেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সে স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য একটি পশমী কাপড়ের তাঁবু টানাতে নির্দেশ দেন। তাঁর জন্য নামেরা নামক স্থানে তা টানানো হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে গমন করেন। যাতে কুরাশরা এরূপ সন্দেহ করতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হারামের নিকটবর্তী স্থান মুযদালিফায় অবস্থান করবেন, (এবং আরাফাতে গমন করবেন না), যেরূপ কুরাইশরা জাহিলীয়াতের যুগে করত।

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুযদালিফা অতিক্রম করে আরাফাতে পৌঁছান এবং তাঁর জন্য প্রস্তুতকৃত তাঁবু যা নামেরাতে স্থাপন করা হয়, সেখানে উপস্থিত হন। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়লে তিনি তাঁর বাহণ প্রস্তুতের নির্দেশ দেন এবং তাতে আরোহণ করে বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে গমন করেন। অতঃপর তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান প্রসঙ্গে বলেন, তোমাদের রক্ত ও সম্পদ (একে অপরের জন্য) হারাম। যেমন হারাম (পবিত্র) তোমাদের আজকের এ দিন, এ মাস ও এ শহর।

খবরদার! জাহিলীয়া যুগের সর্বপ্রকার কাজকর্ম (আজ) আমার পায়ের নীচে বাতিল ঘোষিত হল। জাহিলীয়া যুগের রক্ত (প্রতিশোধ গ্রহণ) পরিত্যক্ত হল। আর সর্বপ্রথম আমি আমার পক্ষ হতে (আহলে ইসলামের) যে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, তা দাবি পরিত্যাগ করলাম। উসমান বলেন, এটা আবু রাবীআর রক্ত। আর সুলাইমান (রাযিঃ) বলেন, এটা রাবীআ ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের খুনের রক্ত। সে (ইবনে রাবীআ) ছিল বনী সা’দ গোত্রের একটি শিশুপুত্র, যাকে হুযায়ল গোত্রের লোকেরা হত্যা করে। আর জাহিলীয়া যুগের সুদ প্রথা বাতিল ঘোষিত হল। আর এ প্রসঙ্গে আমি আমাদের প্রাপ্য সুদ, যা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সবই বাতিল করলাম। আর তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাকে ভয় কর। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ, আর আল্লাহর তাআলার নির্দেশে তোমরা তাদের স্ত্রী-অঙ্গ (ব্যবহার) হালাল করেছ (অর্থাৎ শরীআত সম্মত পন্থায় ইজাব-কবুলের দ্বারা তাদের বিবাহ করেছ)। তাদের উপর তোমাদের হক এই যে, তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কোন লোককে আসার অনুমতি প্রদান না করে, যাকে সে (স্বামী) অপছন্দ করে।

যদি তারা এরূপ করে, তবে তাদের (এ জন্য) সামান্য প্রহার করবে। আর তোমাদের উপর তাদের উত্তমরূপে ভরণপোষনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে একটি বিশেষ বস্তু রেখে যাচ্ছি। আমার পরে যদি তোমরা তা মজবুত ভাবে ধারণ কর, তবে তোমরা কখনও গোমরাহ্ হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব। আর তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন) আমার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা আমার সম্পর্কে কী বলবে? সাহাবীগণ বলেন, আমরা এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করব যে, আপনি আপনার (রিসালাতের) দায়িত্ব সঠিকভাবে পৌঁছিয়েছেন, আপনার (আমানতের) হক আদায় করেছেন এবং আপনি আপনার (উম্মতকে) নসীহত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর শাহাদাত অঙ্গুলি আকাশের দিকে উত্তোলন করেন এবং পরে লোকদের প্রতি ইশারা কবলেন, হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থেকো, হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থোকো, হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থেকো।

অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং যোহরের নামায আদায় করেন। অতঃপর দণ্ডায়মান হয়ে আসরের নামাযও আদায় করেন এবং তিনি এর সাথে অন্য কোনো কিছুই (সুন্নত, নফল ইত্যাদি আদায় করেননি। (অর্থাৎ যোহর ও আসরের নামায পরপর আদায় করেন।) অতঃপর তিঁনি তাঁর বাহনে সওয়ার হন এবং আরাফাতে (মূল ভূমিতে) গমন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর বাহণ উটকে বড় প্রস্তরের নিকট (যা জাবালে রহমতের নিকটে অবস্থিত) নিয়ে যান এবং হাবল আল মাশাত-কে সম্মুখে রাখেন এবং কিবলামুখী হন। আর সূর্যাআস্ত পর্যন্ত সেখানে তিনি অবস্থান করেন।

অতঃপর সূর্যের লালিমা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি উসামাকে স্বীয় উটের পশ্চাতে বসিয়ে নেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফার হতে মুযদালিফায় গমন করেন। ঐ সময় তিনি তাঁর উটের লাগাম নিজের হাতে নেন, যাতে তাঁর (উটের) মাথা, পাদানির নিকট পৌঁছায়। আর এসময় তিনি ডান হস্তদ্বারা ইশারা করে বলেন, শান্ত হও (অর্থাৎ তোমরা এখন শান্তু বা স্বস্তি গ্রহণ কর)। হে জনগণ! তোমরা স্বস্তি গ্রহণ কর। হে লোক সকল! তোমরা শান্তি কবুল কর। অতঃপর তিনি যখন কোন পাহাড়ের নিকটবর্তী হন, তখন উটের লাগামকে কিছুটা ঢিল দেন এবং এই অবস্থায় মুযদালিফায় গমন করেন। আর এ স্থানে তিনি মাগরিব ও এশার নামায একই আযান ও দুই ইকামতের দ্বারা একত্রে আদায় করেন।

রাবী উসমান বলেন, তিনি মাগরিব ও এশার নামায (একত্রে আদায়ের সময়) এর মধ্যবর্তী সময়ে কোন তাসবীহ পাঠ করেন নাই। অতঃপর সমস্ত রাবী একমত হয়ে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকাল পর্যন্ত নিদ্রা যান। আর ফজরের সময় হওয়ার পর তিনি ফজরের নামায আদায় করেন। রাবী সুলাইমান বলেন, তিনি একই আযান এবং একই ইকামতে তা আদায় করেন। অতঃপর সকল রাবী ঐক্যমতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর তিনি তাঁর বাহণে আরোহণ করে মাশআরুল হারামে গমন করেন এবং সেখানে অবতরণ করেন। রাবী উসমান ও সুলাইমান বলেন, এ সময় তিনি কিবলামুখী হন এবং আল্লাহ্ তাআলার হামদ ও তাকবীর পাঠ করেন। রাবী উসমান একা এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আর তিনি সে স্থানে ততক্ষণ অবস্থান করেন, যতক্ষণ না স্পষ্টরূপে (পূর্বের আকাশ) পরিষ্কার হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা হতে মিনায় গমন করেন। আর এ সময় তাঁর উটের পশ্চাতে ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ছিলেন। আর ইনি ছিলেন কালো চুল, সুন্দর ও সুশ্রী দেহের অধিকারী যুবক।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুযদালিফা হতে গমনকালে যখন স্ত্রীলোকদের বাহণের পার্শ্ব দিয়ে করতে থাকেন, তখন ফযল (রাযিঃ) তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে থাকলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফযলের চেহারায় হস্ত স্থাপন করে তার মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর ফযল (রাযিঃ) অন্যদিকে মুখ ফিরালে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর ফযল আবার তাঁর চেহারা অন্যদিকে ফিরাবার সময় তাঁরা ‘মুহাসসার’ নামক স্থানে পৌঁছান।

এ সময় তাঁর উট কিছুটা দ্রুতগামী হয় এবং তা মধ্যবর্তী রাস্তায় গমন করে, যে রাস্তা ছিল জামরাতুল কুবরায় গমনের পথ। অতঃপর তিনি জামরার নিকটবর্তী হন, যা বৃক্ষের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। অতঃপর তিনি সে স্থানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন এবং প্রত্যেকবার কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করেন। অতঃপর তিনি বাতনুল ওয়াদীতে (গমনপূর্বক) কংকর নিক্ষেপ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর স্থানে উপস্থিত হন এবং স্বহস্তে তেষট্টিটি পশু কুরবানী করেন এবং কুরবানীর অবশিষ্ট পশুগুলি আলী (রাযিঃ)-কে কুরবানী করার নির্দেশ দেন। আর তিনি প্রত্যেক কুরবানীর পশুর গোশত হতে এক টুকরা গোশত তাঁকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর তা একটি পাতিলের মধ্যে রান্না করা হয়। তখন তাঁরা সকলে তা ভক্ষণ করেন এবং (তৃপ্তি সহকারে) আহার করেন।

রাবী সুলাইমান বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বাহনে আরোহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কা‘বা ঘরে গমন করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় যোহরের নামায আদায় করেন। পরে তিনি বনী আব্দুল মুত্তালিবদের নিকট গমন করেন, যারা যমযমের নিকট (লোকদের) পানি পান করাচ্ছিল। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে বলেন, তোমরা লোকদেরকে অধিক পানি পান করাতে থাকো। আর আমি যদি লোকদের অত্যধিক ভিড়ের আশঙ্কা না করতাম তবে আমিও তোমাদের সাথে পানি তুলে লোকদের পান করাতাম। অতঃপর তারা তাঁকে এক বালতি যমযমের পানি সরবরাহ করলে তিনি তা হতে কিছু পান করেন।
১৯০৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ بِعَرَفَةَ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا وَإِقَامَتَيْنِ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِجَمْعٍ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ أَسْنَدَهُ حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ فِي الْحَدِيثِ الطَّوِيلِ وَوَافَقَ حَاتِمَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَلَى إِسْنَادِهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعَتَمَةَ بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ .
[قَالَ أَبُو دَاوُدَ: قال لي أحمد: أخطأ حاتم في هذا الحديث الطويل]

বর্ণনাকারী: জাফর সাদেক ইবনে মুহাম্মাদ বাকের (রহঃ)

১৯০৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা, আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জা‘ফর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) আরাফাতে একই আযানে এবং দুই ইকামতে যোহর ও আসরের নামায আদায় করেন এবং তিনি এর মধ্যবর্তী সময়ে কোন তাসবীহ পাঠ করেননি। আর তিনি (মুযদালিফাতে) মাগরিব ও এশার নামায একই আযানে এবং দুই ইকামতের সাথে আদায় করেন এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে কোনরূপ তাসবীহ পাঠ করেননি।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মাগরিব ও এশার নামায একই আযান ও একই ইকামত আদায় করেন।
১৯০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قَدْ نَحَرْتُ هَا هُنَا وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ " . وَوَقَفَ بِعَرَفَةَ فَقَالَ " قَدْ وَقَفْتُ هَا هُنَا وَعَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ " . وَوَقَفَ فِي الْمُزْدَلِفَةِ فَقَالَ " قَدْ وَقَفْتُ هَا هُنَا وَمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯০৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি এবং মিনাতেও অবস্থানের সময় কুরবানী করেছি। আর তিনি আরাফাতেও অবস্থান করেন। রাবী (জাবির) বলেন, আমিও এ স্থানে, আরাফাতে ও অন্যান্য স্থানে, (যেখানে নবী করীম (ﷺ) অবস্থান করতেন) অবস্থান করি। আর তিনি মুযদালিফাতেও অবস্থান করেন। রাবী বলেন, আমিও এ স্থানে এবং অন্যান্য অবস্থানের স্থানে (যেখানে নবী করীম (ﷺ) অবস্থান করতেন) অবস্থান করি।

১৯০৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ جَعْفَرٍ، بِإِسْنَادِهِ زَادَ " فَانْحَرُوا فِي رِحَالِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: জাফর সাদেক ইবনে মুহাম্মাদ বাকের (রহঃ)

১৯০৬. মুসাদ্দাদ ..... জা‘ফর (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণিত্ হয়েছে। রাবী (হাফস ইবনে গিয়াস) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তোমরা তোমাদের বাহনে (আরোহণের স্থানে অর্থাৎ মিনায়) কুরবানী করবে।

১৯০৭

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَابِرٍ، فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ وَأَدْرَجَ فِي الْحَدِيثِ عِنْدَ قَوْلِهِ ( وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ) قَالَ فَقَرَأَ فِيهَا بِالتَّوْحِيدِ وَ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) وَقَالَ فِيهِ قَالَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - بِالْكُوفَةِ قَالَ أَبِي هَذَا الْحَرْفُ لَمْ يَذْكُرْهُ جَابِرٌ فَذَهَبْتُ مُحَرِّشًا . وَذَكَرَ قِصَّةَ فَاطِمَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯০৭. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) সূত্রে ও মিলিত সনদে জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আর রাবী (ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর রাবী ইয়াহয়া আল কাত্তান তাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, (আ্ল্লাহর বাণী) : ‘আর তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে তোমাদের নামাযের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর’’ রাবী বলেন, এ স্থানে নামায আদায়ের সময় তিনি সূরা ইখলাস ও সূরা কাফিরূন পাঠ করেন।

৫৬. আরাফাতের অবস্থান।

باب الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ

১৯০৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ وَمَنْ دَانَ دِينَهَا يَقِفُونَ بِالْمُزْدَلِفَةِ وَكَانُوا يُسَمَّوْنَ الْحُمْسَ وَكَانَ سَائِرُ الْعَرَبِ يَقِفُونَ بِعَرَفَةَ قَالَتْ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْتِيَ عَرَفَاتٍ فَيَقِفَ بِهَا ثُمَّ يُفِيضَ مِنْهَا فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى ( ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ ) .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯০৮. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশরা তাদের ধর্মের অনুসরণ করে মুযদালিফাতে অবস্থান করতো এবং একে বীরত্বের (প্রকাশ) হিসাবে আখ্যায়িত করতো আর আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফাতে অবস্থান করতো। তিনি (আয়িশা) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর, আল্লাহ তাআলা নবী করীম (ﷺ)কে আরাফাতে গমনের এবং সেখানে অবস্থানের নির্দেশ প্রদান করেন এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনেরও নির্দেশ দেন। যেমন, আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘ আর তোমরা সে স্থান হতে প্রত্যাবর্তন কর, যে স্থান হতে লোকেরা ফিরে আসে।’’

৫৭. (মক্কা হতে) মিনায় গমন।

باب الْخُرُوجِ إِلَى مِنًى

১৯০৯

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ وَالْفَجْرَ يَوْمَ عَرَفَةَ بِمِنًى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯০৯. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াওমুত তারবিয়ার [১] যোহরের নামায এবং ইয়াওমূল আরাফার [২] ফজরের নামায মিনায় আদায় করতে হবে।

[১] ৮ যিলহজ্জকে ইয়াওমুত তারবীয়া বা মিনায় গমনের দিন বলা হয়।[২] ৯ যিলহজ্জকে ইয়াওমে আরাফাহ বা আরাফাত ময়দানে অবস্থানের দিন বলে।
১৯১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الأَزْرَقُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قُلْتُ أَخْبِرْنِي بِشَىْءٍ، عَقَلْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ فَقَالَ بِمِنًى . قُلْتُ فَأَيْنَ صَلَّى الْعَصْرَ يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ بِالأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَ افْعَلْ كَمَا يَفْعَلُ أُمَرَاؤُكَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল আযীয ইবনে রূফাঈ (রহঃ)

১৯১০. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আব্দুল আযীয় ইবনে রুফাই’ (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলি, আপনি আমাকে ঐ বিষয় সম্পর্কে আবহিত করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে অবগত হয়েছেন। আর তা হলো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইয়াওমুত তারবীয়াতে যোহরের নামায কোথায় আদায় করেন? তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি মিনাতে ইয়াওমুন নাফারে [১] আসরের নামায কোথায় আদায় করেন? তিনি বলেন, আবতাহ্ নামক স্থানে। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা ঐরূপ করবে, যেরূপ তোমাদের নেতৃবৃন্দ করেন।

[১] ১৩ যিলহজ্জকে ইয়াওমুন নাফার বা প্রত্যাবর্তনের দিন বলা হয়।

৫৮. (মিনা হতে) আরাফাতে গমন।

باب الْخُرُوجِ إِلَى عَرَفَةَ

১৯১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ غَدَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مِنًى حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ صَبِيحَةَ يَوْمِ عَرَفَةَ حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَنَزَلَ بِنَمِرَةَ وَهِيَ مَنْزِلُ الإِمَامِ الَّذِي يَنْزِلُ بِهِ بِعَرَفَةَ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ صَلاَةِ الظُّهْرِ رَاحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُهَجِّرًا فَجَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ ثُمَّ رَاحَ فَوَقَفَ عَلَى الْمَوْقِفِ مِنْ عَرَفَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯১১. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফার দিন সকালে ফজরের নামায আদায়ের পর নবী করীম (ﷺ) মিনা হতে আরাফার অভিমুখে রওয়ানা হন। অতঃপর তিনি আরাফার সন্নিকটে উপস্থিত হয়ে নামিরাতে অবস্থান গ্রহণ করেন। আর তা সে স্থান, যেখানে ইমাম আরাফার দিন অবস্থান করেন। অতঃপর যোহরের নামাযের সময় হলে, তিনি একত্রে যোহর ও আসরের নামায আদায় করেন এবং পরে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করেন এবং আরাফার ময়দানে অবস্থানের স্থানে অবস্থান করেন।

৫৯. সূর্য পশ্চিমাকাশে যাওয়ার পর অরাফাতে গমন।

باب الرَّوَاحِ إِلَى عَرَفَةَ

১৯১২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا أَنْ قَتَلَ الْحَجَّاجُ ابْنَ الزُّبَيْرِ، أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عُمَرَ أَيَّةُ سَاعَةٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرُوحُ فِي هَذَا الْيَوْمِ قَالَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ رُحْنَا . فَلَمَّا أَرَادَ ابْنُ عُمَرَ أَنْ يَرُوحَ قَالُوا لَمْ تَزِغِ الشَّمْسُ . قَالَ أَزَاغَتْ قَالُوا لَمْ تَزِغْ - أَوْ زَاغَتْ - قَالَ فَلَمَّا قَالُوا قَدْ زَاغَتِ . ارْتَحَلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯১২. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ যখন ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-কে হত্যা করে, তখন সে (হাজ্জাজ) তার নিকট জিজ্ঞাসা করে, এই দিনে (আরাফার দিন) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন্ সময় (নামাযের জন্য) বের হতেন। তিনি বলেন, যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ত, তখন আমরা রওয়ানা হতাম। অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) বের হতে ইচ্ছা করলে (সা‘ঈদ) বলেন, তখন তাঁরা (সাথীরা) বলেন, এখনও সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়েনি। অতঃপর তিনি (আবার) জিজ্ঞাসা করেন, সূর্য কি পশ্চিম দিকে ঢলে পড়েছে? তাঁরা বলেন, না। অতঃপর যখন তাঁরা (সাথীরা) বলেন, এখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে, তখন তিনি (ইবনে উমর) রওয়ানা হন।

