أبواب العتق

২৪. গোলাম আযাদ করা সম্পর্কিত

অধ্যায় ২৪ · ৪৩ টি হাদীস

১. মুকাতিব (মুক্তিপণ -দাতা) দাস সম্পর্কে, যে তার মুক্তিপণের কিছু আদায়ের পর অসামর্থ হয় অথবা মারা যায়।

باب فِي الْمُكَاتَبِ يُؤَدِّي بَعْضَ كِتَابَتِهِ فَيَعْجِزُ أَوْ يَمُوتُ

৩৮৮৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عُتْبَةَ، إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُكَاتَبُ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ مُكَاتَبَتِهِ دِرْهَمٌ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৮৮৫. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়েব (রাহঃ) তাঁর পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত মুকাতিব দাসের উপর তাঁর মুক্তিপণের একটি দিরহামও বাকী থাকবে, ততক্ষণ সে দাস-ই থাকবে।

৩৮৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا عَبْدٍ كَاتَبَ عَلَى مِائَةِ أُوقِيَّةٍ فَأَدَّاهَا إِلاَّ عَشْرَةَ أَوَاقٍ فَهُوَ عَبْدٌ وَأَيُّمَا عَبْدٍ كَاتَبَ عَلَى مِائَةِ دِينَارٍ فَأَدَّاهَا إِلاَّ عَشْرَةَ دَنَانِيرَ فَهُوَ عَبْدٌ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৮৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছানা (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়েব (রাহঃ) তাঁর পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুকাতিব দাস একশত উকিয়ার বিনিময়ে মুক্তির জন্য মনিবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে, সে নব্বই উকিয়া পরিশোধ করা সত্ত্বেও দাস-ই থাকবে। আর যে দাস একশত দীনারের বিনিময়ে মুক্তির জন্য মনিবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে, সে যদি নব্বই দীনার পরিশোধ করে, তবুও সে দাস-ই থাকবে।

৩৮৮৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَبْهَانَ، مُكَاتَبِ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كَانَ لإِحْدَاكُنَّ مُكَاتَبٌ فَكَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي فَلْتَحْتَجِبْ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৮৮৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর মুকাতিব দাস নাবহান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেন, যখন তোমাদের কারো কোন মুকাতিব দাসের নিকট তাঁর বিনিময়ের জন্য দেয় চুক্তির টাকা মওজুদ থাকবে, তখন তাঁর থেকে পর্দা করবে।

২. মুকাতিব দাসের চুক্তিভঙ্গ হওয়ার পর তা বিক্রি সম্পর্কে।

باب فِي بَيْعِ الْمُكَاتَبِ إِذَا فُسِخَتِ الْكِتَابَةُ

৩৮৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ عَائِشَةَ تَسْتَعِينُهَا فِي كِتَابَتِهَا وَلَمْ تَكُنْ قَضَتْ مِنْ كِتَابَتِهَا شَيْئًا فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ ارْجِعِي إِلَى أَهْلِكِ فَإِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَقْضِيَ عَنْكِ كِتَابَتَكِ وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي فَعَلْتُ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا وَقَالُوا إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكِ فَلْتَفْعَلْ وَيَكُونَ لَنَا وَلاَؤُكِ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ابْتَاعِي فَأَعْتِقِي فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ " . ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا بَالُ أُنَاسٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ وَإِنْ شَرَطَهُ مِائَةَ مَرَّةٍ شَرْطُ اللَّهِ أَحَقُّ وَأَوْثَقُ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৩৮৮৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদা বারীরা তার (আয়িশার) কাছে এসে তাঁর মুক্তিপণের টাকার জন্য সাহায্য চায়। আর তখনও তিনি তার মুক্তির জন্য কোন টাকা আদায় করেননি। তখন আয়িশা (রাযিঃ) তাকে বলেনঃ তুমি তোমার মনিবের কাছে জিজ্ঞাসা কর, যদি তিনি মানেন যে, তোমার মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর, তুমি মারা গেলে তোমার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক আমি হব, তবে আমি তোমরা দেয়া সমস্ত টাকা পরিশোধ করে দেব।

তখন বারীরা (রাযিঃ) তাঁর মনিবের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে, তারা তা মানতে অস্বীকার করে এবং বলেঃ যদি আয়িশা (রাযিঃ) তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য করতে চান, করতে পারেনঃ কিন্তু তোমার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা হবে আমাদের। তখন তিনি এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আলোচনা করলে, তিনি বলেনঃ তুমি তাঁকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। কেননা, যে মুক্ত করে, দাসের পরিত্যাক্ত সম্পদ তারই। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ লোকদের কি হয়েছে যে, তারা এরূপ শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। আর তারা যদি এরূপ শর্ত আরোপ করে, যার উল্লেখ কুরআনে নেই, তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য, যদি একশতবার করা হয়। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সত্য ও মজবুত।
৩৮৮৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ جَاءَتْ بَرِيرَةُ لِتَسْتَعِينَ فِي كِتَابَتِهَا فَقَالَتْ إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ فَأَعِينِينِي . فَقَالَتْ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا عَدَّةً وَاحِدَةً وَأُعْتِقَكِ وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي فَعَلْتُ . فَذَهَبَتْ إِلَى أَهْلِهَا وَسَاقَ الْحَدِيثَ نَحْوَ الزُّهْرِيِّ زَادَ فِي كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي آخِرِهِ " مَا بَالُ رِجَالٍ يَقُولُ أَحَدُهُمْ أَعْتِقْ يَا فُلاَنُ وَالْوَلاَءُ لِي إِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৮৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা বারীরা (রাযিঃ) তাঁর মুক্তিপণের টাকার সাহায্যের জন্য এসে বলে যে, আমার মনিব আমার সাথে নয় ওকিয়ার বিনিময়ে মক্তিদানের লক্ষ্যে এরূপ চুক্তি করেছেন যে, আমি প্রতি বছর এক উকিয়া পরিশোধ করবে। কাজেই, এব্যাপারে আপনি আমায় সাহায্য করুন। তখন আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমার মনিব রাযী হলে আমি তোমার দেয়া সমস্ত টাকা এক সাথে পরিশোধ করে দেব, তবে শর্ত হলো, তোমার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা হবে আমার। তখন বারীরা (রাযিঃ) এ ব্যাপারে তাঁর মনিবের সাথে আলোচনা করেন।

