كتاب الأقضية

১৯. বিচার-আদালত অধ্যায়

অধ্যায় ১৯ · ৬৯ টি হাদীস

৩৮৫. বিচারকের পদপ্রার্থী হওয়া সস্পর্কে।

باب فِي طَلَبِ الْقَضَاءِ

৩৫৩৩

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَلِيَ الْقَضَاءَ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৩৩. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ব্যতীত যবেহ করা হয়েছে।

৩৫৩৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، وَالأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৩৪. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে লোকদের মধ্যে বিচারক বানানো হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ব্যতীত যবেহ করা হয়েছে।

৩৮৬. বিচারকের দোষ-ক্রটি সম্পর্কে।

باب فِي الْقَاضِي يُخْطِئُ

৩৫৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَّانَ السَّمْتِيُّ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِي النَّارِ فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَهَذَا أَصَحُّ شَيْءٍ فِيهِ يَعْنِي حَدِيثَ ابْنِ بُرَيْدَةَ الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৩৫৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে হাসসান (রাহঃ) ..... বুরায়দা (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বিচারক তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণী জান্নাতে যাবে এবং দু’শ্রেণী জাহান্নামে যাবে। আর যে জান্নাতে যাবে সে ব্যক্তি তো এমন, যে সত্যকে জানার পর সে অনুযায়ী বিচার করবে। পক্ষান্তরে, যে বিচারক সত্যকে সত্য হিসাবে জানার পরও স্বীয় বিচারে জুলুম করবে, সে জাহান্নামে যাবে। আর সে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত ভুল বিচার করবে, সেও জাহান্নামে যাবে।

৩৫৩৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ " . فَحَدَّثْتُ بِهِ أَبَا بَكْرِ بْنَ حَزْمٍ فَقَالَ هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৩৫৩৬. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন বিচারক চিন্তা-ভাবনার পর সঠিক বিচার করে, তখন সে দ্বিগুণ সাওয়াবের অধিকারী হয়। আর চিন্তা-ভাবনার পরও যদি ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তখন সে এক গুণ সাওয়াব পায়।

৩৫৩৭

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ نَجْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ، يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - وَهُوَ أَبُو كَثِيرٍ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ طَلَبَ قَضَاءَ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَنَالَهُ ثُمَّ غَلَبَ عَدْلُهُ جَوْرَهُ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ غَلَبَ جَوْرُهُ عَدْلَهُ فَلَهُ النَّارُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৩৭. আব্বাস আনবারী (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুসলমানদের খিদমত করার উদ্দেশ্যে বিচারক নিযুক্ত হয় এবং তার ন্যায়-পরায়ণতা তার যুলুমের উপর প্রাধান্য পায়, সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তির যুলুম তার ইনসাফের উপর অধিক হবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামের উপযুক্ত হবে।

৩৫৩৮

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي يَحْيَى الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ ) إِلَى قَوْلِهِ ( الْفَاسِقُونَ ) هَؤُلاَءِ الآيَاتُ الثَّلاَثُ نَزَلَتْ فِي الْيَهُودِ خَاصَّةً فِي قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৩৮. ইবরাহীম ইবনে হামযা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এ আয়াতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফয়সালা করবে না, সে তো কাফির, যালিম এবং ফাসিক। এ তিনটি আয়াত বিশেষ রূপে বনু কুরায়যা এবং বনু নযীরের ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়।

৩৮৭. বিচারক হতে চাওয়া এবং দ্রুত বিচার করা।

باب فِي طَلَبِ الْقَضَاءِ وَالتَّسَرُّعِ إِلَيْهِ

৩৫৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ رَجَاءٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرٍ الأَنْصَارِيِّ الأَزْرَقِ، قَالَ دَخَلَ رَجُلاَنِ مِنْ أَبْوَابِ كِنْدَةَ وَأَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ جَالِسٌ فِي حَلْقَةٍ فَقَالاَ أَلاَ رَجُلٌ يُنَفِّذُ بَيْنَنَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْحَلْقَةِ أَنَا . فَأَخَذَ أَبُو مَسْعُودٍ كَفًّا مِنْ حَصًى فَرَمَاهُ بِهِ وَقَالَ مَهْ إِنَّهُ كَانَ يُكْرَهُ التَّسَرُّعُ إِلَى الْحُكْمِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে বিশর (রহঃ)

৩৫৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে বিশর আরযাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কিনদা গোত্রের দু’ব্যক্তি একটি মোকদ্দমা নিয়ে হাযির হয়। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ) হালকার মধ্যে বসে ছিলেন। তখন সে দু ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে, এখানে কি এমন কেউ আছেন, যিনি আমাদের ব্যাপারটি ফয়সালা করে দিতে পারেন? তখন হালকার মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলেঃ আমি ফায়সালা করে দেব। এ সময় আবু মাস’উদ (রাযিঃ) এক মুষ্টি কাঁকর নিয়ে তার প্রতি নিক্ষেপ করে বলেনঃ অপেক্ষা কর। বস্তুত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ) ফয়সালার ব্যাপারে জলদি করাকে খারাপ মনে করতেন।

৩৫৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ بِلاَلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ طَلَبَ الْقَضَاءَ وَاسْتَعَانَ عَلَيْهِ وُكِلَ إِلَيْهِ وَمَنْ لَمْ يَطْلُبْهُ وَلَمْ يَسْتَعِنْ عَلَيْهِ أَنْزَلَ اللَّهُ مَلَكًا يُسَدِّدُهُ " . . وَقَالَ وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ بِلَالِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وقَالَ أَبُو عَوَانَةَ: عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ بِلَالِ بْنِ مِرْدَاسٍ الْفَزَارِيِّ، عَنْ خَيْثَمَةَ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৫৪০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি চাকরী চাইবে এবং তা পাওয়ার জন্য লোক দিয়ে সুপারিশ করাবে, সে ব্যক্তি নিজেই নিজের যিম্মাদার হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি চাকরী চাইবে না এবং তার জন্য কাউকে দিয়ে সুপারিশও করাবে না। আল্লাহ তার সাহায্যের জন্য একজন ফিরিশতা পাঠান।

৩৫৪১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَنْ نَسْتَعْمِلَ - أَوْ لاَ نَسْتَعْمِلُ - عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৫৪১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন চাকরী চাইবে, আমরা কখনো তাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োগ করবো না।

৩৮৮. ঘুষের অপকারিতা সম্পর্কে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الرِّشْوَةِ

৩৫৪২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৫৪২. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুষদাতা এবং গ্রহীতার উপর লা’নত করেছেন।

২৮৯. কর্মচারীদের হাদিয়া বা উপঢৌকন গ্রহণ করা সম্পর্কে।

باب فِي هَدَايَا الْعُمَّالِ

৩৫৪৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنِي قَيْسٌ، قَالَ حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ عُمَيْرَةَ الْكِنْدِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ لَنَا عَلَى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِنْهُ مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَهُ فَهُوَ غُلٌّ يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَسْوَدُ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْبَلْ عَنِّي عَمَلَكَ . قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالَ سَمِعْتُكَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا . قَالَ " وَأَنَا أَقُولُ ذَلِكَ مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَلْيَأْتِ بِقَلِيلِهِ وَكَثِيرِهِ فَمَا أُوتِيَ مِنْهُ أَخَذَهُ وَمَا نُهِيَ عَنْهُ انْتَهَى " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫৪৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আদী ইবনে উমায়রা কিনদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে জনগণ! তোমাদের যে কেউ-ই আমাদের কোন কাজে নিয়োজিত থাকে এবং সে আদায়কৃত জিনিস হতে সুঁচ পরিমাণ জিনিসও গোপন করে, তবে তা আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে। কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি তা নিয়ে হাযির হবে। এ সময় আনসারদের মধ্য হতে জনৈক কালোকায় ব্যক্তি দাঁড়ালো, যাকে আমি এখনো দেখছি, এবং বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার নিকট হতে আপনার দেওয়া দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নিন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ কেন? তখন সে ব্যক্তি বলে, আমি শুনেছি আপনি এ সম্পর্কে এরূপ এরূপ বলেছেন। তখন তিনি বলেন, এতে আমার আশা এই যে, আমি যাকে কোন কাজে নিযুক্ত করি তার উচিৎ হলো-কমবেশী যাই আদায় হোক না কেন, তা আমার কাছে হাযির করে দেবে এবং এর বিনিময়ে তাকে যা দেওয়া হবে, সে তা গ্রহণ করবে, আর তাকে যে বস্তু গ্রহণ করতে মানা করা হবে, সে তা থেকে বিরত থাকবে।

৩৯০. বিচার কিরূপে করতে হবে।

باب كَيْفَ الْقَضَاءُ

৩৫৪৪

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ قَاضِيًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُرْسِلُنِي وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ وَلاَ عِلْمَ لِي بِالْقَضَاءِ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ سَيَهْدِي قَلْبَكَ وَيُثَبِّتُ لِسَانَكَ فَإِذَا جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْكَ الْخَصْمَانِ فَلاَ تَقْضِيَنَّ حَتَّى تَسْمَعَ مِنَ الآخَرِ كَمَا سَمِعْتَ مِنَ الأَوَّلِ فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يَتَبَيَّنَ لَكَ الْقَضَاءُ " . قَالَ فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا أَوْ مَا شَكَكْتُ فِي قَضَاءٍ بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৫৪৪. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ইয়ামানের কাযী নিযুক্ত করে পাঠান। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাকে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন যুবক মাত্র এবং বিচার করার মত কোন জ্ঞান-ই আমার নেই। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমার দিলকে হিদায়াত দেবেন এবং তোমার যবানকে সঠিক রাখবেন। কাজেই যখন দু’ব্যক্তি তোমার নিকট কোন মোকদ্দমা নিয়ে আসবে, তখন তুমি ততক্ষণ কোন ফয়সালা দেবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় ব্যক্তির বক্তব্য শ্রবণ করবে। কেননা, দু’ব্যক্তির বক্তব্য শোনার পর, তাদের ব্যাপারটি তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আলী (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি কাযী হিসাবে কর্তব্যরত থাকি এবং এ সময়ে কোন মোকদ্দমা ফয়সালার ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহে আপতিত হই নাই।