৬০. আরাফাতের খুতবা (ভাষণ)।

باب الْخُطْبَةِ بِعَرَفَةَ

১৯১৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي ضَمْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَمِّهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ بِعَرَفَةَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯১৩. হান্নাদ (রাহঃ) ..... যুমরা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, তাঁর পিতা অথবা চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আরাফাতে মিম্বরের [১] উপর দেখেছি।

[১] প্রকাশ থাকে যে, নবী করীম (ﷺ)-এর যুগে আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দেওয়ার জন্য কোন মিম্বর ছিল না। তিনি তাঁর উষ্ট্রের পৃষ্ঠে সাওয়ার অবস্থায় ভাষণ প্রদান করেন।
১৯১৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُبَيْطٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الْحَىِّ عَنْ أَبِيهِ، نُبَيْطٍ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاقِفًا بِعَرَفَةَ عَلَى بَعِيرٍ أَحْمَرَ يَخْطُبُ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে নুবায়ত (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

১৯১৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... সালামা ইবনে নুবাইত (রাহঃ) তাঁর গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী করীম (ﷺ)কে আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে একটি লাল উটের উপর সওয়ার থাকাবস্থায় খুতবা প্রদান করতে দেখেছেন।

১৯১৫

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ، قَالَ حَدَّثَنِي الْعَدَّاءُ بْنُ خَالِدِ بْنِ هَوْذَةَ، - قَالَ هَنَّادٌ عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ أَبِي عَمْرٍو، - قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ الْعَدَّاءِ بْنِ هَوْذَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ عَرَفَةَ عَلَى بَعِيرٍ قَائِمٌ فِي الرِّكَابَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ الْعَلاَءِ عَنْ وَكِيعٍ كَمَا قَالَ هَنَّادٌ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯১৫. হান্নাদ ...... আল আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাতের দিন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে একটি উটের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে দেখেছি, যা আল রিকাবীন নামক স্থানে ছিল।

১৯১৬

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ أَبُو عَمْرٍو، عَنِ الْعَدَّاءِ، بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯১৬. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম মিলিত সনদে আল আদ্দা ইবনে খালিদ (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৬১. আরাফাতে অবস্থানের স্থান।

باب مَوْضِعِ الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ

১৯১৭

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، - يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شَيْبَانَ، قَالَ أَتَانَا ابْنُ مِرْبَعٍ الأَنْصَارِيُّ وَنَحْنُ بِعَرَفَةَ فِي مَكَانٍ يُبَاعِدُهُ عَمْرٌو عَنِ الإِمَامِ فَقَالَ أَمَا إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُمْ يَقُولُ لَكُمْ " قِفُوا عَلَى مَشَاعِرِكُمْ فَإِنَّكُمْ عَلَى إِرْثٍ مِنْ إِرْثِ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯১৭. ইবনে নুফায়ল (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে শায়বান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে মিরবা আল আনসারী (রাযিঃ) আমাদের নিকট আগমন করেন, যখন আমরা আরাফাতের ময়দানে এমন স্থানে ছিলাম, যে স্থানটি আমর ইবনে আব্দুল্লাহ্ কর্তৃক আমাদের জন্য নির্ধারিত হওয়ার কারণে আমরা ইমাম হতে দূরে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বলেন, আমি আপনাদের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর একজন দূত। তিনি বলেছেন, আপনারা এখানে আপনাদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করুন। কেননা আপনারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর যোগ্য উত্তরাধিকারী।

৬২. আরাফার থেকে প্রত্যাবর্তন।

باب الدَّفْعَةِ مِنْ عَرَفَةَ

১৯১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، - الْمَعْنَى - عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَفَاضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَةَ وَعَلَيْهِ السَّكِينَةُ وَرَدِيفُهُ أُسَامَةُ وَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ فَإِنَّ الْبِرَّ لَيْسَ بِإِيجَافِ الْخَيْلِ وَالإِبِلِ " . قَالَ فَمَا رَأَيْتُهَا رَافِعَةً يَدَيْهَا عَادِيَةً حَتَّى أَتَى جَمْعًا . زَادَ وَهْبٌ ثُمَّ أَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ الْعَبَّاسِ . وَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الْبِرَّ لَيْسَ بِإِيجَافِ الْخَيْلِ وَالإِبِلِ فَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ " . قَالَ فَمَا رَأَيْتُهَا رَافِعَةً يَدَيْهَا حَتَّى أَتَى مِنًى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯১৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ও ওয়াহব ইবনে বায়ান (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফার হতে প্রশান্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং তাঁর সওয়ারীর পশ্চাতে সওয়ার ছিলেন উসামা ইবনে যায়দ। অতঃপর তিনি ইরশাদ করেনঃ লোক সকল! তোমরা শান্ত হও, কেননা ঘোড়া ও উটকে দ্রুত চালনার মধ্যে কোন সওয়ার নেই। রাবী বলেন, এরূপ ঘোষণার পর আমি কোন ঘোড়া বা উটকে সহীসদের দু‘হাত দ্রুত পরিচালনা করতে দেখিনি। এমতাবস্থায় আমরা মুযদালিফায় আগমন করি। রাবী ওয়াহব অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর (মুযদালিফা হতে) মিনায় গমনকালে তাঁর উটের পশ্চাতে ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সওয়ার হন। আর ঐ সময়ও তিনি বলেনঃ হে জনগণ! ঘোড়া বা উটকে দ্রুত চালনার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই বরং তোমাদের উচিত এখন শান্ত হওয়া। রাবী (ইবনে আব্বাস) বলেন, অতঃপর আমি কাউকেই তার দু‘হাত দ্রুত পরিচালনা করতে দেখিনি, মিনায় আগমন করা পর্যন্ত।

১৯১৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ زُهَيْرٍ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُقْبَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّهُ سَأَلَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قُلْتُ أَخْبِرْنِي كَيْفَ، فَعَلْتُمْ - أَوْ صَنَعْتُمْ - عَشِيَّةَ رَدِفْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ جِئْنَا الشِّعْبَ الَّذِي يُنِيخُ النَّاسُ فِيهِ لِلْمُعَرَّسِ فَأَنَاخَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاقَتَهُ ثُمَّ بَالَ - وَمَا قَالَ زُهَيْرٌ أَهْرَاقَ الْمَاءَ - ثُمَّ دَعَا بِالْوَضُوءِ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا لَيْسَ بِالْبَالِغِ جِدًّا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الصَّلاَةَ . قَالَ " الصَّلاَةُ أَمَامَكَ " . قَالَ فَرَكِبَ حَتَّى قَدِمْنَا الْمُزْدَلِفَةَ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ النَّاسُ فِي مَنَازِلِهِمْ وَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى أَقَامَ الْعِشَاءَ وَصَلَّى ثُمَّ حَلَّ النَّاسُ . زَادَ مُحَمَّدٌ فِي حَدِيثِهِ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ فَعَلْتُمْ حِينَ أَصْبَحْتُمْ قَالَ رَدِفَهُ الْفَضْلُ وَانْطَلَقْتُ أَنَا فِي سُبَّاقِ قُرَيْشٍ عَلَى رِجْلَىَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

১৯১৯. আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ...... ইবরাহীম ইবনে উকবা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে কুরায়ব বলেছেন যে, একদা তিনি উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাকে বলুন, আপনারা সেই সন্ধ্যায় কিরূপ করেছিলেন, যেদিন আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পশ্চাতে একই বাহনে সওয়ার ছিলেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, আমরা সেই ঘাঁটিতে (স্থানে) গমন করি, যেখানে লোকেরা শেষ রাত্রিতে তাদের উট হতে আরামের উদ্দেশ্যে অবতরণ করতো।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে স্থানে তাঁর উষ্ট্র বসিয়ে পেশাব করেন। আর (উসামা এ স্থানে) পানি প্রবাহের কথা বলেননি। অতঃপর তিনি ওযূর জন্য পানি চান এবং এমনভাবে ওযূ করেন, যা অসম্পূর্ণ ছিল। তখন আমি বলি হে আল্লাহর রাসুল! নামাযের সময় উপস্থিত (কাজেই আমরা কি নামায আদায় করব?) তখন জবাবে তিনি বলেন, নামায তোমার সম্মুখে, (অর্থাৎ আজকের দিনের নামায মুযদালিফায় গিয়ে আদায়ের নির্দেশ)।

রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বাহনে সওয়ার হন এবং মুযদালিফায় গিয়ে হাযির হন। অতঃপর তিনি সেখানে মাগরিবের নামায আদায় করেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটগুলো স্ব-স্ব স্থানে বসায়, কিন্তু তাদের পৃষ্ঠ হতে মালপত্র নামাবার পূর্বেই এশার নামায আদায় করেন। অতঃপর লোকেরা স্ব-স্ব মালপত্র নামায়। রাবী মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমি বলি, ঐসময় আপনারা কিরূপ করেছেন যখন আপনারা সকাল বেলায় উপনীত হন? (অর্থাৎ আপনারা মিনার দিকে রওয়ানা হন।)। তখন জবাবে তিনি বলেন, এ সময় তাঁর সওয়ারীর পশ্চাতে ফযল (রাযিঃ) সওয়ার ছিলেন এবং আমি কুরাইশদের সাথে পদব্রজে মিনার দিকে রওয়ানা হই।
১৯২০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ ثُمَّ أَرْدَفَ أُسَامَةَ فَجَعَلَ يُعْنِقُ عَلَى نَاقَتِهِ وَالنَّاسُ يَضْرِبُونَ الإِبِلَ يَمِينًا وَشِمَالاً لاَ يَلْتَفِتُ إِلَيْهِمْ وَيَقُولُ " السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ " . وَدَفَعَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৯২০. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাকে তাঁর বাহণের পশ্চাতে সওয়ার করিয়ে নেন এবং তাঁর উটে সওয়ার হয়ে মধ্যগতিতে চলতে থাকেন। আর ঐ সময় লোকেরা তাদের উষ্ট্রকে ডানে ও বামে হাঁকছিলেন। আর তিনি তাদের প্রতি ভ্রক্ষেপ না করে বলছিলেন, হে জনগণ শান্ত হও! অতঃপর তিনি আরাফার হতে এমন সময় প্রত্যাবর্তন করেন, যখন সূর্য অস্ত যায়।

১৯২১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَأَنَا جَالِسٌ، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ حِينَ دَفَعَ قَالَ كَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ . قَالَ هِشَامٌ النَّصُّ فَوْقَ الْعَنَقِ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

১৯২১. আল কা‘নবী .... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা উসামাকে জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, আর ঐ সময় আমি তাঁর কাছে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় আরাফার হতে মুযদালিফায় গমনকালে কিরূপে যান? তখন জবাবে তিনি বলেন, তিনি মধ্যম গতিতে ভ্রমণ করেন। অতঃপর তিনি যখন রাস্তা প্রশস্ত পান, তখন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হন। রাবী হিশাম (রাহঃ) বলেন, মধ্যম গতি হতে দ্রুততর গতিতে চলাকে ‘নস’ বলে।

১৯২২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ، قَالَ كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا وَقَعَتِ الشَّمْسُ دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

১৯২২. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... উসামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর উটের পশ্চাতে সওয়ার ছিলাম (যখন তিনি আরাফার হতে রওয়ানা হন।)। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত যায়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফার হতে মুযদালিফায় রওয়ানা হন।

১৯২৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَةَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالشِّعْبِ نَزَلَ فَبَالَ فَتَوَضَّأَ وَلَمْ يُسْبِغِ الْوُضُوءَ قُلْتُ لَهُ الصَّلاَةَ . فَقَالَ " الصَّلاَةُ أَمَامَكَ " . فَرَكِبَ فَلَمَّا جَاءَ الْمُزْدَلِفَةَ نَزَلَ فَتَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ كُلُّ إِنْسَانٍ بَعِيرَهُ فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أُقِيمَتِ الْعِشَاءُ فَصَلاَّهَا وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا .
[حَدَّثنا ابن المثنى قال: حدثني روح بن عبادة قال: أخبرني زكريا بن إسحاق قال: أخبرني إبراهيم بن ميسرة قال: أخبرني يعقوب بن عاصم, عن عروة, أنه سمع الشريد يقول: أفضت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فما مست قدماه الأرض حتى أتى جمعا]

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

১৯২৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী কুরায়ব তাঁর নিকট হতে স্মরণ রেখেছেন যে, তিনি (উসামা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফার হতে প্রত্যাবর্তনের সময় যখন শাআব নামক স্থানে পৌঁছান, তখন তিনি তাঁর বাহন হতে অবতরণ করেন। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, নামাযের সময় হল কি? জবাবে তিনি বলেন, তোমার নামাযের স্থান সম্মুখে। অতঃপর তিনি তাঁর বাহনে সওয়ার হন, আর মুযদালিফায় গমনের পর সওয়ারী হতে অবতরণ করেন এবং পূর্ণরূপে ওযূ করে মাগরিবের নামায আদায় করেন। অতঃপর সমস্ত লোক তাদের উষ্ট্র স্ব স্ব স্থানে বসানোর পর তিনি এশার নামায আদায় করেন। আর এ দুই নামাযের (মাগরিব ও এশা) মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অন্য কোন নামায আদায় করেননি।

৬৩. মুয্দালিফায় [১] নামায।

باب الصَّلاَةِ بِجَمْعٍ

১৯২৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

১৯২৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালিফাতে মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন।

[১] এ স্থানকে জাম’আ এ কারণে বলা হয় যে, হযরত আদম ও হাওয়া (আ) বেহেশত হতে অবতরণের পর পুনরায় এখানে মিলিত হন।

৬৩. মুয্দালিফায় নামায।

باب الصَّلاَةِ بِجَمْعٍ

১৯২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَقَالَ بِإِقَامَةٍ إِقَامَةٍ جَمَعَ بَيْنَهُمَا . قَالَ أَحْمَدُ قَالَ وَكِيعٌ صَلَّى كُلَّ صَلاَةٍ بِإِقَامَةٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৯২৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ......... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবু জি‘ব ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, প্রতি নামাযের জন্য পৃথক ইকামত প্রদান করা হয়। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন।

১৯২৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، - الْمَعْنَى - أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِ ابْنِ حَنْبَلٍ عَنْ حَمَّادٍ، وَمَعْنَاهُ، قَالَ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَلَمْ يُنَادِ فِي الأُولَى وَلَمْ يُسَبِّحْ عَلَى أَثَرِ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا . قَالَ مَخْلَدٌ لَمْ يُنَادِ فِي وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯২৬. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... হাম্মাদ (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। উসমান বলেন, উভয় নামাযের জন্য তিনি একবার ইকামতের নির্দেশ দেন। আর তিনি প্রথম নামাযের জন্য আযান দেওয়ার নির্দেশ দেননি। আর উক্ত নামাযদ্বয় আদায়ের পর কোন তাসবীহ্ও পাঠ করেননি। রাবী মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, উক্ত নামাযদ্বয় মাগরিব ও এশার জন্য কোন আযান দেয়া হয়নি।

১৯২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ الْمَغْرِبَ ثَلاَثًا وَالْعِشَاءَ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ مَالِكُ بْنُ الْحَارِثِ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ قَالَ صَلَّيْتُهُمَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَكَانِ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯২৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মালিক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমরের সাথে (মুযদালিফায়) মাগরিবের নামায তিন রাকআত এবং এশার নামায দু‘রাকআত আদায় করি। তখন মালিক ইবনে হারিস (রাহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, এ কিরূপ নামায? জবাবে তিনি বলেন, আমি নামাযদ্বয়কে এ স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একই ইকামতের সাথে আদায় করেছি।

১৯২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ - عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، قَالاَ صَلَّيْنَا مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِالْمُزْدَلِفَةِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ كَثِيرٍ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

১৯২৮. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে জুবাইর ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে মালিক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, আমরা ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে মুযদালিফাতে মাগরিব ও এশার নামায একই ইকামতে আদায় করেছি।

১৯২৯

حَدَّثَنَا ابْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ أَفَضْنَا مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَلَمَّا بَلَغْنَا جَمْعًا صَلَّى بِنَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ ثَلاَثًا وَاثْنَتَيْنِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَنَا ابْنُ عُمَرَ هَكَذَا صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَكَانِ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

১৯২৯. ইবনে আল-আলা ..... সাঈদ ইবনে জুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে আরাফার হতে প্রত্যাবর্তন করি। অতঃপর আমরা যখন জামআতে (মুযদালিফায়) পৌছাই, তখন তিনি আমাদের সাথে মাগরিবের তিন রাকআত ও এশার নামায একই ইকামতে আদায় করেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের সময় ইবনে উমর (রাযিঃ) (আমাদেরকে) বলেন, এ স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের সাথে এরূপে নামায আদায় করেন।

১৯৩০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، قَالَ رَأَيْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ أَقَامَ بِجَمْعٍ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثَلاَثًا ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ شَهِدْتُ ابْنَ عُمَرَ صَنَعَ فِي هَذَا الْمَكَانِ مِثْلَ هَذَا وَقَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ مِثْلَ هَذَا فِي هَذَا الْمَكَانِ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে কুহায়ল (রহঃ)

১৯৩০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... সালামা ইবনে কুহায়ল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)-কে মুযদালিফাতে অবস্থান করতে দেখি। অতঃপর তিনি মাগরিবের জন্য তিন রাকআত এবং এশার জন্য দু’রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এ স্থানে এরূপে (একই ইকামতে) নামায আদায় করতে দেখেছি। আর তিনি (ইবনে উমর) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এ স্থানে এরূপ করতে দেখেছি।

