كتاب الملاحم

৩২. যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা

অধ্যায় ৩২ · ৫৯ টি হাদীস

১. শতাব্দীর বর্ণনা সম্পর্কে।

باب مَا يُذْكَرُ فِي قَرْنِ الْمِائَةِ

৪২৪১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ شَرَاحِيلَ بْنِ يَزِيدَ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِيمَا أَعْلَمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ لَمْ يَجُزْ بِهِ شَرَاحِيلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪১. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার জানামতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ এ উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীতে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি দ্বীনের ‘তাজদীদ’ বা সংস্কার সাধন করবেন।

২. রোমের যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পর্কে।

باب مَا يُذْكَرُ مِنْ مَلاَحِمِ الرُّومِ

৪২৪২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ مَالَ مَكْحُولٌ وَابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا إِلَى خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَمِلْتُ مَعَهُمْ فَحَدَّثَنَا عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ الْهُدْنَةِ، قَالَ قَالَ جُبَيْرٌ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى ذِي مِخْبَرٍ - رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - فَأَتَيْنَاهُ فَسَأَلَهُ جُبَيْرٌ عَنِ الْهُدْنَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " سَتُصَالِحُونَ الرُّومَ صُلْحًا آمِنًا فَتَغْزُونَ أَنْتُمْ وَهُمْ عَدُوًّا مِنْ وَرَائِكُمْ فَتُنْصَرُونَ وَتَغْنَمُونَ وَتَسْلَمُونَ ثُمَّ تَرْجِعُونَ حَتَّى تَنْزِلُوا بِمَرْجٍ ذِي تُلُولٍ فَيَرْفَعُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّصْرَانِيَّةِ الصَّلِيبَ فَيَقُولُ غَلَبَ الصَّلِيبُ فَيَغْضَبُ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَيَدُقُّهُ فَعِنْدَ ذَلِكَ تَغْدِرُ الرُّومُ وَتَجْمَعُ لِلْمَلْحَمَةِ " .

বর্ণনাকারী: জুবাইর ইবন নুফাইর (রহঃ)

৪২৪২. নুফায়লী (রাহঃ) .... জুবাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জুবাইর (রাহঃ) বলেনঃ আমার সাথে নবী (ﷺ) এর এক সাহাবী ‘মিখবার’ (রাযিঃ)-এর কাছে চলো। আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত হলে, জুবাইর (রাহঃ) তাকে সন্ধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, “তোমরা অচিরেই রোমের সাথে সন্ধি করবে”। এরপর তোমরা ও তারা সম্মিলিতভাবে অন্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাতে বিজয়ী হয়ে গনিমতের মাল হাসিল করবে।

এরপর সেখান থেকে ফিরে আসবে এবং এমন এক ময়দানে অবতরণ করবে, যা টিলাময় হবে। তখন নাসারাদের জনৈক ব্যক্তি ক্রুশ উঁচু করে বলবেঃ এ যুদ্ধে ক্রুশ বিজয়ী হয়েছে। তখন মুসলমানদের থেকে এক ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে তাকে মেরে ফেলবে। সে সময় রোমের বাসিন্দারা সন্ধি ভঙ্গ করে, একত্রিত হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।
৪২৪৩

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ فِيهِ " وَيَثُورُ الْمُسْلِمُونَ إِلَى أَسْلِحَتِهِمْ فَيَقْتَتِلُونَ فَيُكْرِمُ اللَّهُ تِلْكَ الْعِصَابَةَ بِالشَّهَادَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِلاَّ أَنَّ الْوَلِيدَ جَعَلَ الْحَدِيثَ عَنْ جُبَيْرٍ عَنْ ذِي مِخْبَرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ رَوْحٌ وَيَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ وَبِشْرُ بْنُ بَكْرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ كَمَا قَالَ عِيسَى .

বর্ণনাকারী: যু মিখবার (রাঃ)

৪২৪৩. মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) .... হাসসান ইবনে আতিয়া (রাহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেখানে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, সে সময় মুসলিম সৈন্যগণ দ্রুত তাদের অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন আল্লাহ তাদেরকে শহীদ হওয়ার কারণে সম্মানিত করবেন।

ওয়ালীদ (রাহঃ) .... জুবাইর ও মিখবার (রাযিঃ) থেকে। তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

৩. যুদ্ধ বিগ্রহের আলামাত সম্পর্কে।

باب فِي أَمَارَاتِ الْمَلاَحِمِ

৪২৪৪

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ " . ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ - أَوْ مَنْكِبِهِ - ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ . يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪২৪৪. আব্বাস আম্বারী (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বায়তুল মুকাদ্দিসের প্রতিষ্ঠা মদীনার অমঙ্গলের কারণ হবে। আর মদীনার খারাবী ফিতনা সৃষ্টির কারণ হবে। বস্তুত ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি কুসতুনতুনিয়া বিজয়ের কারণ হবে এবং কুসতুনতুনিয়ার বিজয় দাজ্জাল বের হওয়ার কারণ হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত মুআয (রাযিঃ)-এর কাঁধে বা হাঁটুতে মেরে বলেনঃ এ সবই সত্য, যেমন তুমি এখানে আছো-তা সত্য; যেমন তুমি বসে আছো-তা সত্য।

৪. একের পর এক যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي تَوَاتُرِ الْمَلاَحِمِ

৪২৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سُفْيَانَ الْغَسَّانِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُتَيْبٍ السَّكُونِيِّ، عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمَلْحَمَةُ الْكُبْرَى وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪২৪৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ভয়াবহ ফিতনা, কুসতুনতুনিয়া বিজয় এবং দাজ্জাল বের হওয়া সাত মাসের মধ্যে ঘটবে।

৪২৪৬

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَ الْمَلْحَمَةِ وَفَتْحِ الْمَدِينَةِ سِتُّ سِنِينَ وَيَخْرُجُ الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ فِي السَّابِعَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৪২৪৬. হাইওয়া ইবনে শুরায়হ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুসতুনতুনিয়া শহর বিজয় এবং ভয়াবহ ফিতনা বের হওয়ার মধ্যে ছয় বছরের ব্যবধান থাকবে এবং সপ্তম বছরে দাজ্জাল বের হবে।

৫. ইসলামের উপর অন্য জাতির বিজয় সম্পর্কে।

باب فِي تَدَاعِي الأُمَمِ عَلَى الإِسْلاَمِ

৪২৪৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ السَّلاَمِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا " . فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ " بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ " . فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ " حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৪২৪৭. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে অন্য জাতির লোকেরা তোমাদের উপর বিজয়ী হবে, যেমন খাদ্য গ্রহণকারী বড় পাত্রের দিকে আসে। তখন জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ আমাদের সংখ্যা কি কম হবে? তিনি বলেনঃ না, বরং সে সময় তোমরা সংখ্যায় অধিক হবে। কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে সমুদ্রের ফেনার মত। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর হতে তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দূর করে দেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ে অলসতার সৃষ্টি করে দেবেন। তখন জনৈক সাহাবী বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অলসতার সৃষ্টি কেন হবে? তিনি বলেনঃ দুনিয়ার মহব্বত ও মুত্যু ভয়ের জন্য।

৬. যুদ্ধের সময় মুসলমানগণ কোথায় থাকবে?