৩৯১. কাযীর বিচারে যদি কোন ভুল-চুক হয়।

باب فِي قَضَاءِ الْقَاضِي إِذَا أَخْطَأَ

৩৫৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ مِنْهُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ بِشَىْءٍ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৫৪৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমিও একজন মানুষ, আর তোমরা তো আমার কাছে মোকদ্দমা নিয়ে এসো। আর এও সম্ভব যে তোমাদের কেউ কেউ অন্যের বিরুদ্ধে স্বীয় দাবীকে উত্তমভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পার, যা শোনার পর আমি হয়তো তার পক্ষেই ফয়সালা দিয়ে দেই। এমতাবস্থায় আমি যদি কারো পক্ষে তার ভাই থেকে কিছু নেয়ার ফয়সালা করে দেই, তখন তার উচিত হবে স্বীয় ভাই থেকে কোন কিছু গ্রহণ না করা। কেননা, এমতাবস্থায় আমি যেন তাকে একখণ্ড আগুনের টুকরা দেই।

৩৫৪৬

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ يَخْتَصِمَانِ فِي مَوَارِيثَ لَهُمَا لَمْ تَكُنْ لَهُمَا بَيِّنَةٌ إِلاَّ دَعْوَاهُمَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِثْلَهُ فَبَكَى الرَّجُلاَنِ وَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا حَقِّي لَكَ . فَقَالَ لَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا إِذْ فَعَلْتُمَا مَا فَعَلْتُمَا فَاقْتَسِمَا وَتَوَخَّيَا الْحَقَّ . ثُمَّ اسْتَهِمَا ثُمَّ تَحَالاَّ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৫৪৬. রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়, যারা তাদের মীরাছের ব্যাপারে কলহ করছিল। আর তাদের উভয়ের পক্ষে তাদের দাবী ছাড়া অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। তখন নবী (ﷺ) উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেন, যা শুনে তারা দুজন কাঁদতে শুরু করে এবং তারা বলতে থাকেঃ আমার হক তারই প্রাপ্য। তখন নবী (ﷺ) তাদের উভয়কে সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা দু’জন যা করার তা করেছ, এখন তোমরা উভয়ের মধ্যে তা বণ্টন করে নাও এবং নিজের অংশ অনুযায়ী গ্রহণ কর। এরপর তারা উভয়ে দোষ স্বীকার করে এবং একজন অপর জনের কাছে ক্ষমা চায়।

৩৫৪৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ يَخْتَصِمَانِ فِي مَوَارِيثَ وَأَشْيَاءَ قَدْ دَرَسَتْ فَقَالَ " إِنِّي إِنَّمَا أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِرَأْيِي فِيمَا لَمْ يُنْزَلْ عَلَىَّ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৫৪৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর নিকট হতে শ্রবণ করেছি, যিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দু’ব্যক্তি মীরাছ এবং পুরাতন জিনিসের ব্যাপারে মামলা নিয়ে হাযির হয়। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের এ মোকদ্দমায় আমার ইচ্ছানুযায়ী ফয়সালা দেব, যার সম্পর্কে আমার উপর কোন হুকুম নাযিল হয়নি।

৩৫৪৮
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الرَّأْىَ إِنَّمَا كَانَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُصِيبًا لأَنَّ اللَّهَ كَانَ يُرِيهِ وَإِنَّمَا هُوَ مِنَّا الظَّنُّ وَالتَّكَلُّفُ .

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عُثْمَانَ الشَّامِيُّ، وَلاَ إِخَالُنِي رَأَيْتُ شَامِيًّا أَفْضَلَ مِنْهُ يَعْنِي حَرِيزَ بْنَ عُثْمَانَ

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩৫৪৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) মিম্বরের উপর বলেন যে, হে জনগণ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফয়সালা সঠিক হতো। কেননা, মহান আল্লাহ তাঁকে সঠিক জ্ঞান দান করেছিলেন, আর আমাদের মতামত হলো ধারণাভিত্তিক এবং মেহনতের ফল মাত্র।

আবু উসমান আম-শামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আমার (আবু উসমান) মতে হুরাইয ইবনু উসমানের চেয়ে কোন শামবাসীই অধিক উত্তম নয়।

৩৯২. বাদী-বিবাদী কাজীর সামনে কিরূপে বসবে?

باب كَيْفَ يَجْلِسُ الْخَصْمَانِ بَيْنَ يَدَىِ الْقَاضِي

৩৫৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْخَصْمَيْنِ يَقْعُدَانِ بَيْنَ يَدَىِ الْحَكَمِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৩৫৪৯. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ ফয়সালা দিয়েছেন যে, (বিচারের সময়) বাদী-বিবাদী উভয়েই কাযীর সামনে বসা থাকবে।

৩৯৩. রাগান্বিত অবস্থায় কাজী ফয়সালা দিলে।

باب الْقَاضِي يَقْضِي وَهُوَ غَضْبَانُ

৩৫৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى ابْنِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْضِي الْحَكَمُ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৩৫৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি তার পুত্রকে লেখেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাগান্বিত অবস্থায় কাযী যেন কোন মামলার রায় প্রদান না করে।

৩৯৪. যিম্মীদের[১] মধ্যে বিচার সম্পর্কে।

باب الْحُكْمِ بَيْنَ أَهْلِ الذِّمَّةِ

৩৫৫১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ) فَنُسِخَتْ قَالَ ( فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৫১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটিঃ

فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ

অর্থাৎ যদি কাফিররা আপনার নিকট আসে তবে আপনি তাদের মধ্যকার ঝগড়া মীমাংশা করে দেবেন, অথবা তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন, পরবর্তী আয়াতঃ

فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ

অর্থাৎ তুমি তাদের মধ্যকার ব্যাপারটি আল্লাহর হুকুম মুতাবিক ফয়সালা করে দেবে, দ্বারা রহিত হয়েছে।

[১] মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের যিম্মী বলা হয় । (অনুবাদক)

৩৯৪. যিম্মীদের মধ্যে বিচার সম্পর্কে।

باب الْحُكْمِ بَيْنَ أَهْلِ الذِّمَّةِ

৩৫৫২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ) ( وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ ) الآيَةَ قَالَ كَانَ بَنُو النَّضِيرِ إِذَا قَتَلُوا مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ أَدَّوْا نِصْفَ الدِّيَةِ وَإِذَا قَتَلَ بَنُو قُرَيْظَةَ مِنْ بَنِي النَّضِيرِ أَدَّوْا إِلَيْهِمُ الدِّيَةَ كَامِلَةً فَسَوَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৫২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ″যদি কাফিররা আপনার নিকট আসে, তবে আপনি তাদের মধ্যকার ঝগড়া মীমাংশা করে দেবেন, অথবা তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। আর যদি আপনি ফয়সালা করেন, তবে আপনি তাদের মাঝে ইনসাফের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়-বিচারকারীদের ভালবাসেন।″ (মায়িদাঃ ৪২)

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ এর আগে এরূপ নিয়ম ছিল যে, যখন বনু নযীর-কূরায়যা গোত্রের কাউকে হত্যা করতো, তখন তারা রক্তপণের অর্ধেক আদায় করতো। আর বনু কুরায়যার কেউ বনু নযীরের কাউকে হত্যা করলে, তখন তারা পূর্ণ রক্তপণ আদায় করতো। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ গোত্রের উপর সমান-সমান রক্তপন নির্ধারণ করে দেন।

৩৯৫. ফয়সালার ব্যাপারে ইজতিহাদ করা।

باب اجْتِهَادِ الرَّأْىِ فِي الْقَضَاءِ

৩৫৫৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أَخِي الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ أَهْلِ حِمْصَ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَبْعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ " كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ " . قَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ " . قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ فِي كِتَابِ اللَّهِ " . قَالَ أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلاَ آلُو . فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَهُ وَقَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩৫৫৩. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... হিমসের কতিপয় অধিবাসী মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) এর সাথীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মু’আয (রাযিঃ)-কে যখন ইয়ামানের শাসনকর্তা নিয়োগ করে প্রেরণের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কাছে যখন কোন মোকদ্দমা পেশ করা হবে, তখন তুমি কিরূপে তার ফয়সালা করবে? তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফয়সালা করবো। এরপর নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ যদি আল্লাহর কিতাবে এর কোন সমাধান না পাও? তখন মু’আয (রাযিঃ) বলেনঃ তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নত অনুযায়ী ফয়সালা করবো। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ যদি তুমি রাসূলের সুন্নতে এবং আল্লাহর কিতাবে এর কোন ফয়সালা না পাও? তখন তিনি বলেনঃ এমতাবস্থায় আমি চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে ইজতিহাদ করবো এবং এ ব্যাপারে কোনরূপ শৈথিল্য করবো না। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মু’আযের বুকে হাত মেরে বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দূতকে এরূপ তাওফীক দিয়েছেন, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্তুষ্ট হয়েছেন।

