أول كتاب العلم

২০. ইলমের অধ্যায়

অধ্যায় ২০ · ২৬ টি হাদীস

৪১৫. ইলমের ফযীলত সম্পর্কে।

باب الْحَثِّ عَلَى طَلَبِ الْعِلْمِ

৩৬০২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنِّي جِئْتُكَ مِنْ مَدِينَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم لِحَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا جِئْتُ لِحَاجَةٍ . قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৬০২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... কাছীর ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি দামেশকের মসজিদে আবু দারদা (রাযিঃ) এর নিকট বসে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলেঃ হে আবু দারদা! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শহর মদীনা থেকে আপনার নিকট একটা হাদীস শোনার জন্য এসেছি। আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি উক্ত হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। এছাড়া আর কোন কারণে আমি এখানে আসিনি।

তখন আবু দারদা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ইলম (কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান) হাসিলের জন্য কোন রাস্তা অতিক্রম করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের রাস্তাসমূহের মধ্যে একটি রাস্তা অতিক্রম করান। আর ফিরিশতারা তালেবে-ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন এবং আলিমের জন্য আসমান ও যমীনের সব কিছুই মাগফিরাত কামনা করে, এমনকি পানিতে বসবাসকারী মাছও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আর আবিদের উপর আলিমের ফযীলত এরূপ, যেরূপ পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ফযীলত সমস্ত তারকারাজির উপর। আর আলিমগণ হলেন, নবীদের ওয়ারিছ, এবং নবীগণ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) মীরাছ হিসাবে রেখে যান না, বরং তাঁরা রেখে যান-ইলম। কাজেই যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করলো, সে প্রচুর সম্পদের মালিক হলো।
৩৬০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَزِيرِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ لَقِيتُ شَبِيبَ بْنَ شَيْبَةَ فَحَدَّثَنِي بِهِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، - يَعْنِي عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم -

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৬০৩. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াযীর (রাহঃ) ..... উসমান ইবনে আবু সাওদা (রাহঃ) আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে নবী (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩৬০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ رَجُلٍ يَسْلُكُ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا إِلاَّ سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقَ الْجَنَّةِ وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬০৪. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার জন্য কোন রাস্তা অতিক্রম করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন। আর যে ব্যক্তির আমল তাকে পেছনে ফেলে রাখবে, তার বংশ-গরিমা তাকে এগিয়ে দেবে না।

৪১৬. আহলে-কিতাবদের হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে।

باب رِوَايَةِ حَدِيثِ أَهْلِ الْكِتَابِ

৩৬০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي نَمْلَةَ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ مُرَّ بِجَنَازَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَتَكَلَّمُ هَذِهِ الْجَنَازَةُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُ أَعْلَمُ " . فَقَالَ الْيَهُودِيُّ إِنَّهَا تَتَكَلَّمُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا حَدَّثَكُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ فَلاَ تُصَدِّقُوهُمْ وَلاَ تُكَذِّبُوهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ فَإِنْ كَانَ بَاطِلاً لَمْ تُصَدِّقُوهُ وَإِنْ كَانَ حَقًّا لَمْ تُكَذِّبُوهُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৬০৫. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আবু নামলা আনসারী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসেছিলেন এবং একজন ইয়াহুদীও তাঁর পাশে বসে ছিল। এ সময় একটি জানাযা অতিক্রম করতে থাকলে সে জিজ্ঞাসা করেঃ হে মুহাম্মাদ! এ লাশ কি কথা বলতে পারে! তিনি বলেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ অধিক অবগত। এরপর ইয়াহুদী বলেঃ সে তো কথা বলে, কিন্তু দুনিয়াবাসীরা তা বুঝতে পারে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিতাবধারী লোকেরা তোমাদের নিকট যা বলে, তাকে তোমরা সত্যও বলবে না এবং মিথ্যাও বলবে না, বরং তোমরা বলবেঃ আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি। এমতাবস্থায় যদি ঐ কথাগুলো মিথ্যা হয়, তবে তোমাদের তা সত্য বলে বিশ্বাস করা হবে না, আর যদি তার কথা সত্য হয়, তবে তোমাদের অবিশ্বাস করা হবে না।