باب فِي الْمَعْقِلِ مِنَ الْمَلاَحِمِ

৪২৪৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَرْطَاةَ، قَالَ سَمِعْتُ جُبَيْرَ بْنَ نُفَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ بِالْغُوطَةِ إِلَى جَانِبِ مَدِينَةٍ يُقَالُ لَهَا دِمَشْقُ مِنْ خَيْرِ مَدَائِنِ الشَّامِ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ حُدِّثْتُ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْمُسْلِمُونَ أَنْ يُحَاصَرُوا إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى يَكُونَ أَبْعَدَ مَسَالِحِهِمْ سَلاَحُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৪২৪৮. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের আবির্ভাবকালে ভয়াবহ যুদ্ধের সময় মুসলমানদের দুর্গ শহরের এক পাশে অবস্থিত ’গুতা’ নামক স্থানে হবে, যা শামের (সিরিয়ার) একটি উত্তম শহর।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে ওয়াহাব (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে মদীনার মুসলমানদের ঘিরে ফেলা হবে, এমনকি তাদের দূরবর্তী সীমানা হবে ’সালাহ’ নামক স্থান।
৪২৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ وَسَلاَحُ قَرِيبٌ مِنْ خَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪২৪৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’সালাহ’ নামক স্থানটি খায়বরের নিকট অবস্থিত।

৭. যুদ্ধের সময় ফিতনা হওয়া সম্পর্কে।

باب ارْتِفَاعِ الْفِتْنَةِ فِي الْمَلاَحِمِ

৪২৫০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَوَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، - قَالَ هَارُونُ فِي حَدِيثِهِ - عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَنْ يَجْمَعَ اللَّهُ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ سَيْفَيْنِ سَيْفًا مِنْهَا وَسَيْفًا مِنْ عَدُوِّهَا " .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৫০. আব্দুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) .... আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ এ উম্মতের উপর এক সাথে দু’টি বিপদ একত্রিত করবেন না যে, তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকবে এবং শত্রুও তাদের উপর হামলা করবে।

৮. তুরস্ক ও হাবশার সাথে অকারণে গোলযোগ না করা সম্পর্কে।

باب فِي النَّهْىِ عَنْ تَهْيِيجِ التُّرْكِ، وَالْحَبَشَةِ

৪২৫১

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنِ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي سُكَيْنَةَ، - رَجُلٍ مِنَ الْمُحَرَّرِينَ - عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৪২৫১. ঈসা ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু সুকায়না নবী (ﷺ)-এর একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যতদিন হাবশের জনগণ তোমাদের সাথে কোনরূপ ঝগড়ায় লিপ্ত না হয়, ততদিন তোমরা তাদের সাথে ঝগড়া করবে না এবং তুর্কীর জনগণ যতদিন তোমাদের সাথে গোলযোগ না করে, তোমরাও করবে না।

৯. তুর্কীর সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে।

باب فِي قِتَالِ التُّرْكِ

৪২৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي الإِسْكَنْدَرَانِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التُّرْكَ قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطْرَقَةِ يَلْبَسُونَ الشَّعْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫২. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততদিন অনুষ্ঠিত হবে না, যতদিন না মুসলিমগণ তুর্কী (কাফিরদের) সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তুর্কীরা এমন এক জাতি, যাদের চেহারা তালের মত এবং তারা পশমের জুতা ব্যবহার করবে।

৪২৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَابْنُ السَّرْحِ، وَغَيْرُهُمَا، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رِوَايَةً - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا صِغَارَ الأَعْيُنِ ذُلْفَ الآنُفِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫৩. কুতায়বা এবং ইবনে সারহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততদিন অনুষ্ঠিত হবে না, যতদিন না তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, যারা পশম-যুক্ত জুতা ব্যবহার করে। আর তোমরা তুর্কীদেরে সাথে লড়াই করবে, যাদের চোখ ছোট হবে এবং নাক চেপটা হবে, আর তাদের চেহারা হবে ঢালের মত।

৪২৫৪

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ، حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثِ " يُقَاتِلُكُمْ قَوْمٌ صِغَارُ الأَعْيُنِ " . يَعْنِي التُّرْكَ قَالَ " تَسُوقُونَهُمْ ثَلاَثَ مِرَارٍ حَتَّى تُلْحِقُوهُمْ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ فَأَمَّا فِي السِّيَاقَةِ الأُولَى فَيَنْجُو مَنْ هَرَبَ مِنْهُمْ وَأَمَّا فِي الثَّانِيَةِ فَيَنْجُو بَعْضٌ وَيَهْلِكُ بَعْضٌ وَأَمَّا فِي الثَّالِثَةِ فَيُصْطَلَمُونَ " . أَوْ كَمَا قَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪২৫৪. জা’ফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) .... বুরায়দা (রাযিঃ) তার পিতা হতে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তুর্কীর একটি ছোট চোখ বিশিষ্ট কওম তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা তিনবার তাদের পরাস্ত করবে, এমন কি তোমরা তাদের আরব উপদ্বীপের সাথে মিলিয়ে দেবে। তাদের মধ্যে যারা প্রথমবার পালাবে, তারা মুক্তি পাবে। দ্বিতীবার যুদ্ধের সময় কিছু লোক ধ্বংস হবে এবং কিছু লোক নাজাত পাবে। আর তৃতীয়বার যুদ্ধের সময় তারা সমূলে ধ্বংস হবে, অথবা তিনি এ ধরনের কিছু বলেছেন।

১০. বসরা সম্পর্কে।

باب فِي ذِكْرِ الْبَصْرَةِ

৪২৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُمْهَانَ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي بِغَائِطٍ يُسَمُّونَهُ الْبَصْرَةَ عِنْدَ نَهْرٍ يُقَالُ لَهُ دِجْلَةُ يَكُونُ عَلَيْهِ جِسْرٌ يَكْثُرُ أَهْلُهَا وَتَكُونُ مِنْ أَمْصَارِ الْمُهَاجِرِينَ " . قَالَ ابْنُ يَحْيَى قَالَ أَبُو مَعْمَرٍ " وَتَكُونُ مِنْ أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ فَإِذَا كَانَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ جَاءَ بَنُو قَنْطُورَاءَ عِرَاضُ الْوُجُوهِ صِغَارُ الأَعْيُنِ حَتَّى يَنْزِلُوا عَلَى شَطِّ النَّهْرِ فَيَتَفَرَّقُ أَهْلُهَا ثَلاَثَ فِرَقٍ فِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَالْبَرِّيَّةِ وَهَلَكُوا وَفِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ لأَنْفُسِهِمْ وَكَفَرُوا وَفِرْقَةٌ يَجْعَلُونَ ذَرَارِيَّهُمْ خَلْفَ ظُهُورِهِمْ وَيُقَاتِلُونَهُمْ وَهُمُ الشُّهَدَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪২৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের কিছু লোক নীচু যমীনে অবতরণ করবে, যাকে বসরা বলা হয়, যা এক নদীর পাশে অবস্থিত হবে, যার নাম হলো-দাজলা। সে নদীর উপর একটা পুল হবে। সেটা ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা হবে এবং তা মুহাজিরদের শহরে পরিণত হবে।

রাবী ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেন, আবু মুআম্মার (রাযিঃ) বলেছেনঃ শহরটি মুসলমানদের শহরে পরিণত হবে। শেষ যুগে ’কানতুরার’ বংশধরণ, যারা চওড়া চেহারা এবং ছোট চোখ বিশিষ্ট হবে, তারা নদীর তীরে অবতরণ করে তিন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। তাদের একদল গরুর লেজের ব্যবসা এবং কৃষিকাজে লিপ্ত হয়ে ধ্বংস হবে, দ্বিতীয় দল তাদের জান-বাঁচিয়ে কাফির হয়ে যাবে এবং তৃতীয় দলটি তাদের বাচ্চাদের পেছনে রেখে যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যাবে।*

