كتاب البيوع

১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়

অধ্যায় ১৮ · ২৪০ টি হাদীস

২৯৫. ব্যাবসার মধ্যে কসম ও মিথ্যা মিশ্রিত হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي التِّجَارَةِ يُخَالِطُهَا الْحَلِفُ وَاللَّغْوُ

৩২৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، قَالَ كُنَّا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُسَمَّى السَّمَاسِرَةَ فَمَرَّ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمَّانَا بِاسْمٍ هُوَ أَحْسَنُ مِنْهُ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ إِنَّ الْبَيْعَ يَحْضُرُهُ اللَّغْوُ وَالْحَلِفُ فَشُوبُوهُ بِالصَّدَقَةِ " .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাঃ)

৩২৯৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... কায়স ইবনে আবু গারযা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় আমাদের (ব্যবসায়ীদের) ’সামাসিরা’ বা দালাল বলা হতো। এরপর একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের পাশ দিয়ে গমন করেন এবং তিনি আমাদের পূর্বের নামের চাইতে উত্তম নামে আখ্যায়িত করে বলেনঃ হে ব্যবসায়ীদের দল। বেচা-কেনার মধ্যে (অনেক সময়) বেহুদা কথাবার্তা এবং কসম জড়িত হয়ে থাকে। তোমরা কিছু দান-খয়রাত করে তাকে দোষমুক্ত করে নেবে।[১]

[১] বেচাকেনার মধ্যে অনেক সময় বেহুদা কথাবার্তাও অনর্থক কসম দেওয়া হয়, যা উচিত নয়। সে জন্য তোমরা তার কাফফারা স্বরূপ কিছু দান-সাদাকা করবে। (অনুবাদক)
৩২৯৪

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْبُسْطَامِيُّ، وَحَامِدُ بْنُ يَحْيَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، وَعَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَعْيَنَ، وَعَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، بِمَعْنَاهُ قَالَ " يَحْضُرُهُ الْكَذِبُ وَالْحَلِفُ " . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ الزُّهْرِيُّ " اللَّغْوُ وَالْكَذِبُ " .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাঃ)

৩২৯৪. হুসাইন ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... কায়স ইবনে আবু গারযা (রাযিঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ বেচা-কেনার মধ্যে কখনো কসম ও মিথ্যা জড়িত হয়ে থাকে। রাবী আব্দুল্লাহ যুহরী বলেনঃ বেচা-কেনার মধ্যে কখনও কখনও বেহুদা কথাবার্তা ও মিথ্যা জড়িত হয়ে থাকে।

২৯৬. খনিজ দ্রব্য উওোলন করা সম্পর্কে।

باب فِي اسْتِخْرَاجِ الْمَعَادِنِ

৩২৯৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ عَمْرٍو، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو - عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، لَزِمَ غَرِيمًا لَهُ بِعَشْرَةِ دَنَانِيرَ فَقَالَ وَاللَّهِ لاَ أُفَارِقُكَ حَتَّى تَقْضِيَنِي أَوْ تَأْتِيَنِي بِحَمِيلٍ فَتَحَمَّلَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ بِقَدْرِ مَا وَعَدَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مِنْ أَيْنَ أَصَبْتَ هَذَا الذَّهَبَ " . قَالَ مِنْ مَعْدِنٍ . قَالَ " لاَ حَاجَةَ لَنَا فِيهَا وَلَيْسَ فِيهَا خَيْرٌ " . فَقَضَاهَا عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩২৯৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি তার এমন একজন খাতক বা দেনাদারকে আটক করে, যার কাছে তার দশ দীনার পাওনা ছিল এবং সে বলেঃ আল্লাহর কসম! যতক্ষণ না তুমি আমার পাওনা পরিশোধ করবে বা কোন যামিনদার আমার কাছে আনবে, ততক্ষণ আমি তোমাকে ছেড়ে দেব না। একথা শুনে নবী (ﷺ) দেনাদার ব্যক্তির যামিন হন। এরপর সে ব্যক্তি তার ও’য়াদা মত স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আসে। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি এই সোনা কোথায় পেলে? সে ব্যক্তি বলেঃ খনিতে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই এবং এতে কোন কল্যাণও নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে সেই ব্যক্তির পক্ষ হতে উক্ত দেনা পরিশোধ করে দেন।

২৯৭. সন্দেহজনক বস্তু পরিহার কর।

باب فِي اجْتِنَابِ الشُّبُهَاتِ

৩২৯৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، - وَلاَ أَسْمَعُ أَحَدًا بَعْدَهُ يَقُولُ - سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ " . وَأَحْيَانًا يَقُولُ " مُشْتَبِهَةٌ " . " وَسَأَضْرِبُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ مَثَلاً إِنَّ اللَّهَ حَمَى حِمًى وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَا حَرَّمَ وَإِنَّهُ مَنْ يَرْعَ حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكْ أَنْ يُخَالِطَهُ وَإِنَّهُ مَنْ يُخَالِطِ الرِّيبَةَ يُوشِكْ أَنْ يَجْسُرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩২৯৬. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ...... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। এ দুয়ের মাঝে কিছু সন্দেহজনক জিনিস আছে। আমি তোমাদের কাছে এর উদাহরণ পেশ করছি। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করেছেন, আর আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা হলো তিনি যা হারাম করেছেন, সেই সব বস্তু। বস্তুত যে ব্যক্তি এই নির্ধারিত সীমানার কাছে পশু চরাবে, তার পশু তাতে ঢুকার সম্ভাবনা আছে। একই রূপে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হবে, অচিরাৎ সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

৩২৯৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ عِرْضَهُ وَدِينَهُ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩২৯৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ হালাল এবং হারামের মধ্যে এমন কিছু সন্দেহজনক বিষয়ও আছে, যে সম্পর্কে অধিকাংশ লোক কিছুই জানে না। কাজেই যে ব্যক্তি সন্দেহজনক ব্যাপার পরিহার করলো, সে যেন তার দীন ও ইযযতের সংরক্ষণ করলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে যেন হারামে লিপ্ত হলো।

৩২৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ أَبِي خَيْرَةَ، يَقُولُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ دَاوُدَ - يَعْنِي ابْنَ أَبِي هِنْدٍ - وَهَذَا لَفْظُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي خَيْرَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يَبْقَى أَحَدٌ إِلاَّ أَكَلَ الرِّبَا فَإِنْ لَمْ يَأْكُلْهُ أَصَابَهُ مِنْ بُخَارِهِ " . قَالَ ابْنُ عِيسَى " أَصَابَهُ مِنْ غُبَارِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩২৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন কেউ-ই সুদ খাওয়া ছাড়া থাকবে না। আর যদিও কেউ সুদ না খায়, তবে সে এর প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে না।

ইবনে ঈসা বলেনঃ (যদি কেউ সুদ নাও খায়) তবু সে সুদের ধুলা-ময়লা থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।[১]

[১] বর্তমান যুগের ব্যবসা-বাণিজ্য, লেন-দেন, কাজ-কারবার এমনকি দেশের অর্থনৈতিক উন্নত ও গুতির জন্য যে বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যায়, তা সুদভিত্তিক। এই ঋণের সাহায্যে দেশে যে শিল্প, কল-কারখানা গড়ে তোলা হয়। এবং সেখানে যা কিছু উৎপন্ন হয়, সবই সুদের সাথে সম্পৃক্ত। এ দৃষ্টিতে বর্তমানে কেউ-ই সুদের প্রভাব মুক্ত নয়।
৩২৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْقَبْرِ يُوصِي الْحَافِرَ " أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ " . فَلَمَّا رَجَعَ اسْتَقْبَلَهُ دَاعِيَ امْرَأَةٍ فَجَاءَ وَجِيءَ بِالطَّعَامِ فَوَضَعَ يَدَهُ ثُمَّ وَضَعَ الْقَوْمُ فَأَكَلُوا فَنَظَرَ آبَاؤُنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُوكُ لُقْمَةً فِي فَمِهِ ثُمَّ قَالَ " أَجِدُ لَحْمَ شَاةٍ أُخِذَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ أَهْلِهَا " . فَأَرْسَلَتِ الْمَرْأَةُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْسَلْتُ إِلَى الْبَقِيعِ يَشْتَرِي لِي شَاةً فَلَمْ أَجِدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى جَارٍ لِي قَدِ اشْتَرَى شَاةً أَنْ أَرْسِلْ إِلَىَّ بِهَا بِثَمَنِهَا فَلَمْ يُوجَدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَرْسَلَتْ إِلَىَّ بِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْعِمِيهِ الأَسَارَى " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩২৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... জনৈক আনসার সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এক ব্যক্তির জানাযায় শরীক ছিলাম। এ সময় আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবরের কাছে দাঁড়িয়ে যারা কবর খুঁড়ছিল তাদের বলেনঃ পায়ের দিকে প্রশস্ত কর, মাথার দিকে চওড়া কর। এরপর তিনি সেখান থেকে ফেরতে উদ্যত হলে জনৈক মহিলার আহবানকারী নবী (ﷺ)-কে ডাকার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়। তিনি সেখানে গেলে তাঁর জন্য খাদ্য উপস্থিত করা হয়। নবী (ﷺ) খেতে শুরু করলে অন্যরাও খাওয়া শুরু করে। তখন আমাদের মুরবীরা লক্ষ্য করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক লোকমা মুখে দিয়ে কেবল তা চিবাচ্ছেন, কিন্তু তা গিলছেন না।

এ সময় তিনি বলেনঃ আমার মনে হচ্ছে, এ গোশত এমন এক বকরীর, যা তার মালিকের বিনা অনুমতিতে নেয়া হয়েছে। তখন সে মহিলা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জনৈক ব্যক্তিকে বকরী খরিদ করার জন্য ’বাকী’ নামক বাজারে পাঠিয়েছিলাম, সেখানে বকরী পাওয়া যায় নি। এরপর আমি আমার প্রতিবেশী, যিনি একটি বকরী খরিদ করেন, তাকে বলি যে, তিনি যেন তার বকরীটি ক্রয়মূল্যে আমাকে প্রদান করেন। কিন্তু তাকেও বাড়ীতে পাওয়া যায় নি। তখন আমি তার স্ত্রীর নিকট লোক পাঠাই, যিনি আমাকে বকরীটি দিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ গোশত বন্দীদের খাইয়ে দাও।

২৯৮. সুদখোর এবং তার মক্কেল সম্পর্কে।

باب فِي آكِلِ الرِّبَا وَمُوكِلِهِ

৩৩০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَهُ وَكَاتِبَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৩০০. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুদখোর, সুদদাতা, এর সাক্ষী এবং সুদের দলীল লেখক- সকলের উপর লা’নত করেছেন।

২৯৯. সুদ প্রত্যাহার করা।

باب فِي وَضْعِ الرِّبَا

৩৩০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا شَبِيبُ بْنُ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَقُولُ " أَلاَ إِنَّ كُلَّ رِبًا مِنْ رِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ . أَلاَ وَإِنَّ كُلَّ دَمٍ مِنْ دَمِ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ دَمٍ أَضَعُ مِنْهَا دَمُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " . كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ قَالَ: اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، قَالُوا: نَعَمْ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আহওয়াস রাযি.

৩৩০১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সুলাইমান ইবনে আমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি বিদায় হজ্জের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনি যে, জাহিলী যুগের সমস্ত সুদ বাতিল করা হলো। তোমরা তোমাদের মূলধন সংগ্রহ করবে। তোমরা কারো উপর যুলুম করবে না এবং অন্য কেউ যেন তোমাদের উপর যুলুম না করে।

জেনে রাখঃ জাহিলী যুগের হত্যার ক্ষতিপূরণ প্রত্যাহার করা হলো। আর প্রথম খুনের দাবী যা আমি প্রত্যাহার করছি, তা হলো হারিছ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব গোত্রের প্রাপ্য খুনের দাবী। উক্ত গোত্রের একটি পুত্র সন্তানকে লায়ছ গোত্রে দুধ পান অবস্থায় হুযায়ল গোত্রীয় লোকেরা হত্যা করেছিল।

তিনি বললেনঃ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? উপস্থিত জনতা বললঃ হ্যাঁ, তিনবার। তিনি তিনবার বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।

৩০০. ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মিথ্যা কসম খাওয়া ঘৃণিত কাজ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْيَمِينِ فِي الْبَيْعِ

৩৩০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مَمْحَقَةٌ لِلْبَرَكَةِ " . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ " لِلْكَسْبِ " . وَقَالَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩০২. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, কসম খাওয়ায় মালের কাটতি অধিক হয়, কিন্তু তা বরকত দূর করে দেয়।

৩০১. মাপে কিছু বেশী দেওয়া এবং কয়ালী নিয়ে মাপ সম্পর্কে।

باب فِي الرُّجْحَانِ فِي الْوَزْنِ وَالْوَزْنِ بِالأَجْرِ

৩৩০৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَمَةُ الْعَبْدِيُّ، بَزًّا مِنْ هَجَرَ فَأَتَيْنَا بِهِ مَكَّةَ فَجَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي فَسَاوَمَنَا بِسَرَاوِيلَ فَبِعْنَاهُ وَثَمَّ رَجُلٌ يَزِنُ بِالأَجْرِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " زِنْ وَأَرْجِحْ " .

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে কায়স (রাঃ)

৩৩০৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) .... সুওয়াদ ইবনে সুওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং মাখরাফা আব্দী হাজর নামক স্থান হতে কাপড় কিনে তা বিক্রির জন্য মক্কাতে আসি। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেঁটে আমাদের কাছে আসেন এবং এবং একটি পায়জামার কাপড় কিনতে চান। তখন আমরা তা তাঁর নিকট বিক্রি করি। এ সময় সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল, যে কয়ালীর বদলে জিনিসপত্র মেপে দিত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি মাপবে এবং তা সঠিকভাবে।

৩৩০৪

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى قَرِيبٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي صَفْوَانَ بْنِ عُمَيْرَةَ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ قَبْلَ أَنْ يُهَاجِرَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَذْكُرْ يَزِنُ بِالأَجْرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ قَيْسٌ كَمَا قَالَ سُفْيَانُ وَالْقَوْلُ قَوْلُ سُفْيَانَ .

বর্ণনাকারী: আবু সাফওয়ান (রাঃ)

৩৩০৪. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আবু সাফওয়ান ইবনে উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে তাঁর মদীনায় হিজরতের আগে হাযির হয়েছিলাম। এরপর তিনি উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন, যাতে বিনিময় গ্রহণের বদলে মাপের কথা উল্লেখ নেই।

৩৩০৫

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي رِزْمَةَ، سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، قَالَ رَجُلٌ لِشُعْبَةَ خَالَفَكَ سُفْيَانُ . قَالَ دَمَغْتَنِي . وَبَلَغَنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ قَالَ كُلُّ مَنْ خَالَفَ سُفْيَانَ فَالْقَوْلُ قَوْلُ سُفْيَانَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৩০৫. ইবনে আবু রিযমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি শু’বা (রাযিঃ)-কে বলেছিলঃ সুফিয়ান তোমার বিরোধিতা করেছে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি আমার মাথা খেয়েছ!

৩৩০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ كَانَ سُفْيَانُ أَحْفَظَ مِنِّي .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৩৩০৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুফিয়ান আমার চাইতে অধিক স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন।

৩০২. নবী (ﷺ)-এর বাণীঃ মদীনাবাসীদের মাপই গ্রহণযোগ্য।

باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " الْمِكْيَالُ مِكْيَالُ الْمَدِينَةِ "

৩৩০৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَنْظَلَةَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَزْنُ وَزْنُ أَهْلِ مَكَّةَ وَالْمِكْيَالُ مِكْيَالُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ الْفِرْيَابِيُّ وَأَبُو أَحْمَدَ عَنْ سُفْيَانَ وَافَقَهُمَا فِي الْمَتْنِ وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَكَانَ ابْنِ عُمَرَ وَرَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ حَنْظَلَةَ قَالَ " وَزْنُ الْمَدِينَةِ وَمِكْيَالُ مَكَّةَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَاخْتُلِفَ فِي الْمَتْنِ فِي حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩০৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, ওজনে মক্কাবাসীদের ওজনই গ্রহণীয় এবং মাপে মদীনাবাসীদের মাপই গ্রহণযোগ্য।

৩০৩. দেনা আদায়ের ব্যাপারে কড়াকড়ি করা।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي الدَّيْنِ

৩৩০৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ سَمْعَانَ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُجِيبَنِي فِي الْمَرَّتَيْنِ الأُولَيَيْنِ أَمَا إِنِّي لَمْ أُنَوِّهْ بِكُمْ إِلاَّ خَيْرًا إِنَّ صَاحِبَكُمْ مَأْسُورٌ بِدَيْنِهِ " . فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَدَّى عَنْهُ حَتَّى مَا بَقِيَ أَحَدٌ يَطْلُبُهُ بِشَىْءٍ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «سَمْعَانُ بْنُ مُشَنِّجٍ»

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৩০৮. সা’ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করেনঃ অমুক গোত্রের কোন লোক এখানে আছে কি? এতে কেউ সাড়া দিল না। তখন তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ এখানে অমুক গোত্রের কোন লোক আছে কি? কিন্তু এবারও কেউ সাড়া দিল না। পুনরায় নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ অমুক গোত্রের কোন লোক এখানে আছে কি?

তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি উপস্থিত আছি। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ প্রথম দু’দফায় তুমি আমার ডাকে কেন সাড়া দেওনি। জেনে রাখ! আমি তো তোমাদের কল্যাণ কামনা করি। তোমাদের অমুক ব্যক্তি দেনার দায়ে আটক আছে, অর্থাৎ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারছে না। সামুরা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি তাকে মৃত ব্যক্তির পক্ষে দেনা পরিশোধ করতে দেখি। যার পর আর কেউ তার কাছে আর কোন পাওনা চাইতে আসেনি।
৩৩০৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا بُرْدَةَ بْنَ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيَّ، يَقُولُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ أَنْ يَلْقَاهُ بِهَا عَبْدٌ - بَعْدَ الْكَبَائِرِ الَّتِي نَهَى اللَّهُ عَنْهَا - أَنْ يَمُوتَ رَجُلٌ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ لاَ يَدَعُ لَهُ قَضَاءً " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৩০৯. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় কবীরা গুনাহের পর আল্লাহ তাআলার নিকট সব চাইতে বড় গুনাহ হলো, যে সমস্ত গুনাহ হতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর আল্লাহর সঙ্গে এ অবস্থায় সাক্ষাত করা যে, তার উপর কিছু দেনা থাকবে, আর সে ব্যক্তি তা পরিশোধের জন্য কিছু রেখে যাবে না।

৩৩১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُصَلِّي عَلَى رَجُلٍ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَأُتِيَ بِمَيِّتٍ فَقَالَ " أَعَلَيْهِ دَيْنٌ " . قَالُوا نَعَمْ دِينَارَانِ . قَالَ " صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ " . فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ هُمَا عَلَىَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَنَا أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ فَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا فَعَلَىَّ قَضَاؤُهُ وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩১০. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির জানাযার নামায পড়তেন না, যার উপর কোন দেনা থাকতো। একদা একটি জানাযা তাঁর নিকট আনা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তার উপর কোন দেনা আছে কি? সাহাবারা বলেনঃ হ্যাঁ, তার উপর দুই দিনার দেনা আছে। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার নামায আদায় কর। এ সময় আবু কাতাদা আনসারী (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ দুই দীনার আমার যিম্মায় রইলো। (অর্থাৎ আমি তা আদায় করে দেব)।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার নামায পড়ান। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের জন্য যখন বিজয়ের দরজা খুলে দেন, তখন তিনি বলেনঃ আমি প্রত্যেক মুসলমানের নিকট তার নিজের চাইতে অধিক প্রিয়, তাই যে ব্যক্তি কোন দেনা রেখে যাবে, তা আদায়ের দায়িত্ব আমার উপর। আর যে ব্যক্তি কোন ধন-সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।
৩৩১১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، رَفَعَهُ - قَالَ عُثْمَانُ وَحَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ قَالَ اشْتَرَى مِنْ عِيرٍ تَبِيعًا وَلَيْسَ عِنْدَهُ ثَمَنُهُ فَأُرْبِحَ فِيهِ فَبَاعَهُ فَتَصَدَّقَ بِالرِّبْحِ عَلَى أَرَامِلِ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَقَالَ لاَ أَشْتَرِي بَعْدَهَا شَيْئًا إِلاَّ وَعِنْدِي ثَمَنُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৩১১. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে বলেছেন যে, একদা নবী (ﷺ) জনৈক ব্যক্তির নিকট হতে কিছু জিনিস খরিদ করেন, কিন্তু এ সময় তাঁর নিকট এর মূল্য পরিশোধের মত কিছুই ছিল না। তখন তিনি উক্ত জিনিস কিছু লাভের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন এবং প্রাপ্ত লভ্যাংশ বনু আব্দিল মুত্তালিবের অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য খরচ করেন। এরপর তিনি বলেনঃ এখন থেকে আমি আর এমন কিছুই খরিদ করব না, যার মূল্য পরিশোধের অর্থ আমার নিকট থাকবে না।

৩০৪. দেনা পরিশোধে গড়িমসি করা।

باب فِي الْمَطْلِ

৩৩১২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩১২. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মালদার ব্যক্তির জন্য দেনা আদায়ে গড়িমসি করা যুলুমস্বরূপ। তোমাদের কাউকে যদি ঋণ গ্রহণের জন্য (কোনো ধনী ব্যক্তির কাছে) সোপর্দ করা হয় তাহেল সে যেন তা (সোপর্দ হওয়া) গ্রহন করে।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি দারিদ্রের কারণে ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে তার ঋণ কোনো ধনী ব্যক্তির কাছে সোপর্দ করে এবং সেই ধনী ব্যক্তিও সোপর্দকারী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে সম্মত হয় তাহলে, ‍ঋণদাতা যেন এটা গ্রহন করে এবং সেই ধনী ব্যক্তির কাছ থেকেই নিজের পাওনা নিয়ে নেয়। গরীব ব্যক্তির কাছে না চায়!! (বজলুল মাজহুদ)

৩০৫. উত্তমরূপে দেনা পরিশোধ করা।

باب فِي حُسْنِ الْقَضَاءِ

৩৩১৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَكْرًا فَجَاءَتْهُ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ فَقُلْتُ لَمْ أَجِدْ فِي الإِبِلِ إِلاَّ جَمَلاً خِيَارًا رَبَاعِيًّا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً " .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

৩৩১৩. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ছোট উট ধার স্বরূপ নেন। এরপর তাঁর নিকট যখন সাদ্‌কার উট আসে, তখন তিনি আমাকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, আমি যেন প্রাপককে ঐরূপ একটি উট প্রদান করি। তখন আমি বলিঃ সাদ্‌কার উটগুলো সবই উত্তম এবং ছ’বছর বয়সের। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রাপককে তা থেকে একটা দিয়ে দাও। কেননা, লোকদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে ভালভাবে দেনা পরিশোধ করে।

৩৩১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَيْنٌ فَقَضَانِي وَزَادَنِي .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩১৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায়ের সময় আমাকে কিছু অধিক প্রদান করেন।

৩০৬. সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে।

باب فِي الصَّرْفِ

৩৩১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، وَعَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৩১৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যদি তা হাতে-হাতে লেনদেন হয়; গমের বিনিময়ে গম বিক্রি করাও সুদ, তবে যদি তা হাতে-হাতে হয়; খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করাও সুদ, কিন্তু যখন তা হাতে-হাতে হবে এবং যবের বিনিময়ে যব বিক্রি করাও সুদ, তবে যখন তা হাতে-হাতে হবে, তখন সুদ হবে না।

৩৩১৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ تِبْرُهَا وَعَيْنُهَا وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ تِبْرُهَا وَعَيْنُهَا وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ مُدْىٌ بِمُدْىٍ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ مُدْىٌ بِمُدْىٍ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ مُدْىٌ بِمُدْىٍ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مُدْىٌ بِمُدْىٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ ازْدَادَ فَقَدْ أَرْبَى وَلاَ بَأْسَ بِبَيْعِ الذَّهَبِ بِالْفِضَّةِ - وَالْفِضَّةُ أَكْثَرُهُمَا - يَدًا بِيَدٍ وَأَمَّا نَسِيئَةً فَلاَ وَلاَ بَأْسَ بِبَيْعِ الْبُرِّ بِالشَّعِيرِ وَالشَّعِيرُ أَكْثَرُهُمَا يَدًا بِيَدٍ وَأَمَّا نَسِيئَةً فَلاَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَهِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ بِإِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩৩১৬. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সোনা সোনার বিনিময়ে সমান সমান বিক্রি করবে, চাই তা সোনার পাত হোক বা স্বর্ণ মুদ্রাই হোক এবং রূপা রূপার বিনিময়ে সমান সমান বিক্রি করবে, চাই তা রূপার পাত হোক বা রৌপ্য মুদ্রাই হোক। আর গম গমের বিনিময়ে এক মুদ এক মুদের বিনিময়ে বিক্রি করতে হবে এবং যবের বিনিময়ে যবও এক মুদের বিনিময়ে এক মুদ বিক্রি করতে হবে। আর খেজুর খেজুরের বদলে এক মুদের বিনিময়ে এক মুদ বিক্রি করতে হবে। একই ভাবে লবণ লবণের বিনিময়ে এক মুদের বদলে এক মুদ বিক্রি করতে হবে। এই প্রকারের একই ধরনের জিনিসের মধ্যে যে ব্যক্তি বেশী নিবে বা দিবে, তা-ই সুদ হবে।

তবে সোনাকে রূপার বিনিময়ে এ অবস্থায় বিক্রি করা, যখন রূপা উভয় অংশের মধ্যে অধিক হবে, তবে তা দূষণীয় নয়। তবে এতে শর্ত হলো- লেন-দেন হাতে হাতে হবে, বাকীতে বিক্রি জায়েয হবে না। একই রূপে গম যবের বিনিময়ে বিক্রি করা দূষণীয় নয়, যখন যবের অংশ উভয়ের মধ্যে অধিক হবে। তবে তা এ শর্তে যে, লেন-দেন হাতে হাতে হবে এবং এতেও বাকী বিক্রি বৈধ নয়।[১]

[১] একই ধরনের জিনিস হলে এর একটির বিনিময়ে অন্যটি ধার নেওয়া, ক্রয়-বিক্রয় 'রেবা' বা সুদের অন্তর্ভুক্ত। জিনিস একই ধরনের হলে তা নগদ ক্রয়-বিক্রয় করা উচিত, অর্থাৎ একটি জিনিস নিয়ে, ঐ ধরনের অন্য জিনিস তৎক্ষণাৎ আদায় করতে হবে। অবশ্য যদি কেউ সেই জিনিসের মূল্য দিতে চায়, তবে তা বাকীতে ক্রয়-বিক্রয় হতে
পারে (অনুবাদক)
৩৩১৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْخَبَرِ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ وَزَادَ قَالَ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩৩১৭. আবু বকর ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) পূর্বোক্ত হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে কিছু কম-বেশী করে বর্ণনা করেছেন। যাতে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন এ সব জিনিসের প্রকারের মধ্যে পার্থক্য হবে, তখন তা যেমন ইচ্ছা বিক্রি করতে পারবে। তবে শর্ত হলো, লেন-দেন হাতে হাতে সম্পন্ন হতে হবে।

৩০৭. তরবারির বাঁট দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করা।

باب فِي حِلْيَةِ السَّيْفِ تُبَاعُ بِالدَّرَاهِمِ

৩৩১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ بِقِلاَدَةٍ فِيهَا ذَهَبٌ وَخَرَزٌ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَابْنُ مَنِيعٍ فِيهَا خَرَزٌ مُعَلَّقَةٌ بِذَهَبٍ - ابْتَاعَهَا رَجُلٌ بِتِسْعَةِ دَنَانِيرَ أَوْ بِسَبْعَةِ دَنَانِيرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَتَّى تُمَيِّزَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ " . فَقَالَ إِنَّمَا أَرَدْتُ الْحِجَارَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَتَّى تُمَيِّزَ بَيْنَهُمَا " . قَالَ فَرَدَّهُ حَتَّى مُيِّزَ بَيْنَهُمَا . وَقَالَ ابْنُ عِيسَى أَرَدْتُ التِّجَارَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَانَ فِي كِتَابِهِ الْحِجَارَةُ فَغَيَّرَهُ فَقَالَ التِّجَارَةَ .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩৩১৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... ফুযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বর বিজয়কালে নবী (ﷺ) এর নিকট একটি হার পেশ করা হয়, যাতে সোনা এবং নামাঙ্কিত মোহরও ছিল। আবু বকর এবং ইবনে মানী বলেনঃ তাতে নাম-অঙ্কিত মোহর ছিল, যার উপর সোনাও বিজড়িত ছিল। উক্ত হারটি জনৈক ব্যক্তি সাত বা নয় দীনারে খরিদ করতে চাইলে নবী (ﷺ) বলেনঃ যতক্ষণ না সোনা এবং মোহরের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, ততক্ষণ তা বিক্রি করা যাবে না। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ আমি তো কেবল মোহর খরিদ করতে চাই। এতে নবী (ﷺ) বলেনঃ যতক্ষণ না সোনা এবং মোহরের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, ততক্ষণ তা বিক্রি করা জায়েয হবে না। রাবী বলেনঃ এ কথা শুনে সে ব্যক্তি ঐ হারটি ফেরত দেয় এবং তার সোনা ও মোহর পার্থক্য করা হয়।

৩৩১৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي شُجَاعٍ، سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ اشْتَرَيْتُ يَوْمَ خَيْبَرَ قِلاَدَةً بِاثْنَىْ عَشَرَ دِينَارًا فِيهَا ذَهَبٌ وَخَرَزٌ فَفَصَّلْتُهَا فَوَجَدْتُ فِيهَا أَكْثَرَ مِنَ اثْنَىْ عَشَرَ دِينَارًا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ تُبَاعُ حَتَّى تُفَصَّلَ " .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩৩১৯. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... ফুযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি খায়বরের যুদ্ধের দিন বার দীনারের বিনিময়ে একটি হার খরিদ করেছিলাম, যা সোনা ও মোহর বিমণ্ডিত ছিল। এরপর আমি এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ এর সোনা ও মোহর পার্থক্য না করা পর্যন্ত বিক্রি জায়েয হবে না।

৩৩২০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنِ الْجُلاَحِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي حَنَشٌ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ نُبَايِعُ الْيَهُودَ الأُوقِيَّةَ مِنَ الذَّهَبِ بِالدِّينَارِ . قَالَ غَيْرُ قُتَيْبَةَ بِالدِّينَارَيْنِ وَالثَّلاَثَةِ . ثُمَّ اتَّفَقَا فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلاَّ وَزْنًا بِوَزْنٍ " .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩৩২০. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ...... ফুযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বরের যুদ্ধের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম, যেখানে এক ইয়াহুদী এক উকিয়া সোনা এক দীনারের বিনিময়ে খরিদ করছিল।

রাবী কুতায়বা ছাড়া অন্য সকলের অভিমত হলো-দুই বা তিন দীনারের বিনিময়ে। এরপর উভয়ে একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা খরিদ করবে না, যতক্ষণ না এর ওজন সমান সমান হয়।

৩০৮. রূপার বিনিময়ে সোনা নেয়া।

باب فِي اقْتِضَاءِ الذَّهَبِ مِنَ الْوَرِقِ

৩৩২১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنْتُ أَبِيعُ الإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ آخُذُ هَذِهِ مِنْ هَذِهِ وَأُعْطِي هَذِهِ مِنْ هَذِهِ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيْتِ حَفْصَةَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رُوَيْدَكَ أَسْأَلُكَ إِنِّي أَبِيعُ الإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ آخُذُ هَذِهِ مِنْ هَذِهِ وَأُعْطِي هَذِهِ مِنْ هَذِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ بَأْسَ أَنْ تَأْخُذَهَا بِسَعْرِ يَوْمِهَا مَا لَمْ تَفْتَرِقَا وَبَيْنَكُمَا شَىْءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩২১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বাকী নামক স্থানে উট বিক্রি করতাম। তখন আমি দীনারের হিসাবে বিক্রি করে মূল্য গ্রহণের সময় দিরহাম নিতাম এবং একইরূপে দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে মূল্য গ্রহণের সময় দীনার গ্রহণ করতাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হই, আর এ সময় তিনি হাফসা (রাযিঃ)-এর গৃহে ছিলেন। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মেহেরবাণী করে একটু বাইরে আসুন, আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, আমি ’বাকী’ নামক স্থানে উট বেচা-কেনার ব্যবসা করি এবং আমি দীনারের বিনিময়ে বিক্রি করে মূল্য গ্রহণের সময় দিরহাম নেই, আর কোন সময় দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে মূল্য গ্রহণের সময় দীনার নেই; অর্থাৎ আমি দীনারের পরিবর্তে বিক্রি করে দিরহাম নেই এবং দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দীনার গ্রহণ করি- এরূপ লেন-দেন কি বৈধ? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এতে কোন দোষ নেই, তবে শর্ত হলো-সেদিনের বাজার দর অনুসারে লেন-দেন করবে এবং তোমরা দু’জন (ক্রেতা-বিক্রেতা) বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই ব্যাপারটি সম্পন্ন করবে।

৩৩২২

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ لَمْ يَذْكُرْ " بِسِعْرِ يَوْمِهَا " .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৩৩২২. হুসাইন ইবনে আসওয়াদ (রাহঃ) ..... সিমাক (রাহঃ) হতে হাদীসটি উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে পূর্বোক্ত হাদীসটি সম্পূর্ণ। কেননা, এ হাদীসে ’সে দিনের বাজার দর অনুসারে’ এ কথাটি উল্লেখ নেই।

৩০৯. পশুর বদলে পশু বাকীতে বিক্রি করা।

باب فِي الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً

৩৩২৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৩২৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) পশুর পরিবর্তে পশু বাকীতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

৩১০. বাকীতে পশু ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে।

اب فِي الرُّخْصَةِ

৩৩২৪

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حَرِيشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُجَهِّزَ جَيْشًا فَنَفِدَتِ الإِبِلُ فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ فِي قِلاَصِ الصَّدَقَةِ فَكَانَ يَأْخُذُ الْبَعِيرَ بِالْبَعِيرَيْنِ إِلَى إِبِلِ الصَّدَقَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩২৪. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে যোদ্ধা-বাহিনী তৈরীর জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় উট শেষ হয়ে গেলে তিনি তাকে সাদ্‌কার উট আসার শর্তে উট গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। তখন তিনি দু’টি উট প্রদানের শর্তে সৈন্যদের জন্য একটি উট গ্রহণ করতে থাকেন।

৩১১. নগদে বদলী ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে।

باب فِي ذَلِكَ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ

৩৩২৫

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الْهَمْدَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اشْتَرَى عَبْدًا بِعَبْدَيْنِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩২৫. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) দু’টি গোলামের পরিবর্তে একটি গোলাম খরিদ করে।

৩১২. খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি সম্পর্কে।

باب فِي التَّمْرِ بِالتَّمْرِ

৩৩২৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ زَيْدًا أَبَا عَيَّاشٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ الْبَيْضَاءِ، بِالسُّلْتِ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ الْبَيْضَاءُ . فَنَهَاهُ عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْأَلُ عَنْ شِرَاءِ التَّمْرِ بِالرُّطَبِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيَنْقُصُ الرُّطَبُ إِذَا يَبِسَ " . قَالُوا نَعَمْ فَنَهَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ نَحْوَ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৩২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... যায়দ আবু আয়্যাশ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-এর নিকট গমকে ’সালতের’[১] বিনিময়ে বিক্রি করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনঃ তখন সা’দ (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ বলতো এদের মধ্যে কোনটি উত্তম? তিনি বলেনঃ গম। তখন তিনি তাকে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনি, যখন তাঁকে ভিজা খেজুরের বিনিময়ে শুকনো খেজুর বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ভিজা খেজুর শুকানোর পর কি কমে যায়? তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি এরূপ করতে নিষেধ করেন।

[১] যব জাতীয় এক ধরনের শষ্য, যা দেখতে গমের মত, কিন্তু আসলে গম নয়— এরূপ শস্যকে 'সুলুদ' বলে।
৩৩২৭

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَنَّ أَبَا عَيَّاشٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الرُّطَبِ بِالتَّمْرِ نَسِيئَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ عَنْ مَوْلًى لِبَنِي مَخْزُومٍ عَنْ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৩২৭. রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে আবী ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভিজা খেজুরকে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

৩১৩. মুযাবানা[১] সম্পর্কে।

باب فِي الْمُزَابَنَةِ

৩৩২৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ كَيْلاً وَعَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ بِالزَّبِيبِ كَيْلاً وَعَنْ بَيْعِ الزَّرْعِ بِالْحِنْطَةِ كَيْلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩২৮. আবু বকর ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) খেজুরকে খেজুরের বিনিময়ে আন্দাজ করে, আংগুরকে কিশমিশের বিনিময়ে আন্দাজ করে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর ক্ষেতের ফসল আন্দাজ করে, গৃহে রক্ষিত ফসলের বিনিময়ে বিক্রি করতেও নিষেধ করেছেন।[২]

[১] বৃক্ষে রক্ষিত ফল আন্দাজ করে, ঐ পরিমান গাছ থেকে পাড়া ফলের বিনিময়ে বিক্রি করাকে 'সুযাবানা' বলে। অনুবাদক)।
[২] কেননা, এতে কম-বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই অনুমানের উপর নির্ভর করে ক্রয়-বিক্রয় করা ঠিক নয়। অনুবাদক)

৩১৪. আরায়া বা গাছের ফল পেড়ে বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ الْعَرَايَا

৩৩২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِالتَّمْرِ وَالرُّطَبِ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৩২৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) আরায়ার ক্রয়-বিক্রয় শুকনো অথবা তাজা খেজুরের বিনিময়ে জায়েয বলেছেন। (কেননা, এতে গরীব-মিসকীনদের উপকার নিহিত আছে।)

৩৩৩০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ وَرَخَّصَ فِي الْعَرَايَا أَنْ تُبَاعَ بِخَرْصِهَا يَأْكُلُهَا أَهْلُهَا رُطَبًا .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৩৩৩০. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ...... সাহল ইবনে আবী হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুকনো খেজুরকে তাজা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং আরায়ার অনুমতি দিয়েছেন, যাতে অনুমান করে বিক্রি করা যায় এবং মালিক তাজা ফল খেতে পারে।

৩১৫. আরায়ার ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ।

باب فِي مِقْدَارِ الْعَرِيَّةِ

৩৩৩১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَقَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ لَنَا الْقَعْنَبِيُّ فِيمَا قَرَأَ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ وَاسْمُهُ قُزْمَانُ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ فِي خَمْسَةِ أَوْسُقٍ شَكَّ دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: حَدِيثُ جَابِرٍ، إِلَى أَرْبَعَةِ أَوْسُقٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩৩১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ ’ওয়াসাক’ বা পাঁচ ’ওয়াসাক’ -এর কম পরিমাণে আরায়ার ক্রয়-বিক্রয়ে অনুমতি প্রদান করেছেন। (ষাট সা’তে এক ’ওয়াসাক’)

৩১৬. আরায়ার ব্যাখ্যা সম্পর্কে।

باب تَفْسِيرِ الْعَرَايَا

৩৩৩২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ الْعَرِيَّةُ الرَّجُلُ يُعْرِي الرَّجُلَ النَّخْلَةَ أَوِ الرَّجُلُ يَسْتَثْنِي مِنْ مَالِهِ النَّخْلَةَ أَوْ الاِثْنَتَيْنِ يَأْكُلُهَا فَيَبِيعُهَا بِتَمْرٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৩৩২. আহমদ ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) .... আব্দ রাব্বিহী ইবনে সা’ঈদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরায়ার অর্থ হলো- কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বৃক্ষ প্রদান করে, অথবা কোন ব্যক্তি তার বাগানের এক বা দুটি গাছের ফল খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে রেখে দেয়। এরপর তা শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করে।

৩১৭. পাকার আগে ফল বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ الثِّمَارِ قَبْلَ أَنْ يَبْدُوَ صَلاَحُهَا

৩৩৩৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ الْعَرَايَا أَنْ يَهَبَ الرَّجُلُ، لِلرَّجُلِ النَّخَلاَتِ فَيَشُقَّ عَلَيْهِ أَنْ يَقُومَ عَلَيْهَا فَيَبِيعَهَا بِمِثْلِ خَرْصِهَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৩৩৩. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ...... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরায়ার অর্থ হলো- কোন ব্যক্তি কাউকে কয়েকটি গাছ দান করে দেয়, এরপর দাতার নিকট এটা অপ্রিয় মনে হয় যে, সে ব্যক্তি (যাকে দান করেছে) সেই দানকৃত গাছের কাছে আসুক। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি উক্ত গাছের ফল পাড়িয়ে আসল মালিকের নিকট শুকনো খেজুর বিক্রি করে এর সমপরিমাণ তাজা খেজুর গ্রহণ করে।

৩৩৩৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৩৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফল পাকার আগে তা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।

৩৩৩৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৩৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাকার আগে খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। একইরূপে তিনি শস্যের ছড়া পাকার এবং বালা-মুসীবত থেকে নিরাপদ হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।

৩৩৩৬

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ مَوْلًى، لِقُرَيْشٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْغَنَائِمِ حَتَّى تُقْسَمَ وَعَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى تُحْرَزَ مِنْ كُلِّ عَارِضٍ وَأَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ بِغَيْرِ حِزَامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩৩৬. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমতের মাল বণ্টনের আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। একই ভাবে তিনি খেজুর সব ধরনের বালা-মুসীবত থেকে নিরাপদ হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি কোমরবন্দ ব্যতীত নামায আদায় করতেও নিষেধ করেছেন।

৩৩৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَلِيمِ بْنِ حَيَّانَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُبَاعَ الثَّمَرَةُ حَتَّى تُشَقِّحَ . قِيلَ وَمَا تُشَقِّحُ قَالَ تَحْمَارُّ وَتَصْفَارُّ وَيُؤْكَلُ مِنْهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৩৭. আবু বকর মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’মুশাককাহ’ হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ ’মুশাককাহ’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেনঃ যখন ফল লাল এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়।

৩৩৩৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ حَتَّى يَسْوَدَّ وَعَنْ بَيْعِ الْحَبِّ حَتَّى يَشْتَدَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৩৩৮. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আংগুর কালো রং বিশিষ্ট হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং শস্যের দানা শক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে মানা করেছেন।

৩৩৩৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا الزِّنَادِ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ، قَبْلَ أَنْ يَبْدُوَ، صَلاَحُهُ وَمَا ذُكِرَ فِي ذَلِكَ فَقَالَ كَانَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ يُحَدِّثُ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ الثِّمَارَ قَبْلَ أَنْ يَبْدُوَ صَلاَحُهَا فَإِذَا جَدَّ النَّاسُ وَحَضَرَ تَقَاضِيهِمْ قَالَ الْمُبْتَاعُ قَدْ أَصَابَ الثَّمَرَ الدُّمَانُ وَأَصَابَهُ قُشَامٌ وَأَصَابَهُ مُرَاضٌ عَاهَاتٌ يَحْتَجُّونَ بِهَا فَلَمَّا كَثُرَتْ خُصُومَتُهُمْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَالْمَشُورَةِ يُشِيرُ بِهَا " فَإِمَّا لاَ فَلاَ تَتَبَايَعُوا الثَّمَرَةَ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا " . لِكَثْرَةِ خُصُومَتِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৩৩৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... ইউনুস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু যিনাদের নিকট ফল পাকার আগে বিক্রি করা যায় কিনা এবং এ সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি না, তা জানতে চাই। তিনি বলেনঃ উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাহঃ) সাহল ইবনে আবী হাছমা (রাহঃ) সূত্রে তিনি যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ লোকেরা ফল পাকার আগে বিক্রি করে দিত। এরপর লোকেরা যখন ফল পাড়া শুরু করতো এবং এ সম্পর্কে তাগিদ দেওয়া শুরু হতো, তখন ক্রেতা বলতো- ফলে দুমান,[১] কুশাম[২] এবং রোগ হয়েছে। এরূপ ক্ষতি ফলের মধ্যে দেখা যেত। যখন নবী (ﷺ)-এর নিকট এ ধরনের মোকদ্দমা অধিক হারে আসতে লাগলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের পরামর্শ দিয়ে বললেনঃ এখন থেকে ফল পাকার নিদর্শন প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা তা বিক্রি করবে না। তিনি লোকদের ঝগড়া ও মতানৈক্যের কারণে এরূপ পরামর্শ দেন।

[১] এক জাতীয় রোগ, যার কারণে ফলের রং কালো ও বিবর্ণ হয়ে যায় এবং খারাপ দেখায়। (অনুবাদক)
[২] কুশামঃ এও এক ধরণের রোগ যার কারণে ফল পরিপুষ্ট হতে পারে না। (অনুবাদক)
৩৩৪০

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهُ وَلاَ يُبَاعُ إِلاَّ بِالدِّينَارِ أَوْ بِالدِّرْهَمِ إِلاَّ الْعَرَايَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৪০. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফল পাকার নমুনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ আরায়া ব্যতীত অন্যান্য ফল দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করতে হবে।

৩১৮. কয়েক বছরের জন্য গাছের ফল বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ السِّنِينَ

৩৩৪১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَتِيقٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ السِّنِينَ وَوَضَعَ الْجَوَائِحَ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «لَمْ يَصِحَّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الثُّلُثِ شَيْءٌ، وَهُوَ رَأْيُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ»

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৪১. আহমদ ইবনে হান্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কয়েক বছরের জন্য গাছের ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং এরূপ বিক্রয়ের ফলে ক্রেতা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিক্রেতাকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩৩৪২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُعَاوَمَةِ وَقَالَ أَحَدُهُمَا بَيْعِ السِّنِينَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৪২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কয়েক বছরের জন্য গাছের ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

৩১৯. ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে।

باب فِي بَيْعِ الْغَرَرِ

৩৩৪৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ، ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ - زَادَ عُثْمَانُ - وَالْحَصَاةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩৪৩. আবু বকর ও উছমান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ধোঁকাপূর্ণ এবং পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।

৩৩৪৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ أَمَّا الْبَيْعَتَانِ فَالْمُلاَمَسَةُ وَالْمُنَابَذَةُ وَأَمَّا اللِّبْسَتَانِ فَاشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ وَأَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ أَوْ لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَىْءٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৪৪. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) দু’ধরনের ক্রয়-বিক্রয় এবং দু’ধরনের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। দু’ধরনের ক্রয়-বিক্রয় এরূপ যে, (১) ক্রেতা বা বিক্রেতার মধ্যে কেউ কোন কাপড়ে হাত দিল, (২) অথবা তা একজন অন্যজনের প্রতি নিক্ষেপ করলো- এতে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত হয়ে যায়। আর দু’ধরনের কাপড় এরূপ যে, (১) যদি কেউ মাথা থেকে পা পর্যন্ত এক কাপড়ে আচ্ছাদিত করে, (২) অথবা যদি কেউ এরূপ কোন বস্ত্র পরিধান করে বসে, যাতে তার লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হয়ে যায়, অথবা তার লজ্জাস্থানের উপর কোন কাপড় না থাকে।

৩৩৪৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ وَاشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ أَنْ يَشْتَمِلَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يَضَعُ طَرَفَىِ الثَّوْبِ عَلَى عَاتِقِهِ الأَيْسَرِ وَيُبْرِزُ شِقَّهُ الأَيْمَنَ وَالْمُنَابَذَةُ أَنْ يَقُولَ إِذَا نَبَذْتُ إِلَيْكَ هَذَا الثَّوْبَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ وَالْمُلاَمَسَةُ أَنْ يَمَسَّهُ بِيَدِهِ وَلاَ يَنْشُرُهُ وَلاَ يُقَلِّبُهُ فَإِذَا مَسَّهُ وَجَبَ الْبَيْعُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৪৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, (১) ’ইশতিমালুস সাম্মা’ অর্থাৎ যদি কেউ তার শরীরে একটি কাপড় এমনভাবে জড়ায়, যাতে উক্ত বস্ত্রের দু’মাথা বাম দিকে থাকে এবং ডান দিক খোলা থাকে; (২) ’মুনাবাযা’ অর্থাৎ যদি বিক্রেতা বলেঃ যখন আমি এ কাপড় তোমার দিকে নিক্ষেপ করব, তখন বিক্রয় নির্ধারিত হয়ে যাবে; (৩) ’মুলামাসা’ অর্থাৎ যদি কেউ কোন কাপড় স্পর্শ করে, তখনই বিক্রি নির্ধারিত হয়ে যায়, যদিও সে ব্যক্তি তা খুলে না দেখে।[১]

[১] এতে ক্রেতার বা বিক্রেতার-উভয়েরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। (অনুবাদক)
৩৩৪৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ سُفْيَانَ وَعَبْدِ الرَّزَّاقِ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৪৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত দু’ধরনের ক্রয়-বিক্রয় ও দু’ধরনের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসটি সুফিয়ান ও আব্দুর রাযযাক একত্রে বর্ণনা করেছেন।

৩৩৪৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ حَبَلِ الْحَبَلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৪৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাবলুল হাবলার[১] (পশুর পেটের বাচ্চার বাচ্চা) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

[১] এধরনের ক্রয়-বিক্রয়ে এরূপ খাত থাকে যে, যখন ক্রয়কৃত উষ্ট্রীর বাচ্চার-বাচ্চা জন্ম নেবে, তখন এর মূল্য পরিশোধ করা হবে এর আগে নয়। শরীআতের দৃষ্টিতে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। (অনুবাদক)
৩৩৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَقَالَ حَبَلُ الْحَبَلَةِ أَنْ تُنْتَجَ النَّاقَةُ بَطْنَهَا ثُمَّ تَحْمِلُ الَّتِي نُتِجَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৪৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেনঃ হাবলুল হাবলা- এরূপ বিশেষ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় যে, ক্রয়কৃত উট বাচ্চা প্রসব করবে এবং তার বাচ্চা সন্তান সম্ভবা হলে পরে সে উটের মূল্য পরিশোধ করা হবে।

৩২০. ঠেকায় পড়ে বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ الْمُضْطَرِّ

৩৩৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا صَالِحُ أَبُو عَامِرٍ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ مُحَمَّدٌ - حَدَّثَنَا شَيْخٌ، مِنْ بَنِي تَمِيمٍ قَالَ خَطَبَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ - أَوْ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ قَالَ ابْنُ عِيسَى هَكَذَا حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - قَالَ سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ عَضُوضٌ يَعَضُّ الْمُوسِرُ عَلَى مَا فِي يَدَيْهِ وَلَمْ يُؤْمَرْ بِذَلِكَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ( وَلاَ تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ) وَيُبَايَعُ الْمُضْطَرُّونَ وَقَدْ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمُضْطَرِّ وَبَيْعِ الْغَرَرِ وَبَيْعِ الثَّمَرَةِ قَبْلَ أَنْ تُدْرِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৩৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অদূর ভবিষ্যতে মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন একজন অপর জনকে দাঁত দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করবে। এ সময় সম্পদশালী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদ দান করতে চাইবে না, অথচ তাদের এরূপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় নি। যেমন আল্লাহর বাণীঃ

وَلاَ تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ

অর্থাৎ তোমরা পরম্পর পরস্পরের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে ভুলবে না।

অথচ তারা একে অন্যের নিকট ঠেকায় পড়ে বিক্রি করবে। আর নবী (ﷺ) ঠেকায় পড়ে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন। একই রূপে তিনি ধোকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং ফল পাকার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

৩২১. শরীকী কারবার সম্পর্কে।

باب فى الشَّرِكَةِ

৩৩৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَفَعَهُ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَنَا ثَالِثُ الشَّرِيكَيْنِ، مَا لَمْ يَخُنْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فَإِذَا خَانَهُ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩৫০. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি দুই শরীকের মধ্যে তৃতীয় যতক্ষণ না তারা একে অপরের প্রতি খিয়ানত করে। এরপর যখন তাদের কেউ অন্যের প্রতি খিয়ানত করে, তখন আমি তাদের সংশ্রব পরিত্যাগ করি। (ফলে সে যৌথ কারবারে বরকত উঠে যায়।)

৩২২. ব্যবসায়ীর বৈপরীত্য সম্পর্কে।

باب فِي الْمُضَارِبِ يُخَالِفُ

৩৩৫১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، حَدَّثَنِي الْحَىُّ، عَنْ عُرْوَةَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْجَعْدِ الْبَارِقِيِّ - قَالَ أَعْطَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا يَشْتَرِي بِهِ أُضْحِيَةً أَوْ شَاةً فَاشْتَرَى شَاتَيْنِ فَبَاعَ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ فَأَتَاهُ بِشَاةٍ وَدِينَارٍ فَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ فِي بَيْعِهِ فَكَانَ لَوِ اشْتَرَى تُرَابًا لَرَبِحَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩৩৫১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) তাকে কুরবানীর পশু অথবা বকরী ক্রয়ের জন্য একটি দীনার দেন। তিনি তা দিয়ে দু’টি বকরী ক্রয় করেন। পরে একটিকে এক দীনারে বিক্রি করেন এবং একটি বকরী ও এক দীনার নবী (ﷺ)-এর খিদমতে পেশ করেন। তখন তিনি তার কারবারে বরকতের জন্য দুআ করেন। ফলে তার ব্যবসায় এত উন্নতি হয় যে, তিনি যদি মাটিও খরিদ করতেন, তবু তিনি তাতে লাভবান হতেন।

৩৩৫২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، - هُوَ أَخُو حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ، عَنْ أَبِي لَبِيدٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ الْبَارِقِيُّ، بِهَذَا الْخَبَرِ وَلَفْظُهُ مُخْتَلِفٌ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে আবু জা'দ বারিকী (রাঃ)

৩৩৫২. হাসান ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... উরওয়া বারিকী (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এর শব্দের মধ্যে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

৩৩৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي أَبُو حُصَيْنٍ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مَعَهُ بِدِينَارٍ يَشْتَرِي لَهُ أُضْحِيَةً فَاشْتَرَاهَا بِدِينَارٍ وَبَاعَهَا بِدِينَارَيْنِ فَرَجَعَ فَاشْتَرَى لَهُ أُضْحِيَةً بِدِينَارٍ وَجَاءَ بِدِينَارٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَتَصَدَّقَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَدَعَا لَهُ أَنْ يُبَارَكَ لَهُ فِي تِجَارَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

৩৩৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একটি দীনার দিয়ে কুরবানীর পশু খরিদের জন্য প্রেরণ করেন। তিনি এক দীনার দিয়ে কুরবানীর পশু খরিদ করে, পরে তা দুই দীনারে বিক্রি করে দেন। এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর জন্য এক দীনারে একটি কুরবানীর পশু খরিদ করেন এবং নগদ এক দীনার নিয়ে তাঁর খিদমতে হাযির হন। তখন নবী (ﷺ) উক্ত দীনারটি দান করে দেন এবং তার ব্যবসায়ে বরকতের জন্য দুআ করেন।

৩২৩. মালিকের অনুমতি ব্যতীত তার মাল দিয়ে কারো ব্যবসা করা।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَّجِرُ فِي مَالِ الرَّجُلِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ

৩৩৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ، أَخْبَرَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ مِثْلَ صَاحِبِ فَرْقِ الأَرُزِّ فَلْيَكُنْ مِثْلَهُ " . قَالُوا وَمَنْ صَاحِبُ فَرْقِ الأَرُزِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَكَرَ حَدِيثَ الْغَارِ حِينَ سَقَطَ عَلَيْهِمُ الْجَبَلُ فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمُ اذْكُرُوا أَحْسَنَ عَمَلِكُمْ قَالَ " وَقَالَ الثَّالِثُ اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنِّي اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرْقِ أَرُزٍّ فَلَمَّا أَمْسَيْتُ عَرَضْتُ عَلَيْهِ حَقَّهُ فَأَبَى أَنْ يَأْخُذَهُ وَذَهَبَ فَثَمَّرْتُهُ لَهُ حَتَّى جَمَعْتُ لَهُ بَقَرًا وَرِعَاءَهَا فَلَقِيَنِي فَقَالَ أَعْطِنِي حَقِّي . فَقُلْتُ اذْهَبْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ وَرِعَائِهَا فَخُذْهَا فَذَهَبَ فَاسْتَاقَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৩৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ’ফারকিল আরুযযের’ মত হতে সক্ষম, সে যেন তার মত হয়। সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ’ফারকিল আরুযযে’ কে? তখন তিনি গুহাবাসী (তিন ব্যক্তির) হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যখন তাদের গর্তের মুখে বিরাট প্রস্তরখণ্ড এসে পড়ে, তখন তারা বলে, এখন তোমরা তোমাদের জীবনের উত্তম আমলের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে দুআ কর।

তখন তাদের তৃতীয় ব্যক্তি বলেঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন আমি জনৈক ব্যক্তিকে এক ফারক চাউলের বিনিময়ে মজুর হিসাবে নিয়োগ করি। সন্ধ্যার সময় আমি তাকে তার মজুরী দিতে চাইলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং চলে যায়। এরপর আমি তার মজুরীর চাউল বিক্রি করে তা দিয়ে ক্ষেত-কৃষি করি এবং পরে তা দিয়ে গরু খরিদ করি এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখালও নিয়োগ করি। এরপর সে ব্যক্তি আমার সাথে (বহুদিন পর) সাক্ষাত করে এ বলেঃ আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দিন। তখন আমি বলিঃ তুমি এই গরুগুলো এবং এর রাখালদের নিয়ে যাও। তখন সে ব্যক্তি তা তাড়িয়ে নিয়ে যায়।[১]

[১] এরূপ যে ব্যক্তি বলেঃ ইয়া আল্লাহ্। আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার সাথে এরূপ আচরণ করেছি। তাই এর বিনিময়ে তুমি আমাদের এবিপদ থেকে রক্ষা কর। সে ব্যক্তির এ দু'আ কবুল হয় এবং গর্তের মুখ থেকে ভাবি পাথর আল্লাহর কুদরতে সরে যায় এবং তারা বিপদমুক্ত হয়। মানুষের উপকার ও নেক আমল করার প্রতি উৎসাতি করার লক্ষ্যে নবী (সা.) এ হাদীস বর্ণনা করেন । (অনুবাদক)

৩২৪. মূলধন ব্যতীত লভ্যাংশে শরীক হওয়া।

باب فِي الشَّرِكَةِ عَلَى غَيْرِ رَأْسِ مَالٍ

৩৩৫৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ اشْتَرَكْتُ أَنَا وَعَمَّارٌ، وَسَعْدٌ، فِيمَا نُصِيبُ يَوْمَ بَدْرٍ قَالَ فَجَاءَ سَعْدٌ بِأَسِيرَيْنِ وَلَمْ أَجِئْ أَنَا وَعَمَّارٌ بِشَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৩৫৫. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি, আম্মার এবং সা’দ (রাযিঃ) বদরের যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদে শরীক হই। তিনি আরো বলেনঃ এরপর সা’দ দু’জন বন্দী নিয়ে আসেন এবং আমি ও আম্মার (রাযিঃ) কিছুই আনি নি।

৩২৫. কৃষি জমি বর্গা দেওয়া।

باب فِي الْمُزَارَعَةِ

৩৩৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ مَا كُنَّا نَرَى بِالْمُزَارَعَةِ بَأْسًا حَتَّى سَمِعْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا . فَذَكَرْتُهُ لِطَاوُسٍ فَقَالَ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَنْهَ عَنْهَا وَلَكِنْ قَالَ " لأَنْ يَمْنَحَ أَحَدُكُمْ أَرْضَهُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا خَرَاجًا مَعْلُومًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কৃষি জমি বর্গা দেয়াকে আমি খারাপ মনে করতাম না। এরপর আমি রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমি তাউসের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেন নি। তবে তিনি বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ তার জমি কৃষির জন্য বর্গা দেয়, তবে তা ঐ ব্যবস্থার চাইতে উত্তম যে, কাউকে তা নিদিষ্ট টাকার বিনিময়ে দেবে।

৩৩৫৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ يَغْفِرُ اللَّهُ لِرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ أَنَا وَاللَّهِ، أَعْلَمُ بِالْحَدِيثِ مِنْهُ إِنَّمَا أَتَاهُ رَجُلاَنِ - قَالَ مُسَدَّدٌ مِنَ الأَنْصَارِ ثُمَّ اتَّفَقَا - قَدِ اقْتَتَلاَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كَانَ هَذَا شَأْنَكُمْ فَلاَ تُكْرُوا الْمَزَارِعَ " . زَادَ مُسَدَّدٌ فَسَمِعَ قَوْلَهُ " لاَ تُكْرُوا الْمَزَارِعَ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩৩৫৭. আবু বকর ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ)-কে ক্ষমা করুন! আল্লাহর শপথ! আমি এ হাদীস সম্পর্কে তার চাইতে অধিক অবহিত। ঘটনাটি এরূপঃ একদা দু’জন আনসার সাহাবী পরস্পর মারামারি করে নবী (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের অবস্থা যদি এই হয়, তবে তোমরা জমি বর্গা দেবে না। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) শুধু এতটুকু শোনেনঃ তোমরা জমি বর্গা দেবে না।

৩৩৫৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ كُنَّا نُكْرِي الأَرْضَ بِمَا عَلَى السَّوَاقِي مِنَ الزَّرْعِ وَمَا سَعِدَ بِالْمَاءِ مِنْهَا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ وَأَمَرَنَا أَنْ نُكْرِيَهَا بِذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৩৫৮. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নালার নিকটবর্তী কৃষি উপযোগী জমি এবং যেখানে আপনা-আপনি পানি উঠতো, তা বর্গা দিতাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং আমাদের এরূপ নির্দেশ দেন যে, আমরা যেন সোনা বা রূপার বিনিময়ে জমি লাগাই।

৩৩৫৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، كِلاَهُمَا عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - وَاللَّفْظُ لِلأَوْزَاعِيِّ - حَدَّثَنِي حَنْظَلَةُ بْنُ قَيْسٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ، بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ فَقَالَ لاَ بَأْسَ بِهَا إِنَّمَا كَانَ النَّاسُ يُؤَاجِرُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا عَلَى الْمَاذِيَانَاتِ وَأَقْبَالِ الْجَدَاوِلِ وَأَشْيَاءَ مِنَ الزَّرْعِ فَيَهْلِكُ هَذَا وَيَسْلَمُ هَذَا وَيَسْلَمُ هَذَا وَيَهْلِكُ هَذَا وَلَمْ يَكُنْ لِلنَّاسِ كِرَاءٌ إِلاَّ هَذَا فَلِذَلِكَ زَجَرَ عَنْهُ فَأَمَّا شَىْءٌ مَضْمُونٌ مَعْلُومٌ فَلاَ بَأْسَ بِهِ . وَحَدِيثُ إِبْرَاهِيمَ أَتَمُّ وَقَالَ قُتَيْبَةُ عَنْ حَنْظَلَةَ عَنْ رَافِعٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رِوَايَةُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ حَنْظَلَةَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৫৯. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... হানযালা ইবনে কায়স আনসারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ)-কে সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ এতে দোষের কিছু নেই। তিনি আরো বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্ববর্তী ফসলের জমি এবং কোন জমির বিশেষ অংশে উৎপন্ন ফসলের উপর জমি বর্গা দিত। তাই কখনো নালার পার্শ্ববর্তী জমির ফসল নষ্ট হতো এবং অন্য ফসল নিরাপদ থাকতো। সে সময় লোকদের মাঝে কেবল মাত্র এই প্রথা চালু ছিল। তাই নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেন। অবশ্য যা নিরাপদ ও সংরক্ষিত থাকবে, সেখানে এরূপ করলে তাতে দোষের কিছু নেই।

৩৩৬০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّهُ سَأَلَ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ، فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ فَقُلْتُ أَبِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ فَقَالَ أَمَّا بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ فَلاَ بَأْسَ بِهِ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬০. কুযায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... হানযালা ইবনে কায়স (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ)-এর নিকট জমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। এরপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ যদি সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি লাগানো হয়? তিনি বলেনঃ যদি সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি লাগানো হয়, তবে তাতে দোষের কিছু নেই।[১]

[১] জমি লাগান দেওয়ার সময়, জমির মালিক ও কৃষক একটি বিশেষ চুক্তিতে একমত হয়; যারফলে পরবর্তীতে গোলমালের কোন সম্ভাবনা থাকে না। কাজেই এতে দোষের কিছু নেই। (অনুবাদক)

৩২৬. জমি বর্গা না দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ

৩৩৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يُكْرِي أَرْضَهُ حَتَّى بَلَغَهُ أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ الأَنْصَارِيَّ حَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْهَى عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ فَلَقِيَهُ عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ يَا ابْنَ خَدِيجٍ مَاذَا تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كِرَاءِ الأَرْضِ قَالَ رَافِعٌ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ سَمِعْتُ عَمَّىَّ وَكَانَا قَدْ شَهِدَا بَدْرًا يُحَدِّثَانِ أَهْلَ الدَّارِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الأَرْضَ تُكْرَى . ثُمَّ خَشِيَ عَبْدُ اللَّهِ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْدَثَ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يَكُنْ عَلِمَهُ فَتَرَكَ كِرَاءَ الأَرْضِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَيُّوبُ وَعُبَيْدُ اللَّهِ وَكَثِيرُ بْنُ فَرْقَدٍ وَمَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ رَافِعٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ حَفْصِ بْنِ عِنَانٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ رَافِعٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَتَى رَافِعًا فَقَالَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ نَعَمْ . وَكَذَا قَالَ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ عَنْ أَبِي النَّجَاشِيِّ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ . وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ أَبِي النَّجَاشِيِّ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ عَمِّهِ ظُهَيْرِ بْنِ رَافِعٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَبُو النَّجَاشِيِّ، عَطَاءُ بْنُ صُهَيْبٍ»

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩৩৬১. আব্দুল মালিক (রাহঃ) ..... সালিম ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর জমি বর্গা দিতেন। এরপর তিনি জানতে পারেন যে, এ সম্পর্কে রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেন। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে বলেনঃ হে ইবনে খাদীজ! আপনি জমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কোন হাদীস বর্ণনা করেন? তখন রাফি (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি আমার দু’জন চাচার নিকট শ্রবণ করেছি, যাঁরা বদরের যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তাঁরা তাদের পরিবারবর্গের নিকট থেকে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়ে সবিশেষ অবহিত ছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় জমি বর্গা দেওয়া হতো। এরপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এই ভয়ে যে, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে কোন নতুন নির্দেশ জারী করেছেন, যার খবর তিনি রাখেন না, তাই তিনি জমি বর্গা দেওয়া পরিত্যাগ করেন।

৩৩৬২
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، قَالَ كُنَّا نُخَابِرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَنَّ بَعْضَ عُمُومَتِهِ أَتَاهُ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَمْرٍ كَانَ لَنَا نَافِعًا وَطَوَاعِيَةُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ أَنْفَعُ لَنَا وَأَنْفَعُ . قَالَ قُلْنَا وَمَا ذَاكَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَزْرَعْهَا أَوْ فَلْيُزْرِعْهَا أَخَاهُ وَلاَ يُكَارِيهَا بِثُلُثٍ وَلاَ بِرُبُعٍ وَلاَ بِطَعَامٍ مُسَمًّى " .

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ يَعْلَى بْنُ حَكِيمٍ، أَنِّي سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، بِمَعْنَى إِسْنَادِ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَحَدِيثِهِ

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬২. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় জমি বর্গা দিতাম। এরপর আমার এক চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন, যাতে আমরা উপকৃত হতাম। কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ আমাদের জন্য অধিক উপকারী। রাবী বলেন, তখন আমরা তাকে বললামঃ তা কিরূপ? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জমি আছে, তার উচিত নিজে তা চাষাবাদ করা অথবা নিজের ভাইকে দিয়ে চাষাবাদ করানো। কিন্তু তিন ভাগের এক ভাগ, বা চার ভাগের এক ভাগ অথবা কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসল দেওয়ার চুক্তিতে জমি বর্গা দেওয়া ঠিক হবে না।

আইয়ুব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া’লা ইবনু হাকীম (রহঃ) আমাকে লিখে পাঠালেন যে, আমি (ইয়া’লা) সুলায়মান ইবনু ইয়াসারের নিকট উবাইদুল্লাহর সামনে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি।
৩৩৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَنَا أَبُو رَافِعٍ مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَمْرٍ كَانَ يَرْفَقُ بِنَا وَطَاعَةُ اللَّهِ وَطَاعَةُ رَسُولِهِ أَرْفَقُ بِنَا نَهَانَا أَنْ يَزْرَعَ أَحَدُنَا إِلاَّ أَرْضًا يَمْلِكُ رَقَبَتَهَا أَوْ مَنِيحَةً يَمْنَحُهَا رَجُلٌ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬৩. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আবু রাফি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে আমাদের কাছে এসে বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এমন কাজ হতে নিষেধ করেছেন, যাতে আমরা উপকৃত হতাম। বস্তুত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণই আমাদের জন্য অধিক উপকারী। তিনি আমাদের নিজস্ব জমি ছাড়া অন্য জমিতে চাষাবাদ করতে নিষেধ করেছেন। অথবা তিনি এমন জমি চাষাবাদ করতে করেছেন, যার জন্য কোন অংশ নির্ধারণ করা হয়নি।

৩২৬.জমি বর্গা না দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ

৩৩৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ ظُهَيْرٍ، قَالَ جَاءَنَا رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ يَنْهَاكُمْ عَنْ أَمْرٍ، كَانَ لَكُمْ نَافِعًا وَطَاعَةُ اللَّهِ وَطَاعَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْفَعُ لَكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَاكُمْ عَنِ الْحَقْلِ وَقَالَ " مَنِ اسْتَغْنَى عَنْ أَرْضِهِ فَلْيَمْنَحْهَا أَخَاهُ أَوْ لِيَدَعْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ شُعْبَةُ وَمُفَضَّلُ بْنُ مُهَلْهَلٍ عَنْ مَنْصُورٍ . قَالَ شُعْبَةُ أُسَيْدُ ابْنُ أَخِي رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৩৩৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উসায়দ ইবনে যুহাইর (রাহঃ) হতে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদা রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) আমাদের কাছে এসে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের এমন একটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন, যাতে তোমরা উপকৃত হতে। বস্তুত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণই তোমাদের জন্য অধিক উপকারী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের ’হাকলম্ব’[১] হতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার জমির মুখাপেক্ষী নয়, সে যেন তা তার ভাইকে দেয়, অথবা খালি ফেলে রাখে।[১]

[১] ফসলের কোন নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে জমি বর্গা দেওয়াকে ‘হাল' বলে । এরূপ করা বৈধ নয়। (অনুবাদক)

৩২৬. জমি বর্গা না দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ

৩৩৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْخَطْمِيُّ، قَالَ بَعَثَنِي عَمِّي أَنَا وَغُلاَمًا، لَهُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ فَقُلْنَا لَهُ شَىْءٌ بَلَغَنَا عَنْكَ فِي الْمُزَارَعَةِ . قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَرَى بِهَا بَأْسًا حَتَّى بَلَغَهُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ فَأَتَاهُ فَأَخْبَرَهُ رَافِعٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى بَنِي حَارِثَةَ فَرَأَى زَرْعًا فِي أَرْضِ ظُهَيْرٍ فَقَالَ " مَا أَحْسَنَ زَرْعَ ظُهَيْرٍ " . قَالُوا لَيْسَ لِظُهَيْرٍ . قَالَ " أَلَيْسَ أَرْضُ ظُهَيْرٍ " . قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّهُ زَرْعُ فُلاَنٍ . قَالَ " فَخُذُوا زَرْعَكُمْ وَرُدُّوا عَلَيْهِ النَّفَقَةَ " . قَالَ رَافِعٌ فَأَخَذْنَا زَرْعَنَا وَرَدَدْنَا إِلَيْهِ النَّفَقَةَ . قَالَ سَعِيدٌ أَفْقِرْ أَخَاكَ أَوْ أَكْرِهِ بِالدَّرَاهِمِ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আবু জাফর খাতমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমার চাচা আমাকে এবং তার একটি গোলামকে সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব (রাযিঃ) নিকট প্রেরণ করেন। তখন আমরা তাকে বলিঃ আমরা আপনার তরফ থেকে বর্ণিত জমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে একটি হাদীসের খবর জানতে পেরেছি। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) জমি বর্গা দেওয়াতে দোষণীয় বলে মনে করতেন না। পরে তিনি রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে অবহিত হন। তখন তিনি রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু হারিছায় গমন করে জহীরের জমিতে উৎপন্ন ফসল দেখে বলেন, জহীরের ফসল কি উত্তম! তখন উপস্থিত সাহাবীরা বলেনঃ এ জমি জহীরের নয়। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ এ জমি কি জহীরের নয়? তারা বলেনঃ হ্যাঁ, তবে এর ফসল অমুক ব্যক্তির। এ কথা শুনে তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের ফসল নিয়ে যাও এবং তাকে তার শ্রমের বিনিময় দিয়ে দাও।

রাবী রাফি (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমরা চাষীকে তার শ্রমের বিনিময় প্রদান করি এবং আমাদের ক্ষেত ফেরত নিয়ে নিই।

রাবী সাঈদ (রাযিঃ) বলেনঃ হয় তুমি তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাও (তোমার জমি চাষাবাদ করতে দিয়ে), নয়তো দিরহামের বিনিময়ে জমি বর্গা দাও।
৩৩৬৬
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا طَارِقُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَقَالَ " إِنَّمَا يَزْرَعُ ثَلاَثَةٌ رَجُلٌ لَهُ أَرْضٌ فَهُوَ يَزْرَعُهَا وَرَجُلٌ مُنِحَ أَرْضًا فَهُوَ يَزْرَعُ مَا مُنِحَ وَرَجُلٌ اسْتَكْرَى أَرْضًا بِذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَرَأْتُ عَلَى سَعِيدِ بْنِ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيِّ قُلْتُ لَهُ حَدَّثَكُمُ ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدٍ أَبِي شُجَاعٍ، حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ سَهْلِ بْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ إِنِّي لَيَتِيمٌ فِي حِجْرِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَحَجَجْتُ مَعَهُ فَجَاءَهُ أَخِي عِمْرَانُ بْنُ سَهْلٍ فَقَالَ أَكْرَيْنَا أَرْضَنَا فُلاَنَةَ بِمِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَقَالَ دَعْهُ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كِرَاءِ الأَرْضِ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’মুহাকালা’[১] এবং ’মুযাবানা’[২] হতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ চাষাবাদের পদ্ধতি হল তিন ধরনেরঃ (১) যার জমি আছে, সে নিজে তা চাষাবাদ করবে; (২) অন্যের জমি আর নিয়ে তা চাষাবাদ করবে এবং (৩) সোনা বা রূপার বিনিময়ে জমি নিয়ে তা চাষাবাদ করবে।

[১] মুহাকালা' বলা হয়, শুকনো ফসল বা শস্যের বিনিময়ে জমি বর্গা দেওয়া।
[২] মুযাবানা' বলা হয়, শকুনো ফলের বিনিময়ে ফলের বাগান বিক্রি করা। এরূপ করা বৈধ নয়। (অনুবাদক)
৩৩৬৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا بُكَيْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَامِرٍ - عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ، حَدَّثَنِي رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ، أَنَّهُ زَرَعَ أَرْضًا فَمَرَّ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْقِيهَا فَسَأَلَهُ " لِمَنِ الزَّرْعُ وَلِمَنِ الأَرْضُ " . فَقَالَ زَرْعِي بِبَذْرِي وَعَمَلِي لِيَ الشَّطْرُ وَلِبَنِي فُلاَنٍ الشَّطْرُ . فَقَالَ " أَرْبَيْتُمَا فَرُدَّ الأَرْضَ عَلَى أَهْلِهَا وَخُذْ نَفَقَتَكَ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ...... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একটি জমি চাষাবাদ করেন। একদা নবী (ﷺ) সে জমির পাশ দিয়ে এমন সময় যাচ্ছিলেন, যখন রাফি তাঁর ক্ষেতে পানি দিচ্ছিলেন, তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ফসল কার এবং এ জমির মালিক কে? তখন রাফি (রাযিঃ) বলেনঃ এ ফসল আমার, বীজ আমার এবং শ্রমও আমার। তবে এ শর্তে যে, অর্ধেক ফসল আমার এবং বাকী অর্ধেক জমির মালিকের। তখন তিনি বলেনঃ তুমি তো সুদের মত কারবার করেছ। তুমি জমির মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দাও এবং তোমার যা খরচ হয়েছে, তা তার থেকে নিয়ে নাও।[১]

[১] আলোচ্য হাদীসটি ও বিশেষ কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। অন্যথায় এ ধরনের ভাগ, যাতে উভয় পক্ষের অর্থাৎ চাষীর ও জমির মালিকের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, তা জায়েয। সাধারণতঃ উভয় পক্ষের মধ্যে, কোন পক্ষের যদি কোনরূপ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে এরূপ করা উচিত নয়। (অনুবাদক)

৩২৭. জমির মালিকের বিনা অনুমতিতে তার জমি চাষ করা।

باب فِي زَرْعِ الأَرْضِ بِغَيْرِ إِذْنِ صَاحِبِهَا

৩৩৬৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ زَرَعَ فِي أَرْضِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَلَيْسَ لَهُ مِنَ الزَّرْعِ شَىْءٌ وَلَهُ نَفَقَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৬৮. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির জমিতে তার অনুমতি ছাড়া চাষাবাদ করে, সে ফসলের কিছুই পাবে না। অবশ্য সে তার পারিশ্রমিক পাবে।

৩২৮. জমি ভাগে বর্গা দেওয়া।

باب فِي الْمُخَابَرَةِ

৩৩৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ حَمَّادًا، وَعَبْدَ الْوَارِثِ، حَدَّثَاهُمْ كُلُّهُمْ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، - قَالَ عَنْ حَمَّادٍ، وَسَعِيدِ بْنِ مِينَاءَ، ثُمَّ اتَّفَقُوا - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُخَابَرَةِ وَالْمُعَاوَمَةِ - قَالَ عَنْ حَمَّادٍ وَقَالَ أَحَدُهُمَا وَالْمُعَاوَمَةِ وَقَالَ الآخَرُ بَيْعِ السِّنِينَ ثُمَّ اتَّفَقُوا - وَعَنِ الثُّنْيَا وَرَخَّصَ فِي الْعَرَايَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৬৯. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানা,[১] মুহাকালা,[২] মুখাবারা এবং মু’আওয়ামা[৪] করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি ইসতিছনা[৫] করতে নিষেধ করেছেন।

[১] মুযাবানা হলো শুকনো ফলের বিনিময়ে ফলের বাগান বিক্রি করা।
[২] মুহাকালা হলো শুকনো ফসল বা শস্যের বিনিময়ে জমি ভাগে দেওয়া।
[৪] মুআওয়ামা হলো কয়েক বছরের জন্য কোন বাগানের ফল এর সংগে বিক্রি করা।
[৫] ইসতিছনা হলো ফসলের কিছু অংশকে মোট অংশ হতে পার্থক্য করা।
৩৩৭০

حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عُمَرُ بْنُ يَزِيدَ السَّيَّارِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُزَابَنَةِ وَالْمُحَاقَلَةِ وَعَنِ الثُّنْيَا إِلاَّ أَنْ يُعْلَمَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৭০. আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযাবানা, মুহাকালা ও ইসতিছনা করতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য যদি তার পরিমাণ নির্ধারিত থাকে, তবে তা জায়েয।

৩৩৭১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ رَجَاءٍ، - يَعْنِي الْمَكِّيَّ - قَالَ ابْنُ خُثَيْمٍ حَدَّثَنِي عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ لَمْ يَذَرِ الْمُخَابَرَةَ فَلْيَأْذَنْ بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৭১. ইয়াহয়া ইবনে মা’ঈন (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি মুখাবারা পরিত্যাগ করে না, সে যেন আল্লাহ এবং তার রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে রাখে।[১]

[১] কারো কারো মতে খায়বরের হাদীস দ্বারা এ হাদীস মানসূখ হয়েছে। কেননা, নবী (সা.) খায়বর বাসীদের সাথে
মুখাবারা করেছিলেন। (অনুবাদক)।
৩৩৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُخَابَرَةِ . قُلْتُ وَمَا الْمُخَابَرَةُ قَالَ أَنْ تَأْخُذَ الأَرْضَ بِنِصْفٍ أَوْ ثُلُثٍ أَوْ رُبُعٍ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৩৭২. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখাবারা করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করি, মুখাবারা কি? তখন তিনি বলেনঃ অর্ধেক, তিন ভাগের এক ভাগ অথবা চার ভাগের একভাগ দেওয়ার শর্তে জমি বর্গা দেওয়া।

৩২৯. গাছের ফল বণ্টন সম্পর্কে।

باب فِي الْمُسَاقَاةِ

৩৩৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَامَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْ ثَمَرٍ أَوْ زَرْعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৭৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের অধিবাসীদের সাথে গাছের ফল অথবা ক্ষেতের ফসলের উপর অর্ধেক ভাগে লেনদেন সম্পন্ন করেন।

৩৩৭৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ غَنَجٍ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَفَعَ إِلَى يَهُودِ خَيْبَرَ نَخْلَ خَيْبَرَ وَأَرْضَهَا عَلَى أَنْ يَعْتَمِلُوهَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَأَنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَطْرَ ثَمَرَتِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৭৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) খায়বরের ইয়াহুদীদের এ শর্তে বাগান এবং জমি প্রদান করেন যে, তারা তাতে ফসল উৎপন্ন করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রদান করবে।

৩৩৭৫

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ افْتَتَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ وَاشْتَرَطَ أَنَّ لَهُ الأَرْضَ وَكُلَّ صَفْرَاءَ وَبَيْضَاءَ . قَالَ أَهْلُ خَيْبَرَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِالأَرْضِ مِنْكُمْ فَأَعْطِنَاهَا عَلَى أَنَّ لَكُمْ نِصْفَ الثَّمَرَةِ وَلَنَا نِصْفٌ . فَزَعَمَ أَنَّهُ أَعْطَاهُمْ عَلَى ذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ حِينَ يُصْرَمُ النَّخْلُ بَعَثَ إِلَيْهِمْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ فَحَزَرَ عَلَيْهِمُ النَّخْلَ وَهُوَ الَّذِي يُسَمِّيهِ أَهْلُ الْمَدِينَةِ الْخَرْصَ فَقَالَ فِي ذِهْ كَذَا وَكَذَا قَالُوا أَكْثَرْتَ عَلَيْنَا يَا ابْنَ رَوَاحَةَ . فَقَالَ فَأَنَا أَلِي حَزْرَ النَّخْلِ وَأُعْطِيكُمْ نِصْفَ الَّذِي قُلْتُ . قَالُوا هَذَا الْحَقُّ وَبِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ قَدْ رَضِينَا أَنْ نَأْخُذَهُ بِالَّذِي قُلْتَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৩৭৫. আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বর বিজয়ের পর এরূপ শর্ত লাগান যে, যমীন আমি নিয়ে নেবো এবং এখানে যে সোনা-রূপা পাওয়া যাবে, তাও আমার। তখন খায়বরবাসীগণ বলেনঃ আমরা আপনাদের চাইতে চাষাবাদে বিশেষ পটু, তাই আপনি এ শর্তে খায়বরের জমি আমাদের প্রদান করূন যে, এর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক হবে আপনার এবং বাকী অর্ধেক হবে আমাদের। তখন নবী (ﷺ) এ শর্তে তাদের জমি প্রদান করেন।

এরপর যখন খেজুর কাটার সময় আসতো, তখন নবী (ﷺ) আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ)-কে তাদের নিকট পাঠাতেন। সেখানে গিয়ে খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করে বলতেনঃ এ বাগানে এত পরিমাণ খেজুর হবে। মদীনাবাসীদের পরিভাষায় একে ’খারস’ বলা হতো। তখন তারা বলতোঃ ওহে ইবনে রাওয়াহা! আপনি তো বেশী আন্দায করলেন। তখন তিনি বলেনঃ তাহলে আমি খেজুর কাটার ব্যবস্থা করি এবং আমি যা অনুমান করেছি তার অর্ধেক তোমাদের দেই। তখন তারা বলেঃ না, আপনার অনুমানই সত্য এবং এ সত্যের কারণে আসমান ও যমীন স্থির আছে। আর আমরা আপনার অনুমান অনুযায়ী ফল গ্রহণে রাজি আছি।
৩৩৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي الزَّرْقَاءِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ فَحَزَرَ وَقَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ وَكُلَّ صَفْرَاءَ وَبَيْضَاءَ يَعْنِي الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ لَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ)

৩৩৭৬. আলী ইবনে সাহল (রাহঃ) ...... জা’ফর ইবনে বুরকান (রাযিঃ) থেকে উপরোক্ত সনদে এরূপ বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর তারা নিজেরাই খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে থাকে। রাবী আরো বলেনঃ ’সাফরা’ ও ’বায়যা’ শব্দের অর্থ হলোঃ সোনা ও রূপা, যার মালিক হবেন নবী করীম (ﷺ)।

৩৩৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا كَثِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِشَامٍ - عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا مَيْمُونٌ، عَنْ مِقْسَمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ زَيْدٍ قَالَ فَحَزَرَ النَّخْلَ وَقَالَ فَأَنَا أَلِي جُذَاذَ النَّخْلِ وَأُعْطِيكُمْ نِصْفَ الَّذِي قُلْتُ .

বর্ণনাকারী: মিকসাম (রহঃ)

৩৩৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... মিকসাম (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত, যেরূপ উপরে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) খায়বর যখন জয় করেন। এরপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বলেনঃ তিনি খেজুরের আনুমান করেন। পরে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি খেজুর কাটাব এবং আমি যে আনুমান করেছি, তার অর্ধেক তোমাদের দেব।

৩৩০. আনুমান করা সম্পর্কে।

باب فِي الْخَرْصِ

৩৩৭৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أُخْبِرْتُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَبْعَثُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ فَيَخْرُصُ النَّخْلَ حِينَ يَطِيبُ قَبْلَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْهُ ثُمَّ يُخَيِّرُ يَهُودَ يَأْخُذُونَهُ بِذَلِكَ الْخَرْصِ أَوْ يَدْفَعُونَهُ إِلَيْهِمْ بِذَلِكَ الْخَرْصِ لِكَىْ تُحْصَى الزَّكَاةُ قَبْلَ أَنْ تُؤْكَلَ الثِّمَارُ وَتُفَرَّقَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৩৭৮. ইয়াহয়া ইবনে মাঈন (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ)-কে প্রতি বছর খায়বর পাঠাতেন, যাতে তিনি খেজুর পাকার সময়, খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেন। এরপর তিনি খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করে ইয়াহুদীদের ইখতিয়ার দিতেন যে, তারা এ পরিমাণ নিতে পারে অথবা ঐ পরিমাণ গ্রহণ করে, বাকি অংশ তাঁকে প্রদান করে, যাতে ফলগুলো খাওয়া যায় এবং ছড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে তার যাকাতও পরিশোধ করা যায়।

৩৩৭৯

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ خَيْبَرَ فَأَقَرَّهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا كَانُوا وَجَعَلَهَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ فَبَعَثَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ فَخَرَصَهَا عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৭৯. ইবনে আবী খালাফ (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আল্লাহ তাআলা বিনা যুদ্ধে খায়বরকে তাঁর রাসূলকে প্রদান করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানকার অধিবাসীদের সেরূপ রাখেন, যেরূপ তারা ছিলো। তিনি তাদের উৎপাদিত ফসলের শরীক হন। এরপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ)-কে সেখানে প্রেরণ করেন, যিনি সেখানে গিয়ে ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করেন এবং তাদের থেকে অর্ধেক ফল নিয়ে নেন।

৩৩৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ خَرَصَهَا ابْنُ رَوَاحَةَ أَرْبَعِينَ أَلْفَ وَسْقٍ وَزَعَمَ أَنَّ الْيَهُودَ لَمَّا خَيَّرَهُمُ ابْنُ رَوَاحَةَ أَخَذُوا الثَّمَرَ وَعَلَيْهِمْ عِشْرُونَ أَلْفَ وَسْقٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৮০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ) খায়বরে প্রাপ্ত খেজুরের অনুমান করেন চল্লিশ হাজার ওসক। এর পর তিনি যখন সেখানকার ইয়াহুদীদের ইখতিয়ার দেন, তখন তারা বিশ হাজার ওসক পরিমাণ দিতে সম্মত হয় এবং খেজুর তাদের অধিকারে নিয়ে নেয়।

৩৩১. শিক্ষকের পারিশ্রমিক সম্পর্কে।

باب فِي كَسْبِ الْمُعَلِّمِ

৩৩৮১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ عَلَّمْتُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ الْكِتَابَ وَالْقُرْآنَ فَأَهْدَى إِلَىَّ رَجُلٌ مِنْهُمْ قَوْسًا فَقُلْتُ لَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لآتِيَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأَسْأَلَنَّهُ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجُلٌ أَهْدَى إِلَىَّ قَوْسًا مِمَّنْ كُنْتُ أُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْقُرْآنَ وَلَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ " إِنْ كُنْتَ تُحِبُّ أَنْ تُطَوَّقَ طَوْقًا مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩৩৮১. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আহলে-সুফফার কিছু লোককে লেখা এবং কুরআন পড়া শিখাতাম। তখন তাদের একজন আমার জন্য একটি ধনুক হাদিয়া হিসাবে প্রেরণ করে। তখন আমি ধারণা করি যে, এ তো কোন মাল নয়, আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তীরন্দাযী করবো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যাদের কুরআন পড়া এবং লেখা শেখাই, তাদের একজন আমাকে হাদিয়া হিসাবে একটি ধনুক প্রদান করেছে, যা কোন মালই নয়। আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তীরন্দাযী করব। তিনি বলেনঃ তুমি যদি তোমার গলায় জাহান্নামের কোন বেড়ী পরাতে চাও, তবে তুমি তা গ্রহণ কর।[১]

[১] ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) হাদীসের বাহ্যিক অর্থের দিকে খেয়াল করে কুরআন শিখানোর জন্য বিনিময় গ্রহণ করাকে 'মাকরূহ' বলেছেন। কিন্তু হানাফী মাযহাবের পরবর্তী 'আলিমগণ এবং অধিকাংশ আলিমের মত এর পক্ষে দেখা যায়। বিশেষতঃ এ যুগে, যখন কুরআন শিক্ষা দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করে, তাতে দোষের কিছু নেই। সম্ভবতঃ সতর্কতা অবলম্বন হেতু ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) একে 'মাক্কুহ' বলেছেন (অনুবাদক)।
৩৩৮২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَكَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ نُسَىٍّ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، نَحْوَ هَذَا الْخَبَرِ - وَالأَوَّلُ أَتَمُّ - فَقُلْتُ مَا تَرَى فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ " جَمْرَةٌ بَيْنَ كَتِفَيْكَ تَقَلَّدْتَهَا " . أَوْ " تَعَلَّقْتَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৩৩৮২. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) এরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আগের হাদীসটি সম্পূর্ণ। (এ হাদীসে তিনি বলেনঃ) তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তখন তিনি বলেনঃ এতো অঙ্গার, যা তুমি তোমার দুটি কাঁধে ঝুলিয়েছ!

৩৩২. চিকিৎসকদের মজুরী সম্পর্কে।

باب فِي كَسْبِ الأَطِبَّاءِ

৩৩৮৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَهْطًا، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْطَلَقُوا فِي سَفْرَةٍ سَافَرُوهَا فَنَزَلُوا بِحَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَاسْتَضَافُوهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمْ - قَالَ - فَلُدِغَ سَيِّدُ ذَلِكَ الْحَىِّ فَشَفَوْا لَهُ بِكُلِّ شَىْءٍ لاَ يَنْفَعُهُ شَىْءٌ . فَقَالَ بَعْضُهُمْ لَوْ أَتَيْتُمْ هَؤُلاَءِ الرَّهْطَ الَّذِينَ نَزَلُوا بِكُمْ لَعَلَّ أَنْ يَكُونَ عِنْدَ بَعْضِهِمْ شَىْءٌ يَنْفَعُ صَاحِبَكُمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ فَشَفَيْنَا لَهُ بِكُلِّ شَىْءٍ فَلاَ يَنْفَعُهُ شَىْءٌ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ شَىْءٌ يَشْفِي صَاحِبَنَا يَعْنِي رُقْيَةً . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ إِنِّي لأَرْقِي وَلَكِنِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَأَبَيْتُمْ أَنْ تُضَيِّفُونَا مَا أَنَا بِرَاقٍ حَتَّى تَجْعَلُوا لِي جُعْلاً . فَجَعَلُوا لَهُ قَطِيعًا مِنَ الشَّاءِ فَأَتَاهُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَيَتْفُلُ حَتَّى بَرِئَ كَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَأَوْفَاهُمْ جُعْلَهُمُ الَّذِي صَالَحُوهُ عَلَيْهِ . فَقَالُوا اقْتَسِمُوا فَقَالَ الَّذِي رَقَى لاَ تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَسْتَأْمِرَهُ . فَغَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِنْ أَيْنَ عَلِمْتُمْ أَنَّهَا رُقْيَةٌ أَحْسَنْتُمْ وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ بِسَهْمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৮৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের একটি দল কোন এক সফরে থাকাকালে তাঁরা আরবের একটি গোত্রের নিকট অবতরণ করেন এবং তাদের নিকট মেহমান হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তারা তাদেরকে আতিথ্যে বরণ করতে অস্বীকার করে।

রাবী বলেনঃ এ গোত্রের নেতাকে বিষাক্ত জীবে দংশন করে। তারা তার চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, কিন্তু তাতে কোন ফল হয় না। তখন তাদের কেউ কেউ বলে, যদি তোমরা এই দলের লোকদের নিকট গমন কর, যারা তোমাদের কাছে অবস্থান করছে, তবে এদের কারো কাছে এরূপ কিছু থাকতে পারে, যাতে তোমাদের নেতার উপকার হতে পারে। তখন সে গোত্রের একজন সাহাবীদের নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ আমাদের নেতাকে বিষাক্ত প্রাণী দংশন করেছে এবং সব ধরনের চিকিৎসা সত্ত্বেও তার কোন উপকার হচ্ছে না, এখন তোমাদের মাঝে এমন কোন ঝাড়-ফুঁককারী আছে কি না, যে তাকে রোগমুক্ত করতে পারে?

তখন সাহাবীদের একজন বলেনঃ আমি তো ঝাড়-ফুঁকই দ্বারা চিকিৎসা করি। কিন্তু ব্যাপার হলে আমরা তোমাদের মেহমান হতে চেয়েছিলাম, তোমরা আমাদের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করতে রাযি হওনি। এখন আমি কোন ঝাড়-ফুঁকই করব না, যতক্ষণ না তোমরা এর পারিশ্রমিক দেবে। তখন তারা তাঁকে এক পাল ছাগল প্রদান করতে চায়।

সাহাবী সে ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হয়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করে দংশিত স্থানে থুথুর প্রলেপ দিতে থাকেন, যাতে সে রোগমুক্ত হয় এমন ভাবে, যেমন কোন ব্যক্তি রশির বন্ধন হতে মুক্তি পায়। তখন সে গোত্রের লোকেরা উক্ত সাহাবীকে যে বিনিময় দিতে চেয়েছিল, তা প্রদান করে। তখন তাঁরা বলেনঃ আসুন, আমরা এগুলো বণ্টন করে নেই।

তখন ঝাড়-ফুঁকদাতা সাহাবী বলেনঃ তোমরা ততক্ষণ বণ্টন করো না, যতক্ষণ না আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হই এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করি। এরপর সাহাবীগণ পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে ঘটনাটি তাঁর নিকট বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কিরূপে জানলে যে, এটি একটি ঝাড়-ফুঁকের মন্ত্র? তোমরা খুব ভাল কাজ করেছ। তোমরা তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ নির্ধারণ কর।
৩৩৮৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَخِيهِ، مَعْبَدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৩৮৪. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৩৮৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ الصَّلْتِ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ مَرَّ بِقَوْمٍ فَأَتَوْهُ فَقَالُوا إِنَّكَ جِئْتَ مِنْ عِنْدِ هَذَا الرَّجُلِ بِخَيْرٍ فَارْقِ لَنَا هَذَا الرَّجُلَ . فَأَتَوْهُ بِرَجُلٍ مَعْتُوهٍ فِي الْقُيُودِ فَرَقَاهُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً كُلَّمَا خَتَمَهَا جَمَعَ بُزَاقَهُ ثُمَّ تَفَلَ فَكَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَأَعْطُوهُ شَيْئًا فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَهُ لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " كُلْ فَلَعَمْرِي لَمَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةٍ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةٍ حَقٍّ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৩৮৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... খারিজা ইবনে সালত (রাযিঃ) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি কোন এক কওমের পাশ দিয়ে গমন কালে সেখানকার কিছু লোক তার কাছে এসে বলেঃ আপনি তো ঐ ব্যক্তির (নবী (ﷺ)-এর) নিকট থেকে কিছু মংগল নিয়ে এসেছেন, এখন আপনি আমাদের এ ব্যক্তির উপর ঝাড়-ফুঁক করুন। তখন তারা জনৈক শৃঙ্খলাবদ্ধ পাগলকে তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি তার উপর তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা সূরা ফাতিহা পাঠ করে থুথু জমা করে তার শরীরে নিক্ষেপ করতে থাকেন। ফলে সে ব্যক্তির অবস্থা এমন ভাল হয়ে যায় যে, সে যেন বন্ধনমুক্ত হয়ে যায়। তখন সে লোকেরা তাঁকে কিছু প্রদান করে। এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সমস্ত ঘটনা তাঁর কাছে বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি যা পেয়েছ তা ভক্ষণ কর। আমার জীবনের শপথ! কিছু লোক তো মিথ্যা তন্ত্র-মন্ত্র পাঠ করে এর বিনিময়ে অর্জিত মালামাল ভক্ষণ করে। আর তুমি তো সত্য মন্ত্র পাঠ করে এর বিনিময়ে প্রাপ্ত মাল ভক্ষণ করেছো।

৩৩৩. হজ্জামের উপার্জন সম্পর্কে।

باب فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ

৩৩৮৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ قَارِظٍ - عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيثٌ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৮৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হজ্জামের উপার্জন নিকৃষ্ট, কুকুর বিক্রির মূল্যও নিকৃষ্ট এবং ব্যভিচারী স্ত্রীলোকের আয়ও নিকৃষ্ট।

৩৩৮৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ مُحَيِّصَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِجَارَةِ الْحَجَّامِ فَنَهَاهُ عَنْهَا فَلَمْ يَزَلْ يَسْأَلُهُ وَيَسْتَأْذِنُهُ حَتَّى أَمَرَهُ أَنِ اعْلِفْهُ نَاضِحَكَ وَرَقِيقَكَ .

বর্ণনাকারী: মুহাইয়্যিসা (রাঃ)

৩৩৮৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... মুহাইয়াযা (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট শিঙ্গা লাগিয়ে এর বিনিময় গ্রহণের ব্যাপারে অনুমতি চান। তখন তিনি তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি বারবার এ ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর অনুমতি চাইতে থাকলে পরে তিনি বলেনঃ এর বিনিময় লব্ধ উপার্জন দিয়ে তুমি তোমার উটের খাদ্য ক্রয় করবে এবং তোমার গোলামকে তা প্রদান করবে।

৩৩৮৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ وَلَوْ عَلِمَهُ خَبِيثًا لَمْ يُعْطِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৩৮৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে শিংগা লাগাবার পর, শিংগা লাগানোওয়ালাকে তার বিনিময় প্রদান করেন। যদি তিনি তা খারাপ মনে করতেন, তবে তাকে পারিশ্রমিক প্রদান করতেন না।

৩৩৮৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ حَجَمَ أَبُو طَيْبَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ وَأَمَرَ أَهْلَهُ أَنْ يُخَفِّفُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৩৮৯. আল কা’নবী (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু তীবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দেহে শিংগা লাগান। তখন তিনি তাকে এক সা’আ খেজুর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং তিনি তার মনিবদের প্রতি এরূপ নির্দেশ দেন যে, তারা যেন সহজ কিস্তিতে তার নিকট হতে মুক্তিপণ আদায় করে।

৩৩৪. দাসীদের উপার্জন সম্পর্কে।

باب فِي كَسْبِ الإِمَاءِ

৩৩৯০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ الإِمَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৩৯০. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাসীদের উপার্জিত মাল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।[১]

[১] জাহিলী যুগে মনিবরা তাদের দাসীর উপর কর ধার্য করতো ফলে, তারা তা পরিশোধের জন্য ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য হতো।
৩৩৯১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي طَارِقُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ جَاءَ رَافِعُ بْنُ رِفَاعَةَ إِلَى مَجْلِسِ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَقَدْ نَهَانَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَوْمَ فَذَكَرَ أَشْيَاءَ وَنَهَانَا عَنْ كَسْبِ الأَمَةِ إِلاَّ مَا عَمِلَتْ بِيَدِهَا . وَقَالَ هَكَذَا بِأَصَابِعِهِ نَحْوَ الْخَبْزِ وَالْغَزْلِ وَالنَّفْشِ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে রিফাআ (রহঃ)

৩৩৯১. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ...... তারিক ইবনে আব্দির রহমান কারশী বলেন যে, রাফি ইবনে রিফা’আ একবার আনসারদের কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ আজ নবী (ﷺ) আমাদের কয়েকটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলোঃ দাসীদের মাল গ্রহণ করা। তবে তা গ্রহণযোগ্য যা তারা নিজেদের হতে উপার্জন করে। এরপর তিনি ইশারা করে দেখান যে, হাতের কাজ হলোঃ রুটি পাকানো, চরকায় সুতা কাটা এবং তুলা ধুনা ইত্যাদি।

৩৩৯২

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ هُرَيْرٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعٍ - هُوَ ابْنُ خَدِيجٍ - قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ الأَمَةِ حَتَّى يُعْلَمَ مِنْ أَيْنَ هُوَ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩৩৯২. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাসীদের উপার্জিত মাল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না তা জানা যায় যে, তারা তা কিরূপে আয় করেছে।[১]

[১] যদি তারা তা হালালভাবে আয় করে, তবে তা গ্রহণীয়; অন্যথায় তা বর্জনীয় (অনুবাদক)।

৩৩৫. পুরুষ পশুকে স্ত্রী পশুর সাথে সঙ্গম করিয়ে তার বিনিময় গ্রহণ।

باب فِي عَسْبِ الْفَحْلِ

৩৩৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৩৯৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরষ পশুকে স্ত্রী পশুর সাথে সঙ্গম করিয়ে তার বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

৩৩৬. স্বর্ণকারের পেশা সম্পর্কে।

باب فِي الصَّائِغِ

৩৩৯৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَاجِدَةَ، قَالَ قَطَعْتُ مِنْ أُذُنِ غُلاَمٍ - أَوْ قُطِعَ مِنْ أُذُنِي - فَقَدِمَ عَلَيْنَا أَبُو بَكْرٍ حَاجًّا فَاجْتَمَعْنَا إِلَيْهِ فَرَفَعَنَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ هَذَا قَدْ بَلَغَ الْقِصَاصَ ادْعُوا لِي حَجَّامًا لِيَقْتَصَّ مِنْهُ فَلَمَّا دُعِيَ الْحَجَّامُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنِّي وَهَبْتُ لِخَالَتِي غُلاَمًا وَأَنَا أَرْجُو أَنْ يُبَارَكَ لَهَا فِيهِ فَقُلْتُ لَهَا لاَ تُسَلِّمِيهِ حَجَّامًا وَلاَ صَائِغًا وَلاَ قَصَّابًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَى عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ ابْنُ مَاجِدَةَ، رَجُلٌ مَنْ بَنِي سَهْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ،

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৩৯৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... মাজিদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কোন ছেলের কান কেটে ফেলেছিলাম, অথবা কেউ আমার কান কেটে নিয়েছিল। এ সময় আবু বকর (রাযিঃ) হজ্জের উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে আসলে আমরা তাঁর নিকট সমবেত হই। তখন তিনি আমাদের উমর (রাযিঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। এ সময় উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এতে তো কিসাস গ্রহণ করা যেতে পারে। হজ্জামকে আমার কাছে ডেকে আন, যাতে সে তার থেকে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে। এরপর যখন নাপিতকে ডাকা হয়, তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি আমার খালাকে একটি গোলাম দান করেছিলাম এবং আমার আশা ছিল যে, এতে তাঁর বরকত হবে। তখন আমি তাঁকে বলেছিলামঃ আপনি এ গোলামকে কোন ক্ষৌরকার, স্বর্ণকার ও কসাইয়ের নিকট সমর্পণ করবেন না।

৩৩৯৫

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُرَقِيُّ، عَنِ ابْنِ مَاجِدَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৩৯৫. ফযল ইবনে ইয়া’কূব (রাহঃ) ..... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

৩৩৯৬

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُرَقِيُّ، عَنِ ابْنِ مَاجِدَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৩৯৬. ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আবু মাজিদ (রাহঃ) উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৩৭. মালদার গোলাম বিক্রি করা।

باب فِي الْعَبْدِ يُبَاعُ وَلَهُ مَالٌ

৩৩৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَهُ الْمُبْتَاعُ وَمَنْ بَاعَ نَخْلاً مُؤَبَّرًا فَالثَّمَرَةُ لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ " .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩৩৯৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন মালদার গোলাম বিক্রি করে, তবে তার সম্পদের মালিক হবে বিক্রেতা। তবে কেনার সময় ক্রেতা যদি শর্তারোপ করে, তবে তা আলাদা ব্যাপার। একই ভাবে যদি কোন ব্যক্তি এরূপ খেজুর গাছ বিক্রি করে, যার নর ও মাদা খেজুর মিশ্রিত আছে, তবে সে গাছের ফলের মালিক হবে বিক্রেতা। তবে ক্রেতা যদি বিক্রেতার সাথে কোন শর্ত করে, তবে তা আলাদা ব্যাপার।

৩৩৯৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِصَّةِ الْعَبْدِ وَعَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِقِصَّةِ النَّخْلِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَاخْتَلَفَ الزُّهْرِيُّ، وَنَافِعٌ، فِي أَرْبَعَةِ أَحَادِيثَ هَذَا أَحَدُهَا»

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৩৯৮. আল-কা’নবী (রাহঃ) ...... উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কেবল গোলামের কথা এবং নাফি (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে কেবল খেজুর গাছের কথা বর্ণনা করেছেন।

৩৩৯৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، حَدَّثَنِي مَنْ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৩৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন মালদার গোলাম বিক্রি করে, তবে সে গোলামের মালের মালিক হবে বিক্রেতা। তবে ক্রেতা যদি ক্রয়ের সময় গোলামের মালসহ খরিদ করার শর্তারোপ করে, তবে তা স্বতন্ত্র ব্যাপার।

৩৩৮. ব্যবসায়ীদের বাজারে আসার আগে তাদের সাথে সাক্ষাত করে মালামাল খরিদ করা।

باب فِي التَّلَقِّي

৩৪০০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلاَ تَلَقَّوُا السِّلَعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا الأَسْوَاقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪০০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন একজন বিক্রেতার জিনিসের উপর নিজের জিনিস বিক্রি না করে এবং ব্যবসায়ী যতক্ষণ না তার মাল বাজারে আনে, ততক্ষণ তার সাথে সাক্ষাত করবে না।

৩৪০১

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو الرَّقِّيَّ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ تَلَقِّي الْجَلَبِ فَإِنْ تَلَقَّاهُ مُتَلَقٍّ مُشْتَرٍ فَاشْتَرَاهُ فَصَاحِبُ السِّلْعَةِ بِالْخِيَارِ إِذَا وَرَدَتِ السُّوقَ . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ لاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ أَنْ يَقُولَ إِنَّ عِنْدِي خَيْرًا مِنْهُ بِعَشْرَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০১. রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বাজারে আসার আগে ব্যবসায়ীদের সাথে মিলিত হয়ে মাল খরিদ করতে নিষেধ করেছেন। যদি কেউ এভাবে কোন মাল ক্রয় করে, তবে বাজারে উপস্থিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীর ইখতিয়ার থাকবে।

৩৩৯. ক্রেতাকে ধোকা দেওয়ার জন্য দালালী করা নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ النَّجْشِ

৩৪০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنَاجَشُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০২. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য পরস্পর জিনিসের মূল্য বাড়াবে না।[১]

[১] অর্থাৎ নিজের খরিদ করার ইচ্ছা নেই, তবু ও ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কোন জিনিসের মূল্য বাড়িয়ে বলা বা পণ্য দ্রব্যের প্রশংসা করা, যাতে ক্রেতা অনুপ্রাণিত হয়ে তাড়াতাড়ি তা ক্রয় করে। (অনুবাদক)

৩৪০. শহরবাসীদের জন্য গ্রামবাসীদের পক্ষে পণ্যদ্রব্য বিক্রি না করা।

باب فِي النَّهْىِ أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ

৩৪০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ . فَقُلْتُ مَا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ قَالَ لاَ يَكُونُ لَهُ سِمْسَارًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪০৩. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শহরবাসীদের গ্রাম হতে শহরে আগত পণ্য বিক্রেতাদের পক্ষে দালাল সেজে, তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ শহরবাসীরা কি গ্রামবাসীদের পণ্য বিক্রি করবে না? তিনি বলেনঃ ঐ মাল বিক্রির জন্য কেউ যেন দালাল না সাজে।

৩৪০৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ الزِّبْرِقَانَ أَبَا هَمَّامٍ، حَدَّثَهُمْ - قَالَ زُهَيْرٌ وَكَانَ ثِقَةً - عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ أَوْ أَبَاهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ يُقَالُ لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ . وَهِيَ كَلِمَةٌ جَامِعَةٌ لاَ يَبِيعُ لَهُ شَيْئًا وَلاَ يَبْتَاعُ لَهُ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৪০৪. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ শহরবাসীরা যেন গ্রামবাসীদের পণ্য বিক্রি না করে, যদিও সে তার ভাই বা পিতা হয়।

৩৪০৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَالِمٍ الْمَكِّيِّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، قَدِمَ بِحَلُوبَةٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَ عَلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلَكِنِ اذْهَبْ إِلَى السُّوقِ فَانْظُرْ مَنْ يُبَايِعُكَ فَشَاوِرْنِي حَتَّى آمُرَكَ أَوْ أَنْهَاكَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... সালিম মক্কী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একজন আরাবী তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় বিক্রির উদ্দেশ্যে কিছু মিষ্টি নিয়ে তালহা (রাযিঃ)-এর নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কোন শহরবাসীকে গ্রামবাসীদের পক্ষে কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। বরং তুমি নিজে বাজারে গিয়ে দেখ যে, কে তোমার জিনিস ক্রয় করতে চায়। তখন তুমি আমার সাথে পরামর্শ করলে, আমি তোমাকে বিক্রির অনুমতি দেব বা নিষেধ করবো।

৩৪০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَذَرُوا النَّاسَ يَرْزُقِ اللَّهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪০৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শহরবাসীরা গ্রামবাসীদের পক্ষ হয়ে খাদ্য-দ্রব্য বিক্রি করবে না, এবং তাদের ছেড়ে দেবে, যাতে আল্লাহ কিছু লোককে অন্য কিছু লোকের মাধ্যমে খাদ্য পৌছান।

৩৪১. পশুর স্তনভর্তি আটকান দুধ দেখে ক্রয়ের পর তা না-পছন্দ করা।

باب مَنِ اشْتَرَى مُصَرَّاةً فَكَرِهَهَا

৩৪০৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَلَقَّوُا الرُّكْبَانَ لِلْبَيْعِ وَلاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلاَ تُصَرُّوا الإِبِلَ وَالْغَنَمَ فَمَنِ ابْتَاعَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْلِبَهَا فَإِنْ رَضِيَهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ سَخِطَهَا رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ تَمْرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাতের বেলায় তেজারতী কাফিলার সাথে পথিমধ্যে মিলিত হবে না। আর তোমাদের কেউ যেন অন্যের বিক্রিত মালের উপর নিজের মাল বিক্রি না করে এবং তোমরা উট বা বকরীর স্তনে বিক্রির উদ্দেশ্যে দুধ জমা করে রাখবে না। যদি কেউ এরূপ কোন পশু ক্রয় করে, তবে দুধ দোহনের পর তার ইখতিয়ার থাকবে, যদি সে খুশী হয়, তবে তা রাখতে পারবে; অন্যথায় এক সা’আ পরিমাণ খেজুর সহ তা ফিরিয়ে দেবে।

৩৪০৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، وَحَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اشْتَرَى شَاةً مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ إِنْ شَاءَ رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ طَعَامٍ لاَ سَمْرَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি স্তনভর্তি দুধ দেখে কোন বকরী ক্রয় করে, তবে তিনদিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে। এরপর সে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে এক সা’আ পরিমাণ খাদ্য-শস্য দিয়ে তা ফিরিয়ে দিতে পারবে, তবে গম দেবে না।

৩৪০৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَخْلَدٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اشْتَرَى غَنَمًا مُصَرَّاةً احْتَلَبَهَا فَإِنْ رَضِيَهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ سَخِطَهَا فَفِي حَلْبَتِهَا صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪০৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ স্তনভর্তি দুধ দেখে কোন বকরী ক্রয় করে, তবে সে যেন তার দুধ দোহন করে দেখে নেয়। এরপর পছন্দ হলে সে তা রেখে দেবে, অন্যথায় দুধের বিনিময়ে এক সা’আ খেজুর দিয়ে (বিক্রেতাকে) তা ফেরত দেবে।

৩৪১০

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جُمَيْعِ بْنِ عُمَيْرٍ التَّيْمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ ابْتَاعَ مُحَفَّلَةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ رَدَّهَا رَدَّ مَعَهَا مِثْلَ أَوْ مِثْلَىْ لَبَنِهَا قَمْحًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪১০. আবু কামিল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ স্তনভর্তি দুধ দেখে কোন বকরী ক্রয় করে, তবে তিনদিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে। এরপর যদি সে তা ফেরত দিতে চায়, তবে দুধের পরিমাণ অনুযায়ী অথবা তার দ্বিগুণ পরিমাণ গম (বিক্রেতাকে) দেবে।

৩৪২. মূল্য বৃদ্ধির আশায় খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখা নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْحُكْرَةِ

৩৪১১

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي مَعْمَرٍ، أَحَدِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ " . فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ فَإِنَّكَ تَحْتَكِرُ قَالَ وَمَعْمَرٌ كَانَ يَحْتَكِرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَأَلْتُ أَحْمَدَ مَا الْحُكْرَةُ قَالَ مَا فِيهِ عَيْشُ النَّاسِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ الْمُحْتَكِرُ مَنْ يَعْتَرِضُ السُّوقَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪১১. ওয়াহব ইবনে বাকীওয়া (রাহঃ) ...... মুআম্মার ইবনে আবু মুআম্মার (রাযিঃ), যিনি আদী ইবনে কা’বের বংশধর, বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মূল্যবৃদ্ধির আশায় জঘন্য অপরাধী ব্যতীত আর কেউ খাদ্য-শস্য মওজুদ করে না। রাবী বলেন, তখন আমি আমর (রাযিঃ)-কে বলিঃ আপনি তো খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখেন। তখন তিনি বলেনঃ মুআম্মার (রাযিঃ)ও খাদ্য-শস্য মওজুদ রাখতেন।

৩৪১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَيَّاضٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْفَيَّاضِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ لَيْسَ فِي التَّمْرِ حُكْرَةٌ . قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى قَالَ عَنِ الْحَسَنِ فَقُلْنَا لَهُ لاَ تَقُلْ عَنِ الْحَسَنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ عِنْدَنَا بَاطِلٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ يَحْتَكِرُ النَّوَى وَالْخَبَطَ وَالْبِزْرَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ يُونُسَ يَقُولُ سَأَلْتُ سُفْيَانَ عَنْ كَبْسِ الْقَتِّ فَقَالَ كَانُوا يَكْرَهُونَ الْحُكْرَةَ وَسَأَلْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَيَّاشٍ فَقَالَ اكْبِسْهُ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৩৪১২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুরের মধ্যে ইহতিকার নেই, অর্থাৎ খেজুর মওজুদ রাখাতে কোন দোষ নেই।

৩৪৩. রূপার টাকা ভেঙে ফেলা সম্পর্কে

باب فِي كَسْرِ الدَّرَاهِمِ

৩৪১৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ فَضَاءٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُكْسَرَ سِكَّةُ الْمُسْلِمِينَ الْجَائِزَةُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ مِنْ بَأْسٍ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

৩৪১৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ....... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিশেষ কোন প্রয়োজন ব্যতীত মুসলমানদের চলিত মুদ্রা ভেঙে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তবে কোন প্রয়োজন হলে তা ভাঙলে ক্ষতি নেই।

৩৪৪. দ্রব্যমূল্য বেঁধে দেওয়া সস্পর্কে।

باب فِي التَّسْعِيرِ

৩৪১৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ بِلاَلٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنِي الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ . فَقَالَ " بَلْ أَدْعُو " . ثُمَّ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ فَقَالَ " بَلِ اللَّهُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ لأَحَدٍ عِنْدِي مَظْلَمَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪১৪. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক ব্যক্তি এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দ্রব্য-মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বলেনঃ বরং আমি দুআ করব। এরপর আর এক ব্যক্তি এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি জিনিসের দর নির্ধারণ করে দিন। তিনি বলেনঃ বরং আল্লাহ-ই জিনিসের দর বাড়ান-কমান। আর আমি এরূপ ইচ্ছা করি যে, আমি মহান আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হই, যাতে কারো আমার যুলুমের ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকবে না।

৩৪১৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، وَقَتَادَةُ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَلاَ السِّعْرُ فَسَعِّرْ لَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يُطَالِبُنِي بِمَظْلَمَةٍ فِي دَمٍ وَلاَ مَالٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৪১৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা এরূপ অভিযোগ করে যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দ্রব্য-মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আপনি আমাদের জন্য তার মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মহান আল্লাহ-ই দ্রব্য-মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন, তিনি তা বৃদ্ধি করেন এবং কমান, আর তিনিই রিযক প্রদান করেন। বস্তুত আমি এরূপ আশা করি যে, আমি আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হই, যাতে তোমাদের কেউ আমার বিরুদ্ধে কোন খুনের বা মালের দাবীদার হবে না।

৩৪৪. খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল দেওয়া নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْغِشِّ

৩৪১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ يَبِيعُ طَعَامًا فَسَأَلَهُ " كَيْفَ تَبِيعُ " . فَأَخْبَرَهُ فَأُوحِيَ إِلَيْهِ أَنْ أَدْخِلْ يَدَكَ فِيهِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهِ فَإِذَا هُوَ مَبْلُولٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَّا مَنْ غَشَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪১৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গমন করছিলেন, যে খাদ্য-শস্য বিক্রি করছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ কিরূপে বিক্রি করছো? তখন সে ব্যক্তি তা বর্ণনা করে। ইত্যবসরে তাঁর প্রতি এমন ওহী নাযিল হয় যে, আপনি আপনার হাত ঐ খাদ্য-দ্রব্যের মধ্যে ঢুকিয়ে দিন। তখন তিনি তাঁর হাত তার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দেখতে পান যে, তার ভিতরের অংশ ভিজা। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ধোঁকা দেয়।

৩৪১৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ كَانَ سُفْيَانُ يَكْرَهُ هَذَا التَّفْسِيرَ لَيْسَ مِنَّا لَيْسَ مِثْلَنَا .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান বিন উয়াইনা (রহঃ)

৩৪১৭. হাসান ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুফিয়ান এরূপ ব্যাখ্যা অপছন্দ করতেন যে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়, বরং সে আমাদের মত নয়।

৩৪৫. ক্রেতা -বিক্রেতার ইখতিয়ার সম্পর্কে।

باب فِي خِيَارِ الْمُتَبَايِعَيْنِ

৩৪১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَفْتَرِقَا إِلاَّ بَيْعَ الْخِيَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪১৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়ে ততক্ষণ ইখতিয়ার থাকে, যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার শর্ত থাকলে তা স্বতন্ত্র কথা।

৩৪১৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " أَوْ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ اخْتَرْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪১৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ অথবা তাদের একজন অপরজনকে এরূপ বলবে যে, ক্রয়-বিক্রয়ের কাজটি শেষ করে ফেল।

৩৪২০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُتَبَايِعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَفْتَرِقَا إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَفْقَةَ خِيَارٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَ صَاحِبَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৪২০. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উক্ত ব্যাপারে ইখতিয়ার থাকবে। তবে যদি কোন শর্ত সাপেক্ষে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে, তবে ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইখতিয়ার থাকবে। ক্রেতা বা বিক্রেতার এরূপ করা উচিত হবে না যে, বিক্রীত বস্তু ফেরত দিতে হবে এ ভয়ে একজন অপরজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্রুত চলে যাবে।

৩৪২১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ جَمِيلِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْوَضِيءِ، قَالَ غَزَوْنَا غَزْوَةً لَنَا فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فَبَاعَ صَاحِبٌ لَنَا فَرَسًا بِغُلاَمٍ ثُمَّ أَقَامَا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمَا وَلَيْلَتِهِمَا فَلَمَّا أَصْبَحَا مِنَ الْغَدِ حَضَرَ الرَّحِيلُ فَقَامَ إِلَى فَرَسِهِ يُسْرِجُهُ فَنَدِمَ فَأَتَى الرَّجُلَ وَأَخَذَهُ بِالْبَيْعِ فَأَبَى الرَّجُلُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَيْهِ فَقَالَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَبُو بَرْزَةَ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيَا أَبَا بَرْزَةَ فِي نَاحِيَةِ الْعَسْكَرِ فَقَالاَ لَهُ هَذِهِ الْقِصَّةَ . فَقَالَ أَتَرْضَيَانِ أَنْ أَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا " . قَالَ هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَ جَمِيلٌ أَنَّهُ قَالَ مَا أُرَاكُمَا افْتَرَقْتُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৩৪২১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবুল ওয়াযী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। এ সময় আমাদের জনৈক সাথী একটি গোলামের বিনিময়ে একটি ঘোড়া ক্রয় করে। এরপর ক্রেতা-বিক্রেতা সেখানে সমস্ত দিন অবস্থান করে। পরদিন সকালে যখন যাত্রার সময় উপস্থিত হয়, তখন যে ব্যক্তি ঘোড়া ক্রয় করেছিল, সে দাঁড়িয়ে ঘোড়ার পিঠে জিন বাঁধতে শুরু করে। তখন বিক্রেতা লজ্জিত অবস্থায় তার নিকট উপস্থিত হয়ে ঘোড়াটি ফেরত চাইলে সে তা ফেরত দিতে অস্বীকার করে। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ নবী (ﷺ)-এর সাহাবী আবু বারযা (রাযিঃ) আমার ও তোমার মধ্যকার ব্যাপারটি নিষ্পত্তি করে দেবেন।

তখন তারা উভয়ে সৈন্যদলের শেষ মাথায় আবু বারযা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সমুদয় বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ তোমরা উভয়ে এতে রাযী আছ কি যে, আমি তোমাদের ব্যাপারটি সেরূপে ফয়সালা করে দেই, যেরূপে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা করতেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার থাকবে। রাবী হিশাম ইবনে হাসসান (রাহঃ) বলেনঃ জামিল (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আবু বারযা (রাযিঃ) এও বলেনঃ আমি দেখছি তোমরা এখনও বিচ্ছিন্ন হওনি।
৩৪২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْجَرْجَرَائِيُّ، قَالَ مَرْوَانُ الْفَزَارِيُّ أَخْبَرَنَا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ كَانَ أَبُو زُرْعَةَ إِذَا بَايَعَ رَجُلاً خَيَّرَهُ قَالَ ثُمَّ يَقُولُ خَيِّرْنِي وَيَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَفْتَرِقَنَّ اثْنَانِ إِلاَّ عَنْ تَرَاضٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪২২. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ..... ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) বলেন, আবু বারযা (রাযিঃ) যখন কারো সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয় করতেন, তখন তিনি তাকে ইখতিয়ার দিয়ে বলতেনঃ তুমিও আমাকে ইখতিয়ার প্রদান কর। এরপর তিনি বলতেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা রাজি হওয়ার আগে পৃথক হওয়া উচিত নয়।

৩৪২৩

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَفْتَرِقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتِ الْبَرَكَةُ مِنْ بَيْعِهِمَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَحَمَّادٌ وَأَمَّا هَمَّامٌ فَقَالَ " حَتَّى يَتَفَرَّقَا أَوْ يَخْتَارَ " . ثَلاَثَ مِرَارٍ .

বর্ণনাকারী: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

৩৪২৩. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) ..... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার থাকে। যদি তারা সততার সাথে তা সম্পন্ন করে এবং বিক্রীত মালের দোষ-গুণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তবে এরূপ ক্রয়-বিক্রয়ে তাদের উভয়ের বরকত হবে। পক্ষান্তরে যদি তারা তা গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের বেচা-কেনার বরকত দূর হয়ে যাবে।

৩৪৬. বিক্রেতার চাহিদা মত বিক্রীত দ্রব্য স্বেচ্ছায় ফেরত দেওয়ার মর্যাদা সম্পর্কে।

باب فِي فَضْلِ الإِقَالَةِ

৩৪২৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا أَقَالَهُ اللَّهُ عَثْرَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪২৪. ইয়াহয়া ইবনে মা’ঈন (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সাথে ইকালা করে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন।[১]

[১] যদি কেউ কোন জিনিস বিক্রি করে, এরপর কোন কারণবসতঃ বিক্রেতা তা ফেরত চায় এবং ক্রেতা তা খুশী মনে ফেরত দেয়। এ ধরনের বেচাকেনাকে ইকালা বলা হয়। (অনুবাদক)

৩৪৭. একই সাথে দুটি বেচাকেনা করা।

باب فِيمَنْ بَاعَ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ

৩৪২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ بَاعَ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ فَلَهُ أَوْكَسُهُمَا أَوِ الرِّبَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪২৫. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একই সাথে দু’টি বেচা-কেনা করে, তার উচিত কম মূল্যের বিক্রিটি কার্যকরী করা, অন্যথায় তা সুদ হবে।[১]

[১] যদি কেউ বলে যে, আমি এ জিনিসটি নগদ দশ টাকায় এবং বাকীতে পনের টাকায় বিক্রি করছি। এ সময় ক্রেতার উচিত হবে দশ টাকা মূল্যের বিক্রয় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা। পনের টাকা মূল্যের বিক্রয় সিদ্ধান্তটি সুদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

৩৪৮. ঈনা[১] বিক্রি নিষিদ্ধ।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْعِينَةِ

৩৪২৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، ح وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى الْبُرُلُّسِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ إِسْحَاقَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - قَالَ سُلَيْمَانُ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخُرَاسَانِيِّ، - أَنَّ عَطَاءً الْخُرَاسَانِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الإِخْبَارُ لِجَعْفَرٍ وَهَذَا لَفْظُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪২৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যদি তোমরা ঈনা বিক্রি কর, ষাড়ের লেজ ধরে থাক এবং কৃষিকাজে লিপ্ত থাকার কারণে জিহাদ পরিত্যাগ কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান প্রবল করে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনের উপর পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদের থেকে ঐ অপমান দূর করবেন না।

[১] যদি কেউ এক মাসের জন্য দশ টাকায় কোন জিনিস বিক্রি করে এবং মাস শেষ হওয়ার পর বিক্রেতা তা আট টাকায় কিনে নেয়, এরূপ বিক্রিকে ‘ঈনা বলা হয়। এরূপ করা নিষিদ্ধ। (অনুবাদক)

৩৪৯. অগ্রিম মূল্য নিয়ে বিক্রি করা।

باب فِي السَّلَفِ

৩৪২৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي التَّمْرِ السَّنَةَ وَالسَّنَتَيْنِ وَالثَّلاَثَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَسْلَفَ فِي تَمْرٍ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪২৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করেন, তখন সেখানকার লোকেরা এক, দুই এবং তিন বছরের জন্য খেজুর অগ্রিম বিক্রি করতেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যারা খেজুর অগ্রিম বিক্রি করবে, তাদের উচিত হবে আগে থেকেই পরিমাপ যন্ত্র, ওজন ও সময় নির্ধারিত করে নেয়া।

৩৪২৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ، أَوْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُجَالِدٍ قَالَ اخْتَلَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادٍ وَأَبُو بُرْدَةَ فِي السَّلَفِ فَبَعَثُونِي إِلَى ابْنِ أَبِي أَوْفَى فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِنْ كُنَّا نُسْلِفُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فِي الْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالتَّمْرِ وَالزَّبِيبِ - زَادَ ابْنُ كَثِيرٍ - إِلَى قَوْمٍ مَا هُوَ عِنْدَهُمْ . ثُمَّ اتَّفَقَا وَسَأَلْتُ ابْنَ أَبْزَى فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩৪২৮. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ অথবা আব্দুল্লাহ ইবনে মুজালিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ এবং আবু বুরদা (রাযিঃ)-এর মধ্যে অগ্রিম বিক্রি নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। তখন তাঁরা আমাকে ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। আমি তাঁর কাছে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এবং আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)-এর সময় গম, যব, খেজুর এবং কিসমিস অগ্রিম বিক্রি করতাম।

রাবী ইবনে কাছীর (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, অগ্রিম বিক্রি এমন লোকদের সাথে করা হতো, যাদের কাছে এ ধরনের ফল থাকতো না। এরপর আমি ইবনে আবযা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ও এরূপ বলেন।
৩৪২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَابْنُ، مَهْدِيٍّ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْمُجَالِدِ، وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْمُجَالِدِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عِنْدَ قَوْمٍ مَا هُوَ عِنْدَهُمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الصَّوَابُ ابْنُ أَبِي الْمُجَالِدِ وَشُعْبَةُ أَخْطَأَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪২৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে আবু মুজালিদ (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমরা এমন লোকদের সাথে অগ্রিম বিক্রি করতাম, যাদের কাছে এ ধরনের ফল থাকতো না।

৩৪৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي غَنِيَّةَ، حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى الأَسْلَمِيِّ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشَّامَ فَكَانَ يَأْتِينَا أَنْبَاطٌ مِنْ أَنْبَاطِ الشَّامِ فَنُسْلِفُهُمْ فِي الْبُرِّ وَالزَّيْتِ سِعْرًا مَعْلُومًا وَأَجَلاً مَعْلُومًا فَقِيلَ لَهُ مِمَّنْ لَهُ ذَلِكَ قَالَ مَا كُنَّا نَسْأَلُهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩৪৩০. মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফফা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে শামের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। এ সময় সেখানকার কৃষকেরা আমাদের নিকট আসতো এবং আমরা তাদের নিকট হতে গম এবং তেল নির্দিষ্ট মূল্যে এবং নির্ধারিত সময়ের জন্য অগ্রিম খরিদ করতাম। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, যাদের নিকট এ ধরনের মাল থাকতো, আপনারা কি কেবল তাদের সাথে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতেন? তখন তিনি বলেনঃ আমরা তো তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতাম না।

৩৫০. বিশেষ কোন ফলের অগ্রিম বিক্রি সম্পর্কে।

باب فِي السَّلَمِ فِي ثَمَرَةٍ بِعَيْنِهَا

৩৪৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، نَجْرَانِيٍّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، أَسْلَفَ رَجُلاً فِي نَخْلٍ فَلَمْ تُخْرِجْ تِلْكَ السَّنَةَ شَيْئًا فَاخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بِمَ تَسْتَحِلُّ مَالَهُ ارْدُدْ عَلَيْهِ مَالَهُ " . ثُمَّ قَالَ " لاَ تُسْلِفُوا فِي النَّخْلِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৩১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির বিশেষ একটি গাছের ফলের উপর অগ্রিম বিক্রি নির্ধারণ করে। ঘটনা-ক্রমে সে বছর সে গাছে কোন ফল ধরেনি। তখন তারা উভয়ে ব্যাপারটি নবী (ﷺ)-এর নিকট পেশ করে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কিসের বিনিময়ে তার মাল গ্রহণ করছো? তুমি তার মাল ফিরিয়ে দাও। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা বিশেষ কোন গাছের ফল ততক্ষণ অগ্রিম বিক্রি করবে না, যতক্ষণ না তা পরিপক্ব হয়।

৩৫১. অগ্রিম বিক্রীত দ্রব্য হস্তান্তরিত না হওয়া সম্পর্কে।

باب السَّلَفِ لاَ يُحَوَّلُ

৩৪৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ خَيْثَمَةَ، عَنْ سَعْدٍ، - يَعْنِي الطَّائِيَّ - عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَسْلَفَ فِي شَىْءٍ فَلاَ يَصْرِفْهُ إِلَى غَيْرِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৪৩২. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন দ্রব্য অগ্রিম বিক্রি করবে, সে তা আর কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করতে পারবে না।

৩৫২. দৈব-দুর্বিপাকে ক্ষেতের ফসল ও বাগানের ফল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে।

باب فِي وَضْعِ الْجَائِحَةِ

৩৪৩৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا فَكَثُرَ دَيْنُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ " . فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ وَلَيْسَ لَكُمْ إِلاَّ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৪৩৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় কয়েকটি গাছের ফল ক্রয় করেছিল, যা দৈব-দুর্বিপাকে বিনষ্ট হওয়ায় লোকটি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তাকে সাদ্‌কা প্রদান কর। তখন লোকেরা তাকে দান-সাদ্‌কা প্রদান করা সত্ত্বেও তার ঝণ অপরিশোধিত থাকে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি এখন যা পেয়েছ তা গ্রহণ কর, বর্তমানে আর কিছুই পাবে না।

৩৪৩৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، - الْمَعْنَى - أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ الْمَكِّيَّ، أَخْبَرَهُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنْ بِعْتَ مِنْ أَخِيكَ تَمْرًا فَأَصَابَتْهَا جَائِحَةٌ فَلاَ يَحِلُّ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৩৪. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তুমি তোমার ভাইয়ের কাছে কোন ফল বিক্রি কর এবং তা দৈব-দুর্বিপাকে (প্রাকৃতিক দুর্যোগ) বিনষ্ট হয়ে যায়, এমতাবস্থায় তার নিকট হতে কিছু গ্রহণ করা তোমার জন্য হালাল নয়। বস্তুত তুমি কিভাবে তোমার ভাইয়ের মাল অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে?

৩৫৩. দৈব-দুর্বিপাকের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে।

باب فِي تَفْسِيرِ الْجَائِحَةِ

৩৪৩৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ الْجَوَائِحُ كُلُّ ظَاهِرٍ مُفْسِدٍ مِنْ مَطَرٍ أَوْ بَرْدٍ أَوْ جَرَادٍ أَوْ رِيحٍ أَوْ حَرِيقٍ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৩৪৩৫. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দৈব-দুর্বিপাক ঐ সব ঘটনা, যার ফলে প্রকাশ্য ধ্বংসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- অতিবৃষ্টি, তুষারপাত, পঙ্গপালের আক্রমণ, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বা অগ্নিকান্ড।

৩৪৩৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ لاَ جَائِحَةَ فِيمَا أُصِيبَ دُونَ ثُلُثِ رَأْسِ الْمَالِ - قَالَ يَحْيَى - وَذَلِكَ فِي سُنَّةِ الْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

৩৪৩৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ...... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি তিন ভাগের চাইতে কম মালের উপর দৈব-দুর্বিপাক আসে, তবে একে বিপদ হিসাবে গণ্য করা যাবে না। ইয়াহয়া বলেনঃ এটাই মুসলমানদের নিয়ম।

৩৫৪. পানি বন্ধ করা সম্পর্কে।

باب فِي مَنْعِ الْمَاءِ

৩৪৩৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الْكَلأُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৩৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতিরিক্ত পানি থেকে কাউকে নিষেধ করা যাবে না, যাতে ঘাস বেঁচে থাকে।[১]

[১] জাহিলী যুগে আরবের কিছু লোকের নিয়ম এরূপ ছিল যে, তারা নিজেদের পশুদের পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে গর্ত, কূপ বা পুকুর খনন করতো, কিন্তু অন্যদের পশু যেখানে আসতে দিত না। কেননা, পশু যদি পানি পান না করতে। পারে, তবে লোকেরা তাদের পশু চরাবার জন্য সেখানে আসবে না। ফলে, সেখানকার ঘাস বোঁচে যাবে এবং তাদের পশু তা খেতে পারেবে। নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। (অনুবাদক)
৩৪৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ مَنَعَ ابْنَ السَّبِيلِ فَضْلَ مَاءٍ عِنْدَهُ وَرَجُلٌ حَلَفَ عَلَى سِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ - يَعْنِي كَاذِبًا - وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا فَإِنْ أَعْطَاهُ وَفَى لَهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ لَمْ يَفِ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৩৮. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি এমন, যাদের সাথে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। (১) এমন ব্যক্তি, যার কাছে তার প্রয়োজনের চাইতে অধিক পানি আছে, কিন্তু সে মুসাফিরকে সে পানি পান করতে নিষেধ করে; (২) এমন ব্যক্তি, যে আসরের নামাযের পর তার মাল বিক্রির জন্য মিথ্যা কসম করে এবং (৩) এমন ব্যক্তি, যে কোন ইমামের নিকট বায়আত করে, এরপর ইমাম যদি তাকে কিছু প্রদান করে, তখন সে বায়’আতের উপর স্থির থাকে। পক্ষান্তরে ইমাম যদি তাকে কিছু না দেয়, তখন সে তার আনুগত্য করে না।

৩৪৩৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ " . وَقَالَ فِي السِّلْعَةِ " بِاللَّهِ لَقَدْ أُعْطِيَ بِهَا كَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ الآخَرُ فَأَخَذَهَا " .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৩৪৩৯. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ....... আ’মাশ (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে একই অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। আর মালের উপর কসম খাওয়ার অর্থ হলো এরূপ বলাঃ আল্লাহর কসম! অমুক ব্যক্তি এ মাল এত টাকায় খরিদ করতে চেয়েছিল। এ কথা শুনে ক্রেতা ব্যক্তি তা সত্য মনে করে এবং কিনে নেয়।

৩৪৪০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ مَنْظُورٍ، - رَجُلٍ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ امْرَأَةٍ، يُقَالُ لَهَا بُهَيْسَةُ عَنْ أَبِيهَا، قَالَتِ اسْتَأْذَنَ أَبِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَمِيصِهِ فَجَعَلَ يُقَبِّلُ وَيَلْتَزِمُ ثُمَّ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " الْمَاءُ " . قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " الْمِلْحُ " . قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " أَنْ تَفْعَلَ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪৪০. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ...... বুহায়সা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমার পিতা নবী (ﷺ)-এর অনুমতি নিয়ে তাঁর জামার অভ্যন্তরে মুখ ঢুকিয়ে তাঁর দেহ মুবারক চুম্বন করেন এবং তার শরীরের সঙ্গে মিশে যান। এ সময় তিনি বলেনঃ ইয়া নাবিয়াল্লাহ! এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ পানি। এরপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহর নবী! এমন কোন জিনিস আছে, যা না দেওয়া বৈধ নয়? তিনি বলেনঃ লবণ। এরপর তিনি জিজ্ঞসা করেনঃ ইয়া নাবিয়াল্লাহ! এমন কোন বস্তু আছে, যা থেকে অন্যকে মানা করা যায় না? তখন তিনি বলেনঃ তুমি যত ভাল কাজ করবে, তা তোমার জন্য ততই উত্তম।

৩৪৪১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ اللُّؤْلُؤِيُّ، أَخْبَرَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ حَبَّانَ بْنِ زَيْدٍ الشَّرْعَبِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَرْنٍ ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو خِدَاشٍ، - وَهَذَا لَفْظُ عَلِيٍّ - عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الْمُهَاجِرِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثًا أَسْمَعُهُ يَقُولُ " الْمُسْلِمُونَ شُرَكَاءُ فِي ثَلاَثٍ فِي الْكَلإِ وَالْمَاءِ وَالنَّارِ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩৪৪১. আলী ইবনে জা’দ (রাহঃ) .... নবী (ﷺ)-এর জনৈক মুহাজির সাহাবী থেকে বর্ণিত যে, আমি তিনবার নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করি। এ সময় আমি তাঁকে এরূপ বলতে শুনিঃ প্রত্যেক মুসলমান তিনটি জিনিসে শরীক; যথা- ঘাস, পানি, এবং আগুনে।

৩৫৫. প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ

৩৪৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: ইয়াস ইবনে আবদ মুযানী (রাঃ)

৩৪৪২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... ইয়াস ইবনে আব্দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

৩৫৬. বিড়াল বিক্রির মূল্য সম্পর্কে।

باب فِي ثَمَنِ السِّنَّوْرِ

৩৪৪৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عِيسَى، وَقَالَ، إِبْرَاهِيمُ أَخْبَرَنَا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَالسِّنَّوْرِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৪৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কুকুর এবং বিড়ালের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

৩৪৪৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ زَيْدٍ الصَّنْعَانِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْهِرَّةِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৪৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিড়ালের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

৩৫৭. কুকুরের মূল্য গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي أَثْمَانِ الْكِلاَبِ

৩৪৪৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৩৪৪৫. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... আবু মাস’উদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে, যিনাকারী স্ত্রীলোকের যিনার উপার্জন গ্রহণ করতে এবং গণকবৃওির মাধ্যমে উপার্জন করতে নিষেধ করেছেন।

৩৪৪৬

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ حَبْتَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَإِنْ جَاءَ يَطْلُبُ ثَمَنَ الْكَلْبِ فَامْلأْ كَفَّهُ تُرَابًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪৪৬. রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর যদি কেউ কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে আসে, তবে তার হাতের মুঠো মাটি দিয়ে ভরে দেবে।

৩৪৪৭

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৩৪৪৭. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) ..... আওন ইবনে আবু জুহায়ফা (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।[১]

[১] ইমাম আবু হানীফা (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (র.)-এর নিকট শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম তাহাবী (র.)-এর মতে, এ নিষেধাজ্ঞা ততদিন বলবৎ ছিল, যতদিন কুকুর হত্যার বিধান কার্যকরী ছিল। এরপর এ বিধান শিথিল হওয়ায় ঐ সমস্ত কুকুর, যা দিয়ে উপকার পাওয়া যায়, তার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। (অনুবাদক)
৩৪৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَعْرُوفُ بْنُ سُوَيْدٍ الْجُذَامِيُّ، أَنَّ عُلَىَّ بْنَ رَبَاحٍ اللَّخْمِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ ثَمَنُ الْكَلْبِ وَلاَ حُلْوَانُ الْكَاهِنِ وَلاَ مَهْرُ الْبَغِيِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৪৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন কুকুরের মূল্য গ্রহণ, গণকবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জন এবং যিনাকার স্ত্রীলোকের যিনার উপার্জন হালাল নয়।

৩৫৮. মদ এবং মৃত জীব-জন্তুর মূল্য সম্পর্কে।

باب فِي ثَمَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ

৩৪৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ بُخْتٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ الْخَمْرَ وَثَمَنَهَا وَحَرَّمَ الْمَيْتَةَ وَثَمَنَهَا وَحَرَّمَ الْخِنْزِيرَ وَثَمَنَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৪৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মদ, এবং এর মূল্য গ্রহণকে হারাম করেছেন। মৃত জীব-জন্তু এবং এর মূল্য গ্রহণকে হারাম করেছেন এবং শূকর এবং তার মূল্য গ্রহণকে হারাম করেছেন।

৩৪৫০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ " إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالأَصْنَامِ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهُ يُطْلَى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ فَقَالَ " لاَ هُوَ حَرَامٌ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللَّهَ لَمَّا حَرَّمَ عَلَيْهِمْ شُحُومَهَا أَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৫০. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের বছর, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাতে ছিলেন, তখন আমি তাঁকে এরূপ বলতে শুনি যে, আল্লাহ তাআলা মদ, মৃত জীব-জন্তু, শূকর এবং মূর্তি ক্রয়-বিক্রয়কে হারাম করেছেন। তখন তাঁকে বলা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো জানেন, মৃত জীব-জন্তুর চর্বি দিয়ে নৌকাকে তৈলাক্ত করা হয় এবং চামড়াকে মসৃণ করা হয়, আর লোকেরা তা দিয়ে বাতি জ্বালায়। তখন তিনি বলেনঃ না, এসব তো হারাম-ই। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন! যখন আল্লাহ তাদের উপর মৃত জীব-জন্তুর চর্বি হারাম করেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করতে শুরু করে এবং এর মূল্য ভক্ষণ করতে থাকে।

৩৪৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ عَطَاءٌ عَنْ جَابِرٍ، نَحْوَهُ لَمْ يَقُلْ " هُوَ حَرَامٌ " .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব (রহঃ)

৩৪৫১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব (রাহঃ) বলেন, আমার নিকট আতা (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ) থেকে এরূপ হাদীস লিখে প্রেরণ করেন। কিন্তু তিনি তাতে ’এতো হারাম’ বলেন নি।

৩৪৫২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ بِشْرَ بْنَ الْمُفَضَّلِ، وَخَالِدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَاهُمُ - الْمَعْنَى، - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ بَرَكَةَ، قَالَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ بَرَكَةَ أَبِي الْوَلِيدِ، ثُمَّ اتَّفَقَا - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا عِنْدَ الرُّكْنِ - قَالَ - فَرَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَضَحِكَ فَقَالَ " لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ " . ثَلاَثًا " إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُومَ فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَىْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ " . وَلَمْ يَقُلْ فِي حَدِيثِ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطَّحَّانِ " رَأَيْتُ " . وَقَالَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪৫২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কাবার নিকট উপবিষ্ট দেখতে পাই। তিনি বলেনঃ এ সময় নবী (ﷺ) আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং হেসে তিনবার বলেন যে, আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদীদের উপর অভিসম্পাত করুন! আল্লাহ তাদের জন্য মৃত জীব-জন্তুর চর্রিকে হারাম করেন, কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে। আর আল্লাহ যখন কোন কওমের জন্য কোন জিনিস ভক্ষণ করাকে হারাম করেন, তখন তাদের জন্য তার মূল্য গ্রহণ ও ভক্ষণ করা হারাম হয়ে যায়।

রাবী খালিদ ইবনে আব্দিল্লাহ হতে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তাতে এর উল্লেখ নেই যে, আমি নবী (ﷺ)-কে কাবার নিকট উপবিষ্ট দেখেছিলাম। বরং তাতে উল্লেখ আছে যে, মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন!
৩৪৫৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، وَوَكِيعٌ، عَنْ طُعْمَةَ بْنِ عَمْرٍو الْجَعْفَرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ بَيَانٍ التَّغْلِبِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ بَاعَ الْخَمْرَ فَلْيُشَقِّصِ الْخَنَازِيرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৩৪৫৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করলো, সে যেন শূকরের গোশত (খাওয়ার জন্য) প্রস্তুত করলো।

৩৪৫৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتِ الآيَاتُ الأَوَاخِرُ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُنَّ عَلَيْنَا وَقَالَ " حُرِّمَتِ التِّجَارَةُ فِي الْخَمْرِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৫৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন সূরা বাকারার শেষের আয়াত নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে উক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে আমাদের শোনান এবং বলেনঃ মদের ব্যবসা হারাম হয়ে গেল।

৩৪৫৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ الآيَاتُ الأَوَاخِرُ فِي الرِّبَا .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৩৪৫৫. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ...... আ’মাশ (রাযিঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে এরূপ উল্লেখ আছে যে, সূরা বাকারার শেষের আয়াতগুলো হলো সুদ হারাম হওয়া সম্পর্কীয়।

৩৫৯. খাদ্য-শস্য হস্তগত করার আগে তা বিক্রি করা।

باب فِي بَيْعِ الطَّعَامِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَوْفَى

৩৪৫৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি শস্য ক্রয় করে, তবে তার উচিত হবে, তা ঠিক মত মেপে হস্তগত করার আগে বিক্রি না করা।

৩৪৫৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كُنَّا فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبْتَاعُ الطَّعَامَ فَيَبْعَثُ عَلَيْنَا مَنْ يَأْمُرُنَا بِانْتِقَالِهِ مِنَ الْمَكَانِ الَّذِي ابْتَعْنَاهُ فِيهِ إِلَى مَكَانٍ سِوَاهُ قَبْلَ أَنْ نَبِيعَهُ - يَعْنِي - جُزَافًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় খাদ্য-শস্য ক্রয় করতাম। তখন তিনি কাউকে আমাদের নিকট পাঠিয়ে আমাদের সে স্থান হতে খাদ্য-শস্য অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতেন, যেখানে আমরা তা ক্রয় করতাম। সে খাদ্য-শস্য বিক্রি করার আগে তিনি এরূপ নির্দেশ দিতেন।

৩৪৫৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانُوا يَتَبَايَعُونَ الطَّعَامَ جُزَافًا بِأَعْلَى السُّوقِ فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيعُوهُ حَتَّى يَنْقُلُوهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৫৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকেরা বাজারের উঁচু স্থানে শস্যের স্তুপের উপর স্তুপ করে তা বিক্রি করতো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য-শস্য ক্রয়ের পর তা অন্যত্র সরিয়ে নেবার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেন।

৩৪৫৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ عُبَيْدٍ الْمَدِينِيِّ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَبِيعَ أَحَدٌ طَعَامًا اشْتَرَاهُ بِكَيْلٍ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৫৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন ব্যক্তিকে খাদ্য-শস্য ক্রয়ের পর তা হস্তগত করার আগে ঐ খাদ্য-শস্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যা সে মেপে বা ওজন করে ক্রয় করেছে।

৩৪৬০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ، ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَكْتَالَهُ " . زَادَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ لِمَ قَالَ أَلاَ تَرَى أَنَّهُمْ يَتَبَايَعُونَ بِالذَّهَبِ وَالطَّعَامُ مُرَجًّى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪৬০. আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি খাদ্য দ্রব্য ক্রয় করে, তবে সে তা মেপে নেয়ার পূর্বে বিক্রি করতে পারবে না।
রাবী আবু বকর (রাহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি (তাউসের পিতা) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ এরূপ নিষেধাজ্ঞার কারণ কি? তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না যে, লোকেরা স্বর্ণের (দীনারের) বিনিময়ে খাদ্য দ্রব্য বিক্রি করে! অথচ খাদ্য দ্রব্য বিক্রেতার দখলেই রয়েছে। (যার ফলে ক্রেতা পণ্য হস্তগত করার অপেক্ষায় থাকে)
৩৪৬১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - وَهَذَا لَفْظُ مُسَدَّدٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا اشْتَرَى أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ " . قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ " حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ " . زَادَ مُسَدَّدٌ قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَحْسِبُ أَنَّ كُلَّ شَىْءٍ مِثْلُ الطَّعَامِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৪৬১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন খাদ্য-শস্য ক্রয় করে, তখন সে যেন তা তার অধিকারে আনার আগে বিক্রি না করে।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমার মতে প্রত্যেক জিনিস ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম খাদ্য-শস্য ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুমের মত। অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয়ের পর তা নিজের মালিকানায় আনার আগে বিক্রি করা উচিত নয়।
৩৪৬২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّاسَ يُضْرَبُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اشْتَرَوُا الطَّعَامَ جُزَافًا أَنْ يَبِيعُوهُ حَتَّى يُبْلِغَهُ إِلَى رَحْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৬২. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় লোকদের মারতে দেখেছি, যারা খাদ্য-শস্যের স্তূপ ক্রয় করে তা নিজ গৃহে নেয়ার আগে বিক্রি করে দিত।

৩৪৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ابْتَعْتُ زَيْتًا فِي السُّوقِ فَلَمَّا اسْتَوْجَبْتُهُ لِنَفْسِي لَقِيَنِي رَجُلٌ فَأَعْطَانِي بِهِ رِبْحًا حَسَنًا فَأَرَدْتُ أَنْ أَضْرِبَ عَلَى يَدِهِ فَأَخَذَ رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي بِذِرَاعِي فَالْتَفَتُّ فَإِذَا زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَقَالَ لاَ تَبِعْهُ حَيْثُ ابْتَعْتَهُ حَتَّى تَحُوزَهُ إِلَى رَحْلِكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ تُبَاعَ السِّلَعُ حَيْثُ تُبْتَاعُ حَتَّى يَحُوزَهَا التُّجَّارُ إِلَى رِحَالِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৬৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি বাজারে গিয়ে তেল খরিদ করি। যখন ক্রয়-বিক্রয় নিষ্পন্ন হয়ে যায়, তখন আমার কাছে এমন এক ব্যক্তি আসে, যে আমাকে এর মনমত মুনাফা দিতে আগ্রহী হয়। তখন আমি তা তার কাছে বিক্রি করতে ইচ্ছা করি। এ সময় পেছন দিক থেকে এক ব্যক্তি আমার হাত ধরলো। আমি ফিরে দেখি তিনি হলেন যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)। তখন তিনি বললেনঃ তুমি এখান থেকে তেল খরিদ করেছ, কাজেই তুমি তা তোমার স্থানে (অধিকারে) নেয়ার আগে বিক্রি করো না। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন জিনিসকে তার ক্রয়ের স্থানে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না ব্যবসায়ী তা নিজের অধিকারে নেয়।

৩৬০. বিক্রির সময় যদি কেউ বলেঃ এতে কোন ধোঁকাবাজি নেই।

باب فِي الرَّجُلِ يَقُولُ فِي الْبَيْعِ لاَ خِلاَبَةَ

৩৪৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، ذَكَرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يُخْدَعُ فِي الْبَيْعِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ لاَ خِلاَبَةَ " . فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا بَايَعَ يَقُولُ لاَ خِلاَبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৪৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলে যে, লোকেরা তাকে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ধোঁকা দেয়। তখন তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ একদা যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন এরূপ বলবে যে এতে কোন ধোঁকাবাজি নেই তো। এরপর তিনি এরূপ করতেন।

৩৪৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَرُزِّيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ أَبُو ثَوْرٍ الْكَلْبِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - قَالَ مُحَمَّدٌ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ - أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبْتَاعُ وَفِي عُقْدَتِهِ ضَعْفٌ فَأَتَى أَهْلُهُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ احْجُرْ عَلَى فُلاَنٍ فَإِنَّهُ يَبْتَاعُ وَفِي عُقْدَتِهِ ضَعْفٌ فَدَعَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَهَاهُ عَنِ الْبَيْعِ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَصْبِرُ عَنِ الْبَيْعِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كُنْتَ غَيْرَ تَارِكٍ الْبَيْعَ فَقُلْ هَاءَ وَهَاءَ وَلاَ خِلاَبَةَ " . قَالَ أَبُو ثَوْرٍ عَنْ سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৪৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় জনৈক ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করতো, কিন্তু তার জ্ঞান-বুদ্ধি কম ছিল। তখন সে ব্যক্তির পরিবারের লোকে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি অমুক ব্যক্তিকে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দেন। কেননা, এ ব্যাপারে তার বুদ্ধি কম। তখন নবী (ﷺ) সে ব্যক্তিকে ডেকে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দেন। তখন সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্রয়-বিক্রয়ের উপর সবর করতে পারি না। তখন তিনি বলেনঃ যদি তুমি ক্রয়-বিক্রয় বাদ দিতে না পার, তবে এরূপ বলবে যে, দাম দাও, মাল নাও! এতে কোন ধোঁকাবাজি নেই।

৩৬১. অগ্রিম বায়না করা।

باب فى الْعُرْبَانِ

৩৪৬৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْعُرْبَانِ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ - فِيمَا نَرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ - أَنْ يَشْتَرِيَ الرَّجُلُ الْعَبْدَ أَوْ يَتَكَارَى الدَّابَّةَ ثُمَّ يَقُولُ أُعْطِيكَ دِينَارًا عَلَى أَنِّي إِنْ تَرَكْتُ السِّلْعَةَ أَوِ الْكِرَاءَ فَمَا أَعْطَيْتُكَ لَكَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৪৬৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বায়না দিতে নিষেধ করেছেন।

রাবী মালিক বলেনঃ আর তা এরূপ, যা আমরা দেখি এবং আল্লাহ এ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত যে, যদি কোন ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করে অথবা একটি চতুষ্পদ জন্তু ভাড়া নেয় এবং বলেঃ আমি তোমাকে দীনার দেব, যদি আমি ক্রয়কৃত বস্তু অথবা ভাড়া করা জন্তু পরিত্যাগ করি ও না নেই, তবে তোমাকে যা বায়না দিলাম, তা তোমার হয়ে যাবে।

৩৬২. যা নিজের কাছে নেই, তা বিক্রি করা।

باب فِي الرَّجُلِ يَبِيعُ مَا لَيْسَ عِنْدَهُ

৩৪৬৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَأْتِينِي الرَّجُلُ فَيُرِيدُ مِنِّي الْبَيْعَ لَيْسَ عِنْدِي أَفَأَبْتَاعُهُ لَهُ مِنَ السُّوقِ فَقَالَ " لاَ تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ " .

বর্ণনাকারী: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

৩৪৬৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি কেউ আমার কাছে উপস্থিত হয়ে এমন কিছু জিনিস ক্রয় করতে চায়, যা আমার কাছে নেই, তবে কি আমি তাকে সে জিনিস বাজার থেকে ক্রয় করে দিতে পারি? তখন তিনি বলেনঃ তোমার কাছে যা নেই, তা তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে না।

৩৪৬৮

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِيهِ، حَتَّى ذَكَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ سَلَفٌ وَبَيْعٌ وَلاَ شَرْطَانِ فِي بَيْعٍ وَلاَ رِبْحُ مَا لَمْ تَضْمَنْ وَلاَ بَيْعُ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৪৬৮. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাকীর শর্তে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয নয় এবং একটি ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিতে দু’টি শর্ত নির্ধারণ করা জায়েয নয়। একইরূপে যে জিনিসের নিজে যিম্মাদার নয়, তা থেকে তার উপকার গ্রহণ করা উচিত নয় এবং ঐ জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করা দুরস্ত নয়, যা তোমার কাছে মওজুদ নেই।

৩৬৩. ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপ করা।

باب فِي شَرْطٍ فِي بَيْعٍ

৩৪৬৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا عَامِرٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بِعْتُهُ - يَعْنِي بَعِيرَهُ - مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَاشْتَرَطْتُ حُمْلاَنَهُ إِلَى أَهْلِي قَالَ فِي آخِرِهِ " تُرَانِي إِنَّمَا مَاكَسْتُكَ لأَذْهَبَ بِجَمَلِكَ خُذْ جَمَلَكَ وَثَمَنَهُ فَهُمَا لَكَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৬৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উট বিক্রি করি এবং তার পিঠে বোঝা চাপিয়ে নিজের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য শর্ত করি।

রাবী হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে শেষে বলেনঃ নবী (ﷺ) আমাকে বলেন যে, তুমি কি এরূপ মনে কর যে, আমি তা ক্রয় করতে এজন্য ইতস্তত করিছিলাম যে, তোমার উট আমি নিয়ে যাব। এখন তুমি তোমার উট নিয়ে যাও এবং এর মূল্যও নিয়ে নাও। বস্তুত এ দুটি তোমারই।

৩৬৪. কৃতদাস ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পর্কে।

باب فِي عُهْدَةِ الرَّقِيقِ

৩৪৭০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عُهْدَةُ الرَّقِيقِ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩৪৭০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গোলাম ক্রয় করার ব্যাপারে ক্রেতার জন্য তিন দিনের ইখতিয়ার থাকে।

৩৪৭১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ إِنْ وَجَدَ دَاءً فِي الثَّلاَثِ اللَّيَالِي رُدَّ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ وَإِنْ وَجَدَ دَاءً بَعْدَ الثَّلاَثِ كُلِّفَ الْبَيِّنَةَ أَنَّهُ اشْتَرَاهُ وَبِهِ هَذَا الدَّاءُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا التَّفْسِيرُ مِنْ كَلاَمِ قَتَادَةَ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৩৪৭১. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ..... কাতাদা (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, যদি তিন দিনের মধ্যে দাস বা দাসীর মধ্যে কোন দোষ-ক্রটি দেখা যায়, তবে ক্রেতা কোন সাক্ষী পেশ করা ব্যতীত তা মালিকের নিকট ফেরত দিতে পারবে। আর যদি তিন দিনের পর কোন দোষ-ক্রটি প্রকাশ পায়, তখন ক্রেতার নিকট এর জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ চাইতে হবে, যাতে প্রমাণিত হবে যে, খরিদের সময় গোলামের মধ্যে এ দোষ-ক্রটি ছিল।

৩৬৫. গোলাম খরিদের পর তাকে কাজে লাগাবার পর তার মধ্যে কোন দোষ-ক্রটি পাওয়া গেলে।

باب فِيمَنِ اشْتَرَى عَبْدًا فَاسْتَعْمَلَهُ ثُمَّ وَجَدَ بِهِ عَيْبًا

৩৪৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৭২. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গোলামের উপার্জিত পারিশ্রমিক রক্ষণাবেক্ষণকারীর প্রাপ্য।[১]

[১] অর্থাৎ গোলামের জামিনদার তার অর্জিত সম্পদের মালিক হবে। কেননা; গোলাম ক্রয়ের পর ক্রেতাই তার রক্ষণাবেক্ষণের মালিক হয়। তাই গোলামের মধ্যে কোনরূপ দোষত্রুটি দেখা গেলে গোলামকে তার আসল মালিকের নিকট প্রত্যার্পণ করার সময় পর্যন্ত সে যা উপার্জন করবে, তার হকদার হবে রক্ষণাবেক্ষণকারী মালিক। (অনুবাদক)
৩৪৭৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ أُنَاسٍ شَرِكَةٌ فِي عَبْدٍ فَاقْتَوَيْتُهُ وَبَعْضُنَا غَائِبٌ فَأَغَلَّ عَلَىَّ غَلَّةً فَخَاصَمَنِي فِي نَصِيبِهِ إِلَى بَعْضِ الْقُضَاةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَرُدَّ الْغَلَّةَ فَأَتَيْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَحَدَّثْتُهُ فَأَتَاهُ عُرْوَةُ فَحَدَّثَهُ عَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪৭৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... মাখলাদ গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং আরো কয়েকজন একটি গোলামে শরীক ছিলাম। এরপর আমি তাকে দিয়ে কিছু কাজ করাতে শুরু করি এবং এ সময় আমার সাথীরা অনুপস্থিত ছিল। পরে সে গোলাম আমাকে বলেঃ আমার অন্য শরীকরা আমার কাছ থেকে তাদের অংশ পাওয়ার জন্য ঝগড়া করছে। এরপর তারা কাযীর নিকটে মোকদ্দমা পেশ করে, যিনি আমাকে তাদের অংশ প্রদান করতে নির্দেশ দেন। অবশেষে আমি উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর কাছে সমুদয় বৃত্তান্ত বর্ণনা করি। তখন তিনি আমার শরীকদের নিকট উপস্থিত হন এবং আয়িশা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস পেশ করে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোলামের উপার্জিত পারিশ্রমিক রক্ষণাবেক্ষণকারীর জন্য নির্ধারণ করেছেন।

৩৪৭৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَجُلاً، ابْتَاعَ غُلاَمًا فَأَقَامَ عِنْدَهُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يُقِيمَ ثُمَّ وَجَدَ بِهِ عَيْبًا فَخَاصَمَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّهُ عَلَيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدِ اسْتَغَلَّ غُلاَمِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا إِسْنَادٌ لَيْسَ بِذَاكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৭৪. ইবরাহীম ইবনে মারওয়ান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করে, যা তার নিকট কিছুদিন থাকার পর তার মধ্যে দোষ-ক্রটি দেখা যায়। তখন সে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে। এসময় তিনি সে গোলামকে তার বিক্রেতার নিকট ফিরিয়ে দেন। এ সময় বিক্রেতা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি তো আমার গোলাম দ্বারা লাভবান হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মুনাফা সে পাবে, যে তার রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল।

৩৬৬. বিক্রীত বস্তুর উপস্থিতিতে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মতানৈক্য হলে।

باب إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ وَالْمَبِيعُ قَائِمٌ

৩৪৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قَيْسِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْعَثِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ اشْتَرَى الأَشْعَثُ رَقِيقًا مِنْ رَقِيقِ الْخُمُسِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بِعِشْرِينَ أَلْفًا فَأَرْسَلَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَيْهِ فِي ثَمَنِهِمْ فَقَالَ إِنَّمَا أَخَذْتُهُمْ بِعَشْرَةِ آلاَفٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَاخْتَرْ رَجُلاً يَكُونُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ . قَالَ الأَشْعَثُ أَنْتَ بَيْنِي وَبَيْنَ نَفْسِكَ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا بَيِّنَةٌ فَهُوَ مَا يَقُولُ رَبُّ السِّلْعَةِ أَوْ يَتَتَارَكَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৪৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আশআছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আশআছ (রাযিঃ) খুমুসের (মালে গনিমতের পঞ্চমাংশ) গোলাম থেকে কয়েকটি গোলাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বিশ হাজার টাকায় খরিদ করেন। এরপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আশআছ (রাযিঃ) এর নিকট গোলামদের দাম আনার জন্য জনৈক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন। তখন আশআছ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তো তাদের দশ হাজার টাকায় খরিদ করেছি। একথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ তুমি আমার ও তোমার মধ্যে কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিয়োগ কর। তখন আশআছ (রাযিঃ) বলেনঃ আমার ও তোমার মধ্যের (মতানৈক্যের) ফয়সালার ভার তোমার উপর। এ সময় আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হবে এবং তাদের কাছে কোন সাক্ষী থাকবে না, এমতাবস্থায় মালের মালিক বা বিক্রেতার কথাই গ্রয়ণীয় হবে এবং তারা উভয়ে একমত হয়ে ক্রয়-বিক্রয়কে বাতিল সাব্যস্ত করবে।

৩৪৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، بَاعَ مِنَ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ رَقِيقًا فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَالْكَلاَمُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৪৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি আশআছ ইবনে কায়স (রাযিঃ)-এর নিকট কয়েকটি গোলাম বিক্রি করেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে- হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে হাদীসের বর্ণনায় শব্দের মধ্যে কিছু কমবেশী আছে।

৩৬৭. শুফআ বা শরীকী অধিকার সম্পর্কে।

باب فِي الشُّفْعَةِ

৩৪৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشُّفْعَةُ فِي كُلِّ شِرْكٍ رَبْعَةٍ أَوْ حَائِطٍ لاَ يَصْلُحُ أَنْ يَبِيعَ حَتَّى يُؤْذِنَ شَرِيكَهُ فَإِنْ بَاعَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ حَتَّى يُؤْذِنَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৭৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক শরীকী জিনিসে শুফ’আ আছে, চাই তা ঘরবাড়ী হোক বা বাগান। শরীকী জিনিস শরীকের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা উচিত নয়। যদি কেউ শরীকী অংশ বিক্রি করে, তবে এর শরীক যতক্ষণ না অনুমতি দেবে, ততক্ষণ সে এর হকদার হবে।[১]

[১] শুফা' এমন হক, যা শরীক হওয়ার বা নিকটে হওয়ার কারণে নির্ধারিত হয়ে থাকে। যেমন কেউ যদি তার জমা জমি, ঘর-বাড়ি বা অন্যকিছু বিক্রি করতে চায় এবং তার শরীক ও নিকটে বসবাসকারী কেউ থাকে, তবে বিক্রেতার উচিত হবে, এদের কাছে বিক্রির কথা বলা। যদি তারা তা ক্রয় করতে অস্বীকার করে বা অক্ষমতা প্রকাশ করে, তথা বিক্রেতা অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারবে। পক্ষান্তরে, বিক্রেতার যদি তার শরীক ও নিকট প্রতিবেশীকে না জানিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করে, তবে তারা ক্রয়কারীকে তার দেয় টাকা পরিশোধ করে দিয়ে, নিজেরা তা খরিদ করতে
পারে। (অনুবাদক)
৩৪৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّمَا جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشُّفْعَةَ فِي كُلِّ مَالٍ لَمْ يُقْسَمْ فَإِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِفَتِ الطُّرُقُ فَلاَ شُفْعَةَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৭৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক শরীকী জিনিসে শুফআ’র হক নির্ধারণ করেছেন, তবে যদি সীমানা চিহ্নিত হয়ে যায় এবং রাস্তা ভিন্ন হয়, তাহলে তাতে শুফআ’ নেই।

৩৪৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَوْ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَوْ عَنْهُمَا جَمِيعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قُسِّمَتِ الأَرْضُ وَحُدَّتْ فَلاَ شُفْعَةَ فِيهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি জমি বণ্টন হয়ে এর সীমানা চিহ্নিত হয়ে যায়, তবে তাতে শুফআ’র হক থাকবে না।

৩৪৮০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَ عَمْرَو بْنَ الشَّرِيدِ، سَمِعَ أَبَا رَافِعٍ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

৩৪৮০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ প্রতিবেশী তার নিকটবর্তী ঘরের অধিক হকদার।

৩৪৮১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِدَارِ الْجَارِ أَوِ الأَرْضِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৪৮১. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) .... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর ঘর বা জমির অধিক হকদার।

৩৪৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْجَارُ أَحَقُّ بِشُفْعَةِ جَارِهِ يُنْتَظَرُ بِهَا وَإِنْ كَانَ غَائِبًا إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৪৮২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর শুফআ’র অধিক হকদার। যদি সে উপস্থিত না থাকে, তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যদি তাদের উভয়ের বাড়ীতে যাতায়াতের রাস্তা এক হয়।

৩৬৮. কপর্দকহীন গরীব লোকের নিকট যদি কেউ তার মাল পায়।

باب فِي الرَّجُلِ يُفْلِسُ فَيَجِدُ الرَّجُلُ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ

৩৪৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ أَفْلَسَ فَأَدْرَكَ الرَّجُلُ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৮৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ কোন কপর্দকহীন গরীব লোকের নিকট তার মাল পায়, তবে সে তা গ্রহণে অন্যের চাইতে অধিক হকদার।

৩৪৮৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ مَتَاعًا فَأَفْلَسَ الَّذِي ابْتَاعَهُ وَلَمْ يَقْبِضِ الَّذِي بَاعَهُ مِنْ ثَمَنِهِ شَيْئًا فَوَجَدَ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ وَإِنْ مَاتَ الْمُشْتَرِي فَصَاحِبُ الْمَتَاعِ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু বকর ইবনে আব্দির রহমান ইবনে হারিছ ইবনে হিশাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ তার মাল বিক্রি করার পর ক্রেতা হঠাৎ গরীব হয়ে যায় এবং সে বিক্রেতাকে তার মূল্য বাবদ কিছুই পরিশোধ করে না; এমতাবস্থায় বিক্রেতা তার সমস্ত মাল ক্রেতার নিকট হতে ফিরিয়ে নেবে এবং এটাই তার হক। আর যদি ক্রেতা মারা যায় তবে মালের মালিক অন্যান্য পাওনাদারদের মত হবে।

৩৪৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، - يَعْنِي الْخَبَائِرِيَّ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ - عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ أَبُو الْهُذَيْلِ الْحِمْصِيُّ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ " فَإِنْ كَانَ قَضَاهُ مِنْ ثَمَنِهَا شَيْئًا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ وَأَيُّمَا امْرِئٍ هَلَكَ وَعِنْدَهُ مَتَاعُ امْرِئٍ بِعَيْنِهِ اقْتَضَى مِنْهُ شَيْئًا أَوْ لَمْ يَقْتَضِ فَهُوَ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি গরীব ক্রেতা বিক্রেতার মালের কিছু মূল্য পরিশোধ করে থাকে, তবে অবশিষ্ট মালের জন্য সে অন্য পাওনাদারদের মত অংশপ্রাপ্ত হবে। আর যদি ক্রেতা মারা যায়, আর তার কাছে বিক্রেতার মাল অবশিষ্ট থাকে, চাই তার কোন মূল্য আদায় করা হোক বা না হোক; এমতাবস্থায় সেও অন্যান্য পাওনাদারদের মত একজন হবে।

৩৪৮৬
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ وَهْبٍ - أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ زَادَ " وَإِنْ قَضَى مِنْ ثَمَنِهَا شَيْئًا فَهُوَ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ فِيهَا " .
قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَقَضَى رَسَولُ اللهِ صَلى الله عَلَيهِ وَسَلمَ: أَنَّهُ مَنْ تُوُفِّيَ وَعِنْدَهُ سِلْعَةُ رَجُلٍ بِعَيْنِهَا لَمْ يَقْضِ مِنْ ثَمَنِهَا شَيْئًا, فَصَاحِبُ السِّلْعَةِ أُسْوَةُ الغُرَمَاءِ فِيهَا
قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَحَدِيثُ مَالِكٍ أَصَحُّ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৪৮৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আবু বকর ইবনে আব্দির রহমান ইবনে হারিছ ইবনে হিশাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ......... মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এরপর রাবী মালিকের হাদীসের বিষয়বস্তু বর্ণনা প্রসঙ্গে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, যদি গরীব ক্রেতা বিক্রেতার মালের কিছু মূল্য পরিশোধ করে থাকে, তবে সে অবশিষ্ট মালের মালিক হবে; (এবং বিক্রেতা বাকী মালের মূল্য গ্রহণে অন্যান্য পাওনাদারদের মত হবে)।

৩৪৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، هُوَ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ أَبِي الْمُعْتَمِرِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ خَلْدَةَ، قَالَ أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فِي صَاحِبٍ لَنَا أَفْلَسَ فَقَالَ لأَقْضِيَنَّ فِيكُمْ بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَفْلَسَ أَوْ مَاتَ فَوَجَدَ رَجُلٌ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আমর ইবনে খালদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার এক গরীব সাথীর মোকদ্দমা নিয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হই। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফয়সালার ন্যায় তোমাদের মাঝে সমাধান করে দেব। নবী (ﷺ)-এর নিয়ম হলোঃ যদি কেউ নিঃস্ব হয়ে যায় অথবা মারা যায় এবং বিক্রেতা তার মাল হুবহু তার নিকট প্রাপ্ত হয়, তবে সে তা গ্রহণের অধিক হকদার।

৩৬৯. অক্ষম, দুর্বল পশু প্রতিপালন সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ أَحْيَا حَسِيرًا

৩৪৮৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، - قَالَ عَنْ أَبَانَ، أَنَّ عَامِرًا الشَّعْبِيَّ، - حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَجَدَ دَابَّةً قَدْ عَجَزَ عَنْهَا أَهْلُهَا أَنْ يَعْلِفُوهَا فَسَيَّبُوهَا فَأَخَذَهَا فَأَحْيَاهَا فَهِيَ لَهُ " . قَالَ فِي حَدِيثِ أَبَانَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَقُلْتُ عَمَّنْ قَالَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثُ حَمَّادٍ وَهُوَ أَبْيَنُ وَأَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৩৪৮৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আমির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পশুকে খাদ্য দিতে অপারগ হয়ে তার মালিক তাকে ছেড়ে দিয়েছে, এখন এ পশুকে যে লালন-পালন করবে, সে-ই তার মালিক হবে। রাবী আবানের হাদীসে উল্লেখ আছে যে, একদা উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) আমির শা’আবী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি এ হাদীস কার থেকে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একাধিক সাহাবী থেকে শ্রবণ করেছি।

৩৪৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ حَمَّادٍ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ تَرَكَ دَابَّةً بِمُهْلِكٍ فَأَحْيَاهَا رَجُلٌ فَهِيَ لِمَنْ أَحْيَاهَا " .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৩৪৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ..... আমির শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন পশুকে ধ্বংসোম্মুখ অবস্থায় পরিত্যগ করে, এরপর অন্য কোন ব্যক্তি তাকে লালন-পালন করে; এমতাবস্থায় সে-ই তার মালিল হবে, যে পশুটিকে পতিপালন করে জীবিত রাখে।

৩৭০. বন্ধক রাখা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّهْنِ

৩৪৯০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَبَنُ الدَّرِّ يُحْلَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَالظَّهْرُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَحْلِبُ النَّفَقَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ عِنْدَنَا صَحِيحٌ .

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ لَأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ، وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تُخْبِرُنَا مَنْ هُمْ، قَالَ: هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ، وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا، فَوَاللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ، وَإِنَّهُمْ عَلَى نُورٍ لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ، وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ وَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ (أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ) [يونس: ٦٢]

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৯০. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দুগ্ধবতী বন্ধকী পশুর দুধ তাকে ঘাস খাওয়ানোর বিনিময়ে যে বন্ধক রাখে সে দোহন করতে পারে। একইরূপে আরোহণযোগ্য বন্ধকী পশুর উপর তাকে ঘাস খাওয়ানোর বিনিময়ে যে বন্ধক রাখে, সে আরোহণ করতে পারে।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমণ্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ’’জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’(সূরা ইউনুসঃ ৬২)

৩৭১. নিজের সন্তানের কামাই খাওয়া।

باب فِي الرَّجُلِ يَأْكُلُ مِنْ مَالِ وَلَدِهِ

৩৪৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَمَّتِهِ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ رضى الله عنها فِي حِجْرِي يَتِيمٌ أَفَآكُلُ مِنْ مَالِهِ فَقَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَطْيَبِ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَوَلَدُهُ مِنْ كَسْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৯১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... উমরা ইবনে উমাইর (রাযিঃ) তাঁর ফুফু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমার লালন-পালনে একজন ইয়াতীম আছে, আমি কি তার মাল খেতে পারি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের জন্য উওম খাবার হলো তার নিজের হাতে অর্জিত খাদ্য এবং তার সন্তানের আয়ও নিজের উপার্জনের মত।

৩৪৯২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " وَلَدُ الرَّجُلِ مِنْ كَسْبِهِ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِهِ فَكُلُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ زَادَ فِيهِ " إِذَا احْتَجْتُمْ " . وَهُوَ مُنْكَرٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৯২. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের সন্তান তার উৎপাদিত ফসলের মত, বরং তা উত্তম উপার্জন। অতএব, তোমরা তাদের উপার্জন হতে ভক্ষণ করবে।

৩৪৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِي يَجْتَاحُ مَالِي . قَالَ " أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ إِنَّ أَوْلاَدَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ فَكُلُوا مِنْ كَسْبِ أَوْلاَدِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৪৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আছে, আর আমার পিতা আমার মালের মুখাপেক্ষী। তখন তিনি বলেনঃ তুমি এবং তোমার মাল-সবই তোমার পিতার। আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য উত্তম উপার্জন। কাজেই, তোমরা তোমাদের সন্তানের উপার্জিত মাল ভক্ষণ করবে।

৩৭২. নিজের কোন হারানো মাল অন্যের নিকট পাওয়া গেলে।

باب فِي الرَّجُلِ يَجِدُ عَيْنَ مَالِهِ عِنْدَ رَجُلٍ

৩৪৯৪

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ السَّائِبِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدَ عَيْنَ مَالِهِ عِنْدَ رَجُلٍ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ وَيَتَّبِعُ الْبَيِّعُ مَنْ بَاعَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৪৯৪. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ তার নিজের কোন হারানো মাল অন্যের নিকট পায়, তবে সে তা পাওয়ার অধিক হকদার এবং ব্যক্তি সে মাল খরিদ করবে, সে বিক্রেতার কাছ থেকে তার টাকা আদায় করবে।

৩৭৩. স্বীয় অধিকারের মাল হতে নিজের প্রাপ্য গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَأْخُذُ حَقَّهُ مِنْ تَحْتِ يَدِهِ

৩৪৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ هِنْدًا أُمَّ مُعَاوِيَةَ، جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَإِنَّهُ لاَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَبَنِيَّ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ أَنْ آخُذَ مِنْ مَالِهِ شَيْئًا قَالَ " خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَبَنِيكِ بِالْمَعْرُوفِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৯৫. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুআবিয়ার মা হিনদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি, সে আমার এবং আমার সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ দেয় না। কাজেই আমি যদি তার মাল হতে কিছু করি, যা আমার নিকট থাকে, তবে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বলেন, তোমার এবং তোমার সন্তানদের যা একান্ত প্রয়োজন, কেবল ততটুকু মাল সদুপায়ে গ্রহণ করতে পার।

৩৪৯৬

حَدَّثَنَا خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ هِنْدٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ مُمْسِكٌ فَهَلْ عَلَىَّ مِنْ حَرَجٍ أَنْ أُنْفِقَ عَلَى عِيَالِهِ مِنْ مَالِهِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَرَجَ عَلَيْكِ أَنْ تُنْفِقِي عَلَيْهِمْ بِالْمَعْرُوفِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৯৬. খুশায়শ ইবনে আসরাম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিনদা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক, এমতাবস্থায় আমি যদি তার বিনা অনুমতিতে তার মাল হতে তার সন্তানদের জন্য খরচ করি, এতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ যদি তুমি তার সন্তানদের জন্য প্রয়োজন মত সৎভাবে খরচ কর, তবে তাতে তোমার কোন গুনাহ হবে না।

৩৪৯৭
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، - يَعْنِي الطَّوِيلَ - عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ الْمَكِّيِّ، قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ لِفُلاَنٍ نَفَقَةَ أَيْتَامٍ كَانَ وَلِيَّهُمْ فَغَالَطُوهُ بِأَلْفِ دِرْهَمٍ فَأَدَّاهَا إِلَيْهِمْ فَأَدْرَكْتُ لَهُمْ مِنْ مَالِهِمْ مِثْلَيْهَا . قَالَ قُلْتُ أَقْبِضُ الأَلْفَ الَّذِي ذَهَبُوا بِهِ مِنْكَ قَالَ لاَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ " .

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، وَأَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَا: حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَرِيكٍ - قَالَ: ابْنُ الْعَلَاءِ، وَقَيْسٌ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ

বর্ণনাকারী: ইউসুফ ইবনে মাহাক (রহঃ)

৩৪৯৭. আবু কামিল (রাহঃ) ..... ইউসুফ ইবনে মাহিক মক্কী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে ইয়াতীমদের খরচের হিসাব লেখতাম এবং তিনি তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিলেন। একবার ইয়াতীমরা তার নিকট এক হাজার দিরহামের একটি ভুল হিসাব পেশ করে, যা তিনি তাদের দিয়ে দেন। এরপর হিসাব করে আমি ঐ পরিমাণ অতিরিক্ত মাল ইয়াতীমদের মালের মধ্যে পাই।

রাবী বলেন, তখন আমি তাকে বলিঃ এখন আপনি আপনার হাজার দিরহাম গ্রহণ করুন যা ভুল হিসাবের কারণে আপনি ইয়াতীমদের দিয়েছেন। তখন তিনি বলেন, না, আমি তা নেব না। কেননা, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শ্রবন করেছেনঃ যদি কেউ তোমাদের নিকট কিছু আমানত রাখে, তবে তা আদায় করবে। পক্ষান্তরে যদি কেউ তোমাদের সাথে খিয়ানত করে, তবে তোমরা তাদের সাথে খিয়ানত করবে না।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ তোমার কাছে আমানাত রাখলে তা তাকে ফেরত দাও। যে ব্যক্তি তোমার সাথে খিয়ানাত করেছে তুমি তার সাথে খিয়ানাত করো না।

৩৭৪. হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে।

باب فِي قَبُولِ الْهَدَايَا

৩৪৯৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُطَرِّفٍ الرُّؤَاسِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عِيسَى، - وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ وَيُثِيبُ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৪৯৮. আলী ইবনে বাহর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাদিয়া কবুল করতেন এবং এর বিনিময়ে তিনিও হাদিয়া প্রদান করতেন।

৩৪৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَايْمُ اللَّهِ لاَ أَقْبَلُ بَعْدَ يَوْمِي هَذَا مِنْ أَحَدٍ هَدِيَّةً إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مُهَاجِرًا قُرَشِيًّا أَوْ أَنْصَارِيًّا أَوْ دَوْسِيًّا أَوْ ثَقَفِيًّا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৪৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আজ হতে আমি কুরাইশ মুহাজির, আনসার, দাওসী অথবা ছাকাফী ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে হাদিয়া গ্রহণ করব না।[১]

[১] একদা জনৈক গ্রাম্য নিরক্ষর লোক নবী (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে হাদিয়া হিসাবে একটি উট প্রদান করে। এর বিনিময়ে তিনি তাকে ছয়টি উট দেন। এতদসত্ত্বেও সে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। এ নবী (সা.) উপরো হাদীস বর্ণনা করেন।

আলোচ্য হাদীসের প্রেক্ষিতে জানা যায় যে, যদি কেউ অধিক প্রাপ্তি আশায় হাদিয়া দেয় এবং তা পাওয়া সত্ত্বেও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে, এমতাবস্থায় সে ব্যক্তির হাদিয়া গ্রহণ যোগ্য নয়। যে ব্যক্তি হাদিয়া দেবে, তাকে নির্লোভ হতে হবে। এভাবে যদি কেউ হাদিয়া প্রদান করে, তবে তা গ্রহণ করা যাবে, অন্যথায় নয়। (অনুবাদক)

৩৭৫. দানে প্রদত্ত বস্তু ফেরত নেয়া।

باب الرُّجُوعِ فِي الْهِبَةِ

৩৫০০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، وَهَمَّامٌ، وَشُعْبَةُ، قَالُوا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْعَائِدِ فِي قَيْئِهِ " . قَالَ هَمَّامٌ وَقَالَ قَتَادَةُ وَلاَ نَعْلَمُ الْقَىْءَ إِلاَّ حَرَامًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫০০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দানে প্রদত্ত বস্তু ফেরত নেয়া প্রদানকারী ব্যক্তি নিজের বমি নিজে ভক্ষণকারীর সমতুল্য। রাবী আবু কাতাদা (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা তো বমিকে হারাম-ই মনে করি। (কাজেই, কাউকে কিছু দান করার পর তা ফেরত নেয়াও হারাম।)

৩৫০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً أَوْ يَهَبَ هِبَةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ وَمَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ فَإِذَا شَبِعَ قَاءَ ثُمَّ عَادَ فِي قَيْئِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৫০১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেবল পিতা তার পুত্রদের কিছু দিয়ে তা ফেরত নিতে পারে। এ ছাড়া আর কারো জন্য কোন জিনিস কাউকে দিয়ে তা ফেরত নেয়া জায়েয নয়। আর ঐ ব্যক্তির উদাহরণ, যে কাউকে কিছু দিয়ে তা আবার ফেরত চায়, ঐ কুকুরের মত, যে পেট পুরে খাওয়ার পর বমি করে, পরে তা আবার নিজে ভক্ষণ করে।

৩৫০২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ شُعَيْبٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَثَلُ الَّذِي يَسْتَرِدُّ مَا وَهَبَ كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَقِيءُ فَيَأْكُلُ قَيْئَهُ فَإِذَا اسْتَرَدَّ الْوَاهِبُ فَلْيُوَقَّفْ فَلْيُعَرَّفْ بِمَا اسْتَرَدَّ ثُمَّ لِيُدْفَعْ إِلَيْهِ مَا وَهَبَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৫০২. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ কোন বস্তু দান করে তা আবার ফেরত নেয়, তবে তার উদাহরণ এরূপ যে, কোন কুকুর যেন বমি করে তা আবার ভক্ষণ করে। যদি কোন ব্যক্তি তার দানকৃত কোন বস্তু ফেরত নিতে ইচ্ছা করে, তখন দান-গ্রহীতা ব্যক্তি তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। যদি বিশেষ কোন কারণে দানকারী তা ফেরত চাইতে বাধ্য হয়, তখন তাকে তা ফেরত দেবে।

৩৭৬. প্রয়োজন পূরণের জন্য হাদিয়া গ্রহণ।

باب فِي الْهَدِيَّةِ لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ

৩৫০৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ شَفَعَ لأَخِيهِ بِشَفَاعَةٍ فَأَهْدَى لَهُ هَدِيَّةً عَلَيْهَا فَقَبِلَهَا فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩৫০৩. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করে, পরে সে ব্যক্তি সুপারিশের জন্য তাকে কোন হাদিয়া দেয় এবং সুপারিশকারী তা গ্রহণও করে; এমতাবস্থায় হাদিয়া গ্রহণকারী যেন সুদের একটি বড় দরজার মধ্যে প্রবেশ করলো।[১]

[১] কেননা, কোন মুসলমানকে সাহায্য করা, অথবা তার কোন কাজ করে দেওয়া অনেক ছওয়াবের কাজ। তাই, যখন সে ব্যক্তি হাদিয়া নেবে, তখন সে এ ছওয়াব হতে বঞ্চিত হবে। অবশ্য উপরোক্ত কারণে কেউ যদি কাফিরদের থেকে কিছু বিনিময় গ্রহণ করে, তাতে কোন দোষ নেই। (অনুবাদক)

৩৭৭. কোন সন্তানকে অতিরিক্ত কিছু দান করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يُفَضِّلُ بَعْضَ وَلَدِهِ فِي النُّحْلِ