১৯৩১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَقْبَلْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ مِنْ عَرَفَاتٍ إِلَى الْمُزْدَلِفَةِ فَلَمْ يَكُنْ يَفْتُرُ مِنَ التَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ حَتَّى أَتَيْنَا الْمُزْدَلِفَةَ فَأَذَّنَ وَأَقَامَ أَوْ أَمَرَ إِنْسَانًا فَأَذَّنَ وَأَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْمَغْرِبَ ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْنَا فَقَالَ الصَّلاَةُ فَصَلَّى بِنَا الْعِشَاءَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَا بِعَشَائِهِ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي عِلاَجُ بْنُ عَمْرٍو بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَقِيلَ لاِبْنِ عُمَرَ فِي ذَلِكَ فَقَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৩১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আশআস ইবনে সুলাইম (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে আরাফার হতে মুযদালিফায় রওয়ানা হই। আর এ সময় তিনি তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহলী্ল পাঠে মশগুল থাকাবস্থায় আমরা মুযদালিফাতে পৌঁছাই। অতঃপর আযান ও ইকামত দেয়া হয় অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি এক ব্যক্তিকে আযান ও ইকামত প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি আমাদের সাথে মাগরিবের তিন রাকআত নামায আদায করেন এবং পরে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, তোমরা নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি আমাদের সাথে দুই রাকআত এশার নামায আদায় করেন। পরে তিনি রাত্রির খাবার দেওয়ার জন্য নির্দেশ করেন।

রাবী আশআস ইবনে সুলাইম বলেন, আমার কাছে ‘ইলাজ ইবনে আমর, আমার পিতা হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে এটি বর্ণনা করেন।

একদা ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এতদসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাবে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে এরূপে নামায আদায় করেছি।
১৯৩২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ عَبْدَ الْوَاحِدِ بْنَ زِيَادٍ، وَأَبَا، عَوَانَةَ وَأَبَا مُعَاوِيَةَ حَدَّثُوهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ لِوَقْتِهَا إِلاَّ بِجَمْعٍ فَإِنَّهُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَّى صَلاَةَ الصُّبْحِ مِنَ الْغَدِ قَبْلَ وَقْتِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৯৩২. মুসদ্দাদ (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কোন নামায এর জন্য নির্ধারিত সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। কিন্তু তিনি মুযদালিফাতে মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন। আর তিনি আগামী দিনের (কুরবানীর দিনের) ফজরের নামায এর সময় হওয়ার পূর্বে আদায় করেন।

১৯৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ فَلَمَّا أَصْبَحَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وَوَقَفَ عَلَى قُزَحَ فَقَالَ " هَذَا قُزَحُ وَهُوَ الْمَوْقِفُ وَجَمْعٌ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَنَحَرْتُ هَا هُنَا وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ فَانْحَرُوا فِي رِحَالِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৯৩৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ....... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মুযদালিফাতে উষার পর ‘কুযাহ্’[১] নামক স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বলেন, এটাই ‘কুযাহ্’ এবং এটাই অবস্থানের স্থান। আর মুযদালিফার সব স্থানই মাওকিফ [২]। আর আমি এ স্থানে ও মিনার সর্বত্র কুরবানী করেছি, যা কুরবানীর স্থান। আর তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুকে মিনায় কুরবানী করবে।

[১] মুযদালিফাতে ইমামের অবস্থানের স্থানকে কুযাহ্ বলা হয়।
[২] অবস্থানের স্থান।
১৯৩৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَقَفْتُ هَا هُنَا بِعَرَفَةَ وَعَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَوَقَفْتُ هَا هُنَا بِجَمْعٍ وَجَمْعٌ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَنَحَرْتُ هَا هُنَا وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ فَانْحَرُوا فِي رِحَالِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯৩৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, আমি আরাফাতের এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর আরাফাতের সবই অবস্থান স্থল। আর আমি মুযদালিফার এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর এর সবই অবস্থান স্থল। আর আমি মিনার এ স্থানে কুরবানী করেছি, কাজেই এর সবই কুরবানীর স্থান। আর তোমরা তোমাদের পশুকে এ স্থানে কুরবানী করবে।

১৯৩৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ مِنًى مَنْحَرٌ وَكُلُّ الْمُزْدَلِفَةِ مَوْقِفٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ طَرِيقٌ وَمَنْحَرٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯৩৫. আল হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, আরাফাতের সবই অবস্থান স্থল আর মিনার সবই কুরবানীর স্থান এবং সমস্ত মুযদালিফাই অবস্থান স্থল আর মক্কার সমস্ত প্রশস্ত রাস্তই চলাচলের রাস্তা ও কুরবানীর জায়গা।

১৯৩৬

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يُفِيضُونَ حَتَّى يَرَوُا الشَّمْسَ عَلَى ثَبِيرٍ فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)

১৯৩৬. ইবনে কাসীর ..... আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন যে, জাহিলীয়াতের যুগে লোকেরা সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করতো না, যতক্ষণ না সূর্য ‘সাবীর’ পর্বতের উপর দেখা যেত। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) উহার বিপরীত করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বেই মুযদালিফা হতে প্রতাবর্তন করেন।

৬৪. (ভীড়ের কারণে) মুযাদালিফা হতে জলদি প্রত্যাবর্তন করা।

باب التَّعْجِيلِ مِنْ جَمْعٍ

১৯৩৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَنَا مِمَّنْ، قَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْمُزْدَلِفَةِ فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৩৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আবু ইয়াযীদ (রাহঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শোনেন। তিনি বলেন, আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, যারা মুযদালিফার রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পূর্বে (অত্যধিক ভিড়ের কারণে) গমন করছিল, আর অন্যরা ছিলেন তাঁর পরিবারের দুর্বল শ্রেণী, (অর্থাৎ স্ত্রী ও শিশুরা)।

১৯৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْمُزْدَلِفَةِ أُغَيْلِمَةَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَى حُمُرَاتٍ فَجَعَلَ يَلْطَحُ أَفْخَاذَنَا وَيَقُولُ " أُبَيْنِيَّ لاَ تَرْمُوا الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اللَّطْحُ الضَّرْبُ اللَّيِّنُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বনী আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা মুযদালিফার রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পূর্বে গাধার পৃষ্ঠে আরোহণপূর্বক গমন করি। এই সময় তিনি স্বীয় হস্ত দ্বারা আমাদের রানের উপর মৃদু আঘাত করে বলেন, হে আমার প্রিয় সন্তনেরা! সূর্যোদয়ের পূর্বে তোমরা কংকর নিক্ষেপ করবে না।

১৯৩৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَدِّمُ ضُعَفَاءَ أَهْلِهِ بِغَلَسٍ وَيَأْمُرُهُمْ يَعْنِي لاَ يَرْمُونَ الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৩৯. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পরিবারের দুর্বল শ্রেণীকে (নারী ও শিশু) অন্ধকার থাকতে (মুযদালিফা) হতে পাঠিয়ে দিতেন এবং তাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিতেন যে, তাঁরা যেন (মিনায় পৌঁছে) সূর্যোদয়ের পূর্বে কংকর নিক্ষেপ না করে।

১৯৪০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ أَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأُمِّ سَلَمَةَ لَيْلَةَ النَّحْرِ فَرَمَتِ الْجَمْرَةَ قَبْلَ الْفَجْرِ ثُمَّ مَضَتْ فَأَفَاضَتْ وَكَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ الْيَوْمَ الَّذِي يَكُونُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - تَعْنِي - عِنْدَهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৪০. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) উম্মে সালামাকে কুরবানীর দিনে প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি সূর্যোদয়ের পূর্বে কংকর নিক্ষেপ করেন এবং পরে বায়তুল্লাহয় উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত তাওয়াফ করেন। আর সেই দিনটি ছিল এমন দিন, যেদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নির্ধারিত দিন ছিল, তাঁর সাথে অবস্থান করার।

১৯৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَخْبَرَنِي مُخْبِرٌ، عَنْ أَسْمَاءَ، أَنَّهَا رَمَتِ الْجَمْرَةَ قُلْتُ إِنَّا رَمَيْنَا الْجَمْرَةَ بِلَيْلٍ . قَالَتْ إِنَّا كُنَّا نَصْنَعُ هَذَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

১৯৪১. মুহাম্মাদ ইবনে খাল্লাদ (রাহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা সূর্যোদয়ের পূর্বে কংকর নিক্ষেপ করি। তিনি আরো বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগেও এরূপ করতাম।

১৯৪২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَفَاضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ السَّكِينَةُ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَرْمُوا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ وَأَوْضَعَ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯৪২. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালিফা হতে শান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে (সাথীদেরকে) ছোট প্রস্তর খণ্ড নিক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন এবং ওয়াদী মুহাসসির দ্রুত অতিত্রূম করতে বলেন।

৬৫. মহান হজ্জের দিন।

باب يَوْمِ الْحَجِّ الأَكْبَرِ

১৯৪৩

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْغَازِ - حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ يَوْمَ النَّحْرِ بَيْنَ الْجَمَرَاتِ فِي الْحَجَّةِ الَّتِي حَجَّ فَقَالَ " أَىُّ يَوْمٍ هَذَا " . قَالُوا يَوْمُ النَّحْرِ . قَالَ " هَذَا يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৪৩. মুআম্মাল ইবনে আল ফযল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় নহরের দিন তিনটি কংকর নিক্ষেপের স্থানে অবস্থান করেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এটি কোন দিন? তখন জবাবে তারা (সাহাবীগণ) বলেন, এটি নহরের দিন। তখন তিনি বলেন, এটি হা্জ্জুল আকবারের (বড় হজ্জের) দিন।

১৯৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَنِي أَبُو بَكْرٍ فِيمَنْ يُؤَذِّنُ يَوْمَ النَّحْرِ بِمِنًى أَنْ لاَ يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلاَ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَيَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ يَوْمُ النَّحْرِ وَالْحَجُّ الأَكْبَرُ الْحَجُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৯৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে এরূপ ঘোষণা দেওয়ার জন্য নহরের দিন মিনায় প্রেরণ করেন যে, এ বছরের পর হতে কোন মুশরিক যেন (এ ঘরের) হজ্জ না করে। আর কেউ যেন আল্লাহর ঘর উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ না করে। আর হজ্জুল আকরারের দিন হল নহরের দিন। আর হজ্জুল আকবর হল হজ্জ।

৬৬. হারাম বা সম্মানিত মাসসমূহ।

باب الأَشْهُرِ الْحُرُمِ

১৯৪৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ فِي حَجَّتِهِ فَقَالَ " إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَ ذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রহঃ)

১৯৪৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আবু বাকরা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নহরের দিন খু্তবা প্রদানকালে বলেন, আল্লাহ্ তাআলার যমীন ও আসমান সৃষ্টির সময় হতে সময় চক্রাকারে ঘুরছে। আর বছর হলো বার মাসে। তম্মধ্যে চারটি হারামের মাস[১]। এগুলোর মধ্যে তিনটি পর্যায়ক্রমে এসেছে, যেমন- যিল-কাআদা, যিল-হজ্জা, আর চতুর্থ মাসটি হল রজব। আর এটা জুমাদাস সানী ও শা‘বানের মধ্যবর্তীতে।

[১] সম্মানিত মাস, পবিত্র মাস।
১৯৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنُ فَيَّاضٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمَّاهُ ابْنُ عَوْنٍ فَقَالَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

১৯৪৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ...... আবু বাকরাহ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৬৭. যে ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সুযোগ পায়নি।

باب مَنْ لَمْ يُدْرِكْ عَرَفَةَ

১৯৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي بُكَيْرُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي يَعْمَرَ الدِّيلِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِعَرَفَةَ فَجَاءَ نَاسٌ - أَوْ نَفَرٌ - مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ فَأَمَرُوا رَجُلاً فَنَادَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ الْحَجُّ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَنَادَى " الْحَجُّ الْحَجُّ يَوْمُ عَرَفَةَ مَنْ جَاءَ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ لَيْلَةِ جَمْعٍ فَتَمَّ حَجُّهُ أَيَّامُ مِنًى ثَلاَثَةٌ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ " . قَالَ ثُمَّ أَرْدَفَ رَجُلاً خَلْفَهُ فَجَعَلَ يُنَادِي بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مِهْرَانُ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ " الْحَجُّ الْحَجُّ " . مَرَّتَيْنِ وَرَوَاهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ " الْحَجُّ " . مَرَّةً .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবন ইয়ামুর (রাঃ)

১৯৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়া‘মার আদ দীলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন সময় নবী করীম (ﷺ) এর কাছে গমন করি, যখন তিনি আরাফাতে ছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে একজন লোক বা (রাবীর) নজদের কিছু লোক আগমন করে। তখন তারা তাদের একজনকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। তখন সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করে, হজ্জ কিরূপ? তখন তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এতদসম্পর্কে ঘোষণা দিতে বললে, সে বলে, হজ্জ হল আরাফাতে অবস্থান করা। যে ব্যক্তি (আরাফাতে) মুযদালিফার রাত্রিতে ফজরের নামাযের পূর্বে আসে, সে তার হজ্জ পূর্ণ করে। মিনাতে অবস্থানের দিন হল তিনটি [১]। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় দিনে (সব কাজ শেষে) জলদি প্রত্যাবর্তন করে, তার কোন গুনাহ্ নেই। আর যে ব্যক্তি বিলম্ব করে, তার উপরও কোন গুনাহ্ নেই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি প্রথমে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যে এ খবর সকলকে জানিয়ে দেয়।

[১] ১১,১২ও১৩ই যিল-হজ্জ এই তিন দিন মিনাতে অবস্থানের সময়।
১৯৪৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ مُضَرِّسٍ الطَّائِيُّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَوْقِفِ - يَعْنِي بِجَمْعٍ قُلْتُ جِئْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ جَبَلِ طَيِّئٍ أَكْلَلْتُ مَطِيَّتِي وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي وَاللَّهِ مَا تَرَكْتُ مِنْ جَبَلٍ إِلاَّ وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مَعَنَا هَذِهِ الصَّلاَةَ وَأَتَى عَرَفَاتٍ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلاً أَوْ نَهَارًا فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ وَقَضَى تَفَثَهُ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে মুদাররিস তাঈ (রাঃ)

১৯৪৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উরওয়া ইবনে মুদাররিস আত-তায়ী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুযদালিফাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গমন করি। তখন আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তায়ী দু‘টি পর্বতের নিকট হতে এসেছি। আমার সওয়ারী ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং নিজেও শ্রান্ত হয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন পর্বত ছাড়িনি যেখানে আমি অবস্থান করিনি। এমতাবস্থায় আমার হজ্জ সম্পন্ন হয়েছে কি? তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের সাথে সকালের (ফজরের) এ নামায প্রাপ্ত হয় এবং পূর্বে আরাফাতে আসে দিনে বা রাতে, সে ব্যক্তি তার হজ্জ পূর্ণ করল এবং সমস্ত করণীয় কাজ সম্পন্ন করল।

৬৮. মিনায় অবতরণ।

باب النُّزُولِ بِمِنًى

১৯৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ بِمِنًى وَنَزَّلَهُمْ مَنَازِلَهُمْ فَقَالَ " لِيَنْزِلِ الْمُهَاجِرُونَ هَا هُنَا " . وَأَشَارَ إِلَى مَيْمَنَةِ الْقِبْلَةِ " وَالأَنْصَارُ هَا هُنَا " . وَأَشَارَ إِلَى مَيْسَرَةِ الْقِبْلَةِ " ثُمَّ لْيَنْزِلِ النَّاسُ حَوْلَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

১৯৪৯. আাহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে মুআয (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মিনাতে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষন প্রদান করেন এবং তাদের জন্য স্থান নির্ধারিত করে দেন। অতঃপর তিনি বলেন, মুজাহিদগণ এ স্থানে অবস্থান করবে, এই বলে তিনি কিবলার ডান দিকে ইশারা করেন এবং আনসাররা এ স্থানে বলে তিনি কিবলার বাম দিকে ইশারা করেন। অতঃপর অন্যান্য লোকদের চর্তুদিকে অবস্থান করবে।

৬৯. মিনাতে কোন দিন খুতবা দিতে হবে।

باب أَىِّ يَوْمٍ يَخْطُبُ بِمِنًى

১৯৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلَيْنِ، مِنْ بَنِي بَكْرٍ قَالاَ رَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ بَيْنَ أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَنَحْنُ عِنْدَ رَاحِلَتِهِ وَهِيَ خُطْبَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي خَطَبَ بِمِنًى .

বর্ণনাকারী: আবু নাজীহ আস সুলামী (রাঃ)

১৯৫০. মুহাম্মাদ ইবনে আল-আ‘লা ..... ইবনে আবু নাজীহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি বনী বকরের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আয়্যামে তাশরীকের [১] মধ্যম দিনে (অর্থাৎ ১২ যিল হজ্জ) খুতবা প্রদান করতে দেখেছি। আর এ সময় আমরা তাঁর সওয়ারীর কাছে উপস্থিত ছিলাম। আর তা ছিল সেই খুতবা যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিনাতে পেশ করেন।

[১] ১১,১২ও১৩যিল হজ্জকে অ্যায়ামে তাশরীক বলা হয়।
১৯৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حِصْنٍ، حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، سَرَّاءُ بِنْتُ نَبْهَانَ - وَكَانَتْ رَبَّةَ بَيْتٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ - قَالَتْ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الرُّءُوسِ فَقَالَ " أَىُّ يَوْمٍ هَذَا " . قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ " أَلَيْسَ أَوْسَطَ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ قَالَ عَمُّ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ إِنَّهُ خَطَبَ أَوْسَطَ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ .

বর্ণনাকারী: সাররা বিনতে নাবহান (রাঃ)

১৯৫১. মুহাম্মাদাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... সাররা বিনতে নাবহান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আর জাহিলীয়াতের যুগে তিনি বুতখানার (মূর্তিঘর) মালিক ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদিগকে যিল হজ্জের ১২ তারিখে খুতবা প্রদান করেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এটি কোন দিন? জবাবে আমরা বলি, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ সম্পর্কে সমধিক জ্ঞাত। তখন তিনি বলেন, এটা কি অ্যায়ামে তাশরীকের মধ্যম দিন নয়?