৩৬০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ - قَالَ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَعَلَّمْتُ لَهُ كِتَابَ يَهُودَ وَقَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ مَا آمَنُ يَهُودَ عَلَى كِتَابِي " . فَتَعَلَّمْتُهُ فَلَمْ يَمُرَّ بِي إِلاَّ نِصْفُ شَهْرٍ حَتَّى حَذَقْتُهُ فَكُنْتُ أَكْتُبُ لَهُ إِذَا كَتَبَ وَأَقْرَأُ لَهُ إِذَا كُتِبَ إِلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৬০৬. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ইয়াহুদীদের লেখা শেখার জন্য নির্দেশ দেন। আমি তাঁর হুকুম মত ইয়াহুদীদের লেখা-পড়া শিখি। এরপর তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! ইয়াহুদীদের ব্যাপারে আমার কোন আস্থা নেই যে, তারা আমার ব্যাপারে সঠিক তথ্য পরিবেশন করবে। সুতরাং আমি তাদের লেখা শিখি এবং মাসের অর্ধেক শেষ হওয়ার আগেই বুঝতে ও পড়তে সক্ষম হই। এরপর নবী (ﷺ) যখন যা লিখাতেন, তখন আমি তা লিখে দিতাম। আর যখন তাঁর কাছে কোন চিঠি লেখা হতো, তখন আমি তা পড়ে দিতাম।

৪১৭. ইলম লিপিবদ্ধ করা সম্পর্কে।

باب فِي كِتَابَةِ الْعِلْمِ

৩৬০৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُغِيثٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَىْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ حِفْظَهُ فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ وَقَالُوا أَتَكْتُبُ كُلَّ شَىْءٍ تَسْمَعُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا فَأَمْسَكْتُ عَنِ الْكِتَابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَوْمَأَ بِأُصْبُعِهِ إِلَى فِيهِ فَقَالَ " اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا يَخْرُجُ مِنْهُ إِلاَّ حَقٌّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৬০৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যা কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে শ্রবণ করতাম, তা লিখে রাখতাম। আমি ইচ্ছা করতাম যে, আমি এর সবই সংরক্ষণ করি। কিন্তু কুরাইশরা আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করে এবং বলেঃ তুমি যা কিছু শোন তার সবই লিখে রাখ, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন মানুষ, তিনি তো কোন সময় রাগান্বিত অবস্থায় কথাবার্তা বলেন এবং খুশীর অবস্থায়ও বলেন। একথা শুনে আমি লেখা বন্ধ করি এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করি। তখন তিনি তার আঙ্গুল দিয়ে নিজের মুখের প্রতি ইাশারা করে বলেনঃ তুমি লিখতে থাক, ঐ যাতের কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন, যা কিছু এ মুখ হতে বের হয়, তা সবই সত্য।

৩৬০৮
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، قَالَ دَخَلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثٍ، فَأَمَرَ إِنْسَانًا يَكْتُبُهُ فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا أَنْ لاَ نَكْتُبَ شَيْئًا مِنْ حَدِيثِهِ فَمَحَاهُ .

