كتاب الأيمان والنذور

১৭. শপথ ও মান্নতের বিধান

অধ্যায় ১৭ · ৮০ টি হাদীস

২৬৪. মিথ্যা কসম খাওয়া কঠোর অপরাধ।

باب التَّغْلِيظِ فِي الأَيْمَانِ الْفَاجِرَةِ

৩২২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ مَصْبُورَةٍ كَاذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ بِوَجْهِهِ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩২২৭. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ বাযযার (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন হাকিমের আদালতে বন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।

২৬৫. যে ব্যক্তি অন্যের মাল আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম খাবে।

باب فِيمَنْ حَلَفَ يَمِينًا لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالاً

৩২২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ " . فَقَالَ الأَشْعَثُ فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قُلْتُ لاَ . قَالَ لِلْيَهُودِيِّ " احْلِفْ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفُ وَيَذْهَبُ بِمَالِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩২২৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের ধন-সস্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমতাবস্থায় সাক্ষাত করবে যে, আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন।

তখন রাবী আশ’আছ (রাহঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! এ হাদীস তো তিনি (রাসূল (ﷺ)) আমার সম্পর্কে বলেছেন। কেননা, আমার এবং একজন ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় একটি জমি ছিল, যা সে আমাকে দিতে ধোঁকাবাজি করে। তখন আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে হাযির হই। নবী (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার পক্ষে কোন সাক্ষী আছে কি? আমি বলিঃ না। তখন তিনি ইয়াহুদীকে বলেনঃ তুমি কসম খাও। আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো কসম খেয়ে আমার অংশ নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ

إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً

অর্থাৎ যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে সামান্য সম্পদ খরিদ করে, তারা আখিরাতে কিছুই পাবে না। আল্লাহ আখিরাতে তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি দৃকপাতও করবেন না বরং তারা কঠিন আযাবে গ্রেফতার হবে।
৩২২৯

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي كُرْدُوسٌ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ كِنْدَةَ وَرَجُلاً مِنْ حَضْرَمَوْتَ اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَرْضٍ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُو هَذَا وَهِيَ فِي يَدِهِ . قَالَ " هَلْ لَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ وَلَكِنْ أُحَلِّفُهُ وَاللَّهِ مَا يَعْلَمُ أَنَّهَا أَرْضِي اغْتَصَبَنِيهَا أَبُوهُ فَتَهَيَّأَ الْكِنْدِيُّ لِلْيَمِينِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْتَطِعُ أَحَدٌ مَالاً بِيَمِينٍ إِلاَّ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ أَجْذَمُ " . فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضُهُ .

বর্ণনাকারী: আশআস ইবনে কায়স (রাঃ)

৩২২৯. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... আশ’আছ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কিনদা গোত্রের একজন এবং হাযরামূতের একজন-এ দু’ব্যক্তি ইয়ামানের একটি যমীনের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে। হাযরামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তির পিতা আমার যমীন যবরদখল করেছে, যা এখনও তার দখলে রয়েছে। তিনি বলেনঃ তোমার কি কোন সাক্ষী আছে? তখন সে বলেঃ না। তবে আপনি তাকে এভাবে কসম করতে বলুনঃ আল্লাহর কসম! সে জানে না যে, এ জমি আমার ছিল, যা তার পিতা জোর করে আমার নিকট হতে নিয়ে নিয়েছে। তখন কিনদা গোত্রের লোকটি কসম করার জন্য তৈরী হয়। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তার হাত ও পা কাটা হবে। তখন কিনদা গোত্রের লোকটি বলেঃ এ জমিটি তার।

৩২৩০

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لأَبِي . فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَكَ يَمِينُهُ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ فَاجِرٌ لاَ يُبَالِي مَا حَلَفَ عَلَيْهِ لَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَىْءٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلاَّ ذَاكَ " . فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ لَهُ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالٍ لِيَأْكُلَهُ ظَالِمًا لَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ " .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৩২৩০. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর হাযরামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাযরামূত ও কিনদা গোত্রের দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়। তখন হাযরামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার পিতার জমি জোর করে দখল করেছে। এ সময় কিনদা গোত্রের লোকটি বলেঃ ঐ জমি তো আমার, আমি নিজেই সেখানে ফসল উৎপন্ন করি। সেখানে তার কোন অধিকার নেই। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) হাযরামীকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে কি কোন সাক্ষী আছে? তখন সে বলেঃ না। এ সময় তিনি বলেনঃ যদি তোমার পক্ষে কোন সাক্ষী না থাকে, তবে তোমার হক নির্ধারণের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তির কসমই গ্রহণীয় হবে।

তখন হাযরামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে ব্যক্তি তো দুষ্কৃতকারী। সে কসম খাওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করবে না। কেননা, সে কোন ব্যাপারে বাছ-বিচার করে না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য এছাড়া বিকল্প আর কোন পথ নেই। এরপর কিনদা গোত্রের লোকটি এব্যাপারে কসম খাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়। যখন সে পিঠ ফিরিয়ে যায়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জেনে রাখ, যদি সে অন্যের মাল অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, তবে সে যখন আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে, তখন আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

২৬৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বরের কাছে মিথ্যা কসম করা খুবই বড় গুনাহ।

باب مَا جَاءَ فِي تَعْظِيمِ الْيَمِينِ عِنْدَ مِنْبَرِ النَّبِيِّ

৩২৩১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نِسْطَاسٍ مِنْ آلِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحْلِفُ أَحَدٌ عِنْدَ مِنْبَرِي هَذَا عَلَى يَمِينٍ آثِمَةٍ وَلَوْ عَلَى سِوَاكٍ أَخْضَرَ إِلَّا تَبَوَّأَ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ أَوْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩২৩১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ....... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কেউ আমার মিম্বরের কাছে মিথ্যা শপথ করবে, যদি তা একটা তাজা মিসওয়াকের জন্যও হয়, সে তার স্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেবে। অথবা তার জন্য জাহান্নামের আগুন ওয়াজিব হবে।

২৬৭. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম খাওয়া।

باب الْيَمِينِ بغير الله

৩২৩২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ وَاللاَّتِ فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ فَلْيَتَصَدَّقْ بِشَىْءٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২৩২. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করে এবং সে তার কসমে বলেঃ আমি লাত (মূর্তির) নামে কসম খাচ্ছি, তবে সে যেন অবশ্যই বলেঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলেঃ এসো আমরা জুয়া খেলি, তবে সে যেন কিছু সাদ্‌কা করে।

৩২৩৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ وَلاَ بِأُمَّهَاتِكُمْ وَلاَ بِالأَنْدَادِ وَلاَ تَحْلِفُوا إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ تَحْلِفُوا بِاللَّهِ إِلاَّ وَأَنْتُمْ صَادِقُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২৩৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে, তোমাদের মায়ের নামে এবং মূর্তির নামে শপথ করবে না। আর তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম খাবে না। আর যখন তোমরা আল্লাহর নামে কসম করবে, তখন সত্য কসম করবে, (অর্থাৎ সে কসম পূর্ণ করবে)।

২৬৮. বাপ-দাদার নামে কসম না করা।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْحَلِفِ بِالآبَاءِ

৩২৩৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَدْرَكَهُ وَهُوَ فِي رَكْبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَسْكُتْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩২৩৪. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে (উমর (রাযিঃ) কে) একটি কাফিলার সাথে পান, যখন তিনি তাঁর পিতার নামে কসম খাচ্ছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহ তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই যে কেউ শপথ করতে চায়, সে যেন কেবল আল্লাহর নামে শপথ করে, নতুবা সে যেন চুপ থাকে।

৩২৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ مَعْنَاهُ إِلَى " بِآبَائِكُمْ " . زَادَ قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَذَا ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩২৩৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস শ্রবণ করেছি। উমর (রাযিঃ) বলেন, যা তাঁর অতিরিক্ত বর্ণনা যে, আল্লাহর কসম! এরপর আমি এরূপ কসম (বাপ-দাদার নামে) ইচ্ছাকৃতভাবে বা বর্ণনা প্রসঙ্গে কখনো করিনি।

৩২৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، قَالَ سَمِعَ ابْنُ عُمَرَ، رَجُلاً يَحْلِفُ لاَ وَالْكَعْبَةِ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ " .

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাইদা (রহঃ)

৩২৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে উবাইদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইবনে উমর (রাযিঃ) জনৈক ব্যক্তিকে কাবার নামে কসম করতে শুনে তাকে বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম খেল, সে যেন (আল্লাহর সঙ্গে) শরীক করলো।

৩২৩৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ يَعْنِي فِي، حَدِيثِ قِصَّةِ الأَعْرَابِيِّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ " .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

৩২৩৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ আতাকী (রাহঃ) ..... তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর বর্ণিত হাদীসে জনৈক আরাবীর ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সে কামিয়াব হয়েছে, তার বাপের কসম, যদি সে সত্য বলে থাকে, জান্নাতে প্রবেশ করবে। তার পিতার শপথ! যদি সে সত্য বলে থাকে।[১]

[১] সম্ভবত : হাদীসটি ইসলামের প্রথম যুগের। যখন বাপ-দাদার নামে শপথ করা নিষেধ ছিল না। তৎকালীন প্রথানুসারে এরূপ কসম খাওয়া হয়েছিল ।

২৬৯. আমানতের উপর কসম খাওয়া।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْحَلِفِ بِالأَمَانَةِ

৩২৩৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ ثَعْلَبَةَ الطَّائِيُّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ بِالأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا " .

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي الصَّائِغَ، عَنْ عَطَاءٍ، فِي اللَّغْوِ فِي الْيَمِينِ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: هُوَ كَلَامُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ، كَلَّا وَاللَّهِ، وَبَلَى وَاللَّهِ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " كَانَ إِبْرَاهِيمُ الصَّائِغُ رَجُلًا صَالِحًا، قَتَلَهُ أَبُو مُسْلِمٍ بِعَرَنْدَسَ، قَالَ: وَكَانَ إِذَا رَفَعَ الْمِطْرَقَةَ فَسَمِعَ النِّدَاءَ سَيَّبَهَا "، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ، مَوْقُوفًا عَلَى عَائِشَةَ، وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَمَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، وَكُلُّهُمْ عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ مَوْقُوفًا

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৩২৩৮. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমানতের উপর কসম খাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

আতা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বেহুদা কসম খাওয়া সম্পর্কে বলেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ’’কোনো ব্যক্তির নিজ ঘরে বসে কথাবার্তায় এরূফ বলা যেঃ কখনো নয়, আল্লাহর শপথ! এবং হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ!

