كتاب الأطعمة

২২. খাদ্যদ্রব্য-পানাহার সংক্রান্ত অধ্যায়

অধ্যায় ২২ · ১১৮ টি হাদীস

৪৫১. দাওয়াত গ্রহণ করা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي إِجَابَةِ الدَّعْوَةِ

৩৬৯৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْوَلِيمَةِ فَلْيَأْتِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৯৪. কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে বিবাহের ওলীমার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সেখানে যাবে।

৩৬৯৫

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ زَادَ " فَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ وَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيَدْعُ " .

৩৬৯৫. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলেছেন, যেরূপ উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, যদি তুমি রোযাদার না হও, তবে খানা খাবে; আর রোযাদার হলে খানা খাবে না।

৩৬৯৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُجِبْ عُرْسًا كَانَ أَوْ نَحْوَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৯৬. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ভাই তার ভাইকে দাওয়াত দেয়, তখন তা কবুল করা উচিত। চাই তা ওলীমা হোক বা এরূপ অন্য কোন দাওয়াত।

৩৬৯৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، بِإِسْنَادِ أَيُّوبَ وَمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৩৬৯৭. ইবনে মুসাফফা (রাহঃ) ..... নাফি (রাহঃ) আইয়ুব (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৩৬৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ دُعِيَ فَلْيُجِبْ فَإِنْ شَاءَ طَعِمَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তার তা কবুল করা উচিত। আর ইচ্ছা হলে খাদ্য গ্রহণ করবে, নয়তো খানা খাবে না। (অর্থাৎ রোযাদার বা অন্য কোন উযর থাকলে খানা খাবে না)।

৩৬৯৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا دُرُسْتُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ طَارِقٍ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ دُعِيَ فَلَمْ يُجِبْ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَنْ دَخَلَ عَلَى غَيْرِ دَعْوَةٍ دَخَلَ سَارِقًا وَخَرَجَ مُغِيرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যদি তা কবুল না করে, তবে সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করলো। আর যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে কোন খানা খায়, সে যেন চোর হিসাবে সেখানে প্রবেশ করে এবং লুন্ঠন করে ফিরে আসে।

৩৭০০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْمَسَاكِينُ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৭০০. কা’নবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ঐ ওলীমার খানা খুবই নিকৃষ্ট, যেখানে আমীরদের দাওয়াত দেওয়া হয় গরীবদের পরিত্যাগ করা হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াতে আসে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে।

৪৫২. বিবাহের ওলীমা মুস্তহাব।

باب فِي اسْتِحْبَابِ الْوَلِيمَةِ عِنْدَ النِّكَاحِ

৩৭০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ ذُكِرَ تَزْوِيجُ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ عِنْدَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْلَمَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَائِهِ مَا أَوْلَمَ عَلَيْهَا أَوْلَمَ بِشَاةٍ .

বর্ণনাকারী: ছাবিত বুনানী (রহঃ)

৩৭০১. মুসাদ্দাদ ও কুতায়বা (রাহঃ) ..... ছাবিত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর নিকট যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ)-এর বিবাহের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। তিনি বলেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অন্য কোন বিবির ব্যাপারে এরূপ ওলীমা করতে দেখিনি, যেরূপ তিনি যয়নাব (রাযিঃ)-এর ওলীমা করেন। তিনি একটি বকরী দ্বারা ওলীমা করেন।

৩৭০২

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا وَائِلُ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِهِ، بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْلَمَ عَلَى صَفِيَّةَ بِسَوِيقٍ وَتَمْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৭০২. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সাফিয়্যা (রাযিঃ) এর ওলীমা ছাতু এবং খোরমা দ্বারা করেছিলেন।

৪৫৩. সফর হতে প্রত্যাবর্তনের সময় খাদ্য খাওয়ানো।

باب الإِطْعَامِ عِنْدَ الْقُدُومِ مِنَ السَّفَرِ

৩৭০৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ نَحَرَ جَزُورًا أَوْ بَقَرَةً .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭০৩. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন (তবুকের যুদ্ধ হতে) মদীনায় ফিরে আসেন, তখন তিনি একটি উট বা গাভী যবেহ করেন।

৪৫৪. মেহমানের মেহমানদারী কত দিন এবং কিভাবে করতে হবে।

باب مَا جَاءَ فِي الضِّيَافَةِ

৩৭০৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ الضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَمَا بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু শুরাইহ খুওয়াইলিদ ইবন আমর রাযি.