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنِ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: مَا كُنَّا نَكْتُبُ غَيْرَ التَّشَهُّدِ، وَالْقُرْآنِ

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، ح وحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا فُتِحَتْ مَكَّةُ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَ الْخُطْبَةَ خُطْبَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ: أَبُو شَاهَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اكْتُبُوا لِي، فَقَالَ: اكْتُبُوا لِأَبِي شَاهَ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي عَمْرٍو مَا يَكْتُبُوهُ، قَالَ: الْخُطْبَةَ الَّتِي سَمِعَهَا يَوْمَئِذٍ مِنْهُ

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৬০৮. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... মুত্তালিব ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে হানতাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে একটি হাদীস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সে হাদীসটি লিখে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ দেখে যায়দ (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন তার কোন হাদীস লিপিবদ্ধ না করি। আর যা কিছু লেখা হয়েছিল, তিনি তার সবই মুছে দেন।[১]

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেনঃ আমরা তাশাহুদ ও আল-কুরআন ছাড়া আর কিছু লিখতাম না।

আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয় হলে নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন। অতঃপর আবু হুরাইরাহ (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর ভাষণ উল্লেখ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবু শাহ নামক ইয়ামেনের এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা আমাকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিন। তিনি বললেনঃ তোমরা আবু শাহকে লিখে দাও।

আল-ওয়ালীদ (রহঃ) বলেন, আমি আবু আমর (রহঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, তারা কি লিখেছেন? তিনি বললেন, সে সময় তিনি তাঁর যে ভাষণ শুনেছিলেন তা

[১] সম্ভবতঃ এটি ইসলামের প্রথম যুগের ঘটনা, যখন লেখার চাইতে মুখস্থ করার প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হতো। এছাড়া তখন কুরআন নাযিল হতে থাকার কারণে, যাতে কুরআনের সংগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীসের কেন অংশ মিশ্রিত না হয়ে যায়, সে জন্য সাবধানতা অবলম্বন হেতু রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরূপ নির্দেশ প্রদান করেন। পরে এ নির্দেশ জারী ছিল না (অনুবাদক)।

৪১৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে কোন মিথ্যা কথা বলার কঠোর পরিণতি।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي الْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

৩৬০৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ بَيَانِ بْنِ بِشْرٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ أَبُو بِشْرٍ - عَنْ وَبَرَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ لِلزُّبَيْرِ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تُحَدِّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يُحَدِّثُ عَنْهُ أَصْحَابُهُ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ لِي مِنْهُ وَجْهٌ وَمَنْزِلَةٌ وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ " مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৩৬০৯. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি যে, কোন জিনিস আপনাকে বাধা দেয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে, যেমন তাঁর পক্ষ হতে আপনার অন্য সাথীরা হাদীস বর্ণনা করে থাকেন? তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আমার বিশেষ ধরনের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু একদা আমি তাঁকে এরূপ বলতে শুনিঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (একারণেই সতর্কতা হেতু আমি কম হাদীস বর্ণনা করি।)

৪১৯. কুরআন না বুঝে তাফসীর করলে।

باب الْكَلاَمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ

৩৬১০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُقْرِئُ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ مِهْرَانَ، - أَخُو حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ - حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ، عَنْ جُنْدُبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِرَأْيِهِ فَأَصَابَ فَقَدْ أَخْطَأَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাযি

৩৬১০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের রায় অনুযায়ী আল্লাহর কিতাবের তাফসীর করে, আর সে যদি তার বর্ণনায় সঠিকও হয়, তবু সে ভুল করলো।[১]

[১] কুরআনের তাফসীর নিজের ইচ্ছানাযায়ী করা আদৌ উচিত নয়, বরং এ ব্যাপারে সাহাবা ও তাবেয়ীনদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। কেননা, কুরআনের যে ব্যাখ্যা তাঁরা পেশ করেছেন, তা সরাসরি বা মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) হতে গ্রহণ করেছেন, যা সঠিক ব্যাখ্যা। এছাড়া যারা নিজের জ্ঞান অনুযায়ী কুরআনের তাফসীর বর্ণনা করে, তা সত্যতার দিক দিয়ে পূর্বোক্ত বর্ণনার সমান হতে পারে না। (অনুবাদক)

