كتاب الطهارة

১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

অধ্যায় ১ · ৩৯০ টি হাদীস

১. পেশাব পায়খানার সময় নির্জনে গমন সম্পর্কে।

باب التَّخَلِّي عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ

১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا ذَهَبَ الْمَذْهَبَ أَبْعَدَ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন পায়খানায় গমন করতেন, তখন বহুদূর যেতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২

حدَّثنا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ الْبَرَازَ انْطَلَقَ حَتَّى لاَ يَرَاهُ أَحَدٌ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ .... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন পায়খানার ইরাদা করতেন, তখন তিনি এতদূরে গমন করতেন যে, তাকে কেউ দেখতে পেত না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

২. পেশাব করার স্থান নিরূপণ সম্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يَتَبَوَّأُ لِبَوْلِهِ

৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو التَّيَّاحِ، حَدَّثَنِي شَيْخٌ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ الْبَصْرَةَ فَكَانَ يُحَدَّثُ عَنْ أَبِي مُوسَى، فَكَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى أَبِي مُوسَى يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ أَبُو مُوسَى إِنِّي كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَأَرَادَ أَنْ يَبُولَ فَأَتَى دَمِثًا فِي أَصْلِ جِدَارٍ فَبَالَ ثُمَّ قَالَ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَبُولَ فَلْيَرْتَدْ لِبَوْلِهِ مَوْضِعًا " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল আবু তাইয়াহ্ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একজন শায়েখ আমার নিকট বর্ণনা করেছেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) যখন বসরায় গমন করেন, তখন তাঁর নিকট আবু মুসা (রাযিঃ)-এর সূত্রে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হয়। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) আবু মুসা (রাযিঃ)-এর নিকট কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে একখানা পত্র লেখেন। জবাবে আবু মুসা (রাযিঃ) লেখেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি পেশাব করবার ইরাদা করেন। অতঃপর তিনি একটি প্রাচীরের পাদদেশের নরম ঢালু জায়গায় গমন করে পেশাব করলেন। পরে তিনি (ﷺ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন পেশাব করবার ইরাদা করে, তখন পেশাবের জন্য সে যেন নীচু নরম স্থান নিরূপণ করে (কারণ নরম মাটিতে বা উচু থেকে নীচুতে ঢালু জায়গায় পেশাব করলে তা শরীরে লাগার সম্ভাবনা থাকে না। অনুরূপভাবে পেশাবখানা নির্মাণ করতে হয়)।

৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে যা বলতে হয়।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ

৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ - قَالَ عَنْ حَمَّادٍ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ " . وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ - قَالَ " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ " .
قَالَ أَبُو دَاوُد رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ وَقَالَ مَرَّةً أَعُوذُ بِاللَّهِ و قَالَ وُهَيْبٌ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পায়খানায় প্রবেশ করতেন, হাম্মাদের বর্ণনানুযায়ী তখন তিনি (ﷺ) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং আব্দুল ওয়ারেছের বর্ণনামতে তিনি (ﷺ) বলতেন আমি আল্লাহর নিকট খবীছ স্ত্রী ও পূরুষ শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، - يَعْنِي السَّدُوسِيَّ - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - هُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - عَنْ أَنَسٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ " . وَقَالَ شُعْبَةُ وَقَالَ مَرَّةً " أَعُوذُ بِاللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫. হাসান ইবনে আমর বর্ণনা করেন ...... উক্ত হাদীস সম্পর্কে আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। শো’বা হতে বর্ণিতঃ কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আউযুবিল্লাহ্’ বলতেন এবং আব্দুল আযীয হতে উহায়ব বর্ণনা করেছেন যে, (পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে) আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত বলে নির্দেশ দিয়েছেন —(ঐ)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

পরিচ্ছেদঃ ৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে যা বলতে হয়।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ

৬

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৬. আমর ইবনে মারযুক .... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় এই সকল পায়খানার স্থানে সাধারণতঃ শয়তান উপস্থিত হয়ে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যাওয়ার ইরাদা করে তখন সে যেন বলেঃ “আমি আল্লাহর নিকট স্ত্রী ও পুরুষ উভয় শয়তানের খারাবী হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৪. কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা করা মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ

৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قِيلَ لَهُ لَقَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ كُلَّ شَىْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ . قَالَ أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَأَنْ لاَ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ وَأَنْ لاَ يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ يَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ عَظْمٍ .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৭. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ .... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, (রাবী বর্ণনাকারী) বলেন, তাঁকে এরূপ বলা হয়েছে* যে, নিশ্চয়ই তোমাদের নবী (ﷺ) তোমাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দিয়ে থাকেন, এমনকি পায়খানার রীতিনীতি সম্পর্কেও। তদুত্তরে তিনি বলেন: হ্যাঁ নিশ্চয়ই। নবী (ﷺ) আমাদেরকে কিবুলামুখী হয়ে পেশাব–পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি (ﷺ) আরো বলেছেন: আমরা যেন ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা না করি এবং আমাদের কেউ যেন তিনটি প্রস্তরের (ঢিলা–কুলুখের) কমে ইস্তিনজা (পবিত্রতা অর্জন) না করে অথবা কেউ যেন গোবর (বা কোন নাপাক বস্তু) বা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা না করে।

*মহানবী (ﷺ) এবং তাঁর দ্বীনের উপর অপবাদ আরোপের প্রয়াসে মদীনার ইহূদীরা হযরত সালমান রাযি.–কে উক্তরূপ প্রশ্ন করেছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ فَلاَ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلاَ يَسْتَدْبِرْهَا وَلاَ يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ " . وَكَانَ يَأْمُرُ بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ وَيَنْهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য আমি দ্বীনের বিযয়সমূহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকি। অতএব তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যাওয়ার ইচ্ছা করে- সে যেন কিবলাকে সম্মুখে বা পিছনে রেখে না বসে এবং ডান হাতের দ্বারা যেন পবিত্রতা অর্জন না করে। তাছাড়া তিনি (ﷺ) আমাদেরকে তিনটি প্রস্তরের (ঢিলার) সাহায্যে (ইস্তিনজা) করার নির্দেশ দিতেন এবং সর্ব প্রকার নাপাক বস্তু ও জরাজীর্ণ হাড়ের দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেধ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، رِوَايَةً قَالَ " إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلاَ بَوْلٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا " . فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَكُنَّا نَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৯। মুসাদ্দাদ .... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানায় আসবে তখন তোমরা কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করবে না বরং তোমরা পূর্ব বা পশ্চিমমুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করবে। অতঃপর আমরা যখন শামে (সিরিয়া) উপনীত হই তখন আমরা সেখানকার পেশাব-পায়খানার ঘর ও গোসলখানা সমূহ কিবলামুখী করে দেখতে পাই সে কারণে আমরা উক্ত স্থানে পেশাব-পায়খানার সময় একটু মোড় দিয়ে বসতাম এবং আল্লাহর নিকট এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।*

* হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) উপরোক্ত হাদীস মদীনাবাসীদের লক্ষ্য করে বর্ণনা করেন। যেহেতু মদীনাবাসীদের কিবলা হল দক্ষিণ দিকে, সেজন্যে পেশাব-পায়খানার সময় তাদের পূর্ব-পশ্চিমমুখী হয়ে বসতে হবে। অনুরূপভাবে যাদের কিবলা পশ্চিম দিকে, তারা উত্তর-দক্ষিণমুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করবে। -(অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

১০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ أَبِي مَعْقِلٍ الأَسَدِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَتَيْنِ بِبَوْلٍ أَوْ غَائِطٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَبُو زَيْدٍ هُوَ مَوْلَى بَنِي ثَعْلَبَةَ .

বর্ণনাকারী: আবু মা'কিল (রাঃ)

১০. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... মা‘কাল ইবনে আবী মা‘কাল আল–আসাদী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উভয় কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন।*

* উভয় কিবলা বলতে বায়তুল্লাহ ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে বুঝানো হয়েছে। যেহেতু বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম অস্থায়ী কিবলা ছিল, তাই এর প্রতিও সম্মান প্রদর্শনার্থে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। –(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ مَرْوَانَ الأَصْفَرِ، قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ أَنَاخَ رَاحِلَتَهُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ ثُمَّ جَلَسَ يَبُولُ إِلَيْهَا فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَيْسَ قَدْ نُهِيَ عَنْ هَذَا قَالَ بَلَى إِنَّمَا نُهِيَ عَنْ ذَلِكَ فِي الْفَضَاءِ فَإِذَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ شَىْءٌ يَسْتُرُكَ فَلاَ بَأْسَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া .... মারওয়ান আল-আসফার হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে কিবলার দিকে মুখ করে তাঁর উট বসাতে দেখেছি অতঃপর তিনি উটের দিকে মুখ করে পেশাব করলেন। তখন আমি তাকে বললামঃ হে আবু আব্দুর রহমান! কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব করার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়নি কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে এই নিষেধাজ্ঞা খোলা মাঠের ব্যাপারে প্রযোজ্য। অতঃপর যখন তোমার এবং কিবলার মধ্যে আড় স্বরূপ কিছু থাকে, এমতাস্থায় কোন অন্যায় হবে না।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও অধিকাংশ ইমামের মতে কিবলার দিকে মুখ করে অথবা কিবলা পিছনে রেখে পেশাব-পায়খানা করা নাজায়েয। -(অনুবাদক)

৫. কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানার অনুমতি সম্পর্কে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

১২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ لَقَدِ ارْتَقَيْتُ عَلَى ظَهْرِ الْبَيْتِ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ একদা আমি ঘরের ছাদে উঠে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দুইটি কাঁচা ইটের উপর বসে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা করছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِبَوْلٍ فَرَأَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ يَسْتَقْبِلُهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ নবী (ﷺ) কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইন্‌তিকালের এক বছর পূর্বে আমি তাকে কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব করতে দেখেছি।*

* উল্লেখিত হাদীস দুইটি ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও অধিকাংশ ইমামের মতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ পূর্বে বর্ণিত হাদীসগুলো কাওলী (বাচনিক) আর এই দুইটি ফেলী বা ব্যবহারিক। দেখার মধ্যে ভ্রম থাকতে পারে, কিন্তু নিষেধ বাণীতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। বচন ও ব্যবহারের বৈপরিত্যে বচনের অগ্রাধিকার হয়ে থাকে।—(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬. পেশাব পায়খানার সময় কাপড় খোলা সম্পর্কে।

باب كَيْفَ التَّكَشُّفُ عِنْدَ الْحَاجَةِ

১৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ رَجُلٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ حَاجَةً لاَ يَرْفَعُ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْضِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَهُوَ ضَعِيفٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪. যুহাইর ইবনে হারব .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত নবী (ﷺ) যখন পেশাব-পায়খানার ইরাদা করতেন, তখন তিনি জমীনের নিকটবর্তী* না হওয়া পর্যন্ত কাপড় উঠাতেন না।

* জমীনের নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ হলঃ পেশাব-পায়খানার নিমিত্তে উদ্দিষ্ট স্থানে উপনীত হওয়ার পর সেখানে বসার সময় জমীনের নিকটবর্তী হলে, সে সময় তিনি পরিধেয় উম্মোচন করতেন। কেননা সতর ঢাকা ফরজ এবং বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত তা খোলা সম্পূর্ণরূপে হারাম। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭. পেশাব পায়খানার সময় কথা বলা মাকরূহ

باب كَرَاهِيَةِ الْكَلاَمِ عِنْدَ الْحَاجَةِ

১৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عِيَاضٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَخْرُجُ الرَّجُلاَنِ يَضْرِبَانِ الْغَائِطَ كَاشِفَيْنِ عَنْ عَوْرَتِهِمَا يَتَحَدَّثَانِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَمْقُتُ عَلَى ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لَمْ يُسْنِدْهُ إِلاَّ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাহঃ) ......... হিলাল ইবনে ইয়াদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ আমার নিকট আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ পেশাব-পায়খানার সময় যেন একই সঙ্গে দুই ব্যক্তি বের না হয়! এবং এক সঙ্গে সতর উম্মোচন করে পরস্পর কথাবার্তা না বলে। কেননা নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এইরূপ নির্লজ্জ কর্মের উপর বিশেষ ভাবে অসন্তুষ্ট।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৮. পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়া সম্পর্কে।

باب أَيَرُدُّ السَّلاَمَ وَهُوَ يَبُولُ

১৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَرَّ رَجُلٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَغَيْرِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَيَمَّمَ ثُمَّ رَدَّ عَلَى الرَّجُلِ السَّلاَمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬. উছমান ও আবু বকর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ একদা নবী (ﷺ) যখন পেশাব করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে গমনকালে তাকে সালাম দেয়। কিন্তু নবী (ﷺ) ঐ ব্যক্তির সালামের জবাব দেন নাই।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حُضَيْنِ بْنِ الْمُنْذِرِ أَبِي سَاسَانَ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى تَوَضَّأَ ثُمَّ اعْتَذَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ " إِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَذْكُرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ عَلَى طُهْرٍ " . أَوْ قَالَ " عَلَى طَهَارَةٍ " .

বর্ণনাকারী: মুহাজির ইবনে কুনফুয (রাঃ)

১৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... আল-মুহাজির ইবনে কুনফুয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, একদা তিনি নবী (ﷺ)-এর খেদমতে এমতাবস্থায় পৌছলেন যখন তিনি (ﷺ) পেশাবরত ছিলেন। তিনি তাকে সাল্লাম দেন কিন্তু নবী (ﷺ) উযু না করা পর্যন্ত তার সালামের জবাব থেকে বিরত থাকলেন অতঃপর তিনি তার নিকট ওযর পেশ করে বলেনঃ আমি পবিত্র হওয়া বা পবিত্রতা অর্জন করা ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলার নাম স্মরণ করা অপছন্দ করি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৯. অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর যিক্‌র সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَذْكُرُ اللَّهَ تَعَالَى عَلَى غَيْرِ طُهْرٍ

১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، - يَعْنِي الْفَأْفَاءَ - عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ রাসূলূল্লাহ (ﷺ) সর্বদাই আল্লাহ্ তাআলার যিক্‌রে মশগুল থাকতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

১০. মহান আল্লাহর নাম খোদিত আংটিসহ পায়খানায় গমন সম্পর্কে।

باب الْخَاتَمِ يَكُونُ فِيهِ ذِكْرُ اللَّهِ يَدْخُلُ بِهِ الْخَلاَءَ

১৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْحَنَفِيِّ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ وَضَعَ خَاتَمَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ وَإِنَّمَا يُعْرَفُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ ثُمَّ أَلْقَاهُ . وَالْوَهَمُ فِيهِ مِنْ هَمَّامٍ وَلَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ هَمَّامٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯. নসর ইবনে আলী ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) পায়খানায় গমনকালে তাঁর হাতের আংটি খুলে যেতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১. পেশাব হতে পবিত্রতা অর্জন করা সম্পর্কে।

باب الاِسْتِبْرَاءِ مِنَ الْبَوْلِ

২০

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ " إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا هَذَا فَكَانَ لاَ يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ وَأَمَّا هَذَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ " . ثُمَّ دَعَا بِعَسِيبٍ رَطْبٍ فَشَقَّهُ بِاثْنَيْنِ ثُمَّ غَرَسَ عَلَى هَذَا وَاحِدًا وَعَلَى هَذَا وَاحِدًا وَقَالَ " لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا " . قَالَ هَنَّادٌ " يَسْتَتِرُ " . مَكَانَ " يَسْتَنْزِهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০. যুহাইর ইবনে হারব .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, একদা নবী (ﷺ) দুইটি তিনি একটি কবরের পাশ দিয়ে গমনকালে বললেনঃ নিশ্চয়ই এই দুই ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এদের কোন বড় ধরনের অন্যায়ের জন্য নয়। অতঃপর তিনি একটি কবরের প্রতি ইশারা করে বলেনঃ এই ব্যক্তিকে পেশাব হতে সঠিকভাবে পবিত্রতা অর্জন না করার কারণে এরপর (দ্বিতীয় কবরের প্রতি ইশারা করে বললেন) এই ব্যক্তিকে পরনিন্দা করে বেড়ানো হেতু আযাব দেয়া হচ্ছে অতঃপর তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল সংগ্রহ করে তা দুই ভাগে বিভক্ত করলেন এবং দুইটি কবরের উপর স্থাপন করলেন এবং বললেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত না এই দুইটি ডালের অংশ শুকাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এদের আযাব কম হবে।

হান্নাদের বর্ণনা মতে, (يستنزه) এর স্থলে (يستتر) শব্দটি হবে।*

* (يستنزه) অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা এবং (يستتر) অর্থ পর্দা করা। হাদীসের অর্থ হবে পেশাবের সময় পর্দা না করার কারণে ঐ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " كَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ " . وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ " يَسْتَنْزِهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১. উছমান ইবনে আবী শায়বা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে পূর্ববর্তী অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জারীরের মতানুযায়ী কবরে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি পর্দা করত না এবং আবু মুআবিয়ার বর্ণনানুযায়ী (يستتر) শব্দের পরিবর্তে (يستنزه) শব্দের উল্লেখ রয়েছে।
২২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ وَمَعَهُ دَرَقَةٌ ثُمَّ اسْتَتَرَ بِهَا ثُمَّ بَالَ فَقُلْنَا انْظُرُوا إِلَيْهِ يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ . فَسَمِعَ ذَلِكَ فَقَالَ " أَلَمْ تَعْلَمُوا مَا لَقِيَ صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا أَصَابَهُمُ الْبَوْلُ قَطَعُوا مَا أَصَابَهُ الْبَوْلُ مِنْهُمْ فَنَهَاهُمْ فَعُذِّبَ فِي قَبْرِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَنْصُورٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسَى فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " جِلْدَ أَحَدِهِمْ " . وَقَالَ عَاصِمٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَسَدَ أَحَدِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২২. মুসাদ্দাদ .... আব্দুর রহমান ইবনে হাসানা হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদা আমি এবং আমর ইবনুল-আস (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট যাচ্ছিলাম। নবী (ﷺ) একটি ঢালসহ বের হলেন, অতঃপর ঢালটি আড়াল করে (অন্যদের হতে পর্দার উদ্দেশ্যে) পেশাব করলেন। আমরা পরস্পর বললাম, তোমরা তাঁর প্রতি লক্ষ্য কর, তিনি মহিলাদের ন্যায় পেশাব করছেন। নবী (ﷺ) তাদের এহেন বক্তব্য শুনতে পেয়ে বলেনঃ তোমরা কি জাননা বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির অবস্থা কি হয়েছিল? তাদের কারো পরিধেয় বস্ত্রে পেশাব লেগে গেলে তারা সে অংশ কেটে ফেলতো। অতঃপর এই ব্যক্তি তাদের এরূপ করতে নিষেধ করায় তাকে কবরে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।*

* বনী ইসরাঈলদের শরীমাত অনুযায়ী কাপড়ের কোন অংশে পেশাব-পায়খানা লাগলে তা কেটে ফেলার বিধান ছিল। এমনকি শরীরের কোন অংশে পেশাব-পায়খানা লাগলে উক্ত স্থানের চামড়া কেটে ফেলতে হত। উক্ত ব্যক্তি তাদেরকে শরীআতের এইরূপ নির্দেশ মেনে চলতে নিষেধ করায় মৃত্যুর পর তাকে কবরে শাস্তি প্রদান করা হয়। মহানবী (ﷺ)-এর উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করার একমাত্র উদ্দেশ্য এই যে, শরীআতের প্রতিটি বিধি-ব্যবস্থা অবশ্যই পালনীয়। এখানে কারও কিছু বলবার অধিকার নেই।
উল্লেখ্য যে, ইসলামের পূর্ব যুগে পুরুষেরা পেশাব-পায়খানা করার সময় কোনরূপ পর্দা করত না। নবী করীম (ﷺ)-কে সর্বপ্রথম এরূপ পর্দা করে পেশাব করতে দেখায় তারা বিস্মীত হন এবং বলেনঃ ইনি মহিলাদের মত বসে পেশাব করছেন। কেননা তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী পুরুষেরা স্বভাবতই দাঁড়িয়ে বা খোলা জায়গায় অনাবৃত অবস্থায় পেশাব করত। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

১২. দাঁড়িয়ে পেশাব করা সম্পর্কে।

باب الْبَوْلِ قَائِمًا

২৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - وَهَذَا لَفْظُ حَفْصٍ - عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ فَذَهَبْتُ أَتَبَاعَدُ فَدَعَانِي حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৩. হাফস ইবনে উমর .... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানের নিকট যাওয়ার সময় সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। অতঃপর পানি চেয়ে নেন এবং মোজার উপর মাসাহ্ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩. রাতে পাত্রে পেশাব করে তা নিকটবর্তী স্থানে রাখা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَبُولُ بِاللَّيْلِ فِي الإِنَاءِ ثُمَّ يَضَعُهُ عِنْدَهُ

২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ حُكَيْمَةَ بِنْتِ أُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ، عَنْ أُمِّهَا، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدَحٌ مِنْ عَيْدَانٍ تَحْتَ سَرِيرِهِ يَبُولُ فِيهِ بِاللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ)

২৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... হাকীমা বিনতে উমায়মাহ্ থেকে তাঁর মাতার সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ)-এর একটি কাঠের পাত্র ছিল, তা তিনি তাঁর খাটের নীচে রাখতেন এবং রাত্রিকালে তাতে পেশাব করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

১৪. যে যে স্থানে পেশাব করা নিষেধ।

باب الْمَوَاضِعِ الَّتِي نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبَوْلِ فِيهَا

২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اتَّقُوا اللاَّعِنَيْنِ " . قَالُوا وَمَا اللاَّعِنَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ ظِلِّهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা এমন দুইটি কাজ হতে বিরত থাক যা অভিশপ্ত। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেই অভিশপ্ত কাজ দুইটি কি? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মানুষের যাতায়াতের পথে কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে (বৃক্ষের ছায়ায় যেখানে মানুষ বিশ্রাম গ্রহণ করে) পেশাব-পায়খানা করে।*

* সাধারণতঃ গাছের নীচে পেশাব-পায়খানা করা নিষেধ নয়। উপরোক্ত হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা পরিলক্ষিত হয় তা কেবল সেই সমস্ত বৃক্ষের ছায়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে মানুষ চলাফেরার সময় বিশ্রাম গ্রহণ করে। থাকে। উল্লেখ্য যে, যেসব স্থানে পেশাব-পায়খানা করলে মানুষের কষ্ট হয়- যেমন পথে, ঘাটে ও বিশ্রামের উপযোগী ছায়াযুক্ত স্থানে পেশাব-পায়খানা করা নিষেধ। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

২৬

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبُو حَفْصٍ، وَحَدِيثُهُ، أَتَمُّ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْحِمْيَرِيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اتَّقُوا الْمَلاَعِنَ الثَّلاَثَ الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ وَالظِّلِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৬. ইসহাক ইবনে সুওয়াইদ .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি অভিসষ্পাত যোগ্য কাজ থেকে দূরে থাকঃ পানিতে থুথু ফেলা, যাতায়াতের পথে এবং ছায়াদানের স্থানে মলত্যাগ করা।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

১৫. গোসলখানার মধ্যে পেশাব করা সম্পর্কে।

باب فِي الْبَوْلِ فِي الْمُسْتَحَمِّ

২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ، وَقَالَ الْحَسَنُ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ " . قَالَ أَحْمَدُ " ثُمَّ يَتَوَضَّأُ فِيهِ فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

২৭. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গোসলখানায় পেশাব না করে, অতঃপর সে স্থানে গোসল করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَمَا صَحِبَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَمْتَشِطَ أَحَدُنَا كُلَّ يَوْمٍ أَوْ يَبُولَ فِي مُغْتَسَلِهِ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২৮. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... হুমায়েদ আল-হিময়ারী হতে বর্ণিত। তিনি আব্দুর রহমানের পুত্র। তিনি বলেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করেছি, যিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর মত নবী (ﷺ)-এর সাথী ছিলেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যহ চুল আঁচড়াতে এবং গোসলখানায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।*

* উপরোক্ত হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা পরিলক্ষিত হয়, তা হারাম নয় বরং মাকরূহ। এখানে গর্ব ও অহংকার হতে নিবৃত রাখার উদ্দেশ্যে প্রত্যহ চুল আঁচড়ান হতে বিরত থাকার থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। - (অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

১৬. গর্তে পেশাব করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الْبَوْلِ، فِي الْجُحْرِ

২৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي الْجُحْرِ . قَالَ قَالُوا لِقَتَادَةَ مَا يُكْرَهُ مِنَ الْبَوْلِ فِي الْجُحْرِ قَالَ كَانَ يُقَالُ إِنَّهَا مَسَاكِنُ الْجِنِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

২৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে সারজিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) গর্তের মধ্যে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন রাবী বলেন, লোকজন কাতাদা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, গর্তে পেশাব করা নিষেধ কেন? রাবী বলেনঃ এরূপ প্রবাদ আছে যে- জ্বীনেরা (সাধারণতঃ) গর্তে বসবাস করে থাকে।*

* এতদ্ব্যতীত অনেক সময় গর্তের মধ্যে সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, বিষাক্ত পোকা-মাকড় ইত্যাদি বসবাস করে থাকে। সেখানে পেশাব করলে কষ্টদায়ক জন্তু মানুষের ক্ষতি করতে পারে; অপর পক্ষে দুর্বল প্রাণী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

১৭. পায়খানা হতে বের হয়ে পড়বার দু'আ।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ

৩০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْغَائِطِ قَالَ " غُفْرَانَكَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০. আমর ইবনে মুহাম্মাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত নবী (ﷺ) পায়খানা হতে বের হয়ে (غُفْرَانَكَ) ‘গুফরানাকা’ বলতেন। (অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

১৮. ইস্তিনজা করার সময় ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ مَسِّ الذَّكَرِ بِالْيَمِينِ فِي الاِسْتِبْرَاءِ

৩১

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَإِذَا أَتَى الْخَلاَءَ فَلاَ يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ وَإِذَا شَرِبَ فَلاَ يَشْرَبْ نَفَسًا وَاحِدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩১. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... ইয়াহয়া ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু কাতাদা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পেশাবের সময় তোমাদের কেউ যেন ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং পায়খানার পর ডান হাত দিয়ে কুলুখ ব্যবহার না করে এবং পানি পান করার সময় এক দমে যেন পানি পান না করে।*

* উপরোক্ত হাদীসে যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে তার কারণ এই যে, যেহেতু ডান হাত দ্বারা মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে থাকে, এজন্য পেশাব-পায়খানারূপ ঘৃণার বস্তু হতে ডান হাত পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ। এই নিষেধ অর্থ মাকরূহ। অপরপক্ষে এক নিঃশ্বাসে পানি পান করলে হঠাৎ দম আটকিয়ে যেতে পারে বা পাকস্থলী ভারী হয়ে অনেক ক্ষতির আশংকা দেখা দিতে পারে। এইজন্য তিনবার তিন শ্বাসে ধীরে ধীরে পানি পান করা যুক্তি সংগত ও সুন্নত। -(অনুবাদক)
৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ، - يَعْنِي الإِفْرِيقِيَّ - عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، وَمَعْبَدٍ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْعَلُ يَمِينَهُ لِطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ وَثِيَابِهِ وَيَجْعَلُ شِمَالَهُ لِمَا سِوَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৩২. মুহাম্মাদ ইবনে আদম .... নবী (ﷺ)-এর প্রিয় সহধর্মিনী হাফছা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ নবী (ﷺ) খাদ্য গ্রহণ, পানি পান ও বস্ত্র পরিধানের সময় স্বীয় ডান হাত ব্যবহার করতেন, এছাড়া অন্যান্য যাবতীয় কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন। (অর্থাৎ তিনি ভাল কাজের জন্য ডান হাত এবং নিকৃষ্ট কাজের জন্য বাম হাত ব্যবহার করতেন)

৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيُمْنَى لِطُهُورِهِ وَطَعَامِهِ وَكَانَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى لِخَلاَئِهِ وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৩. আবু তাওবা আর রবী ইবনে নাফে, আসওয়াদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডান হাত পবিত্রতা অর্জন ও খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত হত এবং বাম হাত শৌচকর্ম ও এ ধরনের নিকৃষ্ট কাজের জন্য ব্যবহৃত হত।

৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

১৯. পেশাব-পায়খানার সময় পর্দা করা।

باب الاِسْتِتَارِ فِي الْخَلاَءِ

৩৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنِ الْحُصَيْنِ الْحُبْرَانِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لاَ فَلاَ حَرَجَ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لاَ فَلاَ حَرَجَ وَمَنْ أَكَلَ فَمَا تَخَلَّلَ فَلْيَلْفِظْ وَمَا لاَكَ بِلِسَانِهِ فَلْيَبْتَلِعْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لاَ فَلاَ حَرَجَ وَمَنْ أَتَى الْغَائِطَ فَلْيَسْتَتِرْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ إِلاَّ أَنْ يَجْمَعَ كَثِيبًا مِنْ رَمْلٍ فَلْيَسْتَدْبِرْهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِمَقَاعِدِ بَنِي آدَمَ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لاَ فَلاَ حَرَجَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ثَوْرٍ قَالَ حُصَيْنٌ الْحِمْيَرِيُّ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الصَّبَّاحِ عَنْ ثَوْرٍ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ هُوَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি এরূপ করে সে উত্তম কাজ করে এবং যে এরূপ করে না, এতে কোন ক্ষতি নেই।

যে ব্যক্তি কুলুখ ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে। যে এরূপ করে, সে উত্তম কাজ করে এবং যে ব্যক্তি এরূপ করে না, এতে কোন ক্ষতি নেই।

খাদ্য গ্রহণের পর যে ব্যক্তি খিলাল দ্বারা দাঁত হতে খাদ্যের ভুক্ত অংশ বের করে; সে যেন তা ফেলে দেয় এবং জিহবার স্পর্শে যা বের হয়, তা যেন খেয়ে ফেলে। যে ব্যক্তি এরূপ করে সে উত্তম কাজ করে এবং যে এরূপ করে না তাতে কোন ক্ষতি নেই।

যে ব্যক্তি পায়খানায় গমন করে, সে যেন পর্দা করে। যদি পর্দা করার মত কোন বস্তু সে না পায়, তবে সে যেন অন্ততঃ বালুর স্তুপ করে তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসে। কেননা শয়তান বনী আদমের গুপ্তাঙ্গ (পর্দার স্থান অর্থাৎ পেশাব- পায়খানার স্থান) নিয়ে খেলা করে। যে ব্যক্তি এরূপ করে সে উত্তম কাজ করে এবং যে এরূপ করে না তাতে কোন দোষ নেই।*

* পেশাব পায়খানার সময় এমন স্থানে বসা একান্ত কর্তব্য; যাতে লজ্জাস্থান অন্য কেউ দেখতে না পারে। হাদীসের মধ্যে 'শয়তান খেলা করে' এই পর্যায়ে যে বক্তব্য এসেছে তার অর্থ এই যেঃ পেশাব-পায়খানার সময় পর্দাহীন অবস্থায় বসলে শয়তান অন্যদেরকে তার লজ্জাস্থানের প্রতি নজর করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে এবং বাতাস প্রবাহিত করে তার শরীর ও কাপড়-চোপড়ে ময়লা লাগাবার চেষ্টা করে, এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষতি করার জন্যও তৎপর থাকে। তাই পর্দার সাথে পেশাব পায়খানা করা উত্তম। (অনুবাদক)

২০. যে সমস্ত জিনিস দ্বারা ইস্তিনজা করা নিষেধ।

باب مَا يُنْهَى عَنْهُ أَنْ يُسْتَنْجَى بِهِ

৩৬

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، - يَعْنِي ابْنَ فَضَالَةَ الْمِصْرِيَّ - عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ الْقِتْبَانِيِّ، أَنَّ شُيَيْمَ بْنَ بَيْتَانَ، أَخْبَرَهُ عَنْ شَيْبَانَ الْقِتْبَانِيِّ، قَالَ إِنَّ مَسْلَمَةَ بْنَ مُخَلَّدٍ اسْتَعْمَلَ رُوَيْفِعَ بْنَ ثَابِتٍ، عَلَى أَسْفَلِ الأَرْضِ . قَالَ شَيْبَانُ فَسِرْنَا مَعَهُ مِنْ كُومِ شَرِيكٍ إِلَى عَلْقَمَاءَ أَوْ مِنْ عَلْقَمَاءَ إِلَى كُومِ شَرِيكٍ - يُرِيدُ عَلْقَامَ - فَقَالَ رُوَيْفِعٌ إِنْ كَانَ أَحَدُنَا فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَأْخُذُ نِضْوَ أَخِيهِ عَلَى أَنَّ لَهُ النِّصْفَ مِمَّا يَغْنَمُ وَلَنَا النِّصْفُ وَإِنْ كَانَ أَحَدُنَا لَيَطِيرُ لَهُ النَّصْلُ وَالرِّيشُ وَلِلآخَرِ الْقَدَحُ . ثُمَّ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِي فَأَخْبِرِ النَّاسَ أَنَّهُ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوِ اسْتَنْجَى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مِنْهُ بَرِيءٌ " .

বর্ণনাকারী: রুওয়াইফি' ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৬. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ .... শাইবান আল-কিতবাণী হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ (রাযিঃ) রুয়াইফে ইবনে ছাবিতকে আসফালে আরবের (মিসরে অবস্হিত একটি অঞ্চলের নাম) আমীর নিযুক্ত করেন। শাইবান বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর সাথে ‘কুমে শারীক’ (স্থানের নাম) হতে আলকামা (স্থানের নাম) অথবা আলকামা হতে কুমে শারীক দিকে সফর করছিলাম। তাঁর গণ্তব্য স্থান ছিল আলকাম।*

রুয়াইফে (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় আমাদের (আর্থিক) অবস্থা এমন (শোচনীয়) ছিল যে, একজন তার ধর্মীয় ভাই হতে দূর্বল উট (যেহেতু মুসলমানদের নিকট বলিষ্ঠ উট সে সময় ছিল না) এই শর্তে গ্রহণ করত যে, জিহাদে যে গনিমতের মাল পাওয়া যাবে তার অর্ধাংশ উট গ্রহণকারীর (যোদ্ধার) এবং বাকী অর্ধাংশ উটের মালিকের প্রাপ্য। (ইসলামের প্রথম দিকে গনিমতের মালের পরিমাণও এত কম ছিল যে) একজনের ভাগে যদি তরবারির খাপ ও তীরের পালক পড়ত, তবে অপরের অংশে পড়ত পালকবিহীন তীর।

অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ হে রুয়াইফে! সম্ভবতঃ তুমি আমার পরে দীর্ঘদিন জীবিত থাকবে। অতএব তুমি লোকদেরকে এই খবর দিবেঃ যে ব্যক্তি দাড়িতে গিরা দেয়, গলায় তাবিজ লাগায়, অথবা চতুষ্পদ জন্তুর মল বা হাড় দ্বারা ইস্তিনজা করে নিশ্চয়ই (আমি) মুহাম্মাদ (ﷺ) তার উপর অসন্তষ্ট।

* আলকামা-মিসরে অবস্থিত একটি বিশেষ স্থানের নাম। আলকাম ও আলকামা এক নয়, বরং বিভিন্ন স্থানের নাম। – (অনুবাদক)
৩৭

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ عَيَّاشٍ، أَنَّ شُيَيْمَ بْنَ بَيْتَانَ، أَخْبَرَهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، أَيْضًا عَنْ أَبِي سَالِمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، يَذْكُرُ ذَلِكَ وَهُوَ مَعَهُ مُرَابِطٌ بِحِصْنِ بَابِ أَلْيُونَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حِصْنُ أَلْيُونَ عَلَى جَبَلٍ بِالْفُسْطَاطِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ شَيْبَانُ بْنُ أُمَيَّةَ يُكْنَى أَبَا حُذَيْفَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৭. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

৩৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَتَمَسَّحَ بِعَظْمٍ أَوْ بَعْرٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... জাবের ইবনু-আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে হাড় ও গোবরের দ্বারা ইস্তিনজা করতে নিযেধ করেছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৯

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَدِمَ وَفْدُ الْجِنِّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ انْهَ أُمَّتَكَ أَنْ يَسْتَنْجُوا بِعَظْمٍ أَوْ رَوْثَةٍ أَوْ حُمَمَةٍ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَعَلَ لَنَا فِيهَا رِزْقًا . قَالَ فَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৯. হায়ওত ইবনে শুরায়হ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা জ্বীনদের একটি প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার উম্মতকে হাড়, গোবর, কয়লা দ্বারা ইস্তিনজা করতে নিষেধ করুন। কেননা মহান আল্লাহ্ এগুলোর মধ্যে আমাদের জীবিকা নিহীত রেখেছেন। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

২১. পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করা সম্পর্কে।

باب الاِسْتِنْجَاءِ بِالْحِجَارَةِ

৪০

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ قُرْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০. সাঈদ ইবনে মানসুর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় গমন করে, তখন সে যেন তার সাথে তিনটি পাথর (কুলুখ) নিয়ে যায়, যা দ্বারা সে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৪১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ خُزَيْمَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِسْتِطَابَةِ فَقَالَ " بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ لَيْسَ فِيهَا رَجِيعٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا رَوَاهُ أَبُو أُسَامَةَ وَابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامٍ يَعْنِي ابْنَ عُرْوَةَ .

বর্ণনাকারী: খুযাইমা ইবনে ছাবিত আনসারী (রাঃ)

৪১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ..... খুযায়মা ইবনে ছাবেত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ একদা নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, ইস্তিনজার সময় কয়টি পাথর (কুলুখ) ব্যবহার করা উচিত? জবাবে তিনি বলেনঃ তিনটি প্রস্তর, যার মধ্যে গোবর থাকবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

২২. পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে।

باب فِي الاِسْتِبْرَاءِ

৪২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْمُقْرِئُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى التَّوْأَمُ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْقُوبَ التَّوْأَمُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عُمَرُ خَلْفَهُ بِكُوزٍ مِنْ مَاءٍ فَقَالَ " مَا هَذَا يَا عُمَرُ " . فَقَالَ هَذَا مَاءٌ تَتَوَضَّأُ بِهِ . قَالَ " مَا أُمِرْتُ كُلَّمَا بُلْتُ أَنْ أَتَوَضَّأَ وَلَوْ فَعَلْتُ لَكَانَتْ سُنَّةً " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেশাব করলেন। তখন উমর (রাযিঃ) পানির লোটা বা বদনা নিয়ে তাঁর পশ্চাতে দণ্ডায়মান হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে উমর! এটা কি? জবাবে উমর (রাযিঃ) বলেন! এটা আপনার পানি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ পেশাব করার পর পরই আমাকে উযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমি যদি এরূপ করি, তবে এটা আমার উম্মতের জন্য অবশ্য করণীয় হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

২৩. পানি দিয়ে শৌচ করা।

باب فِي الاِسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ

৪৩

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، - يَعْنِي الْوَاسِطِيَّ - عَنْ خَالِدٍ، - يَعْنِي الْحَذَّاءَ - عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ حَائِطًا وَمَعَهُ غُلاَمٌ مَعَهُ مِيضَأَةٌ وَهُوَ أَصْغَرُنَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ السِّدْرَةِ فَقَضَى حَاجَتَهُ فَخَرَجَ عَلَيْنَا وَقَدِ اسْتَنْجَى بِالْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা প্রাচীরের মধ্যে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে একটি গোলাম (ছোট ছেলে) ছিল। গোলামের নিকট একটি উযুর পানির পাত্র ছিল এবং সে আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিল। সে পাত্রটি একটি কুল গাছের নিকটে রাখল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেশাব-পায়খানান্তে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করে আমাদের নিকট ফিরে আসলেন।

৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي أَهْلِ قُبَاءَ ( فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا ) قَالَ كَانُوا يَسْتَنْجُونَ بِالْمَاءِ فَنَزَلَتْ فِيهِمْ هَذِهِ الآيَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪. মুহাম্মাদ ইবনুূল আলা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ এই আয়াত কুবাবাসীদের শানে নাযিল হয়েছে- “সেখানে এমন লোক আছে- যারা পাক-পবিত্র থাকতে ভালবাসে” রাবী বলেনঃ তারা পানি ধারা ইস্তিনজা করতেন। সে কারণে তাদের শানে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪. ইস্তিনজার পর মাটিতে হাত ঘষা।

باب الرَّجُلِ يُدَلِّكُ يَدَهُ بِالأَرْضِ إِذَا اسْتَنْجَى

৪৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، وَهَذَا، لَفْظُهُ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي الْمُخَرِّمِيَّ - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى الْخَلاَءَ أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فِي تَوْرٍ أَوْ رَكْوَةٍ فَاسْتَنْجَى . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ وَكِيعٍ ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِإِنَاءٍ آخَرَ فَتَوَضَّأَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ الأَسْوَدِ بْنِ عَامِرٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫. ইবরাহীম ইবনে খালিদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) পায়খানায় গমন করতেন তখন আমি তাঁর জন্য পিতল বা চামড়ার পাত্রে পানি নিয়ে যেতাম। অতঃপর তিনি ইস্তিনজা করে মাটিতে হাত মলতেন। অতঃপর আমি অন্য একটি পাত্রে পানি আনতাম, যদ্বারা তিনি উযু করতেন।

২৫. মেসওয়াক করা সম্পর্কে।

باب السِّوَاكِ

৪৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَرْفَعُهُ قَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ، عَلَى الْمُؤْمِنِينَ لأَمَرْتُهُمْ بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ وَبِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যদি আমি মুমিনদের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদেরকে এশার নামায বিলম্বে (রাত্রির এক-তৃতীয়াংশে পর) পড়তে ও প্রত্যেক নামাযের সময় মেস্ওয়াক করতে নির্দেশ দিতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৪৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَرَأَيْتُ زَيْدًا يَجْلِسُ فِي الْمَسْجِدِ وَإِنَّ السِّوَاكَ مِنْ أُذُنِهِ مَوْضِعُ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ فَكُلَّمَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ اسْتَاكَ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৪৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা ..... যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের সময় মেস্ওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

আবু সালামা (রাহঃ) বলেন, অতঃপর আমি যায়দ (রাযিঃ)-কে মসজিদে এমতাবস্থায় বসতে দেখেছি যে, মেস্ওয়াক ছিল তাঁর কানের ঐ স্থানে, যেখানে সাধারণতঃ লেখকের কলম থাকে। অতঃপর যখনই তিনি নামাযের জন্য দাঁড়াতেন- মেস্ওয়াক করে নিতেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ تَوَضُّؤَ ابْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا وَغَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّ ذَاكَ فَقَالَ حَدَّثَتْنِيهِ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمِرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا وَغَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ أُمِرَ بِالسِّوَاكِ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَرَى أَنَّ بِهِ قُوَّةً فَكَانَ لاَ يَدَعُ الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلاَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) এর নাতিকে জিজ্ঞাসা করলাম, উমর (রাযিঃ) উযু থাকা বা না থাকা অবস্হায় প্রত্যেক নামাযের সময় কেন উযু করেন? জবাবে তিনি একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দেন, আসমা বিনতে যায়দ ইবনে খাত্তাব বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে হানযালা ইবনে আবু আমির তাঁর (আসমার) নিকট বলেছেনঃ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযু থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থাতেই প্রত্যেক নামাযের সময় উযু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।*

নবী (ﷺ)-এর উপর তা কষ্টদায়ক হলে তাকে প্রত্যেক নামাযের সময় উযু থাকা অবস্থায় শুধু মেস্ওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হয়।** অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) এর প্রত্যেক নামাযের সময় উযু করার ক্ষমতা ছিল বিধায় তিনি কোন নামাযের সময় উযু পরিত্যাগ করতেন না।

* একবার উযু করে তা দ্বারা কয়েক ওয়াক্তের নামায আদায় করা জায়েজ। এমতাবস্থায় উযু থাকা সত্ত্বেও নতুনভাবে উযু করে নামায আদায় করা মুস্তাহাব। অপবিত্রতা বা বিনা উযুতে নামায পড়া জায়েজ নাই-(অনুবাদক)

** হানাফী মাযহাব অনুসারে উযু করার সময় মেস্ওয়াক করা সুন্নত। নামাযের পূর্বে যদি কেউ মেসওয়াক করে এবং দাঁত হতে রক্ত নির্গত হয়, তবে সরাসরি নতুনভাবে উযু করে নামায আদায় করা একান্ত কর্তব্য। নামাযের পূর্বে মেস্ওয়াক করার বিধান শাফিঈ মাযহাবে রয়েছে। -(অনুবাদক)

২৬. মেসওয়াক করার নিয়ম সম্পর্কে।

باب كَيْفَ يَسْتَاكُ

৪৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَرَأَيْتُهُ يَسْتَاكُ عَلَى لِسَانِهِ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْتَاكُ وَقَدْ وَضَعَ السِّوَاكَ عَلَى طَرَفِ لِسَانِهِ - وَهُوَ يَقُولُ " إِهْ إِهْ " . يَعْنِي يَتَهَوَّعُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فَكَانَ حَدِيثًا طَوِيلاً اخْتَصَرْتُهُ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৪৯. মুসাদ্দাদ ও সুলাইমান .... আবু বুরদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে (যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য যানবাহন হিসাবে) উট চাইলাম। এ সময় আমি তাকে জিহ্বার উপর মেসওয়াক করতে দেখি। সুলাইমানের বর্ণনা মতেঃ আমি (আবু বুরদা) নবী (ﷺ)-এর খিদমতে এমন সময় হাযির হই যখন তিনি মেস্ওয়াক করছিলেন। এসময় তিনি তাঁর মেস্ওয়াক জিহ্বার এক পাশে রেখে আহ! আহ!! বলছিলেন, অর্থাৎ যেন বমির ভাব করছিলেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

২৭. অন্যের মেসওয়াক দিয়ে দাতন করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَسْتَاكُ بِسِوَاكِ غَيْرِهِ

৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَنُّ وَعِنْدَهُ رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الآخَرِ فَأُوحِيَ إِلَيْهِ فِي فَضْلِ السِّوَاكِ " أَنْ كَبِّرْ " . أَعْطِ السِّوَاكَ أَكْبَرَهُمَا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মেস্ওয়াক করছিলেন। এ সময় তাঁর নিকট এমন-দুইজন লোক ছিল যাদের একজন অন্যজন হতে (বয়সে বা সম্মানে) বড় ছিল। এসময় তাঁর নিকট মেস্ওয়াকের ফযীলত সম্পর্কে আল্লাহ্ ওহী নাযিল করেন, বড় জনকে মেস্ওয়াক প্রদান করুন।*

* সম্ভবতঃ বড়জনের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে বা তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর ডান পার্শ্বে অবস্থান করায় এই গৌরবের অধিকারী হন। -(অনুবাদক)
৫১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يَبْدَأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ قَالَتْ بِالسِّوَاكِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫১. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আল-মিকদাদ ইবনে শুরায়হ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করে সর্ব প্রখম কোন কাজ করতেন? তিনি বলেন, মেস্ওয়াক দিয়ে দাঁত মাঝা।

২৮. মেসওয়াক ধৌত করা সম্পর্কে।

باب غَسْلِ السِّوَاكِ

৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ الْحَاسِبُ، حَدَّثَنِي كَثِيرٌ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَاكُ فَيُعْطِينِي السِّوَاكَ لأَغْسِلَهُ فَأَبْدَأُ بِهِ فَأَسْتَاكُ ثُمَّ أَغْسِلُهُ وَأَدْفَعُهُ إِلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) মেস্ওয়াক করার পর তাঁর মেস্ওয়াক আমাকে ধৌত করতে দিতেন। অতঃপর আমি উক্ত মেস্ওয়াক দ্বারা (বরকত হাছিলের জন্য) নিজে মেস্ওয়াক করতাম। পরে আমি তা ধৌত করে (সংরক্ষণের জন্য) তাঁর নিকট প্রদান করতাম।

২৯. মেসওয়াক করা স্বভাবসুলভ কাজ।

باب السِّوَاكِ مِنَ الْفِطْرَةِ

৫৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ ابْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ وَالاِسْتِنْشَاقُ بِالْمَاءِ وَقَصُّ الأَظْفَارِ وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ وَنَتْفُ الإِبِطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ " . يَعْنِي الاِسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ . قَالَ زَكَرِيَّا قَالَ مُصْعَبٌ وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসুলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ দশটি কাজ স্বভাবজাতঃ* ১। গোঁফ ছোট করা ২। দাড়ি লম্বা করা ৩। মেস্ওয়াক করা ৪। নাকের ছিদ্রে পানি প্রবেশ করান ৫। নখ কাটা ৬। উযু-গোসলের সময় আঙ্গুলের গিরা ও জোড়সমূহ ধৌত করা ৭। বগলের পশম পরিষ্কার করা ৮। নাভির নীচের লোম পরিস্কার করা ৯। পানির দ্বারা ইস্তিনজা করা। রাবী যাকারিয়া বলেন, মূসআব বলেছেন, আমি দশম নম্বরটি ভুলে গিয়েছি; তবে সম্ভবত তা হল কুলকুচা করা।

