كتاب الوصايا

১৩. ওছিয়াতের অধ্যায়

অধ্যায় ১৩ · ২৩ টি হাদীস

১০৩. ওসীয়্যাতের ব্যাপারে নির্দেশ।

باب مَا جَاءَ فِيمَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الْوَصِيَّةِ

২৮৫২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৫২. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি কোন মুসলমানের কারো প্রতি কোন হক থাকে, তবে তার পক্ষে ঐ ব্যাপারে কোনরূপ লিখিত ওসীয়তনামা রাখা ব্যতীত দু‘টি রাত্রিও অতিবাহিত করা উচিত নয়।

২৮৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ شَاةً وَلاَ أَوْصَى بِشَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৫৩. মুসাদ্দাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকালের সময় দীনার (স্বর্ণমুদ্রা), দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা), উট এবং বকরী কিছুই রেখে যাননি এবং কোন ব্যাপেরে ওসিয়তও করেন নি।

১০৪. ওসিয়াতকারীর জন্য তার মাল হতে যে পরিমাণ ওসিয়াত করা অবৈধ, সে সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِيمَا لاَ يَجُوزُ لِلْمُوصِي فِي مَالِهِ

২৮৫৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرِضَ مَرَضًا - قَالَ ابْنُ أَبِي خَلَفٍ - بِمَكَّةَ - ثُمَّ اتَّفَقَا - أَشْفَى فِيهِ فَعَادَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَتِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِالثُّلُثَيْنِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَبِالشَّطْرِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَبِالثُّلُثِ قَالَ " الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَتْرُكَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي قَالَ " إِنَّكَ إِنْ تُخَلَّفْ بَعْدِي فَتَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ لاَ تَزْدَادُ بِهِ إِلاَّ رِفْعَةً وَدَرَجَةً لَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ " . ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ " .

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

২৮৫৪. উছমান ইবনে আবী শায়বা ও ইবনে আবী খালাফ (রাহঃ) .... আমির ইবনে সা‘দ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্নণা করেছেন। তিনি বলেনঃ একবার তিনি [সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ)] কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে দেখতে আসেন। সে সময় তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার অনেক ধন-সম্পদ আছে কিন্তু একটি কন্যা ব্যতীত আমার আর কোন উত্তরাধিকার নেই। কাজেই আমি কি আমার সম্পদের তিনভাগের দুই ভাগ সাদ্‌কা করতে পারি? তখন তিনি বলেনঃ না। তখন তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি অর্ধেক সম্পদ সাদ্‌কা দান করতে পারি? তখনও তিনি বলেনঃ না।

পুনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি তিন ভাগের এক ভাগ কি সাদ্‌কা করতে পারি? তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তিন ভাগের এক ভাগ দান করতে পার এবং সাদ্‌কার জন্য এক-তৃতীয়াংশই যথেষ্ট। অবশ্য তোমার জন্য তোমার উত্তরাধিকারদের মালদার অবস্থায় পরিত্যাগ করা উত্তম হবে, তাদের গরিবি হালে কাঙাল করে রেখে যাওয়ার চাইতে, যার ফলে তারা লোকের দু'আরে ভিক্ষা মাঙতে থাকবে। (আর যে মাল তুমি তোমার পরিবারের জন্য) খরচ করছ, তুমি অবশ্যই তার সাওয়াব পাবে। এমন কি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে গ্রাস তুলে দাও, তার সাওয়াবও তুমি পাবে।

আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি আমার হিজরতের সাওয়াব হতে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বললেনঃ আমার হিজরতের পর যদি তুমি মক্কায় থেকেই যাও এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নেক আমল করতে থাক, তবে এতেও তোমার মর্তবা বুলন্দ হবে। আর সম্ভবত এখানে তোমার অবস্থানের ফলে কিছু লোকের উপকার হবে এবং কিছু লোকের ক্ষতি হবে। অতঃপর তিনি এরূপ দুআ করেনঃ হে আল্লাহ্! আমার সাথীদের হিজরত পূর্ণ করে দিন এবং তাদেরকে তাদের পিছনের দিকে ফিরাবেন না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হলেন সাঈদ ইবনে খাওলা (রাযিঃ), যার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দুঃখ প্রকাশ করতেন, তিনি মক্কাতে ইনতিকাল করেন।

