كتاب الخراج والإمارة والفىء

১৫. কর-খাজনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংক্রান্ত

অধ্যায় ১৫ · ১৫৯ টি হাদীস

১৩৯. অধীনস্থদের ব্যাপারে নেতার দায়িত্ব প্রসঙ্গে।

باب مَا يَلْزَمُ الإِمَامَ مِنْ حَقِّ الرَّعِيَّةِ

২৯১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ عَلَيْهِمْ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا وَوَلَدِهِ وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ وَالَعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯১৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা সকলে রাখালের ন্যায় দায়িত্বশীল এবং (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমীর (নেতা) হয়েছে, তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যে, (সে তার অধীনস্থদের সাথে) কিরূপ ব্যবহার করেছে। আর প্রত্যেক পুরুষ তার পরিবার-পরিজনদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর স্ত্রী, তার স্বামীর ঘর-সংসার ও তার সন্তানাদির রক্ষণাবেক্ষণকারিনী, তাকে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কাজেই, তোমরা সকলে দায়িত্বশীল রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের সকলকে তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

১৪০. নেতৃত্ব চাইলে, সে সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي طَلَبِ الإِمَارَةِ

২৯১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَمَنْصُورٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِذَا أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ فِيهَا إِلَى نَفْسِكَ وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

২৯১৯. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ বাযযায (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেন যে, হে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা! তুমি নেতৃত্ব চাবে না। কেননা যদি তোমার চাওয়ার প্রেক্ষিতে তা তোমাকে দেওয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপর বর্তাবে। আর যদি চাওয়া ব্যতীত তা তোমাকে দেওয়া হয়, তবে তুমি তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন)।

২৯২০

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ بِشْرِ بْنِ قُرَّةَ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ رَجُلَيْنِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَتَشَهَّدَ أَحَدُهُمَا ثُمَّ قَالَ جِئْنَا لِتَسْتَعِينَ بِنَا عَلَى عَمَلِكَ . وَقَالَ الآخَرُ مِثْلَ قَوْلِ صَاحِبِهِ . فَقَالَ " إِنَّ أَخْوَنَكُمْ عِنْدَنَا مَنْ طَلَبَهُ " . فَاعْتَذَرَ أَبُو مُوسَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَمْ أَعْلَمْ لِمَا جَاءَا لَهُ . فَلَمْ يَسْتَعِنْ بِهِمَا عَلَى شَىْءٍ حَتَّى مَاتَ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৯২০. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি দু’ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট গমন করি। তখন তাদের এক ব্যক্তি প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশের পর বললোঃ আমরা এজন্য এসেছি যে, আপনি আমাদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে সাহায্য নিবেন। আর দ্বিতীয় জনও তার সাথীর অনুরূপ বক্তব্য পেশ করলো। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি নেতৃত্ব চায়, সে আমাদের দৃষ্টিতে অধিক খিয়ানতকারী। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট উযর পেশ করে বলেনঃ আমি জানতে পারিনি যে, তারা এ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে। অতঃপর তিনি আমৃত্যু তাদের দিয়ে কোন কাজে সাহায্য নেন নি।

১৪১. অন্ধ ব্যক্তির নেতৃত্ব সম্পর্কে।

باب فِي الضَّرِيرِ يُوَلَّى

২৯২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ عَلَى الْمَدِينَةِ مَرَّتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯২১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ মুখাররামী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) দু’বার ইবনে উম্মু মাকতুম (অন্ধ সাহাবী)-কে (যুদ্ধে যাওয়ার সময়) মদীনাতে তাঁর খলীফা হিসাবে নিয়োগ করেন।

১৪২. উযীর (মন্ত্রী) নিয়োগ করা সস্পর্কে।

باب فِي اتِّخَاذِ الْوَزِيرِ

২৯২২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَامِرٍ الْمُرِّيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِالأَمِيرِ خَيْرًا جَعَلَ لَهُ وَزِيرَ صِدْقٍ إِنْ نَسِيَ ذَكَّرَهُ وَإِنْ ذَكَرَ أَعَانَهُ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهِ غَيْرَ ذَلِكَ جَعَلَ لَهُ وَزِيرَ سُوءٍ إِنْ نَسِيَ لَمْ يُذَكِّرْهُ وَإِنْ ذَكَرَ لَمْ يُعِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯২২. মুসা ইবনে আমির মুররী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা কোন নেতার জন্য যখন কল্যাণের ফয়সালা করেন, তখন তিনি তাকে সত্যবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ উযীর প্রদান করেন। যদি তিনি (নেতা) কিছু ভুলে যান, তখন সে (উযীর) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমীর যদি তা স্মরণ রাখেন, তখন উযীর তাকে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা কোন নেতার জন্য যখন অকল্যাণের ফয়সালা করেন, তখন তিনি তাকে অযোগ্য উযীর প্রদান করেন। ফলে যখন তিনি (আমীর) কিছু ভুলে যান, তখন সে (উযীর) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয় না। আর আমীর যদি স্মরণ রাখেন, তখন সে তাকে সাহায্য করে না।

১৪৩. আরাফা (সমাজপতি) প্রসঙ্গে।

باب فِي الْعِرَافَةِ

২৯২৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، سُلَيْمَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمِقْدَامِ، عَنْ جَدِّهِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ عَلَى مَنْكِبِهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ " أَفْلَحْتَ يَا قُدَيْمُ إِنْ مُتَّ وَلَمْ تَكُنْ أَمِيرًا وَلاَ كَاتِبًا وَلاَ عَرِيفًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৯২৩. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দু’কাঁধে হাত রেখে বলেন, হে কুদায়ম! তুমি নাজাত পাবে, যদি তুমি আমীর, মুনশী (কেরানী) এবং আরাফা (সমাজপতি) হওয়ার আগে মারা যাও।

২৯২৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا غَالِبٌ الْقَطَّانُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُمْ كَانُوا عَلَى مَنْهَلٍ مِنَ الْمَنَاهِلِ فَلَمَّا بَلَغَهُمُ الإِسْلاَمُ جَعَلَ صَاحِبُ الْمَاءِ لِقَوْمِهِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ عَلَى أَنْ يُسْلِمُوا فَأَسْلَمُوا وَقَسَمَ الإِبِلَ بَيْنَهُمْ وَبَدَا لَهُ أَنْ يَرْتَجِعَهَا مِنْهُمْ فَأَرْسَلَ ابْنَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ ائْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْ لَهُ إِنَّ أَبِي يُقْرِئُكَ السَّلاَمَ وَإِنَّهُ جَعَلَ لِقَوْمِهِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ عَلَى أَنْ يُسْلِمُوا فَأَسْلَمُوا وَقَسَمَ الإِبِلَ بَيْنَهُمْ وَبَدَا لَهُ أَنْ يَرْتَجِعَهَا مِنْهُمْ أَفَهُوَ أَحَقُّ بِهَا أَمْ هُمْ فَإِنْ قَالَ لَكَ نَعَمْ أَوْ لاَ فَقُلْ لَهُ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ وَهُوَ عَرِيفُ الْمَاءِ وَإِنَّهُ يَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ لِيَ الْعِرَافَةَ بَعْدَهُ . فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ أَبِي يُقْرِئُكَ السَّلاَمَ . فَقَالَ " وَعَلَيْكَ وَعَلَى أَبِيكَ السَّلاَمُ " . فَقَالَ إِنَّ أَبِي جَعَلَ لِقَوْمِهِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ عَلَى أَنْ يُسْلِمُوا فَأَسْلَمُوا وَحَسُنَ إِسْلاَمُهُمْ ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَرْتَجِعَهَا مِنْهُمْ أَفَهُوَ أَحَقُّ بِهَا أَمْ هُمْ فَقَالَ " إِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُسْلِمَهَا لَهُمْ فَلْيُسْلِمْهَا وَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَرْتَجِعَهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا مِنْهُمْ فَإِنْ هُمْ أَسْلَمُوا فَلَهُمْ إِسْلاَمُهُمْ وَإِنْ لَمْ يُسْلِمُوا قُوتِلُوا عَلَى الإِسْلاَمِ " . فَقَالَ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ وَهُوَ عَرِيفُ الْمَاءِ وَإِنَّهُ يَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ لِيَ الْعِرَافَةَ بَعْدَهُ . فَقَالَ " إِنَّ الْعِرَافَةَ حَقٌّ وَلاَ بُدَّ لِلنَّاسِ مِنَ الْعُرَفَاءِ وَلَكِنَّ الْعُرَفَاءَ فِي النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯২৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... গালিব কাত্তান (রাযিঃ) জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। যিনি তাঁর পিতা হতে এবং তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তারা একটি ঝর্ণার নিকট বসবাস করত। যখন তারা দীন-ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে, তখন ঝর্ণার মালিক তার অধীনস্থ লোকদের এ শর্তে একশটি উট দিতে চায় যে, তারা ইসলাম কবুল করবে। তখন তারা ইসলাম কবুল করলে তাদের মাঝে একশটি উট বন্টন করে দেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তাদের থেকে সেগুলো ফেরত নেয়ার খেয়াল করেন এবং স্বীয় পুত্রকে নবী (ﷺ) এর নিকট প্রেরণ করেন।

তিনি তাঁর পুত্রকে এ মর্মে নির্দেশ দেন যে, সে যেন নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে তাকে বলেঃ আমার পিতা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন, আর তিনি তাঁর কওমের লোকদের মাঝে এ উদ্দেশ্যে একশটি উট বিতরণ করতে চান, যাতে তারা ইসলাম কবুল করে। অতঃপর তারা ইসলাম কবুল করেছে এবং তিনিও তাদের মাঝে শত উট বিতরণ করেছেন। এখন তাদের থেকে সেগুলি ফেরত নেয়ার ইচ্ছা করছেন। তাই তিনি কি এগুলির অধিক হকদার, না ঐ ব্যক্তিরা?

তখন তিনি বললেনঃ যদি তিনি সেগুলো তাদের দিয়ে দিতে চান, তবে তিনি দিতে পারেন। আর যদি তিনি সেগুলো ফেরত নিতে চান তাহেলেও এ ব্যাপারে তিনি অধিক হকদার। আর তারা যদি সত্য-সত্যই মুসলমান হয়ে থাকে, তবে তারা এর বিনিময় (আল্লাহর নিকট) পাবে। আর যদি তারা সত্যিকারভাবে মুসলমান না হয়ে থাকে, তবে তাদেরকে ইসলামের জন্য কতল করা হবে।

অতঃপর সে (ছেলে) বলেঃ আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ লোক, আর তিনি পানির আরীফও। তিনি আপনার নিকট এরূপ দরখাস্ত করেছেন যে, আপনি আমাকে তার পরে ঐ পানির আরীফ নিয়োগ করবেন। তখন তিনি বলেনঃ নিশ্চয় ইরাফা (প্রতিনিধিত্ব) খুবই জরুরী বিষয়। আর লোকজনের উপকারার্থেই তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিনিধিত্বকারী নেতারাই জাহান্নামে যাবে।[১]

[১] অর্থাৎ সমাজপতি বা কাওমের প্রতিনিধিরা যদি সঠিকভাবে স্ব-স্ব দায়িত্ব ইনসাফের সাথে পালন না করে, সমাজ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করে, তবে তারা জাহান্নামে যাবে।

১৪৪. মুহুরী বা করণিক রাখার ব্যাপারে।

باب فِي اتِّخَاذِ الْكَاتِبِ

২৯২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ السِّجِلُّ كَاتِبٌ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’সিজিল্লু’ নবী (ﷺ)-এর একজন ওহী লেখকের নাম ছিল।

১৪৫. সাদ্‌কা আদায়কারীর সাওয়াব।

باب فِي السِّعَايَةِ عَلَى الصَّدَقَةِ

২৯২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الأَسْبَاطِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْعَامِلُ عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ كَالْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৯২৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আসবাতী (রাহঃ) .... রাফে ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, সঠিকভাবে সাদ্‌কা (যাকাত) আদায়কারী হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মত, যতক্ষণ না সে তার ঘরে ফিরে যায়।

২৯২৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِمَاسَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ مَكْسٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৯২৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যাকাতের মালের নিদিষ্ট পরিমাণের চাইতে অধিক গ্রহণকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

২৯২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ مَغْرَاءَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ الَّذِي يَعْشُرُ النَّاسَ يَعْنِي صَاحِبَ الْمَكْسِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯২৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ কাত্তান (রাহঃ) ..... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’সাহেবে-মাকস’ ঐ ব্যক্তি, যে লোকদের নিকট হতে উশর এক-দশমাংশ আদায় করার সময় (যাকাত হিসাবে) কিছু বেশী আদায় করে।

১৪৬. খলীফা মনোনয়ন সম্পর্কে।

باب فِي الْخَلِيفَةِ يَسْتَخْلِفُ

২৯২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، وَسَلَمَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ إِنِّي إِنْ لاَ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسْتَخْلِفْ وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَدِ اسْتَخْلَفَ . قَالَ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ لاَ يَعْدِلُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدًا وَأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯২৯. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে সুফআন ও সালামা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) ঘোষণা দেনঃ আমি খলীফা (আমার পরের) মনোনীত করব না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন খলীফা মনোনীত করেন নি। আর আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি, (তবে এতে দোষের কিছুই নেই)। কেননা আবু বকর (রাযিঃ) খলীফা মনোনীত করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তিনি [উমর (রাযিঃ)] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) সম্পর্কে উল্লেখ করায় আমি বুঝতে পারি যে, তিনি কাউকেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সমান মনে করেন না এবং তিনি কাউকেও তাঁর খলীফা মনোনীত করবেন না।[১]

[১] বস্তুত উমর (রা.) তাঁর ইনতিকালের সময় কাউকে খলীফা মনোনীত করেন নি। বরং তিনি বলেনঃ তালহা (বা.), যুবায়র (রা.), উছমান (রা.), আলী (রা.), আব্দুর রহমান ইবন 'আওফ (রা.) এবং আবু উবায়দা ইবন জাররা (রা.)-এর থেকে যার উপর মুসলমানদের অধিক আস্থা পরিলক্ষিত হবে। তিনি-ই খলীফা নির্বাচিত হবেন। অবশেষে উছমান (রা.) খলীফা নির্বাচিত হন। এভাবে জনগণের দ্বারা খলীফা নির্বাচিত হওয়া উচিত ও বিধেয়।

১৪৭. বায়আত সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْبَيْعَةِ

২৯৩০

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نُبَايِعُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَيُلَقِّنُنَا فِيمَا اسْتَطَعْتَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৩০. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এ মর্মে বায়’আত গ্রহণ করতাম যে, আমরা তাঁর কথা শুনব এবং আমল করব। আর তিনি আমাদেরকে এরূপ শিক্ষা দিতেন যে তোমরা তোমাদের সাধ্যমত দ্বীনের কাজ করবে।

২৯৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ عَنْ بَيْعَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ قَالَتْ مَا مَسَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ إِلاَّ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا فَإِذَا أَخَذَ عَلَيْهَا فَأَعْطَتْهُ قَالَ " اذْهَبِي فَقَدْ بَايَعْتُكِ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৯৩১. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক মহিলাদের বায়’আত করা সম্পর্কে তাঁকে এরূপ বলেছেন যে, নবী (ﷺ) কখনো কোন বেগানা স্ত্রীলোককে তাঁর হাত দিয়ে স্পর্শ করেননি। অবশ্য তিনি তাদের নিকট হতে বায়’আতের অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন। আর যখন তিনি অঙ্গীকার নিতেন, তখন তারা তাঁর নিকট অঙ্গীকারবদ্ধ হতো। এ সময় তিনি বলতেনঃ যাও, আমি তোমাকে বায়’আত করেছি।

২৯৩২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَقِيلٍ، زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ بِنْتُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ صَغِيرٌ " . فَمَسَحَ رَأْسَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম (রাঃ)

২৯৩২. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর যামানা পেয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ তাকে নিয়ে তার আম্মা যয়নাব বিনতে হুমাইদ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যান এবং বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! একে বায়’আত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে তো খুবই ছোট। এরপর তিনি তার মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন।[১]

[১] আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য এবং শরীআতের নির্দেশাবলী পালন করার অঙ্গীকার করাকে বায়'আত বলা হয়। পীর-বুযুর্গদের মাঝে এ প্রথা আজও বিদ্যমান আছে। পুরুষদের হাতে হাত মিলিয়ে মুখে অঙ্গীকারের এবং স্ত্রীলোকদের সাথে শুধু মৌখিক অঙ্গীকারের শব্দাবলী পাঠ করাকে সুন্নত বায়'আত বলা হয়।

১৪৮. সরকারী কর্মচারীদের বেতন সম্পর্কে।

باب فِي أَرْزَاقِ الْعُمَّالِ

২৯৩৩

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ أَبُو طَالِبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُولٌ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৯৩৩. যায়দ ইবনে আখযাম আবু তালিব (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যাকে যে কাজের জন্য নিয়োগ করব এবং তার জন্য যে বেতন নির্ধারণ করব, এর অতিরিক্ত যদি সে কিছু গ্রহণ করে, তবে তা আত্মসাৎরূপে গণ্য হবে।

২৯৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّاعِدِيِّ، قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ أَمَرَ لِي بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ . قَالَ خُذْ مَا أُعْطِيتَ فَإِنِّي قَدْ عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِي .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৯৩৪. আবু ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) ..... ইবনে সা’ইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উমর (রাযিঃ) যাকাত আদায়ের দায়িত্বে নিয়োগ করেন। যখন আমি এ কাজ হতে মুক্ত হই, তখন তিনি আমাকে এর বিনিময় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় আমি বলিঃ আমি তো আল্লাহর ওয়াস্তে এ কাজ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তোমাকে যা দেওয়া হচ্ছে, তা গ্রহণ কর। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এ দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে এর মজুরী দিয়েছিলেন।

২৯৩৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ لَنَا عَامِلاً فَلْيَكْتَسِبْ زَوْجَةً فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ خَادِمٌ فَلْيَكْتَسِبْ خَادِمًا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَسْكَنٌ فَلْيَكْتَسِبْ مَسْكَنًا " . قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ أُخْبِرْتُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اتَّخَذَ غَيْرَ ذَلِكَ فَهُوَ غَالٌّ أَوْ سَارِقٌ " .

বর্ণনাকারী: মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ)

২৯৩৫. মুসা ইবনে মারওয়ান রুকী (রাহঃ) ..... মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আমাদের সরকারী কর্মচারী হবে, সে একজন বিবি রাখতে পারবে (যার ভরণ-পোষণ বায়তুল মাল হতে দেওয়া হবে)। আর তার যদি কোন খাদিম না থাকে, তবে সে একটি খাদিমও রাখতে পাররে এবং যদি তার থাকার মত কোন ঘর না থাকে,তবে সে একটি বাসস্থান পাবে।

রাবী বলেনঃ আবু বকর (রাযিঃ) বলেন যে, আমি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করবে, সে হবে খিয়ানতকারী এবং চোর।

১৪৯. সরকারী কর্মচারীদের হাদিয়া গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي هَدَايَا الْعُمَّالِ

২৯৩৬

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، - لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ رَجُلاً مِنَ الأَزْدِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ ابْنُ الأُتْبِيَّةِ - عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَ فَقَالَ هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي . فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ " مَا بَالُ الْعَامِلِ نَبْعَثُهُ فَيَجِيءُ فَيَقُولُ هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي . أَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أُمِّهِ أَوْ أَبِيهِ فَيَنْظُرَ أَيُهْدَى لَهُ أَمْ لاَ لاَ يَأْتِي أَحَدٌ مِنْكُمْ بِشَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ إِلاَّ جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنْ كَانَ بَعِيرًا فَلَهُ رُغَاءٌ أَوْ بَقَرَةً فَلَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةً تَيْعَرُ " . ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْنَا عُفْرَةَ إِبْطَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " .

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

২৯৩৬. ইবনে সারহ ও ইবনে আবী খালাফ (রাহঃ) .... হুমায়দ সা’ইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আযদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে যার নাম ছিল লুতবিয়াহ ইবনে সারহ বলেন, তাকে ইবনে উতবিয়াও বলা হতো, যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যখন সে যাকাত আদায় করে ফিরে আসলো, তখন সে বললোঃ এগুলো তোমাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে হাদিয়ারূপে দেওয়া হয়েছে। তখন নবী (ﷺ) মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান আদায়ের পর বললেনঃ কর্মচারীর জন্য এ বিধেয় নয় যে, আমি তাকে কর্মচারী নিয়োগ করে পাঠাব, আর সে ফিরে এসে বলবেঃ এই মাল তোমাদের এবং এই হাদিয়া আমাকে দেওয়া হয়েছে।

যদি সে তার পিতার বা মাতার গৃহে বসে থেকে দেখতো যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? তোমাদের কেউ তা থেকে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে, সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সে উটের আওয়াজ করতে থাকবে। যদি বলদ অথবা গাভী হয়, তখন সে গরুর মত হাম্বা-হাম্বা ডাক দিতে দিতে আসবে। আর যদি বকরী হয়, তবে তাও বকরীর মত ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি তাঁর দু’হাত (দুআর জন্য) এত উপরে উঠালেন যে, আমরা তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি কি (তোমার হুকুম) পৌছে দিয়েছি? ইয়া আল্লাহ! আমি কি (তোমার নির্দেশ) পৌছে দিয়েছি?

১৫০. সাদ্‌কা ও যাকাতের মাল আত্মসাত করা সম্পর্কে।

باب فِي غُلُولِ الصَّدَقَةِ

২৯৩৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاعِيًا ثُمَّ قَالَ " انْطَلِقْ أَبَا مَسْعُودٍ وَلاَ أُلْفِيَنَّكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَجِيءُ عَلَى ظَهْرِكَ بَعِيرٌ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ لَهُ رُغَاءٌ قَدْ غَلَلْتَهُ " . قَالَ إِذًا لاَ أَنْطَلِقُ . قَالَ " إِذًا لاَ أُكْرِهُكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

২৯৩৭. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আবু মাস’উদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আমাকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করেন। এ সময় তিনি বলেনঃ হে আবু মাসউদ তুমি যাও। কিন্তু আমি যেন তোমাকে কিয়ামতের দিন পিঠের উপর চিৎকাররত উট বহন করে আনতে না দেখি। কারণ দুনিয়াতে যাকাতের মাল আত্মসাৎ করার জন্য এরূপ শাস্তি হবে। রাবী বলেনঃ যদি ব্যাপার এরূপ হয়, তবে আমি এ দায়িত্ব গ্রহণ করব না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এমতাবস্থায় আমি তোমাকে এ কাজের জন্য জবরদস্তি করব না।

১৫১. রাষ্ট্রনায়কের উপর নাগরিকদের অধিকার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব।

باب فِيمَا يَلْزَمُ الإِمَامَ مِنْ أَمْرِ الرَّعِيَّةِ وَالْحَجَبَةِ عَنْهُ

২৯৩৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُخَيْمِرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا مَرْيَمَ الأَزْدِيَّ أَخْبَرَهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَقَالَ مَا أَنْعَمَنَا بِكَ أَبَا فُلاَنٍ . وَهِيَ كَلِمَةٌ تَقُولُهَا الْعَرَبُ فَقُلْتُ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ أُخْبِرُكَ بِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ وَلاَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمُ احْتَجَبَ اللَّهُ عَنْهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ " . قَالَ فَجَعَلَ رَجُلاً عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: আবু মারইয়াম আযদী (রাঃ)

২৯৩৮. সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান দিমাশকী (রাহঃ) ..... আবু মারয়াম আযদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মুআবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ানের নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেনঃ আমাদের কাছে তোমার আগমনে স্বাগতম, হে অমুক! আরবরা মেহমানদের এভাবে খোশ আমদেদ জানাত। তখন আমি তাকে বলিঃ আমি একটা হাদীস শুনেছি, যা আমি আপনাকে অবহিত করছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ কোন কাজের দায়িত্বে নিয়োগ করেছেন, সে যদি লোকদের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে তাদের জরুরী ব্যাপারগুলি পূর্ণ করে, তবে আল্লাহও তার প্রয়োজনের সময় সাড়া দিয়ে তার কাজকে পূর্ণ করে দেন। রাবী বলেনঃ এ কথা শোনার পর তিনি মুআবিয়া (রাযিঃ) লোকদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য একজন লোক নিয়োগ করেন।

২৯৩৯

حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أُوتِيكُمْ مِنْ شَىْءٍ وَمَا أَمْنَعُكُمُوهُ إِنْ أَنَا إِلاَّ خَازِنٌ أَضَعُ حَيْثُ أُمِرْتُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯৩৯. সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার তরফ হতে তোমাদেরকে না কিছু দেই এবং না কিছু আটকিয়ে রাখি। বরং আমি তো বণ্টনকারী মাত্র। যেখানে হুকুম হয়, আমি সেখানেই খরচ করি।

২৯৪০

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ ذَكَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَوْمًا الْفَىْءَ فَقَالَ مَا أَنَا بِأَحَقَّ، بِهَذَا الْفَىْءِ مِنْكُمْ وَمَا أَحَدٌ مِنَّا بِأَحَقَّ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ أَنَّا عَلَى مَنَازِلِنَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَالرَّجُلُ وَقِدَمُهُ وَالرَّجُلُ وَبَلاَؤُهُ وَالرَّجُلُ وَعِيَالُهُ وَالرَّجُلُ وَحَاجَتُهُ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আওস (রহঃ)

২৯৪০. নুফায়লী (রাহঃ) ...... মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদাসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) মালে গনিমত সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমি তোমাদের চাইতে অধিক মালে গনিমতের হকদার নই এবং আমাদের কেউ-ই একের চাইতে অপরের অধিক হক রাখে না। বরং আমরা সবাই আল্লাহ তাআলার কিতাবে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী স্ব স্ব স্থানে অবস্থিত আছি। অবশ্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বন্টন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইসলাম কবুলের দিক হতে পুরাতন কেউ বীর যোদ্ধা, কেউ অধিক পরিবার-পরিজনের মালিক এবং কেউ মুখাপেক্ষী। কাজেই তিনি সকলের প্রয়োজন অনুযায়ী মালে গনিমত বন্টন করতেন।

১৫২. বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত মালে গনিমত বন্টন সম্পর্কে।

باب فِي قَسْمِ الْفَىْءِ

২৯৪১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، دَخَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَقَالَ حَاجَتُكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ عَطَاءُ الْمُحَرَّرِينَ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ مَا جَاءَهُ شَىْءٌ بَدَأَ بِالْمُحَرَّرِينَ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

২৯৪১. হারুন ইবনে যায়দ ইবনে আবী যারকা (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন। তখন তিনি মুআবিয়া (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু আব্দুর রহমান! তোমার কি প্রয়োজন? তখন তিনি বলেনঃ আপনি আযাদপ্রাপ্ত গোলামদের হিসসা প্রদান করুন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি যে, তিনি আযাদপ্রাপ্ত গোলামদের অংশ, গনিমতের মাল হিসাবে আগত সম্পদ হতে আগে দেওয়া শুরু করতেন।

২৯৪২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِظَبْيَةٍ فِيهَا خَرَزٌ فَقَسَمَهَا لِلْحُرَّةِ وَالأَمَةِ . قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ أَبِي رضى الله عنه يَقْسِمُ لِلْحُرِّ وَالْعَبْدِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৪২. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন একটি থলে আসে, যাতে একটি আংটিও ছিল। তখন তিনি তা আযাদকৃত দাস ও দাসীদের মাঝে বন্টন করে দেন।

আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেনঃ আমার পিতা [আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)]ও আযাদ ও গোলামদের মাঝে গনিমতের অতিরিক্ত সম্পদ বন্টন করে দিতেন।
২৯৪৩

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُصَفَّى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، جَمِيعًا عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَتَاهُ الْفَىْءُ قَسَمَهُ فِي يَوْمِهِ فَأَعْطَى الآهِلَ حَظَّيْنِ وَأَعْطَى الْعَزَبَ حَظًّا . زَادَ ابْنُ الْمُصَفَّى فَدُعِينَا وَكُنْتُ أُدْعَى قَبْلَ عَمَّارٍ فَدُعِيتُ فَأَعْطَانِي حَظَّيْنِ وَكَانَ لِي أَهْلٌ ثُمَّ دُعِيَ بَعْدِي عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَأَعْطَى لَهُ حَظًّا وَاحِدًا .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৪৩. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) .... আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন মালে-গনিমত আসতো, তখন তিনি সেদিনই তা বন্টন করে দিতেন। তিনি বিবাহিত ব্যক্তিদের দু’অংশ এবং অবিবাহিত ব্যক্তিদের এক অংশ দিতেন।

রাবী ইবনে মুসাফফা এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে আহবান করা হতো এবং আম্মার (রাযিঃ)-এর আগেই আমাকে ডাকা হতো। অতঃপর যখন আমাকে ডাকা হলো, তখন তিনি আমাকে দু’অংশ প্রদান করেন। কেননা আমার পরিবার পরিজন ছিল। এরপর আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে ডাকা হয় এবং তাকে একটি অংশ দেওয়া হয়, (এ জন্য যে, তার পরিবার-পরিজন ছিল না।)

১৫৩. মুসলমানদের সন্তান-সন্ততিদের খোরপোশ প্রদান সম্পর্কে।

باب فِي أَرْزَاقِ الذُّرِّيَّةِ

২৯৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلأَهْلِهِ وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَإِلَىَّ وَعَلَىَّ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের সওার চাইতেও অধিক নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি কোন মাল রেখে মারা যায়, তা তার পরিবার-পরিজনের। আর যে ব্যক্তি কোন দেনা ও সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে, তা আমার এবং আমি তাদের যিম্মাদার।

২৯৪৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ وَمَنْ تَرَكَ كَلاًّ فَإِلَيْنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯৪৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ধন-সম্পদ রেখে মারা যাবে, তা হবে তার উওরাধিকারীদের। আর যে কেউ পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে, তাদের সার্বিক দায়িত্ব আমার।

২৯৪৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " أَنَا أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ فَأَيُّمَا رَجُلٍ مَاتَ وَتَرَكَ دَيْنًا فَإِلَىَّ وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৪৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিনদের জন্য তার নিজের সত্তার চাইতেও অধিক নিকটবর্তী। তাই, যদি কেউ মারা যায় এবং সে দেনা রেখে যায়, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে মারা যাবে, তবে তা তাঁর পরিবার-পরিজন বা ওয়ারিছদের জন্য।

১৫৪. কত বছর বয়সের যোদ্ধার জন্য যুদ্ধে প্রাপ্ত মালে গনিমতের হিসসা নির্ধারণ করা হয়।

باب مَتَى يُفْرَضُ لِلرَّجُلِ فِي الْمُقَاتِلَةِ

২৯৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عُرِضَهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ فَلَمْ يُجِزْهُ وَعُرِضَهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৪৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের যুদ্ধের সময় তাঁকে নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির করা হয় এবং সে সময় তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। তিনি তাঁকে অনুমতি দেন নি। এরপর পনের বছর বয়সে খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির করা হয়, তখন তিনি তাকে অনুমতি দেন।

১৫৫. শেষ যামানায় অংশ নির্ধারণের কুফল সম্পর্কে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الاِفْتِرَاضِ فِي آخِرِ الزَّمَانِ

২৯৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ مُطَيْرٍ، - شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ وَادِي الْقُرَى - قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي مُطَيْرٌ أَنَّهُ خَرَجَ حَاجًّا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالسُّوَيْدَاءِ إِذَا أَنَا بِرَجُلٍ قَدْ جَاءَ كَأَنَّهُ يَطْلُبُ دَوَاءً وَحُضُضًا فَقَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ يَعِظُ النَّاسَ وَيَأْمُرُهُمْ وَيَنْهَاهُمْ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ خُذُوا الْعَطَاءَ مَا كَانَ عَطَاءً فَإِذَا تَجَاحَفَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْمُلْكِ وَكَانَ عَنْ دِينِ أَحَدِكُمْ فَدَعُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ مُطَيْرٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯৪৮. আহমদ ইবনে আবী হুয়ারী (রাহঃ) ....... আবু মুতয়ার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ’সুওয়ায়দা’ নামক স্থানে পৌছে দেখতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি ঔষধ অথবা তিক্ত-ওষুধ অন্বেষণ করছে। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ আমাকে এমন এক ব্যক্তি খবর দিয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেছেন যে, তিনি বিদায় হজ্জের সময় লোকদের ওয়ায করছিলেন এবং তিনি তাদেরকে আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা নেতার দান ততক্ষণ গ্রহণ করবে, যতক্ষণ তা দান থাকে, (অর্থাৎ শরীয়ত মত যতক্ষণ তা বণ্টিত হবে)। আর কুরাইশরা যখন নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং দান কর্জের আকারে পাওয়া যাবে, তখন তোমরা তা পরিত্যাগ করবে।[১]

