كتاب الجهاد

৯. জিহাদের বিধানাবলী

অধ্যায় ৯ · ৩১০ টি হাদীস

২৭২. হিজরত সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْهِجْرَةِ

২৪৬৯

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْهِجْرَةِ فَقَالَ " وَيْحَكَ إِنَّ شَأْنَ الْهِجْرَةِ شَدِيدٌ فَهَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَهَلْ تُؤَدِّي صَدَقَتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَاعْمَلْ مِنْ وَرَاءِ الْبِحَارِ فَإِنَّ اللَّهَ لَنْ يَتِرَكَ مِنْ عَمَلِكَ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৪৬৯. মুআম্মাল ইবনে ফযল .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন গ্রাম্য লোক নবী করীম (ﷺ)কে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, তোমার জন্য করুনা হয় (তুমি কি হিজরত করতে চাও)। হিজরতের ব্যাপারটি কষ্টসাধ্য। তোমার (নিসাব পরিমাণ) উট আছে কি? সে উত্তর করল, হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, তুমি এর যাকাত আদায় করো কি? সে উত্তর করল, হ্যাঁ, আদায় করি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সমুদ্রের ওপার থেকে আমল করলেও আল্লাহ্ তোমার কোন আমল সামান্য কখনো খর্ব করবেন না।

২৪৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ، ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنِ الْبَدَاوَةِ، فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَبْدُو إِلَى هَذِهِ التِّلاَعِ وَإِنَّهُ أَرَادَ الْبَدَاوَةَ مَرَّةً فَأَرْسَلَ إِلَىَّ نَاقَةً مُحَرَّمَةً مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ فَقَالَ لِي " يَا عَائِشَةُ ارْفُقِي فَإِنَّ الرِّفْقَ لَمْ يَكُنْ فِي شَىْءٍ قَطُّ إِلاَّ زَانَهُ وَلاَ نُزِعَ مِنْ شَىْءٍ قَطُّ إِلاَّ شَانَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৭০. উসমান ও আবু বকর ইবনে শায়বা .... মিকদাম ইবনে শুরাইহ্ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বাদাওয়া বা নির্জনে বাহিরে গমন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) নিম্নগামী পানির উৎসস্থান পাহাড়ের টিলাসমূহের দিকে বের হতেন। একবার তিনি এরূপে বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা করেন এবং আমার জন্য যাকাতের উটসমূহ হতে একটি আনাড়ী উট পাঠিয়ে দিলেন। আর বললেন, হে আয়িশা! সদয় হও। কেননা, যে কোন বস্তুতে সহৃদয়তা কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে আর যার থেকে কোমলতা বের হয়ে যায় তা তাকে কদর্য করে।

২৭৩. হিজরত শেষ হল কিনা।

باب فِي الْهِجْرَةِ هَلِ انْقَطَعَتْ

২৪৭১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ وَلاَ تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৪৭১. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... মুআবিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তাওবার দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না। আর সূর্য যে পর্যন্ত পশ্চিম আকাশে উদিত না হয় সে পর্যন্ত তাওবার দরজা বন্ধ হবে না।

২৪৭২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ " لاَ هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৭২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিনে বলেছেন, হিজরত আর নেই। কিন্তু জিহাদ ও নেক নিয়ত বাকি রয়েছে। এরপর যদি তোমাদের জিহাদে বের হওয়ার ডাক পড়ে তবে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে পড়।

২৪৭৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَعِنْدَهُ الْقَوْمُ حَتَّى جَلَسَ عِنْدَهُ فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِشَىْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৭৩. মুসাদ্দাদ ..... আমের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর নিকটে লোকজন উপস্থিত ছিল, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বসল এবং তাঁকে বলল, আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যে সকল হাদীস শুনেছেন তার কিছু আমাকে শোনান। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, প্রকৃত মুসলমান ঐ ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুজাহির ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহ নিষিদ্ধ বস্তু হতে দূরে থাকে।

২৭৪. শাম বা সিরিয়ায় বসবাস।

باب فِي سُكْنَى الشَّامِ

২৪৭৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " سَتَكُونُ هِجْرَةٌ بَعْدَ هِجْرَةٍ فَخِيَارُ أَهْلِ الأَرْضِ أَلْزَمُهُمْ مُهَاجَرَ إِبْرَاهِيمَ وَيَبْقَى فِي الأَرْضِ شِرَارُ أَهْلِهَا تَلْفِظُهُمْ أَرَضُوهُمْ تَقْذَرُهُمْ نَفْسُ اللَّهِ وَتَحْشُرُهُمُ النَّارُ مَعَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৭৪. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, সহসা এক হিজরতের পর অপর হিজরত পালিত হয়। তখন দুনিয়াবাসীদের মধ্যে তারাই উৎকৃষ্ট লোক হিসাবে পরিগণিত হবে, যারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর হিজরত স্থলে (সিরিয়াতে) হিজরত করে স্থায়ী বসতি স্থাপন করবে এবং দুনিয়ায় তখন কাফির ও পাপী অসৎ লোকেরাই বাকি থাকবে। তারা নিজ নিজ দেশ হতে বিতাড়িত হবে। আল্লাহ্ও তাদেরকে ঘৃণা করবেন। আর আগুন তাদেরকে বানর ও শূকরের সাথে একত্রিত করবে।

২৪৭৫

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدٍ، - يَعْنِي ابْنَ مَعْدَانَ - عَنْ أَبِي قُتَيْلَةَ، عَنِ ابْنِ حَوَالَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَيَصِيرُ الأَمْرُ إِلَى أَنْ تَكُونُوا جُنُودًا مُجَنَّدَةً جُنْدٌ بِالشَّامِ وَجُنْدٌ بِالْيَمَنِ وَجُنْدٌ بِالْعِرَاقِ " . قَالَ ابْنُ حَوَالَةَ خِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ . فَقَالَ " عَلَيْكَ بِالشَّامِ فَإِنَّهَا خِيَرَةُ اللَّهِ مِنْ أَرْضِهِ يَجْتَبِي إِلَيْهَا خِيَرَتَهُ مِنْ عِبَادِهِ فَأَمَّا إِنْ أَبَيْتُمْ فَعَلَيْكُمْ بِيَمَنِكُمْ وَاسْقُوا مِنْ غُدُرِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَوَكَّلَ لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৭৫. হাইওয়া ইবনে শুরাইহ্ আল হাযরামী ..... ইবনে হাওয়ালা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে ইসলামী হুকুমাত এমন বিস্তার লাভ করবে যে, তোমরা সকলে সংগঠিত সেনাবহিনীতে যোগদান করবে। একটি সেনাবাহিনী সিরিয়ায়, অপরটি ইয়ামানে এবং আরও একটি ইরাকে গঠিত হবে। এরূপ ভবিষ্যৎবাণী শুনে ইবনে হাওয়ালা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি উক্ত সময়টি পাই, তবে আমার জন্য কোথায় থাকা উত্তম হবে? তিনি বলেন, তোমার জন্য সিরিয়ায় থাকা উত্তম হবে। কারণ তা হবে আল্লাহর যমীনসমূহের মধ্যে বাছাইকৃত সর্বোত্তম যমীন। আল্লাহর নেক বান্দাগণ উক্ত যমীন চয়ন করে নিবেন। তোমরা যখন তাতে বসতি স্থাপন করবে তখন তোমাদের ডানদিক বেছে নিবে এবং প্রথমেই পানির কূপ খননের ব্যবস্থা করবে। কারণ আল্লাহ্ আমার উসীলায় সিরিয়া ও তার অধিবাসীদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

২৭৫. সর্বকালে জিহাদ অব্যাহত থাকবে।

باب فِي دَوَامِ الْجِهَادِ

২৪৭৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ عَلَى مَنْ نَاوَأَهُمْ حَتَّى يُقَاتِلَ آخِرُهُمُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৪৭৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের উপর জয়ী হবে। অবশেষে তাদের শেষদলটি কুখ্যাত প্রতারক দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।

২৭৬. জিহাদের পূণ্য।

باب فِي ثَوَابِ الْجِهَادِ

২৪৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ أَىُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْمَلُ إِيمَانًا قَالَ " رَجُلٌ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ وَرَجُلٌ يَعْبُدُ اللَّهَ فِي شِعْبٍ مِنَ الشِّعَابِ قَدْ كُفِيَ النَّاسُ شَرَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৪৭৭. আবুল ওয়ালিদ আত তিয়ালিসী .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) নবী করিম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, মু’মিনদের মধ্যে কোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানদার? তিনি উত্তরে বলেন, যে ব্যক্তি নিজের জানমাল দিয়ে আল্লাহর রাহে জিহাদ করে এবং ঐ ব্যক্তিও পূর্ণ ঈমানদার, যে পাহাড়ের গুহায় কোন নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকে। এমতাবস্থায় সে ঈমানের ক্ষতিসাধনকারী অসৎ লোকদের যাতনা হতে রক্ষা পায়।

২৭৭. ইবাদতের উদ্দেশ্যে বনবাসী হওয়া নিষেধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ السِّيَاحَةِ

২৪৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ التَّنُوخِيُّ أَبُو الْجَمَاهِرِ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي السِّيَاحَةِ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৪৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আত তানূখী .... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবীজীকে বলল, হে আল্লাহ রাসূল! আমাকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে বনবাসে যাওয়ার অনুমতি দিন। নবী করীম (ﷺ) উত্তরে বললেন, আমার উম্মতের জন্য (বনবাস করে ইবাদত করার প্রয়োজন নেই।) মহান আল্লা্হর রাস্তায় জিহাদ করাই ঐরূপ ইবাদতের শামিল।

২৭৮. যুদ্ধশেষে যুদ্ধক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তনের মর্যাদা।

باب فِي فَضْلِ الْقَفْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى

২৪৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، عَنِ ابْنِ شُفَىٍّ، عَنْ شُفَىِّ بْنِ مَاتِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - هُوَ ابْنُ عَمْرٍو - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَفْلَةٌ كَغَزْوَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফফা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যুদ্ধে যোগদান যেমন পুণ্যের কাজ, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র হতে (নিজ বাড়ীতে) প্রত্যাবর্তন করাও পুণ্যের কাজ।

২৭৯. অন্যান্য জাতি অপেক্ষা রোমবাসীদের সঙ্গে যুদ্ধের মর্যাদা।

باب فَضْلِ قِتَالِ الرُّومِ عَلَى غَيْرِهِمْ مِنَ الأُمَمِ

২৪৮০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَلاَّمٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ فَرَجِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ عَبْدِ الْخَبِيرِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهَا أُمُّ خَلاَّدٍ وَهِيَ مُنْتَقِبَةٌ تَسْأَلُ عَنِ ابْنِهَا وَهُوَ مَقْتُولٌ فَقَالَ لَهَا بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جِئْتِ تَسْأَلِينَ عَنِ ابْنِكِ وَأَنْتِ مُنْتَقِبَةٌ فَقَالَتْ إِنْ أُرْزَإِ ابْنِي فَلَنْ أُرْزَأَ حَيَائِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ابْنُكِ لَهُ أَجْرُ شَهِيدَيْنِ " . قَالَتْ وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لأَنَّهُ قَتَلَهُ أَهْلُ الْكِتَابِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৮০. আব্দুর রহমান ইবনে সালাম ...... সাবিত ইবনে কায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রোমের যুদ্ধের পর) উম্মে খাল্লাদ নাম্মী নামক এক রমণী ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তার নিহত পুত্রের খবর জিজ্ঞাসা করেন। এমতাবস্থায় জনৈক সাহাবী তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি তোমার নিহত পুত্রের খবর জানতে চাচ্ছ অথচ মুখে ওড়না জঢ়িয়ে আছো। সে উত্তর করল, আমি আমার পুত্র হারিয়েছি, কিন্তু লজ্জা তো কখনও হারায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমার পুত্র দু‘জন শহীদের মর্যাদা পাবে। সে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কী কারণে সম্ভব হলো? তিনি বললেনঃ কারণ, সে আহলে কিতাবের হাতে শহীদ হয়েছে।

২৮০. সমুদ্রযানে আরোহণ এবং যুদ্ধ করা।

باب فِي رُكُوبِ الْبَحْرِ فِي الْغَزْوِ

২৪৮১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ بِشْرٍ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَرْكَبُ الْبَحْرَ إِلاَّ حَاجٌّ أَوْ مُعْتَمِرٌ أَوْ غَازٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّ تَحْتَ الْبَحْرِ نَارًا وَتَحْتَ النَّارِ بَحْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৮১. সাঈদ ইবনে মনসুর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ হজ্জ বা উমরা পালনকারী অথবা আল্লাহর রাহে যোদ্ধা ছাড়া কেউ যেন সমুদ্রযানে আরোহণ না করে। কারণ, সমুদ্রের নীচে অগ্নি এবং অগ্নির নীচে সমুদ্র বিদ্যমান রয়েছে (উভয়ই ভয়ঙ্কর দুর্যোগপূর্ণ।)

২৪৮২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَرَامٍ بِنْتُ مِلْحَانَ، أُخْتُ أُمِّ سُلَيْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عِنْدَهُمْ فَاسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَضْحَكَكَ قَالَ " رَأَيْتُ قَوْمًا مِمَّنْ يَرْكَبُ ظَهْرَ هَذَا الْبَحْرِ كَالْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ " . قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ . قَالَ " فَإِنَّكِ مِنْهُمْ " . قَالَتْ ثُمَّ نَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَضْحَكَكَ فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ . قَالَ " أَنْتِ مِنَ الأَوَّلِينَ " . قَالَ فَتَزَوَّجَهَا عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَغَزَا فِي الْبَحْرِ فَحَمَلَهَا مَعَهُ فَلَمَّا رَجَعَ قُرِّبَتْ لَهَا بَغْلَةٌ لِتَرْكَبَهَا فَصَرَعَتْهَا فَانْدَقَّتْ عُنُقُهَا فَمَاتَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৪৮২. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল আতাকী .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে সুলায়মের ভগ্নি উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাযিঃ) (আমার খালা) আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁদের নিকট (ঘরে) নিদ্রা গিয়েছিলেন। তারপর হাসতে হাসতে নিদ্রা হতে জাগ্রত হলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কী কারণে আপনার হাসি পাচ্ছে।

তিনি বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, একদল লোক এই সমুদ্র পৃষ্ঠে নৌযানে আরোহণ করছে যেমন রাজা-বাদশাহরা সিংহাসনে আরোহণ করে। তিনি বললেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ নিকট আমার জন্য দুআ করূন যাতে আমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হতে পারি। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে। তিনি বললেন, এরূপ বলার পর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।

পুনরায় তিনি খুশিতে হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আবারও আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কী কারণে আপনার হাসি পাচ্ছে। উত্তরে তিনি পূর্ববত একই কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি বলেন, আমি আবার আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য দুআ করুন, যাতে আল্লাহ্ আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেন, তুমি তাদের প্রথম সারিতে থাকবে।

আনাস (রাযিঃ) বলেন, উবাদা ইবনুল সামিত (রাযিঃ) এর সাথে তাঁর (উম্মে হারামের) বিবাহ হয়েছিল তিনি নৌবাহিনীতে যোগদান করে সমুদ্র-যুদ্ধে যাত্রা করার সময় তাঁকেও সঙ্গে নিলেন। যুদ্ধ শেষে যখন উবাদা (রাযিঃ) দেশে ফিরলেন, তখন উম্মে হারামের জন্য একটি খচ্চর নিকটে আনা হল। এর পিঠে চড়তেই খচ্চরটি তাঁকে ফেলে দিল। ফলে, তাঁর ঘাঢ় ভেঙ্গে গেল এবং তিনি মারা গেলেন। (এরূপে নবীজীর ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হল)।
২৪৮৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَهَبَ إِلَى قُبَاءٍ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ - وَكَانَتْ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ - فَدَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمًا فَأَطْعَمَتْهُ وَجَلَسَتْ تَفْلِي رَأْسَهُ . وَسَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَمَاتَتْ بِنْتُ مِلْحَانَ بِقُبْرُصَ» .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৪৮৩. আল- কা‘নবী ..... ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু তালহা (রাহঃ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি আনাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) যখনই কুবা নামক স্থানে যেতেন তখনই উম্মে হারাম বিনতে মিলহানের ঘরে প্রবেশ করতেন। তিনি উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি তাঁর ঘরে গেলে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে খাবার খাওয়ালেন। তারপর তাঁর নিকটে বসে তাঁর মাথার উকুন তুলতে লাগলেন। এরপর উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করলেন।

২৪৮৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُخْتِ أُمِّ سُلَيْمٍ الرُّمَيْصَاءِ، قَالَتْ نَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَيْقَظَ وَكَانَتْ تَغْسِلُ رَأْسَهَا فَاسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَضْحَكُ مِنْ رَأْسِي قَالَ " لاَ " . وَسَاقَ هَذَا الْخَبَرَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৮৪. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ..... উম্মে সুলায়মের বোন রুমায়সা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিদ্রা গেলেন আর এমন সময় হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন, যখন ঐ রমণীর মাথা ধৌত করছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাথা ধোয়ার কারণে আপনার হাসি পাচ্ছে না কী? তিনি বললেন, না। এরপর উপরোক্ত হাদীসটি কিছুটা কম-বেশী বর্ণনা করলেন।

২৪৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، ح حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْجَوْبَرِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، أَخْبَرَنَا هِلاَلُ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّمْلِيُّ، عَنْ يَعْلَى بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ أُمِّ حَرَامٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الْمَائِدُ فِي الْبَحْرِ الَّذِي يُصِيبُهُ الْقَىْءُ لَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ وَالْغَرِقُ لَهُ أَجْرُ شَهِيدَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ)

২৪৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার আল আয়শী .... উম্মে হারাম (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ রণতরিতে সমুদ্র-বক্ষে যে সৈনিকের মাথা ঘুরে বমি হয়, সে একজন শহীদের সাওয়াব পায়, আর যে পানিতে ডুবে মারা যায়, সে দু‘জন শহীদের সাওয়াব পায়।

২৪৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَتِيقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ سَمَاعَةَ - حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ يَرُدَّهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ وَرَجُلٌ رَاحَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ يَرُدَّهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ وَرَجُلٌ دَخَلَ بَيْتَهُ بِسَلاَمٍ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৪৮৬. আব্দুস সালাম ইবনে আতীক .... আবু উমামা আল বাহেলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ তাআলার জিম্মাদারিতে থাকে। ১. যে আল্লাহর রাহে জিহাদ করার জন্য বের হয়, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। সে মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ্ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান অথবা নিরাপদে ফিরে এলে তাকে পূণ্য এবং গনিমতের প্রাপ্য অংশ দান করেন। ২. যে ব্যক্তি জামাআতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে ধাবিত হয়, সেও আল্লাহর জিম্মায় থাকে। এমতাবস্থায় সে যদি মারা যায় তবে আল্লাহ্ তাআলা তাকে জান্নাত দান করেন। আর মসজিদ হতে ফিরে এলে তার প্রাপ্য পুণ্য ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশীদার করেন। ৩. যে ব্যক্তি নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিবারের লোকজনকে সালাম দেয় সেও মহান আল্লার জিম্মায় থাকে।

২৮১. যে মুসলিম কাফিরকে হত্যা করে তার মর্যাদা।

باب فِي فَضْلِ مَنْ قَتَلَ كَافِرًا

২৪৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَجْتَمِعُ فِي النَّارِ كَافِرٌ وَقَاتِلُهُ أَبَدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে সাববাহ আল বাযযার ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কাফির এবং তার হত্যাকারী মুসলিম চিরস্থায়ী দোযখে একত্রিত হবে না।

২৮২. মুজাহিদগণের স্ত্রীদের সম্ভ্রম রক্ষা করা।

باب فِي حُرْمَةِ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ

২৪৮৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَعْنَبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ مِنَ الْقَاعِدِينَ يَخْلُفُ رَجُلاً مِنَ الْمُجَاهِدِينَ فِي أَهْلِهِ إِلاَّ نُصِبَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقِيلَ لَهُ هَذَا قَدْ خَلَفَكَ فِي أَهْلِكَ فَخُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ " . فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا ظَنُّكُمْ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " كَانَ قَعْنَبٌ رَجُلًا صَالِحًا، وَكَانَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى، أَرَادَ قَعْنَبًا عَلَى الْقَضَاءِ فَأَبَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: أَنَا أُرِيدُ الْحَاجَةَ بِدِرْهَمٍ فَأَسْتَعِينُ عَلَيْهَا بِرَجُلٍ، قَالَ: وَأَيُّنَا لَا يَسْتَعِينُ فِي حَاجَتِهِ، قَالَ: أَخْرِجُونِي حَتَّى أَنْظُرَ فَأُخْرِجَ، فَتَوَارَى، قَالَ سُفْيَانُ: بَيْنَمَا هُوَ مُتَوَارٍ إِذْ وَقَعَ عَلَيْهِ الْبَيْتُ، فَمَاتَ "

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৪৮৮. সাঈদ বি্ন মনসুর .... ইবনে বুরায়দা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রণাঙ্গণে যুদ্ধরত মুজাহিদদের বাড়িতে রাখা স্ত্রীদের মানসম্ভ্রম ও মর্যাদা তাদের পাহারায় বাড়িতে অবস্থানরত লোকদের উপর তাদের মায়ের সমতুল্য। মুজাহিদগণের পরিবারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তখন বলা হবে, তোমার অমুক প্রতিনিধিকে তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার পরিবারের প্রতি অসৎব্যবহার করেছে। তুমি এখন তার নেক আমল হতে যা খুশি গ্রহণ কর। তা বলার পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কী মনে কর? অর্থাৎ মুজাহিদদের পরিবারের মর্যাদা কত অধিক!

২৮৩. ক্ষুদ্র সেনাদল যারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ গ্রহণ করে না।

باب فِي السَّرِيَّةِ تَخْفِقُ

২৪৮৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ غَازِيَةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُصِيبُونَ غَنِيمَةً إِلاَّ تَعَجَّلُوا ثُلُثَىْ أَجْرِهِمْ مِنَ الآخِرَةِ وَيَبْقَى لَهُمُ الثُّلُثُ فَإِنْ لَمْ يُصِيبُوا غَنِيمَةً تَمَّ لَهُمْ أَجْرُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৮৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মায়সারা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে কোনো সেনাদল যদি গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) লাভ করে, আর দুনিয়াতে এর প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করে, তবে পরকালে প্রাপ্য পুরস্কার হতে দুই তৃতীংশ বাদ যাবে এবং পরকালে বাকি এক তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি দুনিয়াতে কিছুই গ্রহণ না করে, তবে পরকালে পূর্ণ পুরস্কার লাভ করবে।

২৮৪. মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় নামায, রোযা ও যিক্‌র এর সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।

باب فِي تَضْعِيفِ الذِّكْرِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى

২৪৯০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّلاَةَ وَالصِّيَامَ وَالذِّكْرَ تُضَاعَفُ عَلَى النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِسَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে মুআয (রহঃ)

২৪৯০. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ ..... সাহল ইবনে মুআয (রাহঃ) কতৃক তাঁর পিতা মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই নামায, রোযা ও যিক্‌র মহান আল্লাহর রাহে সময় ব্যয় অবস্থায় সাতশ গুণ বেশী মর্যাদা রাখে। অর্থাৎ জিহাদরত অবস্থায় এক রোযা দ্বারা সাতশ রোযার সাওয়াব পাওয়া যায়।

২৮৫. জিহাদে বের হয়ে যে মৃত্যুবরণ করে।

باب فِيمَنْ مَاتَ غَازِيًا

২৪৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، يَرُدُّ إِلَى مَكْحُولٍ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غُنْمٍ الأَشْعَرِيِّ أَنَّ أَبَا مَالِكٍ الأَشْعَرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ فَصَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَاتَ أَوْ قُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ أَوْ وَقَصَهُ فَرَسُهُ أَوْ بَعِيرُهُ أَوْ لَدَغَتْهُ هَامَّةٌ أَوْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ أَوْ بِأَىِّ حَتْفٍ شَاءَ اللَّهُ فَإِنَّهُ شَهِيدٌ وَإِنَّ لَهُ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: আবু মালিক আশআরী (রাঃ)

২৪৯১. আব্দুল ওয়াহ্হাব ইবনে নাজদা ..... আবু মালিক আল আশ’আরী (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ রাহে জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, সে শহীদের মর্যাদা পায় অথবা তাকে তার ঘোড়া বা উট পিঠ হতে ফেলে তার ঘাড় ভেঙ্গে ফেলে (ও তারপর মারা যায়) অথবা সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কোন বিষাক্ত প্রাণী দ্বারা দংশিত হয়, অথবা বিছানায় মৃত্যুবরণ করে এবং আল্লাহ নির্ধারিত মৃত্যুপন্থায় প্রাণ হারায়, সে অবশ্যই শহীদ এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত।

২৮৬. শত্রুর মোকাবিলায় সদা প্রস্ত্তত থাকার মর্যাদা।

باب فِي فَضْلِ الرِّبَاطِ

২৪৯২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " كُلُّ الْمَيِّتِ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ، إِلاَّ الْمُرَابِطَ فَإِنَّهُ يَنْمُو لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤَمَّنُ مِنْ فَتَّانِ الْقَبْرِ " .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

২৪৯২. সাঈদ ইবনে মনসুর .... ফুযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার কর্মশক্তি শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শত্রুপক্ষের মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত সৈনিক মারা গেলে তার আমল শেষ হয় না। কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার জন্য আমল বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সে কবরে (মুনকার ও নাকীর ফিরিশতার) পরীক্ষা হতেও নিরাপদ থাকে।

২৮৭. মহান আল্লাহর রাহে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রহরা দানের মর্যাদা।

باب فِي فَضْلِ الْحَرْسِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى

২৪৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي السَّلُولِيُّ أَبُو كَبْشَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ سَهْلُ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ، أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ فَأَطْنَبُوا السَّيْرَ حَتَّى كَانَتْ عَشِيَّةً، فَحَضَرْتُ الصَّلاَةَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ فَارِسٌ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي انْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ حَتَّى طَلَعْتُ جَبَلَ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا أَنَا بِهَوَازِنَ عَلَى بَكْرَةِ آبَائِهِمْ بِظُعُنِهِمْ وَنَعَمِهِمْ وَشَائِهِمُ اجْتَمَعُوا إِلَى حُنَيْنٍ . فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ : " تِلْكَ غَنِيمَةُ الْمُسْلِمِينَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . ثُمَّ قَالَ : " مَنْ يَحْرُسُنَا اللَّيْلَةَ " . قَالَ أَنَسُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيُّ : أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ : " فَارْكَبْ " . فَرَكِبَ فَرَسًا لَهُ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " اسْتَقْبِلْ هَذَا الشِّعْبَ حَتَّى تَكُونَ فِي أَعْلاَهُ وَلاَ نُغَرَّنَّ مِنْ قِبَلِكَ اللَّيْلَةَ " . فَلَمَّا أَصْبَحْنَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مُصَلاَّهُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ : " هَلْ أَحْسَسْتُمْ فَارِسَكُمْ " . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحْسَسْنَاهُ . فَثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ حَتَّى إِذَا قَضَى صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ قَالَ : " أَبْشِرُوا فَقَدْ جَاءَكُمْ فَارِسُكُمْ " . فَجَعَلْنَا نَنْظُرُ إِلَى خِلاَلِ الشَّجَرِ فِي الشِّعْبِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ فَقَالَ : إِنِّي انْطَلَقْتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَى هَذَا الشِّعْبِ حَيْثُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحْتُ اطَّلَعْتُ الشِّعْبَيْنِ كِلَيْهِمَا فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " هَلْ نَزَلْتَ اللَّيْلَةَ " . قَالَ : لاَ إِلاَّ مُصَلِّيًا أَوْ قَاضِيًا حَاجَةً . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " قَدْ أَوْجَبْتَ فَلاَ عَلَيْكَ أَنْ لاَ تَعْمَلَ بَعْدَهَا " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে হানযালিয়্যা (রাঃ)

২৪৯৩. আবু তাওবা .... সাহল ইবনে হানযালিয়্যা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা হুনায়নের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। তখন দ্রুতগতিতে উট চালিয়ে সন্ধ্যাকালে মাগরিবের নামাযের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে পৌঁছলেন। এমন সময় একজন অশ্বারোহী সৈনিক এসে তাঁকে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! আমি আপনাদের নিকট হতে আলাদা হয়ে ঐ সকল পাহাড়ের উপর আরোহণ করে দেখতে পেলাম যে, হাওয়াযিন গোত্রের স্ত্রী-পুরুষ সকলেই তাদের উট, বকরী সবকিছু নিয়ে হুনায়নে একত্রিত হয়েছে। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ঐ সকল বস্তু আল্লাহ্ চাহেতু আগামীকাল মুসলমানদের গনিমতের সামগ্রীতে পরিণত হবে। এরপর তিনি বললেন, আজ রাতে আমাদেরকে কে পাহারা দিবে?

আনাস ইবনে আবু মারসাদ আল-গানবী (রাযিঃ) উত্তর করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পাহারা দেবো। তিনি বললেন, তাহলে তুমি ঘোড়ায় আরোহণ কর। তিনি তাঁর একটি ঘোড়ায় আরোহণ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশ দিলেন, যাও, এ দু‘পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকার দিকে রওয়ানা হয়ে এর চূড়ায় পৌঁছে পাহারায় রত থাকো। আমরা যেন তোমার আসার আগে আজ রাতে কোন ধোঁকায় না পড়ি। ভোরবেলায় রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তার নামায়ের স্থানে গিয়ে ফজরের দু‘রাকআত (সুন্নত) নামায আদায় করলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তোমাদের পাহারাদার অশ্বারোহী সৈনিকের কোন সন্ধান পেয়েছ কী? সকলে উত্তর করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি পাহারায় রত আছেন বলে মনে হয় কিন্তু দেখতে পাইনি।

এরপর ফজর নামাযের ইকামত দেয়া হলে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামায পড়াতে আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় তিনি উপত্যকার দিকে লক্ষ্য রাখতে রাখতে নামায শেষ করে সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে সুসংবাদ নাও যে, তোমাদের পাহারাদার সৈনিক এসে পড়েছে। আমরা উপত্যকায় গাছের ফাঁকে দেখতে পেলাম যে, তিনি সত্যই এসে পড়েছেন। এমনকি তিনি রাসূলূল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাম করলেন এবং বললেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেভাবে আমি এই উপত্যকার উপরাংশের শেষ মাথায় গিয়ে পৌঁছেছিলাম।

সকাল হওয়ার পর আমি উভয় পাহাড়ের উপত্যকা দু‘টির উপরে উঠে নযর করলাম, কোনো শত্রুকেই দেখতে পেলাম না। তা শুনে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি সারারাত কখনও কি ঘোড়ার পিঠ হতে নেমেছিলে? তিনি উত্তর করলেন, না, নামায পড়ার জন্য অথবা পায়খানা-প্রসাবের প্রয়োজন ছাড়া কখনও ঘোড়ার পিঠ হতে নামিনি। তা শুনে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার জন্য জান্নাত অবধারিত হল। তোমার জীবনে আর কোন অতিরিক্ত নেক কাজ না করলেও চলবে। (অর্থাৎ সারারাত জাগ্রত থেকে পাহারায় রত থাকার মত বৃহৎ নেক কাজটি তোমার জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট। অবশ্য ফরয-ওয়াজিব যথারীতি পালনের পর)।

২৮৮. যুদ্ধ পরিহার করা অন্যায়।

باب كَرَاهِيَةِ تَرْكِ الْغَزْوِ

২৪৯৪

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا وُهَيْبٌ، - قَالَ عَبْدَةُ : يَعْنِي ابْنَ الْوَرْدِ - أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِالْغَزْوِ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৯৪. আব্দা ইবনে সুলাইমান আল মারওয়াযী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ যুদ্ধ করল না, এমনকি যুদ্ধ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করল না, সে এক প্রকারের কপট (মুনাফিক) হিসাবে মারা গেল।

২৪৯৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَقَرَأْتُهُ، عَلَى يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ الْجُرْجُسِيِّ قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ لَمْ يَغْزُ أَوْ يُجَهِّزْ غَازِيًا أَوْ يَخْلُفْ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ أَصَابَهُ اللَّهُ بِقَارِعَةٍ " . قَالَ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ فِي حَدِيثِهِ : " قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৪৯৫. আমর ইবনে উসমান ..... আবু উমামা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি যুদ্ধের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ করল না অথবা কোন গাযীকে যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করল না বা গাযীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের কোন উপকার করল না, তাকে আল্লাহ্ তাআলা কোন আকস্মিক দুর্ঘটনা দ্বারা ধ্বংস করবেন। ‘‘কিয়ামতের পূর্বে″ কথাটি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দ রাব্বিহি তার বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেছেন।

২৪৯৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৪৯৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের জান-মাল দিয়ে এবং বাক্য প্রয়োগ তথা লেখনির মাধ্যমে মুশরিকদের বিরদ্ধে যুদ্ধ কর।

২৮৯. কিছু সংখ্যক বিশিষ্ট লোকের যুদ্ধে গমনের নির্দেশ দ্বারা সার্বজনীন অংশগ্রহণের নির্দেশ রহিত হওয়া।

باب فِي نَسْخِ نَفِيرِ الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةِ

২৪৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( إِلاَّ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ) وَ ( مَا كَانَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( يَعْمَلُونَ ) نَسَخَتْهَا الآيَةُ الَّتِي تَلِيهَا ( وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً )

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৯৭. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল মারওয়াযী ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সূরা তাওবার ২৯ নং আয়াত, যাতে বলা হয়েছে): ‘‘যদি তোমরা সকলেই যুদ্ধের জন্য ঘর হতে বের না হও তবে তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।’’ এবং (উক্ত সূরার ১২০ ও ১২১ নং আয়াত পর্যন্ত এ আয়াতদ্বয়ের প্রাথমিক নির্দেশ) এর পরবর্তী (১২২ নং) আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে। এ আয়াতে সকল মু‘মিনকে ঘর ছেড়ে যুদ্ধে বের হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, বরং কতিপয় বিশিষ্ট লোকের বহির্গমনই যথেষ্ট বলে পূর্বেকার নির্দেশ রহিত করা হয়েছে।

২৪৯৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ بْنِ خَالِدٍ الْحَنَفِيِّ، حَدَّثَنِي نَجْدَةُ بْنُ نُفَيْعٍ، قَالَ : سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ( إِلاَّ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ) قَالَ : فَأُمْسِكَ عَنْهُمُ الْمَطَرُ وَكَانَ عَذَابَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৯৮. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল মু‘মিন ইবনে খালিদ আল হানাফী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদা ইবনে নুফায় আমাকে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে (পবিত্র কুরআনের) আয়াতঃ (অর্থ) ‘‘যদি তোমরা সকলে যুদ্ধের জন্য ঘর হতে বের না হও তবে তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে’’ এর ভাবার্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন, যাদের সম্বন্ধে তা নাযিল হয়েছিল, তাদের উপরে বৃষ্টিবর্ষণ বন্ধ করে পানির দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তা দ্বারাই তাদের শাস্তি হয়ে গিয়েছে।

২৯০. ওযরবশত যুদ্ধে যোগদান থেকে বিরত থাকার অনুমতি।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي الْقُعُودِ مِنَ الْعُذْرِ

২৪৯৯

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ : كُنْتُ إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَشِيَتْهُ السَّكِينَةُ فَوَقَعَتْ فَخِذُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي، فَمَا وَجَدْتُ ثِقَلَ شَىْءٍ أَثْقَلَ مِنْ فَخِذِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ : " اكْتُبْ " . فَكَتَبْتُ فِي كَتِفٍ : لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . إِلَى آخِرِ الآيَةِ، فَقَامَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ - وَكَانَ رَجُلاً أَعْمَى - لَمَّا سَمِعَ فَضِيلَةَ الْمُجَاهِدِينَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ لاَ يَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا قَضَى كَلاَمَهُ غَشِيَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّكِينَةُ فَوَقَعَتْ فَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي وَوَجَدْتُ مِنْ ثِقَلِهَا فِي الْمَرَّةِ الثَّانِيَةِ كَمَا وَجَدْتُ فِي الْمَرَّةِ الأُولَى ثُمَّ سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : " اقْرَأْ يَا زَيْدُ " . فَقَرَأْتُ ( لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ) فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ( غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ ) الآيَةَ كُلَّهَا . قَالَ زَيْدٌ : فَأَنْزَلَهَا اللَّهُ وَحْدَهَا فَأَلْحَقْتُهَا، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُلْحَقِهَا عِنْدَ صَدْعٍ فِي كَتِفٍ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২৪৯৯. সাঈদ ইবনে মনসুর .... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পার্শ্বে ছিলাম। এমন সময় তাঁর উপর ওহী অবতরণ শুরু হল। এমতাবস্থায় তাঁর রান আমার রানের ওপর পতিত হয়। আমার নিকট তাঁর রানের চাইতে অথিক ভারী কোন বস্তু আছে বলে অনুভূত হল না। তারপর এ অবস্থা কেটে গেল। তিনি বললেনঃ লেখ, আমি তখন অবতীর্ণ আয়াত (لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) হতে শেষ পর্যন্ত ছাগলের কাঁধের চামড়ায় লিখে নিলাম। (অর্থঃ মু‘মিনদের মধ্যে যারা যুদ্ধে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে, তারা মুজাহিদগণের সমান মর্যাদাশীল নয়।)

আব্দুল্লাহ্ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ) যিনি একজন অন্ধ ও অসমর্থ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি মুজাহিদগণের এহেন মর্যাদার কথা শুনে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! মু‘মিনদের মধ্যে যারা যুদ্ধ করতে অসমর্থ তাদের অবস্থা কী হবে? তার কথা শেষ হওয়া মাত্র আবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উপর ওহী নাযিলের অবস্থা দেখা দিল। এ অবস্থায় তাঁর রান আবার আমার রানের উপর পতিত হল এবং আমি আগের মতো এবারও তাঁর রানের ভার অনুভব করলাম।

তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর ওপর হতে এ অবস্থা কেটে গেলে তিনি বললেন, হে যায়দ! পূর্বে যা লিখেছিলে তা পড়ে শোনাও। তখন আমি (لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) আয়াতটি পড়ে শোনালাম। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) সম্পূর্ণ আয়াতটি বলে দিলেন। (এতে অক্ষম ও অসমর্থ লোকদের ঘরে বসে থাকার অনুমতি দেয়া হল)। যায়দ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াতটিকে একটি পৃথক আয়াতরূপে অতীর্ণ করেছেন। আমি তা উক্ত আয়াতের পরে সংযোজন করলাম। আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার জান, সত্যই আমি যেন এর সংযোজন স্থানটি ছাগ-চর্মের গলার কাটা স্থানে এখনও দেখতে পাচ্ছি।
২৫০০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " لَقَدْ تَرَكْتُمْ بِالْمَدِينَةِ أَقْوَامًا مَا سِرْتُمْ مَسِيرًا وَلاَ أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ وَلاَ قَطَعْتُمْ مِنْ وَادٍ إِلاَّ وَهُمْ مَعَكُمْ فِيهِ " . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَكُونُونَ مَعَنَا وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ : " حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫০০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... মুসা ইবনে আনাস তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যুদ্ধে আসার সময়ে কিছুলোক, মদীনায় ফেলে এসেছে (যারা অপারগতার কারণে তোমাদের সঙ্গে বের হতে পারিনি)। তোমরা যতদূর সফর করেছ, যা কিছু যুদ্ধে ব্যয় করেছ এবং যে পথ অতিক্রম করেছ, তারা এসব কাজে তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। একথা শুনে অনেকে প্রশ্ন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা তো মদীনায় অবস্থান করছে এমতাবস্থায় কী করে আমাদের সঙ্গে থাকবে? তিনি উত্তর করলেন, তাদেরকে তো অপারগতা (যুক্তিসঙ্গত কারণ) আটকে রেখেছে।

২৯১. যে কাজে জিহাদের সাওয়াব পাওয়া যায়।

باب مَا يُجْزِئُ مِنَ الْغَزْوِ

২৫০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ جَهَّزَ غَاَزِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا، وَمَنْ خَلَفَهُ فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৫০১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আবুল হাজ্জাজ .... যায়দ ইবনে খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদকে যুদ্ধ-সরঞ্জাম সরবরাহ করে সাহায্য করল, সে যেন নিজেই জিহাদ করল। আর যে ব্যক্তি মুজাহিদের পরিবারের মঙ্গল সাধনে বাড়ীতে তার প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করল সে-ও নিজে জিহাদ করল।

২৫০২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، مَوْلَى الْمَهْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَى بَنِي لِحْيَانَ وَقَالَ : " لِيَخْرُجْ مِنْ كُلِّ رَجُلَيْنِ رَجُلٌ " . ثُمَّ قَالَ لِلْقَاعِدِينَ : " أَيُّكُمْ خَلَفَ الْخَارِجَ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ بِخَيْرٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ نِصْفِ أَجْرِ الْخَارِجِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫০২. সাঈদ ইবনে মনসুর .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) লিহয়ান গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য একদল সৈন্য পাঠানোর সময় বলেছিলেনঃ প্রত্যেক পরিবার হতে দু‘জনের মধ্যে একজন পুরুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে বের হতে হবে। এরপর বললেন, বাড়িতে অবস্থানকারীদের মধ্যে যে ব্যক্তি যুদ্ধে গমনকারী সৈনিকের পরিবার ও ধনসম্পদের হিফাজত করবে ও মঙ্গল সাধন করবে, সে উক্ত সৈনিকের অর্ধেক সাওয়াব অর্জন করবে।

২৯২. সাহসিকতা ও ভীরুতা।

باب فِي الْجُرْأَةِ وَالْجُبْنِ

২৫০৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مَرْوَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " شَرُّ مَا فِي رَجُلٍ شُحٌّ هَالِعٌ وَجُبْنٌ خَالِعٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫০৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনুল জাররাহ্ .... মারওয়ান ইবনুল হাকামের পুত্র আব্দুল আযীয (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, পুরুষের মধ্যে দূষনীয় স্বভাব হল কৃপণতা, যা তাকে হকদারের হক দান হতে বিরত রাখে, আর ভীরুতা ও হীন মানসিকতা যা যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে।

২৯৩. মহান আল্লাহ বাণীঃ ’তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’

باب فِي قَوْلِهِ تَعَالَى { وَلاَ تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ }

২৫০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، وَابْنِ، لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَسْلَمَ أَبِي عِمْرَانَ، قَالَ : غَزَوْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ نُرِيدُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةَ، وَعَلَى الْجَمَاعَةِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَالرُّومُ مُلْصِقُو ظُهُورِهِمْ بِحَائِطِ الْمَدِينَةِ، فَحَمَلَ رَجُلٌ عَلَى الْعَدُوِّ فَقَالَ النَّاسُ : مَهْ، مَهْ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، يُلْقِي بِيَدَيْهِ إِلَى التَّهْلُكَةِ . فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ : إِنَّمَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِينَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ لَمَّا نَصَرَ اللَّهُ نَبِيَّهُ وَأَظْهَرَ الإِسْلاَمَ، قُلْنَا : هَلُمَّ نُقِيمُ فِي أَمْوَالِنَا وَنُصْلِحُهَا، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ) فَالإِلْقَاءُ بِالأَيْدِي إِلَى التَّهْلُكَةِ أَنْ نُقِيمَ فِي أَمْوَالِنَا وَنُصْلِحَهَا وَنَدَعَ الْجِهَادَ . قَالَ أَبُو عِمْرَانَ : فَلَمْ يَزَلْ أَبُو أَيُّوبَ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى دُفِنَ بِالْقُسْطَنْطِينِيَّةِ .

বর্ণনাকারী: আবূ ‘ইমরান (রহঃ)

২৫০৪. আহমদ ইবনে আমর ইবনুল সারহ ...... আসলাম আবু ইমরান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনা হতে কস্তুনতুনিয়া (ইস্তাম্বুল) অভিমুখে যুদ্ধ-যাত্রা করলাম। আমাদের সেনাপতি ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালীদের পুত্র আব্দুর রহমান। রোমের সৈন্যদল ইস্তাম্বুল শহরের দেওয়ালে পিঠ লাগিয়ে যুদ্ধের জন্য দণ্ডায়মান ছিল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি শত্রু সৈন্যের উপর আক্রমণ করে বসল। তখন আমাদের লোকজন বলে উঠলঃ থাম, থাম, লা ইলাহা ইল্লাহ্, সে তো নিজেই ধ্বংসের দিকে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছে। তখন আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) বলেন, (وَلاَ تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ) এ আয়াত আমাদের আনসার সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।

যখন আল্লাহর নবীকে আল্লাহ্ সাহায্য করলেন এবং ইসলামকে জয়যুক্ত করলেন, তখন আমরা বলেছিলাম, আমরা যুদ্ধে না গিয়ে ঘরে থেকে আমাদের সহায়-সম্পদ দেখাশুনা করব এবং এর সংস্কার সাধন করব। তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ (অর্থ) ‘আর তোমরা আল্লাহ রাস্তায় ব্যয় কর এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’’ আমাদের ঘরে থেকে মালামালের রক্ষণাবেক্ষণ করা ও যুদ্ধে না যাওয়াই হল নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া। আবু ইমরান বলেন, এ কারণেই আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) আল্লাহ রাস্তায় সর্বদা যুদ্ধে লিপ্ত থাকতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে কস্তুনতুনিয়ায় সমাহিত হলেন।

২৯৪. তীর নিক্ষেপ।

باب فِي الرَّمْىِ

২৫০৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلاَّمٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُدْخِلُ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ ثَلاَثَةَ نَفَرٍ الْجَنَّةَ : صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صَنْعَتِهِ الْخَيْرَ، وَالرَّامِيَ بِهِ، وَمُنْبِلَهُ، وَارْمُوا وَارْكَبُوا، وَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا، لَيْسَ مِنَ اللَّهْوِ إِلاَّ ثَلاَثٌ : تَأْدِيبُ الرَّجُلِ فَرَسَهُ وَمُلاَعَبَتُهُ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَنَبْلِهِ، وَمَنْ تَرَكَ الرَّمْىَ بَعْدَ مَا عَلِمَهُ رَغْبَةً عَنْهُ فَإِنَّهَا نِعْمَةٌ تَرَكَهَا " . أَوْ قَالَ : " كَفَرَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৫০৫. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ্ একটি তীরের কারণে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ১. তীর প্রস্তুত কারীকে, যে যুদ্ধে ব্যবহারের সৎ উদ্দেশ্যে তৈরী করেছে। ২. তীর নিক্ষেপকরীকে। ৩. তীরের ঝুড়িবাহককে, যে প্রতিবার তীর নিক্ষেপকারীকে ব্যবহারের জন্য তীর সরবাহ করে থাকে। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর ও ঘোড়ায় চড়। তোমাদের তীর নিক্ষেপের জন্য ঘোড়ার আরোহণ করার চাইতে তীর নিক্ষেপই আমার নিকট অধিক প্রিয়।

তিন প্রকারের বিনোদন ছাড়া অন্য কোন প্রকার বিনোদন অনুমদিত নয়। ১. পুরুষের জন্য তার ঘোড়াকে কৌশলের প্রশিক্ষণ দান। ২. স্বীয় স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করা। ৩. তীর ধনুক পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়া, সে যেন একটি উত্তম নেআমত ত্যাগ করল। অথবা তিনি বলেছেন, নেআমত অস্বীকার করল ও অকৃতজ্ঞ হল।
২৫০৬

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ، : ثُمَامَةَ بْنِ شُفَىٍّ الْهَمْدَانِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ : " ( وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ ) أَلاَ إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْىُ، أَلاَ إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْىُ، أَلاَ إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْىُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৫০৬. সাঈদ ইবনে মনসুর ...... আবু আলী ছুমামা ইবনে শাফী আল্ হামাদানী হতে বর্ণিত। তিনি উকবা ইবনে আমির আল্ জুহানী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি রাসূলূল্লাহ (ﷺ)কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেয়ার সময় বলতে শুনেছেনঃ (পবিত্র কুরআনের নির্দেশ) ‘‘তোমরা শত্রুর মোকাবিলার জন্য সাধ্যমত শক্তি অর্জন কর’’ মনে রেখো, শক্তি অর্থ হল তীরবাজি। মনে রেখো, শক্তি অর্থ তীরবাজি। মনে রেখো, শক্তি অর্থ তীরবাজি। (তখনকার দিনে তীর নিক্ষেপ করার কৌশলই ছিল রণক্ষেত্রে বিজয়ের অন্যতম অস্ত্র। বর্তমানে বন্দুক, মেশিনগান, তোপ, কামান ইত্যাদি আধুনিক যুদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ গ্রহণ এর অন্তর্ভুক্ত হবে)।

২৯৫. যে ব্যক্তি পার্থিব স্বার্থে যুদ্ধ করে।

باب فِي مَنْ يَغْزُو وَيَلْتَمِسُ الدُّنْيَا

২৫০৭

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ : " الْغَزْوُ غَزْوَانِ فَأَمَّا مَنِ ابْتَغَى وَجْهَ اللَّهِ، وَأَطَاعَ الإِمَامَ، وَأَنْفَقَ الْكَرِيمَةَ، وَيَاسَرَ الشَّرِيكَ، وَاجْتَنَبَ الْفَسَادَ، فَإِنَّ نَوْمَهُ وَنَبْهَهُ أَجْرٌ كُلُّهُ وَأَمَّا مَنْ غَزَا فَخْرًا وَرِيَاءً وَسُمْعَةً، وَعَصَى الإِمَامَ، وَأَفْسَدَ فِي الأَرْضِ، فَإِنَّهُ لَمْ يَرْجِعْ بِالْكَفَافِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৫০৭. হায়ওয়া ইবনে শুরায়হ আল্-হাযরামী .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যুদ্ধ দু‘প্রকার, ১. যে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করে এবং ইমামের অনুগত্যে থাকে, নিজের উৎকৃষ্ট সম্পদ যুদ্ধে ব্যয় করে, সঙ্গীর সহায়তা করে, ঝগড়া ফ্যাসাদ ও অপকর্ম হতে বেঁচে থাকে। তার নিদ্রা ও জাগ্রত অবস্থার সব কিছুই পূণ্যে পরিণত হয়। ২. যে গর্বভরে লোক দেখানো ও সুনামের জন্য যুদ্ধ করে এবং ইমামের (নেতার) অবাধ্য থাকে ও পৃথিবীতে অন্যায় কাজ করে, সে সামান্য কিছু পুণ্য নিয়েও বাড়ি ফিরে না।

২৫০৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، : الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ ابْنِ مِكْرَزٍ، - رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، : أَنَّ رَجُلاً، قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَجُلٌ يُرِيدُ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَهُوَ يَبْتَغِي عَرَضًا مِنْ عَرَضِ الدُّنْيَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " لاَ أَجْرَ لَهُ " . فَأَعْظَمَ ذَلِكَ النَّاسُ، وَقَالُوا لِلرَّجُلِ : عُدْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَعَلَّكَ لَمْ تُفَهِّمْهُ . فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَجُلٌ يُرِيدُ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَهُوَ يَبْتَغِي عَرَضًا مِنْ عَرَضِ الدُّنْيَا . فَقَالَ : " لاَ أَجْرَ لَهُ " . فَقَالُوا لِلرَّجُلِ : عُدْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ لَهُ الثَّالِثَةَ، فَقَالَ لَهُ : " لاَ أَجْرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫০৮. আবু তাওবা আল রাবী ইবনে নাফি ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে জিহাদ করার ইচ্ছা পোষণ করেও পার্থিব কিছু সম্পদ লাভেরও আশা করল, তার অবস্থা কিরূপ? নবী করীম (ﷺ) উত্তর করলেন, তার কোন পুণ্য হবে না। লোকজনের নিকট তা ভয়ঙ্কর বলে মনে হল। তখন তারা লোকটিকে বিষয়টি পুনরায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বুঝিয়ে বলতে আরয করল। সে ব্যক্তি পুণরায় জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এক ব্যক্তি আল্লাহর রাহে জিহাদের ইচ্ছা করে আর পার্থিব কিছু সম্পদও লাভ করতে চায়, তবে তার অবস্থা কেমন? তিনি জবাব দিলেন, তার কোন পুণ্যই হবে না। লোকটি আবারও তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করতে বলায়, সে তৃতীয়বারেও জিজ্ঞাসা করল। তৃতীয়বারেও তিনি বললেন, তার কোন সাওয়াব হবে না।

২৫০৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، : أَنَّ أَعْرَابِيًّا، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَيُقَاتِلُ لِيُحْمَدَ، وَيُقَاتِلُ لِيَغْنَمَ، وَيُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ قَاتَلَ حَتَّى تَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ أَعْلَى فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৫০৯. হাফস ইবনে উমর ..... আবু মুসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য লোক রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, কোন লোক নাম প্রচারের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ প্রশংসা পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করে, কেউ গনিমতের সম্পদ পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করে, আর কেউ তার শৌর্য বীর্য প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে। তারপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌছানো পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকল সে মহান আল্লাহর রাহে যুদ্ধরত গণ্য হবে।

২৫১০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ : سَمِعْتُ مِنْ أَبِي وَائِلٍ، حَدِيثًا أَعْجَبَنِي . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনু দীনার (রহঃ)

২৫১০. আলী ইবনে মুসলিম ..... আমর হতে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন, আমি আবু ওয়ায়েল হতে চমৎকার হাদীস শুনেছি। এটুকু বলার পর তিনি উপরোক্ত হাদীসের মর্মে হাদীস বর্ণনা করলেন।

২৫১১

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ حَاتِمٍ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَضَّاحِ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ حَنَانِ بْنِ خَارِجَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْجِهَادِ، وَالْغَزْوِفَقَالَ : " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، إِنْ قَاتَلْتَ صَابِرًا مُحْتَسِبًا بَعَثَكَ اللَّهُ صَابِرًا مُحْتَسِبًا، وَإِنْ قَاتَلْتَ مُرَائِيًا مُكَاثِرًا بَعَثَكَ اللَّهُ مُرَائِيًا مُكَاثِرًا، يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، عَلَى أَىِّ حَالٍ قَاتَلْتَ أَوْ قُتِلْتَ بَعَثَكَ اللَّهُ عَلَى تِيكَ الْحَالِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৫১১. মুসলিম ইবনে হাতিম আল আনসারী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) মহানবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে জিহাদ ও যুদ্ধ সম্বন্ধে বলুন, এর কোনটি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য? তিনি বলেন, হে আব্দু্ল্লাহ ইবনে আমর! যদি তুমি ধৈর্যের সাথে আল্লাহ নিকট হতে পুণ্য লাভের আশায় যুদ্ধ কর তবে তোমাকে আল্লাহ্ দৃঢ় রাখবেনএবং পুণ্যও দান করবেন।আর যদি তুমি গর্বভরে লোক দেখানো যুদ্ধ কর,তবে আল্লাহ তোমাকে গর্বিত ও লোক দেখানোরূপে চিহ্নিত করবেন। হে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর! তুমি যে অবস্থায় যুদ্ধ কর বা মারা যাও তোমাকে সে অবস্থায় তোমার নিয়ত অনুযায়ী আল্লাহ্ উত্থিত করবেন।

২৯৬. শাহাদাতের মর্যাদা।

باب فِي فَضْلِ الشَّهَادَةِ

২৫১২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " لَمَّا أُصِيبَ إِخْوَانُكُمْ بِأُحُدٍ جَعَلَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ تَرِدُ أَنْهَارَ الْجَنَّةِ، تَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا، وَتَأْوِي إِلَى قَنَادِيلَ مِنْ ذَهَبٍ مُعَلَّقَةٍ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ، فَلَمَّا وَجَدُوا طِيبَ مَأْكَلِهِمْ وَمَشْرَبِهِمْ وَمَقِيلِهِمْ قَالُوا : مَنْ يُبَلِّغُ إِخْوَانَنَا عَنَّا أَنَّا أَحْيَاءٌ فِي الْجَنَّةِ نُرْزَقُ لِئَلاَّ يَزْهَدُوا فِي الْجِهَادِ وَلاَ يَنْكُلُوا عِنْدَ الْحَرْبِ فَقَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ : أَنَا أُبَلِّغُهُمْ عَنْكُمْ . قَالَ : فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ) " . إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫১২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের ভাইগণ উহুদের যুদ্ধে শহীদ হলেন, তখন আ্ল্লাহ্ তাদের রূহসমূহ (আত্মা) সবুজ পাখির পেটে প্রবেশ করিয়ে দিলেন। তারা জান্নাতের ঝরনায় গিয়ে এর পানি, দুধ ও মধু পান করতে লাগলো এবং জান্নাতের ফল ভক্ষণ করতে লাগলো। এরপর জান্নাতের সুস্বাদু খাদ্য, পানীয় ও অবসর বিনোদনের স্বাদ গ্রহণের পর তারা বলে উঠল, আমাদের এরূপ অবস্থার কথা যে, আমরা জান্নাতে জীবিত আছি ও পানাহার করছি, কে আমাদের ভাইদেরকে দুনিয়াতে পৌঁছিয়ে দেবে, যাতে তারা এটা শুনে জিহাদে অমনযোগী না হয় এবং যুদ্ধ ভীরুতা প্রদর্শন না করে। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, আমিই তাদেরকে তোমাদের অবস্থার কথা পৌছিয়ে দেবো। নবী করীম (ﷺ) বলেন, তখন আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াতে (وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا) (অর্থাৎ) ‘‘তোমরা মনে করো না যে, যারা আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ দিয়েছে, তারা মৃত্যুবরণ করেছে, বরং তারা জীবিত, তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট পানাহার গ্রহণ করছে’’ নাযিল করলেন।

২৯৭. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

২৫১৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، حَدَّثَتْنَا حَسْنَاءُ بِنْتُ مُعَاوِيَةَ الصَّرِيمِيَّةُ، قَالَتْ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : مَنْ فِي الْجَنَّةِ قَالَ : " النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ، وَالشَّهِيدُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْلُودُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْوَئِيدُ فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫১৩. মুসাদ্দাদ ..... হাসনা বিনতে মুআবিয়া সূরাইমিয়্যা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে আমার চাচা (আসলাম) হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলাম, কে কে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেনঃ নবী ও শহীদ জান্নাতে যাবেন, গর্ভাবস্থায় মৃত সন্তান বেহেশতে যাবে এবং জীবন্ত প্রোথিত সন্তান জান্নাতে যাবে।

২৯৮. শহীদ কর্তৃক সুপারিশ করা।

باب فِي الشَّهِيدِ يُشَفَّعُ

২৫১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ رَبَاحٍ الذِّمَارِيُّ، حَدَّثَنِي عَمِّي، : نِمْرَانُ بْنُ عُتْبَةَ الذِّمَارِيُّ قَالَ : دَخَلْنَا عَلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ أَيْتَامٌ فَقَالَتْ : أَبْشِرُوا فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " يُشَفَّعُ الشَّهِيدُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : صَوَابُهُ رَبَاحُ بْنُ الْوَلِيدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২৫১৪. আহমদ ইবনে সালিহ .... নিমরান ইবনে উতবা আয যামারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন ইয়াতীম ছেলে উম্মুদ দারদা (রাযিঃ) এর ঘরে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো যে, আমি (আমার স্বামী) আবুদ দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ শহীদ ব্যক্তি তার পরিবারের সত্তরজন লোকের জন্য (আল্লাহ্ তাআলার নিকট হাশরে) সুপারিশ করবেন। (তাঁর সুপারিশ গৃহীত হবে।)

২৯৯. শহীদের কবর হতে নূর দৃষ্ট হওয়া।

باب فِي النُّورِ يُرَى عِنْدَ قَبْرِ الشَّهِيدِ

২৫১৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : لَمَّا مَاتَ النَّجَاشِيُّ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّهُ لاَ يَزَالُ يُرَى عَلَى قَبْرِهِ نُورٌ .
«قال لنا أبو سعيد: وأخبرناه أحمد بن عبد الجبار العطاردي قال: أخبرنا يونس بن بكير عن ابن إسحاق نحوه».