* উল্লেখিত ঘটনাটি আব্বাসীয় খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহর শাসনামলে সংঘটিত হয়। - অনুবাদক
৪২৫৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا مُوسَى الْحَنَّاطُ، - لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ ذَكَرَهُ - عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " يَا أَنَسُ إِنَّ النَّاسَ يُمَصِّرُونَ أَمْصَارًا وَإِنَّ مِصْرًا مِنْهَا يُقَالُ لَهُ الْبَصْرَةُ أَوِ الْبُصَيْرَةُ فَإِنْ أَنْتَ مَرَرْتَ بِهَا أَوْ دَخَلْتَهَا فَإِيَّاكَ وَسِبَاخَهَا وَكِلاَءَهَا وَسُوقَهَا وَبَابَ أُمَرَائِهَا وَعَلَيْكَ بِضَوَاحِيهَا فَإِنَّهُ يَكُونُ بِهَا خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَرَجْفٌ وَقَوْمٌ يَبِيتُونَ يُصْبِحُونَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন, হে আনাস! লোকরা কিছু শহর তৈরী করবে, যার একটি শহরের নাম হবে বসরা বা বুসরা। যদি তুমি সেখানে যাও এবং সেখানে প্রবেশ কর, তবে তুমি তার লবণাক্ত ভূমি, সবুজ তৃণভূমি, বাজার এবং আমীর-উমরদের থেকে দূরে থাকবে। বরং তুমি সেখানকার জঙ্গলে বসবাস করবে। কেননা, সেখানকার যমীন ধসে যাবে, পাথর বর্ষিত হবে এবং ভূমিকম্প হবে। আর সেখানকার কিছু আধিবাসী এরূপ হবে যে, তারা রাতযাপনের পর সকালে শুকর ও বানরে রূপান্তরিত হবে।

৪২৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ صَالِحِ بْنِ دِرْهَمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، انْطَلَقْنَا حَاجِّينَ فَإِذَا رَجُلٌ فَقَالَ لَنَا إِلَى جَنْبِكُمْ قَرْيَةٌ يُقَالُ لَهَا الأُبُلَّةُ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ مَنْ يَضْمَنُ لِي مِنْكُمْ أَنْ يُصَلِّيَ لِي فِي مَسْجِدِ الْعَشَّارِ رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعًا وَيَقُولَ هَذِهِ لأَبِي هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مِنْ مَسْجِدِ الْعَشَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُهَدَاءَ لاَ يَقُومُ مَعَ شُهَدَاءِ بَدْرٍ غَيْرُهُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْمَسْجِدُ مِمَّا يَلِي النَّهْرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... সালিহ ইবনে দিরহাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আমি হজ্জ করতে গেলে, জনৈক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হয়। তিনি আমাদের বলেনঃ তোমাদের ওদিকে আবলা’ নামক এক বস্তি আছে না? আমরা বলিঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কে আছে, যে আমার তরফ থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করবে যে, সে ঈশার মসজিদে (যা ফুরাত নদীর পাশে অবস্থিত) হাযির হয়ে, দুই বা চার রাক’আত নামায আদায়ের পর এরূপ দুআ করবে যে, ’ইহা আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর জন্য’। (কেননা, তিনি বলেনঃ) আমি আমার প্রিয় আবুল কাসিম (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঈশার মসজিদ থেকে এমন শহীদদের উঠাবেন, যারা বদর যুদ্ধের শহীদদের সাথে হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ (عشار) ’ঈশার’ মসজিদটি ফুরাত নদীর তীরে অবস্থিত, আর এখানকার শহীদ হলেন- কারবালার শহীদগণ।

১১. হাবশীদের সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنْ تَهْيِيجِ الْحَبَشَةِ

৪২৫৮

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اتْرُكُوا الْحَبَشَةَ مَا تَرَكُوكُمْ فَإِنَّهُ لاَ يَسْتَخْرِجُ كَنْزَ الْكَعْبَةِ إِلاَّ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২৫৮. কাসিম ইবনে আহমদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা হাবশীদের ছেড়ে দাও, যতদিন তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত না হয়। কেননা, কাবা ঘরের সম্পদ তো সে ক্ষুদ্র পায়ের গোছা বিশিষ্ট হাবশী লোকটি বের করে নেবে।*

কিয়ামত নিকটবর্তী হলে, হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর দুনিয়াতে অবতরণের পর সম্ভবতঃ এরূপ ঘটনা ঘটবে। - অনুবাদক

১২. কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে।

باب أَمَارَاتِ السَّاعَةِ

৪২৫৯

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ جَاءَ نَفَرٌ إِلَى مَرْوَانَ بِالْمَدِينَةِ فَسَمِعُوهُ يُحَدِّثُ فِي الآيَاتِ أَنَّ أَوَّلَهَا الدَّجَّالُ قَالَ فَانْصَرَفْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَمْ يَقُلْ شَيْئًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ الآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدَّابَّةُ عَلَى النَّاسِ ضُحًى فَأَيَّتُهُمَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا فَالأُخْرَى عَلَى أَثَرِهَا " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَكَانَ يَقْرَأُ الْكُتُبَ وَأَظُنُّ أَوَّلَهُمَا خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২৫৯. মুআম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) .... আবু যুর’আ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার মদীনাতে মারওয়ানের কাছে একটি প্রতিনিধি দল আসে। তখন তারা মারওয়ানকে এরূপ বর্ণনা করতে শোনে যে, কিয়ামতের সর্ব প্রথম আলামত হলো দাজ্জাল বের হওয়া।

রাবী বলেনঃ এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ হাদীস বর্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ সে তো কিছুই বলেনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো ’দাববাতুল আরদ’ (এক ধরনের বিশেষ প্রাণী)-এর বের হওয়া। এ দু’টি নিদর্শনের যে কোন একটি আগে প্রকাশ পেলে, দ্বিতীয়টি এর সাথেই প্রকাশ পাবে। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ), যিনি তাওরাত যাবুর ঐশীগ্রন্থ পাঠ করতেন, তিনি বলেনঃ আমার ধারণা এই যে, এ দু’টি নিদর্শনের মধ্যে প্রথমে নিদর্শন হবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া।
৪২৬০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَهَنَّادٌ، - الْمَعْنَى - قَالَ مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا فُرَاتٌ الْقَزَّازُ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، - وَقَالَ هَنَّادٌ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ كُنَّا قُعُودًا نَتَحَدَّثُ فِي ظِلِّ غُرْفَةٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا السَّاعَةَ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَنْ تَكُونَ - أَوْ لَنْ تَقُومَ - السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ قَبْلَهَا عَشْرُ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ وَخُرُوجُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَالدَّجَّالُ وَعِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَالدُّخَانُ وَثَلاَثُ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ تَخْرُجُ نَارٌ مِنَ الْيَمَنِ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ إِلَى الْمَحْشَرِ " .

বর্ণনাকারী: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৪২৬০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হুযাইফা ইবনে উসায়দ গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরের ছায়ায় বসে ছিলাম। আমরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এ সময় আমাদের কন্ঠস্বর চড়ে গেলে, তখন রাসুসূল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কখনো হবে না, অথবা কিয়ামত ততক্ষণ কায়েম হবে না, যতক্ষণ না তার পূর্বে দশটি আলামত প্রকাশ পায়। তা হলোঃ

১। সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে,
২। দাববাতুল আরদ বের হবে;
৩। ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে;
৪। দাজ্জাল বের হবে;
৫। ঈসা ইবনে মারয়াম আসমান থেকে অবতরণ করবে;
৬। ধোঁয়া প্রকাশ পাবে;
৭। তিনটি স্থান ধসে যাবে-পশ্চিমে;
৮। পূর্বে;
৯। আরব উপদ্বীপ এবং
১০। সবশেষে ইয়ামানের আদন প্রান্তর হতে আগুন বের হবে, যা লোকদের সিরিয়ার ’মাহশার’ নামক স্থানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
৪২৬১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَاكَ حِينُ ( لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ) " . الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬১. আহমদ ইবনে আবু শুআয়ব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। লোকেরা যখন তা উদিত হতে দেখবে, তখন ঈমান আনলে আর কোন উপকার হবে না, যদি সে এর আগে ঈমান আনে, অথবা ঈমান থাকাবস্থায় নেকী অর্জন না করে।

১৩. ফোরাত নদী থেকে সোনার খনি বের হওয়া।

باب حَسْرِ الْفُرَاتِ عَنْ كَنْزٍ

৪২৬২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ السَّكُونِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ كَنْزٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬২. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে ফোরাত নদী থেকে সোনার খনি বের হবে। সেখানে যে উপস্থিত থাকবে, সে যেন তা থেকে কিছু না নেয়।