* ফিতরাত শব্দের আভিধানিক অর্থ- স্বভাবজাত, পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের যে সমস্ত সুন্নত উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য শরীআতের অন্যতম বিধান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত আছে, এখানে সেগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটাই ফিতরাত বা মানুষের স্বভাবজাত কাজ বলে পরিচিত। -(অনুবাদক)
৫৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَدَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ مُوسَى عَنْ أَبِيهِ، - وَقَالَ دَاوُدُ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مِنَ الْفِطْرَةِ الْمَضْمَضَةَ وَالاِسْتِنْشَاقَ " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ إِعْفَاءَ اللِّحْيَةِ وَزَادَ " وَالْخِتَانَ " . قَالَ " وَالاِنْتِضَاحَ " . وَلَمْ يَذْكُرِ " انْتِقَاصَ الْمَاءِ " . يَعْنِي الاِسْتِنْجَاءَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ نَحْوُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَقَالَ خَمْسٌ كُلُّهَا فِي الرَّأْسِ وَذَكَرَ فِيهَا الْفَرْقَ وَلَمْ يَذْكُرْ إِعْفَاءَ اللِّحْيَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ نَحْوُ حَدِيثِ حَمَّادٍ عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ وَمُجَاهِدٍ وَعَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ قَوْلُهُمْ وَلَمْ يَذْكُرُوا إِعْفَاءَ اللِّحْيَةِ . وَفِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ نَحْوُهُ وَذَكَرَ إِعْفَاءَ اللِّحْيَةِ وَالْخِتَانَ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৫৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ফিতরাতের মধ্যে কুলকুচা করা ও নাকে পানি প্রবেশ করানো (শামিল)। অতঃপর রাবী হাদীসঢি পুর্বোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ব্যতিক্রম এই যে ’দাড়ি লম্বা করা’ (إِعْفَاءَ اللِّحْيَة) শব্দটি এখানে উল্লেখিত হয় নাই এবং ’খাতনা করা’ (الْخِتَان) শব্দটি এখানে আছে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করার পরিবর্তে (الاِنْتِضَاح) অর্খাৎ পেশাব-পায়খানা করার পর লজ্জাস্থানের উপর সামান্য পানি ছিটানো শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

৩০. ঘুম হতে জাগ্রত হওয়ার পর মেসওয়াক করা সম্পর্কে।

باب السِّوَاكِ لِمَنْ قَامَ مِنَ اللَّيْلِ

৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَحُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৫৫. যুহামাদ ইবনে কাছীর .... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাত্রিতে ঘুম হতে জাগরনের পর মেস্ওয়াক দ্বারা নিজের পবিত্র মুখ ও দাঁত পরিস্কার করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৫৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوضَعُ لَهُ وَضُوءُهُ وَسِوَاكُهُ فَإِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ تَخَلَّى ثُمَّ اسْتَاكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর ব্যবহারের জন্য উযুর পানি ও মেস্ওয়াক রাখা হত অতঃপর রাতে ঘুম হতে উঠার পর তিনি প্রথমে পেশাব-পায়খানা করতেন, পরে মেস্ওয়াক করতেন।

৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَرْقُدُ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ فَيَسْتَيْقِظُ إِلاَّ تَسَوَّكَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দিবা-রাতে ঘুম হতে উঠার পর উযু করার পূর্বে মেস্ওয়াক করতেন।

৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ مِنْ مَنَامِهِ أَتَى طَهُورَهُ فَأَخَذَ سِوَاكَهُ فَاسْتَاكَ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَاتِ ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ ) حَتَّى قَارَبَ أَنْ يَخْتِمَ السُّورَةَ أَوْ خَتَمَهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ فَأَتَى مُصَلاَّهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ كُلُّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ) حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কোন এক রজনী আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট অতিবাহিত করি। তিনি ঘুম হতে উঠে পানির নিকট এসে মেস্ওয়াক নিয়ে দাতন করলেন। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিনাওয়াত করেনঃ

“নিশ্চয়ই আকাশ ও জমীনের সৃষ্টি ও দিবা-রাত্রির পরিক্রমা পরিবর্তনের মধ্যে জ্ঞানী লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

তিনি উক্ত সূরাটি প্রায় শেষ করেন অথবা সমাপ্তই করেন। অতঃপর উযু করে জায়নামাযে দুই রাকআতে নামায আদায় করেন। পরে তিনি বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন যতক্ষণ আল্লাহ চান। অতঃপর তিনি ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে অনুরূপ কাজ করে পুনরায় বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তৃতীয়বারও তিনি ঘুম হতে জাগরিত হয়ে একই কাজ করেন। তিনি প্রত্যেক বারই ঘুম হতে উঠার পর মেস্ওয়াক করে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর (শেষবার) তিনি বিতরের নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩১. উযু ফরয হওয়া সম্পর্কে।

باب فَرْضِ الْوُضُوءِ

৫৯

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ وَلاَ صَلاَةً بِغَيْرِ طُهُورٍ " .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

৫৯. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আবুল মালীহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা অসদুপায়ে অর্জিত ধন-সস্পদ সাদকা করলে কবুল করেন না এবং বিনা উযুতে নামায আদায় করলে তাও কবুল করেন না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

৬০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসুলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন তোমাদের এমন কোন ব্যক্তির নামায কবুল করেন না, যার উযু নষ্ট হবার পর যে পর্যন্ত সে পুনরায় উযু না করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৬১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নামাযের চাবি হল পবিত্রতা (অর্থাৎ উযু বা গোসল), এর তাকবীর পার্থিব যাবতীয় কাজকে হারাম করে এবং সালাম (অর্থাং সালাম ফিরানো) যাবতীয়। ক্রিয়া-কর্মকে হালাল করে দেয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩২. কোন ব্যক্তির উযু থাকা অবস্থায় নতুনভাবে উযু করা সম্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يُجَدِّدُ الْوُضُوءَ مِنْ غَيْرِ حَدَثٍ

৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَنَا لِحَدِيثِ ابْنِ يَحْيَى، أَتْقَنُ - عَنْ غُطَيْفٍ، - وَقَالَ مُحَمَّدٌ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ الْهُذَلِيِّ، - قَالَ كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَلَمَّا نُودِيَ بِالظُّهْرِ تَوَضَّأَ فَصَلَّى فَلَمَّا نُودِيَ بِالْعَصْرِ تَوَضَّأَ فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثُ مُسَدَّدٍ وَهُوَ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া .... আবু গুতায়ফ আল-হুযালী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর যখন যোহরের নামাযের আযান হলো তিনি উযু করে নামায আদায় করলেন। আসর নামাযের আযানের পরেও তিনি উযু করলেন। এতদ্দর্শনে আমি তাকে (ইবনে উমরকে) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। জবাবে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলতেন, যে ব্যক্তি পবিত্র (উযু অবস্থায়) থাকা সত্ত্বেও পুনরায় উযু করে, তার জন্য (আমল নামায়) দশঢি নেকী লিপিবদ্ধ করা হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৩. যা দ্বারা পানি অপবিত্র হয়।

باب مَا يُنَجِّسُ الْمَاءَ

৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَغَيْرُهُمْ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَاءِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْعَلاَءِ وَقَالَ عُثْمَانُ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ الصَّوَابُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, পানিতে চতুষ্পদ জন্তু হিংস্র প্রাণী পানি পান করার জন্য পূনঃ পূনঃ আগমন করে এবং তা যথেচ্ছা ব্যবহার করে। সে পানির হুকুম কি? তিনি বলেনঃ যখন উক্ত পানি দুই কুল্লার* (মটকা) পরিমাণ বেশী হবে, তা অপবিত্র হবে না।

* কুল্লা শব্দের অর্থ হল- মট্‌কা। এতে কি পরিমাণ পানি ধরে তা হাদীসে উল্লেখ নাই। মট্‌কা ছোট হলে তাতে কম পানি ধরবে এবং বড় হলে বেশী পানি ধরবে। বেশী পানি অপবিত্র হয় না। অতএব পানি পবিত্র হওয়ার জন্য দুই বা এক কুল্লা পরিমাণ হওয়ার বিষয়টি সঠিক নহে। বরং পানি ব্যবহারকারী ব্যক্তি যদি এরূপ মনে করে যে, এই কূপ বা পুকুরের পানির পরিমাণ অধিক এবং ব্যবহারে ঘৃণা হয় না; তবে তা বেশী হিসাবে পরিগণিত হবে। হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতানুযায়ী, কূপের পরিমাণ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সর্বনিম্ন যদি ১০ হাত হয়, তবে তার পানি বেশী পানির হুকুমের মধ্যে পরিগণিত হবে। —(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، - قَالَ أَبُو كَامِلٍ ابْنُ الزُّبَيْرِ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلاَةِ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৬৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একদা রাসূলুল্লাহু (ﷺ)কে মাঠের পানির (পবিত্রতা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল ......... পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

৬৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ فَإِنَّهُ لاَ يَنْجُسُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَقَفَهُ عَنْ عَاصِمٍ .

বর্ণনাকারী: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৬৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হলে তা অপবিত্র হয় না, তাকে (কিছুই) অপবিত্র করতে পারে না।

৩৪. বুদা’আ কূপের পানি সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ

৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُطْرَحُ فِيهَا الْحِيَضُ وَلَحْمُ الْكِلاَبِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمَاءُ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَىْءٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ رَافِعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৬. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, আমরা কি বুদাআ কূপের পানি দ্বারা উযু করতে পারি? কূপটি এমন ছিল যেখানে স্ত্রী লোকদের হায়যের নেকড়া, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হত। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, পানি–তাকে কোন কিছু অপবিত্র করতে পারে না।*

* বুদাআ কূপের পানির পরিমাণ অনেক বেশী ছিল এবং সে জন্যে বেশী পানির মধ্যে অল্প পরিমাণ নাপাক বস্তু পতিত হলে পানি দুষিত হয় না। যেমন, কোন বড় পুকুরের পানি। অপরপক্ষে সম্ভবতঃ বুদাআ কূপটি এমন স্থানে ছিল, যেখানে বাইরে থেকে পানির গমনাগমন ছিল। যেমন, নদীর পানি। এর তলদেশ পাতালের পানির সাথে সংযুক্ত ছিল বলে যাবতীয় ময়লা অপসারিত হয়ে যেত।–(অনুবাদক)
৬৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَلِيطِ بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ الأَنْصَارِيِّ، ثُمَّ الْعَدَوِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُقَالُ لَهُ إِنَّهُ يُسْتَقَى لَكَ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا لُحُومُ الْكِلاَبِ وَالْمَحَايِضُ وَعَذِرُ النَّاسِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَىْءٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ قَالَ سَأَلْتُ قَيِّمَ بِئْرِ بُضَاعَةَ عَنْ عُمْقِهَا قَالَ أَكْثَرُ مَا يَكُونُ فِيهَا الْمَاءُ إِلَى الْعَانَةِ . قُلْتُ فَإِذَا نَقَصَ قَالَ دُونَ الْعَوْرَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدَّرْتُ أَنَا بِئْرَ بُضَاعَةَ بِرِدَائِي مَدَدْتُهُ عَلَيْهَا ثُمَّ ذَرَعْتُهُ فَإِذَا عَرْضُهَا سِتَّةُ أَذْرُعٍ وَسَأَلْتُ الَّذِي فَتَحَ لِي بَابَ الْبُسْتَانِ فَأَدْخَلَنِي إِلَيْهِ هَلْ غُيِّرَ بِنَاؤُهَا عَمَّا كَانَتْ عَلَيْهِ قَالَ لاَ . وَرَأَيْتُ فِيهَا مَاءً مُتَغَيِّرَ اللَّوْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৭. আহমাদ ইবনে আবু শুআইব .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)–এর নিকট শুনেছি একদা তাকে এইরূপ বলা হয় যে, আপনার জন্য বুদাআ কূপের পানি আনা হয়; এমন কূপ যেখানে কুকুরের গোশত, স্ত্রীলোকদের হায়যের নেকড়া এবং মানুষের ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হয়। জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: পানির পবিত্রতাকে কোন কিছুই অপবিত্র করতে পারে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৫. পানি অপবিত্র না হওয়া সম্পর্কে।

باب الْمَاءِ لاَ يَجْنُبُ

৬৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَفْنَةٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَتَوَضَّأَ مِنْهَا - أَوْ يَغْتَسِلَ - فَقَالَتْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَاءَ لاَ يَجْنُبُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ)-এর কোন এক স্ত্রী বড় একটি পাত্রের পানি দ্বারা গোসল করছিলেন। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) সেখানে উযু অথবা গোসল করার জন্য আগমন করলেন। তখন তিনি (পত্নী) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অপবিত্র ছিলাম। জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না (পাত্রে অবশিষ্ট পানির ব্যাপারে বলা হয়েছে)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. বদ্ধ পানিতে পেশাব করা সম্পর্কে।

باب الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ

৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، فِي حَدِيثِ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে; অতঃপর উক্ত পানি দ্বারা গোসল করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَلاَ يَغْتَسِلْ فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে এবং সেখানে যেন অপবিত্রতার (নাপাকীর) গোসলও না করে।*

* বদ্ধ পানির পরিমাণ যদি একান্তই কম হয়, তবে তাতে পেশাব করা ও নাপাকীর গোসল করা যায় না। অপর পক্ষে পানির পরিমাণ যদি বেশী হয়, তবে সেখানে নাপাকীর গোসল বা পেশাব করলে উক্ত পানি নাপাক হবে না। তবুও বদ্ধ পানিতে পেশাব না করাই উত্তম। - (অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৩৭. কুকুরের লেহনকৃত পাত্র ধৌত করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ بِسُؤْرِ الْكَلْبِ

৭১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، - فِي حَدِيثِ هِشَامٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " طُهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يُغْسَلَ سَبْعَ مِرَارٍ أُولاَهُنَّ بِتُرَابٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ قَالَ أَيُّوبُ وَحَبِيبُ بْنُ الشَّهِيدِ عَنْ مُحَمَّدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১. আহমাদ ইবনে ইউনুস ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ কুকুর যদি তোমাদের কারও পাত্রে লেহন করে (খায় বা পান করে), তবে তা পাক করার নিয়ম এই যে, তা সাতবার পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে, প্রথমবার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ করতে হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَرْفَعَاهُ زَادَ " وَإِذَا وَلَغَ الْهِرُّ غُسِلَ مَرَّةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে অনুরূপ হাদীস (আরো) বর্ণিত হয়েছে। তবে তা মারফু হাদীস নয় এবং উক্ত হাদীসে আরো আছেঃ যদি বিড়াল কোন পাত্র লেহন করে তবে তা একবার ধৌত করতে হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ السَّابِعَةُ بِالتُّرَابِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَمَّا أَبُو صَالِحٍ وَأَبُو رَزِينٍ وَالأَعْرَجُ وَثَابِتٌ الأَحْنَفُ وَهَمَّامُ بْنُ مُنَبِّهٍ وَأَبُو السُّدِّيِّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ رَوَوْهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَذْكُرُوا التُّرَابَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কুকুর কোন পাত্র লেহন করলে তা সাতবার ধৌত কর। সপ্তমবার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ করতে হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ ابْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ ثُمَّ قَالَ " مَا لَهُمْ وَلَهَا " . فَرَخَّصَ فِي كَلْبِ الصَّيْدِ وَفِي كَلْبِ الْغَنَمِ وَقَالَ " إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مِرَارٍ وَالثَّامِنَةُ عَفِّرُوهُ بِالتُّرَابِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا قَالَ ابْنُ مُغَفَّلٍ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

৭৪. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুর হত্যার নির্দেশ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ মানুষের কি হয়েছে যে, তারা কুকুর হত্যা করতে আগ্রহী নয়। পরে তিনি শিকারী কুকুর এবং মেষ পালের পাহারাদার কুকুর (পালনের) অনুমতি প্রদান করেন। তিনি আরো বলেনঃ যখন কুকুর কোন পাত্র লেহন করে, তখন তা সাতবার ধৌত কর এবং অষ্টমবার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ কর।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

৩৮. বিড়ালের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে।

باب سُؤْرِ الْهِرَّةِ

৭৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، - وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ - أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ فَشَرِبَتْ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ " .

বর্ণনাকারী: কাবশা বিনতে কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৫. আব্দুল্লাহ্ ..... কাবশা বিনতে কাব ইবনে মালিক হতে বর্ণিত। তিনি আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর পূত্রবধূ ছিলেন। একদা আবু কাতাদা (গৃহে) আগমন করলে আমি (কাবশা) তাকে উযুর পানি দিলাম। এমতাবস্থায় একটি বিড়াল এসে উক্ত পানি পান করল। (বিড়ালের পানি পান করার সুবিধার্থে) আবু কাতাদা (রাযিঃ) পাত্রটি কাত করে ধরলেন। বিড়ালঢি তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল। কাবশা (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাকে এর প্রতি তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্য বোধ করছ? জবাবে আমি (কাবশা) বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ নিশ্চয়ই বিড়াল অপবিত্র (প্রাণী) নয়। নিশ্চয়ই এরা তোমাদের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও তোমাদের সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ), আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ صَالِحِ بْنِ دِينَارٍ التَّمَّارِ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّ مَوْلاَتَهَا، أَرْسَلَتْهَا بِهَرِيسَةٍ إِلَى عَائِشَةَ رضى الله عنها فَوَجَدْتُهَا تُصَلِّي فَأَشَارَتْ إِلَىَّ أَنْ ضَعِيهَا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ فَأَكَلَتْ مِنْهَا فَلَمَّا انْصَرَفَتْ أَكَلَتْ مِنْ حَيْثُ أَكَلَتِ الْهِرَّةُ فَقَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ " . وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِفَضْلِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... দাউদ ইবনে সালেহ্ ইবনে দীনার আত-তাম্মার হতে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। একদা তাঁর মনিব তাকে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট “হারিসাহ্”*-সহ প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি তাঁর নিকট পৌছে দেখতে পাই যে, তিনি নামাযরত আছেন। তিনি আমাকে (হারিসার পাত্রটি) রাখার জন্য ইশারা করলেন। ইত্যবসরে সেখানে একটি বিড়াল এসে তা হতে কিছু খেয়ে ফেললো। আয়িশা (রাযিঃ) নামায শেষে বিড়ালটি যে স্থান হতে খেয়েছিল সেখান হতেই খেলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিড়াল অপবিত্র নয়। এরা তোমাদের আশেপাশেই ঘুরাফেরা করে। অতঃপর আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দ্বারা উযু করতে দেখেছি।

* হারিসাহঃ গোশত, ফলমূলের বিচি এবং আটার সমন্বয়ে তৈরী একটি উপাদেয় খাদ্য। তৎকালীন আরব সমাজে তা উপাদেয় খাদ্য হিসাবে পরিচিত ছিল। (অনুবাদক)

৩৯. স্ত্রীলোকের ব্যবহারের অতিরিক্ত পানি সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ بِفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ

৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَنَحْنُ جُنُبَانِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৭. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাপাক অবস্থায় একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

৭৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ خَرَّبُوذَ، عَنْ أُمِّ صُبَيَّةَ الْجُهَنِيَّةِ، قَالَتِ اخْتَلَفَتْ يَدِي وَيَدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْوُضُوءِ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ .

বর্ণনাকারী: খাওলা বিনতে কায়স উম্মু সুবাইয়্যা (রাঃ)

৭৮. আব্দুল্লাহ্ .... উম্মু সুবাইয়্যা (খাওলা বিনতে কায়স) আল-জুহানীয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, একই পাত্র হতে উযু করার সময় আমার হাত ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাত পরস্পর লেগে যেত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ )

৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَتَوَضَّئُونَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ مُسَدَّدٌ - مِنَ الإِنَاءِ الْوَاحِدِ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ও মুসাদ্দাদ .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় পুরুষ ও স্ত্রী লোকেরা (একই পাত্রের পানি দ্বারা) একত্রে উযু করতেন। রাবী মুসাদ্দাদ বলেন, সকলে একই পাত্রের পানি দ্বারা উযু করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৮০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نَتَوَضَّأُ نَحْنُ وَالنِّسَاءُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ نُدْلِي فِيهِ أَيْدِيَنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮০. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা পুরুষরা ও মহিলারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় একই পাত্রের পানি দ্বারা একত্রে উযু করতাম এবং একই সময় কখনও কখনও আমাদের একের হাত অন্যের হাতের সাথে লেগে যেত।*

* এটা পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা। একই পাত্রের পানি দ্বারা একত্রে উযু করা কেবলমাত্র ঐ সমস্ত স্ত্রী-পুরুষদের জন্য বৈধ- যাদের পরস্পরের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণরূপে হারাম। যেমন ভাই-বোন, ছেলে-মাতা ইত্যাদি। তবে এদের জন্য একই পাত্রের পানি দ্বারা একই সাথে গোসল করা শরীআত সম্মত নয়। একের গোসলের পর অন্যে গোসল করলে কোন দোষ নেই।

পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগে সাধারণতঃ আরবের পুরুষ ও মহিলারা একই পাত্রের পানি দ্বারা একই সময় একত্রে উযু করত। অথবা পুরুষ ও মহিলার অর্থ হলঃ প্রতিটি স্বামী-স্ত্রী একত্রে পাত্রের পানি দ্বারা উযু করত। একই পাত্রের পানি দ্বারা একই সময় এ কত্রে স্বামী-স্ত্রীর উযু-গোসল করা শরীআতে জায়েজ। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসাঈ রহঃ (নাসাঈ শরীফ ), কিতাবুস সুনান - ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ)

৪০. স্ত্রীলোকের ব্যবহারের অতিরিক্ত পানি দ্বারা উযু করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنْ ذَلِكَ

৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ، قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَ سِنِينَ كَمَا صَحِبَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ أَوْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ - زَادَ مُسَدَّدٌ - وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৮১. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... হুমায়েদ আল-হিময়ারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করি, যিনি চার বছর যাবত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে ছিলেন যেভাবে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলের খেদমতে ছিলেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লহ্ (ﷺ) মহিলাদেরকে পুরুষদের অতিরিক্ত পানি দ্বারা গোসল করতে নিষেধ করেছেন এবং একইভাবে পুরুষদেরকে মহিলাদের ব্যবহারের অতিরিক্ত পানি দ্বারা গোসল করতে নিষেধ করেছন।

রাবী মুসাদ্দাদ এর সাথে যোগ করেছেনঃ স্ত্রী-পুরুষদের একত্রে একই পাত্র হতে হাত দ্বারা পানি উঠান নিষেধ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮২

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، - يَعْنِي الطَّيَالِسِيَّ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي حَاجِبٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو، وَهُوَ الأَقْرَعُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ .

বর্ণনাকারী: হাকাম ইবনে আমর (রাঃ)

৮২. হারুন বাশশার .... হাকাম হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মহিলাদের ব্যবহারের অতিরিক্ত পানি দ্বারা পুরুষদের উযু করতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪১. সাগরের পানি দ্বারা উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ بِمَاءِ الْبَحْرِ

৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، - مِنْ آلِ ابْنِ الأَزْرَقِ - أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، - وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ بِمَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে প্রশ্ন করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমরা সাগরে সফর করে থাকি এবং আমাদের সাথে (পানির) সামান্য (মিঠা) পানি রাখি। যদি আমরা তা দ্বারা উযু করি তবে আমরা পিপাসিত থাকবো এমতাবস্থায় আমরা সাগরের (লবণাক্ত) পানি দ্বারা উযু করতে পারি কি? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ সাগরের পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী (মাছ ইত্যাদি) খাওয়া হালাল।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে, সাগরের মৃত মাছই কেবল ভক্ষণ করা আমাদের জন্য হালাল। ইমাম শাফিঈ, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ ইব্‌ন হাম্বল (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী সাগরের যাবতীয় প্রাণী ভক্ষণ করা জায়েয। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪২. নাবীয দ্বারা উযু সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ بِالنَّبِيذِ

৮৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ لَيْلَةَ الْجِنِّ " مَا فِي إِدَاوَتِكَ " . قَالَ نَبِيذٌ . قَالَ " تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَنْ أَبِي زَيْدٍ أَوْ زَيْدٍ كَذَا قَالَ شَرِيكٌ وَلَمْ يَذْكُرْ هَنَّادٌ لَيْلَةَ الْجِنِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮৪. হান্নাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে জ্বীনদের নিকট আগমনের রাতে বলেছিলেনঃ তোমার পাত্রের মধ্যে কি আছে? জবাবে তিনি বলেন নাবীয। এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ খেজুর পবিত্র এবং পানি পাক।*

* সাধারণতঃ খেজুর, আংগুর, মধু ইত্যাদি দ্বারা নাবীয তৈরী করা হয়। এটা শরবত সদৃশ। খেজুর ভিজান পানিকে খেজুরের নাবীয় বলা হয়। তদ্রূপ আংগুর ভিজান পানিকে আংগুরের নাবীয বলা হয়। এটা তৎকালীন আরবের একটি উপাদেয় পানীয় ছিল। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ فَقَالَ مَا كَانَ مَعَهُ مِنَّا أَحَدٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আলকামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “লাইলাতুল জ্বীন” (জ্বীনদের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর গমনের রাত বা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট জ্বীনদের আগমনের রাত)-এ আপনাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে কে ছিলেন? জবাবে তিনি বলেনঃ তাঁর সাথে আমাদের কেউ ছিলেন না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَرِهَ الْوُضُوءَ بِاللَّبَنِ وَالنَّبِيذِ وَقَالَ إِنَّ التَّيَمُّمَ أَعْجَبُ إِلَىَّ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... ইবনে জুরায়েজ হতে আতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আতা (রাহঃ) দুধ ও নাবীয দ্বারা উযু করাকে মাকরূহ্ মনে করতেন। তিনি আরো বলেন, এর চেয়ে তায়াম্মুম করা আমার নিকট অধিক উত্তম।

৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَلْدَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ عَنْ رَجُلٍ، أَصَابَتْهُ جَنَابَةٌ وَلَيْسَ عِنْدَهُ مَاءٌ وَعِنْدَهُ نَبِيذٌ أَيَغْتَسِلُ بِهِ قَالَ لاَ .

বর্ণনাকারী: আবুল আলীয়া (রহঃ)

৮৭. ইবনে বাশশার .... আবু খালদাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুল আলিয়াকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যিনি অপবিত্র এবং যার নিকট পানি নেই; কিন্তু নাবীয আছে এমতাবস্থায় তিনি কি নাবীয দ্বারা গোসল করতে পারেন? জবাবে তিনি বলেন, না।

৪৩. মলমূত্রের বেগ থাকা অবস্থায় নামায আদায় করা যায় কি?

باب أَيُصَلِّي الرَّجُلُ وَهُوَ حَاقِنٌ

৮৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ، أَنَّهُ خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا وَمَعَهُ النَّاسُ وَهُوَ يَؤُمُّهُمْ فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ أَقَامَ الصَّلاَةَ صَلاَةَ الصُّبْحِ ثُمَّ قَالَ لِيَتَقَدَّمْ أَحَدُكُمْ . وَذَهَبَ إِلَى الْخَلاَءِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَذْهَبَ الْخَلاَءَ وَقَامَتِ الصَّلاَةُ فَلْيَبْدَأْ بِالْخَلاَءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ وَأَبُو ضَمْرَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَرْقَمَ وَالأَكْثَرُ الَّذِينَ رَوَوْهُ عَنْ هِشَامٍ قَالُوا كَمَا قَالَ زُهَيْرٌ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৮৮. আহমাদ ইবনে ইউনুস ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাঁর সাথে আরো লোকজন ছিল। তিনি তাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করতেন। এমতাবস্থায় এক দিন ফজরের নামাযের ইকামত দেয়ার পর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ সামনে আগমন কর (নামাযের ইমামতির জন্য)। এই বলে তিনি পায়খানায় গমনকালে বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি নামায শুরুর প্রাক্কালে তোমাদের কারও যদি পায়খানার বেগ হয়, তবে সে যেন প্রথমে পায়খানার প্রয়োজন সম্পন্ন করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي حَزْرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، - قَالَ ابْنُ عِيسَى فِي حَدِيثِهِ ابْنُ أَبِي بَكْرٍ ثُمَّ اتَّفَقُوا أَخُو الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ - قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَائِشَةَ فَجِيءَ بِطَعَامِهَا فَقَامَ الْقَاسِمُ يُصَلِّي فَقَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يُصَلَّى بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৯. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে ঈসা তাঁর বর্ণনায় মুহাম্মাদের পর আবু বকর (রাযিঃ) এর পুত্র শব্দটি অতিরিক্ত যোজন করেছেন। অতঃপর তাঁরা সকলেই ″কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ-এর ভ্রাতৃদ্বয়″ এই বাক্যটির উপর একমত হয়েছেন। তারা বলেন, একদা আমরা আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম এমতাবস্থায় সেখানে খানা হাযির করা হল। তখন কাসিম নামায আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হলে আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ খানা উপস্থিতির পর তা না খেয়ে এবং মলমুত্রের বেগ চেপে রেখে কেউ যেন নামায আদায় না করে।*

* খানা উপস্থিতির পর তা না খেয়ে নামাযে রত হলে নামাযের মধ্যে একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। অপরপক্ষে পেটে অত্যধিক ক্ষুধা থাকা অবস্থায় খানা সামনে রেখে নামায পড়লে মনের শান্তির চেয়ে অশান্তি অধিক বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় আগে খাদ্য গ্রহণ করে শান্তির সাথে নামায আদায় করা উত্তম। অবশ্য আহার করতে গেলে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা হলে অবশ্যই আগে নামাযই আদায় করতে হবে। তদ্রূপ মলমূত্রের বেগ চেপে রেখে নামায আদায় করলে একাগ্রতা নষ্ট হয়। এরূপ বিচলিত অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ। (অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي حَىٍّ الْمُؤَذِّنِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَفْعَلَهُنَّ لاَ يَؤُمُّ رَجُلٌ قَوْمًا فَيَخُصُّ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ دُونَهُمْ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ وَلاَ يَنْظُرُ فِي قَعْرِ بَيْتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ وَلاَ يُصَلِّي وَهُوَ حَقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৯০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ..... ছাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি কাজ কারও জন্য বৈধ নয়; (১) যে ব্যক্তি কোন কওমের ইমামতি করে এবং সে তাদেরকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের জন্য দুআ করে। যদি কেউ এরূপ করে তবে সে নিশ্চয়ই তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ২) কেউ যেন পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোন ঘরের অভ্যন্তরে (দৃষ্টি) নিক্ষেপ না করে। যদি কেউ এরূপ করে, তবে যেন সে বিনা অনুমতিতে অন্যের ঘরে প্রবেশ করার মত অপরাধ করল। (৩) মলমুত্রের বেগ চেপে রেখে তা ত্যাগ না করার পূর্ব পর্যন্ত কেউ যেন নামায না পড়ে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ثَوْرٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي حَىٍّ الْمُؤَذِّنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يُصَلِّيَ وَهُوَ حَقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ " . ثُمَّ سَاقَ نَحْوَهُ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ قَالَ " وَلاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَؤُمَّ قَوْمًا إِلاَّ بِإِذْنِهِمْ وَلاَ يَخْتَصَّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مِنْ سُنَنِ أَهْلِ الشَّامِ لَمْ يَشْرَكْهُمْ فِيهَا أَحَدٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯১. মাহমুদ ইবনে খালিদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান এনেছে- তার জন্য এটা উচিত নয় যে, মলমুত্রের বেগ চেপে রেখে (তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত) নামায আদায় করে। অতঃপর তিনি নিম্নরূপ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে- তার জন্য কোন সম্প্রদায়ের অনুমতি ছাড়া তাদের ইমামতি করা হালাল নয় এবং দুআর মধ্যে তাদেরকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র নিজের জন্য দুআ করাও বৈধ নয়। যদি কেউ এরূপ করে- তবে সে তাদের সাথে বিসশ্বাসঘাতকতা করল।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৪. উযুর জন্য যে পরিমাণ পানি যথেষ্ট।

باب مَا يُجْزِئُ مِنَ الْمَاءِ فِي الْوُضُوءِ

৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ وَيَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبَانُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ صَفِيَّةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এক ছা’আ পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন এবং এক মুদ পরিমাণ পানি দ্বারা উযু করতেন।*

* কুফাবাসীদের হিসাব অনুযায়ী ২৭০ তোলায় এক ছা'আ হয়ে থাকে এবং ইরাকীদের হিসাব অনুযায়ী এক ছা'আ পরিমাণ হল- ২৫২ তোলা ২ রতি ২ জাও। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণতঃ এক ছা'আ-এর পরিমাণ হল- ২০০ তোলা। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে এক ছা'আ-এর এক-চতুর্থাংশে এক মুদ্দ হয়ে থাকে। সুতরাং বাংলাদেশী হিসাব অনুযায়ী ৭০ তোলায় এক মুদ্দ। মোটামুটি হিসাবে প্রায় এক সেরে এক মুদ এবং চার সেরে এক ছা'আ ধরা যেতে পারে। -(অনুবাদক)
৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ وَيَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৯৩. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) এক ছা’আ পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন এবং এক মুদ্দ পরিমাণ পানি দ্বারা উযু করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، وَهِيَ أُمُّ عُمَارَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ قَدْرُ ثُلُثَىِ الْمُدِّ .

বর্ণনাকারী: উম্মে উমারা বিনতে কা’ব (রাঃ)

৯৪. ইবনে বাশশার .... হাবীব আল-আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আব্বাস ইবনে তামীমকে আমার দাদী উম্মে আম্মারা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। একদা নবী (ﷺ) উযু করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁর নিকট একটি পানির পাত্র উপস্থিত করা হয়। এতে পানির পরিমাণ ছিল দুই-তৃতীয়াংশ মুদ্দ। তিনি তা দ্বারা উযু করলেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِإِنَاءٍ يَسَعُ رَطْلَيْنِ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ شَرِيكٍ قَالَ عَنِ ابْنِ جَبْرِ بْنِ عَتِيكٍ . قَالَ وَرَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى حَدَّثَنِي جَبْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ سَمِعْتُ أَنَسًا إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ يَتَوَضَّأُ بِمَكُّوكٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ رَطْلَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ الصَّاعُ خَمْسَةُ أَرْطَالٍ وَهُوَ صَاعُ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ وَهُوَ صَاعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৯৫. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যে পাত্রের (পানি) দ্বারা উযু করতেন- তাতে দুই রতল পরিমাণ পানি ধরত এবং তিনি এক ছা’আ পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন। অন্য বর্ণনায় আছেঃ নবী (ﷺ) এক মাকুক (বা এক মগ) পানি দ্বারা উযু করতেন এবং উক্ত বর্ণনায় رطلين (দুই রতল) শব্দের উল্লেখ নাই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৫. উযুতে প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি ব্যবহার সম্পর্কে।

باب الإِسْرَافِ فِي الْوَضُوءِ

৯৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ، سَمِعَ ابْنَهُ، يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْقَصْرَ الأَبْيَضَ عَنْ يَمِينِ الْجَنَّةِ، إِذَا دَخَلْتُهَا . فَقَالَ أَىْ بُنَىَّ سَلِ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَتَعَوَّذْ بِهِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ قَوْمٌ يَعْتَدُونَ فِي الطُّهُورِ وَالدُّعَاءِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

৯৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু নাআমা হতে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) তার পুত্র (ইয়াযীদ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ইয়া আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট জান্নাতের ডান পার্শ্বস্থ শ্বেত-প্রাসাদ প্রার্থনা করি- যখন আমি সেখানে প্রবেশ করব। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি জান্নাত কমনা কর এবং দোজখ হতে মুক্তি প্রার্থনা কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ “অদূর ভবিষ্যতে- এই উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যারা পবিত্রতা অর্জন ও দুআর মধ্যে অতিরঞ্জিত করবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৬. উযুর পরিপূর্ণতা সম্পর্কে।

باب فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ

৯৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى قَوْمًا وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ فَقَالَ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৯৭. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক সম্প্রদায়কে দেখলেন, যাদের পায়ের গোড়ালি ঝকঝক করছে।* তিনি বলেনঃ এরূপ পায়ের গোড়ালি ওয়ালাদের জন্য দোজখের শাস্তি রয়েছে। তোমরা পরিপূর্ণভাবে উযু কর।

* পায়ের গোড়ালী ঝকঝক করার কারণ এই ছিল যে, উযুর সময় তাদের পায়ের গোড়ালিতে পানি ঠিকমত পৌঁছেনি এবং তা সঠিক ভাবে ধৌত করা হয়নি। সাধারণতঃ দেখা যায় যে, উযুর সময় কিছু সংখ্যক লোক তাদের হাত-পায়ের আঙ্গুলের সংযোগস্থলে এবং পায়ের গোড়ালির পশ্চাদাংশ ঠিকমত ধৌত করে না। এমতাবস্থায় উযু ও নামায কোনটাই দুরস্ত হবে না। -(অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৭. তামার পাত্রে উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ فِي آنِيَةِ الصُّفْرِ

৯৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنِي صَاحِبٌ، لِي عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم فِي تَوْرٍ مِنْ شَبَهٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (একত্রে) লৌহ বা তামার নির্মিত ছোট ডেকচির পানি দ্বারা গোসল করতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে এই সনদেও নবী (ﷺ) এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

১০০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، وَسَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ جَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ فَتَوَضَّأَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

১০০. হাসান ইবনে আলী .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট আগমন করলেন। আমরা তামার একটি ছোট পাত্রে তাঁর জন্য পানি উত্তোলন করি অতঃপর তিনি উযু করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৮. উযুর পূর্বে বিসমিল্লাহ পাঠ সম্পর্কে।

باب التَّسْمِيَةِ عَلَى الْوُضُوءِ

১০১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لاَ وُضُوءَ لَهُ وَلاَ وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঐ ব্যক্তির নামায আদায় হয় না যে সঠিক ভাবে উযু করে না এবং ঐ ব্যক্তির উযু হয় না যে আল্লাহর নাম স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ্ বলে না)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম আবু দাউদ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

১০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ الدَّرَاوَرْدِيِّ، قَالَ وَذَكَرَ رَبِيعَةُ أَنَّ تَفْسِيرَ، حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ " . أَنَّهُ الَّذِي يَتَوَضَّأُ وَيَغْتَسِلُ وَلاَ يَنْوِي وُضُوءًا لِلصَّلاَةِ وَلاَ غُسْلاً لِلْجَنَابَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০২. আহমাদ ইবনে উমর ..... আদ-দারাওয়ার্দী (রাহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রবীআ (রাহঃ) নবী (ﷺ)-এর হাদীস “ঐ ব্যক্তির উযু হয় না যে বিসমিল্লাহ্ বলে না” -এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ যে ব্যক্তি উযু ও গোসলের সময়- নামাযের উযুর বা অপবিত্রতার গোসলের নিয়াত করে না- তার উযু ও গোসল হয় না।*

* শাফিঈ মাযহাব অনুযায়ী উযুর সময় বিসমিল্লাহ না পড়লে উযুই হয় না। কিন্তু হানাফী মাযহাব অনুসারে উযুর সময় বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। যদি তা কেউ পরিত্যাগ করে, তবে সুন্নতের খেলাফ হবে; কিন্তু উযু শুদ্ধ হবে।

৪৯. হাত ধৌত করার পূর্বে তা (পানির) পাত্রে প্রবেশ করান সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهَا

১০৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৩. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ যখন রাতের ঘুম হতে জাগ্রত হবে, সে যেন-স্বীয় হস্ত (পানির) পাত্রের মধ্যে প্রবেশ না করায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে। কেননা সে জানে না যে, (ঘুমন্ত অবস্থায়) তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।*

* এ স্থানে কেবলমাত্র রাতের ঘুমের কথা উল্লেখিত হয়েছে; তবে কেউ যদি দিনের ঘুম থেকেও জাগ্রত হয় তবে তারও উচিত উযু বা খাদ্য গ্রহণের পূর্বে হাত পরিষ্কার করা। (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ - قَالَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا رَزِينٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৪. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে তবে এই বর্ণনায় আরো আছে যে, উপরোক্ত কথা দুই অথবা তিনবার বলেছেন। এ সূত্রে আবু রযীনের নাম উল্লেখ নাই।

১০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ أَوْ أَيْنَ كَانَتْ تَطُوفُ يَدُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৫. আহমাদ ইবনে আমর .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কেউ ঘুম হতে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন স্বীয় হস্ত তিনবার ধৌত করার পূর্বে পাত্রের মধ্যে প্রবেশ না করা। কেননা তোমাদের কেউ জানে না (ঘুমন্ত অবস্থায়) তার হাত কোথায় ছিল অথবা তার হস্ত কোথায় কোথায় ঘুরছিল।

৫০. নবী (ﷺ) এর উযুর বর্ণনা।

باب صِفَةِ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

১০৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاَثًا فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১০৬. অলি-হাসান ইবনে আলী ..... হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে উযু করতে দেখেছ। তিনি প্রথমে তাঁর দুই হাতের উপর তিনবার করে পানি ঢেলে তা ধৌত করেন। অতঃপর তিনি কুলকুচা করেন ও নাক পরিষ্কার করেন। তারপর তিনবার (সমস্ত) মুখমণ্ডল ধৌত করেন। পরে তিনি তাঁর ডান হাত কনুই সমেত তিনবার ধৌত করেন এবং বাম হাতও অনুরূপ ভাবে ধৌত করেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ্ করেন। পরে তিনি স্বীয় ডান পা তিনবার ধৌত করেন এবং একই রূপে বাম পাও ধৌত করেন। অবশেষে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আমার এই উযুর ন্যায় উযু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার অনুরূপ উযু করে দুই রাকআত নামায আদায় করবে, যাতে তার নফসের মধ্যে কোনরূপ অসঅসা না হয়- আল্লাহ্ তাআলা তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত গুনাহ মার্জনা করবেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ وَرْدَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي حُمْرَانُ، قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ تَوَضَّأَ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرِ الْمَضْمَضَةَ وَالاِسْتِنْشَاقَ وَقَالَ فِيهِ وَمَسَحَ رَأْسَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ هَكَذَا وَقَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ دُونَ هَذَا كَفَاهُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ أَمْرَ الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১০৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... হুমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে উযু করতে দেখেছি। অতঃপর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এই হাদীসের মধ্যে কুল্লি ও নাক পরিষ্কারের কথা উল্লেখ নেই এবং এই হাদীসে আরও উল্লেখিত হয়েছেঃ তিনবার মাথা মাসাহ্ করেন এবং উভয় পা তিনবার ধৌত করেন। অতঃপর বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এইরূপ উযু করতে দেখেছি। তিনি (উছমান) আরো বলেন, যে ব্যক্তি উযুর সময় অঙ্গ-প্রত্যংগ তিনবারের কম ধৌত করবে- তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। এই হাদীসে নামায সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ زِيَادٍ الْمُؤَذِّنُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ الْوُضُوءِ، فَقَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ سُئِلَ عَنِ الْوُضُوءِ، فَدَعَا بِمَاءٍ فَأُتِيَ بِمِيضَأَةٍ فَأَصْغَى عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ أَدْخَلَهَا فِي الْمَاءِ فَتَمَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى ثَلاَثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَأَخَذَ مَاءً فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ فَغَسَلَ بُطُونَهُمَا وَظُهُورَهُمَا مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُونَ عَنِ الْوُضُوءِ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَحَادِيثُ عُثْمَانَ - رضى الله عنه - الصِّحَاحُ كُلُّهَا تَدُلُّ عَلَى مَسْحِ الرَّأْسِ أَنَّهُ مَرَّةٌ فَإِنَّهُمْ ذَكَرُوا الْوُضُوءَ ثَلاَثًا وَقَالُوا فِيهَا وَمَسَحَ رَأْسَهُ . وَلَمْ يَذْكُرُوا عَدَدًا كَمَا ذَكَرُوا فِي غَيْرِهِ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১০৮. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ .... ইবনে আবু মুলায়কাকে উযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ)-কে উযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে দেখেছি। তখন তিনি (উছমান) (এক পাত্র) পানি চাইলেন। অতঃপর পানি আনা হলে তিনি তা হতে সামান্য পানি ডান হাতের উপর ঢেলে (তা ধৌত করলেন)। পরে তিনি উক্ত হাত পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তিনবার কুল্লি ও তিনবার নাক পরিষ্কার করলেন; অতঃপর স্বীয় মুখমভল তিনবার ধৌত করেন এবং তিনবার করে ডান হাত ও বাম হাত ধৌত করেন। পরে তিনি পাত্রের মধ্যে হাত দিয়ে পানি তুলে মাথাও কান মাসাহ্ করেন এবং কানের ভিতর ও বহিরাংশ একরার করে মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় পদযুগল ধৌত করে বলেনঃ উযু সম্পর্কে প্রশ্নকারীরা কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এইরূপ উযু করতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي زِيَادٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، أَنَّ عُثْمَانَ، دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى ثُمَّ غَسَلَهُمَا إِلَى الْكُوعَيْنِ - قَالَ - ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَذَكَرَ الْوُضُوءَ ثَلاَثًا - قَالَ - وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ وَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مِثْلَ مَا رَأَيْتُمُونِي تَوَضَّأْتُ . ثُمَّ سَاقَ نَحْوَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ وَأَتَمَّ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১০৯. ইবরাহীম .... আবু আলকামা হতে বর্ণিত। একদা উছমান (রাযিঃ) উযুর জন্য পানি চাইলেন- অতঃপর তিনি উযু করলেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি কুল্লি করলেন এবং তিনবার নাক পরস্কার করলেন। উযুর প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তিনবার ধৌত করার কথা উল্লেখ করেন। পরে তিনি মাথা মাসাহ্ করলেন ও উভয় পা ধৌত করলেন এবং বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এইরূপভাবে উযু করতে দেখেছি- যেভাবে তোমরা আমাকে উযু করতে দেখলে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقِ بْنِ جَمْرَةَ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا وَمَسَحَ رَأْسَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ هَذَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ قَالَ تَوَضَّأَ ثَلاَثًا فَقَطْ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১১০. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... শাকীক ইবনে সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে উযুর মধ্যে দুই হাতের কনুই সমেত তিনবার করে ধৌত করতে এবং তিনবার মাথা মাসাহ্ করতে দেখেছি।* অতঃপর বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি।

* ইমাম শাফিঈ, ইব্‌ন যুবাইর ও আতা (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী তিনবার মাথা মাসেহ্ করা মুস্তাহাব। হানাফী মাযহাবের রীতি অনুযায়ী একবারই মাথা মাসেহ্ করতে হয়। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ أَتَانَا عَلِيٌّ - رضى الله عنه - وَقَدْ صَلَّى فَدَعَا بِطَهُورٍ فَقُلْنَا مَا يَصْنَعُ بِالطَّهُورِ وَقَدْ صَلَّى مَا يُرِيدُ إِلاَّ أَنْ يُعَلِّمَنَا فَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ فَأَفْرَغَ مِنَ الإِنَاءِ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا فَمَضْمَضَ وَنَثَرَ مِنَ الْكَفِّ الَّذِي يَأْخُذُ فِيهِ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَهُ الشِّمَالَ ثَلاَثًا ثُمَّ جَعَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَرِجْلَهُ الشِّمَالَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَعْلَمَ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ هَذَا.