৩৭০৪. কা’নবী (রাহঃ) .... আবু শুরায়হ কা’বী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তার উচিত হবে একদিন এবং একরাত তার মেহমানের উত্তমরূপে সম্মান করা। আর মেহমানের হক হলো একদিন এবং এক রাত। আর মেহমানী হলো তিন দিনের জন্য, পরে তা সাদ্‌কা হবে। আর মেহমানের জন্য উচিত নয় যে, সে মেজবান (গৃহস্বামী) কে কষ্ট দেওয়ার জন্য অধিক দিন সেখানে থাকবে।

৩৭০৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ فَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ أَخْبَرَكُمْ أَشْهَبُ قَالَ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ " . فَقَالَ يُكْرِمُهُ وَيُتْحِفُهُ وَيَحْفَظُهُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَثَلاَثَةُ أَيَّامٍ ضِيَافَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৭০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যিয়াফত বা মেহমানী হবে তিন দিনের জন্য এবং এর অতিরিক্ত হলে তা সাদ্‌কা হিসাবে গণ্য হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হারিছ ইবনে মিসকীনের মজলিসে, যখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, তখন এভাবে পড়া হয় যে, আশহাব (রাহঃ) ইমাম মালিক (রাহঃ) থেকে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেন যে, মেহমানী হলো একদিন ও এক রাতের। তিনি বলেনঃ একদিন ও একরাত মেহমানের খোঁজ-খবর নেবে, তাকে তোহফা দেবে এবং তার হিফাযত করবে। আর তিন দিন পর্যন্ত মেহমানদারী করতে হবে।

৪৫৫. ওলীমা কতদিন পর্যন্ত করা মুস্তাহাব?

৩৭০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، أَعْوَرَ مِنْ ثَقِيفٍ كَانَ يُقَالُ لَهُ مَعْرُوفًا - أَىْ يُثْنَى عَلَيْهِ خَيْرًا إِنْ لَمْ يَكُنِ اسْمُهُ زُهَيْرُ بْنُ عُثْمَانَ فَلاَ أَدْرِي مَا اسْمُهُ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْوَلِيمَةُ أَوَّلُ يَوْمٍ حَقٌّ وَالثَّانِي مَعْرُوفٌ وَالْيَوْمُ الثَّالِثُ سُمْعَةٌ وَرِيَاءٌ " . قَالَ قَتَادَةُ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ دُعِيَ أَوَّلَ يَوْمٍ فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّانِي فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَلَمْ يُجِبْ وَقَالَ أَهْلُ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

৩৭০৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... বনু ছাকীফের জনৈক কানা ব্যক্তি, যাকে তার সদাচারের জন্য মারুফ বলা হতো, যদি তার নাম যুহাইর ইবনে উসমান না হয়, তবে আমি জানি না তার সঠিক নাম কি। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বিবাহের প্রথম দিনে ওলীমার ব্যবস্থা করা জরুরী, দ্বিতীয় দিনে উত্তম এবং তৃতীয় দিনে করলে তা নাম প্রচার ও লোক দেখানোর জন্য করা হচ্ছে বলে বিবেচিত হবে।

৩৭০৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَلَمْ يُجِبْ وَحَصَبَ الرَّسُولَ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৩৭০৭. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... সা’ঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীস সম্পর্কে এরূপ বর্ণিত আছে যে, তাকে ওলীমার প্রথম দিন ডাকা হলে তিনি যান; দ্বিতীয় দিন ডাকা হলেও যান এবং তৃতীয় দিন ডাকা হলে তিনি যান নি। তিনি আহবানকারীকে পাথর মারেন।

৪৫৬. যিয়াফত সম্পর্কে আরো কিছু বক্তব্য।

৩৭০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي كَرِيمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْلَةُ الضَّيْفِ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ فَهُوَ عَلَيْهِ دَيْنٌ إِنْ شَاءَ اقْتَضَى وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ " .

৩৭০৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু কারীমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলমানের উপর এক রাতের জন্য মেহমানের হক আছে, যে ব্যক্তি তা বিনষ্ট করবে, তা তার জন্য দেনা স্বরূপ হবে। ইচ্ছা করলে তা আদায় করবে, আর ইচ্ছা না থাকলে বর্জন করবে।

৩৭০৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْجُودِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْمِقْدَامِ أَبِي كَرِيمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا رَجُلٍ أَضَافَ قَوْمًا فَأَصْبَحَ الضَّيْفُ مَحْرُومًا فَإِنَّ نَصْرَهُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ حَتَّى يَأْخُذَ بِقِرَى لَيْلَةٍ مِنْ زَرْعِهِ وَمَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

৩৭০৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... মিকদাম আবু কারীমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো নিকট মেহমান হিসাবে যায় এবং সে সকাল পর্যন্ত মাহরুম থাকে, এমতাবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের উচিত তার সাহায্য করা। এমন কি সেই মেহমান, সে রাতের জন্য মেহমানীর হক সে কওমের ফসল এবং মাল হতে নেয়ার হকদার হয়ে যায়।