রাবী, যুহরী (রাহঃ) হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং শেষে এরূপ বলেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ লোকদের কি হয়েছে যে, তারা অন্যকে বলে মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য, আর সে নিজেই তার পরিত্যাক্ত সম্পদের দাবী করে! বস্তুত দাসের পরিত্যাক্ত সম্পদের মালিক সে, যে তাকে মুক্ত করে।
৩৮৯০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ وَقَعَتْ جُوَيْرِيَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ بْنِ الْمُصْطَلِقِ فِي سَهْمِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ أَوِ ابْنِ عَمٍّ لَهُ فَكَاتَبَتْ عَلَى نَفْسِهَا وَكَانَتِ امْرَأَةً مَلاَّحَةً تَأْخُذُهَا الْعَيْنُ - قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها - فَجَاءَتْ تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كِتَابَتِهَا فَلَمَّا قَامَتْ عَلَى الْبَابِ فَرَأَيْتُهَا كَرِهْتُ مَكَانَهَا وَعَرَفْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَيَرَى مِنْهَا مِثْلَ الَّذِي رَأَيْتُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا جُوَيْرِيَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ وَإِنَّمَا كَانَ مِنْ أَمْرِي مَا لاَ يَخْفَى عَلَيْكَ وَإِنِّي وَقَعْتُ فِي سَهْمِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَإِنِّي كَاتَبْتُ عَلَى نَفْسِي فَجِئْتُكَ أَسْأَلُكَ فِي كِتَابَتِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَهَلْ لَكِ إِلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ " . قَالَتْ وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " أُؤَدِّي عَنْكِ كِتَابَتَكِ وَأَتَزَوَّجُكِ " . قَالَتْ قَدْ فَعَلْتُ قَالَتْ فَتَسَامَعَ - تَعْنِي النَّاسَ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ تَزَوَّجَ جُوَيْرِيَةَ فَأَرْسَلُوا مَا فِي أَيْدِيهِمْ مِنَ السَّبْىِ فَأَعْتَقُوهُمْ وَقَالُوا أَصْهَارُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْنَا امْرَأَةً كَانَتْ أَعْظَمَ بَرَكَةً عَلَى قَوْمِهَا مِنْهَا أُعْتِقَ فِي سَبَبِهَا مِائَةُ أَهْلِ بَيْتٍ مِنْ بَنِي الْمُصْطَلِقِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حُجَّةٌ فِي أَنَّ الْوَلِيَّ هُوَ يُزَوِّجُ نَفْسَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৯০. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জুয়ায়রিয়া বিনতে হারিছ ইবনে মুসতালিক, ছাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমাম (রাযিঃ), অথবা তাঁর চাচাতো ভাইয়ের অংশে (যুদ্ধ বন্দী হিসাবে) পড়েন। তিনি নিজেকে মুকাতিব দাসী হিসাবে সাব্যস্ত করেন তিনি একজন সুন্দরী, সুশ্রী রমণী ছিলেন, যা প্রত্যেকের জন্য আকর্ষণীয় ছিল। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তার মুক্তিপণের টাকার জন্য আবেদন করার উদ্দেশ্যে আসেন। তিনি যখন দরজার কাছে এসে দাঁড়ান, তখন তাকে দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। কেননা আমার মনে হচ্ছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সে সৌন্দর্য দেখবেন, যা আমি দেখেছি। তখন জুয়ায়রিয়া বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জুয়ায়রিয়া বিনতে হারিছ। আর আমার ব্যাপারটি আপনার কাছে গোপন নয়।

আমি (যুদ্ধ বন্দী হিসাবে) ছাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমামের ভাগে পড়েছি, আর আমি তাঁকে মুক্তিপণ দিয়ে বন্ধনমুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এজন্য আমি আমার মুক্তিপণের টাকার প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি এর চাইতে উত্তম কোন ব্যাপারে সম্মত আছো? সে বলে তা কি ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, আমি তোমার পক্ষ হতে তোমার যাবতীয় মুক্তিপণ আদায় করে দেব এবং তোমাকে বিয়ে করবো।