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১১. মুসাদ্দাদ .... আব্দে খায়ের হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আলী (রাযিঃ) নামায শেষে আমাদের নিকট আগমন করে উযুর পানি চাইলেন। আমরা (তাকে) জিজ্ঞাসা করলাম, নামায আদায়ের পর উযুর পানির প্রয়োজনীয়তা কি? আসলে তাঁর ইচ্ছা ছিল আমাদেরকে উযু সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া। অতঃপর তাঁর নিকট এক পাত্র পানি এবং একটি খালি পেয়ালা হাযির করা হল। তা হতে ডান হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত তিনবার ধৌত করলেন, অতঃপর তিনবার কুল্লি করলেন এবং তিনবার নাক পরিস্কার করে পুনরায় কুল্লি করলেন এবং ডান হাত দ্বারা নাক পরিস্কার করেন।* পরে তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং পর্যায়ক্রমে ডান ও বাম হাত তিনবার করে ধৌত করেন। অতঃপর তিনি পাত্র হতে পানি নিয়ে একরার মাথা মাসাহ্ করেন। পরে উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন। অতঃপর বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উযু সম্পর্কে জানতে উৎসুক (সে যেন মনে রাখে) তা এরূপই ছিল।

* নাক পরিষ্কারের পদ্ধতি হলঃ ডান হাত দ্বারা নাকে তিনবার পানি দেয়া এবং বাম হাত দ্বারা তা সাফ করা। এটাই সুন্নত। নাকে পানি প্রবেশ করানোর পূর্বেই তিনবার কুল্লি করা সুন্নত। রোয়া না থাকলে উযুর মধ্যে গড়গড়াসহ কুল্লি করা সুন্নত। - অনুবাদক

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ صَلَّى عَلِيُّ رضى الله عنه الْغَدَاةَ ثُمَّ دَخَلَ الرَّحْبَةَ فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَتَاهُ الْغُلاَمُ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ - قَالَ - فَأَخَذَ الإِنَاءَ بِيَدِهِ الْيُمْنَى فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى وَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فِي الإِنَاءِ فَتَمَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا . ثُمَّ سَاقَ قَرِيبًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ قَالَ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ مُقَدَّمَهُ وَمُؤَخَّرَهُ مَرَّةً . ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১২. আল-হাসান .... আব্দে খায়ের হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আলী (রাযিঃ) ফজরের নামায আদায়ের পর আর-রাহবা নামক স্থানে গমন করলেন। সেখানে উযুর পানি চাইলেন; তখন কাজের ছেলটি এক পাত্র পানি ও একটি খাদি পেয়ালা আনয়ন করল। রাবী বলেন, তখন আলী (রাযিঃ) ডান হাত পানির পাত্র নিরে বাম হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে তিনবার কুল্লি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিলেন। অবশেষে তিনি পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথার সামনের ও পিছনের অংশ একরার মাসাহ্, করলেন। পরে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ عُرْفُطَةَ، سَمِعْتُ عَبْدَ خَيْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - أُتِيَ بِكُرْسِيٍّ فَقَعَدَ عَلَيْهِ ثُمَّ أُتِيَ بِكُوزٍ مِنْ مَاءٍ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ مَعَ الاِسْتِنْشَاقِ بِمَاءٍ وَاحِدٍ . وَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১৩. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... আব্দ খায়ের হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দেখলাম একদা আলী (রাযিঃ) এর জন্য একটি চেয়ার আনা হলে তিনি তাতে উপবেশন করেন। অতঃপর তাঁর নিকট এক পাত্র পানি আনা হলে তিনি তা দ্বারা তিনবার হাত ধৌত করেন। পরে তিনি একই পানি দ্বারা কুল্লি করেন এবং নাকে পানি দেন ......... পূর্বোক্তভাবে হাদীসের অবশিষ্ট অংশ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ الْكِنَانِيُّ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيًّا، رضى الله عنه وَسُئِلَ عَنْ وُضُوءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَقَالَ وَمَسَحَ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى لَمَّا يَقْطُرْ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ هَكَذَا كَانَ وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১৪. উছমান ইবনে শায়বা .... যির ইবনে হুবায়েশ হতে বর্ণিত। তিনি আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন- যখন তাকে উযু সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উযু সম্পর্কে প্রশ্ল করা হয়েছিল। অতঃপর যির (রাবী) উযুর হাদীসঢি বর্ণনা করেন এবং আরো বলেন, আলী (রাযিঃ) এমনভাবে মাথা মাসাহ্ করেন যেন মাথা হতে পানির ফোটা ঝরছিল এবং তিনি তিনবার পা ধৌত করে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপে উযু করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৫

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَاحِدَةً ثُمَّ قَالَ هَكَذَا تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

১১৫. যিয়াদ ..... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি আলী (রাযিঃ)-কে উযু করতে দেখি তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন এবং দুই হাতের কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন। অতঃপর তিনি একবার মাথা মাসাহ্ করেন। অবশেষে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এইরূপে উযু করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو تَوْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - تَوَضَّأَ فَذَكَرَ وُضُوءَهُ كُلَّهُ ثَلاَثًا ثَلاَثًا - قَالَ - ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَالَ إِنَّمَا أَحْبَبْتُ أَنْ أُرِيَكُمْ طُهُورَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১৬. মুসাদ্দাদ .... আবু হাইয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাযিঃ)-কে উযু করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি আলী (রাযিঃ) এর উযুর বর্ণনায় বলেন, তিনি প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ্ করেন এবং উভয় পা গোড়ালি সমেত ধৌত করেন। পরে আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উযুর নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে দেখাতে আগ্রহী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ دَخَلَ عَلَىَّ عَلِيٌّ - يَعْنِي ابْنَ أَبِي طَالِبٍ - وَقَدْ أَهْرَاقَ الْمَاءَ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَتَيْنَاهُ بِتَوْرٍ فِيهِ مَاءٌ حَتَّى وَضَعْنَاهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَلاَ أُرِيكَ كَيْفَ كَانَ يَتَوَضَّأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَأَصْغَى الإِنَاءَ عَلَى يَدِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فَأَفْرَغَ بِهَا عَلَى الأُخْرَى ثُمَّ غَسَلَ كَفَّيْهِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَيْهِ فِي الإِنَاءِ جَمِيعًا فَأَخَذَ بِهِمَا حَفْنَةً مِنْ مَاءٍ فَضَرَبَ بِهَا عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أَلْقَمَ إِبْهَامَيْهِ مَا أَقْبَلَ مِنْ أُذُنَيْهِ ثُمَّ الثَّانِيَةَ ثُمَّ الثَّالِثَةَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ أَخَذَ بِكَفِّهِ الْيُمْنَى قَبْضَةً مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهَا عَلَى نَاصِيَتِهِ فَتَرَكَهَا تَسْتَنُّ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ وَظُهُورَ أُذُنَيْهِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَيْهِ جَمِيعًا فَأَخَذَ حَفْنَةً مِنْ مَاءٍ فَضَرَبَ بِهَا عَلَى رِجْلِهِ وَفِيهَا النَّعْلُ فَفَتَلَهَا بِهَا ثُمَّ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ قُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ . قَالَ قُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ . قَالَ قُلْتُ وَفِي النَّعْلَيْنِ قَالَ وَفِي النَّعْلَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ شَيْبَةَ يُشْبِهُ حَدِيثَ عَلِيٍّ لأَنَّهُ قَالَ فِيهِ حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً . وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ فِيهِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৭. আব্দুল আযীয .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) আমার ঘরে প্রবেশ করেন। অতঃপর পেশাব করার পর তিনি উযুর পানি চাইলেন। আমরা একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর সম্মুখে রাখি। তিনি (আলী) আমাকে বলেন, হে ইবনে আব্বাস! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরূপে উযু করতেন- তা কি আমি তোমাকে দেখাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, দেখান। রাবী বলেন, অতঃপর আলী (রাযিঃ) পাত্রটি কাত করে হাতের উপর পানি ঢালেন এবং তা ধৌত করেন। পরে তিনি পাত্রের মধ্যে ডান হাত ঢুকিয়ে পানি তুলে তা বাম হাতের উপর দিলেন এবং দুই হাতের কব্জি পর্যস্ত ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি কুল্লি ও নাক পানি করেন। পরে তিনি উভয় হাত পায়ে প্রবেশ করিয়ে দুই হাতে পানি ভরে মুখমণ্ডল ধৌত করলেন।

অতঃপর তিনি তাঁর উভয় বৃদ্ধাংগুলি উভয় কানের সামনের দিকের ভিতরের অংশে প্রবেশ করিয়ে তা লোকমার মত করলেন, অর্থাৎ কানের সামনের অংশের ভিতরের দিক ধৌত করলেন। তিনি এরূপ দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বারও করলেন। অতঃপর তিনি ডান হাতে এক কোশ পানি নিয়ে কপালের উপর ঢাললেন - যা গড়িয়ে মুখমণ্ডলে পড়ছিল। অতঃপর তিনি উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন। পরে তিনি মাথা এবং কানের পিছনের দিক মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি উভয় হাত পাত্রে প্রবেশ করিয়ে পুরা কোশ পানি নিয়ে তা পায়ের উপর ঢালেন; তখন তাঁর পায়ে জুতা ছিল। তিনি তার উপর পানি ছিটিয়ে দিয়ে তা ঘর্ষণ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় পায়েও অনুরূপ করলেন। রাবী ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, পায়ে জুতা থাকা অবস্থায় এরূপ করা হরেছিল কি? জবাবে তিনি বলেন- হ্যাঁ, জুতা পরিহিত অবস্থায় উভয় পা ধৌত করেছিলেন। এরূপভাবে তিনবার প্রশ্নোত্তর করেন।*

*ইমাম বুখারী (রাহঃ) এর মতে উক্ত হাদীসটি যঈফ বা দুর্বল। তা আমলযোগ্য নয়। - অনুবাদক
১১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ - وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ نَعَمْ . فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

১১৮. আব্দুল্লাহ্ .... আমর ইবনে ইয়াহয়া আল-মাযেনী হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিরূপে উযু করতেন তা কি আমাকে দেখাতে পারেন? জবাবে আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি উযুর পানি চেয়ে নিয়ে তা নিজের দুই হাতে ঢালেন এবং তা ধৌত করলেন, অতঃপর তিনবার কুল্লি করেন ও নাক পরিস্কার করেন। অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন, অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দুইবার ধৌত করেন, অতঃপর উভয় হাত দ্বারা মাথার সামনের ও পিছনের দিক মাসাহ্ করলেন। এই মাসাহ্ তিনি মস্তকের সম্মুখ ভাগ হতে আরাম্ভ করে- উভয় হাত মাথার পশ্চাদ্ভাগ পর্যন্ত নিলেন। পরে যে স্থান হতে মাসাহ্ শুরু করেন, উভয় হস্ত সেখানে ফিরিয়ে আনেন। অতঃপর তিনি দুই পা ধৌত করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلاَثًا . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

১১৯. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ ইবনে আছেম হতেও উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, অতঃপর তিনি কুলি করেন এবং নাকে পানি দেন - একই হাতের দ্বারা (অর্থাৎ এক কোশ পানি দ্বারা একই সাথে কুলিও করেন এবং নাকেও পানি দেন)। তিনি এইরূপ তিনবার করেন। হাদীসের বাকী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

১২০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ حَبَّانَ بْنَ وَاسِعٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيَّ، يَذْكُرُ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ وُضُوءَهُ وَقَالَ وَمَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

১২০। আহমাদ ইবনে আমর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ ইবনে আছেম আল-মাযিনীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে দেখেছেন। অতঃপর তিনি উযুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তিনি নতুন পানি দ্বারা মাথা মাসাহ্ করেন এবং পদযুগল পরিস্কার করে ধৌত করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَيْسَرَةَ الْحَضْرَمِيُّ، سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِيكَرِبَ الْكِنْدِيَّ، قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

১২১. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ .... মিকদাম ইবনে মাদীকারীব আল-কিন্দী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে উযুর পানি পেশ করা হলে তিনি উযু করেন। অতঃপর তিনি উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার এবং মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন। পরে তিনি দুই হাতের কনুই সমেত তিনবার করে ধৌত করেন। অতঃপর তিনি তিনবার কুলি করেন এবং তিনবার নাকে পানি দেন। পরে তিনি তাঁর মাথা এবং উভয় কানের আভ্যন্তরীণ ও বহির্ভাগ মাসাহ্ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الأَنْطَاكِيُّ، - لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَلَمَّا بَلَغَ مَسْحَ رَأْسِهِ وَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى مُقَدَّمِ رَأْسِهِ فَأَمَرَّهُمَا حَتَّى بَلَغَ الْقَفَا ثُمَّ رَدَّهُمَا إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ . قَالَ مَحْمُودٌ قَالَ أَخْبَرَنِي حَرِيزٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

১২২. মাহমুদ .... মিকদাম ইবনে মাদীকারীব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে দেখেছি। উযু করতে করতে যখন মাথা মাসাহ্ পর্যন্ত পৌছান, তখন তিনি এভাবে মাথা মাসাহ্ করেন যে, উভয় হাতের তালু মাথার সামনের অংশে স্থাপন করে তা ক্রমান্বয়ে মাথায় পশ্চাদ্ভাগ পর্যন্ত নেন। অতঃপর তিনি পেছনের দিক হতে সামনের দিকে তা শুরুর স্থানে ফিরিয়ে আনেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَهِشَامُ بْنُ خَالِدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ وَمَسَحَ بِأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا . زَادَ هِشَامٌ وَأَدْخَلَ أَصَابِعَهُ فِي صِمَاخِ أُذُنَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

১২৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ .... আল-ওয়ালীদ থেকে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। মিকদাদ (রাযিঃ) বলেন, কানের বহির্ভাগ ও ভেতরাংশ মাসাহ্ করেন। হিশামের বর্ণনায় আরো আছেঃ তিনি কানের ফুটায় নিজের আঙ্গুলসমূহ প্রবেশ করান।

১২৪

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَزْهَرِ الْمُغِيرَةُ بْنُ فَرْوَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي مَالِكٍ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ، تَوَضَّأَ لِلنَّاسِ كَمَا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَلَمَّا بَلَغَ رَأْسَهُ غَرَفَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَتَلَقَّاهَا بِشِمَالِهِ حَتَّى وَضَعَهَا عَلَى وَسَطِ رَأْسِهِ حَتَّى قَطَرَ الْمَاءُ أَوْ كَادَ يَقْطُرُ ثُمَّ مَسَحَ مِنْ مُقَدَّمِهِ إِلَى مُؤَخَّرِهِ وَمِنْ مُؤَخَّرِهِ إِلَى مُقَدَّمِهِ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১২৪. মুআম্মাল ইবনুল ফাদল ..... ইয়াযীদ ইবনে আবু মালেক হতে বর্ণিত। একদা মুআবিয়া (রাযিঃ) লোকদের দেখাবার জন্য ঐরূপে উযু করলেন- যেরূপ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে দেখেছিলেন। যখন মাথা মাসাহ্ করা পর্যন্ত পৌছান, তখন তিনি ডান হাতে এক কোশ পানি নিয়ে তার বাম হাতের সাথে মিলালেন এবং উক্ত পানি মাথার মধ্যভাগে রাখলেন, যার ফলে সেখান হতে পানির ফোটা পড়ছিল অথবা পড়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাঁর মস্তকের সামনের দিক হতে পিছনের দিকে এবং পিছন হতে সামনের দিকে মাসাহ্ করেন।

১২৫

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ فَتَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ بِغَيْرِ عَدَدٍ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১২৫. মাহমুদ ইবনে খালিদ .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে আছেঃ মুআবিয়া (রাযিঃ) উযুতে প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেন এবং উভয় পা কয়েকবার ধৌত করেন।

১২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينَا فَحَدَّثَتْنَا أَنَّهُ قَالَ " اسْكُبِي لِي وَضُوءًا " . فَذَكَرَتْ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فِيهِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثًا وَوَضَّأَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مَرَّةً وَوَضَّأَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّتَيْنِ يَبْدَأُ بِمُؤَخَّرِ رَأْسِهِ ثُمَّ بِمُقَدَّمِهِ وَبِأُذُنَيْهِ كِلْتَيْهِمَا ظُهُورِهِمَا وَبُطُونِهِمَا وَوَضَّأَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا مَعْنَى حَدِيثِ مُسَدَّدٍ .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১২৬. মুসাদ্দাদ ..... রুবাই বিনতেে মুআব্বিয ইবনে আফরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট আগমন করলেন। রাবী বলেন, একদা মহানবী (ﷺ) আমাদের নিকট উযুর পানি চাইলেন। অতঃপর তিনি তাঁর উযুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি তাঁর দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন এবং মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন। পরে তিনি একবার কুল্লি করেন এবং নাকে পানি দেন। অতঃপর তিনি উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন এবং দুইবার মাথা মাসাহ্ করেন, যেখানে তিনি প্রথমে মাথার পিছনের অংশ এবং পরে সমনের অংশ মাসাহ্ করেন এবং উভয় বারই দুই কানের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাংশ মাসাহ্ করেন এবং তিনবার উভয় পা ধৌত করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ يُغَيِّرُ بَعْضَ مَعَانِي بِشْرٍ قَالَ فِيهِ وَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১২৭. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় বিশর-এর বর্ণনার সাথে কিছুটা পার্থক্য আছে এই বর্ণনায় আছেঃ মহানবী (ﷺ) তিনবার কুল্লি করেন এবং তিনবার নাকে পানি দেন।

১২৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ عِنْدَهَا فَمَسَحَ الرَّأْسَ كُلَّهُ مِنْ قَرْنِ الشَّعْرِ كُلَّ نَاحِيَةٍ لِمُنْصَبِّ الشَّعْرِ لاَ يُحَرِّكُ الشَّعْرَ عَنْ هَيْئَتِهِ .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১২৮. কুতায়বা .... রুবাই বিনতে মুআব্বিয ইবনে আফরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সম্মুখে উযু করেন। তখন তিনি চুলের উপরিভাগ হতে সমস্ত মাথা মাসাহ্ করেন- কপালের অগ্রভাগ হতে শুরু করে সমস্ত মস্তক- যেখানে চুল আছে- তা স্থিতাবস্থায় রেখে মাসাহ্ করেন।

১২৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ، أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ - قَالَتْ - فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَمَسَحَ مَا أَقْبَلَ مِنْهُ وَمَا أَدْبَرَ وَصُدْغَيْهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১২৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... রুবাই ইবনে আফরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি (আব্দুল্লাহকে) জানাতে গিয়ে বলেছেন, একদা আমি রাসূলূল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে দেখেছি। রাবী বলেন, তিনি তাঁর মাথা মাসাহ্ করার সময় মাথার সম্মুখ ও পশ্চাদ ভাগসহ কপালের পার্শ্বদেশ এবং উভয় কান একবার মাসাহ্ করেন।

১৩০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ مِنْ فَضْلِ مَاءٍ كَانَ فِي يَدِهِ .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১৩০. মুসাদ্দাদ .... রুবাই (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর হাতের অতিরিক্ত পানি দ্বারা মাথা মাসাহ্ করেন।

১৩১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَأَدْخَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي جُحْرَىْ أُذُنَيْهِ .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১৩১. ইবরাহীম .... রুবাই বিনতে মুআব্বিয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) উযু করেন এবং তাঁর আঙ্গুলি দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করান।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ رَأْسَهُ مَرَّةً وَاحِدَةً حَتَّى بَلَغَ الْقَذَالَ - وَهُوَ أَوَّلُ الْقَفَا - وَقَالَ مُسَدَّدٌ وَمَسَحَ رَأْسَهُ مِنْ مُقَدَّمِهِ إِلَى مُؤَخَّرِهِ حَتَّى أَخْرَجَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ أُذُنَيْهِ . قَالَ مُسَدَّدٌ فَحَدَّثْتُ بِهِ يَحْيَى فَأَنْكَرَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ يَقُولُ ابْنُ عُيَيْنَةَ زَعَمُوا كَانَ يُنْكِرُهُ وَيَقُولُ أَيْشِ هَذَا طَلْحَةُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ

বর্ণনাকারী: কা'ব ইবনে আমর আবু মুসাররিফ (রাঃ)

১৩২. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও পিতামহের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন আামরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বীয় মাথা একবার মাসাহ্ করতে দেখেছি। এসময় তিনি (ﷺ) ‘কাজাল’ (মাথার পশ্চাদ্ভাগে ঘাড়ের সংযোগ স্থান) পর্যন্ত পৌছান। মুসাদ্দাদ বলেন, তিনি মাথার সামনের দিক থেকে পিছনের অংশ পর্যন্ত মাসাহ্ করেন এবং সর্বশেষ তিনি তাঁর উভয় হাত উভয় কানের নিম্নভাগ হতে বের করেন।

১৩৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ كُلَّهُ ثَلاَثًا ثَلاَثًا قَالَ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ مَسْحَةً وَاحِدَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৩. হাসান ইবনে আলী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে দেখেন। এই হাদীসের সর্বশেষ রাবী হাসন ইবনে আলী সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (ﷺ) উযুর সময় প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেন এবং মাথা ও কর্ণদ্বয় একবার মাসাহ্ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَقُتَيْبَةُ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، وَذَكَرَ، وُضُوءَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ الْمَأْقَيْنِ . قَالَ وَقَالَ " الأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ " . قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ يَقُولُهَا أَبُو أُمَامَةَ . قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ حَمَّادٌ لاَ أَدْرِي هُوَ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ أَبِي أُمَامَةَ . يَعْنِي قِصَّةَ الأُذُنَيْنِ . قَالَ قُتَيْبَةُ عَنْ سِنَانٍ أَبِي رَبِيعَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ ابْنُ رَبِيعَةَ كُنْيَتُهُ أَبُو رَبِيعَةَ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১৩৪. সুলাইমান .... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর উযু সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উযুর সময় দুই চক্ষুর পার্শ্বস্থ স্থান মাসাহ্ করতেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ কর্ণদ্বয় মস্তকের অংশ (কাজেই কান ধৌত করার পরিবর্তে মাসাহ্ করাই উত্তম)।

সুলাইমান ইবনে হারব বলেন, আবু উমামা (রাযিঃ) এটা বলতেন, কুতায়বা বলেন, হাম্মাদ বলেছেনঃ আমি জানিনা যে, “উভয় কান মাথার অন্তর্ভুক্ত” এটা মহানবী (ﷺ)-এর কথা, না আবু উমামা (রাযিঃ) এর কথা। কুতায়বা বলেছেন-সিনান আবু বরীআর সূত্রে। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, সিনান হচ্ছেন রবীআর পুত্র এবং তাঁর উপনাম আবু রবীআ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫১. উযুর অঙ্গগুলো তিনবার করে ধৌত করার বর্ণনা।

باب الْوُضُوءِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا

১৩৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الطُّهُورُ فَدَعَا بِمَاءٍ فِي إِنَاءٍ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ فَأَدْخَلَ إِصْبَعَيْهِ السَّبَّاحَتَيْنِ فِي أُذُنَيْهِ وَمَسَحَ بِإِبْهَامَيْهِ عَلَى ظَاهِرِ أُذُنَيْهِ وَبِالسَّبَّاحَتَيْنِ بَاطِنَ أُذُنَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " هَكَذَا الْوُضُوءُ فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا أَوْ نَقَصَ فَقَدْ أَسَاءَ وَظَلَمَ " . أَوْ " ظَلَمَ وَأَسَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৫. মুসাদ্দাদ ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পবিত্রতা কিরূপ? তখন তিনি (ﷺ) এক পাত্র পানি চাইলেন এবং দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন- অতঃপর দুই হাতের কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন, অতঃপর মাথা মাসাহ্ করেন এবং উভয় হাতে, তর্জনীদ্বয়কে উভয় কানে প্রবেশ করান, অতঃপর উভয় বৃদ্ধাংগুলি দ্বারা কানের বহিরাংশ মাসাহ্ করেন, অতঃপর পদযুগল তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ এটাই পরিপূর্ণভাবে উযু করার নমুনা। অতঃপর যে ব্যক্তি এর অধিক বা কম করে- সে অবশ্যই যুলুম ও অন্যায় করে। এস্থলে রাবী হাদীস বর্ণনায় (أَسَاءَ وَظَلَمَ) অথবা (ظَلَمَ وَأَسَاءَ) শব্দদ্বয়ের কোনটি প্রথমে ও কোনটি পরে বলেছেন এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫২. উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুইবার ধৌত করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مَرَّتَيْنِ

১৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا زَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحُبَابِ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَوْبَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ الْهَاشِمِيُّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৬. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গণ্ডলি দুইবার করে ধৌত করেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا زَيْدٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ لَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ أَتُحِبُّونَ أَنْ أُرِيَكُمْ، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَدَعَا بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ فَاغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ الْيُمْنَى فَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ أَخَذَ أُخْرَى فَجَمَعَ بِهَا يَدَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ أَخَذَ أُخْرَى فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُمْنَى ثُمَّ أَخَذَ أُخْرَى فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُسْرَى ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً مِنَ الْمَاءِ ثُمَّ نَفَضَ يَدَهُ ثُمَّ مَسَحَ بِهَا رَأْسَهُ وَأُذُنَيْهِ ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً أُخْرَى مِنَ الْمَاءِ فَرَشَّ عَلَى رِجْلِهِ الْيُمْنَى وَفِيهَا النَّعْلُ ثُمَّ مَسَحَهَا بِيَدَيْهِ يَدٍ فَوْقَ الْقَدَمِ وَيَدٍ تَحْتَ النَّعْلِ ثُمَّ صَنَعَ بِالْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৭. উছমান ইবনে আবী শায়বা .... আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমাদেরকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তোমরা কি এটা পছন্দ কর যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরূপে উযু করতেন তা আমি তোমাদের দেখাই? অতঃপর তিনি এক পাত্র পানি চাইলেন এবং ডান হাত দিয়ে এক কোশ পানি তুলে কুল্লি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, অতঃপর আর এক কোশ পানি তুলে দুই হাত একত্রিত করে মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। অতঃপর আর এক কোশ পানি নিয়ে ডান হাত ধৌত করলেন এবং আরো এক কোশ পানি নিয়ে হাতে ঢাললেন এবং মাথা ও কান মাসাহ্ করলেন। অতঃপর আরো এক কোশ পানি তুলে ডান পায়ের উপর ছিটালেন- তখন তাঁর পায়ে সেন্ডেল ছিল। তিনি তাঁর এক হাত পায়ের উপরে এবং এক হাত পায়ের নিম্নাংশে রেখে ডলিয়ে ধুলেন। অতঃপর তিনি বাম পাও অনুরূপভাবে ধৌত করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৩. উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একবার ধৌত করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مَرَّةً مَرَّةً

১৩৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِوُضُوءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৮. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উযু সম্পর্কে খবর দিব না? অতঃপর তিনি উযুর প্রত্যেক অঙ্গ একবার করে ধৌত করলেন।*

* উযুর অংগ-প্রত্যঙ্গ একবার করে ধৌত করলেও উযু আদায় হবে। কিন্তু তিনবার করে ধৌত করা মুস্তাহাব।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৪. গড়গড়া করা ও নাক পরিস্কার করার মধ্যে পার্থক্য।

باب فِي الْفَرْقِ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالاِسْتِنْشَاقِ

১৩৯

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا، يَذْكُرُ عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ دَخَلْتُ - يَعْنِي - عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَوَضَّأُ وَالْمَاءُ يَسِيلُ مِنْ وَجْهِهِ وَلِحْيَتِهِ عَلَى صَدْرِهِ فَرَأَيْتُهُ يَفْصِلُ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالاِسْتِنْشَاقِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৩৯. হুমায়েদ ইবনে মাসআদা .... তালহা (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং পিতামহের সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে এমন সময় উপহিত হই- যখন উযু করছিলেন এবং উযুর পানি তাঁর চেহারা ও দাড়ি দিয়ে গড়িয়ে সিনার (বুকের) উপর পড়ছিল। আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে, তিনি পৃথক পৃথক ভাবে করলেন এবং নাকে পানি দিলেন (যাতে মনে হয় যে, গোসল করছেন)।

৫৫. নাক পরিস্কার করা সম্পর্কে।

باب فِي الاِسْتِنْثَارِ

১৪০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ثُمَّ لْيَنْثُرْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ উযু করে- তখন সে যেন তার নাকের মধ্যে পানি প্রবেশ করিয়ে তা পরিষ্কার করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ قَارِظٍ، عَنْ أَبِي غَطَفَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْتَنْثِرُوا مَرَّتَيْنِ بَالِغَتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪১. ইবরাহীম ইবনে মুসা ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে দুইবার নাক পরিস্কার কর অথবা তিনবার।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ قَالَ كُنْتُ وَافِدَ بَنِي الْمُنْتَفِقِ - أَوْ فِي وَفْدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نُصَادِفْهُ فِي مَنْزِلِهِ وَصَادَفْنَا عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ فَأَمَرَتْ لَنَا بِخَزِيرَةٍ فَصُنِعَتْ لَنَا قَالَ وَأُتِينَا بِقِنَاعٍ - وَلَمْ يَقُلْ قُتَيْبَةُ الْقِنَاعَ وَالْقِنَاعُ الطَّبَقُ فِيهِ تَمْرٌ - ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " هَلْ أَصَبْتُمْ شَيْئًا أَوْ أُمِرَ لَكُمْ بِشَىْءٍ " . قَالَ قُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَبَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُلُوسٌ إِذْ دَفَعَ الرَّاعِي غَنَمَهُ إِلَى الْمُرَاحِ وَمَعَهُ سَخْلَةٌ تَيْعَرُ فَقَالَ " مَا وَلَّدْتَ يَا فُلاَنُ " . قَالَ بَهْمَةً . قَالَ فَاذْبَحْ لَنَا مَكَانَهَا شَاةً . ثُمَّ قَالَ لاَ تَحْسِبَنَّ - وَلَمْ يَقُلْ لاَ تَحْسَبَنَّ - أَنَّا مِنْ أَجْلِكَ ذَبَحْنَاهَا لَنَا غَنَمٌ مِائَةٌ لاَ نُرِيدُ أَنْ تَزِيدَ فَإِذَا وَلَّدَ الرَّاعِي بَهْمَةً ذَبَحْنَا مَكَانَهَا شَاةً . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي امْرَأَةً وَإِنَّ فِي لِسَانِهَا شَيْئًا يَعْنِي الْبَذَاءَ . قَالَ " فَطَلِّقْهَا إِذًا " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَهَا صُحْبَةً وَلِي مِنْهَا وَلَدٌ . قَالَ " فَمُرْهَا - يَقُولُ عِظْهَا - فَإِنْ يَكُ فِيهَا خَيْرٌ فَسَتَفْعَلُ وَلاَ تَضْرِبْ ظَعِينَتَكَ كَضَرْبِكَ أُمَيَّتَكَ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ . قَالَ " أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا " .

বর্ণনাকারী: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

১৪২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আসিম ইবনে লাকীত ইবনে সাবুরা থেকে তাঁর পিতা লাকীত ইবনে সাবুরার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বনু মুনতাফিকের (গোত্রের) একক প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে গমন করি তিনি বলেন, যখন আমরা তাঁর নিকটে উপনীত হলাম- তখন তাকে স্বগৃহে (উপস্থিত) পেলাম না এবং উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাযিঃ)-কে উপস্থিত পেলাম। তখন তিনি আমাদের জন্য ‘খাযীরাহ্’ (এক ধরনের উপাদেয় খাদ্য) তৈরীর নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তা আমাদের জন্য প্রস্তুত করা হলে খাদ্যের পাত্রে তা আমাদের সম্মুখে পেশ করা হল। হাদীসের অন্য রাবী কুতায়বা (القناع) শব্দটি ষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। (القناع) হল এমন একটি পাত্র যার মধ্যে খেজুর রাখা হয়।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ফিরে এসে আমাদের জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কি কিছু খেয়েছ? অথবা তোমাদের (খাওয়ার জন্য) কোন কিছুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ এমতাস্থায় যখন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে মজলিসে ছিলাম- তখন এক মেষ-পালক তাঁর বকরীর পাল নিয়ে চারণ ভূমিতে যাচ্ছিল এবং বকরীর সাথে চিৎকার রত একটি বাচ্চাও ছিল। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ কি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে? সে বলল, ছাগল অথবা ভেড়ার একটি মাদি বাচ্চা। তখন তিনি বলেনঃ এর পরিবর্তে তুমি আমাদের জন্য একটি বকরী যবেহ্ কর।

অতঃপর নবী (ﷺ) প্রতিনিধি দলের নেতাকে সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা মনে কর না যে, তা কেবলমাত্র তোমাদের উদ্দেশ্যে যবেহ্ করা হয়েছে। বরং অবস্থা এই যে, আমাদের একশত বকরী আছে, আমি এর অতিরিক্ত সংখ্যা বাড়াতে চাই না। কাজেই যখন একটি নতুন শাবক জন্ম নিয়েছে, তার পরিবর্তে একটি ছাগল যবেহ্ করেছি। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একজন স্ত্রী আছে- যে কথাবার্তা বলার সময় গালিগালাজ করে। এতদশ্রবনে তিনি বলেনঃ তাকে তালাক দাও।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার সাথে আমার দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক এবং তার গর্ভজাত আমার একটি সন্তানও আছে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি তাকে উপদেশ দাও। যদি সে তোমার উপদেশে ভাল হয়ে যায়- তবেই উত্তম। জেনে রেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে দাসীর মত মারপিট কর না। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উযু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ পরিপূর্ণভাবে উযু করবে এবং অঙ্গুলিসমূহ খেলাল করবে এবং নাকের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে পানি পৌছাবে। অবশ্য রোযাদার হলে এরূপ করবে না।*

* উযুর সময় গড়গড়া করা ও নাকের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা সুন্নত এবং নাপাকীর গোসলের সময় তা ফরয। কিন্তু রোযা থাকাবস্থায় গড়গড়া করা এবং নাকের মধ্যে এমনভাবে পানি প্রবেশ করান নিষেধ- যাতে রোযার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৩

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَافِدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ، أَنَّهُ أَتَى عَائِشَةَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ . قَالَ فَلَمْ يَنْشَبْ أَنْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَقَلَّعُ يَتَكَفَّأُ . وَقَالَ عَصِيدَةٍ . مَكَانَ خَزِيرَةٍ .

বর্ণনাকারী: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

১৪৩. উকবা ইবনে মুকাররাম ..... আসিম ইবনে লাকীত ইবনে সাবুরা হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা বনী মুনতাফিকের প্রতিনিধি-দল আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়। অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাবী আরো বলেন, আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর নবী (ﷺ) মন্থর গতিতে সেখানে এসে উপস্থিত হন। এস্থলে বর্ণনাকারী خَزِيرَةٍ শব্দের পরিবর্তে عَصِيدَةٍ শব্দ উল্লেখ করেছেন।*

* (খাযীরাহ্) হলঃ যব, আটা, গোশত ইত্যাদি একত্রিত করে যে উপাদেয় খাদ্য তৈরী করা হয়। (আসীদাহ্) হলঃ যব, আটা, ঘি ও মধু সমন্বয়ে প্রস্তুত অপর একটি উপাদেয় খাদ্য। -(অনুবাদক)
১৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَمَضْمِضْ " .

বর্ণনাকারী: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

১৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... ইবনে জুরায়েজ হতে উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তাঁর উক্ত হাদীসে আরো আছে, মহানবী (ﷺ) বলেনঃ যখন তুমি উযু কর তখন কুল্লি করবে।

৫৬. দাঁড়ি খেলাল করা।

باب تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ

১৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، - يَعْنِي الرَّبِيعَ بْنَ نَافِعٍ - حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ زَوْرَانَ، عَنْ أَنَسٍ يَعْنِي ابْنَ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَوَضَّأَ أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَأَدْخَلَهُ تَحْتَ حَنَكِهِ فَخَلَّلَ بِهِ لِحْيَتَهُ وَقَالَ " هَكَذَا أَمَرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ ابْنُ زَوْرَانَ رَوَى عَنْهُ حَجَّاجُ بْنُ حَجَّاجٍ وَأَبُو الْمَلِيحِ الرَّقِّيُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৫. আবু তাওবা রুবাই ইবনে নাফে .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উযু করতেন, তখন তিনি এক কোশ পানি হাতে নিয়ে থুতনির নীচে দিয়ে তা দ্বারা দাড়ি খেলাল করতেন। তিনি আরো বলেনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৫৭. পাগড়ীর উপর মাসাহ করা।

باب الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ

১৪৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَأَصَابَهُمُ الْبَرْدُ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ وَالتَّسَاخِينِ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১৪৬. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ..... ছাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শত্রুদের মোকাবেলার জন্য একদল সৈন্য পাঠান। তারা ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এলে তিনি তাদেরকে পাগড়ী ও মোজার উপর মাসাহ্ করার অনুমতি প্রদান করেন।

১৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ أَبِي مَعْقِلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ قِطْرِيَّةٌ فَأَدْخَلَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْعِمَامَةِ فَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِهِ وَلَمْ يَنْقُضِ الْعِمَامَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৭. আহমাদ ইবনে সালেহ্ ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কিতরিয়াহ্ নামীয় পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় উযু করতে দেখেছি। এ সময় তিনি তার হাত পাগড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে মাথার সম্মুখভাগ মাসাহ্ করেন, কিন্তু পাগড়ী খুলেননি।

৫৮. উযুর সময় পা ধৌত করা সম্পর্কে।

باب غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ

১৪৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَضَّأَ يَدْلُكُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ بِخِنْصَرِهِ .

বর্ণনাকারী: মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ)

১৪৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযুর সময় স্বীয় পদদ্বয়ের অঙ্গুলিসমূহ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি দ্বারা খিলাল করতে দেখেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৯. মোজার উপর মাসাহ করা সম্পর্কে।

باب الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ

১৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ زِيَادٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَاهُ الْمُغِيرَةَ، يَقُولُ عَدَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَعَدَلْتُ مَعَهُ فَأَنَاخَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَتَبَرَّزَ ثُمَّ جَاءَ فَسَكَبْتُ عَلَى يَدِهِ مِنَ الإِدَاوَةِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ حَسَرَ عَنْ ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَ كُمَّا جُبَّتِهِ فَأَدْخَلَ يَدَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَهُمَا إِلَى الْمِرْفَقِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ رَكِبَ فَأَقْبَلْنَا نَسِيرُ حَتَّى نَجِدَ النَّاسَ فِي الصَّلاَةِ قَدْ قَدَّمُوا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ فَصَلَّى بِهِمْ حِينَ كَانَ وَقْتُ الصَّلاَةِ وَوَجَدْنَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ وَقَدْ رَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَفَّ مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَصَلَّى وَرَاءَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الرَّكْعَةَ الثَّانِيَةَ ثُمَّ سَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَتِهِ . فَفَزِعَ الْمُسْلِمُونَ فَأَكْثَرُوا التَّسْبِيحَ لأَنَّهُمْ سَبَقُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالصَّلاَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُمْ " قَدْ أَصَبْتُمْ " . أَوْ " قَدْ أَحْسَنْتُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৪৯. আহমাদ ইবনে সালেহ্ ..... মুগীরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবূকের যুদ্ধের সময় একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের নামাযের পূর্বে স্থানান্তরে গমন করলেন এবং এ সময় আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) তাঁর উট বসালেন এবং মলমূত্র ত্যাগ করলেন। তা সমাপনান্তে ফিরে এলে আমি পাত্র হতে তাঁর হাতে পানি ঢেলে দেই। তিনি উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল ধৌত করেন। অতঃপর তিনি তার জুব্বার আস্তিন উপরের দিকে উঠাতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তা সংকীর্ণ হওয়ায় তিনি তাঁর হাত তার জুব্বার আস্তিনের ভিতর হতে বের করে উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। অতঃপর মাথা মাসাহ্ করলেন, অতঃপর মোজার উপর মাসাহ্ করলেন এবং উটের উপর আরোহণ করলেন। অতঃপর আমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে সকলকে নামাযে রত পেলাম। তারা আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-কে ইমাম নিযুক্ত করেছে।

আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) নামাযের সময় হওয়ায় তাদেরকে নিয়ে নামায আরম্ভ করেন এবং আমরা তাকে এমন অবস্থায় পাই যে, তিনি ফজরের নামাযের এক রাকআত (তখন) শেষ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের সাথে কাতারে দাঁড়িয়ে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) এর পিছনে নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে আদায় করলেন। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) নামাযের সালাম ফিরালে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর বাকী নামায আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হন। এতদ্দর্শনে সমবেত মুসলমানরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে অধিক পরিমাণে ‘সুবাহানাল্লাহ’ পাঠ করতে থাকে। কেননা তারা নবী (ﷺ)-এর জন্য অপেক্ষা না করে নামায আরম্ভ করে দিয়েছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায সমাপনান্তে সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমরা যথা সময়ে নামায আদায় করে ঠিকই করেছ অথবা উত্তম কাজই করেছ।*

* নির্ধারিত সময়ে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য বিলম্ব না করে উপস্থিত মুসল্লীদের মধ্য থেকে একজনকে ইমাম নিযুক্ত করে তার নেতৃত্বে যথা সময়ে নামায আদায় করা মুস্তাহাব। নামাযের সঠিক সময় অবশিষ্ট থাকলে ইমামের জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে। -(অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ، ح حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنِ التَّيْمِيِّ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ نَاصِيَتَهُ . وَذَكَرَ فَوْقَ الْعِمَامَةِ - قَالَ عَنِ الْمُعْتَمِرِ - سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَعَلَى نَاصِيَتِهِ وَعَلَى عِمَامَتِهِ . قَالَ بَكْرٌ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنَ ابْنِ الْمُغِيرَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫০. মুসাদ্দাদ .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উযুর সময় তাঁর কপাল মাসাহ্ করেন। তিনি আরো বলেন, এই মাসাহ্ ছিল পাগড়ীর উপর। মুগীরা (রাযিঃ) হতে অন্য বর্ণনায় আছেঃ নবী (ﷺ) মোজা, কপাল ও পাগড়ীর উপর মাসাহ্ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، يَذْكُرُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْبِهِ وَمَعِي إِدَاوَةٌ فَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَتَلَقَّيْتُهُ بِالإِدَاوَةِ فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ وَوَجْهَهُ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ ذِرَاعَيْهِ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ مِنْ جِبَابِ الرُّومِ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ فَضَاقَتْ فَادَّرَعَهُمَا ادِّرَاعًا ثُمَّ أَهْوَيْتُ إِلَى الْخُفَّيْنِ لأَنْزِعَهُمَا فَقَالَ لِي " دَعِ الْخُفَّيْنِ فَإِنِّي أَدْخَلْتُ الْقَدَمَيْنِ الْخُفَّيْنِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ " . فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا . قَالَ أَبِي قَالَ الشَّعْبِيُّ شَهِدَ لِي عُرْوَةُ عَلَى أَبِيهِ وَشَهِدَ أَبُوهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫১. মুসাদ্দাদ .... উরওয়া ইবনুল মুগীরা ইবনে শোবা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে উটে সফর করছিলাম। এ সময় আমার নিকট (পানির) পাত্র ছিল। তিনি পায়খানায় গেলেন এবং তথা হতে ফিরে এলে আমি তাঁর সামনে (পানির) পাত্র নিয়ে উপস্থিত হই। অতঃপর আমি পানি ঢললে তিনি তাঁর উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল ধৌত করেন, অতঃপর হাত বের করতে ইচ্ছা করলেন, এ সময় তাঁর পরিধানে রূমের তৈরী সংকীর্ণ আস্তিন বিশিষ্ট পশমী জোব্বা ছিল। আস্তিন অধিক সংকীর্ণ হওয়ায় তিনি অতি কষ্টে দুই হাতের আস্তিন গুটাতে না পেরে তা খুলে ফেলেন। অতঃপর আমি তাঁর পায়ের মোজাদ্বয় খুলবার চেষ্টা করি তখন তিনি বলেনঃ মোজা খুল না। কেননা আমি যখন মোজা পরিধান করি, তখন আমার উভয় পা পবিত্র ছিল। অতঃপর তিনি মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ্ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫২

حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ هَذِهِ الْقِصَّةَ . قَالَ فَأَتَيْنَا النَّاسَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ يَمْضِيَ - قَالَ - فَصَلَّيْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ رَكْعَةً فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الرَّكْعَةَ الَّتِي سُبِقَ بِهَا وَلَمْ يَزِدْ عَلَيْهَا شَيْئًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ وَابْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ عُمَرَ يَقُولُونَ مَنْ أَدْرَكَ الْفَرْدَ مِنَ الصَّلاَةِ عَلَيْهِ سَجْدَتَا السَّهْوِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫২. হুদবা ইবনে খালিদ .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মলমূত্র ত্যাগের জন্য দূরে যাওয়ায় নামাযের জামাতে উপস্থিত হতে বিলম্ব হয়। অতঃপর তিনি এই ঘটনাটি বর্ণনা করেন। আমরা লোকদের নিকট এসে দেখি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) সকলকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেয়ে পিছনের দিকে সরে আসতে চাইলে তিনি তাঁকে ইশারায় নামায পড়াতে বলেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি (মুগীরা) এবং নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে নামাযের যে রাকআতটি ইমামের সাথে পাননি তা আদায় করেন এবং অতিরিক্ত কিছুই করেননি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ بْنِ سَعْدٍ - سَمِعَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ شَهِدَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ يَسْأَلُ بِلاَلاً عَنْ وُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يَخْرُجُ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَآتِيهِ بِالْمَاءِ فَيَتَوَضَّأُ وَيَمْسَحُ عَلَى عِمَامَتِهِ وَمُوقَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى بَنِي تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে হারিস (রাঃ)

১৫৩. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয .... আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। যখন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) বিনাল (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর উযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জবাবে তিনি (বিলাল) বলেন, নবী (ﷺ) যখনই মলমূত্র ত্যাগের জন্য বের হতেন, তখন আমি তাঁর পানি নিয়ে যেতাম। এ সময় তিনি উযু করে পাগড়ী ও মোজার উপর মাসাহ্ করতেন।

১৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الدِّرْهَمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ دَاوُدَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، أَنَّ جَرِيرًا، بَالَ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَقَالَ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أَمْسَحَ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ قَالُوا إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ قَبْلَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ . قَالَ مَا أَسْلَمْتُ إِلاَّ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ .

বর্ণনাকারী: আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর (রহঃ)

১৫৪. আলী ইবনুল হুসাইন ..... আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা জারীর (রাযিঃ) পেশাবের পর উযু করার সময় মোজা মাসাহ্ করেন এবং বলেন, (মোজার উপর) আমাকে মাসাহ্ করতে নিষেধ করা হয়নি। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে স্বচক্ষে এভাবে মাসাহ্ করতে দেখেছি। উপস্থিত লোকেরা বলেন, এটা সূরা মায়েদাহ্ নাযিল, হওয়ার পূর্বের ঘটনা। জবাবে তিনি বলেন, আমি সূরা মায়েদাহ্ নাযিল হওয়ার পরই ইসলামে দীক্ষিত হই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا دَلْهَمُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ حُجَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّجَاشِيَّ، أَهْدَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُفَّيْنِ أَسْوَدَيْنِ سَاذَجَيْنِ فَلَبِسَهُمَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَيْهِمَا . قَالَ مُسَدَّدٌ عَنْ دَلْهَمِ بْنِ صَالِحٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ الْبَصْرَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

১৫৫. মুসাদ্দাদ .... ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত।। হাবাশার বাদশাহ্ নাজ্জাশী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে এক জোড়া নিকাশ কালো রং-এর মোজা উপঢৌকন পাঠান। অতঃপর তিনি তা পরিধান করেন এবং উযুর সময় তার উপর মাসাহ্ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ حَىٍّ، - هُوَ الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ - عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَامِرٍ الْبَجَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعْمٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسِيتَ قَالَ " بَلْ أَنْتَ نَسِيتَ بِهَذَا أَمَرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫৬. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মোজার উপর মাসাহ্ করেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অ্যপনি কি ভুলে গিয়েছেন? তিনি বলেনঃ বরং তুমিই ভুলে গিয়েছ। আমাকে আমার মহান প্রতিপালক এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৬০. মোজার উপর মাসাহ করার সময়সীমা।

باب التَّوْقِيتِ فِي الْمَسْحِ

১৫৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، وَحَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ بِإِسْنَادِهِ قَالَ فِيهِ وَلَوِ اسْتَزَدْنَاهُ لَزَادَنَا .