৭০. যিনি বলেন, কুরবানীর দিন খুতবা প্রদান করেছেন।

باب مَنْ قَالَ خَطَبَ يَوْمَ النَّحْرِ

১৯৫২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي الْهِرْمَاسُ بْنُ زِيَادٍ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ عَلَى نَاقَتِهِ الْعَضْبَاءِ يَوْمَ الأَضْحَى بِمِنًى .

বর্ণনাকারী: হিরমাস ইবন যিয়াদ (রাঃ)

১৯৫২. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... হারমাস ইবনে যিয়াদ আল বাহিলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে মিনাতে কুরবানীর দিন তাঁর কর্তিত কর্ণবিশিষ্ট উটের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় খুতবা প্রদান করতে দেখেছি।

১৯৫৩

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - الْحَرَّانِيُّ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ الْكَلاَعِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ خُطْبَةَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى يَوْمَ النَّحْرِ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১৯৫৩. মুআম্মাল (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন, মিনাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে খুতবা দিতে শুনেছি।

৭১. কুরবানীর দিন কখন খুতবা দিবে।

باب أَىِّ وَقْتٍ يَخْطُبُ يَوْمَ النَّحْرِ

১৯৫৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَامِرٍ الْمُزَنِيِّ، حَدَّثَنِي رَافِعُ بْنُ عَمْرٍو الْمُزَنِيُّ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ بِمِنًى حِينَ ارْتَفَعَ الضُّحَى عَلَى بَغْلَةٍ شَهْبَاءَ وَعَلِيٌّ - رضى الله عنه - يُعَبِّرُ عَنْهُ وَالنَّاسُ بَيْنَ قَاعِدٍ وَقَائِمٍ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে আমর মুযানী (রাঃ)

৯৫৪. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুর রহীম ..... রাফে’ ইবনে আমর আল মাযানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মিনাতে লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করতে দেখেছি; দ্বি-প্রহরের নিকটবর্তী সময়ে তাঁর সাদা বেশী কালো কম মিশ্রিত রং এর খচ্চরের উপর উপবিষ্ট হয়ে। আর এ সময় আলী (রাযিঃ) তাঁর ব্যাখ্যা করে শোনাচ্ছেন। তখন লোকদের কিছু দণ্ডায়মান এবং কিছু বসা অবস্থায় ছিল।

৭২. মিনার খুতবাতে ইমাম কী বলবে।

باب مَا يَذْكُرُ الإِمَامُ فِي خُطْبَتِهِ بِمِنًى

১৯৫৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ التَّيْمِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ بِمِنًى فَفُتِحَتْ أَسْمَاعُنَا حَتَّى كُنَّا نَسْمَعُ مَا يَقُولُ وَنَحْنُ فِي مَنَازِلِنَا فَطَفِقَ يُعَلِّمُهُمْ مَنَاسِكَهُمْ حَتَّى بَلَغَ الْجِمَارَ فَوَضَعَ أُصْبُعَيْهِ السَّبَّابَتَيْنِ فِي أُذُنَيْهِ ثُمَّ قَالَ " بِحَصَى الْخَذْفِ " . ثُمَّ أَمَرَ الْمُهَاجِرِينَ فَنَزَلُوا فِي مُقَدَّمِ الْمَسْجِدِ وَأَمَرَ الأَنْصَارَ فَنَزَلُوا مِنْ وَرَاءِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ نَزَلَ النَّاسُ بَعْدَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৫৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে মুআয আত তায়মী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনাতে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা প্রদান করেন। এ সময় আমাদের শ্রবণ শক্তি প্রখর হয় এবং তাঁর বক্তব্য আমরা (স্পষ্টরূপে) শুনতে পাই। এ সময় আমরা আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে ছিলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে হজ্জের আহকাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন এবং নিক্ষেপ করা পর্যন্ত পৌঁছান। তিনি তাঁর দু‘হাতের শাহাদাত ও বৃদ্ধ আঙ্গুলিকে স্বীয় কান পর্যন্ত উঠান, অতঃপর কংকর নিক্ষেপের নিয়ম প্রদর্শন করেন। অতঃপর তিনি মুহাজিরদেরকে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে গমন করতে বললে তারা মসজিদের পশ্চাতে আসন গ্রহণ করেন। এদের পর অন্য লোকেরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে।

৭৩. মিনাতে অবস্থানকালে মক্কায় রাত্রি যাপন।

باب يَبِيتُ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى

১৯৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي حَرِيزٌ، أَوْ أَبُو حَرِيزٍ - الشَّكُّ مِنْ يَحْيَى - أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ فَرُّوخَ، يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ إِنَّا نَتَبَايَعُ بِأَمْوَالِ النَّاسِ فَيَأْتِي أَحَدُنَا مَكَّةَ فَيَبِيتُ عَلَى الْمَالِ فَقَالَ أَمَّا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَاتَ بِمِنًى وَظَلَّ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

১৯৫৬. আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খাল্লাদ আল বাহিলী ..... আব্দুর রহমান ইবনে ফাররূখ (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমরা লোকদের মালামাল ক্রয় করি এবং সেগুলো সংরক্ষণের জন্য আমাদের কেউ মক্কাতে রাত্রি যাপন করে (এমতাবস্থায় কী করণীয়)। তখন জবাবে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিনাতে রাত্রি যাপন করতেন (মক্কায় নয়), কাজেই এটাই করণীয়।

১৯৫৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ فَأَذِنَ لَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৫৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আব্বাস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মিনায় অবস্থানের রাত্রিতে পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে মক্কায় রাত্রিযাপনের জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন।

৭৪. মিনাতে নামায (কসর করা এবং না করা)।

باب الصَّلاَةِ بِمِنًى

১৯৫৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ أَبَا مُعَاوِيَةَ، وَحَفْصَ بْنَ غِيَاثٍ، حَدَّثَاهُ - وَحَدِيثُ أَبِي مُعَاوِيَةَ، أَتَمُّ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ صَلَّى عُثْمَانُ بِمِنًى أَرْبَعًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ زَادَ عَنْ حَفْصٍ وَمَعَ عُثْمَانَ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا . زَادَ مِنْ هَا هُنَا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ ثُمَّ تَفَرَّقَتْ بِكُمُ الطُّرُقُ فَلَوَدِدْتُ أَنَّ لِي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ رَكْعَتَيْنِ مُتَقَبَّلَتَيْنِ . قَالَ الأَعْمَشُ فَحَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ عَنْ أَشْيَاخِهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ صَلَّى أَرْبَعًا قَالَ فَقِيلَ لَهُ عِبْتَ عَلَى عُثْمَانَ ثُمَّ صَلَّيْتَ أَرْبَعًا قَالَ الْخِلاَفُ شَرٌّ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)

১৯৫৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) মিনাতে (কসর না করে) চার রাকআত নামায আদায় করেন। তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমি (এ স্থানে) নবী করীম (ﷺ) এর সাথে দু‘রাকআত, আবু বকর (রাযিঃ) এর সাথে দু‘রাকআত, উমর (রাযিঃ) এর সাথে দু‘রাকআত এবং উসমান (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকে চার রাকআত নামায আদায় করি।

অতঃপর রাবী মুসাদ্দাদ আবু মুআবিয়া (রাহঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন য়ে, পরে এ নিয়মের (দু’ বা চার রাকআত আদায়ের) ব্যাপারে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। রাবী বলেন, তিনি তাঁর শায়খ হতে বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ চার রাকআত আদায় করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর তাঁকে বলা হয়ঃ উসমানের অনুরূপ চার রাকআত আদায় করুন। অতঃপর আমি চার রাকআত (নামায) আদায় করি। তবে তিনি বলেন, মতপার্থক্য করা মন্দ কাজ।
১৯৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عُثْمَانَ، إِنَّمَا صَلَّى بِمِنًى أَرْبَعًا لأَنَّهُ أَجْمَعَ عَلَى الإِقَامَةِ بَعْدَ الْحَجِّ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৯৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে আল আলা ...... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) মিনাতে অবস্থানকালে চার রাকআত নামায আদায় করেন। আর তা এজন্য যে, তিনি যিল হজ্জের পর মক্কায় অবস্থানের জন্য কৃতসংকল্প ছিলেন।

১৯৬০

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِنَّ عُثْمَانَ صَلَّى أَرْبَعًا لأَنَّهُ اتَّخَذَهَا وَطَنًا .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

১৯৬০. হান্নাদ (রাহঃ) ..... ইবরাহীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই উসমান (রাযিঃ) চার রাকআত নামায (মিনাতে) আদায় করেন। কেননা তিনি এটাকে স্বীয় জন্মস্থান হিসাবে পরিগণিত করেন।

১৯৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ لَمَّا اتَّخَذَ عُثْمَانُ الأَمْوَالَ بِالطَّائِفِ وَأَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِهَا صَلَّى أَرْبَعًا قَالَ ثُمَّ أَخَذَ بِهِ الأَئِمَّةُ بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৯৬১. মুহাম্মাদ ইবনে আল আলা (রাহঃ) .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) যখন তায়েফবাসীদের নিকট হতে মালসম্পদ গ্রহণ করেন এবং সেখানে অবস্থানের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি চার রাকআত নামায আদায় করেন। রাবী যুহরী বলেন, পরবর্তীকালে লোকেরা এটাকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেন।

১৯৬২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَتَمَّ الصَّلاَةَ بِمِنًى مِنْ أَجْلِ الأَعْرَابِ لأَنَّهُمْ كَثُرُوا عَامَئِذٍ فَصَلَّى بِالنَّاسِ أَرْبَعًا لِيُعْلِمَهُمْ أَنَّ الصَّلاَةَ أَرْبَعٌ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৯৬২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) সে বছর আরবদের অধিক উপস্থিতির কারণে মিনাতে লোকদের সাথে চার রাকআত নামায আদায় করেন এ উদ্দেশ্যে যে, যাতে তারা জানতে পারে যে, আসলে নামায চার রাকআত ।

৭৫. মক্কাবাসীদের জন্য কসর বা নামায সংক্ষেপ করা।

باب الْقَصْرِ لأَهْلِ مَكَّةَ

১৯৬৩

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي حَارِثَةُ بْنُ وَهْبٍ الْخُزَاعِيُّ، - وَكَانَتْ أُمُّهُ تَحْتَ عُمَرَ فَوَلَدَتْ لَهُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ - قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى وَالنَّاسُ أَكْثَرُ مَا كَانُوا فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: حَارِثَةُ بْنُ خُزَاعَةَ: وَدَارُهُمْ بِمَكَّةَ

বর্ণনাকারী: হযরত হারিছা ইবনু ওয়াহব (রাঃ)

১৯৬৩. আন নুফায়লী (রাহঃ) .... হারিসা ইবনে ওয়াহব আল খুযা‘ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর মাতা ছিলেন উমরের স্ত্রী, তার গর্ভে উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমি মিনাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করি। আর বিদায় হজ্জের সময় অধিকাংশ লোক আমাদের সাথে (এই স্থানে) দু‘রাকআত নামায আদায় করে (এমনকি মক্কাবাসীরাও)।

৭৬. কংকর নিক্ষেপ।

باب فِي رَمْىِ الْجِمَارِ

১৯৬৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمِي الْجَمْرَةَ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَرَجُلٌ مِنْ خَلْفِهِ يَسْتُرُهُ فَسَأَلْتُ عَنِ الرَّجُلِ فَقَالُوا الْفَضْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ وَازْدَحَمَ النَّاسُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ يَقْتُلْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَإِذَا رَمَيْتُمُ الْجَمْرَةَ فَارْمُوا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ " .

বর্ণনাকারী: ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ)

১৯৬৪. ইবরাহীম ইবনে মাহদী (রাহঃ) ..... সুলাইমান ইবনে আমর ইবনে আল আহওয়াস তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বাতনে-ওয়াদী হতে কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। এ সময় তিনি তাঁর সওয়ারীর উপর ছিলেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দিচ্ছিলেন আর তাঁর পশ্চাতে এক ব্যক্তি তাঁকে আড়াল করেছেন। তখন তিনি জনৈক ব্যক্তিকে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তাঁরা বলেন, ইনি ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)। কংকর নিক্ষেপের সময় লোকদের সমাগম অধিক হয়। এতদদর্শনে নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, হে জনগণ! তোমরা (বড়) কংকর নিক্ষেপ করে একে অপরকে হত্যা করো না। আর তোমরা যখন কংকর নিক্ষেপ করবে, তখন অবশ্যই ছোট ছোট কংকর নিক্ষেপ করবে।

১৯৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو ثَوْرٍ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ رَاكِبًا وَرَأَيْتُ بَيْنَ أَصَابِعِهِ حَجَرًا فَرَمَى وَرَمَى النَّاسُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৬৫. আবু সাওর ইবরাহীম ইবনে খালিদ সূত্রে মিলিত সনদে .... সুলাইমান ইবনে আমর ইবনে আল আহওয়াস তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জামরায়ে আকাবাতে বাহনের উপর সওয়ার অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। এ সময় আমি তাঁর অঙ্গুলির ফাঁকে কংকর দেখেছি যা তিনি নিক্ষেপ করছিলেন এবং লোকেরাও নিক্ষেপ করছিল।

১৯৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، بِإِسْنَادِهِ فِي مِثْلِ هَذَا الْحَدِيثِ زَادَ وَلَمْ يَقُمْ عِنْدَهَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে আল-আলা সূত্রে বর্ণিত। ইয়াযীদ ইবনে আবু যিয়াদ পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে অতিরিক্ত বর্ণনা আছে, আর তিনি তার নিকট অবস্থান করেননি, (বরং কংকর নিক্ষেপ শেষে প্রত্যাবর্তন করেন।)

১৯৬৭
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَأْتِي الْجِمَارَ فِي الأَيَّامِ الثَّلاَثَةِ بَعْدَ يَوْمِ النَّحْرِ مَاشِيًا ذَاهِبًا وَرَاجِعًا وَيُخْبِرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمِي عَلَى رَاحِلَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ يَقُولُ ‏ "‏ لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ فَإِنِّي لاَ أَدْرِي لَعَلِّي لاَ أَحُجُّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৬৭. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কংকর নিক্ষেপের জন্য কুরবানীর পরে এগার, বারো বা তেরো যিলহজ্জ তারিখে পায়ে হেঁটে আসতেন এবং কংকর নিক্ষেপের পর প্রত্যাবর্তন করতেন। অতঃপর তিনি খবর দেন যে, নবী করীম (ﷺ) এরূপ করতেন।

জাবির ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর বাহনে সওয়ার অবস্থায় কংকর মারতে দেখেছি। এ সময় তিনি বলেছিলেনঃ তোমরা হজের (হজ্জের) নিয়ম-পদ্ধতি শিখে নাও। তিনি আরো বলেনঃ আমি অবহিত নই আমার এই হজের (হজ্জের) পর আবার হজ (হজ্জ) করার সুযোগ পাবো কি না।
১৯৬৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمِي عَلَى رَاحِلَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ ضُحًى فَأَمَّا بَعْدَ ذَلِكَ فَبَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ .

বর্ণনাকারী: আবুয যুবায়র (রহঃ)

১৯৬৮. ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ১০ যিল-হজ্জ তারিখে দ্বি-প্রহরের সময় তাঁর বাহনের উপর সওয়ার অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। আর ১০ যিলহজ্জের পরে তিনি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পরার পর তা নিক্ষেপ করতেন।

১৯৬৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ وَبَرَةَ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ مَتَى أَرْمِي الْجِمَارَ قَالَ إِذَا رَمَى إِمَامُكَ فَارْمِ . فَأَعَدْتُ عَلَيْهِ الْمَسْأَلَةَ فَقَالَ كُنَّا نَتَحَيَّنُ زَوَالَ الشَّمْسِ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ رَمَيْنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৬৯ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ওবরা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে (১০ যিল হজ্জের পর) কংকর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাবে বলেন, যখন তোমার ইমাম কংকর নিক্ষেপ করবে, তুমিও তা নিক্ষেপ করবে এবং তাঁকে (বিরোধিতা না করে) অনুসরণ করবে অতঃপর তিনি (ইবনে উমর) বলেন, আমরা কংকর নিক্ষেপের জন্য সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার অপেক্ষায় থাকতাম। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর আমরা কংকর নিক্ষেপ করতাম।

১৯৭০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَفَاضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ آخِرِ يَوْمِهِ حِينَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مِنًى فَمَكَثَ بِهَا لَيَالِيَ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ يَرْمِي الْجَمْرَةَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ كُلَّ جَمْرَةٍ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَيَقِفُ عِنْدَ الأُولَى وَالثَّانِيَةِ فَيُطِيلُ الْقِيَامَ وَيَتَضَرَّعُ وَيَرْمِي الثَّالِثَةَ وَلاَ يَقِفُ عِنْدَهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৭০. আলী ইবনে বাহর ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় যোহরের নামায আদায় করে দিনের অর্ধাংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি মিনাতে গমন করেন এবং সেখানে তাশরীকের দিনগুলো অতিবাহিত করেন। আর তিনি সূর্য পশ্চিামাকাশে ঢলে যাওয়ার পর কংকর নিক্ষেপ করেন। নবী করীম (ﷺ) প্রতি জুমরাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দেন। আর তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় জুমরাতে কংকর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন এবং কন্নাকাটি করে দুআ করেন। অতঃপর তৃতীয় জুমরা (জামরাতুল-আকাবা) সম্পন্ন করে তিনি সেখানে অবস্থান না করে ফিরে আসেন।

১৯৭১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَمَّا انْتَهَى إِلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى جَعَلَ الْبَيْتَ عَنْ يَسَارِهِ وَمِنًى عَنْ يَمِينِهِ وَرَمَى الْجَمْرَةَ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَقَالَ هَكَذَا رَمَى الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৯৭১. হাফস ইবনে আমর (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি (ইবনে মাসউদ) যখন জামরাতুল কুবরা (জামরাতুল-আকাবা) শেষ করতেন, তখন তিনি বায়তুল্লাহকে তাঁর বামদিকে এবং মিনাকে তাঁর ডানদিকে রেখে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন, যার উপর সূরা বাকারা অবতীর্ণ হয়েছে তিনি এরূপে (কংকর) নিক্ষেপ করতেন (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপে কংকর নিক্ষেপ করতেন।)