২৭০. অস্পষ্ট স্বরে ছলনামূলক কসম করা।

باب الْمَعَارِيضِ فِي الْيَمِينِ

৩২৩৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ عَلَيْهَا صَاحِبُكَ " . قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُمَا وَاحِدٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ وَعَبَّادُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২৩৯. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার কসম তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তোমার সাথী তা সত্য বলে মনে করে।

রাবী মুসাদ্দাদ বলেনঃ আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সালিহ খবর দিয়েছেন।
৩২৪০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ جَدَّتِهِ، عَنْ أَبِيهَا، سُوَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ خَرَجْنَا نُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ وَمَعَنَا وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ فَأَخَذَهُ عَدُوٌّ لَهُ فَتَحَرَّجَ الْقَوْمُ أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِي فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ الْقَوْمَ تَحَرَّجُوا أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِي قَالَ " صَدَقْتَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ " .

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে হানযালা (রাঃ)

৩২৪০. আমর ইবনে মুহাম্মাদ নাকিদ (রাহঃ) .... সুওয়াইদ ইবনে হানযালা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উদ্দেশ্যে বের হই। এ সময় আমাদের সঙ্গে ওয়াইল ইবনে হুজর ছিল। তখন তাঁকে তাঁর একজন শক্র বন্দী করে ফেলে। কওমের লোকেরা তাঁর ব্যাপারে কসম করতে ইতস্তত করে কিন্তু আমি এরূপ কসম করি যে, সে আমার ভাই। ফলে, দুশমন তাঁকে ছেড়ে দেয়। এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হই এবং আমি তাঁকে এ ব্যাপারে খবর দেই যে, কওমের লোকেরা ওয়াইল সম্পর্কে কসম করাকে ভাল মনে করেনি; অথচ তাঁর ব্যাপারে আমি এরূপ কসম করি যে, সে আমার ভাই। তখন তিনি বলেনঃ তুমি সত্য বলেছ। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই।

২৭১. ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন মাযহাব গ্রহণ করার জন্য কসম খাওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الْحَلِفِ بِالْبَرَاءَةِ وَبِمِلَّةٍ غَيْرِ الإِسْلاَمِ

৩২৪১

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، أَنَّ ثَابِتَ بْنَ الضَّحَّاكِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ الشَّجَرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ مِلَّةِ الإِسْلاَمِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُهُ " .

বর্ণনাকারী: ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাঃ)

৩২৪১. আবু তাওবা রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ...... ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট (রিদওয়ান) বৃক্ষের নীচে বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন মাযহাবে (ধর্মে) দাখিল হওয়ার জন্য মিথ্যা কসম করবে, তবে সে ঐরূপ হবে, যেরূপ সে বলবে।[১] আর যে ব্যক্তি নিজেকে কোন কিছুর দ্বারা হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তুর দ্বারা আযাব দেওয়া হবে। আর কোন ব্যক্তির জন্য এরূপ মান্নত করা উচিত নয়, যার সে মালিক নয়।[২]

[১] যদি কেউ মিথ্যাভাবে অন্য ধর্মে দাখিল হওয়ার জন্য কসম করে, তবে তা সঠিক বলে ধরতে হবে। যেমন, যদি কেউ বলেঃ আমি যদি একাজ করি, তবে ইয়াহুদী হয়ে যাব।
[২] যেমন কেউ এরূপ মান্নত করে যে, আমার এ মাকসুদ পূরা হলে আমি অম্বুক ব্যক্তির গোলামটি আযাদ করে দেব।
৩২৪২

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي ابْنَ وَاقِدٍ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ حَلَفَ فَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الإِسْلاَمِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ، وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يَرْجِعَ إِلَى الإِسْلاَمِ سَالِمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৩২৪২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করে এবং এরূপ বলে যে, (যদি এটা না হয়, তবে) আমি ইসলাম হতে খারিজ হয়ে যাব। যদি সে মিথ্যা ভাবেও এরূপ বলে, তবু ঐরূপ হবে, যেরূপ সে বলেছে। আর যদি সে তার কসমে সত্যবাদী হয়, তবে সে নিরাপদে ইসলামের মাঝে ফিরে আসতে পারবে না।[১]

[১] কাজেই এ ধরনের কসম করা কখনো উচিত নয়! করলে তাওবা করা দরকার।

২৭২. তরকারি না খাওয়ার জন্য কসম খাওয়া।

باب الرَّجُلِ يَحْلِفُ أَنْ لاَ يَتَأَدَّمَ

৩২৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْعَلاَءِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَضَعَ تَمْرَةً عَلَى كِسْرَةٍ فَقَالَ : " هَذِهِ إِدَامُ هَذِهِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)

৩২৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ)-কে রুটির টুকরার উপর খেজুর রাখতে দেখি। এরপর তিনি বলেনঃ এটি (খেজুর) ঐটির (রুটির) তরকারি।[১]

[১] এমতাবস্থায় যদি কেউ তরকারী না খাওয়ার কসম করার পর, খেজুর ভক্ষণ করে, তবে সে কসম ভঙ্গকারী বলে
সাব্যস্ত হবে।
৩২৪৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ الأَعْوَرِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)

৩২৪৪. হারুন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... ইউনুস ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে সালাম (রাহঃ) থেকে অনু্রূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

২৭৩. কসমের পরে ইনশাআল্লাহ্ বলা।

باب الاِسْتِثْنَاءِ فِي الْيَمِينِ

৩২৪৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَثْنَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩২৪৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কাজের উপর কসম খাওয়ার পর বলল, ইনশাআল্লাহ। তবে সে যেন তা পরিহার করলো।[১]

[১] এ অবস্থায় যে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত হবে না। কেননা, সে তার করমকে আল্লাহর ইচ্ছার সংগে সম্পৃক্ত করেছে।
৩২৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَمُسَدَّدٌ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ حَلَفَ فَاسْتَثْنَى فَإِنْ شَاءَ رَجَعَ، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ غَيْرَ حِنْثٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩২৪৬. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ কসম করার পর ইনশাআল্লাহ বলে, সে ইচ্ছা করলে তা পূর্ণ করতে পারে, আর চাইলে পরিত্যাগও করতে পারে। এমতাবস্থায় সে কসম ভঙ্গকারী বলে বিবেচিত হবে না।

২৭৪. নবী (ﷺ) এর কসম কিরূপ ছিল।

باب مَا جَاءَ فِي يَمِينِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَتْ

৩২৪৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ : أَكْثَرُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْلِفُ بِهَذِهِ الْيَمِينِ : " لاَ، وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩২৪৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিকাংশ সময় এরূপ কসম করতেনঃ না, কসম অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর।

৩২৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ شُمَيْخٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اجْتَهَدَ فِي الْيَمِينِ قَالَ : " وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي الْقَاسِمِ بِيَدِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩২৪৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কসম করার ইরাদা করতেন, তখন বলতেনঃ না, কসম সে যাত-পাকের, যাঁর হাতে আবুল কাসিমের জীবন।

৩২৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ : كَانَتْ يَمِينُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَلَفَ يَقُولُ : " لاَ، وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল আযীয ইবনে আবী রিযমা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কসম এরূপ ছিল যে, যখন তিনি কসম করতেন, তখন বলতেনঃ না, কসম, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

৩২৫০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَيَّاشٍ السَّمَعِيُّ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ دَلْهَمِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاجِبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ الْمُنْتَفِقِ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، لَقِيطِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ دَلْهَمٌ وَحَدَّثَنِيهِ أَيْضًا الأَسْوَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطٍ، : أَنَّ لَقِيطَ بْنَ عَامِرٍ، خَرَجَ وَافِدًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَقِيطٌ : فَقَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ حَدِيثًا فِيهِ : فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لَعَمْرُ إِلَهِكَ " .

বর্ণনাকারী: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

৩২৫০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আসিম ইবনে লাকীত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা লাকীত ইবনে আসিম (রাযিঃ) একটা দলের প্রতিনিধি হিসাবে নবী (ﷺ)-এর নিকট গমন করেন। লাকীত বলেনঃ অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই। তখন তিনি একটি হাদীস বর্ণনা করেন, যাতে এ উক্তিটি ছিল যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কসম তোমার মা’বুদের।

২৭৫. অন্য কাজ মংগলজনক হলে কসম ভঙ্গ করা।

باب الحنث إذا كان خيرا

৩২৫১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " إِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " . أَوْ قَالَ : " إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفَّرْتُ يَمِينِي " .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৩২৫১. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আবু বুরদা, তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কসম আল্লাহর, নিশ্চয় আমি আল্লাহ চাহেন তো যে কোন কসম খাই না কেন, এর বিপরীত কাজ যদি ভাল বলে মনে করি, তবে তা ভঙ্গ করে আমার কসমের কাফফারা প্রদান পূর্বক ভাল কাজটি করে ফেলি। অথবা নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি ভাল কাজটি করি এবং কসম ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করি।

৩২৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَمَنْصُورٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَاذَانَ - عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفِّرْ يَمِينَكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : سَمِعْتُ أَحْمَدَ يُرَخِّصُ فِيهَا الْكَفَّارَةَ قَبْلَ الْحِنْثِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩২৫২. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ বাযযার (রাহঃ) ...... আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) আমাকে বলেন, হে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা! যদি তুমি কোন ব্যাপারে কসম খাও, আর এর বিপরীত কাজটি ভাল বলে মনে কর, তখন ভাল কাজটি করে ফেলবে এবং তোমার কসম ভঙ্গের কাফফারা দেবে।

৩২৫৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، نَحْوَهُ قَالَ : " فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ، ثُمَّ ائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : أَحَادِيثُ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ رُوِيَ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ فِي بَعْضِ الرِّوَايَةِ الْحِنْثُ قَبْلَ الْكَفَّارَةِ وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَةِ الْكَفَّارَةُ قَبْلَ الْحِنْثِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩২৫৩. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে উক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেনঃ কসম ভাঙ্গার পর আগে কসমের কাফফারা দাও, এরপর সে কাজের বিপরীতে উত্তম কাজটি সম্পন্ন কর।

২৭৬. যে কোন কসম খেলে কি তা সত্যিকার কসম হবে?