৩৫০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، وَأَخْبَرَنَا مُغِيرَةُ، وَأَخْبَرَنَا دَاوُدُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، وَأَنْبَأَنَا مُجَالِدٌ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ أَنْحَلَنِي أَبِي نُحْلاً - قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ مِنْ بَيْنِ الْقَوْمِ نِحْلَةً غُلاَمًا لَهُ - قَالَ فَقَالَتْ لَهُ أُمِّي عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ إِيتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشْهِدْهُ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَشْهَدَهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي النُّعْمَانَ نُحْلاً وَإِنَّ عَمْرَةَ سَأَلَتْنِي أَنْ أُشْهِدَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ فَقَالَ " أَلَكَ وَلَدٌ سِوَاهُ " . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَكُلَّهُمْ أَعْطَيْتَ مِثْلَ مَا أَعْطَيْتَ النُّعْمَانَ " . قَالَ لاَ قَالَ فَقَالَ بَعْضُ هَؤُلاَءِ الْمُحَدِّثِينَ " هَذَا جَوْرٌ " . وَقَالَ بَعْضُهُمْ " هَذَا تَلْجِئَةٌ فَأَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي " . قَالَ مُغِيرَةُ فِي حَدِيثِهِ " أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا لَكَ فِي الْبِرِّ وَاللُّطْفِ سَوَاءً " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَأَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي " . وَذَكَرَ مُجَالِدٌ فِي حَدِيثِهِ " إِنَّ لَهُمْ عَلَيْكَ مِنَ الْحَقِّ أَنْ تَعْدِلَ بَيْنَهُمْ كَمَا أَنَّ لَكَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْحَقِّ أَنْ يَبَرُّوكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ بَعْضُهُمْ " أَكُلَّ بَنِيكَ " . وَقَالَ بَعْضُهُمْ " وَلَدِكَ " . وَقَالَ ابْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ فِيهِ " أَلَكَ بَنُونَ سِوَاهُ " . وَقَالَ أَبُو الضُّحَى عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ " أَلَكَ وَلَدٌ غَيْرُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৫০৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অতিরিক্ত কিছু প্রদান করেন। রাবী ইসমাঈল ইবনে সালিম, যিনি এ হাদীসের রাবীদের অন্যতম, বলেনঃ নু’মানের পিতা তাকে একটি গোলাম প্রদান করেন। নু’মান (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমার মাতা উমরা বিনতে রাওহা (রাযিঃ) আমার পিতাকে বলেন যে, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাঁকে এ ব্যাপারে সাক্ষী বানিয়ে নিন। তখন আমার পিতা নবী (ﷺ)-কে সাক্ষী বানাবার উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট হাযির হয়ে বলেনঃ আমি আমার নু’মানকে কিছু প্রদান করেছি, এতে আমার স্ত্রী উমরা আমাকে বলে যে, আমি যেন এ ব্যাপারে আপনাকে সাক্ষী রাখি।

রাবী নু’মান বলেন, একথা শুনে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ নু’মান ব্যতীত তোমার আর কোন পুত্র সন্তান আছে কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আরো সন্তান আছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তোমার প্রত্যেক ছেলেকে এরূপ প্রদান করেছ, যেমন নু’মানকে দিয়েছ? তিনি বলেনঃ না।

এ হাদীসের কোন কোন রাবী বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এতো যুলুম। আর কোন কোন রাবী বলেন, একথা শুনার পর নবী (ﷺ) বলেন, এতো নীতি বিরুদ্ধ প্ররোচনার কাজ। কাজেই, এ ব্যাপারে আমি ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী রাখ।

রাবী মুগীরা তাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি এটা পছন্দ কর না যে, তোমার সব ছেলেরা নেকী ও সৌভাগ্যশালী হওয়ার ব্যাপারে সমান হোক? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি এ ব্যাপারে আমি ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী রাখ। রাবী মুজালিদ (রাহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার উপর তাদের (সন্তানদের) এরূপ দাবী আছে যে, তুমি তাদের সকলের প্রতি ন্যায় বিচার করবে, যেমন তাদের উপর তোমার জন্য এ হক আছে যে, তারা সকলে তোমার সঙ্গে সদাচরণ করবে।
৩৫০৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ، قَالَ أَعْطَاهُ أَبُوهُ غُلاَمًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا هَذَا الْغُلاَمُ " . قَالَ غُلاَمِي أَعْطَانِيهِ أَبِي . قَالَ " فَكُلَّ إِخْوَتِكَ أَعْطَى كَمَا أَعْطَاكَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَارْدُدْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৫০৫. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর পিতা তাকে একটি গোলাম প্রদান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে উক্ত গোলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ এটি আমার গোলাম, যা আমার পিতা আমাকে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ তোমার পিতা তোমার সব ভাইকে কি এরূপ গোলাম দিয়েছে? আমি বলিঃ না। তখন তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি এ গোলাম ফিরিয়ে দাও।

৩৫০৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حَاجِبِ بْنِ الْمُفَضَّلِ بْنِ الْمُهَلَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ اعْدِلُوا بَيْنَ أَبْنَائِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৫০৬. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... হাজিব ইবনে মুফাযযাল তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ)-কে এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করবে, তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করবে।

৩৫০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَتِ امْرَأَةُ بَشِيرٍ انْحَلِ ابْنِي غُلاَمَكَ وَأَشْهِدْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ ابْنَةَ فُلاَنٍ سَأَلَتْنِي أَنْ أَنْحَلَ ابْنَهَا غُلاَمًا وَقَالَتْ لِي أَشْهِدْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ " لَهُ إِخْوَةٌ " . فَقَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَكُلَّهُمْ أَعْطَيْتَ مِثْلَ مَا أَعْطَيْتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَيْسَ يَصْلُحُ هَذَا وَإِنِّي لاَ أَشْهَدُ إِلاَّ عَلَى حَقٍّ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫০৭. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বাশির (রাযিঃ) এর স্ত্রী তাকে বলে যে, তুমি তোমার গোলামটি আমার ছেলে নু’মানকে দিয়ে দাও এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আমার পক্ষ হতে সাক্ষী রাখ। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ অমুক ব্যক্তির কন্যা আমার কাছে এরূপ আবেদন করছে যে, আমি যেন একটি গোলাম তার ছেলেকে প্রদান করি। আর সে আমাকে এরূপও বলেছে যে আমি যেন এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সাক্ষী রাখি।

তখন তিনি বলেনঃ তার কি আরো ভাই আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি সকলকে একটি করে গোলাম দিয়েছ, যেমন তাকে দিয়েছ? তিনি বলেনঃ না। তখন তিনি বলেনঃ এরূপ করা উচিত নয়। আর আমি তো ন্যায় ছাড়া অন্যায়ের সাক্ষী হতে পারি না।

৩৭৮. স্বামীর বিনা অনুমতিতে স্ত্রীর কিছু দান করা।

باب فِي عَطِيَّةِ الْمَرْأَةِ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا

৩৫০৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، وَحَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَجُوزُ لاِمْرَأَةٍ أَمْرٌ فِي مَالِهَا إِذَا مَلَكَ زَوْجُهَا عِصْمَتَهَا " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৫০৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর মাল হতে কিছু দান করা জায়েয নয়, যতক্ষণ না তার স্বামী তার সতীত্বের মালিক থাকে।

৩৫০৯

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَجُوزُ لاِمْرَأَةٍ عَطِيَّةٌ إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৫০৯. আবু কামিল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোকের জন্য তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে তার মাল হতে কাউকে কিছু দেওয়া জায়েয নয়।

৩৭৯. সারা জীবনের জন্য কিছু দান করা।

باب فِي الْعُمْرَى

৩৫১০

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعُمْرَى جَائِزَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৫১০. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সারা জীবনের জন্য কাউকে কিছু প্রদান করা জায়েয।

৩৫১১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৫১১. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) .... সামুরা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৫১২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " الْعُمْرَى لِمَنْ وُهِبَتْ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সারা জীবনের জন্য প্রদত্ত জিনিস তারই হবে, যাকে তা দেওয়া হয়।

৩৫১৩

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنِي الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أُعْمِرَ عُمْرَى فَهِيَ لَهُ وَلِعَقِبِهِ يَرِثُهَا مَنْ يَرِثُهُ مِنْ عَقِبِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৩. মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে সারা জীবনের জন্য কিছু দেওয়া হয়, সে তার মালিক। তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী যারা হবে, তারা এর মালিক হবে।

৩৫১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعُرْوَةَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৪. আহমদ ইবনে আবু হাওরী (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৮০. সারা জীবনের জন্য কাউকে কিছু দেওয়ার সময় দাতা যদি পরবর্তীতে তার ওয়ারিছের কথা উল্লেখ করে।

باب مَنْ قَالَ فِيهِ وَلِعَقِبِهِ

৩৫১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَنَسٍ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ أُعْمِرَ عُمْرَى لَهُ وَلِعَقِبِهِ فَإِنَّهَا لِلَّذِي يُعْطَاهَا لاَ تَرْجِعُ إِلَى الَّذِي أَعْطَاهَا لأَنَّهُ أَعْطَى عَطَاءً وَقَعَتْ فِيهِ الْمَوَارِيثُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি সারা জীবনের জন্য কাউকে কিছু প্রদান করে বলে যে, আমি এই বস্তু সারা জীবনের জন্য এবং তোমার ওয়ারিছদের দিলাম, তবে এর মালিক সেই হবে, যাকে তা দেয়া হবে। সে বস্তু ফেরত নেয়া যাবে না। কেননা, সে ব্যক্তি তা এভাবে প্রদান করেছে, যাতে উত্তরাধিকার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

৩৫১৬

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عُقَيْلٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَاخْتُلِفَ، عَلَى الأَوْزَاعِيِّ فِي لَفْظِهِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَرَوَاهُ، فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ مِثْلَ حَدِيثِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩৫১৬. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়া’কূব (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৫১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّمَا الْعُمْرَى الَّتِي أَجَازَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُولَ هِيَ لَكَ وَلِعَقِبِكَ . فَأَمَّا إِذَا قَالَ هِيَ لَكَ مَا عِشْتَ . فَإِنَّهَا تَرْجِعُ إِلَى صَاحِبِهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাকে সারা জীবনের জন্য দিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুমতি দিয়েছেন, তা এরূপ যে, সে বলবেঃ এ আমি তোমাকে এবং তোমার ওয়ারিছদের প্রদান করছি। কিন্তু যখন কেবল বলবেঃ আমি এ বস্তু তোমাকে প্রদান করছি ততদিনের জন্য, যতদিন তুমি জীবিত থাকবে। সে ব্যক্তির মৃত্যুর পর, তা তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।

৩৫১৮

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُرْقِبُوا وَلاَ تُعْمِرُوا فَمَنْ أُرْقِبَ شَيْئًا أَوْ أُعُمِرَهُ فَهُوَ لِوَرَثَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৮. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাউকে কিছু দান করার সময় এরূপ বলবে না যে, তোমার জীবিতাবস্থায় এ তুমি ভোগ করবে। আমার মৃত্যু আগে হলে এ তোমার হবে, আর তোমার মৃত্যু হলে এ আমার নিকট ফিরে আসবে। অথবা এ আমি তোমাকে তোমার জীবিতাবস্থার জন্য দান করলাম। এরূপ বলে যে ব্যক্তি কোন জিনিস কোন ব্যক্তিকে প্রদান করে, তখন তা তার ওয়ারিছদের জন্য হয়ে যায়।

৩৫১৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي ثَابِتٍ - عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ طَارِقٍ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي امْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ أَعْطَاهَا ابْنُهَا حَدِيقَةً مِنْ نَخْلٍ فَمَاتَتْ فَقَالَ ابْنُهَا إِنَّمَا أَعْطَيْتُهَا حَيَاتَهَا . وَلَهُ إِخْوَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ لَهَا حَيَاتَهَا وَمَوْتَهَا " . قَالَ كُنْتُ تَصَدَّقْتُ بِهَا عَلَيْهَا . قَالَ " ذَلِكَ أَبْعَدُ لَكَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫১৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক আনসার রমণীর ব্যাপারে ফয়সালা করেন, যার পুত্র তাকে একটি খেজুরের বাগান প্রদান করেছিল। সে মহিলার মৃত্যুর পর তার ছেলে বলেঃ আমি তো এ বাগান তাঁর জীবিত থাকাকালীন সময়ের জন্য দিয়েছিলাম; আর সে ব্যক্তির আরো ভাই ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ বাগানটি সে মহিলার, তার জীবিত থাকা এবং মারা যাওয়া, উভয় অবস্থায়। তখন সে (ছেলে) বলেঃ আমি তাকে এটি সাদ্‌কা স্বরূপ দিয়েছিলাম। নবী (ﷺ) বলেনঃ এখন এটি তোমার থেকে দূরে সরে গেছে (অর্থাৎ তুমি আর তা ফেরত পাবে না।)

৩৮১. দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে কেউ মারা গেলে, জীবিত ব্যক্তি তা ভোগ করার শর্ত সাপেক্ষে কাউকে কিছু দান করা।

باب فِي الرُّقْبَى

৩৫২০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم " الْعُمْرَى جَائِزَةٌ لأَهْلِهَا وَالرُّقْبَى جَائِزَةٌ لأَهْلِهَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫২০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জীবদ্দশায় ভোগের জন্য প্রদত্ত জিনিস মৃত্যুর পর তার পরিবারের জন্য বৈধ হয়ে যায় এবং জীবিত থাকাকালীন সময়ের জন্য প্রদত্ত জিনিসও তার পরিবারের জন্য বৈধ হয়ে যায়, যাকে তা প্রদান করা হয়।

৩৫২১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَعْقِلٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ حُجْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْمَرَ شَيْئًا فَهُوَ لِمُعْمَرِهِ مَحْيَاهُ وَمَمَاتَهُ وَلاَ تُرْقِبُوا فَمَنْ أَرْقَبَ شَيئًا فَهُوَ سَبِيلُهُ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৫২১. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাউকে তার সারা জীবনের জন্য কিছু প্রদান করে, তবে তা সে ব্যক্তির হয়ে যায়। তার জীবিত থাকাবস্থায় ঐ বস্তু যেমন তার থাকে, তেমনি তার মৃত্যুর পরেও থাকে। আর তোমরা রোকবার শর্ত আরোপ করবে না। কেননা, কোন ব্যক্তি যদি কাউকে সারা জীবনের জন্য কিছু দেয়, তবে তা তার-ই হয়ে যায়।

৩৫২২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ الْعُمْرَى أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ هُوَ لَكَ مَا عِشْتَ فَإِذَا قَالَ ذَلِكَ فَهُوَ لَهُ وَلِوَرَثَتِهِ وَالرُّقْبَى هُوَ أَنْ يَقُولَ الإِنْسَانُ هُوَ لِلآخِرِ مِنِّي وَمِنْكَ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৩৫২২. আব্দুল্লাহ ইবনে জাররা (রাহঃ) .... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমরা বা সারা জীবনের জন্য দেওয়ার অর্থ হলো, যেমন কোন ব্যক্তি কাউকে বলে যে, যতদিন তুমি জীবিত থাকবে, এটি তোমার। যখন কেউ এরূপ বলে, তখন ঐ বস্তু তার হয়ে যায় এবং পরে তার ওয়ারিছদের হয়ে যায়। আর রোকবার অর্থ হলো, কোন ব্যক্তি কাউকে কিছু দিয়ে বলে যে, যদি আমার পরে তোমার মুত্যু হয়, তবে এ জিনিস তোমার; অন্যথায় আমি তা ফিরিয়ে নেব।

৩৮২. ধার হিসাবে গৃহীত বস্তুর ক্ষতিপূরণের যিম্মাদারী।

باب فِي تَضْمِينِ الْعَارِيَةِ

৩৫২৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَ " . ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ فَقَالَ هُوَ أَمِينُكَ لاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৫২৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হাত দিয়ে গৃহীত বস্তুর যিম্মাদারী ততক্ষণ থাকবে, যতক্ষণ না তা আদায় করা হবে। এর রাবী হাসান হাদীসটি ভুলে যান এবং পরে বলেনঃ যাকে তুমি কিছু প্রদান করবে, সে তার আমানতদার হবে। (আর যদি তা অনিচ্ছা সত্ত্বে নষ্ট হয়ে যায়), তবে এতে তার কোন দায়-দায়িত্ব থাকবে না।

৩৫২৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعَارَ مِنْهُ أَدْرَاعًا يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ أَغَصْبٌ يَا مُحَمَّدُ فَقَالَ " لاَ بَلْ عَارِيَةٌ مَضْمُونَةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذِهِ رِوَايَةُ يَزِيدَ بِبَغْدَادَ وَفِي رِوَايَتِهِ بِوَاسِطَ تَغَيُّرٌ عَلَى غَيْرِ هَذَا .

বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ)

৩৫২৪. হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... উমাইয়্যা ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নিকট হতে হুনায়নের যুদ্ধের সময় কয়েকটি লৌহবর্ম ধার হিসাবে গ্রহণ করেন। তখন সাফওয়ান জিজ্ঞাসা করেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি এ জোর পূর্বক নিতেছেন? তিনি বলেনঃ না, বরং ধার হিসাবে নিচ্ছি, এর কোন ক্ষতি হলে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

৩৫২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ آلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا صَفْوَانُ هَلْ عِنْدَكَ مِنْ سِلاَحٍ " . قَالَ عَارِيَةً أَمْ غَصْبًا قَالَ " لاَ بَلْ عَارِيَةً " . فَأَعَارَهُ مَا بَيْنَ الثَّلاَثِينَ إِلَى الأَرْبَعِينَ دِرْعًا وَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُنَيْنًا فَلَمَّا هُزِمَ الْمُشْرِكُونَ جُمِعَتْ دُرُوعُ صَفْوَانَ فَفَقَدَ مِنْهَا أَدْرَاعًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَفْوَانَ " إِنَّا قَدْ فَقَدْنَا مِنْ أَدْرَاعِكَ أَدْرَاعًا فَهَلْ نَغْرَمُ لَكَ " . قَالَ لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لأَنَّ فِي قَلْبِي الْيَوْمَ مَا لَمْ يَكُنْ يَوْمَئِذٍ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَكَانَ أَعَارَهُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ، ثُمَّ أَسْلَمَ» ،

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫২৫. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাযিঃ) এর বংশধরদের কেউ বলেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে সাফওয়ান! তোমার কাছে কি কোন অস্ত্র-শস্ত্র আছে? সে জিজ্ঞাসা করেঃ আপনি কি তা জোর পূর্বক নিতে চান, না ধার হিসাবে? তিনি বলেনঃ না, বরং ধার হিসাবে নিতে চাই। তখন সাফওয়ান তাঁকে ত্রিশ থেকে চল্লিশটি লৌহবর্ম ধার হিসাবে প্রদান করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়নের যুদ্ধে গমন করেন। এ যুদ্ধে মুশরিকরা পরাজিত হওয়ার পর সাফওয়ানের লৌহবর্মগুলো একত্রিত করে দেখা যায় যে, কয়েকটি লৌহবর্ম হারিয়ে গেছে। তখন নবী (ﷺ) সাফওয়ানকে বলেনঃ তোমার কয়েকটি বর্ম হারিয়ে গেছে, আমরা কি তোমাকে এর ক্ষতিপূরণ দেব? সে বলে না, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেননা, আজ আমার মনের অবস্থা যেমন, সেদিন তেমন ছিল না।

৩৫২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ نَاسٍ، مِنْ آلِ صَفْوَانَ قَالَ اسْتَعَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৫২৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সাফওয়ান (রাযিঃ)-এর বংশধরদের কেউ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ নবী (ﷺ) ধার হিসাবে লৌহবর্ম গ্রহণ করেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩৫২৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ وَلاَ تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الطَّعَامَ قَالَ " ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا " . ثُمَّ قَالَ " الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩৫২৭. আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা হকদার ব্যক্তিকে পূর্ণ হক প্রদান করেছেন। কাজেই এখন ওয়ারিছদের জন্য ওসীয়ত করা ঠিক নয়। কোন স্ত্রী যেন তার ঘরের কোন জিনিস, তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে খরচ না করে। তখন তাঁকে কেউ জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্য-দ্রব্যও নয় কি? তিনি বলেনঃ খাদ্য-দ্রব্যই তো আমাদের মালের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ। এরপর তিনি বলেনঃ ধার হিসাবে যা গ্রহণ করা হয়, তা পরিশোধ করতে হবে। দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান করা শেষ হলে তা ফেরত দিতে হবে, দেনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে এবং কেউ যদি কোন জিনিসের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে তাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

৩৫২৮

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُسْتَمِرِّ الْعُصْفُرِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَتْكَ رُسُلِي فَأَعْطِهِمْ ثَلاَثِينَ دِرْعًا وَثَلاَثِينَ بَعِيرًا " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعَارِيَةً مَضْمُونَةً أَوْ عَارِيَةً مُؤَدَّاةً قَالَ " بَلْ مُؤَدَّاةً " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «حَبَّانُ خَالُ هِلَالٍ الرَّائِيِّ»

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

৩৫২৮. ইবরাহীম (রাহঃ) .... সাফওয়ান ইবনে ইয়া’লা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ যখন আমার দূত তোমার কাছে আসবে, তখন তুমি তাকে ত্রিশটি বর্ম এবং ত্রিশটি উট প্রদান করবে। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি এরূপ ধার চাচ্ছেন, যার ক্ষতিপূরণ দেবেন, অথবা এরূপ আর, যা মালিককে পরে ফেরত দেবেন? তিনি বলেনঃ এ ধরনের ধার, যা মালিককে আবার ফেরত দেওয়া হয়।

৩৮৩. কারো কোন জিনিস নষ্ট করলে অনুরূপ ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

باب فِيمَنْ أَفْسَدَ شَيْئًا يَغْرَمُ مِثْلَهُ

৩৫২৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ مَعَ خَادِمِهَا بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ قَالَ فَضَرَبَتْ بِيَدِهَا فَكَسَرَتِ الْقَصْعَةَ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى - فَأَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ إِحْدَاهُمَا إِلَى الأُخْرَى فَجَعَلَ يَجْمَعُ فِيهَا الطَّعَامَ وَيَقُولُ " غَارَتْ أُمُّكُمْ " . زَادَ ابْنُ الْمُثَنَّى " كُلُوا " . فَأَكَلُوا حَتَّى جَاءَتْ قَصْعَتُهَا الَّتِي فِي بَيْتِهَا ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى لَفْظِ حَدِيثِ مُسَدَّدٍ وَقَالَ " كُلُوا " . وَحَبَسَ الرَّسُولَ وَالْقَصْعَةَ حَتَّى فَرَغُوا فَدَفَعَ الْقَصْعَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الرَّسُولِ وَحَبَسَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৫২৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন এক স্ত্রীর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তখন অপর একজন উম্মুহাতুল মু’মিনীন তাঁর এক খাদিমের হাতে একটি পাত্রে কিছু খাদ্যবস্তু প্রেরণ করেন, যা তাঁর হাত দিয়ে আঘাত করে ভেঙ্গে দেন।

রাবী ইবনে মুছান্না (রাহঃ) বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) ভাঙ্গা পেয়ালার দু’টি অংশ উঠিয়ে নেন এবং এর একটি অংশ অপরটির সাথে মিশ্রিত করেন এবং তার মধ্যে পতিত খাদ্য-বস্তু জমা করতে থাকেন এবং পরে বলেনঃ তোমাদের মাতা রাগান্বিত হয়েছে।

রাবী ইবনে মুছান্না (রাহঃ) আরো বলেন, এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা খাদ্য গ্রহগ কর। তখন সকলে খেতে শুরু করে। এ সময় সে স্ত্রীর ঘর হতেও খাবার আসে, যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেনঃ এগুলোও খাও। এরপর নবী (ﷺ) সে খাদিমকে বিলম্ব করতে বলেন এবং পেয়ালাটিও রেখে দেন। পরে যখন সকলের খাওয়া শেষ হয়, তখন তিনি ভাল পেয়ালাটি উক্ত খাদিমকে প্রদান করেন এবং ভাঙ্গা পেয়ালাটি তাঁর ঘরে রেখে দেন।
৩৫৩০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي فُلَيْتٌ الْعَامِرِيُّ، عَنْ جَسْرَةَ بِنْتِ دِجَاجَةَ، قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها مَا رَأَيْتُ صَانِعًا طَعَامًا مِثْلَ صَفِيَّةَ صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا فَبَعَثَتْ بِهِ فَأَخَذَنِي أَفْكَلٌ فَكَسَرْتُ الإِنَاءَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كَفَّارَةُ مَا صَنَعْتُ قَالَ " إِنَاءٌ مِثْلُ إِنَاءٍ وَطَعَامٌ مِثْلُ طَعَامٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৫৩০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... জাসরা বিনতে দাজাজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি সাফিয়ার ন্যায় আর কাউকে উত্তম খানা পাকাতে দেখিনি। একদা তিনি খানা পাকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রেরণ করেন, যাতে আমি রাগান্বিত হই এবং পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলি। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যা করেছি, এর কাফফারা কি? তখন তিনি বলেনঃ পাত্রের বিনিময়ে এরূপ পাত্র এবং খানার বিনিময়ে এরূপ খানা।

৩৮৪. লোকজনের ফসল নষ্টকারী পশু সম্পর্কে।

باب الْمَوَاشِي تُفْسِدُ زَرْعَ قَوْمٍ

৩৫৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَرَامِ بْنِ مُحَيِّصَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ نَاقَةً، لِلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ دَخَلَتْ حَائِطَ رَجُلٍ فَأَفْسَدَتْهُ عَلَيْهِمْ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ الأَمْوَالِ حِفْظَهَا بِالنَّهَارِ وَعَلَى أَهْلِ الْمَوَاشِي حِفْظَهَا بِاللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩৫৩১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... হারাম ইবনে মুহায়্যাসা (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ)-এর উট জনৈক ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করে তা বিনষ্ট করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফয়সালা এরূপ করেন যে, দিনের বেলা মালের মালিক তার মালের হিফাযত করবে এবং রাতের বেলা পশুর মালিক তার পশুর রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

৩৫৩২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَرَامِ بْنِ مُحَيِّصَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَتْ لَهُ نَاقَةٌ ضَارِيَةٌ فَدَخَلَتْ حَائِطًا فَأَفْسَدَتْ فِيهِ فَكُلِّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا فَقَضَى أَنَّ حِفْظَ الْحَوَائِطِ بِالنَّهَارِ عَلَى أَهْلِهَا وَأَنَّ حِفْظَ الْمَاشِيَةِ بِاللَّيْلِ عَلَى أَهْلِهَا وَأَنَّ عَلَى أَهْلِ الْمَاشِيَةِ مَا أَصَابَتْ مَاشِيَتُهُمْ بِاللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩৫৩২. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তার একটি মোটা-তাজা উট ছিল, যা একদা জনৈক ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করে তা নষ্ট করে দেয়। এরপর বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি এরূপ ফয়সালা দেনঃ দিনের বেলা বাগানের মালিক তার বাগানের হিফাযত করবে এবং রাতের বেলা পশুর মালিক তার পশুর রক্ষণা-বেক্ষণ করবে। আর রাতের বেলা যদি কারো পশু অন্যের কোন ক্ষতি করে, তবে পশুর মালিক এর ক্ষতিপূরণ দেবে।