১০৫. সুস্থাবস্থায় দান করার মর্যাদা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الإِضْرَارِ فِي الْوَصِيَّةِ

২৮৫৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ حَرِيصٌ تَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَتَخْشَى الْفَقْرَ وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ لِفُلاَنٍ كَذَا وَلِفُلاَنٍ كَذَا وَقَدْ كَانَ لِفُلاَنٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৫৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন ধরনের সাদ্‌কা উত্তম? তিনি বলেনঃ সুস্থ অবস্থায় সাদ্‌কা করবে, যখন তুমি আরো বাঁচার ইচ্ছা পোষণ করছ এবং পরমুখাপেক্ষী হওয়ারও আশঙ্কা করছ। আর তুমি এ সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে না যে, তোমার জ্ঞান তোমার হুকুমের কাছে এসে পৌঁছাবে এবং সে সময় তুমি বলবেঃ এত (পরিমাণ সাদ্‌কা) অমুক ব্যক্তির জন্য এবং অমুক ব্যক্তির জন্য এত, যখন সে মালে অন্যের হক প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

২৮৫৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لأَنْ يَتَصَدَّقَ الْمَرْءُ فِي حَيَاتِهِ بِدِرْهَمٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِمِائَةٍ عِنْدَ مَوْتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৮৫৬. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য তার জীবদ্দশায় এক দিরহাম পরিমাণ দান করা, তার মৃত্যুকালীন সময় একশত দিরহাম দান করার চাইতে শ্রেয়।

১০৬. ওসীয়ত দ্বারা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি করা অন্যায়।

২৮৫৭

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُدَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ بْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ وَالْمَرْأَةَ بِطَاعَةِ اللَّهِ سِتِّينَ سَنَةً ثُمَّ يَحْضُرُهُمَا الْمَوْتُ فَيُضَارَّانِ فِي الْوَصِيَّةِ فَتَجِبُ لَهُمَا النَّارُ " . قَالَ وَقَرَأَ عَلَىَّ أَبُو هُرَيْرَةَ مِنْ هَا هُنَا ( مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ) حَتَّى بَلَغَ ( ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ) . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا - يَعْنِي الأَشْعَثَ بْنَ جَابِرٍ - جَدُّ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৫৭. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন স্ত্রীলোক এবং কোন পুরুষ ষাট বছর পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদাত করে, পরে যখন সে দু‘জনের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা ওসীয়তের দ্বারা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি করে, এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের জন্য জাহান্নামের আগুন অবধারিত হয়ে যায়। রাবী (শাহর ইবনে হাওশাব) বলেনঃ এ সময় আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, (যার অর্থ হলো) ‘‘যে পরিমাণ মাল সাদ্‌কা করার জন্য ওসীয়ত করা হয়, তা আদায় করার পর এবং দেনা পরিশোধের পর, যা অন্যের জন্য ক্ষতিকর নয় .... হতে, এ হলো বিরাট সফলতা।

১০৭. ওসীয়তকারীদের অন্তুর্ভক্ত না হওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الدُّخُولِ فِي الْوَصَايَا

২৮৫৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي سَالِمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي فَلاَ تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلاَ تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ مِصْرَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৮৫৮. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেন, হে আবু যর! আমি তোমাকে খুবই দুর্বল দেখছি, আর আমি তোমার জন্য এটাই পছন্দ করি, যা আমি আমার নিজের জন্য পছন্দ করে থাকি। তুমি কখনই দু‘ই ব্যক্তির মধ্যে হাকিম হবে না, আর কখনই ইয়য়াতীমদের মালের অভিভাবক হবে না।