তখন জুয়ায়রিয়া বলেন, আমি এতে রাযী আছি। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, লোকেরা যখন শুনলো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুয়ায়রিয়াকে বিয়ে করেছেন, তখন তাদের হাতে বনু মুসতালিকের যত বন্দী ছিল, সকলকে মুক্ত করে দেয় এবং তারা বলেন এরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শ্বশুর বংশের লোক। (আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ) আমি তাঁর চাইতে ভাগ্যবতী আর কাউকে দেখিনি, যার কারণে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা এত উপকৃত হয়েছে! কেননা, তাঁর জন্যই বনু মুসতালিকের একশত বন্দী মুক্তি পায়।

৩. কোন শর্তে গোলাম আযাদ করা সম্পর্কে।

باب فِي الْعِتْقِ عَلَى الشَّرْطِ

৩৮৯১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ كُنْتُ مَمْلُوكًا لأُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ أُعْتِقُكَ وَأَشْتَرِطُ عَلَيْكَ أَنْ تَخْدُمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا عِشْتَ . فَقُلْتُ إِنْ لَمْ تَشْتَرِطِي عَلَىَّ مَا فَارَقْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا عِشْتُ فَأَعْتَقَتْنِي وَاشْتَرَطَتْ عَلَىَّ .

বর্ণনাকারী: সাফীনা (রাঃ)

৩৮৯১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সাফীনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উম্মু সালাম (রাযিঃ) এর ক্রীতদাস ছিলাম। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে এ শর্তে আযাদ করছি যে, তুমি আজীবন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাত করবে। তখন আমি বলিঃ যদি আপনি এরূপ শর্তে আরোপ নাও করেন, তবুও আমি যতদিন জীবিত থাকবো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমাত হতে বিরত থাকবো না। পরে তিনি এ শর্তে আমাকে আযাদ করে দেন।

৪. ক্রীতদাস মালিকানায় শরীকদারদের অংশ- বিশেষ আযাদ করা।

باب فِيمَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا لَهُ مِنْ مَمْلُوكٍ

৩৮৯২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، - الْمَعْنَى - أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، - قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ مِنْ غُلاَمٍ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَيْسَ لِلَّهِ شَرِيكٌ " . زَادَ ابْنُ كَثِيرٍ فِي حَدِيثِهِ فَأَجَازَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِتْقَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৮৯২. আবুল ওয়ালীদ তিয়ালিসী (রাহঃ) .... আবুল ওয়ালীদ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা জনৈক ব্যক্তি কোন ক্রীতদাসকে তাঁর অংশের আযাদ ঘোষণা করেন। এরপর সে নবী (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি বলেনঃ আল্লাহর কোন শরীক নেই।*

ইবনে কাছীর (রাহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, তখন নবী (ﷺ) সে দাসকে পূর্ণরূপে আযাদ করে দেওয়ার অনুমতি দেন।

* অর্থাৎ সন্তুষ্টি লাভের জন্য ইবাদত পর্যায়ের যে কাজ হবে, তাতে অন্যের শরীকানা যেন না থাকে -(অনুবাদক)
৩৮৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ مِنْ غُلاَمٍ فَأَجَازَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِتْقَهُ وَغَرَّمَهُ بَقِيَّةَ ثَمَنِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি যৌথ গোলামের স্বীয় অংশ আযাদ করে দেয়। তখন নবী (ﷺ) তাকে সম্পূর্ণরূপে আযাদ করার নির্দেশ দেন এবং আযাদকারী ব্যক্তি হতে অন্য শরীকের টাকা আদায় করে দেন।

৩৮৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ آخَرَ فَعَلَيْهِ خَلاَصُهُ " . وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ سُوَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) উক্ত সনদের আলোকে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যক্তি কোন যৌথ-মালিকানার দাসের (স্বীয় অংশ) আযাদ করবে, তাঁর উপর তাকে পর্ণূরূপে আযাদ করা কর্তব্য। এটি ইবনে সুওয়েদের বর্ণনা।

৩৮৯৫

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا لَهُ فِي مَمْلُوكٍ عَتَقَ مِنْ مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ " . وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ الْمُثَنَّى النَّضْرَ بْنَ أَنَسٍ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ سُوَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৩৮৯৫. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) উক্ত সনদের আলোকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ-মালিকানার দাসের (স্বীয় অংশ) আযাদ করবে, তার জন্য কর্তব্য যে, সে তার মাল দিয়ে তার বাকী অংশ আযাদ করে দেবে, যদি মাল থাকে।

৫. দাসের কিছু অংশ আযাদ হওয়ার পর, তাকে দিয়ে কাজ-কর্ম করানো সম্পর্কে।

باب مَنْ ذَكَرَ السِّعَايَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ

৩৮৯৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، - يَعْنِي الْعَطَّارَ - حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا فِي مَمْلُوكِهِ فَعَلَيْهِ أَنْ يُعْتِقَهُ كُلَّهُ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ وَإِلاَّ اسْتُسْعِيَ الْعَبْدُ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৯৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ-মালিকানাধীন গোলামের (স্বীয় অংশ) আযাদ করবে, তার উপর সে গোলামকে পর্ণূরূপে আযাদ করে দেওয়া কর্তব্য। অবশ্য সে যদি মালদার হয়। আর যদি সে মালদার না হয়, তবে সে গোলামকে কাজ-কর্ম করে অর্জিত মালের দ্বারা তার (মুক্তির জন্য) বাকী অংশের টাকা পরিশোধ করতে বলবে। অবশ্য এরূপ তখন করতে হবে, যখন তাঁর কষ্ট হবে না।