বর্ণনাকারী: খুযাইমা ইবনে ছাবিত আনসারী (রাঃ)

১৫৭. হাফস ইবনে উমর .... খুযাইমা ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ মুসাফিরের জন্য মোজার উপড় মাসাহ্ করার নির্ধারিত সময়সীমা হল তিন দিন এবং মুকিমের (নিজ বাড়িতে অবস্থানকারী) জন্য একদিন, একরাত। অপর বর্ণনায় আছেঃ আমরা যদি তার নিকট অধিক সময়সীমা প্রার্থনা করতাম, তবে তিনি আমাদের জন্য অধিক সময় অনুমোদন করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَزِينٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ قَطَنٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ عِمَارَةَ، - قَالَ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ وَكَانَ قَدْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْقِبْلَتَيْنِ - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ يَوْمًا قَالَ " يَوْمًا " . قَالَ وَيَوْمَيْنِ قَالَ " وَيَوْمَيْنِ " . قَالَ وَثَلاَثَةً قَالَ " نَعَمْ وَمَا شِئْتَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْمِصْرِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَزِينٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ عَنْ أُبَىِّ بْنِ عِمَارَةَ قَالَ فِيهِ حَتَّى بَلَغَ سَبْعًا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ وَمَا بَدَا لَكَ " قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي إِسْنَادِهِ وَلَيْسَ هُوَ بِالْقَوِيِّ وَرَوَاهُ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ وَيَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السِّيْلَحِينِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي إِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: উবাই ইবনে ঈমারা (রাঃ)

১৫৮. ইয়াহয়া ইবনে মুইন .... উবাই ইবনে ইমারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে উভয় কিবলার দিকে মুখ করে নামায পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি মোজার উপর মাসাহ্ করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। রাবী তাকে এক, দুই ও তিন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে- তিনি বলেন; তুমি যত দিনের জন্য ইচ্ছা কর। অপর বর্ণনায় আছেঃ তিনি প্রশ্ন করতে করতে সাত দিন পর্যন্ত পৌছান। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)ঃ বলেন হ্যাঁ; যতদিন তুমি প্রয়োজন বোধ কর।*

* মুহাদ্দিছগণের নিকট উক্ত হাদীস গ্রহণীয় নয়। এর সনদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কাজেই তা আমলযোগ্য নয়। - অনুবাদক

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬১. জাওরাবায়েনের উপর মাসাহ করা।

باب الْمَسْحِ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ

১৫৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ الأَوْدِيِّ، - هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَرْوَانَ - عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ لاَ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ لأَنَّ الْمَعْرُوفَ عَنِ الْمُغِيرَةِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ هَذَا أَيْضًا عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ . وَلَيْسَ بِالْمُتَّصِلِ وَلاَ بِالْقَوِيِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَابْنُ مَسْعُودٍ وَالْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَأَبُو أُمَامَةَ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَعَمْرُو بْنُ حُرَيْثٍ وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু্র সময় জাওরাবায়েন ও উভয় জুতার উপর মাসাহ্ করেন।

৬২. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

১৬০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعَبَّادُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، - قَالَ عَبَّادٌ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَوْسُ بْنُ أَبِي أَوْسٍ الثَّقَفِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى نَعْلَيْهِ وَقَدَمَيْهِ . وَقَالَ عَبَّادٌ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى كِظَامَةَ قَوْمٍ - يَعْنِي الْمِيضَأَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ الْمِيضَأَةَ وَالْكِظَامَةَ ثُمَّ اتَّفَقَا - فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى نَعْلَيْهِ وَقَدَمَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৬০. মুসাদ্দাদ ..... আওস ইবনে আবু আওস আছ-ছাকাফী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদা উযুর সময় তাঁর জুতা ও কদমদ্বয় মাসাহ্ করেন। আব্বাদ (রাযিঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক কওমের কূপের নিকট আসেন। কিন্তু রাবী মুসাদ্দাদের বর্ণনার মধ্যে الْمِيضَأَةَ ও الْكِظَامَةَ শব্দের উল্লেখ নেই। অতঃপর উভয় রাবী মতৈক্যে পৌঁছে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উযুর সময় জুতা ও কদমদ্বয়ের উপর মাসাহ্ করেছেন।

৬৩. মাসাহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে।

باب كَيْفَ الْمَسْحُ

১৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، قَالَ ذَكَرَهُ أَبِي عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ . وَقَالَ غَيْرُ مُحَمَّدٍ عَلَى ظَهْرِ الْخُفَّيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৬১. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মোজার উপর মাসাহ্ করতেন। এই ছাদীছের রাবী মুহাম্মাদ ছড়া অন্যদের বর্ণনায়ঃ عَلَى ظَهْرِ الْخُفَّيْنِ বা মোজার উপরের অংশে মাসাহ্ করার কথা উল্লেখ আছে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْىِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلاَهُ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬২. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের (বিবেক-বিবেচনা) উপর নির্ভরশীল হত, তবে মোজার উপরের অংশে মাসাহ্ না করে নিম্নাংশে মাসাহ্ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হত। রাবী আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে তাঁর মোজার উপরের অংশে মাসাহ্ করতে দেখেছি।

১৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مَا كُنْتُ أُرَى بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ إِلاَّ أَحَقَّ بِالْغَسْلِ حَتَّى رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى ظَهْرِ خُفَّيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে .... আমাশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। (আলী) বলেন, আমার ধারণা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে মোজার উপরি অংশে মাসাহ্ করতে দেখেছি।

১৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْىِ لَكَانَ بَاطِنُ الْقَدَمَيْنِ أَحَقَّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا وَقَدْ مَسَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى ظَهْرِ خُفَّيْهِ وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنِ الأَعْمَشِ بِإِسْنَادِهِ قَالَ كُنْتُ أُرَى أَنَّ بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ أَحَقُّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا حَتَّى رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِهِمَا . قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي الْخُفَّيْنِ . وَرَوَاهُ عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَعْمَشِ كَمَا رَوَاهُ وَكِيعٌ وَرَوَاهُ أَبُو السَّوْدَاءِ عَنِ ابْنِ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ ظَاهِرَ قَدَمَيْهِ وَقَالَ لَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... আমাশ (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অরূপ বর্ণিত। রাবী (আলী (রাযিঃ) বলেন, ধর্মের ভিত্তি যদি রায়ের উপর নির্ভরশীল হত- তবে পায়ের উপরের অংশ মাসাহ্ না করে নিম্নাংশ মাসাহ্ করাই উচিত ছিল। বস্তুতঃ নবী (ﷺ) তাঁর পায়ের মোজার উপরের অংশে মাসাহ্ করেছেন।

১৬৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ، وَمَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - قَالَ مَحْمُودٌ - أَخْبَرَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ وَضَّأْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَمَسَحَ أَعْلَى الْخُفَّيْنِ وَأَسْفَلَهُمَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَبَلَغَنِي أَنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ ثَوْرٌ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ رَجَاءٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৬৫. মুসা ইবনে মারওয়ান ..... মুগীরা ইবনু শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাবুকের যুদ্ধে নবী (ﷺ)কে উযু করিয়েছি। তখন তিনি মোজার উপরের ও নীচের অংশ (উভয়ই) মাসাহ্ করেন।

৬৪. উযুর পরে পানি ছিটানো সম্পর্কে।

باب فِي الاِنْتِضَاحِ

১৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - هُوَ الثَّوْرِيُّ - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ الْحَكَمِ الثَّقَفِيِّ، أَوِ الْحَكَمِ بْنِ سُفْيَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَالَ يَتَوَضَّأُ وَيَنْتَضِحُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَافَقَ سُفْيَانَ جَمَاعَةٌ عَلَى هَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ بَعْضُهُمُ الْحَكَمُ أَوِ ابْنُ الْحَكَمِ .

বর্ণনাকারী: হাকাম ইবনে সুফয়ান

১৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... সুফিয়ান ইবনুল হাকাম আছ্-ছাকাফী অথবা হাকাম ইবনে সুফিয়ান আছ্-ছাকাফী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখনই পেশাব করতেন, তখন উযু করতেন এবং উযুর পানি ছিটাতেন।*

* পানি দ্বারা ইস্তিনজা করাকে 'ইন্তেদাহ্' বলা হয়। তবে এস্থলে 'ইন্তেদাহ্' শব্দের অর্থ- ইস্তানাজার জন্য কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহারের দরকার হয় না, তবুও লজ্জাস্থান পানি দ্বারা হালকাভাবে ধৌত করা। এর উদ্দেশ্য হল- শয়তানের ধোঁকা হতে আত্মরক্ষা করা। কেননা পেশাবের পর অনেক সময় অনেকের মনে এরূপ সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে যে, পেশাবের ফোঁটা লেগে উযু ও কাপড় নষ্ট হচ্ছে। – (অনুবাদক)
১৬৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ ثَقِيفٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَالَ ثُمَّ نَضَحَ فَرْجَهُ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

১৬৭. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল .... মুজাছিদ (রাহঃ) বনু ছাফীফের এক ব্যক্তি হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে পেশাব করার পর তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ছিটাতে দেখেছি (অর্থাৎ হালকাভাবে ধৌত করতেন)।

১৬৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ الْحَكَمِ، أَوِ ابْنِ الْحَكَمِ عَنْ أَبِيهِ، (الحكم بن سفيان الثقفي) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَالَ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَنَضَحَ فَرْجَهُ .

বর্ণনাকারী: হাকাম ইবনে সুফয়ান

১৬৮. নসর ইবনুল মুহাজির ..... হাকাম বা ইবনে হাকাম তাঁর পিতা হাকাম ইবনে সুফয়ান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যে, নবী (ﷺ) পেশাবান্তে উযু করেন এবং তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ছিটান (অর্থাৎ লজ্জাস্থান হালকাভাবে ধৌত করার পর উযু করেন)।

৬৫. উযুর পরে পঠিত দু'আ সম্পর্কে।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا تَوَضَّأَ

১৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، - يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ - يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُدَّامَ أَنْفُسِنَا نَتَنَاوَبُ الرِّعَايَةَ رِعَايَةَ إِبِلِنَا فَكَانَتْ عَلَىَّ رِعَايَةُ الإِبِلِ فَرَوَّحْتُهَا بِالْعَشِيِّ فَأَدْرَكْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ قَدْ أَوْجَبَ " . فَقُلْتُ بَخْ بَخْ مَا أَجْوَدَ هَذِهِ . فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ الَّتِي قَبْلَهَا يَا عُقْبَةُ أَجْوَدُ مِنْهَا . فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقُلْتُ مَا هِيَ يَا أَبَا حَفْصٍ قَالَ إِنَّهُ قَالَ آنِفًا قَبْلَ أَنْ تَجِيءَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ وُضُوئِهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ " . قَالَ مُعَاوِيَةُ وَحَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৬৯. আহমাদ ইবনে সাঈদ .... উকরা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে অবস্থান করার সময়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেদের যাবতীয় কাজ এমনকি উট চরানোর দায়িত্বও আমাদের নিজেদের মধ্যে পালাক্রমে ভাগ করে নিতাম। রাবী বলেন, একদা আমার উপর উট চরানোর দায়িতু থাকাকালে আমি যখন সন্ধ্যায় উটসহ প্রত্যাবর্তন করি, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে ভাষণরত পাই। আমি তাকে তখন বলতে শুনেছি তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযু করে অতি বিনয়ের সাথে ও একাগ্রচিত্তে দুই রাকআত নামায আদায় করে; তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। এতদশ্রবণে আমি খুশিতে বাগ বাগ হয়ে বলে উঠিঃ বাহ্ বাহ্! এটা কতই না উত্তম প্রাপ্তি।

অতঃপর সেখানে পূর্ব হতে উপস্থিত- আমার সম্মুখের এক ব্যক্তি বলে উঠল হে উকবা! এর চেয়ে উত্তম বস্তু আছে। অতঃপর আমি তাকিয়ে দেখি তিনি ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে আবু হাফসা তা কি? জবাবে তিনি বলেন, তুমি এখানে আগমনের একটু পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযু করার পর এরূপ বলেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

(“আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু; ওয়া-আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু”) তার জন্যে আটটি জান্নাতের সমস্ত দরজা খোলা হবে বা খুলে যাবে। সে ব্যক্তি সেচ্ছায় যে কোন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
১৭০

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، عَنْ حَيْوَةَ، - وَهُوَ ابْنُ شُرَيْحٍ - عَنْ أَبِي عَقِيلٍ، عَنِ ابْنِ عَمِّهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ أَمْرَ الرِّعَايَةِ قَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ " فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ " . ثُمَّ رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ . فَقَالَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ مُعَاوِيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৭০. হুসাইন ইবনে ঈসা .... উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেখানে উটের রাখালী সম্পর্কে যা উক্ত হয়েছে- তা এই হাদীসে উল্লেখ নেই। অতঃপর তাঁর বর্ণনা পরস্পরায় তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি উত্তমরূপে উযু করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে (উপরোক্ত দুআ পাঠ করে) তবে তার জন্য আটটি জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে যাবে। অতঃপর রাবী মুআবিয়ার বর্ণিত হাদিছের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

৬৬. একই উযুতে কয়েক ওয়াক্তের নামায আদায় সম্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ

১৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الْبَجَلِيِّ، - قَالَ مُحَمَّدٌ هُوَ أَبُو أَسَدِ بْنِ عَمْرٍو - قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنِ الْوُضُوءِ، فَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَكُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭১. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ)-কে উযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রত্যেক নামাযের জন্যই উযু করতেন এবং আমরা একই উযুতে কয়েক ওয়াক্তের নামায আদায় করতাম।

১৭২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ إِنِّي رَأَيْتُكَ صَنَعْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُهُ . قَالَ " عَمْدًا صَنَعْتُهُ " .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

১৭২. মুসাদ্দাদ .... সুলাইমান ইবনে বুরাইদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন একই উযু-তে পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করেন এবং মোজার উপর মাসাহ্ করেন। এতদ্দর্শনে উমর (রাযিঃ) তাকে বলেন, আমি আপনাকে আজ এমন একটি কাজ করতে দেখেছি যা কখনও দেখিনি। জবাবে তিনি (আল্লাহর রাসূল) বলেন, আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি।*

* মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর প্রতি ওয়াক্তের নামায আদায়ের জন্য উযু করা ওয়াজিব ছিল এবং সাহাবায়ে কেরামের জন্য একই উযুতে এক বা একাধিক ওয়াক্তের নামায আদায় করা জায়েয ছিল। মক্কা বিজয়ের দিন হতে নবী করীম (ﷺ)-এর উপর হতে উক্ত ওয়াজিব (প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করা) বাতিল হয়।-(অনুবাদক)

৬৭. উযুর মধ্যে কোন অঙ্গ ধৌত করা বাদ পড়লে।

باب تَفْرِيقِ الْوُضُوءِ

১৭৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ قَتَادَةَ بْنَ دِعَامَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ تَوَضَّأَ وَتَرَكَ عَلَى قَدَمَيْهِ مِثْلَ مَوْضِعِ الظُّفْرِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِمَعْرُوفٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَلَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ ابْنُ وَهْبٍ وَحْدَهُ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْجَزَرِيِّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ " ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৩. হারূন ইবনে মারূফ .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উযুর পর উপস্থিত হল। কিন্তু উযুর সময় সে তার পায়ের এক নখ পরিমাণ স্থান (সামান্য স্থান) ছেড়ে দিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে উযু কর। উমর (রাযিঃ)-ও নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে বর্ণিত আছে তুমি ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে উযু কর।

১৭৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَحُمَيْدٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى قَتَادَةَ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

১৭৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল ইউনুস ও হুমায়েদ .... হাসান (রাহঃ) হতে এবং তিনি নবী (ﷺ) হতে কাতাদা (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৭৫

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، - هُوَ ابْنُ سَعْدٍ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يُصَلِّي وَفِي ظَهْرِ قَدَمِهِ لُمْعَةٌ قَدْرُ الدِّرْهَمِ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ وَالصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

১৭৫. হায়ওয়াত ইবনে শুরায়হ্ ..... খালিদ থেকে নবী (ﷺ)-এর এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে নামায পড়তে দেখলেন- যার পায়ের পাতার উপরের অংশে এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ঝকঝকে শুকনা ছিল, যাতে উযুর সময় পানি পৌঁছেনি। নবী (ﷺ) তাকে পুনরায় উযু করে নামায পড়ার নির্দেশ দেন।*

* উযুর মধ্যে যে অংগগুলি ধৌত করা ফরজ, তার মধ্যে এক চুল পরিমাণ স্থানও যদি উযুর সময় শুকনা থাকে, তবে উযু ও নামায কিছুই দুরস্ত হবে না। - (অনুবাদক)

৬৮. উযু নষ্টের সন্দেহ সম্পর্কে।

باب إِذَا شَكَّ فِي الْحَدَثِ

১৭৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَعَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ شُكِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلُ يَجِدُ الشَّىْءَ فِي الصَّلاَةِ حَتَّى يُخَيَّلَ إِلَيْهِ فَقَالَ " لاَ يَنْفَتِلُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

১৭৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ সাঈদ .... ইবনুল মুসাইয়্যাব ও আব্বাদ ইবনে তামীম উভয়েই তাঁদের চাচা হতে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অতিযোগ করেন যে, সে নামাযের মধ্যে অনুভব করে যে, তার পিছনের রাস্তা হতে বায়ু নির্গত হয়েছে। জবাবে তিনি বলেনঃ যে পর্যন্ত কেউ বায়ু নির্গমনের শব্দ বা দুর্গন্ধ না পাবে ততক্ষণ নামায পরিত্যাগ করবে না।*

* নামাযের মধ্যে অনেক সময় শয়তান মানুষের মনে এরূপ সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা করে; কাজেই বায়ু নির্গমনের স্পষ্ট ধারণা না হওয়া পর্যন্ত উযু নষ্ট হবে না এবং নামায পরিত্যাগ করারও প্রয়োজন নেই। -(অনুবাদক)
১৭৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَوَجَدَ حَرَكَةً فِي دُبُرِهِ أَحْدَثَ أَوْ لَمْ يُحْدِثْ فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ فَلاَ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে থাকাকালীন যদি অনুভব করে যে, তার পশ্চাৎ-দ্বার দিয়ে কিছু নির্গত হয়েছে বা হয়নি এবং তা তার মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে তার নামায ত্যাগ করা উচিত নয়; যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গমনের শব্দ শোনে অথবা দুর্গন্ধ অনুভব করে।

৬৯. (স্ত্রীকে) চুম্বনের পর উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنَ الْقُبْلَةِ

১৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَهَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا رَوَاهُ الْفِرْيَابِيُّ وَغَيْرُهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ مُرْسَلٌ إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مَاتَ إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ وَلَمْ يَبْلُغْ أَرْبَعِينَ سَنَةً وَكَانَ يُكْنَى أَبَا أَسْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৮. মুহাম্মাদ বাশশার ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাকে চুম্বন করে উযু করেন নি।

১৭৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَهَا مَنْ هِيَ إِلاَّ أَنْتِ فَضَحِكَتْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رَوَاهُ زَائِدَةُ وَعَبْدُ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর কোন এক স্ত্রীকে চুম্বন করে উযু করা ব্যতিরেকে নামায আদায় করতে যান। উরওয়া (রাহঃ) বলেন, আমি তাঁকে (আয়িশাকে) জিজ্ঞাসা করলাম তিনিই কি আপনি নন? এতদশ্রবণে তিনি মুচকি হাসি দেন।

১৮০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَخْلَدٍ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَغْرَاءَ - حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، أَخْبَرَنَا أَصْحَابٌ، لَنَا عَنْ عُرْوَةَ الْمُزَنِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ لِرَجُلٍ احْكِ عَنِّي أَنَّ هَذَيْنِ - يَعْنِي حَدِيثَ الأَعْمَشِ هَذَا عَنْ حَبِيبٍ وَحَدِيثَهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ أَنَّهَا تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ - قَالَ يَحْيَى احْكِ عَنِّي أَنَّهُمَا شِبْهُ لاَ شَىْءَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ عَنِ الثَّوْرِيِّ قَالَ مَا حَدَّثَنَا حَبِيبٌ إِلاَّ عَنْ عُرْوَةَ الْمُزَنِيِّ يَعْنِي لَمْ يُحَدِّثْهُمْ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ بِشَىْءٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَى حَمْزَةُ الزَّيَّاتُ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ حَدِيثًا صَحِيحًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০. ইবরাহীম ইবনে মাখলাদ আত-তালিকানী ..... হাবীব হতে এই হাদিছটি অনুরূপ সনদে বর্ণিত আছে যে, মুস্তাহাযা অর্থাৎ, রক্ত প্রদরের রোগিণীদের প্রত্যেক নামাযের সময় উযু করতে হবে।*

* স্ত্রীলোকদের হায়েয অথবা নিফাসের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও যাদের রোগবশতঃ রক্তস্রাব হয় তাদেরকে ‘মুস্তাহাযা' বলা হয়। মাসিক ঋতুকে হায়েয এবং সন্তান প্রশবান্তে রক্তস্রাবকে নিফাস বলা হয়। -(অনুবাদক)

৭০. পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার পর উযু সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ

১৮১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ، يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَذَكَرْنَا مَا يَكُونُ مِنْهُ الْوُضُوءُ . فَقَالَ مَرْوَانُ وَمِنْ مَسِّ الذَّكَرِ . فَقَالَ عُرْوَةُ مَا عَلِمْتُ ذَلِكَ . فَقَالَ مَرْوَانُ أَخْبَرَتْنِي بُسْرَةُ بِنْتُ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ " .

বর্ণনাকারী: বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাঃ)

১৮১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ কি কারণে উযু করার প্রয়োজন হয়? জবাবে মারওয়ান বলেন, পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে। তখন উরওয়া জিজ্ঞাসা করেন, আপনি তা কিরূপে জানলেন? মারওয়ান বলেন- বুসরা বিনতেে সাফ্ওয়ান (রাযিঃ) আমাকে জানিয়েছেন- তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করবে তাকে উযু করতে হবে।

৭১. এ ব্যাপারে রোখছাত (অব্যহতি) সম্পর্কে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

১৮২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَدِمْنَا عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ كَأَنَّهُ بَدَوِيٌّ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا تَرَى فِي مَسِّ الرَّجُلِ ذَكَرَهُ بَعْدَ مَا يَتَوَضَّأُ فَقَالَ " هَلْ هُوَ إِلاَّ مُضْغَةٌ مِنْهُ " . أَوْ قَالَ - " بَضْعَةٌ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَجَرِيرٌ الرَّازِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত তালক ইবনে আলী রাযি.

১৮২. মুসাদ্দাদ ..... কায়েস ইবনে তলক থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট গমন করি। এমন সময় সেখানে একজন গ্রাম্য লোক আগমন করে মহানবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করে- হে আল্লাহর নবী! উযু করার পর যদি কোন ব্যক্তি নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে- তবে এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পুরুষাঙ্গ তো একটি গোশতের টুকরা অথবা গোশতের খণ্ড মাত্র।

১৮৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَقَالَ فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত তালক ইবনে আলী রাযি.

১৮৩. মুসাদ্দাদ .... কায়েস ইবনে তালক উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থের অনুরূপ বর্ণনা করে বলেছেনঃ পুরুষাঙ্গ যদি নামাযের মধ্যে স্পর্শ করা হয়।*

*হানাফী মাযহাবের মতানুসারে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উযু নষ্ট হবে না। - অনুবাদক

৭২. উটের গোশত খাওয়ার পর উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ

১৮৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ فَقَالَ " تَوَضَّئُوا مِنْهَا " . وَسُئِلَ عَنْ لُحُومِ الْغَنَمِ فَقَالَ " لاَ تَتَوَضَّئُوا مِنْهَا " . وَسُئِلَ عَنِ الصَّلاَةِ فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ فَقَالَ " لاَ تُصَلُّوا فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ فَإِنَّهَا مِنَ الشَّيَاطِينِ " . وَسُئِلَ عَنِ الصَّلاَةِ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ فَقَالَ " صَلُّوا فِيهَا فَإِنَّهَا بَرَكَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৮৪. উছমান বারাআ ..... বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে উটের গোশত খাওয়ার পর উযু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি জবাবে বলেনঃ তোমরা উযু করবে। অতঃপর তাকে বকরীর গোশত খাওয়ার পর উযু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, তোমরা উযু করবে না। অতঃপর তাঁকে উটের আস্তাবলে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সেখানে নামায পড়তে নিষেধ করেন। কেননা তা শয়তানের আড্ডাখানা। অতঃপর তাকে বকরীর খোঁয়াড়ে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ তোমরা সেখানে নামায পড়তে পার- কেননা তা বরকতের স্থান।*

* উপরোক্ত হাদীসে উট ও ছাগল যেখানে রাখা হয় তার নিকটবর্তী স্থানে নামায আদায় সম্পর্কে বলা হয়েছে। উট যেহেতু বৃহদকায় এবং এর মলমূত্রও অধিক; তাছাড়া এর নিকটবর্তী স্থানে নামাযে রত হলে অধিক দুর্গন্ধের জন্য শয়তানের প্রভাবে হয়ত কোন সময় নামাযীর ক্ষতি হতে পারে। এজন্য সেখানে নামায পড়া নিষেধ। অপরপক্ষে বকরী নিরীহ প্রাণী। এর মলমূত্রের পরিমাণ ও দুর্গন্ধ কম। কাজেই এখানে নামায পড়া বৈধ।

৭৩. কাঁচা গোশত স্পর্শ করার পর হাত ধোয়া ও উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ اللَّحْمِ النِّيءِ وَغَسْلِهِ

১৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، وَعَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، أَخْبَرَنَا هِلاَلُ بْنُ مَيْمُونٍ الْجُهَنِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، - قَالَ هِلاَلٌ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . وَقَالَ أَيُّوبُ وَعَمْرٌو أُرَاهُ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِغُلاَمٍ وَهُوَ يَسْلُخُ شَاةً فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَنَحَّ حَتَّى أُرِيَكَ فَأَدْخَلَ يَدَهُ بَيْنَ الْجِلْدِ وَاللَّحْمِ فَدَحَسَ بِهَا حَتَّى تَوَارَتْ إِلَى الإِبْطِ ثُمَّ مَضَى فَصَلَّى لِلنَّاسِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ - يَعْنِي - لَمْ يَمَسَّ مَاءً . وَقَالَ عَنْ هِلاَلِ بْنِ مَيْمُونٍ الرَّمْلِيِّ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِلاَلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً لَمْ يَذْكُرَا أَبَا سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৮৫. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) এক গোলামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন সে বকরীর চামড়া ছাড়াচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেনঃ একটু সরে দাড়াও, আমি তোমাকে শিখিয়ে দেই। অতঃপর তিনি নিজের হাত বকরীর চামড়া ও গোশতের মাঝখানে ঢ়ুকিয়ে দেন; এমনকি তাঁর হাত বগল পর্যন্ত ঢুকে গেল। অতঃপর উঠে গিয়ে লোকদের সাথে উযু না করেই নামায আদায় করলেন।

৭৪. মৃত প্রাণী স্পর্শ করে উযু না করা সম্পর্কে।

باب تَرْكِ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الْمَيْتَةِ

১৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِالسُّوقِ دَاخِلاً مِنْ بَعْضِ الْعَالِيَةِ وَالنَّاسُ كَنَفَتَيْهِ فَمَرَّ بِجَدْىٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ فَتَنَاوَلَهُ فَأَخَذَ بِأُذُنِهِ ثُمَّ قَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ...... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বাজারে যাচ্ছিলেন যা মদীনার নিকটবর্তী একটি উচ্চ স্থানে অবস্থিত ছিল। তাঁর দুই পাশে তাঁর সাথে আরো লোক ছিল। পথিমধ্যে তিনি একটি মৃত ভেড়ার বাচ্চার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার কান কাটা ছিল। তখন তিনি তার কান ধরে তুলে বলেনঃ তোমাদের কেউ এটাকে পেতে পচ্ছন্দ কর? অতঃপর পূরা হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৭৫. আগুনে পাকানো জিনিস খাওয়ার পর উযু না করা সম্পর্কে।

باب فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ

১৮৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূল (ﷺ) বকরীর রান খাবার পর উযু না করেই নামায আদায় করেন।

১৮৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ أَبِي صَخْرَةَ، جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ ضِفْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَمَرَ بِجَنْبٍ فَشُوِيَ وَأَخَذَ الشَّفْرَةَ فَجَعَلَ يَحُزُّ لِي بِهَا مِنْهُ - قَالَ - فَجَاءَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ - قَالَ - فَأَلْقَى الشَّفْرَةَ وَقَالَ " مَا لَهُ تَرِبَتْ يَدَاهُ " . وَقَامَ يُصَلِّي . زَادَ الأَنْبَارِيُّ وَكَانَ شَارِبِي وَفَى فَقَصَّهُ لِي عَلَى سِوَاكٍ . أَوْ قَالَ أَقُصُّهُ لَكَ عَلَى سِوَاكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৮৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর ঘরে মেহমান হই। তখন তিনি একটি বকরীর রান আনার নির্দেশ দেন, অতঃপর তা আগুনে ভাজি করা হয়। তিনি একটি বড় ছুরি নিয়ে তা দিয়ে গোশতের টুকরা কেটে কেটে আমাকে দেন। রাবী বলেন, ইত্যবসরে বিলাল (রাযিঃ) আগমন করেন এবং নামায সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ছুরি ফেলে দেন এবং বলেনঃ তার কি হয়েছে? তার হাত ধূলায় ধূসরিত হোক। অতঃপর নামাযের জন্য উঠে গেলেন।

রাবী আনবারীর বর্ণনায় আরো আছে- আমার (মুগীরার) গোঁফ লম্বা হাওয়ায় তিনি তার নীচে মেস্ওয়াক রেখে ছোট করে কেটে দেন। অথবা তিনি বলেন, মেস্ওয়াকের উপর রেখে আমি তোমার গোঁফ খাট করে কেটে দেব।
১৮৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتِفًا ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِمِسْحٍ كَانَ تَحْتَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৯. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বকরীর সিনার গোশত আহার করেন। অতঃপর তাঁর বসার স্থানের নীচে অবস্থিত রুমাল দ্বারা নিজের হাত মুছে নেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন।

১৯০

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْتَهَشَ مِنْ كَتِفٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯০. হাফস ইবনে উমর .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর সামনের দাঁত দিয়ে (বকরীর) ঘাড়ের গোশত কেটে খান। অতঃপর তিনি উযু না করেই নামায পড়েন।

১৯১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْخَثْعَمِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَرَّبْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خُبْزًا وَلَحْمًا فَأَكَلَ ثُمَّ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ بِهِ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ طَعَامِهِ فَأَكَلَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯১. ইবরাহীম .... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একধা আমি নবী (ﷺ)-এর খেদমতে গোশত ও রুটি হাযির করি। তিনি তা আহার করে পানি চেয়ে উযু করলেন (অর্থাৎ হাত-মুখ ধুলেন)। অতঃপর তিনি যোহরের নামায আদায় করেন। পরে তিনি তার রেখে দেয়া খাবার চেয়ে নিয়ে আহার করেন এবং উযু না করে নামায আদায় করেন।

১৯২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَهْلٍ أَبُو عِمْرَانَ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ آخِرُ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرْكَ الْوُضُوءِ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا اخْتِصَارٌ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯২. মুসা ইবনে সাহল .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর দুইটি কাজের সর্বশেষ কাজ এই ছিল যে, তিনি রান্না করা খাদ্য আহারের পর উযু করা পরিত্যাগ করেন।*

*রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উপর প্রথমে আগুনে পাকানো আহারের পর উযু করার নির্দেশ ছিল। উক্ত হাদীসে এই নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। -(অনুবাদক)
১৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ ابْنُ أَبِي كَرِيمَةَ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ - قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ ثُمَامَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مِصْرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ فِي مَسْجِدِ مِصْرَ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ أَوْ سَادِسَ سِتَّةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دَارِ رَجُلٍ فَمَرَّ بِلاَلٌ فَنَادَاهُ بِالصَّلاَةِ فَخَرَجْنَا فَمَرَرْنَا بِرَجُلٍ وَبُرْمَتُهُ عَلَى النَّارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطَابَتْ بُرْمَتُكَ " . قَالَ نَعَمْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي . فَتَنَاوَلَ مِنْهَا بَضْعَةً فَلَمْ يَزَلْ يَعْلِكُهَا حَتَّى أَحْرَمَ بِالصَّلاَةِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৯৩. আহমাদ ইবনে আমর .... উবাইেদ ইবনে ছুমামা আল-মুরাদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনুল হারিছ ইবনে জাযই (রাযিঃ) আমাদের নিকট মিসরে অগমন করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন। রাবী বলেন, আমি মিসরের মসজিদে তাকে বলতে শুনেছি- আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক ব্যক্তির ঘরে ষষ্ঠ অথবা সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় সেখানে বিলাল (রাযিঃ) উপস্থিত হয়ে নামাযের খবর দেন। তখন আমরা সেখান হতে বের হয়ে এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম যার ডেকচী আগুনের উপর ছিল (অর্থাৎ রান্না হচ্ছিল)। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার ডেকচীর খাদ্য খাওয়ার উপযোগী হয়েছে কি? জবাবে সে বলে, হ্যাঁ, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। অতঃপর তিনি (ﷺ) তা হতে এক টুকরা গোশত তুলে ‘তাকবীরে তাহরীমা’ বলার পূর্ব পর্যন্ত চিবাতে থাকেন এবং আমি তা স্বচক্ষে অবলোকন করি।

৭৬. এ ব্যাপারে (রান্না করা খাবার গ্রহণের পর উযু বিষয়ে) কঠোরতা সম্পর্কে।

باب التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ

১৯৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ حَفْصٍ، عَنِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوُضُوءُ مِمَّا أَنْضَجَتِ النَّارُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৯৪. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ রন্ধনকৃত দ্রব্যাদি আহার করলে উযু করতে হবে।*

* উক্ত হাদীসে বর্ণিত উযু শব্দের অর্থঃ খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার পর ভালরূপে হাত মূখ ধৌত করা, নামাযের জন্য যেরূপ উযু করতে হয়, সেই উযু নয়। মোটকথা রন্ধনকৃত খাদ্যদ্রব্য আহার করলে উযু নষ্ট হয় না। - (অনুবাদক)
১৯৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، دَخَلَ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ فَسَقَتْهُ قَدَحًا مِنْ سَوِيقٍ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ فَقَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِي أَلاَ تَوَضَّأُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ " . أَوْ قَالَ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ يَا ابْنَ أَخِي .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

১৯৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আবু সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। আবু সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মুগীরা তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি (মুগীরা) উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর ঘরে যান। তখন তিনি তাকে এক পেয়ালা ছাতু পান করান। অতঃপর তিনি (মুগীরা) পানি চেয়ে কুলি করেন। তখন উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) বলেন, হে আমার বোনের পুত্র! কি ব্যাপার- তুমি তো উযু করলে না? অথচ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আগুনে রান্না করা খাদ্য আহারের পর তোমরা উযু করবে। অথবা তিনি বলেছেনঃ আগুনে যা স্পর্শ করে (তা খাওয়ার পর উযু করবে)।

৭৭. দুধ পানের পর উযু করা সম্পর্কে।

باب فِي الْوُضُوءِ مِنَ اللَّبَنِ

১৯৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عَقِيلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ لَهُ دَسَمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৬. কুতায়বা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দুধ পানের পর পানি দিয়ে কুলি করেন, অতঃপর বলেনঃ এতে চর্বি জাতীয় পদার্থ রয়েছে (অতএব দুধ পানের পর কুলি করা উচিত)।

৭৮. দুধ পানের পর কুল্লি না করা সম্পর্কে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

১৯৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ، عَنْ مُطِيعِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَلَمْ يُمَضْمِضْ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَصَلَّى . قَالَ زَيْدٌ دَلَّنِي شُعْبَةُ عَلَى هَذَا الشَّيْخِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯৭. উছমান .... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুধ পানের পর কুল্লি এবং উযু না করে নামায পড়েছেন।

৭৯. রক্ত বের হলে উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنَ الدَّمِ

১৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي صَدَقَةُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ - فَأَصَابَ رَجُلٌ امْرَأَةَ رَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَحَلَفَ أَنْ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أُهَرِيقَ دَمًا فِي أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ فَخَرَجَ يَتْبَعُ أَثَرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْزِلاً فَقَالَ مَنْ رَجُلٌ يَكْلَؤُنَا فَانْتَدَبَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ " كُونَا بِفَمِ الشِّعْبِ " . قَالَ فَلَمَّا خَرَجَ الرَّجُلاَنِ إِلَى فَمِ الشِّعْبِ اضْطَجَعَ الْمُهَاجِرِيُّ وَقَامَ الأَنْصَارِيُّ يُصَلِّي وَأَتَى الرَّجُلُ فَلَمَّا رَأَى شَخْصَهُ عَرَفَ أَنَّهُ رَبِيئَةٌ لِلْقَوْمِ فَرَمَاهُ بِسَهْمٍ فَوَضَعَهُ فِيهِ فَنَزَعَهُ حَتَّى رَمَاهُ بِثَلاَثَةِ أَسْهُمٍ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ ثُمَّ انْتَبَهَ صَاحِبُهُ فَلَمَّا عَرَفَ أَنَّهُمْ قَدْ نَذِرُوا بِهِ هَرَبَ وَلَمَّا رَأَى الْمُهَاجِرِيُّ مَا بِالأَنْصَارِيِّ مِنَ الدَّمِ قَالَ سَبْحَانَ اللَّهِ أَلاَ أَنْبَهْتَنِي أَوَّلَ مَا رَمَى قَالَ كُنْتُ فِي سُورَةٍ أَقْرَأُهَا فَلَمْ أُحِبَّ أَنْ أَقْطَعَهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯৮. আবু তাওবা .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে যাতুর-রিকা নামক যুদ্ধে গমন করি। মুসলিম বাহিনীর এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক ব্যক্তির স্ত্রীকে বন্দী অথবা হত্যা করে। তখন সে ব্যক্তি এরূপ শপথ করে যে, আমি ততক্ষণ ক্ষান্ত হব না, যতক্ষণ না মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কোন একজন সাহাবীর রক্ত প্রবাহিত করি। তখন সে নবী (ﷺ) এর অনুসরণ করতে লাগল।

অতঃপর নবী (ﷺ) রাতে বিশ্রামের জন্য এক স্থানে অবতরণ করেন এবং বলেনঃ কে আছ যে আমাদের পাহারা দিবে? তখন মুহাজিরদের মধ্য হতে একজন এবং আনসারদের মধ্য হতে একজন সাড়া দেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা দুইজন গিরিপথের চূড়ায় বসে পাহারা দিবে।

অতঃপর উক্ত ব্যক্তিদ্বয় সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর মুহাজির সাহাবী বিশ্রামের জন্য শুইয়ে পড়েন এবং আনসার সাহাবী নামাযে রত হন। তখন শক্র পক্ষের ঐ ব্যক্তি (স্ত্রী লোকটির স্বামী) সেখানে আগমন করে এবং মুসলিম বাহিনীর একজন গোয়েন্দা মনে করে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে এবং তা আনসার সাহাবীর শরীরে বিদ্ধ হয়। তিনি তা দেহ থেকে বের করে ফেলেন। মুশরিক ব্যক্তি এভাবে পরপর তিনটি তীর নিক্ষেপ করে। অতঃপর তিনি রুকু সিজদা করে (নামায শেষ করার পর) তাঁর সাথীকে জাগ্রত করেন।

অতঃপর সে ব্যক্তি সেখানে অনেক লোক আছে এবং তারা সতর্ক হয়ে গেছে মনে করে পালিয়ে যায়। পরে মুহাজির সাহাবী আনসার সাহাবীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলেন, সুবহানাল্লাহ! শক্র পক্ষের প্রথম তীর নিক্ষেপের সময় কেন আপনি আমাকে সতর্ক করেননি? জবাবে তিনি বলেন, আমি নামাযের মধ্যে (তন্ময়তার সাথে) এমন একটি সূরা পাঠ করছিলাম যা শেষ না করে পরিত্যাগ করা পচ্ছন্দ করিনি।

৮০. ঘুমানোর পর উযু করা সম্পর্কে।

باب الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ

১৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شُغِلَ عَنْهَا لَيْلَةً فَأَخَّرَهَا حَتَّى رَقَدْنَا فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا ثُمَّ رَقَدْنَا ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا ثُمَّ رَقَدْنَا ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقَالَ " لَيْسَ أَحَدٌ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ غَيْرَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯৯. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক রাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এশার নামায আদায়ে বিলম্ব করেন এবং তিনি এত দেরী করেন যে, আমরা সকলে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ি। অতঃপর আমরা জাগ্রত হই এবং আবার সকলে ঘুমিয়ে যাই পুনরায় আমরা জাগ্রত হই এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে বলেনঃ তোমরা ছাড়া আর কেউই এশার নামায আদায়ের জন্য অপেক্ষা করেনি।

২০০

حَدَّثَنَا شَاذُّ بْنُ فَيَّاضٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْتَظِرُونَ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ حَتَّى تَخْفِقَ رُءُوسُهُمْ ثُمَّ يُصَلُّونَ وَلاَ يَتَوَضَّئُونَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ فِيهِ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كُنَّا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَاهُ ابْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ بِلَفْظٍ آخَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০০. শায ইবনে ফাইয়াদ .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এশার নামায আদায়ের জন্য এত সময় অপেক্ষা করতেন যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে তাদের ঘাড়সমূহ নীচের দিকে ঝুলে পড়ত। এমতাবস্থায়ও তাঁরা পুনরায় উযু না করে নামায পড়তেন।

২০১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَدَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الْعِشَاءِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي حَاجَةً . فَقَامَ يُنَاجِيهِ حَتَّى نَعَسَ الْقَوْمُ أَوْ بَعْضُ الْقَوْمِ ثُمَّ صَلَّى بِهِمْ وَلَمْ يَذْكُرْ وُضُوءًا .

বর্ণনাকারী: ছাবিত বুনানী (রহঃ)

২০১. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... ছাবেত আল-বানানী হতে বর্ণিত। আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেছেন, একদা এশার নামাযের ইকামত দেওয়া হয়। এমন সময় এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার নিকট আমার একটি প্রয়োজন আছে। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তার সাথে গোপনে (আস্তে আস্তে) কথা বলতে থাকেন। এসময় উপস্থিত সকলে বা কিছু লোক ঘুমের কারণে ঝিমাতে থাকে এবং রাবী উযুর কথা উল্লেখ করেননি।

২০২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ يَحْيَى - عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْجُدُ وَيَنَامُ وَيَنْفُخُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ صَلَّيْتَ وَلَمْ تَتَوَضَّأْ وَقَدْ نِمْتَ فَقَالَ " إِنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا " . زَادَ عُثْمَانُ وَهَنَّادٌ " فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَوْلُهُ " الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا " . هُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ يَزِيدُ أَبُو خَالِدٍ الدَّالاَنِيُّ عَنْ قَتَادَةَ وَرَوَى أَوَّلَهُ جَمَاعَةٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَذْكُرُوا شَيْئًا مِنْ هَذَا وَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَحْفُوظًا وَقَالَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَنَامُ عَيْنَاىَ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي " . وَقَالَ شُعْبَةُ إِنَّمَا سَمِعَ قَتَادَةُ مِنْ أَبِي الْعَالِيَةِ أَرْبَعَةَ أَحَادِيثَ حَدِيثَ يُونُسَ بْنِ مَتَّى وَحَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ فِي الصَّلاَةِ وَحَدِيثَ الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ وَحَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ مِنْهُمْ عُمَرُ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَذَكَرْتُ حَدِيثَ يَزِيدَ الدَّالاَنِيِّ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَانْتَهَرَنِي اسْتِعْظَامًا لَهُ وَقَالَ مَا لِيَزِيدَ الدَّالاَنِيِّ يُدْخِلُ عَلَى أَصْحَابِ قَتَادَةَ وَلَمْ يَعْبَأْ بِالْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০২. ইয়াহইইয়া ইবনে মুঈন .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করতেন (অর্থাৎ নামায পড়তেন) এবং ঘুম যেতেন এবং নাক ডাকতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে পুনরায় উযু করা ব্যতিরেকে নামায আদায় করতেন। রাবী বলেন, আমি তাকে বলি, আপনি ঘুমানোর পর উযু না করে নামায আদায় করলেন? তিনি বলেন, উযু করা ঐ ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন, যে আরামের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমায়।*

* দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘুম এলে উযু নষ্ট হবে না। তবে কোন কিছুতে হেলান দিয়ে ঘুমালে উযু নষ্ট হবে। কেননা হেলান দিয়ে ঘুমালে শরীরের বাধন ঢিলা হয়ে যায় এবং এমতাবস্থায় বায়ু নির্গত হলেও অনুভব করা যায় না। – (অনুবাদক)
২০৩

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحِمْصِيُّ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الْوَضِينِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ مَحْفُوظِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِذٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ فَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৩. হায়ওয়াত শুরায়হ্ .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ চক্ষু হল পাশ্চাদ্বারের সংরক্ষণকারী। অতএব যে ব্যক্তি চোখ বুজে নিদ্রা যায় সে যেন উযু করে।

৮১. ময়লা (নাপাক) দ্রব্যাদি পদদলিত করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَطَأُ الأَذَى بِرِجْلِهِ

২০৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنِي شَرِيكٌ، وَجَرِيرٌ، وَابْنُ، إِدْرِيسَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ كُنَّا لاَ نَتَوَضَّأُ مِنْ مَوْطِئٍ وَلاَ نَكُفُّ شَعْرًا وَلاَ ثَوْبًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي مُعَاوِيَةَ فِيهِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ أَوْ حَدَّثَهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَقَالَ هَنَّادٌ عَنْ شَقِيقٍ أَوْ حَدَّثَهُ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: শাকীক ইবনে সালামা (রহঃ)

২০৪. হান্নাদ ..... শাকীক থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেছেনঃ খালি পায়ে রাস্তা পদদলিত করা সত্ত্বেও আমরা উযু করতাম না এবং আমাদের চুল ও কাপড় নামাযের মধ্যে গুটিয়ে রাখতাম না।

৮২. নামাযের মধ্যে উযু ছুটে গেলে।

باب مَنْ يُحْدِثُ فِي الصَّلاَةِ

২০৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عِيسَى بْنِ حِطَّانَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيُعِدِ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: আলী ইবনে তলক (রাঃ)

২০৫. উছমান .... আলী ইবনে তালক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে নিঃসাড়ে পাশ্চাৎ-দ্বার দিয়ে বায়ু নির্গত করে, তখন তাঁর উচিত পুনরায় উযু করে নামায আদায় করা।

৮৩. মযী (বীর্যরস) সম্পর্কে।

باب فِي الْمَذْىِ

২০৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ الْحَذَّاءُ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَجَعَلْتُ أَغْتَسِلُ حَتَّى تَشَقَّقَ ظَهْرِي فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - أَوْ ذُكِرَ لَهُ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَفْعَلْ إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْىَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ فَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার প্রায়ই মযী নির্গত হত এবং আমি গোসল করতাম- এমনকি এ কারণে (অধিক গোসলের ফলে ঠাণ্ডাবশতঃ) আমি আমার পৃষ্ঠদেশে ব্যথা অনুভব করতাম। অতঃপর আমি বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর খেদমতে উল্লেখ করি অথবা (রাবী বলেন) অন্য কারো দ্বারা পেশ করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তুমি এরূপ করবে না। বরং যখনই তুমি তোরার লিঙ্গাগ্রে মযী দেখবে, তখনই তা ধৌত করবে এবং নামায আদায়ের জন্য উযু করবে। অবশ্য যদি কোন সময় উত্তেজনা বশতঃ মনী (বীর্য) নির্গত হয় তবে গোসল করবে।

২০৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ لَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْىُ مَاذَا عَلَيْهِ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَهُ . قَالَ الْمِقْدَادُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাঃ)

২০৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি যে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হলে (উত্তেজনাবসত) মযী নির্গত হয়। এমতাবস্থায় করণীয় কি? আলী (রাযিঃ) বলেন, যেহেতু তাঁর কন্যা আমার পত্নী, সে কারণে আমি নিজে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা বোধ করি। মিকদাদ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তোমাদের কারো যখন এরূপ অবস্থা হবে তখন তার উচিত স্বীয় লিঙ্গ ধৌত করা; অতঃপর নামাযের উযুর ন্যায় উযু করা।

২০৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ لِلْمِقْدَادِ وَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا قَالَ فَسَأَلَهُ الْمِقْدَادُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَغْسِلْ ذَكَرَهُ وَأُنْثَيَيْهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ الثَّوْرِيُّ وَجَمَاعَةٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাঃ)

২০৮. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) মিকদাদ (রাযিঃ)-কে বলেন ......... অতঃপর পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা দেন। রাবী বলেন, মিকদাদ (রাযিঃ) তাকে এতদসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ঐ ব্যক্তির স্বীয় লিঙ্গ ও অন্ডকোষ ধৌত করা উচিত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২০৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَدِيثٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قُلْتُ لِلْمِقْدَادِ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ وَجَمَاعَةٌ وَالثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَرَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الْمِقْدَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرْ " أُنْثَيَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিকদাদকে বললাম ......... এরপর যুহায়েরের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থের ছাদীছ বর্ণনা করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الْمَذْىِ شِدَّةً وَكُنْتُ أُكْثِرُ مِنْهُ الاِغْتِسَالَ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّمَا يُجْزِيكَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ قَالَ " يَكْفِيكَ بِأَنْ تَأْخُذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَتَنْضَحَ بِهَا مِنْ ثَوْبِكَ حَيْثُ تُرَى أَنَّهُ أَصَابَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

২১০. মুসাদ্দাদ .... সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত। তাই আমি অধিক গোসল করতাম। অতঃপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, মযী বের হওয়ার পর উযু করাই যথেষ্ট। তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কাপড়ে মযী লাগলে কি করব? তিনি বলেনঃ কাপড়ের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন দেখবে, এক আজলা পানি নিয়ে উক্ত স্থান হালকাভাবে ধুয়ে নিবে, যাতে তা দূরীভূত হয়।*

* ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহঃ)-এর মতে কাপড়ে মযী লাগলে কাপড় ধৌত করার প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট স্থানে পানি ছিটিয়ে দিলে হবে। অপরপক্ষে ইমাম আবু হানীফা (রহ), ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) ও অপরাপর ইমামদের মতে- কাপড় ধৌত করতে হবে। – (অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ - عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَرَامِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّا يُوجِبُ الْغُسْلَ وَعَنِ الْمَاءِ يَكُونُ بَعْدَ الْمَاءِ فَقَالَ " ذَاكَ الْمَذْىُ وَكُلُّ فَحْلٍ يُمْذِي فَتَغْسِلُ مِنْ ذَلِكَ فَرْجَكَ وَأُنْثَيَيْكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে সা'দ (রাঃ)

২১১. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে সা’দ আল-আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে গোসল ফরজ হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করি এবং পেশাবের পর মযী নির্গত হওয়ার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, এটা হল মযী এবং যখন পুরুষাঙ্গ থেকে মযী নির্গত হয়, তখন তুমি তোমার লজ্জাস্থান ও অন্ডকোষদ্বয় ধৌত করবে, অতঃপর নামায আদায়ের জন্য উযু করবে।

৮৩. ঋতুবতী স্ত্রীলোকের সাথে মেলামেশা ও খাওয়া- দাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ وَمُؤَاكَلَتِهَا

২১২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ حَرَامِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَحِلُّ لِي مِنَ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ " لَكَ مَا فَوْقَ الإِزَارِ " . وَذَكَرَ مُؤَاكَلَةَ الْحَائِضِ أَيْضًا وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে সা'দ (রাঃ)

২১২. হারূন ইবনে মুহাম্মাদ .... হারাম ইবনে হাকীম থেকে তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (চাচা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন- আমার স্ত্রী যখন ঋতুবতী হয়, তখন সে আমার জন্য কতটুকু হালাল? তিনি (ﷺ) বলেনঃ তুমি কাপড়ের উপর দিয়ে যা কিছু করতে পার* এবং ঋতুবতী স্ত্রীলোকের সাথে খানা-পিনার বৈধতা সম্পর্কে আলোচনা করলেন।