১৯৭২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لِرِعَاءِ الإِبِلِ فِي الْبَيْتُوتَةِ يَرْمُونَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ يَرْمُونَ الْغَدَ وَمِنْ بَعْدِ الْغَدِ بِيَوْمَيْنِ وَيَرْمُونَ يَوْمَ النَّفْرِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৭২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী ও ইবনে সারহ .... আবু বাদ্দাহ্ ইবনে আসিম (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উট পালকের জন্য মিনাতে কংকর নিক্ষেপের ব্যাপারটি রুখসাত হিসাবে ধার্য করেন। আর তারা কেবল জামরাতুল-আকাবা সম্পন্ন করতো। অতঃপর পরের দিন (১১ যিলহজ্জ) তারা কংকর নিক্ষেপ করতো এবং তারপর দু‘দিনে (১২ ও ১৩ যিল-হজ্জে) তারা সর্বশেষ কংকর নিক্ষেপ করতো।

১৯৭৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدِ، ابْنَىْ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لِلرِّعَاءِ أَنْ يَرْمُوا يَوْمًا وَيَدَعُوا يَوْمًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৭৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু বাদ্দাহ্ ইবনে আদী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) উটের রাখালদের জন্য একদিন (১০ যিলহজ্জ) কংকর নিক্ষেপ করাকে ‘রুখসাত’ হিসাবে সাব্যস্ত করেন এবং ১১ যিল-হজ্জ তা নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেন, (বরং এর পরিবর্তী দু’দিন ১২ ও ১৩ তারিখে তা সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেন)।

১৯৭৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مِجْلَزٍ، يَقُولُ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ شَىْءٍ، مِنْ أَمْرِ الْجِمَارِ فَقَالَ مَا أَدْرِي أَرَمَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسِتٍّ أَوْ بِسَبْعٍ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

১৯৭৪. আব্দুর রহমান ...... কাতাদা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু মাজলাযকে বলতে শুনেছি যে, একদা আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে কয়টি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে তা জিজ্ঞাসা করি। তখন জবাবে তিনি বলেন, আমার সঠিক জানা নেই যে, রাসূল (ﷺ) ছয়টি কংকর নিক্ষেপ করছিলেন, না সাতটি।

১৯৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَمَى أَحَدُكُمْ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَقَدْ حَلَّ لَهُ كُلُّ شَىْءٍ إِلاَّ النِّسَاءَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ الْحَجَّاجُ لَمْ يَرَ الزُّهْرِيَّ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৭৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, যখন তোমাদের কেউ জামরাতুল-আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ সম্পন্ন করে, তখন তার জন্য স্ত্রীসহবাস ব্যতীত আর সবই হালাল হয়ে যায়।

৭৭. মস্তক মুণ্ডন ও চুল ছোট করা।

باب الْحَلْقِ وَالتَّقْصِيرِ

১৯৭৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ ارْحَمِ الْمُحَلِّقِينَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالْمُقَصِّرِينَ . قَالَ " اللَّهُمَّ ارْحَمِ الْمُحَلِّقِينَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالْمُقَصِّرِينَ . قَالَ " وَالْمُقَصِّرِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৭৬. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, হে আল্লাহ! আপনি মস্তক মুণ্ডনকারীদের উপর রহম করুন। তখন সাহাবীরা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যারা চুল ছোট করে কাটবেন তাদের কী হবে? তখন তিনি বলেন, হে আল্লাহ্! আপনি মস্তক মুণ্ডনকারীদের উপর রহম করুন। তখন তারা (সাহাবীগণ) পুনরায় বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যারা চুল ছোট করে কাটবে তাদের জন্য কী? তখন তিনি পূর্বের ন্যায় জবাব প্রদান করেন। অর্থাৎ মাথার চুল ছোট করে কর্তনকারীদের উপরও রহম করুন।

১৯৭৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي الإِسْكَنْدَرَانِيَّ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَلَقَ رَأْسَهُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৭৭. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় নিজের মাথা মুণ্ডন করেন।

১৯৭৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ بِمِنًى فَدَعَا بِذِبْحٍ فَذُبِحَ ثُمَّ دَعَا بِالْحَلاَّقِ فَأَخَذَ بِشِقِّ رَأْسِهِ الأَيْمَنِ فَحَلَقَهُ فَجَعَلَ يَقْسِمُ بَيْنَ مَنْ يَلِيهِ الشَّعْرَةَ وَالشَّعْرَتَيْنِ ثُمَّ أَخَذَ بِشِقِّ رَأْسِهِ الأَيْسَرِ فَحَلَقَهُ ثُمَّ قَالَ " هَا هُنَا أَبُو طَلْحَةَ " . فَدَفَعَهُ إِلَى أَبِي طَلْحَةَ .

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ هِشَامٍ أَبُو نُعَيْمٍ الْحَلَبِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْمَعْنَى، - قَالاَ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ فِيهِ قَالَ لِلْحَالِقِ ‏ "‏ ابْدَأْ بِشِقِّي الأَيْمَنِ فَاحْلِقْهُ ‏"

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে আল আলা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১০ যিলহজ্জ জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেন। অতঃপর তিনি মিনাতে স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তিনি কুরবানী করতে চান এবং কুরবানী করেন। পরে তিনি তাঁর মাথা মুণ্ডনকারীকে আহবান করেন, যিনি তাঁর মাথার ডানপার্শ্বের চুল মুণ্ডন করেন। অতঃপর তিনি তা নিকটবর্তী ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ চুল একটি বা দু‘টি করে বণ্টন করে দেন। অতঃপর মুণ্ডনকারী তাঁর বামপার্শ্বের মস্তক মুণ্ডন করে দেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এখানে কি আবু তালহা (রাযিঃ) (উপস্থিত) আছে? অতঃপর তিনি তা আবু তালহাকে প্রদান করেন।

হিশাম ইবনু হাসসান (রাহঃ) থেকে উপরোক্ত সনদে পূর্বের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো আছে, তিনি (ﷺ) নাপিতকে বললেনঃ ডানদিক থেকে শুরু করো এবং তা মুণ্ডন করো।
১৯৭৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسْأَلُ يَوْمَ مِنًى فَيَقُولُ " لاَ حَرَجَ " . فَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ . قَالَ " اذْبَحْ وَلاَ حَرَجَ " . قَالَ إِنِّي أَمْسَيْتُ وَلَمْ أَرْمِ . قَالَ " ارْمِ وَلاَ حَرَجَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৭৯. নসর ইবনে আলী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনাতে অবস্থানকালে নবী করীম (ﷺ)কে (হজ্জের করণীয় বিষয় আগে পরে করা সম্পর্কে) কিছু প্রশ্ন করা হয়। তখন জবাবে তিনি বলেন, এতে কোন দোষ নেই। তখন জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, আমি কুরবানীর পূর্বে মস্তক মুণ্ডন করেছি। জবাবে তিনি বলেন, তুমি কুরবানী (এখন) কর। এতে কোন দোষ নেই। অপর এক ব্যক্তি বলেন, (সূর্যাস্তের পূর্বে) আমি কংকর নিক্ষেপ করতে ভুলে গিয়েছি এবং আমি এখনও কংকর নিক্ষেপ করি নি। এতদশ্রবনে তিনি বলেন, তুমি এখন কংকর নিক্ষেপ কর এবং এতে কোন দোষ নেই।

১৯৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ بَلَغَنِي عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَتْ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ عُثْمَانَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ حَلْقٌ إِنَّمَا عَلَى النِّسَاءِ التَّقْصِيرُ " .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

১৯৮০. মুহাম্মাদ ইবনে আল হাসান ..... ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) বলেছেন, আমি সাফিয়্যা বিনতে শায়বা ইবনে উসমান হতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমাকে উম্মে উসমান খবর দিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন স্ত্রীলোকদের জন্য মাথা মুণ্ডনের প্রয়োজন নেই, বরং (এক আঙ্গুল পরিমাণ চুল) কর্তন করবে।

১৯৮১

حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ الْبَغْدَادِيُّ، ثِقَةٌ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ عُثْمَانَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ الْحَلْقُ إِنَّمَا عَلَى النِّسَاءِ التَّقْصِيرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৮১. আবু ইয়াকুব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, স্ত্রীলোকদের জন্য মাথা মুণ্ডনের দরকার নেই, বরং তারা (এক আঙ্গুল পরিমাণ চুল) কর্তন করবে।

৭৮. উমরা।

باب الْعُمْرَةِ

১৯৮২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، وَيَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَحُجَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৮২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের পূর্বে উমরা আদায় করেন।

১৯৮৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَاللَّهِ مَا أَعْمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَائِشَةَ فِي ذِي الْحِجَّةِ إِلاَّ لِيَقْطَعَ بِذَلِكَ أَمْرَ أَهْلِ الشِّرْكِ فَإِنَّ هَذَا الْحَىَّ مِنْ قُرَيْشٍ وَمَنْ دَانَ دِينَهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا عَفَا الْوَبَرْ وَبَرَأَ الدَّبَرْ وَدَخَلَ صَفَرْ فَقَدْ حَلَّتِ الْعُمْرَةُ لِمَنِ اعْتَمَرْ . فَكَانُوا يُحَرِّمُونَ الْعُمْرَةَ حَتَّى يَنْسَلِخَ ذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৮৩. হান্নাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে যিলহজ্জ মাসে উমরা সম্পন্ন করে তা দিয়ে শিরকি যুগের বিরোধিতা করেন। কেননা কুরাইশের এ গোত্র এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা এরূপ বলত, যখন উটের পিঠের পশম লম্বা হয় এবং তার পৃষ্ঠে ক্ষত হয়, আর সফর মাস আগমন করে, এ সময় যে ব্যক্তি উমরা সম্পন্ন করে, তা হালাল (বৈধ) হয়। আর তারা যিলহজ্জ ও মুহাররাম মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত উমরা করাকে হারাম সাব্যস্ত করতো।

১৯৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنِي رَسُولُ مَرْوَانَ الَّذِي أَرْسَلَ إِلَى أُمِّ مَعْقِلٍ قَالَتْ كَانَ أَبُو مَعْقِلٍ حَاجًّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَدِمَ قَالَتْ أُمُّ مَعْقِلٍ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ عَلَىَّ حَجَّةً فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ حَتَّى دَخَلاَ عَلَيْهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَىَّ حَجَّةً وَإِنَّ لأَبِي مَعْقِلٍ بَكْرًا . قَالَ أَبُو مَعْقِلٍ صَدَقَتْ جَعَلْتُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهَا فَلْتَحُجَّ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . فَأَعْطَاهَا الْبَكْرَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ قَدْ كَبِرْتُ وَسَقِمْتُ فَهَلْ مِنْ عَمَلٍ يُجْزِئُ عَنِّي مِنْ حَجَّتِي قَالَ " عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تُجْزِئُ حَجَّةً " .

বর্ণনাকারী: উম্মে মা'কিল (রাঃ)

১৯৮৪. আবু কামিল (রাহঃ) ..... উম্মে মা‘কাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু মা‘কাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জ সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি হজ্জ শেষে গৃহে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে উম্মে মা‘কাল বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আমার উপরও হজ্জ ফরয। অতঃপর তারা উভয়ে পদব্রজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হন এবং বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমার জন্য হজ্জ ফরয, আর আমার পিতা মা‘কালের জন্য রয়েছে একটি উট। এতদশ্রবনে আবু মা‘কাল বলেন, তুমি সত্য বলেছ, কিন্তু আমি এর দ্বারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। (কাজেই কিরূপে এটা তোমাকে প্রদান করব) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এটা তাকে প্রদান কর, যাতে সে উহার পৃষ্ঠে সওয়ার হয়ে হজ্জ করতে পারে। তখন তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এমন এক জন বৃদ্ধা মহিলা যার বয়স অনেক বেশী এবং রুগী। কাজেই এমন কোন আমল আছে কি যা আমার হজ্জের বিনিময় হতে পারে? তখন জবাবে তিনি বলেন, রমযান মাসের উমরা হজ্জের জন্য যথেষ্ট হবে।

১৯৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَعْقِلِ ابْنِ أُمِّ مَعْقِلٍ الأَسَدِيِّ، - أَسَدُ خُزَيْمَةَ - حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ مَعْقِلٍ، قَالَتْ لَمَّا حَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةَ الْوَدَاعِ وَكَانَ لَنَا جَمَلٌ فَجَعَلَهُ أَبُو مَعْقِلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَصَابَنَا مَرَضٌ وَهَلَكَ أَبُو مَعْقِلٍ وَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ حَجِّهِ جِئْتُهُ فَقَالَ " يَا أُمَّ مَعْقِلٍ مَا مَنَعَكِ أَنْ تَخْرُجِي مَعَنَا " . قَالَتْ لَقَدْ تَهَيَّأْنَا فَهَلَكَ أَبُو مَعْقِلٍ وَكَانَ لَنَا جَمَلٌ هُوَ الَّذِي نَحُجُّ عَلَيْهِ فَأَوْصَى بِهِ أَبُو مَعْقِلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ " فَهَلاَّ خَرَجْتِ عَلَيْهِ فَإِنَّ الْحَجَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَمَّا إِذْ فَاتَتْكِ هَذِهِ الْحَجَّةُ مَعَنَا فَاعْتَمِرِي فِي رَمَضَانَ فَإِنَّهَا كَحَجَّةٍ " . فَكَانَتْ تَقُولُ الْحَجُّ حَجَّةٌ وَالْعُمْرَةُ عُمْرَةٌ وَقَدْ قَالَ هَذَا لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَدْرِي أَلِيَ خَاصَّةً .

বর্ণনাকারী: উম্মে মা'কিল (রাঃ)

১৯৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ আত্তায়ী (রাহঃ) ..... উম্মে মা‘কাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জ সম্পন্ন করেন, এই সময় আমাদের একটি উট ছিল, যাদ্বারা আবু মা‘কাল জিহাদে গমন করতো। এ সময় আমরা রোগগ্রস্ত হই, আবু মা‘কাল মৃত্যুবরণ করে এবং নবী করীম (ﷺ) বের হন। তিনি তার হজ্জ সমাপনান্তে প্রত্যাবর্তন করার পর, আমি তাঁর নিকট গমন করলে তিনি বলেন, হে উম্মে মা‘কাল! আমাদের সাথে বের হতে কিসে তোমাকে বাধা প্রদান করেছিল? তখন সে বলে, আমরাও হজ্জের নিয়ত করেছিলাম। কিন্তু এ সময় আবু মা‘কাল মৃত্যুবরণ করে।

এ সময় আমাদের একটি উট ছিল, যা দ্বারা আমরা হজ্জ সম্পন্ন করতাম। কিন্তু আবু মা‘কাল আমাকে সেটা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেওয়ার জন্য ওসীয়্যাত করেন। এতদশ্রবণে তিনি বলেন, যদি তুমি এটাকে নিয়ে বের হতে, তবে ভাল হতো; কেননা হজ্জে গমনও আল্লার রাস্তায় গমন সদৃশ। কাজেই আমাদের সাথে এ বছর যখন তুমি হজ্জ করতে পারনি, তখন তুমি রমযান মাসে উমরা সম্পন্ন করবে, কেননা এটা হজ্জেরই মত। তখন তিনি বলেন, হজ্জ তো হজ্জ, আর উমরা তো উমরা-ই। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ বলেন। আর আমি অবগত নই যে, এটা কি আমার জন্য খাস, নাকি গোটা উম্মতের জন্যও এরূপ নির্দেশ।
১৯৮৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَجَّ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ لِزَوْجِهَا أَحِجَّنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَمَلِكَ . فَقَالَ مَا عِنْدِي مَا أُحِجُّكِ عَلَيْهِ . قَالَتْ أَحِجَّنِي عَلَى جَمَلِكَ فُلاَنٍ . قَالَ ذَاكَ حَبِيسٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي تَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ وَإِنَّهَا سَأَلَتْنِي الْحَجَّ مَعَكَ قَالَتْ أَحِجَّنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقُلْتُ مَا عِنْدِي مَا أُحِجُّكِ عَلَيْهِ . فَقَالَتْ أَحِجَّنِي عَلَى جَمَلِكَ فُلاَنٍ . فَقُلْتُ ذَاكَ حَبِيسٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَحْجَجْتَهَا عَلَيْهِ كَانَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . قَالَ وَإِنَّهَا أَمَرَتْنِي أَنْ أَسْأَلَكَ مَا يَعْدِلُ حَجَّةً مَعَكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقْرِئْهَا السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ وَبَرَكَاتِهِ وَأَخْبِرْهَا أَنَّهَا تَعْدِلُ حَجَّةً مَعِي " . يَعْنِي عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৮৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের (বিদায়-হজ্জ) ইচ্ছা পেষণ করলে, জনৈক মহিলা (উম্মে মা‘কিল) তার স্বামীকে বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমার নিকট এমন কোন উট নেই, যাদ্বারা আমি তোমার হজ্জে গমনের ব্যবস্থা করতে পারি। তখন সেই স্ত্রীলোক বলেন, আমাকে আপনার ওমুক উটের দ্বারা হজ্জে প্রেরণের ব্যবস্থা করুন। জবাবে তিনি (স্বামী) বলেন, এটা (উক্ত উট) তাতো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য আব্দ্ধ। তখন উক্ত ব্যক্তি (স্বামী) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমার স্ত্রী আপনাকে সালাম বলেছেন। আর তিনি আমার নিকট আপনার সাথে হজ্জে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেছেন এবং বলেছেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হজ্জে গমনের ব্যবস্থা করে দিন। তখন আমি তাকে বলেছি, আমার নিকট এমন কিছুই নেই, যাদ্বারা আমি তোমাকে হজ্জে পাঠাতে পারি। তখন সে বলেছে, আমাকে আপনার ওমুক উষ্ট্রযোগে হজ্জে প্রেরণ করুন। তখন আমি তাকে বলি, এ উটতো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য আব্দ্ধ অর্থাৎ নির্ধারিত। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমার পক্ষ হতে তাকে সালাম দেবে এবং বলবে, রমযানের মধ্যে উমরা পালন আমার সাথে হজ্জের (সাওয়াবের) সমতুল্য হবে।