১০৮. মাতাপিতা ও নিকটাত্মায়ীদের জন্য ওসীয়ত করার নির্দেশ বাতিল হওয়া সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي نَسْخِ الْوَصِيَّةِ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ

২৮৫৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ ) فَكَانَتِ الْوَصِيَّةُ كَذَلِكَ حَتَّى نَسَخَتْهَا آيَةُ الْمِيرَاثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৫৯. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ মারওয়ারী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এই আয়াতঃ (إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ) অর্থাৎ ‘‘যদি সে উত্তম ওসীয়্যাত রেখে যায়, মাতাপিতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য, মীরাছের আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে। (কেননা মীরাছের আয়াতে উত্তরাধিকারীদের অংশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে)।

১০৯. উত্তরাধিকারীদের জন্য ওসীয়াত করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْوَصِيَّةِ لِلْوَارِثِ

২৮৬০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৮৬০. আব্দুল ওহহাব ইবনে জাদ্দা (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই ওয়ারিছের জন্য কোনরূপ ওসীয়াত করা যাবে না।

১১০. ইয়াতীমের খাদ্যের সাথে নিজ খাদ্য মিশান সম্পর্কে।

باب مُخَالَطَةِ الْيَتِيمِ فِي الطَّعَامِ

২৮৬১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلاَّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ) وَ ( إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا ) الآيَةَ انْطَلَقَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ يَتِيمٌ فَعَزَلَ طَعَامَهُ مِنْ طَعَامِهِ وَشَرَابَهُ مِنْ شَرَابِهِ فَجَعَلَ يَفْضُلُ مِنْ طَعَامِهِ فَيُحْبَسُ لَهُ حَتَّى يَأْكُلَهُ أَوْ يَفْسُدَ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاَحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ) فَخَلَطُوا طَعَامَهُمْ بِطَعَامِهِ وَشَرَابَهُمْ بِشَرَابِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৬১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মহান আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘তোমরা ইয়াতীমের মালের কাছে যাবে না, তবে উত্তমভাবে, ‘আর যারা যুলুম করে ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করে, তারা তাদের পেটকে জাহান্নামের আগুন দিয়ে ভর্তি করে।’’ এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর যাদের কাছে ইয়াতীম ছিল, তারা ইয়াতীমদের খাদ্য-পানীয়, তাদের খাদ্য-পানীয় হতে বিভক্ত করে দেয়। ইয়াতীমদের ভুক্ত খাদ্য যা অবিশিষ্ট থাকত, হয়ত তা ইয়াতীম পরে খেত, নয়ত পচে নষ্ট হয়ে যেত। ব্যাপারটি তাদের কাছে কঠিন বিবেচিত হওওয়ায় তারা সেটি রাসুলূল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে পেশ করে। তখন মহান আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘তারা আপনাকে ইয়াতীমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুনঃ তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করাই শ্রেয়। যদি তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে থাক, তবে তো তারা তোমাদের ভাই। অতঃপর লোকেরা তাদের খানাপিনায় (আবার) তাদের শরীক করে নেয়।

১১১. ইয়াতীমের মাল হতে তার তদারককারী কি পরিমাণ নিতে পারবে।

باب مَا جَاءَ فِيمَا لِوَلِيِّ الْيَتِيمِ أَنْ يَنَالَ مِنْ مَالِ الْيَتِيمِ

২৮৬২

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي الْمُعَلِّمَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي فَقِيرٌ لَيْسَ لِي شَىْءٌ وَلِي يَتِيمٌ . قَالَ فَقَالَ " كُلْ مِنْ مَالِ يَتِيمِكَ غَيْرَ مُسْرِفٍ وَلاَ مُبَادِرٍ وَلاَ مُتَأَثِّلٍ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৮৬২. হুমায়ন ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ আমি ফকীর, আমার কিছুই নেই। কিন্তু আমার প্রতিপালনে একজন ইয়াতীম আছে (যার সম্পদ আছে)। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ইয়াতীমের মাল হতে এ শর্তে খেতে পার যে, তুমি অমিতব্যয়ী হবে না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করবে না, যাতে মাল তাড়াতাড়ি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ইয়াতীমের মাল হতে নিজের জন্য কিছু জমা করবে না।