৪২০. একটি হাদীস বারবার বর্ণনা করা।

باب تَكْرِيرِ الْحَدِيثِ

৩৬১১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَقِيلٍ، هَاشِمِ بْنِ بِلاَلٍ عَنْ سَابِقِ بْنِ نَاجِيَةَ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ رَجُلٍ، خَدَمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا حَدَّثَ حَدِيثًا أَعَادَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৬১১. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ...... আবু সালাম (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জনৈক খাদিম হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) যখন কোন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি তা তিনবার উল্লেখ করতেন।

৪২১. দ্রুত হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে।

باب فِي سَرْدِ الْحَدِيثِ

৩৬১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ جَلَسَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - وَهِيَ تُصَلِّي فَجَعَلَ يَقُولُ اسْمَعِي يَا رَبَّةَ الْحُجْرَةِ مَرَّتَيْنِ . فَلَمَّا قَضَتْ صَلاَتَهَا قَالَتْ أَلاَ تَعْجَبُ إِلَى هَذَا وَحَدِيثِهِ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُحَدِّثُ الْحَدِيثَ لَوْ شَاءَ الْعَادُّ أَنْ يُحْصِيَهُ أَحْصَاهُ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩৬১২. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-এর হুজরার নিকট বসে ছিলেন এবং এ সময় আয়িশা (রাযিঃ) নামাযরত ছিলেন। এ সময় বলছিলেনঃ হে হুজরার বাসিন্দারা, শ্রবণ করুন! তিনি দু’বার এরূপ বলেন। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তুমি কি তার কথার উপর আশ্চর্য হবে না! (তিনি আরো বলেনঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কথা বলতেন, তখন যদি কেউ তা গণনা করতে ইচ্ছা করতো, তবে সে তা গণনা করতে পারতো।

৩৬১৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَلاَ يُعْجِبُكَ أَبُو هُرَيْرَةَ جَاءَ فَجَلَسَ إِلَى جَانِبِ حُجْرَتِي يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْمِعُنِي ذَلِكَ وَكُنْتُ أُسَبِّحُ فَقَامَ قَبْلَ أَنْ أَقْضِيَ سُبْحَتِي وَلَوْ أَدْرَكْتُهُ لَرَدَدْتُ عَلَيْهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ يَسْرُدُ الْحَدِيثَ مِثْلَ سَرْدِكُمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬১৩. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) একদা উরওয়া (রাহঃ)-কে বলেনঃ আবু হুরায়রার আচরণে তুমি কি আশ্চর্য হবে না? সে আমার হুজরার নিকটবর্তী হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস আমাকে শোনাতে চেয়েছিল, আর এ সময় আমি নামাযরত ছিলাম। আমার নামায শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সে দাঁড়িয়ে ছিল। যদি আমি তাকে পেতাম, তবে বলতামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার ন্যায় দ্রুত কথা বলতেন না; (বরং আস্তে আস্তে বলতেন, যাতে সকলে তা বুঝতে পারে।)

৪২২. ফতোয়া দেওয়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা।

باب التَّوَقِّي فِي الْفُتْيَا

৩৬১৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْغَلُوطَاتِ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৩৬১৪. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) কাউকে ধোঁকায় ফেলতে নিষেধ করেছেন।

৩৬১৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أَيُّوبَ - عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَفْتَى بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬১৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি না জেনে ফতোয়া দেবে, তার গুনাহ মুফতীর উপর বর্তাবে।

৩৬১৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي نُعَيْمَةَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ الطُّنْبُذِيِّ - رَضِيعِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ - قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أُفْتِيَ بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ " . زَادَ سُلَيْمَانُ الْمَهْرِيُّ فِي حَدِيثِهِ " وَمَنْ أَشَارَ عَلَى أَخِيهِ بِأَمْرٍ يَعْلَمُ أَنَّ الرُّشْدَ فِي غَيْرِهِ فَقَدْ خَانَهُ " . وَهَذَا لَفْظُ سُلَيْمَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬১৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি না জেনে ফতোয়া দেবে, তার গুনাহ মুফতীর উপর বর্তাবে।