[১] অর্থাৎ রাজত্ব লাভের জন্য যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ হবে, আর যে অংশ গনীমতের মালের অংশ হওয়া উচিত, তা সিপাহীরা তাদের বেতনের বদলে পাবে, তখন তোমরা ঐ দাস গ্রহণ করবে না। কেননা, এখন উহা আর মালে গনীমত নয়।
২৯৪৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ مُطَيْرٍ، - مِنْ أَهْلِ وَادِي الْقُرَى - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَمَرَ النَّاسَ وَنَهَاهُمْ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ . ثُمَّ قَالَ " إِذَا تَجَاحَفَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْمُلْكِ فِيمَا بَيْنَهَا وَعَادَ الْعَطَاءُ أَوْ كَانَ رُشًا فَدَعُوهُ " . فَقِيلَ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا ذُو الزَّوَائِدِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯৪৯. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) .... সুলায়ম ইবনে মুতায়র (রাহঃ), যিনি ’’কুরা’’ নামক উপত্যকার অধিবাসী, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তিকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছি, যখন তিনি লোকদের আদেশ ও নিষেধাবলী সম্পর্কে অবহিত করার এক পর্যায়ে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি কি আপনার পয়গাম পৌছে দিয়েছি? তখন তারা (সাহাবীরা) বলেনঃ হ্যাঁ, আপনি পৌছে দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেনঃ যখন কুরাইশরা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হবে এবং দান ঘুষের পর্যায়ে চলে আসবে, তখন তোমরা ঐ দান গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। তখন জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেঃ ইনি কে? তারা বলেঃ ইনি হলেন যুয-যাওয়াইদ যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী।

১৫৬. দানপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা।

باب فِي تَدْوِينِ الْعَطَاءِ

২৯৫০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ جَيْشًا، مِنَ الأَنْصَارِ كَانُوا بِأَرْضِ فَارِسَ مَعَ أَمِيرِهِمْ وَكَانَ عُمَرُ يُعْقِبُ الْجُيُوشَ فِي كُلِّ عَامٍ فَشُغِلَ عَنْهُمْ عُمَرُ فَلَمَّا مَرَّ الأَجَلُ قَفَلَ أَهْلُ ذَلِكَ الثَّغْرِ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِمْ وَتَوَاعَدَهُمْ وَهُمْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا عُمَرُ إِنَّكَ غَفَلْتَ عَنَّا وَتَرَكْتَ فِينَا الَّذِي أَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِعْقَابِ بَعْضِ الْغَزِيَّةِ بَعْضًا .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে কা‘ব ইবনে মালিক (রহঃ)

২৯৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব ইবনে মালিক আনসারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদল আনসার সৈন্য তাদের সিপাহসালারের নেতৃত্বে পারস্য দেশে মোতায়েন ছিল। উমর (রাযিঃ) প্রতি বছর একদল সেনাকে তাদের অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনতেন এবং অন্য একদল সেখানে পাঠাতেন। একবার উমর (রাযিঃ) তাদের ব্যাপারে (কর্ম-ব্যস্ততার দরুন) উদাসীন হয়ে পড়েন। ফলে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ায় উক্ত সেনাবাহিনী তাঁর নির্দেশ ছাড়াই তাদের অবস্থান পরিত্যাগ করে চলে আসে। এতে তিনি (উমর) তাদের প্রতি রাগান্বিত হন এবং তাদের ভীতি প্রদর্শন করেন, অথচ তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী। তখন তারা বলেনঃ হে উমর! আপনি তো আমাদের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন এবং আপনি আমাদের ব্যাপারে ঐ নিয়ম পরিত্যাগ করেছেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা বাহিনী প্রেরণ এবং অপরটি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পালন করতেন।

২৯৫১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنِي فِيمَا، حَدَّثَهُ ابْنٌ لِعَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ الْكِنْدِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، كَتَبَ إِنَّ مَنْ سَأَلَ عَنْ مَوَاضِعِ الْفَىْءِ، فَهُوَ مَا حَكَمَ فِيهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه فَرَآهُ الْمُؤْمِنُونَ عَدْلاً مُوَافِقًا لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " جَعَلَ اللَّهُ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ " . فَرَضَ الأَعْطِيَةَ وَعَقَدَ لأَهْلِ الأَدْيَانِ ذِمَّةً بِمَا فُرِضَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْجِزْيَةِ لَمْ يَضْرِبْ فِيهَا بِخُمُسٍ وَلاَ مَغْنَمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে আমীরা কিন্দী (রাঃ)

২৯৫১. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আদী কিনদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) এ মর্মে একটা লিখিত নির্দেশ জারী করেন যে, যে ব্যক্তি জানতে চায় যে, গনিমতের মাল কোথায় খরচ করতে হবে, সে যেন জেনে রাখে, (তা ঐ সব স্থানে ব্যয় করতে হবে), যে স্থানে উমর ইবনে খাওাব (রাযিঃ) ব্যয় করতে হুকুম দিয়েছিলেন। কেননা মুসলমানরা তার নির্দেশকে নবী (ﷺ)-এর হুকুম অনুযায়ী ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখেছেন। আল্লাহ তাআলা হক বা সত্যকে উমর (রাযিঃ)-এর যবান ও হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন। বস্তুত তিনি দানের খাত নির্ধারিত করেন, জিযিয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শান্তি ও নিরাপওার যিম্মাদারী গ্রহণ করেন। এতে তিনি খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নির্ধারিত করেন নি এবং একে গনিমতের মালের মধ্যেও শামিল করেন নি।

২৯৫২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ يَقُولُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৯৫২. আহমদ ইবনে ইুউনুস (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা উমর (রাযিঃ) এর যবানে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা দিয়ে তিনি কথা বলে থাকেন।

১৫৭. গনিমতের মাল হতে কিছু মাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের জন্য বেছে নিতেন, সে সম্পর্কে।

باب فِي صَفَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الأَمْوَالِ

২৯৫৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ الْمَعْنَى، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ عُمَرُ حِينَ تَعَالَى النَّهَارُ فَجِئْتُهُ فَوَجَدْتُهُ جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ مُفْضِيًا إِلَى رِمَالِهِ فَقَالَ حِينَ دَخَلْتُ عَلَيْهِ يَا مَالُ إِنَّهُ قَدْ دَفَّ أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ وَإِنِّي قَدْ أَمَرْتُ فِيهِمْ بِشَىْءٍ فَاقْسِمْ فِيهِمْ . قُلْتُ لَوْ أَمَرْتَ غَيْرِي بِذَلِكَ . فَقَالَ خُذْهُ . فَجَاءَهُ يَرْفَأُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا ثُمَّ جَاءَهُ يَرْفَأُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ لَكَ فِي الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ قَالَ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا - يَعْنِي عَلِيًّا - فَقَالَ بَعْضُهُمْ أَجَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنَهُمَا وَارْحَمْهُمَا . قَالَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ خُيِّلَ إِلَىَّ أَنَّهُمَا قَدَّمَا أُولَئِكَ النَّفَرَ لِذَلِكَ . فَقَالَ عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ اتَّئِدَا . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أُولَئِكَ الرَّهْطِ فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَالْعَبَّاسِ رضى الله عنهما فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . فَقَالاَ نَعَمْ . قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم بِخَاصَّةٍ لَمْ يَخُصَّ بِهَا أَحَدًا مِنَ النَّاسِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ( وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ) وَكَانَ اللَّهُ أَفَاءَ عَلَى رَسُولِهِ بَنِي النَّضِيرِ فَوَاللَّهِ مَا اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ وَلاَ أَخَذَهَا دُونَكُمْ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَةٍ أَوْ نَفَقَتَهُ وَنَفَقَةَ أَهْلِهِ سَنَةً وَيَجْعَلُ مَا بَقِيَ أُسْوَةَ الْمَالِ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أُولَئِكَ الرَّهْطِ فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ رضى الله عنهما فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ . فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَطْلُبُ أَنْتَ مِيرَاثَكَ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ وَيَطْلُبُ هَذَا مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ فَوَلِيَهَا أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ قُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَلِيُّ أَبِي بَكْرٍ فَوَلِيتُهَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ أَلِيَهَا فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا وَأَنْتُمَا جَمِيعٌ وَأَمْرُكُمَا وَاحِدٌ فَسَأَلْتُمَانِيهَا فَقُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا أَنْ أَدْفَعَهَا إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ أَنْ تَلِيَاهَا بِالَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلِيهَا فَأَخَذْتُمَاهَا مِنِّي عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ جِئْتُمَانِي لأَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِغَيْرِ ذَلِكَ وَاللَّهِ لاَ أَقْضِي بَيْنَكُمَا بِغَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَرُدَّاهَا إِلَىَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِنَّمَا سَأَلاَهُ أَنْ يَكُونَ يُصَيِّرُهُ بَيْنَهُمَا نِصْفَيْنِ لاَ أَنَّهُمَا جَهِلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . فَإِنَّهُمَا كَانَا لاَ يَطْلُبَانِ إِلاَّ الصَّوَابَ . فَقَالَ عُمَرُ لاَ أُوقِعُ عَلَيْهِ اسْمَ الْقَسْمِ أَدَعُهُ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আওস (রহঃ)

২৯৫৩. হাসান ইবনে আলী ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিয মা’না (রাহঃ) .... মালিক ইবনে হাদাসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর (রাযিঃ) দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর আমাকে ডেকে পাঠান। আমি তখন তাঁর কাছে উপস্থিত হই এবং তাকে চাদর শূন্য একটা বিছানার উপর উপবিষ্ট দেখতে পাই। যখন আমি তাঁর কাছে পৌছাই, তখন তিনি আমাকে বলেনঃ হে মালিক! তোমার সম্প্রদায়ের কিছু লোক আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের কিছু মাল দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এখন তুমি তা তাদের মাঝে বণ্টন করে দাও।

আমি বললামঃ আমাকে বাদ দিয়ে যদি অন্য কাউকে একাজের নির্দেশ দিতেন, (তবে ভাল হতো)। তখন তিনি বললেনঃ তুমি-ই এ দায়িত্ব গ্রহণ কর। এ সময় ইয়ারফা (রাযিঃ) সেখানে হাযির হয়ে বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ), আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ), যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) এবং সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদেরকে আমার কাছে আসতে দাও।

তখন তাঁরা সেখানে প্রবেশ করে। পরে ইয়ারফা উপস্থিত হয়ে বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার নিকট আব্বাস (রাযিঃ) ও আলী (রাযিঃ) আসার জন্য অনুমতি চাচ্ছেন। তখন তিনি [উমর (রাযিঃ)] বললেনঃ তাদের আসতে দাও। পরে এ দু’জনও তাঁর নিকট হাযির হন। আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আমার ও এর মধ্যকার ব্যাপারটি ফয়সালা করে দিন। তখন উপস্থিত লোকদের থেকে জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! এদের ব্যাপারটি মীমাংশা করে দিন এবং এদের উপর রহম করুন।(১)

মালিক ইবনে আওস (রাযিঃ) বলেনঃ আমার ধারণা আব্বাস (রাযিঃ) এবং আলী (রাযিঃ) এ ব্যাপারের জন্য পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের আগেই প্রেরণ করেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ ব্যস্ত হবেন না, ধৈর্য ধরুন, শান্ত হন। অতঃপর তিনি উছমান (রাযিঃ) ও অন্যদের সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যাঁর হুকুমে আসমান ও যমীন স্থির আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) কোন মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ।

অতঃপর আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের উভয়কে সে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞানা করছি, যাঁর হুকুমে আসমান ও যমীন কায়েম আছে, আপনারা কি অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলেছেনঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। তখন তারা উভয়ে বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি [উমর (রাযিঃ)] বলেনঃ আল্লাহ তা’আল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন কিছু খাস বৈশিষ্ট প্রদান করেন, যা অন্য আর কাউকে দেননি। যেমন, আল্লাহ বলেছেনঃ

وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

অর্থাৎ আর যা কিছু আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দিয়েছেন, তাদের নিকট হতে, তা লাভের জন্য তোমরা ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদের বিজয়ী করেন যার উপর তিনি ইচ্ছা করেন। আর আল্লাহ হলেন সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

বস্তুত আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বনু নযীর গোত্রের মাল প্রদান করেছিলেন। আল্লাহর শপখ! তিনি এই মালের উপর তোমাদের একচেটিয়া প্রাধান্য প্রদান করেননি এবং তোমাদের বাদ দিয়ে অন্য কেউ তা গ্রহণ করেনি। বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এই মাল হতে তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের নিমিত্ত এক বছরের খরচের পরিমাণ সম্পদ গ্রহণ করতেন এবং অবশিষ্ট মাল অন্যান্য গনিমতের মালের অনুরূপ হতো। অতঃপর তিনি [উমর (রাযিঃ)] তাঁদের সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যার হুকুমে আসমান ও যমীন কায়েম আছে, আপনারা কি এটা অবগত আছেন? তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি আব্বাস (রাযিঃ) ও আলী (রাযিঃ) কে সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের উভয়কে সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যার হুকুমে আসমান ও যমীন স্থির আছে, আপনারা কি এটা অবগত আছেন? তখন তাঁরা (দু’জনে) বলেনঃ হ্যাঁ।

বস্তুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর [আবু বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন], তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খলীফা। তখন আপনি (হে আব্বাস) এবং এ ব্যক্তি [আলী (রাযিঃ)] আবু বকর (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় আপনি আপনার ভাতিজার পরিত্যক্ত সস্পদের উত্তরাধিকারিত্বের দাবি করছিলেন এবং ইনি তাঁর স্ত্রীর সম্মানিত পিতা (রাসূলুল্লাহ (ﷺ))-এর মীরাছ দাবি করছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা ছেড়ে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। আর আল্লাহ জানেন, আবু বকর (রাযিঃ) ছিলেন সত্যবাদী, নেকবখত, সত্য পথের দিশারী এবং সত্যের অনুসারী। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। আবু বকর (রাযিঃ)-এর ইনতিকালের পর, আমি খলীফা মনোনীত হওয়ার পর বলিঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে এ মালের তত্ত্বাবধায়ক।

আর আমি মালের তত্ত্বাবধায়ক ততদিন থাকব, যতদিন আল্লাহ চান। এখন আপনারা দু’জন এসেছেন এবং আপনারা একই খেয়ালের অধিকারী। আপনারা আমার নিকট উক্ত মাল দাবী করছেন। আমার বক্তব্য এই যে, যদি আপনারা চান, তবে এ শর্তের উপর আমি এ মাল আপনাদের দেব যে, আপনারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবেন যে আপনারা এ মালের দেখাশুনা এরূপই করবেন, যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন।

আপনারা এ শর্তের উপর এ মাল আমার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আর এখন আপনারা উভয়ে আমার নিকট এ জন্য হাযির হয়েছেন যে, আমি যেন এর বিপরীত কোন ফয়সালা করি।

আল্লাহর শপথ! আমি যে ফয়সালা দিয়েছি, তাছাড়া অন্য কোন ফয়সালা আমি কিয়ামত পর্যন্ত দেব না। অবশ্য আপনারা যদি এ সম্পদ যথাযথরূপে দেখাশুনা করতে অপারগ হন, তবে এর দেখাশুনার দায়িত্ব আবার আমার উপর ন্যস্ত করুন। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ তাঁরা দু’জন তাঁর কাছে এ দরখাস্ত করেন যে, এর দেখাশুনার দায়িত্ব আমাদের মাঝে বণ্টন করে দেন। আর এরূপ নয় যে, তারা নবী (ﷺ)-এর হাদীসঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা ছেড়ে যাই, তা হলো সাদ্‌কা’’, সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। বস্তুত তাঁরা উভয়ে তাদের প্রাপ্যের প্রত্যাশায় ছিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পদের উপর বণ্টনের নাম আসতে দেব না, বরং আমি একে এর প্রথম অবস্থার উপর ছেড়ে দেব।[১]

[১] আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বনু-নযীর, খায়বর ও ফিদাকের যে সম্পদ দান করেছিলেন, হযরত আব্বাস (রা.) ও আলী (রা.) সে সম্পদে তাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবী করছিলেন।
২৯৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ وَهُمَا - يَعْنِي عَلِيًّا وَالْعَبَّاسَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - يَخْتَصِمَانِ فِيمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَمْوَالِ بَنِي النَّضِيرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُوقِعَ عَلَيْهِ اسْمَ قَسْمٍ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আওস (রহঃ)

২৯৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ...... মালিক ইবনে আওস (রাযিঃ) উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেনঃ তাঁরা উভয়ে অর্থাৎ আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) ঐ মালের ব্যাপারে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হন, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বনু নযীর গোত্রের ধন-সম্পদ হতে প্রদান করেছিলেন।

২৯৫৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، - الْمَعْنَى - أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَالِصًا يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ - قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ قُوتَ سَنَةٍ - فَمَا بَقِيَ جُعِلَ فِي الْكُرَاعِ وَعُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلاَحِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৯৫৫. উছমান ইবনে আবী শায়বা ও আহমদ ইবনে আব্দা (রাযিঃ) .... উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বনু নযীর গোত্রের মালামাল ঐ ধন-সস্পদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেছিলেন এবং ঐ সম্পদ হাসিলের জন্য মুসলমানরা তাদের ঘোড়া ও উট পরিচালিত করেন নি (অর্থাৎ বিনাযুদ্ধে ঐ মাল হস্তগত হয়েছিল)। বস্তুত ঐ সমস্ত মালামাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য খাস ছিল। তিনি ঐ সম্পদ নিজের পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয় করতেন।

রাবী ইবনে আব্দা বলেনঃ তিনি ঐ মাল হতে তার পরিবার-পরিজনদের জন্য এক বছরের খরচ নির্বাহ করতেন এবং অবশিষ্ট মাল আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ঘোড়া, উট ইত্যাদি পশু ক্রয়ের জন্য ব্যয় করতেন।

রাবী ইবনে আব্দা আরো বলেনঃ তিনি অবশিষ্ট মাল দিয়ে যুদ্ধের নিমিত্ত উট, ঘোড়া ইত্যাদি এবং যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করতেন।
২৯৫৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ عُمَرُ ( وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) . قَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ عُمَرُ هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً قُرَى عُرَيْنَةَ فَدَكَ وَكَذَا وَكَذَا ( مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ) وَ لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ . وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ فَاسْتَوْعَبَتْ هَذِهِ الآيَةُ النَّاسَ فَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . قَالَ أَيُّوبُ أَوْ قَالَ حَظٌّ إِلاَّ بَعْضَ مَنْ تَمْلِكُونَ مِنْ أَرِقَّائِكُمْ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৯৫৬. মুসাদ্দাদ (রাযিঃ) .... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) বলেছেন যে, আল্লাহর বাণীঃ আর আল্লাহ যা কিছু তাঁর রাসূলকে প্রদান করেছেন, তাদের নিকট হতে তা লাভের জন্য তোমরা ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি।

যুহরী বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ এই ধন-সম্পদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য খাস ছিল, যা হলো-উরায়না নামক গ্রাম, ফিদাক ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় আয়াত-যার অর্থ হলোঃ ″আল্লাহ তাঁর রাসূলকে গ্রামবাসীদের নিকট হতে যা কিছু প্রদান করেছেন, তা হলো-আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের জন্য। আর ঐ সমস্ত ফকীরের জন্য, যারা তাদের ঘরবাড়ী ও ধন-সস্পদ হতে বিতাড়িত হয়েছে এবং যারা তাদের পরে এসেছে (ইসলাম কবুলের পর, দারুল ইসলামে)।″ উক্ত আয়াতের বর্ণিত হুকুম সমস্ত শ্রেণীর লোকেরা শামিল আছে এবং মালে গনিমতের হকদার কোন মুসলমান বাদ পড়েনি।

রাবী আইয়ুব অথবা যুহরী বলেনঃ এই গনিমতের মালে সকলের হক আছে, তবে তারা ব্যতীত, যে সব দাস-দাসীর তোমরা মালিক।
২৯৫৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ح وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِهِ - كُلُّهُمْ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ كَانَ فِيمَا احْتَجَّ بِهِ عُمَرُ رضى الله عنه أَنَّهُ قَالَ كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثُ صَفَايَا بَنُو النَّضِيرِ وَخَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمَّا بَنُو النَّضِيرِ فَكَانَتْ حُبْسًا لِنَوَائِبِهِ وَأَمَّا فَدَكُ فَكَانَتْ حُبْسًا لأَبْنَاءِ السَّبِيلِ وَأَمَّا خَيْبَرُ فَجَزَّأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ جُزْءَيْنِ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ وَجُزْءًا نَفَقَةً لأَهْلِهِ فَمَا فَضَلَ عَنْ نَفَقَةِ أَهْلِهِ جَعَلَهُ بَيْنَ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে আওস (রহঃ)

২৯৫৭. হিশাম ইবনে আম্মার (রাযিঃ) ..... মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদাছান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ)-এর দলীল হলো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য তিন প্রকারের মালে গনিমত খাস ছিল-যা বনু নযীর, খায়বর ও ফিদাক নামে পরিচিত। সুতরাং যে মাল তিনি বনু নযীর থেকে প্রাপ্ত হন, তা তাঁর প্রয়োজনের জন্য খাস ছিল। আর তিনি ফিদাক হতে যা লাভ করেছিলেন, তা ছিল মুসলমানদের প্রয়োজন মিটাবার জন্য এবং খায়বরে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন ভাগে বিভক্ত করতেন, যার দু’অংশ সাধারণ মুসলমানদের কল্যাণে ব্যয় হতো এবং অপর ভাগ তাঁর পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয় হতো। আর তাঁর পরিবার-পরিজনদের ব্যয় নির্বাহের পর যে মাল বাকী থাকত, তা তিনি গরীব মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।

২৯৫৮

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضى الله عنه تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكَ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ مِنْ هَذَا الْمَالِ " . وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حَالِهَا الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ مِنْهَا شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৫৮. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওয়াহব হামদানী ..... নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) কোন এক ব্যক্তিকে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাল হতে নিজের মীরাছ চাওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আল্লাহ মদীনাতে ও ফিদাকে যা প্রদান করেছিলেন এবং খায়বরে প্রাপ্ত মালের এক-পঞ্চমাংশ বাদে বাকী যে অংশ রেখে গিয়েছেন তা থেকে প্রাপ্ত আমার অংশ যেন আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে দিয়ে দেন।

তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রাখি না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার-পরিজন এ মাল হতে খেতে পারবে। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাদ্‌কা হতে কোন কিছুই পরিবর্তন করতে পারব না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেরূপ ছিল, সেরূপই থাকবে। এ ব্যাপারে আমি শুধু এতটুকু করতে পারি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন। এভাবে আবু বকর (রাযিঃ) ঐ মাল হতে ফাতিমা (রাযিঃ)-কে কোন কিছু দিতে অস্বীকার করেন।
২৯৫৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ وَفَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ حِينَئِذٍ تَطْلُبُ صَدَقَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكَ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ . قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ وَإِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ فِي هَذَا الْمَالِ " . يَعْنِي مَالَ اللَّهِ لَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَزِيدُوا عَلَى الْمَأْكَلِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৫৯. আমর ইবনে উছমান হিমসী (রহ) .... নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ফাতিমা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মদীনা ও ফিদাকের সাদ্‌কা এবং খায়বরের সম্পওির এক-পঞ্চমাংশের পর বাকী অংশ দাবী করেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। অবশ্য মুহাম্মাদ এর পরিবারবর্গ এ মাল হতে ভক্ষণ করতে পারবে, অর্থাৎ আল্লাহর মাল হিসাবে। আর তারা খাদ্যদ্রব্য ছাড়া কিছুই পাবে না।

২৯৬০

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، قَالَ فِيهِ فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ إِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ رضى الله عنهم فَغَلَبَهُ عَلِيٌّ عَلَيْهَا وَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمْسَكَهُمَا عُمَرُ وَقَالَ هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ . قَالَ فَهُمَا عَلَى ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৯৬০. হাজ্জাজ ইবনে আবী ইয়াকুব (রাহঃ) ..... উরওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যখন ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর মীরাছ দাবী করেন, তখন আবু বকর (রাযিঃ) তাঁকে মীরাছ দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেনঃ যে কাজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন, আমি কখনো তা পরিত্যাগ করব না। কেননা আমার ভয় হয়, যদি আমি তার কিছু পরিত্যাগ করি, তবে হয়তো গুমরাহ হয়ে যাব। (আবু বকর (রাযিঃ)-এর ইন্তিকালের পর) উমর (রাযিঃ) তাঁর মদীনার সাদ্‌কার মাল আব্বাস (রাযিঃ) এবং আলী (রাযিঃ)-এর নিকট সোপর্দ করেন, যার উপর আলী (রাযিঃ) দখল নিয়েছিলেন।

আর ফিদাক ও খায়বরের মাল উমর (রাযিঃ) নিজের কতৃত্বে রেখে দেন এবং বলেনঃ এ দু’প্রকারের মালামাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাদ্‌কা, যা তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ হতো। একই ভাবে এ দু’প্রকারের মাল খরচ করার ইখতিয়ার তাঁকে দেওয়া হয়, যিনি রাষ্ট্রের কর্ণধার হবেন। বস্তুত এ সময় হতে খিলাফতের শেষ সময় পর্যন্ত ফিদাক ও খায়বরের মাল এভাবে খরচ হতে থাকে, যেভাবে তিনি তা খরচের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২৯৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، فِي قَوْلِهِ ( فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) قَالَ صَالَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ فَدَكَ وَقُرًى قَدْ سَمَّاهَا لاَ أَحْفَظُهَا وَهُوَ مُحَاصِرٌ قَوْمًا آخَرِينَ فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ بِالصُّلْحِ قَالَ ( فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) يَقُولُ بِغَيْرِ قِتَالٍ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَكَانَتْ بَنُو النَّضِيرِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَالِصًا لَمْ يَفْتَحُوهَا عَنْوَةً افْتَتَحُوهَا عَلَى صُلْحٍ فَقَسَمَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يُعْطِ الأَنْصَارَ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ رَجُلَيْنِ كَانَتْ بِهِمَا حَاجَةٌ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৯৬১. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ....... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যারা তার জন্য ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; (বরং আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তা তাঁকে প্রদান করেন)। এ আয়াত সম্পর্কে রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিদাক এবং গ্রামবাসীদের সাথে তখন সন্ধি করেন, যখন তিনি অপর একটা সম্প্রদায়কে অবরোধ করেছিলেন। তখন সেখানকার লোকেরা সন্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে প্রস্তাব পেশ করে। এ ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ তোমরা ঐ মাল হাসিল করার জন্য ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; বরং বিনাযুদ্ধে তোমরা তা লাভ করেছিলে।

যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ বনু নযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত মাল নবী (ﷺ) এর জন্য খাস ছিল। কেননা তা যুদ্ধের দ্বারা হাসিল হয়নি; বরং সন্ধির দ্বারা হয়েছিল। বস্তুত নবী (ﷺ) ঐ সম্পদ মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং আনসারদের অভাবী দু’ব্যক্তি ছাড়া তিনি আর কাউকে কিছুই প্রদান করেননি।
২৯৬২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ جَمَعَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بَنِي مَرْوَانَ حِينَ اسْتُخْلِفَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ فَدَكُ فَكَانَ يُنْفِقُ مِنْهَا وَيَعُودُ مِنْهَا عَلَى صَغِيرِ بَنِي هَاشِمٍ وَيُزَوِّجُ مِنْهَا أَيِّمَهُمْ وَإِنَّ فَاطِمَةَ سَأَلَتْهُ أَنْ يَجْعَلَهَا لَهَا فَأَبَى فَكَانَتْ كَذَلِكَ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه عَمِلَ فِيهَا بِمَا عَمِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاتِهِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ عُمَرُ عَمِلَ فِيهَا بِمِثْلِ مَا عَمِلاَ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ثُمَّ أَقْطَعَهَا مَرْوَانُ ثُمَّ صَارَتْ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ - يَعْنِي عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ - فَرَأَيْتُ أَمْرًا مَنَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ لَيْسَ لِي بِحَقٍّ وَأَنَا أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ رَدَدْتُهَا عَلَى مَا كَانَتْ يَعْنِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

২৯৬২. আব্দুল্লাহ ইবনে জাররাহ (রাহঃ) ..... মুগীরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর ইবনে আব্দুল আযীয খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বনু মারোয়ানকে সমবেত করে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ফিদাকের আয় হতে পরিবার-পরিজন ও ফকীর-মিসকীনদের ব্যয় নির্বাহ করতেন, বনু হাশিম গোত্রের ছোট বাচ্চাদের প্রতি ইহসান করতেন, বিধবা এবং অবিবাহিত নারীদের জন্য খরচ করতেন। একবার ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর নিকট ফিদাকের সস্পদপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। বস্তুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় ঐ সম্পদ ঐরূপেই অবশিষ্ট ছিল। এমনকি তাঁর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত এ পদ্ধতি চালু ছিল।

অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর ফিদাকের ধন-সম্পত্তির ব্যাপারে ঐ নিয়ম চালু রাখেন, যা নবী (ﷺ)-এর যামানায় চালু ছিল। এরপর উমর (রাযিঃ) যখন এর মুতাওয়াল্লী নির্বাচিত হন, তখন তিনিও ঐ মালের ব্যাপারে একই নীতি অবলম্বন করেন, যা নবী (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর মৃত্যু সময়ও ঐ নীতি চালু ছিল।

পরে মারোয়ান একে নিজের জায়গীর বানিয়ে নেন। অবশেষে তা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন তিনি এ খেয়াল করেন যে, নবী (ﷺ) যখন এ মাল ফাতিমা (রাযিঃ) কে প্রদান করেননি, তখন আমার জন্যও তা ভোগ করা উচিত হবে না। সে জন্য আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছিঃ আমি ঐ সম্পদ তার মূল অবস্থায় ফিরিয়ে দিচ্ছি, যেমন তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় ছিল। (আর আগে যেভাবে যাদের প্রয়োজনে তা ব্যবহৃত হতো, তেমনি পরেও তা ঐভাবেই ব্যবহৃত হবে)।
২৯৬৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ جُمَيْعٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ رضى الله عنها إِلَى أَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه تَطْلُبُ مِيرَاثَهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلاَمُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَطْعَمَ نَبِيًّا طُعْمَةً فَهِيَ لِلَّذِي يَقُومُ مِنْ بَعْدِهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু তুফাইল লাইছী (রাঃ)

২৯৬৩. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... আবু তুফায়ল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ফাতিমা (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিজের হিসসা দাবী করেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যখন আল্লাহ তাঁর কোন নবীকে কোন জীবিকা প্রদান করেন, তা তাঁর পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির অধিকারে চলে যাবে।

২৯৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمُؤْنَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার ওয়ারিছরা আমার পরিত্যক্ত সম্পদ হতে এক দীনারও বন্টন করতে পারবে না। আমি যা কিছু রেখে যাব, তা আমার স্ত্রীদের ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহ এবং আমার কর্মচারীর পারিশ্রমিক প্রদানের পর সাদ্‌কা হিসাবে পরিগণিত হবে।

২৯৬৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ حَدِيثًا، مِنْ رَجُلٍ فَأَعْجَبَنِي فَقُلْتُ اكْتُبْهُ لِي فَأَتَى بِهِ مَكْتُوبًا مُذَبَّرًا دَخَلَ الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ عَلَى عُمَرَ وَعِنْدَهُ طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَسَعْدٌ وَهُمَا يَخْتَصِمَانِ فَقَالَ عُمَرُ لِطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسَعْدٍ أَلَمْ تَعْلَمُوا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةٌ إِلاَّ مَا أَطْعَمَهُ أَهْلَهُ وَكَسَاهُمْ إِنَّا لاَ نُورَثُ " . قَالُوا بَلَى . قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ مِنْ مَالِهِ عَلَى أَهْلِهِ وَيَتَصَدَّقُ بِفَضْلِهِ ثُمَّ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَلِيَهَا أَبُو بَكْرٍ سَنَتَيْنِ فَكَانَ يَصْنَعُ الَّذِي كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ .

বর্ণনাকারী: আবুল বাখতারী (রহঃ)

২৯৬৫. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ....... আবু বুখতারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তি হতে এমন একটি হাদীস শুনেছিলাম, যা আমার খুবই পছন্দ হয়। তখন আমি তাকে বলিঃ হাদীসটি আমাকে লিখে দিন। তিনি তা স্পষ্টভাবে লিখে আনেন এবং আব্বাস (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ)-এর কাছে আনেন। এ সময় তালহা (রাযিঃ), যুবাইর (রাযিঃ), আব্দুর রহমান (রাযিঃ) এবং সা’দ (রাযিঃ) তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আব্বাস (রাযিঃ) এবং আলী (রাযিঃ) পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হলে উমর (রাযিঃ) তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান এবং সা’দ (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নবীদের যাবতীয় সম্পদ তাঁর পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের খরচ বাদে বাকী সবই সাদ্‌কা। আমরা কোন মীরাছ রেখে যাই না। তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় মাল হতে নিজের পরিবারদের জন্য খরচ করার পর বাকী অংশ সাদ্‌কা করে দিতেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাযিঃ) দু’বছরের জন্য এর মুতাওয়াল্লী হন। আর তিনি ঐ নীতিই অনুসরণ করেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছিলেন।

এরপর রাবী মালিক ইবনে আওস (রাযিঃ)-এর হাদীসের কিছু অংশ বর্ণনা করেন।
২৯৬৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَيَسْأَلْنَهُ ثُمُنَهُنَّ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُنَّ عَائِشَةُ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৬৬. কা’নবী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইনতিকাল করেন, তখন তার স্ত্রীগণ উছমান (রাযিঃ) কে আবু বকর সিদ্দীকের নিকট এ জন্য প্রেরণ করেন যে, যাতে তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীদের ’ছুমুন’ বা এক-অষ্টমাংশ মীরাছ দাবী করেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাল হতে। তখন আয়িশা (রাযিঃ) তাঁদের ডেকে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এরূপ বর্ণনা করেন নি যে, আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা।

২৯৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ قُلْتُ أَلاَ تَتَّقِينَ اللَّهَ أَلَمْ تَسْمَعْنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ وَإِنَّمَا هَذَا الْمَالُ لآلِ مُحَمَّدٍ لِنَائِبَتِهِمْ وَلِضَيْفِهِمْ فَإِذَا مِتُّ فَهُوَ إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ مِنْ بَعْدِي " .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৯৬৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, একদা আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? তোমরা কি শোননি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদ্‌কা। আর এ ধন-সস্পদ তো কেবল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য এবং তাঁর নিজস্ব প্রয়োজন ও মেহমানদের মাঝে বিতরণের জন্য। আমার ইন্তিকালের পর এ ধন-সম্পদ তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে, যিনি খলীফা মনোনীত হবেন।

১৫৮. ঐ পঞ্চমাংশ, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের মাল হতে নিতেন, কোথায় কোথায় তা বন্টন করতেন এবং নিকটাত্নীয়দের হক সম্পর্কে।

باب فِي بَيَانِ مَوَاضِعِ قَسْمِ الْخُمُسِ وَسَهْمِ ذِي الْقُرْبَى

২৯৬৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، أَنَّهُ جَاءَ هُوَ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ يُكَلِّمَانِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا قَسَمَ مِنَ الْخُمُسِ بَيْنَ بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَسَمْتَ لإِخْوَانِنَا بَنِي الْمُطَّلِبِ وَلَمْ تُعْطِنَا شَيْئًا وَقَرَابَتُنَا وَقَرَابَتُهُمْ مِنْكَ وَاحِدَةٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو الْمُطَّلِبِ شَىْءٌ وَاحِدٌ " . قَالَ جُبَيْرٌ وَلَمْ يَقْسِمْ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَلاَ لِبَنِي نَوْفَلٍ مِنْ ذَلِكَ الْخُمُسِ كَمَا قَسَمَ لِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَقْسِمُ الْخُمُسَ نَحْوَ قَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُعْطِي قُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْطِيهِمْ . قَالَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يُعْطِيهِمْ مِنْهُ وَعُثْمَانُ بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৯৬৮. উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ..... জুবাইর ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং উছমান (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট খুমুসের ব্যাপারে আলোচনার জন্য যাই, যা তিনি বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মাঝে বণ্টন করেন। এ সময় আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাদের ভাই বনু মুত্তালিবকে অংশ দিলেন, কিন্তু আমাদের তো কিছু দিলেন না? অথচ আমাদের ও তাদের সস্পর্ক আপনার সঙ্গে একই ধরনের! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব তো একই।

রাবী জুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি বনু আব্দুশ শামস ও বনু নওফলকে এ খুমুস হতে অংশ প্রদান করেননি, যেমন বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে অংশ প্রদান করেছিলেন। আর আবু বকর (রাযিঃ)-ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ন্যায় খুমুসের অংশ বন্টন করতেন। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আত্মীয়দের অংশ প্রদান করতেন না, যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে তাদের অংশ দিতেন। রাবী বলেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) তাদের খুমুস থেকে অংশ দিতেন এবং তারপর উছমান (রাযিঃ)-ও এরূপ করতেন।
২৯৬৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، حَدَّثَنَا جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقْسِمْ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَلاَ لِبَنِي نَوْفَلٍ مِنَ الْخُمُسِ شَيْئًا كَمَا قَسَمَ لِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَقْسِمُ الْخُمُسَ نَحْوَ قَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُعْطِي قُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا كَانَ يُعْطِيهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ عُمَرُ يُعْطِيهِمْ وَمَنْ كَانَ بَعْدَهُ مِنْهُمْ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৯৬৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... জুবাইর ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আব্দুশ শামস ও বনু নওফলকে খুমুস হতে কোন অংশ দেন নি, যেমন তিনি বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে দিয়েছিলেন। আর আবু বকর (রাযিঃ)-ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বণ্টন নীতির ন্যায় (খুমুস) বন্টন করতেন। তবে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট-আত্মীয়দের কোন অংশ দিতেন না, যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বয়ং তাদের দিতেন। অবশ্য উমর (রাযিঃ) এবং তাঁর পরবর্তী খলীফারা সকলেই তাদের অংশ প্রদান করতেন।

২৯৭০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَهْمَ ذِي الْقُرْبَى فِي بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ وَتَرَكَ بَنِي نَوْفَلٍ وَبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ حَتَّى أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَؤُلاَءِ بَنُو هَاشِمٍ لاَ نُنْكِرُ فَضْلَهُمْ لِلْمَوْضِعِ الَّذِي وَضَعَكَ اللَّهُ بِهِ مِنْهُمْ فَمَا بَالُ إِخْوَانِنَا بَنِي الْمُطَّلِبِ أَعْطَيْتَهُمْ وَتَرَكْتَنَا وَقَرَابَتُنَا وَاحِدَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا وَبَنُو الْمُطَّلِبِ لاَ نَفْتَرِقُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ إِسْلاَمٍ وَإِنَّمَا نَحْنُ وَهُمْ شَىْءٌ وَاحِدٌ " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৯৭০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জুবাইর ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বর যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটাত্মীয়ের অংশ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মাঝে বন্টন করে দেন এবং বনু আব্দুশ শামস ও বনু নওফলকে পরিত্যাগ করেন। এ সময় আমি (রাবী) এবং উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই তো বনু হাশিম, আমরা এদের ফযীলত অস্বীকার করতে পারি না। কেননা আল্লাহ আপনাকে এ বংশে পয়দা করেছেন। কিন্তু আমাদের ভাই বনু মুত্তালিবের অবস্থা কী যে, আপনি তাদের অংশ দিলেন অথচ আমাদের দিলেন না? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এবং বনু মুত্তালিব জাহিলীয়াতের যুগে এবং ইসলামের যুগে বিছিন্ন হই নি। বরং আমরা এবং তারা একই। অতঃপর তিনি তার এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে বললেনঃ আমরা এবং তারা তো এভাবে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

২৯৭১

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، فِي ذِي الْقُرْبَى قَالَ هُمْ بَنُو عَبْدِ الْمُطَّلِبِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯৭১. হুসাইন ইবনে আলী আজালী (রাহঃ) ..... হাসান ইবনে সালিহ সুদ্দী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (কুরআনে বর্ণিত) নিকটাত্মীয় [১] হলো বনু আব্দুল মুওালিব।

[১] রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর।
২৯৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ، حِينَ حَجَّ فِي فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى وَيَقُولُ لِمَنْ تَرَاهُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِقُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَهُ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ كَانَ عُمَرُ عَرَضَ عَلَيْنَا مِنْ ذَلِكَ عَرْضًا رَأَيْنَاهُ دُونَ حَقِّنَا فَرَدَدْنَاهُ عَلَيْهِ وَأَبَيْنَا أَنْ نَقْبَلَهُ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রহঃ)

২৯৭২. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাজদা-হারুরী ইবনে জুবাইরের ফিতনার (শাহাদাতের) বছর হজ্জ শেষে এক ব্যক্তিকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর কাছে নিকটাত্মীয়দের প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য প্রেরণ করেন যে, এদের ব্যাপারে তাঁর অভিমত কী? তিনি বলেনঃ যাবিল-কুরবা বা নিকটাত্মীয়ের অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন জনেরা, যাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বয়ং অংশ প্রদান করেছিলেন। আর উমর (রাযিঃ) আমাদেরকে তা হতে অংশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে আমাদের প্রাপ্য অংশ হতে কম মনে করে ফিরিয়ে দেই এবং আমরা তা গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করি।

২৯৭৩

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ وَلاَّنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُمُسَ الْخُمُسِ فَوَضَعْتُهُ مَوَاضِعَهُ حَيَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَيَاةَ أَبِي بَكْرٍ وَحَيَاةَ عُمَرَ فَأُتِيَ بِمَالٍ فَدَعَانِي فَقَالَ خُذْهُ . فَقُلْتُ لاَ أُرِيدُهُ . قَالَ خُذْهُ فَأَنْتُمْ أَحَقُّ بِهِ . قُلْتُ قَدِ اسْتَغْنَيْنَا عَنْهُ فَجَعَلَهُ فِي بَيْتِ الْمَالِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

২৯৭৩. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ’খুমুস’-এর ’খুমুস’ অংশে মুতাওয়ালী বানান, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর খাস ব্যক্তিদের জন্য ব্যয় করতেন। আর এ ভাবেই আমি সে মাল আবু বকর (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফত আমল পর্যন্ত খরচ করতে থাকি।

এরপর উমর (রাযিঃ)-এর শাসনামলে তাঁর নিকট কিছু মাল আসে, তখন তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি এই মাল গ্রহণ কর। আমি বলিঃ আমি এটা গ্রহণ করতে চাই না। তখন তিনি পুনরায় বলেনঃ তুমি এটা গ্রহণ কর। কেননা, তুমিই এর যোগ্য পাত্র। তখন আমি বলিঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। অবশেষে উমর (রাযিঃ) সে মাল বায়তুল মালে জমা দিয়ে দেন।
২৯৭৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْبَرِيدِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، عَلَيْهِ السَّلاَمُ يَقُولُ اجْتَمَعْتُ أَنَا وَالْعَبَّاسُ، وَفَاطِمَةُ، وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ، عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُوَلِّيَنِي حَقَّنَا مِنْ هَذَا الْخُمُسِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَأَقْسِمَهُ حَيَاتَكَ كَىْ لاَ يُنَازِعَنِي أَحَدٌ بَعْدَكَ فَافْعَلْ . قَالَ فَفَعَلَ ذَلِكَ - قَالَ - فَقَسَمْتُهُ حَيَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ وَلاَّنِيهِ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه حَتَّى إِذَا كَانَتْ آخِرُ سَنَةٍ مِنْ سِنِي عُمَرَ رضى الله عنه فَإِنَّهُ أَتَاهُ مَالٌ كَثِيرٌ فَعَزَلَ حَقَّنَا ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَقُلْتُ بِنَا عَنْهُ الْعَامَ غِنًى وَبِالْمُسْلِمِينَ إِلَيْهِ حَاجَةٌ فَارْدُدْهُ عَلَيْهِمْ فَرَدَّهُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ لَمْ يَدْعُنِي إِلَيْهِ أَحَدٌ بَعْدَ عُمَرَ فَلَقِيتُ الْعَبَّاسَ بَعْدَ مَا خَرَجْتُ مِنْ عِنْدِ عُمَرَ فَقَالَ يَا عَلِيُّ حَرَمْتَنَا الْغَدَاةَ شَيْئًا لاَ يُرَدُّ عَلَيْنَا أَبَدًا وَكَانَ رَجُلاً دَاهِيًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৯৭৪. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি, আব্বাস (রাযিঃ), ফাতিমা এবং যায়দ ইবনে হারিছা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি ভাল মনে করেন, তবে আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী ’খুমুস’ হতে আমাদের প্রাপ্য অংশটি আমার ইখতিয়ারে দিয়ে দিন, যাতে আমি তা আপনার জীবদ্দশায় বণ্টন করে দিতে পারি এবং আপনার ইন্তিকালের পর আমাদের কেউ যেন আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে না পারে।

আলী (রাযিঃ) বলেনঃ তখন তিনি এরূপ করেন। অতঃপর আলী (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি তা (খুমুস) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় বণ্টন করে দেই। এরপর আবু বকর (রাযিঃ)-ও আমাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। অবশেষে উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফতের শেষ বর্ষ যখন আসে, তখন তাঁর নিকট অনেক ধন-সম্পদ আসে। তিনি আমাদের হক আলাদা করে রাখেন এবং আমাকে ডেকে নেন। তখন আমি বলিঃ এ বছরে আমাদের ধন-সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই, আর সাধারণ মুসলমানদের প্রয়োজন আছে কাজেই আপনি এটা তাদের দিয়ে দিন।

তখন উমর (রাযিঃ) সে সম্পদ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দেন। উমর (রাযিঃ)-এর পরে কেউ আমাকে এ মাল গ্রহণের জন্য আহবান করেনি। আমি উমর (রাযিঃ)-এর নিকট হতে ফিরে এসে আব্বাস (রাযিঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করি। তখন তিনি বলেনঃ হে আলী! তুমি তো আগামীকাল হতে আমাদের বঞ্চিত করে দিলে। এখন আমরা আর কিছুই পাব না। আর আব্বাস (রাযিঃ) ছিলেন খুবই জ্ঞানী লোক।
২৯৭৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ الْهَاشِمِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ بْنَ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ رَبِيعَةَ بْنَ الْحَارِثِ وَعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالاَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ وَلِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ ائْتِيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُولاَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ بَلَغْنَا مِنَ السِّنِّ مَا تَرَى وَأَحْبَبْنَا أَنْ نَتَزَوَّجَ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَرُّ النَّاسِ وَأَوْصَلُهُمْ وَلَيْسَ عِنْدَ أَبَوَيْنَا مَا يُصْدِقَانِ عَنَّا فَاسْتَعْمِلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى الصَّدَقَاتِ فَلْنُؤَدِّ إِلَيْكَ مَا يُؤَدِّي الْعُمَّالُ وَلْنُصِبْ مَا كَانَ فِيهَا مِنْ مِرْفَقٍ . قَالَ فَأَتَى إِلَيْنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَنَحْنُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَقَالَ لَنَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ وَاللَّهِ لاَ نَسْتَعْمِلُ مِنْكُمْ أَحَدًا عَلَى الصَّدَقَةِ " . فَقَالَ لَهُ رَبِيعَةُ هَذَا مِنْ أَمْرِكَ قَدْ نِلْتَ صِهْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نَحْسُدْكَ عَلَيْهِ . فَأَلْقَى عَلِيٌّ رِدَاءَهُ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَنَا أَبُو حَسَنٍ الْقَرْمُ وَاللَّهِ لاَ أَرِيمُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْكُمَا ابْنَاكُمَا بِجَوَابِ مَا بَعَثْتُمَا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ إِلَى بَابِ حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نُوَافِقَ صَلاَةَ الظُّهْرِ قَدْ قَامَتْ فَصَلَّيْنَا مَعَ النَّاسِ ثُمَّ أَسْرَعْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ إِلَى بَابِ حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُمْنَا بِالْبَابِ حَتَّى أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِأُذُنِي وَأُذُنِ الْفَضْلِ ثُمَّ قَالَ أَخْرِجَا مَا تُصَرِّرَانِ ثُمَّ دَخَلَ فَأَذِنَ لِي وَلِلْفَضْلِ فَدَخَلْنَا فَتَوَاكَلْنَا الْكَلاَمَ قَلِيلاً ثُمَّ كَلَّمْتُهُ أَوْ كَلَّمَهُ الْفَضْلُ - قَدْ شَكَّ فِي ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ - قَالَ كَلَّمَهُ بِالأَمْرِ الَّذِي أَمَرَنَا بِهِ أَبَوَانَا فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَاعَةً وَرَفَعَ بَصَرَهُ قِبَلَ سَقْفِ الْبَيْتِ حَتَّى طَالَ عَلَيْنَا أَنَّهُ لاَ يَرْجِعُ إِلَيْنَا شَيْئًا حَتَّى رَأَيْنَا زَيْنَبَ تَلْمَعُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ بِيَدِهَا تُرِيدُ أَنْ لاَ تَعْجَلاَ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَمْرِنَا ثُمَّ خَفَّضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ فَقَالَ لَنَا " إِنَّ هَذِهِ الصَّدَقَةَ إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلاَ لآلِ مُحَمَّدٍ ادْعُوا لِي نَوْفَلَ بْنَ الْحَارِثِ " . فَدُعِيَ لَهُ نَوْفَلُ بْنُ الْحَارِثِ فَقَالَ " يَا نَوْفَلُ أَنْكِحْ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ " . فَأَنْكَحَنِي نَوْفَلٌ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ادْعُوا لِي مَحْمِيَةَ بْنَ جَزْءٍ " . وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي زُبَيْدٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الأَخْمَاسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَحْمِيَةَ " أَنْكِحِ الْفَضْلَ " . فَأَنْكَحَهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُمْ فَأَصْدِقْ عَنْهُمَا مِنَ الْخُمُسِ كَذَا وَكَذَا " . لَمْ يُسَمِّهِ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রবীআ (রাঃ)

২৯৭৫. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী’আ ইবনে হারিছ ইবনে আব্দিল মুত্তালিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর পিতা রাবী’আ ইবনে হারিছ এবং আব্বাস ইবনে আব্দিল মুত্তালিব, আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী’আ এবং ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলেন যে, তোমরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের বয়স হয়েছে, সে সম্পর্কে তো আপনি অবহিত। আমরা বিবাহ করতে ইচ্ছুক।

আর হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সকলের চাইতে অধিক নেককার ও পরোপকারী। আমাদের পিতার কাছে আমাদের বিবাহের দেনমোহর পরিশোধের মত অর্থ নেই। তাই আপনি আমাদের সাদ্‌কা আদায়ের অফিসার হিসাবে নিয়োগ করুন। অন্য অফিসাররা যা দিয়ে থাকে, আমরাও আপনাকে তা দেব এবং তার মুনাফা আমরা গ্রহণ করব।

রাবী বলেনঃ এ সময় আলী (রাযিঃ) সেখানে আসেন। আমরা যখন এ অবস্থায় ছিলাম, তখন আলী (রাযিঃ) আমাদেরকে বলেনঃ আল্লাহর শপথ করে বলি যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের কাউকেও সাদ্‌কা আদায়ের অফিসার নিয়োগ করবেন না। তখন রাবী’আ বলেনঃ এতো আপনি নিজের পক্ষ থেকে বলছেন। আপনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জামাতা হয়েছেন, এতে আমরা আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত নই। তখন আলী (রাযিঃ) তাঁর চাদর বিছিয়ে সেখানে শুয়ে পড়েন এবং বলেনঃ আমি আবুল হাসান, সকলের চাইতে জ্ঞানী। আল্লাহর শপথ! আমি এ স্থান পরিত্যাগ করব না যতক্ষণ না তোমাদের সন্তানেরা ঐ কাজ হতে বঞ্চিত হয়ে ফিরে আসে, যার জন্য তোমরা তাদের নবী (ﷺ)-এর নিকট প্রেরণ করেছ।

আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এবং ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) যখন তাঁর নিকটে পৌছাই, তখন যোহরের নামাযের তাকবীর শুরু হয়ে যায়। তখন আমরা লোকদের সাথে (জামাআতে) নামায আদায় করি। অতঃপর আমি এবং ফযল দ্রুত নবী (ﷺ)-এর হুজরার দিকে ধাবমান হই। এদিন তিনি যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। আমরা দরওয়াযার নিকট দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইরে এসে (স্নেহবশত) আমার ও ফযলের কান ধরে বললেনঃ বল তোমরা কি বলতে চাচ্ছ।

অতঃপর তিনি হুজরার মাঝে ফিরে যান এবং আমাকে ও ফযলকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেন। তখন আমরা ভিতরে প্রবেশ করি এবং একে অন্যকে কথা শুরু করার জন্য বলতে থাকি। অবশেষে আমি কথা শুরু করি অথবা ফযল শুরু করে। রাবী আব্দুলাহ (রাযিঃ) এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী’আ বলেনঃ তখন ফযল ঐ কথা পেশ করেন, যা বলার জন্য আমাদের পিতা আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকেন এবং তাঁর দৃষ্টি ছাদের প্রতি নিবদ্ধ করেন। এভাবে অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ায় আমরা মনে করি যে, তিনি এখন কোন জওয়াব দিবেন না। এ সময় আমরা লক্ষ্য করি যে, যয়নাব পর্দার পিছন হতে হাতের ইশারায় আমাদের বলছেন যে, আমরা যেন ব্যস্ত না হই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা নীচু করে আমাদের বললেনঃ এ সাদ্‌কা তো মানুষের ময়লা-আবর্জনা (অর্থাৎ মালের ময়লা), যা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের জন্য হালাল নয়।[১] তোমরা নওফল ইবনে হারিছকে আমার কাছে ডেকে আন। তখন তাঁকে তাঁর নিকট ডেকে আনা হয়। তিনি তাকে বলেনঃ হে নওফল! তুমি আব্দুল মুত্তালিবকে তোমার মেয়ের সাথে বিয়ে দাও। তখন নওফল তার মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা মুহমিয়্যা ইবনে জাযাকে আমার কাছে ডেকে আন, যিনি ছিলেন যুবায়দ গোত্রের লোক। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে মালে-গনিমতের খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) আদায়ের জন্য নিয়োগ করেন। (মুহমিয়্যা আসলে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তুমি তোমার (মেয়ের সাথে) ফযলের বিয়ে দাও। তখন তিনি বিবাহ দিয়ে দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি দাঁড়াও এবং খুমুস হতে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ সস্পদ মোহর বাবদ দিয়ে দাও। (রাবী বলেন) আব্দুল্লাহ ইবনে হারিছ (রাযিঃ) আমার নিকট মোহরের পরিমাণ উল্লেখ করেননি।

[১] অর্থাৎ বনু হাশিমদের জন্য সাদাকার মাল খাওয়া বৈধ নয়।
২৯৭৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ يَوْمَ بَدْرٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ يَوْمَئِذٍ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْنِيَ بِفَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ أَنْ يَرْتَحِلَ مَعِي فَنَأْتِيَ بِإِذْخِرٍ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ مِنَ الصَّوَّاغِينَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَىَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ - وَشَارِفَاىَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ - أَقْبَلْتُ حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ فَإِذَا بِشَارِفَىَّ قَدِ اجْتُبَّتْ أَسْنِمَتُهُمَا وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَىَّ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ فَقُلْتُ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالُوا فَعَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَنَّتْهُ قَيْنَةٌ وَأَصْحَابَهُ فَقَالَتْ فِي غِنَائِهَا أَلاَ يَا حَمْزُ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَوَثَبَ إِلَى السَّيْفِ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَأَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا . قَالَ عَلِيٌّ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ قَالَ فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي لَقِيتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَىَّ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَهَا هُوَ ذَا فِي بَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ فَارْتَدَاهُ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ حَتَّى جَاءَ الْبَيْتَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ ثَمِلٌ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ حَمْزَةُ وَهَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ثَمِلٌ فَنَكَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى فَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৯৭৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের গনিমতের মাল হতে আমার ভাগে একটা মোটাতাজা উট পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুমুস হতেও আমাকে একটি হৃষ্টপুষ্ট উট প্রদান করেন। অতঃপর আমি যখন ফাতিমা (রাযিঃ) এর সঙ্গে বাসর যাপনের ইচ্ছা করি, তখন আমি একজন কর্মকারের সাথে, যিনি বনু কায়নুকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এ ওয়াদা করি যে, সে আমার সাথে যাবে এবং আমি তার কাছে ইযখির (এক ধরনের সুগন্ধ যুক্ত ঘাস) বিক্রয় করব, যাতে আমি আমার নব-পরিণীতা স্ত্রীর ওয়ালীমার ব্যবস্থা করতে পারি।

বস্তুত এ উদ্দেশ্যে যখন আমি আমার উটের জন্য পালান, ঘাস ও রশির যোগাড়ে ব্যস্ত ছিলাম, তখন আমার উট দুটি এক আনসার সাহাবীর হুজরার পাশে বসা ছিল। এরপর এদের জন্য যা প্রয়োজন ছিল, তা সংগ্রহ করে যখন আমি ফিরে আসি, তখন দেখি যে, তাদের কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, কোমর ফেড়ে ফেলা হয়েছে এবং কলিজা বের করা হয়েছে। এ অবস্থা দেখে আমি আমার অশ্রু সম্বরণ করতে অক্ষম হই।

তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এ কাজ কে করলো? তখন লোকেরা বললোঃ হামযা ইবনে আব্দিল মুত্তালিব এ কাজ করেছে। যিনি কয়েকজন আনসার সাহাবীর সঙ্গে এ ঘরে আছেন, যারা শরাব পান করেছেন[১] এবং জনৈকা গায়িকা তাঁর ও তাঁর সাথীদের সামনে এরূপ গান গাইছেঃ

’’হে হামযা! উঠ, এবং যে মোটাতাজা উট উঠানে বাধা আছে, ওর হলকুমে ছুরি চালিয়ে ওকে হত্যা করে ফেল এবং ওর পবিত্র অংশ (অর্থাৎ কুঁজ ও কলিজা) ডেগে পাকিয়ে বা ভুনা করে শরাব পানকারীদের জন্য জলদি তৈরী করে দাও।”

হামযা এ গান শুনে তখনই তরবারি দিয়ে ওদের কুঁজ কেটেছে এবং ওদের পেট ফেড়ে ওদের কলিজা বের করে ফেলেছে। আলী (রাযিঃ) বলেনঃ এ খবর জেনে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই। তখন যায়দ ইবনে হারিছা (রাযিঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চেহারা দেখে আমার অবস্থা বুঝতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজকের মত কোন অবস্থা আমার জীবনে আর আসেনি। হামযা আমার উটের উপর এরূপ অত্যাচার করেছে যে, ওদের কুঁজ ফেড়ে ফেলেছে এবং পেট কেটে ফেলেছে। আর সে শরাবীদের সাথে এ ঘরে উপস্থিত আছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাদর চান এবং তা গায়ে চড়িয়ে রওয়ানা হন। আমি এবং যায়দ ইবনে হারিছা তাঁর অনুসরণ করতে থাকি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই ঘরের কাছে পৌঁছান, যেখানে হামযা (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ভিতরে ঢুকে দেখতে পান যে, সবাই শরাব পান করে মাতাল অবস্থায় আছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হামযাকে এ কাজের জন্য ভর্ৎসনা করতে থাকেন। তিনি দেখতে পান যে, সে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে এবং তার দুটি চোখ নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে লাল হয়ে গেছে। হামযা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে চেয়ে দেখেন, তারপর চোখ উঠিয়ে তাঁর নাভির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। সবশেষে চোখ উঠিয়ে তাঁর চেহারার প্রতি তাকান এবং বলেনঃ তোমরা তো আমার বাবার গোলাম মাত্র।[২] এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুধাবন করতে পারেন যে, হামযা নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান হতে পেছনে ফিরে আসেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসি।

[১] এ সময় শরাব পান হারাম হয়ান।
[২] কেননা, হামযা (রাযিঃ) ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আলী (রাযিঃ)-এর দাদা ছিলেন । আর হারিছ ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোলাম। এজন্য হামযা (রাযিঃ) এরূপ উক্তি করেন।
ভিন্নমতে, আরবের রীতি অনুযায়ী দাদাকে সায়্যেদ বলা হতো। এদিক হতে হামযা (রাযিঃ) শরাবে বুঁদ হয়ে থাকার কারণে সকলকে আমার বাবার গোলাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
২৯৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عُقْبَةَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَسَنِ الضَّمْرِيِّ، أَنَّ أُمَّ الْحَكَمِ، أَوْ ضُبَاعَةَ ابْنَتَىِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ حَدَّثَتْهُ عَنْ إِحْدَاهُمَا أَنَّهَا قَالَتْ أَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْيًا فَذَهَبْتُ أَنَا وَأُخْتِي وَفَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَحْنُ فِيهِ وَسَأَلْنَاهُ أَنْ يَأْمُرَ لَنَا بِشَىْءٍ مِنَ السَّبْىِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَبَقَكُنَّ يَتَامَى بَدْرٍ لَكِنْ سَأَدُلُّكُنَّ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُنَّ مِنْ ذَلِكَ تُكَبِّرْنَ اللَّهَ عَلَى أَثَرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَكْبِيرَةً وَثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَحْمِيدَةً وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " . قَالَ عَيَّاشٌ وَهُمَا ابْنَتَا عَمِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: দুবাআ বিনতে যুবায়র (রাঃ)

২৯৭৭. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... ফযল ইবনে হাসান যামরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুবাইর ইবনে আব্দিল মুত্তালিবের দুই কন্যা উম্মু হাকাম অথবা যুবা’আ হতে একজন এ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী আসে। তখন আমি, আমার বোন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে আমাদের দরিদ্রতার অভিযোগ করি, যাতে আমরা ছিলাম। আর আমরা তাঁর নিকট এ দরখাস্ত করি যে, তিনি যেন আমাদের কিছু বাঁদী (দাস-দাসী) প্রদান করেন।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের চাইতে ঐ সব ইয়াতীম মেয়েরা অধিক হকদার, যাদের পিতা বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তবে আমি তোমাদের এর চাইতে উত্তম জিনিস বলে দিচ্ছি, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আল-হামদু লিল্লাহ পাঠ করবে এবং একবার পড়বেঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, অদ্বিতীয়। তারই রাজত্ব বিশ্বব্যাপী, সব প্রশংসা তারই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

রাবী আয়্যাশ (রাহঃ) বলেনঃ উম্মু হাকাম ও যুবা’আ উভয়েই ছিলেন নবী (ﷺ)-এর চাচাতো বোন।
২৯৭৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، - يَعْنِي الْجُرَيْرِيَّ - عَنْ أَبِي الْوَرْدِ، عَنِ ابْنِ أَعْبُدَ، قَالَ قَالَ لِي عَلِيٌّ رضى الله عنه أَلاَ أُحَدِّثُكَ عَنِّي وَعَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ مِنْ أَحَبِّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ قُلْتُ بَلَى . قَالَ إِنَّهَا جَرَّتْ بِالرَّحَى حَتَّى أَثَّرَ فِي يَدِهَا وَاسْتَقَتْ بِالْقِرْبَةِ حَتَّى أَثَّرَ فِي نَحْرِهَا وَكَنَسَتِ الْبَيْتَ حَتَّى اغْبَرَّتْ ثِيَابُهَا فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَدَمٌ فَقُلْتُ لَوْ أَتَيْتِ أَبَاكِ فَسَأَلْتِيهِ خَادِمًا فَأَتَتْهُ فَوَجَدَتْ عِنْدَهُ حُدَّاثًا فَرَجَعَتْ فَأَتَاهَا مِنَ الْغَدِ فَقَالَ " مَا كَانَ حَاجَتُكِ " . فَسَكَتَتْ فَقُلْتُ أَنَا أُحَدِّثُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَرَّتْ بِالرَّحَى حَتَّى أَثَّرَتْ فِي يَدِهَا وَحَمَلَتْ بِالْقِرْبَةِ حَتَّى أَثَّرَتْ فِي نَحْرِهَا فَلَمَّا أَنْ جَاءَكَ الْخَدَمُ أَمَرْتُهَا أَنْ تَأْتِيَكَ فَتَسْتَخْدِمَكَ خَادِمًا يَقِيهَا حَرَّ مَا هِيَ فِيهِ . قَالَ " اتَّقِي اللَّهَ يَا فَاطِمَةُ وَأَدِّي فَرِيضَةَ رَبِّكِ وَاعْمَلِي عَمَلَ أَهْلِكِ فَإِذَا أَخَذْتِ مَضْجَعَكِ فَسَبِّحِي ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَاحْمَدِي ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَكَبِّرِي أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ فَتِلْكَ مِائَةٌ فَهِيَ خَيْرٌ لَكِ مِنْ خَادِمٍ " . قَالَتْ رَضِيتُ عَنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَعَنْ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৯৭৮. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) .... ইবনে আ’বূদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাযিঃ) আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রিয়পাত্রী ফাতিমা (রাযিঃ) সম্পর্কে কিছু বলব না? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ অবশ্যই। তিনি বলেনঃ তার (ফাতিমার) হাতে যাতা পেষার কারণে ফোসকা পড়ে গেছে। আর কূপ থেকে মশকে পানি উঠাবার কারণে তাঁর বুকে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে এবং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কারণে তাঁর সমস্ত কাপড়-চোপড় নোংরা হয়ে গিয়েছে। কেননা ঘরের সব কাজ একাই করে থাকেন। আর তাঁর কোন দাস-দাসী ছিল না। একবার নবী (ﷺ) এর নিকট কিছু গোলাম আসে। তখন আমি তাকে বলিঃ যদি তুমি তোমার পিতার নিকট উপস্থিত হয়ে গোলাম চাইতে, (তবে ভাল হতো)।

তখন তিনি ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর নিকট গমন করেন। কিন্তু তিনি তাঁর সঙ্গে অন্য ক’জন ব্যক্তিকে আলাপ করতে দেখে ফিরে আসেন। পরদিন আবার তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কিসের প্রয়োজন? এতে তিনি চুপ করে থাকলে আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে বলছি যে, যাঁতা পিষতে পিষতে তাঁর হাতে ফোসকা পড়ে গেছে। আর পানির মশক ভরতে ভরতে তার বুক ব্যথা হয়ে গেছে। এখন যখন আপনার নিকট কিছু খাদিম এসেছে, তখন আমিই তাঁকে বলিঃ তিনি যেন আপনার নিকট হাযির হয়ে একজন দাসের জন্য আব্দার করেন, যাতে তিনি এ কষ্ট হতে রেহাই পান।

তখন তিনি বলেনঃ হে ফাতিমা! আল্লাহকে ভয় কর এবং স্বীয় রবের ফরয হুকুম আদায় কর এবং নিজের ঘরের কাজ নিজেই কর। আর (দিন শেষে) যখন বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়বে। যার সর্বমোট সংখ্যা হলো ১০০ বার। বস্তুত তোমার জন্য এই তাসবীহ খাদিমের চাইতেও উত্তম। তিনি (ফাতিমা) বলেনঃ আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর রাযী এবং খুশী (অর্থাৎ আমাকে যে হুকুম দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি রাযী আছি)।
২৯৭৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ وَلَمْ يُخْدِمْهَا .