৩৭১০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تَبْعَثُنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ فَمَا يَقْرُونَنَا فَمَا تَرَى فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ " إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ فَأَمَرُوا لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا فَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ الَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৩৭১০. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ...... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের কখনো কোন কাজে প্রেরণ করেন, তখন আমরা কখনো এমন কওমের কাছে যাই যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এব্যাপারে আপানার অভিমত কি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলেনঃ যদি তোমরা কোন কওমের কাছে যাও এবং তারা তোমাদের জন্য মেহমানদারীর উপকরণ যোগাড় করে দেয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তবে তোমরা তাদের থেকে মেহমানদারীর সে হক আদায় করে নেবে, যা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব।

৪৫৭. মেহমানের জন্য অন্যের মাল খাওয়ার হুকুম বাতিল হওয়া।

باب نَسْخِ الضَّيْفِ يَأْكُلُ مِنْ مَالِ غَيْرِهِ

৩৭১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( لاَ تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ ) فَكَانَ الرَّجُلُ يُحْرَجُ أَنْ يَأْكُلَ عِنْدَ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ بَعْدَ مَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فَنَسَخَ ذَلِكَ الآيَةُ الَّتِي فِي النُّورِ قَالَ ( لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ ) ( أَنْ تَأْكُلُوا مِنْ بُيُوتِكُمْ ) إِلَى قَوْلِهِ ( أَشْتَاتًا ) كَانَ الرَّجُلُ الْغَنِيُّ يَدْعُو الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِهِ إِلَى الطَّعَامِ قَالَ إِنِّي لأَجَّنَّحُ أَنْ آكُلَ مِنْهُ . وَالتَّجَنُّحُ الْحَرَجُ وَيَقُولُ الْمِسْكِينُ أَحَقُّ بِهِ مِنِّي . فَأُحِلَّ فِي ذَلِكَ أَنْ يَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَأُحِلَّ طَعَامُ أَهْلِ الْكِتَابِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭১১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ″তোমরা একে অন্যের মাল অবৈধভাবে খাবে না, অবশ্য ব্যবসার মধ্যে একে অন্যের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে একজন অপর জনের মাল গ্রহণ করতে পার।″ এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর এতে অন্যের বাড়ীতে আহার করাকে গুনাহের কাজ বলে মনে করতে থাকে। পরে এ আয়াতের হুকুম সূরা নূরের এ আয়াত দ্বারা মানুসূখ বা রহিত হয়ে যায়। আয়াতটি হলোঃ (অর্থ) এতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই যে, তোমরা খাদ্য খাবে তোমাদের ঘরে, অথবা তোমাদের মাতা-পিতার ঘরে, অথবা নিজের সন্তানের ঘরে, অথবা ভাই ও বোনের ঘরে, অথবা চাচাত ও ফুফীর ঘরে, অথবা মামা ও খালার ঘরে, অথবা ঐ ঘরে যার চাবির মালিক তুমি নিজে, অথবা কোন দোস্ত ও বন্ধুর বাড়ীতে।

এ আয়াত নাযিল হওয়ার আগে লোকদের অবস্থা এরূপ ছিল যে, যদি কোন ধনী ব্যক্তি তার কোন বন্ধু-রান্ধবকে দাওয়াত দিত, তখন সে বলতোঃ আমি তো এখাদ্য গ্রহণ করাকে গুনাহ বলে মনে করি। আর সে আরো বলতোঃ মিসকীন ব্যক্তি এখাদ্য গ্রহণে আমার চাইতে অধিক হকদার। বস্তুত এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর এ সমস্যা দূরীভূত হয় যে, তারা একে অন্যের বাড়ীতে খাদ্য গ্রহণ করবে এ শর্তে যে, সে খাদ্যবস্তু (প্রাণী) এমন হবে, যার উপর তা (যবেহর সময়) আল্লাহর নাম নেয়া হবে, আর আহলে কিতাব বা কিতাবধারীদের খাদ্য গ্রহণ করাও বৈধ সাব্যস্ত হয়।*

* অর্থাৎ যখন কোন মুসলমান বা কিতাবধারী (ইয়াহূদী ও নাসারা) 'বিস্‌মিল্লাহ্' বলে কোন প্রাণী যবাহ করবে এবং অন্য মুসলমানকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেবে, তখন সেখানে খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে। - (অনুবাদক)

৪৫৮. প্রতিযোগিতা করে খাদ্য খাওয়ানো।

باب فِي طَعَامِ الْمُتَبَارِيَيْنِ

৩৭১২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ خِرِّيتٍ، قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، يَقُولُ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ طَعَامِ الْمُتَبَارِيَيْنِ أَنْ يُؤْكَلَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَكْثَرُ مَنْ رَوَاهُ عَنْ جَرِيرٍ لاَ يَذْكُرُ فِيهِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَهَارُونُ النَّحْوِيُّ ذَكَرَ فِيهِ ابْنَ عَبَّاسٍ أَيْضًا وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭১২. হারুন .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) প্রতিযোগিতা করে, গর্ব প্রকাশের জন্য খাদ্য খাওয়াতে নিষেধ করেছেন।

৪৫৯. যাকে দাওয়াত করা হয়, সে যদি শরীআত বিরোধী কিছু দেখে।

باب الرَّجُلِ يُدْعَى فَيَرَى مَكْرُوهًا

৩৭১৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ رَجُلاً، أَضَافَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَصَنَعَ لَهُ طَعَامًا فَقَالَتْ فَاطِمَةُ لَوْ دَعَوْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَكَلَ مَعَنَا . فَدَعَوْهُ فَجَاءَ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى عِضَادَتَىِ الْبَابِ فَرَأَى الْقِرَامَ قَدْ ضُرِبَ بِهِ فِي نَاحِيَةِ الْبَيْتِ فَرَجَعَ فَقَالَتْ فَاطِمَةُ لِعَلِيٍّ الْحَقْهُ فَانْظُرْ مَا رَجَعَهُ . فَتَبِعْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَدَّكَ فَقَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ لِي أَوْ لِنَبِيٍّ أَنْ يَدْخُلَ بَيْتًا مُزَوَّقًا " .

বর্ণনাকারী: আবু আব্দুর রহমান সুলামী (রহঃ)

৩৭১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু আব্দির রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ)-কে দাওয়াত করে তাঁর জন্য খানা তৈরী করে (তাঁর ঘরে পাঠিয়ে দেয়)। তখন ফাতিমা (রাযিঃ) বলেনঃ যদি আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ডাকতাম, তবে তিনিও আমাদের সঙ্গে খানা খেতেন। তখন তাঁরা নবী (ﷺ)-কে দাওয়াত দেন। তিনি এসে দরজার চৌকাঠে হাত রেখে ঘরের কোণে একটি নকশাদার পর্দা দেখতে পান। ফলে, তিনি ফিরে যান।

তখন ফাতিমা (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ)-কে বলেনঃ দেখুন তো তিনি কেন ফিরে যাচ্ছেন। (আলী (রাযিঃ) বলেনঃ) তখন আমি তাঁর পশ্চাদনুসরণ করি এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কেন ফিরে যাচ্ছেন? তিনি বলেনঃ আমার জন্য বা কোন নবীর জন্য এটা দুরস্ত নয় যে, তিনি এমন কোন ঘরে প্রবেশ করবেন, যেখানে কারুকার্য থাকবে।

৪৬০. যদি দু’ব্যক্তি এক সাথে দাওয়াত করে, তবে এদের মধ্যে অধিক হকদার কে?

باب إِذَا اجْتَمَعَ دَاعِيَانِ أَيُّهُمَا أَحَقُّ

৩৭১৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ الأَوْدِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اجْتَمَعَ الدَّاعِيَانِ فَأَجِبْ أَقْرَبَهُمَا بَابًا فَإِنَّ أَقْرَبَهُمَا بَابًا أَقْرَبُهُمَا جِوَارًا وَإِنْ سَبَقَ أَحَدُهُمَا فَأَجِبِ الَّذِي سَبَقَ " .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৩৭১৪. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ..... হুমায়দ ইবনে আব্দির রহমান হিময়ারী (রাহঃ) নবী (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন দু’ব্যক্তি একই সাথে দাওয়াত করবে, তখন যার ঘর নিকটে, তার দাওয়াত গ্রহণ করবে। কেননা এদের মালের নিকট প্রতিবেশীর হক অধিক। আর দু’জন দাওয়াতকারীর মধ্যে যে আগে দাওয়াত দেবে, তার দাওয়াত কবুল করবে।

৪৬১. ঈশার নামায এবং রাতের খাবার একত্রিত হলে।

باب إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَالْعَشَاءُ

৩৭১৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنِي يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا وُضِعَ عَشَاءُ أَحَدِكُمْ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ يَقُومُ حَتَّى يَفْرُغَ " . زَادَ مُسَدَّدٌ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا وُضِعَ عَشَاؤُهُ أَوْ حَضَرَ عَشَاؤُهُ لَمْ يَقُمْ حَتَّى يَفْرُغَ وَإِنْ سَمِعَ الإِقَامَةَ وَإِنْ سَمِعَ قِرَاءَةَ الإِمَامِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭১৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো রাতের খাবার তৈরী থাকে এবং ইশার নামাযের তাকবীরও হতে থাকে, তখন তোমরা খানা না খেয়ে উঠবে না।

রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিয়ম এই ছিল যে, যখন খাবার সামনে আসতো, তখন তিনি খানা শেষ করার আগে উঠতেন না, যদিও তিনি ইকামত ও ইমামের কিরাআত শুনতেন।
৩৭১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى، - يَعْنِي ابْنَ مَنْصُورٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُؤَخِّرِ الصَّلاَةَ لِطَعَامٍ وَلاَ لِغَيْرِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭১৬. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খানা বা অন্য কোন কাজের জন্য নামায বিলম্বিত করা উচিত নয়।*

* বস্তুত এমনভাবে খাদ্য গ্রহণ করা বা কোন কাজে মশগুল হওয়া উচিত নয়, যাতে নামাযের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, অথবা জামা'আত তরক হয়ে যায়। আর খাবার জিনিস সামনে হাজির হলে তা গ্রহণের নির্দেশ এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, যদি কেউ ক্ষুধার্ত থাকাবস্থায় আগে খাবার না খায়, তবে নামাযের মধ্যে তার খাওয়ার খেয়াল আসতে পারে। আর খাওয়ার পর নামায আদায় করলে, খাওয়ার খেয়াল নামাযের মধ্যে আসবে না, বরং স্বস্তির সাথে সে নামায আদায় করতে পারবে। অতএব নামাযের আগে অথবা পরে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। - (অনুবাদক)
৩৭১৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي فِي زَمَانِ ابْنِ الزُّبَيْرِ إِلَى جَنْبِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ عَبَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ إِنَّا سَمِعْنَا أَنَّهُ، يُبْدَأُ بِالْعَشَاءِ قَبْلَ الصَّلاَةِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَيْحَكَ مَا كَانَ عَشَاؤُهُمْ أَتُرَاهُ كَانَ مِثْلَ عَشَاءِ أَبِيكَ .

বর্ণনাকারী: উবায়দ ইবনে উমায়র (রহঃ)

৩৭১৭. আলী ইবনে মুসলিম (রাহঃ) .... উবাইদ ইবনে উমাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর সময় আমার পিতার সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা শুনেছি যে, রাতের খাবার ইশার নামাযের আগেই আদায় করা হতো। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ! তাঁদের খাবার গ্রহণ করাকে তুমি কি তোমার পিতার খাবার গ্রহণের ন্যায় মনে কর? (অর্থাৎ তাঁদের খাদ্য সেরূপ ছিল না।)

৪৬২. খাওয়ার সময় দু’হাত ধোয়া সস্পর্কে।

باب فِي غَسْلِ الْيَدَيْنِ عِنْدَ الطَّعَامِ

৩৭১৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ فَقُدِّمَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَقَالُوا أَلاَ نَأْتِيكَ بِوَضُوءٍ فَقَالَ " إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭১৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পায়খানা থেকে ফিরে আসার পর তাঁর সামনে খাবার পেশ করা হয়। তাঁরা (সাহাবীরা) জিজ্ঞাসা করেনঃ আমরা কি আপনার জন্য উযুর পানি আনব না? তখন তিনি বলেনঃ আমাকে তো নামায আদায়ের সময় উযু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪৬৩. খাওয়ার আগে দু'হাত ধোওয়া সম্পর্কে।

باب فِي غَسْلِ الْيَدِ قَبْلَ الطَّعَامِ

৩৭১৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا قَيْسٌ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَنَّ بَرَكَةَ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهُ " . وَكَانَ سُفْيَانُ يَكْرَهُ الْوُضُوءَ قَبْلَ الطَّعَامِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ ضَعِيفٌ .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৩৭১৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি তাওরাতে পড়েছি যে, ’’খাওয়ার আগে উযু করলে খাদ্যের মধ্যে বরকত হয়। ’’আমি একথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললে, তিনি বলেনঃ খাওয়ার মধ্যে বরকত হলো খাদ্য গ্রহণের আগে এবং খাওয়ার শেষে উযু করাতে।

৪৬৪. জলদী খানা খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي طَعَامِ الْفُجَاءَةِ

৩৭২০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا عَمِّي، - يَعْنِي سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ شِعْبٍ مِنَ الْجَبَلِ وَقَدْ قَضَى حَاجَتَهُ وَبَيْنَ أَيْدِينَا تَمْرٌ عَلَى تُرْسٍ أَوْ حَجَفَةٍ فَدَعَوْنَاهُ فَأَكَلَ مَعَنَا وَمَا مَسَّ مَاءً .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭২০. আহমদ ইবনে আবু মারয়াম (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাহাড়ের ঘাটি হতে পেশাব-পায়খানা সেরে ফিরে আসেন। এ সময় আমাদের সামনে ঢালের উপর কিছু খেজুর সংরক্ষিত ছিল। আমরা তাঁকে আহবান করলে তিনি আমাদের সঙ্গে তা আহার করেন। আর এসময় তিনি পানি স্পর্শ করেন নি।

৪৬৫. খাদ্যের দুর্নাম না করা সম্পর্কে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ ذَمِّ الطَّعَامِ

৩৭২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَا عَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا قَطُّ إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৭২১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন সময় খাদ্যের কোনরূপ দুর্নাম করতেন না। যদি কোন কিছু তাঁর খাওয়ার ইচ্ছা হতো, তিনি তা খেতেন এবং খাওয়ার রুচি না হলে খেতেন না।

৪৬৬. একত্রিত হয়ে খানা খাওয়া।

باب فِي الاِجْتِمَاعِ عَلَى الطَّعَامِ

৩৭২২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي وَحْشِيُّ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْكُلُ وَلاَ نَشْبَعُ . قَالَ " فَلَعَلَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا كُنْتَ فِي وَلِيمَةٍ فَوُضِعَ الْعَشَاءُ فَلاَ تَأْكُلْ حَتَّى يَأْذَنَ لَكَ صَاحِبُ الدَّارِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াহশী ইবনে হারব (রাঃ)

৩৭২২. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... ওয়াহশী ইবনে হারব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। একদা নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা খানা খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হই না। তিনি বলেনঃ হয়তো তোমরা আলাদা আলাদা ভাবে খানা খাও। তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তোমরা একত্রিত হয়ে খানা খাবে এবং বিসমিল্লাহ বলবে, এতে তোমাদের খাবারে বরকত হবে। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ কোন দাওয়াতে তোমাদের সামনে যখন খানা রাখা হবে, তখন মেজবানের অনুমতি ব্যতীত তা খাবে না।

৪৬৭. খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা।

باب التَّسْمِيَةِ عَلَى الطَّعَامِ

৩৭২৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لاَ مَبِيتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ فَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭২৩. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি নবী (ﷺ)কে এরূপ বলতে শোনেন যে, যখন কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে প্রবেশের সময় ও খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে, তখন শয়তান বলেঃ এখানে তোমাদের জন্য রাতে থাকার কোন স্থান নেই, আর খানাও নেই।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশের সময় বিসমি্ল্লাহ বলে না, তখন শয়তান বলেঃ তোমরা রাতে থাকার স্থান পেয়েছ। এরপর সে ব্যক্তি খাবার সময় যখন বিসমিল্লাহ বলে না, তখন শয়তান (তার সাথীদের) বলেঃ তোমরা রাতে থাকার স্থান এবং খাবার পেয়ে গেছ।
৩৭২৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي حُذَيْفَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا لَمْ يَضَعْ أَحَدُنَا يَدَهُ حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ طَعَامًا فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَذَهَبَ لِيَضَعَ يَدَهُ فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ جَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّمَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهَا وَقَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ الَّذِي لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذَا الأَعْرَابِيِّ يَسْتَحِلُّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَجَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ يَسْتَحِلُّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ لَفِي يَدِي مَعَ أَيْدِيهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৩৭২৪. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে খানা খেতাম, তখন যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খানা শুরু করতেন, ততক্ষণ আমাদের কেউ-ই খাদ্য স্পর্শ করতো না। একদা আমরা তাঁর সঙ্গে খানা খেতে বসি, তখন সেখানে দৌড়ে একজন বেদুইন লোক আসে। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। সে এসেই খাবারে হাত দেওয়ার ইচ্ছা করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত ধরে ফেলেন। এরপর একটি মেয়ে দৌড়ে আসে। মনে হচ্ছিল কেউ যেন তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে এবং সে এসেই খাবারে হাত দেওয়ার ইচ্ছা করে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাতও ধরে ফেলেন এবং বলেনঃ যে খাবারের উপর বিসমিল্লাহ বলা হয় না, তার উপর শয়তানের আধিপত্য হয়ে যায়। আর শয়তান এ বেদুঈন লোকটির উপর ভর করে এসেছিল, যাতে সে এ খাবারের উপর আধিপত্য পায়। আমি যখন তার হাত ধরে ফেলি, তখন সে এ মেয়েটির উপর ভর করে আসে; যাতে শয়তান তার মাধ্যমে এ খানায় আধিপত্য পায়। কিন্তু আমি তার হাতও ধরে ফেলি। ঐ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন, শয়তানের হাত এ দু’জনের হাতের সাথে এখনও আমার হাতের মধ্যে আছে।
৩৭২৫

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ هِشَامٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الدَّسْتَوَائِيَّ - عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْهُمْ يُقَالُ لَهَا أُمُّ كُلْثُومٍ عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنْ نَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭২৫. মুআম্মাল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। যদি সে খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তবে সে যেন পরে বলেঃ (অর্থ) আমি আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করছি- প্রথমে এবং শেষে।

৩৭২৬

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ عَمِّهِ، أُمَيَّةَ بْنِ مَخْشِيٍّ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا وَرَجُلٌ يَأْكُلُ فَلَمْ يُسَمِّ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْ طَعَامِهِ إِلاَّ لُقْمَةٌ فَلَمَّا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مَا زَالَ الشَّيْطَانُ يَأْكُلُ مَعَهُ فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَقَاءَ مَا فِي بَطْنِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৭২৬. মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) ..... মুছান্না ইবনে আব্দির রহমান খুযায়ী (রাহঃ) তাঁর চাচা উমাইয়্যা ইবনে মাখশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসা ছিলেন এবং এক ব্যক্তি খানা খাচ্ছিল, কিন্তু সে বিসমিল্লাহ বলেনি। অবশেষে খাবারের এক লোকমা যখন অবশিষ্ট ছিল, তখন তা খাবার সময় সে বলেঃ (অর্থ) আমি আল্লাহর নামে খাচ্ছি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এ সময় নবী (ﷺ) হেসে উঠে বলেনঃ শয়তান তার সাথে খাবার খাচ্ছিল; কিন্তু সে যখন আল্লাহর নাম নিল, তখন শয়তানের পেটে যে খাবার গিয়েছিল, তা সে বমি করে ফেলে দিল।

৪৬৮. হেলান দিয়ে খাওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الأَكْلِ مُتَّكِئًا

৩৭২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ آكُلُ مُتَّكِئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৩৭২৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে খানা খাই না।*

* কেননা, এটা অহংকারী ব্যক্তিকেদের কাজ, আর এভাবে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সোজা হয়ে বসে থানা খেলে ভুক্তদ্রব্য সরাসরি খাদ্য নালি দিয়ে পাকস্থলীতে যায় এবং সহজে হযম হয়। - (অনুবাদক)
৩৭২৮

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سُلَيْمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَوَجَدْتُهُ يَأْكُلُ تَمْرًا وَهُوَ مُقْعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৭২৮. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন কাজে প্রেরণ করেন। যখন আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি, তখন আমি তাঁকে কাত হয়ে বসে খেজুর খেতে দেখি।

৩৭২৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَا رُئِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ مُتَّكِئًا قَطُّ وَلاَ يَطَأُ عَقِبَهُ رَجُلاَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৭২৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কোন সময় হেলান দিয়ে খানা খেতে দেখা যায়নি এবং কখনও দু’ব্যক্তিকে তাঁর পেছনে চলতে দেখা যায়নি।

৪৬৯. পাত্রের মাঝখান থেকে খাদ্য খাওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الأَكْلِ مِنْ أَعْلَى الصَّحْفَةِ

৩৭৩০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلاَ يَأْكُلْ مِنْ أَعْلَى الصَّحْفَةِ وَلَكِنْ لِيَأْكُلْ مِنْ أَسْفَلِهَا فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ مِنْ أَعْلاَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৩০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি খানা খায়, তখন সে যেন পাত্রের মাঝখান থেকে খানা না নেয়; বরং সে যেন পাত্রের এক পাশ হতে (যা তার দিকে থাকে) নিয়ে খায়। কেননা, খাদ্যের বরকত উপর থেকে নীচের দিকে এসে থাকে।

৩৭৩১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِرْقٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ، قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَصْعَةٌ يُقَالُ لَهَا الْغَرَّاءُ يَحْمِلُهَا أَرْبَعَةُ رِجَالٍ فَلَمَّا أَضْحَوْا وَسَجَدُوا الضُّحَى أُتِيَ بِتِلْكَ الْقَصْعَةِ - يَعْنِي وَقَدْ ثُرِدَ فِيهَا - فَالْتَفُّوا عَلَيْهَا فَلَمَّا كَثُرُوا جَثَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا هَذِهِ الْجِلْسَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ جَعَلَنِي عَبْدًا كَرِيمًا وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا عَنِيدًا " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُوا مِنْ حَوَالَيْهَا وَدَعُوا ذِرْوَتَهَا يُبَارَكْ فِيهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৩৭৩১. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এর নিকট একটি কড়াই ছিল, যা চার ব্যক্তি ধরে উঠাত এবং এর নাম ছিল ’গাররা’। একদা সাহাবীগণ যখন ইশরাকের নামায আদায় শেষ করেন, তখন ঐ কড়াই আনা হয়, যাতে ছারীদ ছিল। সাহাবীগণ উক্ত পাত্রের নিকট জমায়েত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই হাঁটুর উপরে বসেন। তখন জনৈক বেদুইন প্রশ্ন করেঃ এ কোন ধরনের বসা? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ মহান আল্লাহ আমাকে অনুগ্রহশীল বান্দা হিসাবে সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি আমাকে দর্পী-অহংকারী বানান নাই। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এর পাশ থেকে খাও এবং এর মাঝখান ছেড়ে রাখ, তাহলে এতে বরকত হবে।

