كتاب الديات

৩৪. নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়

অধ্যায় ৩৪ · ৯১ টি হাদীস

১. হত্যার বিনিময়ে হত্যা সম্পর্কে।

باب النَّفْسِ بِالنَّفْسِ

৪৪৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ قُرَيْظَةُ وَالنَّضِيرُ - وَكَانَ النَّضِيرُ أَشْرَفَ مِنْ قُرَيْظَةَ - فَكَانَ إِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْظَةَ رَجُلاً مِنَ النَّضِيرِ قُتِلَ بِهِ وَإِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ فُودِيَ بِمِائَةِ وَسْقٍ مِنْ تَمْرٍ فَلَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ فَقَالُوا ادْفَعُوهُ إِلَيْنَا نَقْتُلْهُ . فَقَالُوا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَوْهُ فَنَزَلَتْ ( وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ ) وَالْقِسْطُ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ ثُمَّ نَزَلَتْ ( أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরায়যা ও নাযীর- ইয়াহুদীদের এ দু’টি গোত্রের মধ্যে- নাযীর গোত্রটি অধিক সম্মানিত ছিল। কুরায়রা গোত্রের কোন লোক, নাযীর গোত্রের কোন লোককে হত্যা করলে, এর বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হতো। অপর পক্ষে নাযীর গোত্রের কোন লোক কুরায়যা গোত্রের কোন লোককে হত্যা করলে, এর বিনিময়ে হত্যাকারীকে একশো ওসক ফিদয়া বা রক্তপণ দিতে হতো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় আসেন, তখন নাযীর গোত্রের একটি লোক, কুরায়যা গোত্রের একজনকে হত্যা করে।

তখন নাযীর গোত্রের লোকেরা তাদের বলেঃ হত্যাকারীকে আমাদের হাতে সোপর্দ কর, আমরা তাকে হত্যা করবো। তখন বনু কুরায়যা বলেঃ আমাদের ও তোমাদের মাঝে নবী (ﷺ) আছেন, চল তার কাছে যাই। তারা নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ যদি আপনি তাদের মাঝে ফায়সালা করেন, তবে ইনসাফের সাথে করবেন। আর ইনসাফ হলোঃ জানের বিনিময়ে জান। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তারা কি জাহিলী যুগের ফায়সালা পছন্দ করে? (এরূপ করা উচিত নয়।)

২. পিতা বা ভাইয়ের অপরাধে- অন্যকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

باب لاَ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ بِجَرِيرَةِ أَخِيهِ أَوْ أَبِيهِ

৪৪৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ إِيَادٍ - حَدَّثَنَا إِيَادٌ، عَنْ أَبِي رِمْثَةَ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي نَحْوَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَبِي " ابْنُكَ هَذَا " . قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ قَالَ " حَقًّا " . قَالَ أَشْهَدُ بِهِ . قَالَ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا مِنْ ثَبْتِ شَبَهِي فِي أَبِي وَمِنْ حَلْفِ أَبِي عَلَىَّ . ثُمَّ قَالَ " أَمَا إِنَّهُ لاَ يَجْنِي عَلَيْكَ وَلاَ تَجْنِي عَلَيْهِ " . وَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ( وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى )

বর্ণনাকারী: আবু রিমসা তায়মী (রাঃ)

৪৪৩৫. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবু রিমছা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতার সাথে নবী (ﷺ)-এর নিকট গমন করি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ একি তোমার ছেলে? তিনি বলেনঃ কাবার রবের শপথ! হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি সত্য বলছো? আমার পিতা বলেনঃ এ ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি। তিনি বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এজন্য মুচকি হাসেন যে, আমার চেহারার সাথে আমার পিতার চেহারার হুবহু মিল ছিল, তবুও আমার পিতা শপথ করেন। এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ জেনে রাখ! তোমার অপরাধে সে দোষী সাব্যস্ত হবে না এবং তুমিও তার অপরাধে দোষী হবে না। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেনঃ একে অপরের গুনাহের বোঝা উঠাবে না।

৩. রক্তপণ মাফের ব্যাপারে ইমামের নির্দেশ সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يَأْمُرُ بِالْعَفْوِ فِي الدَّمِ

৪৪৩৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ أَبِي الْعَوْجَاءِ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أُصِيبَ بِقَتْلٍ أَوْ خَبْلٍ فَإِنَّهُ يَخْتَارُ إِحْدَى ثَلاَثٍ إِمَّا أَنْ يَقْتَصَّ وَإِمَّا أَنْ يَعْفُوَ وَإِمَّا أَنْ يَأْخُذَ الدِّيَةَ فَإِنْ أَرَادَ الرَّابِعَةَ فَخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ وَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু শুরাইহ খুওয়াইলিদ ইবন আমর রাযি.

৪৪৩৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু শূরায়হ খুযাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির উপর কোন হত্যার বা অঙ্গচ্ছেদের বিপদ আসে, তাকে যেন তিনটির মধ্যে কোন একটি সুযোগ দেয়া হয়। হয়তো রক্তপণ নেবে, নয়তো মাফ করে দেবে, অথবা বিনিময় নেবে। এরপর যদি সে চতুর্থ কোন বিষয়ের আকাংক্ষা করে, তবে তার হাত ধরে তা থেকে বিরত রাখতে হবে। এরপরও যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে, তবে তার জন্য ভীষণ আযাব নির্ধারিত আছে।

৪৪৩৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رُفِعَ إِلَيْهِ شَىْءٌ فِيهِ قِصَاصٌ إِلاَّ أَمَرَ فِيهِ بِالْعَفْوِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৩৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন কিসাসের মোকদ্দমা দায়ের হতে দেখেছি, তখনই আমি তাঁকে নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনদের তা মাফ করে দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে দেখেছি।

৪৪৩৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قُتِلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْوَلِيِّ " أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا ثُمَّ قَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ " . قَالَ فَخَلَّى سَبِيلَهُ . قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ فَسُمِّيَ ذَا النِّسْعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৩৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ)-এর যামানায় এক ব্যক্তি নিহত হলে, তাঁর কাছে এ মোকদ্দমা আসে। তখন তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের হাতে সোপর্দ করেন। হত্যাকারী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আমি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারি নাই। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনদের বলেনঃ যদি এ ব্যক্তি সত্যবাদী হয় এবং তোমরা তাকে হত্যা কর, তবে নিশ্চয়ই তোমরা জাহান্নামী হবে। একথা শুনে তারা তাকে ছেড়ে দেয়। এ সময় তার দু’হাত চামড়ার ফিতা দিয়ে বাঁধা ছিল। সে তা টেনে ছিড়ে ফেলতে ফেলতে বেরিয়ে আসে। ফলে তার উপাধি হয়ে যায়। ফিতাধারী ব্যক্তি।

৪৪৩৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ أَبُو عُمَرَ الْعَائِذِيُّ، حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، حَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جِيءَ بِرَجُلٍ قَاتِلٍ فِي عُنُقِهِ النِّسْعَةُ قَالَ فَدَعَا وَلِيَّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ " أَتَعْفُو " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَأْخُذُ الدِّيَةَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَقْتُلُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " اذْهَبْ بِهِ " . فَلَمَّا وَلَّى قَالَ " أَتَعْفُو " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَأْخُذُ الدِّيَةَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَقْتُلُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " اذْهَبْ بِهِ " . فَلَمَّا كَانَ فِي الرَّابِعَةِ قَالَ " أَمَا إِنَّكَ إِنْ عَفَوْتَ عَنْهُ يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِ صَاحِبِهِ " . قَالَ فَعَفَا عَنْهُ . قَالَ فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَجُرُّ النِّسْعَةَ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৪৪৩৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ..... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমি নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর কাছে একজন হত্যাকারীকে আনা হয়। যার গলায় চামড়ার বেল্ট বাঁধা ছিল। তখন নবী (ﷺ) নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দেবে? সে বলেঃ না। তিনি বলেনঃ তুমি কি রক্তপণ গ্রহণ করবে? সে বলেঃ না। তখন নবী (ﷺ) আবার তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করবে? সে বলেঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে নিয়ে যাও।

এরপর সে ব্যক্তি যখন তাকে নিতে চাইলো, তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তাকে মাফ করে দেবে? সে বলেঃ না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি রক্তপণ গ্রহণ করবে? সে বলেঃ না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করবে? সে বলেঃহ্যাঁ। তখন তিনি তাকে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি তাকে চতুর্থবারের মত বলেনঃ দেখ, যদি তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও, তবে সে ব্যক্তি তোমার ও নিহত ব্যক্তির গুনাহের ভাগী হবে। এ কথা শুনে সে ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দেয়। রাবী বলেনঃ তখন আমি সে হত্যাকারী ব্যক্তিকে বেল্ট টানতে টানতে যেতে দেখি।
৪৪৪০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي جَامِعُ بْنُ مَطَرٍ، حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৪৪৪০. উবাইদুল্লাহু ইবনে উমর (রাহঃ) .... জামে ইবনে মাতার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলকামা ইবনে ওয়ায়েল উপরোক্ত হাদীসের অনু্রূপ সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪৪৪১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِحَبَشِيٍّ فَقَالَ إِنَّ هَذَا قَتَلَ ابْنَ أَخِي . قَالَ " كَيْفَ قَتَلْتَهُ " . قَالَ ضَرَبْتُ رَأْسَهُ بِالْفَأْسِ وَلَمْ أُرِدْ قَتْلَهُ . قَالَ " هَلْ لَكَ مَالٌ تُؤَدِّي دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَرَأَيْتَ إِنْ أَرْسَلْتُكَ تَسْأَلُ النَّاسَ تَجْمَعُ دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَمَوَالِيكَ يُعْطُونَكَ دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ لِلرَّجُلِ " خُذْهُ " . فَخَرَجَ بِهِ لِيَقْتُلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّهُ إِنْ قَتَلَهُ كَانَ مِثْلَهُ " . فَبَلَغَ بِهِ الرَّجُلُ حَيْثُ يَسْمَعُ قَوْلَهُ فَقَالَ هُوَ ذَا فَمُرْ فِيهِ مَا شِئْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسِلْهُ - وَقَالَ مَرَّةً دَعْهُ - يَبُوءُ بِإِثْمِ صَاحِبِهِ وَإِثْمِهِ فَيَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ " . قَالَ فَأَرْسَلَهُ .

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ وَكَانَ فِي الدَّارِ مَدْخَلٌ مَنْ دَخَلَهُ سَمِعَ كَلاَمَ مَنْ عَلَى الْبَلاَطِ فَدَخَلَهُ عُثْمَانُ فَخَرَجَ إِلَيْنَا وَهُوَ مُتَغَيِّرٌ لَوْنُهُ فَقَالَ إِنَّهُمْ لَيَتَوَاعَدُونَنِي بِالْقَتْلِ آنِفًا ‏.‏ قُلْنَا يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ‏.‏ قَالَ وَلِمَ يَقْتُلُونَنِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ كُفْرٌ بَعْدَ إِسْلاَمٍ أَوْ زِنًا بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوْ قَتْلُ نَفْسٍ بِغَيْرِ نَفْسٍ ‏"‏ ‏.‏ فَوَاللَّهِ مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ إِسْلاَمٍ قَطُّ وَلاَ أَحْبَبْتُ أَنَّ لِي بِدِينِي بَدَلاً مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ وَلاَ قَتَلْتُ نَفْسًا فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي قَالَ أَبُو دَاوُدَ عُثْمَانُ وَأَبُو بَكْرٍ رضى الله عنهما تَرَكَا الْخَمْرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৪৪৪১. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ...... আলকামা ইবনে ওয়ায়েল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি একজন হাবশীকে নিয়ে নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে আসে এবং বলেঃ এ ব্যক্তি আমার ভাইয়ের ছেলেকে হত্যা করেছে। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তাকে কিরূপে হত্যা করেছ? সে বলেঃ আমি তার মাথায় কুঠার দিয়ে আঘাত করেছিলাম, কিন্তু এতে আমার হত্যার ইচ্ছা ছিল না। তিনি বলেনঃ তোমার কাছে রক্তপণ দেয়ার মত মাল আছে কি? সে বলেঃ না। তিনি বলেন যদি আমি তোমাকে ছেড়ে দেই তবে কি তুমি লোকদের থেকে চেয়ে রক্তপণের টাকা যোগাড় করতে পারবে? সে বলেঃ না। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার ওয়ারিছরা তোমার পক্ষ হতে দিয়াত পরিশোধ করতে পারবে কি? সে বলেঃ না।

তখন নবী (ﷺ) নিহত ব্যক্তির চাচাকে বলেনঃ তুমি তাকে নিয়ে যাও। সে ব্যক্তি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিতে চাইলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি এ ব্যক্তি তাকে হত্যা করে, তবে সেও অনুরূপ গুনাহের অধিকারী হবে। নবী (ﷺ)-এর এ কথা তার নিকট পৌঁছলে সে বলে, এ ব্যাপারে যা খুশী ফায়সালা করুন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তাকে ছেড়ে দাও। সে নিহত ব্যক্তির ও তার নিজের গুনাহের কারণে দোজখের অধিবাসী হবে। একথা শুনে সে তাকে ছেড়ে দেয়।


আবু উমামা ইবনু সাহল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম, যখন তিনি (বিদ্রোহীদের দ্বারা) একটি ঘরে আটক ছিলেন। ঐ ঘরের একটি প্রবেশদ্বার ছিলো। কেউ ঐ প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করলে আল-বালাত নামক স্থানে লোকের কথাবার্তা শুনতে পেতো। উসমান (রাঃ) তাতে প্রবেশ করলেন এবং বিবর্ণ অবস্থায় আমাদের নিকট এসে বললেন, তারা এই মাত্র আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা আমাকে হত্যা করবে কেন?

আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তিনটি অপরাধের কোনো একটি ব্যতীত মুসলিম ব্যক্তির রক্তপাত করা হালাল নয়ঃ (১) ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়া, (২) বিবাহিত ব্যক্তির যেনায় লিপ্ত হওয়া এবং (৩) হত্যার অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে। আল্লাহর কসম! আমি জাহিলী যুগে এবং ইসলামী যুগেও কখনো যেনা করিনি। আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দান করার পর থেকে আমি মোটেই অন্য ধর্ম গ্রহণ পছন্দ করি না এবং আমি কোনো মানুষকে হত্যা করিনি। অতএব তারা কেন আমাকে হত্যা করবে? ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, উসমান ও আবু বকর (রাঃ) উভয়ে জাহিলী যুগেই মাদক গ্রহণ পরিত্যাগ করেছেন।
৪৪৪২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، فَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ زِيَادَ بْنَ ضُمَيْرَةَ الضَّمْرِيَّ، ح وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ سَعْدِ بْنِ ضُمَيْرَةَ السُّلَمِيَّ، - وَهَذَا حَدِيثُ وَهْبٍ وَهُوَ أَتَمُّ - يُحَدِّثُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ - قَالَ مُوسَى - وَجَدِّهِ وَكَانَا شَهِدَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُنَيْنًا - ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثِ وَهْبٍ - أَنَّ مُحَلِّمَ بْنَ جَثَّامَةَ اللَّيْثِيَّ قَتَلَ رَجُلاً مِنْ أَشْجَعَ فِي الإِسْلاَمِ وَذَلِكَ أَوَّلُ غِيَرٍ قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ عُيَيْنَةُ فِي قَتْلِ الأَشْجَعِيِّ لأَنَّهُ مِنْ غَطَفَانَ وَتَكَلَّمَ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ دُونَ مُحَلِّمٍ لأَنَّهُ مِنْ خِنْدِفَ فَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ وَكَثُرَتِ الْخُصُومَةُ وَاللَّغَطُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عُيَيْنَةُ أَلاَ تَقْبَلُ الْغِيَرَ " . فَقَالَ عُيَيْنَةُ لاَ وَاللَّهِ حَتَّى أُدْخِلَ عَلَى نِسَائِهِ مِنَ الْحَرْبِ وَالْحَزَنِ مَا أَدْخَلَ عَلَى نِسَائِي . قَالَ ثُمَّ ارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ وَكَثُرَتِ الْخُصُومَةُ وَاللَّغَطُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عُيَيْنَةُ أَلاَ تَقْبَلُ الْغِيَرَ " . فَقَالَ عُيَيْنَةُ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا إِلَى أَنْ قَامَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي لَيْثٍ يُقَالُ لَهُ مُكَيْتِلٌ عَلَيْهِ شِكَّةٌ وَفِي يَدِهِ دَرَقَةٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمْ أَجِدْ لِمَا فَعَلَ هَذَا فِي غُرَّةِ الإِسْلاَمِ مَثَلاً إِلاَّ غَنَمًا وَرَدَتْ فَرُمِيَ أَوَّلُهَا فَنَفَرَ آخِرُهَا اسْنُنِ الْيَوْمَ وَغَيِّرْ غَدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسُونَ فِي فَوْرِنَا هَذَا وَخَمْسُونَ إِذَا رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ " . وَذَلِكَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَمُحَلِّمٌ رَجُلٌ طَوِيلٌ آدَمُ وَهُوَ فِي طَرَفِ النَّاسِ فَلَمْ يَزَالُوا حَتَّى تَخَلَّصَ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ فَعَلْتُ الَّذِي بَلَغَكَ وَإِنِّي أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقَتَلْتَهُ بِسِلاَحِكَ فِي غُرَّةِ الإِسْلاَمِ اللَّهُمَّ لاَ تَغْفِرْ لِمُحَلِّمٍ " . بِصَوْتٍ عَالٍ زَادَ أَبُو سَلَمَةَ فَقَامَ وَإِنَّهُ لَيَتَلَقَّى دُمُوعَهُ بِطَرَفِ رِدَائِهِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ فَزَعَمَ قَوْمُهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَغْفَرَ لَهُ بَعْدَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৪৪২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... যিয়াদ ইবনে সা’দ ইবনে যামীরা (রাযিঃ) তার পিতা এবং দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই হুনায়েনের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। রাবী ওয়াহাব (রাহঃ)-এর সূত্রে বলেনঃ মুহাল্লাম ইবনে জাছামা লায়ছী (রাযিঃ) আশজা গোত্রের এক ব্যক্তিকে ইসলামী যুগে হত্যা করেছিল। এটাই ছিল প্রথম দিয়াতের ঘটনা, যার ফায়সালা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেন। এরপর উয়াইনা আশাজ গোত্রের পক্ষে কথাবার্তা বলেন, আর তিনি ছিলেন গাতফান গোত্রের লোক এবং আকরা ইবনে হাবিস (রাযিঃ) মুহাল্লাম গোত্রের পক্ষে কথাবার্তা বলেন, আর তিনি ছিলেন খুনদুফ গোত্রের লোক। কথাবার্তা চলাকালে ঝগড়া যখন প্রচণ্ডরূপ ধারণ করে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে উয়াইনা! তুমি কি দিয়াত গ্রহণ করবে না? তখন উয়াইনা বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি দিয়াত গ্রহণ করবো না; যতক্ষণ না তাদের স্ত্রীলোকেরা ঐরূপ শোকাতুরা হয়, যেরূপ আমাদের মহিলারা হয়েছে।

এভাবে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে এবং ঝগড়া যখন প্রচণ্ডরূপ ধারণ করে; তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ হে উয়ায়ানা! তুমি কি দিয়াত গ্রহণ করবে না? তখন উয়াইনা (রাযিঃ) আগের মত জবাব প্রদান করে। এ সময় লায়ছ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, যার নাম ছিল মুকায়তিল, যিনি স্বশস্ত্র অবস্থায় ঢালসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি দাঁড়িয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি ইসলামের প্রথম যুগে যা করেছে, তার উদাহরণ ঐ বকরীর পালের মত, যারা কোথাও পানি পান করাকালে, তাদের একটি কারাহত হলে বাকীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। কাজেই, আজ এ ব্যক্তির নিকট হতে কিসাস না নিয়ে, যদি দিয়াত কবুল করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরো লোক নিহত হতে থাকবে, যা ইসলামী বিধানের পরিবর্তন স্বরূপ হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন এই নির্দেশ দেনঃ হত্যাকারী এখনই পঞ্চাশটি উট প্রদান করবে এবং বাকী পঞ্চাশটি উট মদীনায় ফিরে গিয়ে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীকে দেবে। এ ঘটনা নবী (ﷺ)-এর কোন এক সফরে ঘটেছিল।

মুহাল্লাম (রাযিঃ) ছিলেন দীর্ঘদেহী এবং উজ্জ্বল বর্ণবিশিষ্ট। তিনি এতক্ষণ লোকদের একপাশে বসেছিলেন। মুক্তির নির্দেশ গ্রাপ্তির পর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে এসে বসেন। এ সময় তাঁর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। এরপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যে অপরাধ করেছি, তা আপনি জানেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মহান আল্লাহর নিকটে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি ইসলামের প্রথম যুগে তোমার তরবারি দিয়ে তাকে হত্যা করনি? ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাল্লামকে ক্ষমা করবেন না। তিনি উচ্চকন্ঠে এরূপ ঘোষণা দেন।

রাবী আবু সালামা (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এ কথা শুনে মুহাল্লাম তার চাদরের কোণা দিয়ে নিজের অশ্রু মুছতে থাকেন। রাবী ইবনে ইসহাক (রাহঃ) বলেনঃ তার কওমের লোকদের ধারণা ছিল, অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাল্লামের মাগফিরাতের জন্য দুআ করেন।

৪. নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী দিয়াত নিতে চাইলে সে সস্পর্কে।

باب وَلِيِّ الْعَمْدِ يَأْخُذُ الدِّيَةَ

৪৪৪৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا شُرَيْحٍ الْكَعْبِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ إِنَّكُمْ يَا مَعْشَرَ خُزَاعَةَ قَتَلْتُمْ هَذَا الْقَتِيلَ مِنْ هُذَيْلٍ وَإِنِّي عَاقِلُهُ فَمَنْ قُتِلَ لَهُ بَعْدَ مَقَالَتِي هَذِهِ قَتِيلٌ فَأَهْلُهُ بَيْنَ خِيرَتَيْنِ أَنْ يَأْخُذُوا الْعَقْلَ أَوْ يَقْتُلُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু শুরাইহ খুওয়াইলিদ ইবন আমর রাযি.

৪৪৪৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু শুরায়হ কা’বী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে খুযা’আ গোত্রের লোকেরা! তোমরা শ্রবণ কর। তোমরা হুযায়ল গোত্রের এ লোককে হত্যা করেছ। আমি এর দিয়াত আদায় করে দেব। আমার এই নির্দেশের পর যদি কোন গোত্রের কেউ নিহত হয়, তবে তার উত্তরাধিকারীদের দু’টি ইখতিয়ার থাকবে, হয় তারা দিয়াত গ্রহণ করবে, নয়তো হত্যাকারীকে কতল করবে।

৪৪৪৪

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا فُتِحَتْ مَكَّةُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ إِمَّا أَنْ يُودَى أَوْ يُقَادَ " . فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ أَبُو شَاهٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اكْتُبْ لِي - قَالَ الْعَبَّاسُ اكْتُبُوا لِي - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ " . وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ أَحْمَدَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اكْتُبُوا لِي يَعْنِي خُطْبَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৪৪. আব্বাস ইবনে ওয়ালীদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মক্কা বিজয় হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ যার কোন আপন জন মারা গেছে, তার দু’টি ইখতিয়ার আছে। হয়তো সে হত্যাকারীর নিকট হতে দিয়াত গ্রহণ করবে, নয়তো কিসাস নিবে। তখন ইয়ামানের আবু শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটি আমাকে লিখে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আবু শাহকে এটা লিখে দাও।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আবু শাহ (রাযিঃ) বলেছিলেনঃ তোমরা আমাকে নবী (ﷺ)-এর ভাষণটি লিখে দাও।

৫. দিয়াত গ্রহণের পর হত্যা করলে - সে সম্পর্কে।

باب مَنْ قَتَلَ بَعْدَ أَخْذِ الدِّيَةِ

৪৪৪৫
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْمَقْتُولِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوهُ وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ " .

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، - وَأَحْسَبُهُ - عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ أُعْفِي مَنْ قَتَلَ بَعْدَ أَخْذِهِ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৪৪৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হত্যাকারী থেকে দিয়াত গ্রহণের পর তাকে হত্যা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করবো না।

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিয়াত গ্রহণের পর হত্যা করলো, আমি তাকে ক্ষমা করবো না।

৬. যদি কেউ কাউকে বিষাক্ত খাদ্য-পানীয় পান করায় এবং সে তাতে মারা যায়, তবে তার থেকে কিসাস নেয়া যাবে কি না?

باب فِيمَنْ سَقَى رَجُلاً سَمًّا أَوْ أَطْعَمَهُ فَمَاتَ أَيُقَادُ مِنْهُ

৪৪৪৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ امْرَأَةً، يَهُودِيَّةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ فَأَكَلَ مِنْهَا فَجِيءَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ أَرَدْتُ لأَقْتُلَكَ . فَقَالَ " مَا كَانَ اللَّهُ لِيُسَلِّطَكِ عَلَى ذَلِكَ " . أَوْ قَالَ " عَلَىَّ " . قَالَ فَقَالُوا أَلاَ نَقْتُلُهَا قَالَ " لاَ " . فَمَا زِلْتُ أَعْرِفُهَا فِي لَهَوَاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৪৬. ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনাঃ একদা ইয়াহুদী এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বিষ-মিশ্রিত বকরীর গোশত নিয়ে আসে। যা থেকে তিনি কিছু ভক্ষণ করেন। ঐ মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির করা হলে, তিনি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন সে বলেঃ আমি আপনাকে হত্যার উদ্দেশের এরূপ করেছি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে এ জন্য ক্ষমতা প্রদান করেন নি। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বলেনঃ না।

রাবী আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এ বিষের ক্রিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দাঁতের মাড়িতে সব সময় প্রকাশ পেতে দেখেছি।
৪৪৪৭

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبَّاُدُ بْنُ الْعَوَّامِ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي، سَلَمَةَ - قَالَ هَارُونُ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنَ الْيَهُودِ أَهْدَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَاةً مَسْمُومَةً - قَالَ - فَمَا عَرَضَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذِهِ أُخْتُ مَرْحَبٍ الْيَهُودِيَّةُ الَّتِي سَمَّتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৪৭. দাউদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার এক ইয়াহুদী রমণী নবী করীম (ﷺ) এর নিকট হাদিয়া স্বরূপ একটি বিষ-মিশ্রিত বকরীর গোশত প্রেরণ করে। যদ্দরুণ তিনি তাকে কিছুই বলেননি। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ সে মহিলাটি ছিল মুরাহহাব নামক এক ইয়াহুদীর বোন, যে নবী (ﷺ) এর খাদ্যে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল।

৪৪৪৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ أَنَّ يَهُودِيَّةً، مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ سَمَّتْ شَاةً مَصْلِيَّةً ثُمَّ أَهْدَتْهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الذِّرَاعَ فَأَكَلَ مِنْهَا وَأَكَلَ رَهْطٌ مِنْ أَصْحَابِهِ مَعَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ " . وَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَهُودِيَّةِ فَدَعَاهَا فَقَالَ لَهَا " أَسَمَمْتِ هَذِهِ الشَّاةَ " . قَالَتِ الْيَهُودِيَّةُ مَنْ أَخْبَرَكَ قَالَ " أَخْبَرَتْنِي هَذِهِ فِي يَدِي " . لِلذِّرَاعِ . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " فَمَا أَرَدْتِ إِلَى ذَلِكَ " . قَالَتْ قُلْتُ إِنْ كَانَ نَبِيًّا فَلَنْ يَضُرَّهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنِ اسْتَرَحْنَا مِنْهُ . فَعَفَا عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُعَاقِبْهَا وَتُوُفِّيَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ الَّذِينَ أَكَلُوا مِنَ الشَّاةِ وَاحْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى كَاهِلِهِ مِنْ أَجْلِ الَّذِي أَكَلَ مِنَ الشَّاةِ حَجَمَهُ أَبُو هِنْدٍ بِالْقَرْنِ وَالشَّفْرَةِ وَهُوَ مَوْلًى لِبَنِي بَيَاضَةَ مِنَ الأَنْصَارِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৪৪৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বরের একজন ইয়াহুদী নারী ভুনা-বকরীর সাথে বিষ মিশ্রিত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাদিয়া স্বরূপ প্রেরণ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার রানের গোশত ভক্ষণ করেন এবং সাহাবীদের কেউ কেউ তা ভক্ষণ করে। এ সময় তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেনঃ তোমরা তোমাদের হাত উঠিয়ে নাও, (অর্থাৎ তোমরা আর খেয়োনা)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে ইয়াহুদী নারীকে আনিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এ বকরীর গোশতে বিষ মিশিয়েছ? তখন সে জিজ্ঞাসা করেঃ কে আপনাকে এ খবর দিয়েছে? তিনি বলেনঃ বকরীর এই রানটি। তখন সে নারী বলেঃ হ্যাঁ।

নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার এরূপ করার উদ্দেশ্য কি? সে নারী বলেঃ যদি আপনি নবী হন, তবে এ বিষ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি আপনি নবী না হন, তবে আপনার থেকে পরিত্রাণ পাব, (এ জন্য আমি এরূপ করেছি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে মহিলাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাকে কোনরূপ শাস্তি প্রদান করেননি। বিষ মিশ্রিত গোশত ভক্ষণের ফলে নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের কেউ কেউ মারা যায় এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে এ বকরীর বিষ-মিশ্রিত গোশত খাওয়ার কারণে তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে শিংগা লাগান। আবু হিন্দ (রাযিঃ), যিনি বনু বায়াযা আনসারী (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। তিনি গাভীর শিং ও ছুরির দ্বারা নবী (ﷺ)-এর দেহে শিংগা লাগান।
৪৪৪৯
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْدَتْ لَهُ يَهُودِيَّةٌ بِخَيْبَرَ شَاةً مَصْلِيَّةً نَحْوَ حَدِيثِ جَابِرٍ قَالَ فَمَاتَ بِشْرُ بْنُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ الأَنْصَارِيُّ فَأَرْسَلَ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ " مَا حَمَلَكِ عَلَى الَّذِي صَنَعْتِ " . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ جَابِرٍ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُتِلَتْ وَلَمْ يَذْكُرْ أَمْرَ الْحِجَامَةِ .