১৯৮৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَمَرَ عُمْرَتَيْنِ عُمْرَةً فِي ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً فِي شَوَّالٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৮৭. আব্দুল আ‘লা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল (ﷺ) দু‘টি উমরা সম্পন্ন করেন, একটি উমরা যিলক্বাদ মাসে এবং অন্যটি শাওয়াল মাসে।

১৯৮৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ كَمِ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَرَّتَيْنِ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَقَدْ عَلِمَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِ اعْتَمَرَ ثَلاَثًا سِوَى الَّتِي قَرَنَهَا بِحَجَّةِ الْوَدَاعِ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

১৯৮৮. আন্ নুফায়লী (রাহঃ) ..... মুজাহিদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতবার উমরা সম্পন্ন করেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, দু‘বার। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) জানত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সাথে উমরা সম্পন্ন করা ব্যতীতও তিনবার উমরা করেন।

১৯৮৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَ عُمَرٍ عُمْرَةَ الْحُدَيْبِيَةِ وَالثَّانِيَةَ حِينَ تَوَاطَئُوا عَلَى عُمْرَةٍ مِنْ قَابِلٍ وَالثَّالِثَةَ مِنَ الْجِعْرَانَةِ وَالرَّابِعَةَ الَّتِي قَرَنَ مَعَ حَجَّتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৮৯. আন্ নুফায়লী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জীবনে চারবার উমরা সম্পন্ন করেন। প্রথমত হুদায়বিয়ার (সন্ধির সময়ের) উমরা; দ্বিতীয়ত কুরাইশদের সাথে সন্ধির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বছরের উমরা; তৃতীয়ত মক্কা বিজয়ের সময়ে সম্পন্নকৃত উমরা এবং চতুর্থত বিদায় হজ্জের সময় হজ্জে কিরানের সাথে সম্পন্নকৃত উমরা।

১৯৯০

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَهُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَمَرَ أَرْبَعَ عُمَرٍ كُلُّهُنَّ فِي ذِي الْقَعْدَةِ إِلاَّ الَّتِي مَعَ حَجَّتِهِ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَتْقَنْتُ مِنْ هَا هُنَا مِنْ هُدْبَةَ وَسَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي الْوَلِيدِ وَلَمْ أَضْبِطْهُ - عُمْرَةً زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ أَوْ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ وَعُمْرَةَ الْقَضَاءِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مِنَ الْجِعْرَانَةِ حَيْثُ قَسَمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ فِي ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةً مَعَ حَجَّتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯৯০. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চারবার উমরা আদায় করেন, তম্মধ্যে একটি ব্যতীত, যা হজ্জের সাথে যিলহজ্জ মাসে আদায় করেন, অন্যগুলি যিলক্বাদ মাসে সম্পন্ন করেন।

৭৯. যদি কোন স্ত্রীলোক উমরার জন্য ইহরাম বাঁধার পর ঋতৃুমতী হয় , অতঃপর হজ্জের সময় উপস্থিত হওয়ায় সে তার উমরা পরিত্যাগ করে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধে, এমতাবস্থায় সে তার উমরার কাযা (আদায়) করবে কিনা।

باب الْمُهِلَّةِ بِالْعُمْرَةِ تَحِيضُ فَيُدْرِكُهَا الْحَجُّ

১৯৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَرْدِفْ أُخْتَكَ عَائِشَةَ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ فَإِذَا هَبَطْتَ بِهَا مِنَ الأَكَمَةِ فَلْتُحْرِمْ فَإِنَّهَا عُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৯১. আব্দুল আ‘লা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ..... হাফসা বিনতে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আব্দুর রহমানকে বলেন, হে আব্দুর রহমান! তুমি তোমার ভগ্নি আয়িশাকে তোমার সওয়ারীর পশ্চাতে আরোহণ করে তানঈম নামক স্থান হতে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধাও এবং উমরা করাও। অতঃপর তিনি তাঁর (আয়িশার) সাথে আকমা নামক স্থানে অবতরণ করলে তিনি সে স্থান হতে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন কারণ তা উমরা কবুল হওয়ার স্থান।

১৯৯২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُزَاحِمِ بْنِ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي مُزَاحِمٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَسِيدٍ، عَنْ مُحَرِّشٍ الْكَعْبِيِّ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْجِعْرَانَةَ فَجَاءَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَرَكَعَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَحْرَمَ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى رَاحِلَتِهِ فَاسْتَقْبَلَ بَطْنَ سَرِفَ حَتَّى لَقِيَ طَرِيقَ الْمَدِينَةِ فَأَصْبَحَ بِمَكَّةَ كَبَائِتٍ .

বর্ণনাকারী: মুহাররিশ ইবনে আব্দুল্লাহ কা'বী (রাঃ)

১৯৯২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... মুহাররিশ আল কা‘বী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) জি‘ইররানা নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে সেখানে অবস্থিত মসজিদে গমন করেন এবং আল্লাহ্ তাআলার ইচ্ছানুযায়ী সেখানে যত ইচ্ছা (রুকু) নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন এবং মক্কায় গমন-পূর্বক রাত্রিতে উমরা সম্পন্ন করে আবার উক্ত স্থানে রাত্রিতেই প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর (পরের দিন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়লে) তিনি তাঁর বাহনে সওয়ার হন এবং বাতনে সারাফ্ নামক স্থান হয়ে মদীনার রাস্তায় গিয়ে মিলিত হন। বস্তুত তিনি সকাল পর্যন্ত মক্কাতে রাত্রি জাগরণকারী ছিলেন। (অর্থাৎ এক রাত্রিতেই তিনি উমরার যাবতীয় ক্রিয়াকর্ম সম্পন্ন করত পুনরায় জি‘ইররানা নামক স্থানে ফিরে আসেন। আর এতদসম্পর্কে অনেকেই অজ্ঞ ছিল।

৮০. উমরা সম্পদনকালে মক্কায় অবস্থান।

باب الْمَقَامِ فِي الْعُمْرَةِ

১৯৯৩

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، وَعَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৯৩. দাউদ ইবনে রশীদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাযা উমরা আদায়ের পর (মক্কাতে) তিনদিন অবস্থান করেন।

৮১. হজ্জে তাওয়াফে যিয়ারত।

باب الإِفَاضَةِ فِي الْحَجِّ

১৯৯৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفَاضَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ بِمِنًى يَعْنِي رَاجِعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৯৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কুরবানীর দিন মাক্কায় এসে তাওয়াফে ইফাদা (অর্থাৎ তাওয়াফে যিয়ারাত) সমাপ্ত করে পুনরায় মিনায় ফিরে এসে সেখানে যোহরের নামায আদায় করেন।

১৯৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ أُمِّهِ، زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، - يُحَدِّثَانِهِ جَمِيعًا ذَاكَ عَنْهَا - قَالَتْ كَانَتْ لَيْلَتِي الَّتِي يَصِيرُ إِلَىَّ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَسَاءَ يَوْمِ النَّحْرِ فَصَارَ إِلَىَّ وَدَخَلَ عَلَىَّ وَهْبُ بْنُ زَمْعَةَ وَمَعَهُ رَجُلٌ مِنْ آلِ أَبِي أُمَيَّةَ مُتَقَمِّصَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِوَهْبٍ " هَلْ أَفَضْتَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ " . قَالَ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ صلى الله عليه وسلم " انْزِعْ عَنْكَ الْقَمِيصَ " . قَالَ فَنَزَعَهُ مِنْ رَأْسِهِ وَنَزَعَ صَاحِبُهُ قَمِيصَهُ مِنْ رَأْسِهِ ثُمَّ قَالَ وَلِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " إِنَّ هَذَا يَوْمٌ رُخِّصَ لَكُمْ إِذَا أَنْتُمْ رَمَيْتُمُ الْجَمْرَةَ أَنْ تَحِلُّوا " . يَعْنِي مِنْ كُلِّ مَا حَرُمْتُمْ مِنْهُ إِلاَّ النِّسَاءَ " فَإِذَا أَمْسَيْتُمْ قَبْلَ أَنْ تَطُوفُوا هَذَا الْبَيْتَ صِرْتُمْ حُرُمًا كَهَيْئَتِكُمْ قَبْلَ أَنْ تَرْمُوا الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطُوفُوا بِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৯৯৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পালার রাত্রটি ছিল ইয়াওমুন্ নাহরের (১০ যিলহজ্জের) শেষের রাত্রি, তিনি আমার নিকট আসতেন। অতঃপর তিনি আমার নিকট আগমন করেন। আর এই সময় আমার নিকট ওয়াহব ইবনে যুমআ এবং তার সাথে আবু উমাইয়্যা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উভয়েই জামা পরিহিত অবস্থায় প্রবেশ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওয়াহবকে বলেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! তুমি কি তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করেছ? তখন জবাবে সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ, না। তখন তিনি বলেন, তুমি তোমার শরীর হতে জামা খুলে ফেল।

রাবী বলেন, তখন তিনি তার দেহ হতে জামাটি মাথার দিক দিয়ে খুলে ফেলেন এবং তাঁর সাথীরাও একইরূপে জামা খুলে ফেলে। তখন তিনি (ওয়াহব) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কেন এরূপ করব? তখন জবাবে তিনি বলেন, এ দিনটিতে তোমদের জন্য অবসর দেয়া হয়েছে, কাজেই যখন তোমরা কংকর নিক্ষেপের কাজ সমাপ্ত করবে, তখন তোমাদের জন্য স্ত্রীসহবাস ব্যতীত আর সমস্ত কাজই হালাল (বৈধ) হবে। অতঃপর যখন তোমরা রাত্রিতে প্রবেশ করবে, এই গৃহের তাওয়য়াফে ইফাদা সম্পন্ন করার পূর্বে তখন তোমরা মুহরিম ব্যক্তির ন্যায় হবে; তোমাদের কংকর নিক্ষেপের পূর্বে, যতক্ষণ না তোমরা ঐ তাওয়াফ সম্পন্ন কর।
১৯৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَّرَ طَوَافَ يَوْمِ النَّحْرِ إِلَى اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইয়াওমুন্নাহরের দিন তাওয়াফকে রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেন।

১৯৯৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَرْمُلْ فِي السَّبْعِ الَّذِي أَفَاضَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৯৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাওয়াফে ইফাদাতে যে সাতবার তাওয়াফ করেন, সেখানে রামল করেননি।

৮২. তাওয়াফে আল বিদা [১]’।

باب الْوَدَاعِ

১৯৯৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৯৮. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমনের পর তার হুকুম আহকাম সমাপনান্তে তাওয়াফে যিয়ারতের পর) প্রত্যাবর্তন করতো। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ যেন শেষবারের মত তাওয়াফ না করে (অর্থাৎ তাওয়াফে বিদা’) প্রত্যাবর্তন না করে।

[১] বিদায়ী তাওয়াফ বা শেষ তাওয়াফ।

৮৩. ঋতুবতী মহিলা যাদি তাওয়াফে আল বিদার পূর্বে তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করে বের হয়।

باب الْحَائِضِ تَخْرُجُ بَعْدَ الإِفَاضَةِ

১৯৯৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ فَقِيلَ إِنَّهَا قَدْ حَاضَتْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّهَا حَابِسَتُنَا " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ . فَقَالَ " فَلاَ إِذًا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৯৯. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাযিঃ) এর কথা জিজ্ঞাসা করেন (অর্থাৎ তিনি তাঁর সংগ লাভের ইচ্ছা করেন।) তখন তাকে বলা হয়, তিনি ঋতুবতী। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সম্ভবত সে আমাদের আব্দ্ধ করে ফেলেছে (অর্থাৎ তিনি তাওয়াফে যিয়ারত না করা পর্যন্ত আমরা মদীনায় ফেরতে পারব না।) তখন তাঁরা (অন্যান্য স্ত্রীগণ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করেছেন। এতদশ্রবণে তিনি বলেন, তবে তো এখনই (আমরা মদীনাতে প্রত্যাবর্তন করতে পারি এবং তার জন্য আর বিদায়ী তাওয়াফের প্রয়োজন নেই। )

২০০০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْمَرْأَةِ، تَطُوفُ بِالْبَيْتِ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ تَحِيضُ قَالَ لِيَكُنْ آخِرُ عَهْدِهَا بِالْبَيْتِ . قَالَ فَقَالَ الْحَارِثُ كَذَلِكَ أَفْتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ أَرِبْتَ عَنْ يَدَيْكَ سَأَلْتَنِي عَنْ شَىْءٍ سَأَلْتَ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِكَيْمَا أُخَالِفَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২০০০. আমর ইবনে আওন ..... হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হই এবং জনৈক মহিলা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, যে ১০ যিলহজ্জ (তাওয়াফে ইফাদা) সম্পন্ন করার পর ঋতুবতী হয়। তখন তিনি বলেন, তার জন্য এটা ওয়াজিব যে, সে যেন তাওয়াফে বিদা’ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন না করে। রাবী (ওয়ালীদ ইবনে আব্দুর রহমান) বলেন, রাবী হারিসও এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এতদসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি আমাকে এরূপ ফাত্ওয়া প্রদান করেন। রাবী (ওয়ালীদ) বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বলেন, তোমার দু‘হস্ত কর্তিত হোক বা ধুলায় ধূসরিত হোক! তুমি আমাকে এমন একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছ, যে সম্পর্কে (ইতিপূর্বে) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যাতে তাঁর মতের বিপরীত কিছু না হয়।

৮৪. বিদায়ী তাওয়াফ।

باب طَوَافِ الْوَدَاعِ

২০০১

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَفْلَحَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ أَحْرَمْتُ مِنَ التَّنْعِيمِ بِعُمْرَةٍ فَدَخَلْتُ فَقَضَيْتُ عُمْرَتِي وَانْتَظَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالأَبْطَحِ حَتَّى فَرَغْتُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِالرَّحِيلِ . قَالَتْ وَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْبَيْتَ فَطَافَ بِهِ ثُمَّ خَرَجَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০০১. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমরার জন্য তানঈম নামক স্থান হতে ইহরাম বাঁধি। অতঃপর আমি (মক্কায়) প্রবেশ করে উমরা সম্পন্ন করি। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য আবতাহ্ নামক স্থানে অপেক্ষায় ছিলেন। অতঃপর আমি উমরা সম্পন্ন করে ফেললে তিনি লোকদেরকে (মদীনার দিকে) গমনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহ্ গমন করেন এবং বিদায়ী তাওয়াফ সম্পাদন করে (মদীনার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হন।

২০০২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي الْحَنَفِيَّ - حَدَّثَنَا أَفْلَحُ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْتُ مَعَهُ - تَعْنِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - فِي النَّفْرِ الآخِرِ فَنَزَلَ الْمُحَصَّبَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ بَشَّارٍ قِصَّةَ بَعْثِهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ - قَالَتْ ثُمَّ جِئْتُهُ بِسَحَرٍ فَأَذَّنَ فِي أَصْحَابِهِ بِالرَّحِيلِ فَارْتَحَلَ فَمَرَّ بِالْبَيْتِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَطَافَ بِهِ حِينَ خَرَجَ ثُمَّ انْصَرَفَ مُتَوَجِّهًا إِلَى الْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০০২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে যিলহজ্জের তেরো তারিখে রওয়ানা হই। অতঃপর তিনি আল মুহাসসার নামক স্থানে অবতরণ করেন। পরে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, রাবী বলেন, অতঃপর আমি আমার উমরা সম্পন্ন করে তাঁর নিকট শেষ রাত্রিতে আগমন করি তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে গমনের জন্য প্রস্তুত হতে ঘোষণা দেন এবং তারা মদীনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামাযের পূর্বে বায়তুল্লাহয় গমন করেন এবং মদীনার দিকে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। পরে তিনি মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হন।

২০০৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ طَارِقٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ أُمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَازَ مَكَانًا مِنْ دَارِ يَعْلَى - نَسِيَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ - اسْتَقْبَلَ الْبَيْتَ فَدَعَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২০০৩. ইয়াহয়া ইবনে মু‘ঈন (রাহঃ) ...... আব্দুর হমান ইবনে তারিক (রাহঃ) তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইয়ালার গৃহের নিকট দিয়ে গমন করেন, তখন তিনি বায়তুল্লাহর দিকে মুখ দিয়ে মুখ ফিরিয়ে দুআ করেন।

৮৫. মুহাসসাবে অবতরণ।

باب التَّحْصِيبِ

২০০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّمَا نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُحَصَّبَ لِيَكُونَ أَسْمَحَ لِخُرُوجِهِ وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ فَمَنْ شَاءَ نَزَلَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَنْزِلْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০০৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওয়াদী মুহাসসাব নামক স্থানে এজন্যই অবতরণ করেছিলেন, যাতে মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হওয়া সহজ হয়। আর এ স্থানে অবতরণ করা সুন্নত নয়। কাজেই যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, এখানে অবতরণ করতে পারে। আর যে ব্যক্তি চায়, এখানে অবতরণ না করতেও পারে।

২০০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْمَعْنَى، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ أَبُو رَافِعٍ لَمْ يَأْمُرْنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَنْزِلَهُ وَلَكِنْ ضَرَبْتُ قُبَّتَهُ فَنَزَلَهُ . قَالَ مُسَدَّدٌ وَكَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ عُثْمَانُ يَعْنِي فِي الأَبْطَحِ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২০০৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... উসমান ইবনে আবু শায়বা ও মুসাদ্দাদ, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু রাফে’ বলেছিল, নবী করীম (ﷺ) আমাকে উক্ত স্থানে (মুহাসসাব) অবতরণ করতে নির্দেশ দেননি, বরং আমি সেখানে তাঁর তাঁবুটি স্থাপন করায় তিনি সেখানে অবতরণ করেন। রাবী মুসাদ্দাদ বলেন, আবু রাফে’ নবী করীম (ﷺ) এর মালপত্রাদি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