* ঋতুবতী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা হারাম। তবে তাদের সাথে একত্রে উঠাবসা, খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমানো বৈধ। ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ব্যতীত তার সাথে অন্যান্য যাবতীয় আচার-আচরণ বৈধ। - (অনুবাদক)
২১৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْيَزَنِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سَعْدٍ الأَغْطَشِ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِذٍ الأَزْدِيِّ، - قَالَ هِشَامٌ وَهُوَ ابْنُ قُرْطٍ أَمِيرُ حِمْصَ - عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنَ امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ فَقَالَ " مَا فَوْقَ الإِزَارِ وَالتَّعَفُّفُ عَنْ ذَلِكَ أَفْضَلُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ هُوَ - يَعْنِي الْحَدِيثَ - بِالْقَوِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২১৩. হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীলোক পুরুষের জন্য কতটুকু হালাল? তিনি বলেন, কাপড়ের উপর যতটুকু সম্ভব তবে এটা থেকেও বেঁচে থাকা উত্তম।

৮৪. স্ত্রী সহবাসে বীর্যপাত না হলে।

باب فِي الإِكْسَالِ

২১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي بَعْضُ، مَنْ أَرْضَى أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا جَعَلَ ذَلِكَ رُخْصَةً لِلنَّاسِ فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ لِقِلَّةِ الثِّيَابِ ثُمَّ أَمَرَ بِالْغُسْلِ وَنَهَى عَنْ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي " الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

২১৪. আহমদ ইবনে সালেহ্ .... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানদের কাপড়-চোপড়ের স্বল্পতা হেতু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের স্ত্রী-সহবাসে বীর্যপাত না ঘটলে গোসল করার ব্যাপারে স্বাধীনতা প্রদান করেন। অতঃপর তিনি গোসলের নির্দেশ দেন এবং পূর্বোক্ত অনুমতি রহিত করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْبَزَّازُ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ الْحَلَبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدٍ أَبِي غَسَّانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، أَنَّ الْفُتْيَا الَّتِي، كَانُوا يُفْتُونَ أَنَّ الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ كَانَتْ رُخْصَةً رَخَّصَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَدْءِ الإِسْلاَمِ ثُمَّ أَمَرَ بِالاِغْتِسَالِ بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২১৫. মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, মুফতীগগ এরূপ ফাতওয়া দিতেন যে, বীর্যপাত হলেই গোসল করতে হবে (অন্যথায় নয়)। ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গোসলের ব্যাপারে স্বাধীনতা প্রদান করেন। তিনি পরবর্তীকালে স্ত্রী সহবাস করলেই (বীর্যপাত হোক বা না হোক) গোসলের নির্দেশ দেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَرَاهِيدِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، وَشُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَعَدَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ وَأَلْزَقَ الْخِتَانَ بِالْخِتَانِ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি তার কামস্পৃহা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর উপর সমাগম হবে এবং পুরুষের গুপ্তস্থান স্ত্রী-অঙ্গে প্রবেশ করাবে (সহবাস করবে) তার উপর গোসল ওয়াজিব হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ " . وَكَانَ أَبُو سَلَمَةَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৭. আহমাদ ইবনে সালেহ্ .... আবু সাইদ আল-খুদরী (ﷺ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পানির (বীর্যপাতের) কারণেই পানি (গোসল) অপরিহার্য হয়। আবু সালামা (রাহঃ) এরূপ ফাতওয়া দিতেন (অর্থাৎ বীর্যপাত হলেই গোসল ফরজ হয়। স্ত্রী সহবাসের দরুন হোক বা স্বপ্নদোষ বা অন্য কোন উপয়েই হোক)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮৫. স্ত্রী সঙ্গমের পর গোসলের পূর্বে পুনরায় সঙ্গম করা সম্পর্কে।

باب فِي الْجُنُبِ يَعُودُ

২১৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ وَمَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ وَصَالِحُ بْنُ أَبِي الأَخْضَرِ عَنِ الزُّهْرِيِّ كُلُّهُمْ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৮. মুসাদ্দাদ ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর একবার গোসল করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৬. একবার স্ত্রী সঙ্গমের পর পুনরায় স্ত্রী সহবাসের পূর্বে উযু করা।

باب الْوُضُوءِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ

২১৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَمَّتِهِ، سَلْمَى عَنْ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم طَافَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى نِسَائِهِ يَغْتَسِلُ عِنْدَ هَذِهِ وَعِنْدَ هَذِهِ . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ تَجْعَلُهُ غُسْلاً وَاحِدًا قَالَ " هَذَا أَزْكَى وَأَطْيَبُ وَأَطْهَرُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ مِنْ هَذَا .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

২১৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু রাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাস করেন। এক স্ত্রীর সাথে সহবাসের পর অপর স্ত্রীর সাথে সহবাসের পূর্বে তিনি গোসল করেন। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলাম- আপনি কেন একবার গোসল করলেন না (সবশেষে একবারে গোসল করলেই তো হত- কেন আপনি বারবার গোসল করলেন)? তিনি বলেন, এরূপ করা অধিকতর পবিত্র, উত্তম ও উৎকৃষ্ট।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يُعَاوِدَ فَلْيَتَوَضَّأْ بَيْنَهُمَا وُضُوءًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২২০. আমর ইবনে আওন .... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে একবার সহবাসের পর পুনরায় সঙ্গম করতে চাইলে- সে যেন মাঝখানে একবার উযু করে নেয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৭. স্ত্রী সহবাসের পর অপবিত্র অবস্থায় ঘুমানো সম্পর্কে।

باب فِي الْجُنُبِ يَنَامُ

২২১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ ذَكَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ ثُمَّ نَمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে আরয করেন যে, তিনি রাতে স্ত্রী সঙ্গমে অপবিত্র হন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমার গুপ্তাঙ্গ ধৌত কর উযু কর, অতঃপর ঘুমাও।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৮. সঙ্গমের পর অপবিত্র অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কে।

باب الْجُنُبِ يَأْكُلُ

২২২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২২. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে চাইলে নামাযের উযুর ন্যায় উযু করে নিতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ " وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ وَهُوَ جُنُبٌ غَسَلَ يَدَيْهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ فَجَعَلَ قِصَّةَ الأَكْلِ قَوْلَ عَائِشَةَ مَقْصُورًا وَرَوَاهُ صَالِحُ بْنُ أَبِي الأَخْضَرِ عَنِ الزُّهْرِيِّ كَمَا قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ عَنْ عُرْوَةَ أَوْ أَبِي سَلَمَةَ وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২২৩. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ্ .... ইউনুস থেকে যুহরীর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা ধারায় ও অর্থে বর্ণনা করেছেন। এই সনদসূত্রে উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) যখন অপবিত্র অবস্থায় খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছা করতেন, তখন উভয় হাত ধৌত করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৯. সহবাসের ফলে অপবিত্র হওয়ার পর উযু করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ يَتَوَضَّأُ الْجُنُبُ

২২৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَنَامَ تَوَضَّأَ . تَعْنِي وَهُوَ جُنُبٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৪. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) অপবিত্র অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ অথবা ঘুমানোর পূর্বে উযু করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৫

حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - أَخْبَرَنَا عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لِلْجُنُبِ إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ أَوْ نَامَ أَنْ يَتَوَضَّأَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَيْنَ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ رَجُلٌ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَابْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الْجُنُبُ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ تَوَضَّأَ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

২২৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) অপবিত্র অবস্থায় পানাহারও ঘুমানোর পূর্বে উযু করা বা না করার স্বাধীনতা প্রদান করেছেন।

আলী ইবনে আবু তালিব, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, অপবিত্র অবস্থায় কেউ কিছু আহার করতে চাইলে উযু করে নিবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৯০. সহবাসজনিত অপবিত্রতার পর বিলম্বে গোসল করা সম্পর্কে।

باب فِي الْجُنُبِ يُؤَخِّرُ الْغُسْلَ

২২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، ح حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا بُرْدُ بْنُ سِنَانٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ أَوْ فِي آخِرِهِ قَالَتْ رُبَّمَا اغْتَسَلَ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا اغْتَسَلَ فِي آخِرِهِ . قُلْتُ اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً . قُلْتُ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوتِرُ أَوَّلَ اللَّيْلِ أَمْ فِي آخِرِهِ قَالَتْ رُبَّمَا أَوْتَرَ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا أَوْتَرَ فِي آخِرِهِ . قُلْتُ اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً . قُلْتُ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْهَرُ بِالْقُرْآنِ أَمْ يَخْفِتُ بِهِ قَالَتْ رُبَّمَا جَهَرَ بِهِ وَرُبَّمَا خَفَتَ . قُلْتُ اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৬. মুসাদ্দাদ .... গুদাইফ ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপবিত্র হওয়ার পর রাতের প্রথমাংশে গোসল করতেন; না শেষাংশে? তিনি বলেন, তিনি কখনও রাতের প্রথমাংশে এবং কখনও শেষাংশে গোসল করতেন। তখন আমি খুশীতে “আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী জাআলা ফিল- আমরে সাআতান” বলি (আল্লাহ্ মহান, সহস্ত প্রশংসা তাঁরই- যিনি এ কাজের জন্য প্রচুর সুযোগ রেখেছেন)।

আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি দেখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতের প্রথমাংশে বেতের নামায আদায় করতেন, না শেষাংশে? তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বলেন, কখনও রাতের প্রথমাংশে এবং কখনও কখনও শেষাংশে পড়তেন। আমি বললাম, “আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী জাআলা ফিল-আমরে সাআতান”।

অতঃপর আমি তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, বলুন তো- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরআন তিলাওয়াত উচ্চস্বরে করতেন না চুপে চুপে? তিনি বলেন, কখনো উচ্চস্বরে এবং কখনো নিঃসব্দে। তখন আমি বলি, “আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী জাআলা ফিল- আমরে সাআতান”।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلاَ كَلْبٌ وَلاَ جُنُبٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২৭. হাফস ইবনে উমর .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, যে ঘরে ছবি কুকুর ও অপবিত্র লোক থাকে- সেখানে রহমতের ফিরিশতাগগ (নতুন রহমতসহ) প্রবেশ করেন না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَمَسَّ مَاءً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْوَاسِطِيُّ قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ يَقُولُ هَذَا الْحَدِيثُ وَهَمٌ . يَعْنِي حَدِيثَ أَبِي إِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (কখনও) অপবিত্র হওয়ার পর পানি স্পর্শ না করেই ঘুমিয়ে যেতেন।*

* যে সব লোক অলসতা হেতু প্রায়ই অপবিত্র অবস্থায় ঘুমায় এবং নামাযের সময় ঠিকভাবে নামায আদায় করে না- তাদের ঘরে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করে না। উপরোক্ত হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, রাসুলে করীম (ﷺ) অপবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়েছেন- এটা উম্মাতের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে করেন, এটা অলসতা হেতু নয়। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯১. অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে।

باب فِي الْجُنُبِ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ

২২৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ - رضى الله عنه - أَنَا وَرَجُلاَنِ رَجُلٌ مِنَّا وَرَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ - أَحْسِبُ فَبَعَثَهُمَا عَلِيٌّ - رضى الله عنه - وَجْهًا وَقَالَ إِنَّكُمَا عِلْجَانِ فَعَالِجَا عَنْ دِينِكُمَا . ثُمَّ قَامَ فَدَخَلَ الْمَخْرَجَ ثُمَّ خَرَجَ فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَخَذَ مِنْهُ حَفْنَةً فَتَمَسَّحَ بِهَا ثُمَّ جَعَلَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَأَنْكَرُوا ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ مِنَ الْخَلاَءِ فَيُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ مَعَنَا اللَّحْمَ وَلَمْ يَكُنْ يَحْجُبُهُ - أَوْ قَالَ يَحْجُزُهُ - عَنِ الْقُرْآنِ شَىْءٌ لَيْسَ الْجَنَابَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২৯. হাফস ইবনে উমর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং অপর দুই ব্যক্তি একজন আমার স্বগোত্রীয় এবং অপরজন সম্ভবতঃ বনু আসাদ গোত্রের- আলী (রাযিঃ) এর নিকট যাই। আলী (রাযিঃ) উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে কোন কাজে পাঠিয়ে দেয়ার সময় বলেন, তোমরা উভয়েই সক্ষম ব্যক্তি। কাজেই তোমরা তোমাদের দ্বীনকে নিরোগ করে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য সচেষ্ট হও।

অতঃপর তিনি (আলী) পায়াখানায় যান এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে পানি চেয়ে নিয়ে (হাত) ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন। সমবেত লোকেরা তা অপছন্দ করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পায়খানা হতে বের হয়ে আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং আমাদের সাথে গোশতও-খেতেন। স্ত্রী-সহবাস জনিত অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কোন অপবিত্রতা তাকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখতে পারত না।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯২. সঙ্গমের কারণে অপবিত্র অবস্থায় মোসাফাহা করা সম্পর্কে।

باب فِي الْجُنُبِ يُصَافِحُ

২৩০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ فَأَهْوَى إِلَيْهِ فَقَالَ إِنِّي جُنُبٌ . فَقَالَ " إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৩০. মুসাদ্দাদ .... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়। তখন তিনি তাঁর সাথে মুসাফাহা করার উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে দেন। তখন হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আমি অপবিত্র। নবী (ﷺ) বলেন, মুসলিম ব্যক্তি কখনও অপবিত্র হয় না (অর্থাৎ মুসলমান কখনও এমন অপবিত্র হয় না- যার ফলে তাঁর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করা যায় না)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৩১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَبِشْرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَأَنَا جُنُبٌ فَاخْتَنَسْتُ فَذَهَبْتُ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ فَقَالَ " أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ " . قَالَ قُلْتُ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ " . وَقَالَ فِي حَدِيثِ بِشْرٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ حَدَّثَنِي بَكْرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩১. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদীনার কোন এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে অপবিত্র অবস্থায় আমার সাক্ষাত হয়। আমি একটু পিছনে হটে যাই। অতঃপর গোসল করে তাঁর খেদমতে আসি। তখন তিনি বলেনঃ আবু হুরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বলি, আমি অপবিত্র ছিলাম- এমতাবস্থায় আপনার নিকট উপবেশন করা ভাল মনে করি নি। তিনি বলেনঃ সুবাহানাল্লাহ্! মুসলমান কখনও অপবিত্র হয় না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৩. সহবাস জনিত অপবিত্র অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

باب فِي الْجُنُبِ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ

২৩২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَفْلَتُ بْنُ خَلِيفَةَ، قَالَ حَدَّثَتْنِي جَسْرَةُ بِنْتُ دِجَاجَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، رضى الله عنها تَقُولُ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوُجُوهُ بُيُوتِ أَصْحَابِهِ شَارِعَةٌ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ " وَجِّهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ " . ثُمَّ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَصْنَعِ الْقَوْمُ شَيْئًا رَجَاءَ أَنْ تَنْزِلَ فِيهِمْ رُخْصَةٌ فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ بَعْدُ فَقَالَ " وَجِّهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ فَإِنِّي لاَ أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحَائِضٍ وَلاَ جُنُبٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ فُلَيْتٌ الْعَامِرِيُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে নববীতে এসে দেখতে পান যে, তাঁর সাহাবীদের ঘরের দরজা মসজিদমুখী (অর্থাৎ তাদের ঘরে যাতায়াতের পথ ছিল মসজিদের ভেতর দিয়ে)। তখন তিনি বলেন, তোমাদের ঘরের দরজা মসজিদের দিক থেকে ফিরিরে নাও। অতঃপর নবী (ﷺ) মসজিদে নববীতে প্রবেশ করেন। সাহাবীরা এই আশায় ঘরের দরজা পরিবর্তন করেন নাই, হয়ত এ ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ হতে রোখছত (অব্যাহতি) সূচক কোন নির্দেশ নাযিল হতে পারে। অতঃপর নবী (ﷺ) বের হয়ে পুনরায় নির্দেশ দেনঃ তোমাদের গৃহের দরজা মসজিদের দিক হতে অন্যদিকে ফিরাও। কেননা ঋতুবতী স্ত্রীলোক ও অপবিত্র ব্যক্তিদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা আমি হালাল (বৈধ) মনে করি না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৪. ভুলবশতঃ অপবিত্র অবস্থায় নামাযে ইমামতি করলে।

باب فِي الْجُنُبِ يُصَلِّي بِالْقَوْمِ وَهُوَ نَاسٍ

২৩৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ زِيَادٍ الأَعْلَمِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ أَنْ مَكَانَكُمْ ثُمَّ جَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ فَصَلَّى بِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২৩৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের নামায আরম্ভ করে (হঠাৎ তা ছেড়ে দিয়ে) লোকদের হাতের ইাশারায় স্ব-স্ব স্থানে বসতে নির্দেশ দেন। অতঃপর এমন অবস্থায় ফিরে আসেন যে, তাঁর মাথা থেকে পানি টপকে পড়ছিল। অতঃপর তাদের (সাহাবীদের) নিয়ে নামায আদায় করেন।

২৩৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ فِي أَوَّلِهِ فَكَبَّرَ . وَقَالَ فِي آخِرِهِ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنِّي كُنْتُ جُنُبًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ فَلَمَّا قَامَ فِي مُصَلاَّهُ وَانْتَظَرْنَا أَنْ يُكَبِّرَ انْصَرَفَ ثُمَّ قَالَ " كَمَا أَنْتُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ أَيُّوبُ وَابْنُ عَوْنٍ وَهِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ مُرْسَلاً عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَبَّرَ ثُمَّ أَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْقَوْمِ أَنِ اجْلِسُوا فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ فِي صَلاَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ حَدَّثَنَاهُ مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَبَّرَ .

বর্ণনাকারী: হাম্মাদ ইবনে সালামা (রহঃ)

২৩৪. উছমান .... হাম্মাদ ইবনে সালামা হতে এই সূত্রে উপরোক্ত সনদ ও অর্থের মর্মানুযায়ী বর্ণিত। এই হাদীসের প্রথমাংশে তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) ’তাকবীরে তাহরীমা’ বাঁধেন, এবং হাদীসের শেষাংশে উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) নামায শেযে বলেনঃ “আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ এবং আমি (সহবাস জনিত কারণে) অপবিত্র ছিলাম”।

আর আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হন, তখন আমরা তাঁর তাকবীর ধ্বনি শোনার আপেক্ষায় ছিলাম এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি (আমাদের দিকে) ফিরে বলেনঃ তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। আর মুহাম্মাদ (ইবনে সীরীন)-এর বর্ণনায় নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত আছে, রাবী বলেন, নবী (ﷺ) ‘তাকবীরে তাহরীমা’ বাধার পর পরই মুসল্লীদের ইাশারায় বলেন, তোমরা বসে থাক। অতঃপর তিনি বাইরে গিয়ে গোসল করেন।*

* উপরোক্ত হাদীসসমূহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক ভুলবশতঃ অপবিত্র অবস্থায় থাকাকালে নামায আদায়ের যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে তার মুখ্য উদ্দেশ্য এই যে- মানুষ হিসাবে এরূপ ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এমতাবস্থায় তাঁর উম্মাতেরা ভুলবশতঃ যদি এরূপ করে ফেলে, তবে কি করবে? তাই তিনি নিজেই এর সমাধান বাস্তব জীবনে পেশ করেছেন। - (অনুবাদক)
২৩৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الأَزْرَقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، - إِمَامُ مَسْجِدِ صَنْعَاءَ - حَدَّثَنَا رَبَاحٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَصَفَّ النَّاسُ صُفُوفَهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مَقَامِهِ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَغْتَسِلْ فَقَالَ لِلنَّاسِ " مَكَانَكُمْ " . ثُمَّ رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ فَخَرَجَ عَلَيْنَا يَنْطُفُ رَأْسُهُ وَقَدِ اغْتَسَلَ وَنَحْنُ صُفُوفٌ . وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ حَرْبٍ وَقَالَ عَيَّاشٌ فِي حَدِيثِهِ فَلَمْ نَزَلْ قِيَامًا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى خَرَجَ عَلَيْنَا وَقَدِ اغْتَسَلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৫. আমর ইবনে উছমান .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক নামাযের ইকামত হওয়ার পর লোকেরা যখন কাতারবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উপস্থিত হয়ে নিজ স্থানে দাঁড়ান এমতাবস্থায় তিনি বলেন যে, তিনি অপবিত্রতার গোসল করেননি। তিনি লোকদের স্ব-স্ব স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দান করে ঘরে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি গোসলের পর আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর মাথা হতে পানির ফোটা ঝরে পড়ছিল। আমরা সকলে তখনও কাতারবদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। উপরোক্ত বর্ণনা ইবনে হারবের।

আইয়্যাশ তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, “তিনি গোসল করে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত আমরা তার জন্য কাতারবদ্ধ অবস্থায় অপেক্ষা করতে থাকি”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৫. স্বপ্নদোষ হলে তার বিধান।

باب فِي الرَّجُلِ يَجِدُ الْبِلَّةَ فِي مَنَامِهِ

২৩৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا قَالَ " يَغْتَسِلُ " . وَعَنِ الرَّجُلِ يَرَى أَنَّهُ قَدِ احْتَلَمَ وَلاَ يَجِدُ الْبَلَلَ قَالَ " لاَ غُسْلَ عَلَيْهِ " . فَقَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ الْمَرْأَةُ تَرَى ذَلِكَ أَعَلَيْهَا غُسْلٌ قَالَ " نَعَمْ إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَالِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬. কুতায়বা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সে স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারছে না-অথচ তার কাপড় (বীর্যপাতের কারণে) ভেজা মনে হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাকে গোসল করতে হবে। অতঃপর তাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু তার কাপড়ে কোন চিহ্ন দেখতে পায় না। জবাবে তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির গোসল করার প্রয়োজন নাই। অতঃপর উম্মে সুলাইম (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাদের যদি স্বপ্নদোষ হয় তবে তাদের গোসল করতে হবে কি? জবাবে তিনি বলেন হ্যাঁ, (গোসল করতে হবে)। কেননা মহিলারাও পুরুষদের অর্ধাংগিনী বিশেষ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৬. মহিলাদের যদি পুরুষদের মত স্বপ্নদোষ হয়।

باب فِي الْمَرْأَةِ تَرَى مَا يَرَى الرَّجُلُ

২৩৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ الأَنْصَارِيَّةَ، - وَهِيَ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ أَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ إِذَا رَأَتْ فِي النَّوْمِ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ أَمْ لاَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ فَلْتَغْتَسِلْ إِذَا وَجَدَتِ الْمَاءَ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهَا فَقُلْتُ أُفٍّ لَكِ وَهَلْ تَرَى ذَلِكَ الْمَرْأَةُ فَأَقْبَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَرِبَتْ يَمِينُكِ يَا عَائِشَةُ وَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَى عُقَيْلٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَيُونُسُ وَابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ عَنْ مَالِكٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَوَافَقَ الزُّهْرِيَّ مُسَافِعٌ الْحَجَبِيُّ قَالَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَأَمَّا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ فَقَالَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৭. আহমাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) এর মাতা উম্মে সুলাইম (রাযিঃ) যিনি আনসারী মহিলা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলা সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি, কোন মহিলার পুরুষের ন্যায় স্বপ্নদোষ হলে সে গোসল করবে কি না?

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, জবাবে নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হ্যাঁ, তাকে গোসল করতে হবে, যদি সে বীর্যের চিহ্ন দেখতে পায়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি উম্মে সুলাইম (রাযিঃ)-কে লক্ষ্য করে বলি, আপনার জন্য দুঃখ হয়, মহিলারা কি এরূপ দেখে থাকে (অর্থাৎ তাদের কি স্বপ্নদোষ হয়)? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এসে বলেনঃ হে আয়িশা! তোমার ডান হাত ধূলায় ধূসরিত হোক। স্ত্রীলোকদের বীর্য না থাকলে সন্তান কিরূপে মাতার আকৃতি প্রাপ্ত হয়?

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৭. যে পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করা সম্ভব।

باب فِي مِقْدَارِ الْمَاءِ الَّذِي يُجْزِئُ فِي الْغُسْلِ

২৩৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ إِنَاءٍ - هُوَ الْفَرَقُ - مِنَ الْجَنَابَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ فِيهِ قَدْرُ الْفَرَقِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى ابْنُ عُيَيْنَةَ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ الْفَرَقُ سِتَّةَ عَشَرَ رِطْلاً . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ صَاعُ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ خَمْسَةُ أَرْطَالٍ وَثُلُثٌ . قَالَ فَمَنْ قَالَ ثَمَانِيَةُ أَرْطَالٍ قَالَ لَيْسَ ذَلِكَ بِمَحْفُوظٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ يَقُولُ مَنْ أَعْطَى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ بِرَطْلِنَا هَذَا خَمْسَةَ أَرْطَالٍ وَثُلُثًا فَقَدْ أَوْفَى . قِيلَ الصَّيْحَانِيُّ ثَقِيلٌ قَالَ الصَّيْحَانِيُّ أَطْيَبُ . قَالَ لاَ أَدْرِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮. আব্দুল্লাহ্ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি পাত্রের- যাতে ফারাক পরিমাণ পানির সংকুলান হত- দ্বারা অপবিত্রতার গোসল করতেন। অপর বর্ণনায় আয়িশা (রাযিঃ) হতে উল্লেখ আছে যে, আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতাম। ঐ পাত্রে এক ফারাক পরিমাণ পানি ধরতো।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৮. অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে।

باب الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ

২৩৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ صُرَدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّهُمْ ذَكَرُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْغُسْلَ مِنَ الْجَنَابَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا أَنَا فَأُفِيضُ عَلَى رَأْسِي ثَلاَثًا " . وَأَشَارَ بِيَدَيْهِ كِلْتَيْهِمَا .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৩৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী .... জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে উল্লেখ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন আমি আমার মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে থাকি। এই বলে তিনি নিজের দুই হাতের দিকে ইশারা করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ دَعَا بِشَىْءٍ نَحْوِ الْحِلاَبِ فَأَخَذَ بِكَفِّهِ فَبَدَأَ بِشِقِّ رَأْسِهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ الأَيْسَرِ ثُمَّ أَخَذَ بِكَفَّيْهِ فَقَالَ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪০. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপবিত্রতার গোসল করবার জন্য “হিলাব পাত্রে” যে পরিমাণ পানি ধরে ততটুকু পানি চাইতেন। অতঃপর হাতে পানি নিয়ে মাথার ডানদিকে ঢালতেন, পরে বাম দিকে পুনরায় উভয় হাতে পানি নিতেন। রাবী বলেন, তিনি উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথায় ঢালতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৪১

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، عَنْ صَدَقَةَ، حَدَّثَنَا جُمَيْعُ بْنُ عُمَيْرٍ، - أَحَدُ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ - قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أُمِّي وَخَالَتِي عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلَتْهَا إِحْدَاهُمَا كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ عِنْدَ الْغُسْلِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَنَحْنُ نُفِيضُ عَلَى رُءُوسِنَا خَمْسًا مِنْ أَجْلِ الضَّفْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪১. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ..... জুমাই ইবনে উমায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মাতা ও খালা সমভিব্যাহারে আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। তাঁদের কোন একজন আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কিভাবে গোসল করতেন? আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গোসলের পূর্বে নামাযের ন্যায় উযু করতেন, অতঃপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন এবং আমাদের চুল বাঁধা থাকার কারণে আমরা নিজেদের মাথায় পাঁচবার করে পানি ঢালতাম।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৪২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاشِحِيُّ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ - قَالَ سُلَيْمَانُ يَبْدَأُ فَيُفْرِغُ مِنْ يَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ . وَقَالَ مُسَدَّدٌ غَسَلَ يَدَيْهِ يَصُبُّ الإِنَاءَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ اتَّفَقَا فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ . - قَالَ مُسَدَّدٌ - يُفْرِغُ عَلَى شِمَالِهِ وَرُبَّمَا كَنَتْ عَنِ الْفَرْجِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُدْخِلُ يَدَيْهِ فِي الإِنَاءِ فَيُخَلِّلُ شَعْرَهُ حَتَّى إِذَا رَأَى أَنَّهُ قَدْ أَصَابَ الْبَشَرَةَ أَوْ أَنْقَى الْبَشَرَةَ أَفْرَغَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثًا فَإِذَا فَضَلَ فَضْلَةٌ صَبَّهَا عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪২. সুলাইমান .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপবিত্রতার গোসলের সময় (সুলাইমানের বর্ণনানুযায়ী) ডান হাত দিয়ে পানি ঢালা শুরু করতেন এবং রাবী মুসাদ্দাদের বর্ণনা মতে, তিনি (ﷺ) উভয় হাত ধৌত করার পর ডান হাতে পানি ঢালতেন। অতঃপর উভয় রাবী এই পর্যায়ে ঐক্যমত পোষণ করেন যে, অতঃপর তিনি স্বীয় লজ্জাস্থান ধৌত করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنِي سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنِ النَّخَعِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ بِكَفَّيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ غَسَلَ مَرَافِغَهُ وَأَفَاضَ عَلَيْهِ الْمَاءَ فَإِذَا أَنْقَاهُمَا أَهْوَى بِهِمَا إِلَى حَائِطٍ ثُمَّ يَسْتَقْبِلُ الْوُضُوءَ وَيُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৩. আমর ইবনে আলী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতার গোসল করবার ইচ্ছা করতেন, প্রথমে তিনি উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করতেন, অতঃপর শরীরের সংযোগ স্থানসমূহ পানি দিয়ে ধৌত করতেন, অতঃপর উভয় হাত পবিত্র হওয়ার পর দেওয়ালের দিকে বিস্তৃত করতেন*, অতঃপর উযু করতেন এবং মাথায় পানি ঢালতেন।

* নবী করীম (ﷺ) পানি দ্বারা হাত ধোয়ার পরও দেয়ালের দিকে হাত প্রসারিত করার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু দেয়ালে হাত ঘসিয়ে সঠিকভাবে পরিষ্কার করা। কেননা মনী বা অন্য জাতীয় নাপাক জিনিসের দুর্গন্ধ কেবলমাত্র পানি দ্বারা ধৌত করলেও অনেক সময় দূরীভূত হয় না। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ شَوْكَرٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عُرْوَةَ الْهَمْدَانِيِّ، حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها لَئِنْ شِئْتُمْ لأُرِيَنَّكُمْ أَثَرَ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَائِطِ حَيْثُ كَانَ يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

২৪৪. আল-হাসান ইবনে শাওকার .... শাবী (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, যদি তোমরা চাও, তবে আমি তোমাদেরকে দেওয়ালের মধ্যে- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতের চিহ্ন দেখাতে পারি- যেখানে তিনি অপিবত্রতার গোসল করতেন।

২৪৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، عَنْ خَالَتِهِ، مَيْمُونَةَ قَالَتْ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُسْلاً يَغْتَسِلُ بِهِ مِنَ الْجَنَابَةِ فَأَكْفَأَ الإِنَاءَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ثُمَّ صَبَّ عَلَى فَرْجِهِ فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِشِمَالِهِ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ الأَرْضَ فَغَسَلَهَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ صَبَّ عَلَى رَأْسِهِ وَجَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى نَاحِيَةً فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ فَنَاوَلْتُهُ الْمِنْدِيلَ فَلَمْ يَأْخُذْهُ وَجَعَلَ يَنْفُضُ الْمَاءَ عَنْ جَسَدِهِ . فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ كَانُوا لاَ يَرَوْنَ بِالْمِنْدِيلِ بَأْسًا وَلَكِنْ كَانُوا يَكْرَهُونَ الْعَادَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فَقُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دَاوُدَ كَانُوا يَكْرَهُونَهُ لِلْعَادَةِ فَقَالَ هَكَذَا هُوَ وَلَكِنْ وَجَدْتُهُ فِي كِتَابِي هَكَذَا .

বর্ণনাকারী: কুরাইব (রহঃ)

২৪৫. মুসাদ্দাদ .... কুরায়েব হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাঁর খালা মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তা দিয়ে তিনি অপবিত্রতার গোসল করেন। নবী (ﷺ) বদনা নিজের ডান হাতের উপর কাৎ করে তা দুই বা তিনবার ধৌত করেন। অতঃপর তিনি তাঁর লজ্জাস্থানের উপর পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে ধৌত করেন। পরে তিনি মাটির উপর হাত ঘষে (দুর্গন্ধ মুক্ত হওয়ার জন্য) তা পানি দিয়ে ধৌত করেন।

অতঃপর তিনি কুলি করেন এবং নাক পরিষ্কার করেন। অতঃপর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় মাথা ও সর্বাংগে পানি ঢালেন। পরে তিনি উক্ত স্থান হতে অল্প দূরে সরে গিয়ে উভয় পা ধৌত করেন। তখন আমি তাঁর দিকে রুমাল এগিয়ে দেই। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি বরং নিজের হাত দিয়ে শরীর হতে পানি ঝারাতে থাকেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি এ সম্পর্কে ইবরাহীমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরামগণ রুমাল ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন না, বরং তাঁরা এটাকে (রুমাল ব্যবহার) অভ্যাসে পরিণত করা খারাপ মনে করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪৬

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْخُرَاسَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ يُفْرِغُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى سَبْعَ مِرَارٍ ثُمَّ يَغْسِلُ فَرْجَهُ فَنَسِيَ مَرَّةً كَمْ أَفْرَغَ فَسَأَلَنِي كَمْ أَفْرَغْتُ فَقُلْتُ لاَ أَدْرِي . فَقَالَ لاَ أُمَّ لَكَ وَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَدْرِيَ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى جِلْدِهِ الْمَاءَ ثُمَّ يَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَطَهَّرُ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

২৪৬. হুসাইন .... শোবা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) অপবিত্রতার গোসল করা কালে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর সাতবার পানি ঢালতেন। অতঃপর স্বীয় লজ্জাস্থান ধৌত করতেন। একদা গোসলের সময় কতবার পানি ঢেলেছেন তার সংখ্যা ভুলে গিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, কতবার পানি ঢেলেছি? আমি বললাম, আমার জানা নেই। তিনি বলেন, তোমার ক্ষতি হোক। তুমি কেন হিসাব রাখলে না? অতঃপর নামাযের উযুর ন্যায় উযু করেন, অতঃপর সর্বাঙ্গে পানি ঢেলে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপেই পবিত্রতা অর্জন করতেন।

২৪৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُصْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَتِ الصَّلاَةُ خَمْسِينَ وَالْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ سَبْعَ مِرَارٍ وَغَسْلُ الْبَوْلِ مِنَ الثَّوْبِ سَبْعَ مِرَارٍ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُ حَتَّى جُعِلَتِ الصَّلاَةُ خَمْسًا وَالْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ مَرَّةً وَغَسْلُ الْبَوْلِ مِنَ الثَّوْبِ مَرَّةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪৭. কুতায়বা .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমাবস্থায় নামায পঞ্চাশ ওয়াক্ত ফরজ ছিল এবং অপবিত্রতার গোসল সাতবার ও পেশাবযুক্ত কাপড়াদি সাতবার ধৌত করতে হত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই সংখ্যা কমানোর জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করতে থাকেন। অবশেযে পাঁচ ওয়াক্তের নামায ফরজ করা হয় এবং অপবিত্রতার গোসল একবার ও পেশাবযুক্ত কাপড়* একবার ধৌত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

* ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর মতে পেশাবযুক্ত কাপড় একবার ধৌত করলেই চলবে। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)- এর মতানুসারে তা তিনবার ধৌত করতে হবে। এই বক্তব্যের স্বপক্ষে হাদীসও বর্ণিত আছে। -(অনুবাদক)
২৪৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ جَنَابَةً فَاغْسِلُوا الشَّعْرَ وَأَنْقُوا الْبَشَرَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ حَدِيثُهُ مُنْكَرٌ وَهُوَ ضَعِيفٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৮. নসর ইবনে আলী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ শরীরের প্রতিটি লোমকূপের নীচে অপবিত্রতা রয়েছে। অতএব তোমরা প্রতিটি পশম ধৌত কর* এবং শরীরের চামড়া পরিস্কার কর।

* অপবিত্রতার গোসলের সময় যদি শরীরের একটি পশম পরিমাণও শুকনা থাকে তবে গোসল হবে না। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يَغْسِلْهَا فُعِلَ بِهِ كَذَا وَكَذَا مِنَ النَّارِ " . قَالَ عَلِيٌّ فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي ثَلاَثًا . وَكَانَ يَجِزُّ شَعْرَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৪৯. মুসা .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন যে ব্যক্তি অপবিত্রতার গোসলের সময় একটি পশম পরিমাণ স্থান ধৌত করা পরিত্যাগ করে- তার উক্ত স্থান জাহান্নামের আণ্ডনে দগ্ধ হবে।

আলী (রাযিঃ) বলেন, এটা শুনার পর হতে আমি আমার মাথার সাথে শক্রতামূলক ব্যবহার আরম্ভ করে দেই। আমি তখন হতে আমার মাথার সাথে শক্রতামূলক ব্যবহার আরম্ভ করে দেই। এরূপ উক্তি তিনি তিনবার উচ্চারণ করেন। রাবী বলেন, (এ কারণেই) আলী (রাযিঃ) নিজ মাথার চুল কামিয়ে ফেলতেন। (কথিত আছে যে, আলী (রাযিঃ) প্রতি সপ্তাহে একবার মাথার চুল মুণ্ডন করতেন)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৯. গোসলের পর উযু করা সম্পর্কে।

باب فِي الْوُضُوءِ بَعْدَ الْغُسْلِ

২৫০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ وَيُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ وَصَلاَةَ الْغَدَاةِ وَلاَ أُرَاهُ يُحْدِثُ وُضُوءًا بَعْدَ الْغُسْلِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫০. আব্দুল্লাহ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসল করে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায পড়তেন। তাকে আমি গোসলের পর আর নতুনভাবে উযু করতে দেখি নাই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০০. স্ত্রীলোকের গোসলের সময় চুল ছাড়া সম্পর্কে।

باب فِي الْمَرْأَةِ هَلْ تَنْقُضُ شَعَرَهَا عِنْدَ الْغُسْلِ

২৫১

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنَ الْمُسْلِمِينَ - وَقَالَ زُهَيْرٌ إِنَّهَا - قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي أَفَأَنْقُضُهُ لِلْجَنَابَةِ قَالَ " إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْفِنِي عَلَيْهِ ثَلاَثًا " . وَقَالَ زُهَيْرٌ " تَحْثِي عَلَيْهِ ثَلاَثَ حَثَيَاثٍ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ تُفِيضِي عَلَى سَائِرِ جَسَدِكِ فَإِذَا أَنْتِ قَدْ طَهُرْتِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৫১. যুহায়ের .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একজন মুসলিম মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাথার চুল অতি ঘন।* কাজেই অপবিত্রতার গোসলের সময় আমি কি বেণী বা খোপা খুলে দেব? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য তার উপর তিনবার তিনকোশ পানি ঢালাই যখেষ্ট। রাবী যুহায়েরের বর্ণনায় আছে- তুমি তোমার চুলের উপর তিনবার পানি ঢালবে। অতঃপর তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢালবে; তবেই তুমি পবিত্র হবে।

* যে সমস্ত স্ত্রীলোকের চুল লম্বা এবং ঘন, তাদের জন্য অপবিত্রতার গোসল পর সময় গোড়া ভিজলেই যথেষ্ট। বেণী অথবা খোপা খুলেও তা করা যায়। - (অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৫২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ نَافِعٍ، - يَعْنِي الصَّائِغَ - عَنْ أُسَامَةَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، جَاءَتْ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَتْ فَسَأَلْتُ لَهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ فِيهِ " وَاغْمِزِي قُرُونَكِ عِنْدَ كُلِّ حَفْنَةٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৫২. আহমাদ .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট এই হাদীস জানার জন্য আগমন করেন। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তাঁর ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেকবার পানি ঢালার সময় তুমি তোমার খোপার নীচে আংণ্ডল প্রবেশ করিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষিয়ে পানি পৌছাবে।*

* উক্ত হাদীসে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, অপবিত্রতার গোসলের সময় মাথার প্রতিটি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো অবশ্য কর্তব্য – (অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৫৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَتْهَا جَنَابَةٌ أَخَذَتْ ثَلاَثَ حَفَنَاتٍ هَكَذَا - تَعْنِي بِكَفَّيْهَا جَمِيعًا - فَتَصُبُّ عَلَى رَأْسِهَا وَأَخَذَتْ بِيَدٍ وَاحِدَةٍ فَصَبَّتْهَا عَلَى هَذَا الشِّقِّ وَالأُخْرَى عَلَى الشِّقِّ الآخَرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৩. উছমান .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ অপবিত্র হলে সে তিন কোষ পানি নিয়ে এইরূপে অর্থাৎ দুই হাতের কোশ দ্বারা মাথার উপর পানি ঢালতেন। অতঃপর তিনি হাত দ্বারা পানির পাত্র থেকে পানি নিয়ে শরীরের একাংশে একবার এবং অপরাংশে একবার পানি ঢালতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

২৫৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنَّا نَغْتَسِلُ وَعَلَيْنَا الضِّمَادُ وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُحِلاَّتٌ وَمُحْرِمَاتٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৪. নসর ইবনে আলী .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাথার চুল কাপড়ে বাঁধা অবস্থায় গোসল করতাম। তখন আমাদের কেউ কেউ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় এবং কেউ কেউ ইহরাম বিহীন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথী ছিলাম।

২৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ قَرَأْتُ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ - قَالَ ابْنُ عَوْفٍ - وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنِي ضَمْضَمُ بْنُ زُرْعَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ أَفْتَانِي جُبَيْرُ بْنُ نُفَيْرٍ عَنِ الْغُسْلِ، مِنَ الْجَنَابَةِ أَنَّ ثَوْبَانَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُمُ، اسْتَفْتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " أَمَّا الرَّجُلُ فَلْيَنْشُرْ رَأْسَهُ فَلْيَغْسِلْهُ حَتَّى يَبْلُغَ أُصُولَ الشَّعْرِ وَأَمَّا الْمَرْأَةُ فَلاَ عَلَيْهَا أَنْ لاَ تَنْقُضَهُ لِتَغْرِفْ عَلَى رَأْسِهَا ثَلاَثَ غَرَفَاتٍ بِكَفَّيْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ .... শুরায়হ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়ের ইবনে নুফায়ের (রাহঃ) আমার নিকট অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে বলেছেন যে, ছাওবান (রাযিঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, একদা তাঁরা এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ পুরুষ লোক অপবিত্রতার গোসলের সময় এমনভাবে চুল ছেড়ে দিয়ে গোসল করবে- যেন তার প্রতিটি চুলের গোড়ায় পানি পৌছে। অপরপক্ষে মহিলাদের জন্য গোসলের সময় চুল ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা অপবিত্রতার গোসলের সময় উভয় হাতে তিনবার তিন কোষ পানি মাথার উপর ঢালবে।

১০১. খেতমী মিশ্রিত পানি দ্বারা অপবিত্রাবস্থায় মাথা ধৌত করা।

باب فِي الْجُنُبِ يَغْسِلُ رَأْسَهُ بِالْخِطْمِيِّ

২৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي سُوَاءَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ بِالْخِطْمِيِّ وَهُوَ جُنُبٌ يَجْتَزِئُ بِذَلِكَ وَلاَ يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে জাফর .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) খেতমী* মিশ্রিত পানি দ্বারা অপবিত্রতার গোসলে মাথা ধৌত করতেন এবং এটাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। অতঃপর মাথায় আর পানি ঢালতেন না।

* খেতমী হলঃ আরবদেশে প্রাপ্য সুগন্ধিযুক্ত এক প্রকার ঘাস। এটা সাবানের কাজ দেয় ও শরীর পরিষ্কার করে। মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই সুগন্ধিযুক্ত ঘাস মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করতেন। এতে জানা যায় যে, যে কোন সুগন্ধি মিশ্রিত পানি যথা- গোলাপজল বা সাবান দ্বারা গোসল করলে পুনরায় বিশুদ্ধ পানি দ্বারা গোসলের প্রয়োজন নেই। – (অনুবাদক)

১০২. স্ত্রী ও পুরুষের বীর্য স্খলিত হওয়ার পর তা ধৌত করা।

باب فِيمَا يَفِيضُ بَيْنَ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ مِنَ الْمَاءِ

২৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي سُوَاءَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عَائِشَةَ، فِيمَا يَفِيضُ بَيْنَ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ مِنَ الْمَاءِ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُ كَفًّا مِنْ مَاءٍ يَصُبُّ عَلَىَّ الْمَاءَ ثُمَّ يَأْخُذُ كَفًّا مِنْ مَاءٍ ثُمَّ يَصُبُّهُ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৭. মুহাম্মাদ রাফে .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাকে স্ত্রী-পুরুষের স্থলিত হওয়ার পর তা ধৌত করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক কোষ পানি স্থলিত বীর্যের উপর ঢালতেন। অতঃপর আরো এক কোশ পানি এর উপর ঢেলে পরিষ্কার করতেন।

১০৩. ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে খাদ্য গ্রহণ ও বসবাস সম্পর্কে।

باب فِي مُؤَاكَلَةِ الْحَائِضِ وَمُجَامَعَتِهَا

২৫৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانَتْ إِذَا حَاضَتْ مِنْهُمُ امْرَأَةٌ أَخْرَجُوهَا مِنَ الْبَيْتِ وَلَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبَيْتِ فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ ( وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَاصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ غَيْرَ النِّكَاحِ " . فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ . فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجَدَ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَظَنَنَّا أَنَّهُ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীদের অবস্থা এই যে, তারা ঋতুবতী স্ত্রীদের ঋতুর সময় ঘর হতে বের করে দেয় এবং তাদের সাথে একত্রে পানাহার ও এক ঘরে বসবাস করে না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আল্লাহ্ তাআলা এ ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “লোকেরা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। অতএব তোমরা ঋতুস্রাব চলাকালে-স্ত্রীসঙ্গম বর্জন করবে”- (সূরা বাকারাঃ ২২২)।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম ছাড়া ঋতু চলাকালীন একত্রে এক ঘরে বসবাস এবং সব কিছুই করতে পার। এটা শুনে ইহুদীরা বলাবলি করতে লাগল যে, এই ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ্) আমাদের প্রতিটি কাজেরই বিরুদ্ধাচরণ করে থাক। এ সময় উসায়েদ ইবনে হুদায়ের (রাযিঃ) এবং আরাদ ইবনে বিশর (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহুদীরা এইরূপ সমালোচনা করছে। আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম করতে পারি?

এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। উপস্থিত সাহাবীগগ বলেন, আমরা ধারণা করলাম যে, নবী (ﷺ) তাদের দুইজনের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন তাঁরা সেখান থেকে বের হয়ে গিয়ে এক সাহাবীর মাধ্যমে রাসূসুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে কিছু দুধ হাদিয়া প্রেরণ করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে ডেকে এনে দুধ পান করালেন। উপস্থিত সাহাবীগগ বলেন, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের উপর অসন্তুষ্ট নন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৫৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَتَعَرَّقُ الْعَظْمَ وَأَنَا حَائِضٌ، فَأُعْطِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَمَهُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي فِيهِ وَضَعْتُهُ وَأَشْرَبُ الشَّرَابَ فَأُنَاوِلُهُ فَيَضَعُ فَمَهُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي كُنْتُ أَشْرَبُ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৯. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড়ের গোশতের কিছু অংশ আহার করে বাকী অংশ নবী (ﷺ)কে দিতাম। তিনি ঐ স্থানেই মুখ লাগিয়ে খেতেন, যেখান থেকে আমি খেয়েছি। আমি পানীয় পান করে ঐ পাত্র তাকে দিতাম। তিনি ঐ স্থানে মুখ লাগিয়ে পানীয় পান করতেন, যেখানে মুখ দিয়ে আমি পান করেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ صَفِيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ رَأْسَهُ فِي حِجْرِي فَيَقْرَأُ وَأَنَا حَائِضٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬০. মূহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঋতু চলাকালীন আমার কোলে মাথা রেখে কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৪. ঋতুবতী অবস্থায় মসজিদ থেকে কিছু গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي الْحَائِضِ تُنَاوِلُ مِنَ الْمَسْجِدِ

২৬১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ " . فَقُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬১. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মসজিদ থেকে চাটাই এনে দেয়ার নির্দেশ দেন। জবাবে আমি বলি, আমি তো ঋতুবতী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নয় (অর্থাৎ ঋতুবতী হওয়ার কারণে তোমার দুই হাত তো নাপাক হয়নি)।*

* মসজিদে নববীর সাথেই হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর হুজরা ছিল এবং তার দরজাও মসজিদের দিকে ছিল। তাই মসজিদে প্রবেশ না করেই চাটাই আনা সম্ভব ছিল বিধায় এরূপ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৫. ঋতুকালীন নামাযের কাযা করার প্রয়োজন নেই।

باب فِي الْحَائِضِ لاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ

২৬২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ عَائِشَةَ أَتَقْضِي الْحَائِضُ الصَّلاَةَ فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ لَقَدْ كُنَّا نَحِيضُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ نَقْضِي وَلاَ نُؤْمَرُ بِالْقَضَاءِ .