باب فِي الْقَسَمِ هَلْ يَكُونُ يَمِينًا

৩২৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، أَقْسَمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لاَ تُقْسِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৫৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আবু বকর (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর উপর (কোন ব্যাপারে) কসম খান। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এরূপ কসম খাবে না।

৩২৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - قَالَ ابْنُ يَحْيَى كَتَبْتُهُ مِنْ كِتَابِهِ - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي أَرَى اللَّيْلَةَ فَذَكَرَ رُؤْيَا فَعَبَّرَهَا أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " أَصَبْتَ بَعْضًا وَأَخْطَأْتَ بَعْضًا " . فَقَالَ : أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ لَتُحَدِّثَنِّي مَا الَّذِي أَخْطَأْتُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لاَ تُقْسِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলে, আমি রাতে স্বপ্নে দেখেছি। তখন সে ব্যক্তি তার স্বপ্ন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করে। আবু বকর (রাযিঃ)-তার ব্যাখ্যা বর্ণনা করেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কিছু ঠিক বলেছ এবং কিছু ভুলও হয়েছে। আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আমি আপনার কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমার ভুলটা জানিয়ে দিন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে বলেনঃ তুমি এরূপ কসম খাবে না।

৩২৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرِ الْقَسَمَ، زَادَ فِيهِ وَلَمْ يُخْبِرْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যাতে কসমের উল্লেখ নাই; বরং এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যে, তিনি তাঁকে (আবু বকর (রাযিঃ) কে) তাঁর ভুল সম্পর্কে কিছু অবহিত করেননি।

২৭৭. ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা শপথ করলে।

باب فِيمَنْ يَحْلِفُ كَاذِبًا مُتَعَمِّدًا

৩২৫৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ رَجُلَيْنِ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الطَّالِبَ الْبَيِّنَةَ، فَلَمْ تَكُنْ لَهُ بَيِّنَةٌ فَاسْتَحْلَفَ الْمَطْلُوبَ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " بَلَى قَدْ فَعَلْتَ، وَلَكِنْ قَدْ غُفِرَ لَكَ بِإِخْلاَصِ قَوْلِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : يُرَادُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لَمْ يَأْمُرْهُ بِالْكَفَّارَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৫৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা দু’ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট একটা মামলা নিয়ে যায়। তখন নবী (ﷺ) বাদী পক্ষের নিকট সাক্ষ্য-প্রমাণ চান। কিন্তু তার পক্ষে কোন সাক্ষী ছিল না। তখন তিনি বিবাদীকে কসম খেতে বলেন। তখন সে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলেঃ লা-ইলাহা ইল্লা-হুয়া-অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি তো (অন্যায়) করেছ, তবে ইখলাসের সাথে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলাতে তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে।

২৭৮. কসমের কাফফারায় কোন সা’আ গ্রহণীয় সে সম্পর্কে।

باب كَمِ الصَّاعُ فِي الْكَفَّارَةِ

৩২৫৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ عِيَاضٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبٍ بِنْتِ ذُؤَيْبِ بْنِ قَيْسٍ الْمُزَنِيَّةِ، - وَكَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ مِنْ أَسْلَمَ ثُمَّ كَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَخٍ لِصَفِيَّةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ حَرْمَلَةَ : فَوَهَبَتْ لَنَا أُمُّ حَبِيبٍ صَاعًا - حَدَّثَتْنَا عَنِ ابْنِ أَخِي صَفِيَّةَ عَنْ صَفِيَّةَ أَنَّهُ صَاعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَنَسٌ : فَجَرَّبْتُهُ، أَوْ قَالَ فَحَزَرْتُهُ فَوَجَدْتُهُ مُدَّيْنِ وَنِصْفًا بِمُدِّ هِشَامٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩২৫৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... উম্মু হাবীব বিনতে যুওয়ায়ব ইবনে কায়স মুযানিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রথমে আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হন, পরে তিনি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা (রাযিঃ)-এর ভাতিজার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আব্দ্ধ হন।

রাবী ইবনে হারমালা বলেনঃ একদা উম্মু হাবীব আমাকে একটি সা’আ প্রদান করেন। সাফিয়্যা (রাযিঃ)-এয় ভাতিজা (তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হতে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সাফিয়্যা (রাযিঃ) হতে শুনেছেনঃ ঐ সা’আটি ছিল নবী (ﷺ)-এর।

রাবী আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি ঐ সা’আটি পরীক্ষা করি, (তখন দেখতে পাই যে,) এটি ছিল হিশাম ইবনে আব্দিল মালিকের ’মুদ্দ’-এর তুলনায় আড়াই গুণ বেশী।

২৭৯. কাফফারাতে আযাদযোগ্য মুসলিম দাসী।

باب فِي الرَّقَبَةِ الْمُؤْمِنَةِ

৩২৫৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْحَجَّاجِ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ جَارِيَةٌ لِي صَكَكْتُهَا صَكَّةً . فَعَظَّمَ ذَلِكَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَفَلاَ أُعْتِقُهَا قَالَ : " ائْتِنِي بِهَا " . قَالَ : فَجِئْتُ بِهَا قَالَ : " أَيْنَ اللَّهُ " . قَالَتْ : فِي السَّمَاءِ . قَالَ : " مَنْ أَنَا " . قَالَتْ : أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ : " أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রাঃ)

৩২৫৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটি দাসী আছে, যাকে আমি অনেক মারধর করেছি। এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য কষ্টদায়ক মনে হয়। তখন আমি বলিঃ আমি কি তাকে আযাদ করে দেব না? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। রাবী বলেনঃ তখন আমি তাকে নিয়ে আসি। নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বলেঃ আসমানে। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি কে? সে বলেঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে আযাদ করে দাও, সে মুমিন।

৩২৬০
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الشَّرِيدِ، : أَنَّ أُمَّهُ، أَوْصَتْهُ أَنْ يُعْتِقَ، عَنْهَا رَقَبَةً مُؤْمِنَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي أَوْصَتْ أَنْ أُعْتِقَ عَنْهَا رَقَبَةً مُؤْمِنَةً وَعِنْدِي جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ نُوبِيَّةٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
[أفأعتقها؟ فقال رَسُولُ اللهِ صَلى الله عَلَيهِ وَسَلمَ, ادع بِهَا, فدعوتهَا, فجاءت فقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيهِ وَسَلمَ: مَنْ رَبُّكِ؟ قَالَتِ: الله, قَالَ: فمَنْ أَنَا؟ قَالَتْ: رَسُولُ اللهِ, قَالَ: أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ]
قَالَ أَبُو دَاوُدَ : خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَرْسَلَهُ لَمْ يَذْكُرِ الشَّرِيدَ .

বর্ণনাকারী: শারীদ ইবনে সুআয়দ (রাঃ)

৩২৬০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... শারীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর মাতা তাঁকে তাঁর (মায়ের) পক্ষ হতে একটি মু’মিন দাসী আযাদ করার জন্য ওসীয়ত করে যান। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতা (তাঁর মৃত্যুর সময়) তাঁর পক্ষে একটি মু’মিন দাসী আযাদ করার জন্য ওসীয়ত করে গেছেন। এখন আমার কাছে হাবশের ’নূবিয়্যা’ এলাকার একটি দাসী আছে। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

২৮০. মান্নত না করা সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنِ النَّذْرِ

৩২৬১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ عُثْمَانُ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنِ النَّذْرِ ثُمَّ اتَّفَقَا وَيَقُولُ : " لاَ يَرُدُّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ " . قَالَ مُسَدَّدٌ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النَّذْرُ لَا يَرُدُّ شَيْئًا»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩২৬১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মান্নত করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেনঃ মান্নত করাতে তাকদীরের কোন কিছু পরিবর্তন হয় না। তবে মানতের কারণে মানুষ কৃপণতার গণ্ডি হতে বেরিয়ে আসে।

৩২৬১

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ، وَأَنَا شَاهِدٌ، أَخْبَرَكُمْ ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَأْتِي ابْنَ آدَمَ النَّذْرُ الْقَدَرَ بِشَيْءٍ لَمْ أَكُنْ قَدَّرْتُهُ لَهُ، وَلَكِنْ يُلْقِيهِ النَّذْرُ الْقَدَرَ قَدَّرْتُهُ، يُسْتَخْرَجُ مِنَ الْبَخِيلِ يُؤْتِي عَلَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ يُؤْتِي مِنْ قَبْلُ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

আবু দাউদ (রাহঃ) ....... আবূ হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মান্নত আদম সন্তানের তাকদীরকে এমন কিছু দিতে পারে না- যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করিনি। বরং আমি তার তাকদীরে যা নির্ধারণ করেছি কেবল তাই মান্নত তাকে এনে দেয়। তা কৃপণের সম্পদ থেকে কিছু পরিমাণ বের করে আনে এবং তার নিকট তা নিয়ে আসে যা আগে তার কাছে আসেনি।

২৮১. গুনাহের কাজে মান্নত করা।

باب النَّذْرِ فِي الْمَعْصِيَةِ

৩২৬২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَيْلِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩২৬২. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুসরণের জন্য মান্নত করে, সে যেন তাঁর অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর (সঙ্গে) নাফরমানীর মান্নত করে, সে যেন আল্লাহর নাফরমানী না করে।

৩২৬৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ قَائِمٍ فِي الشَّمْسِ فَسَأَلَ عَنْهُ قَالُوا : هَذَا أَبُو إِسْرَائِيلَ نَذَرَ أَنْ يَقُومَ وَلاَ يَقْعُدَ، وَلاَ يَسْتَظِلَّ وَلاَ يَتَكَلَّمَ وَيَصُومَ . قَالَ : " مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَقْعُدْ، وَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৬৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি জনৈক ব্যক্তিকে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তাঁরা (সাহাবীরা) বলেনঃ ইনি আবু ইসরাঈল। যিনি এরূপ মান্নত করেছেন যে, দাঁড়িয়ে থাকবেন, বসবেন না, ছায়ায় আসবেন না, কথা বলবেন না এবং রোযা রাখবেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে বল, সে যেন কথা বলে, ছায়ায় আসে, বসে এবং তার রোযা পূর্ণ করে।