বর্ণনাকারী: আলী ইবনে হুসাইন যাইনুল আবিদীন (রহঃ)

২৯৭৯. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ মারওয়াযী (রাহঃ) ..... আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত ঘটনা সম্পর্কে বলেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) তাঁকে কোন খাদিম দেননি।

২৯৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ - يَعْنِي ابْنَ عِيسَى - كُنَّا نَقُولُ إِنَّهُ مِنَ الأَبْدَالِ قَبْلَ أَنْ نَسْمَعَ أَنَّ الأَبْدَالَ مِنَ الْمَوَالِي قَالَ حَدَّثَنِي الدَّخِيلُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ نُوحِ بْنِ مُجَّاعَةَ عَنْ هِلاَلِ بْنِ سِرَاجِ بْنِ مُجَّاعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ مُجَّاعَةَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَطْلُبُ دِيَةَ أَخِيهِ قَتَلَتْهُ بَنُو سَدُوسٍ مِنْ بَنِي ذُهْلٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كُنْتُ جَاعِلاً لِمُشْرِكٍ دِيَةً جَعَلْتُ لأَخِيكَ وَلَكِنْ سَأُعْطِيكَ مِنْهُ عُقْبَى " . فَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمِائَةٍ مِنَ الإِبِلِ مِنْ أَوَّلِ خُمُسٍ يَخْرُجُ مِنْ مُشْرِكِي بَنِي ذُهْلٍ فَأَخَذَ طَائِفَةً مِنْهَا وَأَسْلَمَتْ بَنُو ذُهْلٍ فَطَلَبَهَا بَعْدُ مُجَّاعَةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَأَتَاهُ بِكِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَتَبَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ بِاثْنَىْ عَشَرَ أَلْفَ صَاعٍ مِنْ صَدَقَةِ الْيَمَامَةِ أَرْبَعَةِ آلاَفٍ بُرًّا وَأَرْبَعَةِ آلاَفٍ شَعِيرًا وَأَرْبَعَةِ آلاَفٍ تَمْرًا وَكَانَ فِي كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِمُجَّاعَةَ " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ لِمُجَّاعَةَ بْنِ مُرَارَةَ مِنْ بَنِي سُلْمَى إِنِّي أَعْطَيْتُهُ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ مِنْ أَوَّلِ خُمُسٍ يَخْرُجُ مِنْ مُشْرِكِي بَنِي ذُهْلٍ عُقْبَةً مِنْ أَخِيهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯৮০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আনবাসা ইবনে আব্দিল ওয়াহিদ কুরাশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু জা’ফর অর্থাৎ ইবনে ঈসা বলেছেন যে, আমরা আনবাসা ইবনে আব্দিল ওয়াহিদ (রাযিঃ)-কে আব্দাল বলতাম-এ শোনার আগে যে, আব্দাল মাওয়ালীদের থেকে হয়।

রাবী বলেনঃ আমার নিকট দাখীল ইবনে আয়াস ইবনে নূহ ইবনে মুজজা’আ, তিনি তাঁর পিতা ও দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা মুজজা’আ নবী (ﷺ)-এর নিকট আসেন তাঁর ভাইয়ের দিয়্যাত (রক্তপণ) চাওয়ার জন্য, যাকে বনু সাদূস-যারা বনু যুহলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, হত্যা করেছিল। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি আমি কোন মুশরিকের দিয়্যাত দিতাম, তবে তোমার ভাইয়ের দিয়্যাতের ব্যবস্থা অবশ্যই করতাম। তবে আমি তোমাকে এর বিনিময়ের ব্যবস্থা করছি।

তখন নবী (ﷺ) তাঁর জন্য বনু যুহল থেকে প্রথম বার আদায়কৃত খুমুস হতে একশত উট দেওয়ার জন্য ফরমান লিখে দেন। যা থেকে কিছু উট তিনি (মুজজা’আ) গ্রহণ করেন। অতঃপর বনু যুহল ইসলাম গ্রহণ করলে মুজজা’আ বাকী উট পাওয়ার জন্য আবু বকর (রাযিঃ)-এর নিকট দাবী জানান এবং নবী (ﷺ)-এর ফরমান তাঁর খিদমতে পেশ করেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) তাকে (মুজজা’আকে) ইয়ামামার সাদ্‌কা হতে বার হাজার সা’আ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। যা থেকে চার হাজার সা’আ যব, চার হাজার সা’আ গম এবং চার হাজার সা’আ খেজুর তাঁকে দেওয়া হয়।

আর নবী (ﷺ)-এর ফরমানে এরূপ লেখা ছিলঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। এ ফরমান মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পক্ষ হতে মুজজা’আ ইবনে মুরারার জন্য-যিনি বনু সালামার অন্তর্ভুক্ত। আমি তাকে একশো উট দিচ্ছি। বনু যুহলের মুশরিকদের নিকট হতে খুমুস বাবদ প্রথম বার যা আদায় হবে, সেখান থেকে এটা দেওয়া হবে, তার মৃত ভাইয়ের রক্তপণের বিনিময়ে।

১৫৯. গনিমতের মালে নবী (ﷺ) -এর পছন্দনীয় অংশ।

باب مَا جَاءَ فِي سَهْمِ الصَّفِيِّ

২৯৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَهْمٌ يُدْعَى الصَّفِيَّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ أَمَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسًا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الْخُمُسِ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

২৯৮১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আমির শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর জন্য গনিমতের মালে নির্ধারিত অংশ ছিল, যাকে ’সাফী’ বলা হতো। তিনি খুমুস গ্রহণের আগে দাস, দাসী অথবা ঘোড়া হতে যা তাঁর পছন্দ হতো, তা নিয়ে নিতেন।

২৯৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَأَزْهَرُ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، قَالَ سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ سَهْمِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم وَالصَّفِيِّ قَالَ كَانَ يُضْرَبُ لَهُ بِسَهْمٍ مَعَ الْمُسْلِمِينَ وَإِنْ لَمْ يَشْهَدْ وَالصَّفِيُّ يُؤْخَذُ لَهُ رَأْسٌ مِنَ الْخُمُسِ قَبْلَ كُلِّ شَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে আউন (রহঃ)

২৯৮২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে আওন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুহাম্মাদের নিকট নবী (ﷺ) এর জন্য নির্ধারিত অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সাধারণ মুসলমানদের সাথে তাঁরও একটা অংশ নির্ধারণ করা হতো, যদিও তিনি যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকতেন। আর সাফী হলো খুমুসের সেই বাছাই করা মাল, যা সবার আগে নবী (ﷺ) এর জন্য নেয়া হতো।

২৯৮৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ - عَنْ سَعِيدٍ، - يَعْنِي ابْنَ بَشِيرٍ - عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غَزَا كَانَ لَهُ سَهْمٌ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَهُ فَكَانَتْ صَفِيَّةُ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُ بِنَفْسِهِ ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرْ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

২৯৮৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ সুলামী (রাহঃ) ...... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন, তখন তাঁর জন্য সাফী নির্ধারিত থাকতো। তিনি যেখান হতে ইচ্ছা করতেন, সেখান হতে পছন্দ মত গ্রহণ করতেন। বস্তুত সাফিয়্যা (রাযিঃ), (যাঁকে তিনি খায়বরের যুদ্ধের সময় পেয়েছিলেন), এ ধরনের অংশ ছিলেন। আর যখন তিনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না, তখনও তাঁর নির্ধারিত অংশ আলাদা করা হতো; কিন্তু সেটা তাঁর পছন্দ করা অংশ হতো না।

২৯৮৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ صَفِيَّةُ مِنَ الصَّفِيِّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৮৪. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফিয়্যা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পছন্দ করা মালের অংশ।

২৯৮৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَدِمْنَا خَيْبَرَ فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ تَعَالَى الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَىٍّ وَقَدْ قُتِلَ زَوْجُهَا وَكَانَتْ عَرُوسًا فَاصْطَفَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا حَتَّى بَلَغْنَا سُدَّ الصَّهْبَاءِ حَلَّتْ فَبَنَى بِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৮৫. সা’ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা খায়বর আক্রমণ করি। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করিয়ে দেন, তখন সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই এর সৌন্দর্যের কথা তাঁর নিকট বর্ণিত হয়। (এ যুদ্ধে) তার স্বামী নিহত হয়, যখন তিনি ছিলেন নববধূ মাত্র। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে রওয়ানা হন, এমনকি যখন ’সাদ্দা-সাহবা’ নামক স্থানে পৌছান, তখন তিনি হালাল[১] হয়ে যান। অতঃপর তিনি তার সাথে সহবাস করেন।

[১] অর্থাৎ সাফিয়্যা-এর হায়েযের মুদ্দত শেষ হয় এবং স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দতও পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হালাল হন।
২৯৮৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَارَتْ صَفِيَّةُ لِدِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ ثُمَّ صَارَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৮৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফিয়্যা প্রথমে দাহিয়া-কালবীর অংশে পড়েন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অংশভুক্ত হন।[১]

[১] হযরত সাফিয়্যা ছিলেন কুরায়যা ও বনু-নাযীর গোত্রের নেতার মেয়ে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাহিয়া কালবীকে অন্য দাসী প্রদান করে, নিজে সাফিয়্যাকে গ্রহণ করেন এবং স্ত্রীর মর্যাদায় সমাসীন করেন।
২৯৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ وَقَعَ فِي سَهْمِ دِحْيَةَ جَارِيَةٌ جَمِيلَةٌ فَاشْتَرَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعَةِ أَرْؤُسٍ ثُمَّ دَفَعَهَا إِلَى أُمِّ سُلَيْمٍ تَصْنَعُهَا وَتُهَيِّئُهَا قَالَ حَمَّادٌ وَأَحْسِبُهُ قَالَ وَتَعْتَدُّ فِي بَيْتِهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে খাল্লাদ বাহিলী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দাহিয়া কালবীর ভাগে (খায়বরের যুদ্ধে) একজন সুশ্রী যুবতী আসে, যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতটি গোলামের বিনিময়ে খরিদ করেন। অতঃপর তিনি (দাহিয়া কালবী) ঐ দাসীকে উম্মু-সুলায়মের নিকট সোপর্দ করেন, যাতে তিনি তাকে গোসল করিয়ে সুন্দর বসন-ভূষণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য সুসজ্জিত করে দেন।

রাবী হাম্মাদ বলেনঃ আমার ধারণা, নবী (ﷺ) সাফিয়্যাকে ইদ্দতকাল অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উম্মু-সুলায়মের নিকট অবস্থান করতে নির্দেশ দেন।
২৯৮৮

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ جُمِعَ السَّبْىُ - يَعْنِي بِخَيْبَرَ - فَجَاءَ دِحْيَةُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطِنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبْىِ . قَالَ " اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً " . فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ - قَالَ يَعْقُوبُ - صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - مَا تَصْلُحُ إِلاَّ لَكَ . قَالَ " ادْعُوهُ بِهَا " . فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " خُذْ جَارِيَةً مِنَ السَّبْىِ غَيْرَهَا " . وَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৮৮. দাউদ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বর যুদ্ধশেষে যখন যুদ্ধ-বন্দীদের একত্রিত করা হয়, তখন দাহিয়া-কালবী এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বন্দীদের থেকে একটা দাসী প্রদান করুন। তিনি বলেনঃ যাও একজন দাসী নিয়ে যাও। তখন তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইকে নিয়ে যান। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি সাফিয়্যাকে দাহিয়া-কালবীকে প্রদান করলেন?

রাবী ইয়াকুব বলেনঃ সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ছিলেন কুরায়যা ও নযীর গোত্রের সর্দার কন্যা, তিনি তো আপনারই যোগ্যা। তখন তিনি বলেনঃ দাহিয়াকে তাকে (সাফিয়্যা) সহ ডেকে আন। অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে দেখে দাহিয়াকে বলেনঃ তুমি এর বদলে বন্দীদের মধ্য হতে অন্য যে কোন দাসী নিয়ে নাও। অবশেষে নবী (ﷺ) তাকে আযাদ করে দেন এবং তাঁকে বিবাহ করেন।
২৯৮৯

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا بِالْمِرْبَدِ فَجَاءَ رَجُلٌ أَشْعَثُ الرَّأْسِ بِيَدِهِ قِطْعَةُ أَدِيمٍ أَحْمَرَ فَقُلْنَا كَأَنَّكَ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ . فَقَالَ أَجَلْ . قُلْنَا نَاوِلْنَا هَذِهِ الْقِطْعَةَ الأَدِيمَ الَّتِي فِي يَدِكَ فَنَاوَلَنَاهَا فَقَرَأْنَاهَا فَإِذَا فِيهَا " مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى بَنِي زُهَيْرِ بْنِ أُقَيْشٍ إِنَّكُمْ إِنْ شَهِدْتُمْ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَأَقَمْتُمُ الصَّلاَةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَأَدَّيْتُمُ الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ وَسَهْمَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَهْمَ الصَّفِيِّ أَنْتُمْ آمِنُونَ بِأَمَانِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ " . فَقُلْنَا مَنْ كَتَبَ لَكَ هَذَا الْكِتَابَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রহঃ)

২৯৮৯. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা মিরবাদ নামক স্থানে ছিলাম। তখন সেখানে এমন এক ব্যক্তি আসে, যার মাথার চুল ছিল এলোমেলো এবং তার হাতে ছিল এক টুকরা লাল চামড়া। আমরা তাকে বলিঃ মনে হয় তুমি জঙ্গলের বাসিন্দা? তখন সে বলেঃ হ্যাঁ। আমরা তাকে বলিঃ তোমার হাতে যে লাল চামড়ার টুকরা আছে, তা আমাদের দিয়ে দাও। তখন সে তা আমাদের দিয়ে দেয়। ঐ চামড়ার উপর যা লেখা ছিল, আমরা তা পড়তে থাকি।

তাতে লেখা ছিলঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ হতে বনু যুহাইর ইবনে উকায়শ গোত্রের প্রতি-যদি তোমরা এরূপ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল, তোমরা নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, আর তোমরা মালে গনিমতের খুমুস এবং নবী (ﷺ)-এর হিসসা ও সাফী প্রদান করবে। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় থাকবে। তখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ তোমার কাছে এ ফরমান কে লিখে পাঠিয়েছে? সে বলেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ), (এটি লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছেন)।

১৬০. মদীনা হতে ইয়াহুদীদের কিরূপে বের করা হয়েছিল।

باب كَيْفَ كَانَ إِخْرَاجُ الْيَهُودِ مِنَ الْمَدِينَةِ

২৯৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، - وَكَانَ أَحَدَ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ - وَكَانَ كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ يَهْجُو النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَيُحَرِّضُ عَلَيْهِ كُفَّارَ قُرَيْشٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَأَهْلُهَا أَخْلاَطٌ مِنْهُمُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ يَعْبُدُونَ الأَوْثَانَ وَالْيَهُودُ وَكَانُوا يُؤْذُونَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ فَأَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَبِيَّهُ بِالصَّبْرِ وَالْعَفْوِ فَفِيهِمْ أَنْزَلَ اللَّهُ ( وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ ) الآيَةَ فَلَمَّا أَبَى كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ أَنْ يَنْزِعَ عَنْ أَذَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ أَنْ يَبْعَثَ رَهْطًا يَقْتُلُونَهُ فَبَعَثَ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ وَذَكَرَ قِصَّةَ قَتْلِهِ فَلَمَّا قَتَلُوهُ فَزِعَتِ الْيَهُودُ وَالْمُشْرِكُونَ فَغَدَوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا طُرِقَ صَاحِبُنَا فَقُتِلَ . فَذَكَرَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَانَ يَقُولُ وَدَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَنْ يَكْتُبَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ كِتَابًا يَنْتَهُونَ إِلَى مَا فِيهِ فَكَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْمُسْلِمِينَ عَامَّةً صَحِيفَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

২৯৯০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন ঐ তিনজনের একজন যার তাওবা (তাবূকের যুদ্ধের পর) কবুল করা হয়। কা’ব ইবনে আশরাফ নবী (ﷺ) সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্তক কবিতা রচনা করত এবং কাফির কুরাইশদের তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্ররোচিত করত। নবী (ﷺ) যখন মদীনায় আসেন, তখন সেখানে সব ধরনের লোকের বসবাস ছিল, যেমনঃ কিছু ছিল মুসলমান, কিছু ছিল মূর্তি-পূজারী মুশরিক এবং কিছু ছিল ইয়াহুদী, যারা নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের খুবই কষ্ট দিত। তখন মহান আল্লাহ তাঁর সবর করার জন্য এবং ক্ষমা করার জন্য হুকুম নাযিল করেন। তখন তাদের শানে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ

وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ

অর্থাৎ তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব ও মুশরিকদের নিকট হতে বহু কষ্টদায়ক কথাবার্তা শ্রবণ করবে।

এরপর যখন কা’ব ইবনে আশরাফ নবী (ﷺ) সম্পর্কে ব্যাঙ্গ ও বিদ্রূপাত্মক কবিতা রচনা করা হতে বিরত থাকতে অস্বীকার করে, তখন নবী (ﷺ) সা’দ ইবনে মু’আয (রাযিঃ)-কে তাকে হত্যা করার জন্য একটি দল পাঠাবার জন্য নির্দেশ দেন। যিনি মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাকে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। রাবী কা’ব (রাযিঃ) তার (কা’ব ইবনে আশরাফের) হত্যার কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

অবশেষে প্রেরিত বাহিনী যখন কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যা করে, তখন ইয়াহুদী ও মুশরিকরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সকাল বেলা নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয় এবং তারা বলেঃ রাত্রিতে কেউ আক্রমণ করে আমাদের নেতাকে হত্যা করে ফেলেছে। তখন নবী (ﷺ) কা’ব ইবনে আশরাফের হিজু বা ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করার কথা তাদের কাছে ব্যক্ত করেন। এরপর নবী (ﷺ) তাদের নিকট হতে এমন একটি অঙ্গীকার পত্র লিখে নিতে বলেন, যাতে দু’পক্ষের কেউ কাউকে কোনরূপ কষ্ট না দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে। অতঃপর নবী (ﷺ) নিজের, তাদের ও সমস্ত মুসলমানদের পক্ষ হতে একটি ইকরারনামা বা অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়ে দেন।
২৯৯১

حَدَّثَنَا مُصَرِّفُ بْنُ عَمْرٍو الأَيَامِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ، مَوْلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا أَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُرَيْشًا يَوْمَ بَدْرٍ وَقَدِمَ الْمَدِينَةَ جَمَعَ الْيَهُودَ فِي سُوقِ بَنِي قَيْنُقَاعَ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَ قُرَيْشًا " . قَالُوا يَا مُحَمَّدُ لاَ يَغُرَّنَّكَ مِنْ نَفْسِكَ أَنَّكَ قَتَلْتَ نَفَرًا مِنْ قُرَيْشٍ كَانُوا أَغْمَارًا لاَ يَعْرِفُونَ الْقِتَالَ إِنَّكَ لَوْ قَاتَلْتَنَا لَعَرَفْتَ أَنَّا نَحْنُ النَّاسُ وَأَنَّكَ لَمْ تَلْقَ مِثْلَنَا . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ ( قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ ) قَرَأَ مُصَرِّفٌ إِلَى قَوْلِهِ ( فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ) بِبَدْرٍ ( وَأُخْرَى كَافِرَةٌ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৯১. মুসাররিফ ইবনে আমর আয়ামী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যুদ্ধে কুরাইশদের উপর বিজয়ী হয়ে মদীনায় ফিরে আসেন, তখন তিনি বনু কায়নুকার বাজারে ইয়াহুদীদের একত্রিত করে বলেনঃ ওহে ইয়াহুদীরা! তোমরা এর আগে মুসলমান হয়ে যাও যে, তোমাদের উপর এরূপ মুসীবত আসে, যেরূপ কুরাইশদের উপর এসেছে। তখন তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি এতে বিভ্রান্ত হয়ো না যে, তুমি কুরাইশদের কয়েকজন যুদ্ধে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে হত্যা করেছ। যদি তুমি আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে, তবে বুঝতে পারতে আমরা কিরূপ মানুষ বা যোদ্ধা। আর তুমি আমাদের মত (বীর যোদ্ধা) কাউকে পাবে না। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ

قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ

অর্থাৎ আপনি তাদের বলুন, যারা কুফরী করেছে, অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামে একত্রিত করা হবে। আর তা হলো অতি নিকৃষ্ট আবাসস্থল।

রাবী মুসাররিফ আয়াতের এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেনঃ

فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

অর্থাৎ একটি দল যুদ্ধ করেছিল আল্লাহর রাস্তায়, আর তা হলো বদর প্রান্তর এবং আর অন্য দলটি ছিল কাফির (অর্থাৎ মক্কার কুরাইশরা)।
২৯৯২

حَدَّثَنَا مُصَرِّفُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي مَوْلًى، لِزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدَّثَتْنِي ابْنَةُ مُحَيِّصَةَ، عَنْ أَبِيهَا، مُحَيِّصَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ ظَفِرْتُمْ بِهِ مِنْ رِجَالِ يَهُودَ فَاقْتُلُوهُ " . فَوَثَبَ مُحَيِّصَةُ عَلَى شَبِيبَةَ رَجُلٍ مِنْ تُجَّارِ يَهُودَ كَانَ يُلاَبِسُهُمْ فَقَتَلَهُ وَكَانَ حُوَيِّصَةُ إِذْ ذَاكَ لَمْ يُسْلِمْ وَكَانَ أَسَنَّ مِنْ مُحَيِّصَةَ فَلَمَّا قَتَلَهُ جَعَلَ حُوَيِّصَةُ يَضْرِبُهُ وَيَقُولُ يَا عَدُوَّ اللَّهِ أَمَا وَاللَّهِ لَرُبَّ شَحْمٍ فِي بَطْنِكَ مِنْ مَالِهِ .

বর্ণনাকারী: মুহাইয়্যিসা (রাঃ)

২৯৯২. মুসাররিফ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... মুহাইয়াসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন যে, তোমরা ইয়াহুদীদের যে কেউকে কব্জার মাঝে পাবে, তাকে হত্যা করবে। তখন মুহাইয়াসা (রাযিঃ) শুবায়বা নামক জনৈক ইয়াহুদী ব্যবসায়ীর উপর হামলা করেন এবং তাকে হত্যা করে ফেলেন। এ সময়েও মুহাইয়াসার সাথে ইয়াহুদীদের মেলামেশা ছিল। (যখন তিনি শুবায়বাকে হত্যা করেন), তখন হুওয়ায়সা, যিনি তখনও ইসলাম কবুল করেননি এবং মুহাইয়াসার বড় ভাই ছিলেন, তিনি যখন ঐ ইয়াহুদীকে হত্যা করেন, তখন হুওয়ায়সা তাকে (মুহাইয়াসা) মারপিট করেন এবং বলেনঃ হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহর শপথ, তোমার পেটের চর্বি তো তার মাল দিয়ে তৈরী।

২৯৯৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ " . فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَاهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَلِكَ أُرِيدُ " . ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ " اعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ وَإِلاَّ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯৯৩. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়াহুদীদের সাথে মুকাবিলার জন্য বের হও। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে বের হয়ে ইয়াহুদীদের নিকট পৌঁছাই। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়িয়ে ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ হে ইয়াহুদীদের দল! তোমরা ইসলাম কবুল কর, যাতে শান্তিতে থাকতে পার। তখন তারা বলেঃ হে আবুল কাসিম! তুমি তো পয়গাম পৌছিয়ে দিয়েছ।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার তাদের বলেনঃ তোমরা ইসলাম কবুল কর, শান্তিতে বসবাস কর। তখন তারা আবার বলেঃ তুমি তো বাণী পৌছিয়ে দিয়েছ, হে আবুল কাসিম! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তো এটাই চাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি তৃতীয় বার তাদের বলেনঃ তোমরা ভাল করে জেনে রাখ, এ যমীন আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ যমীন (স্থান) হতে বের করে দিতে চাই। কাজেই তোমাদের যার তার মালের প্রতি মহব্বত আছে, সে যেন তা বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রাখ, এ যমীন আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের।

১৬১. বনু নযীরের ঘটনা সম্পর্কে।

باب فِي خَبَرِ النَّضِيرِ

২৯৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ كَتَبُوا إِلَى ابْنِ أُبَىٍّ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ مَعَهُ الأَوْثَانَ مِنَ الأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ بِالْمَدِينَةِ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ إِنَّكُمْ آوَيْتُمْ صَاحِبَنَا وَإِنَّا نُقْسِمُ بِاللَّهِ لَتُقَاتِلُنَّهُ أَوْ لَتُخْرِجُنَّهُ أَوْ لَنَسِيرَنَّ إِلَيْكُمْ بِأَجْمَعِنَا حَتَّى نَقْتُلَ مُقَاتِلَتَكُمْ وَنَسْتَبِيحَ نِسَاءَكُمْ . فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ وَمَنْ كَانَ مَعَهُ مِنْ عَبَدَةِ الأَوْثَانِ اجْتَمَعُوا لِقِتَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُمْ فَقَالَ " لَقَدْ بَلَغَ وَعِيدُ قُرَيْشٍ مِنْكُمُ الْمَبَالِغَ مَا كَانَتْ تَكِيدُكُمْ بِأَكْثَرَ مِمَّا تُرِيدُونَ أَنْ تَكِيدُوا بِهِ أَنْفُسَكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا أَبْنَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ " . فَلَمَّا سَمِعُوا ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَفَرَّقُوا فَبَلَغَ ذَلِكَ كُفَّارَ قُرَيْشٍ فَكَتَبَتْ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ إِلَى الْيَهُودِ إِنَّكُمْ أَهْلُ الْحَلْقَةِ وَالْحُصُونِ وَإِنَّكُمْ لَتُقَاتِلُنَّ صَاحِبَنَا أَوْ لَنَفْعَلَنَّ كَذَا وَكَذَا وَلاَ يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَدَمِ نِسَائِكُمْ شَىْءٌ - وَهِيَ الْخَلاَخِيلُ - فَلَمَّا بَلَغَ كِتَابُهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَجْمَعَتْ بَنُو النَّضِيرِ بِالْغَدْرِ فَأَرْسَلُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اخْرُجْ إِلَيْنَا فِي ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِكَ وَلْيَخْرُجْ مِنَّا ثَلاَثُونَ حَبْرًا حَتَّى نَلْتَقِيَ بِمَكَانِ الْمَنْصَفِ فَيَسْمَعُوا مِنْكَ . فَإِنْ صَدَّقُوكَ وَآمَنُوا بِكَ آمَنَّا بِكَ فَقَصَّ خَبَرَهُمْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ غَدَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْكَتَائِبِ فَحَصَرَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ " إِنَّكُمْ وَاللَّهِ لاَ تَأْمَنُونَ عِنْدِي إِلاَّ بِعَهْدٍ تُعَاهِدُونِي عَلَيْهِ " . فَأَبَوْا أَنْ يُعْطُوهُ عَهْدًا فَقَاتَلَهُمْ يَوْمَهُمْ ذَلِكَ ثُمَّ غَدَا الْغَدُ عَلَى بَنِي قُرَيْظَةَ بِالْكَتَائِبِ وَتَرَكَ بَنِي النَّضِيرِ وَدَعَاهُمْ إِلَى أَنْ يُعَاهِدُوهُ فَعَاهَدُوهُ فَانْصَرَفَ عَنْهُمْ وَغَدَا عَلَى بَنِي النَّضِيرِ بِالْكَتَائِبِ فَقَاتَلَهُمْ حَتَّى نَزَلُوا عَلَى الْجَلاَءِ فَجَلَتْ بَنُو النَّضِيرِ وَاحْتَمَلُوا مَا أَقَلَّتِ الإِبِلُ مِنْ أَمْتِعَتِهِمْ وَأَبْوَابِ بُيُوتِهِمْ وَخَشَبِهَا فَكَانَ نَخْلُ بَنِي النَّضِيرِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهَا وَخَصَّهُ بِهَا فَقَالَ ( وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) يَقُولُ بِغَيْرِ قِتَالٍ فَأَعْطَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَهَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَقَسَمَهَا بَيْنَهُمْ وَقَسَمَ مِنْهَا لِرَجُلَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ وَكَانَا ذَوِي حَاجَةٍ لَمْ يَقْسِمْ لأَحَدٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَيْرَهُمَا وَبَقِيَ مِنْهَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي فِي أَيْدِي بَنِي فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৯৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে সুফিয়ান (রাহঃ) ....... আব্দুর রহমান ইবনে কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশ কাফিররা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মূর্তি-পূজক সাথীদের, যারা আওস ও খাযরাজ গোত্রের লোক, এ মর্মে পত্র লেখে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যুদ্ধের আগে মদীনায় অবস্থান করছিলেনঃ তোমরা আমাদের সাথী (মুহাম্মাদ) কে জায়গা দিয়েছ। এ জন্য আমরা আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, হয়তো তাঁর সাথে যুদ্ধ কর, নয়তো তাঁকে বের করে দাও। অন্যথায় আমরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে তোমাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব এবং তোমাদের স্ত্রীদের আমাদের দখলে আনব।

আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মূর্তিপূজারী সাথীরা এ খবর পাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। এ খবর নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌছবার পর তিনি তাদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং বলেনঃ তোমরা কুরাইশদের নিকট হতে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী চিঠি পেয়েছ, কিন্তু তা তোমাদের জন্য এত মারাত্মক নয়, যত না ক্ষতি তোমরা নিজেরা নিজেদের করবে। কেননা, তোমরা তো তোমাদের সন্তান-সন্ততি ও ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সংকল্প করছ।

তারা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এরূপ কথা শুনলো, তখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। এ খবর কুরাইশ কাফিরদের কাছে পৌছলে তারা বদর যুদ্ধের পর ইয়াহুদীদের নিকট লিখলোঃ তোমরা ঘরবাড়ী ও দুর্গের অধিকারী। কাজেই তোমাদের উচিত আমাদের সাথী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধ করা। অন্যথায় আমরা তোমাদের সাথে এরূপ করব, সেরূপ করব। আর আমাদের ও তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে কোন পার্থক্য থাকবে না।[১]

যখন নবী (ﷺ) সম্পর্কে তারা এরূপ চিঠি পেল, তখন বনু নযীরের ইয়াহুদীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলো এবং তারা নবী (ﷺ)কে এ মর্মে অবহিত করে যে, আপনি আপনার সাথীদের থেকে ত্রিশজন নিয়ে আমাদের কাছে আসুন এবং আমাদের ত্রিশজন আলিম আপনার সঙ্গে এক আলাদা স্থানে দেখা করবে। তারা আপনার কথা শুনবে, যদি তারা আপনার উপর ঈমান আনে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে আমরা আপনার উপর ঈমান আনব।

পরদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের উপর হামলা করেন এবং তাদের অবরোধ করে বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তোমরা যতক্ষণ অঙ্গীকার না করবে, ততক্ষণ আমি তোমাদের ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তখন তারা (ইয়াহুদীরা) অঙ্গীকার করতে অস্বীকার করে। ফলে তিনি সেদিন তাদের সাথে দিনভর যুদ্ধে রত থাকেন। পরদিন তিনি বনু নযীরকে বাদ দিয়ে বনু কুরাইযার উপর আক্রমণ করেন এবং তাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে বলেন। ফলে তারা তাঁর সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। তখন তিনি তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় বনু নযীরকে অবরোধ করেন এবং তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়।

বনু নযীরের লোকেরা তাদের উটের পিঠে ঘরের দরজা, চৌকাঠ ইত্যাদি যে পরিমাণ মালামাল নেয়া সম্ভব ছিল, তা নিয়ে যায়। এবার বনু নযীরের খেজুরের বাগান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অধিকারে আসে, যা আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে প্রদান করেন। যেমন আল্লাহ বলেনঃ

وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ

অর্থাৎ আল্লাহ কাফিরদের মাল হতে যে সস্পদ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেন, তা হাসিলের জন্য তোমরা তোমাদের ঘোড়া অথবা উট হাঁকাও নি, অর্থাৎ ঐ সম্পদ বিনা যুদ্ধে হাসিল হয়।

অতঃপর নবী (ﷺ) ঐ মালের অধিকাংশই মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং অভাবগ্রস্ত দু’জন আনসারকে তা হতে অংশ প্রদান করেন। এ দু’জন ছাড়া অন্য আনসার সাহাবীদের মাঝে এ মাল বিতরণ করা হয়নি। অবশিষ্ট মাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য সাদ্‌কা স্বরূপ ছিল, যা বনু ফাতিমার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

[১] অর্থাৎ আমরা তোমাদের হত্যা করব এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীদের মালিক হয়ে যাব।
২৯৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ يَهُودَ بَنِي النَّضِيرِ، وَقُرَيْظَةَ، حَارَبُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي النَّضِيرِ وَأَقَرَّ قُرَيْظَةَ وَمَنَّ عَلَيْهِمْ حَتَّى حَارَبَتْ قُرَيْظَةُ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَتَلَ رِجَالَهُمْ وَقَسَمَ نِسَاءَهُمْ وَأَوْلاَدَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ بَعْضَهُمْ لَحِقُوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَّنَهُمْ وَأَسْلَمُوا وَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَهُودَ الْمَدِينَةِ كُلَّهُمْ بَنِي قَيْنُقَاعَ وَهُمْ قَوْمُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ وَيَهُودَ بَنِي حَارِثَةَ وَكُلَّ يَهُودِيٍّ كَانَ بِالْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বনু নযীর ও বনু কুরায়যার ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু নযীরকে (দেশ হতে) বের করে দেন এবং বনু কুরায়যার লোকেরা, যারা তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিল, তারা তাদের স্বস্থানে অবস্থিত ছিল। অবশেষে বনু কুরায়যার ইয়াহুদীরা যখন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন তাদের পুরুষদের হত্যা করা হয় এবং তাদের স্ত্রী, মালামাল ও সন্তানদের মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করলে, তিনি তাদের নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং পরে তারা ইসলাম কবুল করে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু কায়নুকার ইয়াহুদী, যারা আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের গোত্রের লোক ছিল, তাছাড়া বনু হারিছার ইয়াহুদী এবং অন্যান্য যে ইয়াহুদীরা মদীনায় বসবাস করতো, সকলকে মদীনা হতে বের করে দেন।

১৬২. খায়বরের যমীনের হুকুম সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي حُكْمِ أَرْضِ خَيْبَرَ

২৯৯৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ - أَحْسِبُهُ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَاتَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ فَغَلَبَ عَلَى النَّخْلِ وَالأَرْضِ وَأَلْجَأَهُمْ إِلَى قَصْرِهِمْ فَصَالَحُوهُ عَلَى أَنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّفْرَاءَ وَالْبَيْضَاءَ وَالْحَلْقَةَ وَلَهُمْ مَا حَمَلَتْ رِكَابُهُمْ عَلَى أَنْ لاَ يَكْتُمُوا وَلاَ يُغَيِّبُوا شَيْئًا فَإِنْ فَعَلُوا فَلاَ ذِمَّةَ لَهُمْ وَلاَ عَهْدَ فَغَيَّبُوا مَسْكًا لِحُيَىِّ بْنِ أَخْطَبَ وَقَدْ كَانَ قُتِلَ قَبْلَ خَيْبَرَ كَانَ احْتَمَلَهُ مَعَهُ يَوْمَ بَنِي النَّضِيرِ حِينَ أُجْلِيَتِ النَّضِيرُ فِيهِ حُلِيُّهُمْ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِسَعْيَةَ " أَيْنَ مَسْكُ حُيَىِّ بْنِ أَخْطَبَ " . قَالَ أَذْهَبَتْهُ الْحُرُوبُ وَالنَّفَقَاتُ . فَوَجَدُوا الْمَسْكَ فَقَتَلَ ابْنَ أَبِي الْحُقَيْقِ وَسَبَى نِسَاءَهُمْ وَذَرَارِيَّهُمْ وَأَرَادَ أَنْ يُجْلِيَهُمْ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ دَعْنَا نَعْمَلْ فِي هَذِهِ الأَرْضِ وَلَنَا الشَّطْرُ مَا بَدَا لَكَ وَلَكُمُ الشَّطْرُ . وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِي كُلَّ امْرَأَةٍ مِنْ نِسَائِهِ ثَمَانِينَ وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ وَعِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ شَعِيرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৯৬. হারূন ইবনে যায়দ ইবনে আবু যরকা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) খায়বরবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেন এবং তাদের খেজুর বাগান ও যমীনের উপর আধিপত্য স্থাপন করেন এবং তাদেরকে তাদের গৃহে অবরোধ করেন। তখন তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এ শর্তে সন্ধি করে যে, সোনা, রূপা এবং যাবতীয় হাতিয়ার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অধিকারে থাকবে এবং অবশিষ্ট মালামাল হতে তাদের উট যা বহন করতে পারবে, তা তারা নিয়ে যাবে। কিন্তু তা এ শর্তে যে, তারা কিছুই গোপন করবে না এবং সরিয়েও রাখবে না। আর যদি তারা এরূপ করে, তবে মুসলমানদের পক্ষ হতে কোনরূপ যিম্মাদারী অথবা অঙ্গীকার (কার্যকর) থাকবে না। এ সময় তারা হুয়াই ইবনে আখতাবের (স্বর্ণমুদ্রাপূর্ণ) চামড়ার থলি গায়েব করে দেয়, যে খায়বরের যুদ্ধের আগে নিহত হয়েছিল। আর সে বনু নযীরের দেশ ত্যাগের সময় তাদের বহু গহনা-পত্র আত্মসাৎ করেছিল।

রাবী বলেনঃ নবী (ﷺ) সা’ইয়াকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হুয়াই ইবনে আখতাবের থলি কোথায়? সে বলেঃ তা যুদ্ধে খরচ হয়ে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সাহাবীরা ঐ থলি পেয়ে যান। তখন তিনি ইবনে আবু হাকীককে (ইয়াহুদী) হত্যা করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বন্দী করেন এবং তাদের দেশ হতে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ! আমাদের এখানে বসবাসের অনুমতি দিন। আমরা এ যমীনের উপর পরিশ্রম করে উপার্জন করব এবং এর অর্ধেক আমাদের এবং বাকী অর্ধেক আপনার। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (খায়বরের এ সম্পদ হতে) তাঁর সব স্ত্রীদের আলাদাভাবে আশি ওসাক খেজুর এবং বিশ ওসাক যব প্রদান করতেন।
২৯৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَامَلَ يَهُودَ خَيْبَرَ عَلَى أَنَّا نُخْرِجُهُمْ إِذَا شِئْنَا فَمَنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَلْيَلْحَقْ بِهِ فَإِنِّي مُخْرِجٌ يَهُودَ . فَأَخْرَجَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৯৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর (রাযিঃ) বলেনঃ হে জনগণ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের ইয়াহুদীদের সাথে এরূপ চুক্তি করেন যে, আমরা যখনই ইচ্ছা করব, তখনই তাদের বের করে দেব। কাজেই যদি কারও ধন-সস্পদ তাদের কাছে থাকে, তবে সে যেন তা নিয়ে নেয়। কেননা, আমি ইয়াহুদীদের দেশ হতে বের করে দেব। অবশেষে তিনি তাদের বের করে দেন।

২৯৯৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا افْتُتِحَتْ خَيْبَرُ سَأَلَتْ يَهُودُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقِرَّهُمْ عَلَى أَنْ يَعْمَلُوا عَلَى النِّصْفِ مِمَّا خَرَجَ مِنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُقِرُّكُمْ فِيهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا " . فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ التَّمْرُ يُقْسَمُ عَلَى السُّهْمَانِ مِنْ نِصْفِ خَيْبَرَ وَيَأْخُذُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخُمُسَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَطْعَمَ كُلَّ امْرَأَةٍ مِنْ أَزْوَاجِهِ مِنَ الْخُمُسِ مِائَةَ وَسْقٍ تَمْرًا وَعِشْرِينَ وَسْقًا شَعِيرًا فَلَمَّا أَرَادَ عُمَرُ إِخْرَاجَ الْيَهُودِ أَرْسَلَ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُنَّ مَنْ أَحَبَّ مِنْكُنَّ أَنْ أَقْسِمَ لَهَا نَخْلاً بِخَرْصِهَا مِائَةَ وَسْقٍ فَيَكُونَ لَهَا أَصْلُهَا وَأَرْضُهَا وَمَاؤُهَا وَمِنَ الزَّرْعِ مَزْرَعَةُ خَرْصٍ عِشْرِينَ وَسْقًا فَعَلْنَا وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ نَعْزِلَ الَّذِي لَهَا فِي الْخُمُسِ كَمَا هُوَ فَعَلْنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৯৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ মোহরী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন খায়বর বিজয় হয়, তখন ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ মর্মে দরখাস্ত পেশ করে যে, আপনি আমাদের এ শর্তে এখানে বসবাসের অনুমতি দিন, যা আমরা উপার্জন করব, আপনি তার অর্ধেক পাবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের এখানে এ শর্তে বসবাসের অনুমতি দিচ্ছি যে, আমরা যখনই চাব, তখনই তোমাদের বহিষ্কার করতে পারব। পরে তারা এ শর্ত অনুযায়ী সেখানে বসবাস করতে থাকে। খায়বরের খেজুর দু’ভাগে বিভক্ত হতো এবং খুমুস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গ্রহণ করতেন। আর খুমুস হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সব বিবিকে একশত ওসাক খেজুর এবং বিশ ওসাক যব প্রদান করতেন।

অবশেষে উমর (রাযিঃ) যখন ইয়াহুদীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন তিনি নবী (ﷺ)-এর বিবিদের কাছে এ মর্মে খবর পাঠান যে, আপনারা যে কেউ চাইলে, আমি তাঁকে এতগুলি খেজুর গাছ দেব, যা থেকে একশত ওসাক খেজুর পাওয়া যাবে এবং ঐ গাছ ও যমীন আপনাদের মালিকানায় থাকবে এবং তার পানিও এর শামিল থাকবে। একই রূপে কৃষিক্ষেত্র হতে এ পরিমাণ যমীন দেব, যা থেকে বিশ ওয়াক পরিমাণ যব উৎপন্ন হবে। আর আপনাদের থেকে যদি কেউ চান যে, আমি খুমুস হতে আপনাদের অংশ দেই, তবে আমি তা দেব।
২৯৯৯

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَا خَيْبَرَ فَأَصَبْنَاهَا عَنْوَةً فَجَمَعَ السَّبْىَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৯৯. দাউদ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের উপর যুদ্ধ পরিচালনা করেন। আমরা যুদ্ধ করে তা জয় করি। অবশেষে বন্দীদের একত্রিত করা হয় (যাতে মুসলমানদের মাঝে তা সহজে বন্টন করা যায়)।

৩০০০

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنِي سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ نِصْفَيْنِ نِصْفًا لِنَوَائِبِهِ وَحَاجَتِهِ وَنِصْفًا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ قَسَمَهَا بَيْنَهُمْ عَلَى ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৩০০০. রাবী ইবনে সুলাইমান মুয়াযযিন (রাহঃ) .... সাহল ইবনে আবী হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত সমস্ত মালামাল দু’ভাগে বিভক্ত করেন। যার একাংশ তিনি তাঁর নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য গ্রহণ করেন এবং বাকী অংশটি আঠার ভাগে বিভক্ত করে মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দেন।

৩০০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ لَمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ قَسَمَهَا عَلَى سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمَعَ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةَ سَهْمٍ فَعَزَلَ نِصْفَهَا لِنَوَائِبِهِ وَمَا يَنْزِلُ بِهِ الْوَطِيحَةَ وَالْكُتَيْبَةَ وَمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا وَعَزَلَ النِّصْفَ الآخَرَ فَقَسَمَهُ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ الشَّقَّ وَالنَّطَاةَ وَمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا وَكَانَ سَهْمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا .

বর্ণনাকারী: বশীর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩০০১. আব্দুল্লাহ ইবনে সা’ইদ কিনদী (রাহঃ) ..... বশীর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন খায়বরকে তাঁর নবীর জন্য গনিমত হিসাবে প্রদান করেন, তখন তিনি তাকে ৩৬ ভাগে বিভক্ত করেন। এর প্রত্যেক ভাগে একশো অংশ ছিল। এর অর্ধেক অংশ তিনি তাঁর নিজের প্রয়োজনের জন্য রাখেন-যার মাঝে অতীহা ও কুতায়বা নামক দুটি গ্রাম ছিল আর এর সংলগ্ন অন্যান্য সস্পদও। আর বাকী অর্ধাংশ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দেন, যার মাঝে শাক ও নাতা নামক দু’টি গ্রাম ছিল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদও। আর নবী (ﷺ)-এর অংশ এ দু’টি ভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।

৩০০২

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ آدَمَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي شِهَابٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ نَفَرًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ فَكَانَ النِّصْفُ سِهَامَ الْمُسْلِمِينَ وَسَهْمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَزَلَ النِّصْفَ لِلْمُسْلِمِينَ لِمَا يَنُوبُهُ مِنَ الأُمُورِ وَالنَّوَائِبِ .

বর্ণনাকারী: বশীর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩০০২. হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আসওয়াদ (রাহঃ) ..... বাশীর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবী থেকে শুনেছেন। তাঁরা এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ খায়বরে প্রাপ্ত অর্ধেক মালে সমস্ত মুসলমানের অংশ ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরও হিসসা ছিল। আর বাকী যে অর্ধেক মাল ছিল, তা মুসলমানদের বিশেষ প্রয়োজনে (বিপদাপদ, যুদ্ধ ইত্যাদি) রাখা হতো।

৩০০৩

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى الأَنْصَارِ عَنْ رِجَالٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا ظَهَرَ عَلَى خَيْبَرَ قَسَمَهَا عَلَى سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمَعَ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةَ سَهْمٍ فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِلْمُسْلِمِينَ النِّصْفُ مِنْ ذَلِكَ وَعَزَلَ النِّصْفَ الْبَاقِيَ لِمَنْ نَزَلَ بِهِ مِنَ الْوُفُودِ وَالأُمُورِ وَنَوَائِبِ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: বশীর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩০০৩. হুসাইন ইবনে আলী (রাহঃ) ..... বাশীর ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ), যিনি একজন আনসার সাহাবীর গোলাম ছিলেন, তিনি নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বর জয় করেন, তখন তিনি (সেখানে প্রাপ্ত মালকে) ছত্রিশ ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি প্রত্যেক অংশকে একশত ভাগে বণ্টন করেন। এর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও মুসলমানদের জন্য অর্ধেক মাল রাখা হয়, আর বাকী অর্ধেক তাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ করা হয়, যারা প্রতিনিধি দলের সাথে আসবে এবং মানুযের বিপদাপদ ও প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে।

৩০০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ خَيْبَرَ قَسَمَهَا سِتَّةً وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمْعًا فَعَزَلَ لِلْمُسْلِمِينَ الشَّطْرَ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا يَجْمَعُ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةً النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ لَهُ سَهْمٌ كَسَهْمِ أَحَدِهِمْ وَعَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا وَهُوَ الشَّطْرُ لِنَوَائِبِهِ وَمَا يَنْزِلُ بِهِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَكَانَ ذَلِكَ الْوَطِيحَ وَالْكُتَيْبَةَ وَالسُّلاَلِمَ وَتَوَابِعَهَا فَلَمَّا صَارَتِ الأَمْوَالُ بِيَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمِينَ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ عُمَّالٌ يَكْفُونَهُمْ عَمَلَهَا فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَهُودَ فَعَامَلَهُمْ .

বর্ণনাকারী: বশীর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

৩০০৪. মুহাম্মাদ ইবনে মিসকীন ইয়ামামী (রাহঃ) .... বাশীর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ), যখন আল্লাহ তাঁকে খায়বরকে মালে গনিমত হিসাবে প্রদান করেন, তখন তিনি এর সমস্ত মালামাল ছত্রিশ ভাগে বিভক্ত করেন। এরপর তিনি মুসলমানদের জন্য আঠার ভাগ আলাদা করে রাখেন, যার প্রত্যেক ভাগে একশ ব্যক্তি ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও অন্যান্য সাহাবীদের ন্যায় ছিলেন, অর্থাৎ তিনিও একটি অংশ পান, য়েমন অন্য সাহাবীরা পেয়েছিলেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঠার অংশ, অর্থাৎ বাকী অর্ধাংশ তাদের জন্য বরাদ্দ করেন, যারা ছিল দুঃস্থ ও বিপদগ্রস্ত এবং মুসলমানদের বিশেষ প্রয়োজনের জন্য। এ অর্ধাংশে ওয়াতীহ, কুতায়বা ও সালালিম (খায়বরের কিছু গ্রামের নাম) ছিল এবং এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদও। অবশেষে খায়বরের সমস্ত মালামাল যখন নবী (ﷺ) ও মুসলমানদের করতলগত হয়, তখন এর তদারকির জন্য আর কোন কর্মচারী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদীদের ডাকেন এবং তাদের এ শর্তে যমীন তোগ করতে দেন যে, তারা এর দেখাশুনা করবে এবং উৎপন্ন দ্রব্যের অর্ধেক তাঁকে দেবে।
৩০০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُجَمِّعُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَمِّعِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَعْقُوبَ بْنَ مُجَمِّعٍ، يَذْكُرُ لِي عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ الأَنْصَارِيِّ - وَكَانَ أَحَدَ الْقُرَّاءِ الَّذِينَ قَرَءُوا الْقُرْآنَ - قَالَ قُسِمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ فِيهِمْ ثَلاَثُمِائَةِ فَارِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاجِلَ سَهْمًا .

বর্ণনাকারী: মুজাম্মি' ইবনে জারিয়া (রাঃ)

৩০০৫. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... মুজাম্মি ইবনে ই’য়াকূব ইবনে মুজাম্মি ইবনে ইয়াযীদ আনসারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা ই’য়াকূব ইবনে মুজাম্মি’কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর চাচা আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ আনসারী হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর চাচা মুজাম্মি ইবনে জারিয়া আনসারী হতে, আর তিনি আল-কুরআনের কারীদের মাঝে একজন কারী ছিলেন। তিনি বলেনঃ খায়বরের ধন-সম্পদ হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একে আঠার ভাগে বিভক্ত করেন। আর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার পাঁচ’শ, যার তিন’শ ছিল অশ্বারোহী, (এবং বাকী পদাতিক)। তিনি অশ্বারোহী সৈন্যদের দু’অংশ এবং পদাতিক বাহিনীর প্রত্যেককে এক অংশ হিসাবে প্রদান করেন।

৩০০৬

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ آدَمَ - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَبَعْضِ، وَلَدِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ قَالُوا بَقِيَتْ بَقِيَّةٌ مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ تَحَصَّنُوا فَسَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَحْقِنَ دِمَاءَهُمْ وَيُسَيِّرَهُمْ فَفَعَلَ فَسَمِعَ بِذَلِكَ أَهْلُ فَدَكَ فَنَزَلُوا عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً لأَنَّهُ لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهَا بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০০৬. হুসাইন ইবনে আলী আজালী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) এর কোন এক ছেলে থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ খায়বর বিজয়ের পর সেখানে কিছু লোক অবশিষ্ট ছিল, যারা দূর্গের মাঝে অন্তরীণ ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ মর্মে আবেদন করে যে, তিনি যেন তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে ছেড়ে দেন। তিনি এ আবেদন গ্রহণ করেন। ফিদাকের অধিবাসীরা এ খবর জানতে পেরে, তারাও এ শর্তের উপর আত্মসমর্পণ করে। ফলে ফিদাকের মালামাল খাসভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রাপ্য হয়। কেননা, তা বিজয়ের জন্য ঘোড়া বা উট কিছুই দৌড়াতে হয়নি (অর্থাৎ কোন যুদ্ধ হয়নি)।

৩০০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم افْتَتَحَ بَعْضَ خَيْبَرَ عَنْوَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ أَخْبَرَكُمُ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ خَيْبَرَ كَانَ بَعْضُهَا عَنْوَةً وَبَعْضُهَا صُلْحًا وَالْكُتَيْبَةُ أَكْثَرُهَا عَنْوَةً وَفِيهَا صُلْحٌ . قُلْتُ لِمَالِكٍ وَمَا الْكُتَيْبَةُ قَالَ أَرْضُ خَيْبَرَ وَهِيَ أَرْبَعُونَ أَلْفَ عَذْقٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩০০৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ...... যুহরী থেকে বর্ণিত। সা’ঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রাহঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের কিছু অংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জয় করেন। আবু দাউদ বলেনঃ হারিছ ইবনে মিসকীন হতে বর্ণিত, যার সাক্ষী আমি। ইবনে ওয়াহব তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেনঃ মালিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খায়বরের কিছু অংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জয় করা হয় এবং কিছু সন্ধির মাধ্যমে। কুতায়বা নামক স্থানটির অধিকাংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হয় এবং কিছু সন্ধির দ্বারা। (রাবী বলেন,) আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করিঃ কুতায়বা কি? তিনি বলেনঃ তা হলো, খায়বরের একটা জায়গা, যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর গাছ আছে।

৩০০৮

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم افْتَتَحَ خَيْبَرَ عَنْوَةً بَعْدَ الْقِتَالِ وَنَزَلَ مَنْ نَزَلَ مِنْ أَهْلِهَا عَلَى الْجَلاَءِ بَعْدَ الْقِتَالِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩০০৮. ইবনে সারহা (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ-বিগ্রহের পর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খায়বর জয় করেন। আর সেখান থেকে যারা বহিষ্কৃত হওয়ার জন্য বের হয়েছিল, তারা যুদ্ধের পর বেরিয়ে গিয়েছিল।

৩০০৯

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ خَمَّسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ ثُمَّ قَسَّمَ سَائِرَهَا عَلَى مَنْ شَهِدَهَا وَمَنْ غَابَ عَنْهَا مِنْ أَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩০০৯. ইবনে সারহা (রাহঃ) .... ইবনে শিহাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের মাল হতে (যা গনিমত হিসাবে পান) এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করে নেন। এরপর বাকী সমস্ত মালামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে এবং হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ঐ সমস্ত ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দেন, যারা এ যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিল।

৩০১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ لَوْلاَ آخِرُ الْمُسْلِمِينَ مَا فَتَحْتُ قَرْيَةً إِلاَّ قَسَمْتُهَا كَمَا قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩০১০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যদি পরবর্তীকালের মুসলমানদের কথা খেয়াল না করতাম, তবে আমি যে শহর জয় করতাম, তা ঐভাবে বন্টন করে দিতাম, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের মালামাল বন্টন করে দিয়েছিলেন।

১৬৩. মক্কা বিজয় সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي خَبَرِ مَكَّةَ

৩০১১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ جَاءَهُ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بِأَبِي سُفْيَانَ بْنِ حَرْبٍ فَأَسْلَمَ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ فَقَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ يُحِبُّ هَذَا الْفَخْرَ فَلَوْ جَعَلْتَ لَهُ شَيْئًا . قَالَ " نَعَمْ مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০১১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট, যে বছর মক্কা বিজয় হয়েছিল, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) সুফিয়ান ইবনে হারবকে নিয়ে আসেন। তিনি ’মাররা-যাহরান’ নামক স্থানে ইসলাম কবুল করেন। তখন তাঁকে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান এমন এক ব্যক্তি, যে নেতৃত্বের গৌরব পছন্দ করে। কাজেই আপনি যদি তাঁর জন্য এরূপ কিছু করতেন (তবে ভাল হতো)। তিনি বলেনঃ আচ্ছা, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবে, সেও নিরাপদে থাকবে।[১]

[১] অর্থাৎ যারা যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সামনে আসবে না, বরং নিজেদের ঘরে বসে থাকবে, তাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করব না। তাদের জান-মাল পূর্ণ হিফাযতে থাকবে। মুসলিম বাহিনী তাদের উপর কোনরূপ হস্তক্ষেপ করবে না।
৩০১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَهْلِهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ الظَّهْرَانِ قَالَ الْعَبَّاسُ قُلْتُ وَاللَّهِ لَئِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ عَنْوَةً قَبْلَ أَنْ يَأْتُوهُ فَيَسْتَأْمِنُوهُ إِنَّهُ لَهَلاَكُ قُرَيْشٍ فَجَلَسْتُ عَلَى بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَعَلِّي أَجِدُ ذَا حَاجَةٍ يَأْتِي أَهْلَ مَكَّةَ فَيُخْبِرُهُمْ بِمَكَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجُوا إِلَيْهِ فَيَسْتَأْمِنُوهُ فَإِنِّي لأَسِيرُ إِذْ سَمِعْتُ كَلاَمَ أَبِي سُفْيَانَ وَبُدَيْلِ بْنِ وَرْقَاءَ فَقُلْتُ يَا أَبَا حَنْظَلَةَ فَعَرَفَ صَوْتِي فَقَالَ أَبُو الْفَضْلِ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ مَا لَكَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قُلْتُ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ . قَالَ فَمَا الْحِيلَةُ قَالَ فَرَكِبَ خَلْفِي وَرَجَعَ صَاحِبُهُ فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَوْتُ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ يُحِبُّ هَذَا الْفَخْرَ فَاجْعَلْ لَهُ شَيْئًا . قَالَ " نَعَمْ مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ دَارَهُ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَهُوَ آمِنٌ " . قَالَ فَتَفَرَّقَ النَّاسُ إِلَى دُورِهِمْ وَإِلَى الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০১২. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন (মক্কা বিজয়ের সময়) ’মাররা-যাহরান’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তখন আমার মনে হয়, আল্লাহর শপথ! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের (কুরাইশদের) শাস্তি প্রস্তাবের আগে, তাঁর বাহিনীসহ জোর পূর্বক মক্কায় প্রবেশ করেন, তবে সমস্ত কুরাইশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খচ্চরের পিঠে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হই। এ সময় আমি এরূপ ধারণা করি যে, সম্ভবত আমার সঙ্গে মক্কার কোন লোকের সাক্ষাত হয়ে যাবে। তখন আমি তাকে বলবঃ সে যেন তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়, যাতে তারা তাঁর নিকট হাযির হয়ে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারে।

আমি যখন এরূপ মনে করে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আমি আবু সুফিয়ান ও বুদায়ল ইবনে ওয়ারাকার কথোপকথন শুনতে পাই। তখন আমি বলিঃ হে আবু হানযালা! (আবু সুফিয়ানের কুনিয়াত)! তখন সে আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলেঃ আবুল ফযল নাকি? এটি আব্বাস (রাযিঃ)-এর কুনিয়াত। তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ। তখন সে বলেঃ আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কুরবানী হোক, অবশেষে ব্যাপার কি? তখন আমি বলিঃ এই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং অন্যান্য লোকেরা। তখন সে (আবু সুফিয়ান) জিজ্ঞাসা করেঃ এখন বাঁচার জন্য বাহানা কি? তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেনঃ তখন সে (আবু সুফিয়ান) আমার বাহনের পশ্চাতে আরোহণ করে এবং তাঁর সাথী (বুদায়ল) ফিরে যায়।

পরদিন সকালে আমি তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান এমন এক ব্যক্তি যে নেতৃত্বের গৌরব পছন্দ করে। কাজেই তাঁর জন্য গৌরবজনক কিছু করুন। তিনি বলেনঃ ঠিক আছে, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, সে-ও নিরাপদ, আর যে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, সে-ও নিরাপদ।

রাবী বলেনঃ এ ঘোষনা শোনার পর লোকেরা তাদের ঘরে এবং মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করে।
৩০১৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَقِيلِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا هَلْ غَنِمُوا يَوْمَ الْفَتْحِ شَيْئًا قَالَ لاَ .

বর্ণনাকারী: ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৩০১৩. হাসান ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... ওয়াহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তারা (মুসলমানরা) কি মক্কা বিজয়ের দিন গনিমতের মাল পেয়েছিল? তিনি বলেনঃ না।

৩০১৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ سَرَّحَ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَأَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَخَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ عَلَى الْخَيْلِ وَقَالَ " يَا أَبَا هُرَيْرَةَ اهْتِفْ بِالأَنْصَارِ " . قَالَ اسْلُكُوا هَذَا الطَّرِيقَ فَلاَ يُشْرِفَنَّ لَكُمْ أَحَدٌ إِلاَّ أَنَمْتُمُوهُ . فَنَادَى مُنَادٍ لاَ قُرَيْشَ بَعْدَ الْيَوْمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ دَخَلَ دَارًا فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَلْقَى السِّلاَحَ فَهُوَ آمِنٌ " . وَعَمَدَ صَنَادِيدُ قُرَيْشٍ فَدَخَلُوا الْكَعْبَةَ فَغَصَّ بِهِمْ وَطَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ ثُمَّ أَخَذَ بِجَنْبَتَىِ الْبَابِ فَخَرَجُوا فَبَايَعُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الإِسْلاَمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০১৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি যুবাইর ইবনে আওয়াম, আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ)-কে অশ্বপৃষ্ঠে আরোহিত অবস্থায় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি বলেনঃ হে আবু হুরায়রা! আনসারদের ডেকে বলে দাও, তারা যেন এ রাস্তা ধরে অগ্রসর হয়। আর যে কেউ (এ রাস্তায়) তোমাদের সম্মুখীন হবে, তাকে হত্যা করে ফেলবে। এ সময় জনৈক ব্যক্তি এরূপ ঘোষণা দেয় যে, আজকের দিনের পর আর কোন কুরাইশ অবশিষ্ট থাকবে না।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি তার অস্ত্রশস্ত্র সমর্পণ করবে, সে নিরাপদ। এ সময় কুরাইশ নেতারা কাবা শরীফের মধ্যে (নিরাপত্তার আাশায়) প্রবেশ করে, ফলে কাবা শরীফ ভরে যায়। আর নবী (ﷺ) তাওয়াফ সম্পন্ন করেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায আদায় করেন। এরপর তিনি কাবা ঘরের দরজার চৌকাঠ ধরেন। তখন তারা (কুরাইশ নেতারা) বেরিয়ে আসে এবং নবী (ﷺ) এর কাছে ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করে।

১৬৪. তায়েফ বিজয় সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي خَبَرِ الطَّائِفِ

৩০১৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ عَقِيلِ بْنِ مُنَبِّهٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ شَأْنِ، ثَقِيفٍ إِذْ بَايَعَتْ قَالَ اشْتَرَطَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ صَدَقَةَ عَلَيْهَا وَلاَ جِهَادَ وَأَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ يَقُولُ " سَيَتَصَدَّقُونَ وَيُجَاهِدُونَ إِذَا أَسْلَمُوا " .

বর্ণনাকারী: ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৩০১৫. হাসান ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ...... ওয়াহব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, যখন বনু ছাকীফ বায়’আত করেছিল, তখন কি শর্ত করেছিল? তিনি বলেনঃ তারা এ শর্তের উপর নবী (ﷺ) এর নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিল যে, তাদের উপর যাকাত দেওয়া এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ করার দরকার হবে না। অতঃপর তিনি (জাবির) নবী (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শোনেনঃ অচিরেই তারা ইসলাম কবুলের পর যাকাত দেবে এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ করবে।

৩০১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ مَنْجُوفٍ - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، أَنَّ وَفْدَ، ثَقِيفٍ لَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْزَلَهُمُ الْمَسْجِدَ لِيَكُونَ أَرَقَّ لِقُلُوبِهِمْ فَاشْتَرَطُوا عَلَيْهِ أَنْ لاَ يُحْشَرُوا وَلاَ يُعْشَرُوا وَلاَ يُجَبُّوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَكُمْ أَنْ لاَ تُحْشَرُوا وَلاَ تُعْشَرُوا وَلاَ خَيْرَ فِي دِينٍ لَيْسَ فِيهِ رُكُوعٌ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

৩০১৬. আহমদ ইবনে আলী ইবনে সুওয়ায়দ (রাহঃ) .... আফফান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন ছাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়, তখন তিনি তাদের মসজিদে অবস্থানের অনুমতি দেন, যাতে তাদের অন্তর নরম হয়। সে সময় তারা তাঁর সঙ্গে এরূপ শর্ত করে যে, তাদের জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং তাদের নিকট হতে উশর বা দশমাংশও গ্রহণ করা হবে না। আর না তাদের নামাযও আদায় করতে হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এটা হতে পারে যে, এখন তোমাদের জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য বের করা হবে না, তোমাদের থেকে উশর নেয়া হবে না। কিন্তু সেই দ্বীনে কোন মঙ্গল, যাতে রুকূ নেই।

১৬৫. ইয়ামানের যমীনের হুকুম সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي حُكْمِ أَرْضِ الْيَمَنِ

৩০১৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَهْرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لِي هَمْدَانُ هَلْ أَنْتَ آتٍ هَذَا الرَّجُلَ وَمُرْتَادٌ لَنَا فَإِنْ رَضِيتَ لَنَا شَيْئًا قَبِلْنَاهُ وَإِنْ كَرِهْتَ شَيْئًا كَرِهْنَاهُ قُلْتُ نَعَمْ . فَجِئْتُ حَتَّى قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضِيتُ أَمْرَهُ وَأَسْلَمَ قَوْمِي وَكَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْكِتَابَ إِلَى عُمَيْرٍ ذِي مَرَّانَ قَالَ وَبَعَثَ مَالِكَ بْنَ مِرَارَةَ الرَّهَاوِيَّ إِلَى الْيَمَنِ جَمِيعًا فَأَسْلَمَ عَكٌّ ذُو خَيْوَانَ . قَالَ فَقِيلَ لِعَكٍّ انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخُذْ مِنْهُ الأَمَانَ عَلَى قَرْيَتِكَ وَمَالِكَ فَقَدِمَ وَكَتَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ لِعَكٍّ ذِي خَيْوَانَ إِنْ كَانَ صَادِقًا فِي أَرْضِهِ وَمَالِهِ وَرَقِيقِهِ فَلَهُ الأَمَانُ وَذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ " . وَكَتَبَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০১৭. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... আমির ইবনে শাহর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন (দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য) বের হন, তখন হামদান গোত্রের লোকেরা আমাকে বলেঃ তুমি কি এ ব্যক্তির (মুহাম্মাদ (ﷺ)) নিকট গমন করে আমাদের ব্যাপারে কথাবার্তা বলবে? যদি তুমি আমাদের সস্পর্কীয় কোন ব্যাপারে রাযী হও, তবে আমরাও তা কবুল করব, আর যদি তুমি কোন কিছু অপছন্দ কর, তবে আমরাও তা অপছন্দ করব। আমি বলিঃ হ্যাঁ। অতঃপর আমি রওয়ানা হই এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হই। আমি তাঁর কথাবার্তা পছন্দ করি এবং আমার কওমের লোকেরা ইসলাম কবুল করে নেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পত্রখানা উমায়র যু-মাররানের নিকট প্রেরণ করেন।

রাবী বলেনঃ এরপর তিনি মালিক ইবনে মুরারা রাহাবী (রাযিঃ)-কে সমস্ত ইয়ামানবাসীর নিকট (ইসলামের পয়গাম পৌছানের জন্য) প্রেরণ করেন। তখন আককু যূ-খায়ওয়ান নামক জনৈক ব্যক্তি ইসলাম কবুল করে। রাবী বলেনঃ তখন আককু-কে বলা হয়, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যাও এবং তাঁর নিকট হতে তোমার গ্রামবাসী ও তোমার মালের জন্য নিরাপত্তা চাও। তখন সে ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য এ ফরমান লিখে দেনঃ

’’বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’’

এ ফরমান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে আককু যূ-খাওয়ানের জন্য। যদি সে (তার বক্তব্য) সত্যবাদী হয়, তবে তার জন্য নিরাপত্তা—তার যমীনে, মালে ও গোলামে এবং সে আল্লাহর যিম্মায় ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যিম্মায় থাকবে। এ ফরমানটি লিখেছিলেন খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আস (রাযিঃ)।
৩০১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقُرَشِيُّ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ، سَعِيدٍ - يَعْنِي ابْنَ أَبْيَضَ - عَنْ جَدِّهِ، أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ كَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّدَقَةِ حِينَ وَفَدَ عَلَيْهِ فَقَالَ " يَا أَخَا سَبَإٍ لاَ بُدَّ مِنْ صَدَقَةٍ " . فَقَالَ إِنَّمَا زَرْعُنَا الْقُطْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ تَبَدَّدَتْ سَبَأٌ وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلاَّ قَلِيلٌ بِمَأْرِبٍ . فَصَالَحَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَبْعِينَ حُلَّةِ بَزٍّ مِنْ قِيمَةِ وَفَاءِ بَزِّ الْمَعَافِرِ كُلَّ سَنَةٍ عَمَّنْ بَقِيَ مِنْ سَبَإٍ بِمَأْرِبَ فَلَمْ يَزَالُوا يُؤَدُّونَهَا حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّ الْعُمَّالَ انْتَقَضُوا عَلَيْهِمْ بَعْدَ قَبْضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا صَالَحَ أَبْيَضُ بْنُ حَمَّالٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحُلَلِ السَّبْعِينَ فَرَدَّ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى مَا وَضَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَاتَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه انْتَقَضَ ذَلِكَ وَصَارَتْ عَلَى الصَّدَقَةِ .

বর্ণনাকারী: আবয়ায ইবনে হাম্মাল মা’রিবী (রাঃ)

৩০১৮. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ কুরাশী ও হারুন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ...... আবইয়ায ইবনে হাম্মাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রতিনিধি দলের সাথে উপস্থিত থাকার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাদ্‌কার ব্যাপারে কথাবার্তা বলেন। তখন তিনি বলেনঃ হে সাবার ভ্রাতৃবৃন্দ! সাদ্‌কা দেওয়া তো একটা জরুরী ব্যাপার। তখন সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের উৎপাদিত শস্য তো কেবল তূলা। আর সাবা শহর তো এখন উজাড় হয়ে গেছে এবং তাদের মাত্র কয়েক ব্যক্তি সাবা শহরে মারিব নামক স্থানে বসবাস করেছে। অবশেষে নবী (ﷺ) তাদের সাথে প্রতি বছর মুআফির নামক স্থানের তাঁতীদের তৈরী কাপড়ের সমদামের সত্তর জোড়া দামী কাপড় রাজস্ব খাতে আদায় করার চুক্তিতে আব্দ্ধ হন, যারা ’সাবা’-ওয়ালাদের থেকে ’মারিব’ নামক স্থানে অবশিষ্ট ছিল। যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইনতিকালের সময় পর্যন্ত সব সময় আদায় করতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর সাদ্‌কা আদায়কারী প্রতিনিধিগণ ঐ চুক্তি লংঘন করেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবয়ায ইবনে হাম্মালের সাথে সত্তর জোড়া কাপড় গ্রহণের ব্যাপারে করেছিলেন। পরে আবু বকর (রাযিঃ) ঐ নির্দেশ ঐরূপে রাখার হুকুম দেন, যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুকুম করেছিলেন। অবশেষে আবু বকর (রাযিঃ) ইনতিকাল করার পর ঐ চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং নিয়মিত সাদ্‌কা আদায় প্রথা চালু হয়।

১৬৬. ইয়াহুদীদের আরবভূমি হতে বহিষ্কার প্রসঙ্গে।

باب فِي إِخْرَاجِ الْيَهُودِ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ

৩০১৯

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى بِثَلاَثَةٍ فَقَالَ " أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَأَجِيزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوٍ مِمَّا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَسَكَتَ عَنِ الثَّالِثَةِ أَوْ قَالَ فَأُنْسِيتُهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০১৯. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) (ইন্তিকালের সময়) তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। তিনি বলেনঃ মুশরিকদের আরবভূমি হতে বের করে দেবে, তোমরা রাষ্ট্রদূতদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, যেমন আমি তাদের সাথে করে থাকি।

রাবী বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তৃতীয় বিষয়টি সম্পর্কে চুপ থাকেন, অথবা তিনি বলেনঃ আমি তা ভুলে গিয়েছি।
৩০২০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ فَلاَ أَتْرُكُ فِيهَا إِلاَّ مُسْلِمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩০২০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছেনঃ আমি ইয়াহূদ ও নাসারাদের অবশ্যই আরবভূমি হতে বের করে দেব এবং এখানে মুসলমান ছাড়া আর কেউ থাকবে না।

৩০২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩০২১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই বলেছেন। তবে প্রথমে বর্ণিত হাদীসটি পরিপূর্ণ।

৩০২২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَكُونُ قِبْلَتَانِ فِي بَلَدٍ وَاحِدٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০২২. সুলাইমান ইবনে দাউদ আতাকী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একই শহরে দুটি কিবলা হতে পারবে না।[১]

[১] একটি মুসলমানদের কিবলা এবং অপরটি ইয়াহূদ বা নাসারাদের কিবলা।
৩০২৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ - قَالَ قَالَ سَعِيدٌ - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ - جَزِيرَةُ الْعَرَبِ مَا بَيْنَ الْوَادِي إِلَى أَقْصَى الْيَمَنِ إِلَى تُخُومِ الْعِرَاقِ إِلَى الْبَحْرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ أَخْبَرَكَ أَشْهَبُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ قَالَ مَالِكٌ عُمَرُ أَجْلَى أَهْلَ نَجْرَانَ وَلَمْ يُجْلَوْا مِنْ تَيْمَاءَ لأَنَّهَا لَيْسَتْ مِنْ بِلاَدِ الْعَرَبِ فَأَمَّا الْوَادِي فَإِنِّي أَرَى إِنَّمَا لَمْ يُجْلَ مَنْ فِيهَا مِنَ الْيَهُودِ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوْهَا مِنْ أَرْضِ الْعَرَبِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০২৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... সা’ঈদ অর্থাৎ ইবনে আব্দিল আযীয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরবভূমি ’ওয়াদী-কুররা’ হতে ইয়ামানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ইরাক হতে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত।


আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হারিছ ইবনে মিসকীনের নিকট এরূপ পড়া হয়েছিল, যখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম যে, মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাযিঃ) নযরানবাসীদের বহিষ্কার করেছিলেন, তবে তিনি তাদেরকে তায়মা থেকে বহিষ্কার করে নি। কেননা, তা আরবভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আর ’ওয়াদী-কুররা’র ইয়াহুদীদের এ জন্য বহিষ্কার করা হয়নি, আমার ধারণায়, তাঁরা ’ওয়াদী-কুররাকে’ আরবভূমি হিসাবে মনে করেননি।
৩০২৪

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ قَدْ أَجْلَى عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ يَهُودَ نَجْرَانَ وَفَدَكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩০২৪. ইবনে সারাহ (রাহঃ) ..... মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাযিঃ) নযরান এবং ফিদাকের ইয়াহুদীদের বের করে দিয়েছিলেন।

১৬৭. কাফিরের দেশে যুদ্ধে প্রাপ্ত যমীন মুসলমানদের অধিকারে আসা সম্পর্কে।

باب فِي إِيقَافِ أَرْضِ السَّوَادِ وَأَرْضِ الْعَنْوَةِ

৩০২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنَعَتِ الْعِرَاقُ قَفِيزَهَا وَدِرْهَمَهَا وَمَنَعَتِ الشَّامُ مُدْيَهَا وَدِينَارَهَا وَمَنَعَتْ مِصْرُ إِرْدَبَّهَا وَدِينَارَهَا ثُمَّ عُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ " . قَالَهَا زُهَيْرٌ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ شَهِدَ عَلَى ذَلِكَ لَحْمُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَدَمُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০২৫. আহমদ ইবনে ইয়ূনুস (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (এমন এক সময় আসবে) যখন ইরাকবাসীরা তাদের যমীন ও তার উৎপাদিত ফসল-কাফীয ও দিরহাম হতে বঞ্চিত হবে (অর্থাৎ এ সব সেখানকার অধিবাসীরা পাবে না, বরং তোমরা এ সবের মালিক হবে)। আর শামবাসীরা তাদের যমীন ও উৎপাদিত ফসল ও অর্থ-মুদ এবং স্বর্ণমুদ্রা হতে বঞ্চিত হবে এবং মিসরবাসীরা তাদের যমীন ও উৎপাদিত দ্রব্য ও অর্থ-আরদাব ও দীনার হতে বঞ্চিত হবে (অর্থাৎ তোমরাই এ সবের মালিক ও অধিকারী হবে)। এরপর তোমরা সেখানে ফিরে যাবে, যেখানে তোমরা প্রথমে ছিলে (অর্থাৎ ধন-দওলত তোমাদের হাতছাড়া হয়ে পুনরায় কাফিরদের হাতে চলে যাবে)।

রাবী যুহাইর তিনবার এরূপ উক্তি করেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর গোশত এবং রক্ত এর সাক্ষী আছে।
৩০২৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وَأَقَمْتُمْ فِيهَا فَسَهْمُكُمْ فِيهَا وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ ثُمَّ هِيَ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০২৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে গ্রামে গিয়ে তোমরা বসবাস করবে এবং যেখানেই তোমরা যাবে, তার অংশ তোমাদের হয়ে যাবে। আর যে গ্রামের লোকেরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করবে, নিশ্চয়ই তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের। উক্ত অংশ বের করার পর বাকী অংশ তোমাদের হবে।

১৬৮. জিযিয়া কর নেয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ

৩০২৭

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ إِلَى أُكَيْدِرِ دُومَةَ فَأُخِذَ فَأَتَوْهُ بِهِ فَحَقَنَ لَهُ دَمَهُ وَصَالَحَهُ عَلَى الْجِزْيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০২৭. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) .... উছমান ইবনে আবী সুলাইমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) কে দুমার[১] শাসক উকায়দারের নিকট প্রেরণ করেন। তখন খালিদ ও তাঁর সঙ্গিরা তাঁকে গ্রেফতার করে তাঁর নিকট নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মৃত্যুদণ্ড মউকুফ করেন এবং জিযিয়া কর দেওয়ার শর্তে তাঁর সাথে সন্ধি করেন।[১]

[১] খ্রিস্টান বাদশাহ উকায়দার দুমা শহরের অধিপতি ছিলেন। নবী (সা.) খালিদ (রা.)-কে তাঁকে জীবিত বন্দী করে। আনার নির্দেশ দেন। তাকে গেরেফতার করে আনা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিযিয়া কর ধার্য করেন। পরে তিনি ইসলাম কবুল করেন।

[২] অমুসলিম নাগরিকদের নিকট হতে গৃহীত বার্ষিক খায়না বা করকে জিযিয়া বলা হয়। এই কর আদায়ের মাধ্যমে তাদের আনুগত্য প্রমাণিত হয় এবং তারা মুসলিম রাষ্ট্রে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করে।
৩০২৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ أَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ كُلِّ حَالِمٍ - يَعْنِي مُحْتَلِمًا - دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مِنَ الْمَعَافِرِيِّ ثِيَابٌ تَكُونُ بِالْيَمَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩০২৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মু’আয (রাযিঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিকট হতে এক দীনার অথবা এক দীনার মূল্যের মু’আফিরী নামক কাপড়, যা ইয়ামানে উৎপন্ন হয় (তা জিযিয়া হিসাবে গ্রহণ করবে)।

৩০২৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩০২৯. নুফায়লী (রাহঃ) .... মুআয (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩০৩০

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هَانِئٍ أَبُو نُعَيْمٍ النَّخَعِيُّ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ حُدَيْرٍ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ لَئِنْ بَقِيتُ لِنَصَارَى بَنِي تَغْلِبَ لأَقْتُلَنَّ الْمُقَاتِلَةَ وَلأَسْبِيَنَّ الذُّرِّيَّةَ فَإِنِّي كَتَبْتُ الْكِتَابَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ لاَ يُنَصِّرُوا أَبْنَاءَهُمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ بَلَغَنِي عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ كَانَ يُنْكِرُ هَذَا الْحَدِيثَ إِنْكَارًا شَدِيدًا وَهُوَ عِنْدَ بَعْضِ النَّاسِ شِبْهُ الْمَتْرُوكِ وَأَنْكَرُوا هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هَانِئٍ قَالَ أَبُو عَلِيٍّ وَلَمْ يَقْرَأْهُ أَبُو دَاوُدَ فِي الْعَرْضَةِ الثَّانِيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৩০. আব্বাস ইবনে আব্দিল আযীম (রাহঃ) ...... যিয়াদ ইবনে জাদীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাযিঃ) বলেনঃ যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে বনু তাগলীবের যুদ্ধক্ষম নাসারাদের হত্যা করব এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের বন্দী করব। কেননা, তাদের ও নবী (ﷺ) এর মাঝে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা আমি লিখেছিলাম। যাতে এরূপ শর্ত ছিল যে, তারা তাদের সন্তান-সন্ততিদের সাহায্য করবে না।

৩০৩১

حَدَّثَنَا مُصَرِّفُ بْنُ عَمْرٍو الْيَامِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَالَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ نَجْرَانَ عَلَى أَلْفَىْ حُلَّةٍ النِّصْفُ فِي صَفَرٍ وَالْبَقِيَّةُ فِي رَجَبٍ يُؤَدُّونَهَا إِلَى الْمُسْلِمِينَ وَعَارِيَةِ ثَلاَثِينَ دِرْعًا وَثَلاَثِينَ فَرَسًا وَثَلاَثِينَ بَعِيرًا وَثَلاَثِينَ مِنْ كُلِّ صِنْفٍ مِنْ أَصْنَافِ السِّلاَحِ يَغْزُونَ بِهَا وَالْمُسْلِمُونَ ضَامِنُونَ لَهَا حَتَّى يَرُدُّوهَا عَلَيْهِمْ إِنْ كَانَ بِالْيَمَنِ كَيْدٌ أَوْ غَدْرَةٌ عَلَى أَنْ لاَ تُهْدَمَ لَهُمْ بَيْعَةٌ وَلاَ يُخْرَجُ لَهُمْ قَسٌّ وَلاَ يُفْتَنُوا عَنْ دِينِهِمْ مَا لَمْ يُحْدِثُوا حَدَثًا أَوْ يَأْكُلُوا الرِّبَا . قَالَ إِسْمَاعِيلُ فَقَدْ أَكَلُوا الرِّبَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩১. মুসাররিফ ইবনে আমর ইয়ামী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নযরানের খ্রিস্টানদের সাথে দু’হাজার জোড়া কাপড়ের বিনিময়ে এ শর্তে সন্ধি করেন যে, তারা এর অর্ধেক কাপড় সফর মাসে মুসলমানদের নিকট হস্তান্তর করবে এবং বাকী অর্ধেক রজব মাসে দেবে। তাছাড়া ত্রিশটি লৌহবর্ম, ত্রিশটি অশ্ব, ত্রিশটি উট এবং সব ধরনের ত্রিশটি যুদ্ধোপকরণ ধারস্বরূপ (মুসলমানদের) প্রদান করবে, যা দিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা হয়। আর মুসলমানরা এ মর্মে যিম্মাদারী গ্রহণ করবে যে, এ সব অস্ত্রশস্ত্র আবার তাদের নিকট ফিরিয়ে দেবে, যদি ইয়ামানে কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তাছাড়া এ শর্তও ছিল যে, তাদের কোন গীর্জা ধ্বংস করা হবে না এবং কোন পাদ্রীকেও বহিষ্কার করা হবে না। আর যতক্ষণ না তারা নতুন কথা বলবে এবং সুদ না খাবে, ততক্ষণ তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা হবে না।

রাবী ইসমাঈল বলেনঃ পরে তারা সুদ খাওয়া শুরু করে, (ফলে চুক্তি ভঙ্গের কারণে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়)।

১৬৯. অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ مِنَ الْمَجُوسِ

৩০৩২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ أَهْلَ فَارِسَ لَمَّا مَاتَ نَبِيُّهُمْ كَتَبَ لَهُمْ إِبْلِيسُ الْمَجُوسِيَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩২. আহমদ ইবনে সানান ওয়াসিতী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন পারসিকদের নবী ইনতিকাল করেন, তখন ইবলিস তাদের অগ্নিপূজায় লাগিয়ে দেয় (অর্থাৎ গুমরাহ করে ফেলে)।

৩০৩৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ بَجَالَةَ، يُحَدِّثُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ وَأَبَا الشَّعْثَاءِ قَالَ كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَمِّ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ إِذْ جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ اقْتُلُوا كُلَّ سَاحِرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَ كُلِّ ذِي مَحْرَمٍ مِنَ الْمَجُوسِ وَانْهَوْهُمْ عَنِ الزَّمْزَمَةِ فَقَتَلْنَا فِي يَوْمٍ ثَلاَثَةَ سَوَاحِرَ وَفَرَّقْنَا بَيْنَ كُلِّ رَجُلٍ مِنَ الْمَجُوسِ وَحَرِيمِهِ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَصَنَعَ طَعَامًا كَثِيرًا فَدَعَاهُمْ فَعَرَضَ السَّيْفَ عَلَى فَخِذِهِ فَأَكَلُوا وَلَمْ يُزَمْزِمُوا وَأَلْقَوْا وِقْرَ بَغْلٍ أَوْ بَغْلَيْنِ مِنَ الْوَرِقِ وَلَمْ يَكُنْ عُمَرُ أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩০৩৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু শা’ছা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাযা ইবনে মু’আবীয়ার লেখক ছিলাম, যিনি আহনাফ ইবনে কায়েসের চাচা ছিলেন। একবার উমর (রাযিঃ)-এর মৃত্যুর এক বছর আগে আমাদের নিকট (তাঁর লিখিত) এ মর্মের পত্র আসে; (যাতে এরূপ নির্দেশ ছিল যে), প্রত্যেক জাদুকরকে হত্যা করবে, অগ্নি-উপাসকদের প্রত্যেক মুহরিম ব্যক্তির সাথে বিবাহিত (তার বোন, খালা ইত্যাদি) কে বিচ্ছিন্ন করে দেবে, আর তাদের গুণগুণ শব্দ করা হতে বিরত থাকতে বলবে। তখন একদিনে আমরা তিনজন জাদুকরকে হত্যা করি এবং যে সব অগ্নি-উপাসকের সাথে কোন মুহরিম স্ত্রীলোকের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল, আল্লাহর কিতাব অনুসারে তাদের মাঝের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেই।

রাবী বলেনঃ একদা তিনি (আহনাফ ইবনে কায়স) অনেক খাদ্য পাক করে অগ্নি-উপাসকদের ডাকেন এবং তরবারি নিজের রানের উপর রাখেন। তখন তারা খাওয়ার পর কোন রূপ গুণশুন শব্দ করিনি। এরপর তারা এক বা দু’খচ্চরের বোঝা পরিমাণ রৌপ্য প্রদান করেন। আর উমর (রাযিঃ) অক্ষম অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’হাজার’ নামক স্থানের অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেছিলেন।
৩০৩৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ قُشَيْرِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ بَجَالَةَ بْنِ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَسْبَذِيِّينَ مِنْ أَهْلِ الْبَحْرَيْنِ - وَهُمْ مَجُوسُ أَهْلِ هَجَرَ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَكَثَ عِنْدَهُ ثُمَّ خَرَجَ فَسَأَلْتُهُ مَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ فِيكُمْ قَالَ شَرٌّ . قُلْتُ مَهْ قَالَ الإِسْلاَمُ أَوِ الْقَتْلُ . قَالَ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ قَبِلَ مِنْهُمُ الْجِزْيَةَ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِقَوْلِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَتَرَكُوا مَا سَمِعْتُ أَنَا مِنَ الأَسْبَذِيِّ .

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، وَجَدَ رَجُلًا وَهُوَ عَلَى حِمْصَ يُشَمِّسُ نَاسًا مِنَ الْقِبْطِ فِي أَدَاءِ الْجِزْيَةِ، فَقَالَ: مَا هَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে মিসকীন ইয়ামামী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাজার নামক স্থানে বসবাসকারী অগ্নি-উপাসকদের থেকে বাহরাইনের আসবাযিয়্যীন এর জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। এরপর সে যখন বেরিয়ে আসে, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমাদের ব্যাপারে কী ফয়সালা দিয়েছেন? তখন সে বলেঃ খারাপ ফয়সালা দিয়েছেন। তখন আমি ধমক দিয়ে বলিঃ চুপ থাক। তখন সে বলেঃ (তিনি এরূপ ফয়সালা দিয়েছেন যে), মুসলমান হয়ে যাও, নয়ত কতল করা হবে।

রাবী বলেনঃ আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট হতে জিযিয়া কবুল করেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আরো বলেনঃ লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-এর কথার উপর আমল করতে শুরু করে, আর আমি যা আসবাযীর নিকট হতে শুনেছিলাম, তা পরিত্যাগ করে।[1]

অনুচ্ছেদঃ ১৭০. জিযিয়া কর আদায়ের ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ সম্পর্কে।

৩০৩৪. সুলাইমান ইবনে দাউদ মোহরী (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হাযাম, জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যিনি হিমসের গভর্নর ছিলেন যে, তিনি কয়েকজন কিবতীকে জিযিয়া আদায়ের জন্য রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তখন তিনি (হিশাম) জিজ্ঞাসা করেনঃ ব্যাপার কি? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ (আখিরাতে) তাদের শাস্তি দিবেন, যারা দুনিয়াতে লোকদের (অকারণে) শাস্তি দেয়।

১৭১. যিম্মী কাফিরের তেজারতী মাল হতে উশর বা দশ ভাগের এক ভাগ নেয়া সম্পর্কে।

باب فِي تَعْشِيرِ أَهْلِ الذِّمَّةِ إِذَا اخْتَلَفُوا بِالتِّجَارَاتِ

৩০৩৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي أُمِّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الْعُشُورُ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَلَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ عُشُورٌ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৩৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হারব ইবনে উবাইদিল্লাহ (রাহঃ) তাঁর নানা হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উশর ইয়াহূদ ও নাসারাদের নিকট হতে নিতে হবে এবং মুসলমানদের উপর উশর নেই।

৩০৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " خَرَاجٌ " . مَكَانَ " الْعُشُورُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দ মুহারিবী (রাহঃ) ..... হারব ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি উশর’ শব্দের পরিবর্তে ’খারাজ’ শব্দের উল্লেখ করেছেন।

৩০৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ خَالِهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُعَشِّرُ قَوْمِي قَالَ " إِنَّمَا الْعُشُورُ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى " .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৩০৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আতা (রাহঃ) বকর ইবনে ওয়াইল সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি হতে শ্রবণ করেছেন, যিনি তার মামার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার কওমের নিকট হতে উশর আদায় করব? জবাবে তিনি বলেনঃ উশর তো কেবল ইয়াহূদ ও নাসারাদের (তিজারতী মালের) উপর ধার্য হয়ে থাকে।

৩০৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ جَدِّهِ، - رَجُلٍ مِنْ بَنِي تَغْلِبَ - قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمْتُ وَعَلَّمَنِي الإِسْلاَمَ وَعَلَّمَنِي كَيْفَ آخُذُ الصَّدَقَةَ مِنْ قَوْمِي مِمَّنْ أَسْلَمَ ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا عَلَّمْتَنِي قَدْ حَفِظْتُهُ إِلاَّ الصَّدَقَةَ أَفَأُعَشِّرُهُمْ قَالَ " لاَ إِنَّمَا الْعُشُورُ عَلَى النَّصَارَى وَالْيَهُودِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম বাযযার (রাহঃ) ...... হারব ইবনে উবাইদিল্লাহ ইবনে উমাইর ছাকাফী তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বনু তাগলীবের লোক ছিলেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কবুল করি এবং তিনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন। আর তিনি আমাকে এ-ও শিক্ষা দেন যে, আমার কওম থেকে যারা ইসলাম কবুল করবে, আমি তাদের নিকট হতে কিরূপে সাদ্‌কা আদায় করব। এরপর আমি তাঁর নিকট ফিরে আসি এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছিলেন, তা সবই আমার মনে আছে, তবে সাদ্‌কার ব্যাপারটি আমি ভুলে গেছি। আমি কি তাদের নিকট হতে উশর (এক-দশমাংশ) গ্রহণ করব? তিনি বলেনঃ না, বরং উশর তো ইয়াহূদ ও নাসারাদের (তিজারতী মালের জন্য) ধার্যকৃত।

৩০৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا أَرْطَاةُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ سَمِعْتُ حَكِيمَ بْنَ عُمَيْرٍ أَبَا الأَحْوَصِ، يُحَدِّثُ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ، قَالَ نَزَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ وَمَعَهُ مَنْ مَعَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ وَكَانَ صَاحِبُ خَيْبَرَ رَجُلاً مَارِدًا مُنْكَرًا فَأَقْبَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَلَكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا حُمُرَنَا وَتَأْكُلُوا ثَمَرَنَا وَتَضْرِبُوا نِسَاءَنَا فَغَضِبَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " يَا ابْنَ عَوْفٍ ارْكَبْ فَرَسَكَ ثُمَّ نَادِ أَلاَ إِنَّ الْجَنَّةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لِمُؤْمِنٍ وَأَنِ اجْتَمِعُوا لِلصَّلاَةِ " . قَالَ فَاجْتَمَعُوا ثُمَّ صَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَقَالَ " أَيَحْسَبُ أَحَدُكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ قَدْ يَظُنُّ أَنَّ اللَّهَ لَمْ يُحَرِّمْ شَيْئًا إِلاَّ مَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ أَلاَ وَإِنِّي وَاللَّهِ قَدْ وَعَظْتُ وَأَمَرْتُ وَنَهَيْتُ عَنْ أَشْيَاءَ إِنَّهَا لَمِثْلُ الْقُرْآنِ أَوْ أَكْثَرُ وَأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يُحِلَّ لَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوا بُيُوتَ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلاَّ بِإِذْنٍ وَلاَ ضَرْبَ نِسَائِهِمْ وَلاَ أَكْلَ ثِمَارِهِمْ إِذَا أَعْطَوْكُمُ الَّذِي عَلَيْهِمْ " .