বর্ণনাকারী: মুআযাহ আদাবিয়্যা (রহঃ)

২৬২. মুসা .... মুআযা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করে যে, ঋতুবতী স্ত্রীলোকেরা ঋতুকালীন সময়ে পরিত্যক্ত নামাযের কাযা আদায় করবে কি? তিনি বলেন, তুমি কি হারূরা* গ্রামের অধিবাসিনী? (জেনে রেখ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমরা ঋতুগ্রস্ত হলে, ঐ সময়ের কাযা নামায আদায় করতাম না এবং উক্ত সময়ের কাযা নামায আদায়ের জন্য আমরা আদিষ্টও হইনি।

* কালোা নগরী থেকে দুই মাইল দূরে হারূরা নামক পল্লী অবস্থিত। সেখানকার খারিজী অধিবাসীবৃন্দ যারা হযরত আলী (রাযিঃ)-কে শহীদ করে- তাদের ঋতুবর্তী স্ত্রীদেরকে ঋতুকালীন সময়ের কাযা নামায আদায়ের জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিত। এজন্য এই হাদীসে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) উক্ত স্ত্রীলোকটিকে সেখানকার অধিবাসিনী কিনা- তা জানতে চেয়েছেন। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৬৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ - عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ فِيهِ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৩. আল-হাসান ইবনে আমর ..... আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এই সূত্রে আরো আছে, আমাদেরকে আমাদের ঋতুকালীন সময়ের কাযা রোযা আদায়ের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ঐ সময়ের কাযা নামায আদায়ের জন্য বলা হয়নি।

১০৬. ঋতুবতী স্ত্রীলোকের সাথে সঙ্গম করা সম্পর্কে।

باب فِي إِتْيَانِ الْحَائِضِ

২৬৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ " يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا الرِّوَايَةُ الصَّحِيحَةُ قَالَ " دِينَارٌ أَوْ نِصْفُ دِينَارٍ " . وَرُبَّمَا لَمْ يَرْفَعْهُ شُعْبَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৪. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, যে নিজের হায়যগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে “সে যেন এক বা অর্ধ দীনার দান খয়রাত করে”।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৬৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهَّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِذَا أَصَابَهَا فِي أَوَّلِ الدَّمِ فَدِينَارٌ وَإِذَا أَصَابَهَا فِي انْقِطَاعِ الدَّمِ فَنِصْفُ دِينَارٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ مِقْسَمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৫. আব্দুস সালাম .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি স্ত্রীর ঋতু শুরু হওয়া কালীন তাঁর সাথে সঙ্গম করলে এক দীনার সাদ্‌কা করতে হবে এবং ঋতুর শেযের দিকে সঙ্গম করলে অর্ধ দীনার সাদ্‌কা করতে হবে।

২৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا وَقَعَ الرَّجُلُ بِأَهْلِهِ وَهِيَ حَائِضٌ فَلْيَتَصَدَّقْ بِنِصْفِ دِينَارٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا قَالَ عَلِيُّ بْنُ بَذِيمَةَ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَرَوَى الأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " آمُرُهُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِخُمْسَىْ دِينَارٍ " . وَهَذَا مُعْضَلٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৬. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কোন ব্যক্তি তার ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলে সে যেন অবশ্যই অর্ধ দীনার সাদ্‌কা করে।

১০৭. কোন ব্যক্তির ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ব্যতিত অন্যভাবে মিলন।

باب فِي الرَّجُلِ يُصِيبُ مِنْهَا مَا دُونَ الْجِمَاعِ

২৬৭

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَبِيبٍ، مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ نُدْبَةَ، مَوْلاَةِ مَيْمُونَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ إِذَا كَانَ عَلَيْهَا إِزَارٌ إِلَى أَنْصَافِ الْفَخِذَيْنِ أَوِ الرُّكْبَتَيْنِ تَحْتَجِزُ بِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

২৬৭. ইয়াযীদ .... মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীরদের কারো সাথে একত্রে মেলামেশা করতেন এমতাবস্থায়- যখন তাদের (স্ত্রীদের) উভয় রান বা অর্ধভাগ পর্যন্ত আবৃত থাকে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৬৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا أَنْ تَتَّزِرَ ثُمَّ يُضَاجِعُهَا زَوْجُهَا وَقَالَ مَرَّةً يُبَاشِرُهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের কেউ ঋতুবতী হলে তাকে পাজামা পরিধানের নির্দেশ দিতেন। অতঃপর তাঁর সাথে একত্রে শয়ন করতেন। অন্য এক বর্ণনায় আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তিনি (নবী (ﷺ)) কখনও তাঁর সাথে একত্রে রাত যাপন করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৬৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ جَابِرِ بْنِ صُبْحٍ، سَمِعْتُ خِلاَسًا الْهَجَرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كُنْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم نَبِيتُ فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ طَامِثٌ فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ ثُمَّ صَلَّى فِيهِ وَإِنْ أَصَابَ - تَعْنِي ثَوْبَهُ - مِنْهُ شَىْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ ثُمَّ صَلَّى فِيهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৯. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার হায়য অবস্থায় আমি এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে একই চাঁদরের নীচে ঘুমাতাম আমার শরীর হতে নির্গত কোন কিছু অর্থাৎ হায়যের রক্ত যদি তাঁর কাপড়ে লেগে যেত তবে তিনি শুধু ঐ স্থানটুকু ধুয়ে ফেলতেন। অতঃপর তা পরিবর্তন না করে সেই কাপড়েই নামায পড়তেন। আর যদি কিছু তার দেহ হতে (অর্থাৎ মযী) তাঁর কাপড়ে লাগত- তবে ঐ স্থানটুকু শুধু ধৌত করতেন এবং উক্ত কাপড়ে নামায আদায় করতেন।

২৭০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غُرَابٍ، أَنَّ عَمَّةً، لَهُ حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، سَأَلَتْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ وَلَيْسَ لَهَا وَلِزَوْجِهَا إِلاَّ فِرَاشٌ وَاحِدٌ قَالَتْ أُخْبِرُكِ بِمَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ لَيْلاً وَأَنَا حَائِضٌ فَمَضَى إِلَى مَسْجِدِهِ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ تَعْنِي مَسْجِدَ بَيْتِهِ - فَلَمْ يَنْصَرِفْ حَتَّى غَلَبَتْنِي عَيْنِي وَأَوْجَعَهُ الْبَرْدُ فَقَالَ " ادْنِي مِنِّي " . فَقُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ . فَقَالَ " وَإِنْ اكْشِفِي عَنْ فَخِذَيْكِ " . فَكَشَفْتُ فَخِذَىَّ فَوَضَعَ خَدَّهُ وَصَدْرَهُ عَلَى فَخِذَىَّ وَحَنَيْتُ عَلَيْهِ حَتَّى دَفِئَ وَنَامَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... উমরা ইবনে গুরাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর ফুফু তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, এক সময় আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাদের কারও কারও যখন হায়য হয় তখন তার ও তার স্বামী পৃথকভাবে থাকার জন্য কোন আলাদা বিছানা নাই, বরং একই বিছানায় থাকতে হয়, এমতাবস্থায় করণীয় কি? জবাবে আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এ সম্পর্কে আমি তোমার নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর একটি ঘটনা বর্ণনা করব। একদা রাতে তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করেন, তখন আমি ঋতুবতী ছিলাম। তিনি মসজিদে নববীতে যান। অতঃপর আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তিনি শীতে কাতর অবস্থায় আসেন। আমাকে বলেন, আমার নিকটে এসো (আমার শরীরের সাথে মিশে যাও)। আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। নবী (ﷺ) বলেন, তুমি তোমার উরুদেশ উন্মুক্ত কর। তখন আমি আমার উরুদেশ উন্মুক্ত করি। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও বক্ষস্থল (গরম হওয়ার জন্য) আমার উরুদেশে স্থাপন করেন এবং আমিও তাঁর প্রতি ঝুকে পড়ি। অতঃপর তিনি শীতের তীব্রতা হতে মুক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

২৭১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ أَبِي الْيَمَانِ، عَنْ أُمِّ ذَرَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ إِذَا حِضْتُ نَزَلْتُ عَنِ الْمِثَالِ عَلَى الْحَصِيرِ فَلَمْ نَقْرُبْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ نَدْنُ مِنْهُ حَتَّى نَطْهُرَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭১. সাঈদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঋতুবতী হয়ে পড়লে আমি আমাদের একত্রে থাকার বিছানা পরিত্যাগ করে চাটাইয়ের উপর অবস্থান করতাম এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকটবর্তী হতাম না।*

* উপরোক্ত হাদীসে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটবর্তী হতেন না বলে যে কথার উল্লেখ করেছেন তার অর্থ এই যে- হায়েয হতে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সহবাসের উদ্দেশ্যে তাঁরা মহানবী (ﷺ) এর নিকটবর্তী হতেন না। উম্মুহাতুল মুমিনীন (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক ঋতুকালীন সময়ে আলাদা বিছনায় থাকা শ্রেয় মনে করতেন। কিন্তু নবী করীম (ﷺ) এখন কাউকে তাঁর সাথে শোয়ার জন্য ডাকতেন, তখন তাঁরা যেতেন। -(অনুবাদক)
২৭২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ مِنَ الْحَائِضِ شَيْئًا أَلْقَى عَلَى فَرْجِهَا ثَوْبًا .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২৭২. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে উম্মুহাতুল মুমিনীদের কোন একজনের (সন্তবতঃ মায়মুনা) সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীদের সাথে একত্রে থাকার ইচ্ছা করতেন, তখন তাঁর লজ্জাস্থান অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে আবৃত করে রাখতেন।

২৭৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا فِي فَوْحِ حَيْضِنَا أَنْ نَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُنَا وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৩. উছমান .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আমাদের হায়যের প্রারম্ভিক অবস্থায় পাজামা পরিধানের নির্দেশ দিতেন। অতঃপর তিনি আমাদের সাথে একত্রে অবস্থান করতেন। (আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেন), তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির কামোন্মাদনা নিয়ন্ত্রন করার এমন ক্ষমতা আছে কি যেরূপ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ছিল?

১০৮. রক্ত প্রদরের রোগিণীর বর্ণনা এবং যে ব্যক্তি বলে — এমন স্ত্রীলোক হায়যের সমপরিমাণ সময় নামায ত্যাগ করবে।

باب فِي الْمَرْأَةِ تُسْتَحَاضُ وَمَنْ قَالَ تَدَعُ الصَّلاَةَ فِي عِدَّةِ الأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ

২৭৪

دَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تُهَرَاقُ الدِّمَاءَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْ لَهَا أُمُّ سَلَمَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لِتَنْظُرْ عِدَّةَ اللَّيَالِي وَالأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ مِنَ الشَّهْرِ قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا الَّذِي أَصَابَهَا فَلْتَتْرُكِ الصَّلاَةَ قَدْرَ ذَلِكَ مِنَ الشَّهْرِ فَإِذَا خَلَّفَتْ ذَلِكَ فَلْتَغْتَسِلْ ثُمَّ لْتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ لْتُصَلِّ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৭৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... উম্মুল মু’মিনীন উম্মে সালামা (রাযিঃ) হাত বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে এক মহিলার (হায়য-নিফাসের জন্য নির্ধারিত সময়ের পরেও) রক্ত প্রবাহিত হত। উম্মে সালামা (রাযিঃ) ঐ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বিধান জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, ঐ স্ত্রীলোকটির কর্তব্য হল, ইতিপূর্বে প্রতি মাসের নির্ধারিত যে কয়দিন সে ঋতুবতী থাকত- তা নির্ধারণ করা। অতঃপর সে ততদিন নামায আদায় করা থেকে বিরত থাকবে। পূর্ব নির্ধারিত পরিমাণ সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সে গোসল করে লজ্জাস্থানে মজবুত ভাবে কাপড়ের পট্টি বেঁধে নামায আদায় করবে।*

* হায়েয অথবা নিফাসের জন্য নির্ধারিত সময়ের পরেও যে সব স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব হয়ে থাকে তাকে ইস্তেহাযা (রক্তপ্রদর) বলে। এরূপ স্ত্রীলোকের জন্য শরীআতের হুকুম এই যে, তারা তাদের হায়েয নিফাসকালীন পূর্ব নির্ধারিত স্বাভাবিক সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পর গোসল করে নিয়মিতভাবে নামায আদায় করবে এবং প্রত্যেক নামাযের জন্য তাদেরকে উযু করতে হবে। অপরপক্ষে যে সমস্ত মহিলার ঋতুবর্তী হওয়ার প্রথম হতে "ইস্তেহাযা” দেখা দিবে তারা শরীআতের নির্ধারিত সময় (হায়েযের জন্য ১০ দিন এবং নিফাসের জন্য ৪০ দিন সর্বোচ্চ) অতিবাহিত হওয়ার পর গোসল করে নামায আদায় করবে। ইস্তেহাজার সময় স্ত্রীসহবাস বৈধ। – (অনুবাদক)
২৭৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَخْبَرَهُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ قَالَ " فَإِذَا خَلَّفَتْ ذَلِكَ وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْتَغْتَسِلْ " . بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৭৫. কুতায়বা .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলার সর্বক্ষণ রক্তস্রাব হত .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, যখন কোন মহিলার হায়য-নিফাসকালীন পূর্ব নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হবে- তখন সে গোসল করে নামায আদায় করবে।

২৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّ امْرَأَةً، كَانَتْ تُهَرَاقُ الدِّمَاءَ فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ اللَّيْثِ قَالَ " فَإِذَا خَلَّفَتْهُنَّ وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْتَغْتَسِلْ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২৭৬. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে আনসারদের মধ্য হতে এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলার সর্বক্ষণ রক্তস্রাব হত ......... অতঃপর রাবী লাইছের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

২৭৭

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، بِإِسْنَادِ اللَّيْثِ وَبِمَعْنَاهُ قَالَ " فَلْتَتْرُكِ الصَّلاَةَ قَدْرَ ذَلِكَ ثُمَّ إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْتَغْتِسِلْ وَلْتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ تُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

২৭৭. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম .... নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত ......... লাইছের সনদে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। মহানবী (ﷺ) বলেনঃ “সে (হায়যের) সমপরিমাণ সময় নামায ত্যাগ করবে। তারপর থেকে নামাযের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে সে গোসল করবে, অতঃপর একটি কাপড়ের সাহায্যে পট্টি বাঁধবে, অতঃপর নামায পড়বে”।

২৭৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فِيهِ " تَدَعُ الصَّلاَةَ وَتَغْتَسِلُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ وَتَسْتَثْفِرُ بِثَوْبٍ وَتُصَلِّي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمَّى الْمَرْأَةَ الَّتِي كَانَتِ اسْتُحِيضَتْ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৭৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর সনদে পূর্বোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আছে, মহানবী (ﷺ) বলেনঃ সে (হায়যের পরিমাণ সময়) নামায ছেড়ে দেবে, এরপর থেকে গোসল করে কাপড়ের সাহায্যে (লজ্জাস্থানে) পট্টি বেঁধে নামায পড়বে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসে উল্লেখিত রক্তপ্রদর রোগিণীর নাম, হাম্মাদ (রাহঃ) আইয়ুবের সূত্রে- ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ বলে উল্লেখ করেছেন।
২৭৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ عِرَاكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّمِ - فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَرَأَيْتُ مِرْكَنَهَا مَلآنَ دَمًا - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " امْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحْبِسُكِ حَيْضَتُكِ ثُمَّ اغْتَسِلِي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ قُتَيْبَةُ بَيْنَ أَضْعَافِ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ فِي آخِرِهَا وَرَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ وَيُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ اللَّيْثِ فَقَالاَ جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৯। কুতায়বা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)কে হায়যের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আযোশা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁর গোসলের পাত্র রক্তে পূর্ণ দেখেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি তোমার হায়যের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে গোসল করবে।

২৮০

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَتْ إِلَيْهِ الدَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ فَانْظُرِي إِذَا أَتَى قُرْؤُكِ فَلاَ تُصَلِّي فَإِذَا مَرَّ قُرْؤُكِ فَتَطَهَّرِي ثُمَّ صَلِّي مَا بَيْنَ الْقُرْءِ إِلَى الْقُرْءِ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৮০. ঈসা ইবনে হাম্মাদ ..... উরওয়া ইবনুস যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট রক্তস্রাবের অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন, তা ইরকের রক্ত (অর্থাৎ তা বিশেষ একটি শিরা হতে প্রবাহিত রক্ত- হায়যের রক্ত নয়)। অতএব তুমি তোমার হায়যের জন্য নির্ধারিত দিনগুলির অপেক্ষা কর এবং ঐ সময় তুমি নামায ছেড়ে দেবে। অতঃপর যখন তোমার হায়যের নির্ধারিত দিনগুলি অতিবাহিত হবে- তখন তুমি গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতএব তুমি তোমার এক হায়যের সময় হতে পরবর্তী হায়য আগমনের মধ্যবর্তী সময়ে যথারীতি নামায আদায় করবে।

২৮১
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ، أَنَّهَا أَمَرَتْ أَسْمَاءَ - أَوْ أَسْمَاءُ حَدَّثَتْنِي أَنَّهَا، أَمَرَتْهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ - أَنْ تَسْأَلَ، رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَقْعُدَ الأَيَّامَ الَّتِي كَانَتْ تَقْعُدُ ثُمَّ تَغْتَسِلُ
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ قَتَادَةُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَدَعَ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ عُرْوَةَ شَيْئًا .
وَزَادَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَسَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَدَعَ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنَ ابْنِ عُيَيْنَةَ لَيْسَ هَذَا فِي حَدِيثِ الْحُفَّاظِ عَنِ الزُّهْرِيِّ إِلاَّ مَا ذَكَرَ سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ وَقَدْ رَوَى الْحُمَيْدِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا " .
وَرَوَتْ قَمِيرُ بِنْتُ عَمْرٍو زَوْجُ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَتْرُكُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ .
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تَتْرُكَ الصَّلاَةَ قَدْرَ أَقْرَائِهَا .
وَرَوَى أَبُو بِشْرٍ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي وَحْشِيَّةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ اسْتُحِيضَتْ فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَرَوَى شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " الْمُسْتَحَاضَةُ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي "
وَرَوَى الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ أَنَّ سَوْدَةَ اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا مَضَتْ أَيَّامُهَا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ .1
وَرَوَى سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ " الْمُسْتَحَاضَةُ تَجْلِسُ أَيَّامَ قُرْئِهَا "
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عَمَّارٌ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ وَطَلْقُ بْنُ حَبِيبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مَعْقِلٌ الْخَثْعَمِيُّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
وَكَذَلِكَ رَوَى الشَّعْبِيُّ عَنْ قَمِيرَ امْرَأَةِ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ قَوْلُ الْحَسَنِ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءٍ وَمَكْحُولٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَسَالِمٍ وَالْقَاسِمِ إِنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ عُرْوَةَ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৮১. ইউসুফ ইবনে মুসা .... উরওয়া ইবনুয-যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) নিজের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করার জন্য আসমা (রাযিঃ)-কে অনুরোধ করেন। নবী (ﷺ) বলেন, সে হায়যকালীন সময়ে নামায ত্যাগ করবে, অতঃপর হায়যের সীমা শেষে গোসল করবে।

যয়নাব বিনতেে উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ার পর মহানবী (ﷺ) তাঁর হায়যের জন্য নির্ধারিত সময়ে নামায ত্যাগ করার নির্দেশ দেন এবং হায়যের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর গোসল করে নামায আদায় করতে বলেন।

আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ার পর এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। নবী (ﷺ) তাকে হায়যের নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে নামায আদায় না করার নির্দেশ দেন।

ইবনে উয়াইনার সনদে বর্ণিত হাদীসে “সে হায়যের সমপরিমাণ সময় নামায ত্যাগ করবে” কথাটার উল্লেখ নাই।

আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাগণ তাদের হায়যের জন্য নির্ধারিত সময়ে নামায পরিহার করবে এবং উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গোসল করবে। আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, মহানবী (ﷺ) ঐ মহিলাকে হায়যের কয়দিন নামায ত্যাগ করার নির্দেশ দেন।

আদী ইবনে ছাবেত (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন,ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাগণ তাদের জন্য নির্ধারিত হায়যের দিনগুলিতে নামায ত্যাগ করবে; অতঃপর গোসল করে নামায আদায় করবে।

জাফর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওদা (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় নবী (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেন যে, তাঁর জন্য হায়যের নির্ধারিত দিনগুলি সমাপ্ত হলে- গোসল করে তাঁকে নামায আদায় করতে হবে।

আলী (রাযিঃ) ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাগণ হায়যের জন্য নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা হতে বিরত থাকবে।

হাসান, আতা ও অন্যান্যদের মতানুসারে- ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাগণ তাদের জন্য নির্ধারিত হায়যের সময়ে নামায পরিহার করবে।

১০৯. রক্ত প্রদরের রোগিণীর হায়যের সময় শুরু হলে নামায ত্যাগ করবে।

باب مَنْ قَالَ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَدَعُ الصَّلاَةَ

২৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ ثُمَّ صَلِّي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮২. আহমাদ ইবনে ইউনূস .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতেমা বিনতেে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা। দীর্ঘদিন যাবত আমার রক্তস্রাব বন্ধ হচ্ছে না। এ সময় কি আমি নামায ত্যাগ করব? তিনি বলেনঃ এটা বিশেষ শিরা হতে নির্গত রক্ত, হায়যের রক্ত নয়। অতএব তোমার যখন হায়যের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে তখন নামায ত্যাগ করবে এবং ঐ সময় অতিক্রাস্ত হলে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে রক্ত ধৌত করে (উযু করে) নামায আদায় করবে।

২৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامٍ، بِإِسْنَادِ زُهَيْرٍ وَمَعْنَاهُ وَقَالَ " فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلاَةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي الدَّمَ عَنْكِ وَصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২৮৩. আল-কানবী .... হিশাম (রাহঃ) যুহায়েরের সনদ ও অর্থে একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেন, যখন তোমার হায়যের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে- তখন নামায ত্যাগ করবে। অতঃপর উক্ত সময় অতিবাহিত হলে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে রক্ত ধৌত করে (উযু করে) নামায আদায় করবে।

২৮৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ، عَنْ بُهَيَّةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً، تَسْأَلُ عَائِشَةَ عَنِ امْرَأَةٍ، فَسَدَ حَيْضُهَا وَأُهَرِيقَتْ دَمًا فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ آمُرَهَا فَلْتَنْظُرْ قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحِيضُ فِي كُلِّ شَهْرٍ وَحَيْضُهَا مُسْتَقِيمٌ فَلْتَعْتَدَّ بِقَدْرِ ذَلِكَ مِنَ الأَيَّامِ ثُمَّ لْتَدَعِ الصَّلاَةَ فِيهِنَّ أَوْ بِقَدْرِهِنَّ ثُمَّ لْتَغْتَسِلْ ثُمَّ لْتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ لْتُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... বুহাইয়্যা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলাকে অপর এক মহিলা সম্পর্কে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি- যার হায়যের গণ্ডগোল তাকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে যে, রক্তস্রাব বন্ধ হচ্ছে না।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেনঃ তুমি উক্ত মহিলাকে বল যে, ইতিপূর্বে প্রতি মাসের নির্ধারিত যে দিনগুলিতে তার হায়যের রক্ত প্রবাহিত হত- উক্ত দিনগুলিতে সে নামায আদায় করা হতে বিরত থাকবে। অতঃপর গোসল করে লজ্জাস্থানে কাপড় বেঁধে নামায আদায় করবে।
২৮৫

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَقِيلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمِصْرِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، خَتَنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ الأَوْزَاعِيُّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ - وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ - سَبْعَ سِنِينَ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَذْكُرْ هَذَا الْكَلاَمَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ غَيْرَ الأَوْزَاعِيِّ وَرَوَاهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ وَاللَّيْثُ وَيُونُسُ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَمَعْمَرٌ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ وَابْنُ إِسْحَاقَ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَلَمْ يَذْكُرُوا هَذَا الْكَلاَمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَإِنَّمَا هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِيهِ أَيْضًا أَمَرَهَا أَنْ تَدَعَ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا . وَهُوَ وَهَمٌ مِنَ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَحَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ فِيهِ شَىْءٌ يَقْرُبُ مِنَ الَّذِي زَادَ الأَوْزَاعِيُّ فِي حَدِيثِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৫. ইবনে আবু আকীল .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) যিনি উম্মুহাতুল মু'মিনীন যয়নাব (রাযিঃ) এর বোন ছিলেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন- তিনি একাধারে সাত বছর ইস্তেহাযাগ্রস্ত ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি রাসূল্লাল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ এটা হায়যের রক্ত নয়, বরং বিশেষ একটি শিরা হতে নির্গত রক্ত। অতএব তুমি গোসল করে নামায আদায় করবে।

আয়িশা (রাযিঃ) হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, “যখন তোমার হায়যের জন্য নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে- তখন নামায হতে বিরত থাকবে এবং উক্ত সময় অতিবাহিত হলে গোসল করে নামায আদায় করবে।”

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, উপরোক্ত কথা আওযাঈ (রাহঃ) ব্যতীত ইমাম যুহরী (রাহঃ)-এর আর কোন শাগরিদ বর্ণনা করেননি। এই হাদীস যুহরীর সূত্রে আমর ইবনুল হারিছ, লাইছ, ইউনুছ ইবনে আবী যেব, মামার, ইবরাহীম ইবনে সা’দ, সুলাইমান ইবনে কাছীর, ইবনে ইসহাক এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা প্রমুখ-রাবী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরাও উপরোক্ত কথাটুকুর উল্লেখ করেননি।

অপর এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মে হাবীবা (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেনঃ “তুমি তোমার হায়যের জন্য নির্ধারিত দিনগুলিতে নামায ত্যাগ করবে।”
২৮৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ، أَنَّهَا كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضَةِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلاَةِ فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي فَإِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا بِهِ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ مِنْ كِتَابِهِ هَكَذَا ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ بَعْدُ حِفْظًا قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَى أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ إِذَا رَأَتِ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلاَ تُصَلِّي وَإِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ وَلَوْ سَاعَةً فَلْتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي .
وَقَالَ مَكْحُولٌ إِنَّ النِّسَاءَ لاَ تَخْفَى عَلَيْهِنَّ الْحَيْضَةُ إِنَّ دَمَهَا أَسْوَدُ غَلِيظٌ فَإِذَا ذَهَبَ ذَلِكَ وَصَارَتْ صُفْرَةً رَقِيقَةً فَإِنَّهَا مُسْتَحَاضَةٌ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّي .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَرَكَتِ الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتِ اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ .
وَرَوَى سُمَىٌّ وَغَيْرُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا .
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى يُونُسُ عَنِ الْحَسَنِ الْحَائِضُ إِذَا مَدَّ بِهَا الدَّمُ تُمْسِكُ بَعْدَ حَيْضَتِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ . وَقَالَ التَّيْمِيُّ عَنْ قَتَادَةَ إِذَا زَادَ عَلَى أَيَّامِ حَيْضِهَا خَمْسَةُ أَيَّامٍ فَلْتُصَلِّي . قَالَ التَّيْمِيُّ فَجَعَلْتُ أَنْقُصُ حَتَّى بَلَغْتُ يَوْمَيْنِ فَقَالَ إِذَا كَانَ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ حَيْضِهَا . وَسُئِلَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْهُ فَقَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাঃ)

২৮৬. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, হায়যের রক্ত হল কালে রংয়ের। কাজেই যখন রক্তপ্রবাহের সময় কালো রং দেখা দিবে- তখন নামায ত্যাগ করবে এবং যখন কালো-ছাড়া অন্য রং দেখা দিবে, তখন থেকে উযু করে নামায আদায় করবে। কেননা এটা বিশেয শিরা হতে নির্গত রক্ত।

২৮৭
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَغَيْرُهُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عِمْرَانَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّهِ، حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ كُنْتُ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْتَفْتِيهِ وَأُخْبِرُهُ فَوَجَدْتُهُ فِي بَيْتِ أُخْتِي زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَمَا تَرَى فِيهَا قَدْ مَنَعَتْنِي الصَّلاَةَ وَالصَّوْمَ فَقَالَ " أَنْعَتُ لَكِ الْكُرْسُفَ فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَاتَّخِذِي ثَوْبًا " . فَقَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ إِنَّمَا أَثُجُّ ثَجًّا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا فَعَلْتِ أَجْزَأَ عَنْكِ مِنَ الآخَرِ وَإِنْ قَوِيتِ عَلَيْهِمَا فَأَنْتِ أَعْلَمُ " . فَقَالَ لَهَا " إِنَّمَا هَذِهِ رَكْضَةٌ من رَكَضَاتِ الشَّيْطَانِ فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ فِي عِلْمِ اللَّهِ ثُمَّ اغْتَسِلِي حَتَّى إِذَا رَأَيْتِ أَنَّكِ قَدْ طَهُرْتِ وَاسْتَنْقَأْتِ فَصَلِّي ثَلاَثًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً وَأَيَّامَهَا وَصُومِي فَإِنَّ ذَلِكَ يُجْزِئُكِ وَكَذَلِكَ فَافْعَلِي فِي كُلِّ شَهْرٍ كَمَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَكَمَا يَطْهُرْنَ مِيقَاتَ حَيْضِهِنَّ وَطُهْرِهِنَّ وَإِنْ قَوِيتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِي الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِي الْعَصْرَ فَتَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَتُؤَخِّرِينَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِينَ الْعِشَاءَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فَافْعَلِي وَتَغْتَسِلِينَ مَعَ الْفَجْرِ فَافْعَلِي وَصُومِي إِنْ قَدَرْتِ عَلَى ذَلِكَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَهَذَا أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَىَّ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَمْرُو بْنُ ثَابِتٍ عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ قَالَ فَقَالَتْ حَمْنَةُ فَقُلْتُ هَذَا أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَىَّ . لَمْ يَجْعَلْهُ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَهُ كَلاَمَ حَمْنَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَعَمْرُو بْنُ ثَابِتٍ رَافِضِيٌّ رَجُلُ سَوْءٍ وَلَكِنَّهُ كَانَ صَدُوقًا فِي الْحَدِيثِ وَثَابِتُ بْنُ الْمِقْدَامِ رَجُلٌ ثِقَةٌ وَذَكَرَهُ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ يَقُولُ حَدِيثُ ابْنِ عَقِيلٍ فِي نَفْسِي مِنْهُ شَىْءٌ .

বর্ণনাকারী: হামনা বিনতে জাহশ (রাঃ)

২৮৭. যুহায়ের ইবনে হারব ..... ইবরাহীম থেকে তার চাচা ইমরানের সূত্রে এবং তিনি তাঁর মাতা হুমনা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার খুব বেশী রক্তস্রাব হত তখন আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে অবগত করাতে এবং তাঁর নিকট হতে সমাধান জানতে আসি। আমি তাকে আমার বোন যয়নাব বিনতে জাহশের ঘরে পেয়ে জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার খুব অধিক পরিমাণে ঋতুস্রাব হয়ে থাকে; এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? এই ঋতুস্রাব আমাকে নামায ও রোযা হতে বিরত রাখে। তিনি বলেন, আমি তোমাকে কুরসুফ্ (তুলা) ব্যবহ্যরের পরামর্শ দেই। কেননা তা রক্ত শোষণ করবে। তখন তিনি (মহিলা বলেন, এর পরিমাণ তা হতেও বেশী (কাজেই তুলা দ্বারা বন্ধ করা সম্ভব নয়)।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তবে তুমি এর উপর নেকড়া বাঁধবে। মহিলাটি বলেন, এর পরিমাণ তা থেকেও অধিক। তখন নবী (ﷺ) বলেন, তা হলে এর উপর একটা কাপড় বেঁধে নিবে। মহিলাটি বলেন, এর পরিমাণ তার চাইতেও আধিক; বরং আমার রক্তস্রাব অত্যধিক পরিমাণে হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাকে দুইঢি কাজ সম্পাদনের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এর যে কোন একটি সম্পন্ন করলেই চলবে। কাজ সস্পাদন করতে তুমি সক্ষম কিনা তা জান।

তিনি বলেন, এটা শয়তানের চক্রান্ত কাজেই (১ম কাজ) প্রতি মাসে ছয় বা সাত দিনের জন্য তোমার হায়যের নির্ধারিত দিন গণনা করবে। অতঃপর গোসল করবে এবং তুমি যখন বুঝতে পারবে যে, তুমি উল্লেখিত দিনণ্ডলি অতিক্রম করে পবিত্রতা অর্জন করেছ- তখন তুমি প্রত্যেক মাসের ২৩/২৪ দিন নিয়মিতভাবে নামায আদায় করবে এবং রোযা রাখবে।এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মাসে এরূপই করবে- যেরূপ অন্যান্য মহিলারা হায়য হতে পবিত্রতা অর্জনের পর করে থাকে।

(২য় কাজ) যদি তোমার সামর্থ থাকে, তবে একই গোসলে যোহর ও আসরের নামায একত্রে আদায় করবে- এইরূপে যে, যোহরের শেষ সময়ে উক্ত নামায এবং আসরের প্রারম্ভিক সময়ে আসরের নামায পড়ে উভয় নামায একত্রে আদায় করবে। অতঃপর মাগরিবের নামায এর শেষ সময়ে এবং এশার নামায এর প্রথম সময়ে একই গোসলে পর্যায়ক্রমে আদায় করবে এবং একবার গোসল করে ফজরের নামায আদায় করবে। বর্ণিত উপায়ে সম্ভব হলে, নিয়মিতভাবে নামায আদায় করবে এবং রোযা রাখবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এই কাজের মধ্যে আমার নিকট শেষোক্তটি পছন্দনীয়।

১১০. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের প্রত্যেক নামাযের সময় গোসল করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ।

باب مَنْ رَوَى أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ

২৮৮

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَقِيلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ خَتَنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ فِي مِرْكَنٍ فِي حُجْرَةِ أُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى تَعْلُوَ حُمْرَةُ الدَّمِ الْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৮. ইবনে আবুআকীল .... নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শ্যালিকা ছিলেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন- একাধারে সাত বছর ইস্তেহাযাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, এটা হায়যের রক্ত নয়, বরং একটি বিশেষ শিরা হতে প্রবাহিত রক্ত। অতএব তুমি গোসলান্তে নামায আদায় করবে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি (উম্মে হাবীবা) তাঁর বোন যয়নাব বিনতে জাহশের হুজরাতে একটি বড় পাত্রে গোসল করতেন এবং পাত্রের পানিতে রক্তের রং-এর প্রাধান্য হত।

২৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا . فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

২৮৯. আহমাদ ইবনে সালেহ্ .... উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে এই হাদীসটি বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন।

২৯০

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ بِنْتِ جَحْشٍ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَرُبَّمَا قَالَ مَعْمَرٌ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ بِمَعْنَاهُ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِي حَدِيثِهِ وَلَمْ يَقُلْ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯০. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে এই হাদীস বর্ণিত। এখানে রাবী বলেন, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন। ইবনে উয়াইনার বর্ণিত হাদীসে এ কথার উল্লেখ নাইঃ “মহানবী (ﷺ) তাকে গোসলের নির্দেশ দিয়েছেন।”

২৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَغْتَسِلَ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ ، وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الْأَوْزَاعِيُّ أَيْضًا قَالَ فِيهِ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯১. মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) ক্রমাগতভাবে সাত বছর ইস্তেহাযাগ্রস্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে গোসলের নির্দেশ দেন। প্রত্যেক নামাযের গোসল করতেন। ইমাম আওযাঈ (রাহঃ)-ও অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার হাদীসে আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বলেন, তিনি (উম্মে হাবীবা) প্রত্যেক নামাযের পূর্বে গোসল করতেন।

২৯২

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنْهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اغْتَسِلِي لِكُلِّ صَلاَةٍ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ قَالَ " تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنْ عَبْدِ الصَّمَدِ وَالْقَوْلُ فِيهِ قَوْلُ أَبِي الْوَلِيدِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯২. হান্নাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে প্রত্যেক নামাযের সময় গোসলের নির্দেশ দেন। আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু'মিনীন যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় নবী (ﷺ) তাঁকে প্রত্যেক নামাযের সময় গোসলের নির্দেশ দেন।

২৯৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي زَيْنَبُ بِنْتُ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ - وَكَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّيَ وَأَخْبَرَنِي أَنَّ أُمَّ بَكْرٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى مَا يَرِيبُهَا بَعْدَ الطُّهْرِ " إِنَّمَا هِيَ - أَوْ قَالَ إِنَّمَا هُوَ - عِرْقٌ أَوْ قَالَ عُرُوقٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَفِي حَدِيثِ ابْنِ عَقِيلٍ الأَمْرَانِ جَمِيعًا وَقَالَ " إِنْ قَوِيتِ فَاغْتَسِلِي لِكُلِّ صَلاَةٍ وَإِلاَّ فَاجْمَعِي " . كَمَا قَالَ الْقَاسِمُ فِي حَدِيثِهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْقَوْلُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২৯৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ..... আবু সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যয়নাব বিনতেে আবু সালামা আমাকে বলেন যে, জনৈক মহিলা ইস্তেহাযাগ্রস্ত ছিলেন এবং তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে গোসল করে নামায পড়ার নির্দেশ দেন।

আবু সালামা আরো বলেন, উম্মে বকর তাকে আরো বলেছেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহিলাগণ (হায়য হতে) পবিত্রতার পর এমন জিনিস (রক্ত) দেখে থাকে- যা তাকে সন্দেহযুক্ত করে (প্রকৃতপক্ষে তা হায়যের রক্ত নয়), বরং তা বিশেষ একটি শিরা হতে নির্গত রক্ত; অথবা বিশেষ শিরাসমূহ হতে প্রবাহিত রক্ত।

১১২. দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় ও তার জন্য একবার গোসল করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ تَجْمَعُ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ وَتَغْتَسِلُ لَهُمَا غُسْلاً

২৯৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اسْتُحِيضَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُمِرَتْ أَنْ تُعَجِّلَ الْعَصْرَ وَتُؤَخِّرَ الظُّهْرَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلاً . وَأَنْ تُؤَخِّرَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلَ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلاً وَتَغْتَسِلَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ غُسْلاً . فَقُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ أَعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لاَ أُحَدِّثُكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৪. উবাইদুল্লাহ্ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময় জনৈক মহিলা ইস্তেহাযাগ্রস্ত হলে তাকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, সে যেন আসরের নামায তার প্রারম্ভিক সময়ে এবং যোহরের নামায তার শেষ সময়ে একই গোসলে আদায় করে। একই ভাবে সে যেন মাগরিবের নামায বিলম্বিত করে এবং এশার নামায তার প্রারম্ভিক সময়ে একই গোসলে আদায় করে এবং ফজরের নামায আদায়ের জন্য একবার গোসল করে।

২৯৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ سَهْلَةَ بِنْتَ سُهَيْلٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ فَلَمَّا جَهَدَهَا ذَلِكَ أَمَرَهَا أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِغُسْلٍ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِغُسْلٍ وَتَغْتَسِلَ لِلصُّبْحِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ امْرَأَةً اسْتُحِيضَتْ فَسَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৫. আব্দুল আযীয .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহলা বিনতে সুহায়েল (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হয়ে নবী (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করলে তিনি তাকে প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসলের নির্দেশ দেন। তার জন্য এটা কষ্টদায়ক হওয়ায় নবী (ﷺ) তাকে যোহর ও আসরের জন্য একবার, মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের নামাযের জন্য একবার গোসলের নির্দেশ দেন।

২৯৬

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ اسْتُحِيضَتْ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا فَلَمْ تُصَلِّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا مِنَ الشَّيْطَانِ لِتَجْلِسْ فِي مِرْكَنٍ فَإِذَا رَأَتْ صُفْرَةً فَوْقَ الْمَاءِ فَلْتَغْتَسِلْ لِلظُّهْرِ وَالْعَصْرِ غُسْلاً وَاحِدًا وَتَغْتَسِلْ لِلْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ غُسْلاً وَاحِدًا وَتَغْتَسِلْ لِلْفَجْرِ غُسْلاً وَاحِدًا وَتَتَوَضَّأْ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ لَمَّا اشْتَدَّ عَلَيْهَا الْغُسْلُ أَمَرَهَا أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ .

বর্ণনাকারী: আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)

২৯৬. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... আসমা বিনতে উমায়েস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বললাম, ইয়া রাসূলোল্লাহ্! ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) এত এত দিন অর্থাৎ সাত বছর যাবত ইস্তেহাযাগ্রস্ত। এজন্য তিনি নামায আদায় করতে পারেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সুবহানাল্লাহ্! এতো শয়তানের ধোকামাত্র। সে যেন একটি পানিপূর্ণ বড় পাত্রের মধ্যে বসে এবং যখন সে পানির উপর হলুদ বর্ণ দেখতে পাবে- তখন যেন যোহর ও আসর, মাগরিব ও এশা এবং ফজরের নামাযের জন্য একবার করে গোসল করে এবং এর মধ্যবতী সময় সমূহের জন্য উযু করে।

১১৩. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের হায়যান্তে পবিত্রতা (গোসল) অর্জন সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مَنْ طُهْرٍ إِلَى طُهْرٍ

২৯৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ح، وَأَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُسْتَحَاضَةِ " تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي وَالْوُضُوءُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ عُثْمَانُ " وَتَصُومُ وَتُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: আদী ইবনে ছাবিত (রহঃ)

২৯৭. মুহাম্মাদ জাফর .... আদী ইবনে ছাবেত (রাহঃ) তার পিতা ও দাদার সূত্রে এবং তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট থেকে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর হায়যের জন্য নির্ধারিত দিন সমূহে নামায ত্যাগ করবে, অতঃপর পবিত্রতার জন্য গোসল করে নামায আদায় করবে। এরপর প্রত্যেক নামাযের জন্য কেবলমাত্র উযু করতে হবে।

২৯৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ خَبَرَهَا وَقَالَ " ثُمَّ اغْتَسِلِي ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ وَصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতেে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করেন। অতঃপর রাবী তাঁর পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ পবিত্রতার জন্য একবার গোসল কর, পরে প্রত্যেক নামাযের পূর্বে উযু করে নামায আদায় কর।

২৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْقَطَّانُ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي مِسْكِينٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ، عَنْ عَائِشَةَ، فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ - تَعْنِي مَرَّةً وَاحِدَةً - ثُمَّ تَوَضَّأُ إِلَى أَيَّامِ أَقْرَائِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৯. আহমাদ ইবনে সিনান .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে মহিলাদের গোসল সম্পর্কে বর্ণিত আছে। অর্থাৎ হায়যের পর পবিত্রতা অর্জনের জন্য একবারমাত্র গোসল করা ওয়াজিব। অতঃপর পুনঃ হায়যকালীন সময় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযের পূর্বে উযু করবে।

৩০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْقَطَّانُ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ أَيُّوبَ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ، عَنِ امْرَأَةِ، مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ وَالأَعْمَشِ عَنْ حَبِيبٍ وَأَيُّوبَ أَبِي الْعَلاَءِ كُلُّهَا ضَعِيفَةٌ لاَ تَصِحُّ وَدَلَّ عَلَى ضَعْفِ حَدِيثِ الأَعْمَشِ عَنْ حَبِيبٍ هَذَا الْحَدِيثُ أَوْقَفَهُ حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنِ الأَعْمَشِ وَأَنْكَرَ حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ أَنْ يَكُونَ حَدِيثُ حَبِيبٍ مَرْفُوعًا وَأَوْقَفَهُ أَيْضًا أَسْبَاطٌ عَنِ الأَعْمَشِ مَوْقُوفٌ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ دَاوُدَ عَنِ الأَعْمَشِ مَرْفُوعًا أَوَّلُهُ وَأَنْكَرَ أَنْ يَكُونَ فِيهِ الْوُضُوءُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَدَلَّ عَلَى ضَعْفِ حَدِيثِ حَبِيبٍ هَذَا أَنَّ رِوَايَةَ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . فِي حَدِيثِ الْمُسْتَحَاضَةِ وَرَوَى أَبُو الْيَقْظَانِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - وَعَمَّارٌ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَى عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ وَبَيَانٌ وَالْمُغِيرَةُ وَفِرَاسٌ وَمُجَالِدٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ حَدِيثِ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ " تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ " . وَرِوَايَةُ دَاوُدَ وَعَاصِمٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ " تَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّةً " . وَرَوَى هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . وَهَذِهِ الأَحَادِيثُ كُلُّهَا ضَعِيفَةٌ إِلاَّ حَدِيثَ قَمِيرَ وَحَدِيثَ عَمَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ وَحَدِيثَ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ وَالْمَعْرُوفُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الْغُسْلُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০০. আহমাদ ইবনে সিনান .... আয়িশা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১১৪. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা এক যোহর থেকে পরবর্তী যোহর পর্যন্ত একবার গোসল করবে।

باب مَنْ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ مَنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ

৩০১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ أَنَّ الْقَعْقَاعَ، وَزَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ، أَرْسَلاَهُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ يَسْأَلُهُ كَيْفَ تَغْتَسِلُ الْمُسْتَحَاضَةُ فَقَالَ تَغْتَسِلُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَإِنْ غَلَبَهَا الدَّمُ اسْتَثْفَرَتْ بِثَوْبٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ تَغْتَسِلُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ . وَكَذَلِكَ رَوَى دَاوُدُ وَعَاصِمٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ امْرَأَتِهِ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ إِلاَّ أَنَّ دَاوُدَ قَالَ كُلَّ يَوْمٍ . وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ عِنْدَ الظُّهْرِ . وَهُوَ قَوْلُ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَالْحَسَنِ وَعَطَاءٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَالِكٌ إِنِّي لأَظُنُّ حَدِيثَ ابْنِ الْمُسَيَّبِ مِنْ طُهْرٍ إِلَى طُهْرٍ . فَقَلَبَهَا النَّاسُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ وَلَكِنَّ الْوَهَمَ دَخَلَ فِيهِ وَرَوَاهُ الْمِسْوَرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ قَالَ فِيهِ مِنْ طُهْرٍ إِلَى طُهْرٍ . فَقَلَبَهَا النَّاسُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৩০১. আল-কানবী ....... আল-কাকা এবং যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) উভয়ই সুমায়্যিকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাবের নিকট ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের গোসলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে প্রেরণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, তাকে দৈনিক এক যোহর থেকে পরবর্তী যোহর পর্যন্ত একবার গোসল করতে হবে (অর্থাৎ প্রত্যহ দুপুরের সময়)। তাকে প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করতে হবে। ইস্তেহাজার সময় অধিক রক্তস্রাব হলে স্ত্রী অঙ্গ কাপড় দ্বারা মজবুত করে বেঁধে নিতে হবে।

১১৫. দুপুরের কথা উল্লেখ না করে প্রত্যেক গোসল করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّةً وَلَمْ يَقُلْ عِنْدَ الظُّهْرِ

৩০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، - وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ - عَنْ مَعْقِلٍ الْخَثْعَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ إِذَا انْقَضَى حَيْضُهَا اغْتَسَلَتْ كُلَّ يَوْمٍ وَاتَّخَذَتْ صُوفَةً فِيهَا سَمْنٌ أَوْ زَيْتٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০২. আহমাদ ইবনে হাম্বল .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাগণ তাদের হায়যের জন্য সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রত্যহ একবার গোসল করবে এবং তৈল ও ঘি মিশ্রিত বিশেষভাবে তৈরী কাপড় লজ্জাস্থানে কুরসুপের পরিবর্তে ব্যবহার করবে।*

* ইস্তেহাজার রক্ত কম প্রবাহের জন্য সে যুগে আরবী মহিলাদের মধ্যে এ ধরনের বিশেষ কাপড় ব্যবহারের প্রচলন ছিল এবং দৈনিক একবার গোসলের উদ্দেশ্যও একই। -(অনুবাদক)

১১৬. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের কয়েকদিন পরপর গোসল করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ بَيْنَ الأَيَّامِ

৩০৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ، أَنَّهُ سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنِ الْمُسْتَحَاضَةِ، فَقَالَ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ فَتُصَلِّي ثُمَّ تَغْتَسِلُ فِي الأَيَّامِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৩. আল-কানবী ..... মুহাম্মাদ ইবনে উছমান (রাহঃ) আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ)-কে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তাঁরা হায়যকালীন সময়ে নামায ত্যাগ করবে। এরপর গোসল করে নামায পড়বে এবং কয়েকদিন পরপর গোসল করবে।

১১৭. প্রত্যেক নামাযের সময় গোসল করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ تَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ

৩০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ، أَنَّهَا كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضِ فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلاَةِ فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَحَدَّثَنَا بِهِ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ حِفْظًا فَقَالَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَشُعْبَةَ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ الْعَلاَءُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَوْقَفَهُ شُعْبَةُ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ تَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাঃ)

৩০৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা ছিলেন। নবী (ﷺ) তাকে বলেন, হায়যের রক্তের পরিচিতি এই যে, তা কাল রং-এর হবে। যখন এই ধরনের রক্ত প্রবাহিত হবে তখন নামায ত্যাগ করবে এবং যখন অন্যরূপ রং দেখবে তখন উযু করে (গোসলান্তে) নামায আদায় করবে। শোবা (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাকে প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করতে হবে।

১১৮. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের উযু নষ্টের পর উযু করা সম্পর্কে।

باب مَنْ لَمْ يَذْكُرِ الْوُضُوءَ إِلاَّ عِنْدَ الْحَدَثِ

৩০৫

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَنْتَظِرَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩০৫. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব ..... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা বিনতেে জাহশ (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত হওয়ায় নবী (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন তাঁর হায়যের জন্য নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা হতে বিরত থাকেন। অতঃপর ঐ সময় অতিবাহিত হলে গোসল করে নিয়মিত নামায আদায় করতে থাকবে। একবার উযু করে এক ওয়াক্ত নামায আদায়ের পর যদি রক্ত প্রবাহিত হতে দেখা যায়- তবে পরের ওয়াক্তের নামায আদায়ের পূর্বে পুনরায় উযু করবে।

৩০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ رَبِيعَةَ، أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى عَلَى الْمُسْتَحَاضَةِ وُضُوءًا عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ إِلاَّ أَنْ يُصِيبَهَا حَدَثٌ غَيْرُ الدَّمِ فَتَوَضَّأُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا قَوْلُ مَالِكٍ يَعْنِي ابْنَ أَنَسٍ .