২৮২. যখন গুনাহের মান্নত ভঙ্গ করবে, তখন কাফফারা ওয়াজিব হবে।

باب مَنْ رَأَى عَلَيْهِ كَفَّارَةً إِذَا كَانَ فِي مَعْصِيَةٍ

৩২৬৪
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ، وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ شَبُّويَةَ، يَقُولُ قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - يَعْنِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ - حَدَّثَ أَبُو سَلَمَةَ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ الزُّهْرِيَّ، لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ : وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَيُّوبُ - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ : أَفْسَدُوا عَلَيْنَا هَذَا الْحَدِيثَ . قِيلَ لَهُ : وَصَحَّ إِفْسَادُهُ عِنْدَكَ وَهَلْ رَوَاهُ غَيْرُ ابْنِ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : أَيُّوبُ كَانَ أَمْثَلَ مِنْهُ . يَعْنِي أَيُّوبَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، وَقَدْ رَوَاهُ أَيُّوبُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩২৬৪. ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আবু মা’মার (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন গুনাহের ব্যাপারে মান্নত করা উচিত নয়। (যদি কেউ এরূপ করে, তার কাফফারা হলো কসমের কাফফারার অনুরূপ)।[১]

আবূ দাউদ (র.) বলেন, আহমাদ ইবনে শিববিয়া বলেন যে, ইবনে মুবারক আবূ সালামার হাদীছে বর্ণনা করেছেন, এর থেকে জানা যায় যে, যুহরী আবূ সালামা থেকে শ্রবণ করেননি। আবূ দাউদ (র.) বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) বলেছেন যে, তারা এ হাদীছ আমাদের কাছে খারাপ ভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়: এ হাদীছের খারাপ হওয়া আপনার কাছে কি সঠিক? আর ইবনে উওয়ায়স ছাড়া আর কেউ কি এটা বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন: হাঁ, 'আয়্যুব ইবনে সুলায়মান ইব্‌ন বিলাল (র.) বর্ণনা করেছেন।

[১] যদি কেউ কোন গুনাহের কাজ করার জন্য মানত করে, তাবে তার জন্য ঐ মানত আদায় করা জরুরী নয়। তবে মানত পুরণ না করার জন্য তাকে ঐরূপ কাফ্ফ্ফারা দিতে হবে, যেরূপ কাফ্ফারা কসম ভাঙ্গার জন্য দিতে হয়।
৩২৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَتِيقٍ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَرْقَمَ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ، وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ : إِنَّمَا الْحَدِيثُ حَدِيثُ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . أَرَادَ أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ أَرْقَمَ وَهِمَ فِيهِ وَحَمَلَهُ عَنْهُ الزُّهْرِيُّ وَأَرْسَلَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَحِمَهَا اللَّهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَى بَقِيَّةُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ، بِإِسْنَادِ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ، مِثْلَهُ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩২৬৫. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ মারওয়াযী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন গুনাহের কাজের জন্য মান্নত করা উচিত নয়। (যদি কেউ এরূপ করে) তবে তার কাফফারা তবে কসমের কাফফারার অনুরূপ।

আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেনঃ আসলে হাদীসের সনদ এরূপ যে, আলী ইবনে মুবারক, ইয়াহয়া ইবনে আবী কাছীর, মুহাম্মাদ ইবনে যুবাইর, তাঁর পিতা ইমরান ইবনে হুসাইন নবী (ﷺ) থেকে। আহমদ মনে করেন যে, সুলাইমান ইবনে আরকাম হতে এ হাদীসে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। যুহরী (রাহঃ) তাঁর থেকে এ হাদীস সংগ্রহ করে ’মুরসাল’ হিসাবে আবু সালামা আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩২৬৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زَحْرٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَالِكٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أُخْتٍ لَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ حَافِيَةً غَيْرَ مُخْتَمِرَةٍ فَقَالَ : " مُرُوهَا فَلْتَخْتَمِرْ وَلْتَرْكَبْ، وَلْتَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩২৬৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে তাঁর বোন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যিনি খালি পায়ে এবং খোলা মাথায় পদব্রজে হজ্জ আদায় করার জন্য মান্নত করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তাঁকে বল, সে যেন মস্তক আবৃত করে, কোন বাহনে সওয়ার হয়ে হজ্জে যায় এবং (মান্নত ভঙ্গের কারণে) সে যেন তিন দিন রোযা রাখে।[১]

[১] যেহেতু স্থালোকদের মস্তক ও সত্তরের মাঝে গণ্য, যা খোলা রাখা দুরুস্ত নয়। এজন্য নবী (সা.) তাঁর মাথা ঢাকার জন্য নির্দেশ দেন। আর মহিলাদের জন্য পদব্রজে গমন করে হজ্জ আদায় করা খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার, যা তাদের জন্য অসম্ভব। একারণে তাঁকে বাহন যোগে হজ্জে গমনের নির্দেশ দেন। এমতাবস্থায় মান্নত ভঙ্গের কারণে, কাফ্ফারা স্বরূপ, তাঁকে তিন দিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন।
৩২৬৭

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ حَدَّثَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ : نَذَرَتْ أُخْتِي أَنْ تَمْشِيَ، إِلَى بَيْتِ اللَّهِ، فَأَمَرَتْنِي أَنْ أَسْتَفْتِيَ لَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : " لِتَمْشِ وَلْتَرْكَبْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩২৬৭. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... উকবা ইবনে আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার বোন পদব্রজে হজ্জে যাওয়ার জন্য মান্নত করে। অতঃপর তিনি আমাকে এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করতে বলেন। তখন আমি নবী (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ সে যেন পদব্রজে গমন করে এবং প্রয়োজনে সওয়ারীতেও যেন আরোহণ করে।

৩২৬৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَلَغَهُ أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَةً قَالَ : " إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ نَذْرِهَا، مُرْهَا فَلْتَرْكَبْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ نَحْوَهُ وَخَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৬৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন এ মর্মে খবর পান যে, উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ)-এর বোন পদব্রজে হজ্জে যাওয়ার জন্য মান্নত করেছে, তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর এ ধরনের মানতের মুখাপেক্ষী নন। তাঁকে বল, সে যেন বাহনে সওয়ার হয়ে হজ্জ করতে যায়।

৩২৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ بِمَعْنَى هِشَامٍ وَلَمْ يَذْكُرِ الْهَدْيَ وَقَالَ: فِيهِ «مُرْ أُخْتَكَ فَلْتَرْكَبْ» قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ بِمَعْنَى هِشَامٍ‏.‏

ইকরিমাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উকবা ইবনে ’আমির (রাঃ)-এর বোন ...... অতঃপর হিশামের হাদীসের সামর্থবোধক হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী কুরবানীর কথা উল্লেখ করেননি। এতে আরো রয়েছে: তোমার বোনকে আদেশ কর সে যেন বাহনে চড়ে যায়। আবূ দাঊদ (রাহঃ) বলেন, খালেদ (রাহঃ) এ হাদীস ইকরিমা থেকে হিশামের হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেন।

৩২৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ أُخْتَ، عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ، إِلَى الْبَيْتِ، فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَرْكَبَ وَتُهْدِيَ هَدْيًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ)-এর বোন পদব্রজে হজ্জে যাওয়ার জন্য মান্নত করেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, সে যেন সওয়ারীতে আরোহণ করে এবং মান্নত ভঙ্গের জন্য যেন হাদী[১] কুরবানী করে।

[১] হাদী অর্থাৎ পশু। মান্নত ভাঙ্গার কারণে পশু কুরবানী নির্দেশ প্রদত্ত হয়েছে।
৩২৭০

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُخْتِي نَذَرَتْ - يَعْنِي - أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَةً . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " إِنَّ اللَّهَ لاَ يَصْنَعُ بِشَقَاءِ أُخْتِكَ شَيْئًا، فَلْتَحُجَّ رَاكِبَةً وَلْتُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৭০. হাজ্জাজ ইবনে আবী ইয়া’কূব (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার বোন এরূপ মান্নত করেছে যে, সে পদব্রজে হজ্জে গমন করবে। তখন নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলার জন্য তোমার বোনের এ কষ্টের কোন প্রয়োজন নেই। অতএব, সে যেন বাহনযোগে হজ্জ আদায় করে এবং তার মান্নত ভঙ্গের জন্য যেন কাফফারা প্রদান করে।

৩২৭১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يُهَادَى بَيْنَ ابْنَيْهِ فَسَأَلَ عَنْهُ فَقَالُوا : نَذَرَ أَنْ يَمْشِيَ . فَقَالَ : " إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ تَعْذِيبِ هَذَا نَفْسَهُ " . وَأَمَرَهُ أَنْ يَرْكَبَ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩২৭১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি তার দু’ছেলের উপর ভর করে পদব্রজে যাচ্ছে। তখন তিনি সে লোকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন লোকেরা (সাহাবীরা) বলেনঃ লোকটি পদব্রজে চলার জন্য মান্নত করেছে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা এ ব্যক্তির এরূপ কষ্টের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাকে সওয়ার হওয়ার নির্দেশ দেন।

৩২৭১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَلَيْمَانُ الْأَحْوَلُ، أَنَّ طَاوُسًا، أَخْبَرَهُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ بِإِنْسَانٍ يَقُودُهُ بِخِزَامَةٍ فِي أَنْفِهِ، فَقَطَعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَقُودَهُ بِيَدِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কা’বা ঘর তাওয়াফ করার সময় এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করতে দেখলেন- তার নাকে আংটিযুক্ত রশি লাগিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নবী (ﷺ) তা নিজ হাত দ্বারা কেটে ফেলেন এবং তাকে তার হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

৩২৭১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَةً، وَأَنَّهَا لَا تُطِيقُ ذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ مَشْيِ أُخْتِكَ، فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

আহমাদ ইবনে হাফস (রাহঃ)....... হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। উকবা ইবনে ’আমের (রাযি.)-এর বোন শারীরিক সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও পায়ে হেঁটে হজ্জ করার মান্নত করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার বোনের এমন মান্নতের মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং সে যেন বাহনে চড়ে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।

৩২৭১

حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ [ص:236]، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُخْتِي نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَصْنَعُ بِمَشْيِ أُخْتِكَ إِلَى الْبَيْتِ شَيْئًا»