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

৩০৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... ইরবায ইবনে সারিয়া সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন নবী (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বরে অবতরণ করি, তখন তাঁর সঙ্গে তাঁর অন্যান্য সাহাবীও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় খায়বরের নেতা ছিল একজন দুষ্টপ্রকৃতির বিদ্রোহী ব্যক্তি। সে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ হে মুহাম্মাদ! এটা কি তোমার উচিত যে, তুমি আমাদের গাধাগুলো যবেহ করবে, ফলগুলো খেয়ে ফেলবে এবং আমাদের স্ত্রীদের মারধর করবে?

এ কথা শুনে অর্থাৎ নবী (ﷺ) রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ হে ইবনে আওফ! তুমি তোমার ঘোড়ার পিঠে আরোহণ কর এবং এরূপ ঘোষণা করে দাও যে, মুসলিম ছাড়া আর কারো জন্য জান্নাত হালাল নয়। আর তোমরা নামাযের জন্য সমবেত হও।

রাবী বলেনঃ তখন সবাই নামাযের জন্য একত্রিত হয় এবং নবী (ﷺ) তাদের নিয়ে নামায আদায় করেন। এরপর তিনি দাঁড়ান এবং বলেনঃ তোমাদের কেউ কি তার খাটের উপর হেলান দিয়ে বসে এরূপ ধারণা করছে যে, আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত জিনিস ব্যতীত, যার উল্লেখ কুরআনে আছে, আর কিছুই হারাম করেননি? জেনে রাখ, আল্লাহর শপথ! আমিও হুকুম দিয়েছি যাতে কিছু করার জন্য নসীহত করেছি এবং কিছু না করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছি। এগুলিও কুরআনের আদেশ ও নিষেধের অনুরূপ এমনকি তা থেকেও অতিরিক্ত। (জেনে রাখ,) নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ বৈধ করেননি যে, তোমরা আহলে কিতাবদের ঘরে তাদের অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করবে, তাদের স্ত্রীদের মারধর করবে এবং তাদের ফলমূল ভক্ষণ করবে। (বস্তুত এ নির্দেশ ততক্ষণ কার্যকর থাকবে), যতক্ষণ তারা তোমাদের (ঐ জিযিয়া প্রদান করবে), যা আদায় করা তাদের উপর ওয়াজিব।
৩০৪০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ ثَقِيفٍ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ جُهَيْنَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّكُمْ تُقَاتِلُونَ قَوْمًا فَتَظْهَرُونَ عَلَيْهِمْ فَيَتَّقُونَكُمْ بِأَمْوَالِهِمْ دُونَ أَنْفُسِهِمْ وَأَبْنَائِهِمْ " . قَالَ سَعِيدٌ فِي حَدِيثِهِ " فَيُصَالِحُونَكُمْ عَلَى صُلْحٍ " . ثُمَّ اتَّفَقَا " فَلاَ تُصِيبُوا مِنْهُمْ شَيْئًا فَوْقَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ لاَ يَصْلُحُ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩০৪০. মুসাদ্দাদ ও সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) .... জুহায়না গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সম্ভবত তোমরা এমন এক কওমের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের উপর তোমরা বিজয়ী হওয়ার পর তারা তোমাদের কিছু মাল দিয়ে নিজেদের এবং নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের রক্ষা করবে।

রাবী সাঈদ (রাহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, তারা (কিছু মালের বিনিময়ে) তোমাদের সঙ্গে সন্ধি করবে। এরপর উভয় রাবী ঐকমত্যে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা তাদের নিকট হতে এর অধিক মাল গ্রহণ করবে না। কেননা, তা তোমাদের জন্য বৈধ নয়।
৩০৪১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ الْمَدِينِيُّ، أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ سُلَيْمٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عِدَّةٍ، مِنْ أَبْنَاءِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ آبَائِهِمْ دِنْيَةً عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوِ انْتَقَصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩০৪১. সুলাইমান ইবনে দাউদ মোহরী (রাহঃ) .... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের কিছু ছেলে তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা পরস্পর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের যে কেউ কোন যিম্মীর উপর অত্যাচার করবে, বা তার হক নষ্ট করবে, কিংবা তার সামর্থের বাইরে তাকে কষ্ট দিবে, অথবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে (জোরপূর্বক) তার কোন জিনিস নিবে, আমি কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।

১৭২. যদি কোন যিম্মী বছরের মাঝখানে ইসলাম কবুল করে, তবে তাকে কি অবশিষ্ট সময়কালের জন্য জিযিয়া কর দিতে হবে ?

باب فِي الذِّمِّيِّ يُسْلِمُ فِي بَعْضِ السَّنَةِ هَلْ عَلَيْهِ جِزْيَةٌ

৩০৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ جِزْيَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৪২. আব্দুল্লাহ ইবনে জাররাহ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের উপর কোন জিযিয়া কর নেই।

৩০৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ سُئِلَ سُفْيَانُ عَنْ تَفْسِيرِ، هَذَا فَقَالَ إِذَا أَسْلَمَ فَلاَ جِزْيَةَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ সুফিয়ানের নিকট এ হাদীসের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, যখন কোন যিম্মী মুসলমান হয়ে যায়, তখন তার উপর আর কোন জিযিয়া কর নেই।

১৭৩. ইমামের জন্য মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা সম্পর্কে।

باب فِي الإِمَامِ يَقْبَلُ هَدَايَا الْمُشْرِكِينَ

৩০৪৪

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ الْهَوْزَنِيُّ، قَالَ لَقِيتُ بِلاَلاً مُؤَذِّنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَلَبَ فَقُلْتُ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي كَيْفَ كَانَتْ نَفَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا كَانَ لَهُ شَىْءٌ كُنْتُ أَنَا الَّذِي أَلِي ذَلِكَ مِنْهُ مُنْذُ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ وَكَانَ إِذَا أَتَاهُ الإِنْسَانُ مُسْلِمًا فَرَآهُ عَارِيًا يَأْمُرُنِي فَأَنْطَلِقُ فَأَسْتَقْرِضُ فَأَشْتَرِي لَهُ الْبُرْدَةَ فَأَكْسُوهُ وَأُطْعِمُهُ حَتَّى اعْتَرَضَنِي رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ يَا بِلاَلُ إِنَّ عِنْدِي سَعَةً فَلاَ تَسْتَقْرِضْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ مِنِّي فَفَعَلْتُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ تَوَضَّأْتُ ثُمَّ قُمْتُ لأُؤَذِّنَ بِالصَّلاَةِ فَإِذَا الْمُشْرِكُ قَدْ أَقْبَلَ فِي عِصَابَةٍ مِنَ التُّجَّارِ فَلَمَّا أَنْ رَآنِي قَالَ يَا حَبَشِيُّ . قُلْتُ يَا لَبَّاهُ . فَتَجَهَّمَنِي وَقَالَ لِي قَوْلاً غَلِيظًا وَقَالَ لِي أَتَدْرِي كَمْ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الشَّهْرِ قَالَ قُلْتُ قَرِيبٌ . قَالَ إِنَّمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ أَرْبَعٌ فَآخُذُكَ بِالَّذِي عَلَيْكَ فَأَرُدُّكَ تَرْعَى الْغَنَمَ كَمَا كُنْتَ قَبْلَ ذَلِكَ فَأَخَذَ فِي نَفْسِي مَا يَأْخُذُ فِي أَنْفُسِ النَّاسِ حَتَّى إِذَا صَلَّيْتُ الْعَتَمَةَ رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِهِ فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَأَذِنَ لِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي إِنَّ الْمُشْرِكَ الَّذِي كُنْتُ أَتَدَيَّنُ مِنْهُ قَالَ لِي كَذَا وَكَذَا وَلَيْسَ عِنْدَكَ مَا تَقْضِي عَنِّي وَلاَ عِنْدِي وَهُوَ فَاضِحِي فَأْذَنْ لِي أَنْ آبِقَ إِلَى بَعْضِ هَؤُلاَءِ الأَحْيَاءِ الَّذِينَ قَدْ أَسْلَمُوا حَتَّى يَرْزُقَ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم مَا يَقْضِي عَنِّي فَخَرَجْتُ حَتَّى إِذَا أَتَيْتُ مَنْزِلِي فَجَعَلْتُ سَيْفِي وَجِرَابِي وَنَعْلِي وَمِجَنِّي عِنْدَ رَأْسِي حَتَّى إِذَا انْشَقَّ عَمُودُ الصُّبْحِ الأَوَّلِ أَرَدْتُ أَنْ أَنْطَلِقَ فَإِذَا إِنْسَانٌ يَسْعَى يَدْعُو يَا بِلاَلُ أَجِبْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَتَيْتُهُ فَإِذَا أَرْبَعُ رَكَائِبَ مُنَاخَاتٍ عَلَيْهِنَّ أَحْمَالُهُنَّ فَاسْتَأْذَنْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْشِرْ فَقَدْ جَاءَكَ اللَّهُ بِقَضَائِكَ " . ثُمَّ قَالَ " أَلَمْ تَرَ الرَّكَائِبَ الْمُنَاخَاتِ الأَرْبَعَ " . فَقُلْتُ بَلَى . فَقَالَ " إِنَّ لَكَ رِقَابَهُنَّ وَمَا عَلَيْهِنَّ فَإِنَّ عَلَيْهِنَّ كِسْوَةً وَطَعَامًا أَهْدَاهُنَّ إِلَىَّ عَظِيمُ فَدَكَ فَاقْبِضْهُنَّ وَاقْضِ دَيْنَكَ " . فَفَعَلْتُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ ثُمَّ انْطَلَقْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ فِي الْمَسْجِدِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ " مَا فَعَلَ مَا قِبَلَكَ " . قُلْتُ قَدْ قَضَى اللَّهُ كُلَّ شَىْءٍ كَانَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَبْقَ شَىْءٌ . قَالَ " أَفَضَلَ شَىْءٌ " . قُلْتُ نَعَمْ قَالَ " انْظُرْ أَنْ تُرِيحَنِي مِنْهُ فَإِنِّي لَسْتُ بِدَاخِلٍ عَلَى أَحَدٍ مِنْ أَهْلِي حَتَّى تُرِيحَنِي مِنْهُ " . فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَتَمَةَ دَعَانِي فَقَالَ " مَا فَعَلَ الَّذِي قِبَلَكَ " . قَالَ قُلْتُ هُوَ مَعِي لَمْ يَأْتِنَا أَحَدٌ . فَبَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ وَقَصَّ الْحَدِيثَ حَتَّى إِذَا صَلَّى الْعَتَمَةَ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - دَعَانِي قَالَ " مَا فَعَلَ الَّذِي قِبَلَكَ " . قَالَ قُلْتُ قَدْ أَرَاحَكَ اللَّهُ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَكَبَّرَ وَحَمِدَ اللَّهَ شَفَقًا مِنْ أَنْ يُدْرِكَهُ الْمَوْتُ وَعِنْدَهُ ذَلِكَ ثُمَّ اتَّبَعْتُهُ حَتَّى إِذَا جَاءَ أَزْوَاجَهُ فَسَلَّمَ عَلَى امْرَأَةٍ امْرَأَةٍ حَتَّى أَتَى مَبِيتَهُ فَهَذَا الَّذِي سَأَلْتَنِي عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

৩০৪৪. আবু তাওবা রবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ হাওযানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুয়াযযিন বিলাল (রাযিঃ) এর হালব শহরে দেখা হয়। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে বিলাল! আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা কিরূপ ছিল, তা বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেনঃ যখন থেকে আল্লাহ তাঁকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন, তখন থেকে তাঁর ইনতিকালের সময় পর্যন্ত তাঁর কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমার উপরই ন্যস্ত ছিল। যখনই তাঁর নিকট মুসলমান আসতেন এবং তিনি তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতেন, তখন আমাকে তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতেন।

তখন আমি কর্য নিয়ে তার জন্য চাদর খরিদ করে তাকে পরাতাম এবং তাকে খানাও খাওয়াতাম। এমতাবস্থায় একদা জনৈক মুশরিক আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে বলে যে, হে বিলাল! আমার কাছে অনেক ধন-দওলত আছে। কাজেই তুমি আমি ব্যতীত আর কারো থেকে ধার নিও না। তখন আমি এরূপ করতে থাকি। এ অবস্থায় একদা আমি উযু করে যখন আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, তখন আমি দেখতে পাই যে, সে মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ী সমভিব্যাহারে আমার দিকে আসছে। সে আমাকে দেখেই বলে উঠলঃ হে হাবশী! আমি বললামঃ বলুন, আমি তো হাযির। সে সময় সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালমন্দ করতে লাগল এবং বললঃ তোমার কি জানা আছে, মাসের আর কতদিন বাকী আছে?

তখন আমি বললামঃ মাস তো প্রায় শেষ। তখন সে বলেঃ তোমার মাস পূর্ণ হতে আর মাত্র চার দিন বাকী আছে। আমি তোমার নিকট হতে আমার পাওনা টাকা আদায় করে ছাড়ব, আর আমি তোমাকে তোমার পূর্বাবস্থায় নিয়ে ছাড়ব, যেরূপ তুমি আগে বকরীর পাল চরাতে। বিলাল (রাযিঃ) বলেনঃ তার এরূপ কথাবার্তায় আমি মর্মাহত হই, এরূপ ক্ষেত্রে মানুষের যেমন হয়ে থাকে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈশার নামায আদায় শেষে যখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুমতি চাইলাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর খিদমতে হাযির হওয়ার জন্য অনুমতি দেন।

আমি তাঁর নিকট আরয করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি যে মুশরিক ব্যক্তির নিকট হতে ধার নিতাম, সে আমাকে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। এখন তো আপনার নিকট এমন কোন ধন-সম্পদ নেই যা দিয়ে আপনি আমার করয পরিশোধ করতে পারেন। আর আমার কাছেও কিছু নেই; ওদিকে সে তো আমাকে বেইযযত করতে চায়। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, যাতে আমি পালিয়ে গিয়ে ঐ গোত্রের কোন লোকের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি, যারা মুসলমান হয়েছে। আর আমি ততদিন এ অবস্থায় থাকব, যতদিন না আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের জন্য এ পরিমাণ মালের সংস্থান করে দেন, যা দিয়ে আমি আমার করয পরিশোধ করতে পারি। একথা বলে আমি আমার ঘরে ফিরে আসি এবং আমার তরবারি, মোজা, জুতা এবং ঢাল আমার শিয়রে রাখি (যাতে অতি ভোরে আমি চলে যেতে পারি)।

এমতাবস্থায় যখন আমি অতি প্রত্যুষে পলায়ন করার জন্য তৈরী হলাম, তখন হঠাৎ দেখতে পাই যে, এক ব্যক্তি দৌড়ে আমার কাছে এসে বললঃ হে বিলাল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে ডাকছেন। তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, পিঠে মাল বোঝাই চারটি উট বসে আছে। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ (হে বিলাল!) তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমার করয পরিশোধের জন্য আল্লাহ তাআলা এ মাল পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এরপর তিনি আরো বলেনঃ তুমি কি দেখছ না যে, চারটি মাল-বোঝাই উট বসে আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ দেখছি। এরপর তিনি বলেনঃ এ পশুগুলো এবং এদের পিঠে যে মালামাল আছে, তা সবই তোমার। এতে কাপড় এবং খাদ্যশস্য আছে, যা ফিদাকের বিশিষ্ট ধনী নেতা হাদিয়া-স্বরূপ আমার জন্য পাঠিয়েছে। সুতরাং তুমি এসব বুঝে নাও এবং তোমার যাবতীয় দেনা পরিশোধ কর। বিলাল (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি এরূপ করি।

অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাযিঃ) বলেনঃ পরে আমি মসজিদে গিয়ে দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসে আছেন। তখন আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি যে সম্পদ পেয়েছ তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ মহান আল্লাহ ঐ সমস্ত দেনাই পরিশোধ করে দিয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর ছিল। বস্তুত ঐ দেনার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ মাল হতে কিছু কি অবশিষ্ট আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ, কিছু মাল অবশিষ্ট আছে।

তখন তিনি বলেনঃ আমি এও চাই যে, তুমি অবশিষ্ট মাল হতেও আমাকে চিন্তামুক্ত করবে (অর্থাৎ তা অতি সত্তর বিতরণ করে দেবে)। কেননা, যতক্ষণ না তুমি আমাকে তা হতে চিন্তামুক্ত করবে, ততক্ষণ আমি আমার স্বজনদের কারো কাছে ফিরে যাব না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায় শেষে আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ অবশিষ্ট মাল কি করেছ? তখন আমি বলিঃ তা আমার কাছেই আছে, তা গ্রহণের জন্য কেউ-ই আমার নিকট আসেনি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে রাত মসজিদেই কাটালেন।

এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাযিঃ) আরো বলেনঃ এরপর দ্বিতীয় দিন ইশার নামায আদায় শেষে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ যে মাল অবশিষ্ট ছিল, তুমি তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা ঐ মাল হতে আপনাকে চিন্তামুক্ত করেছেন। একথা শুনে তিনি তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এ ভয়ে যেন এরূপ না হয় যে, ঐ মাল তাঁর নিকট থাকে এবং তিনি ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি তাঁর গৃহে ফিরে যান এবং আমিও তাঁর পশ্চাতে গমন করি। পরে তিনি তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীকে আলাদাভাবে সালাম করেন এবং পরিশেষে নিজের বিশ্রামাগারে প্রবেশ করেন। এ-ই ছিল তার ব্যয় নির্বাহের ঘটনা, যে সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ।[১]

[১] উপরোক্ত হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, বিশেষ ক্ষেত্রে মুশরিকদের নিকট হতে ও হাদীয়া গ্রহণ করা বৈধ। কেননা, নবী (ﷺ) মাকূকাশ ও একীদার দুনার হাদীয়া কবুল করেছিলেন। ভিন্নমতে, কেবলমাত্র আহলে কিতাব বা ঐশী-গ্রন্থেরে অধিকারীদের হাদীয়া কবুল করা বৈধ ।
৩০৪৫

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، بِمَعْنَى إِسْنَادِ أَبِي تَوْبَةَ وَحَدِيثِهِ قَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ " مَا يَقْضِي عَنِّي " . فَسَكَتَ عَنِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاغْتَمَزْتُهَا .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৩০৪৫. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... মুআবিয়া (রাযিঃ) আবু তাওবার সনদে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতেও এ ঘটনা বিধৃত হয়েছে। তিনি তাঁর বর্ণিত হাদীসে এরূপ ব্যক্ত করেছেনঃ যখন আমি তাঁকে বলি, আমার নিকট এবং আপনার নিকট এত পরিমাণ মাল নেই, যা দিয়ে দেনা পরিশোধ করা যায়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ করে থাকেন। ব্যাপারটি আমার নিকট খুবই অসহনীয় ছিল (কেননা, আমার মনে হচ্ছিল, তিনি আমার কথায় কর্ণপাত করেননি)।

৩০৪৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، قَالَ أَهْدَيْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَاقَةً فَقَالَ " أَسْلَمْتَ " . فَقُلْتُ لاَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ " .

বর্ণনাকারী: ইয়ায ইবনে হিমার মুজাশিঈ (রাঃ)

৩০৪৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... ইয়ায ইবনে হিমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর নিকট হাদিয়া হিসাবে একটি উট পেশ করি। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি ইসলাম কবুল করেছ? তখন আমি বলিঃ না। এ সময় নবী (ﷺ) বলেনঃ মুশরিকদের নিকট হতে হাদিয়া গ্রহণ করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।

১৭৪. যমীন খণ্ড করে বন্দোবস্ত দেওয়া।

باب فِي إِقْطَاعِ الأَرَضِينَ

৩০৪৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَهُ أَرْضًا بِحَضْرَمَوْتَ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে ওয়াইল হাযরামী (রহঃ)

৩০৪৭. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) .... আলকামা ইবনে ওয়াইল (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) তাঁকে হাযরামাওতে একখণ্ড যমীন বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন।

৩০৪৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ مَطَرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে ওয়াইল হাযরামী (রহঃ)

৩০৪৮. হাফস ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আলকামা ইবনে ওয়াইল (রাহঃ)-এর সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩০৪৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ فِطْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ خَطَّ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَارًا بِالْمَدِينَةِ بِقَوْسٍ وَقَالَ " أَزِيدُكَ أَزِيدُكَ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবন হুরায়স (রাঃ)

৩০৪৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে হুরাইছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মদীনাতে ধনুকের সাহায্যে রেখা টেনে একখণ্ড যমীন প্রদান করেন এবং তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে আরো দেব, আমি তোমাকে আরো দেব।

৩০৫০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ غَيْرِ، وَاحِدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ وَهِيَ مِنْ نَاحِيَةِ الْفُرْعِ فَتِلْكَ الْمَعَادِنُ لاَ يُؤْخَذُ مِنْهَا إِلاَّ الزَّكَاةُ إِلَى الْيَوْمِ .

বর্ণনাকারী: রবীআতুর রাঈ ইবনে আবু আব্দুর রহমান (রহঃ)

৩০৫০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... রবী’আ ইবনে আবী আব্দির রহমান (রাযিঃ) কয়েক ব্যক্তি হতে শ্রবণ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফার’আর [১] পার্শ্ববর্তী স্থানে অবস্থিত কিবলিয়া [২] খনিটি বিলাল ইবনে হারিছ মুযানীকে বন্দোবস্ত প্রদান করেন। ঐ খনি হতে আজও পর্যন্ত যাকাত ছাড়া আর কিছুই নেয়া হয় না।

[১]মক্কা এবং মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ফারাআ নামক একটি স্থান আছে।
[২] ফারাআর নিকট 'কিবলীয়' নামক একটি জায়গা আছে যার নামানুসারে ঐ স্থান বা সেখানকার অধিবাসীদের কিবলীয়া বলা হয়।
৩০৫১

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ، وَغَيْرُهُ، قَالَ الْعَبَّاسُ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُوَيْسٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسِيَّهَا وَغَوْرِيَّهَا - وَقَالَ غَيْرُ الْعَبَّاسِ جَلْسَهَا وَغَوْرَهَا - وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ وَلَمْ يُعْطِهِ حَقَّ مُسْلِمٍ وَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَذَا مَا أَعْطَى مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ أَعْطَاهُ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسِيَّهَا وَغَوْرِيَّهَا " . وَقَالَ غَيْرُ الْعَبَّاسِ " جَلْسَهَا وَغَوْرَهَا " . " وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ وَلَمْ يُعْطِهِ حَقَّ مُسْلِمٍ " . قَالَ أَبُو أُوَيْسٍ وَحَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ مَوْلَى بَنِي الدِّيلِ بْنِ بَكْرِ بْنِ كِنَانَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আওফ (রাঃ)

৩০৫১. আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) .... কাছীর ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আওফ মুযানী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিলাল ইবনে হারিছ মুযানীকে কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনিটি এবং তার পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন বন্দোবস্ত দেন। উপরন্তু নবী (ﷺ) তাকে এরূপ ফরমান লিখে দেনঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। এটি ঐ ফরমান, যা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল ইবনে হারিছ মুযানীকে প্রদান করেছেন যে, কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনি, এর পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন তাঁকে বন্দোবস্ত দেওয়া হলো। এতে আর কোন মুসলমানের হক থাকলো না।

রাবী আবু উওয়ায়স বলেনঃ আমার নিকট বনু দায়লের আযাদকৃত গোলাম ছাওর ইবনে যায়দ-ইকরিমা এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৩০৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ، قَالَ سَمِعْتُ الْحُنَيْنِيَّ، قَالَ قَرَأْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ يَعْنِي كِتَابَ قَطِيعَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسِيَّهَا وَغَوْرِيَّهَا - قَالَ ابْنُ النَّضْرِ وَجَرْسَهَا وَذَاتَ النُّصُبِ ثُمَّ اتَّفَقَا - وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ . وَلَمْ يُعْطِ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ حَقَّ مُسْلِمٍ وَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَا أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ أَعْطَاهُ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسَهَا وَغَوْرَهَا وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ وَلَمْ يُعْطِهِ حَقَّ مُسْلِمٍ " . قَالَ أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ زَادَ ابْنُ النَّضْرِ وَكَتَبَ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৫২. মুহাম্মাদ ইবনে নযর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুনায়নীকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি নবী (ﷺ)-এর বন্দোবস্তু সস্পর্কিত ফরমানটি কয়েকরার পাঠ করেছি।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট কয়েক ব্যক্তি হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ (রাযিঃ) এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবু ওয়ায়স আমাকে বলেছেন যে, আমার নিকট কাছীর ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিলাল ইবনে হারিছ মুযানীকে কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনিটি বন্দোবস্ত দেন।

ইবনে নযর বলেনঃ জুরস এবং যাত-ই-নুসুবের যমীন এবং পবিত্র পাহাড়ের চাষাবাদযোগ্য যমীনও তাঁকে প্রদান করেন। বিলাল ইবনে হারিছ কোন মুসলমানকে (এর থেকে) কোন হক প্রদান করতেন না। আর নবী (ﷺ) তাকে এরূপ ফরমানও লিখে দেনঃ এটি ঐ ফরমান, যা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল ইবনে হারিছ মুযানীকে প্রদান করছেন যে, কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনি, তার পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন তাঁকে বন্দোবস্ত দেওয়া হলো। এতে আর কোন মুসলমানের হক রইলো না।

আবু উওয়ায়স বলেনঃ আমার নিকট ছাওর ইবনে যায়দ-ইকরিমা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে নযর এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত ফরমানটি উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) লিখেছিলেন।
৩০৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ قَيْسٍ الْمَأْرِبِيَّ، حَدَّثَهُمْ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ شُرَاحِيلَ، عَنْ سُمَىِّ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ شُمَيْرٍ، - قَالَ ابْنُ الْمُتَوَكِّلِ ابْنِ عَبْدِ الْمَدَانِ - عَنْ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ، أَنَّهُ وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْطَعَهُ الْمِلْحَ - قَالَ ابْنُ الْمُتَوَكِّلِ الَّذِي بِمَأْرِبَ - فَقَطَعَهُ لَهُ فَلَمَّا أَنْ وَلَّى قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ أَتَدْرِي مَا قَطَعْتَ لَهُ إِنَّمَا قَطَعْتَ لَهُ الْمَاءَ الْعِدَّ . قَالَ فَانْتَزَعَ مِنْهُ قَالَ وَسَأَلَهُ عَمَّا يُحْمَى مِنَ الأَرَاكِ قَالَ " مَا لَمْ تَنَلْهُ خِفَافٌ " . وَقَالَ ابْنُ الْمُتَوَكِّلِ " أَخْفَافُ الإِبِلِ " .

বর্ণনাকারী: আবয়ায ইবনে হাম্মাল মা’রিবী (রাঃ)

৩০৫৩. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ সাকাফী এবং মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল আসকালানী (রাহঃ) ..... আবইয়ায ইবনে হাম্মাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হন এবং লবণ খনির কিছু জমি বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য দরখাস্ত করেন।

ইবনে মুতাওয়াককিল বলেনঃ সেটি মা’আরিব নামক স্থানে অবস্থিত ছিল। তখন তিনি তা তাঁকে প্রদান করেন। যখন তিনি (ইবনে হাম্মাল) ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন মজলিসের জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ আপনি কি অবগত আছেন, কোন যমীন তাকে বন্দোবস্ত দিলেন? আপনি তো তাঁকে এমন যমীন দিলেন, যাতে সব সময় পানি থাকে। রাবী বলেনঃ তখন তিনি তাঁর নিকট হতে সে যমীন ফিরিয়ে নেন।

রাবী বলেনঃ আর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, পীলু ক্ষেতে বেড়া দিতে হবে কি না? তিনি বলেনঃ বেড়া দিতে হবে, যাতে সেখানে পদচারণা না হতে পারে।

ইবনে মুতাওয়াককিল বলেনঃ উটের পদচারণা (না হয়)।
৩০৫৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَخْزُومِيُّ " مَا لَمْ تَنَلْهُ أَخْفَافُ الإِبِلِ " يَعْنِي أَنَّ الإِبِلَ تَأْكُلُ مُنْتَهَى رُءُوسِهَا وَيُحْمَى مَا فَوْقَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৫৪. হারুন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে হাসান মাখযূমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন): উটের পদচারণা হবে না, এর অর্থ হলো, উট তো গাছের উপরিভাগ খায়, কাজেই তা রক্ষার জন্য তার উপরে বেড়া দিতে হবে।

৩০৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حِمَى الأَرَاكِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حِمَى فِي الأَرَاكِ " . فَقَالَ أَرَاكَةً فِي حِظَارِي . فَقَالَ النَّبِيُّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " لاَ حِمَى فِي الأَرَاكِ " . قَالَ فَرَجٌ يَعْنِي بِحِظَارِي الأَرْضَ الَّتِي فِيهَا الزَّرْعُ الْمُحَاطُ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: আবয়ায ইবনে হাম্মাল মা’রিবী (রাঃ)

৩০৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ কুরাশী (রাহঃ) .... আবয়ায ইবনে হাম্মাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট চারণ ভূমির জন্য পীলু বৃক্ষ সংরক্ষণের আবেদন জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পীলু বৃক্ষে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি (ইবনে হাম্মাল) বলেনঃ আমার ক্ষেতের পীলু গাছ। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ পীলু বৃক্ষ বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। রাবী ফারাজ বলেনঃ এ পীলু বৃক্ষ দ্বারা ঐ যমীনের গাছের কথা বলা হয়েছে, যা তার ফসলের ক্ষেত্রের চারদিকের সীমানায় লাগান ছিল।

৩০৫৬

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبُو حَفْصٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ عُمَرُ - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ - قَالَ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، صَخْرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَا ثَقِيفًا فَلَمَّا أَنْ سَمِعَ ذَلِكَ صَخْرٌ رَكِبَ فِي خَيْلٍ يُمِدُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِ انْصَرَفَ وَلَمْ يَفْتَحْ فَجَعَلَ صَخْرٌ يَوْمَئِذٍ عَهْدَ اللَّهِ وَذِمَّتَهُ أَنْ لاَ يُفَارِقَ هَذَا الْقَصْرَ حَتَّى يَنْزِلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُفَارِقْهُمْ حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَتَبَ إِلَيْهِ صَخْرٌ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ ثَقِيفًا قَدْ نَزَلَتْ عَلَى حُكْمِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنَا مُقْبِلٌ إِلَيْهِمْ وَهُمْ فِي خَيْلٍ . فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّلاَةِ جَامِعَةً فَدَعَا لأَحْمَسَ عَشْرَ دَعَوَاتٍ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأَحْمَسَ فِي خَيْلِهَا وَرِجَالِهَا " . وَأَتَاهُ الْقَوْمُ فَتَكَلَّمَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ صَخْرًا أَخَذَ عَمَّتِي وَدَخَلَتْ فِيمَا دَخَلَ فِيهِ الْمُسْلِمُونَ . فَدَعَاهُ فَقَالَ " يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ فَادْفَعْ إِلَى الْمُغِيرَةِ عَمَّتَهُ " . فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ وَسَأَلَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِبَنِي سُلَيْمٍ قَدْ هَرَبُوا عَنِ الإِسْلاَمِ وَتَرَكُوا ذَلِكَ الْمَاءَ . فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنْزِلْنِيهِ أَنَا وَقَوْمِي . قَالَ " نَعَمْ " . فَأَنْزَلَهُ وَأَسْلَمَ - يَعْنِي السُّلَمِيِّينَ - فَأَتَوْا صَخْرًا فَسَأَلُوهُ أَنْ يَدْفَعَ إِلَيْهِمُ الْمَاءَ فَأَبَى فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَسْلَمْنَا وَأَتَيْنَا صَخْرًا لِيَدْفَعَ إِلَيْنَا مَاءَنَا فَأَبَى عَلَيْنَا . فَأَتَاهُ فَقَالَ " يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْ إِلَى الْقَوْمِ مَاءَهُمْ " . قَالَ نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ . فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَغَيَّرُ عِنْدَ ذَلِكَ حُمْرَةً حَيَاءً مِنْ أَخْذِهِ الْجَارِيَةَ وَأَخْذِهِ الْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: সাখর ইবনে আইলা (রাঃ)