১১২. ইয়াতীমের সময়- কাল কখন শেষ হয়।

باب مَا جَاءَ مَتَى يَنْقَطِعُ الْيُتْمُ

২৮৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدِينِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُقَيْشٍ، أَنَّهُ سَمِعَ شُيُوخًا، مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ وَمِنْ خَالِهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَحْمَدَ قَالَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُتْمَ بَعْدَ احْتِلاَمٍ وَلاَ صُمَاتَ يَوْمٍ إِلَى اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৮৬৩. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শুনে এটা মুখস্থ করেছি যে, স্বপ্নদোষ (যৌবনপ্রাপ্ত) হওয়ার পর আর কেউ ইয়াতীম থাকে না এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত চুপ থাকা উচিত নয়।

১১৩. ইয়াতীমের মাল ভক্ষণের শাস্তি সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي أَكْلِ مَالِ الْيَتِيمِ

২৮৬৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ " الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَبُو الْغَيْثِ سَالِمٌ مَوْلَى ابْنِ مُطِيعٍ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৬৪. আহমদ ইবনে সাঈদ হামদানী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (ঈমান) ধ্বংসকারী সাতটি বিষয় হতে দূরে থাকবে। জিজ্ঞাসা করা হয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ গুনাহগুলো কি কি? তিনি বলেনঃ

(১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা,

(২) জাদু করা,

(৩) কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা, যার হত্যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, তবে হকভাবে হত্যা করা যাবে,

(৪) সুদ খাওয়া,

(৫) ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করা,

(৬) যুদ্ধের দিন যুদ্ধের ময়দান হতে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করা এবং

(৭) সতী- সাধ্বী স্ত্রীলোকদের উপর (যিনার) মিথ্যা অপবাদ দেওয়া যে সম্পর্কে তারা অনবহিত।
২৮৬৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ - وَكَانَتْ، لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْكَبَائِرُ فَقَالَ " هُنَّ تِسْعٌ " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ زَادَ " وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ الْمُسْلِمَيْنِ وَاسْتِحْلاَلُ الْبَيْتِ الْحَرَامِ قِبْلَتِكُمْ أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا " .

বর্ণনাকারী: উবায়দ ইবনে উমায়র (রহঃ)

২৮৬৫. ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব জাওযাজানী (রাহঃ) ..... উবাইদ ইবনে উমাইর (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেনঃ যিনি সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কবীরা গুনাহ কোনগুলো? তিনি বলেনঃ তা নয়টি। তখন তিনি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত গুনাহগুলোর উল্লেখ করেন এবং অতিরিক্ত এও বলেনঃ মুসলমান পিতা ও মাতাকে কষ্ট দেওয়া এবং আল্লাহর ঘরকে সম্মান না করা, যা তোমাদের জীবনে ও মরণে কিবলা।

১১৪. মৃতের কাফন তার সমুদয় মালের মধ্যে গণ্য হওয়ার প্রমাণ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْكَفَنَ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ

২৮৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ إِلاَّ نَمِرَةٌ كُنَّا إِذَا غَطَّيْنَا بِهَا رَأْسَهُ خَرَجَتْ رِجْلاَهُ وَإِذَا غَطَّيْنَا رِجْلَيْهِ خَرَجَ رَأْسُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غَطُّوا بِهَا رَأْسَهُ وَاجْعَلُوا عَلَى رِجْلَيْهِ مِنَ الإِذْخِرِ " .

বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)

২৮৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুসআব ইবনে উমাইর (রাযিঃ) উহুদের যুদ্ধের দিন শাহাদাত বরণ করেন। এ সময় তাঁর কাছে একখানি কম্বল ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যা দিয়ে আমরা তাঁর মাথা আবৃত করলে তাঁর দুই পা বের হয়ে যেত এবং আমরা তাঁর দুই পা আবৃত করলে তার মাথা বেরিয়ে যেত। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কম্বল দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দাও এবং তার (খোলা) দু‘পায়ের উপর ইযখির (আরবের এক ধরণের সুগন্ধ যুদ্ধ ঘাস) দিয়ে দাও।

১১৫. কোন ব্যক্তি কোন জিনিস হিবা করার পর ওসীয়ত বা উত্তরাধিকার সূত্রে তা পেলে।

باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَهَبُ ثُمَّ يُوصَى لَهُ بِهَا أَوْ يَرِثُهَا

২৮৬৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، بُرَيْدَةَ أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِوَلِيدَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ وَتَرَكَتْ تِلْكَ الْوَلِيدَةَ . قَالَ " قَدْ وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَجَعَتْ إِلَيْكِ فِي الْمِيرَاثِ " . قَالَتْ وَإِنَّهَا مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَيُجْزِئُ - أَوْ يَقْضِي - عَنْهَا أَنْ أَصُومَ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَتْ وَإِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ أَفَيُجْزِئُ - أَوْ يَقْضِي - عَنْهَا أَنْ أَحُجَّ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৮৬৭. আহমদ ই্উনুস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি বলেনঃ একদা জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বলেনঃ আমি আমার মায়ের সেবার জন্য একজন দাসী দান করেছিলাম। এখন তিনি (মাতা) মারা গিয়েছেন এবং সে তাকে রেখে গিয়েছেন। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার কাজের সাওয়াব পাবে, আর দাসীও মীরাছ হিসাবে তোমার কাছে ফিরে এসেছে। তখন সে মহিলা আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ আমার মাতা তো ইনতিকাল করেছেন কিন্তু তার উপর এক মাসের রোযা ফরয আছে। আমি যদি সে রোযা রাখি তবে কি তা তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন সে মহিলা পুনরায় জিজ্ঞসা করেনঃ আমার মাতা হজ্জও আদায় করেননি, তাই আমি যদি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করি, তবে কি তা তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

১১৬. কোন ব্যক্তির কোন সম্পদ ওয়াক্‌ফ করা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُوقِفُ الْوَقْفَ

২৮৬৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ فَكَيْفَ تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا " . فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَالرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ - وَزَادَ عَنْ بِشْرٍ - وَالضَّيْفِ - ثُمَّ اتَّفَقُوا - لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ وَيُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . زَادَ عَنْ بِشْرٍ قَالَ وَقَالَ مُحَمَّدٌ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৬৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) খায়বরে একখণ্ড জমি পান। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলেনঃ আমি এমন এক খণ্ড জমি পেয়েছি, যা থেকে উত্তম কোন মাল ইতিপূর্বে আমি আর পাইনি। আপনি এ ব্যাপারে আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ যদি তুমি চাও, তবে আসল জমিটা রেখে দাও এবং এ থেকে উৎপন্ন ফসল দান করে দাও। তখন উমর (রাযিঃ) তা থেকে উৎপন্ন ফসল দান করতে থাকেন এবং তিনি এরূপ সিদ্ধান্ত নেন যে, আসল জমি বিক্রয় করবেন না, হিবা বা দানও করবেন না এবং উত্তরাধিকারীদেরও দেবেন না; বরং তা থেকে ফকীর, নিকটাত্মীয়, গোলাম, মিসকীন এবং মুসাফিররা আল্লাহ্ ওয়াস্তে উপকৃত হতে থাকবে।

রাবী বিশরের বর্ণনায় মেহমান শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, যিনি এই ওয়াক্‌ফকৃত সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হবেন, তিনি উত্তমভাবে নিয়মানুযায়ী তার লভ্যাংশ ভক্ষণ করতে পারবেন এবং ঐ সমস্ত বন্ধুকে খাওয়াতে পারবেন, যারা মালদার নয়।

রাবী বিশরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, রাবী মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি তার লভ্যাংশ ভোগ করতে পারবে, কিন্তু তা থেকে নিজের জন্য কিছু জমা করতে পারবে না।
২৮৬৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ صَدَقَةِ، عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه قَالَ نَسَخَهَا لِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَذَا مَا كَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ عُمَرُ فِي ثَمْغٍ فَقَصَّ مِنْ خَبَرِهِ نَحْوَ حَدِيثِ نَافِعٍ قَالَ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً فَمَا عَفَا عَنْهُ مِنْ ثَمَرِهِ فَهُوَ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ - قَالَ وَسَاقَ الْقِصَّةَ - قَالَ وَإِنْ شَاءَ وَلِيُّ ثَمْغٍ اشْتَرَى مِنْ ثَمَرِهِ رَقِيقًا لِعَمَلِهِ وَكَتَبَ مُعَيْقِيبٌ وَشَهِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَرْقَمِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَذَا مَا أَوْصَى بِهِ عَبْدُ اللَّهِ عُمَرُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ حَدَثَ بِهِ حَدَثٌ أَنَّ ثَمْغًا وَصِرْمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ وَالْعَبْدَ الَّذِي فِيهِ وَالْمِائَةَ سَهْمٍ الَّتِي بِخَيْبَرَ وَرَقِيقَهُ الَّذِي فِيهِ وَالْمِائَةَ الَّتِي أَطْعَمَهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم بِالْوَادِي تَلِيهِ حَفْصَةُ مَا عَاشَتْ ثُمَّ يَلِيهِ ذُو الرَّأْىِ مِنْ أَهْلِهَا أَنْ لاَ يُبَاعَ وَلاَ يُشْتَرَى يُنْفِقُهُ حَيْثُ رَأَى مِنَ السَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ وَذِي الْقُرْبَى وَلاَ حَرَجَ عَلَى مَنْ وَلِيَهُ إِنْ أَكَلَ أَوْ آكَلَ أَوِ اشْتَرَى رَقِيقًا مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

২৮৬৯. সুলাইমান ইবনে মোহরী (রাহঃ) ..... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর সাদ্‌কা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমাকে আব্দুল হামীদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর ইবনে খাত্তাব এরূপ লিখে দিয়েছেনঃ

বিসমিল্লাহির রাহিমানির রাহীম। এ হলো ঐ বর্ণনা, যা আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর ‘ছামাগ’ সম্পর্কে লিখেছিলেন। অতঃপর রাবী নাফি‘(রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন যে, ধন-সম্পদ জমাকারী হবে না, আর যে ফল তাতে পতিত হবে, তা হবে ভিক্ষুক এবং বঞ্চিতদের অংশ। অতঃপর রাবী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যদি ঐ বাগানের মুতাওয়াল্লী চায়, তবে সে বাগানের ফল বিক্রি করে সে মূল্য দিয়ে বাগানের কাজের জন্য গোলাম খরিদ করতে পারে। আর মুআয়কীব এ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে আরকাম এর সাক্ষী হন।