৪২৬৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنِي عُقْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ خَالِدٍ - حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " يَحْسِرُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এরূপ বলেছেনঃ তবে তিনি তাতে এরূপ ও বলেছেন যে, সেখানে সোনার পাহাড় প্রকাশ পাবে।

১৪. দাজ্জাল বের হওয়া সম্পর্কে।

باب خُرُوجِ الدَّجَّالِ

৪২৬৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، قَالَ اجْتَمَعَ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مَسْعُودٍ فَقَالَ حُذَيْفَةُ لأَنَا بِمَا مَعَ الدَّجَّالِ أَعْلَمُ مِنْهُ إِنَّ مَعَهُ بَحْرًا مِنْ مَاءٍ وَنَهْرًا مِنْ نَارٍ فَالَّذِي تَرَوْنَ أَنَّهُ نَارٌ مَاءٌ وَالَّذِي تَرَوْنَ أَنَّهُ مَاءٌ نَارٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَأَرَادَ الْمَاءَ فَلْيَشْرَبْ مِنَ الَّذِي يَرَى أَنَّهُ نَارٌ فَإِنَّهُ سَيَجِدُهُ مَاءً . قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ الْبَدْرِيُّ هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ .

বর্ণনাকারী: রিবঈ ইবনে হিরাশ (রহঃ)

৪২৬৪. হাসান ইবনে আমর (রাহঃ) .... রিব’ঈ হিরাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা হুযাইফা এবং আবু মাসউদ (রাযিঃ) একত্রিত হলে, হুযাইফা (রাযিঃ) বলেনঃ দাজ্জালের সাথে যা থাকবে, সে সম্পর্কে আমি খুবি জ্ঞাত। তার সাথে একটি পানির সাগর এবং আগুনের নহর থাকবে। তোমরা যাকে আগুন মনে করবে, তা হবে পানি। রাবী আবু মাসউদ বদরী (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ শুনেছি।

৪২৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَا بُعِثَ نَبِيٌّ إِلاَّ قَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ الأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلاَ وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَكْتُوبًا كَافِرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৬৫. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যত নবী এসেছেন, তারা সবাই তাদের উম্মতকে কানা ও মিথ্যাবাদী দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। জেনে রাখ! সে হবে কানা। আর তোমাদের মহান রব কানা নন এবং তার দু’চোখের মাঝখানে ’কাফির’ শব্দ লেখা থাকাবে।

৪২৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ك ف ر .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৪২৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... শুবা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার কপালে ″কাফ″ ″ফা″ ″রা″ (অর্থাৎ কাফির) লেখা থাকবে।

৪২৬৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُسْلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৬৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, দাজ্জালের কপালে লেখা ’কাফির’ শব্দটি প্রত্যেক মুসলমান পড়তে পারবে।

৪২৬৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي الدَّهْمَاءِ، قَالَ سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، يُحَدِّثُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ عَنْهُ فَوَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيهِ وَهْوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ أَوْ لِمَا يُبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ " . هَكَذَا قَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪২৬৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দাজ্জালের খবর শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে। আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি তার কাছে যাবে, সে তাকে মু’মিন মনে করে, তার অনুসারী হয়ে যাবে। কেননা, তার কাছে সন্দেহে নিক্ষেপকারী বস্তু থাকবে।

৪২৬৯

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي قَدْ حَدَّثْتُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ لاَ تَعْقِلُوا إِنَّ مَسِيحَ الدَّجَّالِ رَجُلٌ قَصِيرٌ أَفْحَجُ جَعْدٌ أَعْوَرُ مَطْمُوسُ الْعَيْنِ لَيْسَ بِنَاتِئَةٍ وَلاَ جَحْرَاءَ فَإِنْ أُلْبِسَ عَلَيْكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَمْرُو بْنُ الأَسْوَدِ وَلِيَ الْقَضَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৪২৬৯. হায়ওয়া ইবনে শুরায়হ (রাহঃ) .... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছি, এতসত্ত্বেও আমার ভয় হয়, তোমরা তাকে চিনতে পারবে না। (জেনে রাখ!) মাসীহ দাজ্জাল হবে বেঁটে, তার পদক্ষেপ হবে দীর্ঘ, মাথার চুল হবে কুঞ্চিত, আর সে হবে কানা। তার চোখ হবে সমতল, যা উপরে উঠে থাকবে না এবং নীচে থাকবে না। এরপরও যদি তোমরা সন্দীহান হও, তবে জেনে রাখ! তোমাদের রব কানা নন।

৪২৭০

حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ الدِّمَشْقِيُّ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيِّ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ فَقَالَ " إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ فَإِنَّهَا جِوَارُكُمْ مِنْ فِتْنَتِهِ " . قُلْنَا وَمَا لُبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ " أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ قَالَ " لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ ثُمَّ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ " .

বর্ণনাকারী: নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ)

৪২৭০. সাফওয়ান ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ আমি যদি তোমাদের মধ্যে থাকাকালে সে বের হয়, তবে আমি তার প্রতি দোষারোপ করবো তোমাদের আগে। আর আমি যখন তোমাদের সাথে থকবো না, সে যদি তখন বের হয়, তখন তোমাদের উচিত হবে তার প্রতি দোষারোপ করাল। আর আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আমার খলীফা স্বরূপ হবেন, (অর্থাৎ তিনি তাদের দাজ্জালের হাত থেকে রক্ষা করবেন।) এরপর তোমরা যারা তার দেখা পাবে, তার উচিত হবে, তার সামনে সূরা কাহাফের প্রথম দিকের আয়াতগুলি পাঠ করা। কেননা, তা পাঠ করলে, তোমরা তার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

আমরা জিজ্ঞাসা করিঃ সে পৃথিবীতে কত দিন থাকবে? তিনি বলেনঃ চল্লিশ দিন। যার একদিন হবে এক বছরের সমান, আরেক দিন হবে এক মাসের সমান, অপর দিন হবে এক সপ্তাহের সমান। আর বাকী দিনগুলো হবে তোমাদের বর্তমান দিনের সমান। তখন আমরা জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে দিনটি এক বছরের সমান হবে, সেদিন আমরা এক দিন ও রাতে যত ওয়াক্ত নামায আদায় করি, সেরূপ নামায আদায় করলে যথেষ্ট হবে কি? তিনি বলেনঃ না। বরং তোমরা ঐ দিনের মধ্য হতে, তোমাদের জন্য নির্ধারিত সময় নিরূপণ করে নেবে, (এবং সে হিসাবে নামায আদায় করবে)। এরপর ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম) দামিশক শহরের পূর্বে দিকে অবস্থিত সাদা-মিনারের নিকটবর্তী স্থানে অবতরণ করবেন। তিনি তাকে ‘লুদ’ নামক স্থানে পাবেন এবং সেখানে তাকে হত্যা করবেন।
৪২৭১

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنِ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَذَكَرَ الصَّلَوَاتِ مِثْلَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪২৭১. ঈসা ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর নামায আদায়ের কথা এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

৪২৭২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حَدِيثِ أَبِي الدَّرْدَاءِ، يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا قَالَ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " مَنْ حَفِظَ مِنْ خَوَاتِيمِ سُورَةِ الْكَهْفِ " . وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ " مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৪২৭২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হিশাম দাসতাওয়ারী (রাহঃ) কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে। ‘শুবা (রাহঃ) বলেছেনঃ সূরা কাহাফের শেষ অংশ, (যার মুখস্থ থাকবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।)