২০০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ تَنْزِلُ غَدًا فِي حَجَّتِهِ قَالَ " هَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مَنْزِلاً " . ثُمَّ قَالَ " نَحْنُ نَازِلُونَ بِخَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ حَيْثُ قَاسَمَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْكُفْرِ " . يَعْنِي الْمُحَصَّبَ وَذَلِكَ أَنَّ بَنِي كِنَانَةَ حَالَفَتْ قُرَيْشًا عَلَى بَنِي هَاشِمٍ أَنْ لاَ يُنَاكِحُوهُمْ وَلاَ يُبَايِعُوهُمْ وَلاَ يُئْوُوهُمْ . قَالَ الزُّهْرِيُّ وَالْخَيْفُ الْوَادِي .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২০০৬. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি, হে আল্লাহর রাসুল! আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ্) আপনি কোথায় অবতরণ করবেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, আকীল কি আমার জন্য কোন গৃহ রেখেছে? অতঃপর তিনি বলেন, আমরা বনী কিনানার খায়ফে (অর্থাৎ মুহাসসাবে) অবতরণ করব, যেখানে কুরাইশরা কুফরীর উপর পরস্পর অঙ্গীকার করেছিল অর্থাৎ তারা মুহাসসাবে অবস্থিত আর কুফরীর যুগে বনী কিনানা কুরাইদের বনী হাশিম গোত্রের সাথে পরস্পর এরূপ শপথ করেছিল যে, তারা তাদের সাথে পরস্পর বিবাহশাদী দেবে না, তারা তাদের ভালবাসবে না এবং তাদের সাথে বেচাকেনাও করবে না। রাবী যুহরী (রাহঃ) বলেন, খায়ফ হল একটি উপাত্যকা (যেখানে বনী কিনানা বসবাস করতো)।

২০০৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، - يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حِينَ أَرَادَ أَنْ يَنْفِرَ مِنْ مِنًى " نَحْنُ نَازِلُونَ غَدًا " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ أَوَّلَهُ وَلاَ ذَكَرَ الْخَيْفُ الْوَادِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০০৭. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনা হতে প্রত্যাবর্তনের সময় ইরশাদ করেন, আমরা আগামীকাল অবতরণ করব। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু পূর্বের হাদীসের উসামার প্রশ্ন ও নবী করীম (ﷺ) এর জবাবের প্রসঙ্গ এতে উল্লেখ নেই। আর এখন খায়ফ উপত্যকার কথাও উল্লেখ হয়নি।

২০০৮

حَدَّثَنَا مُوسَى أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَهْجَعُ هَجْعَةً بِالْبَطْحَاءِ ثُمَّ يَدْخُلُ مَكَّةَ وَيَزْعُمُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

২০০৮. আবু সালামা ..... নাফে’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন মিনা হতে প্রত্যার্তন করতেন, তখন তিনি বাতহাতে (অর্থাৎ মুহাসসাবে) সামান্য নিদ্রা যেতেন। অতঃপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করতেন। এতে তিনি ধারণা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপ করতেন।

২০০৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَأَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْبَطْحَاءِ ثُمَّ هَجَعَ هَجْعَةً ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০০৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামায বাতহাতে (অর্থাৎ মুহাসসাবে) আদায় করেন। অতঃপর তিনি সামান্য নিদ্রার পর মক্কায় প্রবেশ করতেন। আর ইবনে উমর (রাযিঃ)-ও এরূপ করতেন। (কারণ ইবনে উমর (রাযিঃ) নবীজীর পদাংক অনুসরণকারী ছিলেন )।

৮৬. হজ্জের সময় যদি কেউ আগের কাজ পরে বা পরের কাজ আগে করে।

باب فِيمَنْ قَدَّمَ شَيْئًا قَبْلَ شَىْءٍ فِي حَجِّهِ

২০১০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِمِنًى يَسْأَلُونَهُ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمْ أَشْعُرْ فَحَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْبَحْ وَلاَ حَرَجَ " . وَجَاءَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَشْعُرْ فَنَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ . قَالَ " ارْمِ وَلاَ حَرَجَ " . قَالَ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَىْءٍ قُدِّمَ أَوْ أُخِّرَ إِلاَّ قَالَ " اصْنَعْ وَلاَ حَرَجَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২০১০. আল্ কা‘নবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনাতে অবস্থান করেন। এ সময় লোকেরা তাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে থাকে। তখন এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমি জানতাম না, তাই কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি, (এমতাবস্থায় কী করব?) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি এখন কুরবানী কর, এবং এতে কোন ক্ষতি নেই। তখন অপর এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অবহিত ছিলাম না, তাই কংকর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। তখন জবাবে তিনি বলেন, তুমি এখন কংকর নিক্ষেপ কর, এবং এত কোন দোষ নেই। আর এ দিন তাঁকে পূর্বে-পরে (হজ্জের কাজ) করা সম্পর্কে যত প্রশ্ন করা হয় তার জবাবে তিনি বলেন, তুমি এখন কর এবং এতে কোন দোষ নেই।

২০১১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَاجًّا فَكَانَ النَّاسُ يَأْتُونَهُ فَمَنْ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعَيْتُ قَبْلَ أَنْ أَطُوفَ أَوْ قَدَّمْتُ شَيْئًا أَوْ أَخَّرْتُ شَيْئًا . فَكَانَ يَقُولُ " لاَ حَرَجَ لاَ حَرَجَ إِلاَّ عَلَى رَجُلٍ اقْتَرَضَ عِرْضَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ وَهُوَ ظَالِمٌ فَذَلِكَ الَّذِي حَرِجَ وَهَلَكَ " .

বর্ণনাকারী: উসামা ইবনে শরীক (রাঃ)

২০১১. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) ...... উসামা ইবনে শারিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। এ সময় লোকেরা তাঁর নিকট (বিভিন্ন ব্যাপার সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করতে আসতে থাকে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাওয়াফের পূর্বে সা‘ঈ করেছি অথবা আমি কিছু কাজ আগে পরে করে ফেলেছি। আর তিনি এর জবাবে বলছিলেনঃ কোন দোষ নেই, কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু এক ব্যক্তি জনৈক মুসলিম ব্যক্তির ইজ্জত নষ্ট করায় সে অত্যাচারী সাব্যস্ত হয়। অতঃপর সেই দোষের কারণে সে ধ্বংস হয়।

৮৭. মক্কাতে নামাযের জন্য সুতরা ব্যবহার।

باب فِي مَكَّةَ

২০১২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ، عَنْ بَعْضِ، أَهْلِي عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِمَّا يَلِي بَابَ بَنِي سَهْمٍ وَالنَّاسُ يَمُرُّونَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا سُتْرَةٌ . قَالَ سُفْيَانُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ سُتْرَةٌ . قَالَ سُفْيَانُ كَانَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا عَنْهُ قَالَ أَخْبَرَنَا كَثِيرٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ لَيْسَ مِنْ أَبِي سَمِعْتُهُ وَلَكِنْ مِنْ بَعْضِ أَهْلِي عَنْ جَدِّي .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২০১২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ....... কাসীর ইবনে কাসীর ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবু ওয়াদা’আহ (রাহঃ) হতে, তিনি তাঁর পরিবারের জনৈক ব্যক্তি হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম (ﷺ)কে বনী সাহাম গোত্রের দরজার নিকট নামায আদায় করতে দেখেন, যখন লোকেরা তাঁর সম্মুখ দিয়ে যাতায়াত করছেন এবং তাদের মধ্যে কোন সুতরা ছিল না। রাবী সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, তাঁর ও কা‘বার মধ্যে কোন সু্তরা ছিল না।

৮৮. মক্কার পবিত্রতা।

باب تَحْرِيمِ مَكَّةَ

২০১৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا فَتَحَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ وَإِنَّمَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنَ النَّهَارِ ثُمَّ هِيَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لاَ يُعْضَدُ شَجَرُهَا وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ تَحِلُّ لُقَطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ " . فَقَامَ عَبَّاسٌ أَوْ قَالَ قَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ الإِذْخِرَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَنَا فِيهِ ابْنُ الْمُصَفَّى عَنِ الْوَلِيدِ فَقَامَ أَبُو شَاهٍ - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ - فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اكْتُبُوا لِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ " . قُلْتُ لِلأَوْزَاعِيِّ مَا قَوْلُهُ " اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ " . قَالَ هَذِهِ الْخُطْبَةَ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০১৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা যখন তাঁর রাসূলের উপর মক্কা বিজয় দান করেন, তখন নবী করীম (ﷺ) তাদের মধ্যে বক্তা হিসাবে দণ্ডায়মান হয়ে, আল্লাহ্ তাআলার প্রশংসা ও গুণাগুণ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা (আবরাহার) হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশ করা প্রতিহত করেন। আর তিনি (মক্কার উপর) প্রাধান্য প্রদান করেন তাঁর রাসূল ও মু‘মিনদেরকে। আর আমার জন্য দিবসের একটি অংশকে (যখন তিনি তাঁর সৈন্যসহ সেখানে প্রবেশ করেন) হালাল করা হয়েছে।

অতঃপর সেখানে (মক্কায়) কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্য (যুদ্ধ-বিগ্রহ করা) হারাম। তার (সবুজ) বৃক্ষরাজি কর্তন করা যাবে না, সেখানে কিছু শিকার করা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু ঘোষক ব্যতীত অন্যের (প্রদান বা সাদ্‌কা করা) জন্য হালাল হবে না। তখন আব্বাস (রাযিঃ) দণ্ডায়মান হন অথবা (রাবীর সন্দেহ) আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইযখির ব্যতীত, কেননা সেটা আমাদের গৃহ নির্মাণের ও কবরের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হ্যাঁ, ইযখির ব্যতীত।
২০১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ " وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০১৪. উসমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এও বর্ণিত হয়েছে যেঃ সেখানকার ঘাসও কাটা যাবে না।

২০১৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَبْنِي لَكَ بِمِنًى بَيْتًا أَوْ بِنَاءً يُظِلُّكَ مِنَ الشَّمْسِ فَقَالَ " لاَ إِنَّمَا هُوَ مُنَاخُ مَنْ سَبَقَ إِلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০১৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলি, আমরা (সাহাবীরা) আপনার জন্য মিনাতে একটি ঘর অথবা এমন কিছু তৈরী করতে চাই, যা আপনাকে সূর্যের কিরণ হতে ছায়া প্রদান করবে। তখন জবাবে তিনি বলেন, না, বরং সেটা তো (হাজীদের) উট বসানোর স্থান, যে প্রথমে সেখানে পৌঁছবে (সে স্থান তার হবে)।

২০১৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ ثَوْبَانَ، أَخْبَرَنِي عُمَارَةُ بْنُ ثَوْبَانَ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ بَاذَانَ، قَالَ أَتَيْتُ يَعْلَى بْنَ أُمَيَّةَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " احْتِكَارُ الطَّعَامِ فِي الْحَرَمِ إِلْحَادٌ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

২০১৬. আল হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... মুসা ইবনে বাযান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়্যার নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, হারামের মধ্যে খাদ্যশস্য (অধিক মূল্যে বিক্রির আশায়) গুদামজাত করে রাখাও সীমালংঘনের পর্যায়ভূক্ত।

৮৯. নাবীয পানীয়।

باب فِي نَبِيذِ السِّقَايَةِ

২০১৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا بَالُ أَهْلِ هَذَا الْبَيْتِ يَسْقُونَ النَّبِيذَ وَبَنُو عَمِّهِمْ يَسْقُونَ اللَّبَنَ وَالْعَسَلَ وَالسَّوِيقَ أَبُخْلٌ بِهِمْ أَمْ حَاجَةٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا بِنَا مِنْ بُخْلٍ وَلاَ بِنَا مِنْ حَاجَةٍ وَلَكِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ وَخَلْفَهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَرَابٍ فَأُتِيَ بِنَبِيذٍ فَشَرِبَ مِنْهُ وَدَفَعَ فَضْلَهُ إِلَى أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْسَنْتُمْ وَأَجْمَلْتُمْ كَذَلِكَ فَافْعَلُوا " . فَنَحْنُ هَكَذَا لاَ نُرِيدُ أَنْ نُغَيِّرَ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০১৭. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ...... বকর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলেন, এ গৃহের অধিবাসীদের (আব্বাসের) অবস্থান কী? এরা নাবীয পান করে এবং এদের চাচার সন্তানসন্ততিরা দুধ, মধু ও পানীয় পান করে। এটা কি তাদের কৃপণতা, না অস্বচ্ছলতা? তদুত্তরে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমাদের সাথে না কৃপণতা আছে, না অসচ্ছলতা বরং (প্রকৃত ব্যাপার এই যে,) একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি বাহনে আমাদের নিকট আগমন করেন, যা পশ্চাতে উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) সওয়ার ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানীয় কিছু চাইলে তাঁর সম্মুখে নাবীয পেশ করা হয়। তা হতে তিনি কিছু পানের পর অবশিষ্টাংশ উসামাকে প্রদান করেন। অতঃপর তিনি (উসামা) তা পান করেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা অত্যন্ত উত্তম ও উৎকৃষ্ট কাজ করেছ। আর তোমরা এইরূপ করতে থাকবে। কাজেই আমরা এইরূপ করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন তার ব্যতিক্রম করতে চাই না।

৯০. (মুহাজিরের জন্য) মক্কায় অবস্থান।

باب الإِقَامَةِ بِمَكَّةَ

২০১৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، يَسْأَلُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ هَلْ سَمِعْتَ فِي الإِقَامَةِ، بِمَكَّةَ شَيْئًا قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ الْحَضْرَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لِلْمُهَاجِرِينَ إِقَامَةٌ بَعْدَ الصَّدَرِ ثَلاَثًا " .

বর্ণনাকারী: আলা ইবনুল হাযরামী (রাঃ)

২০১৮. আল কা‘নবী ..... আব্দুর রহমান ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) হতে শ্রবণ করেন, যিনি সায়েব ইবনে ইয়াযীদকে প্রশ্ন করেন, মুহাজিরের জন্য মক্কায় অবস্থান করা সম্পর্কে আপনি কিছু শুনেছেন কি? এর জবাবে তিনি বলেন, আমাকে ইবনে আল হাযরামী (রাযিঃ) খবর দিয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, মুহাজিরগণ মিনা হতে প্রত্যাবর্তনের পর (মক্কায়) তিনদিন অবস্থান করতে পারবে।

৯১. কা’বা ঘরের মধ্যে নামায।

باب الصَّلَاةِ فِي الْكَعْبَةِ

২০১৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ وَبِلاَلٌ فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ فَمَكَثَ فِيهَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَسَأَلْتُ بِلاَلاً حِينَ خَرَجَ مَاذَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِهِ وَعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَثَلاَثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ - وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ - ثُمَّ صَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০১৯. আল কা‘নবী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা‘বার মধ্যে প্রবেশ করেন এবং এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামা ইবনে যায়দ, উসমান ইবনে তালহা আল-হাজারী, (কা‘বার দারোয়ান) এবং বিলাল (রাযিঃ)। অতঃপর তিনি (ভীড়ের আশঙ্কায়) এর দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তিনি তম্মধ্যে অবস্থান করেন। রাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি বিলাল (রাযিঃ)-কে সেখান থেকে বের হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তম্মধ্যে কী করেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, তিনি একটি স্তম্ভকে বামদিকে, দুটি স্তম্ভকে ডানদিকে এবং তিনটি স্তম্ভকে পশ্চাতে রেখে নামায আদায় করেন এবং এ সময় বায়তুল্লাহ্ ছয়টি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।

২০২০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الأَذْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرِ السَّوَارِيَ قَالَ ثُمَّ صَلَّى وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ ثَلاَثَةُ أَذْرُعٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২০২০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল আযরা‘ঈ (রাহঃ) ..... মালিক (রাহঃ) হতে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। রাবী আব্দুর রহমান সওয়ারীর কথা উল্লেখ করেননি। রাবী ইবনে মাহদী হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর তিনি নামায আদায় করেন এবং এই সময় তাঁর ও কিবলার মধ্যে তিনগজ পরিমাণ ব্যবধান ছিল।

২০২১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ الْقَعْنَبِيِّ . قَالَ وَنَسِيتُ أَنْ أَسْأَلَهُ كَمْ صَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০২১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে আল কা‘নবী বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কত রাক’আত নামায আদায় করেন, তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

২০২২

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَفْوَانَ، قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ كَيْفَ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ قَالَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২০২২. যুহাইর ইবনে হারব ..... আব্দুর হমান ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা‘বার মধ্যে প্রবেশ করে কী করেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, তিনি সেখানে দু‘রাকআত নামায আদায় করেন।

২০২৩

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَبَى أَنْ يَدْخُلَ الْبَيْتَ وَفِيهِ الآلِهَةُ فَأَمَرَ بِهَا فَأُخْرِجَتْ قَالَ فَأَخْرَجَ صُورَةَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَفِي أَيْدِيهِمَا الأَزْلاَمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَاتَلَهُمُ اللَّهُ وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمُوا مَا اسْتَقْسَمَا بِهَا قَطُّ " . قَالَ ثُمَّ دَخَلَ الْبَيْتَ فَكَبَّرَ فِي نَوَاحِيهِ وَفِي زَوَايَاهُ ثُمَّ خَرَجَ وَلَمْ يُصَلِّ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০২৩. আবু মা‘মার (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন মক্কায় আগমন করেন, তখন তিনি বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন। কেননা সেখানে তখন অসংখ্য দেবদেবী বিদ্যমান ছিল। তখন তিনি সেগুলোকে বের করতে নির্দেশ দিলে সেগুলো বহিষ্কার করা হয়। রাবী বলেন, অতঃপর ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এর মূর্তি এবং তাদের হস্তে যে ভাগ্য পরীক্ষার তীর ছিল সেটা বহিষ্কার করা হয়, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে ধবংস করেছেন। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তারা (কুরাইশরা) জানত যে, ইররাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) কখনই তীরের সাহায্যে ভাগ্যের (ভাল-মন্দ) পরীক্ষা করেননি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রবেশ করেন এবং প্রতিটি কোণায় তাকবীর (আল্লাহু আকবার) প্রদান করেন এবং প্রতিটি রুকনেও। অতঃপর তিনি সেখানে নামায আদায় না করে বের হয়ে আসেন।