রাবী সুলাইমান মিহরী (রাহঃ) তার বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাইকে জেনে-শুনে কোন ক্ষতির পরামর্শ দিল, সে যেন খিয়ানত করলো।

৪২৩. জ্ঞানের বিষয় গোপন করলে।

باب كَرَاهِيَةِ مَنْعِ الْعِلْمِ

৩৬১৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أَلْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬১৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে কোন ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, আর সে জানা সত্ত্বেও তা না বলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার মুখে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।

৪২৪. ইলম প্রচারের ফযীলত সস্পর্কে।

باب فَضْلِ نَشْرِ الْعِلْمِ

৩৬১৮

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ وَيُسْمَعُ مِمَّنْ سَمِعَ مِنْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬১৮. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার নিকট হতে শ্রবণ কর এবং লেকেরা তোমাদের নিকট হতে শ্রবণ করবে। আর যারা তোমাদের নিকট হতে শ্রবণ করবে তাদের নিকট হতে অন্য লোকেরা শ্রবণ করবে।

৩৬১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، - مِنْ وَلَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩৬১৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তিকে সুখে-শান্তিতে রাখুন, যে আমার কথা শোনার পর তা স্মরণ রাখে এবং অন্য লোকের নিকট পৌছে দেয়। বস্তুত ফিকাহ তত্ত্ববিদ একে অপরের চাইতে বিচক্ষণ। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা প্রকৃতপক্ষে ফকীহ নন।

৩৬২০

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَاللَّهِ لأَنْ يُهْدَى بِهُدَاكَ رَجْلٌ وَاحِدٌ خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৩৬২০. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! তোমার হিদায়াতের কারণে যদি একটা লোকও সত্য পথের পথিক হয়, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উটের চাইতেও উত্তম।

৪২৫. বনু ইসরাঈলের নিকট হতে কাহিনী বর্ণনা।

باب الْحَدِيثِ عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ

৩৬২১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلاَ حَرَجَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬২১. আবু বকর আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে কাহিনী বর্ণনা করবে। কেননা, এতে কোন গুনাহ নেই।

৩৬২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُنَا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ حَتَّى يُصْبِحَ مَا يَقُومُ إِلاَّ إِلَى عُظْمِ صَلاَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৬২২. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আমাদের নিকট বনী ইসরাঈলের ঘটনা বর্ণনা করতেন, এমন কি এতে সকাল হয়ে যেত। এরপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের জন্য উঠতেন।

৪২৬. গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে ইলমে দীন শিক্ষা করা।

باب فِي طَلَبِ الْعِلْمِ لِغَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى

৩৬২৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ أَبِي طُوَالَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَتَعَلَّمُهُ إِلاَّ لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . يَعْنِي رِيحَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬২৩. আবু বকর ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইলমকে দুনিয়া লাভের আশায় অর্জন করলো, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জান্নাতের খোশবু পাবে না।

৪২৭. কিসসা বর্ণনা প্রসঙ্গে।

باب فِي الْقَصَصِ

৩৬২৪

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، حَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْخَوَّاصُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَقُصُّ إِلاَّ أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ " .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬২৪. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আওফ ইবনে মালিক আশজায়ী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ নেতা, উপ-নেতা বা দাম্ভিক ধোঁকাবাজ লোক ছাড়া আর কেউ-ই কিসসা-কাহিনী বর্ণনা করে না।[১]