৪২৭৩

حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ آدَمَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ نَبِيٌّ - يَعْنِي عِيسَى - وَإِنَّهُ نَازِلٌ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَاعْرِفُوهُ رَجُلٌ مَرْبُوعٌ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ بَيْنَ مُمَصَّرَتَيْنِ كَأَنَّ رَأْسَهُ يَقْطُرُ وَإِنْ لَمْ يُصِبْهُ بَلَلٌ فَيُقَاتِلُ النَّاسَ عَلَى الإِسْلاَمِ فَيَدُقُّ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيُهْلِكُ اللَّهُ فِي زَمَانِهِ الْمِلَلَ كُلَّهَا إِلاَّ الإِسْلاَمَ وَيُهْلِكُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ أَرْبَعِينَ سَنَةً ثُمَّ يُتَوَفَّى فَيُصَلِّي عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৭৩. হুদবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাঝে কোন নবী আসবে না। অবশ্য তিনি (আসমান থেকে) অবতরণ করবেন। তোমরা যখন তাঁকে দেখবে, তখন তাঁকে এভাবে চিনবে যে, ‘তিনি হবেন মধ্যম আকৃতির, তাঁর দেহের রং হবে লাল-সাদা মিশ্রিত, তাঁর পরিধানের কাপড় হবে হালকা হলুদ রং বিশিষ্ট দু’খানি চাদর এবং তাঁর মাথায় চুল ভিজে না থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরতে থাকবে।

তিনি ইসলামের জন্য লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন, ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া কর রহিত করবেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর সময়ে ইসলাম ব্যতীত আর সব মতবাদকে ধ্বংস করে দেবেন। তিনি-ই দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর জীবিত থাকার পর ইনতিকাল করবেন এবং মুসলমানরা তাঁর জানাযার নামায আদায় করবেন।

১৫. দাজ্জালের গোয়েন্দা সম্পর্কে।

باب فِي خَبَرِ الْجَسَّاسَةِ

৪২৭৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَّرَ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ذَاتَ لَيْلَةٍ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ " إِنَّهُ حَبَسَنِي حَدِيثٌ كَانَ يُحَدِّثُنِيهِ تَمِيمٌ الدَّارِيُّ عَنْ رَجُلٍ كَانَ فِي جَزِيرَةٍ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَجُرُّ شَعْرَهَا قَالَ مَا أَنْتِ قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ اذْهَبْ إِلَى ذَلِكَ الْقَصْرِ فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا رَجُلٌ يَجُرُّ شَعْرَهُ مُسَلْسَلٌ فِي الأَغْلاَلِ يَنْزُو فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَقُلْتُ مَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا الدَّجَّالُ خَرَجَ نَبِيُّ الأُمِّيِّينَ بَعْدُ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَطَاعُوهُ أَمْ عَصَوْهُ قُلْتُ بَلْ أَطَاعُوهُ . قَالَ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৪২৭৪. নুফায়লী (রাহঃ) .... ফাতিমা বিনত কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈশার নামায আদায়ে বিলম্ব করেন। এরপর তিনি বের হয়ে বলেনঃ তামীম দারীর বর্ণিত ঘটনা শুনতে গিয়ে আমার দেরী হয়ে গেছে। তা হলোঃ জনৈক ব্যক্তি জাহাজ যোগে ভ্রমণকালে, তুফানের ফলে সেটি সমুদ্রের কোন এক উপকূলে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে এক মহিলার দেখা পায়, যে তার নিজের মাথায় চুল ধরে টানছিল। এ অবস্থা দেখে সে ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি কে? সে বলেঃ আমি একজন গোয়েন্দা। তুমি এ প্রাসাদের দিকে চল। তখন আমি সেখানে গিয়ে দেখি যে, আসমান ও যমীনের মাঝখানে, শিকলে আব্দ্ধ একটি লোক, যে তার নিজের চুল ধরে টেনে ছিঁড়ছে।

৪২৭৫

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ حُسَيْنًا الْمُعَلِّمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ مُنَادِيَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَادِي أَنَّ الصَّلاَةَ جَامِعَةٌ . فَخَرَجْتُ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ قَالَ " لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاَّهُ " . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " إِنِّي مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَهْبَةٍ وَلاَ رَغْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ أَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي حَدَّثْتُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامٍ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ وَأَرْفَئُوا إِلَى جَزِيرَةٍ حِينَ مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرَبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرَةُ الشَّعْرِ قَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي هَذَا الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ . قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلاً فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَطُّ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وَثَاقًا مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَسَأَلَهُمْ عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ وَعَنْ عَيْنِ زُغَرَ وَعَنِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ قَالَ إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَإِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ " . مَرَّتَيْنِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ قِبَلَ الْمَشْرِقِ قَالَتْ حَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৪২৭৫. হাজ্জাজ ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) .... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুয়াযযিন-কে বলতে শুনি, ‘নামায একত্রকারী; (অর্থাৎ নামাযের জন্য একত্রিত হও।) এরপর আমি বের হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে নামায আদায় করি। নামায শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসি মুখে মিম্বরের উপর আরোহণ করে বলেনঃ সবাই নিজ-নিজ স্থানে বসে থাক। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি জান, কি জন্য আমি তোমাদের একত্রিত করেছি? তাঁরা বলেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে অধিক অবগত। তিনি বলেনঃ এখন আমি তোমাদের দ্বীনের কাজে উৎসাহিত ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য একত্রিত করিনি, বরং আমি তোমাদের (একটি ঘটনা শুনাবার জন্য) একত্রিত করেছি।

তাহলোঃ তামীমদারী খৃষ্টান ছিল, সে এসে বায়আত করে ইসলাম কবুল করেছে। আমি দাজ্জাল সম্পর্কে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছি, সে বলেছেঃ একবার সে ‘লাখাম’ ও ‘জুযাম’ গোত্রের ত্রিশজন লোকের সাথে জাহাজ যোগে সমুদ্র ভ্রমণে বের হয়। এক মাস সমুদ্রে চলার পর তাদের জাহাজটি একটি দ্বীপে গিয়ে পৌছায়। সেখানে তাঁরা লম্বা চুল বিশিষ্ট একটি আশ্চর্য ধরনের প্রাণীর সাক্ষাত পায়। তারা তাকে বলেঃ তুমি ধ্বংস হও, তুমি কে? তখন সে বলেঃ আমি একজন গোয়েন্দা। তোমরা এই প্রসাদে অবস্থানকারী ব্যক্তির কাছে চলো; কেননা, সে তোমাদের খবরের জন্য খুবই উদগ্রীব।

রাবী বলেনঃ যখন সে আমাদের কাছে সে ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে, তখন আমরা সে প্রাণী সম্পর্কে শংকিত হয়ে পড়ি যে, হয়তো সে শয়তান। আমরা সেখান থেকে দ্রুত চলে যাই এবং উক্ত প্রসাদে প্রবেশ করি এবং সেখানে বিশাল আকৃতির এমন এক ব্যক্তিকে দেখি, যার মত আর কাউকে এর আগে দেখিনি। সে শিকলে বাধা ছিল এবং তার দু’হাত ঘাড়ের সাথে আব্দ্ধ ছিল। এরপর পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

এরপর সে তাদের কাছে ‘বায়সান’ নামক স্থানের খেজুর, যাআর নামক কূপ এবং উম্মী-নবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। সে বলেঃ আমি মাসীহ দাজ্জাল। অতি সত্বর আমাকে বের হওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।

তারপর নবী (ﷺ) বলেনঃ দাজ্জাল শাম অথবা ইয়ামানের সমুদ্রে অবস্থিত একটি দ্বীপে বন্দী অবস্থায় আছে। এরপর তিনি বলেনঃ না, বরং সে পূর্বের দিকে আছে, আর তিনি তার হাত দিয়ে সে দিকে দু’বার ইশারা করেন। ফাতিমা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি এবং মনে রেখেছি।
৪২৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صُدْرَانَ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ وَكَانَ لاَ يَصْعَدُ عَلَيْهِ إِلاَّ يَوْمَ جُمُعَةٍ قَبْلَ يَوْمَئِذٍ ثُمَّ ذَكَرَ هَذِهِ الْقِصَّةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ صُدْرَانَ بَصْرِيٌّ غَرِقَ فِي الْبَحْرِ مَعَ ابْنِ مِسْوَرٍ لَمْ يَسْلَمْ مِنْهُمْ غَيْرُهُ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৪২৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে সাদরান (রাহঃ) .... ফাতিমা বিনত কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) যোহরের নামায আদায় শেষে মিম্বরের উপর আরোহণ করেন। আর তিনি এর আগে কোন দিন জুমআর দিন ছাড়া মিম্বরে আরোহণ করেননি। এরপর তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন।