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫১৫. মুহাম্মাদ ইবনে আমর আল-রাযী ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্) নাজ্জাশী মারা গেলেন, তখন আমরা বলাবলি করছিলাম, তাঁর কবরের ওপর নূর (আলো) সর্বদা দেখা যেতে থাকবে।

৩০০. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

২৫১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُبَيِّعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ : آخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا وَمَاتَ الآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا، فَصَلَّيْنَا عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَا قُلْتُمْ " . فَقُلْنَا : دَعَوْنَا لَهُ، وَقُلْنَا : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَأَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " فَأَيْنَ صَلاَتُهُ بَعْدَ صَلاَتِهِ وَصَوْمُهُ بَعْدَ صَوْمِهِ " . شَكَّ شُعْبَةُ فِي صَوْمِهِ : " وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ إِنَّ بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫১৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... উবাইদ ইবনে খালিদ আস সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দু‘ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়ে দিয়েছিলেন। তাদের একজন প্রথমে শহীদ হন আর অপরজন তার পরে কোন জুমআর দিনে অথবা এমন কোন দিনে মারা যান। আমরা তার জানাযা আদায় করি। এরপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা এ ব্যক্তির ব্যাপারে কীরূপ দুআ করলে? আমরা বললাম, আমরা তার মাগফিরাতের জন্য দুআ করেছি আর বলেছি, হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর এবং তার সঙ্গী ভাইয়ের সাথে মিলন ঘটিয়ে দাও। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তাহলে (প্রথম ব্যক্তির পরে) এ ব্যক্তি (জীবিত থেকে) যে সকল নামায, রোযা ও আমল (তার চাইতে অধিক পরিমাণে) করেছে, তা কোথায় যাবে? (প্রকৃতপক্ষে) তাদের উভয়ের মধ্যে আকাশপাতাল ব্যবধান রয়েছে।

৩০১. যুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে শ্রমদান।

باب فِي الْجَعَائِلِ فِي الْغَزْوِ

২৫১৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، - الْمَعْنَى وَأَنَا لِحَدِيثِهِ، أَتْقَنُ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، : سُلَيْمَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنِ ابْنِ أَخِي أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " سَتُفْتَحُ عَلَيْكُمُ الأَمْصَارُ، وَسَتَكُونُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ تُقْطَعُ عَلَيْكُمْ فِيهَا بُعُوثٌ فَيَكْرَهُ الرَّجُلُ مِنْكُمُ الْبَعْثَ فِيهَا فَيَتَخَلَّصُ مِنْ قَوْمِهِ ثُمَّ يَتَصَفَّحُ الْقَبَائِلَ يَعْرِضُ نَفْسَهُ عَلَيْهِمْ يَقُولُ : مَنْ أَكْفِيهِ بَعْثَ كَذَا، مَنْ أَكْفِيهِ بَعْثَ كَذَا أَلاَ وَذَلِكَ الأَجِيرُ إِلَى آخِرِ قَطْرَةٍ مِنْ دَمِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২৫১৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা আর-রাযী .... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূৃল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, অদূর ভবিষ্যতে বহু শহর জয় করে এর উপর তোমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভারী সাঁজোয়া বাহিনী গঠিত হবে। তজ্জন্য তোমাদের প্রত্যেক গোত্র হতে সেনাদল গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়বে। তখন তোমাদের ব্যক্তি বিশেষ সেনাদলে যোগদান পছন্দ করবে না। তাই সে দল হতে কেটে পড়বে। তারপর গোত্রে গোত্রে গিয়ে নিজেকে সৈন্যদল ভাড়ায় নেয়ার জন্য পেশ করবে আর বলবে, কে তাকে পারশ্রমিক দিয়ে কোনো সেনাদলে গ্রহণ করবে? তোমরা জেনে রেখ যে, সে ব্যক্তি তার রক্তের শেষবিন্দু দান করা পর্যন্ত ভাড়াটিয়া শ্রমিকই থাকবে (মুজাহিদের মর্যাদা পাবে না।)

৩০২. অর্থের বিনিময়ে সৈন্য বা যুদ্ধাস্ত্র গ্রহণের অনুমতি।

باب الرُّخْصَةِ فِي أَخْذِ الْجَعَائِلِ

২৫১৮

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ شُفَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " لِلْغَازِي أَجْرُهُ، وَلِلْجَاعِلِ أَجْرُهُ وَأَجْرُ الْغَازِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৫১৮. ইবরাহীম ইবনুল হাসান আল-মাসসিসী ..... আব্দাল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ গাযীর জন্য নির্ধারিত পুণ্য রয়েছে। গাযীকে যুদ্ধাস্ত্র ভাড়া দিয়ে সহায়তা দানকারী তার সহায়তার পুণ্য পাবেই, অধিকন্তু গাযীর সমান পুণ্যেরও অধিকারী হবে।

৩০৩. যে ব্যক্তি সেবার জন্য শ্রমিক নিযুক্ত হয়ে যুদ্ধ করে।

باب فِي الرَّجُلِ يَغْزُو بِأَجِيرٍ لِيَخْدُمَ

২৫১৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَاصِمُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، أَنَّ يَعْلَى بْنَ مُنْيَةَ، قَالَ : آذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْغَزْوِ وَأَنَا شَيْخٌ كَبِيرٌ لَيْسَ لِي خَادِمٌ، فَالْتَمَسْتُ أَجِيرًا يَكْفِينِي وَأُجْرِي لَهُ سَهْمَهُ، فَوَجَدْتُ رَجُلاً، فَلَمَّا دَنَا الرَّحِيلُ أَتَانِي فَقَالَ : مَا أَدْرِي مَا السُّهْمَانُ وَمَا يَبْلُغُ سَهْمِي فَسَمِّ لِي شَيْئًا كَانَ السَّهْمُ أَوْ لَمْ يَكُنْ . فَسَمَّيْتُ لَهُ ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ، فَلَمَّا حَضَرَتْ غَنِيمَتُهُ أَرَدْتُ أَنْ أُجْرِيَ لَهُ سَهْمَهُ، فَذَكَرْتُ الدَّنَانِيرَ، فَجِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ لَهُ أَمْرَهُ، فَقَالَ : " مَا أَجِدُ لَهُ فِي غَزْوَتِهِ هَذِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ إِلاَّ دَنَانِيرَهُ الَّتِي سَمَّى " .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

২৫১৯. আহমদ ইবনে সালিহ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে দায়লামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ালা ইবনে মুনাইয়্যা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যুদ্ধে বের হওয়ার জন্য আহবান করলেন। আমি খুবই বৃদ্ধ ছিলাম। আমার কোন খাদেম ছিল না। তাই এমন একজন শ্রমিক তালাশ করলাম, যে আমার সহায়তার জন্য যথেষ্ট হবে। তাকে একজন সৈনিকের প্রাপ্য অংশ মজুরী দেয়ার মনস্থ করলাম। সেরূপ এক ব্যক্তিকে পেয়েও গেলাম। যখন যুদ্ধক্ষেত্র হতে ফেরার সময় নিকটবর্তী হল, তখন সে তার মজুরীর জন্য আমার নিকট উপস্থিত হল আর বলল, আমি সৈনিকের প্রাপ্যাদি সম্বন্ধে কিছুই জানি না, সৈনিক হিসাবে যুদ্ধ করায় আমার প্রাপ্য কত হবে তা-বুঝি না, আমাকে পরিমাণমত হোক বা না হোক কিছু মজুরী ঠিক করে দিন।

আমি তখন তাকে তিন দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) মজুরী দানের সাব্যস্ত করলাম। এরপর যখন সৈনিকের সেহাম (প্রাপ্যাংশ) উপস্থিত হল, তখন অন্যান্য সৈনিকের মত তার প্রাপ্যাংশ তাকে দিতে চাইলাম, তারপর আমার মনে পড়ল, তার জন্য মজুরী নির্ধারিত তিন দীনার। আমি ব্যাপারটি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট গিয়ে উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেনঃ তার জন্য এ যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য ইহকাল ও পরকালে নির্ধারিত দীনার ছাড়া অপর কোন পুণ্য আছে বলে আমার মনে হয় না। (অর্থাৎ সে মুজাহিদ হিসাবে আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করেনি, বরং শ্রমিক হিসেবে পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করেছে। অতএব, সে শুধু নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। মুজাহিদের মান-মর্যাদা, প্রাপ্য অংশ ও সাওয়াব কোন কিছুরই ভাগী হবে না।)

৩০৪. যে ব্যক্তি মাতা-পিতাকে নারায রেখে যুদ্ধে যেতে চায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَغْزُو وَأَبَوَاهُ كَارِهَانِ

২৫২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : جِئْتُ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَىَّ يَبْكِيَانِ . فَقَالَ : " ارْجِعْ عَلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৫২০. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ....... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, আমি হিজরত করে (আপনার সাথে যুদ্ধে গমনের জন্য) আপনার হাতে বায়আত করতে এসেছি। কিন্তু আমার মাতাপিতা নারায বিধায় কাঁদছেন। তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার নিকট ফিরে যাও। যেভাবে তাদেরকে কাঁদিয়েছ সেভাবে তাঁদেরকে হাঁসিয়ে তোল।

২৫২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أُجَاهِدُ قَالَ : " أَلَكَ أَبَوَانِ " . قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : " فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : أَبُو الْعَبَّاسِ هَذَا الشَّاعِرُ اسْمُهُ السَّائِبُ بْنُ فَرُّوخَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৫২১. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর .... আবুল আব্বাস সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন লোক নবী করীম (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধ করব। তিনি বললেন, তোমার পিতা-মাতা আছেন কি? সে বলল হ্যাঁ আছেন।। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তাঁদের খিদমত করে তাঁদের সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ কর।

২৫২২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، : أَنَّ رَجُلاً، هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْيَمَنِ، فَقَالَ : " هَلْ لَكَ أَحَدٌ بِالْيَمَنِ " . قَالَ : أَبَوَاىَ . قَالَ : " أَذِنَا لَكَ " . قَالَ : لاَ . قَالَ : " ارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَاسْتَأْذِنْهُمَا، فَإِنْ أَذِنَا لَكَ فَجَاهِدْ، وَإِلاَّ فَبِرَّهُمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫২২. সাঈদ ইবনে মনসুর .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন লোক ইয়ামান হতে হিজরত করে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়ামানে তোমার কেউ রয়েছে কি? সে উওর করল, আমার পিতা-মাতা রয়েছেন।তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তারা উভয়ে তোমাকে হিজরত করতে অনুমতি দিয়েছেন কি? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার নিকট ফিরে গিয়ে তাঁদের উভয়ের অনুমতি প্রার্থনা কর। যদি তাঁরা উভয়ে তোমাকে হিজরত করার ও যুদ্ধ করার অনুমতি দেন তবে ফিরে এসে জিহাদ কর, অন্যথায় তাঁদের উভয়ের খিদমত কর।

৩০৫. মহিলাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ।

باب فِي النِّسَاءِ يَغْزُونَ

২৫২৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهِّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ لِيَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫২৩. আব্দুস সালাম ইবনে মুতাহহার .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উম্মে সুলায়মকে যুদ্ধে নিয়ে যেতেন। আর আনসারী মহিলারাও সঙ্গে যেতেন। তারা সৈনিকদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পান করাতেন এবং আহত সৈনিকদের চিকিৎসা করতেন।

৩০৬. অত্যাচারী শাসকের সঙ্গে যুদ্ধ।

باب فِي الْغَزْوِ مَعَ أَئِمَّةِ الْجَوْرِ

২৫২৪

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي نُشْبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " ثَلاَثَةٌ مِنْ أَصْلِ الإِيمَانِ : الْكَفُّ عَمَّنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ تُكَفِّرْهُ بِذَنْبٍ وَلاَ تُخْرِجْهُ مِنَ الإِسْلاَمِ بِعَمَلٍ، وَالْجِهَادُ مَاضٍ مُنْذُ بَعَثَنِيَ اللَّهُ إِلَى أَنْ يُقَاتِلَ آخِرُ أُمَّتِي الدَّجَّالَ لاَ يُبْطِلُهُ جَوْرُ جَائِرٍ وَلاَ عَدْلُ عَادِلٍ، وَالإِيمَانُ بِالأَقْدَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫২৪. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঈমানের মূল হল তিনটি বিষয়ঃ ১. যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়েছে, তাকে হত্যা ও কষ্ট দেয়া হতে বিরত থাকা ২. কোন পাপের কারণে তাকে কাফির না বলা এবং ৩. শির্‌ক ও কুফরী কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজের জন্য তাকে ইসলাম হতে বহিষ্কার না করা। যখন থেকে আমাকে আল্লাহ্ নবী করেছেন তখন থেকেই জিহাদ চালু রয়েছে এবং চিরকাল থাকবে। শেষ পর্যন্ত আমার উম্মতের শেষ দলটি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে। কোন অত্যাচারী এবং কোন বিচারকের বিচারে যুদ্ধ বাতিল হবে না এবং ভালমন্দ সব কিছু আল্লাহর পক্ষ হতে হয় বলে বিশ্বাস করাও প্রকৃত ঈমান।

২৫২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " الْجِهَادُ وَاجِبٌ عَلَيْكُمْ مَعَ كُلِّ أَمِيرٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا، وَالصَّلاَةُ وَاجِبَةٌ عَلَيْكُمْ خَلْفَ كُلِّ مُسْلِمٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنْ عَمِلَ الْكَبَائِرَ، وَالصَّلاَةُ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنْ عَمِلَ الْكَبَائِرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫২৫. আহমদ ইবনে সাহিল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, শাসকের নির্দেশে যুদ্ধ করা তোমাদের ওপর অপরিহার্য, চাই সে সৎ হোক বা অসৎ। নামায তোমাদের উপর ফরয প্রত্যেক মুসলিমের পেছনে, সে (ইমাম) সৎ হোক অথবা অসৎ, যদিও সে কবীরা গুনাহ্ করে থাকে। আর জানাযার নামায প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয মৃত ব্যক্তি সৎ হোক অথবা অসৎ, যদিও সে কবীরা গুনাহ্ করে থাকে।

৩০৭. অন্যের মালপত্রের বোঝা বহণ করে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে।

باب الرَّجُلِ يَتَحَمَّلُ بِمَالِ غَيْرِهِ يَغْزُو

২৫২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَرَادَ أَنْ يَغْزُوَ فَقَالَ : " يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ، إِنَّ مِنْ إِخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ وَلاَ عَشِيرَةٌ فَلْيَضُمَّ أَحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَوِ الثَّلاَثَةَ فَمَا لأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعُقْبَةِ " . يَعْنِي أَحَدِهِمْ . فَضَمَمْتُ إِلَىَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً، قَالَ : مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعُقْبَةِ أَحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫২৬. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল আনবারী .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, একবার তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বললেন, হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়ের লোকজন! তোমাদের মুসলিম ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যাদের যুদ্ধে ব্যয় করার মত নিজস্ব ধনসম্পদ নেই এবং তাদেরকে সাহায্য করার জন্য আত্মীয়স্বজনও নেই, তাদের দুই বা তিনজনকে তোমাদের প্রত্যেকে নিজের সঙ্গে শামিল করে নেয়া উচিত। তখন আমাদের কারো সঙ্গে একের অধিক মালবাহী পশু ছিল না যে, পালাক্রমে আরোহণ করা ছাড়া তাদেরকে নেয়া যায় না। জাবির (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি তাদের দু‘জন বা তিনজনকে একের পর এক পালাক্রমে আমার বাহনে নেয়ার ব্যবস্থা করলাম।

৩০৮. যে ব্যক্তি পুণ্য ও গনিমতের লাভের আশায় যুদ্ধে যেতে চায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَغْزُو يَلْتَمِسُ الأَجْرَ وَالْغَنِيمَةَ

২৫২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي ضَمْرَةُ، أَنَّ ابْنَ زُغْبٍ الإِيَادِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ : نَزَلَ عَلَىَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَوَالَةَ الأَزْدِيُّ فَقَالَ لِي : بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِنَغْنَمَ عَلَى أَقْدَامِنَا فَرَجَعْنَا فَلَمْ نَغْنَمْ شَيْئًا وَعَرَفَ الْجُهْدَ فِي وُجُوهِنَا فَقَامَ فِينَا فَقَالَ : " اللَّهُمَّ لاَ تَكِلْهُمْ إِلَىَّ فَأَضْعُفَ عَنْهُمْ، وَلاَ تَكِلْهُمْ إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَيَعْجِزُوا عَنْهَا، وَلاَ تَكِلْهُمْ إِلَى النَّاسِ فَيَسْتَأْثِرُوا عَلَيْهِمْ " . ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي - أَوْ قَالَ : عَلَى هَامَتِي - ثُمَّ قَالَ : " يَا ابْنَ حَوَالَةَ إِذَا رَأَيْتَ الْخِلاَفَةَ قَدْ نَزَلَتْ أَرْضَ الْمُقَدَّسَةِ فَقَدْ دَنَتِ الزَّلاَزِلُ وَالْبَلاَبِلُ وَالأُمُورُ الْعِظَامُ، وَالسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنَ النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِهِ مِنْ رَأْسِكَ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَوَالَةَ حِمْصِيٌّ»

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫২৭. আহমদ ইবনে সালিহ্ ..... দামরাহ ইবনে যুগব আল আয়াদী (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে হাওয়ালা আল আযদী (রাযিঃ) একদিন আমার ঘরে মেহমান হলেন। তখন তিনি আমাকে বললেনঃ রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এক সময়ে আমাদেরকে পদব্রজে যুদ্ধে পাঠালেন, যেন আমরা গনিমতের মাল লাভ করতে পারি। যুদ্ধ শেষে আমরা ফিরে আসলাম খালি হাতে, কোন গনিমত পাওয়া গেল না। এতে মহানবী(ﷺ) আমাদের চেহারায়া ক্লান্তির ছাপ অনুভব করলেন। তিনি আমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান হয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! তাদেরকে তাদের ক্লান্তি দূর করার জন্য আমার দিকে সোপর্দ করো না এবং তাদের নিজের দিকেও সোপর্দ করো না, তাতে তারা অপারগ হয়ে যাবে। আর তাদেরকে লোকজনের হাতেও সোপর্দ করো না, তাতে তারা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এটা বলার পর তিনি আমার মাথার উপর হাত রেখে বললেন, হে হাওয়ালার পুত্র! যখন তুমি দেখতে পাবে যে, সিরিয়ার পবিত্র ভূমিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তখন মনে করবে যে, অধিক ভূমিকম্প, কষ্ট ও মহা-দুর্ঘটনা ঘনিয়ে এসেছে। আর কিয়ামত তখন লোকের এত নিকটবর্তী হবে, যেমন আমার এ হাত তোমার মাথার নিকটবর্তী।

৩০৯. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে নিজেকে বিক্রি করে দেয়।

باب فِي الرَّجُلِ الَّذِي يَشْرِي نَفْسَهُ

২৫২৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَانْهَزَمَ " . يَعْنِي أَصْحَابَهُ : " فَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فَرَجَعَ حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلاَئِكَتِهِ : انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي رَجَعَ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي حَتَّى أُهَرِيقَ دَمُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫২৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির বিষয়ে বিস্ময়বোধ করবেন, যে আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে গিয়ে সঙ্গী-সাথীসহ পরাজিত হয়ে আল্লাহর হক সম্পর্কে নিজ কর্তব্য উপলব্ধি করে। তারপর কাফিরদের সঙ্গে মনে প্রাণে যুদ্ধ করার জন্য ফিরে আসে ও নিজের রক্ত বইয়ে দিয়ে শহীদ হয়। তখন আল্লাহ্ ফিরিশতাদেরকে সম্বোধন করে বলতে থাকেন, তোমরা আমার এ বান্দার প্রতি দেখ, সে আমার নিকট হতে সাওয়াব পাওয়ার আশায় এবং আমার আযাবের ভয়ে ফিরে এসে নিজের রক্ত দিয়েছে।

৩১০. যে ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ করে অকুস্থলে আল্লাহ্‌র রাহে যুদ্ধ করে শহীদ হয়।

باب فِيمَنْ يُسْلِمُ وَيُقْتَلُ مَكَانَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

২৫২৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ أُقَيْشٍ، كَانَ لَهُ رِبًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَكَرِهَ أَنْ يُسْلِمَ حَتَّى يَأْخُذَهُ فَجَاءَ يَوْمَ أُحُدٍ . فَقَالَ : أَيْنَ بَنُو عَمِّي قَالُوا : بِأُحُدٍ . قَالَ : أَيْنَ فُلاَنٌ قَالُوا : بِأُحُدٍ . قَالَ : أَيْنَ فُلاَنٌ قَالُوا : بِأُحُدٍ . فَلَبِسَ لأْمَتَهُ وَرَكِبَ فَرَسَهُ ثُمَّ تَوَجَّهَ قِبَلَهُمْ، فَلَمَّا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ قَالُوا : إِلَيْكَ عَنَّا يَا عَمْرُو . قَالَ : إِنِّي قَدْ آمَنْتُ . فَقَاتَلَ حَتَّى جُرِحَ، فَحُمِلَ إِلَى أَهْلِهِ جَرِيحًا، فَجَاءَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ لأُخْتِهِ : سَلِيهِ حَمِيَّةً لِقَوْمِكَ أَوْ غَضَبًا لَهُمْ أَمْ غَضَبًا لِلَّهِ فَقَالَ : بَلْ غَضَبًا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ فَمَاتَ . فَدَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَا صَلَّى لِلَّهِ صَلاَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫২৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আমর ইবনে আকইয়াশ (রাযিঃ) এর জাহিলী যুগে একটি ঘোড়ার আস্তাবল ছিল। (ইসলামের বিরূদ্ধে ব্যবহারের জন্য ঘাঁটি হিসেবে লালনপালন করতো)। এ কারণে সে ইসলাম গ্রহণ করা পছন্দ করতো না, যে পর্যন্ত তা ধ্বংস না হয়। তারপর উহুদের যুদ্ধের দিন সে এসে জিজ্ঞাসা করল, আমার চাচাত ভাইগণ কোথায়? লোকজন উত্তর দিল, তারা উহুদের যুদ্ধে গিয়েছে। জিজ্ঞাসা করল, অমুক কোথায়? লোকজন উত্তর দিল, উহুদে। সে বলল, অমুক কোথায়? লোকজন উত্তর দিল, সকলেই উহুদের যুদ্ধে গিয়েছে। তখন সে তার যুদ্ধের বস্ত্র ও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘোড়ায় আরোহণ করে তাদের অভিমুখে যাত্রা করল। যখন মুসলমানরা তাকে দেখতে পেল, তারা বলে ওঠল, হে আমর! তুমি কি তোমার দিকে তাকাবে, না কি আমাদের পক্ষে লড়াই করবে?

সে বলল, আমি সবে মাত্র ঈমান এনেছি। তারপর সে কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধ আরম্ভ করে দিল। যুদ্ধ করতে করতে সে আহত হয়ে পড়ল। আর তাকে আহত অবস্থায় তার পরিবারের নিকট নেয়া হল। তখন সা‘দ ইবনে মুআয (রাযিঃ) তার নিকট গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং তার ভগ্নিকে বললেন, তুমি তোমার ভাইকে জিজ্ঞাসা কর, সে কি তোমাদের গোত্রীয় টানে যুদ্ধ করছে না তাদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যুদ্ধ করছে, নাকি আল্লাহর গযবের ভয়ে যুদ্ধ করেছে? তখন সে নিজেই বলে উঠল, বরং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের গযবের ভয়ে। অতঃপর সে মারা গেল এবং জান্নাতে প্রবেশ করল এমন অবস্থায় যে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে একবেলা নামাযও আদায় করতে হল না।

৩১১. যে ব্যক্তি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা যায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَمُوتُ بِسِلاَحِهِ

২৫৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ : كَذَا قَالَ هُوَ - يَعْنِي ابْنَ وَهْبٍ - وَعَنْبَسَةُ - يَعْنِي ابْنَ خَالِدٍ - جَمِيعًا عَنْ يُونُسَ قَالَ أَحْمَدُ : وَالصَّوَابُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ قَالَ : لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالاً شَدِيدًا، فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ - وَشَكُّوا فِيهِ - : رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ : ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ بِمِثْلِ ذَلِكَ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৫৩০. আহমদ ইবনে সালিহ .... সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) বলেছেন, খায়বর যুদ্ধের দিন আমার ভাই দারুণভাবে যুদ্ধ করলেন। ঘটনাক্রমে তাঁর নিজের তরবারি ফিরে এসে তাঁর নিজের গায়ে আঘাত হানল। এতে তিনি মারা গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাহাবীগণ তাঁর এহেন মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে আপত্তি করলেন, এক ব্যক্তি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছেন, (তিনি মনে হয় শহীদ হননি)। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, সে মুজাহিদ হিসেবে জিহাদ করতে করতে মারা গেছে।

অত্র হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, এরপর আমি সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) এর এক পুত্রকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায় তিনি তাঁর পিতা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন, তদুপরি তিনি অতিরিক্ত কিছু কথা বললেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তারা ভুল করেছে। আসলে সালামা মুজাহিদ হিসেবে জিহাদ করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছে। সে দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী হয়েছে।
২৫৩১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَغَرْنَا عَلَى حَىٍّ مِنْ جُهَيْنَةَ فَطَلَبَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ رَجُلاً مِنْهُمْ فَضَرَبَهُ فَأَخْطَأَهُ وَأَصَابَ نَفْسَهُ بِالسَّيْفِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَخُوكُمْ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ " . فَابْتَدَرَهُ النَّاسُ فَوَجَدُوهُ قَدْ مَاتَ، فَلَفَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثِيَابِهِ وَدِمَائِهِ وَصَلَّى عَلَيْهِ وَدَفَنَهُ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَشَهِيدٌ هُوَ قَالَ : " نَعَمْ، وَأَنَا لَهُ شَهِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে সাল্লাম (রহঃ) -তার পিতা ও দাদা থেকে-

২৫৩১. হিশাম ইবনে খালিদ .... মুআবিয়া ইবনে আবু সাল্লাম নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবীদের কোন এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা জুহায়না বংশের এক গোত্রের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালালাম। তখন মুসলমানদের এক ব্যক্তি কাফিরদের এক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তার উপর তরবারির আঘাত হানে। সে তরবারির আঘাত ভুলক্রমে কাফিরকে অতিত্রম করে তার নিজের গায়েই পতিত হল এবং তিনি ভীষণভাবে আহত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে মুসলমানের দল! তোমাদের ভাই কোথায়, তার খবর লও। লোকজন তাঁর দিকে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পেল যে, তিনি মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর মৃতদেহ তাঁরই রক্তাক্ত কাপড়ে জড়িয়ে নিলেন এবং জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফর করলেন। এরপর সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! তিনি কি শহীদ হয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সে শহীদ হয়েছে, আর আমি এর সাক্ষী।

৩১২. শত্রুর মোকাবিলার সময় দুআ করা।

باب الدُّعَاءِ عِنْدَ اللِّقَاءِ

২৫৩২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " ثِنْتَانِ لاَ تُرَدَّانِ، أَوْ قَلَّمَا تُرَدَّانِ : الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ، وَعِنْدَ الْبَأْسِ حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا " . قَالَ مُوسَى : وَحَدَّثَنِي رِزْقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : وَوَقْتَ الْمَطَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২৫৩২. আল হাসান ইবনে আলী .... সাহল ইবনে সা‘দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দু‘সময়ের দুআ (কবুল না হয়ে) ফেরত আসে না। ১. আযানের সময়ের দুআ ২. যুদ্ধের সময়ের দুআ, যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।

অত্র হাদীসের মধ্যবর্তী রাবী মুসা অপর সনদে উক্ত সাহাবী হতে এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, বৃষ্টির সময়ও দুআ কবুল হয়।

৩১৩. যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআলার নিকট শাহাদাত কামনা করেন।

باب فِيمَنْ سَأَلَ اللَّهَ تَعَالَى الشَّهَادَةَ

২৫৩৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ أَبُو مَرْوَانَ، وَابْنُ الْمُصَفَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، يَرُدُّ إِلَى مَكْحُولٍ إِلَى مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْقَتْلَ مِنْ نَفْسِهِ صَادِقًا ثُمَّ مَاتَ أَوْ قُتِلَ فَإِنَّ لَهُ أَجْرَ شَهِيدٍ " . زَادَ ابْنُ الْمُصَفَّى مِنْ هُنَا : " وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ، لَوْنُهَا لَوْنُ الزَّعْفَرَانِ، وَرِيحُهَا رِيحُ الْمِسْكِ، وَمَنْ خَرَجَ بِهِ خُرَاجٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّ عَلَيْهِ طَابَعَ الشُّهَدَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৫৩৩. হিশাম ইবনে খালিদ আবু মারওয়ান ও ইবনে মুসাফফা .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ রাস্তায় একটি উটের দু‘বেলা দুধ দোহানের মধ্যবর্তী ফাঁকের সময়টুকুও যুদ্ধে ব্যয় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়। আর যে ব্যক্তি সত্যিকারভাবে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর নিকট নিজের জান কুরবান করার প্রার্থনা জানায়, তারপর সে ঘরেই মারা যায় বা নিহত হয়, তার জন্য একজন শহীদের পুণ্য অবধারিত।

ইবনে মুসাফফা বর্ণিত অত্র হাদীসে এরপর আরও অধিক বলা হয়েছে যে, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে গিয়ে শত্রুর আঘাতে আহত হল অথবা অন্য কোন দুর্ঘটনার শিকার হল, তবে কিয়ামতের দিন উক্ত ক্ষতস্থান জাফরানের রং এর মত উজ্জ্বল রং ধারণ করবে এবং তথা হতে মিশক আম্বরের সুগন্ধ ছড়াতে থাকবে। আর জিহাদরত অবস্থায় যার শরীরে ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি দেখা দেয় তার শরীরে শহীদের মোহর অংকিত হবে।

৩১৪. ঘোড়ার কপালের পশম ও লেজ কাটা ঠিক নয়।

باب فِي كَرَاهَةِ جَزِّ نَوَاصِي الْخَيْلِ وَأَذْنَابِهَا

২৫৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ حُمَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، جَمِيعًا عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ نَصْرٍ الْكِنَانِيِّ، عَنْ رَجُلٍوَقَالَ أَبُو تَوْبَةَ : عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " لاَ تَقُصُّوا نَوَاصِيَ الْخَيْلِ وَلاَ مَعَارِفَهَا وَلاَ أَذْنَابَهَا، فَإِنَّ أَذْنَابَهَا مَذَابُّهَا، وَمَعَارِفَهَا دِفَاؤُهَا، وَنَوَاصِيهَا مَعْقُودٌ فِيهَا الْخَيْرُ " .

বর্ণনাকারী: উতবা ইবনে আবদ (রাঃ)

২৫৩৪. আবু তাওবা ..... উতবা ইবনে আব্দ আস সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, তোমরা ঘোড়ার কপালের পশম কাটবে না, ঘাড়ের পশম কাটবে না এবং লেজের পশমও না। কারণ, এর লেজ হল মশা-মাছি বিতাড়নের হাতিয়ার, আর ঘাড়ের পশম শীতের বস্ত্র স্বরূপ এবং কপালের পশম সৌভাগ্যের প্রতীক।

৩১৫. ঘোড়ার যেসব রং প্রিয়।

باب فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنْ أَلْوَانِ الْخَيْلِ

২৫৩৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعِيدٍ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْجُشَمِيِّ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " عَلَيْكُمْ بِكُلِّ كُمَيْتٍ أَغَرَّ مُحَجَّلٍ، أَوْ أَشْقَرَ أَغَرَّ مُحَجَّلٍ، أَوْ أَدْهَمَ أَغَرَّ مُحَجَّلٍ " .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াহব জুশামী (রাঃ)

২৫৩৫. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ .... আবু ওয়াহব আল জুশামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ঘোড়া কেনার সময় কপাল সাদা, লাল-কালো মিশ্রিত উজ্জ্বল রং এর অথবা পা সাদা, উজ্জ্বল লাল রং এর অথবা শরীর কালো এবং কপাল ও পায়ে সাদা চিত্রা রং এর ঘোড়া বেছে নিও।

২৫৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، حَدَّثَنَا عَقِيلُ بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " عَلَيْكُمْ بِكُلِّ أَشْقَرَ أَغَرَّ مُحَجَّلٍ، أَوْ كُمَيْتٍ أَغَرَّ " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ مُحَمَّدٌ - يَعْنِي ابْنَ مُهَاجِرٍ - سَأَلْتُهُ : لِمَ فَضَّلَ الأَشْقَرَ قَالَ : لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً فَكَانَ أَوَّلَ مَنْ جَاءَ بِالْفَتْحِ صَاحِبُ أَشْقَرَ .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াহব জুশামী (রাঃ)

২৫৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ আততায়ী .... ইবনে ওয়াহব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ঘোড়া নেয়ার সময় উজ্জ্বল লাল রং-এর অথবা কালো চিত্রা রং-এর ঘোড়া গ্রহণ করবে। বাকি অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করলেন। অত্র হাদীসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির বলেন, আমি আমার শায়খকে (উস্তাদকে) জিজ্ঞাসা করলাম, লাল রং এর ঘোড়াকে কেন মর্যাদা দেয়া হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন, নবী করীম (ﷺ) একদল সৈন্য যুদ্ধে পাঠানোর পর দেখলেন, সর্বাগ্রে যুদ্ধে জয়লাভ করে যে ব্যক্তি ফিরে এসেছে সে উজ্জ্বল লাল রং এর ঘোড়ায় আরোহী।

২৫৩৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " يُمْنُ الْخَيْلِ فِي شُقْرِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৩৭. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ লাল রং এর ঘোড়াসমূহে বরকত নিহিত রয়েছে।

২৫৩৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسَمِّي الأُنْثَى مِنَ الْخَيْلِ فَرَسًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৩৮. মুসা ইবনে মারওয়ান আররুকী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) মাদী ঘোড়াকে ফার্স (فرس) নামে আখ্যায়িত করতেন।

৩১৬. ঘোড়ার মধ্যে যা অপছন্দনী।

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ الْخَيْلِ

২৫৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلْمٍ، - هُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُ الشِّكَالَ مِنَ الْخَيْلِ . وَالشِّكَالُ : يَكُونُ الْفَرَسُ فِي رِجْلِهِ الْيُمْنَى بَيَاضٌ وَفِي يَدِهِ الْيُسْرَى بَيَاضٌ، أَوْ فِي يَدِهِ الْيُمْنَى وَفِي رِجْلِهِ الْيُسْرَى . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " أَيْ مُخَالِفٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) শেকাল ঘোড়া অপছন্দ করতেন। শেকাল হল ঐ ঘোড়া যার পেছনের ডান পা ও সামনের বাম পা সাদা অথবা পেছনের বাম পা ও সামনের ডান পা সাদা।

৩১৭. পশু-পক্ষীদের তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে যে সকল নির্দেশ রয়েছে।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الْقِيَامِ عَلَى الدَّوَابِّ وَالْبَهَائِمِ

২৫৪০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، عَنْ سَهْلِ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ : مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ، فَقَالَ : " اتَّقُوا اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ الْمُعْجَمَةِ فَارْكَبُوهَا وَكُلُوهَا صَالِحَةً " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে হানযালিয়্যা (রাঃ)

২৫৪০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন নুফায়লী ..... সাহল ইবনে হানযালিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এমন একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার অনাহারে পেট ও পিঠ একত্র হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে মহানবী (ﷺ) বললেন, তোমরা এ সকল বোবা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। এদেরকে দানাপানি দিয়ে সুস্থ সবল রাখ ও সুস্থ সবল পশুর পিঠে আরোহণ কর এবং খাওয়ার সময়ও সুস্থ সবল প্রাণীর গোশত খাও।

২৫৪১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ : أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَسَرَّ إِلَىَّ حَدِيثًا لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَحَبُّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ هَدَفًا أَوْ حَائِشَ نَخْلٍ . قَالَ : فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَإِذَا جَمَلٌ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَنَّ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ ذِفْرَاهُ فَسَكَتَ، فَقَالَ : " مَنْ رَبُّ هَذَا الْجَمَلِ، لِمَنْ هَذَا الْجَمَلُ " . فَجَاءَ فَتًى مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ : لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ : " أَفَلاَ تَتَّقِي اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي مَلَّكَكَ اللَّهُ إِيَّاهَا، فَإِنَّهُ شَكَى إِلَىَّ أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْئِبُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

২৫৪১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে জা‘ফর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তাঁর খচ্চরের পিঠে তাঁর পেছনে বসালেন। তারপর তিনি আমাকে গোপন একটি কথা বললেন, এবং তিনি বললেনঃ কাউকেও বলবে না। প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য রাসূল (ﷺ) এর দু‘টি স্থান খুবই পছন্দনীয় ছিল, ১. কোন উঁচু স্থান অথবা ২. গাছের ঝাড়। একবার তিনি একজন আনসারীর বাগানে প্রবেশ করলেন। তখন হঠাৎ একটি উট দেখা গেল। সেটি নবী করীম (ﷺ) কে দেখার সঙ্গে হিঁ হিঁ শব্দে আওয়ায করে কাঁদতে লাগলো। দু‘চোখ হতে অশ্রুধারা বইতে লাগলো।

নবী করীম (ﷺ) তার কাছে গেলেন এবং তার মাথার পেছন দিকে হাত রেখে দু‘কানের গোড়া পর্যন্ত মুছে দিলেন। তাতে সে চুপ করে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ উটটি কার? এর মালিক কে? আনসার সম্প্রদায়ের এক যুবক বের হয়ে এসে উত্তর দিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি আমার উট। মহানবী (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ যে তোমাকে এ চতুষ্পদ জন্তুটির মালিক করেছেন, তুমি কি এর তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? সে আমার নিকট তোমার বিরূদ্ধে অভিযোগ করলো যে, তুমি তাকে অভুক্ত রাখ এবং তাকে কষ্ট দাও।
২৫৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ، فَوَجَدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيهَا فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ، فَقَالَ الرَّجُلُ : لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَنِي، فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلأَ خُفَّيْهِ فَأَمْسَكَهُ بِفِيهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ " . فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ لأَجْرًا فَقَالَ : " فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল-কা‘নবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, এক ব্যক্তি পায়ে হেঁটে রাস্তায় চলতে চলতে অধিক পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ল। সে একটি পানির কূপ পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করল। কূপ হতে উঠে এসে দেখতে পেল যে, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে আর পিপাসার তাড়নায় কাদা মাটি চাটছে। লোকটি মনে মনে বলল, নিশ্চয়ই এই কুকুরটির পিপাসা লেগেছে যেমনটি আমার লেগেছিল। সে কূপে নেমে তার চামড়ার মোজা পানি ভর্তি করে তার মুখে নিয়ে উপরে ওঠল, আর কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ্ তাআলা এতে খুশি হলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পশুদের প্রতি সদয় হলেও কি আমাদের পুণ্য হবে? তিনি উত্তর করলেন, প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণীকে পানি পান করানোর মধ্যে সাওয়াব রয়েছে।

৩১৮. গন্তব্যে পৌঁছার পর করণীয়।

باب فِي نُزُولِ الْمَنَازِلِ

২৫৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَمْزَةَ الضَّبِّيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا نَزَلْنَا مَنْزِلاً لاَ نُسَبِّحُ حَتَّى نَحُلَّ الرِّحَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, আমরা দুপুরের সময় যখন কোন মনযিলে বিশ্রাম নেযার জন্য ঘোড়া বা উটের পৃষ্ঠ হতে নামতাম, তখন এর পিঠ হতে মালপত্র ও গদি অপসারণ করে ভারবাহী পশুকে আরাম দানের পূর্বে নিজেরা কোন নামায পড়তাম না (অর্থাৎ আরাম করতাম না)।

৩১৯. ধনুকের তার দিয়ে ঘোড়ার গলায় মালা বাঁধা।

باب فِي تَقْلِيدِ الْخَيْلِ بِالأَوْتَارِ

২৫৪৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ أَبَا بَشِيرٍ الأَنْصَارِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَسُولاً - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ - وَالنَّاسُ فِي مَبِيتِهِمْ " لاَ يُبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ وَلاَ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ " . قَالَ مَالِكٌ أَرَى أَنَّ ذَلِكَ مِنْ أَجْلِ الْعَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবনে তামীম (রহঃ)

২৫৪৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী .... আব্বাদ ইবনে তামীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। আবু বিশর আল আনসারী (রাযিঃ) তাকে হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) যায়দ ইবনে হারিসা (রাযিঃ)-কে এ মর্মে একজন দূত হিসাবে পাঠালেন। অত্র হাদীসের রাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু বকর বলেন, আমার মনে হয় যে, আমাদের শায়খ বলেছেন, লোকজন যার যার ঘরে ছিল। তাদের উটের গলায় ধনুকের তারের কিলাদা (গলাবদ্ধ) ছিল; যেন তিনি তা কেটে দেন। সে মতে সকল গলাবন্ধ কেটে দেয়া হয়েছে। অত্র হাদীসের বর্ণনাকারী মালিক বলেন, আমার ধারণা যে, বদ নযর হতে রক্ষা পাওয়ার জন্যই ঐরূপ কিলাদা পশুর গলায় ব্যবহার করা হতো।

৩২০. ঘোড়ার প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়া।

باب إِكْرَامِ الْخَيْلِ وَارْتِبَاطِهَا

২৫৪৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعِيدٍ الطَّالْقَانِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنِي عَقِيلُ بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْجُشَمِيِّ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْتَبِطُوا الْخَيْلَ وَامْسَحُوا بِنَوَاصِيهَا وَأَعْجَازِهَا " . أَوْ قَالَ " أَكْفَالِهَا " . " وَقَلِّدُوهَا وَلاَ تُقَلِّدُوهَا الأَوْتَارَ " .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াহব জুশামী (রাঃ)

২৫৪৫. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ ..... আবু ওয়াহব আল-জুশামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ঘোড়া প্রতিপালন কর। আর এর কপালের পশম ও ঘোড়ার পশম যত্নসহ মুছে দিও এবং এর গলায় নিদর্শনের মালা (কিলাদা) পরিয়ে দিও। কিন্তু (অন্ধ যুগের বদ রসমী) ধনুক তারের কবজ পরাবে না। (যা বদ নযর হতে বাঁচার আশায় পরানো হতো।)

৩২১. পশুদের গলায় ঘন্টা ঝুলানো।

باب فِي تَعْلِيقِ الأَجْرَاسِ

২৫৪৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي الْجَرَّاحِ، مَوْلَى أُمِّ حَبِيبَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصْحَبُ الْمَلاَئِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جَرَسٌ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

২৫৪৬. মুসাদ্দাদ .... উম্মুল মু‘মিনীন উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (রহমতের) ফিরিশতাগণ ঐ সকল পথিক দলের সঙ্গে থাকেন না, যাদের পশুর গলায় ঘন্টা রয়েছে।

২৫৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصْحَبُ الْمَلاَئِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا كَلْبٌ أَوْ جَرَسٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪৭. আহমদ ইবনে ইউনুস ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (রহমতের) ফিরিশতাগণ সে পথিক দলের সহগামী হন না, যাদের মধ্যে ঘন্টা অথবা কুকুর থাকে।

২৫৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْجَرَسِ " مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ ঘন্টার মধ্যে শয়তানের নাচন-কাঠি রয়েছে।

৩২২. পায়খানাখোর পশুর পিঠে আরোহণ।

باب فِي رُكُوبِ الْجَلاَّلَةِ

২৫৪৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نُهِيَ عَنْ رُكُوبِ الْجَلاَّلَةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৪৯. মুসাদ্দাদ ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পায়খানাখোর উটের পিঠে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২৫৫০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي قَيْسٍ - عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَلاَّلَةِ فِي الإِبِلِ أَنْ يُرْكَبَ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৫০. আহমদ ইবনে আবু সূরাইহ্ আল রাযী ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উটের মধ্যে পায়খানাখোর উট ক্রয় করতে এবং এর পিঠে আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন।

৩২৩. যে ব্যক্তি তার পশুর নাম রাখে।

باب فِي الرَّجُلِ يُسَمِّي دَابَّتَهُ

২৫৫১

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ مُعَاذٍ، قَالَ كُنْتُ رِدْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৫৫১. হান্নাদ ইবনে আস-সারী .... মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পেছনে একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলাম যাকে উফাইর বলা হতো।

৩২৪. ’’হে আল্লাহর ঘোড়সওয়ার! ঘোড়ায় আরোহণ কর’’ বলে যুদ্ধ-যাত্রার ডাক দেয়া।

باب فِي النِّدَاءِ عِنْدَ النَّفِيرِ يَا خَيْلَ اللَّهِ ارْكَبِي

২৫৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمَّى خَيْلَنَا خَيْلَ اللَّهِ إِذَا فَزِعْنَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا فَزِعْنَا بِالْجَمَاعَةِ وَالصَّبْرِ وَالسَّكِينَةِ وَإِذَا قَاتَلْنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৫৫২. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে সুফিয়ান ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের ঘোড়াকে শত্রু-ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার সময় ‘আল্লাহর ঘোড়া’’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। আর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে, যখন আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তাম তখন একজোট হয়ে ধৈর্যের সাথে শান্ত ও অটল থাকার নির্দেশ দিতেন।

৩২৫. পশুকে অভিশাপ দেয়া নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنْ لَعْنِ الْبَهِيمَةِ

২৫৫৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي سَفَرٍ فَسَمِعَ لَعْنَةً فَقَالَ " مَا هَذِهِ " . قَالُوا هَذِهِ فُلاَنَةُ لَعَنَتْ رَاحِلَتَهَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ضَعُوا عَنْهَا فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ " . فَوَضَعُوا عَنْهَا . قَالَ عِمْرَانُ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهَا نَاقَةً وَرْقَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৫৫৩. সুলাইমান ইবনে হারব .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) কোন এক সফরে যেতে যেতে পথিমধ্যে অভিশাপের বাণী শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কেন এ অভিশাপ? লোকজন উত্তর করলেন, এক রমণী তার ভারবাহী পশুকে অভিশাপ দিচ্ছে। নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এর পিঠ হতে তাকে তার মালপত্রসহ নামিয়ে ফেল, যেন সে চড়তেই না পারে। কারণ তার পশুটি তো অভিশপ্ত প্রাণী। লোকজন তাকে নামিয়ে ফেলল। ইমরান (অত্র হাদীসের রাবী) বলেন, আমি যেন এখনও উক্ত পশুটিকে দেখতে পাচ্ছি যে, তা একটি সাদা-কালো মিশ্রিত উটনী ছিল।

৩২৬. পশুদের মধ্যে লড়াই লাগানো।

باب فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ

২৫৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ قُطْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ سِيَاهٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে আল ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পশুদের মধ্যে লড়াই লাগাতে নিষেধ করেছেন।

৩২৭. পশুর গায়ে দাগ দেয়া।

باب فِي وَسْمِ الدَّوَابِّ

২৫৫৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِأَخٍ لِي حِينَ وُلِدَ لِيُحَنِّكَهُ فَإِذَا هُوَ فِي مِرْبَدٍ يَسِمُ غَنَمًا - أَحْسِبُهُ قَالَ - فِي آذَانِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৫৫. হাফস ইবনে উমর ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার একটি নবজাত ভাইকে নিয়ে ‘তাহনীক’ (মুখের ভেতর নবীজীর পবিত্র থুথু দিয়ে পবিত্রকরণ) করার জন্য নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। হঠাৎ তাঁকে দেখতে পেলাম, তিনি ঐ সময় ছাগল বাঁধার ঘরে গিয়ে ছাগলের সম্ভবত কানে দাগ লাগাচ্ছেন।

৩২৮. মুখমণ্ডলে দাগ লাগানো এবং আঘাত করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الْوَسْمِ، فِي الْوَجْهِ وَالضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ

২৫৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُرَّ عَلَيْهِ بِحِمَارٍ قَدْ وُسِمَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ " أَمَا بَلَغَكُمْ أَنِّي قَدْ لَعَنْتُ مَنْ وَسَمَ الْبَهِيمَةَ فِي وَجْهِهَا أَوْ ضَرَبَهَا فِي وَجْهِهَا " . فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর .... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) এর নিকট দিয়ে মুখমণ্ডলে পোড়া দাগ দেয়া একটি গাধা অতিক্রম করার সময় তিনি বলে উঠলেন, তোমাদের নিকট কি এ খবর পৌঁছায়নি যে, আমি ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছি, যে পশুর মুখমণ্ডলে পোড়া লোহা দ্বারা দাগ লাগায় বা এর মুখের উপর আঘাত করে। এ বলে তিনি তা নিষেধ করলেন।

৩২৯. গাধায়- ঘোড়ায় পাল লাগানো ঠিক নহে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْحُمُرِ تُنْزَى عَلَى الْخَيْلِ

২৫৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنِ ابْنِ زُرَيْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَغْلَةٌ فَرَكِبَهَا . فَقَالَ عَلِيٌّ لَوْ حَمَلْنَا الْحَمِيرَ عَلَى الْخَيْلِ فَكَانَتْ لَنَا مِثْلُ هَذِهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৫৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে একটি খচ্চর হাদীয়াস্বরূপ প্রদান করা হয়েছিল। তিনি এর উপর আরোহণ করেছিলেন। তখন আলী (রাযিঃ) বললেন, আমরা যদি গাধার সাথে ঘোড়ার পাল দিতাম, তবে এরূপ খচ্চর পেতে পারতাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, যারা ভালো-মন্দের স্বাভাবিক জ্ঞান রাখে না, তারাই এরূপ করে থাকে।

৩৩০. এক পশুর ওপর তিনজন আরোহণ করা।

باب فِي رُكُوبِ ثَلاَثَةٍ عَلَى دَابَّةٍ

২৫৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُوَرِّقٍ، - يَعْنِي الْعِجْلِيَّ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ اسْتُقْبِلَ بِنَا فَأَيُّنَا اسْتُقْبِلَ أَوَّلاً جَعَلَهُ أَمَامَهُ فَاسْتُقْبِلَ بِي فَحَمَلَنِي أَمَامَهُ ثُمَّ اسْتُقْبِلَ بِحَسَنٍ أَوْ حُسَيْنٍ فَجَعَلَهُ خَلْفَهُ فَدَخَلْنَا الْمَدِينَةَ وَإِنَّا لَكَذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

২৫৫৮. আবু সলিহ্ মাহবুব ইবনে মুসা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে জা‘ফর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন কোন সফর হতে ফেরার সময় মদীনার নিকটবর্তী হতেন, তখন আমাদেরকে সাথে নিয়ে তাঁকে সাদর সম্ভাষণ জানানো হতো। আমাদের মধ্যে যাকেই সর্বাগ্রে সম্মুখে পেতেন তাকে তাঁর সামনে সওয়ারীতে উঠিয়ে নিতেন। একদিন আমাকে সর্বাগ্রে সম্মুখে পেয়ে তাঁর সামনে বসালেন। তারপর হাসান বা হুসাইনকে সাথে নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হলো। তখন তিনি তাঁকে তাঁর পেছনে বসালেন। তারপর এরূপ এক পশুর ওপর তিনজন আরোহী অবস্থায় আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম।

৩৩১. সওয়ারী পশুর ওপর অবস্থান করা।

باب فِي الْوُقُوفِ عَلَى الدَّابَّةِ

২৫৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِيَّاكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا ظُهُورَ دَوَابِّكُمْ مَنَابِرَ فَإِنَّ اللَّهَ إِنَّمَا سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُبَلِّغَكُمْ إِلَى بَلَدٍ لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلاَّ بِشِقِّ الأَنْفُسِ وَجَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فَعَلَيْهَا فَاقْضُوا حَاجَتَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫৯. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজাদা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ভারবাহী পশুর পিঠে মিম্বর নিয়ে বসে থাকা পরিত্যাগ করবে, অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে এর পিঠে বসে থাকবে। কারণ, আল্লাহ্ তাআলা নিশ্চিতরূপে তাদেরকে তোমাদের আনুগত্যে বাধ্য করে দিয়েছেন, এ জন্য যে, তোমরা জান হালাকী কষ্ট না করে যেখানে পৌঁছতে পারতে না, সেখানে তারা তোমাদেরকে পৌঁছে দেয়। আর তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে স্থিতিশীল করে দিয়েছেন। তোমরা এর উপর তোমাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ কর।

৩৩২. আরোহীবিহীন উট।

باب فِي الْجَنَائِبِ

২৫৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَكُونُ إِبِلٌ لِلشَّيَاطِينِ وَبُيُوتٌ لِلشَّيَاطِينِ فَأَمَّا إِبِلُ الشَّيَاطِينِ فَقَدْ رَأَيْتُهَا يَخْرُجُ أَحَدُكُمْ بِجَنِيبَاتٍ مَعَهُ قَدْ أَسْمَنَهَا فَلاَ يَعْلُو بَعِيرًا مِنْهَا وَيَمُرُّ بِأَخِيهِ قَدِ انْقَطَعَ بِهِ فَلاَ يَحْمِلُهُ وَأَمَّا بُيُوتُ الشَّيَاطِينِ فَلَمْ أَرَهَا " . كَانَ سَعِيدٌ يَقُولُ لاَ أُرَاهَا إِلاَّ هَذِهِ الأَقْفَاصَ الَّتِي يَسْتُرُ النَّاسُ بِالدِّيبَاجِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিছু উট শয়তানের জন্য আর কিছু ঘর শয়তানের জন্য হয়ে থাকে। শয়তানের উট হল ঐগুলো, তুমি বর্তমানে দেখতে পাবে যে, তোমাদের কেউ আরোহীবিহীন উটসমূহ নিয়ে চরাতে বের হয় আর লতাপাতা খাইয়ে একে মোটা তাজা করে তোলে, তবুও কোন উটের পিঠে নিজে আরোহণ করে না। আর তার অপর ভাই পদব্রজে উট চরাতে চরাতে দুর্বল হয়ে পড়লেও তাকে কোন উটের পিঠে আরোহণ করতে দেয় না। আর শয়তানের ঘর, তা আমি দেখিনি। সাঈদ বলেন, শয়তানের ঘর হল উটের পিঠের ঐ গদিসমূহ যা মোটা রেশমী কাপড় দিয়ে লোকেরা ঢেকে রাখে। আমি তা দেখিনি।

৩৩৩. চলার গতি দ্রুতকরণ।

باب فِي سُرْعَةِ السَّيْرِ

২৫৬১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الْخِصْبِ فَأَعْطُوا الإِبِلَ حَقَّهَا وَإِذَا سَافَرْتُمْ فِي الْجَدْبِ فَأَسْرِعُوا السَّيْرَ فَإِذَا أَرَدْتُمُ التَّعْرِيسَ فَتَنَكَّبُوا عَنِ الطَّرِيقِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন সবুজ ঘাস বা বাগানের মধ্য দিয়ে সফর কর, তখন উটকে তার হক্ দান করো। আর যখন তোমরা দুর্ভিক্ষপীড়িত মরূপ্রান্তে সফর করবে তখন ভ্রমণের গতি দ্রুততর করবে। তারপর রাত যাপনের ইচ্ছা করলে পথ হতে সরে পড়বে।

২৫৬২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا قَالَ بَعْدَ قَوْلِهِ " حَقَّهَا " . " وَلاَ تَعْدُوا الْمَنَازِلَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৬২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনায় ‘উটকে তার হক প্রদান করো’’ কথাটির পরে ‘‘এবং বিশ্রামাগার অতিক্রম করো না’’ বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৩৩৪. রাতের প্রথমভাগে ভ্রমণ।

باب فِي الدُّلْجَةِ

২৫৬৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ فَإِنَّ الأَرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৬৩. আমর ইবনে আলী ....... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা রাতের বেলা ভ্রমণ কর। কারণ যমীন সংকুচিত হয়ে যায়।

৩৩৫. ভারবাহী পশুর মালিক উহার পিঠে সামনে বসার অধিক হকদার।

باب رَبُّ الدَّابَّةِ أَحَقُّ بِصَدْرِهَا

২৫৬৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي بُرَيْدَةَ، يَقُولُ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي جَاءَ رَجُلٌ وَمَعَهُ حِمَارٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ارْكَبْ . وَتَأَخَّرَ الرَّجُلُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَنْتَ أَحَقُّ بِصَدْرِ دَابَّتِكَ مِنِّي إِلاَّ أَنْ تَجْعَلَهُ لِي " . قَالَ فَإِنِّي قَدْ جَعَلْتُهُ لَكَ . فَرَكِبَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৫৬৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাবিত আল্ মারওয়াযী .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) হতে বলতে শুনেছি যে, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) যখন পদব্রজে চলছিলেন, তখন একজন লোক একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এ গাধার পিঠে আরোহল করুন। এটা বলার পর সে একটু পেছনে সরে নবীজীর জন্য সামনে বসার জায়গা করে দিল। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, না আমি এরূপে চড়তে পারি না। তুমি গাধাটির মালিক হিসেবে এর সামনের দিকে বসার অধিকারী। আমাকে গাধাটির মালিক না বানালে আমি এর সামনে দিকে বসতে পারি না। লোকটি বললো, আপনাকে এটা দিয়ে দিলাম। তখন তিনি আরোহণ করলেন।

৩৩৬. যুদ্ধক্ষেত্রে পশুর পা কেটে দেয়া।

باب فِي الدَّابَّةِ تُعَرْقَبُ فِي الْحَرْبِ

২৫৬৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ - حَدَّثَنِي أَبِي الَّذِي، أَرْضَعَنِي وَهُوَ أَحَدُ بَنِي مُرَّةَ بْنِ عَوْفٍ - وَكَانَ فِي تِلْكَ الْغَزَاةِ غَزَاةِ مُؤْتَةَ - قَالَ وَاللَّهِ لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى جَعْفَرٍ حِينَ اقْتَحَمَ عَنْ فَرَسٍ لَهُ شَقْرَاءَ فَعَقَرَهَا ثُمَّ قَاتَلَ الْقَوْمَ حَتَّى قُتِلَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৫৬৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন নুফায়লী ..... আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর তাঁর দুধ পিতা হতে বর্ণনা করেন, যিনি মুররা ইবনে আওফ বংশীয় একজন লোক ছিলেন। তিনি সিরিয়ার মুতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি যে, জা‘ফর উক্ত যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে নিজের ঘোড়া হতে নেমে গিয়ে এর পাগুলো গোড়ালীর উপরাংশে নিজ তরবারী দ্বারা কেটে দিয়ে (যাতে শত্রুপক্ষ একে মুসলমানদের বিরূদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে।) শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন।

৩৩৭. প্রতিযোগিতা।

باب فِي السَّبْقِ

২৫৬৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ أَبِي نَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ سَبْقَ إِلاَّ فِي خُفٍّ أَوْ فِي حَافِرٍ أَوْ نَصْلٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬৬. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, উটের দৌড়, ঘোড়ার দৌড় অথবা তীর পরিচালনার প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোন প্রতিযোগিতা বৈধ নয়।

২৫৬৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَابَقَ بَيْنَ الْخَيْلِ الَّتِي قَدْ ضُمِّرَتْ مِنَ الْحَفْيَاءِ وَكَانَ أَمَدُهَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ وَسَابَقَ بَيْنَ الْخَيْلِ الَّتِي لَمْ تُضْمَرْ مِنَ الثَّنِيَّةِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ وَإِنَّ عَبْدَ اللَّهِ كَانَ مِمَّنْ سَابَقَ بِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৬৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের মধ্যে দৌড়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করতেন। মদীনার বাইরে হাফ্ইয়া নামক স্থান হতে সানিয়াতুল বিদা পাহাড়ের পাদদেশে পর্যন্ত পাঁচ মাইল দূরত্বের মধ্যে। আর সাধারণ প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার মধ্যে দৌড়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করতেন সানিয়াতুল বিদা পাহাড় হতে বনী যুরাইক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত ছয় মাইল দূরত্বের মধ্যে। আর আব্দুল্লাহ্ উক্ত দৌড়ে সকলের অগ্রগামী হতেন।

২৫৬৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُضَمِّرُ الْخَيْلَ يُسَابِقُ بِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৬৮. মুসাদ্দাদ .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠানের জন্য ঘোড়াসমূহকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতেন। (প্রশিক্ষণের নিয়ম হল কিছুদিন ভালভাবে খাদ্য দানের মাধ্যমে মোটাতাজা হওয়ার পর আস্তে খাদ্য কমিয়ে দুর্বল করার মাধ্যমে ঘোড়াকে সতেজ ও শক্ত করে তোলা।)

২৫৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَبَّقَ بَيْنَ الْخَيْلِ وَفَضَّلَ الْقُرَّحَ فِي الْغَايَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৬৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিয়মিতভাবে ঘোড়দৌড়ের ব্যবস্থা করতেন এবং সর্বশেষ পঞ্চম বর্ষে পদার্পণকারী ঘোড়াসমূহকে প্রতিযোগিতার জন্য অগ্রাধিকার দিতেন।

৩৩৮. পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতা।

باب فِي السَّبْقِ عَلَى الرِّجْلِ

২৫৭০

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ الأَنْطَاكِيُّ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ " هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৭০. আবু সালিহ্ আল্ আনতাকী মাহবুব ইবনে মুসা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি এক সময়ে নবী করীম (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। তিনি বলেন, তখন আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় তাঁর আগে বেড়ে গেলাম (অর্থাৎ জিতে গেলাম), তারপর যখন আমি মোটা স্থুলকায় হয়ে গেলাম, তখন পুনরায় তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলাম। তখন তিনি আমার আগে বেড়ে (জিতে) গেলেন। তখন তিনি বললেন, এটা তোমার প্রথমবারে জেতার বদলা।

৩৩৯. দু’জনের বাজির মধ্যে তৃতীয় প্রবেশকারী।

باب فِي الْمُحَلِّلِ

২৫৭১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، - الْمَعْنَى - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْخَلَ فَرَسًا بَيْنَ فَرَسَيْنِ " . يَعْنِي وَهُوَ لاَ يُؤْمَنُ أَنْ يُسْبَقَ " فَلَيْسَ بِقِمَارٍ وَمَنْ أَدْخَلَ فَرَسًا بَيْنَ فَرَسَيْنِ وَقَدْ أَمِنَ أَنْ يُسْبَقَ فَهُوَ قِمَارٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৭১. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতায় রত দু‘টি ঘোড়ার মধ্যে যে ব্যক্তি তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করিয়ে দিবে অর্থাৎ সে তার ঘোড়া অগ্রগামী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয় এমতাবস্থায় তা হারাম বাজিতে গণ্য হবে না। আর যে ব্যক্তি ভাল ঘোড়া নিয়ে নিশ্চিত জেতার লক্ষ্যে প্রতিযোগী ঘোড়ার মধ্যে তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করিয়ে দিবে, তা হারাম বাজিতে গণ্য হবে।

২৫৭২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِ عَبَّادٍ وَمَعْنَاهُ . قال أبو داود: رَوَاهُ مَعْمَرٌ، وَشُعَيْبٌ، وَعَقِيلٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رِجَالٍ مِنْ أَهْلِ الْعَلْمِ، «وَهَذَا أَصَحُّ عِنْدَنَا»

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৫৭২. মুহমূদ ইবনে খালিদ ..... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীস একই সনদে ও অর্থে বর্ণনা করেছেন।

৩৪০. ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতায় ঘোড়াকে টানা বা তাড়া দেয়া।

باب فِي الْجَلَبِ عَلَى الْخَيْلِ فِي السِّبَاقِ

২৫৭৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، جَمِيعًا عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ " . زَادَ يَحْيَى فِي حَدِيثِهِ " فِي الرِّهَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৫৭৩. ইয়াহয়া ইবনে খালফ .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ টানা বা তাড়া দিতে নেই, পাশে ধাক্কা লাগাতে নেই। বর্ণনাকারী ইয়াহয়া তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেন, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায়।

২৫৭৪

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ الْجَلَبُ وَالْجَنَبُ فِي الرِّهَانِ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

২৫৭৪. ইবনে মুসান্না .... কাতাদা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘোড়াকে পেছন থেকে তাড়া দেয়া আর পার্শ্বে খোঁচা দেয়া দৌড় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ।

৩৪১. তরবারি অলংকৃত হয়।

باب فِي السَّيْفِ يُحَلَّى

২৫৭৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتْ قَبِيعَةُ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِضَّةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৭৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর তরবারির বাঁট রৌপ্য খচিত ছিল।

২৫৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، قَالَ كَانَتْ قَبِيعَةُ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِضَّةً . قَالَ قَتَادَةُ وَمَا عَلِمْتُ أَحَدًا تَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (রহঃ)

২৫৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না .... সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর তরবারির বাঁট রৌপ্য নির্মিত ছিল। অত্র হাদীসের বর্ণনাকারী কাতাদা বলেন, এ হাদীসের বর্ণনায় সাঈদ ইবনে আবুল হাসানের কেউ সমর্থন করেছেন বলে আমার জানা নেই।

২৫৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ أَبُو غَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَتْ . فَذَكَرَ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَقْوَى هَذِهِ الْأَحَادِيثِ حَدِيثُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، وَالْبَاقِيَةُ ضِعَافٌ»

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৪২. তীরসহ মসজিদে প্রবেশ।

باب فِي النَّبْلِ يُدْخَلُ بِهِ الْمَسْجِدُ

২৫৭৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ رَجُلاً كَانَ يَتَصَدَّقُ بِالنَّبْلِ فِي الْمَسْجِدِ أَنْ لاَ يَمُرَّ بِهَا إِلاَّ وَهُوَ آخِذٌ بِنُصُولِهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৭৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... জাবির (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে মসজিদের মধ্যে তীর বিতরণ করছিল, সে যেন লোকজনের মধ্য দিয়ে চলার সময় তীরের অগ্রভাগ ধরে রাখতে (যাতে কারো গায়ে না লাগে)।

২৫৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَرَّ أَحَدُكُمْ فِي مَسْجِدِنَا أَوْ فِي سُوقِنَا وَمَعَهُ نَبْلٌ فَلْيُمْسِكْ عَلَى نِصَالِهَا " . أَوْ قَالَ " فَلْيَقْبِضْ كَفَّهُ " . أَوْ قَالَ " فَلْيَقْبِضْ بِكَفِّهِ أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৫৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলা ..... আবু মুসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ আমাদের মসজিদে অথবা বাজারে যায় এমতাবস্থায় যে, তার সঙ্গে ধারালো তীর থাকে, তবে যেন সে তার তীরের অগ্রভাগ সংযত রাখে অথবা ধরে রাখে। অথবা তিনি বলেছেন, তার হাতের তালু দিয়ে তার তীরের অগ্রভাগ ধরে রাখা উচিত, যাতে কোন মুসলমানের গায়ে না লাগে।

৩৪৩. খোলা তরবারি লেনদেন নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولاً

২৫৮০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولاً .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৮০. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) খোলা তরবারি দেয়া নেয়া নিষেধ করেছেন। (অর্থাৎ খোলা তরবারি দেখলেই ভয়ের সঞ্চার হয়। কাউকেই প্রহারের ভয় দেখানো নিষিদ্ধ। সে জন্য উন্মুক্ত তরবারি দেয়া-নেয়াও নিষিদ্ধ।)

২৫৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا قُرَيْشُ بْنُ أَنَسٍ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُقَدَّ السَّيْرُ بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৫৮১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) দু‘অঙ্গুলীর মধ্যবর্তী চামড়া কাটতে নিষেধ করেছেন। (অর্থাৎ সাধারণত চামড়ার খাপের মধ্যে তরবারি রাখা হয়। কেউ কেউ সহজে খাপ হতে তরবারি বের করার সুবিধার্থে দুআঙ্গুল প্রবেশ করানোর জন্য এর মধ্যবর্তী চামড়া কেটে বা ছিদ্র করে নেয়। এতে তরবারি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।)

৩৪৪. লোহবর্ম পরিধান করা।

باب فِي لِبْسِ الدُّرُوعِ

২৫৮২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَسِبْتُ أَنِّي سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ خُصَيْفَةَ، يَذْكُرُ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَجُلٍ، قَدْ سَمَّاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ظَاهَرَ يَوْمَ أُحُدٍ بَيْنَ دِرْعَيْنِ أَوْ لَبِسَ دِرْعَيْنِ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

২৫৮২. মুসাদ্দাদ ..... সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেছেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) উহুদের যুদ্ধের দিন একটির ওপর আর একটি করে দু‘টি লৌহবর্ম পরিধান করে সকলের সম্মুখে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

৩৪৫. পতাকা ও নিশান।

باب فِي الرَّايَاتِ وَالأَلْوِيَةِ

২৫৮৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْقُوبَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، - رَجُلٌ مِنْ ثَقِيفٍ مَوْلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ - قَالَ بَعَثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ إِلَى الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ يَسْأَلُهُ عَنْ رَايَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَتْ فَقَالَ كَانَتْ سَوْدَاءَ مُرَبَّعَةً مِنْ نَمِرَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৫৮৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা আর রাযী ..... মুহাম্মাদ ইবনে কাসিমের খাদেম ইউনুস ইবনে উবাইদ বলেন, আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম একবার বারা’আ ইবনে আযিব (রাযিঃ) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করে জানার জন্য যে, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর পতাকা কিরূপ ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তাঁর পতাকা ছিল কালো চতুষ্কোণ বিশিষ্ট মোটা পশমী কাপড়ের সাদা ডোরাদার, যা চিতাবাঘের চামড়ার মত ডোরাদার মনে হতো।

২৫৮৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيُّ، - وَهُوَ ابْنُ رَاهَوَيْهِ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ لِوَاؤُهُ يَوْمَ دَخَلَ مَكَّةَ أَبْيَضَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৮৪. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল্ মারওয়াযী ..... জাবির (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর ঝান্ডা সম্পর্কে বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশের সময় তাঁর ঝান্ডা (পতাকা) ছিল সাদা।

২৫৮৫

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ الشَّعِيرِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَوْمِهِ عَنْ آخَرَ، مِنْهُمْ قَالَ رَأَيْتُ رَايَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَفْرَاءَ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

২৫৮৫. উকবা ইবনে মুকাররিম ..... সিমাক (রাহঃ) তাঁর বংশের একজন হতে এবং তিনি অপর একব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পতাকা হলুদ রং এর দেখতে পেয়েছি।

৩৪৬. অক্ষম ঘোড়া ও দুরবল নারী- পুরুষদের সাহায্য দান।

باب فِي الاِنْتِصَارِ بِرَذْلِ الْخَيْلِ وَالضَّعَفَةِ

২৫৮৬

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْطَاةَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الدَّرْدَاءِ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " ابْغُونِي الضُّعَفَاءَ فَإِنَّمَا تُرْزَقُونَ وَتُنْصَرُونَ بِضُعَفَائِكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَيْدُ بْنُ أَرْطَاةَ أَخُو عَدِيِّ بْنِ أَرْطَاةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২৫৮৬. মুয়াম্মিল ইবনে ফযল আল হাররানী .... আবু দারদা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তোমরা অক্ষম, বৃদ্ধ ও নারীদেরকে তালাশ করে আমার নিকট উপস্থিত কর। (আমি তাদেরকে সাহায্য দিয়ে উপকৃত হই।) জেনে রেখো যে, নিঃসন্দেহে তোমাদের অক্ষম ও অচলদের বরকতেই তোমাদের প্রতি রিযক ও সাহায্য পৌঁছে থাকে বা তোমাদেরকে খাদ্য ও সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে।

৩৪৭. যদ্ধের সংকেত হিসেবে লোক বিশেষের নাম ব্যবহার।

باب فِي الرَّجُلِ يُنَادِي بِالشِّعَارِ

২৫৮৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ كَانَ شِعَارُ الْمُهَاجِرِينَ عَبْدُ اللَّهِ وَشِعَارُ الأَنْصَارِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৫৮৭. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাহিরদের জন্য (যুদ্ধের সময়) সাংকেতিক শব্দ ছিল আব্দুল্লাহ্ আর আনসারদের জন্য আব্দুর রহমান। (অর্থাৎ এই নামে ডাক দিলে সবাই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়ে পড়ত।)

২৫৮৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - زَمَنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ شِعَارُنَا أَمِتْ أَمِتْ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৫৮৮. হান্নাদ .... ইয়াস ইবনে সালামা তাঁর পিতা সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যামানায় আবু বকরের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। তখন আমাদের যুদ্ধ-সংকেত ছিল (রাতের অন্ধকারে) ‘আমিত আমিত’’ শব্দ (অর্থাৎ হে সাহায্যদাতা, শত্রুর মৃত্যু ঘটাও)।

২৫৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي صُفْرَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنْ بُيِّتُّمْ فَلْيَكُنْ شِعَارُكُمْ حم لاَ يُنْصَرُونَ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর .... মুহাল্লাব ইবনে আবু সুফরাহ (রাহঃ) বলেন, আমাকে এমন একজন সাহাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী করীম (ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা যখন (যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়ে) ঘরে অবস্থান করবে, তখন সংকেত হওয়া উচিত ‘‘হা-মীম, লা-ইউনসারূন’’। (অর্থাৎ হে আল্লাহ্! শত্রুপক্ষ যেন জয়ী না হয় আর কারো সাহায্য না পায়)।

৩৪৮. সফরে বের হওয়ার সময় যে দুআ পাঠ করবে।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا سَافَرَ

২৫৯০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَافَرَ قَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ اللَّهُمَّ اطْوِ لَنَا الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৯০. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সফরে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ اللَّهُمَّ اطْوِ لَنَا الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ

(অর্থ) হে আল্লাহ্! তুমিই সফরে আমার সঙ্গী এবং আমার পরিবারের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ্! আমি (তোমার নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করছি সফরের নানাবিধ কষ্ট হতে, চিন্তা ও মানসিক যাতনা হতে আর পারিববারিক ও আর্থিক অনটন জনিত কুদৃশ্য হতে। হে আল্লাহ! যমীনকে আমাদের জন্য প্রশস্ত করে দাও আর আমাদের সফর সহজ করে দাও।
২৫৯১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَلِيًّا الأَزْدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ عَلَّمَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ كَبَّرَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " ( سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ) اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا اللَّهُمَّ اطْوِ لَنَا الْبُعْدَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ " . وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ وَزَادَ فِيهِنَّ " آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ " . وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَجُيُوشُهُ إِذَا عَلَوُا الثَّنَايَا كَبَّرُوا وَإِذَا هَبَطُوا سَبَّحُوا فَوُضِعَتِ الصَّلاَةُ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৯১. আল হাসান ইবনে আলী .... ইবনে উমর (রাযিঃ) আলী আল-আযদীকে শিক্ষা দিয়েছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন সফরে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর উটের পিঠে বসতেন, তখন তিনবার আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর দিতেন। তারপর তিনি এ দুআ পাঠ কতেন, (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ) আর সফর হতে ফেরার সময়ও উপরোক্ত দুআ পাঠ করতেন এবং এর সাথে এ কথাগুলো অতিরিক্ত পাঠ করতেন, (آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ)। রসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর সেনাবাহিনী যখন কোনো উঁচু স্থানে উঠতেন, তখন ‘তাকবীর’ বলতেন; আর যখন নিচের দিকে নামতেন, তখন ‘তাসবীহ’ পড়তেন। পরবর্তীতে নামাজেও এ নিয়ম করা হয়েছে।

৩৪৯. বিদায়কালীন দুআ।

باب فِي الدُّعَاءِ عِنْدَ الْوَدَاعِ

২৫৯২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ قَزَعَةَ، قَالَ قَالَ لِي ابْنُ عُمَرَ هَلُمَّ أُوَدِّعْكَ كَمَا وَدَّعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: কাযাআ (রহঃ)

২৫৯২. মুসাদ্দাদ ..... কাযাআ (রাহঃ) বলেন, আমাকে ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেনঃ চলো, তোমাকে সেভাবে বিদায় দান করি যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বিদায় দিয়েছিলেন। এরপর এ দুআ পাঠ করলেন (أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ) (অর্থ) তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার শেষ সময়ের আমল আল্লাহ নিকট সোর্পদ করলাম (তিনি এর হিফাযত করবেন।)

২৫৯৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السَّيْلَحِينِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْخَطْمِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْخَطْمِيِّ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْتَوْدِعَ الْجَيْشَ قَالَ " أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ)

২৫৯৩. আল্ হাসান ইবনে আলী .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াযীদ আল খুতামি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন সৈন্য বাহিনীকে বিদায় দিতে চাইতেন তখন বলতেনঃ ″আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের দীন, আমানাত ও সর্বশেষ আমলের হেফাযতের দু'আ করছি।″

৩৫০. সওয়ারীতে আরোহণকালে যে দুআ পাঠ করবে।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا رَكِبَ

২৫৯৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - وَأُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ ثُمَّ قَالَ ( سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ) ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ . ثُمَّ ضَحِكَ فَقِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ " إِنَّ رَبَّكَ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৯৪. মুসাদ্দাদ ..... আলী ইবনে রাবীআ বলেন, আলী (রাযিঃ) এর নিকট একটি সওয়ারী পশু আরোহণের জন্য উপস্থিত করা হলে তিনি এর রেকাবে পা রাখতেই বললেন, ‘‘বিসমিল্লাহ্’’ তারপর এর পিঠে সোজা হয়ে বসে বললেন, ‘আল হামদুলিল্লাহ্’’। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ) (অর্থ) আমি ঐ মহান পবিত্র সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি এটিকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন অথচ আমরা তাকে বশীবূত করার ছিলাম না, আর আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর দিকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তনকারী।

এরপর তিনি তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ্″ তারপর তিনবার ‘আল্লহু আকবার’’ বললেন। তারপর তিনি বললেনঃ (سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ) ″(হে আল্লাহ) আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমিই আমার উপর যুলুম করেছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।″

এরপর তিনি হেসে উঠলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আমিরুল মু‘মননীন! কিসে আপনার হাসি পেল? তিনি উত্তর করলেন, আমি যেরূপ করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি। তারপর তিনি হাসছিলেন।

তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কী কারণে আপনার হাসি পেল? তিনি উত্তরে বলছিলেন, তোমার স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ্ তাআলা তাঁর বান্দার প্রতি বিস্ময়াবিভূত হন, যখন সে বলে, হে প্রভূ! আমাকে আমার পাপরাশির জন্য ক্ষমা করে দিন আর বিশ্বাস রাখো মনে মনে যে, আমি ছাড়া অন্য কেউ তার পাপরাশি ক্ষমা করার নেই।

৩৫১. বিশ্রামের স্থানে অবতরণ করলে কী দুআ পাঠ করবে।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا نَزَلَ الْمَنْزِلَ

২৫৯৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي صَفْوَانُ، حَدَّثَنِي شُرَيْحُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَافَرَ فَأَقْبَلَ اللَّيْلُ قَالَ " يَا أَرْضُ رَبِّي وَرَبُّكِ اللَّهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّكِ وَشَرِّ مَا فِيكِ وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيكِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكِ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ أَسَدٍ وَأَسْوَدَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ سَاكِنِ الْبَلَدِ وَمِنْ وَالِدٍ وَمَا وَلَدَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৯৫. আমর ইবনে উসমান ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সফরে যেতেন, আর রাত আগমন করলে রাত যাপনের জন্য কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন যমীনকে লক্ষ্য করে বলতেনঃ

يَا أَرْضُ رَبِّي وَرَبُّكِ اللَّهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّكِ وَشَرِّ مَا فِيكِ وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيكِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكِ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ أَسَدٍ وَأَسْوَدَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ سَاكِنِ الْبَلَدِ وَمِنْ وَالِدٍ وَمَا وَلَدَ

(অর্থ) ‘‘হে যমীন! আমার ও তোমার সৃষ্টিকর্তা প্রতিপালক হলেন আল্লাহ্। আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর তোমার ক্ষতি হতে, তোমার মধ্যে যা কিছু আছে তার ক্ষতি হতে, আর তোমার অভ্যন্তরে সৃষ্ট প্রাণীদের ক্ষতি হতে এবং আমি আল্লাহ্ তাআলার আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার মধ্যে বসবাসকারী হিংস্র সিংহ-বাঘ, কালকেউটে সাপ এবং অন্যান্য সাপ-বিচ্ছু হতে, আর তোমার শহরে বসবাসকারী মানব-দানব আর তাদের বংশধরদের ক্ষতি হতে।

৩৫২. রাতের প্রথমভাগে ভ্রমণ করা মাকরূহ্।

باب فِي كَرَاهِيَةِ السَّيْرِ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ

২৫৯৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُرْسِلُوا فَوَاشِيَكُمْ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تَعِيثُ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: الْفَوَاشِي: «مَا يَفْشُو مِنْ كُلِّ شَيْءٍ»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৯৬. আহমদ ইবনে আবু শুআইব আল্ হাররানী ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে তোমাদের পশুদের চারণভূমিতে ছেড়ে দিও না, যে পর্যন্ত রাতের প্রাথমিক অন্ধকার দূরীভূত না হয়। কারণ শয়তানের দল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে রাতের প্রাথমিক অন্ধকার ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত অনিষ্ট কাজে লিপ্ত থাকে।

৩৫৩. কোন দিবসে সফর করা উত্তম।

باب فِي أَىِّ يَوْمٍ يُسْتَحَبُّ السَّفَرُ

২৫৯৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ فِي سَفَرٍ إِلاَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

২৫৯৭. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিন সফরে কমই বের হতেন। অর্থাৎ অধিকাংশ সময়েই তিনি বৃহস্পতিবার সফরে বের হতেন।

১৫৪. ভোরবেলায় সফরে বের হওয়া।

باب فِي الاِبْتِكَارِ فِي السَّفَرِ

২৫৯৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ حَدِيدٍ، عَنْ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا " . وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ . وَكَانَ صَخْرٌ رَجُلاً تَاجِرًا وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَهُوَ صَخْرُ بْنُ وَدَاعَةَ»

বর্ণনাকারী: সাখর ইবনে ওয়াদাআ গামিদী রাযি.

২৫৯৮. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... সাখর আল গামিদী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি এ বলে দুআ করেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আমার উম্মতের মধ্যে যারা ভোর বেলায় সফরে বের হয় তাদেরকে বরকত দান করো।’’ আর যখন তিনি কোন সেনাদল বা সাজোয়া বাহিনী পাঠাতেন, তখন ভোর বেলাতেই পাঠাতেন। অত্র হাদীসের বর্ণনাকারী সাখর (রাযিঃ) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর পণ্য সামগ্রী দিনের প্রথমাংশে (ভোরে) পাঠাতেন আর বেশ লাভবান হতেন। এরূপে তিনি প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন।

৩৫৫. একাকী ভ্রমণ করা।

باب فِي الرَّجُلِ يُسَافِرُ وَحْدَهُ

২৫৯৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ وَالثَّلاَثَةُ رَكْبٌ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৫৯৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল-কা‘নবী .... আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা হতে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ একাকী একজন আরোহী এক শয়তান, দু‘জন দু‘ শয়তান আর তিনজনে জামাআত।

৩৫৬. দলেবলে সফরকারীদের মধ্যে একজনকে আমীর (নেতা) মনোনীত করা।

باب فِي الْقَوْمِ يُسَافِرُونَ يُؤَمِّرُونَ أَحَدَهُمْ

২৬০০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا خَرَجَ ثَلاَثَةٌ فِي سَفَرٍ فَلْيُؤَمِّرُوا أَحَدَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৬০০. আলী ইবনে বাহ ইবনে বাররী ..... আবু সাঈদ আল্ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তিন ব্যক্তি কোথাও সফরে বের হয়, তখন তারা তাদের একজনকে যেন আমীর (নেতা) মনোনীত করে নেয়।

২৬০১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ ثَلاَثَةٌ فِي سَفَرٍ فَلْيُؤَمِّرُوا أَحَدَهُمْ " . قَالَ نَافِعٌ فَقُلْنَا لأَبِي سَلَمَةَ فَأَنْتَ أَمِيرُنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬০১. আলী ইবনে বাহর .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সফরে তিনজন লোক থাকে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর মনোনীত করে নেয়। অত্র হাদীসের বর্ণনাকারী নাফি’ (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসের মর্মানুযায়ী আমরা আমাদের শায়খ আবু সালামকে বললাম, আপনি আমাদের আমীর।

৩৫৭. কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুর দেশে সফর করা।

باب فِي الْمُصْحَفِ يُسَافَرُ بِهِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৬০২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُسَافَرَ بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ . قَالَ مَالِكٌ أُرَاهُ مَخَافَةَ أَنْ يَنَالَهُ الْعَدُوُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬০২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল্ কা‘নবী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরআন নিয়ে শত্রুর যমীনে (দেশে) সফর করতে নিষেধ করেছেন। রাবী মালিক বলেন, আমার ধারণা যে, শত্রুর হাতে পড়ে কুরআনের অবমাননার ভয়ে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে।

৩৫৮. সাঁজোয়া বাহিনী , ছোট সেনাদল ও সফরসঙাগীদের সংখ্যা কত হওয়া উত্তম।

باب فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الْجُيُوشِ وَالرُّفَقَاءِ وَالسَّرَايَا

২৬০৩

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلاَفٍ وَلَنْ يُغْلَبَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ مُرْسَلٌ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬০৩. যুহাইর ইবনে হারব আবু খায়সামা ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ সফরসঙ্গীর উত্তম সংখ্যা হলো নুন্যতম চারজন, আর ক্ষুদ্র সেনাদলের উত্তম সংখ্যা চার‘শ এবং সাঁজোয়া বাহিনীর উত্তম সংখ্যা চার হাজার। আর ১২ হাজারের সৈন্যদল কথনও স্বল্পতার জন্য পরাজিত হবে না (অন্য কোন কারণ ছাড়া)।

৩৫৯. মুশরিকদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

باب فِي دُعَاءِ الْمُشْرِكِينَ

২৬০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْ جَيْشٍ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ وَبِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا وَقَالَ " إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ أَوْ خِلاَلٍ فَأَيَّتُهَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمُ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ فَإِنْ أَبَوْا وَاخْتَارُوا دَارَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَكُونُ لَهُمْ فِي الْفَىْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبٌ إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَادْعُهُمْ إِلَى إِعْطَاءِ الْجِزْيَةِ فَإِنْ أَجَابُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ تَعَالَى وَقَاتِلْهُمْ وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ تَعَالَى فَلاَ تُنْزِلْهُمْ فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ مَا يَحْكُمُ اللَّهُ فِيهِمْ وَلَكِنْ أَنْزِلُوهُمْ عَلَى حُكْمِكُمْ ثُمَّ اقْضُوا فِيهِمْ بَعْدُ مَا شِئْتُمْ " . قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ عَلْقَمَةُ فَذَكَرْتُ هَذَا الْحَدِيثَ لِمُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ فَقَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمٌ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ ابْنُ هَيْصَمٍ - عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৬০৪. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল্ আনবারী ..... বুরায়দা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন ক্ষুদ্র সেনাদল অথবা বিরাট সাজোয়া বাহিনীর উপর কাউকে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন আমীরকে লক্ষ্য করে উপদেশ দিতেন, যেন সে নিজে আল্লাহকে ভয় করে চলে আর তাঁর সঙ্গী মুসলিম সৈন্যদের প্রতি নেক নজর রাখে। নবী করীম (ﷺ) আরও বলতেনঃ যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের সাক্ষাত পাও তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার জন্য আহবান জানাবে। আর যে কোন একটি গ্রহণ করলে তুমি তাতে সায় দিবে এবং তাদের উপর আত্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে।

১. তাদেরকে ইসলামের আহবান জানাবে। যদি এতে সাড়া দেয়, তুমি মেনে নিবে আর তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। তারপর তাদেরকে নিজ দেশে ছেড়ে মুহাজিরদের দেশে অর্থাৎ মদীনায় হিজরত করার আহবান জানাবে আর তাদেরকে অবহিত করে দিবে যে, হিজরত করার পর মুহাজিরগণ যে সকল সুবিধা ভোগ করেন, তারাও সে সকল সুবিধা ভোগ করবে। আর জিহাদের যে সকল দায়-দায়িত্ব মুহাজিরদের ওপর বর্তায়, তাদের ওপরও তা সমভাবে বর্তাবে। তারা যদি এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায় আর নিজ দেশেই অবস্থান করতে চায় তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তাদেরকে আল্লাহ আদেশ-নিষেধ ও বিধি- বিধান মেনে চলতে হবে যেরূপে মু’মিনগণ মেনে থাকেন। তাদেরকে আরবের সাধারণ মুসলমানের মতো জীবনযাপন করতে হবে। তারা যেমনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ লাভ করে না, এরাও তেমনি এর কোন ভাগ পাবে না, যে পর্যন্ত মুজাহিদগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে।

২. যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তবে তাদের নিরাপত্তার জন্য জিয্ইয়া প্রদানের প্রস্তাব দিবে। এতে রাযী হলে তুমি মেনে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না।

৩. যদি তারা জিযইয়া দিতে অস্বীকার করে তবে তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। আক্রমণকালে যখন কোন শত্রুর দূর্গ অবরোধ করবে আর তারা তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে দুর্গ হতে অবতরণের ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তখন তুমি আল্লাহ অথবা রাসূলের নির্দেশের আশায় তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিবে না বরং তোমার নিজ সিদ্ধান্ত তাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করবে এবং নিজেই সুবিধামত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ কী হবে তা জানা নেই, সুতরাং সে অনিশ্চিয়তার ঝুঁকি গ্রহণ করতে নেই। তাদের ব্যাপারে পরে তোমার ইচ্ছানুযায়ী ফয়সালা গ্রহণ করবে।

অত্র হাদীসের রাবী সুফিইয়ান বলেন, তাঁর শায়খ আলকামা বলেছেন, তিনি এ হাদীসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মুহাদ্দিস মুকাতিল ইবনে হিব্বানকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি অপর সনদে নু‘মান ইবনে মুকাররিন কর্তৃক নবী করীম (ﷺ) হতে সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রাযিঃ) এর উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
২৬০৫

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ الأَنْطَاكِيُّ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ اغْزُوا وَلاَ تَغْدِرُوا وَلاَ تَغُلُّوا وَلاَ تُمَثِّلُوا وَلاَ تَقْتُلُوا وَلِيدًا " .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৬০৫. আবু সালিহ্ আল্ আনতাকী, মাহবুব ইবনে মুসা .... সুলাইমান ইবনে বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে আল্লাহর রাহে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও এবং ঐ সকল কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং জিযইয়া দানেও অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে। তোমরা যুদ্ধ করে যাও, কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করো না, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আত্মসাৎ করো না, নিহত শত্রুর নাক, কান ইত্যাদি কেটে বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না।

২৬০৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْفِرْزِ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " انْطَلِقُوا بِاسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ وَلاَ تَقْتُلُوا شَيْخًا فَانِيًا وَلاَ طِفْلاً وَلاَ صَغِيرًا وَلاَ امْرَأَةً وَلاَ تَغُلُّوا وَضُمُّوا غَنَائِمَكُمْ وَأَصْلِحُوا وَأَحْسِنُوا ( إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬০৬. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে রওয়ানা দেয়ার সময় আল্লাহ্ তাআলার নাম নিয়ে তাঁর সত্তার সাহায্য কামনা করে রাসূলুল্লাহর মিল্লাতে অটল আস্থা রেখে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। অসহায় অকর্মা বৃদ্ধকে হত্যা করবে না, নিরপরাধ নাবালক শিশু-কিশোর এবং অবলা নারীদেরকে হত্যা করবে না এবং গনিমতের মাল আত্মসাৎ করবে না। যুদ্ধলব্ধ গনিমতের মাল একস্থানে জড় করে নিও এবং পরস্পরের সমঝোতার ভিত্তিতে ও সৎ ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যের কল্যাণ সাধন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা সদ্ব্যব্যবহারকারীদের পছন্দ করেন।

৩৬০. শত্রুর অঞ্চলে অগ্নি সংযোগ.

باب فِي الْحَرْقِ فِي بِلاَدِ الْعَدُوِّ

২৬০৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا ).

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬০৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (নির্দেশ দিয়ে ইয়াহুদী গোত্র) বনী নযীর এর খেজুরের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের পানির কূপ ধ্বংস ও বৃক্ষলতাদি ফসলসহ কর্তন করেছিলেন। তখন মহান আল্লাহ্ তাআলা (مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا) আয়াতটি নাযিল করেন।

২৬০৮

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي الأَخْضَرِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ عُرْوَةُ فَحَدَّثَنِي أُسَامَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَهِدَ إِلَيْهِ فَقَالَ " أَغِرْ عَلَى أُبْنَى صَبَاحًا وَحَرِّقْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৬০৮. হান্নাদ ইবনে সারী ..... উসামা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন জেরুযালেমে অবস্থিত উবনা নামক স্থানে আক্রমণ করার জন্য আর বলেছিলেন, আগামীকাল প্রত্যুষে উবনা এর উপর অতর্কিত আক্রমণ করে তথায় অগ্নি সংযোগ কর।

২৬০৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الْغَزِّيُّ، سَمِعْتُ أَبَا مُسْهِرٍ، قِيلَ لَهُ أُبْنَى . قَالَ نَحْنُ أَعْلَمُ هِيَ يُبْنَى فِلَسْطِينَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬০৯. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আমর আল গাযযী (রাহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি শুনেছেন আবু মুসহারকে উবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ আমরা জানি যে, সে উবনা ফিলিস্তিনে অর্থাৎ সিরিয়ায়।

৩৬১. গুপ্তচর প্রেরণ।

باب بَعْثِ الْعُيُونِ

২৬১০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ بَعَثَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - بُسْبَسَةَ عَيْنًا يَنْظُرُ مَا صَنَعَتْ عِيرُ أَبِي سُفْيَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬১০. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাঁর সাহাবী বাসবাসা (রাযিঃ)-কে গুপ্তচর হিসেবে আবু সুফিয়ান এর (সিরিয়া হতে আগমনকারী) কাফেলার অবস্থা ও গতিবিধি অবলোকন করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন।

৩৬২. যে পথিক ক্ষুধায় কাতর হয়ে খেজুর খায় আর পিপাসায় কাতর হয়ে দুধ পান করে মালিকের অনুমতি ব্যতীত।

باب فِي ابْنِ السَّبِيلِ يَأْكُلُ مِنَ التَّمْرِ وَيَشْرَبُ مِنَ اللَّبَنِ إِذَا مَرَّ بِهِ

২৬১১

حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ الرَّقَّامُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ عَلَى مَاشِيَةٍ فَإِنْ كَانَ فِيهَا صَاحِبُهَا فَلْيَسْتَأْذِنْهُ فَإِنْ أَذِنَ لَهُ فَلْيَحْلِبْ وَلْيَشْرَبْ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا فَلْيُصَوِّتْ ثَلاَثًا فَإِنْ أَجَابَهُ فَلْيَسْتَأْذِنْهُ وَإِلاَّ فَلْيَحْتَلِبْ وَلْيَشْرَبْ وَلاَ يَحْمِلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৬১১. আইয়্যাশ ইবনে ওয়ালীদ আর রাককাম ..... সামুরা ইবনে জুনদাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন যে, যখন তোমাদের কেউ পথিমধ্যে পিপাসায় কাতর অবস্থায় দুধাল প্রাণী প্রাপ্ত হয়, তবে এর মালিক তথায় উপস্থিত থাকলে তার নিকট হতে এর দুধ দোহনের অনুমতি চাইবে। সে যদি অনুমতি দেয় তবে এর দুধ দোহন করে তৃষ্ণা নিবারণ করবে। আর যদি মালিককে দেখতে পাওয়া না যায়, তবে তিনবার তাকে চিৎকার করে ডাকবে। যদি মালিকের সাড়া পাওয়া যায়, তবে তার অনুমতি চাইবে। অন্যথায় দুধ দোহন করে তার তৃষ্ণানিবারণ করা উচিত। প্রাণ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পান করা ছাড়া অতিরিক্ত কোন দুগ্ধ সঙ্গে বহণ করে নিবে না।

২৬১২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، قَالَ أَصَابَتْنِي سَنَةٌ فَدَخَلْتُ حَائِطًا مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ فَفَرَكْتُ سُنْبُلاً فَأَكَلْتُ وَحَمَلْتُ فِي ثَوْبِي فَجَاءَ صَاحِبُهُ فَضَرَبَنِي وَأَخَذَ ثَوْبِي فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ " مَا عَلَّمْتَ إِذْ كَانَ جَاهِلاً وَلاَ أَطْعَمْتَ إِذْ كَانَ جَائِعًا " . أَوْ قَالَ " سَاغِبًا " . وَأَمَرَهُ فَرَدَّ عَلَىَّ ثَوْبِي وَأَعْطَانِي وَسْقًا أَوْ نِصْفَ وَسْقٍ مِنْ طَعَامٍ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবন শারাহীল (রাঃ)

২৬১২. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয আল্ আনবারী ..... আব্বাদ ইবনে শুরাহবীল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার খুব ক্ষুধা পাওয়ার আমি মদীনার বাগানসূহের মধ্যে কোন এক বাগানে ঢুকে পড়লাম। বাগান হতে কিছু ফল পেড়ে খেলাম আর কিছু আমার গায়ের চাদরে বেঁধে নিলাম। সে সময় বাগানের মালিক এসে আমাকে মারধর করল এবং আমার চাদরখানা নিয়ে গেল। আমি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গেলাম। তিনি বাগানের মালিককে উদ্দেশ্য করে বললেন, ছেলেটি যখন মূর্খ ছিল তখন তাকে জ্ঞান দান করনি, যখন সে ক্ষুধার্ত ছিল তখন তুমি তাকে খাদ্য দান করনি। এই বলে তিনি তাকে আমার কাপড়খানা ফেরত দিতে নির্দেশ দিলেন এবং আমাকে এক ওসাক বা অর্ধ ওসাক (৬০ সা’ পরিমাণ বা তার অর্ধেক) খাদ্য দান করার নির্দেশ দেয়ায় আমাকে আমার কাপড় (চাদর) ফেরত দিল এবং উক্ত পরিমাণ খাদ্যও প্রদান করল।

২৬১৩

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبَّادَ بْنَ شُرَحْبِيلَ، - رَجُلاً مِنَّا مِنْ بَنِي غُبَرَ - بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবু বিশর (রহঃ)

২৬১৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ..... আবু বিশর (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্বাদ ইবনে শুরাহবীল হতে উক্ত মর্মে উপরোক্ত হাদীসটি শুনেছি। তিনি আমাদের বনী গুবার গোত্রের একজন লোক ছিলেন।

২৬১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ - وَهَذَا لَفْظُ أَبِي بَكْرٍ - عَنْ مُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي حَكَمٍ الْغِفَارِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، عَنْ عَمِّ أَبِي رَافِعِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ، قَالَ كُنْتُ غُلاَمًا أَرْمِي نَخْلَ الأَنْصَارِ فَأُتِيَ بِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا غُلاَمُ لِمَ تَرْمِي النَّخْلَ " . قَالَ آكُلُ . قَالَ " فَلاَ تَرْمِ النَّخْلَ وَكُلْ مِمَّا يَسْقُطُ فِي أَسْفَلِهَا " . ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ فَقَالَ " اللَّهُمَّ أَشْبِعْ بَطْنَهُ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে আমর গিফারী (রাঃ)

২৬১৪. উসমান ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ...... ইবনে আবুল হাকাম আল্-গিফারী বলেন, আমাকে আমার দাদী আবু রাফি’ ইবনে আমর আল-গিফারীর চাচা হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি যখন ছোট বালক ছিলাম তখন আনসারদের খেজুর গাছে তীর ছুঁড়ে মারতাম। সে কারণে আমাকে একবার নবী করীম (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে বালক! তুমি খেজুর গাছে তীর মারো কেন? সে বলল, আমার খাওয়ার জন্য। নবীজী বলেন, আর কখনও খেজুর গাছে তীর মেরা না। গাছের নীচে যে খেজুর ঝরে পড়ে তুমি তা খাও। এ বলে নবীজি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন আর বললেন, হে আল্লাহ! তার পেট পরিতৃপ্ত কর।

৩৬৩. যারা বলেছেন, দুধ দোহণ করা যাবে না।

باب فِيمَنْ قَالَ لاَ يَحْلِبُ

২৬১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحْلُبَنَّ أَحَدٌ مَاشِيَةَ أَحَدٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تُؤْتَى مَشْرَبَتُهُ فَتُكْسَرَ خِزَانَتُهُ فَيُنْتَثَلَ طَعَامُهُ فَإِنَّمَا تَخْزُنُ لَهُمْ ضُرُوعُ مَوَاشِيهِمْ أَطْعِمَتَهُمْ فَلاَ يَحْلُبَنَّ أَحَدٌ مَاشِيَةَ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬১৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যেন অপর কোন ব্যক্তির দুধাল পশুর (গাভী বা ছাগী বা উটনীর) দুধ তার বিনা অনুমতিতে কখনও দোহণ না করে। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, তার গুদাম ঘরে (মাল-গুদামে) দরজা ভেঙ্গে চোর ঢুকুক আর তার রক্ষিত খাদ্যসামগ্রী লুন্ঠন করুক? তাদের পশুদের স্তনে তাদের খাদ্য তথা পানীয় সঞ্চিত থাকে। অতএব, কারো পশুর দুধ কেউ যেন মালিকের অনুমতি ছাড়া কখনও দোহণ না করে।

৩৬৪. আনুগত্যের বিষয়ে।

باب فِي الطَّاعَةِ

২৬১৬

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ ) فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ أَخْبَرَنِيهِ يَعْلَى عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

২৬১৬. যুহাইর ইবনে হারব .... ইবনে জুরায়জ (রাযিঃ) (কুরআন মজীদের আয়াত) (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ) (অর্থ) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর প্রতি অনুগত থাক, আল্লাহর রাসূলের প্রতি অনুগত থাক আর তোমাদের ক্ষমতাবান নেতাদের প্রতি’’ পাঠ করার পর বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়স ইবনে আদী (রাযিঃ)-কে নবী করীম (ﷺ) একটি ক্ষুদ্র যুদ্ধে সেনাপতি নিযুক্ত করে পাঠালেন। আমাকে এ খবরটি ইয়া‘লা সাঈদ ইবনে জুবাইর হতে আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে প্রদান করেছেন।

২৬১৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ جَيْشًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ رَجُلاً وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَسْمَعُوا لَهُ وَيُطِيعُوا فَأَجَّجَ نَارًا وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَقْتَحِمُوا فِيهَا فَأَبَى قَوْمٌ أَنْ يَدْخُلُوهَا وَقَالُوا إِنَّمَا فَرَرْنَا مِنَ النَّارِ وَأَرَادَ قَوْمٌ أَنْ يَدْخُلُوهَا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَوْ دَخَلُوهَا - أَوْ دَخَلُوا فِيهَا - لَمْ يَزَالُوا فِيهَا " . وَقَالَ " لاَ طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬১৭. আমর ইবনে মারযূক ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) একবার এক যুদ্ধে একটি সেনাদল পাঠালেন আর এক ব্যক্তিকে এর সেনাপতি নিযুক্ত করলেন আর তাদের সকলকে সেনাপতির কথা শোনার আর তার আনুগত থাকার নির্দেশ দিনে। সে সেনাপতি (আমীর) অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে তাতে ঝাঁপ দেয়ার জন্য সেনাদলকে নির্দেশ দিল। তখন অনেকেই এ বলে তাতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করল যে, আমরা তো (কুফরীর) অগ্নি হতে (ঈমানের দ্বারা) নিস্তার লাভ করেছি (এখন আবার তাতে আত্মহত্যা করে জাহান্নামে যাব কেন?) আবার কিছু সংখ্যক সৈন্য ঐ অগ্নিতে নেতার নির্দেশ পালনার্থে প্রবেশ করতে মনস্থ করল। এরপর খবরটি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট পৌঁছল। তিনি বললেন, যদি তারা ঐ অগ্নিতে প্রবেশ করতো তবে তারা আত্মহত্যা করার অপরাধে জাহান্নামী হয়ে যেত। তারপর বলেন, আল্লাহর অবাধ্যতায় (নেতার) আনুগত্য নেই, আনুগত্য হল শুধু সৎকাজে। (এতে বোঝা গেল যে, কোন অসৎকাজে নেতার নির্দেশ পালন করা যাবে না। বরং এর প্রতিবাদ করই মু‘মিনের কাজ)।

২৬১৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬১৮. মুসাদ্দাদ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর নেতার নির্দেশ শ্রবণ করা ও মেনে চলা আবশ্যক, চাই তা তার পছন্দ হোক বা না হোক, যে পর্যন্ত নেতা কোন পাপ কাজের নির্দেশ দান না করে। আর নেতা যখন কোন পাপ কাজ (অবৈধ কাজ) করার নির্দেশ দিবে তখন তার নির্দেশ শ্রবণ ও পালন করা যাবে না।)

২৬১৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ بِشْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، مِنْ رَهْطِهِ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَسَلَحْتُ رَجُلاً مِنْهُمْ سَيْفًا فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ لَوْ رَأَيْتَ مَا لاَمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَعَجَزْتُمْ إِذْ بَعَثْتُ رَجُلاً مِنْكُمْ فَلَمْ يَمْضِ لأَمْرِي أَنْ تَجْعَلُوا مَكَانَهُ مَنْ يَمْضِي لأَمْرِي " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬১৯. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন .... উকবা ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) একবার একটি ক্ষুদ্র সৈন্যদল যুদ্ধে পাঠালেন। আমি তাদের একজনকে একটি তরবারি দিয়ে সজ্জিত করলাম। যুদ্ধক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তনের পর সে লোকটি আমাকে বলল, তুমি যদি দেখতে পেতে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের ওপর কী ভীষণ রাগান্বিত হয়েছিলেন, তাহলে তুমি অতি আশ্চার্যান্বিত হতে। তিনি বলেছেন, তোমরা কি অপারগ ছিলে যখন তোমরা দেখতে পেলে যে, তোমাদের মধ্য হতে আমি যে লোকটিকে নিযুক্ত করেছি সে আমার নির্দেশমত চলছে না, তখন তোমরা নির্দেশ পালন করার মত অপর কাউকে তার স্থলে সেনাপতি নির্বাচন করতে পারলে না? তোমরা কি এতই অক্ষম ছিলে?

৩৬৫. সৈন্যদের একস্থানে জড় হয়ে থাকার ব্যাপারে নির্দেশ।

باب مَا يُؤْمَرُ مِنَ انْضِمَامِ الْعَسْكَرِ

২৬২০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، وَيَزِيدُ بْنُ قُبَيْسٍ، - مِنْ أَهْلِ جَبَلَةَ سَاحِلِ حِمْصٍ وَهَذَا لَفْظُ يَزِيدَ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاَءِ أَنَّهُ سَمِعَ مُسْلِمَ بْنَ مِشْكَمٍ أَبَا عُبَيْدِ اللَّهِ يَقُولُ حَدَّثَنَا أَبُو ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيُّ قَالَ كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلاً - قَالَ عَمْرٌو كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْزِلاً - تَفَرَّقُوا فِي الشِّعَابِ وَالأَوْدِيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشِّعَابِ وَالأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ " . فَلَمْ يَنْزِلْ بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلاً إِلاَّ انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ حَتَّى يُقَالُ لَوْ بُسِطَ عَلَيْهِمْ ثَوْبٌ لَعَمَّهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

২৬২০. আমর ইবনে উসমান আল হিমসী .... আবু সা‘লাবা আল খুশানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন সৈন্যদল বা লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সফরে কোথাও রাতযাপন বা বিশ্রামের জন্য সওয়ারী হতে অবতরণ করতেন, তখন তাঁর সঙ্গী লোকজন পাহাড়ের বিভিন্ন উপত্যকায় ও জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়তেন। সে কারণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছিলেন, তোমাদের এ সকল পাহাড়ী উপত্যকায় বা জঙ্গলে বিভক্ত হয়ে পড়া শয়তানের কাজ। এরপর হতে সর্বদা যখনই কোন স্থানে অবস্থান করতেন, তখনই সৈন্যদলে সকলে পরস্পরে একত্রে অবস্থান করতেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত বলা হত যে, যদি একখানা কাপড় তাদের ওপর বিছিয়ে দেয়া হয়, তবে তাদের সকলের জন্য তা যথেষ্ট হবে।

২৬২১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخَثْعَمِيِّ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ مُجَاهِدٍ اللَّخْمِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ كَذَا وَكَذَا فَضَيَّقَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ وَقَطَعُوا الطَّرِيقَ فَبَعَثَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنَادِيًا يُنَادِي فِي النَّاسِ أَنَّ مَنْ ضَيَّقَ مَنْزِلاً أَوْ قَطَعَ طَرِيقًا فَلاَ جِهَادَ لَهُ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে মুআয (রহঃ)

২৬২১. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... সাহল ইবনে মুআয তাঁর পিতা মুআয ইবনে আনাস আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। তখন লোকেরা বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে স্থান সংকীর্ণ ও রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। নবী করীম (ﷺ) একজন ঘোষণাকারীকে লোকজনের (সৈন্যদলের) মধ্যে ঘোষণা করতে পাঠালেনঃ যে ব্যক্তি স্থান সংকীর্ণ করে অথবা রাস্তা বন্ধ করে বসবে তার জিহাদ নেই।

২৬২২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ مُجَاهِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে মুআয (রহঃ)

২৬২২. আমর ইবনে উসমান .... সাহল ইবনে মুআয তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধে গমন করেছি। তারপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৬৬. শত্রুর সঙ্গে সাক্ষাতের কামনা করা অপছন্দনীয়।

باب فِي كَرَاهِيَةِ تَمَنِّي لِقَاءِ الْعَدُوِّ

২৬২৩

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ - يَعْنِي ابْنَ مَعْمَرٍ وَكَانَ كَاتِبًا لَهُ - قَالَ كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى حِينَ خَرَجَ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ قَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا اللَّهَ تَعَالَى الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৬২৩. আবু সাহিল্ মাহবুব ইবনে মুসা .... উমর ইবনে উবাইদুল্লাহ্ বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) যখন হারুরিয়্যার যুদ্ধে যাত্রা করেন তখন তাঁর নিকট এ মর্মে চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর কোন কোন যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে শত্রুসেনার সাথে মুকাবিলা হয়েছিল, বলেছিলেন, হে লোক সকল! শত্রুর সাথে সাক্ষাতের বাসনা পোষণ করো না, বরং আল্লাহ্ তাআলার নিকট শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করো। যখন তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হও তখন ধৈর্য ধারণ কর। জেনে রেখ তরবারিসমূহের ছায়ার নীচে জান্নাত। এরপর তিনি বলেন, হে আল্লাহ্ (আসমানী কিতাব) আল-কুরআন অবতরণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, শত্রুদলসমূহের পরাভূতকারী! শত্রুদের পরাভূত করে আমাদেরকে তাদের উপর জয়ী করুন।

৩৬৭. শত্রুর মোকাবিলার সময় কী দুআ পঠিত হবে।

باب مَا يُدْعَى عِنْدَ اللِّقَاءِ

২৬২৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غَزَا قَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أُقَاتِلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬২৪. নসর ইবনে আলী ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) যখনই যুদ্ধ আরম্ভ করতেন তখনই এ দুআ করতেন, (অর্থ) ‘‘হে আল্লাহ্! তুমিই আমার শক্তি ও সাহায্যদাতা। তোমার শক্তিতেই আমি আক্রমণ প্রতিহত করার কৌশল অবলম্বন করি আর তোমার সাহায্যেই বিজয়ী হই এবং তোমার শক্তিতেই শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকি।

৩৬৮. মুশরিকদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

باب فِي دُعَاءِ الْمُشْرِكِينَ

২৬২৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، قَالَ كَتَبْتُ إِلَى نَافِعٍ أَسْأَلُهُ عَنْ دُعَاءِ الْمُشْرِكِينَ، عِنْدَ الْقِتَالِ فَكَتَبَ إِلَىَّ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ وَقَدْ أَغَارَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ وَهُمْ غَارُّونَ وَأَنْعَامُهُمْ تُسْقَى عَلَى الْمَاءِ فَقَتَلَ مُقَاتِلَتَهُمْ وَسَبَى سَبْيَهُمْ وَأَصَابَ يَوْمَئِذٍ جُوَيْرِيَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ حَدَّثَنِي بِذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ وَكَانَ فِي ذَلِكَ الْجَيْشِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «هَذَا حَدِيثٌ نَبِيلٌ، رَوَاهُ ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَلَمْ يُشْرِكْهُ فِيهِ أَحَدٌ»

বর্ণনাকারী: ইবনে আউন (রহঃ)

২৬২৫. সাঈদ ইবনে মনসুর ..... ইবনে আওন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর খাদেম নাফি‘ এর নিকট পত্র লিখে জানতে চাইলাম যে, মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের সময় ইসলামের দাওয়াত দেওয়াটা কিরূপ? তিনি উত্তরে আমাকে চিঠি লিখে জানালেন, তা ইসলামের প্রাথমিক যুগের ব্যাপার ছিল। নবী করীম (ﷺ) মুসতালিক গোত্রের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছিলেন। তারা মুসলমানদের এরূপ আক্রমণ সম্পর্কে কিছুই জানত না, আর তাদের পশুগোলো তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানির কূপের নিকট অস্থান করছিল। এমতাবস্থায় অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে তাদের যুদ্ধবাজদেরকে হত্যা করে তাদের পুত্র-কন্যাদেরকে বন্দী করে এনেছিলেন। উম্মূল মু‘মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাযিঃ) কে সে সময় বন্দী করে আনা হয়েছিল। আমাকে স্বয়ং আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) এ কথা বর্ণনা করেছেন, যিনি উক্ত সৈন্যবেহিনীতে শরীক ছিলেন।

২৬২৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُغِيرُ عِنْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَكَانَ يَتَسَمَّعُ فَإِذَا سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِلاَّ أَغَارَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬২৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় অতর্কিত আক্রমণের জন্য ফজরের আযান শোনার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। আযান শোনা গেলে আক্রমণ হতে বিরত থাকতেন। অন্যথায় (আযান শোনা না গেলে) শত্রুর প্রতি অতর্কিত আক্রমণে বেরিয়ে পড়তেন।

২৬২৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ، عَنِ ابْنِ عِصَامٍ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمْ مَسْجِدًا أَوْ سَمِعْتُمْ مُؤَذِّنًا فَلاَ تَقْتُلُوا أَحَدًا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬২৭. সাঈদ ইবনে মনসুর .... ইবনে ইসাম আল মুযানী তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খণ্ডযুদ্ধে পাঠাতেন, আর বলতেন, তোমরা কোন মসজিদ দেখতে পেলে অথবা কোন মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনলে সেখানে অতর্কিত আক্রমণ চালাবে না এবং কাউকে হত্যা করবে না।

৩৬৯. যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করা।

باب الْمَكْرِ فِي الْحَرْبِ

২৬২৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْحَرْبُ خُدْعَةٌ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬২৮. সাঈদ ইবনে মনসুর .... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যুদ্ধ একটি ধোঁকা বা কৌশল মাত্র।

২৬২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ غَزْوَةً وَرَّى غَيْرَهَا وَكَانَ يَقُولُ " الْحَرْبُ خُدْعَةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " لَمْ يَجِئْ بِهِ إِلَّا مَعْمَرٌ يُرِيدُ قَوْلَهُ: «الْحَرْبُ خَدْعَةٌ» بِهَذَا الْإِسْنَادِ إِنَّمَا يُرْوَى مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، وَمِنْ حَدِيثِ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ "

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

২৬২৯. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ...... কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) কোনো দিকে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তা অপরের নিকট গোপন রাখতেন আর বলতেন, যুদ্ধ একটি কৌশল মাত্র।

৩৭০. গোপনে নৈশ আক্রমণ।

باب فِي الْبَيَاتِ

২৬৩০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، وَأَبُو عَامِرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا أَبَا بَكْرٍ - رضى الله عنه - فَغَزَوْنَا نَاسًا مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَبَيَّتْنَاهُمْ نَقْتُلُهُمْ وَكَانَ شِعَارُنَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ أَمِتْ أَمِتْ . قَالَ سَلَمَةُ فَقَتَلْتُ بِيَدِي تِلْكَ اللَّيْلَةَ سَبْعَةَ أَهْلِ أَبْيَاتٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৬৩০. আল্ হাসান ইবনে আলী .... সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের উপর আবু বকর (রাযিঃ)-কে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে এক যুদ্ধে পাঠালেন। আমরা (ফুযারা গোত্রের) কিছু মুশরিকদের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলাম। রাতের বেলা তাদের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে শত্রুদেরকে হত্যা করেছিলাম। সে রাতে আমাদের আক্রমণের সংকেত ছিল ‘আমিত, আমিত’’। সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) বলেছেন, আমি নিজ হাতে সে রাতে সাতজন প্রসিদ্ধ নেতাকে হত্যা করেছিলাম।

৩৭১. সৈন্যবেহিনী বা কাফেলার পেছনে অবস্থান গ্রহণ।

باب فِي لُزُومِ السَّاقَةِ

২৬৩১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ شَوْكَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّفُ فِي الْمَسِيرِ فَيُزْجِي الضَّعِيفَ وَيُرْدِفُ وَيَدْعُو لَهُمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬৩১. আল্ হাসান ইবনে শাওকার ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সফরে লোকজনের পেছনে অবস্থান করতেন ও অসামর্থ লোকদের নিজ সওয়ারীতে তুলে নিতেন এবং সকল সঙ্গী মুসলমানের কল্যাণের জন্য দুআ করতেন।

৩৭২. মুশরিকদের সঙ্গে কেন যুদ্ধ করতে হবে।

باب عَلَى مَا يُقَاتَلُ الْمُشْرِكُونَ

২৬৩২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا مَنَعُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৩২. মুসাদ্দাদ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমি লোকদের (কাফির-মুশরিকদের) সাথে যুদ্ধ করতে অদিষ্ট হয়েছি, যে পর্যন্ত তারা কালেমা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ (আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নেই) বলে ইসলাম গ্রহণ না করে। অতএব, যখন তারা এই কালেমা বলে, তখন হতে তাদের জান-মাল আমার নিকট নিরাপদ থাকবে, কেবল ন্যায়বিচারের খাতিরে প্রাণদণ্ড ও শাস্তির ব্যবস্থা ইসলামী বিধান মোতাবেক চালু থাকবে। প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের পর তাদের আন্তরিকতার প্রতি লক্ষ্য করা হবে না। যদি অন্তরে দোষ-ত্রুটি থাকে, তবে তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর উপর ন্যস্ত থাকবে।

২৬৩৩

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنْ يَسْتَقْبِلُوا قِبْلَتَنَا وَأَنْ يَأْكُلُوا ذَبِيحَتَنَا وَأَنْ يُصَلُّوا صَلاَتَنَا فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حَرُمَتْ عَلَيْنَا دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا لَهُمْ مَا لِلْمُسْلِمِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৩৩. সাঈদ ইবনে ইয়াকুব তালেকানী ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘আমি (অমুসলিম লোকদের সাথে যুদ্ধ করতে যেতে অদিষ্ট হয়েছি), যে পর্যন্ত তারা ‘আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নেই আর মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল’’ বলে সাক্ষ্য না দেয়, আর আমাদের কিবলা মেনে তার দিকে মুখ না করে নামায না পড়ে, আর আমাদের যবেহকৃত প্রাণী না খায় আর আমাদের মত (পাঁচ বেলা) নামায আদায় না করে। যখন তারা (ঈমান এনে) ঐ সকল কাজ করবে, তাদের জানমালের ক্ষতি সাধন আমাদের উপর হারাম (নিষিদ্ধ) হয়ে যাবে। কিন্তু জানমালের অধিকারের বেলায় ন্যায়বিচারের মানদণ্ড চালু থাকবে। অন্যান্য মুসলমানগণ যেরূপ সাহায্য সভানুভূতি পেয়ে থাকে, তারাও সেরূপ সাহায্য পাবে, আর মুসলমানদের ওপর যেরূপ অপরাধের শাস্তি বর্তায় তাদের ওপরও তদ্রূপই বর্তবে।

২৬৩৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ الْمُشْرِكِينَ " . بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৩৪. সুলাইমান ইবনে দাউদ ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে উক্ত মর্মে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

২৬৩৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْمَعْنَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً إِلَى الْحُرَقَاتِ فَنَذِرُوا بِنَا فَهَرَبُوا فَأَدْرَكْنَا رَجُلاً فَلَمَّا غَشَيْنَاهُ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَضَرَبْنَاهُ حَتَّى قَتَلْنَاهُ فَذَكَرْتُهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ لَكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا قَالَهَا مَخَافَةَ السِّلاَحِ . قَالَ " أَفَلاَ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ قَالَهَا أَمْ لاَ مَنْ لَكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أُسْلِمْ إِلاَّ يَوْمَئِذٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৬৩৫. আল্ হাসান ইবনে আলী ও উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ক্ষুদ্র সৈন্যদল দিয়ে হুরুকাত নামক স্থানে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। শত্রুগণ আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পলায়ন করল। আমরা তাদের একজনকে ধরতে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম ও চাপ সৃষ্টি করলাম। সে বলে উঠল, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ তারপরও আমরা তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করাম।

(মদীনায় ফেরার পর) আমি এ ঘটনা নবী করীম (ﷺ)-কে অবহিত করলে, তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ যখন তোমার বিরূদ্ধে বাদী হয়ে আল্লাহ নিকট বিচার প্রার্থনা করবে তখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, কে সাহায্য করবে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে তো অস্ত্রের ভয়ে কালেমা পড়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কি তার অন্তর ফেড়ে দেখেছিলে যে, সে ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল না সত্যই ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল?

তারপরও তিনি বারংবার বলতে থাকলেনঃ ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ কালেমার ফরিয়াদের সময় কিয়ামতের দিন তোমাকে কে রক্ষা করবে? এমনকি আমার লজ্জায় মনে হচ্ছিল যে, আমি যদি পূর্বে মুসলমান না হয়ে সেদিন ইসলাম গ্রহণ করতাম (তবে আমার এহেন অপরাধ মাফ হয়ে যেত)।
২৬৩৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلاً مِنَ الْكُفَّارِ فَقَاتَلَنِي فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَىَّ بِالسَّيْفِ ثُمَّ لاَذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ فَقَالَ أَسْلَمْتُ لِلَّهِ . أَفَأَقْتُلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقْتُلْهُ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَطَعَ يَدِي . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقْتُلْهُ فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَأَنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাঃ)

২৬৩৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আল্ মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিঃ) বলেন, তার নিকট খবরটি এভাবে পৌঁছে যে, তিনি নবীজিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে আপনার অভিমত ব্যক্ত করুন এ ব্যাপারে, যদি আমার সাথে কোন কাফিররের সাক্ষাত হতেই সে আমার সাথে যুদ্ধ আরম্ভ করে আর আমার একটি হাত তরবারি দিয়ে কেটে ফেলে তারপর আমাকে একটি গাছের সাথে ধরে বলে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরূপ বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করতে পারি?

রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) উত্তর দিলেনঃ না, এমতাবস্থায় তুমি তাকে হত্যা করবে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তবুও তুমি তাকে হত্যা করবে না। তুমি যদি তাকে হত্যা কর, তবে হত্যার পূর্বে তুমি যে অবস্থায় ছিলে, সে তোমার ঐ অবস্থায় চলে যাবে। আর তুমি তার কালেমা পড়ার পূর্বেকার (কুফরী) অবস্থায় চলে যাবে।

৩৭৩. যারা সিজদায় দৃঢ় থেকে আত্মরক্ষা করতে চায় তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنْ قَتْلِ، مَنِ اعْتَصَمَ بِالسُّجُودِ

২৬৩৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً إِلَى خَثْعَمٍ فَاعْتَصَمَ نَاسٌ مِنْهُمْ بِالسُّجُودِ فَأَسْرَعَ فِيهِمُ الْقَتْلُ - قَالَ - فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُمْ بِنِصْفِ الْعَقْلِ وَقَالَ " أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ قَالَ " لاَ تَرَاءَى نَارَاهُمَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هُشَيْمٌ وَمُعْتَمِرٌ وَخَالِدٌ الْوَاسِطِيُّ وَجَمَاعَةٌ لَمْ يَذْكُرُوا جَرِيرًا .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২৬৩৭. হান্নাদ ইবনে সারী ..... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) খাসআম গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য একদল সৈন্য পাঠালেন। উক্ত গোত্রের কিছু লোক সিজদায় পতিত হয়ে (ইসলাম গ্রহণের বাহ্যিক প্রকাশ দ্বারা) আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু ফল হল না, বরং মুসলিম সৈন্যদল তাড়াতাড়ি তাদেরকে হত্যা করল।

জারীর (রাযিঃ) বলেন, এ হত্যার খবর নবী করীম (ﷺ) এর নিকট পৌঁছার পর তিনি নিহতদের উত্তরাধিকারীগণকে রক্তের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, আমি ঐ সকল মুসলমানদের কোন দায়-দায়িত্ব রাখি না যারা মুশরিকদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে বসবাস করে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কেন? তিনি বললেন, (মুশরিক আর মুসলমানদের একস্থানে বসবাস করতে নেই) তারা একে অপর হতে এরূপ দূরত্বে বাস করবে যাতে একের ঘরে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি অপরের ঘর হতে দেখা না যায়।

৩৭৪. যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়ন।

باب فِي التَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ

২৬৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ خِرِّيتٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَزَلَتْ ( إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ) فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ حِينَ فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَنْ لاَ يَفِرَّ وَاحِدٌ مِنْ عَشَرَةٍ ثُمَّ إِنَّهُ جَاءَ تَخْفِيفٌ فَقَالَ ( الآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ ) قَرَأَ أَبُو تَوْبَةَ إِلَى قَوْلِهِ ( يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ) قَالَ فَلَمَّا خَفَّفَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ مِنَ الْعِدَّةِ نَقَصَ مِنَ الصَّبْرِ بِقَدْرِ مَا خَفَّفَ عَنْهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৩৮. আবু তাওবা আর্ রাবী ‘ইবনে নাফি’ ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের আয়াত) (إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ) (অর্থ) ‘‘যদি তোমাদের বিশজন সবল সহিষ্ণু সৈন্য থাকে তবে দু‘শ’ কাফির সৈন্যর ওপর তারা জয়ী হবে।’’ (শত্রুর ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়ন করতে পারবে না) অবতীর্ণ হল, তখন এরূপ কড়া নির্দেশটি যে, একজন মুসলিমকে দশজন কাফিরের মোকাবিলা করা আল্লাহ্ তাদের উপর ফরয করে দিলেন মুসলমানের উপর বড়ই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ল।

এরপর তা হালকা করে সহজকারী আয়াত অবতীর্ণ হ‘ল, যাতে বলা হ‘লঃ এখন আল্লাহ্ তাআলা কড়া নির্দেশটি তোমাদের উপর হালকা করে দিয়েছেন। কারণ, তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে দুর্বল লোক রয়েছে। অতএব, তোমাদের এক‘শ জন অবিচলিত যোদ্ধা দু‘শ জন কাফিরের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হবে আর এক হাজার থাকলে তারা দু‘হাজার শত্রু সৈন্যের মোকাবেলা করে জয়ী হবে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, সহজীকরণের সময় যে হারে সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন, সে পরিমাণে আল্লাহ্ তাআলা অটল অবিচল থাকার ব্যাপারটিও হালকা করে দিয়েছেন।
২৬৩৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، كَانَ فِي سَرِيَّةٍ مِنْ سَرَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَحَاصَ النَّاسُ حَيْصَةً فَكُنْتُ فِيمَنْ حَاصَ - قَالَ - فَلَمَّا بَرَزْنَا قُلْنَا كَيْفَ نَصْنَعُ وَقَدْ فَرَرْنَا مِنَ الزَّحْفِ وَبُؤْنَا بِالْغَضَبِ فَقُلْنَا نَدْخُلُ الْمَدِينَةَ فَنَتَثَبَّتُ فِيهَا وَنَذْهَبُ وَلاَ يَرَانَا أَحَدٌ - قَالَ - فَدَخَلْنَا فَقُلْنَا لَوْ عَرَضْنَا أَنْفُسَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ كَانَتْ لَنَا تَوْبَةٌ أَقَمْنَا وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ ذَهَبْنَا - قَالَ - فَجَلَسْنَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ فَلَمَّا خَرَجَ قُمْنَا إِلَيْهِ فَقُلْنَا نَحْنُ الْفَرَّارُونَ فَأَقْبَلَ إِلَيْنَا فَقَالَ " لاَ بَلْ أَنْتُمُ الْعَكَّارُونَ " . قَالَ فَدَنَوْنَا فَقَبَّلْنَا يَدَهُ فَقَالَ " أَنَا فِئَةُ الْمُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৩৯. আহমদ ইবনে ইউনুস .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক প্রেরিত খণ্ড যুদ্ধসমূহের মধ্যে কোন এক যুদ্ধের সেনাদলে শামিল ছিলেন। তিনি বলেন, লোকজন সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে কৌশলে পলায়ন করতে লাগল। আমিও আত্মগোপনকারীদের মধ্যে ছিলাম। বিপদ কাটার পর যখন আমরা বাইরে এলাম তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলাম, আমরা তো যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়ন করার অপরাধে আল্লাহর গযবের উপযুক্ত হয়েছি। এখন কী করে আত্মরক্ষা করব এবং লজ্জার হাত হতে রক্ষা পাব? আমরা আলোচনার মাধ্যমে সাব্যস্ত করলাম, রাতের বেলায় মদীনায় ফিরে গিয়ে তথায় চুপে চুপে রাতযাপন করব, যাতে কেউ আমাদেরকে দেখতে না পায়। তথা হতে পুনরায় যেন যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে পারি।

মদীনায় প্রবেশের পর খেয়াল হল আমরা যদি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট নিজেরাই উপস্থিত হই এবং আমাদের তাওবা গৃহীত হয়, তাতে তো ভালই, তথায় থেকে গেলাম। অন্যথায় অন্যত্র চলে যাব। তিনি বলেন, এহেন চিন্তাভাবনা করে আমরা ফজরের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর প্রতীক্ষায় বসে রইলাম। তিনি যখন নামাযের জন্য ঘর থেকে বের হলেন, আমরা তাঁর দিকে ছুঁটে গিয়ে অপরাধীর স্বরে বললাম, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী। তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেন, না তোমরা পলায়নকারী নও, বরং রণকৌশলে আপন দলের আশ্রয় গ্রহণকারী। একথা শুনে আমাদের ভয় কেটে গেল এবং আমরা তাঁর নিকট গিয়ে তাঁর হাত মুবারক চুম্বন করলাম। তিনি বললেন, আমি মুসলমানদের আশ্রয়স্থল।
২৬৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ نَزَلَتْ فِي يَوْمِ بَدْرٍ ( وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৬৪০. মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আল মিসরী ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (পবিত্র কুরআনের আয়াত)وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ ‘আর যে ব্যক্তি সেদিন পিঠ প্রদর্শন করে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়ন করবে’’ বদর যুদ্ধের দিন অবতীর্ণ হয়েছিল।

১. মুসলিম বন্দীকে কাফির হতে বাধ্য করা।

باب فِي الأَسِيرِ يُكْرَهُ عَلَى الْكُفْرِ

২৬৪১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، وَخَالِدٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ فَقُلْنَا أَلاَ تَسْتَنْصِرْ لَنَا أَلاَ تَدْعُو اللَّهَ لَنَا فَجَلَسَ مُحْمَرًّا وَجْهُهُ فَقَالَ " قَدْ كَانَ مَنْ قَبْلَكُمْ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الأَرْضِ ثُمَّ يُؤْتَى بِالْمِنْشَارِ فَيُجْعَلُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجْعَلُ فِرْقَتَيْنِ مَا يَصْرِفُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيدِ مَا دُونَ عَظْمِهِ مِنْ لَحْمٍ وَعَصَبٍ مَا يَصْرِفُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ اللَّهُ هَذَا الأَمْرَ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَحَضْرَمَوْتَ مَا يَخَافُ إِلاَّ اللَّهَ تَعَالَى وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَعْجَلُونَ " .

বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)

২৬৪১. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... খাব্বাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি কা‘বা ঘরের ছায়ায় ডোরাদার চাদর মাথার নীচে রেখে শুয়ে ছিলেন। আমরা তাঁর নিকট অভিযোগ করে বললামঃ আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহ নিকট দুআ করেন না? একথা শোনার পর তিনি ক্রোধে রক্তিম চেহারা নিয়ে বসলেন এবং বললেনঃ তোমাদের আগে যারা ছিল, (ঈমান আনার কারণে) সে ব্যক্তিকে ধরে আনা হত, এরপর তার জন্য যমীনে গর্ত খোঁড়া হত, (তাতে আটকে রেখে) করাত এনে তার মাথায় রেখে তা দু‘খণ্ড করা হত। কিন্তু এতদসত্তেও সে তার দীন পরিত্যাগ করত না। আর লোহার কাঁটাযুক্ত চিরুনী দিয়ে শরীরে গোশত ও গোশতপেশি আঁচড়ে হাড় হতে তা বিচ্ছিন্ন করা হত। তবু সে তার দীন পরিত্যাগ করত না। আল্লাহ শপথ! এই দীনকে আল্লাহ্ তাআলা এমনভাবে সুপতিষ্ঠিত করবেন, এমনকি একজন পথচারী যানবাহনে সানআ ও হাজারামাউতের মাঝে চলাচল করবে, আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে সে ভয় করবে না। আর বাঘের কবল হতেও ছাগল নিরাপদ থাকবে। কিন্তু তোমরা বেশী জলদি করছ।

২. গুপ্তচর মুসলিম হলে।

باب فِي حُكْمِ الْجَاسُوسِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا

২৬৪২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، حَدَّثَهُ حَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَافِعٍ، - وَكَانَ كَاتِبًا لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، عَلَيْهِ السَّلاَمُ يَقُولُ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ فَقَالَ " انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوهُ مِنْهَا فَانْطَلَقْنَا تَتَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَةَ فَإِذَا نَحْنُ بِالظَّعِينَةِ فَقُلْنَا هَلُمِّي الْكِتَابَ . فَقَالَتْ مَا عِنْدِي مِنْ كِتَابٍ . فَقُلْتُ لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ . فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا هَذَا يَا حَاطِبُ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ تَعْجَلْ عَلَىَّ فَإِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهَا وَإِنَّ قُرَيْشًا لَهُمْ بِهَا قَرَابَاتٌ يَحْمُونَ بِهَا أَهْلِيهِمْ بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ أَنْ أَتَّخِذَ فِيهِمْ يَدًا يَحْمُونَ قَرَابَتِي بِهَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كَانَ بِي مِنْ كُفْرٍ وَلاَ ارْتِدَادٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَكُمْ " . فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৪২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর করণিক উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আবু রাফে’ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে, যুবাইর ও মিকদাদকে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেনঃ তোমরা ‘খাখ’ নামক বাগণের নিকট গিয়ে পৌঁছে সেখানে জনৈক মহিলার কাছে একটি চিঠি পাবে, তোমরা সেটা তার থেকে নিয়ে এস। আমরা অতি দ্রুত আমাদের ঘোড়া ছুটিয়ে সেখানে পোঁছালাম এবং আমরা সে মহিলাকে পেয়ে গেলাম।

আমরা বললামঃ তোমার কাছে যে চিঠি আছে তা দিয়ে দাও, নইলে আমরা তোমার কাপড় খুলে ফেলব (অর্থাৎ উলঙ্গ করে চিঠি বের করব)। রাবী বলেনঃ সে মহিলা তার চুলের খোঁপার ভিতর হতে সে চিঠি বের করে দেয়। আমরা সে চিঠি নিয়ে নবী করীম (ﷺ) এর কাছে এলাম। দেখা গেল যে, তা হাতিব ইবনে আবু বালতা ‘কর্তৃক লিখিত মক্কার মুশরিকদের কাছে একখানা চিঠি, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গতিবিধি সম্পর্কে উল্লেখ ছিল।

তিনি বললেনঃ হে হাতিব! এটা কি? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমার প্রতি (শাস্তির ব্যাপারে) জলদি করবেন না। আমি কুরাইশদের সাথে সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত ছিলাম, যদিও আমি তাদের বংশীয় নই। যারা কুরাইশ বংশীয়, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে আছে; আর ঐ কাফিররা আত্মীয়তার কারণে মক্কাতে তাদের ধন-সম্পত্তি ও পরিবার-পরিজনদের রক্ষণাবেক্ষণ করে। মক্কার কুরাইশদের সাথে যখন আমার ঘনিষ্ঠতা নেই, তখন আমি চাইলাম আমি তাদের ব্যাপারে এমন কিছু করি, যার ফলে তারা আমার পরিবারকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মধ্যে কুফরী ও অবিশ্বাসের কিছুই নেই।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলেছে। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আমাকে মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেয়ার অনুমতি দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সে তো বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। আর তুমি কি জান না যে, বদরী মুজাহিদদেরে ব্যাপারে আল্লাহ্ তাআলা কিরূপ সুসংবাদ দিয়েছেন? তিনি বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা খুশী কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’’
২৬৪৩

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ انْطَلَقَ حَاطِبٌ فَكَتَبَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قَدْ سَارَ إِلَيْكُمْ وَقَالَ فِيهِ قَالَتْ مَا مَعِي كِتَابٌ . فَانْتَحَيْنَاهَا فَمَا وَجَدْنَا مَعَهَا كِتَابًا فَقَالَ عَلِيٌّ وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ لأَقْتُلَنَّكِ أَوْ لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: আবু আব্দুর রহমান সুলামী (রহঃ)

২৬৪৩. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... আবু আব্দুর রহমান সুলামী (রাহঃ) উক্ত ঘটনাটি আলী (রাযিঃ) হতে এরূপ কর্ণনা করেছেন যে, (মক্কা অভিযানের প্রাক্কালে) হাতিব সরে পড়ল এবং মক্কাবাসীদের কাছে (গোপনে) লিখলোঃ মুহাম্মাদ তোমাদের দিকে যাচ্ছেন। উক্ত বর্ণনায় উল্লেখ আছে, সে মহিলাটি বলেছিল, আমার কাছে কোন চিঠি নেই। তখন আমরা তার উটকে বসিয়ে তদন্ত করি, কিন্তু আমরা তার কাছে কোন চিঠি পাইনি। তখন আলী (রাযিঃ) বলেনঃ যে সত্তার শপথ করা হয়, তার শপথ করে বলছিঃ হয়ত তুমি চিঠি বের করে দেবে, নয়ত আমি তোমাকে কতল করে ফেলব। এভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩. যিম্মীর গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কে।

باب فِي الْجَاسُوسِ الذِّمِّيِّ

২৬৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُحَبَّبٍ أَبُو هَمَّامٍ الدَّلاَّلُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ فُرَاتِ بْنِ حَيَّانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلِهِ وَكَانَ عَيْنًا لأَبِي سُفْيَانَ وَكَانَ حَلِيفًا لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَمَرَّ بِحَلْقَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ إِنِّي مُسْلِمٌ . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَقُولُ إِنِّي مُسْلِمٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْكُمْ رِجَالاً نَكِلُهُمْ إِلَى إِيمَانِهِمْ مِنْهُمْ فُرَاتُ بْنُ حَيَّانَ " .

বর্ণনাকারী: ফুরাত ইবনে হাইয়্যান (রাঃ)

২৬৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাযিঃ) ..... ফুরাত ইবনে হায়্যান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে কতল করার নির্দেশ দেন। আর এ সময় তিনি আবু সুফিয়ানের গুপ্তচর ছিলেন। তিনি আনসারদের জনৈক ব্যক্তির সন্ধিসূত্রে আব্দ্ধ ছিলেন। আনসারদের মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আমি মুসলমান। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন অনেক লোক আছে, যাদেরকে আমি তাদের ঈমানের উপর সোপর্দ করি। ফুরাত ইবনে হাইয়ান তাদের একজন।

৪. নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কে।

باب فِي الْجَاسُوسِ الْمُسْتَأْمَنِ

২৬৪৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنِ ابْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَيْنٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ - وَهُوَ فِي سَفَرٍ - فَجَلَسَ عِنْدَ أَصْحَابِهِ ثُمَّ انْسَلَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اطْلُبُوهُ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ فَسَبَقْتُهُمْ إِلَيْهِ فَقَتَلْتُهُ وَأَخَذْتُ سَلَبَهُ فَنَفَّلَنِي إِيَّاهُ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৬৪৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) এর নিকট মুশরিকদের একজন গুপ্তচর আসে, এ সময় তিনি সফরে ছিলেন। গুপ্তচর লোকটি তাঁর সাহাবীদের কাছে বসে, পরে সেখান থেকে গোপনে কেটে পড়ে। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তাকে খুজে বের কর এবং তাকে কতল কর। রাবী বলেনঃ আমিই সর্বপ্রথম তাকে পাই এবং তাকে হত্যা করে তার জিনিস পত্র নিয়ে নেই। তিনি আমাকে ঐসব জিনিস-পত্র দিয়ে দেন।

২৬৪৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ هَاشِمَ بْنَ الْقَاسِمِ، وَهِشَامًا، حَدَّثَاهُمْ قَالاَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَوَازِنَ - قَالَ - فَبَيْنَمَا نَحْنُ نَتَضَحَّى وَعَامَّتُنَا مُشَاةٌ وَفِينَا ضَعَفَةٌ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ فَانْتَزَعَ طَلَقًا مِنْ حِقْوِ الْبَعِيرِ فَقَيَّدَ بِهِ جَمَلَهُ ثُمَّ جَاءَ يَتَغَدَّى مَعَ الْقَوْمِ فَلَمَّا رَأَى ضَعَفَتَهُمْ وَرِقَّةَ ظَهْرِهِمْ خَرَجَ يَعْدُو إِلَى جَمَلِهِ فَأَطْلَقَهُ ثُمَّ أَنَاخَهُ فَقَعَدَ عَلَيْهِ ثُمَّ خَرَجَ يَرْكُضُهُ وَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ مِنْ أَسْلَمَ عَلَى نَاقَةٍ وَرْقَاءَ هِيَ أَمْثَلُ ظَهْرِ الْقَوْمِ - قَالَ - فَخَرَجْتُ أَعْدُو فَأَدْرَكْتُهُ وَرَأْسُ النَّاقَةِ عِنْدَ وَرِكِ الْجَمَلِ وَكُنْتُ عِنْدَ وَرِكِ النَّاقَةِ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ وَرِكِ الْجَمَلِ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ حَتَّى أَخَذْتُ بِخِطَامِ الْجَمَلِ فَأَنَخْتُهُ فَلَمَّا وَضَعَ رُكْبَتَهُ بِالأَرْضِ اخْتَرَطْتُ سَيْفِي فَأَضْرِبَ رَأْسَهُ فَنَدَرَ فَجِئْتُ بِرَاحِلَتِهِ وَمَا عَلَيْهَا أَقُودُهَا فَاسْتَقْبَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ مُقْبِلاً فَقَالَ " مَنْ قَتَلَ الرَّجُلَ " . فَقَالُوا سَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ . قَالَ " لَهُ سَلَبُهُ أَجْمَعُ " . قَالَ هَارُونُ هَذَا لَفْظُ هَاشِمٍ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৬৪৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) ...... ইয়াস ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথী হিসাবে ‘হাওয়াযিন’ গোত্রের বিরূদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। একদা আমরা দুপুরের খানা খাচ্ছিলাম। আর আমাদের অধিকাংশ লোক ছিল পদাতিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল। ইত্যবসরে লাল উটের সওয়ার হয়ে সেখানে একজন আসে এবং উটের কোমর হতে একটা রশি খুলে নিয়ে তা দিয়ে তার উটকে বাঁধে।

এরপর সে আমাদের সাথে খানা খেতে থাকে। যখন সে তাদের বাহনের দুর্বলতা ও অপ্রতুলতা দেখতে পায়, তখন সে দৌড়ে তার উটের কাছে চলে যায় এবং তাকে বাঁধনমুক্ত করে। পরে সে উটকে বসিয়ে, তার পিঠে সওয়ার হয়ে দ্রুত পলায়ন করতে থাকে। তখন আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার ধূসর বর্ণের উটের পিঠে সওয়ার হয়, যা ছিল আমাদের বাহনের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং তার পশ্চাতধাবণ করতে থাকে।

রাবী বলেনঃ আমিও অতি দ্রুত দৌড়ে তার কাছে পৌঁছে যাই এ সময় আসলাম গোত্রের ব্যক্তির মাথা ছিল গুপ্তচরের উটের কাছাকাছি এবং আমিও ছিলাম উটের নিকটে। এরপর আমি অগ্রবর্তী হয়ে তার উটের লাগাম ধরে ফেলি এবং সেটিকে বসিয়ে ফেলি। যখন উটটি তার পার্শ্বদেশ যমীনে রাখে, তখন আমি খাপ হতে তরবারি বের করে গুপ্তচরের মস্তক দ্বিখণ্ডিত করি। এরপর আমি তার উট এবং তার পিঠের যাবতীয় সামগ্রী নিয়ে তাঁর নিকট হাযির হই। তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সকলের মাঝখান দিয়ে আমার সামনে এসে জিজ্ঞাসা করলেঃ কে এই লোকটিকে হত্যা করেছে? তখন তারা বললেনঃ সালামা ইবনুল আকওয়া’। তিনি বললেনঃ ঐ ব্যক্তির পরিত্যক্ত সমস্ত সম্পদের মালিক সালামা।

৫. যুদ্ধের জন্য উত্তম সময় কোনটি?

باب فِي أَىِّ وَقْتٍ يُسْتَحَبُّ اللِّقَاءُ

২৬৪৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ النُّعْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ مُقَرِّنٍ - قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ أَخَّرَ الْقِتَالَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ وَيَنْزِلَ النَّصْرُ .

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২৬৪৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... মা‘কিল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নু‘মান অর্থাৎ ইবনে মুকাররিন বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে হাযির থাকতাম। তিনি যখন পূর্বাহ্নে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তখন তা পিছিয়ে দিতেন- এমন কি সূর্য অস্তগামী হত, বাতাস প্রবাহিত হত এবং সাহায্য নাযিল হত।

৬. যুদ্ধের সময় চুপ থাকা।

باب فِيمَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الصَّمْتِ عِنْدَ اللِّقَاءِ

২৬৪৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُونَ الصَّوْتَ عِنْدَ الْقِتَالِ . حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ هَمَّامٍ، حَدَّثَنِي مَطَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

২৬৪৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... কায়স ইবনে আব্বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবীগণ যুদ্ধের সময় উঁচুস্বরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।

উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাহঃ) ......... আবু বুরদাহ (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে নবী করীম (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭. যুদ্ধের সময় বাহন হতে অবতরণ করা।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَرَجَّلُ عِنْدَ اللِّقَاءِ

২৬৪৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ لَمَّا لَقِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُشْرِكِينَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَانْكَشَفُوا نَزَلَ عَنْ بَغْلَتِهِ فَتَرَجَّلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৬৪৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... বারা’আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধর দিন নবী করীম (ﷺ) যখন মুশরিক বাহিনীর মুকাবিলা করেন, তখন (প্রচন্ড আক্রমণের ফলে) মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় তিনি (নবী (ﷺ)) তাঁর খচ্চর হতে অবতরণ করেন এবং পায়ে হেঁটে চলেন।

৮. যুদ্ধে ময়দানে শৌর্য- বীর্য দেখান।

باب فِي الْخُيَلاَءِ فِي الْحَرْبِ

২৬৫০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " مِنَ الْغَيْرَةِ مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يُبْغِضُ اللَّهُ فَأَمَّا الَّتِي يُحِبُّهَا اللَّهُ فَالْغَيْرَةُ فِي الرِّيبَةِ وَأَمَّا الْغَيْرَةُ الَّتِي يُبْغِضُهَا اللَّهُ فَالْغَيْرَةُ فِي غَيْرِ رِيبَةٍ وَإِنَّ مِنَ الْخُيَلاَءِ مَا يُبْغِضُ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يُحِبُّ اللَّهُ فَأَمَّا الْخُيَلاَءُ الَّتِي يُحِبُّ اللَّهُ فَاخْتِيَالُ الرَّجُلِ نَفْسَهُ عِنْدَ الْقِتَالِ وَاخْتِيَالُهُ عِنْدَ الصَّدَقَةِ وَأَمَّا الَّتِي يُبْغِضُ اللَّهُ فَاخْتِيَالُهُ فِي الْبَغْىِ " . قَالَ مُوسَى " وَالْفَخْرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আতীক (রাঃ)

২৬৫০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ও মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে জাবির আতীক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলতেন, গায়রাত (শৌর্য-বীর্য) দু‘ধরণের। একটি হলো যা আল্লাহ্ পছন্দ করেন এবং অপরটি যা আল্লাহ্ অপছন্দ করেন। ঐ গায়রাত যা মহান আল্লাহ্ পছন্দ করেন, তা হলো সন্দেহের স্থান গায়রাতের প্রদর্শন। আর যা আল্লাহ্ অপছন্দ করেন, তা হলো, যেখানে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই, সেখানে গায়ারাত দেখান।

একই রূপে অহংকার, যাতে আল্লাহ্ অসুন্তুষ্ট হন এবং যাতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হন। যে অহংকার আল্লাহ্ পছন্দ করেন, তা হলো যুদ্ধের সময় ব্যক্তির দাম্ভিকতা প্রকাশ করা এবং সাদ্‌কা দেওয়ার সময়ও নিজেকে গৌরবান্বিত করা। আর ঐ গর্ব, যা মহান আল্লাহর নিকট অপ্রিয়, তা হলো, গর্বভরে অপরের উপর তার অত্যাচার করা। রাবী মুসা বলেনঃ অহংকার প্রকাশ করা।

৯. শত্রু দ্বারা ঘেরাও হলে।

باب فِي الرَّجُلِ يُسْتَأْسَرُ

২৬৫১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ الثَّقَفِيُّ، - حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشَرَةً عَيْنًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ فَنَفَرُوا لَهُمْ هُذَيْلٌ بِقَرِيبٍ مِنْ مِائَةِ رَجُلٍ رَامٍ فَلَمَّا أَحَسَّ بِهِمْ عَاصِمٌ لَجَئُوا إِلَى قَرْدَدٍ فَقَالُوا لَهُمُ انْزِلُوا فَأَعْطُوا بِأَيْدِيكُمْ وَلَكُمُ الْعَهْدُ وَالْمِيثَاقُ أَنْ لاَ نَقْتُلَ مِنْكُمْ أَحَدًا فَقَالَ عَاصِمٌ أَمَّا أَنَا فَلاَ أَنْزِلُ فِي ذِمَّةِ كَافِرٍ . فَرَمَوْهُمْ بِالنَّبْلِ فَقَتَلُوا عَاصِمًا فِي سَبْعَةِ نَفَرٍ وَنَزَلَ إِلَيْهِمْ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ عَلَى الْعَهْدِ وَالْمِيثَاقِ مِنْهُمْ خُبَيْبٌ وَزَيْدُ بْنُ الدَّثِنَةِ وَرَجُلٌ آخَرُ فَلَمَّا اسْتَمْكَنُوا مِنْهُمْ أَطْلَقُوا أَوْتَارَ قِسِيِّهِمْ فَرَبَطُوهُمْ بِهَا فَقَالَ الرَّجُلُ الثَّالِثُ هَذَا أَوَّلُ الْغَدْرِ وَاللَّهِ لاَ أَصْحَبُكُمْ إِنَّ لِي بِهَؤُلاَءِ لأُسْوَةً . فَجَرُّوهُ فَأَبَى أَنْ يَصْحَبَهُمْ فَقَتَلُوهُ فَلَبِثَ خُبَيْبٌ أَسِيرًا حَتَّى أَجْمَعُوا قَتْلَهُ فَاسْتَعَارَ مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَلَمَّا خَرَجُوا بِهِ لِيَقْتُلُوهُ قَالَ لَهُمْ خُبَيْبٌ دَعُونِي أَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنْ تَحْسِبُوا مَا بِي جَزَعًا لَزِدْتُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দশ ব্যক্তিকে গুপ্তচর হিসাবে প্রেরণ করেন এবং আসিম ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-কে তাদের নেতা নির্ধারণ করেন। তখন হুযায়ল গোত্রের প্রায় একশত তীরন্দায তাদের প্রতিরোধে বেরিয়ে আসে। এরপর আসিম যখন তাদের দেখল, তখন এক উচুঁ টিলায় আত্মগোপন করল। কাফিররা তাদের বলল, তোমরা নেমে এস এবং আমাদের নিকট আত্মসমর্পণ কর। তোমাদের সাথে এই ওয়াদা যে, আমরা তোমাদের কাউকে কতল করব না। তখন আসিম বললেনঃ আমি তো কাফিরদের ওয়াদা নিরাপত্তায় নামা অপছন্দ করি।

তখন তারা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ শুরু করে এবং আসিমসহ তাঁর সাতজন সাথীকে হত্যা করে। অবশিষ্ট তিনজন কাফিরের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তায় নেমে আসে। এদের মাঝে ছিলেন-খুবাইব, যায়দ ইবনে দাসিনা এবং অপর একজন (আব্দুল্লাহ্ ইবনে তারিক)। যখন তাঁরা কাফিরদের নাগালের মাঝে পৌঁছলেন, তখন তারা তাদের ধনুকের রশি খুলে তাদের বেধেঁ ফেলল। এ দেখে তৃতীয় ব্যক্তি বললঃ এই তো প্রথম চুক্তি লংঘন। আল্লাহর শপথ! আমি কখনই তোমাদের সাথে যাব না; বরং আমি আমার (শহীদ) সাথীদের সাথে মিলিত হওয়াকে পছন্দ করি। তখন কাফিররা তাকে টেনে-হিচড়ে নিতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। ফলে, তারা তাকেও হত্যা করে।

খুবায়ব তাদের হাতে বন্দী থাকেন এবং কাফিররা তাকে হত্যার ব্যাপারে একমত হয়। এ সময় খুবায়ব তাঁর লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করার জন্য একটি খুর চেয়ে নেয়। অবশেষে কাফিররা যখন তাকে হত্যা করার জন্য বের হল, তখন খুবায়ব তাদের বললঃ আমাকে একটু সময় দাও, যাতে আমি দু‘রাআত নামায আদায় করতে পারি। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! যদি তোমরা এরূপ মনে করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে নামাযে বেশী সময় নিচ্ছি, তবে আমি অবশ্যই বেশী করে নামায আদায় করতাম।
২৬৫২

حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ أَسِيدِ بْنِ جَارِيَةَ الثَّقَفِيُّ، - وَهُوَ حَلِيفٌ لِبَنِي زُهْرَةَ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي هُرَيْرَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৫২. ইবনে আওফ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে আবু সুফিয়ান ইবনে উসায়দ ইবনে জারিয়া ছাকাফী (রাযিঃ), যিনি বনু যোহরা গোত্রের সাথে সন্ধিসূত্রে আব্দ্ধ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর অন্যতম সাথী ছিলেন, তিনিও এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১০. শত্রুর অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকা।

باب فِي الْكُمَنَاءِ

২৬৫৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يُحَدِّثُ قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الرُّمَاةِ يَوْمَ أُحُدٍ - وَكَانُوا خَمْسِينَ رَجُلاً - عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُبَيْرٍ وَقَالَ " إِنْ رَأَيْتُمُونَا تَخَطَّفُنَا الطَّيْرُ فَلاَ تَبْرَحُوا مِنْ مَكَانِكُمْ هَذَا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ وَإِنْ رَأَيْتُمُونَا هَزَمْنَا الْقَوْمَ وَأَوْطَأْنَاهُمْ فَلاَ تَبْرَحُوا حَتَّى أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ " . قَالَ فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ . قَالَ فَأَنَا وَاللَّهِ رَأَيْتُ النِّسَاءَ يَشْتَدِدْنَ عَلَى الْجَبَلِ فَقَالَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُبَيْرٍ الْغَنِيمَةَ أَىْ قَوْمِ الْغَنِيمَةَ ظَهَرَ أَصْحَابُكُمْ فَمَا تَنْتَظِرُونَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جُبَيْرٍ أَنَسِيتُمْ مَا قَالَ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا وَاللَّهِ لَنَأْتِيَنَّ النَّاسَ فَلَنُصِيبَنَّ مِنَ الْغَنِيمَةِ فَأَتَوْهُمْ فَصُرِفَتْ وُجُوهُهُمْ وَأَقْبَلُوا مُنْهَزِمِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৬৫৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... বারাআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)-কে পঞ্চাশজন তীরন্দাযের নেতা নির্বাচিত করেন এবং বলেন, যদি তোমরা দেখ যে, পাখি আমাদের দেহের গোশত ছিঁড়ে খাচ্ছে (অর্থাৎ আমরা মারা গেছি) তবুও তোমরা তোমাদের এ অবস্থান পরিত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না তোমাদের ডেকে নেয়া হয়। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা শত্রুপক্ষকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছি, তবু তোমরা তোমাদের এ অবস্থান পরিত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না তোমাদের ডেকে নেয়া হয়।

রাবী বলেনঃ এরপর আল্লাহ্ তাদের পর্যুদস্ত করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এ সময় আমি কাফির রমণীদের পাহাড়ে চড়তে দেখেছি (প্রাণ রক্ষার জন্য)।

তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) এর সাথেীরা বলেনঃ হে লোক সকল, গনিমতের মাল সংগ্রহ কর, তোমাদের সাথীরা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। তোমরা এখন কিসের জন্য অপেক্ষা করছ? তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নির্দেশ ভুলে গিয়েছ? তারা বললঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তো মানুষের কাছে যাব এবং গনিমতের মাল সংগ্রহ করব। তারা চলে যায়, ফলে, (আল্লাহ্) তাদের মুখও ফিরিয়ে দেন এবং তারা পরাজয় বরণ করে।

১১. যুদ্ধের ময়দানে সারিবদ্ধ হওয়া।

باب فِي الصُّفُوفِ

২৬৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْغَسِيلِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اصْطَفَفْنَا يَوْمَ بَدْرٍ " إِذَا أَكْثَبُوكُمْ - يَعْنِي إِذَا غَشُوكُمْ - فَارْمُوهُمْ بِالنَّبْلِ وَاسْتَبْقُوا نَبْلَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৫৪. আহমাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... হামযা ইবনে আবু উসায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বদর যুদ্ধের দিন বলেনঃ যখন কাফিররা তোমরাদের নিকটবর্তী হবে, তখন তোমরা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে। আর তোমরা তোমাদের কিছু তীর অবশিষ্ট রাখবে।

১২. দুশমন নিকটবর্তী হলে তরবারি বের করবে।

باب فِي سَلِّ السُّيُوفِ عِنْدَ اللِّقَاءِ

২৬৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَجِيحٍ، - وَلَيْسَ بِالْمَلْطِيِّ - عَنْ مَالِكِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ " إِذَا أَكْثَبُوكُمْ فَارْمُوهُمْ بِالنَّبْلِ وَلاَ تَسُلُّوا السُّيُوفَ حَتَّى يَغْشَوْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

২৬৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আবু উসাইদ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) যুদ্ধের দিন বলেন, যখন কাফিররা তোমাদের নিকটবর্তী হবে, তখন তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে। আর যতক্ষণ না তারা তোমাদের তরবারির নাগালের মধ্যে আসে, ততক্ষণ তরবারি বের করবে না।

১৩. দ্বন্দ - যুদ্ধ সম্পর্কে।

باب فِي الْمُبَارَزَةِ

২৬৫৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ تَقَدَّمَ - يَعْنِي عُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ - وَتَبِعَهُ ابْنُهُ وَأَخُوهُ فَنَادَى مَنْ يُبَارِزُ فَانْتَدَبَ لَهُ شَبَابٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ مَنْ أَنْتُمْ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ لاَ حَاجَةَ لَنَا فِيكُمْ إِنَّمَا أَرَدْنَا بَنِي عَمِّنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُمْ يَا حَمْزَةُ قُمْ يَا عَلِيُّ قُمْ يَا عُبَيْدَةُ بْنَ الْحَارِثِ " . فَأَقْبَلَ حَمْزَةُ إِلَى عُتْبَةَ وَأَقْبَلْتُ إِلَى شَيْبَةَ وَاخْتُلِفَ بَيْنَ عُبَيْدَةَ وَالْوَلِيدِ ضَرْبَتَانِ فَأَثْخَنَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ ثُمَّ مِلْنَا عَلَى الْوَلِيدِ فَقَتَلْنَاهُ وَاحْتَمَلْنَا عُبَيْدَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৫৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উতবা ইবনে রাবীআ যুদ্ধের ময়দানে আসে এবং তার পিছনে তার ছেলে (ওয়ালীদ) ও ভাই (শায়বা)-ও আসে। এরপর সে চিৎকার দিয়ে বললঃ কে দ্বন্দ-যুদ্ধে লিপ্ত হবে? তখন আনসারদের কায়েকজন যুবক তার সম্মুখীন হলে উতবা জিজ্ঞাসা করেঃ তোমরা কারা? তাঁরা তাদের পরিচয় দিলে সে বলে যে, তোমাদের সাথে আমাদের যুদ্ধের কোন প্রয়োজন নেই। আমরা তো আমাদের চাচাত ভাইদের (কুরাইশদের) সাথে যুদ্ধ করতে চাই।

তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ হে হামযা! উঠ, হে আলী! উঠ, হে উবাইদা ইবনে হারিস! উঠ। তখন হামযা উতবার দিকে এগিয়ে যায়, আমি শায়বার দিকে এগিয়ে যাই এবং আমরা উভয়ে আমাদে শত্রুদের বিনাশ করি। কিন্তু উবাইদা ও ওয়ালীদ পরস্পরের আঘাতে যখম হয়। এরপর আমরা সম্মিলিতভাবে ওয়ালীদের উপর হামলা করি এবং তাকে কতল করে ফেলি। আর আমরা (যুদ্ধের ময়দান হতে) উবাইদাহকে (আহত অবস্থায়) উঠিয়ে নিয়ে আসি।

১৪. নাক- কান কাটা নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْمُثْلَةِ

২৬৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مُغِيرَةُ، عَنْ شِبَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هُنَىِّ بْنِ نُوَيْرَةَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعَفُّ النَّاسِ قِتْلَةً أَهْلُ الإِيمَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও যিয়াদ আইয়ুব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ হত্যার ব্যাপারে নিষ্কলুষ হত্যাকারী ব্যক্তি (যাতে নাক, কান কাটার মত নির্মম বর্বরতা নেই) ঈমানদার বটে।

২৬৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الْهَيَّاجِ بْنِ عِمْرَانَ، أَنَّ عِمْرَانَ، أَبَقَ لَهُ غُلاَمٌ فَجَعَلَ لِلَّهِ عَلَيْهِ لَئِنْ قَدَرَ عَلَيْهِ لَيَقْطَعَنَّ يَدَهُ فَأَرْسَلَنِي لأَسْأَلَ لَهُ فَأَتَيْتُ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدَبٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحُثُّنَا عَلَى الصَّدَقَةِ وَيَنْهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ فَأَتَيْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحُثُّنَا عَلَى الصَّدَقَةِ وَيَنْهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৬৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... ইমরান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ‘ইমরানের একটি গোলাম পালিয়ে যায়। তখন তিনি আল্লাহ নিকট এভাবে মান্নত করেন যে, যদি তিনি তাকে ফেরত পান, তবে তার একটা হাত অবশ্যই কেটে দেবেন। আর এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য ‘ইমরান (রাযিঃ) আমাকে সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) এর নিকট পাঠান। তখন আমি তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে সাদ্‌কা দিতে উৎসাহিত করতেন এবং মুছলা (হাত, পা ইত্যাদি কর্তন) করতে নিষেধ করতেন। এরপর আমি ইমরান ইবনে হুসাইনের কাছে যাই এবং এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে সাদ্‌কা দিতে উৎসাহিত করতেন এবং মুছলা করতে নিষেধ করতেন।

১৫. মহিলাদের হত্যা সম্পর্কে।

باب فِي قَتْلِ النِّسَاءِ

২৬৫৯

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، وَقُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، وُجِدَتْ، فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْتُولَةً فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৫৯. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ মাওয়াহব ও কুতায়বা অর্থাৎ ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) উপস্থিত ছিলেন এরূপ কোন এক যুদ্ধক্ষেত্রে জনৈক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মহিলা ও বাচ্চাদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।

২৬৬০

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْمُرَقِّعِ بْنِ صَيْفِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّهِ، رَبَاحِ بْنِ رَبِيعٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ فَرَأَى النَّاسَ مُجْتَمِعِينَ عَلَى شَىْءٍ فَبَعَثَ رَجُلاً فَقَالَ " انْظُرْ عَلاَمَ اجْتَمَعَ هَؤُلاَءِ " فَجَاءَ فَقَالَ عَلَى امْرَأَةٍ قَتِيلٍ . فَقَالَ " مَا كَانَتْ هَذِهِ لِتُقَاتِلَ " . قَالَ وَعَلَى الْمُقَدِّمَةِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَبَعَثَ رَجُلاً فَقَالَ " قُلْ لِخَالِدٍ لاَ يَقْتُلَنَّ امْرَأَةً وَلاَ عَسِيفًا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৬০. আবু ওলীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) ...... রিবাহ ইবনে রাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি কিছু লোককে এক স্থানে একত্রিত হতে দেখেন। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠান এবং বলেনঃ দেখ তো এরা কি জন্য সেখানে একত্রিত হয়েছে? তখন সে ব্যক্তি এসে বললঃ তারা জনৈক নিহত মহিলার নিকট একত্রিত হয়েছে। তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ এ মহিলা তো কারো সাথে যুদ্ধ করতে আসেনি (একে মারা হলো কেন?) তখন এক ব্যক্তি বললঃ অগ্রবর্তী সেনাদলের নেতা হলেন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বলেনঃ খালিদকে বল, মহিলা ও মজদুর (খাদিম) যেন হত্যা না করে।

২৬৬১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْتُلُوا شُيُوخَ الْمُشْرِكِينَ وَاسْتَبْقُوا شَرْخَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৬৬১. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বয়োবৃদ্ধ মুশরিকদের হত্যা কর এবং তাদের বাচ্চাদের অবশিষ্ট রাখ (হত্যা করবে না)।

২৬৬২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمْ يُقْتَلْ مِنْ نِسَائِهِمْ - تَعْنِي بَنِي قُرَيْظَةَ - إِلاَّ امْرَأَةً إِنَّهَا لَعِنْدِي تُحَدِّثُ تَضْحَكُ ظَهْرًا وَبَطْنًا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْتُلُ رِجَالَهُمْ بِالسُّيُوفِ إِذْ هَتَفَ هَاتِفٌ بِاسْمِهَا أَيْنَ فُلاَنَةُ قَالَتْ أَنَا . قُلْتُ وَمَا شَأْنُكِ قَالَتْ حَدَثٌ أَحْدَثْتُهُ . قَالَتْ فَانْطَلَقَ بِهَا فَضُرِبَتْ عُنُقُهَا فَمَا أَنْسَى عَجَبًا مِنْهَا أَنَّهَا تَضْحَكُ ظَهْرًا وَبَطْنًا وَقَدْ عَلِمَتْ أَنَّهَا تُقْتَلُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৬২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু কুরাইযার মহিলাদের থেকে কোন মহিলাকে হত্যা করা হয়নি, কিন্তু একজন মহিলাকে (হত্যা করা হয়), যে আমার পাশে বসে কথা বলছিল এবং অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের পুরুষদের এক বাজারে হত্যা করেছিলেন। তখন জনৈক আহবানকারী সে মহিলার নাম ধরে ডাকে যে, অমুক মহিলা কোথায়? তখন সে বলে, এই তো আমি। আমি (আয়িশা) তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ তোমার ব্যাপার কি? তখন সে বলেঃ আমি একটা ঘটনা ঘটিয়েছি, (অর্থাৎ সে নবী (ﷺ)কে গালি দেয়)। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন সে (আহবানকারী) তাকে নিয়ে যায় এবং তার শিরচ্ছেদ করে। তিনি বলেনঃ আমি সেই ঘটনাটি এখনো ভুলতে পারিনি। কেননা তার আচরণে তাজ্জবের ব্যাপার এই ছিল যে, সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল, অথচ সে জানত যে, তাকে হত্যা করা হবে।

২৬৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّارِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يُبَيَّتُونَ فَيُصَابُ مِنْ ذَرَارِيِّهِمْ وَنِسَائِهِمْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هُمْ مِنْهُمْ " . وَكَانَ عَمْرٌو - يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ - يَقُولُ هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ . قَالَ الزُّهْرِيُّ ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ .

বর্ণনাকারী: সা'ব ইবনে জাসসামাহ লায়ছী (রাঃ)

২৬৬৩. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারাহ (রাহঃ) ...... সা‘ব ইবনে জাসসামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন যে, যখন মুশরিকরা তাদের বিবি-বাচ্চাসহ তাদের ঘরে রাত্রিবাস করবে, এমতাবস্থায় রাত্রিকালীন আক্রমণে তাদের হত্যার ব্যাপারে হুকুম কি? তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তারা তাদেরই দলভূক্ত।

আমর অর্থাৎ ইবনে দীনার বলেনঃ তারা তো তাদের বাপ-দাদার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যুহরী বলেনঃ এ ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মহিলা ও বাচ্চাদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।

১৬. দুশমনকে আগুনে না পোড়ানো।

باب فِي كَرَاهِيَةِ حَرْقِ الْعَدُوِّ بِالنَّارِ

২৬৬৪

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِزَامِيُّ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ الأَسْلَمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّرَهُ عَلَى سَرِيَّةٍ قَالَ فَخَرَجْتُ فِيهَا وَقَالَ " إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا فَاحْرِقُوهُ بِالنَّارِ " . فَوَلَّيْتُ فَنَادَانِي فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ " إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا فَاقْتُلُوهُ وَلاَ تُحْرِقُوهُ فَإِنَّهُ لاَ يُعَذِّبُ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৬৬৪. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... হামযা আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে এক যুদ্ধের সেনাপতি হিসাবে নিয়োগ করেন। রাবী বলেনঃ এরপর আমরা সে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়ি। এ সময় তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি তোমরা অমুক ব্যক্তিকে পাও, তবে তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দিবে। এরপর যখন আমি ফিরে চলি, তখন তিনি ডাকেন। আমি তাঁর নিকট ফিরে গেলে তিনি বলেনঃ যদি তোমরা অমুক ব্যক্তিকে পাও, তবে তাকে হত্যা করবে; কিন্তু তাকে আগুনে পোড়াবে না। কেননা, আগুনের রব ব্যতীত আর কেউ আগুন দিয়ে শাস্তি দিতে পারে না।

২৬৬৫

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ، وَقُتَيْبَةُ، أَنَّ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْثٍ فَقَالَ " إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৬৫. ঈয়াযীদ ইবনে খালিদ ও কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করেন। তখন তিনি বলেনঃ যদি তোমরা অমুক অমুক ব্যক্তিকে পাও। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় ব্যক্ত করেন।

২৬৬৬

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ سَعْدٍ، - قَالَ غَيْرُ أَبِي صَالِحٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ فَرَأَيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الْحُمَّرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرُشُ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا " . وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا فَقَالَ " مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ " . قُلْنَا نَحْنُ . قَالَ " إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৬৬. আবু সালিহ্ মাজবূব ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গী ছিলাম। তিনি প্রকৃতির আহবানে সাড়া দেওয়ার জন্য যান। আমরা সেখানে একটা চড়ুই পাখি দেখতে পাই, যার সাথে দুটি বাচ্চা ছিল। আমরা চড়ুই পাখির বাচ্চা দু‘টিকে ধরে ফেলি, ফলে পাখিটি (আমাদের মাথার উপর) ডানা মেলে উড়তে থাকে। এ সময় নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ এ চড়ুই পাখির বাচ্চা নিয়ে কে একে বিব্রত করছ? এ বাচ্চাকে তোমরা ফিরিয়ে দাও। এরপর তিনি পিঁপড়ার সেই গর্তটি দেখলেন, যা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কে এটি পুড়িয়েছে? আমরা বললামঃ আমরা পুড়িয়েছি। তখন তিনি বললেনঃ আগুন দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া কেবল মাত্র আগুনের রব ছাড়া আর কারো জন্য উচিত নয়।

১৭. যুদ্ধে প্রাপ্য মালে গনিমতের অর্ধাংশ বা পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তির শর্তে যদি কেউ তার ভারবাহী পশু ভাড়া দেয়।

باب فِي الرَّجُلِ يُكْرِي دَابَّتَهُ عَلَى النِّصْفِ أَوِ السَّهْمِ

২৬৬৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو زُرْعَةَ، يَحْيَى بْنُ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، قَالَ نَادَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَخَرَجْتُ إِلَى أَهْلِي فَأَقْبَلْتُ وَقَدْ خَرَجَ أَوَّلُ صَحَابَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَفِقْتُ فِي الْمَدِينَةِ أُنَادِي أَلاَ مَنْ يَحْمِلُ رَجُلاً لَهُ سَهْمُهُ فَنَادَى شَيْخٌ مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ لَنَا سَهْمُهُ عَلَى أَنْ نَحْمِلَهُ عَقَبَةً وَطَعَامُهُ مَعَنَا قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَسِرْ عَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ تَعَالَى . قَالَ فَخَرَجْتُ مَعَ خَيْرِ صَاحِبٍ حَتَّى أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْنَا فَأَصَابَنِي قَلاَئِصُ فَسُقْتُهُنَّ حَتَّى أَتَيْتُهُ فَخَرَجَ فَقَعَدَ عَلَى حَقِيبَةٍ مِنْ حَقَائِبِ إِبِلِهِ ثُمَّ قَالَ سُقْهُنَّ مُدْبِرَاتٍ . ثُمَّ قَالَ سُقْهُنَّ مُقْبِلاَتٍ . فَقَالَ مَا أَرَى قَلاَئِصَكَ إِلاَّ كِرَامًا - قَالَ - إِنَّمَا هِيَ غَنِيمَتُكَ الَّتِي شَرَطْتُ لَكَ . قَالَ خُذْ قَلاَئِصَكَ يَا ابْنَ أَخِي فَغَيْرَ سَهْمِكَ أَرَدْنَا .

বর্ণনাকারী: ওয়াছিলা ইবনে আসকা‘ (রাঃ)

২৬৬৭. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম দিমাশকী আবু নযর (রাহঃ) .... ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাবূক অভিযানে শরীক হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তখন আমি আমার গৃহে গমন করি, (কিন্তু যুদ্ধে গমনের প্রস্তুতি কিছুই করতে পারিনি)। আমি সেখান থেকে ফিরে আসি (এবং দেখি যে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর প্রথম দল বেরিয়ে পড়েছে। তখন আমি মদীনাতে এ বলে চিৎকার দিতে থাকিঃ এমন কেউ আছ কি যে এক ব্যক্তিকে তার বাহন সওয়ার করাবে এবং তার গনিমতের মাল সে নিয়ে নেবে?

তখন আনসারদের মধ্য হতে জনৈক বৃদ্ধ বললঃ আমি তার গনিমতের মাল এভাবে হাসিল করব যে, আমি তাকে আমার সাথে বহণ করব এবং তাকে আমার খানাও খাওয়াব। আমি বললামঃ আমি এতে রাযী আছি। তিনি বললেনঃ তবে আস এবং আল্লাহর বরকতের উপর ভরসা করে রওয়ানা হও। রাবী বলেনঃ আমি অতি উত্তম সঙ্গীর সঙ্গে রওয়ানা হলাম, এমনকি আল্লাহ্ আমাকে মালে-গনিমত প্রদান করেন এবং কয়েকটি তেজী উট আমার ভাগে পড়ে। আমি সেগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হই।

তখন তিনি বেরিয়ে আসেন এবং তার উটের পালানোর শেষের দিকে আরোহণ করেন এবং বলেনঃ এ উটগুলোকে আমার দিকে পেঁছনে ফিরে হ্যাঁটাও। এরপর তিনি বলেনঃ এগুলোকে আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে হ্যাঁটাও, (যাতে উটের সামনের ও পেছনের দিক ভালভাবে দেখা যায়)। তখন তিনি বলেনঃ তোমার উটগুলো আমার কাছে উত্তম মনে হচ্ছে। রাবী বলেনঃ বরং এতো আপনারই মালে-গনিমত, যার ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে শর্ত করেছিলাম। তিনি বললেনঃ হে আমার প্রিয় ভাতিজা! তোমার উটগুলো তুমি নিয়ে যাও, তোমার গনিমতের ভাগ নয়, বরং এর পরিবর্তে (আখিরাতের সাওয়াব-ই) আমার কাম্য।

১৮. কয়েদীকে শক্তভাবে বাঁধা সম্পর্কে।

باب فِي الأَسِيرِ يُوثَقُ

২৬৬৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَقَدْ عَجِبَ رَبُّنَا عَزَّ وَجَلَّ مِنْ قَوْمٍ يُقَادُونَ إِلَى الْجَنَّةِ فِي السَّلاَسِلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৬৮. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলূল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আমাদের মহান রব সে কওমের ব্যাপারে খুশীতে অধীর হন, যাদের শৃঙ্খলিত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।

২৬৬৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ جُنْدُبِ بْنِ مَكِيثٍ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ اللَّهِ بْنَ غَالِبٍ اللَّيْثِيَّ فِي سَرِيَّةٍ وَكُنْتُ فِيهِمْ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَشُنُّوا الْغَارَةَ عَلَى بَنِي الْمُلَوِّحِ بِالْكَدِيدِ فَخَرَجْنَا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْكَدِيدِ لَقِينَا الْحَارِثَ بْنَ الْبَرْصَاءِ اللَّيْثِيَّ فَأَخَذْنَاهُ فَقَالَ إِنَّمَا جِئْتُ أُرِيدُ الإِسْلاَمَ وَإِنَّمَا خَرَجْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا إِنْ تَكُنْ مُسْلِمًا لَمْ يَضُرَّكَ رِبَاطُنَا يَوْمًا وَلَيْلَةً وَإِنْ تَكُنْ غَيْرَ ذَلِكَ نَسْتَوْثِقْ مِنْكَ فَشَدَدْنَاهُ وِثَاقًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৬৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আবু হাজ্জাজ আবু মা‘মার (রাহঃ) .... জুনদুব ইবনে মাকীছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একবার আব্দুল্লাহ্ ইবনে গালিব লায়সীকে কোন এক যুদ্ধে প্রেরণ করেন এবং আমি তাতে শরীক ছিলাম। তিনি তাদেরকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, তারা যেন বনু-মালূহ গোত্রের উপর কাদীদ নামক স্থানের নিকটবর্তী হই, তখন আমরা হারিছ ইবনে বারসাআ লায়ছীর সাক্ষাত পাই। তখন আমরা তাকে পাকড়াও করি। সে বলেঃ আমি তো ইসলাম কবুল করার নিয়তে এসেছি; বরং আমি তো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। তখন আমরা বলিঃ যদি তুমি মুসলমান হতেও চাও, তবে আমাদের এক দিন-রাতের বাঁধনে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। আর যদি এর অন্যথা হয়, তবে আমরা তোমাকে শক্ত করে বাঁধব। তখন আমরা তাকে আরো শক্ত করে বাঁধি।

২৬৭০

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، وَقُتَيْبَةُ، قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْلاً قِبَلَ نَجْدٍ فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ سَيِّدُ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَاذَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . قَالَ عِنْدِي يَا مُحَمَّدُ خَيْرٌ إِنْ تَقْتُلْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ تُعْطَ مِنْهُ مَا شِئْتَ . فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ الْغَدُ ثُمَّ قَالَ لَهُ " مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . فَأَعَادَ مِثْلَ هَذَا الْكَلاَمِ فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْغَدِ فَذَكَرَ مِثْلَ هَذَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْلِقُوا ثُمَامَةَ " . فَانْطَلَقَ إِلَى نَخْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ فِيهِ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ عِيسَى أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ وَقَالَ ذَا ذِمٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৭০. ‘ঈসা ইবনে হাম্মাদ মিসরী ও কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নাজদের দিকে একদল অশ্বারোহী বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা হানীফা গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে পাকড়াও করে নিয়ে আসে, যার নাম ছিল ছুমামাহ ইবনে উছাল। সে ইয়ামামা সম্প্রদায়ের নেতা ছিল। তারা তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার নিকট যান এবং বলেনঃ হে ছুমামাহ! তুমি কি প্রত্যাশা করছ? সে (ছুমামাহ) বললঃ হে মুহাম্মাদ! আমি ভাল ব্যবহার প্রত্যাশ্যা করছি। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে হত্যা উপযোগী একজন ব্যক্তিকে হত্যা করবেন; আর যদি আপনি আমার প্রতি ইহসান করেন, তবে একজন শোকরগুযার ব্যক্তির প্রতি ইহসান করবেন। আর যদি আপনি মালের প্রত্যাশী হন, তবে তা-ও বলুল, আপনি যা চান তা-ই দেয়া হবে।

তখন রাসূলূল্লাহ (ﷺ) তাকে পরিত্যাগ করে চলে যান। এমনকি তৃতীয় দিনও ছুমামাহ একই রকম উক্তি করে। তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ছুমামাহকে ছেড়ে দাও। মুক্তির পর সে মসজিদের নিকটবর্তী খেজুর গাছের নীচে গেল এবং গোসল করল। এরপর সে মসজিদে প্রবেশ করে বললঃ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা এবং রাসূল। এরপর উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ঈসা বলেনঃ লাইছ আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ছুমামাহ বলেছেনঃ আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তবে একজন অপরাধীকেই হত্যা করবেন।
২৬৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، قَالَ قُدِمَ بِالأُسَارَى حِينَ قُدِمَ بِهِمْ وَسَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ عِنْدَ آلِ عَفْرَاءَ فِي مُنَاخِهِمْ عَلَى عَوْفٍ وَمُعَوِّذٍ ابْنَىْ عَفْرَاءَ قَالَ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ عَلَيْهِنَّ الْحِجَابُ قَالَ تَقُولُ سَوْدَةُ وَاللَّهِ إِنِّي لَعِنْدَهُمْ إِذْ أَتَيْتُ فَقِيلَ هَؤُلاَءِ الأُسَارَى قَدْ أُتِيَ بِهِمْ . فَرَجَعْتُ إِلَى بَيْتِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ وَإِذَا أَبُو يَزِيدَ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو فِي نَاحِيَةِ الْحُجْرَةِ مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ بِحَبْلٍ . ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُمَا قَتَلاَ أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ وَكَانَا انْتَدَبَا لَهُ وَلَمْ يَعْرِفَاهُ وَقُتِلاَ يَوْمَ بَدْرٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন সাওদা বিনতে যামআ (রাঃ)

২৬৭১. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... সা’দ ইবনে যুরারাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন (বদর যুদ্ধের) বন্দীদের (মদীনায়) আনা হল, তখন সাওদা বিনতে যামআ (রাযিঃ) আফরা গোত্রের উট বাঁধার স্থানে আফরার দুই ছেলে আওফ ও মুআওবিযের নিকট উপস্থিত ছিলেন। রাবী বলেনঃ আর এ ঘটনাটি ছিল তাদের উপর পর্দার আয়াত নাযিলের আগের।

রাবী বলেনঃ সাওদা বলেছেন, আল্লাহর শপথ! আমি যখন তাদের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন সেখানে এক ব্যক্তি আসে। তখন তাকে বলা হয়ঃ এরা যুদ্ধবন্দী, এদের পাকড়াও করে আনা হয়েছে। এরপর আমি আমার ঘরে ফিরে যাই এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ দেখি যে, হুজুরার এককোণে আবু ইয়াযীদ সুহাইল ইবনে আমর, যার হাত দুটি তার ঘাড়ের সাথে একত্রে বাঁধা। এরপর তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।

১৯. বন্দীকে মারপিট করে তথ্যাদি গ্রহণ।

باب فِي الأَسِيرِ يُنَالُ مِنْهُ وَيُضْرَبُ وَيُقَرَّرُ

২৬৭২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَدَبَ أَصْحَابَهُ فَانْطَلَقُوا إِلَى بَدْرٍ فَإِذَا هُمْ بِرَوَايَا قُرَيْشٍ فِيهَا عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذَهُ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلُوا يَسْأَلُونَهُ أَيْنَ أَبُو سُفْيَانَ فَيَقُولُ وَاللَّهِ مَا لِي بِشَىْءٍ مِنْ أَمْرِهِ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ جَاءَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ . فَإِذَا قَالَ لَهُمْ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ فَيَقُولُ دَعُونِي دَعُونِي أُخْبِرْكُمْ . فَإِذَا تَرَكُوهُ قَالَ وَاللَّهِ مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ مِنْ عِلْمٍ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ قَدْ أَقْبَلُوا . وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ يَسْمَعُ ذَلِكَ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لَتَضْرِبُونَهُ إِذَا صَدَقَكُمْ وَتَدَعُونَهُ إِذَا كَذَبَكُمْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ لِتَمْنَعَ أَبَا سُفْيَانَ " . قَالَ أَنَسٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا جَاوَزَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُخِذَ بِأَرْجُلِهِمْ فَسُحِبُوا فَأُلْقُوا فِي قَلِيبِ بَدْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৭২. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার সাহাবীদেরকে ডাকলেন। তখন তাঁরা বদর প্রান্তরের দিকে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ তারা কুরাইশদের জন্য পানি বহনকারী উটের সন্ধান লাভ করলেন, যার পিঠে আবু হাজ্জাজ গোত্রের একজন কালোকায় গোলাম বসা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দেন যে, ‘‘বল, আবু সুফিয়ান কোথায়?″

তখন সে বললঃ আল্লাহ শপথ! আমি তার ব্যাপারে কিছুই জানি না। কিন্তু এই হলো কুরাইশ বাহিনী, যাতে আবু জাহল, উতবা, শায়বা ইবনে রাবী’আর দুই ছেলে এবং উমাইয়া ইবনে খালফ উপস্থিত আছে। যখন সে তাঁদের নিকট এরূপ বললঃ তাঁরা তাকে মারপিট করল। তখন সে বললঃ আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও; আমি তোমাদেরকে আসল খবর দেব। এরপর যখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিল, তখন সে বললঃ আল্লাহ শপথ! আমি আবু সুফিয়ান সম্পর্কে কোন খবর রাখি না বরং এই হলো কুরাইশ বাহিনী, যাতে আবু জাহল, উতবা, শায়বা ইবনে রাবীআর দুই ছেলে এবং উমাইয়া ইবনে খালফ উপস্থিত আছে।

এ সময় নবী (ﷺ) নামায আদায় করছিলেন। কিন্তু তিনি ঐসব শুনছিলেন। এরপর নামায আদায় শেষে বললেনঃ ঐ যাত-পাকের কসম, যার হাতে আমার জান! তোমরা তাকে তখন মারধর করছ, যখন সে তোমাদের নিকট সত্য কথা বলছে। আর যখন সে মিথ্যা কথা বলছে, তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিচ্ছ। এই কুরাইশরা তো আবু সুফিয়ানের (কাফিলা) রক্ষার জন্য এসেছে।

আনাস (রাযিঃ) আরো বলেন, (বদর যুদ্ধের আগের দিন) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আগামী দিন এ হলো অমুক ব্যক্তি নিহত হওয়ার জায়গা এবং তিনি তাঁর হাত যমীনের উপর রাখেন। এ হলো অমুক ব্যক্তি নিহত হওয়ার স্থান এবং তিনি তাঁর হাত যমীনের উপর রাখেন।

রাবী (আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ ঐ যাত-পাকের কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন। কোন কাফির নিহত হওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়নি, যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাটিতে হাত রেখে নির্দেশ করেছিলেন (তাদের মৃত্যুর পর) রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাদের ব্যাপারে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ‘ওদের পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে বদরের পার্শ্ববর্তী কূপের মাঝে ফেলে দাও।’

২০. বন্দীকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা।

باب فِي الأَسِيرِ يُكْرَهُ عَلَى الإِسْلاَمِ

২৬৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي السِّجِسْتَانِيَّ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَهَذَا، لَفْظُهُ ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَكُونُ مِقْلاَتًا فَتَجْعَلُ عَلَى نَفْسِهَا إِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ أَنْ تُهَوِّدَهُ فَلَمَّا أُجْلِيَتْ بَنُو النَّضِيرِ كَانَ فِيهِمْ مِنْ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ فَقَالُوا لاَ نَدَعُ أَبْنَاءَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لاَ إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَىِّ ) قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمِقْلاَتُ الَّتِي لاَ يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আলী মুকাদ্দামী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুফরীর যুগে যখন কোন মহিলা এরূপ হতো যে, তার কোন সন্তান জীবিত থাকতো না, তখন সে এরূপ মান্নত করতঃ ‘‘যদি তার সন্তান বেঁচে থাকে, তবে সে তাকে ইয়াহুদী বানাবে।″ অবশেষে বনু নাযীরকে যখন দেশান্তর করা হয়, তখন তাদের সাথে আনসারদের ঐরূপ কয়েকটি সন্তান ছিল। তারা বললঃ আমরা আমদের সন্তানদের ছেড়ে যাব না। তখন মহান আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই, কেননা ধর্মের সত্যতা অধর্মের ভ্রষ্টতা হতে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

২১. ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার আগে, কোন বিধর্মী বন্দীকে হত্যা করা।

باب قَتْلِ الأَسِيرِ وَلاَ يُعْرَضُ عَلَيْهِ الإِسْلاَمُ

২৬৭৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ زَعَمَ السُّدِّيُّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ أَمَّنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ إِلاَّ أَرْبَعَةَ نَفَرٍ وَامْرَأَتَيْنِ وَسَمَّاهُمْ وَابْنُ أَبِي سَرْحٍ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ وَأَمَّا ابْنُ أَبِي سَرْحٍ فَإِنَّهُ اخْتَبَأَ عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَلَمَّا دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ إِلَى الْبَيْعَةِ جَاءَ بِهِ حَتَّى أَوْقَفَهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ بَايِعْ عَبْدَ اللَّهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْبَى فَبَايَعَهُ بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ " أَمَا كَانَ فِيكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ يَقُومُ إِلَى هَذَا حَيْثُ رَآنِي كَفَفْتُ يَدِي عَنْ بَيْعَتِهِ فَيَقْتُلُهُ " . فَقَالُوا مَا نَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا فِي نَفْسِكَ أَلاَ أَوْمَأْتَ إِلَيْنَا بِعَيْنِكَ قَالَ " إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ أَنْ تَكُونَ لَهُ خَائِنَةُ الأَعْيُنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ أَخَا عُثْمَانَ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَكَانَ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ أَخَا عُثْمَانَ لأُمِّهِ وَضَرَبَهُ عُثْمَانُ الْحَدَّ إِذْ شَرِبَ الْخَمْرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৬৭৪. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চারজন ও দুইজন মহিলা ব্যতীত অন্যান্য সকলকে নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং তিনি তাদের নামও ঘোষণা করেন। আর ইবনে আবু সারাহ্ ......... এরপর হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী সা‘দ বলেনঃ ইবনে রাবী সারাহ্ উছমান (রাযিঃ) এর নিকট আত্মগোপন করে থাকেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন বায়আত গ্রহণের জন্য সকলকে আহবান জানান, তখন উছমান (রাযিঃ) তাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সামনে দাঁড় করে দেন এবং বলেনঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি আব্দুল্লাহকে বায়আত করান। তিনি তাঁর মাথা উঠান এবং তিনবার তার দিকে তাকান এবং প্রত্যক বারই বায়আত করাতে অস্বীকার করেন।

তৃতীয় বারের পর তিনি তাকে বায়আত করান, পরে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন চালাক লোক কি ছিল না, যখন সে আমাকে দেখল যে, আমি তাকে বায়আত করাচ্ছি না, তখন কেন সে তাকে হত্যা করল না? তাঁরা (সাহাবীরা) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো আপনার অন্তরের কথা বুঝতে পারিনি। আপনি (এ ব্যাপারে) চোখ দিয়ে কেন আমাদেরকে ইশারা করলেন না? তিনি বললেনঃ কোন নবীর জন্য এ উচিত নয় যে, সে চোরা দৃষ্টিতে তাকাবে।
২৬৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي جَدِّي، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ " أَرْبَعَةٌ لاَ أُؤْمِنُهُمْ فِي حِلٍّ وَلاَ حَرَمٍ " . فَسَمَّاهُمْ . قَالَ وَقَيْنَتَيْنِ كَانَتَا لِمِقْيَسٍ فَقُتِلَتْ إِحْدَاهُمَا وَأُفْلِتَتِ الأُخْرَى فَأَسْلَمَتْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ أَفْهَمْ إِسْنَادَهُ مِنِ ابْنِ الْعَلاَءِ كَمَا أُحِبُّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ারবু মাখযুমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন ঘোষণা দেন যে, চার ব্যক্তি এমন, যাদের আমি হারামের মাঝে এবং বাইরে নিরাপত্তা দেব না, (হত্যা থেকে); পরে তিনি তাদের নাম বলেন। তিনি আরো বলেনঃ দুইজন ক্রীতদাসী, যাদের মালিক ছিল মাকীস (তারা নবী (ﷺ) সম্পর্কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত); এদের একজনকে হত্যা করা হয় এবং অপরজন পালিয়ে যায়; পরে সেও ইসলাম কবুল করে।

২৬৭৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ ابْنُ خَطَلٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ وَكَانَ أَبُو بَرْزَةَ الأَسْلَمِيُّ قَتَلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৭৬. কা‘নবী (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় ছিল লৌহ-শিরস্ত্রাণ। তিনি যখন তা খুলে ফেলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলে যে, ইবনে খাত্তাল (কাফির, যার রক্ত হালাল ঘোষিত হয়েছিল) কা‘বা ঘরের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে। তখন তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা কর।

২২. কয়েদীকে বেঁধে রেখে হত্যা করা।

باب فِي قَتْلِ الأَسِيرِ صَبْرًا

২৬৭৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الرَّقِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَرَادَ الضَّحَّاكُ بْنُ قَيْسٍ أَنْ يَسْتَعْمِلَ، مَسْرُوقًا فَقَالَ لَهُ عُمَارَةُ بْنُ عُقْبَةَ أَتَسْتَعْمِلُ رَجُلاً مِنْ بَقَايَا قَتَلَةِ عُثْمَانَ فَقَالَ لَهُ مَسْرُوقٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ - وَكَانَ فِي أَنْفُسِنَا مَوْثُوقَ الْحَدِيثِ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَرَادَ قَتْلَ أَبِيكَ قَالَ مَنْ لِلصِّبْيَةِ قَالَ " النَّارُ " . فَقَدْ رَضِيتُ لَكَ مَا رَضِيَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

২৬৭৭. আলী ইবনে হুসাইন রাকী (রাহঃ) ...... ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যাহহাক ইবনে কায়স মাসরূককে (যাকাত আদায়কারী) অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন উকবা তাকে বলেনঃ আপনি কি এমন এক ব্যক্তিকে নিয়োগ করবেন, যিনি উছমান (রাযিঃ) এর হত্যাকারীদের মধ্য হতে এখনও জীবিত আছেন? মাসরূক বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আমাদের মাঝে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরশীল। নবী করীম (ﷺ) যখন তোমার পিতাকে হত্যা করার ইরাদা করেন, তখন সে জিজ্ঞাসা করেছিলঃ আমার সন্তানদের লালন-পালন কে করবে? তখন তিনি বলেনঃ আগুন। তখন (মাসরূক) বলেনঃ আমিও তোমার ব্যাপারে তাতেই সন্তুষ্ট, যাতে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সন্তুষ্ট।

২৩. কয়েদীকে বেঁধে তীর দিয়ে হত্যা করা।

باب فِي قَتْلِ الأَسِيرِ بِالنَّبْلِ

২৬৭৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ ابْنِ تِعْلَى، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَأُتِيَ بِأَرْبَعَةِ أَعْلاَجٍ مِنَ الْعَدُوِّ فَأَمَرَ بِهِمْ فَقُتِلُوا صَبْرًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ لَنَا غَيْرُ سَعِيدٍ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ بِالنَّبْلِ صَبْرًا فَبَلَغَ ذَلِكَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ قَتْلِ الصَّبْرِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَتْ دَجَاجَةٌ مَا صَبَرْتُهَا . فَبَلَغَ ذَلِكَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَأَعْتَقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৭৮. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... ইবনে তাগলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) এর নেতৃত্বে যুদ্ধে গমন করি। তখন তাঁর সামনে চারজন শক্তিশালী (অনারব) শত্রুকে হাযির করা হয়। তখন তিনি তাদেরকে বেঁধে তীর দিয়ে হত্যা করার নির্দেশ দেন।

২৪. কয়েদীদের উপর সদয় হয়ে, কোন বিনিময় ছাড়া , মুক্ত করা সম্পর্কে।

باب فِي الْمَنِّ عَلَى الأَسِيرِ بِغَيْرِ فِدَاءٍ

২৬৭৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ ثَمَانِينَ، رَجُلاً مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ هَبَطُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ مِنْ جِبَالِ التَّنْعِيمِ عِنْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ لِيَقْتُلُوهُمْ فَأَخَذَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَلَمًا فَأَعْتَقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৭৯. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মক্কার আশিজন লোক (হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়), নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীদের হত্যা করার মানসে তান‘ঈম পর্বতের দিক হতে, ফজরের নামাযের সময় অবতরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের আত্মসমর্পণ করিয়ে গ্রেপতার করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিনা বিনিময়ে মুক্ত করে দেন। তখন মহান আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ″আল্লাহ এমন যে, তিনি তাদের হাতগুলোকে তোমাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন এবং তোমাদের হাতগুলোকে তাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন, মক্কার উপত্যকায়″ ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত নাযিল হয়।

২৬৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأُسَارَى بَدْرٍ " لَوْ كَانَ مُطْعِمُ بْنُ عَدِيٍّ حَيًّا ثُمَّ كَلَّمَنِي فِي هَؤُلاَءِ النَّتْنَى لأَطْلَقْتُهُمْ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৬৮০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বদর যুদ্ধের ব্যাপারে এরূপ মন্তব্য করেন যে, আজ যদি মুত‘ঈম ইবনে আদী জীবিত থাকতেন এবং তিনি আমার নিকট এসব ঘৃণ্য কয়েদীদের ব্যাপারে সুপারিশ করতেন। তবে আমি তাদেরকে তাঁর খাতিরে ছেড়ে দিতাম।

২৫. মালের বিনিময়ে বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া।

باب فِي فِدَاءِ الأَسِيرِ بِالْمَالِ

২৬৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُوحٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ فَأَخَذَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - الْفِدَاءَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ ) مِنَ الْفِدَاءِ ثُمَّ أَحَلَّ لَهُمُ اللَّهُ الْغَنَائِمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يُسْأَلُ عَنِ اسْمِ أَبِي نُوحٍ فَقَالَ أَيْشٍ تَصْنَعُ بِاسْمِهِ اسْمُهُ اسْمٌ شَنِيعٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اسْمُ أَبِي نُوحٍ قُرَادٌ وَالصَّحِيحُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَزْوَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৬৮১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্মল (রাহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধে নবী করীম (ﷺ) যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করেন। তখন মহান আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ নবীর শান এ নয় যে, তাঁর কাছে কয়েদী থাকবে, যতক্ষণ যমীনে খুন-খারাবী চলতে থাকে। আপনি তো দুনিয়ার জীবনের আরাম-আয়েশের ইচছা করছেন কিন্তু আল্লাহর নিকট আখিরাতের জীবনই কাম্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, হিকমতওয়ালা। যদি আল্লাহর তরফ থেকে আগেই ফয়সালা না থাকত, তবে মুক্তিপণ নেয়ার কারণে তোমাদের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হত। এরপর আল্লাহ্ তাদের জন্যে (ইসলামের বিজয়লগ্নে) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বৈধ করেন।

২৬৮২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ الْعَيْشِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْعَنْبَسِ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ فِدَاءَ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ يَوْمَ بَدْرٍ أَرْبَعَمِائَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৮২. আব্দুর রহমান ইবনে মুরাবক আয়শী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) জাহিলী যুগের লোকদের জন্য (মক্কার কাফির), যা বদরের যুদ্ধের দিন বন্দী হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের জন্য চারশত দিরহাম মুক্তিপণ নির্ধারণ করেন।

২৬৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا بَعَثَ أَهْلُ مَكَّةَ فِي فِدَاءِ أَسْرَاهُمْ بَعَثَتْ زَيْنَبُ فِي فِدَاءِ أَبِي الْعَاصِ بِمَالٍ وَبَعَثَتْ فِيهِ بِقِلاَدَةٍ لَهَا كَانَتْ عِنْدَ خَدِيجَةَ أَدْخَلَتْهَا بِهَا عَلَى أَبِي الْعَاصِ . قَالَتْ فَلَمَّا رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَقَّ لَهَا رِقَّةً شَدِيدَةً وَقَالَ " إِنْ رَأَيْتُمْ أَنْ تُطْلِقُوا لَهَا أَسِيرَهَا وَتَرُدُّوا عَلَيْهَا الَّذِي لَهَا " . فَقَالُوا نَعَمْ . وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ عَلَيْهِ أَوْ وَعَدَهُ أَنْ يُخَلِّيَ سَبِيلَ زَيْنَبَ إِلَيْهِ وَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ وَرَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ " كُونَا بِبَطْنِ يَأْجِجَ حَتَّى تَمُرَّ بِكُمَا زَيْنَبُ فَتَصْحَبَاهَا حَتَّى تَأْتِيَا بِهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৮৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মক্কাবাসীরা তাদের বন্দীদের জন্য মুক্তিপণ পাঠায়, তখন যয়নাব (রাযিঃ) ও আবুল আসের (তাঁর স্বামী, যিনি কাফির ছিলেন ও বদর যুদ্ধে বন্দী হন) জন্য মুক্তিপণ বাবদ এমন কিছু ধন-সম্পদ পাঠায়, যার মধ্যে একটি হারও ছিল। আসলে হারটি ছিল খাদীজা (রাযিঃ) এর। (যয়নাব বিয়ের সময় তা হাদিয়া হিসাবে পান) এবং তা নিয়ে আবুল আসের ঘরে গমন করেন।

রাবী আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই হারখানা দেখেন, তখন তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং বলেনঃ যদি তোমরা ভাল মনে কর, তবে যয়নাবের স্বামীকে ছেড়ে দাও এবং তার হারখানাও তাকে ফিরিয়ে দাও। তখন তারা (সাহাবারা) বলেনঃ ঠিক আছে, তা-ই হবে।

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই মর্মে আবুল আসের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে, সে যয়নাবকে তাঁর (নবী (ﷺ)) নিকট আসতে বাধা দেবে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যায়দ ইবনে হারিসা ও অপর একজন আনসার সাহাবীকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়ে পাঠান যে, তোমরা ‘বাতনে-ইয়াজিজ’ নামক স্থানে যয়নাবের জন্য অপেক্ষা করবে, যতক্ষণ না সে তোমাদের কাছে আসে। আর সে তোমাদের কাছে পৌঁছলে, তোমরা তাকে সাথে করে আমার কাছে পৌঁছে দেবে।
২৬৮৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا عَمِّي، - يَعْنِي سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ - قَالَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ وَذَكَرَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَرْوَانَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حِينَ جَاءَهُ وَفْدُ هَوَازِنَ مُسْلِمِينَ فَسَأَلُوهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَعِي مَنْ تَرَوْنَ وَأَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَىَّ أَصْدَقُهُ فَاخْتَارُوا إِمَّا السَّبْىَ وَإِمَّا الْمَالَ " . فَقَالُوا نَخْتَارُ سَبْيَنَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ هَؤُلاَءِ جَاءُوا تَائِبِينَ وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يُطَيِّبَ ذَلِكَ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيءُ اللَّهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ " . فَقَالَ النَّاسُ قَدْ طَيَّبْنَا ذَلِكَ لَهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّا لاَ نَدْرِي مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ " . فَرَجَعَ النَّاسُ فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ فَأَخْبَرُوهُمْ أَنَّهُمْ قَدْ طَيَّبُوا وَأَذِنُوا .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৬৮৪. আহমদ ইবনে আবু মারয়ামা (রাহঃ) ..... মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তঁরা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে তাদের ধন-সম্পদ ফেরত চায়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা যা চাচ্ছ তা আমার কাছে মওজুদ আছে। সত্যকথা আমার নিকট খুব প্রিয়। তোমরা সিদ্ধান্ত নাও, হয় তোমরা তোমাদের বন্দীদের ফিনিয়ে নাও, নয় তোমাদের ধন-সম্পদ। তখন তারা বললঃ আমরা আমাদের বন্দীদের ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়িয়ে যান এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন। এরপর বলেনঃ ‘‘এরপর তোমাদের এ ভাইয়েরা তওবা করে তোমাদের কাছে এসেছে। আর আমি এ ভাল মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের তাদের হাতে ফিরিয়ে দেব। আর তোমাদের মাঝে যে একে ভাল মনে করবে, সে এরূপ করবে, (অর্থাৎ এদের বন্দীদের ছেড়ে দেবে) আর তোমাদের মাঝে কেউ যদি তার হিসসা পাওয়ার জন্য যিদ কর, তবে আমি তাকে গনিমতের মাল হতে একটা অংশ দেব, আর এটা আল্লাহ্ প্রদত্ত বিশেষ দান, যা তিনি আমাদের দান করেছেন।

তখন সাহাবীরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তাদের কয়েদীদের মুক্তি দিতে রাযী আছি। সে সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তদের বললেনঃ আমি বুঝতে পারিনি এ ব্যাপারে তোমরা কারা রাযী আছ এবং কারা রাযী নও। তোমরা ফিরে যাও এবং তোমাদের নেতাদের সাথে কথাবার্তা বলার পর তারা যেন এ ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলে। তখন লোকেরা তাদের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করল এবং পরে তারা বলল যে, তারা কয়েদীদের ফিরিয়ে দিতে রাযী আছে এবং এ ব্যাপারে তারা তাদের অনুমতি দিচ্ছে।
২৬৮৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رُدُّوا عَلَيْهِمْ نِسَاءَهُمْ وَأَبْنَاءَهُمْ فَمَنْ مَسَكَ بِشَىْءٍ مِنْ هَذَا الْفَىْءِ فَإِنَّ لَهُ بِهِ عَلَيْنَا سِتَّ فَرَائِضَ مِنْ أَوَّلِ شَىْءٍ يُفِيئُهُ اللَّهُ عَلَيْنَا " . ثُمَّ دَنَا - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - مِنْ بَعِيرٍ فَأَخَذَ وَبَرَةً مِنْ سَنَامِهِ ثُمَّ قَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَيْسَ لِي مِنَ الْفَىْءِ شَىْءٌ وَلاَ هَذَا " . وَرَفَعَ أُصْبُعَيْهِ " إِلاَّ الْخُمُسَ وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ عَلَيْكُمْ فَأَدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمِخْيَطَ " . فَقَامَ رَجُلٌ فِي يَدِهِ كُبَّةٌ مِنْ شَعْرٍ فَقَالَ أَخَذْتُ هَذِهِ لأُصْلِحَ بِهَا بَرْذَعَةً لِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكَ " . فَقَالَ أَمَّا إِذْ بَلَغَتْ مَا أَرَى فَلاَ أَرَبَ لِي فِيهَا . وَنَبَذَهَا .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৬৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তাদের স্ত্রীদের ও বাচ্চাদের তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন কর। আর যে ব্যক্তি উক্ত গনিমতের মাল হতে কিছু রাখতে ইচ্ছা করবে, আমি তাকে এর বিনিময়ে মালে গনিমত হতে ছয়টি উট দেব, যা আল্লাহ্ আমাদের দান করবেন। এরপর নবী (ﷺ) একটি উটের নিকটবর্তী হয়ে তার ঘাড় হতে একটি পশম নিয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! আমি এ গনিমতের মালের কিছুরই মালিক নই, এমনকি এই পশমেরও মালিক নই।

এরপর তিনি দুআঙ্গুলে সে পশমটি তুলে ধরে বললেনঃ অবশ্য আমি (মালে গনিমতের) এক-পঞ্চমাংশের মালিক এবং সেই এক-পঞ্চমাংশও তোমাদের মাঝে বিতরণ করব। কাজেই তোমরা সুই ও সুতা পর্যন্ত আদায় কর (কিছুই গোপণ করবে না) । তখন এক ব্যক্তি দাঁড়ায় যার হাতে ছিল পশমের তৈরী রশির টুকরা এবং বলেঃ আমি এই রশির টুকরাটা পালানের নীচের কম্বল ঠিক করার জন্য নিয়েছিলাম। তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এর মাঝে আমার এবং বনু আব্দুল মুত্তলিবের যে অংশ আছে, (তা আমি মাফ করলাম), এখন তা তোমার। তখন সে ব্যক্তি বললঃ এই সামান্য রশির ব্যাপার যদি এরূপ হয়, যা আমি দেখছি, তবে এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। এরপর সে তার হাত থেকে তা ছঁড়ে ফেলে দিল।

২৬. দুশমনদের উপর বিজয়ী হওয়ার পর, নেতার ময়দানে অবস্থান।

باب فِي الإِمَامِ يُقِيمُ عِنْدَ الظُّهُورِ عَلَى الْعَدُوِّ بِعَرْصَتِهِمْ

২৬৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا غَلَبَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِالْعَرْصَةِ ثَلاَثًا . قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى إِذَا غَلَبَ قَوْمًا أَحَبَّ أَنْ يُقِيمَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ يَطْعَنُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لأَنَّهُ لَيْسَ مِنْ قَدِيمِ حَدِيثِ سَعِيدٍ لأَنَّهُ تَغَيَّرَ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ وَلَمْ يُخْرِجْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ بِأَخَرَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يُقَالُ إِنَّ وَكِيعًا حَمَلَ عَنْهُ فِي تَغَيُّرِهِ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

২৬৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাযিঃ) ..... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন কওমের উপর বিজয়ী হতেন, তখন তিনি সেখানে তিন রাত অতিবাহিত করতেন। ইবনে মুছান্না (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন কোন কওমের উপর বিজয়ী হতেন, তখন তিনি তিন রাত অতিবাহিত করতে পছন্দ করতেন।

২৭. কয়েদীদের পরস্পর পৃথক করা।

باب فِي التَّفْرِيقِ بَيْنَ السَّبْىِ

২৬৮৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّهُ فَرَّقَ بَيْنَ جَارِيَةٍ وَوَلَدِهَا فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ وَرَدَّ الْبَيْعَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَمَيْمُونٌ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيًّا قُتِلَ بِالْجَمَاجِمِ وَالْجَمَاجِمُ سَنَةُ ثَلاَثٍ وَثَمَانِينَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالْحَرَّةُ سَنَةُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ وَقُتِلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ سَنَةَ ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৮৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি একজন দাসী ও তার সন্তানকে আলাদা করে দেন (অর্থাৎ বাচ্চা এবং তার মাতাকে আলাদা করে বিক্রি করেন)। তখন নবী (ﷺ) তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং ঐ বিক্রি বাতিল করে দেন।

২৮. বয়স্ক কয়েদীদের পৃথক রাখার অনুমতি।

باب الرُّخْصَةِ فِي الْمُدْرِكِينَ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمْ

২৬৮৮

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، خَرَجْنَا مَعَ أَبِي بَكْرٍ وَأَمَّرَهُ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَزَوْنَا فَزَارَةَ فَشَنَنَّا الْغَارَةَ ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى عُنُقٍ مِنَ النَّاسِ فِيهِ الذُّرِّيَّةُ وَالنِّسَاءُ فَرَمَيْتُ بِسَهْمٍ فَوَقَعَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْجَبَلِ فَقَامُوا فَجِئْتُ بِهِمْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فِيهِمُ امْرَأَةٌ مِنْ فَزَارَةَ وَعَلَيْهَا قِشْعٌ مِنْ أَدَمٍ مَعَهَا بِنْتٌ لَهَا مِنْ أَحْسَنِ الْعَرَبِ فَنَفَّلَنِي أَبُو بَكْرٍ ابْنَتَهَا فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " يَا سَلَمَةُ هَبْ لِيَ الْمَرْأَةَ " . فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَقَدْ أَعْجَبَتْنِي وَمَا كَشَفْتُ لَهَا ثَوْبًا . فَسَكَتَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ فَقَالَ " يَا سَلَمَةُ هَبْ لِيَ الْمَرْأَةَ لِلَّهِ أَبُوكَ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا كَشَفْتُ لَهَا ثَوْبًا وَهِيَ لَكَ . فَبَعَثَ بِهَا إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ وَفِي أَيْدِيهِمْ أَسْرَى فَفَادَاهُمْ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৬৮৮. হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... ইয়াস ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ একবার আমরা আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গে রওয়ানা হই এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে আমাদের নেতা নির্বাচিত করেন। আমরা ফাযারা গোত্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই এবং চারদিক হতে হামলা করি। পরে আমি কিছু লোক দেখি, যাতে বাচ্চা ও মহিলারা ছিল। তখন আমি তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করি, যা তাদের ও একটি পাহাড়ের মাঝখানে গিয়ে পড়ে। তারা দাঁড়ালে, আমি তাদেরকে নিয়ে আবু বকর (রাযিঃ) এর নিকট যাই।

এর মাঝে ফাযারা গোত্রের একজন মহিলা ছিল যার পরিধানে চামড়ার পোশাক ছিল। ঐ মহিলার সাথে তার একটি মেয়ে ছিল, যে ছিল আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আবু বকর (রাযিঃ) মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দেন। এরপর আমি মদীনায় ফিরে আসলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা! তুমি ঐ মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বলিঃ আল্লাহর শপথ! সে তো আমার খুবই প্রিয় এবং আমি এখনো তার কাপড় খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সহবাস করিনি।)

তখনকার মত তিনি চুপ থাকলেন। কিন্তু পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে আমার বাজারে দেখা হলে তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা, তোমার পিতার শপথ! ঐ মেয়েটিকে আমাকে দান কর। তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ! সে আমার খুবই প্রিয় এবং এখনো আমি তার পরিধেয় বস্ত্র খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সঙ্গম করিনি)। সে আপনারই। এরপর তিনি সে মেয়েটিকে মক্কায় পাঠান এবং তার বিনিময়ে তাদের নিকট হতে মুসলিম বন্দীদের ছাড়িয়ে আনেন।

২৯. যদি শত্রুপক্ষ মুসলমানদের নিকট হতে কোন সম্পদ ছিনিয়ে নেয় এবং পরে তা তার মালিক মালে- গনিমত হিসাবে পায়।

باب فِي الْمَالِ يُصِيبُهُ الْعَدُوُّ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ثُمَّ يُدْرِكُهُ صَاحِبُهُ فِي الْغَنِيمَةِ

২৬৮৯

حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ سُهَيْلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي زَائِدَةَ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ غُلاَمًا، لاِبْنِ عُمَرَ أَبَقَ إِلَى الْعَدُوِّ فَظَهَرَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ فَرَدَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ابْنِ عُمَرَ وَلَمْ يُقْسَمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَقَالَ غَيْرُهُ رَدَّهُ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৮৯. সালেহ ইবনে সুহাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট গোলাম পালিয়ে কাফিরদের কাছে চলে যায়। অতঃপর মুসলমানরা তাদের উপর বিজয়ী হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সে গোলামকে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট ফিরিয়ে দেন এবং তাকে মালে-গনিমত হিসাবে বণ্টণ করেননি।

২৬৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ذَهَبَ فَرَسٌ لَهُ فَأَخَذَهَا الْعَدُوُّ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرُدَّ عَلَيْهِ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَأَبَقَ عَبْدٌ لَهُ فَلَحِقَ بِأَرْضِ الرُّومِ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৯০. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আনবারী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর একটা ঘোড়া চলে গেলে শত্রুরা তা আটক করে। এরপর মুসলমানরা তাদের উপর বিজয়ী হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যামানায়, তারা তাকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দেন।

(তিনি আরো বলেন) : আমার একটা গোলাম পালিয়ে গিয়ে রোমের কাফিরদের সাথে মিলিত হয়। এরপর মুসলমানরা যখন তাদের উপর বিজয়ী হয়, তখন নবী করীম (ﷺ) এর ইনতিকালের পর খালিদ ইবনে ওয়ালীদ তাকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দেন (অর্থাৎ তাকে মালে-গনিমত গণ্য করে বণ্টণ করেননি)।

৩০. মুশরিকদের কৃতদাস যদি মুসলমানদের কাছে গিয়ে ইসলাম কবুল করে।

باب فِي عَبِيدِ الْمُشْرِكِينَ يَلْحَقُونَ بِالْمُسْلِمِينَ فَيُسْلِمُونَ

২৬৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ خَرَجَ عِبْدَانٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ - قَبْلَ الصُّلْحِ فَكَتَبَ إِلَيْهِ مَوَالِيهِمْ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ وَاللَّهِ مَا خَرَجُوا إِلَيْكَ رَغْبَةً فِي دِينِكَ وَإِنَّمَا خَرَجُوا هَرَبًا مِنَ الرِّقِّ فَقَالَ نَاسٌ صَدَقُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ رُدَّهُمْ إِلَيْهِمْ . فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " مَا أُرَاكُمْ تَنْتَهُونَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مَنْ يَضْرِبُ رِقَابَكُمْ عَلَى هَذَا " . وَأَبَى أَنْ يَرُدَّهُمْ وَقَالَ " هُمْ عُتَقَاءُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৯১. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া হাররানী (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (কাফিরদের) কয়েকটি গোলাম পালিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট হুদায়বিয়ার দিন সন্ধির আগে পৌঁছে। তখন তাদের মুনীবরা তাঁর নিকট এ মর্মে পত্র লেখে, তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ, এরা তোমার দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তোমার কাছে আসেনি; বরং তারা গোলামী হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য পালিয়ে এসেছে। তখন কিছু লোক বলে! ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা সত্য বলেছে। এদরকে ওদের নিকট ফিরিয়ে দিন।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে বলেনঃ হে কুরাইশ দল! আমি দেখছি যে, তোমরা ততক্ষণ গুনাহ্ হতে বিরত হবে না , যতক্ষণ না আল্লাহ্ তোমাদের উপর এমন কোন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যে তোমাদের গর্দান উড়িয়ে দেবে। তিনি সে গোলামদের তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেনঃ এরা তো মহান আল্লাহ্ কর্তৃক আযাদকৃত।

৩১. দুশমনদের দেশের খাদ্য হালাল হওয়া প্রসঙ্গে।

باب فِي إِبَاحَةِ الطَّعَامِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৬৯২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ جَيْشًا، غَنِمُوا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا وَعَسَلاً فَلَمْ يُؤْخَذْ مِنْهُمُ الْخُمُسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৯২. ইবরাহীম ইবনে হামযা যুবাইরী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যামানায় সেনাবাহিনীর একটা দল কিছু খাদ্যশস্য ও মধু লুন্ঠণ করে আনে। এ থেকে এক-পঞ্চমাংশ নেয়া হয়নি।

২৬৯৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَالْقَعْنَبِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ حُمَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ دُلِّيَ جِرَابٌ مِنْ شَحْمٍ يَوْمَ خَيْبَرَ - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَالْتَزَمْتُهُ - قَالَ - ثُمَّ قُلْتُ لاَ أُعْطِي مِنْ هَذَا أَحَدًا الْيَوْمَ شَيْئًا - قَالَ - فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَبَسَّمُ إِلَىَّ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

২৬৯৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ও কা‘নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বাবের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি আমার প্রতি চর্বিভর্তি একটা থলে নিক্ষেপ করে। আমি তা আমার জন্য সংরক্ষণ করি এবং বলিঃ আজ এ হতে আমি কাউকে কিছু দেব না। রাবী বলেনঃ এসময় আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর প্রতি তাকিয়ে দেখি যে, তিনি আমার এ আচরণে মুচকি মু্চকি হাসছেন।

৩২. শত্রুদের খাদ্যশস্য কম থাকলে তা লুটপাট না করা সম্পর্কে।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ النُّهْبَى، إِذَا كَانَ فِي الطَّعَامِ قِلَّةٌ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৬৯৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَازِمٍ - عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي لُبَيْدٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ بِكَابُلَ فَأَصَابَ النَّاسُ غَنِيمَةً فَانْتَهَبُوهَا فَقَامَ خَطِيبًا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنِ النُّهْبَى . فَرَدُّوا مَا أَخَذُوا فَقَسَمَهُ بَيْنَهُمْ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

২৬৯৪. সুলাইমান ইবনে হারাব (রাহঃ) ....... আবু লবীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কাবুল অভিযানে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরার সাথী ছিলাম। লোকেরা সেখানে যে গনিমতের মাল পায়, তা নিজেরা লুট করে নেয়। তখন তিনি (আব্দুর রহমান) দাঁড়িয়ে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তিনি গনিমতের মাল বণ্টণ করার আগে তা লুট করতে নিষেধ করেছেন। (একথা শুনে) তারা যা নিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে দিল। তখন তিনি (আব্দুর রহমান) তা তাদের মাঝে বণ্টণ করে দিলেন।

২৬৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُجَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قُلْتُ هَلْ كُنْتُمْ تُخَمِّسُونَ - يَعْنِي الطَّعَامَ - فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصَبْنَا طَعَامًا يَوْمَ خَيْبَرَ فَكَانَ الرَّجُلُ يَجِيءُ فَيَأْخُذُ مِنْهُ مِقْدَارَ مَا يَكْفِيهِ ثُمَّ يَنْصَرِفُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৬৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যামানায় খুমুস (মালে গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) বন্টন করতেন? তিনি বলেনঃ খায়বরের যুদ্ধের দিন আমরা যে খাদ্য-শস্য পাই, প্রত্যেক ব্যক্তি এসে তা থেকে তার প্রয়োজন মত খাদ্যশস্য নিয়ে ফিরে যায়।

২৬৯৬

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمٍ، - يَعْنِي ابْنَ كُلَيْبٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَصَابَ النَّاسَ حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ وَجَهْدٌ وَأَصَابُوا غَنَمًا فَانْتَهَبُوهَا فَإِنَّ قُدُورَنَا لَتَغْلِي إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي عَلَى قَوْسِهِ فَأَكْفَأَ قُدُورَنَا بِقَوْسِهِ ثُمَّ جَعَلَ يُرَمِّلُ اللَّحْمَ بِالتُّرَابِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ النُّهْبَةَ لَيْسَتْ بِأَحَلَّ مِنَ الْمَيْتَةِ " . أَوْ " إِنَّ الْمَيْتَةَ لَيْسَتْ بِأَحَلَّ مِنَ النُّهْبَةِ " . الشَّكُّ مِنْ هَنَّادٍ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২৬৯৬. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) .... একজন আনসার সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বাহির হই। এই সফরে লোকেরা প্রচন্ড ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও কষ্টের সম্মুখীন হয়। এ সময় তারা কিছু বকরী পায় এবং লুন্ঠণ করে আনে। (এবং তা যবেহ করে পাকাতে শুরু করে)। আমাদের ডেগগুলো যখন টগবগ করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর ধনুকসহ সেখানে আসেন এবং তিনি তাঁর ধনুক দিয়ে আমাদের ডেগগুলো উল্টিয়ে দেন। এরপর তিনি গোশতকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন এবং বলেনঃ লুটের মাল মৃত জন্তুর চেয়ে কিছু কম নয়। অথবা রাবী হান্নাদ (সন্দেহের কারণে) বলেনঃ মৃত জন্তু লুটের মালের চেয়ে অধিক হালাল নয়।

৩৩. দারুল - হরব (শত্রু -দেশ) থেকে খাদ্যশস্য আনা।

باب فِي حَمْلِ الطَّعَامِ مِنْ أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৬৯৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ ابْنَ حَرْشَفٍ الأَزْدِيَّ، حَدَّثَهُ عَنِ الْقَاسِمِ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كُنَّا نَأْكُلُ الْجَزْرَ فِي الْغَزْوِ وَلاَ نَقْسِمُهُ حَتَّى إِنْ كُنَّا لَنَرْجِعُ إِلَى رِحَالِنَا وَأَخْرِجَتُنَا مِنْهُ مُمْلاَةٌ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৯৭. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... আব্দুর রহমান (রাহঃ) নবী (ﷺ) এর নবী জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যুদ্ধের সময় আমরা উট নহর (যবেহ) করে খেতাম এবং তা বণ্টণ করতাম না। এমন কি আমরা যখন আমাদের তাঁবুতে ফিরে আসতাম, তখনও আমাদের উটের পিঠের উপরের থলিগুলো গোশতে ভরপুর থাকত।

৩৪. শত্রু- দেশে উদ্ধৃত্ত খাদ্য বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ الطَّعَامِ إِذَا فَضَلَ عَنِ النَّاسِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৬৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْعَزِيزِ، - شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الأُرْدُنِّ - عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، قَالَ رَابَطْنَا مَدِينَةَ قِنَّسْرِينَ مَعَ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ فَلَمَّا فَتَحَهَا أَصَابَ فِيهَا غَنَمًا وَبَقَرًا فَقَسَمَ فِينَا طَائِفَةً مِنْهَا وَجَعَلَ بَقِيَّتَهَا فِي الْمَغْنَمِ فَلَقِيتُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ مُعَاذٌ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ فَأَصَبْنَا فِيهَا غَنَمًا فَقَسَمَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَائِفَةً وَجَعَلَ بَقِيَّتَهَا فِي الْمَغْنَمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৬৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে মুসতাফা (রাহঃ) ....... আব্দুর রহমান ইবনে গানম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা শুরাহবিল ইবনে সামতের সাথে ‘কানসারীন’ শহর অবরোধ করি। যখন তা বিজিত হয়, তখন সেখানে কিছু গাভী ও বকরী পাওয়া যায়। যা থেকে তিনি আমাদের মাঝে কিছু বণ্টণ করে দেন এবং বাকী অংশ মালে গনিমতের অর্ন্তভূক্ত করেন। এরপর আমি মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং তাঁর কাছে ব্যাপারটি বর্ণনা করি। তখন মুআয (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। সেখানে আমরা কিছু ছাগল পাই। যা থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মাঝে কিছু বণ্টন করে দেন এবং বাকী অংশ গনিমতের মালের মধ্যে শামিল করেন।

৩৫. কোন ব্যক্তির গনিমতের মাল হতে উপকার গ্রহণ করা।

باب فِي الرَّجُلِ يَنْتَفِعُ مِنَ الْغَنِيمَةِ بِالشَّىْءِ

২৬৯৯

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَنَا لِحَدِيثِهِ، أَتْقَنُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ، مَوْلَى تُجَيْبٍ عَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَرْكَبْ دَابَّةً مِنْ فَىْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَعْجَفَهَا رَدَّهَا فِيهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَلْبَسْ ثَوْبًا مِنْ فَىْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَخْلَقَهُ رَدَّهُ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: রুওয়াইফি' ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২৬৯৯. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর ও উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... রুয়াইফা ইবনে ছাবিত আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলমানদের গনিমতের মালের কোন বাহনের উপর সওয়ার না হয়, এমনকি সে তা দুর্বল করে ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলমানদের প্রাপ্ত মালে-গনিমত থেকে কোন কাপড় না পরে, এমন কি সে তা পুরাতন করে ফেরত দেয়।

৩৬. যুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্র পাওয়া গেলে তা যুদ্ধে ব্যবহার করা বৈধ।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي السِّلاَحِ يُقَاتَلُ بِهِ فِي الْمَعْرَكَةِ

২৭০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيَّ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرَرْتُ فَإِذَا أَبُو جَهْلٍ صَرِيعٌ قَدْ ضُرِبَتْ رِجْلُهُ فَقُلْتُ يَا عَدُوَّ اللَّهِ يَا أَبَا جَهْلٍ قَدْ أَخْزَى اللَّهُ الأَخِرَ . قَالَ وَلاَ أَهَابُهُ عِنْدَ ذَلِكَ . فَقَالَ أَبْعَدُ مِنْ رَجُلٍ قَتَلَهُ قَوْمُهُ فَضَرَبْتُهُ بِسَيْفٍ غَيْرِ طَائِلٍ فَلَمْ يُغْنِ شَيْئًا حَتَّى سَقَطَ سَيْفُهُ مِنْ يَدِهِ فَضَرَبْتُهُ بِهِ حَتَّى بَرَدَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৭০০. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আবু উবাইদা (রাহঃ) তাঁর পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি বদর-যুদ্ধে চলাকালে লক্ষ্য করি যে, আবু জাহল (যমীনে) পড়ে আছে। তখন আমি তার পায়ের উপর আঘাত করি এবং বলি, হে আল্লাহর দুশমন! হে আবু জাহল! অবশেষে আল্লাহ্ তোমাকে অপদস্থ করেছেন।

রাবী বলেনঃ এ সময় তার কোন ভয় আমার মাঝে ছিল না। তখন সে বলেঃ তাজ্জবের ব্যাপার এই যে, এক ব্যক্তিকে তার কওমের লোকেরা তরবারি দিয়ে হত্যা করেছে। এরপর আমি তাকে অতি নিকট হতে তরবারি দিয়ে আগাত করি কিন্তু তা কার্যকরী হয়নি। এমনকি তার হাত থেকে তার তরবারি পড়ে যায়, তখন আমি তা নিয়ে তার উপর আঘাত করি; ফলে সে ঠাণ্ডা হয়ে যায় (অর্থাৎ মারা যায়।)

৩৭. গনিমতের মাল আত্মসাত করা মহা - অপরাধ।

باب فِي تَعْظِيمِ الْغُلُولِ

২৭০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، وَبِشْرَ بْنَ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَاهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُوُفِّيَ يَوْمَ خَيْبَرَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ " . فَتَغَيَّرَتْ وُجُوهُ النَّاسِ لِذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّ صَاحِبَكُمْ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . فَفَتَّشْنَا مَتَاعَهُ فَوَجَدْنَا خَرَزًا مِنْ خَرَزِ يَهُودَ لاَ يُسَاوِي دِرْهَمَيْنِ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৭০১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের থেকে জনৈক ব্যক্তি খায়বরের যুদ্ধের দিন মারা যায়। তখন সাহাবীরা এ খবর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে দিলে তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর (জানাযার) নামায পড়, (আমি তার জানাযার নামাযে শরীক হব না)। এ কথা শুনে লোকদের চেহারা ভয়ে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তখন তিনি বলেনঃ তোমাদের সাথী আল্লাহর রাস্তায় চুরি করে খিয়ানত করেছে।

(রাবী বলেন) এরপর আমরা তার জিনিসপত্র অনুসন্ধান করি এবং ইয়াহুদীদের ব্যবহৃত একটি মণিমুক্তা খচিত কণ্ঠহার পাই, যা দুই দিরহামের সমান ছিল না।
২৭০২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، مَوْلَى ابْنِ مُطِيعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ فَلَمْ يَغْنَمْ ذَهَبًا وَلاَ وَرِقًا إِلاَّ الثِّيَابَ وَالْمَتَاعَ وَالأَمْوَالَ - قَالَ - فَوَجَّهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ وَادِي الْقُرَى وَقَدْ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبْدٌ أَسْوَدُ يُقَالُ لَهُ مِدْعَمٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِوَادِي الْقُرَى فَبَيْنَا مِدْعَمٌ يَحُطُّ رَحْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ سَهْمٌ فَقَتَلَهُ فَقَالَ النَّاسُ هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " كَلاَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي أَخَذَهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَانِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَشْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا " . فَلَمَّا سَمِعُوا ذَلِكَ جَاءَ رَجُلٌ بِشِرَاكٍ أَوْ شِرَاكَيْنِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شِرَاكٌ مِنْ نَارٍ " . أَوْ قَالَ " شِرَاكَانِ مِنْ نَارٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭০২. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা খায়বরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হয়েছিলাম। আমরা গনিমতের মাল হিসাবে সোনা-রূপা পাইনি, তবে কাপড়, আসবাপত্র ও অন্যান্য মালপত্র প্রাপ্ত হই।

রাবী বলেনঃ এরপর সেখান হতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘ওয়াদী-উল-কুরা’ নামক স্থানের দিকে গমন করেন। তখন তাঁকে একটি হাবশী গোলাম হাদিয়া দেওয়া হয়, যার নাম ছিল ‘মিদ’আম’। আমরা ওয়াদী-উল-কুরাতে পেঁছানোর পর মিদআম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উটের পালান নামাতে শুরু করে। ইত্যবসরে একটি তীর এসে তার গায়ে লাগে এবং সে মারা যায়। লোকেরা বলতে থাকে যে, মুবারক হোক, তারই জন্য জান্নাত।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ কখনই নয়। ঐ সাত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ঐ কম্বল, যা সে খায়বর যুদ্ধের গনিমতের মাল বন্টনের আগে আত্মসাৎ করেছিল, তা তার উপর আগুন হয়ে জ্বলছে। এরপর তারা যখন এ কথা শুনলো, তখন জনৈক ব্যক্তি একটা বা দুটো ফিতা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আসলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এ হলো জাহান্নামের আগুনের তৈরী একটা ফিতা। অথবা তিনি বলেনঃ এ হলো জাহান্নামের আগুনের তৈরী দুটি ফিতা।

৩৮. গনিমতের মাল হতে সামান্য কিছু আত্মসাত করা হলে নেতা তাকে ছেড়ে দেবে এবং তার আসবার-পত্র জ্বলাবে না।

باب فِي الْغُلُولِ إِذَا كَانَ يَسِيرًا يَتْرُكُهُ الإِمَامُ وَلاَ يُحَرِّقُ رَحْلَهُ

২৭০৩

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَوْذَبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَامِرٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ - عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَصَابَ غَنِيمَةً أَمَرَ بِلاَلاً فَنَادَى فِي النَّاسِ فَيَجِيئُونَ بِغَنَائِمِهِمْ فَيُخَمِّسُهُ وَيُقَسِّمُهُ فَجَاءَ رَجُلٌ بَعْدَ ذَلِكَ بِزِمَامٍ مِنْ شَعَرٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا فِيمَا كُنَّا أَصَبْنَاهُ مِنَ الْغَنِيمَةِ . فَقَالَ " أَسَمِعْتَ بِلاَلاً يُنَادِي " . ثَلاَثًا . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَجِيءَ بِهِ " . فَاعْتَذَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ " كُنْ أَنْتَ تَجِيءُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَنْ أَقْبَلَهُ عَنْكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭০৩. আবু সালিহ মাহবুব ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন গনিমতের মাল পেতেন, তখন তিনি লোকদের মাঝে ঘোষণা দেওয়ার জন্য বিলাল (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিতেন। তিনি লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলে, লোকেরা তাদের প্রাপ্ত গনিমতের মাল নিয়ে তাঁর নিকট আসতো। তিনি তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ বাদ দিয়ে, বাকী অংশ সকলের মাঝে ভাগ করে দিতেন।

একবার জনৈক ব্যক্তি গনিমতের মাল বণ্টণের মত একটা চুল বাঁধার ফিতা নিয়ে আসে এবং বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এটি গনিমতের মাল হিসাবে পেয়েছি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি বিলাল (রাযিঃ) এর তিনটি ঘোষণা শুনেছিলে? সে বলেঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বলেনঃ সে সময় কিসে তোমাকে এটি উপস্থিত করা হতে বিরত রেখেছিল? তখন সে (লোকটি) তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। তখনও তিনি বলেনঃ তুমি এভাবেই থাক! তুমি কিয়ামতের দিন তা নিয়ে আসবে এবং আমি তা তোমার থেকে কবুল করব না।

৩৯. গনিমতের মাল আত্মসাতকারীর শাস্তি।

باب فِي عُقُوبَةِ الْغَالِّ

২৭০৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، - قَالَ النُّفَيْلِيُّ الأَنْدَرَاوَرْدِيُّ - عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَصَالِحٌ هَذَا أَبُو وَاقِدٍ - قَالَ دَخَلْتُ مَعَ مَسْلَمَةَ أَرْضَ الرُّومِ فَأُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ غَلَّ فَسَأَلَ سَالِمًا عَنْهُ فَقَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا وَجَدْتُمُ الرَّجُلَ قَدْ غَلَّ فَأَحْرِقُوا مَتَاعَهُ وَاضْرِبُوهُ " . قَالَ فَوَجَدْنَا فِي مَتَاعِهِ مُصْحَفًا فَسَأَلَ سَالِمًا عَنْهُ فَقَالَ بِعْهُ وَتَصَدَّقْ بِثَمَنِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৭০৪. নুফায়লী ও সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... সালিহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মাসলামার সাথে রোমে গিয়েছিলাম। সেখানে এক ব্যক্তিকে আনা হয়, যে গনিমতের মাল চুরি করেছিল। তখন তিনি (মাসলামা) এ ব্যাপারে সালিমকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে শুনেছি, যিনি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা এমন ব্যক্তিকে পাবে, যে গনিমতের মাল চুরি করেছে, তখন তোমরা তার সমস্ত মালামাল জ্বালিয়ে দেবে এবং তাকে মারধর করবে।

রাবী বলেনঃ আমরা তার মালপত্রের মাঝে একটা ‘মাসাহাক’ (ধর্মগ্রন্থ) পাই। তখন তিনি (মাসলামা) সালিমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ মাসাহাক বিক্রি করে তার মূল্য দান করে দাও।
২৭০৫

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى الأَنْطَاكِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ الْوَلِيدِ بْنِ هِشَامٍ وَمَعَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَغَلَّ رَجُلٌ مَتَاعًا فَأَمَرَ الْوَلِيدُ بِمَتَاعِهِ فَأُحْرِقَ وَطِيفَ بِهِ وَلَمْ يُعْطِهِ سَهْمَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَصَحُّ الْحَدِيثَيْنِ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ أَنَّ الْوَلِيدَ بْنَ هِشَامٍ حَرَّقَ رَحْلَ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ - وَكَانَ قَدْ غَلَّ - وَضَرَبَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭০৫. আবু সালিহ্ মাহবুব ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... সালিহ্ ইবনে মুহাম্মাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা ওয়ালীদ ইবনে হিশামের নেতৃত্বে জিহাদে অংশগ্রহণ করি। এ সময় সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্, ইবনে উমর (রাযিঃ) এবং উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) আমাদের সাথে ছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি গনিমতের মাল হতে চুরি করলে ওয়ালীদের নির্দেশে তার সমস্ত মালামাল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তাকে অপমানের উদ্দেশ্যে (লোকদের মাঝে) ঘুরানো হয় এবং গনিমতের মাল হতে তাকে কোন অংশ দেওয়া হয়নি।

২৭০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ حَرَّقُوا مَتَاعَ الْغَالِّ وَضَرَبُوهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ فِيهِ عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ عَنِ الْوَلِيدِ - وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنْهُ - وَمَنَعُوهُ سَهْمَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا بِهِ الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ وَعَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ قَوْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ مَنَعَ سَهْمَهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৭০৬. মুহাম্মাদ ইবনে আ‘ওফ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা [আমর ইবনে আস (রাযিঃ)] থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ), আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) গনিমতের মাল হতে কেউ কিছু চুরি করলে তার সমস্ত মালামাল জ্বালিয়ে দিতেন এবং তাকে মারতেন।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ওয়ালীদ ইবনে উতবা এবং আব্দুল ওয়াহব ইবনে নাজদী উভয়ে এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে এটি ওয়ালীদ হতে, এরপর যুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ হতে, এরপর আমর ইবনে শুআয়ব হতে উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আব্দুল ওয়াহব ইবনে নাজদা হূতী এটি উল্লেখ করেননি যে, ‘‘তাকে গনিমতের মালের হিসসা দেওয়া হয়নি।

৪০. গণিমতের মাল আত্মসাতকারীর অপরাধ গোপন না রাখা।

باب النَّهْىِ عَنِ السَّتْرِ، عَلَى مَنْ غَلَّ

২৭০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ أَمَّا بَعْدُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَتَمَ غَالاًّ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৭০৭. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে সুফিয়ান (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলতেনঃ যে ব্যক্তি গনিমতের মাল চুরিকারীর চুরিকে গোপন রাখবে, সেও ঐ (চোরা) ব্যক্তির মতই দোষী সাব্যস্ত হবে।

৪১. নিহত কাফিরের মালামাল তার হন্তাকে দেওয়া।

باب فِي السَّلَبِ يُعْطَى الْقَاتِلُ

২৭০৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَامِ حُنَيْنٍ فَلَمَّا الْتَقَيْنَا كَانَتْ لِلْمُسْلِمِينَ جَوْلَةٌ - قَالَ - فَرَأَيْتُ رَجُلاً مِنَ الْمُشْرِكِينَ قَدْ عَلاَ رَجُلاً مِنَ الْمُسْلِمِينَ - قَالَ - فَاسْتَدَرْتُ لَهُ حَتَّى أَتَيْتُهُ مِنْ وَرَائِهِ فَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ عَلَى حَبْلِ عَاتِقِهِ فَأَقْبَلَ عَلَىَّ فَضَمَّنِي ضَمَّةً وَجَدْتُ مِنْهَا رِيحَ الْمَوْتِ ثُمَّ أَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَأَرْسَلَنِي فَلَحِقْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقُلْتُ مَا بَالُ النَّاسِ قَالَ أَمْرُ اللَّهِ . ثُمَّ إِنَّ النَّاسَ رَجَعُوا وَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ فَلَهُ سَلَبُهُ " . قَالَ فَقُمْتُ ثُمَّ قُلْتُ مَنْ يَشْهَدُ لِي ثُمَّ جَلَسْتُ ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ الثَّانِيَةَ " مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ فَلَهُ سَلَبُهُ " قَالَ فَقُمْتُ ثُمَّ قُلْتُ مَنْ يَشْهَدُ لِي ثُمَّ جَلَسْتُ ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ الثَّالِثَةَ فَقُمْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ يَا أَبَا قَتَادَةَ " . قَالَ فَاقْتَصَصْتُ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ صَدَقَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَلَبُ ذَلِكَ الْقَتِيلِ عِنْدِي فَأَرْضِهِ مِنْهُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ لاَهَا اللَّهِ إِذًا يَعْمِدُ إِلَى أَسَدٍ مِنْ أُسْدِ اللَّهِ يُقَاتِلُ عَنِ اللَّهِ وَعَنْ رَسُولِهِ فَيُعْطِيكَ سَلَبَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَ فَأَعْطِهِ إِيَّاهُ " . فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ فَأَعْطَانِيهِ فَبِعْتُ الدِّرْعَ فَابْتَعْتُ بِهِ مَخْرَفًا فِي بَنِي سَلِمَةَ فَإِنَّهُ لأَوَّلُ مَالٍ تَأَثَّلْتُهُ فِي الإِسْلاَمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৭০৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা কা‘নবী (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে হুনায়নের যুদ্ধের জন্য বের হই। এরপর যখন আমরা কাফিরদের সম্মুখীন হই, (তখন তাদের হঠাৎ প্রচন্ড আক্রমণে) মুসলমানদের মাঝে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রাবী বলেনঃ আমি দেখতে পাই যে, জনৈক কাফির কোন মুসলিম সেনাকে পরাভূত করছে। তখন আমি পিছন দিক হতে ঘুরে এসে তার গর্দানের উপর আঘাত করি। সে তখন আমার দিকে ফিরে আমাকে এমনভাবে চেপে ধরে, যাতে আমি মৃতবৎ হয়ে যাই। এরপর সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং আমাকে ছেড়ে দেয়। তখন আমি উমর ইবনে খাত্তাবের দেখা পাই এবং তাঁকে বলিঃ লোকদের কি হয়েছে? তিনি বললেনঃ এটাই আল্লাহর হুকুম।

এরপর (মুসলিম বহিনীর) লোকেরা (একত্রিত হয়ে আবার যুদ্ধের ময়দানে) ফিরে আসে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসা অবস্থায় বলতে থাকেনঃ যে মুসলিম কোন কাফিরকে হত্যা করবে এবং তার কাছে এর প্রমাণ থাকবে, তার সমুদয় পরিত্যক্ত মালের অধিকারী সে হবে। রাবী বলেনঃ তখন আমি দাঁড়াই এবং মনে মনে বলিঃ কে আমার জন্য সাক্ষী দেবে? তখন আমি বসে পড়ি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগের মত দ্বিতীয় বার ঘোষণা দিলেনঃ যে মুসলমান কোন কাফিরকে হত্যা করবে, স্পষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে সে তার পরিত্যক্ত মালের অদিকারী হবে। রাবী বলেনঃ তখন আমি দাঁড়াই, এরপর বলিঃ কে আমার পক্ষে সাক্ষী দেবে? এরপর আমি বসে পড়ি।

তখন তিনি (ﷺ) আগের মত তৃতীয়বার বলেন। এ সময় আমি আবার দাঁড়াই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ হে আবু কাতাদা! তোমার কি হয়েছে? তখন আমি তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করি। সে সময় কওমের জনৈক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে সত্য বলেছে। আর ঐ নিহত ব্যক্তির মালামাল আমার কাছে আছে। তা থেকে আমাকে কিছু প্রদান করূন।

তখন আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বলেনঃ না, আল্লাহর শপথ! এরূপ কখনই হতে পারে না। যখন আল্লাহর সিংহসমূহ হতে কোন সিংহ আল্লাহর পক্ষে এবং তাঁর রাসূলের পক্ষে জিহাদ করে, তার প্রাপ্য গনিমতের মাল তোমাকে কিরূপে দেওয়া যায়? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ সে (আবু বকর) সত্য বলছে। তুমি ঐসব মালামাল তাকে (আবু কাতাদাকে) দিয়ে দাও। আবু কাতাদা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন সে মালামাল আমাকে দিয়ে দেয়। আমি প্রাপ্ত লৌহ বর্মটি বিক্রয় করে, তা দিয়ে বনু সালামা মহল্লায় একটি বাগান খরিদ করি। আর এটিই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি ইসলাম কবুল করার পর হাসিল করি।
২৭০৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ - يَعْنِي يَوْمَ حُنَيْنٍ - " مَنْ قَتَلَ كَافِرًا فَلَهُ سَلَبُهُ " . فَقَتَلَ أَبُو طَلْحَةَ يَوْمَئِذٍ عِشْرِينَ رَجُلاً وَأَخَذَ أَسْلاَبَهُمْ وَلَقِيَ أَبُو طَلْحَةَ أُمَّ سُلَيْمٍ وَمَعَهَا خِنْجَرٌ فَقَالَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا مَعَكِ قَالَتْ أَرَدْتُ وَاللَّهِ إِنْ دَنَا مِنِّي بَعْضُهُمْ أَبْعَجُ بِهِ بَطْنَهُ . فَأَخْبَرَ بِذَلِكَ أَبُو طَلْحَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَرَدْنَا بِهَذَا الْخِنْجَرَ وَكَانَ سِلاَحَ الْعَجَمِ يَوْمَئِذٍ الْخِنْجَرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭০৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুনায়নের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যে মুসলমান কোন কাফিরকে হত্যা করবে, সে সেই নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত মালের অধিকারী হবে। সেদিন আবু তালহা (রাযিঃ) বিশজন কাফিরকে হত্যা করেন এবং তাদের মালামাল লাভ করেন।

অতঃপর আবু তালহা (রাযিঃ) উম্মে সুলাইমের সাথে দেখা করেন, যখন তার হাতে একটি খঞ্জর ছিল। তখন তিনি বলেনঃ হে উম্মে সুলাইম! তোমার সাথে এটা কি? সে বললঃ আল্লার শপথ, আমি তো ইরদা করছি যে, যদি তাদের (কাফিরদের) কেউ আমার নিকটবর্তী হয়, তবে এদিয়ে আমি তার পেট ফেড়ে ফেলব। অতঃপর আবু তালহা (রাযিঃ) এ খবরটি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে দেন।

৪২. নেতা ইচ্ছা করলে নিহত ব্যক্তির মালামাল হত্যাকারীকে নাও দিতে পারেন, ঘোড়া এবং হাতিয়ার মালেরই অন্তর্ভক্ত।

باب فِي الإِمَامِ يَمْنَعُ الْقَاتِلَ السَّلَبَ إِنْ رَأَى وَالْفَرَسُ وَالسِّلاَحُ مِنَ السَّلَبِ

২৭১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ فِي غَزْوَةِ مُؤْتَةَ فَرَافَقَنِي مَدَدِيٌّ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ لَيْسَ مَعَهُ غَيْرُ سَيْفِهِ فَنَحَرَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ جَزُورًا فَسَأَلَهُ الْمَدَدِيُّ طَائِفَةً مِنْ جِلْدِهِ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ فَاتَّخَذَهُ كَهَيْئَةِ الدَّرَقِ وَمَضَيْنَا فَلَقِينَا جُمُوعَ الرُّومِ وَفِيهِمْ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ لَهُ أَشْقَرَ عَلَيْهِ سَرْجٌ مُذْهَبٌ وَسِلاَحٌ مُذْهَبٌ فَجَعَلَ الرُّومِيُّ يُغْرِي بِالْمُسْلِمِينَ فَقَعَدَ لَهُ الْمَدَدِيُّ خَلْفَ صَخْرَةٍ فَمَرَّ بِهِ الرُّومِيُّ فَعَرْقَبَ فَرَسَهُ فَخَرَّ وَعَلاَهُ فَقَتَلَهُ وَحَازَ فَرَسَهُ وَسِلاَحَهُ فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِلْمُسْلِمِينَ بَعَثَ إِلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَأَخَذَ مِنَ السَّلَبِ قَالَ عَوْفٌ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ يَا خَالِدُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي اسْتَكْثَرْتُهُ . قُلْتُ لَتَرُدَّنَّهُ عَلَيْهِ أَوْ لأُعَرِّفَنَّكَهَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَنْ يَرُدَّ عَلَيْهِ قَالَ عَوْفٌ فَاجْتَمَعْنَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَصَصْتُ عَلَيْهِ قِصَّةَ الْمَدَدِيِّ وَمَا فَعَلَ خَالِدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا خَالِدُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ " قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَكْثَرْتُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا خَالِدُ رُدَّ عَلَيْهِ مَا أَخَذْتَ مِنْهُ " . قَالَ عَوْفٌ فَقُلْتُ لَهُ دُونَكَ يَا خَالِدُ أَلَمْ أَفِ لَكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا ذَلِكَ " فَأَخْبَرْتُهُ قَالَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا خَالِدُ لاَ تَرُدَّ عَلَيْهِ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُونَ لِي أُمَرَائِي لَكُمْ صِفْوَةُ أَمْرِهِمْ وَعَلَيْهِمْ كَدَرُهُ " .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭১০. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আওফ ইবনে মালিক আশজা‘ঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যায়দ ইবনে হারিছা (রাযিঃ) এর সঙ্গে মূতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। এ সময় ইয়ামানে মাদাদী নামক গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আমার সাথী হয়, যার কাছে একখানি তরবারি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তখন একজন মুসলমান একটি উট যবেহ্ করে, যা থেকে মাদাদী লোকটি কিছু চামড়া চায় এবং সেও তাকে কিছু চামড়া দেয়। তখন সে তা দিয়ে একটা বিশেষ ধরণের ঢাল তৈরী করে অতঃপর আমরা চলতে থাকি এবং রোমক সৈন্যদের সামনাসামনি হই। তাদের জনৈক যোদ্ধা একটা লাল বর্ণের ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিল এবং জিন ছিল সোনালী বর্ণের এবং তার হাতিয়ারও ছিল স্বর্ণখচিত। সে রোমীয় সৈন্যটি মুসলমাদের উপর খুবই আক্রমণ চালাচ্ছিল।

তখন সে মাদাদী লোকটি সে অশ্বারোহীকে তাক করে একটি পাথরের পিছনে অবস্থান নেয়। অতঃপর যখন তার পাশ দিয়ে রোমীয় সৈন্যটি যেতে থাকে, তখন সে তার ঘোড়ার পা কেটে ফেলে, ফলে সে পড়ে যায়। ফলে মাদাদী লোকটি তার বুকের উপর চড়ে বসে এবং তাকে হত্যা করে। আর সে তার ঘোড়া আর হতিয়ার নিয়ে নেয়। অবশেষে মহান আল্লাহ্ মুসলমানদের বিজয় দান করেন। তখন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (সেনাপতি) মাদাদী ব্যক্তির নিকট কাউকে পাঠান (এবং সে আসার পর) তার প্রাপ্ত মালামাল থেকে কিছু নিয়ে নেন।

আওফ (রাযিঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি তাঁর নিকট আসি এবং বলিঃ হে খালিদ! আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিহত ব্যক্তির মালামাল তার হত্যাকারী পাবে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। কিন্তু আমি তার প্রাপ্ত মালামালকে অধিক মনে করেছি। আমি বললামঃ আপনি ঐ মালামাল তাকে ফিরিয়ে দিন; অন্যথায় আমি আপনার এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে গোচরীভূত করব। তখন তিনি তা তাকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন।

আওফ (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি তাকে বলি, হে খালিদ! এখন হলো তো, আমি আপনাকে যা বলেছিলাম? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ সেটা কি? আওফ (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি তাঁর নিকট সমুদয় বৃত্তান্ত খুলে বলি। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ হে খালিদ! তুমি ঐ ব্যক্তির মালামাল ফিরিয়ে দিও না। তোমরা কি চাও যে, আমার নির্বাচিত নেতাদের পরিত্যাগ করবে? তারা যে ভাল কাজ করে, তা দিয়ে তোমরা উপকৃত হবে এবং খারাপ ব্যাপার তাদের উপর ন্যস্ত করবে।
২৭১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ سَأَلْتُ ثَوْرًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثَنِي عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭১১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ওয়ালীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ছাওর (রাহঃ)-কে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি খালিদ ইবনে মা‘দান হতে, তিনি জুবাইর ইবনে নুফায়র সূত্রে তাঁর পিতা হতে, তিনি আওফ ইবনে মালিক আশজা’ই (রাযিঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

৪৩. নিহত ব্যক্তির মালামাল হত্যাকারী পাবে, তা থেকে এক পঞ্চমাংশ নেয়া যাবে না।

باب فِي السَّلَبِ لاَ يُخَمَّسُ

২৭১২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ وَلَمْ يُخَمِّسِ السَّلَبَ .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭১২. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আওফ ইবনে আশজাঈ ও খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিহত ব্যক্তির মালামাল হত্যাকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সে ধন- সম্পদ হতে এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করেননি, (যেমন মালে গনিমত হতে আলাদা করতেন।)

৪৪. যে ব্যক্তি আহত মৃত্যুপথযাত্রী কোন কাফিরকে হত্যা করবে, সেও তার মালামাল হতে প্রুরস্কার হিসাবে কিছু পাবে।