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

শুআঈব ইবনে আইয়ূব (রাহঃ) ....... উকবা ইবনে ’আমির (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে বললেন, আমার বোন পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ যাওয়ার মান্নত করেছে। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার বোনের পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ যাওয়াতে বাধ্যবাধকতা রাখেননি।

২৮৩. যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে গিয়ে নামায আদায়ের জন্য মান্নত করে।

باب مَنْ نَذَرَ أَنْ يُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ

৩২৭২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، : أَنَّ رَجُلاً، قَامَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ لِلَّهِ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ مَكَّةَ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ : " صَلِّ هَا هُنَا " ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ : " صَلِّ هَا هُنَا " ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ : " شَأْنَكَ إِذًا " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رُوِيَ نَحْوُهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩২৭২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি মক্কা বিজয়ের বছর দাঁড়িয়ে এরূপ বলেঃ ইয়া রাসালুল্লাহ! আমি আল্লাহর ওয়াস্তে এরূপ মান্নত করি যে, যদি আল্লাহ আপনাকে মক্কা বিজয় করিয়ে দেন, তবে আমি বায়তুল মাকদিসে গিয়ে দু’রাকআত নামায আদায় করব। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি এখানেই দু’রাকআত নামায আদায় করে নাও। সে ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তুমি এখানেই নামায আদায় কর। সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তোমার যা ইচ্ছা, তা কর।[১]

[১] অর্থাৎ তুমি ইচ্ছা করলে এখানেও দু'রাকাআত নামায আদায় করে নিতে পার, অথবা বায়তুল মুকাদ্দিসে গিয়েও
আদায় করতে পার।

২৮৯. নির্ধারিত না করে যদি কেউ মান্নত করে।

باب مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُسَمِّهِ

৩২৭৩

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُوسُفُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ حَفْصَ بْنَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَمْرًا، وَقَالَ، عَبَّاسٌ : ابْنَ حَنَّةَ أَخْبَرَاهُ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ رِجَالٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْخَبَرِ . زَادَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ لَوْ صَلَّيْتَ هَا هُنَا لأَجْزَأَ عَنْكَ صَلاَةً فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ الأَنْصَارِيُّ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ فَقَالَ جَعْفَرُ بْنُ عَمْرٍو، وَقَالَ عَمْرُو بْنُ حَيَّةَ وَقَالَ أَخْبَرَاهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَعَنْ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

৩২৭৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... উমর ইবনে আব্দির রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর কতিপয় সাহাবী হতে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সে যাতের কসম! মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, যদি তুমি এখানে নামায আদায় করে নাও, তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে, বায়তুল মাকদিসে গিয়ে নামায আদায় করার চাইতে।

২৮৪. মৃত ব্যক্তির মান্নত পুরা করা।

باب قَضَاءِ النَّذْرِ عَنِ الْمَيِّتِ

৩২৭৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ لَمْ تَقْضِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْضِهِ عَنْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৭৪. আল-কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ মর্মে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করেন যে, আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন কিন্তু তাঁর যিম্মায় একটি মান্নত আছে, যা তিনি আদায় করতে পারেননি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি তা তাঁর পক্ষ হতে আদায় করে দাও।

৩২৭৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ امْرَأَةً، رَكِبَتِ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنْ نَجَّاهَا اللَّهُ أَنْ تَصُومَ شَهْرًا، فَنَجَّاهَا اللَّهُ فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ، فَجَاءَتِ ابْنَتُهَا أَوْ أُخْتُهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَصُومَ عَنْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৭৫. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক মহিলা সমুদ্রে সফর করে এবং সে সময় সে এরূপ মান্নত করে যে, যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে (সফরের বিপদ হতে) নাজাত দেন, তবে আমি এক মাস রোযা রাখব। তখন আল্লাহ তাকে নাজাত দেন। কিন্তু সে মহিলা রোযা রাখার আগেই ইনতিকাল করে। তখন তার কন্যা অথবা বোন এ সম্পর্কে (ফতওয়া) জিজ্ঞাসা করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসে। তখন তিনি তাকে তার পক্ষ হতে রোযা রাখার নির্দেশ দেন।

৩২৭৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، بُرَيْدَةَ : أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ : كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِوَلِيدَةٍ، وَإِنَّهَا مَاتَتْ وَتَرَكَتْ تِلْكَ الْوَلِيدَةَ . قَالَ : " قَدْ وَجَبَ أَجْرُكِ، وَرَجَعَتْ إِلَيْكِ فِي الْمِيرَاثِ " . قَالَتْ : وَإِنَّهَا مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَمْرٍو .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩২৭৬. আহমদ ইবনে য়ূনুস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলে, আমি আমার মাতাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। এখন তিনি ইনতিকাল করেছেন এবং সে দাসীটি রেখে গিয়েছেন। তিনি বলেনঃ তোমার সাওয়াব নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং ঐ দাসী মীরাছ সূত্রে তোমার কাছে ফিরে এসেছে। তখন সে মহিলা বলেঃ আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন, কিন্তু তার যিম্মায় এক মাসের (মান্নত) রোযা আছে। এরপর আমর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

পরিচ্ছেদ: কেউ কাযা রোযা রেখে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীগণ তা আদায় করবে।

بَابُ مَا جَاءَ فِيمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ

৩২৭৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: سَمِعْتُ الْأَعْمَشَ، ح وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ الْمَعْنَى، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةً، جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنَّهُ كَانَ عَلَى أُمِّهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيهِ عَنْهَا، فَقَالَ: «لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ؟» قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: «فَدَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى»

মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, তার মায়ের এক মাসের রোযা বাকি আছে। সুতরাং আমি কি তা তার পক্ষ থেকে পূর্ণ করবো? তিনি বললেনঃ তোমার মা ঋনগ্রস্ত হলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? মহিলা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে আল্লাহর প্রাপ্য পরিশোধ করাটা অধিক গ্রহণযোগ্য।

৩২৭৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ»

আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ......... ’আয়িশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কোনো ব্যক্তি রোযা রেখে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারীগণ রোযা পালন করবে।

২৮৫. মান্নত আদায়ের জন্য নির্দেশ প্রদান প্রসঙ্গে।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الْوَفَاءِ بِالنَّذْرِ

৩২৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدٍ أَبُو قُدَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، : أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَضْرِبَ عَلَى رَأْسِكَ بِالدُّفِّ . قَالَ : " أَوْفِي بِنَذْرِكِ " . قَالَتْ : إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَذْبَحَ بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا، مَكَانٌ كَانَ يَذْبَحُ فِيهِ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ . قَالَ : " لِصَنَمٍ " . قَالَتْ : لاَ . قَالَ : " لِوَثَنٍ " . قَالَتْ : لاَ . قَالَ : " أَوْفِي بِنَذْرِكِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩২৭৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) নিজের পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক মহিলা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সামনে দফ বাজাবার জন্য মান্নত করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার মান্নত পুরা কর। এরপর সে বলেঃ আমি অমুক অমুক স্থানে কুরবানী করার মান্নত করেছি। সে স্থানগুলোতে জাহিলীয়াতের যুগে কুরবানী করা হত। নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার এ কুরবানী কি কোন মূর্তির জন্য? সে বলেঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তবে কি তা কোন দেব-দেবীর জন্য? সে বলেঃ না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তবে তুমি তোমার মান্নত পুরা কর।

৩২৭৮

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ، قَالَ : نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ : " هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لاَ وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ " .

বর্ণনাকারী: ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাঃ)

৩২৭৮. দাউদ ইবনে রশীদ (রাহঃ) .... ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর যামানায় জনৈক ব্যক্তি এরূপ মান্নত করে যে, সে ’বাওয়ানা’ নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করবে। তখন সে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসে এবং বলেঃ আমি বাওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার জন্য মান্নত করেছি। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ সেখানে কি দেব-দেবী আছে, যাদের জাহিলীয়াতের যুগে পূজা করা হতো? তাঁরা (সাহাবীরা) বলেনঃ না। তখন তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কি তাদের (কাফিরদের) আনন্দ-মেলার স্থান-সমূহের কোন স্থান? তারা বলেনঃ না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তবে তুমি তোমার মান্নত পুরা কর। তবে জেনে রাখ! ঐ মান্নত পূরণের দরকার নেই, যাতে আল্লাহর নাফরমানী হয় এবং বনী আদম যার মালিক নয়।

৩২৭৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مِقْسَمٍ الثَّقَفِيُّ مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي سَارَّةُ بِنْتُ مِقْسَمٍ الثَّقَفِيِّ، أَنَّهَا سَمِعَتْ مَيْمُونَةَ بِنْتَ كَرْدَمٍ، قَالَتْ: خَرَجْتُ مَعَ أَبِي فِي حِجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَمِعْتُ النَّاسَ، يَقُولُونَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلْتُ أُبِدُّهُ بَصَرِي فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي وَهُوَ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ مَعَهُ دِرَّةٌ كَدِرَّةِ الْكُتَّابِ فَسَمِعْتُ الْأَعْرَابَ وَالنَّاسَ يَقُولُونَ، الطَّبْطَبِيَّةَ الطَّبْطَبِيَّةَ فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي فَأَخَذَ بِقَدَمِهِ، قَالَتْ: فَأَقَرَّ لَهُ وَوَقَفَ فَاسْتَمَعَ مِنْهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي نَذَرْتُ إِنْ وُلِدَ لِي وَلَدٌ ذَكَرٌ أَنْ أَنْحَرَ عَلَى رَأْسِ بُوَانَةَ فِي عَقَبَةٍ مِنَ الثَّنَايَا عِدَّةً مِنَ الْغَنَمِ، قَالَ: لَا أَعْلَمُ إِلَّا أَنَّهَا قَالَتْ: خَمْسِينَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ بِهَا مِنَ الأَوْثَانِ شَيْءٌ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَأَوْفِ بِمَا نَذَرْتَ بِهِ لِلَّهِ» [ص:239] قَالَتْ: فَجَمَعَهَا فَجَعَلَ يَذْبَحُهَا، فَانْفَلَتَتْ مِنْهَا شَاةٌ، فَطَلَبَهَا وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَوْفِ عَنِّي نَذْرِي فَظَفِرَهَا فَذَبَحَهَا»،

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ......... কারদামের কন্যা মাইমুনা (রাযি.) বলেনঃ আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম। আমি যখন লোকজনকে বলতে শুনলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ), তখন আমি এক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার পিতা তাঁর কাছে গেলেন, তখন তিনি তাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত ছিলেন। তাঁর সাথে শাস্ত্রবিদদের চাবুকের মতো একটি চাবুক ছিলো।