৪২৭৭

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُمَيْعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى الْمِنْبَرِ " إِنَّهُ بَيْنَمَا أُنَاسٌ يَسِيرُونَ فِي الْبَحْرِ فَنَفِدَ طَعَامُهُمْ فَرُفِعَتْ لَهُمْ جَزِيرَةٌ فَخَرَجُوا يُرِيدُونَ الْخُبْزَ فَلَقِيَتْهُمُ الْجَسَّاسَةُ " . قُلْتُ لأَبِي سَلَمَةَ وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَ امْرَأَةٌ تَجُرُّ شَعْرَ جِلْدِهَا وَرَأْسِهَا . قَالَتْ فِي هَذَا الْقَصْرِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَسَأَلَ عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ وَعَنْ عَيْنِ زُغَرَ قَالَ هُوَ الْمَسِيحُ فَقَالَ لِي ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ إِنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْئًا مَا حَفِظْتُهُ قَالَ شَهِدَ جَابِرٌ أَنَّهُ هُوَ ابْنُ صَيَّادٍ قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ . قَالَ وَإِنْ مَاتَ . قُلْتُ فَإِنَّهُ أَسْلَمَ . قَالَ وَإِنْ أَسْلَمَ . قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ . قَالَ وَإِنْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪২৭৭. ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর আরোহণ করেন, তারপর বলেনঃ কিছু লোক সমুদ্রে ভ্রমণকালে তাদের খাবার ফুরিয়ে যায়। তখন তারা খাদ্যের অন্বেষণে এক দ্বীপে গিয়ে উপস্থিত হলে, তাদের সাথে এক গোয়েন্দা রমণীর দেখা হয়।

রাবী ওয়ালীদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি তখন আবু সালামা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেঃ ঐ গোয়েন্দা রমণী কে ছিল? তিনি বলেনঃ সে এমন এক মহিলা ছিল, যে তার দেহের ও মাথার চুল টেনে ছিড়ছিল। সে মহিলা (তাদের) বলেঃ তোমরা এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন সে (দাজ্জাল) ‘বায়সান’ নামক স্থানের খেজুর ও যাআর নামক কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।

রাবী বলেনঃ সে-ই দাজ্জাল। আবু সালামা (রাযিঃ) আমাকে বলেন, জাবির (রাযিঃ) এ হাদীস সম্পর্কে আরো অনেক কিছু বর্ণনা করেন, যা আমার মনে নেই।

জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ দাজ্জাল হলো ইবনে সাইয়াদ, (যে মদীনার লোক ছিল এবং নবী (ﷺ) ও তাকে দেখেছিলন)। তখন আমি বলিঃ সে তো মারা গেছে? তিনি বলেনঃ যদিও সে মারা গেছে! আমি বলিঃ সে তো ইসলাম কবুল করেছিল? তিনি বলেনঃ যদিও সে ইসলাম কবুল করেছিল! আমি বলিঃ সে তো মদীনাতে প্রবেশ করেছিল? তিনি বলেনঃ যদিও সে মদীনাতে প্রবেশ করেছিল!

১৬. ইবনে সাইয়াদ সম্পর্কে।

باب فِي خَبَرِ ابْنِ صَائِدٍ

৪২৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِابْنِ صَائِدٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَهُوَ غُلاَمٌ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ . ثُمَّ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ " . ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا يَأْتِيكَ " . قَالَ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي قَدْ خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئَةً " . وَخَبَّأَ لَهُ ( يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ ) قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ " . فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنْ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ " . يَعْنِي الدَّجَّالَ " وَإِلاَّ يَكُنْ هُوَ فَلاَ خَيْرَ فِي قَتْلِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৭৮. আবু আসিম খশীশ ইবনে আসরাম (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) একদল সাহাবীর সাথে, যার মধ্যে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) ছিলেন, ইবনে সাইয়াদ এর কাছে যান। তখন সে বনু মুগালার দুর্গের পাশে বাচ্চাদের সাথে খেলা করছিল, আর সে সময় সে নিজেও ছোট ছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পিঠে হাত রাখার আগে সে জানতে পারিনি এবং তাকে চিনতেও পারিনি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বলেন, ইবনে সাইয়্যাদ তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি উম্মীদের রাসূল।

তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ আমি আল্লাহ ও তার রাসূলদের উপর ঈমান রাখি। এরপর নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কাছে কি আসে? তখন সে বলেঃ আমার কাছে সত্য এবং মিথ্যা উভয় ধরনের খবর আসে। তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তোমার কাজ সন্দেহপূর্ণ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য একটি বিষয় গোপন রেখেছি, আর তা হলো- ‘যেদিন আসমান হতে স্পষ্ট ধোঁয়া বের হবে, (অর্থ্যাৎ সে সময় দাজ্জাল বের হবে)। তখন ইবনে সাঈদ বলেঃ গোপন বিষয়টি হলো ‘দুখ, অর্থ্যাৎ ধোঁয়া।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুই দুর-হ; তুই তোর ধারণার বেশী কিছুই করতে পারবি না। এ সময় উমর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আবার তাকে হত্যার অনুমতি দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করায় কোন লাভ নেই।
৪২৭৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ وَاللَّهِ مَا أَشُكُّ أَنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ ابْنُ صَيَّادٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৭৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমার এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, মাসীহ দাজ্জাল হলো-ইবনে সাইয়াদ।

৪২৮০

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ صَائِدٍ الدَّجَّالُ، فَقُلْتُ تَحْلِفُ بِاللَّهِ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُنْكِرْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

৪২৮০. ইবনে মুআয (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে আল্লাহর নামে এরূপ শপথ করতে দেখেছি যে, ইবনে সাইয়াদ-ই প্রকৃত দাজ্জাল। তখন আমি তাঁকে বলিঃ আপনি কি এ কথার উপর আল্লাহর শপথ করেন? তিনি বলেনঃ আমি উমর (রাযিঃ)-কে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট শপথ করতে শুনেছি। অথচ তিনি (নবী (ﷺ)) তা অস্বীকার করেন নি।

৪২৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ فَقَدْنَا ابْنَ صَيَّادٍ يَوْمَ الْحَرَّةِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪২৮১. আহমদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাররার ঘটনার দিন থেকে (অর্থ্যাৎ ইয়াযীদের সৈন্যদল যেদিন মদীনায় প্রবেশ করে) ইবনে সাইয়াদ আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।

৪২৮২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ ثَلاَثُونَ دَجَّالُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৮২. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ত্রিশ জন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। তারা সবাই মনে করবে যে, সে আল্লাহ তাআলার রাসূল।

৪২৮৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ ثَلاَثُونَ كَذَّابًا دَجَّالاً كُلُّهُمْ يَكْذِبُ عَلَى اللَّهِ وَعَلَى رَسُولِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৮৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। তারা সবাই আল্লাহ এবং তার রাসুলকে অস্বীকার করবে।

৪২৮৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ قَالَ عَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ فَقُلْتُ لَهُ أَتَرَى هَذَا مِنْهُمْ - يَعْنِي الْمُخْتَارَ - فَقَالَ عَبِيدَةُ أَمَا إِنَّهُ مِنَ الرُّءُوسِ .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

৪২৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনে জাররাহ (রাহঃ) .... ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উবাইদা সালমানী (রাযিঃ) উপরোক্ত হাদীসরে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি সালমানী (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কি মনে করেন, মুখতার দাজ্জালের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেনঃ সে তো তাদের নেতা!