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ وَلاَ يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ ‏.‏ وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ عَنْ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ وَلاَ يَأْكُلُ الصَّدَقَةَ ‏.‏ زَادَ فَأَهْدَتْ لَهُ يَهُودِيَّةٌ بِخَيْبَرَ شَاةً مَصْلِيَّةً سَمَّتْهَا فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا وَأَكَلَ الْقَوْمُ فَقَالَ ‏"‏ ارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ فَإِنَّهَا أَخْبَرَتْنِي أَنَّهَا مَسْمُومَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَمَاتَ بِشْرُ بْنُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ الأَنْصَارِيُّ فَأَرْسَلَ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ ‏"‏ مَا حَمَلَكِ عَلَى الَّذِي صَنَعْتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا لَمْ يَضُرَّكَ الَّذِي صَنَعْتُ وَإِنْ كُنْتَ مَلِكًا أَرَحْتُ النَّاسَ مِنْكَ ‏.‏ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُتِلَتْ ثُمَّ قَالَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ ‏"‏ مَا زِلْتُ أَجِدُ مِنَ الأَكْلَةِ الَّتِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ قَطَعَتْ أَبْهَرِي ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أُمَّ مُبَشِّرٍ، قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ مَا يُتَّهَمُ بِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنِّي لاَ أَتَّهِمُ بِابْنِي شَيْئًا إِلاَّ الشَّاةَ الْمَسْمُومَةَ الَّتِي أَكَلَ مَعَكَ بِخَيْبَرَ ‏.‏ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ وَأَنَا لاَ أَتَّهِمُ بِنَفْسِي إِلاَّ ذَلِكَ فَهَذَا أَوَانُ قَطَعَتْ أَبْهَرِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُبَّمَا حَدَّثَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُرْسَلاً عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرُبَّمَا حَدَّثَ بِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَذَكَرَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنَّ مَعْمَرًا كَانَ يُحَدِّثُهُمْ بِالْحَدِيثِ مَرَّةً مُرْسَلاً فَيَكْتُبُونَهُ وَيُحَدِّثُهُمْ مَرَّةً بِهِ فَيُسْنِدُهُ فَيَكْتُبُونَهُ وَكُلٌّ صَحِيحٌ عِنْدَنَا قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ فَلَمَّا قَدِمَ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَلَى مَعْمَرٍ أَسْنَدَ لَهُ مَعْمَرٌ أَحَادِيثَ كَانَ يُوقِفُهَا ‏.‏

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَبَاحٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّ أُمَّ مُبَشِّرٍ، - قَالَ أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ كَذَا قَالَ عَنْ أُمِّهِ، وَالصَّوَابُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ مُبَشِّرٍ، - دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ مَخْلَدِ بْنِ خَالِدٍ نَحْوَ حَدِيثِ جَابِرٍ قَالَ فَمَاتَ بِشْرُ بْنُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ فَأَرْسَلَ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ فَقَالَ ‏ "‏ مَا حَمَلَكِ عَلَى الَّذِي صَنَعْتِ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ جَابِرٍ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُتِلَتْ وَلَمْ يَذْكُرِ الْحِجَامَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৪৯. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বরের এক ইয়াহুদী নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একটি বিষ-মিশ্রিত ভুনা-বকরী হাদিয়া স্বরূপ প্রেরণ করে। এরপর তিনি জাবির (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এ বকরীর গোশত খাওয়ার কারণে বিশর ইবনে বারা ইবনে মা’রুর আনসারী (রাযিঃ) ইনতিকাল করেন। তখন নবী (ﷺ) সে মহিলাকে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কেন এরূপ করলে? এরপর তিনি জাবির (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে মহিলাকে হত্যার নির্দেশ দিলে, তাকে হত্যা করা হয়। রাবী এ বর্ণনায় শিংগা লাগানোর কথা উল্লেখ করেননি।


ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) .....আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাদিয়া গ্রহণ করতেন কিন্তু সাদাকা গ্রহণ করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, খায়বরের এক ইয়াহুদী মহিলা একটি ভুনা বকরীতে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হাদিয়া দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা আহার করেন এবং লোকজনও আহার করে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও। কারণ এটি আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, এটি বিষযুক্ত। (বিষক্রিয়ার ফলে) বিশর ইবন বারাআ ইবন মা’রূর আনসারী (রাঃ) মারা যান। তিনি ইয়াহুদী মহিলাকে ডেকে এনে প্রশ্ন করেনঃ তুমি যা করলে তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করেছে?
সে বললো, আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন তাহলে আমি যা করেছি তাতে আপনার ক্ষতি হবে না। আর যদি আপনি বাদশাহ হয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনার থেকে মানুষকে শান্তি দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে পরে তাকে হত্যা করা হলো। অতঃপর তিনি যে ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন সেই সম্পর্কে বলেনঃ আমি সর্বদা সেই লোকমার ব্যথা অনুভব করছি যা আমি খায়বরে খেয়েছিলাম। এই সময়ে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিয়েছে।


.........ইবনু কা’ব ইবন মালিক (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন তখন উম্মে মুবাশশির (রাঃ) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রোগ সম্পর্কে কি ভাবছেন? আর আমি আমার ছেলের রোগ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন নই সেই বিষ মেশানো বকরীর গোশত ব্যতীত যা সে খায়বরে আপনার সঙ্গে খেয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমিও ঐ বিষ ছাড়া আমার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নই। এ মুহূর্তে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিচ্ছে।


আহমদ বিন হাম্বল......... উম্মে মুবাশশির (রাঃ) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। অতঃপর তিনি মাখলাদ ইবনু খালিদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন জাবির (রাঃ)-এর হাদীসের মতই। বর্ণনাকারী বলেন, বিশর ইবন বারাআ ইবন মা’রূর (রাঃ) মারা গেলে নবী (ﷺ) ইয়াহুদী মহিলাকে ডেকে এনে প্রশ্ন করেনঃ তুমি যা করেছো তা করতে কিসে তোমাকে প্ররোচিত করেছে? অতঃপর জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলে পরে তাকে হত্যা করা হয়। বর্ণনাকারী এখানে হিজামা তথা রক্তমোক্ষণের কথা উল্লেখ করেননি।

৭. যে ব্যক্তি তার গোলামকে হত্যা করে, অথবা তার কোন অঙ্গছেদ করে, তার থেকে কি কিসাস নেয়া হয়ে?

باب مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ أَوْ مَثَّلَ بِهِ أَيُقَادُ مِنْهُ

৪৪৫০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৪৪৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার গোলামকে হত্যা করবে, তাকে আমরা হত্যা করবো, আর যে ব্যক্তি তার গোলামের নাক-কান কাটবে, আমরাও তার নাক-কান কেটে দেব।

৪৪৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ خَصَى عَبَدَهُ خَصَيْنَاهُ " . ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ شُعْبَةَ وَحَمَّادٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ عَنْ هِشَامٍ مِثْلَ حَدِيثِ مُعَاذٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৪৪৫১. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদে, অনুরূপ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার গোলামকে খাসী করবে, আমরাও তাকে খাসী করে ছাড়বো। এরপর রাবী শো’বা ও হাম্মাদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

৪৪৫২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِ شُعْبَةَ مِثْلَهُ زَادَ ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ هَذَا الْحَدِيثَ فَكَانَ يَقُولُ " لاَ يُقْتَلُ حُرٌّ بِعَبْدٍ " .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৪৪৫২. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) শু’বা (রাহঃ)-এর সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এখানে এরূপ বর্ণিত হয়েতে যে, এরপর রাবী হাসান (রাহঃ) এ হাদীস ভুলে যান এবং বলেনঃ কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে গোলামের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না।

৪৪৫৩

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ لاَ يُقَادُ الْحُرُّ بِالْعَبْدِ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৪৫৩. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন আযাদ ব্যক্তিকে গোলামের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না।

৪৪৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ تَسْنِيمٍ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا سَوَّارٌ أَبُو حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مُسْتَصْرِخٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ جَارِيَةٌ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " وَيْحَكَ مَا لَكَ " . قَالَ شَرًّا أَبْصَرَ لِسَيِّدِهِ جَارِيَةً لَهُ فَغَارَ فَجَبَّ مَذَاكِيرَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَىَّ بِالرَّجُلِ " . فَطُلِبَ فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى مَنْ نُصْرَتِي قَالَ " عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ " . أَوْ قَالَ " كُلِّ مُسْلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে হাসান (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়েব (রাহঃ) তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা এক ব্যক্তি চিৎকার দিতে দিতে নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার একটি দাসী। নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কি হয়েছে বল? তখন সে বলে খুবই খারাপ! আমার মনিবের একটি দাসী আছে, তাকে আমি দেখে ফেলাতে মনিব ক্রুদ্ধ হয়ে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাকে ডাকা হলে, সে না আসায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যাও তুমি আযাদ। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যাপারে কে আমাকে সাহায্য করবে? (অর্থাৎ আমার মনিব যদি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আমাকে দাসে পরিণত করে, তবে কে আমাকে সাহায্য করবে?) তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রত্যেক মু’মিন বা প্রত্যেক মুসলমান তোমার সাহায্য করবে।

৮. নিহত ব্যক্তির হত্যাকারী পরিচয় না পাওয়া গেলে, মহল্লাবাসীদের কসম গ্রহণ সম্পর্কে।

باب الْقَسَامَةِ

৪৪৫৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ مُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ، انْطَلَقَا قِبَلَ خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَاتَّهَمُوا الْيَهُودَ فَجَاءَ أَخُوهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَابْنَا عَمِّهِ حُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فِي أَمْرِ أَخِيهِ وَهُوَ أَصْغَرُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْكُبْرَ الْكُبْرَ " . أَوْ قَالَ " لِيَبْدَإِ الأَكْبَرُ " . فَتَكَلَّمَا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُقْسِمُ خَمْسُونَ مِنْكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَيُدْفَعُ بِرُمَّتِهِ " . قَالُوا أَمْرٌ لَمْ نَشْهَدْهُ كَيْفَ نَحْلِفُ قَالَ " فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ . قَالَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قِبَلِهِ . قَالَ قَالَ سَهْلٌ دَخَلْتُ مِرْبَدًا لَهُمْ يَوْمًا فَرَكَضَتْنِي نَاقَةٌ مِنْ تِلْكَ الإِبِلِ رَكْضَةً بِرِجْلِهَا . قَالَ حَمَّادٌ هَذَا أَوْ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ وَمَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ فِيهِ " أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ " وَلَمْ يَذْكُرْ بِشْرٌ دَمًا وَقَالَ عَبْدَةُ عَنْ يَحْيَى كَمَا قَالَ حَمَّادٌ وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى فَبَدَأَ بِقَوْلِهِ " تُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا يَحْلِفُونَ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الاِسْتِحْقَاقَ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৪৪৫৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ...... সাহল ইবনে আবু হাছমা ও রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ মুহায়য়েসা ইবনে মাসউদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল (রাযিঃ) খায়বরের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু তারা একটি খেজুর বাগানে পৌছে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল নিহত হন। লোকেরা ইয়াহুদীদের দোষারোপ করে। তখন তার ভাই আব্দুর রহমান ইবনে সাহল এবং চাচাতো ভাই হুয়ায়সা ও মুহায়সা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে গমন করেন।

এ সময় আব্দুর রহমান, যিনি তাদের মধ্যে সব চাইতে কম বয়সের ছিলেন, তার ভাইয়ের ব্যাপারটি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুরু করেন। তখন তিনি বলেনঃ বড়কে সম্মান কর; অথবা তিনি বলেনঃ বড়কে বলতে দাও। তখন হুয়ায়সা ও মুহায়সা (রাযিঃ) নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জন কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কসম করে বলবেঃ সে হত্যা করেছে। তখন তারা বলেঃ আমরা যা দেখিনি, সে ব্যাপারে আমরা কি ভাবে কসম করবো? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাহলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশ ব্যক্তি এ সম্পর্কে কসম করে বলবেঃ তারা এ ব্যাপারে দোষী নয়, বরং দোষ মুক্ত। তখন তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তো কাফির!

রাবী বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে তাদের দিয়াত দিয়ে দেন। রাবী সাহল (রাযিঃ) বলেনঃ আমি একদিন তাদের আস্তাবলে গেলে, সে উট থেকে একটি উট আমাকে পদাঘাত করে। রাবী হাম্মাদ (রাহঃ)ও এরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ বিশর ইবনে মুফাদদাল ও মালিক (রাহঃ) ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ তোমরা কি পঞ্চাশটি কসম খেয়ে তোমাদের নিহত ব্যক্তির হকদার হতে চাও?*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) বলেনঃ কোন মহল্লার যে সমস্ত লোকেরা কতলের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হবে, কেবল তারাই কসম খাবে। আর সে মহল্লার অধিবাসীদের সংখ্যা যদি পঞ্চাশের কম হয়, তা একাধিক কসম দিয়ে পূরণ করতে হবে। এরূপ করাকেই "কাসামা" বলে। কিন্তু কাসামাতে কিসাস ওয়াজিব নয়। অবশ্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে দিয়াত দিতে হবে। - অনুবাদক
৪৪৫৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ هُوَ، وَرِجَالٌ، مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ . قَالُوا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ . فَأَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَذَكَرَ لَهُمْ ذَلِكَ ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ - وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ - وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَبِّرْ كَبِّرْ " . يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذَنُوا بِحَرْبٍ " . فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ " أَتَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ " . قَالُوا لَيْسُوا مُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مِائَةَ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ . قَالَ سَهْلٌ لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৪৪৫৬. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে আবু হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল ও মুহায়না (রাযিঃ) বিপদগ্রস্ত হয়ে খায়বরের দিকে রওয়ানা হন। এ সময় মুহায়সা (রাযিঃ)-কে কোন এক ব্যক্তি এরূপ সংবাদ দেয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল (রাযিঃ)-কে হত্যা করে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ কথা শুনে তিনি ইয়াহুদীদের কাছে গিয়ে বলেনঃ তারা বলেঃ আল্লাহর কসম আমরা তাকে হত্যা করিনি। এরপর তিনি তার কওমের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর তিনি, তার বড় ভাই হুয়ায়াসা এবং আব্দুর রহমান ইবনে সাহল (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর কাছে গমন করেন।

এ সময় মুহায়না (রাযিঃ) যিনি খায়বরের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, তা বর্ণনা করতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বড় ভাইয়ের বলা উচিত। এরপর হুয়ায়সা (রাযিঃ) বর্ণনা শেষ করলে, পুনরায় মুহায়সা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হয়তো ইয়াহুদীরা দিয়াত প্রদান করবে, নয়তো তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে তাদের কাছে পত্র লিখলে তারা জানায়ঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুয়ায়সা ও আব্দুর রহমান (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তোমরা কি কসম খেয়ে তোমাদের ভাইয়ের কিসাস গ্রহণ করতে পার? তারা বলেঃ না। তখন তিনি বলেনঃ তবে ইয়াহুদীরা তোমাদের জন্য শপথ করে বলুক। তারা বলেঃ তারা তো মুসলমান নয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে দিয়াত আদায় করে দেন এবং তিনি তাদের কাছে একশো উট পাঠিয়ে দেন, যা তাদের ঘরে পৌছে যায়। রাবী সাহল (রাযিঃ) বলেনঃ এর থেকে একটা লাল রংের উট আমাকে লাথি মেরেছিল।
৪৪৫৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَكَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَتَلَ بِالْقَسَامَةِ رَجُلاً مِنْ بَنِي نَصْرِ بْنِ مَالِكٍ بِبَحْرَةِ الرُّغَاءِ عَلَى شَطِّ لِيَّةِ الْبَحْرَةِ قَالَ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ مِنْهُمْ . وَهَذَا لَفْظُ مَحْمُودٍ بِبَحْرَةٍ أَقَامَهُ مَحْمُودٌ وَحْدَهُ عَلَى شَطِّ لِيَّةِ الْبَحْرَةِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৪৪৫৭. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু নযর ইবনে মালিকের এক ব্যক্তিকে ’বাহরাতির-রিগা’ নামক স্থানে ’লাইয়াতি বাহারের’ পাশে কাসামার কারণে হত্যা করেছিলেন।