‘‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। এটা ঐ ওসীয়তনামা, যার ওসীয়ত আল্লাহর বান্দা আমীরুল মু‘মিনীন উমর (রাযিঃ) করেনঃ যদি তাঁর [উমর (রাযিঃ)] উপর কোন দুর্ঘটনা ঘটে (অর্থাৎ তিনি মারা যান), তাহলে ‘ছামাগ’ ইবনে আকুয়ের ‘সুরমা’ [১] এবং সেখানে যে গোলামেরা আছে, তা; আর খায়বরের একশত হিসসা এবং সেখানকার গোলামেরা এবং ঐ একশত ভাগ যা মুহাম্মাদ (ﷺ) আমাকে খায়বরের নিকটবর্তী উপত্যকায় দিয়েছিলেন এ সবের মুতাওয়াল্লী হবে, যতদিন সে জীবিত থাকবে, হাফসা (রাযিঃ)।[২] তাঁর অবর্তমানে, তাঁর পরিবার পরিজনদের মাঝে যারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হবে তারা এর মুতাওয়াল্লী হবে। এ শর্তে যে, তারা এ বাগান বেচাকেনা করতে পারবে না। কিন্তু যখন কোন ভিক্ষুক, বঞ্চিত, নিকটাত্মীয় বা কোন বন্ধু বান্ধব হবে, তাদের জন্য এ থেকে খরচ করবে। আর এই বাগানের মুতাওয়াল্লী যদি এ থেকে কিছু ভক্ষণ করে, অভাবগ্রস্থদের খাওয়ায় এর মুনাফা হতে (বাগানের কাজের জন্য) কোন গোলাম খরিদ করে, তবে এত কোন দোষ নেই।

১১৭. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে সাদ্‌কা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّدَقَةِ عَنِ الْمَيِّتِ

২৮৭০

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أُرَاهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَشْيَاءَ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৭০. রাবী ‘ইবনে সুলাইমান মুয়াযযিন (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমলের সাওয়াব মৃত্যুর পরেও বন্ধ হবে না। ১. সাদ্‌কায়ে জারিয়া, ২. ঐ ‘ইলম, যা দিয়ে উপকার করা যায় এবং ৩. ঐ নেক সন্তান, যে তার পিতার জন্য দুআ করে।

১১৮. যদি কেউ ওসীয়্যাত না করে মারা যায়, তরে পক্ষ হতে সাদ্‌কা প্রদান প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ مَاتَ عَنْ غَيْرِ، وَصِيَّةٍ، يُتَصَدَّقُ عَنْهُ

২৮৭১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَوْلاَ ذَلِكَ لَتَصَدَّقَتْ وَأَعْطَتْ أَفَيُجْزِئُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ فَتَصَدَّقِي عَنْهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৭১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক মহিলা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতা হঠাৎ মারা যান, যদি তিনি হঠাৎ মারা না যেতেন, তবে অবশ্যই তিনি কিছু সাদ্‌কা করে যেতেন। এখন আমি যদি তাঁর পক্ষে কিছু সাদ্‌কা করি, তিনি কি এর সাওয়াব পাবেন? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ হ্যাঁ। তুমি তাঁর পক্ষ থেকে সাদ্‌কা করতে পার।

২৮৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ أَفَيَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا فَقَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ لِي مَخْرَفًا وَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنِّي قَدْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৭২. আহমদ ইবনে মানী‘ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা মারা গিয়েছে। আমি যদি তাঁর পক্ষ কিছু সাদ্‌কা করি, তবে সে সাদ্‌কা কি তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি বলেনঃ আমার একটা বাগান আছে আর আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে, সেটি আমার মায়ের (মাগফিরাতের) জন্য সাদ্‌কা করছি।

১১৯. কোন কাফিরের ওসীয়ত, তার মুসলিম ওয়ালীর জন্য পালন করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي وَصِيَّةِ الْحَرْبِيِّ يُسْلِمُ وَلِيُّهُ أَيَلْزَمُهُ أَنْ يُنْفِذَهَا

২৮৭৩

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ، أَوْصَى أَنْ يُعْتَقَ، عَنْهُ مِائَةُ رَقَبَةٍ فَأَعْتَقَ ابْنُهُ هِشَامٌ خَمْسِينَ رَقَبَةً فَأَرَادَ ابْنُهُ عَمْرٌو أَنْ يَعْتِقَ عَنْهُ الْخَمْسِينَ الْبَاقِيَةَ فَقَالَ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَوْصَى بِعِتْقِ مِائَةِ رَقَبَةٍ وَإِنَّ هِشَامًا أَعْتَقَ عَنْهُ خَمْسِينَ وَبَقِيَتْ عَلَيْهِ خَمْسُونَ رَقَبَةً أَفَأُعْتِقُ عَنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَوْ كَانَ مُسْلِمًا فَأَعْتَقْتُمْ عَنْهُ أَوْ تَصَدَّقْتُمْ عَنْهُ أَوْ حَجَجْتُمْ عَنْهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৮৭৩. আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ ইবনে মাযীদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেনঃ আস ইবনে ওয়াইল তাঁর পক্ষে একশত গোলাম আযাদ করার জন্য ওসীয়্যাত করেন। তখন তার হিকশাম পঞ্চাশটি গোলাম আযাদ করে দেন। অতঃপর তার অপর পুত্র আমরও পঞ্চাশটি গোলাম আযাদ করার ইচ্ছা করেন। তিনি ঐ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করতে মনস্থির করেন। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা একশত গোলাম আযাদ করার জন্য ওসীয়্যাত করে যান, যা থেকে হিশাম পঞ্চাশটি গোলাম তার পক্ষ হতে আযাদ করে দিয়েছে এবং আরো পঞ্চাশটি গোলাম তার পক্ষ হতে আযাদ করতে বাকী আছে। আমি কি তার পক্ষ হতে তা আদায় করে দেব? তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি সে মুসলমান হতো, আর তুমি তার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ করতে, সাদ্‌কা প্রদান করতে এবং হজ্জ আদায় করতে, তবে সে সাওয়াব পেত। (কিন্তু সে মুসলমান না হয়ে মারা যাওয়ার কারণে এ সব করলে তার কোন উপকার হবে না)।

১২০. যদি কেউ করযদার অবস্থায় মারা যায় এবং ধন- সম্পত্তি রেখে যায়, তখন করযদাতাদের উচিত ওয়ারিছদের কিছু সময় দেওয়া এবং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করা।

باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَمُوتُ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ وَلَهُ وَفَاءٌ يُسْتَنْظَرُ غُرَمَاؤُهُ وَيُرْفَقُ بِالْوَارِثِ

২৮৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ شُعَيْبَ بْنَ إِسْحَاقَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ تُوُفِّيَ وَتَرَكَ عَلَيْهِ ثَلاَثِينَ وَسْقًا لِرَجُلٍ مِنْ يَهُودَ فَاسْتَنْظَرَهُ جَابِرٌ فَأَبَى فَكَلَّمَ جَابِرٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَشْفَعَ لَهُ إِلَيْهِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَلَّمَ الْيَهُودِيَّ لِيَأْخُذَ ثَمَرَ نَخْلِهِ بِالَّذِي لَهُ عَلَيْهِ فَأَبَى عَلَيْهِ وَكَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنْظِرَهُ فَأَبَى . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৭৪. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ খবর জানতে পারেন যে, তাঁর পিতা একজন ইয়াহুদী থেকে গৃহীত ত্রিশ ওয়াসাকের একটি দেনার বোঝা তাঁর জিম্মায় রেখে ইনতিকাল করেছেন। তখন জাবির (রাযিঃ) সেই ইয়াহুদীর নিকট কিছু সময় চান। কিন্তু সে সময় দিতে অস্বীকার করে। তখন জাবির (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে ইয়াহুদীর নিকট তাঁর পক্ষে সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গিয়ে ইয়াহুদীর সাথে কথাবার্তা বলেন যে, সে যেন তার কর্যের বিনিময়ে জাবিরের বাগানের খেজুর নিয়ে নেয়। কিন্তু সে (ইয়াহুদী) এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে (ইয়াহুদীকে) কিছু সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে সে তাও প্রত্যাখ্যান করে। এরপর পূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।