৩০৫৬. উমর ইবনে খাত্তাব আবু হাফস (রাহঃ) .... সাখার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাকীফের উপর জিহাদ পরিচালনা করেন। সাখার (রাযিঃ) এ খবর শুনে কিছু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে নবী (ﷺ) এর সাহাজার্থে সেখানে পৌছান। তিনি সেখানে পৌছে দেখতে পান যে, নবী (ﷺ) ছাকীফ গোত্রের অবস্থান দুর্গ জয় না করে ফিরে আসছেন। এ সময় সাখার (রাযিঃ) মহান আল্লাহর নিকট এরূপ ওয়াদা করেন এবং তার যিম্মাদারী নেন যে, যতক্ষণ না এ দুর্গের লোকজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আনুগত্য স্বীকার করে, ততক্ষণ আমি এ দুর্গ পরিত্যাগ করব না (অর্থাৎ অবরোধ করে রাখব)।

বস্তুত যতক্ষণ না ঐ দুর্গের লোকজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনুগত্য স্বীকার করলো, ততক্ষণ সাখার (রাযিঃ) সেখান হতে সরলেন না। অবশেষে সে দুর্গ বিজয়ের পর তিনি তাঁর নিকট এরূপ পত্র লিখেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছাকীফ গোত্রের লোকেরা আপনার নির্দেশ মত দুর্গ হতে অবতরণ করেছে। এখন আমি তাদের নিকট যাচ্ছি, তাদের কাছে অনেক ঘোড়া আছে। (এ খবর পাওয়ার পর) নবী (ﷺ) সকলকে জামাআতে নামায আদায়ের জন্য নির্দেশ দেন এবং (নামায শেষে) দশ বার আহমাস গোত্রের জন্য এরূপ দুআ করেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আহমাসের ঘোড়ায় এবং লোকে বরকত দান করুন।

এরপর সাখার (রাযিঃ) এবং তাঁর সাথীরা তাঁর নিকট আসেন। তখন মুগীরা ইবনে শো’বা (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! সাখার আমার ফুফীকে বন্দী করেছেন অথচ সে মুসলমান হয়েছে। তখন তিনি তাঁকে ডেকে বলেনঃ হে সাখার! যখন কোন কওম মুসলমান হয়, তখন তাদের জান-মালের হিফাযত করবে। তুমি মুগীরার ফুফীকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দাও। তখন তিনি তাকে (ফুফীকে) তাঁর (মুগীরার) হাতে প্রত্যর্পণ করেন। এরপর তিনি (সাখার) নবী (ﷺ)-এর নিকট এরূপ আবেদন করেন যে, বনু সালীমের একটি পুকুর আছে। তারা ইসলাম পরিত্যাগ করায় তা ছেড়ে চলে গেছে। অতএব, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে এবং আমার কওমকে ঐ পুকুরের নিকট বসবাসের অনুমতি দিন। তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক আছে। অতঃপর তিনি সেখানে বসবাস করতে থাকেন।

অবশেষে বনু-সালীম ইসলাম গ্রহণ করার পর সাখার (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো এবং তাঁর কাছে তাদের পুকুরটি ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করল। কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এরপর তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয় এবং বলেঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা ইসলাম কবুলের পর সাখারের কাছে গিয়েছিলাম, যাতে তিনি আমাদের পুকুরটি আমাদের ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করছেন। তখন তিনি তাঁকে (সাখার) ডাকান এবং বলেনঃ হে সাখার! যখন কোন কওম ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তাদের জান-মাল নিরাপদ হয়ে যায়। সুতরাং ঐ কওমের পুকুরটি তাদের ফিরিয়ে দাও। তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ দেব হে আল্লাহর নবী! সাখার বলেনঃ তখন আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারার রং লাজ-বিনম্রতার কারণে সাখার (রাযিঃ) হতে দাসী এবং পুকুর ফিরিয়ে দেওয়ায় পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছে।
৩০৫৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي سَبْرَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الرَّبِيعِ الْجُهَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ فِي مَوْضِعِ الْمَسْجِدِ تَحْتَ دَوْمَةٍ فَأَقَامَ ثَلاَثًا ثُمَّ خَرَجَ إِلَى تَبُوكَ وَإِنَّ جُهَيْنَةَ لَحِقُوهُ بِالرَّحْبَةِ فَقَالَ لَهُمْ " مَنْ أَهْلُ ذِي الْمَرْوَةِ " . فَقَالُوا بَنُو رِفَاعَةَ مِنْ جُهَيْنَةَ . فَقَالَ " قَدْ أَقْطَعْتُهَا لِبَنِي رِفَاعَةَ " . فَاقْتَسَمُوهَا فَمِنْهُمْ مَنْ بَاعَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَمْسَكَ فَعَمِلَ ثُمَّ سَأَلْتُ أَبَاهُ عَبْدَ الْعَزِيزِ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَحَدَّثَنِي بِبَعْضِهِ وَلَمْ يُحَدِّثْنِي بِهِ كُلِّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাবরাহ ইবন্ মা'বাদ রাযি.

৩০৫৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ মোহরী (রাহঃ) ..... সাবুরা ইবনে আব্দিল আযীয ইবনে রবী জুহানী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) (জুহানিয়াদের এলাকায়) মসজিদের স্থানে একটি গাছের ঝাড়ের নীচে তিন দিন অবস্থান করেন। এরপর সেখান থেকে তিনি তাবুক অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় জুহায়নারা তাঁর সঙ্গে রাহবা নামক স্থানে সাক্ষাত করে। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ এখানে কারা বসবাস করে? তারা জওয়াবে বলেঃ জুহায়না সম্প্রদায়ের বনু রিফা’আ গোত্রের লোকেরা। তখন তিনি বলেনঃ আমি এ যমীন বনু রিফাআ গোত্রের লোকদের প্রদান করছি। তারা ঐ যমীন হতে স্ব স্ব অংশ বন্টন করে নেয়, যার কিছু অংশ তারা পরবর্তীকালে বিক্রি করে দেয় এবং কিছু লোক তা চাষাবাদ করতে থাকে।

রাবী ইবনে ওয়াহব বলেনঃ আমি পরে আব্দুল আযীযকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি এর কিছু অংশ আমার নিকট বর্ণনা করেন। তিনি পূর্ণ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেন নি।
৩০৫৮

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ آدَمَ - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ الزُّبَيْرَ نَخْلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৩০৫৮. হুসাইন ইবনে আলী (রাহঃ) .... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুবাইর (রাযিঃ)-কে একটি খেজুর বাগান বন্দোবস্ত দেন।

৩০৫৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَتْنِي جَدَّتَاىَ، صَفِيَّةُ وَدُحَيْبَةُ ابْنَتَا عُلَيْبَةَ وَكَانَتَا رَبِيبَتَىْ قَيْلَةَ بِنْتِ مَخْرَمَةَ وَكَانَتْ جَدَّةَ أَبِيهِمَا أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُمَا قَالَتْ، قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ تَقَدَّمَ صَاحِبِي - تَعْنِي حُرَيْثَ بْنَ حَسَّانَ وَافِدَ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ - فَبَايَعَهُ عَلَى الإِسْلاَمِ عَلَيْهِ وَعَلَى قَوْمِهِ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اكْتُبْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ بَنِي تَمِيمٍ بِالدَّهْنَاءِ أَنْ لاَ يُجَاوِزَهَا إِلَيْنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ إِلاَّ مُسَافِرٌ أَوْ مُجَاوِرٌ . فَقَالَ " اكْتُبْ لَهُ يَا غُلاَمُ بِالدَّهْنَاءِ " . فَلَمَّا رَأَيْتُهُ قَدْ أَمَرَ لَهُ بِهَا شُخِصَ بِي وَهِيَ وَطَنِي وَدَارِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَمْ يَسْأَلْكَ السَّوِيَّةَ مِنَ الأَرْضِ إِذْ سَأَلَكَ إِنَّمَا هِيَ هَذِهِ الدَّهْنَاءُ عِنْدَكَ مُقَيَّدُ الْجَمَلِ وَمَرْعَى الْغَنَمِ وَنِسَاءُ بَنِي تَمِيمٍ وَأَبْنَاؤُهَا وَرَاءَ ذَلِكَ فَقَالَ " أَمْسِكْ يَا غُلاَمُ صَدَقَتِ الْمِسْكِينَةُ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ يَسَعُهُمَا الْمَاءُ وَالشَّجَرُ وَيَتَعَاوَنَانِ عَلَى الْفُتَّانِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩০৫৯. হাফস ইবনে উমর ও মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে হাসসান আনবারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার নিকট আমার দাদী এবং নানী, যাঁদের যথাক্রমে নাম হলোঃ সাফিয়া এবং দুহায়বা, যারা উলায়বার কন্যা ছিলেন, তাঁরা উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির হই। তিনি বলেনঃ আমাদের সাথী হারিছ ইবনে হাসসান-যিনি বকর ইবনে ওয়াইল গোত্রের তরফ হতে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আসেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন। এরপর তিনি তাঁর নিকট নিজে এবং তার কওমের পক্ষ হতে বায়’আত গ্রহণ করেন।

অতঃপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের এবং বনু তামীম গোত্রের মধ্যকার সীমান্ত ’দুহনা’ নামক স্থানকে চিহ্নিত করে দিন, যা অতিক্রম করে মুসাফির এবং সামনে অগ্রগামী ব্যক্তি ব্যতীত, ওদের কেউ-ই যেন আমাদের নিকটে না আসতে পারে। তখন তিনি বলেনঃ হে বৎস! তার জন্য ’দুহনাকে’ লিখে দাও।

রাবী বলেনঃ যখন আমি দেখতে পাই যে, তিনি ’দুহনা’ নামক স্থানটি তাকে দিয়ে দিলেন, তখন আমার খুব দুঃখ হয়। কেননা দুহনা ছিল আমার জন্মভূমি। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি ইনসাফের ভিওিতে আপনার নিকট সীমানা চিহ্নিত করার জন্য আবেদন করেনি। কেননা দুহনা হলো উট বাঁধার স্থান ও বকরী চরাবার স্থান এবং এর পেছনেই বনু তামীমের স্ত্রীলোক ও বাচ্চারা বসবাস করে।

এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ হে বৎস! একটু অপেক্ষা কর। এ দুর্বল বৃদ্ধা ঠিকই বলেছে। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। তারা একে অপরের পানি ও গাছপালা হতে উপকার নিতে পারে। তাদের উচিত, বিপদের সময় একে অন্যের সাহায্য করা।
৩০৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ جَنُوبٍ بِنْتُ نُمَيْلَةَ، عَنْ أُمِّهَا، سُوَيْدَةَ بِنْتِ جَابِرٍ عَنْ أُمِّهَا، عَقِيلَةَ بِنْتِ أَسْمَرَ بْنِ مُضَرِّسٍ عَنْ أَبِيهَا، أَسْمَرَ بْنِ مُضَرِّسٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْتُهُ فَقَالَ " مَنْ سَبَقَ إِلَى مَاءٍ لَمْ يَسْبِقْهُ إِلَيْهِ مُسْلِمٌ فَهُوَ لَهُ " . قَالَ فَخَرَجَ النَّاسُ يَتَعَادَوْنَ يَتَخَاطُّونَ .

বর্ণনাকারী: আসমার ইবনে মুদাররিস (রাঃ)

৩০৬০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আসমার ইবনে মুয়াররিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট বায়’আত গ্রহণ করি। তখন তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন পানির (কূপ বা ঝরনা) নিকট পৌছায়, যেখানে তার আগে আর কোন মুসলমান পৌছেনি, সে ব্যক্তি তার মালিক হবে।

রাবী বলেনঃ (এ কথা শুনে ) তখন লোকেরা একে অপরকে অতিক্রম করে, দ্রুতগতিতে পানির সন্ধানে বেরিয়ে যায়।
৩০৬১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ الزُّبَيْرَ حُضْرَ فَرَسِهِ فَأَجْرَى فَرَسَهُ حَتَّى قَامَ ثُمَّ رَمَى بِسَوْطِهِ فَقَالَ " أَعْطُوهُ مِنْ حَيْثُ بَلَغَ السَّوْطُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৬১. আহমদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যুবাইর (রাযিঃ)-কে এত পরিমাণ জায়গীর দেন, যতদূর তাঁর ঘোড়া দৌড়ে যেতে পারে। এরপর তিনি তাঁর ঘোড়া দৌড়ান এবং দৌড়ের পর থেমে তাঁর হাতের চাবুক ফেলে দেন। তখন তিনি বলেনঃ যতদূর তাঁর চাবুক গিয়েছে, ততদূর তাঁকে দিয়ে দাও।

১৭৫. অনাবাদী যমীন আবাদ করা।

باب فِي إِحْيَاءِ الْمَوَاتِ

৩০৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৩০৬২. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে তার মালিক হবে। আর যদি কোন যালিম অন্যের জমিতে গাছ লাগায়, তবে সে তার মালিক হবে না।

৩০৬৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ يَحْيَى بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ " . وَذَكَرَ مِثْلَهُ قَالَ فَلَقَدْ خَبَّرَنِي الَّذِي حَدَّثَنِي هَذَا الْحَدِيثَ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَرَسَ أَحَدُهُمَا نَخْلاً فِي أَرْضِ الآخَرِ فَقَضَى لِصَاحِبِ الأَرْضِ بِأَرْضِهِ وَأَمَرَ صَاحِبَ النَّخْلِ أَنْ يُخْرِجَ نَخْلَهُ مِنْهَا . قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُهَا وَإِنَّهَا لَتُضْرَبُ أُصُولُهَا بِالْفُئُوسِ وَإِنَّهَا لَنَخْلٌ عُمٌّ حَتَّى أُخْرِجَتْ مِنْهَا .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩০৬৩. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে তার মালিক হবে। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ আমার নিকট ঐ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি আমার কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একটি মামলা পেশ করে। (যা ছিল) এদের এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির যমীনে একটি খেজুর গাছ লাগায়। তখন তিনি এরূপ ফয়সালা দেনঃ জমির মালিক তার যমীন পাবে এবং গাছের মালিক তার গাছ সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।

রাবী বলেনঃ এরপর আমি দেখি যে, কুড়াল দিয়ে সে গাছটি কাটা হচ্ছে। কেননা তা বেশ বড় ছিল। পরে তা সেখান হতে সরিয়ে নেয়া হয়।
৩০৬৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ مَكَانَ الَّذِي حَدَّثَنِي هَذَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَكْثَرُ ظَنِّي أَنَّهُ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ فَأَنَا رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَضْرِبُ فِي أُصُولِ النَّخْلِ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহঃ)

৩০৬৪. আহমদ ইবনে সাঈদ দারিমী (রাহঃ) .... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে। অবশ্য তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের থেকে জনৈক সাহাবী বর্ণনা করেছেন।

রাবী বলেনঃ আমার ধারণা, তিনি হলেন আবু সাঈদ খুদরী। তিনি বলেনঃ আমি তাকে কুড়াল দিয়ে গাছের গোড়ায় আঘাত করতে দেখেছি।
৩০৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الآمُلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الأَرْضَ أَرْضُ اللَّهِ وَالْعِبَادَ عِبَادُ اللَّهِ وَمَنْ أَحْيَا مَوَاتًا فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ جَاءَنَا بِهَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِينَ جَاءُوا بِالصَّلَوَاتِ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩০৬৫. আহমদ ইবনে আব্দা আমিলী (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেনঃ সমস্ত যমীনই আল্লাহর এবং বান্দারা সবাই আল্লাহর বান্দা। কাজেই, যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে ব্যক্তি তার মালিক হবে।

রাবী বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর এ হাদীসটি আমার নিকট তারা বর্ণনা করেছেন, যারা তাঁর নিকট হতে নামাযের হাদীস বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ সাহাবাগণ)।
৩০৬৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَاطَ حَائِطًا عَلَى أَرْضٍ فَهِيَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩০৬৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমির সীমানা চিহ্নিত করবে বা দেওয়াল দিবে, সে তার মালিক হবে।

৩০৬৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، قَالَ هِشَامٌ الْعِرْقُ الظَّالِمُ أَنْ يَغْرِسَ الرَّجُلُ فِي أَرْضِ غَيْرِهِ فَيَسْتَحِقَّهَا بِذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَالْعِرْقُ الظَّالِمُ كُلُّ مَا أُخِذَ وَاحْتُفِرَ وَغُرِسَ بِغَيْرِ حَقٍّ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৩০৬৭. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহা (রাহঃ) ..... মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হিশাম বলেছেনঃ ইরকুয-যালিম বা যবরদখলকারী যালিম ঐ ব্যক্তি, যে অন্যের যমীনে গাছ লাগিয়ে তার মালিক হতে চায়।

রাবী বলেনঃ ইরকুয-যালিম হলোঃ অন্যের যমীন হতে কিছু যবরদখল করা, তাতে গর্ত করা এবং না-হক বৃক্ষ রোপণ করা।
৩০৬৮

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنِ الْعَبَّاسِ السَّاعِدِيِّ، - يَعْنِي ابْنَ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ - عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَبُوكَ فَلَمَّا أَتَى وَادِيَ الْقُرَى إِذَا امْرَأَةٌ فِي حَدِيقَةٍ لَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " اخْرُصُوا " . فَخَرَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشَرَةَ أَوْسُقٍ فَقَالَ لِلْمَرْأَةِ " أَحْصِي مَا يَخْرُجُ مِنْهَا " . فَأَتَيْنَا تَبُوكَ فَأَهْدَى مَلِكُ أَيْلَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَغْلَةً بَيْضَاءَ وَكَسَاهُ بُرْدَةً وَكَتَبَ لَهُ - يَعْنِي - بِبَحْرِهِ . قَالَ فَلَمَّا أَتَيْنَا وَادِيَ الْقُرَى قَالَ لِلْمَرْأَةِ " كَمْ كَانَ فِي حَدِيقَتِكِ " . قَالَتْ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ خَرْصَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي مُتَعَجِّلٌ إِلَى الْمَدِينَةِ فَمَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يَتَعَجَّلَ مَعِي فَلْيَتَعَجَّلْ " .

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৩০৬৮. সাহল ইবনে বাককার (রাহঃ) ...... আবু হুমায়দ সা’ঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুকের যুদ্ধে গমন করেছিলাম। যখন তিনি ’ওয়াদিয়ে কুরা’ নামক স্থানে পৌছান, তখন তিনি একজন মহিলাকে দেখতে পান, যে তার বাগানে বসা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের বলেনঃ এ বাগানে কত ফল আছে, তা তোমরা অনুমান কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে ’দশ-ওয়াসাক’ পরিমাণ ফল আছে বলে অনুমান করেন।

পরে তিনি সে মহিলাকে বলেনঃ এ বাগানে কত ফল উৎপন্ন হয়, তুমি তার হিসাব রাখবে। অবশেষে আমরা তাবূক পৌছাই। তখন ’ঈলা’ নামক স্থানের নেতা একটা সাদা বর্ণের খচ্চর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাদিয়া হিসাবে প্রদান করেন। আর তিনি তাঁকে একটি চাদর দেন এবং তাকে বাহর এলাকার যমীনের লিখিত বন্দোবস্ত প্রদান করেন।

রাবী বলেনঃ ফেরার পথে আমরা ওয়াদিয়ে কুরা’তে যখন পৌছাই, তখন তিনি তাকে (সে মহিলাকে) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার বাগানে কি পরিমাণ ফল উংপন্ন হয়েছে? সে (মহিলা) বলেঃ ’দশ ওয়াসাক’ পরিমাণ, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগে অনুমাণ করেছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি দ্রুত মদীনায় ফিরে যেতে চাই। কাজেই তোমাদের যে আমার সঙ্গে দ্রুত চলতে চায়, সে যেন দ্রুত করে।
৩০৬৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ، عَنْ زَيْنَبَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَفْلِي رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ امْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَنِسَاءٌ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ وَهُنَّ يَشْتَكِينَ مَنَازِلَهُنَّ أَنَّهَا تَضِيقُ عَلَيْهِنَّ وَيُخْرَجْنَ مِنْهَا فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُوَرَّثَ دُورَ الْمُهَاجِرِينَ النِّسَاءُ فَمَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَوَرِثَتْهُ امْرَأَتُهُ دَارًا بِالْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)

৩০৬৯. আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গায়াছ (রাহঃ) ..... যয়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চুলে উকুন তালাশ করছিলেন। এ সময় তাঁর নিকট উছমান (রাযিঃ) এর স্ত্রী ও কয়েকজন মুহাজির মহিলা বসা ছিলেন, যারা তাদের ঘর-বাড়ীর ব্যাপারে অভিযোগ করছিল যে, সেখান বসবাস করতে আমাদের কষ্ট হয় এবং (স্বামীর মৃত্যুর পর) তাদের সেখান হতে বের করে দেওয়া হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ নির্দেশ দেনঃ মুহাজিরদের স্ত্রীরা তাদের ঘরের উত্তরাধিকারী হবে। ফলে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী তাঁর ঐ বাড়ীর উত্তরাধিকারী হন, যা মদীনাতে ছিল।

১৭৬. খারাজী যমীন ক্রয় করা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الدُّخُولِ فِي أَرْضِ الْخَرَاجِ

৩০৭০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ سُمَيْعٍ - حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّهُ قَالَ مَنْ عَقَدَ الْجِزْيَةَ فِي عُنُقِهِ فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩০৭০. হারুন ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের উপর জিযিয়া কর ধার্য করল, সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরীকা হতে মুক্ত হয়ে দূরে সরে গেল।

৩০৭১

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ أَبِي الشَّعْثَاءِ، حَدَّثَنِي سِنَانُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنِي شَبِيبُ بْنُ نُعَيْمٍ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَخَذَ أَرْضًا بِجِزْيَتِهَا فَقَدِ اسْتَقَالَ هِجْرَتَهُ وَمَنْ نَزَعَ صَغَارَ كَافِرٍ مِنْ عُنُقِهِ فَجَعَلَهُ فِي عُنُقِهِ فَقَدْ وَلَّى الإِسْلاَمَ ظَهْرَهُ " . قَالَ فَسَمِعَ مِنِّي خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ لِي أَشَبِيبٌ حَدَّثَكَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَإِذَا قَدِمْتَ فَسَلْهُ فَلْيَكْتُبْ إِلَىَّ بِالْحَدِيثِ . قَالَ فَكَتَبَهُ لَهُ فَلَمَّا قَدِمْتُ سَأَلَنِي خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ الْقِرْطَاسَ فَأَعْطَيْتُهُ فَلَمَّا قَرَأَهُ تَرَكَ مَا فِي يَدَيْهِ مِنَ الأَرَضِينَ حِينَ سَمِعَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ الْيَزَنِيُّ لَيْسَ هُوَ صَاحِبَ شُعْبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩০৭১. হায়ওয়া ইবনে শুরায়হ হাযরামী (রাহঃ) ..... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিযিয়া কর দেওয়ার শর্তে কোন যমীন ক্রয় করলো, সে যেন নিজের হিজরতের শর্ত ভঙ্গ করলো।[১] আর যে ব্যক্তি কাফিরের অমর্যাদা তার গর্দান হতে টেনে নিজের গর্দানে পরাল, সে যেন ইসলাম হতে তার পিঠ ফিরিয়ে নিল।

রাবী বলেনঃ খালিদ ইবনে মা’দান (রাহঃ) আমার নিকট হতে এ হাদীস শ্রবণ করে আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ শুবায়ব কি তোমার নিকট উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি যখন তাঁর কাছে যাবে, তখন তাঁকে বলবে, তিনি যেন উক্ত হাদীস লিখে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন।

রাবী বলেনঃ অতঃপর শুবায়ব উক্ত হাদীস খালিদের জন্য লিখে দেন। পরে আমি ফিরে আসলে খালিদ ইবনে মা’দান (রাহঃ) ঐ কাগজটি আমার নিকট চান। তখন সেটি আমি তাকে প্রদান করি। যখন তিনি তা পাঠ করেন, তখন তিনি তাঁর কাছে যত খারাযী যমীন ছিল, তার সবই ছেড়ে দেন।

[১] কোন যুদ্ধে মুসলমানরা যে যমীন জয় করে এবং কাফিররা সেখানে জিযিয়াকর দেওয়ার শর্তে বসবাস করে। এ যমীন যদি কোন মুসলমান ঐ কাফির হতে এ শর্তে খরিদ করে যে, সে উহা ভোগ করবে এবং উহার জিযিয়া-কর আদায় করবে। এরূপ করা আদৌ বৈধ নয়।

১৭৭. কোন যমীনের ঘাস বা পানি ইমাম বা কোন ব্যক্তির সংরক্ষণ করা সম্পর্কে।

باب فِي الأَرْضِ يَحْمِيهَا الإِمَامُ أَوِ الرَّجُلُ

৩০৭২

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ حِمَى إِلاَّ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَبَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَمَى النَّقِيعَ .

বর্ণনাকারী: সা'ব ইবনে জাসসামাহ লায়ছী (রাঃ)

৩০৭২. ইবনে সারহ (রাহঃ) ...... সা’ব ইবনে জাছছামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পতিত চারণভূমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের।

রাবী ইবনে শিহাব বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’নাকী’ নামক স্থানে চারণভূমি তৈরী করেছিলেন।
৩০৭৩

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَمَى النَّقِيعَ وَقَالَ " لاَ حِمَى إِلاَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: সা'ব ইবনে জাসসামাহ লায়ছী (রাঃ)

৩০৭৩. সা’ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... সা’ব ইবনে জাছছামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ’নাকী’ নামক স্থানে চারণভূমি তৈরী করে বলেছিলেনঃ চারণভূমি কেবল মহান আল্লাহর-ই (এতে আর কারো মালিকানা নেই)।

১৭৮. খনিজ দ্রব্য সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الرِّكَازِ وَمَا فِيهِ

৩০৭৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ " .

حدَّثنا يحيى بن أيوبَ، حدَّثنا عبّاد بن العوّام، عن هشَام، عن الحسن، قال: الركازُ: الكنزُ العادِيّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৭৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খনিজ দ্রব্য হতে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নেয়া হবে।

আল-হাসান (রহঃ) বলেন, রিকায অর্থ ইসলাম-পূর্ব যুগে ভূগর্ভে প্রোথিত সম্পদ।
৩০৭৫

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا الزَّمْعِيُّ، عَنْ عَمَّتِهِ، قُرَيْبَةَ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أُمِّهَا، كَرِيمَةَ بِنْتِ الْمِقْدَادِ عَنْ ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا قَالَتْ، ذَهَبَ الْمِقْدَادُ لِحَاجَتِهِ بِبَقِيعِ الْخَبْخَبَةِ فَإِذَا جُرَذٌ يُخْرِجُ مِنْ جُحْرٍ دِينَارًا ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يُخْرِجُ دِينَارًا دِينَارًا حَتَّى أَخْرَجَ سَبْعَةَ عَشَرَ دِينَارًا ثُمَّ أَخْرَجَ خِرْقَةً حَمْرَاءَ - يَعْنِي فِيهَا دِينَارٌ - فَكَانَتْ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ دِينَارًا فَذَهَبَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ وَقَالَ لَهُ خُذْ صَدَقَتَهَا . فَقَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم " هَلْ هَوَيْتَ إِلَى الْجُحْرِ " . قَالَ لاَ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا " .

বর্ণনাকারী: দুবাআ বিনতে যুবায়র (রাঃ)

৩০৭৫. জা’ফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) ..... যায়াআ’ বিনতে যুবাইর ইবনে আব্দিল মুত্তালিব ইবনে হাশিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মিকদাদ (রাযিঃ) প্রকৃতির ডাকে ’নাকীয়ে খাবখাবা’[১] নামক স্থানে গমন করেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পান যে, একটা ইঁদুর একটা গর্ত হতে একটা দীনার বের করে আনলো। এরপর সে একটার পর একটা দীনার বের করে আনতে লাগলো, এমনকি সে সতেরটি দীনার বের করে আনে। অবশেষে সে (ইঁদুরটি) একটা লালবর্ণের থলি বের করে আনে, তাতেও একটি দীনার ছিল। সব মিলিয়ে দীনারের সংখ্যা হয় আঠারটি। তখন তিনি (মিকদাদ) তা নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলেনঃ আপনি এর যাকাত গ্রহণ করুন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি নিজে কি এ সব গর্ত থেকে বের করেছ? তিনি বলেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেনঃ আল্লাহ্ এতে তোমাকে বরকত দিন।[১]

[১] মদীনার প্রান্ত-ভাগে জঙ্গলকীর্ণ একটা স্থান। সম্ভবতঃ হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) প্রকৃতির আহবানে সাড়া দেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
[২] বস্তুত হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) নিজে গর্ত হতে স্বর্ণমুদ্রা বের করেননি। সে জন্য নবী (ﷺ) এ মালের উপর রিকায বা প্রোথিত মালের হুকুম আরোপ করেননি, যাতে খুমুস বা এক-পঞ্জমাংশ ওয়াজিব হয়। বরং তিনি ঐ মালকে লুকতা (পড়ে পাওয়া) হিসাবে গণ্য করেন এবং তিনি তা মিকদাদ (রাযিঃ) কে প্রদান করে বরকতের জন্য দু'আ করেন।

১৭৯. কাফিরদের পুরাতন কবর খোঁড়া সম্পর্কে।

باب نَبْشِ الْقُبُورِ الْعَادِيَّةِ

৩০৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ بُجَيْرِ بْنِ أَبِي بُجَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ خَرَجْنَا مَعَهُ إِلَى الطَّائِفِ فَمَرَرْنَا بِقَبْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا قَبْرُ أَبِي رِغَالٍ وَكَانَ بِهَذَا الْحَرَمِ يَدْفَعُ عَنْهُ فَلَمَّا خَرَجَ أَصَابَتْهُ النِّقْمَةُ الَّتِي أَصَابَتْ قَوْمَهُ بِهَذَا الْمَكَانِ فَدُفِنَ فِيهِ وَآيَةُ ذَلِكَ أَنَّهُ دُفِنَ مَعَهُ غُصْنٌ مِنْ ذَهَبٍ إِنْ أَنْتُمْ نَبَشْتُمْ عَنْهُ أَصَبْتُمُوهُ مَعَهُ " . فَابْتَدَرَهُ النَّاسُ فَاسْتَخْرَجُوا الْغُصْنَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩০৭৬. ইয়াহয়া ইবনে মাঈন (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তায়েফ গমনকালে একটা কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ কবরটি ’আবু রিগাল’ নামক জনৈক ব্যক্তির। যে আযাব থেকে নাজাতের আশায় এ হেরেমে বসবাস করত। এরপর সে যখন হেরেম থেকে বের হয়, তখন তাকে আযাবে গ্রেফতার করে, যা তার কওমের উপর এ স্থানে আপতিত হয়েছিল।[১] তাকে এ স্থানে দাফন করা হয়েছে। আর এর নিদর্শন হলোঃ তার সাথে সোনার পাতও এখানে দাফন করা আছে। যদি তোমরা তার কবর খুঁড়ে ফেল, তবে তোমরা তা পেয়ে যাবে। এ খবর শুনে লোকেরা কবরের কাছে গেল এবং সোনার পাত বের করে নিল।[২]

[১] তারা ভূমি কম্পে ধ্বংষ হয়েছিল।
[২] উপরোক্ত ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবনের অন্যতম দু'জিয়া। হাজার বছরের পুরাতন কবর তিনি আল্লাহর নির্দেশে সঠিকভাবে বলে দেন। যার বাস্তবতা কবর খুঁড়ার পর প্রমাণিত হয়। এর দ্বারা প্রমাণিত যে, যদি কোন কাফিরের কবরের মাঝে ধন-সম্পদ পোতা আছে বলে জানা যায়, তবে তা কবর খুঁড়ে বের করে নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য ধারণার বশবর্তী হয়ে এরূপ করা যুক্তি-যুক্ত নয়। কেননা, আমরা জানিনা, কোন কবরের অবস্থা বিরুপ। এজন্য কবরের মালে মৃতের অবস্থা প্রচ্ছন্ন থাকতে দেওয়াই উচিত। বিশেষ করে কাফিরদের কবর, যাতে আমার হওয়া অবশ্যম্ভাবী। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে কাফিরদের কবর খুঁড়ে ফেলা বৈধ।