বর্ণনাকারী: লাইছ ইবনে সা'দ (রহঃ)

৩০৬. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ..... লাইছ (রাহঃ) রবীআর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলাদের প্রত্যেক নামাযের পূর্বে উযু করার প্রয়োজন নাই। তবে রক্ত প্রবাহিত হওয়া ব্যতিরেকে যে সমস্ত কারণে উযু নষ্ট হয়- এরূপ কিছু হলে পুনরায় উযু করতে হবে।

১১৯. রক্তস্রাব হতে পবিত্রতার পর মহিলাদের হলুদ ও মেটে রং এর রক্ত দেখা।

باب فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ

৩০৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أُمِّ الْهُذَيْلِ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، وَكَانَتْ، بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كُنَّا لاَ نَعُدُّ الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩০৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... উম্মুল হুযায়েল (রাযিঃ) উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট বাইআত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, রক্তস্রাব হতে পবিত্রতা অর্জনের পর আমরা হলুদ ও মেটে রং-এর স্রাব দেখলে তাকে হায়য হিসাবে গণনা করতাম না।

৩০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، بِمِثْلِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أُمُّ الْهُذَيْلِ هِيَ حَفْصَةُ بِنْتُ سِيرِينَ كَانَ ابْنُهَا اسْمُهُ هُذَيْلٌ وَاسْمُ زَوْجِهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

৩০৮. মুসাদ্দাদ ..... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১২০. ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলার সাথে সঙ্গম করা সম্পর্কে।

باب الْمُسْتَحَاضَةِ يَغْشَاهَا زَوْجُهَا

৩০৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ كَانَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ تُسْتَحَاضُ فَكَانَ زَوْجُهَا يَغْشَاهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ مُعَلَّى ثِقَةٌ . وَكَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ يَرْوِي عَنْهُ لأَنَّهُ كَانَ يَنْظُرُ فِي الرَّأْىِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

৩০৯. ইবরাহীম ইবনে খালিদ ..... আশ-শায়বানী ইকরিমা হতে বর্ণনা করেন। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) ইস্তেহাযাগ্রস্ত থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামী তাঁর সাথে সঙ্গম করতেন।

৩১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ، أَنَّهَا كَانَتْ مُسْتَحَاضَةً وَكَانَ زَوْجُهَا يُجَامِعُهَا .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩১০. আহমাদ ইবনে আবু সুরায়জ .... ইকরিমা (রাহঃ) হামনা বিনতে জাহাশ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইস্তেহাযাগ্রস্ত থাকাবস্থায় তাঁর স্বামী তাঁর সাথে সঙ্গম করতেন।

১২১. নিফাসের সময় সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي وَقْتِ النُّفَسَاءِ

৩১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، أَخْبَرَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عَنْ مُسَّةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَتِ النُّفَسَاءُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقْعُدُ بَعْدَ نِفَاسِهَا أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَكُنَّا نَطْلِي عَلَى وُجُوهِنَا الْوَرْسَ يَعْنِي مِنَ الْكَلَفِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩১১. আহমাদ ইবনে ইউনুস ..... মুসসাহ্ (রাহঃ) উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময় নিফাসগ্রস্ত হওয়ার (অর্থাৎ সন্তান ভুমিষ্টের) পর মহিলারা চল্লিশ দিন রাত অপেক্ষা করতেন।* রাবী বলেন, আমরা আমাদের চেহারার কাল দাগ উঠাবার জন্য এক ধরনের ‘ওয়ারস’ নামীয় সুগন্ধ ঘাস ব্যবহার করতাম।

*সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর মহিলাদের জন্য নিফাসের অবস্থা হতে পবিত্রতা অর্জনের সর্বোচ্চ সময়সীমা হল চল্লিশ দিন। নিফাসের সর্বনিম্ন কোন সময়সীমা নির্ধারিত নাই। কাজেই চল্লিশ দিনের পূর্বে যাদের পবিত্রতা অর্জিত হবে, তাদের গোসলান্তে নিয়মিতভাবে নামায আদায় করতে হবে এবং স্বামী-স্ত্রী সুলভ ব্যবহারও করতে পারবে। - (অনুবাদক)
৩১২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، - يَعْنِي حِبِّي - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي الأَزْدِيَّةُ، - يَعْنِي مُسَّةَ - قَالَتْ حَجَجْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدُبٍ يَأْمُرُ النِّسَاءَ يَقْضِينَ صَلاَةَ الْمَحِيضِ . فَقَالَتْ لاَ يَقْضِينَ كَانَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقْعُدُ فِي النِّفَاسِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً لاَ يَأْمُرُهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَضَاءِ صَلاَةِ النِّفَاسِ . قَالَ مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ حَاتِمٍ وَاسْمُهَا مُسَّةُ تُكْنَى أُمَّ بُسَّةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَثِيرُ بْنُ زِيَادٍ كُنْيَتُهُ أَبُو سَهْلٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩১২. হাসান ইবনে ইয়াহয়া ...... কাছীর ইবনে যিয়াদ মুসসাহ্ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একদা হজ্জব্রত পালন করবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হই এবং তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে উম্মুল মুমেনীন! সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) মহিলাদেরকে হায়যকালীন সময়ের কাযা নামায আদায়ের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, উক্ত নামায কাযা করার প্রয়োজন নাই। কেননা নবী (ﷺ)-এর বিবিগণের কেউ সন্তান ভুমিষ্টের পর নিফাসকালীন সময়ের চল্লিশ দিন নামায আদায় করা হতে বিরত থাকতেন এবং নবী (ﷺ) তাদেরকে এ সময়ের কাযা নামায আদায় করার নির্দেশ দিতেন না।

১২২. হায়যের রক্ত ধৌত করা সম্পর্কে।

باب الاِغْتِسَالِ مِنَ الْحَيْضِ

৩১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ، عَنْ أُمَيَّةَ بِنْتِ أَبِي الصَّلْتِ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْ بَنِي غِفَارٍ قَدْ سَمَّاهَا لِي قَالَتْ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَقِيبَةِ رَحْلِهِ - قَالَتْ - فَوَاللَّهِ لَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصُّبْحِ فَأَنَاخَ وَنَزَلْتُ عَنْ حَقِيبَةِ رَحْلِهِ فَإِذَا بِهَا دَمٌ مِنِّي فَكَانَتْ أَوَّلَ حَيْضَةٍ حِضْتُهَا - قَالَتْ - فَتَقَبَّضْتُ إِلَى النَّاقَةِ وَاسْتَحْيَيْتُ فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بِي وَرَأَى الدَّمَ قَالَ " مَا لَكِ لَعَلَّكِ نُفِسْتِ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَأَصْلِحِي مِنْ نَفْسِكِ ثُمَّ خُذِي إِنَاءً مِنْ مَاءٍ فَاطْرَحِي فِيهِ مِلْحًا ثُمَّ اغْسِلِي مَا أَصَابَ الْحَقِيبَةَ مِنَ الدَّمِ ثُمَّ عُودِي لِمَرْكَبِكِ " . قَالَتْ فَلَمَّا فَتَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ رَضَخَ لَنَا مِنَ الْفَىْءِ - قَالَتْ - وَكَانَتْ لاَ تَطَّهَّرُ مِنْ حَيْضَةٍ إِلاَّ جَعَلَتْ فِي طَهُورِهَا مِلْحًا وَأَوْصَتْ بِهِ أَنْ يُجْعَلَ فِي غُسْلِهَا حِينَ مَاتَتْ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩১৩. মুহাম্মাদ ইবনে আমর .... উমাইয়্যা বিনতে আবুস সালত (রাহঃ) থেকে গিফার গোত্রের লায়লা নামীয় এক মহিলার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সফরের সময় আমাকে তাঁর উটের পিছনের দিকে বসান। রাবী বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সারা রাত সফরের পর সাবাহ নামক স্থানে তাঁর উট বিশ্রামের জন্য বসান এবং এ সময় আমি আসন হতে অবতরণ করি এবং আসনের উপর আমার রক্ত দেখি এটাই আমার জীবনের সর্বপ্রথম হায়য।

রাবী বলেন, তখন আমি লজ্জিত অবস্থায় উটের আড়ালে গিয়ে অবস্থান করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে লজ্জিত অবস্থায় এবং উটের পিঠের আসনে রক্ত দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে? সম্ভবতঃ তোমার হায়য হয়েছে। আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি আমাকে বলেন, তোমার লজ্জাস্থানে শক্তভাবে কাপড় বাঁধ এবং এক বদনা পানিতে কিছু পরিমাণ লবণ মিশ্রিত করে উটের পিঠের রক্ত-রঞ্জিত আসনটি ধুয়ে ফেল। অতঃপর তোমার আসনে সমাসীন হও।

রাবী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খয়বর জয় করেন, তখন তিনি আমাদেরকে গণিমতের মালের কিছু অংশ দেন। রাবী (উমাইয়্যা) বলেন, উক্ত গিফার বংশীয় মহিলাটি যখনই হায়যের রক্ত পরিষ্কার করতেন তখনই সেই পানির সঙ্গে লবণ মিশ্রিত করতেন এবং তিনি তার মুত্যূকালে অন্যদেরকেও হায়যের রক্ত পরিষ্কার করার সময় পানির সাথে লবন মিশ্রিত করে ব্যবহারের উপদেশ দিয়ে যান।
৩১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَتْ أَسْمَاءُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَغْتَسِلُ إِحْدَانَا إِذَا طَهُرَتْ مِنَ الْمَحِيضِ قَالَ " تَأْخُذُ سِدْرَهَا وَمَاءَهَا فَتَوَضَّأُ ثُمَّ تَغْسِلُ رَأْسَهَا وَتَدْلُكُهُ حَتَّى يَبْلُغَ الْمَاءُ أُصُولَ شَعْرِهَا ثُمَّ تُفِيضُ عَلَى جَسَدِهَا ثُمَّ تَأْخُذُ فِرْصَتَهَا فَتَطَّهَّرُ بِهَا " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَتَطَهَّرُ بِهَا قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَرَفْتُ الَّذِي يَكْنِي عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهَا تَتَّبِعِينَ بِهَا آثَارَ الدَّمِ .

বর্ণনাকারী: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

৩১৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... সাফিয়্যা বিনতে শায়বা থেকে আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কেউ হায়য থেকে পবিত্র হতে চাইলে তা কিরূপে হবে? তিনি বলেন, পানির সাথে কুলপাতা মিশ্রিত করে প্রথমে উযু করবে। অতঃপর মাথায় পানি দিয়ে তা এমনভাবে ঘর্ষণ করবে যেন পানি প্রতিটি চুলের গোড়ায় গিয়ে পৌছায়। অতঃপর সমস্ত অঙ্গে পানি দিবে। অতঃপর তুমি তোমার (রক্ত মিশ্রিত) কাপড়ের টুকরাটি পরিস্কার করবে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তা কিভাবে পরিস্কার করব? আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উদ্দেশ্য বুঝেছি। তখন (আয়িশা) তাঁকে (আসমা-কে) বলেন, লজ্জাস্থানের যে জায়গায় রক্ত লাগবে, তা ধৌত করে পরিস্কার করবে।

৩১৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا ذَكَرَتْ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فَأَثْنَتْ عَلَيْهِنَّ وَقَالَتْ لَهُنَّ مَعْرُوفًا وَقَالَتْ دَخَلَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " فِرْصَةً مُمَسَّكَةً " . قَالَ مُسَدَّدٌ كَانَ أَبُو عَوَانَةَ يَقُولُ فِرْصَةً وَكَانَ أَبُو الأَحْوَصِ يَقُولُ قَرْصَةً .

বর্ণনাকারী: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

৩১৫. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ ..... সাফিয়্যা বিনতে শায়বা আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি আনসার মহিলাদের প্রশংসা করে বলেন যে, তারা-দ্বীনের ব্যাপারে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করেন না। তাদের মধ্যেকার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)েব খিদমতে আগমন করেন। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণনা করেন।

তবে এই হাদীসের মধ্যে فِرْصَةً শব্দের স্থলে مُمَسَّكَةً (সুগন্ধ যুক্ত নেকড়া বা রুমাল) ব্যবহৃত হয়েছে। রাবী মুসাদ্দাদ বলেন, আবু আওয়ানা فِرْصَةً এবং আবুল আহ্ওয়াস قَرْصَةً শব্দের উল্লেখ করেছেন। শব্দদ্বয়ের অর্থ পূর্বোক্ত শব্দের অনুরূপ।
৩১৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، - يَعْنِي ابْنَ مُهَاجِرٍ - عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَسْمَاءَ، سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " فِرْصَةً مُمَسَّكَةً " . قَالَتْ كَيْفَ أَتَطَهَّرُ بِهَا قَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ تَطَهَّرِي بِهَا وَاسْتَتِرِي بِثَوْبٍ " . وَزَادَ وَسَأَلَتْهُ عَنِ الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ فَقَالَ " تَأْخُذِينَ مَاءَكِ فَتَطَهَّرِينَ أَحْسَنَ الطُّهُورِ وَأَبْلَغَهُ ثُمَّ تَصُبِّينَ عَلَى رَأْسِكِ الْمَاءَ ثُمَّ تَدْلُكِينَهُ حَتَّى يَبْلُغَ شُئُونَ رَأْسِكِ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَيْكِ الْمَاءَ " . قَالَ وَقَالَتْ عَائِشَةُ نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءُ الأَنْصَارِ لَمْ يَكُنْ يَمْنَعُهُنَّ الْحَيَاءُ أَنْ يَسْأَلْنَ عَنِ الدِّينِ وَيَتَفَقَّهْنَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

৩১৬. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয ..... সাফিয়্যা বিনতেে শায়বা আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আসমা (রাযিঃ) নবী (ﷺ)কে অনুরূপ আর্থবোধক শব্দ দ্বারা জিজ্ঞাসা করেন। রাবী এই হাদীসের মধ্যে فِرْصَةً مُمَسَّكَةً (সুগন্ধ যুক্ত নেকড়া বা রুমাল) উল্লেখ করেছেন। অতঃপর আসমা (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেন, তা দিয়ে আমি কিরূপে পবিত্রতা অর্জন করব? নবী (ﷺ) বলেন, সুবহানাল্লাহ্! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এরূপ বলে তিনি লজ্জায় একটি কাপড় দ্বারা নিজেকে আড়াল করে নেন।

রাবী শোবা (রাহঃ) আরো উল্লেখ করেছেন যে, আসমা তখন নবী (ﷺ)-কে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তুমি পানি নিয়ে লজ্জাস্থানসহ শরীরের অনান্য অংশে ভালভাবে পরিষ্কার করে ধৌত করবে। অতঃপর মাথায় পানি ঢেলে তা এরূপভাবে ঘর্ষণ করবে যেন প্রতিটি চুলের গোড়ায় পানি পৌছে। অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালবে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আনসার মহিলারাই উত্তম। কেননা তারা শরীআতের হুকুম আহকাম বুঝতে এবং দ্বীনের কথা জিজ্ঞাসা করতে আদৌ লজ্জাবোধ করেন না।

১২৩. তায়াম্মুম সম্পর্কে।

باب التَّيَمُّمِ

৩১৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ وَأُنَاسًا مَعَهُ فِي طَلَبِ قِلاَدَةٍ أَضَلَّتْهَا عَائِشَةُ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّوْا بِغَيْرِ وُضُوءٍ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَأُنْزِلَتْ آيَةُ التَّيَمُّمِ زَادَ ابْنُ نُفَيْلٍ فَقَالَ لَهَا أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ يَرْحَمُكِ اللَّهُ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ تَكْرَهِينَهُ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ وَلَكِ فِيهِ فَرَجًا .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৩১৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ .... হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উসায়েদ ইবনে হুদায়েরের সাথে আরো কয়েকজনকে আয়িশা (রাযিঃ) এর হারানো হার অনুসন্ধানের জন্য পাঠান। এমন সময় নামাযের ওয়াক্ত হওয়ায় তারা বিনা উযুতে নামায আদায় করেন। অতঃপর তারা নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে এ বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয়। এ সময় উসায়েদ (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন, তার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্ তাআলা আপনার এবং গোটা মুসলিম মিল্লাতের জন্য পথ সুপ্রশস্ত করে দিয়েছেন।

৩১৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، حَدَّثَهُ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّهُمْ تَمَسَّحُوا وَهُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّعِيدِ لِصَلاَةِ الْفَجْرِ فَضَرَبُوا بِأَكُفِّهِمُ الصَّعِيدَ ثُمَّ مَسَحُوا وُجُوهَهُمْ مَسْحَةً وَاحِدَةً ثُمَّ عَادُوا فَضَرَبُوا بِأَكُفِّهِمُ الصَّعِيدَ مَرَّةً أُخْرَى فَمَسَحُوا بِأَيْدِيهِمْ كُلِّهَا إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ مِنْ بُطُونِ أَيْدِيهِمْ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৩১৮. আহমাদ ইবনে সালেহ্ ..... উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে আম্মার (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা তারা ফজরের নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করেন এবং এ সময় তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। প্রথমে তারা তাদের দুই হাতের তালু পাক মাটির উপর মেরে মুখমণ্ডল একবার মাসাহ্ করেন। অতঃপর পুনরায় দুই হাত মাটির উপর মেরে তাদের উভয় হাতের বগল পর্যন্ত মাসাহ্ করেন।
৩১৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ قَامَ الْمُسْلِمُونَ فَضَرَبُوا بِأَكُفِّهِمُ التُّرَابَ وَلَمْ يَقْبِضُوا مِنَ التُّرَابِ شَيْئًا فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرِ الْمَنَاكِبَ وَالآبَاطَ . قَالَ ابْنُ اللَّيْثِ إِلَى مَا فَوْقَ الْمِرْفَقَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৩১৯. সুলাইমান ইবনে দাউদ এবং আব্দুল মালিক ইবনে ওয়াহাব থেকে ইবনে ওয়াহব এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তিনি (আম্মার) বলেন, একদা মুসলমানগণ তায়াম্মুমের উদ্দেশ্যে তাদের হাত মাটির উপর মারেন, তাঁরা মাটি আকড়ে ধরেন নাই। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং এই হাদীসে বগল পর্যন্ত হাত মাসাহ্ করা সম্পর্কে উল্লেখ নাই। ইবনুল লায়ছ বলেন, তারা দুই হাতের কনুইয়ের উপরিভাগ পর্যন্ত মাসাহ্ করেন।

৩২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَّسَ بِأُولاَتِ الْجَيْشِ وَمَعَهُ عَائِشَةُ فَانْقَطَعَ عِقْدٌ لَهَا مِنْ جَزْعِ ظَفَارِ فَحَبَسَ النَّاسَ ابْتِغَاءُ عِقْدِهَا ذَلِكَ حَتَّى أَضَاءَ الْفَجْرُ وَلَيْسَ مَعَ النَّاسِ مَاءٌ فَتَغَيَّظَ عَلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ حَبَسْتِ النَّاسَ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم رُخْصَةَ التَّطَهُّرِ بِالصَّعِيدِ الطَّيِّبِ فَقَامَ الْمُسْلِمُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبُوا بِأَيْدِيهِمْ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ رَفَعُوا أَيْدِيَهُمْ وَلَمْ يَقْبِضُوا مِنَ التُّرَابِ شَيْئًا فَمَسَحُوا بِهَا وُجُوهَهُمْ وَأَيْدِيَهُمْ إِلَى الْمَنَاكِبِ وَمِنْ بُطُونِ أَيْدِيهِمْ إِلَى الآبَاطِ . زَادَ ابْنُ يَحْيَى فِي حَدِيثِهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي حَدِيثِهِ وَلاَ يَعْتَبِرُ بِهَذَا النَّاسُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ قَالَ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَذَكَرَ ضَرْبَتَيْنِ كَمَا ذَكَرَ يُونُسُ وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ ضَرْبَتَيْنِ وَقَالَ مَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمَّارٍ وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو أُوَيْسٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَشَكَّ فِيهِ ابْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ مَرَّةً عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَمَرَّةً قَالَ عَنْ أَبِيهِ وَمَرَّةً قَالَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ اضْطَرَبَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِيهِ وَفِي سَمَاعِهِ مِنَ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمْ فِي هَذَا الْحَدِيثِ الضَّرْبَتَيْنِ إِلاَّ مَنْ سَمَّيْتُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২০. মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বনী মুস্তালিকের অভিযান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় “উলাতে জায়েশ” (যাতে জায়েশ অথবা বায়দা) নামক স্থানে রাতের শেষ প্রহরে বিশ্রামের জন্য অবতরণ করেন এবং এই সময় আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর সাথে ছিলেন। এই স্থানে তাঁর হারটি যা ইয়ামানের তৈরী ছিল- হারানো যায়। সকলে তাঁর হারের অন্বেষণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন- এমন কি ফজরের নামাযের সময় উপনীত হয়। তাদের সাথে তখন উযু করার মত পানি ছিল না। এমতাবস্থায় আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যা আয়িশা (রাযিঃ) এর উপর রাগান্বিত হয়ে বলেন, তোমার কারণে সকলে এখানে অটকা পড়েছে, অথচ কারও সাথে উযু করার মত পানিও নাই।

এ সময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার রাসূলের উপর পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে “রোখসতের” আয়াত যা ছিল উযুর পরিবর্তে বিশেষ অবস্থায় তায়াম্মুম করার নির্দেশ নাযিল করেন। এ সময় মুসলমানরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে পবিত্র মাটির উপর হাত মেরে তা তুলে তাদের মুখমণ্ডল ও দুই হাতের বগল পর্যন্ত মাসাহ্ করেন; তবে তারা হাত দিয়ে মাটি আকড়ে ধরেননি।
৩২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا بَيْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى فَقَالَ أَبُو مُوسَى يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً أَجْنَبَ فَلَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا . أَمَا كَانَ يَتَيَمَّمُ فَقَالَ لاَ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا فَقَالَ أَبُو مُوسَى فَكَيْفَ تَصْنَعُونَ بِهَذِهِ الآيَةِ الَّتِي فِي سُورَةِ الْمَائِدَةِ ( فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ) فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ رُخِّصَ لَهُمْ فِي هَذَا لأَوْشَكُوا إِذَا بَرَدَ عَلَيْهِمُ الْمَاءُ أَنْ يَتَيَمَّمُوا بِالصَّعِيدِ . فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى وَإِنَّمَا كَرِهْتُمْ هَذَا لِهَذَا قَالَ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى أَلَمْ تَسْمَعْ قَوْلَ عَمَّارٍ لِعُمَرَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ فَأَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ فَتَمَرَّغْتُ فِي الصَّعِيدِ كَمَا تَتَمَرَّغُ الدَّابَّةُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَصْنَعَ هَكَذَا " . فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى الأَرْضِ فَنَفَضَهَا ثُمَّ ضَرَبَ بِشِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ وَبِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ عَلَى الْكَفَّيْنِ ثُمَّ مَسَحَ وَجْهَهُ . فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ أَفَلَمْ تَرَ عُمَرَ لَمْ يَقْنَعْ بِقَوْلِ عَمَّارٍ

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৩২১. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ..... আমাশ থেকে শাকীকের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) ও আবু মুসা (রাযিঃ) এর সাথে একই স্থানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, হে আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ)! যদি কোন ব্যক্তি অপবিত্র হয় (গোসল ফরয হয়) এবং একমাস পর্যন্ত পানি না পায়; তবে সে কি তায়াম্মুম করতে পারবে? তিনি বলেন, না, যদিও সে একমাস পানি না পায়। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে সূরা মায়েদার এই আয়াত “পানি দুস্প্রাপ্য হলে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে” এর অর্থ কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, জুনুব (নাপাক) ব্যক্তিকে যদি তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়া হয়, তবে তারা অত্যধিক শীতের সময় ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারের পরিবর্তে তায়াম্মুম করবে।

তখন আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ) বলেন, আপনি কি এই কারণে তা অপছন্দ করেন? উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আম্মার (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-কে যা বলেছিলেন তা কি আপনি অবগত আছেন? তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে একটি কাজে প্রেরণ করেন। সে সময় আমি অপবিত্র হই, কিন্তু পবিত্রতা অর্জনের জন্য সেখানে পানি না পাওয়ায় আমি চতুষ্পদ জন্তুর মত মাটিতে গড়াগড়ি দেই। অতঃপর আমি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে উক্ত ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করি। তিনি বলেনঃ যদি তুমি এইরূপ করতে তবে তাই যথেষ্ট হত। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত মাটিতে মেরে তা ঝেড়ে ফেলেন, অতঃপর বাম হাত দিয়ে ডান হাত এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি তার মুখমণ্ডল মাসাহ্ করেন। তখন তাকে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আপনি কি এ ব্যাপারে অবহিত নন যে উমর (রাযিঃ) আম্মার (রাযিঃ) এর এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি?
৩২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ عُمَرَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّا نَكُونُ بِالْمَكَانِ الشَّهْرَ وَالشَّهْرَيْنِ . فَقَالَ عُمَرُ أَمَّا أَنَا فَلَمْ أَكُنْ أُصَلِّي حَتَّى أَجِدَ الْمَاءَ . قَالَ فَقَالَ عَمَّارٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَذْكُرُ إِذْ كُنْتُ أَنَا وَأَنْتَ فِي الإِبِلِ فَأَصَابَتْنَا جَنَابَةٌ فَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ هَكَذَا " . وَضَرَبَ بِيَدَيْهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَهُمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى نِصْفِ الذِّرَاعِ . فَقَالَ عُمَرُ يَا عَمَّارُ اتَّقِ اللَّهَ . فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ شِئْتَ وَاللَّهِ لَمْ أَذْكُرْهُ أَبَدًا . فَقَالَ عُمَرُ كَلاَّ وَاللَّهِ لَنُوَلِّيَنَّكَ مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْتَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর ..... আব্দুল মালিক থেকে আব্দুর রহমান ইবনে আবযার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন সেখানে এক ব্যক্তি হাযির হয় এবং বলে- আমরা কোন কোন সময় এক-দুই মাস পর্যন্ত পানিবিহীন স্থানে (নাপাক অবস্থায়) অবস্থান করি (এমতাবস্থায় করণীয় কি)। উমর (রাযিঃ) বলেন, পানি না পাওয়া পর্যন্ত আমি নামায হতে বিরত থাকি। রাবী বর্ণনা করেন, তখন আম্মার (রাযিঃ) বলেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার কি ঐ ঘটনার কথা স্মরণ নাই, যখন আমি এবং আপনি উটের চারণ ভূমিতে ছিলাম, তখন আমরা উভয়েই ‘জুনুব’ (অপবিত্র) হই।

এ সময় আমি পবিত্রতা হাসিলের উদ্দেশ্যে মাটির মধ্যে গড়াগড়ি দেই। অতঃপর নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে এ সম্পর্কে তাকে অবহিত করি। তিনি বলেন, এরূপ করলেই তোমার জন্য যথেষ্ট হত এবং একথা বলে তিনি তাঁর দুই হাত মাটিতে মারেন। অতঃপর তাতে ফুঁ দিয়ে উভয় হাত মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। আম্মার (রাযিঃ) বলেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি যদি চান- তবে তা আর কোন দিন উল্লেখ করব না। উমর (রাযিঃ) বলেন, এরূপ কখনই নয়; বরং তুমি চাইলে আমি তা প্রচারের জন্য তোমাকে সুযোগ করে দেব।
৩২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنِ ابْنِ أَبْزَى، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، فِي هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ " يَا عَمَّارُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا " . ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ الأَرْضَ ثُمَّ ضَرَبَ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى ثُمَّ مَسَحَ وَجْهَهُ وَالذِّرَاعَيْنِ إِلَى نِصْفِ السَّاعِدَيْنِ وَلَمْ يَبْلُغِ الْمِرْفَقَيْنِ ضَرْبَةً وَاحِدَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى وَرَوَاهُ جَرِيرٌ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى يَعْنِي عَنْ أَبِيهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২৩. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা .... ইবনে আবযা (রাহঃ) আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) হতে এই হাদীসের মধ্যে বলেন, তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ হে আম্মার! এরূপ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি তাঁর উভয় হাত মাটিতে মারেন। অতঃপর তিনি এক হাত অন্য হাতের উপর মারেন, অতঃপর স্বীয় চেহারা মোবারক ও উভয় হাতের অর্ধেক অর্থাৎ কব্জি পর্যন্ত মাসাহ্ করেন এবং একবার মাটিতে হাত স্পর্শ করায় কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করা যায়নি।

৩২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارٍ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ " . وَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَ فِيهَا وَمَسَحَ بِهَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ شَكَّ سَلَمَةُ وَقَالَ لاَ أَدْرِي فِيهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ . يَعْنِي أَوْ إِلَى الْكَفَّيْنِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আম্মার (রাযিঃ) এর সূত্রে এই ঘটনা বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি নিজের হাত মাটিতে মারেন, অতঃপর তাতে ফুঁ দিয়ে মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসাহ্ করেন। এই বলে তিনি নিজের হাত মাটিতে মারেন, অতঃপর তাতে ফুঁ দিয়ে মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসাহ্ করেন। এই বর্ণনায় রাবী সালামা (রাহঃ) সন্দেহে পতিত হয়ে বলেন, নবী (ﷺ) উভয় হাতের কব্জি না কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করেছিলেন তা আমার স্মরণ নাই।

৩২৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي الأَعْوَرَ - حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ثُمَّ نَفَخَ فِيهَا وَمَسَحَ بِهَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ أَوْ إِلَى الذِّرَاعَيْنِ . قَالَ شُعْبَةُ كَانَ سَلَمَةُ يَقُولُ الْكَفَّيْنِ وَالْوَجْهَ وَالذِّرَاعَيْنِ فَقَالَ لَهُ مَنْصُورٌ ذَاتَ يَوْمٍ انْظُرْ مَا تَقُولُ فَإِنَّهُ لاَ يَذْكُرُ الذِّرَاعَيْنِ غَيْرُكَ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৩২৫. আলী ইবনে সাহল ..... শোবা (রাহঃ) এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি (আম্মার) বলেন, অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) তাতে তাঁর উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কনুই পর্যন্ত অথবা বাহু পর্যন্ত মাসাহ্ করেন। শোবা বলেন, সালামা বলতেন, কব্জিদ্বয়, মুখমণ্ডল ও বাহুদ্বয়ে হাত ফিরান। অতএব মনসুর তাকে একদিন বলেন, তুমি কি বলছ তা বুঝেশুনে বল। কারণ তুমি ছাড়া আর কেউ বাহুদ্বয়ের কথা উল্লেখ করেন নি।

৩২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارٍ، فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَقَالَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَضْرِبَ بِيَدَيْكَ إِلَى الأَرْضِ فَتَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَكَ وَكَفَّيْكَ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ عَمَّارًا يَخْطُبُ بِمِثْلِهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ لَمْ يَنْفُخْ . وَذَكَرَ حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ الْحَكَمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ضَرَبَ بِكَفَّيْهِ إِلَى الأَرْضِ وَنَفَخَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২৬. মুসাদ্দাদ .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আম্মার (রাযিঃ) এর সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি তোমার দুই হাত মাটিতে মারতে, অতঃপর তার সাহ্যয্যে তোমার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসাহ্ করতে। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ।

৩২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ التَّيَمُّمِ فَأَمَرَنِي ضَرْبَةً وَاحِدَةً لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট তায়াম্মুমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। তিনি আমাকে নির্দেশ দেন যে, মাটিতে একবার হাত মেরে হাত ও মুখমণ্ডল মাসাহ্ করবে।

৩২৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ سُئِلَ قَتَادَةُ عَنِ التَّيَمُّمِ، فِي السَّفَرِ فَقَالَ حَدَّثَنِي مُحَدِّثٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করতে হবে।

১২৪. মুকীম অবস্থায় তায়াম্মুম করা।

باب التَّيَمُّمِ فِي الْحَضَرِ

৩২৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَقْبَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبِي الْجُهَيْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ أَبُو الْجُهَيْمِ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ السَّلاَمَ حَتَّى أَتَى عَلَى جِدَارٍ فَمَسَحَ بِوَجْهِهِ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ .

বর্ণনাকারী: আবু জুহাইম (রাঃ)

৩২৯. আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ..... আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয (রাহঃ) উমায়েরকে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি এবং মায়মুনা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াসারসহ আলী ইবনুল জুহায়েম-এর বাড়িতে যাই। তখন আবু জুহায়েম (রাযিঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা অবস্থিত জামাল নামীয় কূপের দিক হতে আগমন করেন। তখন তাঁর সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাত হওয়ায় সে তাকে সালাম দেয়। নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব না দিয়ে একটি দেওয়ালের নিকট যান এবং স্বীয় হস্তদ্বয় ও মুখমণ্ডল মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তির সালামের জবাব দেন। (অর্থাৎ অপবিত্রাবস্থায় সালামের জবাব দান হতে বিরত রয়েছেন এবং তায়াম্মুমের পর পবিত্র হয়ে সালামের জবাব দিয়েছেন)।

৩৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَوْصِلِيُّ أَبُو عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي حَاجَةٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَضَى ابْنُ عُمَرَ حَاجَتَهُ فَكَانَ مِنْ حَدِيثِهِ يَوْمَئِذٍ أَنْ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سِكَّةٍ مِنَ السِّكَكِ وَقَدْ خَرَجَ مِنْ غَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا كَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَتَوَارَى فِي السِّكَّةِ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ عَلَى الْحَائِطِ وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ثُمَّ ضَرَبَ ضَرْبَةً أُخْرَى فَمَسَحَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَى الرَّجُلِ السَّلاَمَ وَقَالَ " إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ السَّلاَمَ إِلاَّ أَنِّي لَمْ أَكُنْ عَلَى طُهْرٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ حَدِيثًا مُنْكَرًا فِي التَّيَمُّمِ . قَالَ ابْنُ دَاسَةَ قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يُتَابَعْ مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ عَلَى ضَرْبَتَيْنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَوْهُ فِعْلَ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৩৩০. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম .... মুহাম্মাদ ইবনে ছাবেত থেকে নাফে-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে বিশেষ কোন প্রয়োজনে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট যাই। অতঃপর তিনি (ইবনে উমর) তার কাজ সম্পন্ন করে প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন ইবনে উমর (রাযিঃ) যা বর্ণনা করেন তা নিম্নরূপঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পাশ দিয়ে মদীনার কোন এক রাস্তায় যাচ্ছিলেন তখন তিনি পেশাব অথবা পায়খানা সেরে বের হয়েছিলেন। ঐ ব্যক্তি তাঁকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দেননি। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যখন রাস্তার অন্তরালে চলে যায়, তখন তিনি তাঁর দুই হাত দেওয়ালের উপর মেরে তার সাহায্যে নিজের চেহারা মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার দেওয়ালে হাত মেরে তাঁর দুই হাত মাসাহ্ করেন। অতঃপর তিনি লোকটির সালামের জবাব দেন এবং বলেনঃ আমি অপবিত্র থাকার কারণে তোমার সালামের জবাব দেই নাই।
৩৩১

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى الْبُرُلُّسِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، أَنَّ نَافِعًا، حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْغَائِطِ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ عِنْدَ بِئْرِ جَمَلٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْحَائِطِ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الْحَائِطِ ثُمَّ مَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الرَّجُلِ السَّلاَمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩১. জাফর ইবনে মুসাফির .... নাফে (রাহঃ) থেকে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পায়খানা হতে বের হওয়ার পর জামাল কূপের, নিকট এক ব্যক্তি সাক্ষাত হয় সে তাকে সালাম করলে তিনি সালামের জবাব দেননি। অতঃপর তিনি একটি প্রাচীরের নিকট গিয়ে তার উপর হাত রাখেন এবং স্বীয় মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ্ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির সালামের জবাব দেন।

১২৫. নাপাকী অবস্থায় তায়াম্মুম সম্পর্কে।

باب الْجُنُبِ يَتَيَمَّمُ

৩৩২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيَّ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ اجْتَمَعَتْ غُنَيْمَةٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ ابْدُ فِيهَا " . فَبَدَوْتُ إِلَى الرَّبَذَةِ فَكَانَتْ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ فَأَمْكُثُ الْخَمْسَ وَالسِّتَّ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَبُو ذَرٍّ " . فَسَكَتُّ فَقَالَ " ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ أَبَا ذَرٍّ لأُمِّكَ الْوَيْلُ " . فَدَعَا لِي بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ فَجَاءَتْ بِعُسٍّ فِيهِ مَاءٌ فَسَتَرَتْنِي بِثَوْبٍ وَاسْتَتَرْتُ بِالرَّاحِلَةِ وَاغْتَسَلْتُ فَكَأَنِّي أَلْقَيْتُ عَنِّي جَبَلاً فَقَالَ " الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ وَلَوْ إِلَى عَشْرِ سِنِينَ فَإِذَا وَجَدْتَ الْمَاءَ فَأَمِسَّهُ جِلْدَكَ فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ " . وَقَالَ مُسَدَّدٌ غُنَيْمَةٌ مِنَ الصَّدَقَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ عَمْرٍو أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩৩২. আমর ইবনে আওন ..... আমর ইবনে বুজদান থেকে আবু যর (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট গনিমতের মাল (বকরীর পাল) জমায়েত হয়। তিনি বলেন, হে আবু যর! তুমি এগুলো মাঠে নিয়ে যাও। তখন আমি সেগুলিকে রাবাযা নামক স্থানে নিয়ে যাই। সেখানে আমি অপবিত্র হয়ে পড়ি। এমতাবস্থায় সেখানে আমি ৫/৬ দিন (গোসল ব্যতীত) অবস্থান করি। অতঃপর আমি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে প্রত্যাবর্তন করি। তখন তিনি আমাকে বলেনঃ হে আবু যর! এ সময় আমি (লজ্জায়) নিশ্চুপ থাকি। তিনি পুনরায় বলেনঃ তোমার মাতা তোমার জন্য ক্রন্দন করুক এবং তোমার মাতার জন্য আফসোস।

তিনি সাওদা নাম্নী দাসীকে ডেকে পানি আনার নির্দেশ দেন। সে পানি ভর্তি একটি বড় পাত্র আমার সম্মুখে হাযির করে এবং সে একটি কাপড়ের পর্দার দ্বারা একদিকে আমাকে আঁড়াল করে এবং অপর দিকে আমি উটের পিঠের আসন রেখে পর্দা করি। অতঃপর আমি গোসল করি। এ সময় আমার মনে হয় যেন আমার কাঁধ হতে একটি পর্বত পরিমাণ বোঝা অপসারণ করলাম। নবী (ﷺ) বলেনঃ পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য (পানির দুস্প্রাপ্যতার সময়) পানির সমতুল্য (পবিত্রতা অর্জনের জন্যে)। যদি দশ বৎসরকালও পানি দুস্প্রাপ্য হয় তবে এ সময় পবিত্রতা অর্জনে পাক মাটিই যথেষ্ট। অতঃপর যখন পানি পাবে, তখন গোসল করবে। কেননা এটাই উত্তম ব্যবস্থা।
৩৩৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي عَامِرٍ قَالَ دَخَلْتُ فِي الإِسْلاَمِ فَأَهَمَّنِي دِينِي فَأَتَيْتُ أَبَا ذَرٍّ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ إِنِّي اجْتَوَيْتُ الْمَدِينَةَ فَأَمَرَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَوْدٍ وَبِغَنَمٍ فَقَالَ لِي " اشْرَبْ مِنْ أَلْبَانِهَا " . قَالَ حَمَّادٌ وَأَشُكُّ فِي " أَبْوَالِهَا " . هَذَا قَوْلُ حَمَّادٍ . فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ فَكُنْتُ أَعْزُبُ عَنِ الْمَاءِ وَمَعِي أَهْلِي فَتُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ فَأُصَلِّي بِغَيْرِ طُهُورٍ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنِصْفِ النَّهَارِ وَهُوَ فِي رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَهُوَ فِي ظِلِّ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " أَبُو ذَرٍّ " . فَقُلْتُ نَعَمْ هَلَكْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " وَمَا أَهْلَكَكَ " . قُلْتُ إِنِّي كُنْتُ أَعْزُبُ عَنِ الْمَاءِ وَمَعِي أَهْلِي فَتُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ فَأُصَلِّي بِغَيْرِ طُهُورٍ فَأَمَرَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَاءٍ فَجَاءَتْ بِهِ جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ بِعُسٍّ يَتَخَضْخَضُ مَا هُوَ بِمَلآنَ فَتَسَتَّرْتُ إِلَى بَعِيرِي فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ طَهُورٌ وَإِنْ لَمْ تَجِدِ الْمَاءَ إِلَى عَشْرِ سِنِينَ فَإِذَا وَجَدْتَ الْمَاءَ فَأَمِسَّهُ جِلْدَكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ لَمْ يَذْكُرْ " أَبْوَالَهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لَيْسَ بِصَحِيحٍ وَلَيْسَ فِي أَبْوَالِهَا إِلاَّ حَدِيثُ أَنَسٍ تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ الْبَصْرَةِ .

বর্ণনাকারী: আবু কিলাবা (রহঃ)

৩৩৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু কিলাবা থেকে বর্ণিত। আমরের এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুল করার পর তা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। আমি আবু যর (রাযিঃ) এর নিকট যাই। তিনি বলেন, মদীনায় যাওয়ার পর আমি সেখানে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে উট ও বকরীর পাল চরানোর নির্দেশ দেন এবং বলেন, তুমি এর দুধ পান করবে। পেশাব পানের ব্যাপারে নবী (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা তা জানা নাই। আবু যর (রাযিঃ) বলেন, আমি পানি থেকে অনেক দুরে অবস্থান করতাম এবং এ সময় আমার স্ত্রীও আমার সাথে ছিল। এমতাবস্থায় আমি অপবিত্র হই এবং পবিত্রতা অর্জন করা ছাড়াই নামায আদায় করি।

অতঃপর আমি দুপুরের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হই, যখন তিনি একদল সাহাবীর সাথে মসজিদের পাশে আলাপে রত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আবু যর! আমি বলি- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি হাযির এবং আমি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছি। নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে? আমি বলি, আমি পানি হতে অনেক দূরে ছিলাম এবং আমার স্ত্রীও আমার সাথে ছিল। এমতাবস্থায় আমি অপবিত্র হই এবং পবিত্রতা অর্জন ব্যতিরেকেই নামায আদায় করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার জন্য পানি আনার নির্দেশ দেন। সাওদা নাম্নী দাসী আমার জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র আনে।

আমি উটকে আঁড়াল করে গোসল করি। অতঃপর তার নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আবু যর! নিশ্চয়ই পাক মাটি পবিত্রতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট, যদি তুমি দশ বৎসর পর্যন্তও পানি না পাও। অতঃপর যখন তুমি পানি পাবে তখন তোমার শরীর পরিষ্কার করবে।

১২৬. নাপাক অবস্থায় ঠাণ্ডার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করা।

باب إِذَا خَافَ الْجُنُبُ الْبَرْدَ أَيَتَيَمَّمُ

৩৩৪

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ احْتَلَمْتُ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلاَسِلِ فَأَشْفَقْتُ إِنِ اغْتَسَلْتُ أَنْ أَهْلِكَ فَتَيَمَّمْتُ ثُمَّ صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِي الصُّبْحَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا عَمْرُو صَلَّيْتَ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ " . فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي مَنَعَنِي مِنَ الاِغْتِسَالِ وَقُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ اللَّهَ يَقُولُ ( وَلاَ تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ) فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرٍ مِصْرِيٌّ مَوْلَى خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ وَلَيْسَ هُوَ ابْنَ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৩৩৪. ইবনুল মুছান্না ..... আব্দুর রহমান ইবনেজ-জুবায়ের থেকে আমর ইবনুল আস্ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাতু সানাসিলের যুদ্ধের সময় একদা শীতের রাতে আমার সপ্নদোষ হয়। আমার আশঙ্কা হল যে, যদি এই সময় আমি গোসল করি তবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমি তায়াম্মুম করে আমার সাথীদের সাথে ফজরের নামায আদায় করি। প্রত্যাবর্তনের পর আমার সঙ্গী সাথীরা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে অবহিত করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আমর! তুমি নাপাক অবস্থায় তোমার সথীদের সঙ্গে নামায আদায় করলে? আমি তাকে আমার গোসল, করার অক্ষমতার কথা জ্ঞাপন করলাম এবং আরো বললাম, আমি আল্লাহ্ তাআলাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা নিজেদের হত্যা কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। (সূরা নিসাঃ ২৯)। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিছু না বলে মুচকি হাসি দেন।

৩৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، وَعَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، كَانَ عَلَى سَرِيَّةٍ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوَهُ . قَالَ فَغَسَلَ مَغَابِنَهُ وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ صَلَّى بِهِمْ فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرِ التَّيَمُّمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَتْ هَذِهِ الْقِصَّةُ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ قَالَ فِيهِ فَتَيَمَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৩৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা .... আব্দুর রহমান ইবনে জুবায়ের থেকে আবু কায়েসের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) কোন এক যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি (ইবনে লাহীআ) উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) স্বপ্নদোষ হওয়ার পর প্রথমতঃ তাঁর রানের দুই পার্শ্ব ধুয়ে ফেলেন। অতঃপর তিনি নামাযের জন্য উযু করে নামায আদায় করেন। বর্ণনায় এইরূপ উক্ত আছে এবং এখানে তায়াম্মুমের কথা উল্লেখ নাই।

১২৭. বসন্তের রোগী (বা আহত ব্যক্তি) তায়াম্মুম করতে পারে।

باب فِي الْمَجْرُوحِ يَتَيَمَّمُ

৩৩৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ خُرَيْقٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجْنَا فِي سَفَرٍ فَأَصَابَ رَجُلاً مِنَّا حَجَرٌ فَشَجَّهُ فِي رَأْسِهِ ثُمَّ احْتَلَمَ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ فَقَالَ هَلْ تَجِدُونَ لِي رُخْصَةً فِي التَّيَمُّمِ فَقَالُوا مَا نَجِدُ لَكَ رُخْصَةً وَأَنْتَ تَقْدِرُ عَلَى الْمَاءِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُخْبِرَ بِذَلِكَ فَقَالَ " قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ أَلاَّ سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِيِّ السُّؤَالُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَتَيَمَّمَ وَيَعْصِرَ " . أَوْ " يَعْصِبَ " . شَكَّ مُوسَى " عَلَى جُرْحِهِ خِرْقَةً ثُمَّ يَمْسَحَ عَلَيْهَا وَيَغْسِلَ سَائِرَ جَسَدِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৬. মুসা ইবনে আব্দুর রহমান ...... আতা (রাহঃ) থেকে জাবের (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে যাওয়ার সময় আমাদের এক ব্যক্তির মাথা প্রস্তরাঘাতে জখম হয় এ অবস্থায় তার স্বপ্নদোষ হয় সে তার সাথীদের জিজ্ঞাসা করে, এ অবস্থায় আমি কি তায়াম্মুম করতে পারি? তারা বলেন, যেহেতু তুমি পানি ব্যবহারে সক্ষম তাই তোমাকে তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়া যায় না। অতঃপর সে ব্যক্তি গোসল করার ফলে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই সফর হতে প্রত্যাবর্তনের পর নবী (ﷺ)কে এই সংবাদ দেয়া হলে তিনি বলেনঃ তার সাথীরা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধবংস করুন (তিনি রাগান্বিতভাবে এরূপ উক্তি করেন)। যখন তারা অবগত ছিল না- তখন জিজ্ঞাসা করল না কেন? কেননা অজ্ঞতার ঔষধ হল জিজ্ঞাসা করা। সে ব্যক্তি তায়াম্মুম করলেই যথেষ্ট হত। তার আহত স্থানে ব্যান্ডেজ করে তার উপর মাসাহ্ করলেই চলত এবং শরীরের অন্যান্য স্থান ধুয়ে ফেললেই হত।

৩৩৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنِي الأَوْزَاعِيُّ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ أَصَابَ رَجُلاً جُرْحٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ احْتَلَمَ فَأُمِرَ بِالاِغْتِسَالِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ فَبَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ أَلَمْ يَكُنْ شِفَاءُ الْعِيِّ السُّؤَالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৩৭. নসর ইবনে আসিম ..... আতা (রাহঃ) থেকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময় এক ব্যক্তি আহত হয়। অতঃপর তাঁর স্বপ্নদোষ হলে তাকে গোসল করতে বলা হয়। ফলে সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই খবর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ তারা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ্ তাদের ধ্বংস করুন। অজ্ঞতার প্রতিষেধক জিজ্ঞাসা করা নয় কি?