২০২৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَدْخُلَ الْبَيْتَ فَأُصَلِّيَ فِيهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي فَأَدْخَلَنِي فِي الْحِجْرِ فَقَالَ " صَلِّي فِي الْحِجْرِ إِذَا أَرَدْتِ دُخُولَ الْبَيْتِ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنَ الْبَيْتِ فَإِنَّ قَوْمَكِ اقْتَصَرُوا حِينَ بَنَوُا الْكَعْبَةَ فَأَخْرَجُوهُ مِنَ الْبَيْتِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০২৪. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে নামায আদায় করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে হাতীমে কা‘বার মধ্যে প্রবেশ করান এবং বলেন, তুমি যখন বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করছ, তখন এ স্থানে নামায আদায় কর। কেননা এটা বায়তুল্লাহর-ই একটি অংশ। আর তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা (কুরাইশরা) যখন কা‘বা পুনঃনির্মাণ করেছে, তখন তারা সংক্ষেপ করে (কম খরচের জন্য) নির্মাণের ফলে একে (হাতীমে-কা‘বাকে) বাইরে রেখেছে।

২০২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا وَهُوَ مَسْرُورٌ ثُمَّ رَجَعَ إِلَىَّ وَهُوَ كَئِيبٌ فَقَالَ " إِنِّي دَخَلْتُ الْكَعْبَةَ وَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا دَخَلْتُهَا إِنِّي أَخَافُ أَنْ أَكُونَ قَدْ شَقَقْتُ عَلَى أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০২৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) তাঁর নিকট হতে হৃষ্টচিত্তে বাইরে গমন করেন। অতঃপর ভরাক্রান্ত মনে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বলেন, আমি কা‘বায় প্রবেশ করেছিলাম, তবে যা আমি পরে অবগত হয়েছি যদি তা আমি পূর্বে জানতে পারতাম, তবে আমি এর মধ্যে প্রবেশ করতাম না। আর আমি এতদসম্পর্কে ভীত সন্ত্রস্ত যে, আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের কারণ হই কিনা।

২০২৬

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ الْحَجَبِيِّ، حَدَّثَنِي خَالِي، عَنْ أُمِّي، صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ الأَسْلَمِيَّةَ، تَقُولُ قُلْتُ لِعُثْمَانَ مَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ دَعَاكَ قَالَ " إِنِّي نَسِيتُ أَنْ آمُرَكَ أَنْ تُخَمِّرَ الْقَرْنَيْنِ فَإِنَّهُ لَيْسَ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ فِي الْبَيْتِ شَىْءٌ يَشْغَلُ الْمُصَلِّيَ " . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ خَالِي مُسَافِعُ بْنُ شَيْبَةَ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

২০২৬. ইবনে আল সারহ্ ..... মনসুর আল হাজারী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আমার মাতা (সাফিয়া) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি আসলামিয়্যাকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি একদা উসমানকে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বলেন, যখন তিনি তোমাকে আহবান করেন। জবাবে তিনি (উসমান) বলেন, আমি আপনাকে এতদসম্পর্কে অবহিত করতে ভুলে যাই যে, আপনি (দুম্বার) ঐ শিং দুটি ঢেকে রাখুন (যা ফিদয়া স্বরূপ ছিল ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) এর জন্য)। কেননা, বায়তুল্লাহর মধ্যে এমন কিছু থাকা উচিত নয়, যা মুসল্লীকে তার নামায হতে অন্যমনস্ক করে।

৯২. কা’বা ঘরে রক্ষিত মালামাল।

باب فِي مَالِ الْكَعْبَةِ

২০২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ شَيْبَةَ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - قَالَ قَعَدَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - فِي مَقْعَدِكَ الَّذِي أَنْتَ فِيهِ فَقَالَ لاَ أَخْرُجُ حَتَّى أَقْسِمَ مَالَ الْكَعْبَةِ . قَالَ قُلْتُ مَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ . قَالَ بَلَى لأَفْعَلَنَّ . قَالَ قُلْتُ مَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ . قَالَ لِمَ قُلْتُ لأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَأَى مَكَانَهُ وَأَبُو بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَهُمَا أَحْوَجُ مِنْكَ إِلَى الْمَالِ فَلَمْ يُخْرِجَاهُ . فَقَامَ فَخَرَجَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২০২৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... শায়রা অর্থাৎ ইবনে উসমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আপনি যে স্থানে বসে আছেন, একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) উক্ত স্থানে বসে ছিলেন এবং বলেন, আমি কা‘বার মালামাল বণ্টণ না হওয়া পর্যন্ত বের হব না। তিনি (শায়বা) বলেন, তখন আমি তাঁকে বলি যে, আপনি এরূপ করতে সক্ষম হবেন না, এর জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি এটা করব। তখন তিনি (শায়বা) আবার বলেন, আপনি এটা করতে পারবেন না। তখন তিনি (উমর) জিজ্ঞাসা করেন, কেন পারব না? তখন আমি বলি, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) সম্পদ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। আর তাঁরা মালের ব্যাপারে আপনার চেয়ে অধিক মুখাপেক্ষী ছিলেন। কিন্তু তাঁরা তা বের করেন নি। এতদশ্রবণে তিনি দণ্ডায়মান হন এবং বের হয়ে যান।

২০২৮

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِنْسَانٍ الطَّائِفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ لَمَّا أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ لِيَّةَ حَتَّى إِذَا كُنَّا عِنْدَ السِّدْرَةِ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَرَفِ الْقَرْنِ الأَسْوَدِ حَذْوَهَا فَاسْتَقْبَلَ نَخِبًا بِبَصَرِهِ وَقَالَ مَرَّةً وَادِيَهُ وَوَقَفَ حَتَّى اتَّقَفَ النَّاسُ كُلُّهُمْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ صَيْدَ وَجٍّ وَعِضَاهَهُ حَرَامٌ مُحَرَّمٌ لِلَّهِ " . وَذَلِكَ قَبْلَ نُزُولِهِ الطَّائِفَ وَحِصَارِهِ لِثَقِيفٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)

২০২৮. হামেদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা লিয়্যা নামক স্থান হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হয়ে সিদরাহ্ স্থানের নিকটবর্তী হই, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কালো পাথরের পাহাড়ের সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে তায়েফের দিকে দৃষ্টিপাত করে দাঁড়ান। রাবী বলেন, তিনি একবার তাঁর উপত্যক্যার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং দণ্ডায়মান হন, যার কারণে সমস্ত লোকেরা দাঁড়িয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, সাইদুওয়াজ্জা এবং ইজাহা উভয়ই হারাম, যাকে আল্লাহ্ হারাম করেছেন। আর এটা তাঁর তায়েফে অবতরণের এবং বনী সাকীফ গোত্র অবরুদ্ধ করার পূর্বের ঘটনা।

৯৩. মদীনাতে আগমন।

باب فِي إِتْيَانِ الْمَدِينَةِ

২০২৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০২৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী কারীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও গমনের জন্য সফর করবে না। মসজিদুল হারাম, আমার এ মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা।

৯৪. মদীনার পবিত্রতা।

باب فِي تَحْرِيمِ الْمَدِينَةِ

২০৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ مَا كَتَبْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ الْقُرْآنَ وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ . قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمَدِينَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ عَدْلٌ وَلاَ صَرْفٌ وَذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ عَدْلٌ وَلاَ صَرْفٌ وَمَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ عَدْلٌ وَلاَ صَرْفٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৩০. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কুরআন ব্যতীত আর কিছুই লিপিবদ্ধ করিনি। আর এ সহীফার মধ্যে কী (যা আলীর তরবারীর খাপের মধ্যে ছিল)? আলী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আয়ের হতে সাওর পর্যন্ত সমস্ত মদীনা হারাম, (অর্থাৎ খুবই সম্মানিত) কাজেই যে ব্যক্তি কোন বিদ্আতের সৃষ্টি করে অথবা কোন বিদ্আত সৃষ্টিকারীকে সাহায্য করে, তার উপর আল্লাহ্ তাআলার, ফিরিশতাদের এবং সমস্ত মানবকূলের লা‘নত’।

সে ব্যক্তির কোন ফরয বা নফল ইবাদত কবুল হবে না। আর মুসলমানের অঙ্গীকার পালন করা তাদের জন্য খুবই দরকারী। যদিও তা সাধারণ ব্যক্তিদের (কাফিরদের) জন্য হয়। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তার উপর আল্লাহ তাআলার, ফিরিশতাদের ও সমস্ত মানবকূলের লা‘নত। সে ব্যক্তির কোন ফরয বা নফল ইবাদত কবুল হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের লোকদের অনুমতি ব্যতীত এর আমীর হয় তার উপর আল্লাহ্ তাআলার, ফিরিশতাদের এবং সমস্ত মানবকূলের অভিসম্পাত। সে ব্যক্তির কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না।
২০৩১

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلاَّ لِمَنْ أَشَادَ بِهَا وَلاَ يَصْلُحُ لِرَجُلٍ أَنْ يَحْمِلَ فِيهَا السِّلاَحَ لِقِتَالٍ وَلاَ يَصْلُحُ أَنْ يُقْطَعَ مِنْهَا شَجَرَةٌ إِلاَّ أَنْ يَعْلِفَ رَجُلٌ بَعِيرَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৩১. ইবনে আল মুসান্না (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানকার (মদীনার) সবুজ বৃক্ষ যেন কেউ কর্তন না করে এবং এর কোন প্রাণী যেন শিকার না করে। আর কেউ যেন সেখানে পড়ে থাকা বস্তু (লুকতা)[১] গ্রহণ না করে, অবশ্য যে ব্যক্তি তা ঘোষণা করে লোকদেরকে জানাবে তার কথা আলাদা। আর হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে তরবারি নিয়ে যাওয়া কোন ব্যক্তির জন্য উচিত নয়। আর সেখানকার কোন বৃক্ষরাজি কর্তন করাও উচিত নয়, অবশ্য উটের খাদ্য হিসাবে যা ব্যবহৃত হয় তার ব্যাপার আলাদা।

[১] পথিমধ্যে পড়ে থাকা মাল বা সম্পদ, পতিত প্রাপ্ত দ্রব্য।
২০৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ الْحُبَابِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كِنَانَةَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ حَمَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلَّ نَاحِيَةٍ مِنَ الْمَدِينَةِ بَرِيدًا بَرِيدًا لاَ يُخْبَطُ شَجَرُهُ وَلاَ يُعْضَدُ إِلاَّ مَا يُسَاقُ بِهِ الْجَمَلُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২০৩২. মুহাম্মাদ ইবনে আল আলা (রাহঃ) ..... আদী ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার সমস্ত গাছ, বৃক্ষরাজি হিফাযতের বন্দোবস্ত করেন। তার কোন পাতা (ঝরান) হতো না এবং কোন বৃক্ষ কর্তন করাও যেত না। অবশ্য ভারবাহী পশুদের খাদ্যের জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন তা ব্যতীত।

২০৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَازِمٍ - حَدَّثَنِي يَعْلَى بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ رَأَيْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَخَذَ رَجُلاً يَصِيدُ فِي حَرَمِ الْمَدِينَةِ الَّذِي حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَبَهُ ثِيَابَهُ فَجَاءَ مَوَالِيهِ فَكَلَّمُوهُ فِيهِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ هَذَا الْحَرَمَ وَقَالَ " مَنْ وَجَدَ أَحَدًا يَصِيدُ فِيهِ فَلْيَسْلُبْهُ ثِيَابَهُ " . فَلاَ أَرُدُّ عَلَيْكُمْ طُعْمَةً أَطْعَمَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنْ إِنْ شِئْتُمْ دَفَعْتُ إِلَيْكُمْ ثَمَنَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২০৩৩. আবু সালামা .... সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা‘দ ইবনে আবু ওককাস (রাযিঃ) কে জনৈক ব্যক্তিকে পাকড়াও করতে দেখি, যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক নির্ধারিত মদীনার নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে শিকার করছিল। তখন তিনি তার কাপড় ছিনিয়ে নেন। এরপর তিনি (সা‘দ) তার মনিবের নিকট গমন করেন এবং উক্ত ব্যক্তির ব্যাপার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি জবাবে বলেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ এলাকাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং বলেন, যদি কেউ এখানে শিকার করতে দেখে, তবে সে যেন তার কাপড় কেড়ে (ছিনাইয়া) লয়। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে খাদ্যদ্রব্য প্রদান করেছেন, তা আমি তোমাদের প্রদান করবো না বরং যদি তোমরা চাও, তবে আমি তোমাদিগকে তার মূল্য প্রদান করব।

২০৩৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ مَوْلًى، لِسَعْدٍ أَنَّ سَعْدًا، وَجَدَ عَبِيدًا مِنْ عَبِيدِ الْمَدِينَةِ يَقْطَعُونَ مِنْ شَجَرِ الْمَدِينَةِ فَأَخَذَ مَتَاعَهُمْ وَقَالَ - يَعْنِي لِمَوَالِيهِمْ - سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى أَنْ يُقْطَعَ مِنْ شَجَرِ الْمَدِينَةِ شَىْءٌ وَقَالَ " مَنْ قَطَعَ مِنْهُ شَيْئًا فَلِمَنْ أَخَذَهُ سَلَبُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২০৩৪. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... তাওয়ামার আযাদকৃত গোলাম সালিহ হতে, তিনি সা’দের মনিব হতে বর্ণনা করেছেন। একদা সা’দ (রাযিঃ) মদীনার গোলামদের মধ্য হতে কোন একজনকে মদীনার বৃক্ষরাজি কাটতে দেখে তার সমস্ত সম্পদ ও কাপড়চোপড় ছিনিয়ে নেন। অতঃপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেছি যে, তিনি মদীনার বৃক্ষরাজি কাটতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি আরো বলেন, যদি কেউ এখন থেকে কিছু কর্তন করে, তবে ঐ ব্যক্তির সম্পদ ও কাপড়চোপড় সহ পাকড়াও করবে।

২০৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَفْصٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ الْحَارِثِ الْجُهَنِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُخْبَطُ وَلاَ يُعْضَدُ حِمَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنْ يُهَشُّ هَشًّا رَفِيقًا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২০৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে হাফস ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, কেউ যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুরক্ষিত এলাকা হতে গাছের পাতা না পাড়ে এবং কোন বৃক্ষ যেন না কাটে। অবশ্য উটের খাদ্যের জন্য যা প্রয়েজন সেটা ব্যতীত।

২০৩৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْتِي قُبَاءً مَاشِيًا وَرَاكِبًا زَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৩৬. মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুবার মসজিদে কোনো সময় পদব্রজে এবং কোনো সময় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আসতেন। রাবী ইবনে নুমাইর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেখানে দু’রাকআত নামায আদায় করেন।

৯৫. কবর যিয়ারত।

باب زِيَارَةِ الْقُبُورِ

২০৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، عَنْ أَبِي صَخْرٍ، حُمَيْدِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَىَّ إِلاَّ رَدَّ اللَّهُ عَلَىَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে কেউই আমার উপর যখন সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ্ তাআলা আমাকে তার খবর দেন এবং আমি তার জবাব প্রদান করে থাকি।

২০৩৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا وَلاَ تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا وَصَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৩৮. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা তেমাদের গৃহকে কবরে (অর্থাৎ আল্লাহর যিক্‌র বা নামায হতে খালি) পরিণত করো না। আর তোমরা আমার কবরকে ঈদের স্থানে পরিণত করো না। বরং তোমরা আমার উপর সালাম পেশ করবে। কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের নামায ও সালাম আমার নিকট পৌঁছে থাকে।

২০৩৯

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ الْمَدِينِيُّ، أَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ رَبِيعَةَ، - يَعْنِي ابْنَ الْهُدَيْرِ - قَالَ مَا سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا قَطُّ غَيْرَ حَدِيثٍ وَاحِدٍ . قَالَ قُلْتُ وَمَا هُوَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرِيدُ قُبُورَ الشُّهَدَاءِ حَتَّى إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى حَرَّةِ وَاقِمٍ فَلَمَّا تَدَلَّيْنَا مِنْهَا وَإِذَا قُبُورٌ بِمَحْنِيَّةٍ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقُبُورُ إِخْوَانِنَا هَذِهِ قَالَ " قُبُورُ أَصْحَابِنَا " . فَلَمَّا جِئْنَا قُبُورَ الشُّهَدَاءِ قَالَ " هَذِهِ قُبُورُ إِخْوَانِنَا " .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

২০৩৯. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া ...... রাবীআ অর্থাৎ ইবনে আল হুদায়ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একটি হাদীস ব্যতীত, আর কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তখন আমি জিজ্ঞাসা করি, সেটা কী? তখন জবাবে তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে শহীদদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হই। অতঃপর যখন আমরা হুররাতে ওয়াকিম নামক স্থানে উপনীত হই, তখন সেখানে অবতরণ করি, যেখানে তাদের কবর ছিল। রাবী বলেন, তখন আমরা বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহা কি আমাদের ভাইদের কবর? জবাবে তিনি বলেন, এগুলো আমার সাহাবীদের কবর। অতঃপর যখন আমরা শহীদদের কবরের নিকট উপস্থিত হই, তখন তিনি বলেন, এগুলো আমাদের ভাইদের কবর।

২০৪০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَاخَ بِالْبَطْحَاءِ الَّتِي بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَصَلَّى بِهَا فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৪০. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাতহা নামক স্থানে উট বসান, যা যুল হুলাইফাতে অবস্থিত ছিল। অতঃপর তিনি সেখানে নামায আদায় করেন। পরবর্তীকালে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) এরূপ-ই করতেন।

২০৪১
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يُجَاوِزَ الْمُعَرَّسَ إِذَا قَفَلَ رَاجِعًا إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى يُصَلِّيَ فِيهَا مَا بَدَا لَهُ لأَنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَّسَ بِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ الْمَدَنِيَّ قَالَ الْمُعَرَّسُ عَلَى سِتَّةِ أَمْيَالٍ مِنَ الْمَدِينَةِ .
[حدثنا أحمد بن صالح, قرأت على عبد الله بن نافع, قال: حدثنا عبد الله, يعني العمري, عن نافع, عن ابن عمر, أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قدم بات بالمعرس, حتى يغتدي] .
آخر كتاب المناسك .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২০৪১. আল কা‘নবী (রাহঃ) ..... মালিক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা হতে মদীনাতে প্রত্যাবর্তনের সময় মুআররিস নামক স্থান অতিক্রমকালে, সেখানে নামায আদায় করা সকলের কর্তব্য। কেননা আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত স্থানে বিশ্রাম গ্রহণ করতেন। রাবী আবু দাউদ বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল মাদানী হতে শ্রবণ করেছি যে, মুআররিস্ নামক স্থানটি মদীনা হতে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত।