كتاب الضحايا

১০. কুরবানীর অধ্যায়

অধ্যায় ১০ · ২৬ টি হাদীস

৭৮. কুরবানী ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي إِيجَابِ الأَضَاحِي

২৭৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، ح وَحَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ، عَنْ عَامِرٍ أَبِي رَمْلَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مِخْنَفُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ وَنَحْنُ وُقُوفٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَفَاتٍ قَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَةً وَعَتِيرَةً أَتَدْرُونَ مَا الْعَتِيرَةُ هَذِهِ الَّتِي يَقُولُ النَّاسُ الرَّجَبِيَّةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «الْعَتِيرَةُ مَنْسُوخَةٌ هَذَا خَبَرٌ مَنْسُوخٌ»

বর্ণনাকারী: মিখনাফ ইবনে সুলাইম (রাঃ)

২৭৭৯. মুসাদ্দাদ ..... মিখনাফ ইবনে সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। রাবী বলেন, তখন তিনি বলেনঃ হে লোক সকল! আমাদের প্রত্যেক গৃহবাসীর উপর প্রতি বছর কুরবানী করা ওয়াজিব এবং আতীরাও’। তোমরা কি জান আতীরা কি? এ হলো সেই জিনিস, যাকে লোকেরা রাজবিয়্যা বলে।

২৭৮০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ الْقِتْبَانِيُّ، عَنْ عِيسَى بْنِ هِلاَلٍ الصَّدَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمِرْتُ بِيَوْمِ الأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الأُمَّةِ " . قَالَ الرَّجُلُ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلاَّ أُضْحِيَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا قَالَ " لاَ وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصُّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ فَتِلْكَ تَمَامُ أُضْحِيَتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৮০. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার প্রতি আযহার (১০ই যিলহজ্জ) দিন ঈদ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য (ঈদ হিসেবে) নির্ধারণ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ [ইয়া রাসুলাল্লাহ]! আপনি বলুন, (যদি আমার কুরবানীর পশু ক্রয়ের সামর্থ না থাকে), কিন্তু আমার কাছে এমন উট বা বকরী থাকে যার দুধ পানকরার জন্য বা মাল বহন করার জন্য তা প্রতিপালন করি। আমি কি তাকে কুরবানী করতে পারি? তিনি বললেনঃ না। বরং তুমি তোমার মাথার চুল, নখ ও গোঁফ কেটে ফেল এবং নাভির নীচের চুল পরিষ্কার কর। এ-ই আল্লাহর নিকট তোমার কুরবানী।

৭৯. মৃত ব্যক্তির পক্ষে কুরবানী করা।

باب الأُضْحِيَةِ عَنِ الْمَيِّتِ

২৭৮১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْحَسْنَاءِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ حَنَشٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৭৮১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... হানাশ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ)-কে দু‘টি দুম্বা যবেহ করতে দেখে জিজ্ঞাসা করি, ব্যাপার কি? তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে এরূপ ওসীয়ত করে গেছেন যে, আমি যেন (তাঁর ইনতিকালের পর) তাঁর পক্ষে কুরবানী করি। তাই আমি তাঁর পক্ষ হতে এ কুরবানী করছি।

৮০. যে ব্যক্তি কুরবানী করতে ইচ্ছা করে, সে যেন যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন চুল, নখ না কাটে।

باب الرَّجُلُ يَأْخُذُ مِنْ شَعْرِهِ فِي الْعَشْرِ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ

২৭৮২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُسْلِمٍ اللَّيْثِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ سَمِعْتُ أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أَهَلَّ هِلاَلُ ذِي الْحِجَّةِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «اخْتَلَفُوا عَلَى مَالِكٍ، وَعَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، فِي عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ بَعْضُهُمْ عُمَرُ، وَأَكْثَرُهُمْ قَالَ عَمْرٌو» قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَهُوَ عَمْرُو بْنُ مُسْلِمِ بْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيُّ الْجُنْدُعِيُّ»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৭৮২. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যার কাছে কুরবানীর পশু থাকবে এবং সে তাকে কুরবানী করতে চায়, তার উচিত হবে যিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর হতে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটা।

৮১. কুরবানীর জন্য কোন ধরনের পশু উত্তম।

باب مَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الضَّحَايَا

২৭৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِي سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِي سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِي سَوَادٍ فَأُتِيَ بِهِ فَضَحَّى بِهِ فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ هَلُمِّي الْمُدْيَةَ " . ثُمَّ قَالَ " اشْحَذِيهَا بِحَجَرٍ " . فَفَعَلَتْ فَأَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ وَذَبَحَهُ وَقَالَ " بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ " . ثُمَّ ضَحَّى بِهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৮৩. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপ দুম্বা কুরবানী করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যার দুটি শিং হবে নিখুঁত, আর পেট, বক্ষদেশ এবং পা হবে কাল রংয়ের। অতঃপর এরূপ দুম্বা তাঁর নিকট আনা হলে, তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! ছুরি নিয়ে এস। পরে তিনি বলেনঃ একে পাথরের উপর ঘষে ধারাল কর। অবশেষে তিনি ছুরি নেন এবং দুম্বাকে ধরে যমীনে শুইয়ে দেন এবং তাকে যবেহ করার সময় এ দুআ পাঠ করেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ

অর্থাৎ আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি। ইয়া আল্লাহ্! আপনি একে মুহাম্মাদ, আলে মুহাম্মাদ এবং উম্মতে মুহাম্মাদ এর পক্ষে কবুল করূন।

অতঃপর তিনি উক্ত দুম্বাকে কুরবানী করেন।
২৭৮৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَحَرَ سَبْعَ بَدَنَاتٍ بِيَدِهِ قِيَامًا وَضَحَّى بِالْمَدِينَةِ بِكَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৮৪. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) সাতটি উটকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নহর (কুরবানী) করেন এবং মদীনাতে এমন দু‘টি দুম্বা যবেহ করেন, যার শিং ছিল নিখুঁত এবং তার রং ছিল কালো।

২৭৮৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ضَحَّى بِكَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ يَذْبَحُ وَيُكَبِّرُ وَيُسَمِّي وَيَضَعُ رِجْلَهُ عَلَى صَفْحَتِهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৮৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দুটি শিং বিশিষ্ট কাল ও সাদা মিশ্রিত দুম্বা যবেহ করেন। তিনি যবেহের সময় তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলেন এবং বিসমিল্লাহ পাঠ করেন এবং তিনি তাঁর বাম পাটি দুম্বার কাঁধের উপর রাখেন।

২৭৮৬

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذَبَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الذَّبْحِ كَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ مُوجَأَيْنِ فَلَمَّا وَجَّهَهُمَا قَالَ " إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ " . ثُمَّ ذَبَحَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৮৬. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরবানীর দিন নবী (ﷺ) দু‘টি শিং বিশিষ্ট সাদা ও কালো মিশ্রিত দুম্বাকে কুরবানীর উদ্দেশ্যে কিবলামুখী করে শোয়ান এবং এই দুআ পাঠ করেনঃ

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

অর্থাৎ ‘আমি আমার চেহারা তাঁর দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি এককভাবে যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অর্ন্তর্ভূক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার হায়াত এবং আমার মৃত্যু আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি এরূপ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের শামিল। হে আল্লাহ্! এটি তোমারই পক্ষে এবং তোমারই জন্যে মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মতের তরফ হতে। বিসমিল্লাহ্ আল্লাহু আকবার।″

অতঃপর তিনি সে দুম্বাকে যবেহ করেন।
২৭৮৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُضَحِّي بِكَبْشٍ أَقْرَنَ فَحِيلٍ يَنْظُرُ فِي سَوَادٍ وَيَأْكُلُ فِي سَوَادٍ وَيَمْشِي فِي سَوَادٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৭৮৭. ইয়াহয়া ইবনে মু‘ঈন (রাহঃ) ..... আবু সা‘ঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপ শিং বিশিষ্ট মোটাতাজা দুম্বা কুরবানী করতেন, যার চোখ, মুখ ও পা কালো রং মিশ্রিত হতো।