১২৮. তায়াম্মুম করে নামায আদায়ের পর ওয়াক্ত থাকতেই পানি পাওয়া গেলে।

باب فِي الْمُتَيَمِّمِ يَجِدُ الْمَاءَ بَعْدَ مَا يُصَلِّي فِي الْوَقْتِ

৩৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَجُلاَنِ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلاَةَ وَالْوُضُوءَ وَلَمْ يُعِدِ الآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ " أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلاَتُكَ " . وَقَالَ لِلَّذِي تَوَضَّأَ وَأَعَادَ " لَكَ الأَجْرُ مَرَّتَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُ ابْنِ نَافِعٍ يَرْوِيهِ عَنِ اللَّيْثِ عَنْ عَمِيرَةَ بْنِ أَبِي نَاجِيَةَ عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَذِكْرُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لَيْسَ بِمَحْفُوظٍ وَهُوَ مُرْسَلٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ..... আতা (রাহঃ) থেকে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দুই ব্যক্তি সফরে বের হয় পথিমধ্যে নামাযের সময় উপনীত হওয়ায় তারা পানি না পাওয়ায় তায়াম্মুম করে নামায আদায় করে। অতঃপর উক্ত নামাযের সময়ের মধ্যে পানি প্রাপ্ত হওয়ায় তাদের একজন উযু করে পুনরায় নামায আদায় করল এবং অপর ব্যক্তি নামায আদায় করা হতে বিরত থাকে। অতঃপর উভয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি নামায পুনরায় আদায় করেনি সে সুন্নত মোতাবেক কাজ করেছে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট আর যে ব্যক্তি উযু করে পুনরায় নামায আদায় করেছে তার সম্পর্কে বলেনঃ তুমি দ্বিগুণ সাওয়াবের অধিকারী হয়েছ।

৩৩৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩৩৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাছ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে দুইজন সফরে যান। অতঃপর হাদীসে বাকী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

১২৯. জুমআর দিনের গোসল সম্পর্কে।

باب فِي الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

৩৪০

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بَيْنَا هُوَ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَقَالَ عُمَرُ أَتَحْتَبِسُونَ عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ الرَّجُلُ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ النِّدَاءَ فَتَوَضَّأْتُ . فَقَالَ عُمَرُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا أَوَلَمْ تَسْمَعُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০. আবু তাওবা আর-রবী ইবনে নাফে ..... আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আবু সালামাকে অবহিত করেন যে, একদিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় সেখানে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। উমর (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, জুমআর নামাযের জন্য সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ায় কিসে তোমাকে বাধা দিল? আগন্তুক (উছমান) বিনয়ের সাথে বলেন, নামাযের জন্য সঠিক সময়ে আগমনে আমাকে কিছু বাধা দেয়নি। আমি আযান শুনার পর উযু করে আসতে যতটুকু বিলম্ব হয়েছে। উমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি কি কেবল উযুই করেছ? তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুননি ‘যখন তোমাদের কেউ জুমআর নামায আদায়ের ইরাদা করবে সে যেন গোসল করে'।*

* জুমআর নামাযের পূর্বে গোসল করা সুন্নত - অনুবাদক
৩৪১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৪১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আতা (রাহঃ) থেকে আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির জন্য জুমআর দিন গোসল করা প্রয়োজন অর্থাৎ সুন্নত।

৩৪২

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، أَخْبَرَنَا الْمُفَضَّلُ، - يَعْنِي ابْنَ فَضَالَةَ - عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ رَوَاحُ الْجُمُعَةِ وَعَلَى كُلِّ مَنْ رَاحَ إِلَى الْجُمُعَةِ الْغُسْلُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا اغْتَسَلَ الرَّجُلُ بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ أَجْزَأَهُ مِنْ غُسْلِ الْجُمُعَةِ وَإِنْ أَجْنَبَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৩৪২. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ..... হাফসা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য জুমআর নামায আদায় করা একান্ত কর্তব্য এবং যে ব্যক্তি জুমআর নামাযের জন্য গমন করবে তাঁর জন্য গোসল করা প্রয়োজন।

৩৪৩

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ الْهَمْدَانِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهَذَا حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ يَزِيدُ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ فِي حَدِيثِهِمَا عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ وَمَسَّ مِنْ طِيبٍ - إِنْ كَانَ عِنْدَهُ - ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلَمْ يَتَخَطَّ أَعْنَاقَ النَّاسِ ثُمَّ صَلَّى مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ جُمُعَتِهِ الَّتِي قَبْلَهَا " . قَالَ وَيَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ " وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ " . وَيَقُولُ " إِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ أَتَمُّ وَلَمْ يَذْكُرْ حَمَّادٌ كَلاَمَ أَبِي هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৪৩. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ও মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সালামা ও আবু উমামা থেকে আবু সাঈদ (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধাণ করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে যদি তার নিকট থাকে। অতঃপর জুমআর নামাযে আসে এবং অন্য মুসল্লীদের গায়ের উপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়, নির্ধারিত নামায আদায় করে, অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর হতে নামায সমাপ্তি পর্যন্ত চুপ করে থাকে; তবে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমআর দিন হতে পরের জুমআর দিন পর্যন্ত সমস্ত সগীরা গুনাহর জন্য কাফফারা হবে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আরো অতিরিক্ত তিন দিনের সগীরা গুনাহে্র কাফফারা হবে। তিনি আরো বলেন, একটি ভাল কাজের পরিবর্তে কমপক্ষে দশগুণ সাওয়াব দান করা হবে।

৩৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلاَلٍ، وَبُكَيْرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، حَدَّثَاهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَالسِّوَاكُ وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قُدِّرَ لَهُ " . إِلاَّ أَنَّ بُكَيْرًا لَمْ يَذْكُرْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ وَقَالَ فِي الطِّيبِ " وَلَوْ مِنْ طِيبِ الْمَرْأَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা .... আব্দুর রহমান ইবনে আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির জন্য জমুআর দিন গোসল করা প্রয়োজন। তাছাড়া মিস্ওয়াক করা এবং সাধ্যানুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করাও কর্তব্য। কিন্তু রাবী বুকায়ের সনদের মধ্যে আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন নি; এবং রাবী সুগন্ধি দ্রব্য সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে ‘যদিও মহিলাদের জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধি দ্রব্য হয়’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।*

* মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরী সুগন্ধি দ্রব্য পুরুষদের জন্য ব্যবহার করা মাকরুহ। এর বৈশিষ্ট্য এই যে, তার রং উজ্জল কিন্তু সুঘ্রাণ কম। বেশী সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করে মহিলাদের বাইরে যাওয়া, অথবা অন্য পুরুষের সামনে যাওয়া মাকরুহ্। -(অনুবাদক)
৩৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْجَرْجَرَائِيُّ، حِبِّي حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي أَبُو الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنِي أَوْسُ بْنُ أَوْسٍ الثَّقَفِيُّ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

৩৪৫. মুহাম্মাদ ইবনে হাতেম .... আওস ইবনে আওস আছ-ছাকাফী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করাবে (জুমআর নামাযের পূর্বে স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্যাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম হতে বিরত থাকবে তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নত হিসাবে পরিগণিত হবে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদের নামায আদায়ের সাওয়াবের সমতুল্য হবে।

৩৪৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ غَسَلَ رَأْسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ " . ثُمَّ سَاقَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

৩৪৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আওস আছ-ছাকাফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন মাথা ধৌত করে এবং গোসল করে ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

৩৪৭

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَقِيلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمِصْرِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - قَالَ ابْنُ أَبِي عَقِيلٍ - أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمَسَّ مِنْ طِيبِ امْرَأَتِهِ - إِنْ كَانَ لَهَا - وَلَبِسَ مِنْ صَالِحِ ثِيَابِهِ ثُمَّ لَمْ يَتَخَطَّ رِقَابَ النَّاسِ وَلَمْ يَلْغُ عِنْدَ الْمَوْعِظَةِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهُمَا وَمَنْ لَغَا وَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ كَانَتْ لَهُ ظُهْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৪৭. ইবনে আবু আকীল .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করবে এবং স্ত্রীর সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করবে (যদি নিজের না থাকে), অতঃপর উত্তম রূপে বস্ত্র পরিধান করে মসজিদে এসে অন্যের ঘাড় টপকিয়ে সামনে না যাবে এবং ইমামের খুতবা পাঠের সময় নিশ্চুপ থাকবে, তার এক জুমআ হতে অন্য জুমআ পর্যন্ত সমস্ত (সগীরা) গুনাহ্ মাফ হয়ে যাবে।

অপর পক্ষে যে ব্যক্তি জুমআর নামাযের জন্য মসজিদে উপনীত হয়ে অপ্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্মে লিপ্ত হবে এবং মানুযের ঘাড় টপকে সামনে যাবে সে (জুমআর নামাযের সাওয়াব হতে বঞ্চিত হবে এবং) কেবলমাত্র যোহরের নামায আদায়ের সম-পরিমাণ সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।
৩৪৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ شَيْبَةَ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ أَرْبَعٍ مِنَ الْجَنَابَةِ وَيَوْمِ الْجُمُعَةِ وَمِنَ الْحِجَامَةِ وَمِنْ غُسْلِ الْمَيِّتِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৩৪৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনুয-যুবায়ের (রাযিঃ) থেকে আয়িশা (রাযিঃ) এর সূরে বর্ণিত। তিনি (আয়িশা) তাকে (ইবনে যুবায়ের) বলেনঃ নবী (ﷺ) চারটি কাজের জন্য গোসল করতেন- স্ত্রী সহবাসের পর, জুমআর দিন, শিংগা লাগানোর পর এবং মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়ার পর। (তা ছাড়াও তিনি ইহরাম, কাবায় প্রবেশের পূর্বে ও অন্যন্য কাজের জন্যও গোসল করতেন।)

৩৪৯

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَوْشَبٍ، قَالَ سَأَلْتُ مَكْحُولاً عَنْ هَذَا الْقَوْلِ، " غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ " . فَقَالَ غَسَّلَ رَأْسَهُ وَغَسَلَ جَسَدَهُ .

বর্ণনাকারী: মাকহুল শামী (রহঃ)

৩৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ .... আলী ইবনে হাওসাব (রাহঃ) বলেন, আমি মাকহুলকে ‘গাসসালা ও ইগতাসালা’ শব্দ দুটির অর্থ জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, গাসসালা শব্দের দ্বারা মাথা ধৌত করা এবং ইগতাসালা শব্দের দ্বারা সর্বাঙ্গ উত্তমরূপে ধৌত করা বুঝানো হয়েছে।

৩৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فِي " غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ " . قَالَ قَالَ سَعِيدٌ غَسَّلَ رَأْسَهُ وَغَسَلَ جَسَدَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫০. মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ .... আবু মুসহির-সাঈদ হতে গাসসালা ও ইগতাসালা শব্দদ্বয়ের অর্থ বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বলেন, গাসসালা শব্দের অর্থ মাথা ধৌত এবং ইগতাসালা শব্দের অর্থ সমস্ত শরীর ধৌত করা।

৩৫১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন নাপাকীর গোসলের অনুরূপ গোসল করে সর্বপ্রথমে নামাযের জন্য মসজিদে আসবে সে একটি উই সাদ্‌কা করার সমান সাওয়াব পাবে। পরে যে ব্যক্তি আসবে সে একটি গাভী সাদ্‌কা করার সমান সাওয়াব পাবে। তারপরে আগমনকারী ব্যক্তি একটি উত্তম দুম্বা-সাদ্‌কা করার সমান সাওয়াব পাবে এবং অবশেষে যে ব্যক্তি আসবে সে একটি মুরগী সাদ্‌কা করার সমান সাওয়াব পাবে। অতঃপর পঞ্চম নম্বরে আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম সাদ্‌কা করার সমান সাওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফিরিশতারা দফতর বন্ধ করে মিম্বরের নিকটবর্তী হয়ে খুতবা শুনে থাকে।

১৩০. জুমআর দিন গোসল না করা সম্পর্কে।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

৩৫২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ مُهَّانَ أَنْفُسِهِمْ فَيَرُوحُونَ إِلَى الْجُمُعَةِ بِهَيْئَتِهِمْ فَقِيلَ لَهُمْ لَوِ اغْتَسَلْتُمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫২. মুসাদ্দাদ ..... আমরা (রাহঃ) থেকে আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লেকেরা নিজেদের কাজ নিজেরা করত এবং ঐ সমস্ত পরিধেয় বস্ত্র পরিধান করেই মসজিদে যেত। তাদেরকে বলা হল (নবী (ﷺ) বললেন), যদি তোমরা গোসল করে মসজিদে আসতে (তবে উত্তম হত)।

৩৫৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُنَاسًا، مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ جَاءُوا فَقَالُوا يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَتَرَى الْغُسْلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبًا قَالَ لاَ وَلَكِنَّهُ أَطْهَرُ وَخَيْرٌ لِمَنِ اغْتَسَلَ وَمَنْ لَمْ يَغْتَسِلْ فَلَيْسَ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ وَسَأُخْبِرُكُمْ كَيْفَ بَدْءُ الْغُسْلِ كَانَ النَّاسُ مَجْهُودِينَ يَلْبَسُونَ الصُّوفَ وَيَعْمَلُونَ عَلَى ظُهُورِهِمْ وَكَانَ مَسْجِدُهُمْ ضَيِّقًا مُقَارِبَ السَّقْفِ إِنَّمَا هُوَ عَرِيشٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمٍ حَارٍّ وَعَرِقَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ الصُّوفِ حَتَّى ثَارَتْ مِنْهُمْ رِيَاحٌ آذَى بِذَلِكَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَلَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِلْكَ الرِّيحَ قَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِذَا كَانَ هَذَا الْيَوْمُ فَاغْتَسِلُوا وَلْيَمَسَّ أَحَدُكُمْ أَفْضَلَ مَا يَجِدُ مِنْ دُهْنِهِ وَطِيبِهِ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ جَاءَ اللَّهُ بِالْخَيْرِ وَلَبِسُوا غَيْرَ الصُّوفِ وَكُفُوا الْعَمَلَ وَوُسِّعَ مَسْجِدُهُمْ وَذَهَبَ بَعْضُ الَّذِي كَانَ يُؤْذِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا مِنَ الْعَرَقِ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩৫৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আমর থেকে ইকরিমা (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইরাকের একটি প্রতিনিধি দল এসে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বললেন, হে ইবনে আব্বাস! আপনার মতে কি জুমআর দিন গোসল করা ওয়াজিব? তিনি বলেন- না, কিন্তু গোসল করা খুবই উত্তম ও পবিত্রতম কাজ- যে ব্যক্তি তা করে এবং যে ব্যক্তি তা করে না- তার জন্য এটা ওয়াজিব নয়। আমি তোমাদেরকে গোসলের ইতিবৃত্ত বলব। অতঃপর তিনি বলেন- ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানরা মোটা কাপড় পরিধান করে দৈহিক পরিশ্রম- এমন কি বোঝা বহনের কাজও করত। তাদের মসজিদ ছিলাম অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং নীচু ছাদ বিশিষ্ট। একদা গরমের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে গিয়ে দেখতে পান যে, অত্যধিক গরমের ফলে মুসল্লীদের শরীরের ঘাম কাপড়ে লেগে তা হতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং এ কারণে সকলেই কষ্ট অনুভব করছে নবী (ﷺ) নিজেও এই দুর্গন্ধ অনুভব করে বললেনঃ “হে লোকসকল! যখন এই (জুমআর) দিন আসবে তোমরা গোসল করে সাধ্যানুযায়ী তৈল ও সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করবে”।

অতঃপর ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন যখন মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেন, তখন তারা মেটা কাপড় পরিধান ত্যাগ করে উত্তম পোশাক পরিধান করতে থাকে, নিজেদের কাজ অন্যদের দ্বারা করাতে থাকে এবং তাদের মসজিদও প্রশস্ত হয় এর ফলশ্রুতিতে ইতিপূর্বে তারা ঘর্মাক্ত হওয়ায় যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হত তা দূরীভূত হয়।
৩৫৪

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৫৪. আবুল ওয়ালীদ আত্-তায়ালিসী ..... সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমআর দিন উযু করবে, সে যেন সুন্নতের উপর আমল এবং উত্তম কাজ করল। কাজেই যে ব্যক্তি গোসল করবে- তা তার জন্য সর্বোত্তম হবে।

১৩১. ইসলাম গ্রহণের সময় গোসল করা।

باب فِي الرَّجُلِ يُسْلِمُ فَيُؤْمَرُ بِالْغُسْلِ

৩৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَغَرُّ، عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ الإِسْلاَمَ فَأَمَرَنِي أَنْ أَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে আসিম (রাঃ)

৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... খলীফা ইবনে হুসায়েন থেকে তাঁর দাদা কায়েস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুল করার আগ্রহে নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হলে তিনি আমাকে কুলের পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করার নির্দেশ দেন।

৩৫৬

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أُخْبِرْتُ عَنْ عُثَيْمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قَدْ أَسْلَمْتُ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ " . يَقُولُ احْلِقْ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي آخَرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لآخَرَ مَعَهُ " أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫৬. মাখলাদ ইবনে খালিদ .... উছায়েম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি তোমার দেহ হতে কুফরী ষুগের চিহ্ন ফেলে দাও। রাবী বলেন, অপর একজন বর্ণনাকারী আমাকে জ্ঞাত করেছেন যে, ইসলাম গ্রহণের সময় অপর সাথীকে নবী (ﷺ) নির্দেশ দেনঃ তুমি তোমার শরীর হতে কুফরী যুগের নিদর্শন ফেলে দাও এবং খাতনা কর।

১৩২. মহিলাদের হায়যকালীন সময়ে পরিধেয় বস্ত্রাদি ধৌত করবে।

باب الْمَرْأَةِ تَغْسِلُ ثَوْبَهَا الَّذِي تَلْبَسُهُ فِي حَيْضِهَا

৩৫৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْحَسَنِ، - يَعْنِي جَدَّةَ أَبِي بَكْرٍ الْعَدَوِيِّ - عَنْ مُعَاذَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنِ الْحَائِضِ يُصِيبُ ثَوْبَهَا الدَّمُ . قَالَتْ تَغْسِلُهُ فَإِنْ لَمْ يَذْهَبْ أَثَرُهُ فَلْتُغَيِّرْهُ بِشَىْءٍ مِنَ صُفْرَةٍ . قَالَتْ وَلَقَدْ كُنْتُ أَحِيضُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ حِيَضٍ جَمِيعًا لاَ أَغْسِلُ لِي ثَوْبًا .

বর্ণনাকারী: মুআযাহ আদাবিয়্যা (রহঃ)

৩৫৭. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ..... মুআযাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ)-কে হায়যের রক্তমাখা কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তা ধৌত করা একান্ত প্রয়োজন। যদি বস্ত্র হতে রক্তের চিহ্ন সম্পুর্ণরূপে দূরীভূত না হয় তবে ধৌত করার ফলে তা হাল্কা রং হলেই চলবে। আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট পরপর তিনটি হায়যের কাল অতিক্রান্ত করি- কিন্তু এতদসত্ত্বেও আমি আমার হায়যকালীন পরিধেয় বস্ত্রাদি ধৌত করিনি।*

*১। স্ত্রীলোকদের হায়েযকালীন সময়ে পরিহিত বস্ত্রে যদি রক্ত লাগে তবে তা ধৌত করা ওয়াজিব। অপরপক্ষে সতর্কতার সাথে থাকার ফলে পরিধেয় বস্ত্রে যদি আদৌ রক্ত না লাগে তবে তা ধৌত করা ওয়াজিব নয়। -(অনুবাদক)
৩৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - يَذْكُرُ عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا كَانَ لإِحْدَانَا إِلاَّ ثَوْبٌ وَاحِدٌ تَحِيضُ فِيهِ فَإِنْ أَصَابَهُ شَىْءٌ مِنْ دَمٍ بَلَّتْهُ بِرِيقِهَا ثُمَّ قَصَعَتْهُ بِرِيقِهَا .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৩৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর ..... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বিবিদের মাত্র একখানি করে পরিধেয় বস্ত্র ছিল। হায়যের সময় তাই (আমাদের) পরিধানে থাকত। অতঃপর তাতে যদি রক্তের দাগ দেখা যেত, তখন আমরা মুখের একটু থুথু দিয়ে তা ঘষে রক্তের দাগ উঠিয়ে ফেলতাম।

৩৫৯

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلَتْهَا امْرَأَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ عَنِ الصَّلاَةِ فِي ثَوْبِ الْحَائِضِ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَدْ كَانَ يُصِيبُنَا الْحَيْضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلْبَثُ إِحْدَانَا أَيَّامَ حَيْضِهَا ثُمَّ تَطْهُرُ فَتَنْظُرُ الثَّوْبَ الَّذِي كَانَتْ تَقْلِبُ فِيهِ فَإِنْ أَصَابَهُ دَمٌ غَسَلْنَاهُ وَصَلَّيْنَا فِيهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ أَصَابَهُ شَىْءٌ تَرَكْنَاهُ وَلَمْ يَمْنَعْنَا ذَلِكَ مِنْ أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِ وَأَمَّا الْمُمْتَشِطَةُ فَكَانَتْ إِحْدَانَا تَكُونُ مُمْتَشِطَةً فَإِذَا اغْتَسَلَتْ لَمْ تَنْقُضْ ذَلِكَ وَلَكِنَّهَا تَحْفِنُ عَلَى رَأْسِهَا ثَلاَثَ حَفَنَاتٍ فَإِذَا رَأَتِ الْبَلَلَ فِي أُصُولِ الشَّعْرِ دَلَكَتْهُ ثُمَّ أَفَاضَتْ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৫৯. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম .... বকর ইবনে ইয়াহয়া থেকে তাঁর দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট যাই। তখন তাঁকে এক কুরাইশ মহিলা হায়যকালীন সময়ের পরিধেয় বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময় আমরা যখন হায়যগ্রস্ত হতাম তখন আমরা যে বস্ত্র পরিধান করতাম, পবিত্রতা অর্জনের পর তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখতাম যে, তাতে কোন রক্ত লেগেছে কিনা। যদি তাতে রক্ত লাগত-তবে তা ধৌত করার পর ঐ কাপড়েই নামায আদায় করতাম। আর কাপড়ে যদি রক্তের চিহ্ন সা থাকত তবে তা ধৌত করার প্রয়োজন মনে করতাম না। এরূপ কাপড় পরিধাণ করে নাময পড়তে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের কোনসময় নিষেধ করেননি।

উম্মে সালামা (রাযিঃ) আরো বলেন, হায়যকালীন আমাদের কারো কারো চুল খোপা বাঁধা অবস্থায় থাকত। হায়য হতে পবিত্রতা অর্জনের পরেও তারা গোসলের সময় তা খুলত না, বরং মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে যখন দেখত যে, প্রতিটি চুলের গোড়ায় ভালভাবে পানি পৌছেছে, তখন তা ঘর্যণ করত- অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে উত্তমরূপে গোসল করত।
৩৬০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً، تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ تَصْنَعُ إِحْدَانَا بِثَوْبِهَا إِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ أَتُصَلِّي فِيهِ قَالَ " تَنْظُرُ فَإِنْ رَأَتْ فِيهِ دَمًا فَلْتَقْرُصْهُ بِشَىْءٍ مِنْ مَاءٍ وَلْتَنْضَحْ مَا لَمْ تَرَ وَلْتُصَلِّ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৩৬০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ .... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে, হায়য হতে পবিত্র হওয়ার পর সময়ের পরিহিত বস্ত্র পরিধাণ করে নামায আদায় করতে পারবে কি? তিনি (ﷺ) বলেনঃ তাতে রক্তের চিহ্ন পরিলক্ষিত হলে তাতে সামান্য পানি দিয়ে ঘর্ষণ করে রক্তের দাগ মুছে ফেলতে হবে। অতঃপর তা পরিধান করে নামায আদায় করবে।

৩৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ سَأَلَتِ امْرَأَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهَا الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ كَيْفَ تَصْنَعُ قَالَ " إِذَا أَصَابَ إِحْدَاكُنَّ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضِ فَلْتَقْرِصْهُ ثُمَّ لْتَنْضَحْهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ لْتُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৩৬১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কারো কাপড় ও পরিধেয় বস্ত্রে যদি হায়যের রক্ত লাগে তবে সে কি করবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের কারো পরিধেয় বস্ত্রে রক্ত হল লাগলে প্রথমে তা খুঁচে তুলে ফেলবে অতঃপর পানি দিয়ে ধৌত করার পর তা পরিধান করেই নামায আদায় করবে।

৩৬২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الْمَعْنَى قَالَ " حُتِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِالْمَاءِ ثُمَّ انْضَحِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৩৬২. মুসাদ্দাদ .... হাম্মাদ ইবনে সালামা-হিশাম হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, প্রথমে তা (রক্ত) খুঁচিয়ে তুলে ফেলবে, অতঃপর তা পানি দিয়ে ঘর্ষণ করে ধৌত করবে।

৩৬৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ - عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي ثَابِتٌ الْحَدَّادُ، حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ قَيْسٍ بِنْتَ مِحْصَنٍ، تَقُولُ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ قَالَ " حُكِّيهِ بِضِلْعٍ وَاغْسِلِيهِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

৩৬৩. মুসাদ্দাদ .... আদী ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে কায়েস (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে হায়যের রক্ত কাপড়ে লাগলে কি করতে হবে তা জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেনঃ প্রথমে একখণ্ড কাঠ দিয়ে তা খুঁচবে অতঃপর কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে ধৌত করবে।

৩৬৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدْ كَانَ يَكُونُ لإِحْدَانَا الدِّرْعُ فِيهِ تَحِيضُ وَفِيهِ تُصِيبُهَا الْجَنَابَةُ ثُمَّ تَرَى فِيهِ قَطْرَةً مِنْ دَمٍ فَتَقْصَعُهُ بِرِيقِهَا .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৩৬৪. আন-নুফায়লী ..... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমাদের প্রত্যেকের গায়ে দেওয়ার জন্য মাত্র একটি করে জামা ছিল তা পরিধান করা অবস্থায় আমরা হায়যগ্রস্ত এবং অপবিত্র হতাম। অতঃপর তাতে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেলে তাতে থুথু দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতাম।

৩৬৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ خَوْلَةَ بِنْتَ يَسَارٍ، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَيْسَ لِي إِلاَّ ثَوْبٌ وَاحِدٌ وَأَنَا أَحِيضُ فِيهِ فَكَيْفَ أَصْنَعُ قَالَ " إِذَا طَهُرْتِ فَاغْسِلِيهِ ثُمَّ صَلِّي فِيهِ " . فَقَالَتْ فَإِنْ لَمْ يَخْرُجِ الدَّمُ قَالَ " يَكْفِيكِ غَسْلُ الدَّمِ وَلاَ يَضُرُّكِ أَثَرُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। খাওলা বিনতে ইয়াসার (রাযিঃ) মহানবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি মাত্র কাপড় আছে এবং তা পরিহিত অবস্থায় আমি হায়যগ্রস্ত হই। তখন আমি কি করব? তিনি বলেনঃ তুমি পবিত্র হলে কাপড়টি ধুঁয়ে নাও, অতঃপর তা পরিধান করে নামায পড়। তিনি বলেন, যদি রক্তের দাগ দূরীভূত না হয়? তিনি বলেনঃ রক্ত ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট, এর চিহ্ন তোমার কোন ক্ষতি করবে না।

১৩৩. সঙ্গমকালীন সময়ের পরিধেয় বস্ত্র সহ নামায আদায় করা।

باب الصَّلاَةِ فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُصِيبُ أَهْلَهُ فِيهِ

৩৬৬

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّهُ سَأَلَ أُخْتَهُ أُمَّ حَبِيبَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُجَامِعُهَا فِيهِ فَقَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৩৬৬. ঈসা ইবনে হাম্মাদ আল-মিসরী ..... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর বোন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পত্নী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, স্ত্রী সঙ্গমকালে পরিহিত বস্ত্রে নবী (ﷺ) কি নামায পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ পড়তেন- যদি তাতে নাপাক কিছু না দেখতেন।

১৩৪. মহিলাদের শরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাপড়ে নামায আদায় না করা।

باب الصَّلاَةِ فِي شُعُرِ النِّسَاءِ

৩৬৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُصَلِّي فِي شُعُرِنَا أَوْ فِي لُحُفِنَا . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ شَكَّ أَبِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৭. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের শরীরের সাথে সম্পৃক্ত কাপড়ে বা লেপে নামায আদায় করতেন না।

৩৬৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يُصَلِّي فِي مَلاَحِفِنَا . قَالَ حَمَّادٌ وَسَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ أَبِي صَدَقَةَ قَالَ سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْهُ فَلَمْ يُحَدِّثْنِي وَقَالَ سَمِعْتُهُ مُنْذُ زَمَانٍ وَلاَ أَدْرِي مِمَّنْ سَمِعْتُهُ وَلاَ أَدْرِي أَسَمِعْتُهُ مِنْ ثَبَتٍ أَوْ لاَ فَسَلُوا عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৮. হাসান ইবনে আলী .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের লেপে নামায আদায় করতেন, হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি সাঈদকে বলতে শুনেছিঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনকে এই হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি তিনি অক্ষমতা প্রকাশ করে বলেন, আমি বহুদিন হতে এই হাদীসটি শ্রবণ করছি, কিন্তু প্রকৃত বর্ণনাকারীর কোন অনুসন্ধান পাইনি। অতএব এ ব্যাপারে অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করুন।

১৩৫. মহিলাদের দেহের সাথে সংযুক্ত কাপড়ে নামায আদায়ের অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

৩৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، سَمِعَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، يُحَدِّثُهُ عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى وَعَلَيْهِ مِرْطٌ وَعَلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ مِنْهُ وَهِيَ حَائِضٌ وَهُوَ يُصَلِّي وَهُوَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রহঃ)

৩৬৯. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে শাদ্দাদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। মায়মুনা (রাযিঃ) বলেন, একদা নবী (ﷺ) মোটা পশমী চাঁদর গায় দিয়ে নামায আদায় করেছেন। তখন উক্ত চাঁদরের একাংশ তাঁর (ﷺ) হায়যগ্রস্ত কোন এক স্ত্রীর গায়ে ছিল।

৩৭০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ وَأَنَا إِلَى جَنْبِهِ وَأَنَا حَائِضٌ وَعَلَىَّ مِرْطٌ لِي وَعَلَيْهِ بَعْضُهُ .

বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রহঃ)

৩৭০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ...... উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামায আদায় করছিলেন। তখন আমি হায়যগ্রস্ত অবস্থায় তার পাশেই ছিলাম আমার চাঁদরের একাংশ আমার গায়ে এবং বাকী অংশ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর গায়ে ছিল।

১৩৬. কাপড়ে বীর্য লেগে গেলে।

باب الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ

৩৭১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَاحْتَلَمَ فَأَبْصَرَتْهُ جَارِيَةٌ لِعَائِشَةَ وَهُوَ يَغْسِلُ أَثَرَ الْجَنَابَةِ مِنْ ثَوْبِهِ أَوْ يَغْسِلُ ثَوْبَهُ فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةَ فَقَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَأَنَا أَفْرُكُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনু হারিস (রহঃ)

৩৭১. হাফস ইবনে উমর ..... ইবরাহীম থেকে হাম্মামের সূত্রে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর মেহমান ছিলেন। তাঁর সপ্নদোষ হওয়ার পর তিনি কাপড় হতে বীর্য ধৌত করছিলেন। তা আয়িশা (রাযিঃ) এর বাদী দেখে তাকে (আয়িশাকে) অবহিত করেন। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাপড় হতে এটা খুঁচে তুলে ফেলে দিতাম।

৩৭২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُصَلِّي فِيهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَافَقَهُ مُغِيرَةُ وَأَبُو مَعْشَرٍ وَوَاصِلٌ .رَوَاهُ الأَعْمَشُ كَمَا رَوَاهُ الْحَكَمُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭২. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে আসওয়াদ (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাপড় হতে মনী (বীর্য) ঘষে উঠিয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি ঐ কাপড় পরিধান করে নামায আদায় করতেন।

৩৭৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَخْضَرَ الْمَعْنَى وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ إِنَّهَا كَانَتْ تَغْسِلُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ ثُمَّ أَرَى فِيهِ بُقْعَةً أَوْ بُقَعًا .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩৭৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ .... আমর থেকে সলায়মানের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি (আয়িশা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাপড় হতে মনী ধৌত করতেন। তারপরও বস্ত্রের উপর তার ভিজা দাগ পরিলক্ষিত হত।

১৩৭. শিশুদের পেশাব কাপড়ে লাগলে।

باب بَوْلِ الصَّبِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ

৩৭৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَجْلَسَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حِجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

৩৭৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে উম্মে কায়েস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শিশুটিকে কোলে নেয়ার পর সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দেয়। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে কাপড়ের উক্ত স্থানে ঢেলে দেন কিন্তু তা ধৌত করেন নি।*

* দুগ্ধপোষ্য শিশু কাপড়ে পেশাব করে দিলে তা ধৌত করতে হবে। ঐ কাপড় ধৌত করা ব্যতীত তা পরিধান করে নামায আদায় করা জায়েজ নয়। তবে কারো অতিরিক্ত কোন কাপড়ের সংস্থান না থাকলে, তারা পেশাবের স্থানটুকু ধৌত করে উক্ত কাপড়ে নামায আদায় করতে পারবে। - (অনুবাদক)
৩৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، وَالرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ لُبَابَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، قَالَتْ كَانَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ - رضى الله عنه - فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَالَ عَلَيْهِ فَقُلْتُ الْبَسْ ثَوْبًا وَأَعْطِنِي إِزَارَكَ حَتَّى أَغْسِلَهُ قَالَ " إِنَّمَا يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الأُنْثَى وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الذَّكَرِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল ফযল লুবাবা (রাঃ)

৩৭৫. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ .... কাবূস (রাহঃ) থেকে লুবাবা (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুসাঈন ইবনে আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোলে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর কোলে পেশাব করেন। তখন আমি তাকে বলি, আপনি অন্য একটি কাপড় পরিধান করুন এবং এই কাপড়টি আমাকে ধৌত করতে দিন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ মেয়ে শিশুর পেশাব কাপড়ে লাগলে তা ধৌত করতে হয় এবং ছেলে শিশুর পেশাব কাপড়ে লাগলে তাতে পানি ছিটালেই চলে।*

* শিশু- ছেলে বা মেয়ে যাই হোক না কেন কাপড়ে পেশাব করলে ঐ কাপড় ধৌত করতে হবে। তবে সাধারণতঃ মেয়েরা পেশাব করলে তা অধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এইজন্য তাদের পেশাবের কাপড় ভালভাবে ধৌত করা প্রয়োজন। তাছাড়া প্রকৃতিগত কারণে মেয়েদের পেশাবে দুর্গন্ধের পরিমাণও অধিক। - (অনুবাদক)
৩৭৬

حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنِي مُحِلُّ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو السَّمْحِ، قَالَ كُنْتُ أَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَ " وَلِّنِي قَفَاكَ " . فَأُوَلِّيهِ قَفَاىَ فَأَسْتُرُهُ بِهِ فَأُتِيَ بِحَسَنٍ أَوْ حُسَيْنٍ - رضى الله عنهما - فَبَالَ عَلَى صَدْرِهِ فَجِئْتُ أَغْسِلُهُ فَقَالَ " يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَيُرَشُّ مِنْ بَوْلِ الْغُلاَمِ " . قَالَ عَبَّاسٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْوَلِيدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ أَبُو الزَّعْرَاءِ . قَالَ هَارُونُ بْنُ تَمِيمٍ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ الأَبْوَالُ كُلُّهَا سَوَاءٌ .

বর্ণনাকারী: আবুস সামহ (রাঃ)

৩৭৬. মুজাহিদ ইবনে মুসা .... মুহিল্ল ইবনে খলীফা (রাহঃ) থেকে আবু সামহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর খাদেম ছিলাম। তিনি যখনে গোসলের ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে বলতেনঃ তুমি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়াও। তখন আমি অপরদিকে পর্দা স্বরূপ মুখ ফিরিয়ে দাঁড়াতাম। একদা হাসান অথবা হুসাইন (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আনা হলে তাদের একজন তাঁর বুকের উপর পেশাব করেন। আমি তা ধৌত করতে যাই তখন তিনি বলেনঃ মেয়ে শিশুদের পেশাব ধৌত করতে হয় এবং ছেলে শিণ্ডদের পেশাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই চলে।

৩৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الْغُلاَمِ مَا لَمْ يَطْعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৭৭. মুসাদ্দাদ ..... আবু হারব থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আলী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন। আলী (রাযিঃ) বলেন, খাদ্য গ্রহণে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত মেয়ে শিশুর পেশাব ধৌত করতে হবে এবং ছেলে শিশুর পেশাবে পানি ছিটালেই (ঢাললে) যথেষ্ট।

৩৭৮

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْ " مَا لَمْ يَطْعَمْ " . زَادَ قَالَ قَتَادَةُ هَذَا مَا لَمْ يَطْعَمَا الطَّعَامَ فَإِذَا طَعِمَا غُسِلاَ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৭৮. ইবনুল মুছান্না ..... আবুল হারব্ থেকে তার পিতার সূত্রে এবং তিনি আলী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেছেন ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই সনদে ‘মালাম ইয়াতআম’ (যতক্ষণ খাদ্য গ্রহণ না করে) এ শব্দটির উল্লেখ নাই। হিশাম আরো বর্ণনা করেছেন যে, আবু কাতাদার মতে শিশুকন্যা ও পুত্রদের ব্যাপারে যে মতানৈক্য আছে, তা কেবলমাত্র এ খাদ্যাভাসের পূর্ব পর্যন্ত। খাদ্য গ্রহণের পর উভয়ের পেশাব ভালভাবে ধৌত করতে হবে।

৩৭৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا أَبْصَرَتْ أُمَّ سَلَمَةَ تَصُبُّ الْمَاءَ عَلَى بَوْلِ الْغُلاَمِ مَا لَمْ يَطْعَمْ فَإِذَا طَعِمَ غَسَلَتْهُ وَكَانَتْ تَغْسِلُ بَوْلَ الْجَارِيَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৭৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ..... হাসান থেকে তাঁর মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে দেখেছেন যে, তিনি ছেলে শিশুদের শক্ত খাবার গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তাদের পেশাব করা কাপড়ের উপর (পেশাবের স্থানে) পানি ঢালতেন। অতঃপর তারা (শিশুরা) শক্ত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হলে তাদের পেশাবকৃত কাপড় ধৌত করতেন এবং তিনি মেয়ে শিশুদের পেশাবের কাপড়ও ধুয়ে ফেলতেন।

১৩৮. মাটিতে পেশাব লাগলে।

باب الأَرْضِ يُصِيبُهَا الْبَوْلُ

৩৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَابْنُ، عَبْدَةَ - فِي آخَرِينَ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ عَبْدَةَ - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فَصَلَّى - قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ - رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا " . ثُمَّ لَمْ يَلْبَثْ أَنْ بَالَ فِي نَاحِيةِ الْمَسْجِدِ فَأَسْرَعَ النَّاسُ إِلَيْهِ فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ صُبُّوا عَلَيْهِ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ " . أَوْ قَالَ " ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮০. আহমাদ ইবনে আমর ..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। একদা এক বেদুইন মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। ইবনে আব্দার বর্ণনায় আছে, এই বেদুইন দুই রাকআত নামায আদায় করেছিল। অতঃপর সে এভাবে দুআ করল, ইয়া আল্লাহ্! তুমি আমার ও মুহাম্মাদের উপর রহমত নাযিল কর এবং আমরা ব্যতীত অন্য কারও উপর রহমত বর্ষণ কর না।” একথা শুনে নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি প্রশস্তকে সংকীর্ণ করেছ (অর্থাৎ ব্যাপক রহমতকে তুমি সীমিত করে ফেলেছ)।

কিছুক্ষণ পর ঐ ব্যক্তি মসজিদের এক কোণায় পেশাব করল। মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীগণ তাকে বাধা দিতে উদ্বত হল। নবী (ﷺ) তাদের নিবৃত হতে বলেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমাদেরকে সহজভাবে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে কঠিনভাবে নয়। তোমরা তার উপর (পেশাবের উপর) এক বালতি পানি ঢেলে দাও।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৮১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَازِمٍ - قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَيْرٍ - يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُقَرِّنٍ، قَالَ صَلَّى أَعْرَابِيٌّ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فِيهِ وَقَالَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " خُذُوا مَا بَالَ عَلَيْهِ مِنَ التُّرَابِ فَأَلْقُوهُ وَأَهْرِيقُوا عَلَى مَكَانِهِ مَاءً " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ مُرْسَلٌ ابْنُ مَعْقِلٍ لَمْ يُدْرِكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মা‘কিল (রহঃ)

৩৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আব্দুল মালিক (রাহঃ) থেকে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাকিল (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করে। অতঃপর রাবী পোশাবের এই ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি (রাবী) এতদসম্পর্কে বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তি মাটির যে স্থানে পেশাব করেছে তা তুলে বাইরে নিক্ষেপ কর, অতঃপর সেখানে পানি ঢেলে দাও।

১৩৯. শুষ্ক জমিনের পবিত্রতা।

باب فِي طُهُورِ الأَرْضِ إِذَا يَبِسَتْ

৩৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ كُنْتُ أَبِيتُ فِي الْمَسْجِدِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُنْتُ فَتًى شَابًّا عَزَبًا وَكَانَتِ الْكِلاَبُ تَبُولُ وَتُقْبِلُ وَتُدْبِرُ فِي الْمَسْجِدِ فَلَمْ يَكُونُوا يَرُشُّونَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৮২. আহমাদ ইবনে সালেহ্ .... হামযা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময় মসজিদে ঘুমাতাম। ঐ সময় আমি অবিবাহিত যুবক ছিলাম তখন কুকুর প্রায়ই মসজিদের অঙ্গণে যাতায়াত করত এবং পেশাব করে দিত। সাহাবায়ে কিরামগগ এই পেশাবের উপর পানি ঢালতেন না।*

* ঐ সময় মসজিদে নববীর চতুর্দিকে কোন প্রাচীর ছিল না, এর অঙ্গন ছিল খোলা। সেজন্য কুকুর এর মধ্যে বিনা প্রতিবন্ধকতায় যাতায়াত করত। যেহেতু কুকুর এর বালু মন্ডিত অঙ্গনে পেশাব করাব পর প্রখর রৌদ্র তাপে তা শুকিয়ে যেত- তাই সেখানে কোন দাগ বা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হত না। এ কারণে সেখানে কোন পানি ঢালার প্রয়োজন হত না। এভাবে মাটি পবিত্র হয়ে থাকে। - (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১৪০. শুষ্ক নাপাক জিনিস কাপড়ের আচলে লাগলে।

باب فِي الأَذَى يُصِيبُ الذَّيْلَ

৩৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أُمِّ وَلَدٍ، لإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ . فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৮৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে ইবরাহীম ইবনে আব্দুর রহমানের উম্মে ওয়ালাদের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি এমন এক ব্যক্তি, যে তার কাপড়ের আঁচল ঝুলিয়ে রাখে। তিনি আরো বলেন, আমি নাপাক স্থানেও চলাফেরা করি। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, পরবর্তী (পবিত্র) স্থান তা পবিত্র করে দেয়।*

* সাধারণতঃ কাপড়ে বা আঁচলে ভেজা নাপাক জিনিস লাগলে তা ধৌত করা ব্যতীত পবিত্র হয় না। অবশ্য শুষ্ক নাপাক জিনিস কাপড়ে লাগলে তাতে কাপড় অপবিত্র হয় না। - অনুবাদক

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৮৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَنَا طَرِيقًا إِلَى الْمَسْجِدِ مُنْتِنَةً فَكَيْفَ نَفْعَلُ إِذَا مُطِرْنَا قَالَ " أَلَيْسَ بَعْدَهَا طَرِيقٌ هِيَ أَطْيَبُ مِنْهَا " . قَالَتْ قُلْتُ بَلَى . قَالَ " فَهَذِهِ بِهَذِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৮৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ..... মুসা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বনী আব্দুল আশহালের এক মহিলার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি, আমাদের মসজিদে যাতায়াতের রাস্তাটির কিছু অংশ ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ বৃষ্টিপাতের সময় আমরা কি করব? তিনি বলেনঃ পরবর্তী রাস্তাটুকু কি পবিত্র নয়? আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ পূর্বের (দুর্গন্ধ যুক্ত) রাস্তাটির নাপাকী পরবর্তী (পবিত্র) রাস্তা বিদুরিত করবে।*

* কোন নাপাক স্থানের উপর দিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে পবিত্র স্থানের উপর দিয়ে যাওয়ার ফলে এর আছর নষ্ট হয়ে যায়। তবুও অবস্থা ভেদে ব্যবস্থা গ্রহণ শ্রেয়। - (অনুবাদক)

১৪১. জুতা বা মোজায় নাপাক লেগে গেলে।

باب فِي الأَذَى يُصِيبُ النَّعْلَ

৩৮৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، ح وَحَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، - الْمَعْنَى - قَالَ أُنْبِئْتُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ، حَدَّثَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا وَطِئَ أَحَدُكُمْ بِنَعْلَيْهِ الأَذَى فَإِنَّ التُّرَابَ لَهُ طَهُورٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল .... সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি তোমাদের কারও জুতার তলায় নাপাক দ্রব্য লাগে তবে পরবর্তী (পবিত্র) মাটি তা পাক করার জন্য যথেষ্ট।

৩৮৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، - يَعْنِي الصَّنْعَانِيَّ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " إِذَا وَطِئَ الأَذَى بِخُفَّيْهِ فَطَهُورُهُمَا التُّرَابُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৬. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ..... সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ আল-মাকবূরী থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবু হুরায়রা) নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ কারও মোজায় নাপাক নাগলে তা পবিত্র করার জন্য মাটিই যথেষ্ট।

১৪২. নাপাক বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় আদায়কৃত নামায পুনঃ আদায় করা।

باب الإِعَادَةِ مِنَ النَّجَاسَةِ تَكُونُ فِي الثَّوْبِ

৩৮৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَائِذٍ - حَدَّثَنِي يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ حَمْزَةَ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ، أَخْبَرَنِي أَيْضًا، سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৭. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَتْنَا أُمُّ يُونُسَ بِنْتُ شَدَّادٍ، قَالَتْ حَدَّثَتْنِي حَمَاتِي أُمُّ جَحْدَرٍ الْعَامِرِيَّةُ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَتْ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْنَا شِعَارُنَا وَقَدْ أَلْقَيْنَا فَوْقَهُ كِسَاءً فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْكِسَاءَ فَلَبِسَهُ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ لُمْعَةٌ مِنْ دَمٍ . فَقَبَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَا يَلِيهَا فَبَعَثَ بِهَا إِلَىَّ مَصْرُورَةً فِي يَدِ الْغُلاَمِ فَقَالَ " اغْسِلِي هَذِهِ وَأَجِفِّيهَا ثُمَّ أَرْسِلِي بِهَا إِلَىَّ " . فَدَعَوْتُ بِقَصْعَتِي فَغَسَلْتُهَا ثُمَّ أَجْفَفْتُهَا فَأَحَرْتُهَا إِلَيْهِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنِصْفِ النَّهَارِ وَهِيَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া .... উম্মে ইউনুস বিনতে শাদ্দাদ (রাহঃ) বলেন, আমার ননদ উম্মে জাহাদার আল-আমিরিয়্যা আমাকে বলেছেন যে, তিনি আয়িশাকে হায়যের রক্ত কাপড়ে লাগা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি হায়য অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। এ সময় আমাদের গায়ে নিজ নিজ বস্ত্র ছিল এবং শীতের কারগে উভয়েই একটি চাঁদরও গায়ে দেই। অতঃপর প্রত্যুষে নবী (ﷺ) চাঁদরটি পরিধান করে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করার পর বসেন।

এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার চাঁদরে সামান্য রক্তের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তিনি চাঁদরের রক্ত-রঞ্জিত স্থানের পার্শ্ব ধরে তা মুচড়িয়ে গোলামের হাতে অর্পণ করে আমার নিকট পাঠান এবং বলেনঃ এটা ধৌত করবার পর শুকিয়ে আমার নিকট পাঠাবে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি এক পাত্র পানি চেয়ে নিয়ে তা ধৌত করে শুকাবার পর তাঁর নিকট প্রেরণ করি। দুপুরের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চাঁদরটি পরিধান করে প্রত্যাবর্তন করেন।

১৪৩. থুথু বা শ্লেষ্মা কাপড়ে লাগলে।

باب الْبُصَاقِ يُصِيبُ الثَّوْبَ

৩৮৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ بَزَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَوْبِهِ وَحَكَّ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ .

বর্ণনাকারী: আবু নাযরা (রহঃ)

৩৮৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ......... হাম্মাদ থেকে ছাবিত আল-বানানীর সূত্রে, তিনি আবু নাদরা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাপড়ে থুথু বা শ্লেষ্মা লাগলে তিনি তার একাংশ অপর অংশের সাথে ঘর্যণ করেন।

৩৯০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হাম্মাদ হতে, তিনি হুমায়েদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