আমি বেদুঈনদের এবং লোকদেরকে বলতে শুনলাম, চাবুক, চাবুক। আমার পিতা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর পা ধরলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা তাঁর নবুওয়াতের স্বীকারোক্তি করলেন এবং তাঁর কথা শুনলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মান্নত করেছিলাম, আমার একটি পুত্র সন্তান হলে আমি বুওয়ানার শেষ প্রান্তে পাহাড়ের পাদদেশে কিছু সংখ্যক মেষ জবাই করবো।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় মাইমূনা (রাযি.) পঞ্চাশটি বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি কোনো মূর্তি আছে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আল্লাহর নামে কৃত মান্নত পূর্ণ করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার মেষগুলো একত্র করে জবাই করতে লাগলেন। তার মধ্য থেকে একটি মেষ ছুটে পালালে তিনি এই বলতে বলতে তার পিছু ধাওয়া করেনঃ ’হে আল্লাহ! আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার মান্নত পূর্ণ করুন।’ সুতরাং তিনি সেটিকে ধরে ফেলেন এবং জবাই করেন।
৩২৭৮

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو بكر الحنفي، حدثنا عبد الحميد بن جعفر، عن عمرو بن شعيب، عن ميمونة بنت كردم بن سفيان، عن أبيها نحوه مختصر منه شيء، قال: «هل بها وثن، أو عيد من أعياد الجاهلية؟» قال: لا، قلت: إن أمي هذه عليها نذر، ومشي أفأقضيه عنها، وربما، قال ابن بشار، أنقضيه عنها، قال: «نعم»

মুহাম্মাদ ইবনে বাশ্শার (রাহঃ)....... কারদাম ইবনে সুফিয়ানের কন্যা মাইমূনা (রাযি.) থেকে তার পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কোনো প্রতিমা আছে কি না? অথবা জাহিলী যুগে কোনো মেলা বসতো কি না? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, ইনি আমার মা, তার পায়ে হেঁটে হজ্জ করার মান্নত করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

২৮৬. যার মালিক নয়, এরূপ কিছু মান্নত করলে।

باب فِي النَّذْرِ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ

৩২৭৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، : قَالَ كَانَتِ الْعَضْبَاءُ لِرَجُلٍ مِنْ بَنِي عَقِيلٍ وَكَانَتْ مِنْ سَوَابِقِ الْحَاجِّ قَالَ : فَأُسِرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي وَثَاقٍ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حِمَارٍ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَقَالَ : يَا مُحَمَّدُ عَلاَمَ تَأْخُذُنِي وَتَأْخُذُ سَابِقَةَ الْحَاجِّ قَالَ : " نَأْخُذُكَ بِجَرِيرَةِ حُلَفَائِكَ ثَقِيفٍ " . قَالَ : وَكَانَ ثَقِيفٌ قَدْ أَسَرُوا رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : وَقَدْ قَالَ فِيمَا قَالَ : وَأَنَا مُسْلِمٌ أَوْ قَالَ : وَقَدْ أَسْلَمْتُ . فَلَمَّا مَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - قَالَ أَبُو دَاوُدَ : فَهِمْتُ هَذَا مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى - نَادَاهُ يَا مُحَمَّدُ يَا مُحَمَّدُ . قَالَ : وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا رَفِيقًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ : " مَا شَأْنُكَ " . قَالَ : إِنِّي مُسْلِمٌ . قَالَ : " لَوْ قُلْتَهَا وَأَنْتَ تَمْلِكُ أَمْرَكَ أَفْلَحْتَ كُلَّ الْفَلاَحِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى حَدِيثِ سُلَيْمَانَ قَالَ : يَا مُحَمَّدُ إِنِّي جَائِعٌ فَأَطْعِمْنِي إِنِّي ظَمْآنٌ فَاسْقِنِي . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " هَذِهِ حَاجَتُكَ " . أَوْ قَالَ : " هَذِهِ حَاجَتُهُ " . قَالَ : فَفُودِيَ الرَّجُلُ بَعْدُ بِالرَّجُلَيْنِ . قَالَ : وَحَبَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَضْبَاءَ لِرَحْلِهِ - قَالَ - فَأَغَارَ الْمُشْرِكُونَ عَلَى سَرْحِ الْمَدِينَةِ فَذَهَبُوا بِالْعَضْبَاءِ - قَالَ - فَلَمَّا ذَهَبُوا بِهَا وَأَسَرُوا امْرَأَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ - قَالَ - فَكَانُوا إِذَا كَانَ اللَّيْلُ يُرِيحُونَ إِبِلَهُمْ فِي أَفْنِيَتِهِمْ - قَالَ - فَنُوِّمُوا لَيْلَةً وَقَامَتِ الْمَرْأَةُ فَجَعَلَتْ لاَ تَضَعُ يَدَهَا عَلَى بَعِيرٍ إِلاَّ رَغَا حَتَّى أَتَتْ عَلَى الْعَضْبَاءِ - قَالَ - فَأَتَتْ عَلَى نَاقَةٍ ذَلُولٍ مُجَرَّسَةٍ - قَالَ - فَرَكِبَتْهَا ثُمَّ جَعَلَتْ لِلَّهِ عَلَيْهَا إِنْ نَجَّاهَا اللَّهُ لَتَنْحَرَنَّهَا - قَالَ - فَلَمَّا قَدِمَتِ الْمَدِينَةَ عُرِفَتِ النَّاقَةُ نَاقَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا، فَجِيءَ بِهَا وَأُخْبِرَ بِنَذْرِهَا فَقَالَ : " بِئْسَمَا جَزَيْتِيهَا " . أَوْ : " جَزَتْهَا " . : " إِنِ اللَّهُ أَنْجَاهَا عَلَيْهَا لَتَنْحَرَنَّهَا، لاَ وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَالْمَرْأَةُ هَذِهِ امْرَأَةُ أَبِي ذَرٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩২৭৯. সুলাইমান ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আযবা উটনীটি ছিল বনু ’আকীলের’ জনৈক ব্যক্তির, যেটি হাজীদের কাফিলার আগে আগে চলতো। রাবী বলেনঃ একবার সে ব্যক্তিকে বন্দী করে নবী (ﷺ)-এর নিকট আনা হয় এবং নবী (ﷺ) এ সময় তাঁর গাধার পিঠে চাদর জড়িয়ে বসে ছিলেন। তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাকে এবং হাজীদের কাফিলার আগে গমনকারী এ উটকে কেন পাকড়াও করলে? তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে তোমাদের বন্ধু গোত্র ছাকীফের অপরাধের কারণে গ্রেফতার করেছি।

রাবী বলেনঃ ছাকীফ গোত্রের অপরাধ ছিল যে, তারা নবী (ﷺ)-এর দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিল। রাবী বলেনঃ সে তার কথাবার্তার মাঝে এরূপ বলছিল যে, আমি তো মুসলমান, অথবা আমি মুসলমান হয়ে গেছি। অতঃপর তিনি যখন একটু দূরে সরে যান, তখন সে উচ্চস্বরে বলেঃ হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ!

রাবী বলেনঃ যেহেতু নবী (ﷺ) অনুগ্রহকারী ও মেহেরবান ছিলেন, সে জন্য তিনি ফিরে এসে বলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? সে বলেঃ আমি মুসলিম। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি তুমি সে সময় একথা বলতে, যখন তুমি স্বাধীন বা মুক্ত ছিলে, তবে তুমি সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পেতে।

আবু দাউদ বলেনঃ অতঃপর আমি রাবী সুলাইমান হতে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করব। (তা হলো,) তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মাদ! আমি ক্ষুধার্ত, তুমি আমাকে খাবার দাও। আমি পিপাসার্ত, তুমি আমাকে পানি পান করাও। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেন যে, এটাই হলো তোমার আসল মাকসুদ। অথবা তিনি বলেনঃ এটাই তার আসল ইচ্ছা।

রাবী বলেনঃ এরপর সে ব্যক্তিকে দু’জন সাহাবীর মুক্তিপণ হিসাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাবী ইমরান বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে আযবা উটনীকে নিজের বাহন স্বরূপ রেখে দেন।

রাবী বলেনঃ এ সময় একবার মুশরিকরা মদীনার উপকণ্ঠে হামলা চালিয়ে আযবা উটনীকে (চুরি করে) নিয়ে যায়। তারা ফিরে যাওয়ার সময় একজন মুসলিম নারীকে বন্দী করে নিয়ে যায়।

রাবী বলেনঃ তারা তাদের উটগুলিকে রাতের বেলায় একটি ময়দানে ছেড়ে রাখত। রাবী বলেনঃ তারা এক রাতে ঘুমিয়ে থাকলে সে মহিলা দাঁড়ায় (যাতে পালিয়ে যেতে পারে)। কিন্তু যখনই সে কোন উটের নিকট গেল, সে শোরগোল বাধিয়ে দিল। অবশেষে সে মহিলা আযবা উটনীর কাছে আসে। রাবী বলেনঃ সে মহিলা একটি দ্রুতগামী শক্তিশালী উটের নিকট আসে। তখন সে তার উপর সওয়ার হয়ে এরূপ মান্নত করে যে, যদি আল্লাহ তাকে নাজাত দেন, তবে সে আযবা উটনীকে কুরবানী করবে।

রাবী বলেনঃ অতঃপর সে মহিলা যখন মদীনায় পৌছে, তখন সে উটনীকে চিনতে পারা যায় যে, সেটি ছিল নবী (ﷺ)-এর উট। তখন নবী (ﷺ)-কে এ খবর দেওয়া হয়। তখন নবী (ﷺ) সে মহিলাকে ডেকে পাঠান। তখন সে মহিলা সে উটনী নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয় এবং তার মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি উটনীটিকে খারাপ প্রতিদান দিতে চেয়েছ। আল্লাহ তাআলা এর কারণে তোমাকে নাজাত দিয়েছেন, অথচ তুমি তাকে কুরবানী করার মান্নত করেছ! এমন মান্নত পূরণ করার প্রয়োজন নেই, যা আল্লাহর নাফরমানীর জন্য করা হয় এবং বনু আদম যার মালিক নয়।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এ মহিলা ছিলেন আবু যর (রাযিঃ)-এর স্ত্রী।