৩৮৯৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ - أَوْ شَقِيصًا لَهُ - فِي مَمْلُوكٍ فَخَلاَصُهُ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ الْعَبْدُ قِيمَةَ عَدْلٍ ثُمَّ اسْتُسْعِيَ لِصَاحِبِهِ فِي قِيمَتِهِ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِهِمَا جَمِيعًا " فَاسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৯৭. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি যৌথ-মালিকানাধীন দাসের (স্বীয় অংশ) আযাদ করবে, সে মালদার হলে, তার উপর তাকে পর্ণূরূপে আযাদ করা কর্তব্য। আর যদি তার মাল না থাকে, তবে ইনসাফের সাথে গোলামের মূল্য ধার্য করে, দাসের পরিশ্রমলদ্ধ আয়ের দ্বারা তা পরিশোধ করতে বলতে হবে, যাতে তাঁর কোন কষ্ট না হয়।

৩৮৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، لَمْ يَذْكُرِ السِّعَايَةَ وَرَوَاهُ جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ وَمُوسَى بْنُ خَلَفٍ جَمِيعًا عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ وَمَعْنَاهُ وَذَكَرَا فِيهِ السِّعَايَةَ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে আবি আরূবা (রহঃ)

৩৮৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... সাঈদ (রাহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) রাওহ ইবনে উবাদা, তিনি সাঈদ ইবনে আবু উরওয়া (রাযিঃ) হতে যে হাদিছটি বর্ণনা করেছেন, তাতে السِّعَايَةَ বা ‘পরিশ্রম’ শব্দটির উল্লেখ নেই।

পক্ষান্তরে জারীর ইবনে হাযিম ও মুসা ইবনে খালফ একত্রে আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে যুরাফ থেকে উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে السِّعَايَةَ শব্দটি উল্লেখ আছে।

৬. যদি গোলামের মাল না থাকে , তবে তাকে খাটানো যাবে না- এ সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ رَوَى أَنَّهُ، لاَ يَسْتَسْعِي

৩৮৯৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي مَمْلُوكٍ أُقِيمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَأُعْتِقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " . .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৮৯৯. কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যৌথ গোলামের মালিকানায় (স্বীয় অংশ) আযাদ করে দেবে, তার উচিত গোলামের জন্য ইনসাফ ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের পর, সে ব্যক্তি তার বাকী অংশের মূল্য অন্য মালিককে পরিশোধ করে দেবে এবং নিজেই সে গোলামকে আযাদ করে দেবে। আর আযাদকারী ব্যক্তি যদি মালদার না হয়, তবে সে যতটুকু আযাদ করবে, গোলাম ততটুকু আযাদ থাকবে।

৩৯০০

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ وَكَانَ نَافِعٌ رُبَّمَا قَالَ " فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " . وَرُبَّمَا لَمْ يَقُلْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০০. মুআম্মাল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, নাফি’ (রাহঃ) কোন কোন সময় এরূপ বর্ণনা করতেন যে, গোলামের যতটুকু আযাদ করা হবে, সে ততটুকু আযাদ থাকবে, আর কখনো কখনো তিনি এর উল্লেখ করতেন না।

৩৯০১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ أَيُّوبُ فَلاَ أَدْرِي هُوَ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ شَىْءٌ قَالَهُ نَافِعٌ وَإِلاَّ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০১. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব (রাহঃ) বলেনঃ আমি জানি না 'সে যতটুকু আযাদ করেছে, ততটুকু আযাদ থাকবে’ এটি হাদীসের অংশ কিনা। আর এটি নবী (ﷺ) এর হাদীস না নাফি’ বর্ণনা করেছেন, তাও জানি না।

৩৯০২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا مِنْ مَمْلُوكٍ لَهُ فَعَلَيْهِ عِتْقُهُ كُلُّهُ إِنْ كَانَ لَهُ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ عَتَقَ نَصِيبُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০২. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তাঁর যৌথ- মালিকানাধীন গোলামের (স্বীয় অংশ) আযাদ করবে, তার উপর কর্তব্য হলো তার বাকী অংশও আযাদ করে দেওয়া; যদি সে মালদার হয় এবং বাকী অংশের মূল্য পরিশোধে সক্ষম হয়। অন্যথায় তাঁর আযাদকৃত অংশই মুক্ত থাকবে।

৩৯০৩

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُوسَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে উপরোক্ত হাদীস ইবরাহীম ইবনে মুসার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৯০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى مَالِكٍ وَلَمْ يَذْكُرْ " وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " . انْتَهَى حَدِيثُهُ إِلَى " وَأُعْتِقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ " . عَلَى مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস মালিকের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাতে وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَوَأُعْتِقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ ‘গোলাম তাকে আযাদ করতে হবে’, এর উল্লেখ আছে।

৩৯০৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ عَتَقَ مِنْهُ مَا بَقِيَ فِي مَالِهِ إِذَا كَانَ لَهُ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার যৌথ-মালিকানাধীন গোলামের (স্বীয় অংশ) আযাদ করে দেবে, যদি সে মালদার হয়, তবে তার জন্য ঐ গোলামের বাকী অংশের অর্থ পরিশোধ করে, তাকে পূর্ণরূপে মুক্ত করা কর্তব্য।

৩৯০৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ الْعَبْدُ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَأَعْتَقَ أَحَدُهُمَا نَصِيبَهُ فَإِنْ كَانَ مُوسِرًا يُقَوَّمُ عَلَيْهِ قِيمَةً لاَ وَكْسَ وَلاَ شَطَطَ ثُمَّ يُعْتَقُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯০৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন গোলাম দু’জনের মালিকানাধীন থাকবে এবং তাদের একজন তাঁকে আযাদ করে দেবে। আযাদকারী ব্যক্তি যদি মালদার হয়, তবে ঐ গোলামের সঠিক মূল্য ধার্য করে, যা বেশী-কম হবে না, অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে তাতে আযাদ করতে হবে।

৩৯০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ الْعَنْبَرِيِّ، عَنِ ابْنِ التَّلِبِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ نَصِيبًا لَهُ مِنْ مَمْلُوكٍ فَلَمْ يُضَمِّنْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَحْمَدُ إِنَّمَا هُوَ بِالتَّاءِ - يَعْنِي التَّلِبَّ - وَكَانَ شُعْبَةُ أَلْثَغَ لَمْ يُبَيِّنِ التَّاءَ مِنَ الثَّاءِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৯০৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে ছালাব (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা কোন এক ব্যক্তি যৌথ-মালিকানাধীন গোলামের (স্বীয় অংশ) আযাদ করে দিলে নবী (ﷺ) তাঁর নিকট হতে বাকী অংশের মুক্তিপণ আদায় করেন নি।

৭. কোন নিকট আত্মীয়ের মালিক হলে।

باب فِيمَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ

৩৯০৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (وَقَالَ مُوسَى فِي مَوْضِعٍ آخَرَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ فِيمَا يَحْسِبُ حَمَّادٌ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ") مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَهُوَ حُرٌّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৯০৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... সামুরা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ যদি কেউ তাঁর এমন কোন নিকটাত্মীয়ের মালিক হয়ে যায়, যার সাথে বিবাহ বৈধ নয়, তবে সে আযাদ হয়ে যাবে।

৩৯০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - قَالَ مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَهُوَ حُرٌّ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৯০৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি কেউ তাঁর এমন কোন নিকটাত্মীয়ের মালিক হয়, যার সাথে বিবাহ বৈধ নয়, সে আযাদ হয়ে যাবে।

৩৯১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَهُوَ حُرٌّ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৩৯১০. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... হাসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার এমন কোন নিকটাত্মীয়ের মালিক হবে, যার সাথে বিবাহ বৈধ নয়, সে আযাদ হয়ে যাবে।

৩৯১১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، وَالْحَسَنِ، مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৩৯১১. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে যায়দ ও হাসান (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

৮. উম্মু-ওয়ালাদের* আযাদ হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي عِتْقِ أُمَّهَاتِ الأَوْلاَدِ

৩৯১২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ خَطَّابِ بْنِ صَالِحٍ، مَوْلَى الأَنْصَارِيِّ عَنْ أُمِّهِ، عَنْ سَلاَمَةَ بِنْتِ مَعْقِلٍ، - امْرَأَةٍ مِنْ خَارِجَةِ قَيْسِ عَيْلاَنَ - قَالَتْ قَدِمَ بِي عَمِّي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَبَاعَنِي مِنَ الْحُبَابِ بْنِ عَمْرٍو أَخِي أَبِي الْيَسَرِ بْنِ عَمْرٍو فَوَلَدْتُ لَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحُبَابِ ثُمَّ هَلَكَ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ الآنَ وَاللَّهِ تُبَاعِينَ فِي دَيْنِهِ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ مِنْ خَارِجَةِ قَيْسِ عَيْلاَنَ قَدِمَ بِي عَمِّي الْمَدِينَةَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَبَاعَنِي مِنَ الْحُبَابِ بْنِ عَمْرٍو أَخِي أَبِي الْيَسَرِ بْنِ عَمْرٍو فَوَلَدْتُ لَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحُبَابِ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ الآنَ وَاللَّهِ تُبَاعِينَ فِي دَيْنِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَلِيُّ الْحُبَابِ " . قِيلَ أَخُوهُ أَبُو الْيَسَرِ بْنُ عَمْرٍو فَبَعَثَ إِلَيْهِ فَقَالَ " أَعْتِقُوهَا فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِرَقِيقٍ قَدِمَ عَلَىَّ فَأْتُونِي أُعَوِّضْكُمْ مِنْهَا " . قَالَتْ فَأَعْتَقُونِي وَقَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَقِيقٌ فَعَوَّضَهُمْ مِنِّي غُلاَمًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৯১২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) .... সালামা বিনতে মা’আকাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিনি খারিজা কায়স গায়লান গোত্রের মহিলা ছিলেন। তিনি বলেনঃ জাহিলী যুগে আমার চাচা আমাকে হুবাব ইবনে আমরের (যিনি আবু ইয়াসার ইবনে আমরের ভাই ছিলেন) নিকট বিক্রি করেন। আমার গর্ভে আব্দুর রহমান হুবাবের একটি পুত্র জন্ম নেয়, যার নাম, আব্দুর রহমান ইবনে হুবাব। হুবাবের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী আমাকে বলেঃ আল্লাহর শপথ! এখন তোমাকে হুবাবের দেনার জন্য বিক্রি করা হবে।

তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি খারিজা গায়লান গোত্রের একজন মহিলা। জাহিলী যুগে আমার চাচা আমাকে মদীনায় নিয়ে এসে আবু ইয়াসার ইবনে আমরের ভাই, হুবাব ইবনে আমরের নিকট বিক্রি করেন। আমার গর্ভে হুবাবের পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে হুবাব জন্ম নিয়েছে। এখন হুবাবের স্ত্রী আমাকে বলছেঃ আল্লাহর শপথ! হুবাবের দেনার জন্য এখন তোমাকে বিক্রি করা হবে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ হুবাবের উত্তরাধিকারী কে? বলা হয়ঃ আবু ইয়াসার ইবনে আমার। তিনি তাঁকে বলেনঃ তুমি সালামাকে আযাদ করে দাও। আর তুমি যখন শুনবে যে, আমার কাছে দাস-দাসী এসেছে, তখন তুমি আসবে; আমি তোমাকে আর বিনিময় দিয়ে দেব। সালামা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন তারা আমাকে আযাদ করে দেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যখন দাস-দাসী আসে, তখন তিনি আমার বিনিময়ে তাঁকে একটি গোলাম প্রদান করেন।

* উম্মে-ওয়ালাদ’ ঐ দাসীকে বলা হয়, যার গর্ভে মনিবের সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান হওয়ার পর ঐ দাসীকে বিক্রি বা দান করা মালিকের জন্য উচিত নয়। বরং মনিব যতদিন জীবিত থাকবে, সে ততদিন তার খিদমতে নিয়োজিত থাকবে। আর মনিব মারা গেলে, সে আযাদ হয়ে যাবে। কোন সন্তানের মালিকানায় যাবে না। - (অনুবাদক)

৮. উম্মু-ওয়ালাদের আযাদ হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي عِتْقِ أُمَّهَاتِ الأَوْلاَدِ

৩৯১৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بِعْنَا أُمَّهَاتِ الأَوْلاَدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ نَهَانَا فَانْتَهَيْنَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) এর যুগে উম্মু-ওয়ালাদ’ কে বিক্রি করতাম। পরে উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে তিনি আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন।

৯. মুদাব্বির* গোলাম বিক্রি সম্পর্কে।

باب فِي بَيْعِ الْمُدَبَّرِ

৩৯১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَبِيعَ بِسَبْعِمِائَةٍ أَوْ بِتِسْعِمِائَةٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯১৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃতুর পর তার গোলাম আযাদ হওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ঐ গোলাম ছাড়া তার আর কোন সম্পদ ছিল না। তখন নবী (ﷺ) তাকে ঐ গোলাম বিক্রি করার নির্দেশ দেন। তখন সে তাকে সাত শ’ বা নয় শ’ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে।

* মুদাব্বির ঐ গোলামকে বলা হয়, যার মালিক তাঁকে বলেঃ আমার মৃত্যুর পর তুমি আযাদ - অনুবাদক

৯. মুদাব্বির গোলাম বিক্রি সম্পর্কে।

باب فِي بَيْعِ الْمُدَبَّرِ

৩৯১৫

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، بِهَذَا زَادَ وَقَالَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - " أَنْتَ أَحَقُّ بِثَمَنِهِ وَاللَّهُ أَغْنَى عَنْهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯১৫. জা’ফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) উক্ত হাদীসের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমিই এ গোলামের মূল্য গ্রহণের অধিক হকদার এবং আল্লাহ এ থেকে অমুখাপেক্ষী।

৩৯১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو مَذْكُورٍ أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ يُقَالُ لَهُ يَعْقُوبُ عَنْ دُبُرٍ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَدَعَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِيهِ " . فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّحَّامِ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فَقِيرًا فَلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ فَإِنْ كَانَ فِيهَا فَضْلٌ فَعَلَى عِيَالِهِ فَإِنْ كَانَ فِيهَا فَضْلٌ فَعَلَى ذِي قَرَابَتِهِ " . أَوْ قَالَ " عَلَى ذِي رَحِمِهِ فَإِنْ كَانَ فَضْلاً فَهَا هُنَا وَهَا هُنَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯১৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু মাজকূর নামক একজন আনসার তার মৃত্যুর পর ইয়াকুব নামক একজন গোলাম আযাদের ঘোষণা দেন। কিন্তু ঐ গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে গোলামকে হাযির করে বলেনঃ একে কে খরিদ করবে? তখন নুআয়ম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নাহহাম তাকে আটশত দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করেন। তখন তিনি ঐ অর্থ সে আনসার সাহাবীকে দিয়ে বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন গরীব হবে তখন সে যেন নিজের জন্য খরচ করা শুরু করে। নিজের প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও যদি সম্পদ থেকে যায়, তখন তা নিজের পরিবার-পরিজনদের জন্য খরচ করবে। এরপরও যদি উদ্ধৃত্ত থাকে তখন এভাবে ওভাবে খরচ করবে।

১০. যে ব্যক্তি এক-তৃতীয়াংশের কমে গোলাম আযাদ করে- তার সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ أَعْتَقَ عَبِيدًا لَهُ لَمْ يَبْلُغْهُمُ الثُّلُثُ

৩৯১৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ سِتَّةَ أَعْبُدٍ عِنْدَ مَوْتِهِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ قَوْلاً شَدِيدًا ثُمَّ دَعَاهُمْ فَجَزَّأَهُمْ ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ وَأَرَقَّ أَرْبَعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৯১৭. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময় ছয়টি গোলাম আযাদ করে এবং সে ব্যক্তির কাছে ঐ ছয়টি গোলাম ব্যতীত আর কোন সম্পদ ছিল না। এ সংবাদ নবী (ﷺ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাকে খুবই ভর্ৎসনা করেন। এরপর তিনি সে গোলামদের একত্রিত করে তিন ভাগে বিভক্ত করেন এবং তাদের মধ্যে লটারী করে দু’জনকে আযাদ করে দেন এবং অবশিষ্ট চারজনকে গোলাম হিসাবে বহাল রাখেন।

৩৯১৮

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُخْتَارِ - حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَلَمْ يَقُلْ فَقَالَ لَهُ قَوْلاً شَدِيدًا .

বর্ণনাকারী: আবু কিলাবা (রহঃ)

৩৯১৮. আবু কামিল (রাহঃ) .... আবু কিলাবা (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে এর উল্লেখ নেই যে তিনি তাকে খুবই ভর্ৎসনা করেন।

৩৯১৯

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - هُوَ الطَّحَّانُ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ بِمَعْنَاهُ وَقَالَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - " لَوْ شَهِدْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُدْفَنَ لَمْ يُدْفَنْ فِي مَقَابِرِ الْمُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৯১৯. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) .... আবু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি জনৈক আনসার ব্যক্তির ছয়টি গোলাম আযাদ করার প্রসঙ্গে এ হাদীস উল্লেখ করে বলেন যে, নবী (ﷺ) (তার সম্পর্কে) বলেনঃ যদি তার দাফনের পূর্বে আমি উপস্থিত হতাম তবে তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা হতো না।

৩৯২০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ، وَأَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ سِتَّةَ أَعْبُدٍ عِنْدَ مَوْتِهِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ وَأَرَقَّ أَرْبَعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৯২০. মুসাদ্দা (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুকালে তার ছয়টি গোলাম আযাদ করে দেয় এবং এ ছয়টি গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। এ খবর নবী (ﷺ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি গোলামদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করেন এবং দু’জনকে আযাদ করেন এবং বাকী চারজনকে গোলামীতে বহাল রাখেন।

১১. যে ব্যক্তি কোন মালদার গোলাম আযাদ করে।

باب فِيمَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ

৩৯২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُ الْعَبْدِ لَهُ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَهُ السَّيِّدُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯২১. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মালদার গোলামকে আযাদ করে দেবে, সে ঐ গোলামের মালের মালিক হবে যদি মালিক এরূপ শর্ত করে-তবে।

১২. জারয সন্তানের মুক্তি সম্পর্কে।

باب فِي عِتْقِ وَلَدِ الزِّنَا

৩৯২২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَلَدُ الزِّنَا شَرُّ الثَّلاَثَةِ " . وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لأَنْ أُمَتِّعَ بِسَوْطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أَعْتِقَ وَلَدَ زِنْيَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯২২. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ব্যভিচারের ফলে সৃষ্ট সন্তান তিন দিক দিয়েই নিকৃষ্ট (অর্থাৎ তার বাপ, মা ও সম্পর্ক)। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আরো বলেনঃ যদি আমি আল্লাহর রাস্তায় কাউকে একটা চাবুকও মারতে পারি তবে তা আমার নিকট ‘জারয সন্তানকে’ আযাদ করার চাইতে উত্তম।

১৩.গোলাম আযাদের সাওয়াব সম্পর্কে।

باب فِي ثَوَابِ الْعِتْقِ

৩৯২৩

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنِ الْغَرِيفِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، قَالَ أَتَيْنَا وَاثِلَةَ بْنَ الأَسْقَعِ فَقُلْنَا لَهُ حَدِّثْنَا حَدِيثًا، لَيْسَ فِيهِ زِيَادَةٌ وَلاَ نُقْصَانٌ فَغَضِبَ وَقَالَ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَقْرَأُ وَمُصْحَفُهُ مُعَلَّقٌ فِي بَيْتِهِ فَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ . قُلْنَا إِنَّمَا أَرَدْنَا حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَاحِبٍ لَنَا أَوْجَبَ - يَعْنِي - النَّارَ بِالْقَتْلِ فَقَالَ " أَعْتِقُوا عَنْهُ يُعْتِقِ اللَّهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنْهُ مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: ওয়াছিলা ইবনে আসকা‘ (রাঃ)

৩৯২৩. ঈসা ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আরীফ ইবনে দায়লামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা অসিলা ইবনে আসকা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, আপনি আমাদের কম-বেশী না করে একটি হাদীস বর্ণনা করুন। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, তোমাদের কেউ কুরআন পাঠ করে এবং কুরআন তার ঘরে শোভা পায়, তবুও এর মধ্যে কম-বেশী হয়ে যায়। আমরা বলিঃ আমরা আপনার কাছে এমন একটি হাদীস শুনতে চাই, যা আপনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য হাযির হই যে হত্যার কারণে নিজের উপর দোযখ অবধারিত করে নিয়েছে। তখন তিনি বলেনঃ তার তরফ থেকে একটি গোলাম আযাদ করে দাও, যার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে আল্লাহ ঐ ব্যক্তির সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে দোযখের আগুন থেকে মুক্ত করে দেবেন।

১৪. কিরূপ গোলাম আযাদ করা উত্তম।

باب أَىِّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ

৩৯২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ، عَنْ أَبِي نَجِيحٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ حَاصَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَصْرِ الطَّائِفِ - قَالَ مُعَاذٌ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ بِقَصْرِ الطَّائِفِ بِحِصْنِ الطَّائِفِ كُلُّ ذَلِكَ - فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَلَغَ بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَلَهُ دَرَجَةٌ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَيُّمَا رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَعْتَقَ رَجُلاً مُسْلِمًا فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ جَاعِلٌ وِقَاءَ كُلِّ عَظْمٍ مِنْ عِظَامِهِ عَظْمًا مِنْ عِظَامِ مُحَرَّرِهِ مِنَ النَّارِ وَأَيُّمَا امْرَأَةٍ أَعْتَقَتِ امْرَأَةً مُسْلِمَةً فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ وِقَاءَ كُلِّ عَظْمٍ مِنْ عِظَامِهَا عَظْمًا مِنْ عِظَامِ مُحَرَّرِهَا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: আবু নাজীহ আস সুলামী (রাঃ)

৩৯২৪. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... আবু নাজীহ সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী হয়ে তায়েফের দুর্গ অবরোধ করি। মুআদ বলেন, এ সময় আমি আমার পিতাকে বলতে শুনি, যিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কাফিরের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে সে একট মর্তবা লাভ করবে। এরূপে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

রাবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আরো বলতে শুনেছিঃ যদি কোন মুসলমান ব্যক্তি কোন মুসলমান গোলামকে আযাদ করে দেয়, তবে আল্লাহ তাকে সে গোলামের বিনিময়ে তার প্রত্যেক অস্থি-মজ্জাকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। আর যদি কোন মুসলিম নারী কোন মুসলিম দাসীকে আযাদ করে দেয়, তবে আল্লাহ তাকে দাসীর বিনিময়ে তার প্রত্যেক অস্থি-মজ্জাকে কিয়ামতের দিন দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।
৩৯২৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ حَدِّثْنَا حَدِيثًا، سَمِعْتَهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً كَانَتْ فِدَاءَهُ مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

৩৯২৫. আব্দুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) .... আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন মু’মিন দাসীকে আযাদ করে দেবে, সে তার জন্য দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে।

৩৯২৬

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، أَنَّهُ قَالَ لِكَعْبِ بْنِ مُرَّةَ أَوْ مُرَّةَ بْنِ كَعْبٍ حَدِّثْنَا حَدِيثًا، سَمِعْتَهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَى مُعَاذٍ إِلَى قَوْلِهِ " وَأَيُّمَا امْرِئٍ أَعْتَقَ مُسْلِمًا وَأَيُّمَا امْرَأَةٍ أَعْتَقَتِ امْرَأَةً مُسْلِمَةً " . زَادَ " وَأَيُّمَا رَجُلٍ أَعْتَقَ امْرَأَتَيْنِ مُسْلِمَتَيْنِ إِلاَّ كَانَتَا فِكَاكَهُ مِنَ النَّارِ يُجْزَى مَكَانَ كُلِّ عَظْمَيْنِ مِنْهُمَا عَظْمٌ مِنْ عِظَامِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَالِمٌ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ شُرَحْبِيلَ مَاتَ شُرَحْبِيلُ بِصِفِّينَ .

বর্ণনাকারী: শুরাহবীল ইবনে সিমত (রহঃ)

৩৯২৬. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ......... শুরাহবীল ইবনে সিমত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কা’ব ইবনে মুররা অথবা মুররা ইবনে কা’ব (রাযিঃ)-কে বলেন, আপনি আমাদের নিকট এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শ্রবণ করেছেন। তখন তিনি মু’আযের হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করে বলেন, যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করে দেয় এবং কোন মুসলিম নারী কোন মুসলিম নারীকে আযাদ করে দেয়, তিনি আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেনঃ যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি দু’জন মুসলিম নারীকে আযাদ করে দেয়, তবে তারা উভয়ই তার জন্য দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং তাদের দুই হাড়ের বিনিময়ে সে ব্যক্তির এক হাড় মুক্তি পাবে।

১৫. সুস্থ অবস্থায় গোলাম আযাদ করা সম্পর্কে।

باب فِي فَضْلِ الْعِتْقِ فِي الصِّحَّةِ

৩৯২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَبِيبَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلُ الَّذِي يُعْتِقُ عِنْدَ الْمَوْتِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي إِذَا شَبِعَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৯২৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত্যর সময় গোলাম আযাদ করার উদাহরণ হলো এমন, যেমন কোন ব্যক্তি নিজের পেট ভরার পর অন্যকে দান করে। (কাজেই যৌবনে সুস্থাবস্থায় গোলাম আযাদ করা উত্তম)।