৮২. কুরবানীর পশুর বয়স কত হবে সে সম্পর্কে।

باب مَا يَجُوزُ مِنَ السِّنِّ فِي الضَّحَايَا

২৭৮৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَذْبَحُوا إِلاَّ مُسِنَّةً إِلاَّ أَنْ يَعْسُرَ عَلَيْكُمْ فَتَذْبَحُوا جَذَعَةً مِنَ الضَّأْنِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৮৮. আহমদ ইবনে আবী শুআয়ব হাররানী (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ‘মুসিন্না’[১] ছাড়া (কম বয়সের পশু) কুরবানী করবে না। তবে যদি তা সংগ্রহ করা তোমাদের জন্য কষ্টকর হয়, তবে তোমরা ভেড়ার জাযাআহ[২]-ও যবেহ করতে পার।

২৭৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صُدْرَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طُعْمَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَصْحَابِهِ ضَحَايَا فَأَعْطَانِي عَتُودًا جَذَعًا - قَالَ - فَرَجَعْتُ بِهِ إِلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّهُ جَذَعٌ . قَالَ " ضَحِّ بِهِ " . فَضَحَّيْتُ بِهِ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৭৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে সাদরান (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে খালিদ জুহনী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের মাঝে কুরবানীর পশু বণ্টণ করেন। তখন তিনি আমাকে বকরীর এক বছর বয়সের একটি জাযাআ প্রদান করেন। তখন আমি সেটি নিয়ে তাঁর নিকট হাযির হই এবং বলিঃ এতো একটা জাযাআ মাত্র। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ওটিকে যবেহ কর। তখন আমি সেটিকে যবেহ করি।

২৭৯০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ مُجَاشِعٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ فَعَزَّتِ الْغَنَمُ فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " إِنَّ الْجَذَعَ يُوَفِّي مِمَّا يُوَفِّي مِنْهُ الثَّنِيُّ " قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَهُوَ مُجَاشِعُ بْنُ مَسْعُودٍ»

বর্ণনাকারী: আসিম ইবনে কুলাইব (রহঃ)

২৭৯০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আসিম ইবনে কুলায়ব (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবীর সঙ্গে ছিলাম, যার নাম ছিল মুজাশী’ এবং তিনি ছিলেন বনু সুলায়ম গোত্রের অধিবাসী। হঠাৎ এক বছর বকরী প্রায় দুষ্প্রাপ্র হয়ে পড়লে তিনি একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দিতে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলতেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য ছ‘মাস বয়সের দুম্বা কুরবানী করা যথেষ্ট হবে, যার জন্য এক বছর বয়সের বকরী যবেহ করার দরকার ছিল (এক বছর বয়সের বকরী না পাওয়ার কারণে)।

২৭৯১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ النَّحْرِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَالَ " مَنْ صَلَّى صَلاَتَنَا وَنَسَكَ نُسُكَنَا فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ وَمَنْ نَسَكَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَتِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ " . فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ نَسَكْتُ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَعَرَفْتُ أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ فَتَعَجَّلْتُ فَأَكَلْتُ وَأَطْعَمْتُ أَهْلِي وَجِيرَانِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ " . فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي عَنَاقًا جَذَعَةً وَهِيَ خَيْرٌ مِنْ شَاتَىْ لَحْمٍ فَهَلْ تُجْزِئُ عَنِّي قَالَ " نَعَمْ وَلَنْ تُجْزِئَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৭৯১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... বারা’আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর দিন ঈদের নামায আদায়ের পর আমাদের সামনে খুতবা দেন এবং বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমাদের মত নামায আদায় করেছে এবং আমাদের ন্যায় কুরবানী করেছে সে তো ঠিকমতই কুরবানী করেছে। কিন্তু যে ব্যক্তি নামাযের আগে কুরবানী করেছে, (সে কুরবানীর সাওয়াব পাবে না;) বরং তা হবে বকরীর গোশত মাত্র।

তখন আবু বুরদা ইবনে নিয়ার (রাযিঃ) দাঁড়ান এবং বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি এবং আমার এরূপ ধারণা ছিল যে, আজ তো পানাহারের দিন মাত্র। সে কারণে আমি জলদি করেছি এবং তা নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবার-পরিজন ও আমার প্রতিবেশীদেরও খেতে দিয়েছি।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ এটা বকরীর গোশত খাওয়া হয়েছে মাত্র। তখন আবু বুরদা (রাযিঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এক বছর বয়সের এমন একটি বকরী আছে, যা দু‘টি বকরীর গোশতের চাইতেও উত্তম, তা কুরবানী করা কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তবে তুমি ব্যতীত আর কারো জন্য এ ধরনের কুরবানী করা বৈধ হবে না।
২৭৯২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ ضَحَّى خَالٌ لِي يُقَالُ لَهُ أَبُو بُرْدَةَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عِنْدِي دَاجِنًا جَذَعَةً مِنَ الْمَعْزِ فَقَالَ " اذْبَحْهَا وَلاَ تَصْلُحُ لِغَيْرِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৭৯২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... বারা ‘ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু বুরদা নামক আমার জনৈক মামা ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তঁকে বলেনঃ তোমার বকরী তো গোশত হয়েছে (কুরবানী হয়নি)। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমার নিকট মোটা-তাজা ভেড়ার বাচ্চা আছে (আমি কি তা যবেহ করতে পারি)? তিনি বলেনঃ তুমি ঐটিকে যবেহ কর। তবে তুমি ছাড়া আর কারও জন্য এরূপ বৈধ নয়।

৮৩. কুরবানীর অনুপযোগী পশু প্রসঙ্গে।

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ الضَّحَايَا

২৭৯৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ، قَالَ سَأَلْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ مَا لاَ يَجُوزُ فِي الأَضَاحِي فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصَابِعِي أَقْصَرُ مِنْ أَصَابِعِهِ وَأَنَامِلِي أَقْصَرُ مِنْ أَنَامِلِهِ فَقَالَ " أَرْبَعٌ لاَ تَجُوزُ فِي الأَضَاحِي الْعَوْرَاءُ بَيِّنٌ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ بَيِّنٌ مَرَضُهَا وَالْعَرْجَاءُ بَيِّنٌ ظَلْعُهَا وَالْكَسِيرُ الَّتِي لاَ تَنْقَى " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ فِي السِّنِّ نَقْصٌ . قَالَ " مَا كَرِهْتَ فَدَعْهُ وَلاَ تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «لَيْسَ لَهَا مُخٌّ»

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৭৯৩. হাফস ইবনে উমর নামরী (রাহঃ) ..... উবাইদ ইবনে ফাইরূয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি বারা’আ ইবনে আযিব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, কুরবানীর জন্য কোন ধরনের পশু অবৈধ (অর্থাৎ যবেহের অযোগ্য)? তখন তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়ান। আমার আঙ্গুলগুলো তাঁর আঙ্গুল হতে ছোট ছিল এবং আমার আঙ্গুলগুলোর গিরাগুলোও তাঁর আঙ্গুলের গিরার চাইতে ছোট ছিল। তিনি চারটি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, চার ধরণের পশু কুরবানী করা বৈধ নয়, যথাঃ ১। স্পষ্ট কানা, ২। অসুস্থ বা রোগগ্রস্থ, যা স্পষ্ট বুঝা যায়, ৩। লেংড়া, যা বাহ্যত দেখা যায় এবং ৪। এত দুর্বল যে, হ্যাঁড় বেরিয়ে গেছে।

রাবী‘ বলেন, আমি বললাম, আমি তো ঐ ধরনের পশুকেও অযোগ্য বলে মনে করি, যাদের বয়স কম। তখন তিনি বলেনঃ যা তোমার পছন্দ হয় না, তা তুমি পরিত্যাগ কর। তবে তুমি অন্যকে এ ব্যাপারে নিষেধ করবে না।
২৭৯৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - الْمَعْنَى - عَنْ ثَوْرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو حُمَيْدٍ الرُّعَيْنِيُّ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ، ذُو مِصْرٍ قَالَ أَتَيْتُ عُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا الْوَلِيدِ إِنِّي خَرَجْتُ أَلْتَمِسُ الضَّحَايَا فَلَمْ أَجِدْ شَيْئًا يُعْجِبُنِي غَيْرَ ثَرْمَاءَ فَكَرِهْتُهَا فَمَا تَقُولُ قَالَ أَفَلاَ جِئْتَنِي بِهَا . قُلْتُ سُبْحَانَ اللَّهِ تَجُوزُ عَنْكَ وَلاَ تَجُوزُ عَنِّي قَالَ نَعَمْ إِنَّكَ تَشُكُّ وَلاَ أَشُكُّ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُصْفَرَّةِ وَالْمُسْتَأْصَلَةِ وَالْبَخْقَاءِ وَالْمُشَيَّعَةِ وَالْكَسْرَاءِ فَالْمُصْفَرَّةُ الَّتِي تُسْتَأْصَلُ أُذُنُهَا حَتَّى يَبْدُوَ سِمَاخُهَا وَالْمُسْتَأْصَلَةُ الَّتِي اسْتُؤْصِلَ قَرْنُهَا مِنْ أَصْلِهِ وَالْبَخْقَاءُ الَّتِي تَبْخَقُ عَيْنُهَا وَالْمُشَيَّعَةُ الَّتِي لاَ تَتْبَعُ الْغَنَمَ عَجْفًا وَضَعْفًا وَالْكَسْرَاءُ الْكَسِيرَةُ .

বর্ণনাকারী: উতবা ইবনে আবদ (রাঃ)

২৭৯৪. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ মিসরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি উতবা ইবনে আব্দুস সুলামীর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করি, ‘‘হে আবু ওয়ালীদ! আমি কুরবানীর পশুর সন্ধানে গিয়েছিলাম কিন্তু আমি পছন্দসই কোন পশু পাইনি একটি ছাড়া, যার কিছু দাঁত পড়ে গেছে। আমি সেটিকে ক্রয় করা ভাল মনে করিনি। এখন এ সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তখন তিনি বলেনঃ তুমি সেটিকে আমার জন্য আন নাই কেন? আমি বললামঃ সুবহানাল্লাহ্! সেটি আপনার জন্য জায়েয এবং আমার জন্য নাজায়েয? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তুমি তো সন্দেহ করছ, আর আমি তো সন্দেহ করছি না। বস্তুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসফারা, মুসতাসিলা, বাখকা, মুশায়‘ইয়া ও কাসরা পশুকে কুরবানী দিতে নিষেধ করেছেন।

১. মুসফারা ঐ পশুকে বলা হয়, যার কান এমনভাবে কাটা যে, কানের ছিদ্র দেখা যায়।

২. মুসতাসিলা ঐ পশুকে বলা হয়, যার শিং গোড়া থেকে উপড়ানো।

৩. বাখকা ঐ পশুকে বলা হয়, যার একটা চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

৪. মুশায়ইয়া ঐ পশুকে বলা হয়, যে অত্যান্ত দুর্বল ও কালোকায়, এমনকি সেটি বকরীর সাথেও চলতে অক্ষম এবং

৫. কাসরা ঐ পশুকে বলা হয়, যার হাত বা পা ভেঙে গিয়েছে।
২৭৯৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ النُّعْمَانِ، - وَكَانَ رَجُلَ صِدْقٍ - عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالأُذُنَيْنِ وَلاَ نُضَحِّيَ بِعَوْرَاءَ وَلاَ مُقَابَلَةٍ وَلاَ مُدَابَرَةٍ وَلاَ خَرْقَاءَ وَلاَ شَرْقَاءَ . قَالَ زُهَيْرٌ فَقُلْتُ لأَبِي إِسْحَاقَ أَذَكَرَ عَضْبَاءَ قَالَ لاَ . قُلْتُ فَمَا الْمُقَابَلَةُ قَالَ يُقْطَعُ طَرَفُ الأُذُنِ . قُلْتُ فَمَا الْمُدَابَرَةُ قَالَ يُقْطَعُ مِنْ مُؤَخَّرِ الأُذُنِ . قُلْتُ فَمَا الشَّرْقَاءُ قَالَ تُشَقُّ الأُذُنُ . قُلْتُ فَمَا الْخَرْقَاءُ قَالَ تُخْرَقُ أُذُنُهَا لِلسِّمَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৭৯৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের কুরবানীর পশুর চোখ, কান ভাল করে দেখতে বলেছেন। আর আমরা যেন কোন কানা পশু কুরবানী না করি, আর আমরা যেন এমন পশুও কুরবানী না করি যার কান সামনের বা পেছনের দিক হতে কাটা, অথবা যার কান লম্বালম্বিভাবে চিরে গেছে।

রাবী যুহাইর বলেন, তখন আমি আবু ইসহাক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি কি আযবা সম্পর্কে কিছু বলেছেন? তিনি বলেন, না। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ মুকাবিলা কি? তিনি বলেনঃ ঐ পশু, যার কানের পিছনের দিক কাটা। তখন আমি তাকে আবার জিজ্ঞাসা করিঃ মুদারিবা কি? তিনি বলেন, ঐ পশু যার কানের পিছনের দিক কাটা। তখন আমি তাকে আবার জিজ্ঞাসা করিঃ শুরাকা কি? তিনি বলেনঃ ঐ পশু, যার কান সম্পূর্ণরূপে কাটা। তখন আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিঃ খারকা কি? তিনি বলেনঃ ঐ পশু, যার কানের কোন চিহ্ন-ই নেই।
২৭৯৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الدَّسْتَوَائِيُّ، وَيُقَالُ، لَهُ هِشَامُ بْنُ سَنْبَرٍ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جُرَىِّ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُضَحَّى بِعَضْبَاءِ الأُذُنِ وَالْقَرْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ جُرَىٌّ سَدُوسِيٌّ بَصْرِيٌّ لَمْ يُحَدِّثْ عَنْهُ إِلاَّ قَتَادَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৭৯৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কান কাটা এবং শিং ভাঙা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করছেন।

২৭৯৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مَا الأَعْضَبُ قَالَ النِّصْفُ فَمَا فَوْقَهُ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

২৭৯৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সা‘ঈদ ইবনে মুসাঈয়্যাব (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আ‘যাব কি? তিনি বলেনঃ যে পশুর কান বা শিং ইত্যাদি অর্ধেকের বেশী কাটা বা ভাঙা এরূপ পশু।

৮৪. গাভী এবং উট কতজনের পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয প্রসঙ্গে।

باب فِي الْبَقَرِ وَالْجَزُورِ عَنْ كَمْ، تُجْزِئُ

২৭৯৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نَتَمَتَّعُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَذْبَحُ الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورَ عَنْ سَبْعَةٍ نَشْتَرِكُ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৯৮. আহমদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে হজ্জে তামাত্তু আদায় করতাম এবং একটি গাভী কুরবানীতে সাত ব্যক্তি শরীক হতাম এবং আমরা উট কুরবানী করতেও সাত ব্যক্তি শরীক হতাম।

২৭৯৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৯৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ গাভী ও উট সাত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী হয়ে যাবে।

২৮০০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮০০. কা`নবী (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে সাত ব্যক্তির পক্ষ হতে উট এবং সাত ব্যক্তির তরফ হতে গাভী কুরবানী করেছিলাম।

৮৫. জামাআতের পক্ষ হতে বকরী কুরবানী প্রসঙ্গে।

باب فِي الشَّاةِ يُضَحَّى بِهَا عَنْ جَمَاعَةٍ

২৮০১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي الإِسْكَنْدَرَانِيَّ - عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَضْحَى بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ مِنْ مِنْبَرِهِ وَأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَقَالَ " بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮০১. কুতায়বা ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ঈদুল আযহার দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে ঈদগাহে উপস্থিত হই। তিনি খুতবা শেষ করার পর যখন মিম্বর হতে অবতরণ করেন, তখন তাঁর নিকট একটি বকরী আনা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজ হাতে সেটি যবেহ করেন এবং এ সময় বলেনঃ বিসমিল্লাহ-হি আল্লাহু আকবার। এটি আমার তরফ হতে এবং আমার উম্মতের ঐ ব্যক্তিদের পক্ষ হতে, যারা কুরবানী করেনি।