২৮৭. নিজের সব মাল কেউ সাদ্‌কা করতে চাইলে সে সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ نَذَرَ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِمَالِهِ

৩২৮০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، قَالَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، - وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ - عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ " . قَالَ فَقُلْتُ : إِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِيَ الَّذِي بِخَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৩২৮০. সুলাইমান ইবনে দাউদ ও ইবনে সারহ (রাহঃ) ...... কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইচ্ছা এই যে, আমি আমার সমস্ত মাল হতে মুখ ফিরিয়ে নেই এবং তা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্য সাদ্‌কা করে দেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার জন্য কিছু মাল রেখে দাও, এটাই তোমার জন্য উত্তম। তিনি বলেন, তখন আমি এরূপ বলিঃ আমি আমার জন্য খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত অংশটি রাখছি।

৩২৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ: لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تِيبَ عَلَيْهِ إِنِّي أَنْخَلِعُ مِنْ مَالِي، فَذَكَرَ نَحْوَهُ إِلَى «خَيْرٌ لَكَ»

আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ)...... ‘আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাযি.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তার তওবা কবুল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলেন, আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো, তোমার জন্য উত্তম হবে’ পর্যন্ত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

৩২৮০

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ: قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوْ أَبُو لُبَابَةَ، أَوْ مَنْ شَاءَ اللَّهُ، إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَهْجُرَ دَارَ قَوْمِي الَّتِي أَصَبْتُ فِيهَا الذَّنْبَ وَأَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي كُلِّهِ صَدَقَةً؟ قَالَ: «يُجْزِئُ عَنْكَ الثُّلُثُ».

উবাইদ ইবনে আমর (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাযি.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বা আবূ লুবাবা কিংবা আল্লাহর ইচ্ছায় অপর কেউ নবী (ﷺ)-কে বলেন, আমার তাওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার গোত্রের যে বাড়িতে অপরাধের শিকার হয়েছি তা ত্যাগ করবো এবং আমার সমস্ত সম্পদ সদাকা করে দিবো। তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশ সদাকা করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

৩২৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَعْمَرٌ [ص:241]، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ أَبُولُبَابَةَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَالْقِصَّةُ، لِأَبِي لُبَابَةَ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ بَعْضِ بَنِي السَّائِبِ ابْنِ أَبِي لُبَابَةَ، وَرَوَاهُ الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ مِثْلَهُ

মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াক্কিল (রাহঃ)..... ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাযি.) বলেন, আবূ লূবাবা (রাযি.) ছিলেন ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। ঘটনাটি আবূ লুবাবাহ (রাযি.) সংশ্লিষ্ট।
আবূ দাঊদ (রাহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে তিনি বনু সায়িব ইবনে আবূ লুবাবা থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩২৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، فِي قِصَّتِهِ قَالَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي إِلَى اللَّهِ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ مَالِي كُلِّهِ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ صَدَقَةً . قَالَ : " لاَ " . قُلْتُ : فَنِصْفَهُ . قَالَ : " لاَ " . قُلْتُ : فَثُلُثَهُ . قَالَ : " نَعَمْ " . قُلْتُ : فَإِنِّي سَأُمْسِكُ سَهْمِي مِنْ خَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৩২৮১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তাঁর দাদা হতে উপরিউক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যাতে রাবী কা’ব (রাযিঃ) বলেনঃ একদা আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইচ্ছা এই যে, আমার সমস্ত মাল হতে মুখ ফিরিয়ে নেব এবং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের রাস্তায় খরচ করব। তিনি বলেনঃ না, (তুমি এরূপ করবে না)। তখন আমি বললামঃ তাহলে অর্ধেক দান করি? তিনি বললেনঃ না। তখন আমি বললামঃ তবে তিন ভাগের এক ভাগদান করি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, (তা করতে পার)। আমি বললামঃ তাহলে আমি আমার খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত অংশটি রাখলাম।

২৮৮. জাহিলীয়াত যুগের মানতের পর ইসলাম কবুল করলে।

باب مَنْ نَذَرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ أَدْرَكَ الإِسْلاَمَ

৩২৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ لَيْلَةً . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " أَوْفِ بِنَذْرِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩২৮২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জাহিলীয়াতের যুগে এরূপ মান্নত করেছিলাম যে, আমি এক রাতে মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করব। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তোমার মান্নত পুরা কর।

২৮৯. নির্ধারিত না করে যদি কেউ মান্নত করে।

باب مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُسَمِّهِ

৩২৮৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ قَالَ حَدَّثَنِي كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " كَفَّارَةُ النَّذْرِ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَرَوَاهُ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ شِمَاسَةَ، عَنْ عُقْبَةَ،

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩২৮৩. হারুন ইবনে আব্বাদ আযদী (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানতের কাফফারা, কসম ভাঙ্গার কাফফারার অনুরূপ।

৩২৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ، حَدَّثَهُمْ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِمَاسَةَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩২৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

২৯০. বেহুদা কসম খাওয়া।

৩২৮৫

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ الشَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي الصَّائِغَ - عَنْ عَطَاءٍ، فِي اللَّغْوِ فِي الْيَمِينِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هُوَ كَلاَمُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ كَلاَّ وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ الصَّائِغُ رَجُلاً صَالِحًا قَتَلَهُ أَبُو مُسْلِمٍ بِعَرَنْدَسَ قَالَ وَكَانَ إِذَا رَفَعَ الْمَطْرَقَةَ فَسَمِعَ النِّدَاءَ سَيَّبَهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ مَوْقُوفًا عَلَى عَائِشَةَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَمَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ وَكُلُّهُمْ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ مَوْقُوفًا .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৩২৮৫. হুমায়দ ইবনে মাস’আদা (রাহঃ) .... আতা (রাহঃ) বেহুদা কসম সম্পর্কে বলেন যে, আয়িশা (রাযিঃ) থেকে র্বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বেহুদা কসম এরূপ যে, কোন ব্যক্তি তার ঘরে কথাবার্তা বলার সময় বলে যে, আল্লাহর শপথ! এ কথাটি এরূপ নয়। অথবা বলে, আল্লাহর শপথ! ব্যাপারটি এরূপ।[১]

[১] কসম তিন প্রকারের যথাঃ (১) বেহুদা কসমঃ যা কোন ঘটনাকে সত্য মনে করে, খাওয়া হয়, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তা সত্য নয়। এর জন্য কোন কাফ্ফারা নেই। (২) ভবিষ্যতে কোন কাজ করা বা না-করার জন্য কসম খাওয়া। এমতাবস্থায় কাফ্ফারার খেলাফ কিছু করলে, অবশ্যই কাফ্ফারা দিতে হবে। কাফ্ফারা এরূপঃ একটা গোলাম আযাদ করা, দশজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়ানো, অথবা পর-পর তিন দিন রোযা রাখা। (৩) জেনে-শুনে কোন ব্যাপারে ভূল বা মিথ্যা শপথ করা। এধরনের কসম করা ভয়ানক গুনাহের কাজ, যার শাস্তি হলো—জাহান্নাম। এমতাবস্থায় তাওবা করা খুবই প্রয়োজন ।

২৯১. যদি কেউ কিছু না খাওয়ার জন্য কসম করে।

باب فِيمَنْ حَلَفَ عَلَى الطَّعَامِ لاَ يَأْكُلُهُ

৩২৮৬

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، أَوْ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ : نَزَلَ بِنَا أَضْيَافٌ لَنَا قَالَ : وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَتَحَدَّثُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ فَقَالَ : لاَ أَرْجِعَنَّ إِلَيْكَ حَتَّى تَفْرَغَ مِنْ ضِيَافَةِ هَؤُلاَءِ وَمِنْ قِرَاهُمْ فَأَتَاهُمْ بِقِرَاهُمْ فَقَالُوا : لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى يَأْتِيَ أَبُو بَكْرٍ . فَجَاءَ فَقَالَ : مَا فَعَلَ أَضْيَافُكُمْ أَفَرَغْتُمْ مِنْ قِرَاهُمْ قَالُوا : لاَ . قُلْتُ : قَدْ أَتَيْتُهُمْ بِقِرَاهُمْ فَأَبَوْا وَقَالُوا : وَاللَّهِ لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى يَجِيءَ، فَقَالُوا : صَدَقَ قَدْ أَتَانَا بِهِ فَأَبَيْنَا حَتَّى تَجِيءَ، قَالَ : فَمَا مَنَعَكُمْ قَالُوا : مَكَانُكَ . قَالَ : وَاللَّهِ لاَ أَطْعَمُهُ اللَّيْلَةَ، قَالَ فَقَالُوا : وَنَحْنُ وَاللَّهِ لاَ نَطْعَمُهُ حَتَّى تَطْعَمَهُ . قَالَ : مَا رَأَيْتُ فِي الشَّرِّ كَاللَّيْلَةِ قَطُّ - قَالَ - قَرِّبُوا طَعَامَكُمْ . قَالَ : فَقُرِّبَ طَعَامُهُمْ فَقَالَ : بِسْمِ اللَّهِ فَطَعِمَ وَطَعِمُوا فَأُخْبِرْتُ أَنَّهُ أَصْبَحَ فَغَدَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي صَنَعَ وَصَنَعُوا، قَالَ : " بَلْ أَنْتَ أَبَرُّهُمْ وَأَصْدَقُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

৩২৮৬. মু’আমমাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমাদের নিকট (ঘরে) কয়েকজন মেহমান আসে। এ সময় আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রাত্রিতে কথাবার্তা বলছিলেন। তখন তিনি [আবু বকর (রাযিঃ)] বলেনঃ আমি ততক্ষণ তোমাদের কাছে ফিরে যাব না, যতক্ষণ না তোমরা মেহমানদের খানাপিনা করানো হতে নিষ্ক্রান্ত না হও। তখন আব্দুর রহমান মেহমানদের নিকট ফিরে আসেন এবং তাদের সামনে খাদ্য-বস্তু উপস্থিত করেন। তখন মেহমানরা বলেনঃ আবু বকর ফিরে না আসা পর্যন্ত খাদ্য গ্রহণ করব না।