৯. কাসামার দ্বারা কিসাস গ্রহণ না করা।

باب فِي تَرْكِ الْقَوَدِ بِالْقَسَامَةِ

৪৪৫৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ، زَعَمَ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ نَفَرًا مِنْ قَوْمِهِ انْطَلَقُوا إِلَى خَيْبَرَ فَتَفَرَّقُوا فِيهَا فَوَجَدُوا أَحَدَهُمْ قَتِيلاً فَقَالُوا لِلَّذِينَ وَجَدُوهُ عِنْدَهُمْ قَتَلْتُمْ صَاحِبَنَا فَقَالُوا مَا قَتَلْنَاهُ وَلاَ عَلِمْنَا قَاتِلاً . فَانْطَلَقْنَا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقَالَ لَهُمْ " تَأْتُونِي بِالْبَيِّنَةِ عَلَى مَنْ قَتَلَ هَذَا " . قَالُوا مَا لَنَا بَيِّنَةٌ . قَالَ " فَيَحْلِفُونَ لَكُمْ " . قَالُوا لاَ نَرْضَى بِأَيْمَانِ الْيَهُودِ . فَكَرِهَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبْطِلَ دَمَهُ فَوَدَاهُ مِائَةً مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৪৪৫৮. হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... বাশীর ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসার, যার নাম ছিল সাহল ইবনে আবু হাছামা (রাযিঃ) তাকে বলেন যে, আমাদের কিছু লোক খায়বর অভিমুখে রওয়ানা হয়। তারা পথিমধ্যে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় তারা দেখতে পায় যে, তাদের একজন নিহত হয়েছে। তখন তারা ঐ ব্যক্তির লাশ যেখানে ছিল, তাদের বলেঃ তোমরাই একে হত্যা করেছ। তারা বলেঃ না, আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং তার হত্যাকারী কে, তা-ও আমরা জানি না।

এরপর আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে ঘটনা বিবৃতি করলে, তিনি বলেনঃ যে তাকে হত্যা করেছে, তার ব্যাপারে তোমরা আমার সামনে সাক্ষ্য পেশ কর। তখন তারা বলেঃ আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বলেনঃ তবে তারা তোমাদের জন্য কসম করে বলুক। তারা বলেঃ আমরা তো ইয়াহুদীদের শপথে রাযী হতে পারি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা অপছন্দ করেন যে, নিহত ব্যক্তির রক্ত বৃথা যাক। তাই তিনি সাদ্‌কার উট থেকে একশো উট তাদেরকে দিয়াতস্বরূপ প্রদান করেন।
৪৪৫৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَاشِدٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، حَدَّثَنَا عَبَايَةُ بْنُ رِفَاعَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ أَصْبَحَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ مَقْتُولاً بِخَيْبَرَ فَانْطَلَقَ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " لَكُمْ شَاهِدَانِ يَشْهَدَانِ عَلَى قَتْلِ صَاحِبِكُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ يَكُنْ ثَمَّ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَإِنَّمَا هُمْ يَهُودُ وَقَدْ يَجْتَرِئُونَ عَلَى أَعْظَمَ مِنْ هَذَا . قَالَ " فَاخْتَارُوا مِنْهُمْ خَمْسِينَ فَاسْتَحْلِفُوهُمْ " . فَأَبَوْا فَوَدَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৪৪৫৯. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসারদের এক ব্যক্তি খায়বর নামক স্থানে নিহত হয়। তখন তার উত্তরাধিকারিগণ নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের কাছে কি এমন দু’জন সাক্ষী আছে, যারা নিহত ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে? তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেখানে তো কোন মুসলমান ছিল না, তারা তো সবাই ইয়াহুদী। তারা এর চাইতে জঘন্য কাজ করেও চিন্তা করে না। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা তাদের থেকে পঞ্চাশজনকে বেছে নাও এবং তাদের শপথ প্রদান করাও। এতে তারা আপওি করলে, নবী (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে তাদের দিয়াত দিয়ে দেন।

৪৪৬০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُجَيْدٍ، قَالَ إِنَّ سَهْلاً وَاللَّهِ أَوْهَمَ الْحَدِيثَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى يَهُودَ " أَنَّهُ قَدْ وُجِدَ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ قَتِيلٌ فَدُوهُ " . فَكَتَبُوا يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ خَمْسِينَ يَمِينًا مَا قَتَلْنَاهُ وَلاَ عَلِمْنَا قَاتِلاً . قَالَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ مِائَةَ نَاقَةٍ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে বুজাইদ (রাঃ)

৪৪৬০. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে বুজায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! সাহল এ হাদীসের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করেছেন। আসল ঘটনা এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদীদের নিকট এমর্মে পত্র প্রেরণ করেন যে, তোমাদের নিকট এক ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে, কাজেই তোমরা তার দিয়াত আদায় কর। তখন তারা এক জবাবে পঞ্চাশ বার কসম খেয়ে লেখে যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং তার হত্যাকারী কে, তা আমরা জানি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে দিয়াতস্বরূপ নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের একশো উট প্রদান করেন।

৪৪৬১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رِجَالٍ، مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْيَهُودِ وَبَدَأَ بِهِمْ " يَحْلِفُ مِنْكُمْ خَمْسُونَ رَجُلاً " . فَأَبَوْا فَقَالَ لِلأَنْصَارِ " اسْتَحِقُّوا " . قَالُوا نَحْلِفُ عَلَى الْغَيْبِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَجَعَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَةً عَلَى يَهُودَ لأَنَّهُ وُجِدَ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৪৪৬১. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) একজন আনসার থেকে বর্ণনা করেনঃ নবী করীম (ﷺ) ইয়াহুদীদের বলেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন কসম কর। তখন তারা তা অস্বীকার করে। তখন তিনি আনসারদের বলেনঃ তোমরা কসম দিয়ে তোমাদের হক প্রতিষ্ঠিত কর। তখন তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি গায়েবের উপর কসম করবো? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে নিহত ব্যক্তির দিয়াত ইয়াহুদীদের উপর চাপিয়ে দেন। কেননা, তাদের মাঝেই সে ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়।

১০. হত্যাকারী হতে কিসাস গ্রহণ করা সম্পর্কে।

باب يُقَادُ مِنَ الْقَاتِلِ

৪৪৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ جَارِيَةً، وُجِدَتْ، قَدْ رُضَّ رَأْسُهَا بَيْنَ حَجَرَيْنِ فَقِيلَ لَهَا مَنْ فَعَلَ بِكِ هَذَا أَفُلاَنٌ أَفُلاَنٌ حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ فَأَوْمَتْ بِرَأْسِهَا فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرَضَّ رَأْسُهُ بِالْحِجَارَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৬২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা একটি মেয়ের মাথা পাথর দ্বারা দলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কে তোমার সাথে এরূপ দুর্ব্যবহার করেছেন? অমুক, না অমূক; এ পর্যায়ে একজন ইয়াহুদীর নাম উচ্চারিত হলে, সে মাথা হেলিয়ে তা সমর্থন করে। তখন সে ইয়াহুদীকে পাকড়াও করা হলে, সে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করার নির্দেশ দেন।

৪৪৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ يَهُودِيًّا، قَتَلَ جَارِيَةً مِنَ الأَنْصَارِ عَلَى حُلِيٍّ لَهَا ثُمَّ أَلْقَاهَا فِي قَلِيبٍ وَرَضَخَ رَأْسَهَا بِالْحِجَارَةِ فَأُخِذَ فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ حَتَّى يَمُوتَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَيُّوبَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৬৩. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ইয়াহুদী, অলংকারের লোভে জনৈক আনসার সাহাবীর মেয়েকে হত্যা করে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করে এবং তার মাথা পাথর দিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে। সে ধৃত হয়ে নবী (ﷺ)-এর সামনে উপস্থিত হলে, তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে জুরায়হ আইয়ুব (রাহঃ) হতে এরূপই বর্ণনা করেছেন।
৪৪৬৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَسٍ أَنَّ جَارِيَةً، كَانَ عَلَيْهَا أَوْضَاحٌ لَهَا فَرَضَخَ رَأْسَهَا يَهُودِيٌّ بِحَجَرٍ فَدَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِهَا رَمَقٌ فَقَالَ لَهَا " مَنْ قَتَلَكِ فُلاَنٌ قَتَلَكِ " . فَقَالَتْ لاَ . بِرَأْسِهَا . قَالَ " مَنْ قَتَلَكِ فُلاَنٌ قَتَلَكِ " . قَالَتْ لاَ . بِرَأْسِهَا . قَالَ " فُلاَنٌ قَتَلَكِ " . قَالَتْ نَعَمْ . بِرَأْسِهَا فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُتِلَ بَيْنَ حَجَرَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৬৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটা মেয়ে অলংকারে সুসজ্জিত ছিল। তখন (অলংকারের লোভে) জনৈক ইয়াহুদী পাথর মেরে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে মেয়েটির কাছে তখন যান যখন তার দেহে প্রাণের স্পন্দন ছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ কে তোমাকে মেরেছে? অমুক মেরেছে কি? তখন সে মাথা হেলিহো বলেঃ না। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আচ্ছা, অমুক মেরেছে কি? তখনও সে মাথা হেলিয়ে বলেঃ না। এরপর তিনি বলেনঃ আচ্ছা, অমুক ব্যক্তি তোমাকে মেরেছে কি? তখন সে মাথা হেলিয়ে বলেঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে দু’টি পাথর দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

১১. কাফিরের বিনিময়ে কোন মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না।

باب أَيُقَادُ الْمُسْلِمُ بِالْكَافِرِ

৪৪৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَّادٍ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَالأَشْتَرُ، إِلَى عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقُلْنَا هَلْ عَهِدَ إِلَيْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً قَالَ لاَ إِلاَّ مَا فِي كِتَابِي هَذَا - قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ - فَأَخْرَجَ كِتَابًا - وَقَالَ أَحْمَدُ كِتَابًا مِنْ قِرَابِ سَيْفِهِ - فَإِذَا فِيهِ " الْمُؤْمِنُونَ تَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ أَلاَ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا فَعَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ " . قَالَ مُسَدَّدٌ عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ فَأَخْرَجَ كِتَابًا .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে উবাদ (রহঃ)

৪৪৬৫. আহমদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) ..... কায়স ইবনে আব্বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং আশতার ইবনে মালিক (রাহঃ) আলী (রাযিঃ) এর নিকট গমন করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে কি এমন বিশেষ কোন কথা বলে গেছেন, যা সাধারণের নিকট বলেননি? তিনি বলেনঃ না, তবে যা তিনি বলেছেন, তা সবই আমার এ কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। এরপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একটি চিঠি বের করেন, যাতে এরূপ লেখা ছিলঃ সমস্ত মুসলমানের রক্ত সমান এবং সমস্ত মুসলমান অমুসলিমের মুকাবিলায় এক হাতস্বরূপ। নগণ্যতম মুসলমানের উপর অন্যান্য মুসলমানের হক আছে। কিন্তু কোন মুসলমানকে কোন কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না এবং কোন যিম্মীকেও তার (ওয়াদা পূরণের) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যা করা যাবে না। যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আমদানী করবে, এর যিম্মাদারী তারই উপর বর্তাবে। আর যে ব্যক্তি দীন সম্পর্কে নতুন কিছু বলবে, বা যে এরূপ করবে, তার সহযোগিতা করবে; সে ব্যক্তির উপর আল্লাহ, সমস্ত ফিরিশতা এবং সকল মানুষের লা’নত বর্ষিত হবে।

৪৪৬৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَلِيٍّ زَادَ فِيهِ " وَيُجِيرُ عَلَيْهِمْ أَقْصَاهُمْ وَيَرُدُّ مُشِدُّهُمْ عَلَى مُضْعِفِهِمْ وَمُتَسَرِّيهِمْ عَلَى قَاعِدِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৬৬. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, একজন নগণ্য ব্যক্তিও তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে এবং একজন সাহসী যোদ্ধা ও একজন ভীরু যোদ্ধা ও গনিমতের মালের সমান অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি সৈন্যদলে অবস্থান করে যুদ্ধ করবে এবং যে দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে যুদ্ধ করবে, উভয়ই মালে-গনিমতের সমান অংশ পাবে।

১২. যদি কেউ তার স্ত্রীর কাছে অন্য পুরুষকে পায়, সে কি তাকে হত্যা করবে?

باب فِي مَنْ وَجَدَ مَعَ أَهْلِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ

৪৪৬৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَجِدُ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . قَالَ سَعْدٌ بَلَى وَالَّذِي أَكْرَمَكَ بِالْحَقِّ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اسْمَعُوا إِلَى مَا يَقُولُ سَيِّدُكُمْ " . قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ " إِلَى مَا يَقُولُ سَعْدٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৬৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে পায়, তবে সে কি তাকে হত্যা করবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ না। তখন সা’দ (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সম্মানিত করেছেন (আমি অবশ্যই তাকে হত্যা করবো)। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের নেতা কি বলছেন, তা তোমরা শোন।

রাবী আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) বলেনঃ সা’দ কি বলেছে?
৪৪৬৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ لَوْ وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِي رَجُلاً أُمْهِلُهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ قَالَ " نَعَمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৬৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলেনঃ আমি যদি আমার স্ত্রীর কাছে অন্য কোন পুরুষকে পাই, তবে চার ব্যক্তির সাক্ষ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমি কি তাকে ছেড়ে দেব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

১৩. যাকাত আদায়কারীর হাতে কেউ যদি ভুলে আহত হয়, তবে কি করতে হবে।

باب الْعَامِلِ يُصَابُ عَلَى يَدَيْهِ خَطَأً

৪৪৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا جَهْمِ بْنَ حُذَيْفَةَ مُصَدِّقًا فَلاَجَّهُ رَجُلٌ فِي صَدَقَتِهِ فَضَرَبَهُ أَبُو جَهْمٍ فَشَجَّهُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا الْقَوَدَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَكُمْ كَذَا وَكَذَا " . فَلَمْ يَرْضَوْا فَقَالَ " لَكُمْ كَذَا وَكَذَا " . فَلَمْ يَرْضَوْا فَقَالَ " لَكُمْ كَذَا وَكَذَا " . فَرَضُوا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي خَاطِبٌ الْعَشِيَّةَ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . فَقَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ هَؤُلاَءِ اللَّيْثِيِّينَ أَتَوْنِي يُرِيدُونَ الْقَوَدَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِمْ كَذَا وَكَذَا فَرَضُوا أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا لاَ . فَهَمَّ الْمُهَاجِرُونَ بِهِمْ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكُفُّوا عَنْهُمْ فَكَفُّوا ثُمَّ دَعَاهُمْ فَزَادَهُمْ فَقَالَ " أَرَضِيتُمْ " . فَقَالُوا نَعَمْ . قَالَ " إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৪৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) আবু জাহম ইবনে হুযাইফা (রাযিঃ)-কে যাকাত আদায় করার জন্য পাঠায়। তখন তার সাথে এ ব্যাপারে এক ব্যক্তির বচসা হলে, তিনি তাকে মারধর করেন, যাতে তার মাথা ফেটে যায়। তার গোত্রের লোকেরা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কিসাস বা ক্ষতিপূরণ প্রদান করুন। তিনি বলেনঃ তোমরা এ পরিমাণ মাল গ্রহণ কর। তারা তাতে রাযী না হলে, তিনি বলেনঃ তোমরা এ পরিমাণ মাল গ্রহণ কর। এতেও তারা রাযী না হলে, তিনি বলেনঃ তোমরা এ পরিমাণ মাল গ্রহণ কর। তখন তারা তা নিতে সম্মত হয়।

এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি দুপুরে ভাষণ দিয়ে লোকদেরকে তোমাদের সম্মতির কথা জানিয়ে দেব। তখন তারা বলেঃ ঠিক আছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা দেয়ার সময় বলেনঃ লায়ছ গোত্রের এ সব লোকেরা আমার নিকট কিসাস গ্রহণের জন্য এসেছিল, আমি তাদের এ পরিমাণ মাল দিয়েছি এবং তারা তাতে রাযী হয়েছে। এরপর তিনি তাদের বলেনঃ তোমরা কি রাযী হয়েছ? তারা বলেঃ না।