৮৬. ইমামের কুরবানী ঈদগাহে করা প্রসঙ্গে।

باب الإِمَامِ يَذْبَحُ بِالْمُصَلَّى

২৮০২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَنَّ أَبَا أُسَامَةَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أُسَامَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَذْبَحُ أُضْحِيَتَهُ بِالْمُصَلَّى وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮০২. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তাঁর কুরবানী পশুকে ‘ঈদগাহে কুরবানী করতেন এবং ইবনে উমর (রাযিঃ)-ও এরূপ করতেন।

৮৭. কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ করা প্রসঙ্গে।

باب فِي حَبْسِ لُحُومِ الأَضَاحِي

২৮০৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ دَفَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ حَضْرَةَ الأَضْحَى فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادَّخِرُوا الثُّلُثَ وَتَصَدَّقُوا بِمَا بَقِيَ " . قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَفِعُونَ مِنْ ضَحَايَاهُمْ وَيَجْمُلُونَ مِنْهَا الْوَدْكَ وَيَتَّخِذُونَ مِنْهَا الأَسْقِيَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا ذَاكَ " . أَوْ كَمَا قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَهَيْتَ عَنْ إِمْسَاكِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا نَهَيْتُكُمْ مِنْ أَجْلِ الدَّافَّةِ الَّتِي دَفَّتْ عَلَيْكُمْ فَكُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَادَّخِرُوا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮০৩. কা‘নবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যামানায় জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু লোক ঈদুল আযহার সময় মদীনায় আসে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কুরবানীর গোশত তিন দিনের পরিমাণ মত সঞ্চিত রাখ এবং বাকী গোশত সাদ্‌কা করে দাও। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ এ ঘটনার বেশ কিছু দিন পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইতিপূর্বে লোকেরা তাদের গোশত দ্বারা অনেক দিন পর্যন্ত ফায়দা হাসিল করতো, তার চর্বি উঠিয়ে রাখত এবং তার চামড়া দিয়ে মশক তৈরী করত?

তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আসলে ব্যাপার কি বলতো, অথবা এ ধরনের কোন কিছু তিনি বলেন। তখন তাঁরা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এখন তো অপনি তিনদিনের বেশী কুরবানীর গোশত জমা রাখতে নিষেধ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ আমি তো তোমাদের এজন্য নিষেধ করছিলাম যে, জঙ্গল হতে কিছু লোক এসেছে, (তাই তারা যেন সাহায্যপ্রাপ্ত হতে থাকে)। অতএব এখন তোমরা খাও, সাদ্‌কা কর এবং কিছু জমাও রাখ।
২৮০৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ نُبَيْشَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّا كُنَّا نَهَيْنَاكُمْ عَنْ لُحُومِهَا أَنْ تَأْكُلُوهَا فَوْقَ ثَلاَثٍ لِكَىْ تَسَعَكُمْ فَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالسَّعَةِ فَكُلُوا وَادَّخِرُوا وَاتَّجِرُوا أَلاَ وَإِنَّ هَذِهِ الأَيَّامَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: নুবায়শাহ হুযালী (রাঃ)

২৮০৪. মুসাদ্দাদ .... নুবাইশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন যে, আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত খেতে এ জন্য নিষেধ করেছিলাম, যাতে তোমাদের সকলের কাছে তা পৌঁছে যায়। এখন আল্লাহ তোমাদের প্রাচুর্য দান করেছেন। কাজেই এখন তোমরা খাও, জমা রাখ, এবং সাওয়াব হাসিলের জন্য দান-খয়রাত ও করো। জেনে রাখ! এই দিনগুলো হল বিশেষ পানাহারের জন্য এবং মহান আল্লাহর স্মরণের জন্য।