باب مَنْ أَجَازَ عَلَى جَرِيحٍ مُثْخَنٍ يُنَفَّلُ مِنْ سَلَبِهِ

২৭১৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ نَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ سَيْفَ أَبِي جَهْلٍ كَانَ قَتَلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৭১৩. হারুন ইবনে আব্বাদ (রাযিঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন বদর যুদ্ধের দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আবু জেহেলের তরবারী পুরোষ্কার হিসাবে প্রদান করেন। আর তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন।

৪৫. গনিমতের মাল বণ্টনের পর যদি কেউ আসে, তবে সে কিছুই পাবে না।

باب فِيمَنْ جَاءَ بَعْدَ الْغَنِيمَةِ لاَ سَهْمَ لَهُ

২৭১৪

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عَنْبَسَةَ بْنَ سَعِيدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَانَ بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ عَلَى سَرِيَّةٍ مِنَ الْمَدِينَةِ قِبَلَ نَجْدٍ فَقَدِمَ أَبَانُ بْنُ سَعِيدٍ وَأَصْحَابُهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَرَ بَعْدَ أَنْ فَتَحَهَا وَإِنَّ حُزُمَ خَيْلِهِمْ لِيفٌ فَقَالَ أَبَانُ اقْسِمْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ لاَ تَقْسِمْ لَهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ أَبَانُ أَنْتَ بِهَا يَا وَبْرُ تَحَدَّرُ عَلَيْنَا مِنْ رَأْسِ ضَالٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اجْلِسْ يَا أَبَانُ " . وَلَمْ يَقْسِمْ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ)

২৭১৪. সা‘ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... সা‘ঈদ ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবান ইবনে সা‘ঈদ ইবনে আস (রাযিঃ)-কে এক যুদ্ধের সেনাপতি নিয়োগ করে মদীনা হতে নাজদের দিকে প্রেরণ করেন। অতঃপর আবান ইবনে সা‘ঈদ তার সাথীদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট তখন ফিরে আসেন, যখন তিনি খায়বর জয় করেন। এ সময় তাদের ঘোড়ার পালান ছিল খেজুর পাতার। তখন আবান (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! গনিমতের মাল আমাদের জন্যও বণ্টণ করুন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তাদের জন্য গনিমতের মাল বণ্টণ করবেন না। (কেননা, গনিমতের মাল বণ্টণ করা হয়ে গিয়েছিল) আর তারা এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। তখন আবান বলেনঃ হে জংলী বিড়াল! তুমি এমন কথা বলছ? তুমি তো এখনই ‘দাল’ পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আমাদের কাছে এসেছ! তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ ওহে আবান! তুমি বস। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মাঝে গনিমতের মাল বণ্টণ করেননি।
২৭১৫

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، وَسَأَلَهُ، إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَحَدَّثَنَاهُ الزُّهْرِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَنْبَسَةَ بْنَ سَعِيدٍ الْقُرَشِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحَهَا فَسَأَلْتُهُ أَنْ يُسْهِمَ لِي فَتَكَلَّمَ بَعْضُ وُلْدِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ فَقَالَ لاَ تُسْهِمْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَقُلْتُ هَذَا قَاتِلُ ابْنِ قَوْقَلٍ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ يَا عَجَبًا لِوَبْرٍ قَدْ تَدَلَّى عَلَيْنَا مِنْ قَدُومِ ضَالٍ يُعَيِّرُنِي بِقَتْلِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ أَكْرَمَهُ اللَّهُ عَلَى يَدَىَّ وَلَمْ يُهِنِّي عَلَى يَدَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «هَؤُلَاءِ كَانُوا نَحْوَ عَشَرَةٍ فَقُتِلَ مِنْهُمْ سِتَّةٌ وَرَجَعَ مَنْ بَقِيَ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭১৫. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া বালকী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সে সময় মদীনায় উপস্থিত হই, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বর জয় করে সেখানে ছিলেন। তখন আমি তাঁর নিকট গণিমতের মালের অংশ প্রার্থনা করি। তখন সা‘ঈদ ইবনে আসের জনৈক পুত্র বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাকে কোন অংশ দেবেন না। রাবী বলেন, তখন আমি বলিঃ ইনিই ‘ইবনে কাওকালের’ হত্যাকারী। তখন সা‘ঈদ ইবনে আস (রাযিঃ) বলেনঃ সেই অধম ব্যক্তির জন্য অবাক লাগে, যে ‘দাল’ পর্বতের চূড়া হতে নেমে আমাদের কাছে এসেছে। সে আমাকে এমন একজন মুসলমানকে হত্যার অপবাদ দ্বারা লজ্জা দিচ্ছে, যাকে আল্লাহ্ তাআলা আমার হাতের (হত্যার) দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং আমাকে তার হাতের দ্বরা অসম্মানিত করেননি, (অর্থাৎ আমি কাফির থাকা অবস্থায় তার হাতে মারা যাইনি)।

২৭১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمْنَا فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ فَأَسْهَمَ لَنَا أَوْ قَالَ فَأَعْطَانَا مِنْهَا وَمَا قَسَمَ لأَحَدٍ غَابَ عَنْ فَتْحِ خَيْبَرَ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ لِمَنْ شَهِدَ مَعَهُ إِلاَّ أَصْحَابَ سَفِينَتِنَا جَعْفَرٌ وَأَصْحَابُهُ فَأَسْهَمَ لَهُمْ مَعَهُمْ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৭১৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হাবশা (আবিসিনিয়া) থেকে ফেরার পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বরে গিয়ে সাক্ষাত করি, যখন তিনি খায়বর জয় করেন। তিনি আমাদেরকে গনিমতের মালে অংশ প্রদান করেন। অথবা রাবী বলেনঃ তিনি আমাদেরকে তা থেকে একটা অংশ প্রদান করেন। পক্ষান্তরে, যারা খায়বর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তিনি তাদেরকে কোন অংশ দেননি, তবে তাদের দিয়েছিলেন যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক ছিলেন। এছাড়া তিনি আমাদের কিশতীর সাথী (হাবশা হতে প্রত্যাগত) জা‘ফর ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এবং তাঁর সাথীদের তাদের সাথে গনিমতের মালের অংশ প্রদান করেন।

২৭১৭

حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ كُلَيْبِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ هَانِئِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ - يَعْنِي يَوْمَ بَدْرٍ - فَقَالَ " إِنَّ عُثْمَانَ انْطَلَقَ فِي حَاجَةِ اللَّهِ وَحَاجَةِ رَسُولِ اللَّهِ وَإِنِّي أُبَايِعُ لَهُ " . فَضَرَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَهْمٍ وَلَمْ يَضْرِبْ لأَحَدٍ غَابَ غَيْرُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭১৭. মাহবুব ইবনে মুসা আবু সাহিল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ উসমান (রাযিঃ) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রয়োজনে গিয়েছে। আর আমি তার পক্ষ হতে বায়আত গ্রহণ করছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর জন্য গনিমতের মাল নির্ধারণ করেন। আর তিনি উসমান (রাযিঃ) ব্যতীত অন্য কোন অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য মালে গনিমতের অংশ নির্ধারণ করেননি।

৪৬. মহিলা ও ক্রীতদাসকে গনিমতের মাল হতে কিছু দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ يُحْذَيَانِ مِنَ الْغَنِيمَةِ

২৭১৮

حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ كَذَا، وَكَذَا، وَذَكَرَ، أَشْيَاءَ وَعَنِ الْمَمْلُوكِ، أَلَهُ فِي الْفَىْءِ شَىْءٌ وَعَنِ النِّسَاءِ، هَلْ كُنَّ يَخْرُجْنَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَلْ لَهُنَّ نَصِيبٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَوْلاَ أَنْ يَأْتِيَ أُحْمُوقَةً مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ أَمَّا الْمَمْلُوكُ فَكَانَ يُحْذَى وَأَمَّا النِّسَاءُ فَقَدْ كُنَّ يُدَاوِينَ الْجَرْحَى وَيَسْقِينَ الْمَاءَ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রহঃ)

২৭১৮. মাহবুব ইবনে মুসা সালিহ (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার (খারিজী নেতা) ‘নাজদা’ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে পত্রযোগে কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন, যাতে এও ছিল যে, গোলামরা কি মালে গনিমতের অংশ পাবে? আর মহিলারা, তারা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে যেত? আর তারাও কি গনিমতের মালের অংশীদার?

তখন ইবনে আব্বাস (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ যদি আমার এরূপ সন্দেহ না থাকত যে, সে আহমকী করে বসবে, তবে আমি তার পত্রের জবাব দিতাম না। (তিনি জবাবে লিখেনঃ) গোলামদের পুরস্কার হিসাবে কিছু দেওয়া যাবে; আর মহিলাদের ব্যাপার হলোঃ তারা তো আহতদের সেবা-যত্ন করত এবং তারা পানি পান করাতো; (কাজেই, তারাও পুরস্কার হিসাবে কিছু গনিমতের অংশ পেত। যোদ্ধাদের ন্যায় পূর্ণ অংশ তারা পেত না।)
২৭১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، - يَعْنِي الْوَهْبِيَّ - حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، وَالزُّهْرِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ الْحَرُورِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنِ النِّسَاءِ، هَلْ كُنَّ يَشْهَدْنَ الْحَرْبَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهَلْ كَانَ يُضْرَبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ قَالَ فَأَنَا كَتَبْتُ كِتَابَ ابْنِ عَبَّاسٍ إِلَى نَجْدَةَ قَدْ كُنَّ يَحْضُرْنَ الْحَرْبَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَّا أَنْ يُضْرَبَ لَهُنَّ بِسَهْمٍ فَلاَ وَقَدْ كَانَ يُرْضَخُ لَهُنَّ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রহঃ)

২৭১৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাজদা হারূরী ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট পত্রযোগে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চায় যে, তারা কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হত? তাদের কি মালে গনিমত হতে অংশ দেওয়া হত? তখন আমি ইবনে আব্বাসের পক্ষ হতে নাজদার নিকট লিখি যে, তারা (মহিলারা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হত। মালে-গনিমত হতে তাদের জন্য কোন অংশ নির্ধারিত ছিল না। তবে তারা পুরস্কার হিসাবে কিছু পেত।

২৭২০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، وَغَيْرُهُ، أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَافِعُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنِي حَشْرَجُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ أَبِيهِ، أَنَّهَا خَرَجَتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ خَيْبَرَ سَادِسَ سِتِّ نِسْوَةٍ فَبَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ إِلَيْنَا فَجِئْنَا فَرَأَيْنَا فِيهِ الْغَضَبَ فَقَالَ " مَعَ مَنْ خَرَجْتُنَّ وَبِإِذْنِ مَنْ خَرَجْتُنَّ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ خَرَجْنَا نَغْزِلُ الشَّعَرَ وَنُعِينُ بِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَعَنَا دَوَاءُ الْجَرْحَى وَنُنَاوِلُ السِّهَامَ وَنَسْقِي السَّوِيقَ فَقَالَ " قُمْنَ " حَتَّى إِذَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ خَيْبَرَ أَسْهَمَ لَنَا كَمَا أَسْهَمَ لِلرِّجَالِ . قَالَ فَقُلْتُ لَهَا يَا جَدَّةُ وَمَا كَانَ ذَلِكَ قَالَتْ تَمْرًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭২০. ইবরাহীম ইবনে সা‘দ (রাহঃ) .... হাশরাজ ইবনে ইয়াযিদ (রাযিঃ) তাঁর দাদী হতে বর্ণনা করেন। তিনি (দাদী) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মহিলা ছয় জনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। এ খবর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি আমাদের ডেকে পাঠান। অতঃপর আমরা যখন তাঁর নিকট উপস্থিত হই, তখন তাঁর মাঝে রাগের চিহ্ন দেখতে পাই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কার সাথে বের হয়েছ এবং কার হুকুমে বের হয়েছ?

তখন আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা এজন্য এসেছি যে, আমরা গযল গেয়ে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের প্রেরণাদানে সাহায্য করব। আর আমাদের কাছে আহতদের সেবার জন্য ওষুধ আছে, আমরা তীর সংগ্রহ করব এবং আমরা ছাতু গুলে (যোদ্ধাদের) পান করাব। তখন তিনি বলেনঃ ঠিক আছে, তোমরা থাক। অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁকে খায়বরের বিজয় দান করলেন, তখন তিনি আমাদেরকে মালে-গনিমতের ঐরূপ হিসসা প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি পুরূষদের দিয়েছিলেন। রাবী বলেনঃ আমি তাকে (দাদীকে) জিজ্ঞাসা করেছিলাম, হে আমার দাদাী! ঐ হিসসায় কী ছিল? তিনি জবাবে বলেনঃ তা ছিল খেজুর।
২৭২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَيْرٌ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ مَعَ سَادَتِي فَكَلَّمُوا فِيَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِي فَقُلِّدْتُ سَيْفًا فَإِذَا أَنَا أَجُرُّهُ فَأُخْبِرَ أَنِّي مَمْلُوكٌ فَأَمَرَ لِي بِشَىْءٍ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «مَعْنَاهُ أَنَّهُ لَمْ يُسْهِمْ لَهُ» قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَقَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: «كَانَ حَرَّمَ اللَّحْمَ عَلَى نَفْسِهِ فَسُمِّيَ آبِي اللَّحْمِ»

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭২১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু লাহম (রাযিঃ) এর ক্রীতদাস উমাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার মুনীবের সাথে খায়বরের যুদ্ধে যোগদান করি। তারা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে আলাপ করেন। তখন তিনি আমাকে (যুদ্ধে শরীক হতে) অনুমতি দেন। তখন আমার কোমরে এমন একটি তরবারি ঝুলিয়ে দেয়া হয় যে, আমি একজন ক্রীতদাস। তখন তিনি (গনিমতের মালের পরিবর্তে) পুরস্কার হিসাবে কিছু সম্পদ প্রদান করেন।

২৭২২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنْتُ أَمِيحُ أَصْحَابِي الْمَاءَ يَوْمَ بَدْرٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭২২. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বদর যুদ্ধের দিন আমার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলাম।

৪৭. মুশরিক যুদ্ধের সময় মুসলমানদের সাথে থাকলে সে গনিমতের মালের অংশ পাবে কিনা?

باب فِي الْمُشْرِكِ يُسْهَمُ لَهُ

২৭২৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْفُضَيْلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَ يَحْيَى أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الْمُشْرِكِينَ لَحِقَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِيُقَاتِلَ مَعَهُ فَقَالَ " ارْجِعْ " . ثُمَّ اتَّفَقَا فَقَالَ " إِنَّا لاَ نَسْتَعِينُ بِمُشْرِكٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭২৩. মুসাদ্দাদ ও ইয়াহয়া ইবনে মা‘ঈন (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী ইয়াহয়া বলেনঃ জনৈক মুশরিক নবী (ﷺ) এর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁর সাথী হিসাবে (কাফিরদের বিরূদ্ধে) যুদ্ধ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ফিরে যাও।

রাবী মুসাদ্দাদ ও ইয়াহয়া উভয়ে এ মর্মে ঐক্যমত পোষণ করেন যে, তখন তিনি বলেছিলেনঃ তুমি ফিরে যাও। আমরা মুশরিকদের সাহায্য চাই না।

৪৮. ঘোড়ার জন্য মালে গনিমতের দুই অংশ নির্ধারণ প্রসঙ্গে।

باب فِي سُهْمَانِ الْخَيْلِ

২৭২৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ لِرَجُلٍ وَلِفَرَسِهِ ثَلاَثَةَ أَسْهُمٍ سَهْمًا لَهُ وَسَهْمَيْنِ لِفَرَسِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭২৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘোড়া ও সওয়ারীর জন্য (গনিমতের মালের) তিনটি অংশ নির্ধারণ করেন। যার এক অংশ ছিল তার এবং দুই অংশ ছিল ঘোড়ার।

২৭২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو عَمْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَةَ نَفَرٍ وَمَعَنَا فَرَسٌ فَأَعْطَى كُلَّ إِنْسَانٍ مِنَّا سَهْمًا وَأَعْطَى لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭২৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু আমরাহ তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমরা চার ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি, আর আমাদের সাথে ছিল একটি ঘোড়া। তিনি আমাদের প্রত্যেককে (মালে-গনিমতের) এক-একটি হিসসা প্রদান করেন এবং ঘোড়ার জন্য দুটি অংশ প্রদান করেন।

২৭২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ آلِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ أَبِي عَمْرَةَ، بِمَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ ثَلاَثَةَ نَفَرٍ . زَادَ فَكَانَ لِلْفَارِسِ ثَلاَثَةُ أَسْهُمٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭২৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু আমরাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আবু আমরাহ (রাযিঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি সেই বর্ণনায় (চারজনের স্থলে) তিনজনের কথা বলেছেন। আরো অতিরিক্ত বলেছেনঃ অশ্বারোহী সৈন্যের জন্য ছিল তিনটি অংশ।

৪৯. ঘোড়ার জন্য একটি অংশ নির্ধারণ প্রসঙ্গে।

باب فِيمَنْ أَسْهَمَ لَهُ سَهْمًا

২৭২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُجَمِّعُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَمِّعِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَعْقُوبَ بْنَ مُجَمِّعٍ، يَذْكُرُ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ الأَنْصَارِيِّ وَكَانَ أَحَدَ الْقُرَّاءِ الَّذِينَ قَرَءُوا الْقُرْآنَ قَالَ شَهِدْنَا الْحُدَيْبِيَةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا انْصَرَفْنَا عَنْهَا إِذَا النَّاسُ يَهُزُّونَ الأَبَاعِرَ فَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ مَا لِلنَّاسِ قَالُوا أُوحِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَخَرَجْنَا مَعَ النَّاسِ نُوجِفُ فَوَجَدْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاقِفًا عَلَى رَاحِلَتِهِ عِنْدَ كُرَاعِ الْغَمِيمِ فَلَمَّا اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَرَأَ عَلَيْهِمْ ( إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا ) فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَتْحٌ هُوَ قَالَ " نَعَمْ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّهُ لَفَتْحٌ " . فَقُسِّمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَسَّمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ فِيهِمْ ثَلاَثُمِائَةِ فَارِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاجِلَ سَهْمًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " حَدِيثُ أَبِي مُعَاوِيَةَ أَصَحُّ وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ، وَأَرَى الْوَهْمَ فِي حَدِيثِ مُجَمِّعٍ أَنَّهُ قَالَ: «ثَلَاثَ مِائَةِ فَارِسٍ» . وَكَانُوا مِائَتَيْ فَارِسٍ "

বর্ণনাকারী: মুজাম্মি' ইবনে জারিয়া (রাঃ)

২৭২৭. মুহাম্মাদ ইবনে ‘ঈসা (রাহঃ) ..... মুজমি ইবনে জারিয়া আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যারা কুরআন তিলাওয়াত করতে পারতেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনি বলেনঃ আমরা হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। যখন আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি, (তখন দেখতে পাই যে,) লোকেরা তাদের উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় লোকেরা তাদের পরস্পর একে অন্যকে জিজ্ঞাসা করে যে, লোদের কি হয়েছে? তারা বলেঃ নবী (ﷺ) এর উপর ওহী নাযিল করা হয়েছে। তখন আমরাও লোকদের সাথে দ্রুত সেদিকে ধাবিত হই।

অতঃপর আমরা নবী (ﷺ)কে ‘কুরা‘ইল-গামীম’ নামক স্থানের নিকট তাঁর বাহনের উপর আরূঢ় অবস্থায় পাই। লোকজন যখন তাঁর নিকট সমবেত হলো, তখন তিনি সূরা ‘‘ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম মুবীনা’’ তিলাওয়াত করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা-ই কি বিজয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ। এটাই বিজয়। ফলে, খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত ধন-সম্পদকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আঠার ভাগে বিভক্ত করেন এবং এই সময় সৈন্য-সংখ্যা ছিল এক হাজার পাঁচশ’ জন, যার মাঝে তিনশ’ লোক ছিলেন অশ্বারোহী)। অতঃপর তিনি অশ্বারোহী বাহিনীর লোকদের দু‘টি অংশ প্রদান করেন এবং পদাতিক বাহিনীর লোকদের একটি অংশ।

৫০. গণমিতের মাল হতে কাউকে কিছু পুরস্কার হিসাবে দেওয়া।

باب فِي النَّفْلِ

২৭২৮

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ " مَنْ فَعَلَ كَذَا وَكَذَا فَلَهُ مِنَ النَّفْلِ كَذَا وَكَذَا " قَالَ فَتَقَدَّمَ الْفِتْيَانُ وَلَزِمَ الْمَشْيَخَةُ الرَّايَاتِ فَلَمْ يَبْرَحُوهَا فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ قَالَتِ الْمَشْيَخَةُ كُنَّا رِدْءًا لَكُمْ لَوِ انْهَزَمْتُمْ لَفِئْتُمْ إِلَيْنَا فَلاَ تَذْهَبُوا بِالْمَغْنَمِ وَنَبْقَى فَأَبَى الْفِتْيَانُ وَقَالُوا جَعَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ قُلِ الأَنْفَالُ لِلَّهِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ ) يَقُولُ فَكَانَ ذَلِكَ خَيْرًا لَهُمْ فَكَذَلِكَ أَيْضًا فَأَطِيعُونِي فَإِنِّي أَعْلَمُ بِعَاقِبَةِ هَذَا مِنْكُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭২৮. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বদর যুদ্ধের দিন বলেন, যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, অথবা এ কাজ করবে, সে ব্যক্তি (গণমিতের মাল হতে) এরূপ, এরূপ অতিরিক্ত সম্পদ প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে যুবাকারা সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং বয়স্করা তাদের স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা যখন তাদের বিরূদ্ধে বিজয় দান করেন, তখন বয়স্করা বলেঃ আমরা তো তোমাদের সাহায্যকারী ও পৃষ্ঠপোষক। যদি তোমরা পরাজিত হতে, তবে অবশ্যই তোমরা আমাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে। কাজেই, এ হতে পারে না যে, গনিমতের মাল সব তোমরা নিয়ে যাবে, আর আমরা এমনিই থাকব।

তখন যুবকেরা এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে এবং বলেঃ এ তো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ সময় আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘লোকেরা আপনাকে আনফাল’ আল্লাহ্ প্রদত্ত মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, এ তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের যেমন আপনার রব আপনাকে সত্য সত্যই ঘর হতে বের হয়ে (যুদ্ধে) যাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন; আর কোন কোন মু‘মিনের নিকট এটা অপ্রিয় মনে হয়েছিল।’’ তিনি বলেনঃ সেটিই তাদের জন্য উত্তম ছিল এবং এই গনিমতের মাল বণ্টন প্রক্রিয়াও উত্তম। অতএব, তোমরা আমার অনুসরণ কর (গনিমতের মাল বণ্টনের ব্যাপারে কোনরূপ ঝগড়া-ফাসাদ করো না)। কেননা, আমি এর পরিণতি সম্পর্কে অধিক অবগত।
২৭২৯

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ بَدْرٍ " مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ كَذَا وَكَذَا وَمَنْ أَسَرَ أَسِيرًا فَلَهُ كَذَا وَكَذَا " ثُمَّ سَاقَ نَحْوَهُ وَحَدِيثُ خَالِدٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭২৯. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বদর যুদ্ধের দিন এরূপ ঘোষণা দেন যে, যে ব্যক্তি কাফিরকে হত্যা করবে, সে এরূপ পুরস্কার পাবে, আর যে কোন কাফিরকে বন্দী করবে, সে এরূপ পুরস্কার পাবে। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর রাবী খালিদ বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ।

২৭৩০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي دَاوُدُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ قَالَ فَقَسَّمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسَّوَاءِ . وَحَدِيثُ خَالِدٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৩০. হারূন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার ইবনে বিলাল (রাহঃ) .... দাউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গনিমতের মাল সবার মাঝে সমানভাবে বণ্টণ করে দিয়েছিলেন। খালিদ বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ।

২৭৩১

حَدَّثَنِي هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جِئْتُ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ بِسَيْفٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ شَفَى صَدْرِي الْيَوْمَ مِنَ الْعَدُوِّ فَهَبْ لِي هَذَا السَّيْفَ . قَالَ " إِنَّ هَذَا السَّيْفَ لَيْسَ لِي وَلاَ لَكَ " فَذَهَبْتُ وَأَنَا أَقُولُ يُعْطَاهُ الْيَوْمَ مَنْ لَمْ يُبْلِ بَلاَئِي . فَبَيْنَا أَنَا إِذْ جَاءَنِي الرَّسُولُ فَقَالَ أَجِبْ . فَظَنَنْتُ أَنَّهُ نَزَلَ فِيَّ شَىْءٌ بِكَلاَمِي فَجِئْتُ فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ سَأَلْتَنِي هَذَا السَّيْفَ وَلَيْسَ هُوَ لِي وَلاَ لَكَ وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ جَعَلَهُ لِي فَهُوَ لَكَ ثُمَّ قَرَأَ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ قُلِ الأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قِرَاءَةُ ابْنِ مَسْعُودٍ يَسْأَلُونَكَ النَّفْلَ .

বর্ণনাকারী: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

২৭৩১. হান্নাদ ইবনে সিরী (রাহঃ) .... মুস’আব ইবনে সা‘দ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ বদর-যুদ্ধের দিন আমি একখানি তরবারি নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হই এবং আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আজ দুশমনদের পক্ষ হতে আমার দিল ঠাণ্ডা হয়ে গেছে (অর্থাৎ তাদের আমি ইচ্ছামত নিধন করেছি)। তাই এ তরবারিখানা আমাকে দান করূন। তিনি বলেনঃ এ তরবারি আমারও নয় এবং তোমারও নয়। তখন আমি এ বলে ফিরে যাই যে, আজ এ তরবারি হয়ত এমন ব্যক্তির অংশে প্রদত্ত হবে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে আমার মত কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হয়নি।

এমনসময় আমার কাছে একজন দূত এসে বললঃ চল, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তোমাকে ডাকছেন। তখন আমি ধারণা করি যে, আমার এ কথাবর্তার ব্যাপারে হয়ত কোন আয়াত নাযিল হয়েছে। অতঃপর আমি আসলে নবী (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি আমার নিকট এ তরবরিখানা চেযেছিলে কিন্তু তখন তা আমারও ছিল না এবং তোমারও ছিল না। এখন আল্লাহ্ তাআলা এটা আমাকে প্রদান করেছেন, তাই আমি এখন তা তোমাকে দান করছি। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ তারা আপনাকে আনফাল’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের।

৫১. সেনা বাহিনী হতে বহির্গত কোন বিশেষ দলকে কোন কিছু অতিরিক্ত দেয়া।

باب فِي نَفْلِ السَّرِيَّةِ تَخْرُجُ مِنَ الْعَسْكَرِ

২৭৩২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْطَاكِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ - الْمَعْنَى، - كُلُّهُمْ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَيْشٍ قِبَلَ نَجْدٍ وَانْبَعَثَتْ سَرِيَّةٌ مِنَ الْجَيْشِ فَكَانَ سُهْمَانُ الْجَيْشِ اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا وَنَفَّلَ أَهْلَ السَّرِيَّةِ بَعِيرًا بَعِيرًا فَكَانَتْ سُهْمَانُهُمْ ثَلاَثَةَ عَشَرَ ثَلاَثَةَ عَشَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩২. আব্দুল ওয়াহব ইবনে নাজদা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নাজদের দিকে প্রেরিত এক বাহিনীর সঙ্গে পাঠান এবং অন্য একটি সেনাদলকে শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করার জন্য প্রেরণ করেন। বাহিনীর সৈন্যরা সবাই বারটি করে উট গনিমতের মাল হিসাবে পায় এবং শত্রুদের প্রতি প্রেরিত দলটির সবাই আরো একটি করে অতিরিক্ত উট পান। ফলে, তাদের সকলের অংশে তেরটি করে উট হয়।

২৭৩৩

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ قَالَ الْوَلِيدُ - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - حَدَّثْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قُلْتُ وَكَذَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ لاَ تَعْدِلْ مَنْ سَمَّيْتَ بِمَالِكٍ هَكَذَا أَوْ نَحْوَهُ يَعْنِي مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৩৩. ওয়ালীদ ইবনে উতবা দিমাশকী (রাহঃ) ...... ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবনে মুবারকের নিকট উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করে বললাম, ইবনে আবু ফারওয়াহ নাফে’ হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেনঃ তুমি যাদের নাম উল্লেখ করেছ, তারা কেউ-ই মালিক ইবনে আনাসের সমান বিশ্বস্ত নয়।

২৭৩৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ الْكِلاَبِيَّ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً إِلَى نَجْدٍ فَخَرَجْتُ مَعَهَا فَأَصَبْنَا نَعَمًا كَثِيرًا فَنَفَّلَنَا أَمِيرُنَا بَعِيرًا بَعِيرًا لِكُلِّ إِنْسَانٍ ثُمَّ قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَسَّمَ بَيْنَنَا غَنِيمَتَنَا فَأَصَابَ كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا بَعْدَ الْخُمُسِ وَمَا حَاسَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالَّذِي أَعْطَانَا صَاحِبُنَا وَلاَ عَابَ عَلَيْهِ بَعْدَ مَا صَنَعَ فَكَانَ لِكُلِّ رَجُلٍ مِنَّا ثَلاَثَةَ عَشَرَ بَعِيرًا بِنَفْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩৪. হান্নাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) নাজদের দিকে একদল সৈন্য প্রেরণ করেন, তখন আমিও তাতে শরীক ছিলাম। সেখানে আমরা প্রচুর গনিমতের মাল লাভ করি এবং আমাদের নেতা আমাদের সকলকে একটি করে উট পুরস্কার হিসাবে প্রদান করেন। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি আমাদের প্রাপ্ত মালে গনিমত আমাদের মাঝে বণ্টণ করে দেন। তখন আমরা এক-তৃতীয়াংশ বাদ দেওয়ার পরেও বারোটি করে উট পাই। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নেতা আমাদের যে উট দিয়েছিল, তার হিসাব নেননি এবং এ জন্য তাঁর সমালোচনাও করেননি। তখন আমাদের সবাই পুরস্কার স্বরূপ প্রাপ্ত উটসহ তেরটি উট পাই।

২৭৩৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، - الْمَعْنَى - عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً فِيهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قِبَلَ نَجْدٍ فَغَنِمُوا إِبِلاً كَثِيرَةً فَكَانَتْ سُهْمَانُهُمُ اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا وَنُفِّلُوا بَعِيرًا بَعِيرًا . زَادَ ابْنُ مَوْهَبٍ فَلَمْ يُغَيِّرْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলিমা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নাজদের দিকে একটি সেনাবহিনী পাঠান, যাতে ইবনে উমর (রাযিঃ)-ও শামিল ছিলেন। তাঁরা প্রচুর পরিমাণে গনিমতের মাল হাসিল করেন। ফলে তাদের সকলের ভাগে বারটি করে উট আসে। পরে পুরস্কার হিসাবে আরো একটি করে উট প্রদত্ত হয়।

রাবী ইবনে মাওয়াহব এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ বণ্টন আর পরিবর্তন করেননি।
২৭৩৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ فَبَلَغَتْ سُهْمَانُنَا اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا وَنَفَّلَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعِيرًا بَعِيرًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ بُرْدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ نَافِعٍ مِثْلَ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَرَوَاهُ أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ وَنُفِّلْنَا بَعِيرًا بَعِيرًا . لَمْ يَذْكُرِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের কোন এক যুদ্ধে প্রেরণ করেন, যাতে আমরা সবাই বারটি করে উট (মালে-গনিমত) হিসাবে পাই। পরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের আরো একটি করে উট অতিরিক্ত (পুরস্কার) হিসাবে প্রদান করেন।

২৭৩৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، ح وَحَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنِي حُجَيْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَ يُنَفِّلُ بَعْضَ مَنْ يَبْعَثُ مِنَ السَّرَايَا لأَنْفُسِهِمْ خَاصَّةً النَّفْلَ سِوَى قَسْمِ عَامَّةِ الْجَيْشِ وَالْخُمُسُ فِي ذَلِكَ وَاجِبٌ كُلُّهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩৭. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ইবনে লাঈস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য পাঠাতেন, তাদের বিশেষ কোন দল বা বাহিনীকে তিনি পুরস্কার দিতেন, যা তাদের বৈশিষ্টের জন্য নির্ধারিত হত এবং তা হতে সাধারণ সেনাবাহিনীর দেয় অংশের অতিরিক্ত। কিন্তু ″খুমুস″ বা এক-পঞ্চমাংশ সব ধরনের মালে গনিমত হতে নেয়া হত।

২৭৩৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا حُيَىٌّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمَ بَدْرٍ فِي ثَلاَثِمِائَةٍ وَخَمْسَةَ عَشَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ حُفَاةٌ فَاحْمِلْهُمُ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ عُرَاةٌ فَاكْسُهُمُ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ جِيَاعٌ فَأَشْبِعْهُمْ " . فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ بَدْرٍ فَانْقَلَبُوا حِينَ انْقَلَبُوا وَمَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلاَّ وَقَدْ رَجَعَ بِجَمَلٍ أَوْ جَمَلَيْنِ وَاكْتَسَوْا وَشَبِعُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৩৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তিনশত পনের জনের বাহিনী নিয়ে রওয়ানা হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপ দুআ করেনঃ

اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ حُفَاةٌ فَاحْمِلْهُمُ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ عُرَاةٌ فَاكْسُهُمُ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ جِيَاعٌ فَأَشْبِعْهُمْ

অর্থঃ ″হে আল্লাহ! এরা পদাতিক বাহিনীর লোক, এদের বাহন প্রদান করূন, হে আল্লাহ! এরা নগ্নদেহী, এদের পরিধেয় দান করূন। ইয়া আল্লাহ্! এরা ক্ষুধার্ত, এদের পরিতৃপ্ত করূন।″

অতঃপর আল্লাহ্ তাঁকে বদর যুদ্ধে বিজয় প্রদান করেন। অতঃপর তাঁরা (সাহাবীরা) যখন ফিরে আসেন, তখন তাদের কেউ এরূপ ছিলেন না যে, একটি বা দুটি উট না নিয়ে ফিরেছেন। আর তাঁরা কাপড়ও পান এবং পরিতৃপ্ত হন।

৫২. পুরস্কার দেওয়ার আগে ’খুমুস’ নেয়া প্রসঙ্গে।

باب فِيمَنْ قَالَ الْخُمُسُ قَبْلَ النَّفْلِ

২৭৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ الشَّامِيِّ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ جَارِيَةَ التَّمِيمِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَفِّلُ الثُّلُثَ بَعْدَ الْخُمُسِ .

বর্ণনাকারী: হাবীব ইবনে মাসলামা (রাঃ)

২৭৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... হাবীব ইবনে মাসলামা ফিহরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘খুমুস’ বা এক-পঞ্চমাংশ নেয়ার পর গনিমতের মালের ‘ছুলুছ’ বা এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত (পুরস্কার) হিসাবে প্রদান করতেন।

২৭৪০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ الْجُشَمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنِ ابْنِ جَارِيَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُنَفِّلُ الرُّبُعَ بَعْدَ الْخُمُسِ وَالثُّلُثَ بَعْدَ الْخُمُسِ إِذَا قَفَلَ .

বর্ণনাকারী: হাবীব ইবনে মাসলামা (রাঃ)

২৭৪০. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... হাবীব ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘খুমুস’ নেয়ার পর ‘রুবউ’ বা এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত (পুরস্কার) হিসাবে প্রদান করতেন। আর তিনি যুদ্ধ থেকে ফেরার পর, ‘খুমুস’ গ্রহণের পর (মালে-গনিমতের) এক- তৃতীয়াংশ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করতেন।

২৭৪১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَشِيرِ بْنِ ذَكْوَانَ، وَمَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيَّانِ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَهْبٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ مَكْحُولاً، يَقُولُ كُنْتُ عَبْدًا بِمِصْرَ لاِمْرَأَةٍ مِنْ بَنِي هُذَيْلٍ فَأَعْتَقَتْنِي فَمَا خَرَجْتُ مِنْ مِصْرَ وَبِهَا عِلْمٌ إِلاَّ حَوَيْتُ عَلَيْهِ فِيمَا أُرَى ثُمَّ أَتَيْتُ الْحِجَازَ فَمَا خَرَجْتُ مِنْهَا وَبِهَا عِلْمٌ إِلاَّ حَوَيْتُ عَلَيْهِ فِيمَا أُرَى ثُمَّ أَتَيْتُ الْعِرَاقَ فَمَا خَرَجْتُ مِنْهَا وَبِهَا عِلْمٌ إِلاَّ حَوَيْتُ عَلَيْهِ فِيمَا أُرَى ثُمَّ أَتَيْتُ الشَّامَ فَغَرْبَلْتُهَا كُلُّ ذَلِكَ أَسْأَلُ عَنِ النَّفْلِ فَلَمْ أَجِدْ أَحَدًا يُخْبِرُنِي فِيهِ بِشَىْءٍ حَتَّى أَتَيْتُ شَيْخًا يُقَالُ لَهُ زِيَادُ بْنُ جَارِيَةَ التَّمِيمِيُّ فَقُلْتُ لَهُ هَلْ سَمِعْتَ فِي النَّفْلِ شَيْئًا قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ حَبِيبَ بْنَ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيَّ يَقُولُ شَهِدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ الرُّبُعَ فِي الْبَدْأَةِ وَالثُّلُثَ فِي الرَّجْعَةِ .

বর্ণনাকারী: মাকহুল শামী (রহঃ)

২৭৪১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আহমদ ইবনে বাশীর (রাহঃ) .... মাকহুল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মিসরে এক মহিলার গোলাম ছিলাম, যিনি বনু হুযায়ল গোত্রের অধিবাসী ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে আযাদ’ করে দেন। আমি মিসর থেকে ততক্ষণ বের হইনি, যতক্ষণ না আমি আমার জানার মত সব জ্ঞান সেখান থেকে আহরণ করি। পরে আমি হিজাযে গমন করি এবং সেখানে ততদিন অবস্থান করি, যতদিন না আমি আমার জানার মত সব জ্ঞান আহরণ করি।

পরে আমি শামদেশে (সিরিয়া) গমন করি এবং সারা দেশে ঘুরে সেখানকার বিজ্ঞ ব্যক্তিদের আমি ‘নফল’ বা অতিরিক্ত কি, তা জিজ্ঞাসা করতে থাকি। কিন্তু আমি সেখানে এমন কাউকে পাইনি, যে এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারে। অবশেষে আমার সাথে একজন ‘শায়েখের’ দেখা হয়, যাকে যিয়াদ ইবনে জারিয়া তামীমী বলা হত। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কি ‘নফলের’ ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি হাবীব ইবনে মাসলামা ফিহরী (রাযিঃ)-কে এইরূপ বলতে শুনেছিঃ আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে (মালে-গনিমতের) এক চতুর্থাংশ নফল বা পুরস্কার হিসাবে প্রদান করেন এবং জিহাদ থেকে ফেরার পর এক-তৃতীয়াংশ প্রদান করেন।

৫৩. সেনাবাহিনীর এক অংশের মাল প্রাপ্তি প্রসঙ্গে।

باب فِي السَّرِيَّةِ تَرُدُّ عَلَى أَهْلِ الْعَسْكَرِ

২৭৪২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، - هُوَ مُحَمَّدٌ - بِبَعْضِ هَذَا ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنِي هُشَيْمٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُسْلِمُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَيُجِيرُ عَلَيْهِمْ أَقْصَاهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ يَرُدُّ مُشِدُّهُمْ عَلَى مُضْعِفِهِمْ وَمُتَسَرِّعُهُمْ عَلَى قَاعِدِهِمْ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ إِسْحَاقَ الْقَوَدَ وَالتَّكَافُؤَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৭৪২. কুতায়বা ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা ও দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, সমস্ত মুসলমানের রক্ত সমান। একজন সাধারণ মুসলিমও যে কোন লোককে নিরাপত্তা দিতে পারে। একইরূপে দূরে অবস্থানকারী মুসলমান পানাহ দিতে পারে, যদি তার নিকটে অবস্থানকারী ও মওজুদ থাকে। প্রত্যেক মুসলমান তার প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অন্য মুসলমানকে সাহায্য করেবে। যার সবল ও দ্রুতগাম্যী বাহন আছে, তার উচিত হবে দুর্বল ও ধীরগামী বাহণের মালিকের সাথে থাকা। একইভাবে, সেনাবহিনীর কোন বিশেষ অংশ যদি গনিমতের মাল হাসিল করে, তবে তা অন্য যোদ্ধাদের মাঝে বণ্টণ করে দেবে। কোন মুসলমানকে কোন কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না এবং কোন যিম্মীকে তার অঙ্গীকার রক্ষাকালে কতল করা যাবে না।

রাবী ইবনে ইসহাক তাঁর বর্ণিত হাদীসে ‘‘কোন মুসলমানকে কোন কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না’’ এবং ‘‘সব মুসলমানের রক্ত সমান’’ এ অংশ বর্ণনা করেননি।
২৭৪৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَغَارَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُيَيْنَةَ عَلَى إِبِلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَتَلَ رَاعِيَهَا وَخَرَجَ يَطْرُدُهَا هُوَ وَأُنَاسٌ مَعَهُ فِي خَيْلٍ فَجَعَلْتُ وَجْهِي قِبَلَ الْمَدِينَةِ ثُمَّ نَادَيْتُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ يَا صَبَاحَاهُ . ثُمَّ اتَّبَعْتُ الْقَوْمَ فَجَعَلْتُ أَرْمِي وَأَعْقِرُهُمْ فَإِذَا رَجَعَ إِلَىَّ فَارِسٌ جَلَسْتُ فِي أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى مَا خَلَقَ اللَّهُ شَيْئًا مِنْ ظَهْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ جَعَلْتُهُ وَرَاءَ ظَهْرِي وَحَتَّى أَلْقَوْا أَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثِينَ رُمْحًا وَثَلاَثِينَ بُرْدَةً يَسْتَخِفُّونَ مِنْهَا ثُمَّ أَتَاهُمْ عُيَيْنَةُ مَدَدًا فَقَالَ لِيَقُمْ إِلَيْهِ نَفَرٌ مِنْكُمْ . فَقَامَ إِلَىَّ أَرْبَعَةٌ مِنْهُمْ فَصَعِدُوا الْجَبَلَ فَلَمَّا أَسْمَعْتُهُمْ قُلْتُ أَتَعْرِفُونِي قَالُوا وَمَنْ أَنْتَ قُلْتُ أَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ وَالَّذِي كَرَّمَ وَجْهَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لاَ يَطْلُبُنِي رَجُلٌ مِنْكُمْ فَيُدْرِكُنِي وَلاَ أَطْلُبُهُ فَيَفُوتُنِي . فَمَا بَرِحْتُ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى فَوَارِسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّلُونَ الشَّجَرَ أَوَّلُهُمُ الأَخْرَمُ الأَسَدِيُّ فَيَلْحَقُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُيَيْنَةَ وَيَعْطِفُ عَلَيْهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَاخْتَلَفَا طَعْنَتَيْنِ فَعَقَرَ الأَخْرَمُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ وَطَعَنَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقَتَلَهُ فَتَحَوَّلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَى فَرَسِ الأَخْرَمِ فَيَلْحَقُ أَبُو قَتَادَةَ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ فَاخْتَلَفَا طَعْنَتَيْنِ فَعَقَرَ بِأَبِي قَتَادَةَ وَقَتَلَهُ أَبُو قَتَادَةَ فَتَحَوَّلَ أَبُو قَتَادَةَ عَلَى فَرَسِ الأَخْرَمِ ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمَاءِ الَّذِي جَلَّيْتُهُمْ عَنْهُ ذُو قَرَدٍ فَإِذَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَمْسِمِائَةٍ فَأَعْطَانِي سَهْمَ الْفَارِسِ وَالرَّاجِلِ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৭৪৩. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... ইয়াস ইবনে সালামা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আব্দুর রহমান ইবনে উয়াইনা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উট লুন্ঠণ করে এবং তার রাখালকে হত্যা করে। সে নিজে এবং তার অশ্বারোহী সাথীরা সেগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। তখন আমি মদীনার দিকে মুখ ফিরিয়ে তিনবার সাহায্যের জন্য ডেকে বলিঃ ইয়া সাবাহা। অতঃপর আমি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকি। আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকি এবং তাদের যখম করতে থাকি।

যখন তাদের থেকে কোন অশ্বারোহী সৈন্য আমার দিকে আসত, তখন আমি গাছের আড়ালে বসে পড়তাম। এভাবে আমি নবী করীম (ﷺ) এর জন্য, আল্লাহর সৃষ্ট বাহনসমূহের সবকে উদ্ধার করে আমার পেছনে ফেলি। এ সময় তারা তাদের বোঝা হালকা করার জন্য তাঁদের ত্রিশটির অধিক বল্লম এবং ত্রিশটির বেশী চাদর ফেলে দেয়। এ সময় উয়াইনা তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে এবং বলেঃ তোমরা কিছু লোক এর মুকাবিলায় দাঁড়াও।

তখন তাদের চার ব্যক্তি আমার দিকে ফিরে দাঁড়ায় এবং পাহাড়ের উপর উঠতে থাকে। পরে যখন তারা আমার আওয়াজ শোনার মত নিকটে আসে, তখন আমি তাদের জিজ্ঞাসা করিঃ তোমরা কি আমাকে চিন? তখন তারা বলেঃ তুমি কে? জবাবে আমি বলিঃ আমি সালামা ইবনে আকওয়া’। ঐ সাত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ)কে সম্মানিত করেছেন, তোমাদের কেউ যদি আমাকে পাকড়াও করতে চায়, তবে সে কখনো আমাকে ধরতে পারবে না। পক্ষান্তরে আমি যদি তোমাদের কাউকে পাকড়াও করতে চাই, তবে সে কখনো রক্ষা পাবে না।

এর একটু পরেই আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রেরিত অশ্বারোহী বাহিনী বৃক্ষরাজির পাশ দিয়ে এগিয়ে আসছে, যার আগে ছিলেন আখরাম আসাদী। তিনি যখন আব্দুর রহমান ইবনে উয়াইনার নিকটবর্তী হন, তখন আব্দুর রহমান তাঁর উপর হামলা করে। তখন তারা পাস্পরকে আঘাত করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে আখরাম আব্দুর রহমানের ঘোড়াকে আঘাতের দ্বারা হত্যা করে এবং আব্দুর রহমান আখরামকে বল্লমের আঘাতে হত্যা করে। পরে আব্দুর রহমান আখরামের ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়।

তখন আবু কাতাদা (রাযিঃ) আব্দুর রহমানের উপর হামলা চালান এবং তারা উভয়ে ঘোরতর যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর ঘোড়া নিহত হয় এবং আবু কাতাদা আব্দুর রহমানকে হত্যা করে ফেলে। অতঃপর আবু কাতাদা আখরাম এর ঘোড়ায় সওয়ার হন। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট হাযির হই। এ সময় তিনি যে পানির ঝিলের নিকট অবস্থান করছিলেন, তার নাম ছিল ‘যু-কারাদ’। সেখান থেকে আমি ডাকাতদের পিছু ধাওয়া করেছিলাম। আমি সেখানে পৌঁছে দেখতে পাই যে, নবী (ﷺ) পাঁচশত লোকসহ সেখানে অবস্থান করছেন। তখন তিনি আমাকে (বীরত্বের জন্য) কজন অশ্বারোহী এবং একজন পদাতিক সৈন্যের সম-পরিমাণ গনিমতের মাল প্রদান করেন।

৫৪. সোনা, রূপা এবং গনিমতের প্রথম মাল হতে অতিরিক্ত প্রদান প্রসঙ্গে।

باب فِي النَّفْلِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَمِنْ أَوَّلِ مَغْنَمٍ

২৭৪৪

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي الْجُوَيْرِيَةِ الْجَرْمِيِّ، قَالَ أَصَبْتُ بِأَرْضِ الرُّومِ جَرَّةً حَمْرَاءَ فِيهَا دَنَانِيرُ فِي إِمْرَةِ مُعَاوِيَةَ وَعَلَيْنَا رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ يُقَالُ لَهُ مَعْنُ بْنُ يَزِيدَ فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَسَمَهَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَعْطَانِي مِنْهَا مِثْلَ مَا أَعْطَى رَجُلاً مِنْهُمْ ثُمَّ قَالَ لَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ نَفْلَ إِلاَّ بَعْدَ الْخُمُسِ " . لأَعْطَيْتُكَ . ثُمَّ أَخَذَ يَعْرِضُ عَلَىَّ مِنْ نَصِيبِهِ فَأَبَيْتُ .