৩৫৫৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَوْنٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ نَاسٍ، مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩৫৫৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৯৬. সন্ধি সম্পর্কে।

باب فِي الصُّلْحِ

৩৫৫৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، أَوْ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ - شَكَّ الشَّيْخُ - عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصُّلْحُ جَائِزٌ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ " . زَادَ أَحْمَدُ " إِلاَّ صُلْحًا أَحَلَّ حَرَامًا أَوْ حَرَّمَ حَلاَلاً " . وَزَادَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৫৫. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের মধ্যে পরস্পর সন্ধি করা জায়েয।

ইমাম আহমদ এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কিন্তু এরূপ সন্ধি যা হালালকে হারাম করে এবং হারামকে হালাল করে--তা বৈধ নয়।

রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের উচিত দ্বীনের ব্যাপারে সন্ধির শর্তের উপর স্থির থাকা।
৩৫৫৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَشَفَ سِجْفَ حُجْرَتِهِ وَنَادَى كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ فَقَالَ " يَا كَعْبُ " . فَقَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَشَارَ لَهُ بِيَدِهِ أَنْ ضَعِ الشَّطْرَ مِنْ دَيْنِكَ قَالَ كَعْبٌ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قُمْ فَاقْضِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৩৫৫৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় ইবনে আবী হাদরাদের নিকট স্বীয় পাওনা আদায়ের জন্য মসজিদের মধ্যে তাগাদা দেন, যা তিনি তার নিকট পেতেন। এ সময় তাদের কথাবার্তা এমন প্রচণ্ডভাবে হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে তা পৌছে যায় এবং এ সময় তিনি তাঁর গৃহে অবস্থান করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সামনে বেরিয়ে আসেন এবং হুজরার পর্দা উঠিয়ে কা’ব ইবনে মালিককে আহবান করে বলেনঃ হে কা’ব! তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাযির আছি। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বলেনঃ তোমার পাওনার অর্ধেক মাফ করে দাও। কা’ব (রাযিঃ) বলেনঃ আমি অর্ধেক মাফ করে দিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর তিনি ইবনে আবী হাদরাদ (রাযিঃ)-কে বলেনঃ এখন উঠ এবং বাকী পাওনা আদায় করে দাও।

৩৯৭. সাক্ষী ও সাক্ষ্যদান সম্পর্কে।

باب فِي الشَّهَادَاتِ

৩৫৫৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ السَّرْحِ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي عَمْرَةَ الأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ الشُّهَدَاءِ الَّذِي يَأْتِي بِشَهَادَتِهِ أَوْ يُخْبِرُ بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا " . شَكَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَيَّتَهُمَا قَالَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَالِكٌ الَّذِي يُخْبِرُ بِشَهَادَتِهِ وَلاَ يَعْلَمُ بِهَا الَّذِي هِيَ لَهُ . قَالَ الْهَمْدَانِيُّ وَيَرْفَعُهَا إِلَى السُّلْطَانِ . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ أَوْ يَأْتِي بِهَا الإِمَامَ . وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ الْهَمْدَانِيِّ . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ ابْنَ أَبِي عَمْرَةَ . لَمْ يَقُلْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৩৫৫৭. ইবনে সারহ (রাহঃ) ..... খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের উত্তম সাক্ষী সম্পর্কে খবর দেব না? আর তা হলো সে ব্যক্তি, যে জিজ্ঞাসা করার আগে হাযির হয়ে সাক্ষ্য দেয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেছেনঃ এরূপ সাক্ষীর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে সাক্ষী দেয়, কিন্তু সে জানে না তার সাক্ষ্যদান কার জন্য উপকারী। (অর্থাৎ সে সত্য ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদান করে)।

৩৯৮. প্রকৃত ঘটনা না জানা সও্বেও যে ব্যক্তি বাদী-বিবাদীকে সাহায্য করে।

باب فِيمَنْ يُعِينُ عَلَى خُصُومَةٍ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَعْلَمَ أَمْرَهَا

৩৫৫৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ رَاشِدٍ، قَالَ جَلَسْنَا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَخَرَجَ إِلَيْنَا فَجَلَسَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ وَمَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৫৮. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... ইয়াহয়া ইবনে রাশিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর অপেক্ষায় বসে ছিলাম। এ সময় তিনি আমার কাছে এসে বসেন এবং বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়, সে যেন আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আর যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে কোন মিথ্যা মামলা দায়ের করে, যতক্ষণ না সে তা থেকে ফিরে আসে, ততক্ষণ সে আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে থাকে। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের উপর এমন মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, যা হতে সে পবিত্র এবং মুক্ত এমতাবস্থায় যতক্ষণ না সে তা থেকে তাওবা করবে, ততক্ষণ সে দোযখের কাদার মধ্যে আব্দ্ধ থাকবে।

৩৫৫৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ الْعُمَرِيُّ، حَدَّثَنِي الْمُثَنَّى بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " وَمَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُومَةٍ بِظُلْمٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫৫৯. আলী ইবনে হুমায়ন (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মামলায় সাহায্য করে, সে বস্তুত আল্লাহর গযব নিয়ে ফিরে যায়।

৩৯৯. মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান সস্পর্কে।

باب فِي شَهَادَةِ الزُّورِ

৩৫৬০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنِي سُفْيَانُ، - يَعْنِي الْعُصْفُرِيَّ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ النُّعْمَانِ الأَسَدِيِّ، عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَامَ قَائِمًا فَقَالَ " عُدِلَتْ شَهَادَةُ الزُّورِ بِالإِشْرَاكِ بِاللَّهِ " . ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَرَأَ ( فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ * حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ ) .

বর্ণনাকারী: খুরায়ম ইবনে ফাতিক (রাঃ)

৩৫৬০. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... খুরাইম ইবনে ফাতিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামায আদায় শেষে দাঁড়িয়ে তিনবার বলেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য আল্লাহর সঙ্গে শিরক সম অপরাধ। এরপর তিনি কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা হতে দূরে থাক এবং মিথ্যা বলা পরিহার কর, একমাত্র আল্লাহর দিকে একাগ্রচিত্তে মুখ ফিরাও তাঁর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করে।

৪০০. যার সাক্ষ্য গ্রহণীয় নয়।

باب مَنْ تُرَدُّ شَهَادَتُهُ

৩৫৬১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَدَّ شَهَادَةَ الْخَائِنِ وَالْخَائِنَةِ وَذِي الْغِمْرِ عَلَى أَخِيهِ وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ لأَهْلِ الْبَيْتِ وَأَجَازَهَا لِغَيْرِهِمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْغِمْرُ الْحِنَةُ وَالشَّحْنَاءُ وَالْقَانِعُ الأَجِيرُ التَّابِعُ مِثْلُ الأَجِيرِ الْخَاصِّ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৫৬১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খিয়ানতকারী পুরুষ এবং স্ত্রীর সাক্ষ্য, স্বীয় ভ্রাতার প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং চাকর-বকর ও অধীনস্থদের সাক্ষ্য তার পরিবারের পক্ষে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অন্যান্য লোকদের অনুমতি দিয়েছেন।

৩৫৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ طَارِقٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، بِإِسْنَادِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلاَ خَائِنَةٍ وَلاَ زَانٍ وَلاَ زَانِيَةٍ وَلاَ ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ " .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে মুসা (রহঃ)

৩৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনে খালফ (রাহঃ) .... সুলাইমান ইবনে মুসা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খিয়ানতকারী পুরুষ ও স্ত্রীর সাক্ষ্য, যিনাকার নর-নারীর সাক্ষ্য এবং স্বীয় ভ্রাতার প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণীয় নয়।

৪০১. শহরবাসীদের উপর গ্রামবাসীদের সাক্ষ্যদান।

باب شَهَادَةِ الْبَدَوِيِّ عَلَى أَهْلِ الأَمْصَارِ

৩৫৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَنَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ بَدَوِيٍّ عَلَى صَاحِبِ قَرْيَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৬৩. আহমদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বর্ণনা করতে শোনেন যে, শহরবাসীদের উপর গ্রামবাসীদের সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ নয়।[১]

[১] সাধারণতঃ গ্রামের অধিবাসীরা সহজ ও সরল প্রকৃতির হয়ে থাকে ; পক্ষান্তরে, শহরের অধিবাসীরা দুর্ত ও চালাক স্বভাবের হয়, সেজন্য তারা তাদের আচার-আচরণ সম্পর্কে সঠিক সংবাদ জানতে পারে না। অধিকন্তু গ্রাম্যলোকেরা মূর্খ ও হিতাহিত জ্ঞান বিবর্জিত হয়ে থাকে, আর শহুরেরা শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত, তাই গ্রাম্য মূর্খদের সাক্ষ্য শহুরেদের পক্ষে বা বিপক্ষে বৈধ নয়। (অনুবাদক)

৪০২. দুধ পান করানোর ব্যাপারে সাক্ষ্যদান।

باب الشَّهَادَةِ فِي الرَّضَاعِ

৩৫৬৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ الْحَارِثِ، وَحَدَّثَنِيهِ صَاحِبٌ، لِي عَنْهُ - وَأَنَا لِحَدِيثِ، صَاحِبِي أَحْفَظُ - قَالَ تَزَوَّجْتُ أُمَّ يَحْيَى بِنْتَ أَبِي إِهَابٍ فَدَخَلَتْ عَلَيْنَا امْرَأَةٌ سَوْدَاءُ فَزَعَمَتْ أَنَّهَا أَرْضَعَتْنَا جَمِيعًا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَأَعْرَضَ عَنِّي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَكَاذِبَةٌ . قَالَ " وَمَا يُدْرِيكَ وَقَدْ قَالَتْ مَا قَالَتْ دَعْهَا عَنْكَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৩৫৬৪. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... ইবনে আবী মুলায়কা (রাহঃ) বলেন, উকবা ইবনে হারিছ (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আমার একজন বন্ধুও আমার নিকট উকবা (রাযিঃ) হতে ঐ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমার বন্ধুর বর্ণিত হাদীসটি আমার খুবই স্মরণ আছে।

উকবা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি উম্মু ইয়াহয়া বিনতে আবু ইহাবকে বিয়ে করেছিলাম। এরপর কাল রংয়ের একজন মহিলা আমাদের কাছে এসে বলেঃ আমি তোমাদের দুজনকে দুধ পান করিয়েছি। একথা শুনে আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করি। কিন্তু তিনি আমার বক্তব্যের প্রতি কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মহিলাটি তো মিথ্যাবাদী। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তা কিরূপে জানলে? সে যা বলার, তা তো বলেছে। সুতরাং তুমি তোমার স্ত্রীকে পরিত্যাগ কর।[১]

[১] আলোচ্য হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, দুগ্ধদানকারিণী মহিলার সাক্ষ্য দুধপান করানোর ব্যাপারে গ্রহণীয় হবে। শরীআতের বিধানে দুধ বোনের সাথে বিবাহ বৈধ নয়। অজান্তে তার সাথে বিয়ে হয়ে গেলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে। (অনুবাদক)
৩৫৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُمَيْرٍ الْبَصْرِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ، - وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ، عُقْبَةَ وَلَكِنِّي لِحَدِيثِ عُبَيْدٍ أَحْفَظُ - فَذَكَرَ مَعْنَاهُ ، فَقَالَ: «هَذَا مِنْ ثِقَاتِ أَصْحَابِ أَيُّوبَ»

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবনে হারিস (রাঃ)

৩৫৬৫. আহমদ ইবনে আবী শুআয়ব (রাহঃ) .... উকবা ইবনে হারিছ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এটা উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে শ্রবণ করেছি। কিন্তু আমি রাবী উবাইদ হতে যা শুনেছি, তা-ই আমার অধিক স্মরণ আছে। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

৪০৩. সফরকালীন সময়ের ওসীয়ত সম্পর্কে যিম্মী কাফিরের সাক্ষ্যদান।

باب شَهَادَةِ أَهْلِ الذِّمَّةِ وَفِي الْوَصِيَّةِ فِي السَّفَرِ

৩৫৬৬

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الْمُسْلِمِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ بِدَقُوقَاءَ هَذِهِ وَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُشْهِدُهُ عَلَى وَصِيَّتِهِ فَأَشْهَدَ رَجُلَيْنِ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَقَدِمَا الْكُوفَةَ فَأَتَيَا أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ فَأَخْبَرَاهُ وَقَدِمَا بِتَرِكَتِهِ وَوَصِيَّتِهِ . فَقَالَ الأَشْعَرِيُّ هَذَا أَمْرٌ لَمْ يَكُنْ بَعْدَ الَّذِي كَانَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَأَحْلَفَهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ بِاللَّهِ مَا خَانَا وَلاَ كَذِبَا وَلاَ بَدَّلاَ وَلاَ كَتَمَا وَلاَ غَيَّرَا وَإِنَّهَا لَوَصِيَّةُ الرَّجُلِ وَتَرِكَتُهُ فَأَمْضَى شَهَادَتَهُمَا .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৩৫৬৬. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) .... শাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মুসলিম ব্যক্তির দাকুকা নামক স্থানে মৃত্যুর সময় সেখানে অন্য কোন মুসলমান উপস্থিত ছিল না, যাকে সে ওসীয়তের সাক্ষী রেখে যেতে পারে। সুতরাং সে কিতাবধারী দু ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে যায়। এরপর তারা উভয়ে কুফায় এসে আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করে। তিনি তা শুনে বলেনঃ এতো এমন ব্যাপার, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগেও একবার ঘটেছিল। এরপর তিনি আসরের নামায আদায় শেষে সে দু’ব্যক্তিকে ঐ কথা সম্পর্কে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, তারা তাদের বর্ণনায় খিয়ানত করেনি, কিছু গোপন করেনি, আর না কোন ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে। আর সে মৃত ব্যক্তির ওসীয়ত এই এবং তার পরিত্যক্ত মালও এসব। তাদের এরূপ সাক্ষ্য দেওয়ার পর আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) তাদের সাক্ষ্যের পক্ষে ফয়সালা দেন।

৩৫৬৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَهْمٍ مَعَ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَعَدِيِّ بْنِ بَدَّاءَ فَمَاتَ السَّهْمِيُّ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا مُسْلِمٌ فَلَمَّا قَدِمَا بِتَرِكَتِهِ فَقَدُوا جَامَ فِضَّةٍ مُخَوَّصًا بِالذَّهَبِ فَأَحْلَفَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ وُجِدَ الْجَامُ بِمَكَّةَ فَقَالُوا اشْتَرَيْنَاهُ مِنْ تَمِيمٍ وَعَدِيٍّ فَقَامَ رَجُلاَنِ مِنْ أَوْلِيَاءِ السَّهْمِيِّ فَحَلَفَا لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَإِنَّ الْجَامَ لِصَاحِبِهِمْ . قَالَ فَنَزَلَتْ فِيهِمْ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ ) الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৬৭. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের জনৈক লোক তামিমদারি ও আদি ইবনে বাদদা (নামক দুইজন খৃষ্টানের সাথে) সফরে গমন করেন। এরপর সাহম গোত্রের লোকটি এমন স্থানে মারা যায়, যেখানে কোন মুসলমান উপস্থিত ছিল না। পরে যখন তারা দুই জন সে ব্যক্তির পরিত্যাক্ত সম্পদ নিয়ে আসে, তখন তারা একটি রূপার গ্লাস গোপন করে, যার উপর সোনার কারুকার্য করা ছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে সে সম্পর্কে কসম করতে বলেন। পরে সে গ্লাসটি মক্কায় পাওয়া যায় এবং যার কাছে পাওয়া যায় সে বলে আমি এটি তামিম ও আদি থেকে ক্রয় করেছি। এসময় সাহমি গোত্রের দুই জন দাঁড়ায় এবং শপথ করে বলে যে, আমাদের সাক্ষ্য তো অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য হতে অধিক গ্রহণীয়। এ গ্লাস তো আমাদের গোত্রের লোকের। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের পরস্পরের সাক্ষ্য যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপিস্থিত ......... শেষ পর্যন্ত।

৪০৪. কোন একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য সত্য বলে বিশ্বাস হলে বিচারক তার সাক্ষ্যের প্রেক্ষিতে ফয়সালা করতে পারেন।

باب إِذَا عَلِمَ الْحَاكِمُ صِدْقَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ يَجُوزُ لَهُ أَنْ يَحْكُمَ بِهِ

৩৫৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ، أَنَّ عَمَّهُ، حَدَّثَهُ وَهُوَ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ابْتَاعَ فَرَسًا مِنْ أَعْرَابِيٍّ فَاسْتَتْبَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَقْضِيَهُ ثَمَنَ فَرَسِهِ فَأَسْرَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَشْىَ وَأَبْطَأَ الأَعْرَابِيُّ فَطَفِقَ رِجَالٌ يَعْتَرِضُونَ الأَعْرَابِيَّ فَيُسَاوِمُونَهُ بِالْفَرَسِ وَلاَ يَشْعُرُونَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ابْتَاعَهُ فَنَادَى الأَعْرَابِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنْ كُنْتَ مُبْتَاعًا هَذَا الْفَرَسَ وَإِلاَّ بِعْتُهُ . فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ سَمِعَ نِدَاءَ الأَعْرَابِيِّ فَقَالَ " أَوَلَيْسَ قَدِ ابْتَعْتُهُ مِنْكَ " . فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ لاَ وَاللَّهِ مَا بِعْتُكَهُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بَلَى قَدِ ابْتَعْتُهُ مِنْكَ " . فَطَفِقَ الأَعْرَابِيُّ يَقُولُ هَلُمَّ شَهِيدًا . فَقَالَ خُزَيْمَةُ بْنُ ثَابِتٍ أَنَا أَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَايَعْتَهُ . فَأَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى خُزَيْمَةَ فَقَالَ " بِمَ تَشْهَدُ " . فَقَالَ بِتَصْدِيقِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهَادَةَ خُزَيْمَةَ بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উমারা ইবনে খুযায়মা (রহঃ)

৩৫৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহহিয়া (রাহঃ) .... উমরা ইবনে খুযাইমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর চাচা তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (ﷺ) এর সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) একজন মরুবাসি বেদুঈন থেকে একটি ঘোড়া ক্রয় করেন। এরপর নবী (ﷺ) তাকে সাথে নিয়ে রওয়ানা দেন, যাতে তিনি সে ব্যক্তির ঘোড়ার মূল্য পরিশোধ করে দিতে পারেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্রুত গমন করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু সে বেদুঈন লোকটি পথিমধ্যে দেরি করতে চাচ্ছিল। এমন সময় কিছু লোক তার নিকট উপস্থিত হয়ে ঘোড়ার দাম জিজ্ঞাসা করে; অথচ তারা জানত না যে, নবী (ﷺ) সেটি ক্রয় করেছেন।

তখন সে বেদুঈন লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ডেকে বলেঃ আপনি যদি এ ঘোড়া ক্রয় করতে চান, তবে ক্রয় করুন, নয়ত আমি অন্যত্র বিক্রি করে দিব। তখন নবী (ﷺ) তার আওয়াজ শুনে দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি কি এ ঘোড়া তোমার নিকট থেকে ক্রয় করিনি? তখন সে বললঃ না। আল্লাহ্‌র শপথ! এ সময় নবী (ﷺ) বলেনঃ বিক্রি কিরূপে করনি, অথচ আমি তো তোমার নিকট হতে খরিদ করেছি। তখন সে বলেঃ তা হলে আপনি সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করুন। একথা শুনে খুযাইমা ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি তার নিকট হতে ঘোড়া খরিদ করেছেন। তখন নবী (ﷺ) খুযাইমাকে সম্বোধন করে বলেনঃ তুমি কিরূপে সাক্ষ্য দিচ্ছ? জবাবে খুযাইমা (রাযিঃ) বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! এ জন্য যে, আমি আপনাকে সত্যবাদী বলে মনে করি। তখন রাসুল (ﷺ) খুযাইমার সাক্ষ্যকে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য এর সমান বলে ঘোষণা দেন।
৪০৫. সাক্ষী ব্যতীত কোন জিনিসের ব্যাপারে দু’ব্যক্তির দাবীদার হওয়া সম্পর্কে।একটি শপথ ও একজন সাক্ষীর উপর বিচার করা।
باب الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ وَالشَّاهِدِ

باب الرَّجُلَيْنِ يَدَّعِيَانِ شَيْئًا وَلَيْسَتْ لَهُمَا بَيِّنَةٌ

৩৫৬৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ الْحُبَابِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا سَيْفٌ الْمَكِّيُّ، - قَالَ عُثْمَانُ سَيْفُ بْنُ سُلَيْمَانَ - عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِيَمِينٍ وَشَاهِدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৬৯. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি শপথ ও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর মামলার বিচার নিষ্পত্তি করেন।

৪০৫একটি শপথ ও একজন সাক্ষীর উপর বিচার করা।

باب الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ وَالشَّاهِدِ

৩৫৭০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ سَلَمَةُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ عَمْرٌو فِي الْحُقُوقِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনু দীনার (রহঃ)

৩৫৭০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী সালামা তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেছেনঃ এরূপ ফয়সালা হকের ব্যাপারে হতে পারে। (তবে হদ বা শাস্তির ফয়সালার ব্যাপারে অবশ্যই দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন)।

৪০৫. একটি শপথ ও একজন সাক্ষীর উপর বিচার করা।

باب الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ وَالشَّاهِدِ

৩৫৭১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَبُو مُصْعَبٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَنِي الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ أَخْبَرَنِي الشَّافِعِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِسُهَيْلٍ فَقَالَ أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ - وَهُوَ عِنْدِي ثِقَةٌ - أَنِّي حَدَّثْتُهُ إِيَّاهُ وَلاَ أَحْفَظُهُ . قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَدْ كَانَ أَصَابَتْ سُهَيْلاً عِلَّةٌ أَذْهَبَتْ بَعْضَ عَقْلِهِ وَنَسِيَ بَعْضَ حَدِيثِهِ فَكَانَ سُهَيْلٌ بَعْدُ يُحَدِّثُهُ عَنْ رَبِيعَةَ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৭১. আহমদ ইবনে আবী বকর (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একটি শপথ এবং একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর মামলার বিচার নিষ্পত্তি করেন।[১]

[১] ইমাম আবু হানীফা (র.)-এর মতে, কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেক মামলার স্বাক্ষীর জন্য দু'জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দু'জন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্যদান একান্ত জরুরী। (অনুবাদক)
৩৫৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادٌ، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، بِإِسْنَادِ أَبِي مُصْعَبٍ وَمَعْنَاهُ . قَالَ سُلَيْمَانُ فَلَقِيتُ سُهَيْلاً فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ مَا أَعْرِفُهُ . فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ رَبِيعَةَ أَخْبَرَنِي بِهِ عَنْكَ . قَالَ فَإِنْ كَانَ رَبِيعَةُ أَخْبَرَكَ عَنِّي فَحَدِّثْ بِهِ عَنْ رَبِيعَةَ عَنِّي .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫৭২. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... সুলাইমান ইবনে বিলাল (রাহঃ) রাবীআ (রাযিঃ) হতে মাসআবের বর্ণিত সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী সুলাইমান (রাহঃ) বলেনঃ আমি সুহাঈল (রাযিঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে এ হাদীস সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি এ হাদীস সম্পর্কে অবহিত নই। এরপর আমি তাঁকে বলি যে, রাবী’আ আপনার পক্ষ হতে এ হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তখন তিনি বলেনঃ রাবীআ যদি আমার পক্ষ হতে এটি তোমার কাছে বর্ণনা করে থাকে, তবে তুমিও এটি আমার পক্ষ হতে রাবীআ থেকে বর্ণনা কর।

৩৫৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْبِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ جَدِّيَ الزُّبَيْبَ، يَقُولُ بَعَثَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَيْشًا إِلَى بَنِي الْعَنْبَرِ فَأَخَذُوهُمْ بِرُكْبَةٍ مِنْ نَاحِيَةِ الطَّائِفِ فَاسْتَاقُوهُمْ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَكِبْتُ فَسَبَقْتُهُمْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ أَتَانَا جُنْدُكَ فَأَخَذُونَا وَقَدْ كُنَّا أَسْلَمْنَا وَخَضْرَمْنَا آذَانَ النَّعَمِ فَلَمَّا قَدِمَ بَلْعَنْبَرُ قَالَ لِي نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ لَكُمْ بَيِّنَةٌ عَلَى أَنَّكُمْ أَسْلَمْتُمْ قَبْلَ أَنْ تُؤْخَذُوا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " مَنْ بَيِّنَتُكَ " . قُلْتُ سَمُرَةُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي الْعَنْبَرِ وَرَجُلٌ آخَرُ سَمَّاهُ لَهُ فَشَهِدَ الرَّجُلُ وَأَبَى سَمُرَةُ أَنْ يَشْهَدَ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَبَى أَنْ يَشْهَدَ لَكَ فَتَحْلِفُ مَعَ شَاهِدِكَ الآخَرِ " . قُلْتُ نَعَمْ . فَاسْتَحْلَفَنِي فَحَلَفْتُ بِاللَّهِ لَقَدْ أَسْلَمْنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا وَخَضْرَمْنَا آذَانَ النَّعَمِ . فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبُوا فَقَاسِمُوهُمْ أَنْصَافَ الأَمْوَالِ وَلاَ تَمَسُّوا ذَرَارِيَهُمْ لَوْلاَ أَنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ ضَلاَلَةَ الْعَمَلِ مَا رَزَيْنَاكُمْ عِقَالاً " . قَالَ الزُّبَيْبُ فَدَعَتْنِي أُمِّي فَقَالَتْ هَذَا الرَّجُلُ أَخَذَ زِرْبِيَّتِي فَانْصَرَفْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي فَأَخْبَرْتُهُ - فَقَالَ لِي " احْبِسْهُ " . فَأَخَذْتُ بِتَلْبِيبِهِ وَقُمْتُ مَعَهُ مَكَانَنَا ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْنَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمَيْنِ فَقَالَ " مَا تُرِيدُ بِأَسِيرِكَ " . فَأَرْسَلْتُهُ مِنْ يَدِي فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِلرَّجُلِ " رُدَّ عَلَى هَذَا زِرْبِيَّةَ أُمِّهِ الَّتِي أَخَذْتَ مِنْهَا " . فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّهَا خَرَجَتْ مِنْ يَدِي . قَالَ فَاخْتَلَعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَيْفَ الرَّجُلِ فَأَعْطَانِيهِ . وَقَالَ لِلرَّجُلِ " اذْهَبْ فَزِدْهُ آصُعًا مِنْ طَعَامٍ " . قَالَ فَزَادَنِي آصُعًا مِنْ شَعِيرٍ .

বর্ণনাকারী: যুবায়ব আনবারী (রাঃ)

৩৫৭৩. আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) .... শুআয়ব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার দাদা যুবায়ব আনবারী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আনবরের প্রতি একটি সেনাদল প্রেরণ করেন। যারা তাদেরকে তায়েফের নিকটবর্তী স্থান রুকবাম্বতে বন্দী করে নবী (ﷺ)-এর নিকট পেশ করেন। আমি অশ্বারোহী সৈন্য ছিলাম। তাই আমি তাদের আগে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ হে আল্লাহর নবী! আপনার প্রতি সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। (তিনি বলেনঃ) আপনার সেনাবাহিনী আমাদের কাছে উপস্থিত হয়ে আমাদের বন্দী করেছে, অথচ আমরা তো ইসলাম কবুল করেছি এবং আমাদের পশুর কান চিরে দিয়েছি।

এর পর আনবর গোত্রের লোকেরা যখন উপস্থিত হলো, তখন নবী (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা যে ইসলাম গ্রহণ করছো, এর কোন সাক্ষী-প্রমাণ আছে কি, যখন তোমরা বন্দী হয়েছো? তখন আমি বলি, হ্যাঁ আছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করে কে সেই সাক্ষী? আমি বলিঃ সামুরা, যিনি আনবর গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এবং আরো একজন- যার নাম সে বলে। তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিলেও সামুরা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে। এ সময় নবী (ﷺ) বলেনঃ সে তো তোমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেছে, এখন তুমি তোমার দ্বিতীয় সাক্ষীর সাথে শপথ করতে পার কি? আমি বলিঃ হ্যাঁ।

তখন তিনি আমাকে শপথ করতে বলেন এবং আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলিঃ আমরা অমুক অমুক দিন ইসলাম কবুল করেছি এবং আমাদের পশুর কান চিরে দিয়েছি। একথা শুনে নবী (ﷺ) তাঁর সৈন্যদলকে এরূপ নির্দেশ দেনঃ যাও, তোমরা তাদের অর্ধেক মাল ভাগ-বণ্টন করে নাও এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের স্পর্শ করবে না। এরপর তিনি বলেনঃ যদি মহান আল্লাহ মুজাহিদদের চেষ্টা অহেতুক হওয়াকে অপছন্দ না করতেন, তবে আমরা তোমাদের মাল হতে একটি রশিও গ্রহণ করতাম না।

যুবায়ব বলেনঃ এ সময় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন যে, এ লোকটি আমার তোশক ছিনিয়ে নিয়েছে। তখন আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাকে অবহিত করি। তখন তিনি আমাকে বলেনঃ তাকে গ্রেফতার কর। তখন আমি তার গলায় কাপড় দিয়ে তাকে পাকড়াও করি এবং আমাদের অবস্থানে ফিরে যাই। তখন নবী (ﷺ) আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলেনঃ তুমি তোমার বন্দীর কাছে কি চাচ্ছ? এসময় আমি তাকে ছেড়ে দিই। তখন নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে তাকে এরূপ নির্দেশ দেনঃ তুমি তার মায়ের তোশক ফিরিয়ে দাও, যা তুমি ছিনিয়ে নিয়েছ। তখন সে বলেঃ হে আল্লাহর নবী! তা তো আমার কাছে নেই।

রাবী বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) সে ব্যক্তির তরবারি তার থেকে নিয়ে আমাকে প্রদান করেন এবং তাকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, তাকে আরো কিছু খাদ্য- শস্য প্রধান করো।

যাবীব বলেনঃ তখন সে ব্যক্তি আমাকে যবের কিছু অংশও প্রদান করে।

৪০৬. সাক্ষী ব্যতীত কোন জিনিসের ব্যাপারে দু’ব্যক্তির দাবীদার হওয়া সম্পর্কে।

باب الرَّجُلَيْنِ يَدَّعِيَانِ شَيْئًا وَلَيْسَتْ لَهُمَا بَيِّنَةٌ

৩৫৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، ادَّعَيَا بَعِيرًا أَوْ دَابَّةً إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا بَيِّنَةٌ فَجَعَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৫৭৪. মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ...... সাঈদ ইবনে আবু বুরদা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা আবু মুসা আসআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দু’ব্যক্তি কোন উট বা কোন পশুর ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর নিকটে দাবী পেশ করে। কিন্তু তাদের কারো পক্ষে কোন সাক্ষী ছিলো না। তখন নবী (ﷺ) তাদের জন্য তা থেকে অর্ধেক-অর্ধেক অংশ নির্ধারিত করে দেন।

৩৫৭৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৫৭৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... সাঈদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৫৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، بِمَعْنَى إِسْنَادِهِ أَنَّ رَجُلَيْنِ، ادَّعَيَا بَعِيرًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا شَاهِدَيْنِ فَقَسَمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا نِصْفَيْنِ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৩৫৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... কাতাদা (রাহঃ) একই সনদে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় দু’ব্যক্তি একটি উটের মালিকানার ব্যাপারে দাবী করে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি দুজন সাক্ষী পেশ করে। তখন নবী (ﷺ) তাদের উভয়ের মধ্যে উটটি সমান ভাবে বণ্টন করে দেন।

৩৫৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلاَسٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، اخْتَصَمَا فِي مَتَاعٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا بَيِّنَةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اسْتَهِمَا عَلَى الْيَمِينِ مَا كَانَ أَحَبَّا ذَلِكَ أَوْ كَرِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু’ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট একটি জিনিসের ব্যাপারে দাবী করে। এদের দুজনের পক্ষে কোন সাক্ষীই ছিলো না। তখন নবী (ﷺ) তাদের দু’জনের কসমের উপর লটারী করার নির্দেশ দেন, চাই সে তা ভাল মনে করুক বা না করুক, (অর্থাৎ লটারীতে যার নাম আগে আসবে, সে কসম করে তা নিয়ে নেবে)।

৩৫৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - قَالَ أَحْمَدُ قَالَ - حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَرِهَ الاِثْنَانِ الْيَمِينَ أَوِ اسْتَحَبَّاهَا فَلْيَسْتَهِمَا عَلَيْهَا " . قَالَ سَلَمَةُ قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ وَقَالَ إِذَا أُكْرِهَ الاِثْنَانِ عَلَى الْيَمِينِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৭৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন দু’ব্যক্তি কসম খেতে অপছন্দ করবে বা উভয়েই কসম করার জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তাদের কসমের ব্যবস্থা লটারীর মাধ্যমে করা উচিত (অর্থাৎ যার নাম লটারীতে আগে আসবে, সে কসম করে তা নিয়ে নেবে।)

৩৫৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، بِإِسْنَادِ ابْنِ مِنْهَالٍ مِثْلَهُ قَالَ فِي دَابَّةٍ وَلَيْسَ لَهُمَا بَيِّنَةٌ فَأَمَرَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْتَهِمَا عَلَى الْيَمِينِ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে আবি আরূবা (রহঃ)

৩৫৭৯. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে আরূবা (রাহঃ) ইবনে নিহালের সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেনঃ দু’ব্যক্তি একটি পশুকে কেন্দ্র করে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, অথচ তাদের কারো পক্ষে কোন সাক্ষী ছিলো না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দু’জনকে কসমের উপর লটারী করতে হুকুম দেন।

৪০৬(খ). বিবাদীর শপথ করা সম্পর্কে।

باب الْيَمِينِ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ

৩৫৮০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْيَمِينِ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

৩৫৮০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে মুলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমার নিকট লেখেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিবাদীর জন্য শপথ করার ফয়সালা প্রদান করেন।

৪০৭. কসম কিভাবে করতে হবে।

باب كَيْفَ الْيَمِينُ

৩৫৮১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ - يَعْنِي لِرَجُلٍ حَلَّفَهُ - " احْلِفْ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ مَا لَهُ عِنْدَكَ شَىْءٌ " . يَعْنِي لِلْمُدَّعِي ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: أَبُو يَحْيَى: اسْمُهُ زِيَادٌ كُوفِيٌّ ثِقَةٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫৮১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে কসম দেওয়ার সময় বলেন, সে যেন এরূপ বলেঃ আমি আল্লাহর নামে কসম করছি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমার কাছে বাদীর কোন জিনিস নেই।

৪০৮. বিবাদী যদি যিম্মী (কাফির) হয়, তবে সে কিরূপে শপথ করবে?

باب إِذَا كَانَ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ ذِمِّيًّا أَيَحْلِفُ

৩৫৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنِ الأَشْعَثِ، قَالَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قُلْتُ لاَ . قَالَ لِلْيَهُودِيِّ " احْلِفْ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفَ وَيَذْهَبَ بِمَالِي . فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: আশআস ইবনে কায়স (রাঃ)

৩৫৮২. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আশ’আস ইবনু ক্বাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং জনৈক ইয়াহুদী একটি যমীনে শরীক ছিলাম। সে তা অস্বীকার করলে, আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হই। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার পক্ষে কোন সাক্ষী আছে কি? আমি বলিঃ না। এর পর তিনি ইয়াহুদীকে শপথ করার জন্য নির্দেশ দেন। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো শপথ করে আমার মাল নিয়ে যাবে। এ সময় আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করে, কসম করে কিছু মাল খরিদ করবে, আখিরাতে সে কিছুই পাবে না ....। এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (আলে ইমরানঃ ৭৭)

৪০৯. কোন ব্যাপারে জানা না থাকলে বিবাদীকে সে ব্যাপারে কসম দেওয়া সস্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يَحْلِفُ عَلَى عِلْمِهِ فِيمَا غَابَ عَنْهُ

৩৫৮৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي كُرْدُوسٌ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ كِنْدَةَ وَرَجُلاً مِنْ حَضْرَمَوْتَ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَرْضٍ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُو هَذَا وَهِيَ فِي يَدِهِ . قَالَ " هَلْ لَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ وَلَكِنْ أُحَلِّفُهُ وَاللَّهِ مَا يَعْلَمُ أَنَّهَا أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُوهُ . فَتَهَيَّأَ الْكِنْدِيُّ يَعْنِي لِلْيَمِينِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: আশআস ইবনে কায়স (রাঃ)

৩৫৮৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আশআছ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কিনদা গোত্রের এক ব্যক্তি এবং হাযরা মাউতের এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট ইয়ামানের একটি যমীন সম্পর্কে মামলা দায়ের করে। হাজারামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার যমীন এই কিনদীর পিতা যবর দখল করে নিয়েছে, যা এর কাছে আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে কোন সাক্ষী আছে কি? তখন সে বলেঃ না, তবে আমি তার নিকট হতে এরূপ শপথ চাই, সে বলুক যে, আমি জানি না, আমার পিতা এ জমি যবর দখল করেছে। এ কথা শুনে কিনদী গোত্রের লোকটি কসম করার জন্য তৈরী হয়। এভাবে হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

৩৫৮৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لأَبِي فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَكَ يَمِينُهُ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ فَاجِرٌ لَيْسَ يُبَالِي مَا حَلَفَ لَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَىْءٍ . فَقَالَ " لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلاَّ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৩৫৮৪. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর হাযরামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা হাজারা-মাউত ও কিনদার দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়। তখন হাজারমী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার পৈতৃক সম্পত্তি যবর দখল করেছে! একথা শুনে কিনদী বলেঃ এতো আমার যমীন, যা আমার দখলে আছে। আমি এতে ফসল ফলাই এবং এ যমীনে তার কোন হক নেই। তখন নবী (ﷺ) হাজারামীকে বলেনঃ এ ব্যাপারে তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? সে বলে, না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার হকের ব্যাপারে তার শপথ গ্রহণযোগ্য হবে। তখন সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো গুনাহগার, সে শপথ করতে একটুও ইতস্ত করবে না। কেননা সে কোন কিছুই পরহিয করে না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার এ ছাড়া আর বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই।

৪১০. কাফির যিম্মীকে কিরূপে শপথ দিতে হবে?

باب كَيْفَ يَحْلِفُ الذِّمِّيُّ

৩৫৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا رَجُلٌ، مِنْ مُزَيْنَةَ - وَنَحْنُ عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي لِلْيَهُودِ " أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ عَلَى مَنْ زَنَى " . - وَسَاقَ الْحَدِيثَ فِي قِصَّةِ الرَّجْمِ -،

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ইয়াহুদীকে বলেনঃ আমি তোমাকে ঐ আল্লাহর শপথ দিচ্ছি, যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেন। তোমরা তাওরাত কিতাবে যিনাকারী সম্পর্কে কি হুকুম পেয়েছ?

৩৫৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ مُزَيْنَةَ مِمَّنْ كَانَ يَتَّبِعُ الْعِلْمَ وَيَعِيهِ يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহঃ)

৩৫৮৬. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে হাদীসটি সনদসহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমার কাছে মুযায়না গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি ইলমের অনুসারী এবং এর সংরক্ষণকারীও ছিলেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৫৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ يَعْنِي لاِبْنِ صُورِيَا " أُذَكِّرُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي نَجَّاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ وَأَقْطَعَكُمُ الْبَحْرَ وَظَلَّلَ عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلَ عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى وَأَنْزَلَ عَلَيْكُمُ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى أَتَجِدُونَ فِي كِتَابِكُمُ الرَّجْمَ " . قَالَ ذَكَّرْتَنِي بِعَظِيمٍ وَلاَ يَسَعُنِي أَنْ أَكْذِبَكَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩৫৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) তাকে, অর্থাৎ ইবনে সুরিয়া (ইয়াহুদী আলিম)-কে বলেনঃ আমি তোমাদের সে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যিনি তোমাদের ফির’আউনের কওম থেকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং সমুদ্রের মাঝে তোমাদের জন্য রাস্তা তৈরী করে দিয়েছিলেন, তোমাদের উপর মেঘের ছায়া দিয়েছিলেন, আর নাযিল করেছিলেন তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া এবং নাযিল করেন তোমাদের উপর তাওরাত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে। তোমাদের কিতাবের মধ্যে ’রজম’ অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে মারার নির্দেশ আছে কি? তখন ইবনে সুরিয়া বলেনঃ আপনি তো আমাকে বড় কসম দিলেন, এখন আমার এমন সাধ্য নেই যে, আমি আপনার নিকট মিথ্যা বলব। এরপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

৪১১. স্বীয় অধিকার আদায়ের জন্য হলফ করা।

باب الرَّجُلِ يَحْلِفُ عَلَى حَقِّهِ

৩৫৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، وَمُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ سَيْفٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ . فَقَالَ الْمَقْضِيُّ عَلَيْهِ لَمَّا أَدْبَرَ حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَلُومُ عَلَى الْعَجْزِ وَلَكِنْ عَلَيْكَ بِالْكَيْسِ فَإِذَا غَلَبَكَ أَمْرٌ فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ " .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৫৮৮. আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) ..... আউফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) দু’ব্যক্তির মধ্যে একটি মামলার ফয়সালা করে দেন। যার বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়, সে ফেরার সময় বলেঃ আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্ম বিধায়ক। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মানুষের বেয়াকুফীর জন্য তাকে ভর্ৎসনা করেন। তোমার উচিত ছিলো হুশিয়ারীর সাথে কাজ করা। তখন যদি তুমি পরাভূত হতে, তবে তোমার জন্য আল্লাহ-ই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্ম বিধায়কঃ বলা উচিত হতো।

৪১২. দেনার কারণে কাউকে কয়েদ করা যায় কিনা?

باب فِي الْحَبْسِ فِي الدَّيْنِ وَغَيْرِهِ

৩৫৮৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ وَبْرِ بْنِ أَبِي دُلَيْلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَىُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ " . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ يُحِلُّ عِرْضَهُ يُغَلَّظُ لَهُ وَعُقُوبَتَهُ يُحْبَسُ لَهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শারীদ (রহঃ)

৩৫৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শারীদ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মালদার ব্যক্তি যদি দেনা পরিশোধ করতে গড়িমসি করে, তবে সে গালমন্দ শোনার ও অসম্মানের পাত্র হয় এবং সে ব্যক্তি শাস্তির উপযুক্ত হয়।

রাবী ইবনে মুবারক বলেনঃ অসম্মানের পাত্র হওয়ার অর্থ, তাকে এ জন্য গালমন্দ করা হয় এবং কটু কথা শোনান হয়। আর শাস্তির অর্থ হলো, তাকে বন্দী করা হয়।
৩৫৯০

حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا هِرْمَاسُ بْنُ حَبِيبٍ، - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِغَرِيمٍ لِي فَقَالَ لِي " الْزَمْهُ " . ثُمَّ قَالَ لِي " يَا أَخَا بَنِي تَمِيمٍ مَا تُرِيدُ أَنْ تَفْعَلَ بِأَسِيرِكَ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫৯০. মু’আয ইবনে আসাদ (রাহঃ) ..... হিরমাস ইবনে হাবীব (রাহঃ), যিনি জঙ্গলে বসবাস করতেন, তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমি একজন করযদার ব্যক্তিকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হই। তখন তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি তার সাথে সাথে অবস্থান কর। এরপর তিনি আমাকে বলেনঃ হে বনু তামীমের ভাই! তুমি তোমার কয়েদীর নিকট কি চাচ্ছ?

৩৫৯১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَبَسَ رَجُلاً فِي تُهْمَةٍ .

বর্ণনাকারী: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

৩৫৯১. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... বাহায ইবনে হাকীম (রাযিঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী (ﷺ) জৈনিক ব্যক্তিকে অপবাদ দেওয়ার কারণে বন্দী করেন।

৩৫৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، وَمُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، - قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ - حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، - قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ - إِنَّ أَخَاهُ أَوْ عَمَّهُ وَقَالَ مُؤَمَّلٌ - إِنَّهُ قَامَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ فَقَالَ جِيرَانِي بِمَا أَخَذُوا . فَأَعْرَضَ عَنْهُ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خَلُّوا لَهُ عَنْ جِيرَانِهِ " . لَمْ يَذْكُرْ مُؤَمَّلٌ وَهُوَ يَخْطُبُ .

বর্ণনাকারী: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

৩৫৯২. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ..... বাহায ইবনে হাকীম (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী (ﷺ) খুতবা দেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমার প্রতিবেশীকে দেনার কারণে আটক রাখা হয়েছে, তিনি দুবার এরূপ উচ্চারণ করেন। এরপর তিনি বলেনঃ কিছু জিনিসের জন্য। তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি তার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দাও। রাবী মুআম্মাল (রাহঃ) খুতবা পাঠের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

৪১৩. উকিল সম্পর্কে।

باب فِي الْوَكَالَةِ

৩৫৯৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، قَالَ أَرَدْتُ الْخُرُوجَ إِلَى خَيْبَرَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ لَهُ إِنِّي أَرَدْتُ الْخُرُوجَ إِلَى خَيْبَرَ . فَقَالَ " إِذَا أَتَيْتَ وَكِيلِي فَخُذْ مِنْهُ خَمْسَةَ عَشَرَ وَسْقًا فَإِنِ ابْتَغَى مِنْكَ آيَةً فَضَعْ يَدَكَ عَلَى تَرْقُوَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫৯৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আমি খায়বর যাওয়ার ইচ্ছা করি, তখন আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ আমি খায়বর যাওয়ার ইরাদা করেছি। এ সময় তিনি বলেনঃ যখন তুমি আমার উকিলের সাথে সাক্ষাত করবে, তখন তুমি তার কাছ থেকে পনের উসক খেজুর নিয়ে নিবে। যদি সে এ ব্যাপারে তোমার কাছে কোন নিদর্শন দাবী করে, তবে তুমি তোমার হাত তাঁর ঘাড়ের উপর রাখবে।[১]

[১] সম্ভবতঃ নবী (স.) তাঁর উকীলকে এ নির্দেশনের কথা আগেই বলে দিয়েছিলেন যে, যদি কেউ তোমার ঘাড়ে হাত রাখে, তবে মনে করবে, সে আমার পক্ষ হতে প্রেরিত ব্যক্তি এবং সে যা বলবে তা আমার নির্দেশ মনে করে পান করবে। (অনুবাদক)

৪১৪. বিচার সম্পর্কে আরো আলোচনা।

باب فِي الْقَضَاءِ

৩৫৯৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ كَعْبٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَدَارَأْتُمْ فِي طَرِيقٍ فَاجْعَلُوهُ سَبْعَةَ أَذْرُعٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৯৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন রাস্তার ব্যাপারে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হবে, তখন সাত হাত রাস্তা ছেড়ে দেবে, (যাতে চলাচলকারীদের অসুবিধা না হয়।)

৩৫৯৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا اسْتَأْذَنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ فَلاَ يَمْنَعْهُ " . فَنَكَسُوا فَقَالَ مَا لِي أَرَاكُمْ قَدْ أَعْرَضْتُمْ لأُلْقِيَنَّهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثُ ابْنِ أَبِي خَلَفٍ وَهُوَ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫৯৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ভাই তোমাদের নিকট এজন্য অনুমতি চায় যে, সে তার দেওয়ালে খুঁটি লাগাবে, তখন তোমরা তাকে নিষেধ করবে না। এ কথা শুনে সকলে মাথা ঝুঁকিয়ে অসম্মতি জ্ঞাপন করে।

তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের এ হাদীস হতে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখছি কেন? আর আমি তো একে তোমাদের কাঁধের উপর রাখব, (অর্থাৎ বারবার বলে আমল করাবার চেষ্টা করবো।)
৩৫৯৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ لُؤْلُؤَةَ، عَنْ أَبِي صِرْمَةَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ غَيْرُ قُتَيْبَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي صِرْمَةَ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ ضَارَّ أَضَرَّ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ شَاقَّ شَاقَّ اللَّهُ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু সিরমাহ (রাঃ)

৩৫৯৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু সারমা (রাযিঃ), যিনি নবী (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন, তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে কেউ অন্যের ক্ষতি করবে, মহান আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। আর যে কেউ অকারণে অন্যের প্রতি শক্রতা করবে, আল্লাহ তার শক্র হয়ে যাবেন।

৩৫৯৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ، مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ يُحَدِّثُ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّهُ كَانَتْ لَهُ عَضُدٌ مِنْ نَخْلٍ فِي حَائِطِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ وَمَعَ الرَّجُلِ أَهْلُهُ قَالَ فَكَانَ سَمُرَةُ يَدْخُلُ إِلَى نَخْلِهِ فَيَتَأَذَّى بِهِ وَيَشُقُّ عَلَيْهِ فَطَلَبَ إِلَيْهِ أَنْ يَبِيعَهُ فَأَبَى فَطَلَبَ إِلَيْهِ أَنْ يُنَاقِلَهُ فَأَبَى فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَطَلَبَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيعَهُ فَأَبَى فَطَلَبَ إِلَيْهِ أَنْ يُنَاقِلَهُ فَأَبَى . قَالَ " فَهَبْهُ لَهُ وَلَكَ كَذَا وَكَذَا " . أَمْرًا رَغَّبَهُ فِيهِ فَأَبَى فَقَالَ " أَنْتَ مُضَارٌّ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلأَنْصَارِيِّ " اذْهَبْ فَاقْلَعْ نَخْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৫৯৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ....... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একজন আনসারের বাগানে তারও কিছু খেজুর গাছ ছিলো এবং সে আনসারের সাথে তার পরিবার পরিজনও ছিলো। আর সামুরা (রাযিঃ) যখন বাগানে যেতেন তখন আনসারী এতে কষ্টবোধ করতেন এবং তার আগমন অপছন্দ করতেন। বস্তুত আনসার সাহাবী এরূপ ইচ্ছা করতেন যে, সামুরা (রাযিঃ) তার খেজুর গাছগুলো তার কাছে বিক্রি করুক। কিন্তু তিনি তা বিক্রি করতে রাযী ছিলেন না। তখন আনসারী সাহাবী নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ব্যাপারটি তাকে অবহিত করেন। তখন নবী (ﷺ) সামুরা (রাযিঃ)-কে সে গাছগুলো বিক্রি করে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা বিক্রি করতে অস্বীকার করেন।

পরে নবী (ﷺ) তাকে তা বিনিময় করে নিতে বললেও তিনি তাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। অবশেষে নবী (ﷺ) সামুরাকে বলেনঃ তুমি অমুক অমুক নিয়ে তা দান করে দাও। নবী (ﷺ) তাকে বার বার এরূপ বলা সত্ত্বেও সামুরা (রাযিঃ) তা করতে অস্বীকার করেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তো কেবল কষ্টদানকারী! অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসার সাহাবীকে বলেনঃ তুমি যাও এবং তার গাছগুলো উপড়ে ফেলে দাও।
৩৫৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلاً خَاصَمَ الزُّبَيْرَ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرُّ . فَأَبَى عَلَيْهِ الزُّبَيْرُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ " اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ إِلَى جَارِكَ " . فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ " . فَقَالَ الزُّبَيْرُ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسِبُ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ ( فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ ) الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৩৫৯৮. আবুল ওয়ালীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি যুবাইর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে প্রস্তরময় যমীনের উপর প্রবাহিত নর্দমার ব্যাপারে ঝগড়া করে। যা দিয়ে ক্ষেতে পানি দেওয়া হতো। আনসার ব্যক্তিটি পানির নর্দমা খুলে দেওয়ার জন্য বলতো যাতে তা প্রবাহিত হতে পারে, কিন্তু যুবাইর (রাযিঃ) তা খুলে দিতে অস্বীকার করতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাইর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে যুবাইর! তুমি তোমার ক্ষেত ভর্তি করে পানি দেওয়ার পর তা তোমার প্রতিবেশীর জন্য খুলে দেবে। একথা শুনে আনসার লোকটি রাগান্বিত হয়ে বলেঃ যুবাইর কি আপনার ফুফীর ছেলে নন? তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা রাগে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এর পরও তিনি বলেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেত পানিতে ভর্তি হওয়ার পরও তুমি পানি ততক্ষণ আটকে রাখবে যতক্ষণ না তা আইলের (বাঁধের) সমান হয়। যুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ আমার ধারণা পরবর্তী আয়াতটি এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়। যার অর্থ হলোঃ ″আপনার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের মামলার বিচারক নিযুক্ত করে এবং আপনার দেওয়া ফয়সালাকে নিজের অন্তরে মেনে নেয়।″ (নিসাঃ ৬৫)

৩৫৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ، - يَعْنِي ابْنَ كَثِيرٍ - عَنْ أَبِي مَالِكِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَ كُبَرَاءَهُمْ، يَذْكُرُونَ أَنَّ رَجُلاً، مِنْ قُرَيْشٍ كَانَ لَهُ سَهْمٌ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ فَخَاصَمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَهْزُورٍ - يَعْنِي السَّيْلَ الَّذِي يَقْتَسِمُونَ مَاءَهُ - فَقَضَى بَيْنَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْمَاءَ إِلَى الْكَعْبَيْنِ لاَ يَحْبِسُ الأَعْلَى عَلَى الأَسْفَلِ .

বর্ণনাকারী: ছা'লাবা ইবনে আবু মালিক (রাঃ)

৩৫৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... ছা’লাবা ইবনে আবু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার মুরবীদের এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, কুরাইশ বংশীয় জনৈক ব্যক্তি বনু কূরায়যার সাথে পানির অংশের ব্যাপারে শরীক ছিলো। তখন সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি নর্দমার ব্যাপারে মামলা দায়ের করে, যার পানি সকলে বণ্টন করে নিতো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মাঝে এরূপ ফয়সালা করে দেনঃ যতক্ষণ না পানি গোছা পর্যন্ত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত উপরের ক্ষেতের মালিক নীচের ক্ষেতের মালিকের জন্য পানি ছাড়বে না।

৩৬০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِي السَّيْلِ الْمَهْزُورِ أَنْ يُمْسَكَ حَتَّى يَبْلُغَ الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُرْسِلُ الأَعْلَى عَلَى الأَسْفَلِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৬০০. আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাহযূর (ময়দানের) নালার ব্যাপারে এরূপ ফয়সালা দেনঃ যতক্ষণ না ক্ষেতের মধ্যে গোছা পরিমাণ পানি হয়, ততক্ষণ পানি আটকে রাখবে। এরপর উপরের ক্ষেতের মালিক নীচের ক্ষেতের মালিকের জন্য পানি ছেড়ে দেবে।

৩৬০১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عُثْمَانَ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي طُوَالَةَ، وَعَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ اخْتَصَمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ فِي حَرِيمِ نَخْلَةٍ - فِي حَدِيثِ أَحَدِهِمَا فَأَمَرَ بِهَا فَذُرِعَتْ فَوُجِدَتْ سَبْعَةَ أَذْرُعٍ وَفِي حَدِيثِ الآخَرِ - فَوُجِدَتْ خَمْسَةَ أَذْرُعٍ فَقَضَى بِذَاكَ . قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ فَأَمَرَ بِجَرِيدَةٍ مِنْ جَرِيدِهَا فَذُرِعَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৬০১. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে একটি খেজুর গাছের শাখার ব্যাপারে মামলা দায়ের করেন। একটি বর্ণনায় আছেঃ তখন নবী (ﷺ) তা মেপে দেখার জন্য নির্দেশ দেন। সেটি মাপার পর তা সাত হাট লম্বা পাওয়া যায়। অপর বর্ণনা মতে তা পাঁচ হাত লম্বা ছিলো। তখন নবী (ﷺ) তার উপর ফয়সালা প্রদান করেন। রাবী আব্দুল আযীয (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) সে গাছের একটি শাখা মাপার জন্য নির্দেশ দেন। ফলে তা মাপা হয়।