ইত্যবসরে আবু বকর (রাযিঃ) ফিরে আসেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মেহমানরা কি করছেন, তোমরা কি তাদের আহার করিয়েছ? তাঁরা বলেনঃ না। আমি বললামঃ আমি তাদের সামনে খাদ্য-বস্তু উপস্থিত করেছিলাম, কিন্তু তাঁরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে এবং এরূপ কসম করেছে যে, আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ না আবু বকর (রাযিঃ) ফিরে আসেন, ততক্ষণ আমরা খাদ্য গ্রহণ করব না। তখন তারা বলেনঃ আব্দুর রহমান ঠিক কথা বলেছেন। সে আমাদের সামনে খাদ্য দিয়েছিল, কিন্তু আপনি না আসা পর্যন্ত আমরা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করি। আবু বকর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসে আপনাদের মানা করেছে? তাঁরা বলেনঃ আপনি গৃহে না থাকায় আমরা আপনার গৃহে খাদ্য গ্রহণ করিনি। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আজ রাতে খাদ্য গ্রহণ করব না।

রাবী বলেন, তখন তাঁরা (সাহাবীরা) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ না আপনি খাদ্য খাবেন, ততক্ষণ আমরা তা খাব না। রাবী বলেনঃ এরূপ খারাপ রাত আমি আর কখনও দেখিনি। এরপর তিনি [আবু বকর (রাযিঃ)] বলেনঃ খানা হাযির কর। তখন তাদের জন্য খাদ্য-বস্তু আনা হলে তিনি ’বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু করেন এবং মেহমানরাও খাদ্য-বস্তু ভক্ষণ করেন। রাবী বলেনঃ আমাকে এরূপ খবর দেওয়া হয় যে, আবু বকর (রাযিঃ) সকাল বেলা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে (রাতের) ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ তুমি তাদের সকলের চাইতে অধিক নেককার এবং সত্যবাদী।
৩২৮৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، وَعَبْدُ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ نَحْوَهُ زَادَ عَنْ سَالِمٍ، فِي حَدِيثِهِ قَالَ : وَلَمْ يَبْلُغْنِي كَفَّارَةً .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

৩২৮৭. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... আব্দুব রহমান ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) উপরিউক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সালিম হতে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমি এটা জানতে পারিনি যে, আবু বকর (রাযিঃ) এ ঘটনার জন্য কাফফারা দিয়েছেন।

২৯২. আত্মীয়তার সস্পর্ক ছিন্ন করার জন্য শপথ করলে।

باب الْيَمِينِ فِي قَطِيعَةِ الرَّحِمِ

৩২৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، : أَنَّ أَخَوَيْنِ، مِنَ الأَنْصَارِ كَانَ بَيْنَهُمَا مِيرَاثٌ فَسَأَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ الْقِسْمَةَ فَقَالَ : إِنْ عُدْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْقِسْمَةِ فَكُلُّ مَالٍ لِي فِي رِتَاجِ الْكَعْبَةِ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ : إِنَّ الْكَعْبَةَ غَنِيَّةٌ عَنْ مَالِكَ، كَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَكَلِّمْ أَخَاكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " لاَ يَمِينَ عَلَيْكَ، وَلاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةِ الرَّبِّ وَفِي قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَفِيمَا لاَ تَمْلِكُ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৩২৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে মুসায়য়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসারদের দু’ভাইয়ের মাঝে একটি (যৌথ) মীরাছ ছিল। তখন তাদের একজন অপরজনকে তা বণ্টন করে দেওয়ার জন্য বলে। তখন সে বলেঃ যদি তুমি দ্বিতীয়বার তা বণ্টনের জন্য অনুরোধ কর, তবে আমার সমস্ত মাল কাবার জন্য ওয়াক্‌ফ হবে। তখন উমর (রাযিঃ) তাকে বলেনঃ কাবা তো তোমার মালের অমুখাপেক্ষী। কাজেই তুমি তোমার কসমের কাফফারা আদায় কর এবং তোমার ভাইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমার জন্য এরূপ কসম খাওয়া ও মান্নত করা উচিত নয়, যাতে রবের নাফরমানী হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং যার মালিক তুমি নও।

২৯৩. শপথ করার পর ইনশাআল্লাহ্ বলা।

৩২৮৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا " . ثُمَّ قَالَ : " إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَقَدْ أَسْنَدَ هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَسْنَدَهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ: عَنْ شَرِيكٍ، ثُمَّ لَمْ يَغْزُهُمْ

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩২৮৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। অবশেষে তিনি বলেনঃ ইনাশা আল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ যদি চান।

৩২৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، يَرْفَعُهُ قَالَ : " وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا " . ثُمَّ قَالَ : " إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . ثُمَّ قَالَ : " وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . ثُمَّ قَالَ : " وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا " . ثُمَّ سَكَتَ ثُمَّ قَالَ : " إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : زَادَ فِيهِ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ شَرِيكٍ قَالَ : ثُمَّ لَمْ يَغْزُهُمْ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৩২৯০. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ কসম খান যে, আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। এরপর তিনি বলেনঃ ইনশাআল্লাহ অর্থাৎ যদি আল্লাহ চান। অতঃপর তিনি এরূপ শপথ করেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি ইনশাআল্লাহ কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। তিনি পুনরায় বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেনঃ ইনশাআল্লাহ অর্থাৎ যদি আল্লাহ চান।

৩২৯১

حَدَّثَنَا الْمُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " لاَ نَذْرَ وَلاَ يَمِينَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ وَلاَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِي قَطِيعَةِ رَحِمٍ، وَمَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَدَعْهَا وَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، فَإِنَّ تَرْكَهَا كَفَّارَتُهَا " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: الْأَحَادِيثُ كُلُّهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ إِلَّا فِيمَا لَا يَعْبَأُ بِهِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: قُلْتُ لِأَحْمَدَ، رَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: تَرَكَهُ بَعْدَ ذَلِكَ، وَكَانَ أَهْلًا لِذَلِكَ قَالَ أَحْمَدُ: أَحَادِيثُهُ مَنَاكِيرُ، وَأَبُوهُ لَا يُعْرَفُ

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩২৯১. মুনযির ইবনে ওয়ালীদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা ও দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে জিনিস মানুষের ইখতিয়ারে নয়, অথবা আল্লাহর নাফরমানী হয়, অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য হয় এ সব বিষয়ে মান্নত করা এবং কসম খাওয়া উচিত নয়। যদি কেউ এরূপ কসম করে এবং এর বিপরীত ভাল বলে মনে হয়, তবে সে কসম পরিত্যাগ করে ভাল জিনিস গ্রহণ করবে। কেননা, এরূপ কাজ পরিত্যাগ করাই এর কাফফারা স্বরূপ।

২৯৪. যদি কেউ এরূপ মান্নত করে, যা পূরণ করার ক্ষমতা তার নেই।

৩২৯২

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى الأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُسَمِّهِ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا فِي مَعْصِيَةٍ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا لاَ يُطِيقُهُ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا أَطَاقَهُ فَلْيَفِ بِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ وَكِيعٌ وَغَيْرُهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْهِنْدِ أَوْقَفُوهُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৯২. জাফর ইবনে মুসাফির তিন্নীসী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কিছু নির্দিষ্ট না করে কিছু মান্নত করে, তবে এর কাফফারা হবে কসমের কাফফারার অনুরূপ। আর যদি কেউ কোনরূপ গুনাহের কাজের জন্য মান্নত করে, তবে এরও কাফফারা হবে কসমের কাফফারার মত। আর যদি কেউ এরূপ মান্নত করে, যা আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে এর কাফফারাও কসমের কাফফারার অনুরূপ হবে। আর যদি কেউ এরূপ মান্নত করে, যা পূরণ করা সম্ভব, তবে তার উচিত হবে সে মান্নত পুরা করা।

৩৩৪. দাসীদের উপার্জন সম্পর্কে।

باب فِي كَسْبِ الإِمَاءِ

৩৩৯২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

কুতাইবা (রাহঃ)....... হযরত আবু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুকুরের বিক্রয়মূল্য যেনাকারিনীর আয় ও গণকের ভেট গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

১. ইমাম মাহদী (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে।

باب المهدى

৪২৪০
الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - وَنَظَرَ إِلَى ابْنِهِ الْحَسَنِ فَقَالَ إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ كَمَا سَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَسَيَخْرُجُ مِنْ صُلْبِهِ رَجُلٌ يُسَمَّى بِاسْمِ نَبِيِّكُمْ يُشْبِهُهُ فِي الْخُلُقِ وَلاَ يُشْبِهُهُ فِي الْخَلْقِ ثُمَّ ذَكَرَ قِصَّةَ يَمْلأُ الأَرْضَ عَدْلاً .
وَقَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ وَرَاءِ النَّهْرِ يُقَالُ لَهُ الْحَارِثُ بْنُ حَرَّاثٍ عَلَى مُقَدِّمَتِهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ مَنْصُورٌ يُوَطِّئُ أَوْ يُمَكِّنُ لآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا مَكَّنَتْ قُرَيْشٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَبَ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ نَصْرُهُ " . أَوْ قَالَ " إِجَابَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) হারূন ইবনে মুগীরা থেকে, তিনি আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা আলী (রাযিঃ) তাঁর পুত্র হাসানের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ আমার এ ছেলে জান্নাতের যুবদের সর্দার, যেমন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তিনি আরো বলেনঃ অতি সত্তর তার বংশে এমন এক ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করবে, যার নাম হবে তোমাদের নবীর অনুরূপ। স্বভাব-চরিত্রে তিনি তাঁরই মত হবেন, তবে আকৃতিতে নয়। এরপর আলী (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি পৃথিবীকে আদল-ইনসাফে পরিপূর্ণ করবেন।

হারূন (রাহঃ) .... আমর ইবনে কায়স (রাহঃ) থেকে, তিনি হিলাল ইবনে আমর (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ)-কে এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ‘অরাইন-নাহার’ থেকে এমন এক ব্যক্তি বের হবে, যার নাম হবে ‘হারিছ ইবনে হারবাছ’ এবং তার আগে অপর এক ব্যক্তি বের হবে, যাকে লোকেরা ‘মনসুর’ বলবে। তিনি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার-পরিজনদের তেমনি ভাবে আশ্রয় দেবেন, যেমনি ভাবে কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আশ্রয় দিয়েছিল। প্রত্যেক মু’মিনের উচিত হবে তাঁকে সাহায্য করা এবং তাঁর আহব্বানে সাড়া দেওয়া।