বর্ণনাকারী: আবুল জুওয়াইরিয়া (রহঃ)

২৭৪৪. আবু সালিহ মাহবুব ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আবু জুওয়ায়রিয়া জারামী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুআবিয়া (রাযিঃ) এর খিলাফত কালে রোম দেশে স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি লাল রংয়ের একটি থলে পাই। এসময় আমাদের নেতা ছিলেন নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী, যাঁর নাম ছিল মাআন্ ইবনে ইয়াযীদ এবং তিনি ছিলেন বনু সালীম গোত্রের লোক। আমি উক্ত থলিটি তাঁর কাছে নিয়ে আসলে তিনি তা মুসলমানদের মাঝে বণ্টণ করে দেন এবং সেখান হতে আমাকেও কিছু প্রদান করেন।

অতঃপর তিনি বলেনঃ যদি আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে ঐরূপ না শুনতাম যে, খুমুস বা এক-পঞ্চমাংশ রাখার পর, নফল বা অতিরিক্ত প্রদান করবে, তবে আমি তোমাকে অধিক দিতাম। অতঃপর তিনি তাঁর নিজ অংশ হতে আমাকে কিছু দিতে চাইলে আমি তা নিতে অস্বীকার করি।
২৭৪৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আসিম ইবনে কুলাইব (রহঃ)

২৭৪৫. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আসিম ইবনে কুলাইব (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৫৫. যে সম্পদ কাফিরদের থেকে হস্তগত হয়, তা থেকে নেতার নিজের জন্য কিছু নেয়া।

باب فِي الإِمَامِ يَسْتَأْثِرُ بِشَىْءٍ مِنَ الْفَىْءِ لِنَفْسِهِ

২৭৪৬

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ الأَسْوَدَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَعِيرٍ مِنَ الْمَغْنَمِ فَلَمَّا سَلَّمَ أَخَذَ وَبَرَةً مِنْ جَنْبِ الْبَعِيرِ ثُمَّ قَالَ " وَلاَ يَحِلُّ لِي مِنْ غَنَائِمِكُمْ مِثْلُ هَذَا إِلاَّ الْخُمُسَ وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ فِيكُمْ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

২৭৪৬. ওয়ালীদ ইবনে উতবায়া (রাহঃ) .... আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গনিমতের মাল হিসাবে প্রাপ্ত একটা উটকে (সুতরা হিসাবে) সামনে রেখে আমাদের সঙ্গে নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি নামাযের সালাম ফিরাবার পর উটের পার্শ্বদেশের একটি পশম নিয়ে বললেনঃ আমার জন্য তোমাদের গনিমতের মাল হতে খুমুস ব্যতীত এই পশম বরাবরও নেয়া হালাল নয়। আর এই ‘খুমুস’ও অবশেষে তোমাদের কল্যাণের জন্যই ব্যয় হয়।

৫৬. ওয়াদা পূরণ করা।

باب فِي الْوَفَاءِ بِالْعَهْدِ

২৭৪৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْغَادِرَ يُنْصَبُ لَهُ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৪৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা কা‘নবী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য একটা ঝান্ডা স্থাপন করে বলা হবে, এ হলো অমুকের পুত্র ওয়াদা খেলাফীর চিহ্নস্বরূপ।

৫৭. নেতার দেওয়া ওয়াদা পালন করা।

باب فِي الإِمَامِ يُسْتَجَنُّ بِهِ فِي الْعُهُودِ

২৭৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৪৮. মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ইমাম বা নেতা ঢালস্বরূপ, যার নির্দেশে যুদ্ধ করা হয়।

২৭৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّ أَبَا رَافِعٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ بَعَثَتْنِي قُرَيْشٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُلْقِيَ فِي قَلْبِيَ الإِسْلاَمُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي وَاللَّهِ لاَ أَرْجِعُ إِلَيْهِمْ أَبَدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لاَ أَخِيسُ بِالْعَهْدِ وَلاَ أَحْبِسُ الْبُرُدَ وَلَكِنِ ارْجِعْ فَإِنْ كَانَ فِي نَفْسِكَ الَّذِي فِي نَفْسِكَ الآنَ فَارْجِعْ " . قَالَ فَذَهَبْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمْتُ . قَالَ بُكَيْرٌ وَأَخْبَرَنِي أَنَّ أَبَا رَافِعٍ كَانَ قِبْطِيًّا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا كَانَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَلاَ يَصْلُحُ .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

২৭৪৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু রাফি’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরাইশরা আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পাঠায়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে দেখার সাথে সাথেই আমার অন্তরে ইসলাম গ্রহণের প্রেরণা সৃষ্টি হয়। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর কসম! আমি কখন-ই তাদের কাছে ফিরে যাব না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আমি ওয়াদা খিলাফ করব না এবং দূতকে বন্দী করব না; বরং তুমি ফিরে যাও। অবশ্য সেখানে ফিরে যাওয়ার পর তোমার অন্তরে যদি এরূপ খেয়াল অবশিষ্ট থাকে, যা এখন আছে, তাহলে তুমি ফিরে এসো। রাবী আবু রাফি’ (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি ফিরে যাই এবং পরে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে ইসলাম কবুল করি।

বুকায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার নকিট [হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) এরূপ খবর দিয়েছেন যে, আবু রাফি’ (রাযিঃ)] একজন ক্রীতদাস ছিলেন।

৫৮. মুসলিম নেতা এবং কাফিরদের মাঝে সন্ধি হওয়ার পর তিনি শত্রুদেশ সফর করতে পারেন।

باب فِي الإِمَامِ يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ عَهْدٌ فَيَسِيرُ إِلَيْهِ

২৭৫০

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْفَيْضِ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، - رَجُلٍ مِنْ حِمْيَرَ - قَالَ كَانَ بَيْنَ مُعَاوِيَةَ وَبَيْنَ الرُّومِ عَهْدٌ وَكَانَ يَسِيرُ نَحْوَ بِلاَدِهِمْ حَتَّى إِذَا انْقَضَى الْعَهْدُ غَزَاهُمْ فَجَاءَ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ أَوْ بِرْذَوْنٍ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَفَاءٌ لاَ غَدْرٌ فَنَظَرُوا فَإِذَا عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ مُعَاوِيَةُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ فَلاَ يَشُدُّ عُقْدَةً وَلاَ يَحُلُّهَا حَتَّى يَنْقَضِيَ أَمَدُهَا أَوْ يَنْبِذَ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ " . فَرَجَعَ مُعَاوِيَةُ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৭৫০. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... হিময়ার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, সুলাইমান ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুআবিয়া (রাযিঃ) এবং রোমকদের মাঝে এরূপ একটি চুক্তি সম্পদিত হয় (যে, তারা এতদিন পর্যন্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ করবে না)। এ সময় তিনি তাদের দেশ সফর করতে থাকেন। এমনকি যখন সে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয, তখন তিনি তাদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। সে সময় সেখানে লাল রংের একটি ঘোড়ার পিঠে জনৈক ব্যক্তি হাযির হয় এবং বলতে থাকে, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! ওয়াদা পূরণ করা দরকার, যেন ওয়াদা ভঙ্গ না করা হয়।

অবশেষে দেখা গেল যে, তিনি হলেন আমর ইবনে আবাসাহ। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসের ওয়াদা ভঙ্গ হচ্ছে? তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, যদি কারাও সাথে কোন কওমের চুক্তি থাকে, তখন সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় কোন চুক্তি করবে না, আর না তার খিলাফ করবে। অতঃপর যখন সে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে, তখন পরস্পর ঘোষণার মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গ করা যাবে। এ কথা শোনার পর মুআবিয়া সেখান হতে ফিরে আসেন।

৫৯. ওয়াদা পূরণ করা এবং তার মর্যাদা রক্ষা করা।

باب فِي الْوَفَاءِ لِلْمُعَاهِدِ وَحُرْمَةِ ذِمَّتِهِ

২৭৫১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২৭৫১. উছমান ইবনে আভী শায়বা (রাহঃ) ..... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন কারণ ব্যতীত চুক্তিবদ্ধ কোন ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।

৬০. দূত প্রেরণ প্রসঙ্গে।

باب فِي الرُّسُلِ

২৭৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ كَانَ مُسَيْلِمَةُ كَتَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَقَدْ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَشْجَعَ يُقَالُ لَهُ سَعْدُ بْنُ طَارِقٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمِ بْنِ مَسْعُودٍ الأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِيهِ نُعَيْمٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُمَا حِينَ قَرَآ كِتَابَ مُسَيْلِمَةَ " مَا تَقُولاَنِ أَنْتُمَا " قَالاَ نَقُولُ كَمَا قَالَ . قَالَ " أَمَا وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنَّ الرُّسُلَ لاَ تُقْتَلُ لَضَرَبْتُ أَعْنَاقَكُمَا " .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহঃ)

২৭৫২. মুহাম্মাদ ইবনে আমর ও রাযী (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (ভণ্ডনবী) মুসায়লামা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে একটি পত্র লেখে। যার সম্পর্কে না‘ঈম ইবনে মাসউদ আশ‘জাঈ (রাযিঃ) তাঁর পিতা না‘ঈম (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসায়লামার পত্র পাঠান্তে তার দু‘জন দূতকে এ মর্মে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি? তখন তারা বলেঃ আমরা তা-ই বলি, সে যা বলে (অর্থাৎ সে যে নবুয়াতের দাবি করে, আমরা তাতে বিশ্বাসী)। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর কসম! দূতদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা যদি না থাকতো, তবে আমি তোমাদের দু‘জনের শিরশ্ছেদ করতাম।

২৭৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، أَنَّهُ أَتَى عَبْدَ اللَّهِ فَقَالَ مَا بَيْنِي وَبَيْنَ أَحَدٍ مِنَ الْعَرَبِ حِنَةٌ وَإِنِّي مَرَرْتُ بِمَسْجِدٍ لِبَنِي حَنِيفَةَ فَإِذَا هُمْ يُؤْمِنُونَ بِمُسَيْلِمَةَ . فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمْ عَبْدُ اللَّهِ فَجِيءَ بِهِمْ فَاسْتَتَابَهُمْ غَيْرَ ابْنِ النَّوَّاحَةِ قَالَ لَهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْلاَ أَنَّكَ رَسُولٌ لَضَرَبْتُ عُنُقَكَ " . فَأَنْتَ الْيَوْمَ لَسْتَ بِرَسُولٍ فَأَمَرَ قَرَظَةَ بْنَ كَعْبٍ فَضَرَبَ عُنُقَهُ فِي السُّوقِ ثُمَّ قَالَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى ابْنِ النَّوَّاحَةِ قَتِيلاً بِالسُّوقِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৭৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... হারিছা ইবনে মুযাররিব (রাহঃ) একদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস‘উদ (রাযিঃ) এর নিকট হাযির হয়ে বলেনঃ কোন আরববাসীর সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই। তবে আমি বনু হানীফার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই যে, তারা মুসায়লামার (নবুওয়াতে) বিশ্বাস স্থাপন করেছে। তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) তাদের ডেকে পাঠান (এবং তাওবা করতে বলেন)। তারা আসে এবং ইবনে নাওয়াহা ব্যতীত সকলে তাওবা করে। তিনি (ইবনে মাসউদ) তাকে (ইবনে নাওয়াহাকে) বলেনঃ আমি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে (তোমার ব্যাপারে এরূপ) বলতে শুনেছি যে, ‘যদি তুমি দূত না হতে, তবে আমি তোমার শিরশ্ছেদ করতাম। আর আজ তুমি তো দূত নও, (কাজেই আজ তোমার অপরাধের শাস্তি পাবে)। তখন তিনি কারযা ইবনে কা‘বকে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তিনি তাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে (জনসমক্ষে) তার শিরশ্ছেদ করেন। অবশেষে তিনি বলেনঃ যে কেউ ইবনে নাওয়াহকে দেখতে চায়, সে যেন বাজারে গিয়ে তার মৃত লাশ দেখে আসে।

৬১. মুসলিম মহিলার কোন কাফিরের নিরাপত্তা দেওয়া।

باب فِي أَمَانِ الْمَرْأَةِ

২৭৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ هَانِئٍ بِنْتُ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّهَا أَجَارَتْ رَجُلاً مِنَ الْمُشْرِكِينَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ " قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ وَأَمَّنَّا مَنْ أَمَّنْتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭৫৪. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্ম-হানী বিনতে আবী তালিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন জনৈক মুশরিককে (হারিছ ইবনে হিশাম) আশ্রয় দেন। অতঃপর তিনি নবী করীম (ﷺ) এর কাছে আসেন এবং তাঁর নিকট ব্যাপারটি খুলে বলেন। রাবী বলেন, তখন তিনি বলেনঃ ‘তুমি যাকে পানাহ্ দিয়েছ, আমিও তাকে পানাহ্ দিলাম। আর তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম।

২৭৫৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَتِ الْمَرْأَةُ لَتُجِيرُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ فَيَجُوزُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৫৫. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি কোন স্ত্রীলোক কোন কাফিরকে মুসলমানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পানাহ্ দেয়, তবে তা জায়েয বা বৈধ হবে।

৬২. শত্রুর সাথে সন্ধি করা।

باب فِي صُلْحِ الْعَدُوِّ

২৭৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ ثَوْرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فِي بِضْعَ عَشَرَةَ مِائَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْىَ وَأَشْعَرَهُ وَأَحْرَمَ بِالْعُمْرَةِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ وَسَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ بِالثَّنِيَّةِ الَّتِي يُهْبَطُ عَلَيْهِمْ مِنْهَا بَرَكَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ فَقَالَ النَّاسُ حَلْ حَلْ خَلأَتِ الْقَصْوَاءُ . مَرَّتَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا خَلأَتْ وَمَا ذَلِكَ لَهَا بِخُلُقٍ وَلَكِنْ حَبَسَهَا حَابِسُ الْفِيلِ " . ثُمَّ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ يَسْأَلُونِي الْيَوْمَ خُطَّةً يُعَظِّمُونَ بِهَا حُرُمَاتِ اللَّهِ إِلاَّ أَعْطَيْتُهُمْ إِيَّاهَا " . ثُمَّ زَجَرَهَا فَوَثَبَتْ فَعَدَلَ عَنْهُمْ حَتَّى نَزَلَ بِأَقْصَى الْحُدَيْبِيَةِ عَلَى ثَمَدٍ قَلِيلِ الْمَاءِ فَجَاءَهُ بُدَيْلُ بْنُ وَرْقَاءَ الْخُزَاعِيُّ ثُمَّ أَتَاهُ - يَعْنِي عُرْوَةَ بْنَ مَسْعُودٍ - فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكُلَّمَا كَلَّمَهُ أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ قَائِمٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ السَّيْفُ وَعَلَيْهِ الْمِغْفَرُ فَضَرَبَ يَدَهُ بِنَعْلِ السَّيْفِ وَقَالَ أَخِّرْ يَدَكَ عَنْ لِحْيَتِهِ . فَرَفَعَ عُرْوَةُ رَأْسَهُ فَقَالَ مَنْ هَذَا قَالُوا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ . فَقَالَ أَىْ غُدَرُ أَوَلَسْتُ أَسْعَى فِي غَدْرَتِكَ وَكَانَ الْمُغِيرَةُ صَحِبَ قَوْمًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَتَلَهُمْ وَأَخَذَ أَمْوَالَهُمْ ثُمَّ جَاءَ فَأَسْلَمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا الإِسْلاَمُ فَقَدْ قَبِلْنَا وَأَمَّا الْمَالُ فَإِنَّهُ مَالُ غَدْرٍ لاَ حَاجَةَ لَنَا فِيهِ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اكْتُبْ هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ " . وَقَصَّ الْخَبَرَ فَقَالَ سُهَيْلٌ وَعَلَى أَنَّهُ لاَ يَأْتِيكَ مِنَّا رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ عَلَى دِينِكَ إِلاَّ رَدَدْتَهُ إِلَيْنَا . فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَضِيَّةِ الْكِتَابِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " قُومُوا فَانْحَرُوا ثُمَّ احْلِقُوا " . ثُمَّ جَاءَ نِسْوَةٌ مُؤْمِنَاتٌ مُهَاجِرَاتٌ الآيَةَ فَنَهَاهُمُ اللَّهُ أَنْ يَرُدُّوهُنَّ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَرُدُّوا الصَّدَاقَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ فَجَاءَهُ أَبُو بَصِيرٍ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ - يَعْنِي فَأَرْسَلُوا فِي طَلَبِهِ - فَدَفَعَهُ إِلَى الرَّجُلَيْنِ فَخَرَجَا بِهِ حَتَّى إِذَا بَلَغَا ذَا الْحُلَيْفَةِ نَزَلُوا يَأْكُلُونَ مِنْ تَمْرٍ لَهُمْ فَقَالَ أَبُو بَصِيرٍ لأَحَدِ الرَّجُلَيْنِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَى سَيْفَكَ هَذَا يَا فُلاَنُ جَيِّدًا . فَاسْتَلَّهُ الآخَرُ فَقَالَ أَجَلْ قَدْ جَرَّبْتُ بِهِ فَقَالَ أَبُو بَصِيرٍ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْهِ فَأَمْكَنَهُ مِنْهُ فَضَرَبَهُ حَتَّى بَرَدَ وَفَرَّ الآخَرُ حَتَّى أَتَى الْمَدِينَةَ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ يَعْدُو فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَى هَذَا ذُعْرًا " . فَقَالَ قَدْ قُتِلَ وَاللَّهِ صَاحِبِي وَإِنِّي لَمَقْتُولٌ فَجَاءَ أَبُو بَصِيرٍ فَقَالَ قَدْ أَوْفَى اللَّهُ ذِمَّتَكَ فَقَدْ رَدَدْتَنِي إِلَيْهِمْ ثُمَّ نَجَّانِي اللَّهُ مِنْهُمْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَيْلَ أُمِّهِ مِسْعَرَ حَرْبٍ لَوْ كَانَ لَهُ أَحَدٌ " . فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ عَرَفَ أَنَّهُ سَيَرُدُّهُ إِلَيْهِمْ فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى سِيفَ الْبَحْرِ وَيَنْفَلِتُ أَبُو جَنْدَلٍ فَلَحِقَ بِأَبِي بَصِيرٍ حَتَّى اجْتَمَعَتْ مِنْهُمْ عِصَابَةٌ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৭৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ...... মিস্ওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুদায়বিয়ার (সন্ধির) সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক হাজারের বেশী সাহাবী নিয়ে (মদীনা) থেকে মক্কার দিকে উমরার উদ্দেশ্যে বের হন। অবশেষে যখন তিনি যুল্-হুলায়ফা নামক স্থানে পোঁছান, তখন তিনি কুরবানীর পশুগুলো চিহ্নিত করেন, মাথার চুল মুণ্ডন করেন এবং উমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধেন। রাবী এরূপে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

রাবী আরো বলেনঃ এই সফরে চলার সময় এক পর্যায়ে নবী করীম (ﷺ) ছানিয়া উপত্যকার নিকটে পৌছায়, যেখান থেকে মক্কায় প্রবেশ করতে হয়, সেখানে তাঁকে নিয়ে তাঁর উটটি বসে পড়ে। তখন লোকেরা (সাহাবীরা) বলতে থাকেনঃ হাল-হাল(১), কাসওয়া(২) ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তারা দু‘বার এরূপ বলেন। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ কাসওয়া ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়নি এবং এর স্বভাবও এরূপ নয়; বরং একে হাতীর গতিরোধকারী প্রতিহত করেছে।(৩)

তারপর তিনি বলেনঃ সেই সাত্তার কসম, যার কবযায় আমার প্রাণ! আল্লাহর ঘরের মর্যাদা রক্ষার জন্য আজ কুরাইশরা আমার কাছে যা চাবে, আমি তাদেরকে তাই দেব। এরপর উটকে উঠতে বলা হলে সে উঠে দাঁড়াল। তারপর তিনি রাস্তা পরিবর্তন করে হুদায়বিয়ার শেষ প্রান্তের ময়দানে একটা ঝরণার পাশে অবতরণ করেন। অতঃপর তাঁর নিকট বুদায়ল ইবনে ওরাকা খুযাঈ আসে, পরে তাঁর কাছে আসে, উরওয়া ইবনে মাসউদ। তারা নবী করীম (ﷺ) এর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে। কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে (উরওয়া) নবী (ﷺ) এর দাঁড়ি স্পর্শ করে। এ সময় মুগীরা ইবনে শো‘বা নবী (ﷺ) এর নিকট দাঁড়িয়ে ছিলেন, যার সাথে ছিল তরবারি এবং মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ।

তিনি তার (উরওয়ার) হাতের উপর তরবারির বাঁট দিয়ে আঘাত করে বলেনঃ ‘‘তুমি তাঁর দাঁড়ি হতে তোমার হাত সরিয়ে নাও’’। তখন উরওয়া তার মাথা উঁচু করে বলেঃ এই ব্যক্তি কে? তাঁরা (সাহাবীগণ) বলেনঃ ইনি মুগীরা ইবনে শো‘বা। তখন উরওয়া বলেঃ ওহে ধোঁকাবাজ! আমি কি তোমার ধোকাবাযী করে অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারে সন্ধি করে দিতে চেষ্টা করিনি? (আর ব্যাপার এই ছিল যে) মুগীরা অন্ধকার যুগে কয়েকজন ব্যক্তিকে তার সাথী হিসাবে নেন, পরে তিনি তাদের হত্যা করে তাদের ধন-সম্পদ নিয়ে নেন। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কবুল করেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি তো তোমার ইসলাম গ্রহণ করাকে কবুল করলাম, কিন্তু ধন-সম্পদ যা ধোঁকাবাজীর দ্বারা অর্জন করেছ, এতে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। অতঃপর [মিসওয়ার (রাযিঃ)] হাদীসটির শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

অবশেষে নবী (ﷺ) আলী (রাযিঃ)-কে বলেনঃ লিখ, এ হলো ঐ সন্ধিপত্র, যার ভিত্তিতে মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এবং কুরাইশরা সন্ধি করছে। অতঃপর মুসাওবের (রাযিঃ) পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। আলোচনাকালে সুহাঈল বলেনঃ যদি আমাদের কেহ আপনার নিকট আপনার দীন গ্রহণ করে গমন করে, তবে আপনি তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

সন্ধিপত্র লেখা লেখির কাজ সমাপ্ত হলে নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা উঠ, তোমাদের পশুগুলোকে কুরবানী কর এবং তোমাদের মাথা মুড়িয়ে ফেল। এ সময় কয়েকজন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে হিজরত করে (মুসলমানদের) কাছে চলে আসেন, যাদের ফিরিয়ে দিতে আল্লাহ্ নিষেধ করেন এবং তাদের দেন-মোহর (যা তারা তাদের স্বামীদের থেকে নিয়েছিল, তা) ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

অতঃপর তিনি মদীনায় ফিরে আসেন। এ সময় তাঁর নিকট আবু বাসীর নামক জনৈক কুরাইশ আসে। কুরাইশরা তাঁকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য লোক পাঠায়। তখন তিনি তাঁকে তাদের দু‘ব্যক্তির হাতে সমর্পণ করেন। তারা উভয়ে তাঁকে নিয়ে (মদীনা থেকে) বের হয়, এমনকি যখন তারা যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছে, তখন তারা তাদের খেজুর খাওয়ার জন্য সেখানে অবতরণ করে। তখন আবু বাসীরের তাদের দু‘জনের একজনকে বলেনঃ ওহে অমুক, আল্লাহ শপথ! আমার নিকট তোমার তরবারিখানা বেশ উত্তম মনে হচ্ছে। তখন সে ব্যক্তি তার খাপ থেকে তা বের করে বললঃ আমি একে পরীক্ষা করেছি। তখন আবু বাসীর (রাযিঃ) বললেনঃ ওটা আমাকে একটু দেখাও না। তখন সে ব্যক্তি আবু বুসাইরের হাতে তা তুলে দেয়।

তখন তিনি তা দিয়ে তাকে আঘাত করেন, ফলে সে মরে যায়। দ্বিতীয় ব্যক্তি পালিয়ে যায় এবং মদীনায় গিয়ে পৌঁছে এবং সে দৌড়ে মসজিদের নববীতে প্রবেশ করে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এই ব্যক্তি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। সে বলেঃ আল্লার শপথ! আমার সাথীকে তো হত্যা করা হয়েছে এবং আমিও অবশ্য নিহত হতাম (কিন্তু পালিয়ে বেঁচেছি)। এ সময় আবু বাসীর সেখানে এসে হাযির হন এবং বলেনঃ আল্লাহ্ তো আপনার যিম্মাদরী পূর্ণ করে দিয়েছেন। কেননা, আপনি তো আমাকে (সন্ধির শর্তানুযায়ী) তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, পরে আল্লাহ্ আমাকে তাদের কবল হতে মুক্ত করেছেন।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এই লোক তো যুদ্ধের উত্তেজনাদাতা, তার মায়ের প্রতি অভিসম্পাত। যদি তার সাহায্যকারী কেউ থাকতো! অতঃপর তিনি (আবু বাসীর) যখন এ কথা শুনলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাকে আবার তাদের হাতে ফিরিয়ে দেবেন। তাই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সমুদ্র উপকুলে চলে যান। অতঃপর আবু জান্দাল (রাযিঃ)-ও পালিয়ে আবু বাসীর (রাযিঃ) এর সাথে মিলিত হন। এভাবে তাদের একটি বড় দল সেখানে জমায়েত হয়।
২৭৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَمَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، أَنَّهُمُ اصْطَلَحُوا عَلَى وَضْعِ الْحَرْبِ عَشْرَ سِنِينَ يَأْمَنُ فِيهِنَّ النَّاسُ وَعَلَى أَنَّ بَيْنَنَا عَيْبَةً مَكْفُوفَةً وَأَنَّهُ لاَ إِسْلاَلَ وَلاَ إِغْلاَلَ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৭৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে আ‘লা (রাহঃ) .... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান ইবনে হাকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ কুরাইশরা এ কথার উপর সন্ধি করেছিল যে, দশ বছর পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকবে, এ সময় মানুষেরা সুখে-শান্তিতে থাকবে, আমাদের পরস্পরের মাঝে পবিত্রতা বজায় থাকবে। আর এ সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোন চুরি-ডাকাতি হবে না।

২৭৫৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ مَالَ مَكْحُولٌ وَابْنُ أَبِي زَكَرِيَّاءَ إِلَى خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَمِلْتُ مَعَهُمَا فَحَدَّثَنَا عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ قَالَ جُبَيْرٌ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى ذِي مِخْبَرٍ - رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - فَأَتَيْنَاهُ فَسَأَلَهُ جُبَيْرٌ عَنِ الْهُدْنَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " سَتُصَالِحُونَ الرُّومَ صُلْحًا آمِنًا وَتَغْزُونَ أَنْتُمْ وَهُمْ عَدُوًّا مِنْ وَرَائِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: যু মিখবার (রাঃ)

২৭৫৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... হাসসান ইবনে আতিয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মাকহুল এবং ইবনে আবু যাকারিয়া (রাহঃ) খালিদ ইবনে মা‘দানের নিকট যান এবং আমিও তাদের সাথী হই। অতঃপর তিনি যুবাইর ইবনে নুফায়ল (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেন। যুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ তুমি আমাদের সঙ্গে নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবী যূ-মিখবার (রাযিঃ) এর কাছে চল। তখন আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হই এবং জুবাইর (রাযিঃ) তাঁর নিকট সন্ধির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ অচিরেই তোমরা রোমকদের সাথে এরূপ সন্ধি করবে, যাতে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। পরে তোমরা এবং তারা সম্মিলিত হয়ে অপর এক শত্রুর বিরূদ্ধে যুদ্ধ করবে।

৬৩. দুশমনকে তাদের দলভূক্ত হওয়ার ভান করে অসতর্ক অবস্থায় হত্যা করা।

باب فِي الْعَدُوِّ يُؤْتَى عَلَى غِرَّةٍ وَيُتَشَبَّهُ بِهِمْ

২৭৫৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لِكَعْبِ بْنِ الأَشْرَفِ فَإِنَّهُ قَدْ آذَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ " . فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُحِبُّ أَنْ أَقْتُلَهُ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَأْذَنْ لِي أَنْ أَقُولَ شَيْئًا . قَالَ " نَعَمْ قُلْ " . فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ قَدْ سَأَلَنَا الصَّدَقَةَ وَقَدْ عَنَّانَا قَالَ وَأَيْضًا لَتَمَلُّنَّهُ . قَالَ اتَّبَعْنَاهُ فَنَحْنُ نَكْرَهُ أَنْ نَدَعَهُ حَتَّى نَنْظُرَ إِلَى أَىِّ شَىْءٍ يَصِيرُ أَمْرُهُ وَقَدْ أَرَدْنَا أَنْ تُسْلِفَنَا وَسْقًا أَوْ وَسْقَيْنِ . قَالَ كَعْبٌ أَىَّ شَىْءٍ تَرْهَنُونِي قَالَ وَمَا تُرِيدُ مِنَّا قَالَ نِسَاءَكُمْ قَالُوا سُبْحَانَ اللَّهِ أَنْتَ أَجْمَلُ الْعَرَبِ نَرْهَنُكَ نِسَاءَنَا فَيَكُونُ ذَلِكَ عَارًا عَلَيْنَا . قَالَ فَتَرْهَنُونِي أَوْلاَدَكُمْ . قَالُوا سُبْحَانَ اللَّهِ يُسَبُّ ابْنُ أَحَدِنَا فَيُقَالُ رُهِنْتَ بِوَسْقٍ أَوْ وَسْقَيْنِ . قَالُوا نَرْهَنُكَ اللأْمَةَ يُرِيدُ السِّلاَحَ قَالَ نَعَمْ . فَلَمَّا أَتَاهُ نَادَاهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِ وَهُوَ مُتَطَيِّبٌ يَنْضَخُ رَأْسُهُ فَلَمَّا أَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ وَقَدْ كَانَ جَاءَ مَعَهُ بِنَفَرٍ ثَلاَثَةٍ أَوْ أَرْبَعَةٍ فَذَكَرُوا لَهُ قَالَ عِنْدِي فُلاَنَةُ وَهِيَ أَعْطَرُ نِسَاءِ النَّاسِ . قَالَ تَأْذَنُ لِي فَأَشُمُّ قَالَ نَعَمْ . فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي رَأْسِهِ فَشَمَّهُ قَالَ أَعُودُ قَالَ نَعَمْ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي رَأْسِهِ فَلَمَّا اسْتَمْكَنَ مِنْهُ قَالَ دُونَكُمْ . فَضَرَبُوهُ حَتَّى قَتَلُوهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৫৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কা‘ব ইবনে আশরাফকে কে হত্যা করবে? কেননা, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা দাঁড়িয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তাকে হত্যা করব। আপনি কি পছন্দ করেন যে, আমি তাকে হত্যা করি? জবাবে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি এটা-ই চাই। তখন তিনি (ইবনে মাসলামা) বলেনঃ তবে আমাকে অনুমতি দিন; যাতে আমি তার সাথে আপনার ব্যাপারে কিছু বলতে পারি। তখন তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন।

তিনি তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ এই ব্যক্তি (মুহাম্মাদ (ﷺ)) আমাদের কাছে সাদ্‌কা চেয়ে আমাদের বিপদে ফেলে দিয়েছে। তখন সে (কা‘ব) বলেঃ এতে আর কি বিপদ, তোমরা আরো বিপদের সম্মুখীন হবে। ইবনে মাসলামা বলেনঃ আমরা তো কেবলই তাঁর অনুসরণ শুরু করেছি, কাজেই তাঁর পরিণতি কি হয় তা না দেখা পর্যন্ত আমরা তাঁকে পরিত্যাগ করবনা। এখন আমি তোমার কাছে এই ইরাদা নিয়ে এসেছি যে, তুমি আমাকে এক বা দুই ‘ওসক’ পরিমাণ খাদ্য-শস্য করয দিবে।

তখন সে (কা‘ব) জিজ্ঞাসা করেঃ এর বিনিময়ে তুমি আমার কাছে কি বন্ধক রাখবে? তখন ইবনে মাসলামা বলেনঃ তুমি আমার নিকট হতে বন্ধক হিসাবে কি রাখতে চাও? তখন সে বলেঃ তোমারদের স্ত্রীদের বন্ধক রাখ। এতে তারা আশ্চর্য হয়ে বলেনঃ সুবহানাল্লাহ্! তুমি আরবের সুন্দরতম পুরুয়, যদি আমরা তোমার নিকট আমাদের স্ত্রীদের বন্ধক রাখি, তবে তা তো আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হবে!

তখন কা‘ব বলেঃ তবে তোমার সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তাঁরা বলেনঃ সুবহানাল্লাহ্! (তুমি কি চাও) আমাদের কারও সন্তানকে এজন্য ভর্ৎসনা করা হোক যে, তাদের বলা হবে, তোমাকে এক বা দুই ওসক পরিমাণ খাদ্যের জন্য বন্ধক রাখা হয়েছিল! তখন তাঁরা বলেনঃ আমারা তোমার কাছে হাতিয়ার অর্থাৎ যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখতে চাই। তখন কা‘ব বলেঃ আচ্ছা, তা-ই রাখ।

অতঃপর (রাতের বেলা) ইবনে মাসলামা তার নিকট গিয়ে তাকে ডাকলেন। তখন কা‘ব মাথায় তাঁর নিকট খুশবু লাগিয়ে তাঁর নিকট আসে। অতঃপর ইবনে মাসলামা যখন কা‘বের নিকট গিয়ে বসলেন, তখন তার সাথে আগমনকারী তিন বা চার ব্যক্তি কা‘বের নিকট খুশবুর ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে। তখন সে (কা‘ব) বলেঃ আমার নিকট অমুক নারী আছে, যে সব নারীদের চাইতে অধিক খুশবু ব্যবহার করে। তখন ইবনে মাসলামা বলেনঃ আমাকে একটু অনুমতি দাও, যাতে আমি তোমার চুলের খুশবুর ঘ্রাণ নিতে পারি।

তখন সে (কা‘ব) বলেঃ হ্যাঁ, নিতে পার। তখন ইবনে মাসলামা কা‘বের মাথার চুলে মাঝে হাত ঢুকিয়ে তার ঘ্রাণ গ্রহণ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি কি আবার ঘ্রাণ নিব? জবাবে কা‘ব বলেঃ হ্যাঁ, নিতে পার। তখন তিনি (ইবনে মাসলামা) কা‘বের মাথার চুলের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দেন এবং তাকে কাবু করে ফেলেন। আর তাঁর সাথীদের (ইশারায়) বলেনঃ তোমরা একে হত্যা কর। তখন তারা (সাথীরা) তাকে (কা‘বকে) এমনভাবে মারে যে, শেষ পর্যন্ত তারা তাকে কতল করে ফেলে।
২৭৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُزَابَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ مَنْصُورٍ - حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ الْهَمْدَانِيُّ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الإِيمَانُ قَيَّدَ الْفَتْكَ لاَ يَفْتِكُ مُؤْمِنٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৬০. মুহাম্মাদ ইবনে মাখরামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ঈমানের দাবী এই যে, কাউকে ধোঁকা দিয়ে হত্যা করা যাবে না। কাজেই, কোন মু‘মিন কাউকে ধোঁকা দিয়ে মারবে না।

৬৪. সফরকালে প্রতিটি উঁচুস্থানে আরোহণের সময় তাকবীর পাঠ করা।

باب فِي التَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ فِي الْمَسِيرِ

২৭৬১

حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْوٍ أَوْ حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنَ الأَرْضِ ثَلاَثَ تَكْبِيرَاتٍ وَيَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৬১. আল - কা‘নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন যুদ্ধ, হজ্জ অথবা উমরা হতে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনি যমীনের প্রতিটি উঁচুস্থানে পৌঁছে তিনবার তাকবীর পাঠ করতেন এবং বলতেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, বাদশাহী তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তকারী, তওবকরী, ইবাদত ও সিজদাকারী আমাদের রবের, আর প্রশংসাকারী তাঁরই। আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং তাঁর বান্দার সাহায্য করেছেন। আর শত্রুসেনাকে তিনি একাই বিধ্বস্ত, পরাজিত করেছেন।

৬৫. জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন নিসিদ্ধ হওয়ার পর পুনরায় অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب فِي الإِذْنِ فِي الْقُفُولِ بَعْدَ النَّهْىِ

২৭৬২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( لاَ يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ) الآيَةَ نَسَخَتْهَا الَّتِي فِي النُّورِ ( إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( غَفُورٌ رَحِيمٌ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭৬২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ছাবিত মারওয়াযী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর বাণীঃ (لاَ يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ) অর্থাৎ ‘‘তারা আপনার নিকট ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় না, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি″ হতে আয়াতের শেষ পর্যন্ত।’’ এই আয়াতের হুকুমটি সূরা নূরের নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়েছে, যা হলোঃ (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ) অর্থাৎ ‘‘বরং প্রকৃত মু‘মিন তারাই, যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে’’ হতে ......... মহা-ক্ষমাশীল, অনুগ্রহকারী’’ পর্যন্ত।

৬৬. কাউকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য পাঠান প্রসঙ্গে।

باب فِي بَعْثَةِ الْبُشَرَاءِ

২৭৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ " . فَأَتَاهَا فَحَرَّقَهَا ثُمَّ بَعَثَ رَجُلاً مِنْ أَحْمَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُبَشِّرُهُ يُكْنَى أَبَا أَرْطَاةَ .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২৭৬৩. আবু তাওবা রাবী‘ ইবনে নাফি‘ (রাহঃ) .... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেন যে, ‘‘তুমি কি আমাকে ‘যুল-খালাসা’ হতে নিশ্চিন্ত করবে না? তখন তিনি সেখানে গমন করেন এবং সে ঘরটি জ্বালিয়ে দেন। পরে তিনি আহমাস, গোত্রের জনৈক লোককে এই সুসংসবাদ পৌঁছানের জন্য নবী (ﷺ) এর নিকট পাঠান, যার কুনিয়াত ছিল আবু আরতা।

৬৭. সুসংবাদ বহনকারীকে পুরস্কৃত করা প্রসঙ্গে।

باب فِي إِعْطَاءِ الْبَشِيرِ

২৭৬৪

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ لِلنَّاسِ . وَقَصَّ ابْنُ السَّرْحِ الْحَدِيثَ قَالَ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا أَيُّهَا الثَّلاَثَةُ حَتَّى إِذَا طَالَ عَلَىَّ تَسَوَّرْتُ جِدَارَ حَائِطِ أَبِي قَتَادَةَ وَهُوَ ابْنُ عَمِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَوَاللَّهِ مَا رَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ ثُمَّ صَلَّيْتُ الصُّبْحَ صَبَاحَ خَمْسِينَ لَيْلَةً عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِنَا فَسَمِعْتُ صَارِخًا يَا كَعْبُ بْنَ مَالِكٍ أَبْشِرْ . فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِي سَمِعْتُ صَوْتَهُ يُبَشِّرُنِي نَزَعْتُ لَهُ ثَوْبَىَّ فَكَسَوْتُهُمَا إِيَّاهُ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى إِذَا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فَقَامَ إِلَىَّ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ يُهَرْوِلُ حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنَّأَنِي .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

২৭৬৪. ইবনে সারহা (রাহঃ) .... কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) যখন কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনি প্রথমে মসজিদে গিয়ে সেখানে দু‘রাকাআত নামায আদায় করতেন। পরে তিনি লোকদের মাঝে উপবেশন করতেন। অবশেষে রাবী ইবনুস সারহা পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।

রাবী [কা‘ব (রাযিঃ)] বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকল মুসলমানকে আমাদের তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেন। (কেননা কা‘ব, হিলাল ইবনে উমাইয়্যা এবং মারারা ইবনে রাবী’ এই তিনজন সাহাবী কোন কারণ ছাড়াই তাবুকের যুদ্ধে যাননি; অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সকল সক্ষম ব্যক্তিদের এ যুদ্ধে শরীক হওয়ার নির্দেশ দেন।)।

এমতাবস্থায় যখন দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলো, তখন আমি আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর বাগানে দেওয়াল টপকিয়ে তার ভেতরে গেলাম এবং তিনি ছিলেন আমার চাচাত ভাই। আমি তাকে সালাম করলাম। কিন্তু আল্লাহর শপথ! তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না। এভাবে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন সকালে আমি আমার ঘরের ছাদের উপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলাম। তখন আমি একজন আহবানকারীর এরূপ আওয়ায শুনতে পাই যে, ‘‘হে কা‘ব ইবনে মালিক! তোমার জন্য সুসংবাদ।

পরে যখন সে ব্যক্তি আমার নিকটবর্তী হয়, যার সুসংবাদদাতা আমি শুনেছিলাম, তখন আমি আমার গায়ের দু‘খানি কাপড় তাকে দিয়ে দিলাম এবং সে দু‘খানি তাকে পরিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি মসজিদে হাযির হয়ে দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে বসে আছেন। তখন আমাকে দেখে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্ দৌড়ে আমার কাছে আসেন এবং আমার সাথে মুসাফাহা করে আমাকে মুবারকবাদ জানান।

৬৮. শোকর সূচক সিজদা।

باب فِي سُجُودِ الشُّكْرِ

২৭৬৫

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، بَكَّارِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخْبَرَنِي أَبِي عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا جَاءَهُ أَمْرُ سُرُورٍ أَوْ بُشِّرَ بِهِ خَرَّ سَاجِدًا شَاكِرًا لِلَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২৭৬৫. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। বস্তুত যখন তাঁর (নবী (ﷺ)) নিকট কোন খুশীর খবর আসতো, অথবা তাঁকে কোন সুসংবাদ দেওয়া হতো, তখনই তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে শোকর-সূচক সিজদা আদায় করতেন।

৬৯. দুআর সময় হাত উঠানো সম্পর্কে।

২৭৬৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ، عَنِ ابْنِ عُثْمَانَقَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ يَحْيَى بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عُثْمَانَ عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى اللهُ عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ نُرِيدُ الْمَدِينَةَ فَلَمَّا كُنَّا قَرِيبًا مِنْ عَزْوَرَاءَ نَزَلَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا اللهَ سَاعَةً ثُمَّ خَرَّ سَاجِدًا فَمَكَثَ طَوِيلاً ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا اللهَ سَاعَةً ثُمَّ خَرَّ سَاجِدًا فَمَكَثَ طَوِيلاً ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ سَاعَةً ثُمَّ خَرَّ سَاجِدًا ذَكَرَهُ أَحْمَدُ ثَلاَثًا قَالَ "إِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي وَشَفَعْتُ لأُمَّتِي فَأَعْطَانِي ثُلُثَ أُمَّتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا شُكْرًا لِرَبِّي ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي فَسَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي فَأَعْطَانِي ثُلُثَ أُمَّتِي فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي شُكْرًا ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي فَسَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي فَأَعْطَانِي الثُّلُثَ الآخَرَ فَخَرَرْتُ سَاجِدًا لِرَبِّي" . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَشْعَثُ بْنُ إِسْحَاقَ أَسْقَطَهُ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حِينَ حَدَّثَنَا بِهِ فَحَدَّثَنِي بِهِ عَنْهُ مُوسَى بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ .

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

২৭৬৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আমির ইবনে সা‘দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হই। অতঃপর যখন আযওয়ারা নামক স্থানে পৌঁছি, তখন তিনি অবতরণ করেন এবং দু‘হাত তুলে প্রায় এক ঘন্টা দুআ করেন। পরে সিজদায় গমন করেন এবং অধিকক্ষণ সিজদাবনত থাকেন। এরপর তিনি দণ্ডায়মান হন এবং দু’হাত তুলে প্রায় এক ঘন্টা দুআ করেন এবং পরে সিজদাতে রত হন। রাবী আহমাদ এরূপ তিনবার বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ আমি আমার রবের কাছে দুআ করেছি এবং আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করেছি। আল্লাহ্ আমার উম্মতের তিন ভাগের এক ভাগ সুপারিশ কবুল করেছেন। তাই আমি শোকর-সূচক সিজদা আদায় করি। পরে (দ্বিতীয়বার) আমি সিজদা হতে উঠে আমার রবের নিকটে আবার উম্মতের ব্যাপারে সুপারিশ করি, তখন তিনি আরও এক-তৃতীয়াংশ গুনাহ্ মাফ করে দেন। এতে আমি আল্লাহর শোকর জ্ঞাপন করার জন্য সিজদা করি। অবশেষে (তৃতীয়বার) আমি সিজদা থেকে উঠে আমার রবের নিকটে উম্মতের ব্যাপারে সুপারিশ করি, এতে তিনি শেষ-তৃতীয়াংশের গুনাহ্ মাফ করে দেন। এ কারণে আমার রবের জন্য শোকর-সূচক সিজদা আদায় করি।

৭০. রাতের বেলা সফর হতে ঘরে ফেরা সম্পর্কে।

باب فِي الطُّرُوقِ

২৭৬৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُ أَنْ يَأْتِيَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ طُرُوقًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৬৭. হাফস ইবনে উমর ও মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কারও রাতের বেলা তার ঘরে ফিরে আসাকে পছন্দ করতেন না।

২৭৬৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَحْسَنَ مَا دَخَلَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِهِ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ أَوَّلَ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৬৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য সফর হতে ফিরে তার গৃহে প্রবেশের উত্তম সময় হলো, রাতের প্রথম অংশ।

২৭৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَلَمَّا ذَهَبْنَا لِنَدْخُلَ قَالَ " أَمْهِلُوا حَتَّى نَدْخُلَ لَيْلاً لِكَىْ تَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ وَتَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الزُّهْرِيُّ الطُّرُوقُ بَعْدَ الْعِشَاءِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ لاَ بَأْسَ بِهِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৬৯. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। সফর থেকে ফিরে যখন আমরা শহরে ঢুকতে ইচ্ছা করলাম, তিনি তখন বললেনঃ একটু অপেক্ষা কর। আমরা রাতে (শহরে) প্রবেশ করব, যাতে এলোকেশী মহিলারা চিরূনি দিয়ে তাদের চুল বিন্যস্ত করতে পারে। আর যে মহিলার স্বামী অনুপস্থিত ছিল, সে যেন তার নাভীর (গুপ্তাংগের) লোম পরিস্কার করার সুযোগ পায়।

৭১. মুসাফিরদের স্বাগত- সম্ভাষণ জানান।

باب فِي التَّلَقِّي

২৭৭০

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ تَلَقَّاهُ النَّاسُ فَلَقِيتُهُ مَعَ الصِّبْيَانِ عَلَى ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

২৭৭০. ইবনে সারহ (রাহঃ) ..... সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন তাবুক যুদ্ধ হতে মদীনায় ফিরে আসেন, তখন লোকেরা তাঁকে সাদর-সম্ভাষণ জ্ঞাপন করে। আর আমিও বাচ্চাদের সাথে ‘সানিয়াতুল- বিদা’ নামক স্থানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করি।

৭২. যুদ্ধের সরঞ্জাম সংগ্রহের পর যদি কেউ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করতে পারে, তবে তা অন্য মুহাজিরকে দিবে।

باب فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنْ إِنْفَادِ الزَّادِ فِي الْغَزْوِ إِذَا قَفَلَ

২৭৭১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ فَتًى، مِنْ أَسْلَمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ الْجِهَادَ وَلَيْسَ لِي مَالٌ أَتَجَهَّزُ بِهِ . قَالَ " اذْهَبْ إِلَى فُلاَنٍ الأَنْصَارِيِّ فَإِنَّهُ كَانَ قَدْ تَجَهَّزَ فَمَرِضَ فَقُلْ لَهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقْرِئُكَ السَّلاَمَ وَقُلْ لَهُ ادْفَعْ إِلَىَّ مَا تَجَهَّزْتَ بِهِ " . فَأَتَاهُ فَقَالَ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ لاِمْرَأَتِهِ يَا فُلاَنَةُ ادْفَعِي لَهُ مَا جَهَّزْتِنِي بِهِ وَلاَ تَحْبِسِي مِنْهُ شَيْئًا فَوَاللَّهِ لاَ تَحْبِسِينَ مِنْهُ شَيْئًا فَيُبَارِكَ اللَّهُ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৭১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আসলাম গোত্রের জনৈক যুবক বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি জিহাদে যেতে চাই, কিন্তু আমার কাছে কোন মাল-সম্পদ নেই, যা দিয়ে জিহাদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি অমুক আনসারীর কাছে যাও, সে তো যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সব সংগ্রহ করেছিল কিন্তু সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তুমি তাঁর কাছে গিয়ে বলবে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তোমাকে সালাম জানিয়েছে এবং তুমি তাকে এও বলবেঃ তুমি জিহাদের জন্য যে সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছ, তা আমাকে দিয়ে দাও। তখন সে (যুবক) তার কাছে যায় এবং এ কথা তাঁকে বলে। তখন সে ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে বলে, হে অমুক! যুদ্ধে গমনের জন্য তুমি যেসব জিনিস প্রস্তুত করেছ, তা এই যুবককে দিয়ে দাও এবং তা থেকে কিছুই বাকী রেখো না। আল্লাহর শপথ! তুমি এ থেকে কিছু রেখে দিবে না, তাহলে আল্লাহ্ এতে বরকত দান করবেন।

৭৩. সফর থেকে ফেরার পর নামায আদায় করা।

باب فِي الصَّلاَةِ عِنْدَ الْقُدُومِ مِنَ السَّفَرِ

২৭৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، وَعَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِمَا، كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَقْدِمُ مِنْ سَفَرٍ إِلاَّ نَهَارًا . قَالَ الْحَسَنُ فِي الضُّحَى فَإِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

২৭৭২. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াক্কিল আসকালানী ও হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... কা‘ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন সফর হতে আসতেন, তখন দিনের বেলায় আসতেন। রাবী হাসান (রাযিঃ) বলেনঃ দ্বি-প্রহরের সময় আসতেন। আর যখন তিনি সফর হতে আসতেন, তখন মসজিদে গিয়ে দু‘রাকআত নামায আদায়ের পর সেখানে বসতেন।

২৭৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَقْبَلَ مِنْ حَجَّتِهِ دَخَلَ الْمَدِينَةَ فَأَنَاخَ عَلَى بَابِ مَسْجِدِهِ ثُمَّ دَخَلَهُ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَيْتِهِ . قَالَ نَافِعٌ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ كَذَلِكَ يَصْنَعُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর তুসী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হজ্জ করার পর যখন মদীনায় ফিরে আসেন, তখন তিনি তাঁর উটকে মসজিদের দরজায় বসান, পরে তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন। আর তিনি সেখানে দু‘রাকআত নামায আদায়ের পর নিজ গৃহে গমন করেন। রাবী নাফি’ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ)-ও এরূপ করতেন।

৭৪. বণ্টনকারীর মজুরী সম্পর্কে।

بابٌ فِي كِرَاءِ الْمَقَاسِمِ

২৭৭৪

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا الزَّمْعِيُّ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُرَاقَةَ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِيَّاكُمْ وَالْقُسَامَةَ " . قَالَ فَقُلْنَا وَمَا الْقُسَامَةُ قَالَ " الشَّىْءُ يَكُونُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَجِيءُ فَيَنْتَقِصُ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৭৭৪. জা‘ফর ইবনে মুসাফির তিন্নীসী (রাহঃ) .... আবু সা‘ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বণ্টনের মজুরী গ্রহণ করা হতে বিরত থাক। রাবী বলেনঃ তখন আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, বণ্টনের মজুরী গ্রহণের ব্যাপারটা কি? তিনি বললেনঃ কোন বস্তু যা লোকদের মাঝে বন্টনের জন্য দেয়া হয়, (বণ্টকারী নিজে অধিক পাওয়ার আশায় তা থেকে অন্যকে বণ্টনের সময় কিছু কম দেয়), পরে তা কম হয়ে যায়।

২৭৭৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ شَرِيكٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي نَمِرٍ - عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ " الرَّجُلُ يَكُونُ عَلَى الْفِئَامِ مِنَ النَّاسِ فَيَأْخُذُ مِنْ حَظِّ هَذَا وَحَظِّ هَذَا " .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২৭৭৫. আব্দুল্লাহ্ কা‘নবী (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে এতটুকু বর্ণিত আছে যে, ‘‘বন্টনের মজুরী’’ গ্রহণের ব্যাপারটি এরূপ যে, যখন কোন ব্যক্তিকে (বন্টনের জন্য) নিয়োগ করা হয়, তখন সে প্রত্যেক অংশ হতে নিজের জন্য কিছু রেখে দেয়।

৭৫. জিহাদের মাঝে ব্যবসা করা।

باب فِي التِّجَارَةِ فِي الْغَزْوِ

২৭৭৬

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَلْمَانَ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَهُ قَالَ لَمَّا فَتَحْنَا خَيْبَرَ أَخْرَجُوا غَنَائِمَهُمْ مِنَ الْمَتَاعِ وَالسَّبْىِ فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ غَنَائِمَهُمْ فَجَاءَ رَجُلٌ حِينَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ رَبِحْتُ رِبْحًا مَا رَبِحَ الْيَوْمَ مِثْلَهُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ هَذَا الْوَادِي قَالَ " وَيْحَكَ وَمَا رَبِحْتَ " . قَالَ مَا زِلْتُ أَبِيعُ وَأَبْتَاعُ حَتَّى رَبِحْتُ ثَلاَثَمِائَةِ أُوقِيَّةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا أُنَبِّئُكَ بِخَيْرِ رَجُلٍ رَبِحَ " . قَالَ مَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৭৬. রাবী ইবনে নাফি‘ (রাহঃ) .... উবাইদুল্লাহ্ ইবনে সুলাইমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আমরা খায়বর জয় করি, তখন লোকেরা তাদের গনিমতের মাল-সম্পদ ও গোলাম বের করে এবং লোকেরা তা পরস্পর বেচাকেনা করতে থাকে। এ সময় এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আজ এত অধিক মুনাফা করেছি, যা এখানে উপস্থিত কেউ-ই করতে পারেনি। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! তুমি কি লাভ করেছ? তখন সে বলেঃ আমি বেচাকেনার দ্বারা তিনশত উকিয়া, (এক উকিয়া তিনশত দিরহামের সমান) লাভ করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন ব্যক্তির খবর দেব না, যে অধিক মুনাফা হাসিল করেছে? তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তা কিরূপে? তিনি বললেনঃ দু‘রাকআত (নফল) নামায, যা ফরয নামাযের পর আদায় করা হয়, (তার চাইতে অধিক লাভের বস্তু)!

৭৬. দুশমনের দেশে হাতিয়ার নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي حَمْلِ السِّلاَحِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৭৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ ذِي الْجَوْشَنِ، - رَجُلٍ مِنَ الضِّبَابِ - قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أَنْ فَرَغَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ بِابْنِ فَرَسٍ لِي يُقَالُ لَهَا الْقَرْحَاءُ فَقُلْتُ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي قَدْ جِئْتُكَ بِابْنِ الْقَرْحَاءِ لِتَتَّخِذَهُ قَالَ " لاَ حَاجَةَ لِي فِيهِ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ أُقِيضَكَ بِهِ الْمُخْتَارَةَ مِنْ دُرُوعِ بَدْرٍ فَعَلْتُ " . قُلْتُ مَا كُنْتُ أُقِيضُهُ الْيَوْمَ بِغُرَّةٍ . قَالَ " فَلاَ حَاجَةَ لِي فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৭৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... যিবাব গোত্রের যুল-জাওশান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি তখন নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হই, তিনি বদর যুদ্ধ হতে নিষ্ক্রান্ত হন। তখন আমি একটা ঘোড়ার বাচ্চা নিয়ে তাঁর নিকট হাজির হই, তার নাম ছিল কারহা। তখন আমি তাঁকে বলিঃ হে মুহাম্মাদ! আমি এই ‘ইবনে কারহাকে আপনার নিকট এনেছি, যাতে আপনি এটা কবুল করেন। তিনি বলেনঃ এতে আমার কোন দরকার নেই। তবে এর বিনিময়ে যদি তুমি বদর যুদ্ধে প্রাপ্ত কোন লোহবর্ম নিয়ে নাও, তবে আমি তোমার ঘোড়ার বাচ্চা গ্রহণ করতে পারি। তখন আমি বললামঃ আমি তো আজ এর বিনিময়ে ঘোড়াও নিব না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তবে এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই।

৭৭. শিরকের স্থানে অবস্থান সম্পর্কে।

باب فِي الإِقَامَةِ بِأَرْضِ الشِّرْكِ

২৭৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَمَّا بَعْدُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ جَامَعَ الْمُشْرِكَ وَسَكَنَ مَعَهُ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৭৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুশরিকের সাথে সম্পর্ক রাখে এবং তার সাথে বসবাস করে, সে তারই মত হবে।