তখন মুহাজিররা তাদের শাস্তি দিতে ইচ্ছা করলে, রাসূলাল্লাহ (ﷺ) তাদের তা থেকে বিরত রাখেন। ফলে তারা বিরত থাকে। এরপর নবী (ﷺ) তাদের আহবান করে আরো কিছু মাল দেয়ার ঘোষণা দেন এবং বলেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট হয়েছে। তখন তারা বলেঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বলেনঃ এখন আমি আমার ভাষণে লোকদেরকে তোমাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে দেই? তখন তারা বলেঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণের মধ্যে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ।

১৪. মারপিটের কিসাস এবং হাকীমের নিজের থেকে কিসাস দেয়া প্রসঙ্গে।

باب الْقَوَدِ مِنَ الضَّرْبَةِ وَقَصِّ الأَمِيرِ مِنْ نَفْسِهِ

৪৪৭০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرٍو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ مُسَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْسِمُ قَسْمًا أَقْبَلَ رَجُلٌ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ فَطَعَنَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُرْجُونٍ كَانَ مَعَهُ فَجُرِحَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَعَالَ فَاسْتَقِدْ " . فَقَالَ بَلْ عَفَوْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৪৭০. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু জিনিস পত্র বন্টন করছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তি তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লে, তিনি তাকে সরাবার উদ্দেশ্যে ধাক্কা দিলে, তাঁর হাতের ছুরির আঘাতে সে ব্যক্তির মুখ যখম হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে ব্যক্তিকে বলেনঃ তুমি এসো এবং আমার থেকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ কর। সে ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি।

৪৪৭১

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي فِرَاسٍ، قَالَ خَطَبَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه فَقَالَ إِنِّي لَمْ أَبْعَثْ عُمَّالِي لِيَضْرِبُوا أَبْشَارَكُمْ وَلاَ لِيَأْخُذُوا أَمْوَالَكُمْ فَمَنْ فُعِلَ بِهِ ذَلِكَ فَلْيَرْفَعْهُ إِلَىَّ أَقُصُّهُ مِنْهُ قَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ لَوْ أَنَّ رَجُلاً أَدَّبَ بَعْضَ رَعِيَّتِهِ أَتَقُصُّهُ مِنْهُ قَالَ إِي وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَقُصُّهُ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَصَّ مِنْ نَفْسِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৪৭১. আবু সালিহ (রাহঃ) ..... আবু ফিরাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) ভাষণ দিতে গিয়ে বলেনঃ আমি আমার কর্মচারীদের এজন্য পাঠাই না যে, তারা তোমাদের শরীরে আঘাত করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেবে। যদি কেউ এরূপ করে, তবে আমাকে জানালে, তার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবো।

আমর ইবনে আস (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ যদি কর্মচারী তার কোন প্রজাকে ভদ্রতা শিখবার জন্য শাস্তি দেয়, তবুও কি আপনি সে জন্য তার থেকে কিসাস গ্রহণ করবেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! যার নিয়ন্ত্রকে আমার জীবন। আমি তার থেকে ক্ষতিপূপুরণ আদায় করবো। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর নিজের পক্ষ হতেও কিসাস আদায় করতে দেখেছি।

১৫. মহিলাদের খুনীকে ক্ষমা করা সম্পর্কে।

باب عَفْوِ النِّسَاءِ عَنِ الدَّمِ

৪৪৭২

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ حِصْنًا، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، يُخْبِرُ عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " عَلَى الْمُقْتَتِلِينَ أَنْ يَنْحَجِزُوا الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ وَإِنْ كَانَتِ امْرَأَةً " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَلَغَنِي أَنَّ عَفْوَ النِّسَاءِ فِي الْقَتْلِ جَائِزٌ إِذَا كَانَتْ إِحْدَى الأَوْلِيَاءِ وَبَلَغَنِي عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ فِي قَوْلِهِ " يَنْحَجِزُوا " . يَكُفُّوا عَنِ الْقَوَدِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৪৭২. দাউদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ মারামারিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের উচিত, কিসাস গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকা। যে অধিক নিকটবর্তী, তার উচিত হত্যাকারীকে ক্ষমা করা; যদিও সে মহিলা হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃيَنْحَجِزُوا শব্দের অর্থ কিসাস গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
৪৪৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ مَنْ قُتِلَ . وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قُتِلَ فِي عِمِّيَّا فِي رَمْىٍ يَكُونُ بَيْنَهُمْ بِحِجَارَةٍ أَوْ ضَرْبٍ بِالسِّيَاطِ أَوْ ضَرْبٍ بِعَصًا فَهُوَ خَطَأٌ وَعَقْلُهُ عَقْلُ الْخَطَإِ وَمَنْ قُتِلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ " . وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ " قَوَدُ يَدٍ " . ثُمَّ اتَّفَقَا " وَمَنْ حَالَ دُونَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَغَضَبُهُ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ " . وَحَدِيثُ سُفْيَانَ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

৪৪৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... তাউস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পরস্পরের প্রতি নিক্ষিপ্ত পাথরে মারা যাবে, অথবা চাবুক বা লাঠির আঘাতে মারা যাবে, এটা ভুলবশতঃ হত্যার অনুরূপ। এর দিয়াত হবে ভুলবশত হত্যার দিয়াতের মত। আর যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হবে, তার হত্যার বিনিময়ে কিসাস দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি মারামারি থামাতে গিয়ে মারা যাবে, তার উপর আল্লাহর লা’নত ও গযব। তার থেকে তাওবা ও ফিদয়া গ্রহণ করা যাবে না এবং তার ফরয ও নফল আমল কবুল করা হবে না। সুফিয়ান (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটি সম্পূর্ণ।

৪৪৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي غَالِبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ سُفْيَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৭৪. মুহাম্মাদ ইবনে আবু গালিব (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এরপর তিনি রাবী সুফিয়ান (রাহঃ) বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৬. দিয়াতের (হত্যার বিনিময়ের) পরিমাণ সম্পর্কে।

باب الدِّيَةِ كَمْ هِيَ

৪৪৭৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ مَنْ قُتِلَ خَطَأً فَدِيَتُهُ مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ ثَلاَثُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَثَلاَثُونَ بِنْتَ لَبُونٍ وَثَلاَثُونَ حِقَّةً وَعَشْرَةٌ بَنِي لَبُونٍ ذَكَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৭৫. হারুন ইবনে যায়দ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুলবশতঃ হত্যার জন্য একশো উট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন; যার ত্রিশটি হবে এক বছর বয়সের, ত্রিশটি দু’বছর বয়সের, ত্রিশটি তিন বছর বয়সের এবং বাকী দশটি দু-তিন বছরের বয়সের হতে হবে।

৪৪৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ كَانَتْ قِيمَةُ الدِّيَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانَمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ ثَمَانِيَةَ آلاَفِ دِرْهَمٍ وَدِيَةُ أَهْلِ الْكِتَابِ يَوْمَئِذٍ النِّصْفُ مِنْ دِيَةِ الْمُسْلِمِينَ قَالَ فَكَانَ ذَلِكَ كَذَلِكَ حَتَّى اسْتُخْلِفَ عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ فَقَامَ خَطِيبًا فَقَالَ أَلاَ إِنَّ الإِبِلَ قَدْ غَلَتْ . قَالَ فَفَرَضَهَا عُمَرُ عَلَى أَهْلِ الذَّهَبِ أَلْفَ دِينَارٍ وَعَلَى أَهْلِ الْوَرِقِ اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا وَعَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَىْ بَقَرَةٍ وَعَلَى أَهْلِ الشَّاءِ أَلْفَىْ شَاةٍ وَعَلَى أَهْلِ الْحُلَلِ مِائَتَىْ حُلَّةٍ . قَالَ وَتَرَكَ دِيَةَ أَهْلِ الذِّمَّةِ لَمْ يَرْفَعْهَا فِيمَا رَفَعَ مِنَ الدِّيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৭৬. ইয়াহয়া ইবনে হাকীম (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় দিয়াতের মূল্যমান ছিল-আট শত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) বা আট হাজার দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা)-এর অনুরূপ। এ সময় আহলে-কিতাব (ইয়াহূদ-নাসারা)-দের জন্য দিয়াতের পরিমাণ ছিল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত দিয়াতের অর্ধেক, যার প্রচলন উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফতের পূর্ব পর্যন্ত ছিল। তিনি খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বলেনঃ এখন উটের দাম বেড়ে গেছে।

রাবী বলেনঃ এরপর উমর (রাযিঃ) দিয়াতের মূল্যমান আটশত দীনার হতে এক হাজার দীনারে এবং আট হাজার দিরহাম হতে বার হাজার দিরহাম নির্ধারিত করেন। আর তিনি গাভীর মালিকদের জন্য দুইশো গাভী এবং বকরীর মালিকদের জন্য দু’হাজার বকরী নির্ধারণ করেন। তিনি যিম্মীদের দিয়াত আগের মত বহাল রাখেন এবং তাতে কিছু বৃদ্ধি করেননি, যেমন তিনি মুসলমানদের দিয়াত বৃদ্ধি করেন।
৪৪৭৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِي الدِّيَةِ عَلَى أَهْلِ الإِبِلِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَعَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَىْ بَقَرَةٍ وَعَلَى أَهْلِ الشَّاءِ أَلْفَىْ شَاةٍ وَعَلَى أَهْلِ الْحُلَلِ مِائَتَىْ حُلَّةٍ وَعَلَى أَهْلِ الْقَمْحِ شَيْئًا لَمْ يَحْفَظْهُ مُحَمَّدٌ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَرَأْتُ عَلَى سَعِيدِ بْنِ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ ذَكَرَ عَطَاءٌ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ مُوسَى . قَالَ وَعَلَى أَهْلِ الطَّعَامِ شَيْئًا لاَ أَحْفَظُهُ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৪৪৭৭. মুসা ইবনে ইসামাঈল (রাহঃ) ..... আতা ইবনে আবু রাবাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিয়াতের ব্যাপারে উটের মালিকদের জন্য একশো উট, গরুর মালিকদের জন্য দুইশো গরু, বকরীর মালিকের জন্য দুই হাজার বকরী, কাপড়ের মালিকের উপর একশো জোড়া কাপড় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি গমের মালিকের জন্য গম দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যার পরিমাণ রাবী মনে রাখতে সক্ষম হননি।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবনে ইয়াকুব - আবু তূমায়লা (রাহঃ) থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আতা (রাহঃ) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরয করেছেন, এরপর তিনি মুসা (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ তিনি গমের বা খাদ্য-শস্যের মালিকের জন্য দিয়াত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; কিন্তু এর পরিমাণ কি, তা আমার মনে নেই।
৪৪৭৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِي دِيَةِ الْخَطَإِ عِشْرُونَ حِقَّةً وَعِشْرُونَ جَذَعَةً وَعِشْرُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَعِشْرُونَ بِنْتَ لَبُونٍ وَعِشْرُونَ بَنِي مَخَاضٍ ذُكُرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৪৭৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুলবশত হত্যার জন্য বিশটি হিককা (চার বছর বয়সের উট), বিশটি জাযা’আ (ভেঁড়া), বিশটি বিনতে মাখায (উটনী), বিশটি বিনতে লাবুন (দুগ্ধবতী উটনী) এবং বিশটি খাসী মাখায (পুরুষ উট) নির্ধারিত করেছেন।

৪৪৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَنِي عَدِيٍّ قُتِلَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دِيَتَهُ اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আদী গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নিহত হলে নবী (ﷺ) তার জন্য বার হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন।

১৭. অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত, ভুলবশত হত্যার দিয়াতের অনুরূপ।

باب دِيَةِ الْخَطَإِ شِبْهِ الْعَمْدِ

৪৪৮০
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ يَوْمَ الْفَتْحِ بِمَكَّةَ فَكَبَّرَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ " . إِلَى هَا هُنَا حَفِظْتُهُ عَنْ مُسَدَّدٍ ثُمَّ اتَّفَقَا " أَلاَ إِنَّ كُلَّ مَأْثُرَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تُذْكَرُ وَتُدْعَى مِنْ دَمٍ أَوْ مَالٍ تَحْتَ قَدَمَىَّ إِلاَّ مَا كَانَ مِنْ سِقَايَةِ الْحَاجِّ وَسِدَانَةِ الْبَيْتِ " . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ إِنَّ دِيَةَ الْخَطَإِ شِبْهِ الْعَمْدِ مَا كَانَ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ مِنْهَا أَرْبَعُونَ فِي بُطُونِهَا أَوْلاَدُهَا " . وَحَدِيثُ مُسَدَّدٍ أَتَمُّ .

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ خَالِدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ مَعْنَاهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৮০. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণ দেন। তিনি তিনবার তাকবীর পাঠের পর বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইল্লাহ নেই, তিনি এক। তিনি তাঁর ওয়াদা পূরণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। রাবী বলেনঃ আমি হাদীসের এ অংশটুকু রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) থেকে সগ্রহ করেছি।

এরপর নবী (ﷺ) বলেনঃ জেনে রাখ! জাহিলী যুগের যে সব ফযীলতের বিষয় আলোচিত হয়ে থাকে, অথবা যে সব খুন ও মালের দাবী আছে, তা সবই আমার পায়ের নীচে; (অর্থাৎ তা সবই বাতিল ঘোষিত হলো)। অবশ্য হাজীদের পানি পান করানো এবং আল্লাহর ঘরের খিদমতের দায়িত্ব পূর্ববৎ বহাল থাকবে, (অর্থাৎ বনু হাশিম ও বনু শায়রা এ দু’টি কাজ করে যাবে)।

নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ শুনে রাখ। অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত, ভুলবশত হত্যার ন্যায়, যা চাবুক বা লাঠির দ্বারা সংঘটিত হয়। এর দিয়াতের পরিমাণ হলে- একশো উট; যার চল্লিশটি হবে গর্ভবতী এবং অবশিষ্টগুলো হবে সেরূপ, যা আগের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটি পরিপূর্ণ।


মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... খালিদ (রাহঃ) থেকে এ সনদ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত।
৪৪৮১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ أَوْ فَتْحِ مَكَّةَ عَلَى دَرَجَةِ الْبَيْتِ أَوِ الْكَعْبَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا رَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ أَيْضًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مِثْلَ حَدِيثِ خَالِدٍ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يَعْقُوبَ السَّدُوسِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَوْلُ زَيْدٍ وَأَبِي مُوسَى مِثْلُ حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثِ عُمَرَ رضى الله عنه .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৪৮১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এরূপ বর্ণনা করেছেন, যেরূপ উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন কাবা শরীফের সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন, অথবা এর চৌকাঠের উপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন।

৪৪৮২

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَضَى عُمَرُ فِي شِبْهِ الْعَمْدِ ثَلاَثِينَ حِقَّةً وَثَلاَثِينَ جَذَعَةً وَأَرْبَعِينَ خَلِفَةً مَا بَيْنَ ثَنِيَّةٍ إِلَى بَازِلِ عَامِهَا .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৪৪৮২. নুফায়লী (রাহঃ) ..... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত ত্রিশটি হিককা, ত্রিশটি জাযা’আ এবং চল্লিশটি উট যাদের বয়স ছয় থেকে নয় বছরের মধ্যে আদায় করার নির্দেশ দেন।

৪৪৮৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه أَنَّهُ قَالَ فِي شِبْهِ الْعَمْدِ أَثَلاَثٌ ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ ثَنِيَّةً إِلَى بَازِلِ عَامِهَا كُلُّهَا خَلِفَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪৮৩. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত পশু দ্বারা তিনভাগে আদায় করতে হবে; যথাঃ তেত্রিশটি হিককা, তেত্রিশটি জাযা’আ, চৌত্রিশটি ছানীয়া (আট-দশ বছর বয়সের উট); যাদের সবই গর্ভবতী হবে।

৪৪৮৪

وَبِهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فِي شِبْهِ الْعَمْدِ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ حِقَّةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ جَذَعَةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ مَخَاضٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৪৮৪. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত চারভাগে আদায় করতে হবে; যথা- পঁচিশটি হিককা, পঁচিশটি জাযা’আ, পঁচিশটি বিনতে লাবুন এবং পঁচিশটি বিনতে মাখায আদায় করতে হবে।

৪৪৮৫

-حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه فِي الْخَطَإِ أَرْبَاعًا خَمْسٌ وَعِشْرُونَ حِقَّةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ جَذَعَةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ مَخَاضٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪৮৫. হান্নাদ (রাহঃ) .... আসিম ইবনু দামরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাযিঃ) বলেছেন, অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত সম্পর্কে এরূপ বলেছেন যে, পঁচিশটি হিককা, তেত্রিশটি জাযা’আ, পঁচিশটি বিনতে লাবুন এবং পঁচিশটি বিনতে মাখায দিয়াত হিসাবে আদায় করতে হবে।

৪৪৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ، عَنْ أَبِي عِيَاضٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فِي الْمُغَلَّظَةِ أَرْبَعُونَ جَذَعَةً خَلِفَةً وَثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ وَفِي الْخَطَإِ ثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ وَعِشْرُونَ بَنُو لَبُونٍ ذُكُورٍ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ مَخَاضٍ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৪৪৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... উছমান ইবনে আফফান ও যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত সম্পর্কে বলেনঃ চল্লিশটি জাযা’আ, ত্রিশটি হিককা ও ত্রিশটি বিনতে লাবুন - দিয়াতস্বরূপ দিতে হবে। তাঁরা ভুলবশত হত্যার দিয়াত সম্পর্কে বলেনঃ ত্রিশটি হিককা, ত্রিশটি বিনতে লাবুন, বিশটি বনু লাবুন (উট) এবং বিশটি বিনতে মাখায উট আদায় করতে হবে।

৪৪৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فِي الدِّيَةِ الْمُغَلَّظَةِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ سَوَاءً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ وَعَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ إِذَا دَخَلَتِ النَّاقَةُ فِي السَّنَةِ الرَّابِعَةِ فَهُوَ حِقٌّ وَالأُنْثَى حِقَّةٌ لأَنَّهُ يَسْتَحِقُّ أَنْ يُحْمَلَ عَلَيْهِ وَيُرْكَبَ فَإِذَا دَخَلَ فِي الْخَامِسَةِ فَهُوَ جَذَعٌ وَجَذَعَةٌ فَإِذَا دَخَلَ فِي السَّادِسَةِ وَأَلْقَى ثَنِيَّتَهُ فَهُوَ ثَنِيٌّ وَثَنِيَّةٌ فَإِذَا دَخَلَ فِي السَّابِعَةِ فَهُوَ رَبَاعٌ وَرَبَاعِيَةٌ فَإِذَا دَخَلَ فِي الثَّامِنَةِ وَأَلْقَى السِّنَّ الَّذِي بَعْدَ الرَّبَاعِيَةِ فَهُوَ سَدِيسٌ وَسَدَسٌ فَإِذَا دَخَلَ فِي التَّاسِعَةِ وَفَطَرَ نَابُهُ وَطَلَعَ فَهُوَ بَازِلٌ فَإِذَا دَخَلَ فِي الْعَاشِرَةِ فَهُوَ مُخْلِفٌ ثُمَّ لَيْسَ لَهُ اسْمٌ وَلَكِنْ يُقَالُ بَازِلُ عَامٍ وَبَازِلُ عَامَيْنِ وَمُخْلِفُ عَامٍ وَمُخْلِفُ عَامَيْنِ إِلَى مَا زَادَ . وَقَالَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ بِنْتُ مَخَاضٍ لِسَنَةٍ وَبِنْتُ لَبُونٍ لِسَنَتَيْنِ وَحِقَّةٌ لِثَلاَثٍ وَجَذَعَةٌ لأَرْبَعٍ وَالثَّنِيُّ لِخَمْسٍ وَرَبَاعٌ لِسِتٍّ وَسَدِيسٌ لِسَبْعٍ وَبَازِلٌ لِثَمَانٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو حَاتِمٍ وَالأَصْمَعِيُّ وَالْجَذُوعَةُ وَقْتٌ وَلَيْسَ بِسِنٍّ . قَالَ أَبُو حَاتِمٍ قَالَ بَعْضُهُمْ فَإِذَا أَلْقَى رَبَاعِيَتَهُ فَهُوَ رَبَاعٌ وَإِذَا أَلْقَى ثَنِيَّتَهُ فَهُوَ ثَنِيٌّ وَقَالَ أَبُو عُبَيْدٍ إِذَا أُلْقِحَتْ فَهِيَ خَلِفَةٌ فَلاَ تَزَالُ خَلِفَةً إِلَى عَشْرَةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا بَلَغَتْ عَشْرَةَ أَشْهُرٍ فَهِيَ عُشَرَاءُ . قَالَ أَبُو حَاتِمٍ إِذَا أَلْقَى ثَنِيَّتَهُ فَهُوَ ثَنِيٌّ وَإِذَا أَلْقَى رَبَاعِيَتَهُ فَهُوَ رَبَاعٌ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৪৪৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) অনিচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত সম্পর্কে সেরূপ বলেছেনঃ যেরূপ উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাবী আবু উবাইদ ও অন্যান্যরা এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, যখন উট বা উটনীর বয়স চার বছর হয়, তখন তাদের বলা হয়, হিক এবং হিককা। কেননা, এ সময় সে ভার বহনের যোগ্য হয় এবং তার উপর সওয়ার হওয়া যায়। এরপর যখন তার বয়স পাঁচ বছর হয়, তখন উটকে জাযা’আ এবং উটনীকে জাযা’আতুন বলা হয়। পরে তাদের বয়স যখন ছয় বছর হয়, তখন তাদের সামনের দাঁত বের হয়, তখন তাদের ছানী বা ছানীয়া বলা হয়। আর উটের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদের রুবা’আ ও রুবা’ইয়্যা বলা হয়। এরপর উটের বয়স যখন আট বছর হয়, এবং রুবা’ইয়্যা পরবর্তী দাঁত নির্গত হয়, তখন তাদের সাকীসুন ও সাদেসুন বলা হয়। আর উটের বয়স যখন ন’বছর হয়, তখন তার পিঠে কুঁজ দেখা দেয়, তখন তাদের বাযিল - এক বছরের, বাযিল - দু’বছরের, এভাবে বলা হয়। এরপর উটের বয়স যখন দশ বছর হয়, তখন তাদের মুখলিফ - এক বছরের, মুখলিফ - দু’বছরের, এভাবে বলা হয়।

নযর ইবনে শুমায়ল (রাহঃ) বলেনঃ এক বছর উটনীকে - বিনতে মাখায, দু’বছর বয়সের উটনীকে বিনতে লাবুন, তিন বছর বয়সের উটনীকে হিককা, চার বছর বয়সের উটনীকে জাযা’আ, পাঁচ বছর বয়সের উটনীকে ছানীয়া, ছয় বছর বয়সের উটনীকে রাবু’আ, সাত বছর বয়সের উটনীকে সাদীস এবং আট বছর উটনীকে বাযিল বলা হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাবী আবু হাতিম ও আছমা’ঈ (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জাযা’আ হলো একটা সময় মাত্র, এটি বিশেষ কোন বয়সের নাম নয়। রাবী আবু হাতিম (রাহঃ) বলেনঃ যখন উটের রুবা’ঈ দাঁত বের হয়, তখন তাকে রুবা’আ উট বলা হয়। রাবী আবু উবাইদা (রাহঃ) বলেনঃ যখন উটনী গর্ভবতী হয়, তখন তাকে ’খিলফা’ বলা হয় এবং দশমাস যখন পূর্ণ হয়, তখন সে উটনীকে ’আশরাউ’ বলা হয়।

রাবী আবু হাতিম (রাহঃ) বলেনঃ যখন উটের সামনের দাঁত রেব হয়, তখন তাকে ’মুছান্না’ এবং যখন তার রুবা’ঈ দাঁত বের হয়, তখন তাকে রুবা’আ উটরূপে আখ্যায়িত করা হয়।

১৮. অঙ্গ-প্রতঙ্গের দিয়াত সস্পর্কে।

باب دِيَاتِ الأَعْضَاءِ

৪৪৮৮

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ غَالِبٍ التَّمَّارِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَصَابِعُ سَوَاءٌ عَشْرٌ عَشْرٌ مِنَ الإِبِلِ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪৪৮৮. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সব আঙ্গুল সমান, এর দিয়াত হলো, দশ-দশটি উট।

৪৪৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ غَالِبٍ التَّمَّارِ، عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ أَوْسٍ، عَنِ الأَشْعَرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَصَابِعُ سَوَاءٌ " . قُلْتُ عَشْرٌ عَشْرٌ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ غَالِبٍ قَالَ سَمِعْتُ مَسْرُوقَ بْنَ أَوْسٍ وَرَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي غَالِبٌ التَّمَّارُ بِإِسْنَادِ أَبِي الْوَلِيدِ وَرَوَاهُ حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي صَفِيَّةَ عَنْ غَالِبٍ بِإِسْنَادِ إِسْمَاعِيلَ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪৪৮৯. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সব আঙ্গুল সমান, তখন আমি বলিঃ প্রত্যেক আঙ্গুলের দিয়াত কি দশ-দশটি উট? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

৪৪৯০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ " . قَالَ يَعْنِي الإِبْهَامَ وَالْخِنْصَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৯০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটি এবং ওটি অর্থাৎ কনিষ্ঠা এবং অনামিকা; দু’টি আঙ্গুলই সমান।

৪৪৯১

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَصَابِعُ سَوَاءٌ وَالأَسْنَانُ سَوَاءٌ الثَّنِيَّةُ وَالضِّرْسُ سَوَاءٌ هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ عَنْ شُعْبَةَ بِمَعْنَى عَبْدِ الصَّمَدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنِ النَّضْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৯১. আব্বাস আনবারী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সব আঙ্গুল সমান এবং সব দাঁত সমান দিয়াতের ব্যাপারে। তা সামনের দাঁত হোক বা পেছনের। আর এটি এবং ওটি ও সমান-সমান অর্থাৎ কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুলও সমান।

৪৪৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَمْزَةَ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الأَسْنَانُ سَوَاءٌ وَالأَصَابِعُ سَوَاءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৯২. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাঁত এবং আঙ্গুলই দিয়াতের ব্যাপারে সমান সমান।

৪৪৯৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ سَوَاءً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহকে মর্যাদার দিক দিয়ে সমান বলে উল্লেখ করেছেন।

৪৪৯৪

حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي خُطْبَتِهِ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ " فِي الأَصَابِعِ عَشْرٌ عَشْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৯৪. হুদাইবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা নবী করীম (ﷺ) তাঁর ভাষণে বলেনঃ আঙ্গুলের জন্য দিয়াত হলো, দশ-দশটি উট। এ সময় তিনি তাঁর পিঠ কাবা ঘরের সাথে ঠেশ দিয়ে রাখেন।

৪৪৯৫
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونُ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الأَسْنَانِ خَمْسٌ خَمْسٌ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِي عَنْ شَيْبَانَ، - وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنْهُ - فَحَدَّثْنَاهُ أَبُو بَكْرٍ، - صَاحِبٌ لَنَا ثِقَةٌ - قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ - عَنْ سُلَيْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَوِّمُ دِيَةَ الْخَطَإِ عَلَى أَهْلِ الْقُرَى أَرْبَعَمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ عَدْلَهَا مِنَ الْوَرِقِ يُقَوِّمُهَا عَلَى أَثْمَانِ الإِبِلِ فَإِذَا غَلَتْ رَفَعَ فِي قِيمَتِهَا وَإِذَا هَاجَتْ رُخْصًا نَقَصَ مِنْ قِيمَتِهَا وَبَلَغَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَيْنَ أَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ إِلَى ثَمَانِمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ عَدْلَهَا مِنَ الْوَرِقِ ثَمَانِيَةَ آلاَفِ دِرْهَمٍ وَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَىْ بَقَرَةٍ وَمَنْ كَانَ دِيَةُ عَقْلِهِ فِي الشَّاءِ فَأَلْفَىْ شَاةٍ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْعَقْلَ مِيرَاثٌ بَيْنَ وَرَثَةِ الْقَتِيلِ عَلَى قَرَابَتِهِمْ فَمَا فَضَلَ فَلِلْعَصَبَةِ " . قَالَ وَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَنْفِ إِذَا جُدِعَ الدِّيَةَ كَامِلَةً وَإِنْ جُدِعَتْ ثَنْدُوَتُهُ فَنِصْفُ الْعَقْلِ خَمْسُونَ مِنَ الإِبِلِ أَوْ عَدْلُهَا مِنَ الذَّهَبِ أَوِ الْوَرِقِ أَوْ مِائَةُ بَقَرَةٍ أَوْ أَلْفُ شَاةٍ وَفِي الْيَدِ إِذَا قُطِعَتْ نِصْفُ الْعَقْلِ وَفِي الرِّجْلِ نِصْفُ الْعَقْلِ وَفِي الْمَأْمُومَةِ ثُلُثُ الْعَقْلِ ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ مِنَ الإِبِلِ وَثُلْثٌ أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ أَوِ الْوَرِقِ أَوِ الْبَقَرِ أَوِ الشَّاءِ وَالْجَائِفَةُ مِثْلُ ذَلِكَ وَفِي الأَصَابِعِ فِي كُلِّ أُصْبُعٍ عَشْرٌ مِنَ الإِبِلِ وَفِي الأَسْنَانِ فِي كُلِّ سِنٍّ خَمْسٌ مِنَ الإِبِلِ وَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ عَقْلَ الْمَرْأَةِ بَيْنَ عَصَبَتِهَا مَنْ كَانُوا لاَ يَرِثُونَ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ مَا فَضَلَ عَنْ وَرَثَتِهَا فَإِنْ قُتِلَتْ فَعَقْلُهَا بَيْنَ وَرَثَتِهَا وَهُمْ يَقْتُلُونَ قَاتِلَهُمْ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ لِلْقَاتِلِ شَىْءٌ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَارِثٌ فَوَارِثُهُ أَقْرَبُ النَّاسِ إِلَيْهِ وَلاَ يَرِثُ الْقَاتِلُ شَيْئًا " . قَالَ مُحَمَّدٌ هَذَا كُلُّهُ حَدَّثَنِي بِهِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৯৫. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়েব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ দাঁতের দিয়াত হলো পাঁচটি উট।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমার গ্রন্থে শায়বান (রাহঃ) সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছি; কিন্তু আমি তা তার থেকে শুনিনি। এরপর আবু বকর নামক আমাদের একজন সাথী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, যিনি আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য। তিনি শায়াবান (রাহঃ) হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) হতে, সুলাইমান ইবনে মুসা (রাহঃ) হতে, আমর ইবনে শু’আয়েব (রাহঃ) হতে, তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুলবশত হত্যার জন্য বস্তীবাসীদের উপর চারশো দীনার অথবা এর সম-মূল্যের দিরহাম দিয়াত স্বরূপ ধার্য করেন। আর এই মূল্য ছিল-উটের মূল্যের উপর স্থির কৃত।

তিনি দুষ্প্রাপ্যতার সময় উটের মূল্য বাড়িয়ে দিতেন, আর আমদানী বেশী হওয়ার কারণে যখন তার দাম কমে যেত, তখন তিনি দিয়াতের জন্য ধার্যকৃত মূল্যমান কমিয়ে দিতেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানার দিয়াতের পরিমাণ চারশো দীনার হতে আটশো দীনার পর্যন্ত পৌছাতো; যার মূল্যমান রূপার হিসাবে আট হাজার দিরহাম হতো। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গরুর মালিকদের উপর দিয়াত হিসাবে দু’শো গরু নির্ধারণ করেন এবং যাদের উপর বকরীর দিয়াত ওয়াজিব হতো, তিনি তাদের দু’হাজার বকরী দেয়ার নির্দেশ দিতেন।

রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কারো নাক কাটা যায়, তবে এর ফলে সে পূর্ণ দিয়াত পাবে। আর যদি কেবল নাকের মাথা কাটা যায় তবে সে অর্ধেক দিয়াত পাবে। অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট বা এর সম-মূল্যের সোনা বা রূপা, অথবা একশো গরু বা এক হাজার বকরী। আর কারো এক হাত কাটা গেলে, সে অর্ধেক দিয়াত পাবে। এভাবে এক পা কাটা গেলে, সে ও অর্ধেক দিয়াত পাবে। আর যদি কারো মাথায় যখম হয়, তবে তাকে এজন্য দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ প্রদান করতে হবে; যথাঃ তেত্রিশটি উট বা এর সম-মূল্যের সোনা বা রূপা। গরু ও বকরীর ক্ষেত্রে নির্দেশ এরূপই এবং পেটের দিয়াতের নির্দেশও এরূপ। আর আঙ্গুলের ব্যাপারে, প্রতিটি আঙ্গুলের জন্য বিনিময় হলো- দশটি উট এবং দাঁতের ব্যাপারে প্রতিটি দাঁতের বিনিময় হলো- পাঁচটি উট যা দিয়াত স্বরূপ আদায় করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ মহিলার দিয়াত তার আত্মীয়দের মাঝে বন্টিত হবে এবং তারা হবে ঐ ধরনের লোক, যারা নিকটাত্মীদের মাঝে বণ্টনের পর তার অধিকারী হবে। আর যদি কোন মহিলা নিহত হয়, তবে তার দিয়াত, তার উত্তরাধিকারিগণের মাঝে বন্টিত হবে এবং তারাই হত্যাকারীর নিকট হতে ’কিসাস’ গ্রহণ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ হত্যাকারীর উত্তরাধিকারিগণ তার সম্পদের অধিকারী হবে না। আর যদি নিহত ব্যক্তির কোন ওয়ারিছ না থাকে, তবে এর পরবর্তী নিকটাত্মীয়গণ এর অধিকারী হবে এবং হত্যাকারী ব্যক্তি কোন সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে না।
৪৪৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ الْعَامِلِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ - عَنْ سُلَيْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَقْلُ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظٌ مِثْلُ عَقْلِ الْعَمْدِ وَلاَ يُقْتَلُ صَاحِبُهُ " . قَالَ وَزَادَنَا خَلِيلٌ عَنِ ابْنِ رَاشِدٍ " وَذَلِكَ أَنْ يَنْزُوَ الشَّيْطَانُ بَيْنَ النَّاسِ فَتَكُونَ دِمَاءٌ فِي عِمِّيَّا فِي غَيْرِ ضَغِينَةٍ وَلاَ حَمْلِ سِلاَحٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ গুপ্তহত্যার অপরাধ ইচ্ছাকৃত হত্যার ন্যায়, যা কঠিন অপরাধ। কিন্তু তার হত্যাকারীকে কতল করা যাবে না।

রাবী খলীল (রাহঃ) ইবনে রাশীদ হতে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, গুপ্তহত্যা একটি শয়তানী- ফিতনা স্বরূপ; যার ফলে মানুষেরা পরস্পর মারামারিতে লিপ্ত হয়; অথচ এর হত্যাকারীর পরিচয় জানা যায় না। আর সাধারণত এরূপ হত্যা হাতিয়ার ছাড়াই হয়ে থাকে।
৪৪৯৭

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي الْمُعَلِّمَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৯৭. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হাড়ে যখম হলে এর দিয়াত হবে পাঁচটি উট।

৪৪৯৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْعَيْنِ الْقَائِمَةِ السَّادَّةِ لِمَكَانِهَا بِثُلُثِ الدِّيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৪৯৮. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়েব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চোখের ব্যাপারে, যা স্বস্থানে অবস্থিত থাকা সত্ত্বেও এর দৃষ্টি শক্তি বিনষ্ট হয়ে যায়, এজন্য দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন।

১৯. গর্ভের-সন্তান দিয়াত সম্পর্কে।

باب دِيَةِ الْجَنِينِ

৪৪৯৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ نَضْلَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، كَانَتَا تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ هُذَيْلٍ فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِعَمُودٍ فَقَتَلَتْهَا وَجَنِينَهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُ الرَّجُلَيْنِ كَيْفَ نَدِي مَنْ لاَ صَاحَ وَلاَ أَكَلَ وَلاَ شَرِبَ وَلاَ اسْتَهَلَّ . فَقَالَ " أَسَجْعٌ كَسَجْعِ الأَعْرَابِ " . وَقَضَى فِيهِ بِغُرَّةٍ وَجَعَلَهُ عَلَى عَاقِلَةِ الْمَرْأَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৪৪৯৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শু’বা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযায়ল গোত্রের জনৈক ব্যক্তির দু’টি স্ত্রী ছিল। যার একজন অন্যজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার গর্ভস্থিত সন্তান মেরে ফেলে। তখন তারা এ ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর কাছে মামলা দায়ের করে। এ সময় তাদের একজন বলেনঃ আমরা সে সন্তানের দিয়াত কিরূপে দেব, যে কাঁদেনি, খাদ্য গ্রহণ করেনি, পান করেনি এবং চিৎকারও করেনি? নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি গ্রাম্য লোকের মত ছন্দ করে কথা বলছো! এরপর তিনি হত্যাকারী মহিলার আত্মীয়-স্বজনের উপর ঐ মৃত সন্তানের দিয়াত স্বরূপ একটি গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেন।

৪৫০০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . وَزَادَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دِيَةَ الْمَقْتُولَةِ عَلَى عَصَبَةِ الْقَاتِلَةِ وَغُرَّةً لِمَا فِي بَطْنِهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الْحَكَمُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ .

বর্ণনাকারী: মানসুর ইবনে মু'তামির (রহঃ)

৪৫০০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... মনসুর (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) নিহত সন্তানের দিয়াত, হত্যাকারী মহিলার আত্মীয়-স্বজনের উপর নির্ধারণ করেন।

৪৫০১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّ عُمَرَ، اسْتَشَارَ النَّاسَ فِي إِمْلاَصِ الْمَرْأَةِ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيهَا بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ . فَقَالَ ائْتِنِي بِمَنْ يَشْهَدُ مَعَكَ . فَأَتَاهُ بِمُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ - زَادَ هَارُونُ - فَشَهِدَ لَهُ يَعْنِي ضَرَبَ الرَّجُلُ بَطْنَ امْرَأَتِهِ .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৪৫০১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) গর্ভস্থিত সন্তান হত্যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক পরামর্শ সভার আয়োজন করেন। তখন মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) বলেনঃ একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট উপস্থিত ছিলাম; এ সময় তিনি এর জন্য একটি দাস বা দাসী আযাদ করার জন্য নির্দেশ দেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তুমি তোমার বক্তব্যের সমর্থনে অন্য এক ব্যক্তিকে সাক্ষীরূপে পেশ কর। তখন তিনি মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ)-কে আনলে, তিনি তার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

৪৫০২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنَ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عُمَرَ، بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৫০২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) হতে এরূপই বর্ণিত আছে। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীস হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাহঃ) এবং হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) সূত্রে উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযিঃ) বলেছেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি আবু উবাইদা (রাযিঃ) থেকে জানতে পেরেছি যে, গর্ভর্তপাতকে ’ইমলাস’ বলা হয়। আর ’ইমলাস’ অর্থ পিছলানো। কেননা, গর্ভবতী স্ত্রীলোক প্রসাবের সময় বাচ্চাকে পিছলিয়ে দেয়। এভাবে যদি কিছু হাত থেকে পিছলে যায়, তবে তাকে ’মালাস’ বলা হয়।
৪৫০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْعُودٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ سَأَلَ عَنْ قَضِيَّةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَامَ إِلَيْهِ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ فَقَالَ كُنْتُ بَيْنَ امْرَأَتَيْنِ فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِمِسْطَحٍ فَقَتَلَتْهَا وَجَنِينَهَا فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنِينِهَا بِغُرَّةٍ وَأَنْ تُقْتَلَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ الْمِسْطَحُ هُوَ الصَّوْبَجُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ أَبُو عُبَيْدٍ الْمِسْطَحُ عُودٌ مِنْ أَعْوَادِ الْخِبَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪৫০৩. মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ (রাহঃ) .... উমর (রাযিঃ) এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) গর্ভস্থিত সন্তান হত্যার ব্যাপারে কি নির্দেশ দিতেন? তখন হামল ইবনে মালিক ইবনে নাবিগা (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি দু’জন মহিলার মাঝখানে ছিলাম। এদের একজন অপরজনকে কাঠ দিয়ে আঘাত করে; ফলে সে মারা যায় এবং তার গর্ভের সন্তানও মারা যায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সন্তানের জন্য দিয়াত স্বরূপ একটি গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেন এবং হত্যাকারী মহিলাকে কতলের জন্য হুকুম দেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ নযর ইবনে শুমায়ল (রাযিঃ) বলেনঃ এক কাঠ ছিল রুটি পাক করার জন্য সংগৃহীত কাঠ। রাবী আবু উবাইদ (রাহঃ) বলেনঃ তা ছিল তাঁবুর একটি খুঁটি।
৪৫০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ قَامَ عُمَرُ رضى الله عنه عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ لَمْ يَذْكُرْ وَأَنْ تُقْتَلَ . زَادَ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَوْ لَمْ أَسْمَعْ بِهَذَا لَقَضَيْنَا بِغَيْرِ هَذَا .

বর্ণনাকারী: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

৪৫০৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... তাউস (রাহঃ) উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা তিনি মিম্বরের উপর দাঁড়ান। এরপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে সেখানে উল্লেখ নেই যে, তিনি সে মহিলাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তবে এখানে অতিরিক্ত উল্লেখ আছে যে, তিনি একটা দাস বা দাসী দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহু আকবার! যদি আমি এ হুকুম না শুনতাম, তবে আমি অন্যরূপ নির্দেশ দিতাম।

৪৫০৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّمَّارُ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ طَلْحَةَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قِصَّةِ حَمَلِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ فَأَسْقَطَتْ غُلاَمًا قَدْ نَبَتَ شَعْرُهُ مَيِّتًا وَمَاتَتِ الْمَرْأَةُ فَقَضَى عَلَى الْعَاقِلَةِ الدِّيَةَ . فَقَالَ عَمُّهَا إِنَّهَا قَدْ أَسْقَطَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ غُلاَمًا قَدْ نَبَتَ شَعْرُهُ . فَقَالَ أَبُو الْقَاتِلَةِ إِنَّهُ كَاذِبٌ إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا اسْتَهَلَّ وَلاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلَ فَمِثْلُهُ يُطَلُّ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَسَجْعَ الْجَاهِلِيَّةِ وَكَهَانَتَهَا أَدِّ فِي الصَّبِيِّ غُرَّةً " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ اسْمُ إِحْدَاهُمَا مُلَيْكَةَ وَالأُخْرَى أُمَّ غُطَيْفٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫০৫. সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হামল ইবনে মালিকের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেনঃ সে স্ত্রীলোকটির গর্ভস্থিত সন্তান, যার মাথায় চুল উঠেছিল, সে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ট হয় এবং মহিলাটিও মারা যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারী মহিলার আত্মীয়-স্বজন হতে দিয়াত আদায় করেন। তখন নিহত মহিলার চাচা বলেনঃ হে আল্লাহর নবী! সে মহিলার যে বাচ্চাটির গর্ভপাত হয়েছে, তার মাথায় চুল আছে। তখন হত্যাকারী মহিলার পিতা বলেঃ আল্লাহর শপথ! সে মিথ্যা বলেছে। সে বাচ্চাটি কাঁদেনি এবং খাদ্য-পানীয় ও গ্রহণ করেনি। অতএব এরূপ বাচ্চার খুনের বিনিময় কিরূপে হতে পারে! তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তো জাহিলী যুগের মত ছন্দে-বন্দে কথা বলছো, যেরূপ যাদুকররা বলতো? তুমি ঐ মৃত সন্তানের বিনিময়ে একটি গোলাম দিয়ে দাও। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ উক্ত দু’জন মহিলার মধ্যে একজনের নাম ছিল মুলায়কা এবং অপর জনের নাম ছিল গুতায়ফ।

৪৫০৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، مِنْ هُذَيْلٍ قَتَلَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا زَوْجٌ وَوَلَدٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَةَ الْمَقْتُولَةِ عَلَى عَاقِلَةِ الْقَاتِلَةِ وَبَرَّأَ زَوْجَهَا وَوَلَدَهَا . قَالَ فَقَالَ عَاقِلَةُ الْمَقْتُولَةِ مِيرَاثُهَا لَنَا قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ مِيرَاثُهَا لِزَوْجِهَا وَوَلَدِهَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৫০৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযায়ল গোত্রের দু’জন মহিলার একজন অপরজনকে হত্যা করেছিল এবং তাদের স্বামী ও সন্তানাদি ছিল। তখন নবী (ﷺ) নিহত মহিলার দিয়াত, হত্যাকারী মহিলার আত্মীয়-স্বজন থেকে আদায় করে দেন এবং তার স্বামী ও সন্তানদের এ থেকে নিষ্কৃতি দেন। তখন নিহত মহিলার আত্মীয়-স্বজনেরা এরূপ দাবী করে যে, এ দিয়াতের মালিক আমরা। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ না, এর মালিক হবে তার স্বামী ও সন্তানেরা।

৪৫০৭

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِحَجَرٍ فَقَتَلَتْهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَةَ جَنِينِهَا غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ فَقَالَ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَغْرَمُ دِيَةَ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلَ وَلاَ نَطَقَ وَلاَ اسْتَهَلَّ فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ " . مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫০৭. ওয়াহাব ইবনে বায়ান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযায়ল গোত্রের দু’ মহিলা মারামারি করার সময়, একে অপরকে পাথর দিয়ে আঘাত করে। যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। তখন সে মহিলার আত্মীয়-স্বজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মামলা দায়ের করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গর্ভস্থিত মৃত সন্তানের জন্য দিয়াতস্বরূপ একটি দাস বা দাসী দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং তা হত্যাকারী মহিলার আত্মীয়-স্বজনদের পরিশোধ করতে বলেন।

এরপর তিনি ঐ দিয়াতের মালের উত্তরাধিকারী হিসাবে নিহত মহিলার স্বামী ও সন্তানদের নির্ধারিত করেন। তখন হামল ইবনে মালিক ইবনে নাবিগা হুযালী বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সে বাচ্চার দিয়াত কিরূপে দেব, যে কাঁদেনি, খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করেনি এবং কথাও বলেনি? তার খুনের বিনিময় তো বাতিল যোগ্য। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এ ব্যক্তি ছন্দ করে যে ভাবে কথা বলছে, তাতে মনে হচ্ছে, সে যাদুকরদের ভাই।
৪৫০৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ ثُمَّ إِنَّ الْمَرْأَةَ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا بِالْغُرَّةِ تُوُفِّيَتْ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَنَّ مِيرَاثَهَا لِبَنِيهَا وَأَنَّ الْعَقْلَ عَلَى عَصَبَتِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫০৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে মহিলার জন্য দাস বা দাসী প্রদান করতে নির্দেশ দেন! তার সম্পর্কে বলেনঃ তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে তার সন্তানের এবং দিয়াতের মালিক হবে আসাবাগণ।

৪৫০৯

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، حَذَفَتِ امْرَأَةً فَأَسْقَطَتْ فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ فِي وَلَدِهَا خَمْسَمِائَةِ شَاةٍ وَنَهَى يَوْمَئِذٍ عَنِ الْحَذْفِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا الْحَدِيثُ خَمْسَمِائَةِ شَاةٍ . وَالصَّوَابُ مِائَةُ شَاةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪৫০৯. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) .... বু্বায়দা (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা অপর এক মহিলাকে পাথর দিয়ে আঘাত করলে, তার গর্ভপাত ঘটে। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলে, তিনি সে বাচ্চার দিয়াত স্বরূপ পাঁচশো বকরী প্রদানের নির্দেশ দেন এবং সেদিন হতে, সে মহিলাকে পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হাদীসে পাঁচশো বকরীর কথা উল্লেখ আছে। তবে সঠিক ব্যাপার এই যে, দিয়াত স্বরূপ একশো বকরী প্রদান করা হয়।
৪৫১০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ أَوْ فَرَسٍ أَوْ بَغْلٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَخَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو لَمْ يَذْكُرَا أَوْ فَرَسٍ أَوْ بَغْلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫১০. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গর্ভস্থিত সন্তান হত্যার জন্য দিয়াত স্বরূপ দাস-দাসী, ঘোড়া বা খচ্চর দেওয়ার নির্দেশ দেন।

৪৫১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْعَوَقِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَجَابِرٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ الْغُرَّةُ خَمْسُمِائَةِ دِرْهَمٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ رَبِيعَةُ الْغُرَّةُ خَمْسُونَ دِينَارًا .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৪৫১১. মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) ...... ইমাম শাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দাস-দাসীর মূল্য হলো পাঁচশো দিরহাম। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাবী’আ (রাহঃ) বলেছেনঃ গুররা বা দাস-দাসীর মূল্য পঞ্চাশ দীনার।

২০. মুকাতিবের* দিয়াত সম্পর্কে।

باب فِي دِيَةِ الْمُكَاتَبِ

৪৫১২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَحَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ هِشَامٍ، وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دِيَةِ الْمُكَاتَبِ يُقْتَلُ يُودَى مَا أَدَّى مِنْ مُكَاتَبَتِهِ دِيَةَ الْحُرِّ وَمَا بَقِيَ دِيَةَ الْمَمْلُوكِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫১২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিহত মুকাতিব গোলামের দিয়াত সম্পর্কে এরূপ নির্দেশ দেন যে, সে তার মুক্তির জন্য যত পরিমাণ টাকা পরিশোধ করে থাকবে, ঐ অংশের দিয়াত, স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের অনুরূপ দিতে হবে এবং বাকী অংশ কৃতদাসের মত অর্থাৎ অর্ধমূল্য।

* দাসমুক্ত হওয়ার জন্য নির্ধারিত মূল আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কৃতদাসকে “মুকাতিব” বলা হয়। -অনুবাদক

২০. মুকাতিবের দিয়াত সম্পর্কে।

باب فِي دِيَةِ الْمُكَاتَبِ

৪৫১৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَصَابَ الْمُكَاتَبُ حَدًّا أَوْ وَرِثَ مِيرَاثًا يَرِثُ عَلَى قَدْرِ مَا عَتَقَ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وُهَيْبٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَرْسَلَهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَإِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَهُ إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ قَوْلَ عِكْرِمَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন মুকাতিব গোলাম শাস্তিযোগ্য কোন কাজ করবে অথবা কোন সম্পদের মালিক হবে, তখন তার যত অংশ আযাদ হবে, তত অংশের মালিক হবে।

২১. যিম্মীর দিয়াত সম্পর্কে।

باب فِي دِيَةِ الذِّمِّيِّ

৪৫১৪

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دِيَةُ الْمُعَاهِدِ نِصْفُ دِيَةِ الْحُرِّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৫১৪. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যিম্মীর দিয়াত হলো স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের অর্ধেক।

২২. কোন ব্যক্তি কারো সাথে মারামারি করার সময়, তাকে প্রতিহত করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يُقَاتِلُ الرَّجُلَ فَيَدْفَعُهُ عَنْ نَفْسِهِ

৪৫১৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَاتَلَ أَجِيرٌ لِي رَجُلاً فَعَضَّ يَدَهُ فَانْتَزَعَهَا فَنَدَرَتْ ثَنِيَّتُهُ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَهْدَرَهَا وَقَالَ " أَتُرِيدُ أَنْ يَضَعَ يَدَهُ فِي فِيكَ تَقْضَمُهَا كَالْفَحْلِ " . قَالَ وَأَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَهْدَرَهَا وَقَالَ بَعُدَتْ سِنُّهُ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবনে মুনয়া (রাঃ)

৪৫১৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনে ইয়া’লা (রাহঃ) তার পিতা ইয়া’লা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার একজন কর্মচারী অপর এক ব্যক্তির সাথে মারামারি করার সময় তার হাতে কাঁমড় দেয়, এ সময় সে তার হাত টেনে নিলে কর্মচারীর সামনের দাঁত ভেঙে যায়। তখন সে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করে। কিন্তু নবী (ﷺ) তাকে এ ব্যাপারে কোন দিয়াত প্রদান করেননি, বরং এটিকে বেহুদা আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেনঃ তুমি কি চাও সে তার হাত তোমার মুখে রাখুক, আর তুমি তাকে উটের মত কাঁমড়ে দাও?

রাবী বলেনঃ আবু মুলায়কা (রাহঃ) তার দাদা হতে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর (রাযিঃ) দাঁত দিয়ে কাঁমড়ানোর জন্য কোন দিয়াত প্রদান করেননি। বরং তিনি বলেনঃ তার দাঁত ভেঙে যাক।
৪৫১৬

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، بِهَذَا زَادَ ثُمَّ قَالَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِلْعَاضِّ " إِنْ شِئْتَ أَنْ تُمَكِّنَهُ مِنْ يَدِكَ فَيَعَضَّهَا ثُمَّ تَنْزِعَهَا مِنْ فِيهِ " . وَأَبْطَلَ دِيَةَ أَسْنَانِهِ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

৪৫১৬. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) .... ইয়া’লা ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) যারা দাঁত দিয়ে কাঁমড়ায় তাদের সম্পর্কে বলেছেনঃ যদি তুমি চাও, তবে এরূপ হতে পারে যে, তুমি তোমার হাত তার মুখের মধ্যে দেবে, যাতে সে কাঁমড়াতে পারে। এরপর তুমি তোমার হাত তার মুখ থেকে টেনে নেবে। নবী (ﷺ) সে ব্যক্তির দাঁতের জন্য কোন দিয়াত প্রদান করেননি।

২৩. চিকিৎসক না হয়ে চিকিৎসা করলে - তার শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ تَطَبَّبَ وَلاَ يُعْلَمُ مِنْهُ طِبٌّ فَأَعْنَتَ

৪৫১৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَنَّ الْوَلِيدَ بْنَ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَهُمْ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَطَبَّبَ وَلاَ يُعْلَمُ مِنْهُ طِبٌّ فَهُوَ ضَامِنٌ " . قَالَ نَصْرٌ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ الْوَلِيدُ لاَ نَدْرِي هُوَ صَحِيحٌ أَمْ لاَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৫১৭. নসর ইবনে আসিম (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চিকিৎসা-বিদ্যা সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হয়ে চিকিৎসা করবে, সে যিম্মাদার হবে।*

* অর্থাৎ যে ব্যক্তি বিজ্ঞ চিকিৎসক না হয়ে চিকিৎসা করে এবং তার ভুল ঔষধ প্রয়োগের ফলে কোন লোক মারা যায়, তবে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। - অনুবাদক
৪৫১৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنِي بَعْضُ الْوَفْدِ الَّذِينَ، قَدِمُوا عَلَى أَبِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا طَبِيبٍ تَطَبَّبَ عَلَى قَوْمٍ لاَ يُعْرَفُ لَهُ تَطَبُّبٌ قَبْلَ ذَلِكَ فَأَعْنَتَ فَهُوَ ضَامِنٌ " . قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ أَمَا إِنَّهُ لَيْسَ بِالنَّعْتِ إِنَّمَا هُوَ قَطْعُ الْعُرُوقِ وَالْبَطُّ وَالْكَىُّ .

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ مُسَدَّدٌ - خَطَبَ يَوْمَ الْفَتْحِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ إِنَّ كُلَّ مَأْثُرَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ دَمٍ أَوْ مَالٍ تُذْكَرُ وَتُدْعَى تَحْتَ قَدَمَىَّ إِلاَّ مَا كَانَ مِنْ سِقَايَةِ الْحَاجِّ وَسِدَانَةِ الْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَلاَ إِنَّ دِيَةَ الْخَطَإِ شِبْهِ الْعَمْدِ مَا كَانَ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ مِنْهَا أَرْبَعُونَ فِي بُطُونِهَا أَوْلاَدُهَا ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ خَالِدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ مَعْنَاهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৫১৮. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আব্দুল আযীয ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতার নিকট যারা আসতেন তাদের বর্ণনা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ডাক্তার না হয়ে রোগীর চিকিৎসা করে এবং তার ডাক্তার হওয়া সম্পর্কে যদি কেউ না মানে, আর তার চিকিৎসার দ্বারা কারো ক্ষতি হয়! তবে সে যিম্মাদার হবে। যেমন- কেউ যদি রক্ত মোক্ষম করতে গিয়ে কোন শিরা কেটে ফেলে, অথবা বড় করে কাটে বা ফাঁড়ে, অথবা এমনভাবে দাগ দেয়, যাতে রোগী মারা যায়। তবে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে।

সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণ দেয়ার সময় তিনবার ’আল্লাহু আকবার’ বলার পর বলেন, ’’আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তিনি তাঁর ওয়াদাকে বাস্তাবায়িত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই (কাফিরদের) দলগুলোকে পরাজিত করেছেন।’’ আমি এ পর্যন্ত মুসাদ্দাদ থেকে মুখস্থ করেছি। অতঃপর উভয়ের বর্ণনা মিলে গেছে। ’’জেনে রাখো! অন্ধকার যুগে কিসাসের ব্যাপারে যেসব বংশীয় মর্যাদার দাবি করা হতো তা আমার দু’ পদতলে প্রোথিত। কিন্তু হাজীদের পানি পান করানো ও কা’বা ঘরের খেদমতের প্রথা আগের মহো বহাল থাকবে। অতঃপর তিনি বলেন, জেনে রাখো! ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ হলো ভুলবশত নরহত্যা যা চাবুক বা লাঠির আঘাতে হয়ে থাকে, এজন্য একশো উট দিয়া দিতে হবে যার মধ্যে চল্লিশটি উষ্ট্রী হবে গর্ভবর্তী।

মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... খালিদ (রাহঃ) থেকে এ সনদ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত।

২৪. দাঁতের কিসাস সম্পর্কে।

باب الْقِصَاصِ مِنَ السِّنِّ

৪৫১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَسَرَتِ الرُّبَيِّعُ أُخْتُ أَنَسِ بْنِ النَّضْرِ ثَنِيَّةَ امْرَأَةٍ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى بِكِتَابِ اللَّهِ الْقِصَاصَ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا الْيَوْمَ . قَالَ " يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ " . فَرَضُوا بِأَرْشٍ أَخَذُوهُ فَعَجِبَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ قِيلَ لَهُ كَيْفَ يُقْتَصُّ مِنَ السِّنِّ قَالَ تُبْرَدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৫১৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস ইবনে নযর (রাযিঃ) এর বোন রুবাইয়া কোন এক মহিলার দাঁত ভেঙে দেয়। তারা নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলে, তিনি আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুসারে কিসাসের ফায়সাসা দেন। তখন আনাস ইবনে নযর বলেনঃ (ইয়া রাসূলাল্লাহ!) ঐ জাতের কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আপনি আজ তার দাঁত ভাঙবেন না। তিনি বলেনঃ হে আনাস! আল্লাহর কিতাবের হুকুম হলো কিসাসের! আর যার দাঁত ভেঙে গিয়েছিল, তার ওয়ারিছরা দিয়াত গ্রহণে সম্মত হয়। তখন নবী (ﷺ) আশ্চর্যন্বিত হয়ে বলেনঃ আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে, যদি তারা আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কসম খায়, তখন আল্লাহ তা সত্যে পরিণত করে দেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি শুনেছি, আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, দাঁতের কিসাস কিভাবে নেয়া হবে? তিনি বলেনঃ উকা দিয়ে ঘষতে হবে। (অর্থাৎ দাঁত ভেঙে দিতে হবে।)

২৫. কোন পশু যদি পা দিয়ে লাথি মারে - সে সম্পর্কে।

باب فِي الدَّابَّةِ تَنْفَحُ بِرِجْلِهَا

৪৫২০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرِّجْلُ جُبَارٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫২০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পশুর পায়ের আঘাত ধর্তব্য নয়। (অর্থাৎ এতে কোন দিয়াত নেই।)

৪৫২১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْعَجْمَاءُ الْمُنْفَلِتَةُ الَّتِي لاَ يَكُونُ مَعَهَا أَحَدٌ وَتَكُونُ بِالنَّهَارِ وَلاَ تَكُونُ بِاللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫২১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন চতুষ্পদ পশুর ক্ষতি করা নিরর্থক। একইভাবে খনি বা কূপের মধ্যে পড়ে কেউ মারা গেলে, তার হুকুমও এরূপ। আর কেউ গুপ্ত ধন-ভাণ্ডার পেলে, তার এক-পঞ্চমাংশ সরকারী তহবিলে দেয়া ওয়াজিব।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ চতুষ্পদ জন্তু দ্বারা সে সব পশুকে বুঝানো হয়েছে, যাদের সাথে কেউ থাকে না, তারা দিনে ক্ষতি করে, রাতে না।

২৬. সে আগুন সম্পর্কে, যা ছড়িয়ে পড়ে।

باب فِي النَّارِ تَعَدَّى

৪৫২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ح وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ الصَّنْعَانِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " النَّارُ جُبَارٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৫২২. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আগুনও ধর্তব্যের মধ্যে নয়।*

* যদি কেউ নিজের ক্ষেতে আগুন জ্বালায়, আর তা অন্যের ঘর বা জিনিসে বাতাসে উড়ে গিয়ে লাগে, তবে এতে কোন দিয়াত দিতে হবে না। - অনুবাদক

২৭. ফকীর-মিসকীনের ছেলে অপরাধ করলে - সে সম্পর্কে।

باب فِي جِنَايَةِ الْعَبْدِ يَكُونُ لِلْفُقَرَاءِ

৪৫২৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ غُلاَمًا، لأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلاَمٍ لأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ فَأَتَى أَهْلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أُنَاسٌ فُقَرَاءُ . فَلَمْ يَجْعَلْ عَلَيْهِ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৫২৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ফকীরের ছেলে একজন ধনী ব্যক্তির ছেলের কান কেটে নেয়। তখন তার পরিবার-পরিজন নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো ফকীর! তখন তিনি তাদের উপর কোন দিয়াত নির্ধারণ করেননি।

২৮. লোকের ভীড়ের চাপে পড়ে কেউ মারা গেলে - সে সস্পর্কে।

باب فِي مَنْ قَتَلَ فِي عِمِّيَّا بَيْنَ قَوْمٍ

৪৫২৪

قَالَ أَبُو دَاوُدَ حُدِّثْتُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قُتِلَ فِي عِمَّيَّا أَوْ رَمْيًا يَكُونُ بَيْنَهُمْ بِحَجَرٍ أَوْ بِسَوْطٍ فَعَقْلُهُ عَقْلُ خَطَإٍ وَمَنْ قُتِلَ عَمْدًا فَقَوْدُ يَدَيْهِ فَمَنْ حَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৫২৪. সাঈদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জনতার চাপে অথবা পরস্পর পাথর নিক্ষেপের কারণে মারা যায়, বা চাবুকের আঘাতের ফলে মারা যায়, তার দিয়াত হবে ভুলবশত হত্যার দিয়াতের অনুরূপ। আর যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়, তার দিয়াত অবশ্যই দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি মারামারিকারী দু’ব্যক্তির মাঝখানে যাবে, তার উপর আল্লাহর, ফিরিশতাদের এবং সমস্ত লোকের লা’নত।