১৭. আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে।

باب الأَمْرِ وَالنَّهْىِ

৪২৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَوَّلَ مَا دَخَلَ النَّقْصُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَ الرَّجُلُ يَلْقَى الرَّجُلَ فَيَقُولُ يَا هَذَا اتَّقِ اللَّهِ وَدَعْ مَا تَصْنَعُ فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَكَ ثُمَّ يَلْقَاهُ مِنَ الْغَدِ فَلاَ يَمْنَعُهُ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَقَعِيدَهُ فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ ضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ " . ثُمَّ قَالَ ( لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَاسِقُونَ ) ثُمَّ قَالَ " كَلاَّ وَاللَّهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ وَلَتَأْخُذُنَّ عَلَى يَدَىِ الظَّالِمِ وَلَتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا وَلَتَقْصُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ قَصْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৮৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্ব প্রথম বনু ইসরাঈলদের মাঝে খারবী এভাবে সৃষ্টি হয় যে, যখন তাদের এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে মিলিত হতো, তখন বলতোঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং খারাপ কাজ পরিহার কর। কেননা তোমার জন্য এরূপ করা উচিত নয়। এরপর সে ব্যক্তি পরদিন তার সাথে মিলিত হতো, কখনো সে তাকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে না বলে বরং সে তার খাদ্য-পানীয় ও বৈঠকে শরীক হতো।

যখন তারা এরূপ করলো, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে পরস্পরের সাথে মিশ্রিত করে দেন। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করনেঃ মহান আল্লাহ বনু-ইসরাঈলদের মাঝে যারা কুফরী করেছে, তাদের উপর দাউদ ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যবাণীতে লা’নত করেছেন। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা সৎ-কাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তোমরা অত্যাচারীর দু’হাত ধরে তাকে যুলুম থেকে সত্যের প্রতি সেরূপ ফিরিয়ে দেবে, যেরূপ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত এবং তাদেরকে সত্যের উপর সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।
৪২৮৬

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ الْحَنَّاطُ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ زَادَ " أَوْ لَيَضْرِبَنَّ اللَّهُ بِقُلُوبِ بَعْضِكُمْ عَلَى بَعْضٍ ثُمَّ لَيَلْعَنَنَّكُمْ كَمَا لَعَنَهُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُحَارِبِيُّ عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَالِمٍ الأَفْطَسِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَوَاهُ خَالِدٌ الطَّحَّانُ عَنِ الْعَلاَءِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৮৬. খালফ ইবনে হিশাম (রাহঃ) .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ তবে এ হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ ত’আলা তোমাদের পরস্পরের অন্তরকে মিলিয়ে দেবেন এবং তিনি তাদের উপর লা’নত করার মত- তোমাদের উপরো লা’নত করবেন।

৪২৮৭

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَ أَنْ حَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى، عَلَيْهِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ وَتَضَعُونَهَا عَلَى غَيْرِ مَوَاضِعِهَا ( عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ) قَالَ عَنْ خَالِدٍ وَإِنَّا سَمِعْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ " . وَقَالَ عَمْرٌو عَنْ هُشَيْمٍ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي ثُمَّ يَقْدِرُونَ عَلَى أَنْ يُغَيِّرُوا ثُمَّ لاَ يُغَيِّرُوا إِلاَّ يُوشِكُ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ مِنْهُ بِعِقَابٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ كَمَا قَالَ خَالِدٌ أَبُو أُسَامَةَ وَجَمَاعَةٌ . وَقَالَ شُعْبَةُ فِيهِ " مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي هُمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يَعْمَلُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৪২৮৭. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) .... আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসার পর বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা এ আয়াত তিলাওয়াত কর, কিন্তু তোমরা একে অন্যস্থানে প্রয়োগ কর। তোমাদের চিন্তা করা উচিত যে, তোমাদের মাঝে যারা গুমরাহ হবে, তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে শর্ত হলো-যদি তোমরা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক।

রাবী খালিদ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন লোকেরা জালিমের হাত ধরে তাকে যুলুম করা থেকে বিরত না রাখবে, তখন মহান আল্লাহ তাদের উপর ব্যাপকভাবে আযাব নাযিল করবেন।

রাবী আমর ইবনে হুশাযম (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে কওম এরূপ হবে যে, তারা যখন গুনাহে লিপ্ত হবে, তখন তা প্রতিরোধ করার মত কিছু লোক থাকা সত্ত্বেও যদি তারা প্রতিকার না করে তখন আল্লাহ তাআলা সকলকে আযাবে গ্রেফতার করবেন।

রাবী শু’বা (রাহঃ) বলেনঃ যে সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক গুনাহে লিপ্ত হবে, আল্লাহ তাদের সকলকে আযাবে নিপতিত করবেন।
৪২৮৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - أَظُنُّهُ - عَنِ ابْنِ جَرِيرٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ رَجُلٍ يَكُونُ فِي قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي يَقْدِرُونَ عَلَى أَنْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِ فَلاَ يُغَيِّرُوا إِلاَّ أَصَابَهُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَمُوتُوا " .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৪২৮৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি, যদি কোন ব্যক্তি, কোন কওমের মধ্যে গুনাহে লিপ্ত হয় এবং তারা সে ব্যক্তিকে সে গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে না; আল্লাহ তাদের মৃত্যুর পূর্বে তাদের উপর আযাব প্রেরণ করেন।

৪২৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَعَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ " . وَقَطَعَ هَنَّادٌ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ - وَفَّاهُ ابْنُ الْعَلاَءِ - " فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ بِلِسَانِهِ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি কাউকে কোনরূপ শরীআত বিরোধী কাজে লিপ্ত দেখবে, তখন যদি শক্তি থাকে, তবে তাকে হাত দিয়ে (শক্তি দিয়ে) ঐ অপকর্ম থেকে বিরত রাখবে। যদি তার হাত দিয়ে প্রতিহিত করার মত ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখের দ্বারা বাঁধা দেবে এবং তার পক্ষে যদি ইহাও সম্ভব না হয়, তবে অন্তর দিয়ে (তার কাজকে) ঘৃণা করবে এবং ইহাই দুর্বলতম ঈমানের অংশ।

৪২৯০

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ اللَّخْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا ثَعْلَبَةَ كَيْفَ تَقُولُ فِي هَذِهِ الآيَةِ ( عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ ) قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ - يَعْنِي بِنَفْسِكَ - وَدَعْ عَنْكَ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِمْ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِهِ " . وَزَادَنِي غَيْرُهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْهُمْ قَالَ " أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

৪২৯০. আবু রাবী’ (রাহঃ) .... আবু উমাইয়া শা’বাণী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করে, হে আবু ছা’লাবা! এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসা করেছে।

একদা আমি এ আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার পর তোমার দায়িত্ব হলো- সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। একাজ তুমি ততক্ষণ করবে, যতক্ষণ না তুমি লোকদের কৃপণতার অনুসারী এবং স্বীয় খাহেশের অনুগামী দেখবে। আর দুনিয়াকে দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিতে থাকে এবং প্রত্যেক অহংকারী ব্যক্তি নিজের মতামতের অনুসরণকারী হয়। এমতাবস্থায় তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং সাধারণের কথা পরিত্যাগ করবে। কেননা, এর পরেই সবরের সময়। আর সে সময় সবর করা এরূপ, যেন জ্বলন্ত আগুন হাতে রাখা। সে সময় যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, সে পঞ্চাশ জনের সমান সাওয়াব পাবে।

তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের মাঝের পঞ্চাশ জনের নেকীর অনুরূপ নেকী সে পাবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মত পঞ্চাশ জনের সাওয়াবের অনুরূপ সাওয়াব সে পাবে।
৪২৯১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ " . أَوْ " يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ زَمَانٌ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً تَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ وَاخْتَلَفُوا فَكَانُوا هَكَذَا " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَقَالُوا وَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " تَأْخُذُونَ مَا تَعْرِفُونَ وَتَذَرُونَ مَا تُنْكِرُونَ وَتُقْبِلُونَ عَلَى أَمْرِ خَاصَّتِكُمْ وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَامَّتِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২৯১. কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে সময় তোমাদের অবস্থা কিরূপ হবে? অথবা তিনি বলেনঃ অচিরেই সে সময় আসছে, যখন ভাল লোকদের ছিনিয়ে নেয়া হবে- (মারা যাবে) এবং খারাপ লোকেরা জীবিত থাকবে। সে সময় তারা তাদের আমানত ও ওয়াদা পূরণ করবে না, বরং তারা দ্বিধা-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এরপর নবী (ﷺ) তাঁর দু’হাতের আঙ্গুল মিশ্রিত করার পর বিচ্ছিন্ন করে দেখান। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সময় আমরা কি করবো? তিনি বলেনঃ তখন তোমরা যা ভাল বলে বিবেচনা করবে, তা করবে এবং যা খারাপ মনে করবে, তা পরিত্যাগ করবে। বিশেষতঃ সে সময় তোমরা সকলের চিন্তা না করে, নিজেদের ব্যাপারে বিশেষভাবে চিন্তা-ভাবনা করবে।
৪২৯২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ أَبِي الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ " الْزَمْ بَيْتَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২৯২. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে সমবেত ছিলাম। সে সময় তিনি একটি ফিতনার বিষয় উল্লেখ করে বলেনঃ যখন তোমরা লোকদের আমানতে খিয়ানত, ওয়াদা খেলাফী এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখবেঃ এ সময় তিনি তার হাতের আঙ্গুল একত্রিত করার পর বিচ্ছিন্ন করেন।

রাবী বলেনঃ এ সময় আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করিঃ তখন আমাদের করণীয় কি? আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বলেনঃ সে সময় তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখবে, তোমার বিবেচনায় যা ভাল মনে করবে, তা-ই করবে এবং যা খারাপ মনে করবে, তা পরিহার করবে। সে সময় তুমি সকলের কথা চিন্তা না করে, নিজের চিন্তাই করবে।
৪২৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَادَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ " . أَوْ " أَمِيرٍ جَائِرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে উবাদা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম জিহাদ হলো জালিম বাদশাহ অথবা হাকিমের সামনে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলা।

৪২৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ بْنُ زِيَادٍ الْمَوْصِلِيُّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ، عَنِ الْعُرْسِ بْنِ عَمِيرَةَ الْكِنْدِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا عُمِلَتِ الْخَطِيئَةُ فِي الأَرْضِ كَانَ مَنْ شَهِدَهَا فَكَرِهَهَا " . وَقَالَ مَرَّةً " أَنْكَرَهَا " . " كَمَنْ غَابَ عَنْهَا وَمَنْ غَابَ عَنْهَا فَرَضِيَهَا كَانَ كَمَنْ شَهِدَهَا " .

বর্ণনাকারী: উরস ইবনে আমীরা (রাঃ)

৪২৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... উরস ইবনে আমিরা আল-কিন্দী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন যমীনের উপর কোন গুনাহের কাজ অনুষ্ঠিত হয়, তখন তা দেখে যে খারাপ মনে করে অথবা ঘৃণা করেঃ সে ব্যক্তি এরূপ, যেন সে গুনাহের কাজ দেখে নাই, পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কোন গুনাহের কাজ নিজে প্রত্যক্ষ করে না, অথচ সে গুনাহের কাজ অনুষ্ঠিত হলে খুশী হয়ঃ সে ব্যক্তি এরূপ, যেন সে নিজেই তা প্রত্যক্ষ করে।

৪২৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ " مَنْ شَهِدَهَا فَكَرِهَهَا كَانَ كَمَنْ غَابَ عَنْهَا " .

বর্ণনাকারী: উরস ইবনে আমীরা (রাঃ)

৪২৯৫. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আদী ইবনে আদী (রাহঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে, যেরূপ উরস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যে ব্যক্তি গুনাহের কাজ দেখে খারাপ মনে করবে, সে যেন তা দেখলো না।

৪২৯৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَقَالَ سُلَيْمَانُ حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَنْ يَهْلِكَ النَّاسُ حَتَّى يَعْذِرُوا أَوْ يُعْذِرُوا مِنْ أَنْفُسِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: আবুল বাখতারী (রহঃ)

৪২৯৬. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আবুল বাখতারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার কাছে ঐ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন।

রাবী সুলাইমান (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী বর্ণনা করেছেন যে, মানুষেরা ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস হবে না, যতক্ষণ না তাদের গুনাহ এত অধিক হবে যে, যার জন্য ওযর পেশ করার কোন সুযোগ থাকবে না।

১৮. কিয়ামত হওয়া সম্পর্কে।

باب قِيَامِ السَّاعَةِ

৪২৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ سُلَيْمَانَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ صَلاَةَ الْعِشَاءِ فِي آخِرِ حَيَاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ فَقَالَ " أَرَأَيْتُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ عَلَى رَأْسِ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَوَهَلَ النَّاسُ فِي مَقَالَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِلْكَ فِيمَا يَتَحَدَّثُونَ عَنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ عَنْ مِائَةِ سَنَةٍ وَإِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ الْيَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يُرِيدُ أَنْ يَنْخَرِمَ ذَلِكَ الْقَرْنُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৯৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জীবনের শেষ পর্যায়ে একদা আমাদের সাথে ঈশার নামায আদায় করেন। নামায শেষে সালাম ফিরিয়ে তিনি দাঁড়ান এবং বলেনঃ তোমরা আজ যে রাতকে দেখছো, এ রাতে যত লোক পৃথিবীতে জীবিত আছে, একশত বছর পর এদের কেউ-ই অবশিষ্ট থাকবে না।

ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ বক্তৃতা শুনে লোকেরা ভুলের মধ্যে আপতিত হয়। কেননা, তারা এ হাদীসের প্রেক্ষিতে বর্ণনা করতো যে, কিয়ামত একশত বছর পরে অনুষ্ঠিত হবে। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণনা করেন যে, বর্তমানে যে সব লোক পৃথিবীতে বেঁচে আছে, এদের কেউ-ই একশত বছর বেঁচে থাকবে না এবং এই যুগের (সাহাবীদের) পরিসমাপ্তি ঘটবে।
৪২৯৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَنْ يَعْجِزَ اللَّهُ هَذِهِ الأُمَّةَ مِنْ نِصْفِ يَوْمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

৪২৯৮. মুসা ইবনে সাহল (রাহঃ) .... আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা এ উম্মতকে (কিয়ামতের দিনের) অর্ধেক দিনের চাইতে কম সময়ের মধ্যে ধ্বংস করবেন না।

৪২৯৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي صَفْوَانُ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ لاَ تُعْجِزَ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّهَا أَنْ يُؤَخِّرَهُمْ نِصْفَ يَوْمٍ " . قِيلَ لِسَعْدٍ وَكَمْ نِصْفُ يَوْمٍ قَالَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪২৯৯. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আশা করি, আমার উম্মত এত কষ্টকর হবে না যে, আল্লাহ তাদের অর্ধেক দিনের ও (কিয়ামতের) সুযোগ দেবেন না। তখন সা’দ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ “ঐ দিনের অর্ধেক-এর অর্থ কি? তিনি বলেনঃ এর অর্থ পাঁচশত বছর।*

* কেননা, কিয়ামতের দিন এক হাজার বছরের অনুরূপ হবে। যেমন আল্লাহর বাণীঃ "নিশ্চয়ই সেদিন (কিয়ামতের দিন) তোমাদের রবের নিকট এক হার্জার বছরের অনুরূপ হবে।” কাজেই এর অর্ধেক সময় হলো পাঁচশো বছর। - (অনুবাদক)