[১] নেতা তার প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রকাশের জন্য : উপ-নেতা-নেতাকে খুশী করার জন্য এবং ধোঁকাবাজ তার স্বার্থ সিদ্ধি জন্য সত্য-মিথ্যা বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন। বর্তমানে তথাকথিত 'আলিম নামধারী এক ধরনের বক্তা আজগবী কিস্সা-কাহিনী বর্ণনা করে ওয়াজের মাহফিল গরম করে থাকে এবং এভাবে নিজেদের হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করে। থাকে। এ হাদীস থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। (অনুবাদক)
৩৬২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ بَشِيرٍ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتِرُ بِبَعْضٍ مِنَ الْعُرْىِ وَقَارِئٌ يَقْرَأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَكَتَ الْقَارِئُ فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ " مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَ قَارِئٌ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَهُمْ " . قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَطَنَا لِيَعْدِلَ بِنَفْسِهِ فِينَا ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَتَحَلَّقُوا وَبَرَزَتْ وُجُوهُهُمْ لَهُ - قَالَ - فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ النَّاسِ بِنِصْفِ يَوْمٍ وَذَاكَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৬২৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি একদল গরীব মুহাজিরের মাঝে বসা ছিলাম, আর এ সময় তারা একে অন্যের আশ্রয় নিয়ে তার উন্মুক্ত সতর ঢাকার চেষ্টা করছিল। তখন একজন ক্বারী আমাদের কুরআন পাঠ করে শুনাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়ান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়ানোর কারণে ক্বারী কিরা’আত পাঠ করা বন্ধ করে দেয়। এরপর তিনি সালাম করে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি করছিলে? আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি হলেন কারী, আমরা তার নিকট হতে কুরআন পাঠ শুনছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোকদের পয়দা করেছেন, যাদের সঙ্গে জুড়ে (মিলে) থাকতে আমাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাবী বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রকাশের জন্য আমাদের মাঝে বসে পড়েন। এরপর তিনি তাঁর হাতের ইশারায় সকলকে গোলাকার হয়ে বসতে বলেন। পরে সকলে হালকা করে বসলে সকলের চেহারা নবী (ﷺ)-এর দিকে হয়।

রাবী বলেনঃ আমার জানামতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্য হতে আমাকে ব্যতীত আর কাউকে চিনতে পারেন নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে ফকীর মুহাজির দল! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর কিয়ামতের দিন পূর্ণ আলো পাওয়ার। তোমরা ধনী-ব্যক্তিদের অর্ধ-দিন আগেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর সে অর্ধ-দিন হবে পাঁচশ বছরের সমান।
৩৬২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ السَّلاَمِ، - يَعْنِي ابْنَ مُطَهَّرٍ أَبُو ظَفَرٍ - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَلَفٍ الْعَمِّيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَعَالَى مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬২৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি সেই কওমের (লোকদের) সাথে বসতে আগ্রহী, যারা ফজরের নামায আদায়ের পর, সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত আল্লাহর যিক্‌র করে থাকে। এ আমার কাছে ইসমাঈলের সন্তান থেকে চারজন গোলাম আযাদ করার চাইতেও অধিক প্রিয়। আর আমি সেই লোকদের সাথে বসতে চাই, যারা আসরের নামায আদায়ের পর সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিক্‌রে মশগুল থাকে। এ আমার কাছে চারজন গোলাম আযাদ করার চাইতেও অধিক উত্তম।

৩৬২৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَأْ عَلَىَّ سُورَةَ النِّسَاءِ " . قَالَ قُلْتُ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ " إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي " . قَالَ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا انْتَهَيْتُ إِلَى قَوْلِهِ ( فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ ) الآيَةَ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا عَيْنَاهُ تَهْمِلاَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৬২৭. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি আমার সামনে সূরা নিসা তিলাওয়াত কর। তখন আমি বলিঃ আমি তিলাওয়াত করব, অথচ এতো আপনার উপর নাযিল হয়েছে! নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি অন্যের নিকট হতে তা শুনতে পছন্দ করি। এরপর তিলাওয়াত করতে করতে আমি যখন এ আয়াতে পৌছিঃ সে সময়ের অবস্থা কিরূপ হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন সাক্ষী পেশ করবো ..... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর আমি মাথা উঁছু করে দেখতে পাই যে, নবী (ﷺ)-এর দুটি চোখ হতে অশ্রু ঝরে পড়ছে।