৪৭০. ঐ দস্তরখানে বসা, যাতে কোন নিষিদ্ধ বস্তু থাকে।

باب مَا جَاءَ فِي الْجُلُوسِ عَلَى مَائِدَةٍ عَلَيْهَا بَعْضُ مَا يُكْرَهُ

৩৭৩২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ مَطْعَمَيْنِ عَنِ الْجُلُوسِ عَلَى مَائِدَةٍ يُشْرَبُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ وَأَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ وَهُوَ مُنْبَطِحٌ عَلَى بَطْنِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ لَمْ يَسْمَعْهُ جَعْفَرٌ مِنَ الزُّهْرِيِّ وَهُوَ مُنْكَرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৩২. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ দস্তরখানের উপর খাদ্য গ্রহণকারীদের সাথে খেতে নিষেধ করেছেন, যার উপর শরাব পান করা হয়ে থাকে। আর তিনি উপুড় হয়ে শুয়ে খানা খেতে নিষেধ করেছেন।

৩৭৩৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৩৭৩৩. হারুন ইবনে যায়দ (রাহঃ) ..... জা’ফর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪৭১. ডান হাতে খাওয়া সম্পর্কে।

باب الأَكْلِ بِالْيَمِينِ

৩৭৩৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ جَدِّهِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৩৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন তার ডান হাত দিয়ে খায় এবং যখন পানি পান করে, তখন যেন ডান হাতে পান করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে খায় এবং পানি পান করে।

৩৭৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، لُوَيْنٌ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ أَبِي وَجْزَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ادْنُ بُنَىَّ فَسَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনে আবূ সালামা রাযি.

৩৭৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... উমর ইবনে আবী সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি আমার নিকটবর্তী হও, বিসমিল্লাহ বল, ডান হাতে খাও এবং নিজের কাছের খাদ্য গ্রহণ কর।

৪৭২. গোশত খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ اللَّحْمِ

৩৭৩৬

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقْطَعُوا اللَّحْمَ بِالسِّكِّينِ فَإِنَّهُ مِنْ صَنِيعِ الأَعَاجِمِ وَانْهَسُوهُ فَإِنَّهُ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭৩৬. সা’ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ছুরি দিয়ে গোশত কেটে খাবে না, কেননা, এটি অনারবদের রীতি, বরং তোমরা দাঁত দিয়ে গোশত কেটে খাবে, কেননা, এতে অধিক স্বাদ পাওয়া যায় এবং খাবার সহজে হযম হয়ে থাকে।

৩৭৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ كُنْتُ آكُلُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَآخُذُ اللَّحْمَ بِيَدِي مِنَ الْعَظْمِ فَقَالَ " أَدْنِ الْعَظْمَ مِنْ فِيكَ فَإِنَّهُ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ " .

বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ)

৩৭৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে খাওয়ার সময় আমার হাত দিয়ে হাড় থেকে গোশত ছাড়াচ্ছিলাম। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ হাড়খানা তোমার মুখে দাও। কেননা, দাত দিয়ে গোশত কেটে খাওয়াতে স্বাদ অধিক পাওয়া যায় এবং তা সহজে হযম হয়।

৩৭৩৮

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ أَحَبَّ الْعُرَاقِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُرَاقُ الشَّاةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৭৩৮. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আব্দিল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সবচাইতে প্রিয় ছিল বকরীর হাড় (হাড়ের গোশত)।

৩৭৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ الذِّرَاعُ . قَالَ وَسُمَّ فِي الذِّرَاعِ وَكَانَ يَرَى أَنَّ الْيَهُودَ هُمْ سَمُّوهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৭৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইমাম আবু দাউদ (রাযিঃ) উপরিউক্ত সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) রানের গোশত অধিক পছন্দ করতেন।

রাবী বলেনঃ একবার রানের গোশত বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ধারণা, ইয়াহুদীরা তাতে বিষ মিশিয়েছিল।

৪৭৩. লাউ খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الدُّبَّاءِ

৩৭৪০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَهُ - قَالَ أَنَسٌ - فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُبْزًا مِنْ شَعِيرٍ وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ . قَالَ أَنَسٌ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَىِ الصَّحْفَةِ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ بَعْدَ يَوْمِئِذٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৭৪০. কা’নবী (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার জনৈক দর্জি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এমন খাবার খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেন, যা তিনি তাঁর জন্য তৈরী করেন। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমিও সে দাওয়াতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যাই। এরপর খাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে যবের রুটি, লাউয়ের সুরুয়া এবং ভুনা গোশত আনা হয়। তখন আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্রের পাশে লাউয়ের টুকরা তালাশ করেছেন। এরপর থেকে আমি আজ পর্যন্ত লাউকে অধিক পছন্দ করি।

৪৭৪. ছারীদ খাওয়া সস্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الثَّرِيدِ

৩৭৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَّانَ السَّمْتِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ أَحَبُّ الطَّعَامِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الثَّرِيدَ مِنَ الْخُبْزِ وَالثَّرِيدَ مِنَ الْحَيْسِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ ضَعِيفٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৪১. মুহাম্মাদ ইবনে হাসসান (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট রুটির তৈরী ছারীদ এবং হায়সে তৈরী ছারীদ সব চাইতে প্রিয় খাবার ছিল।

৪৭৫. কোন খাদ্য-বস্তুকে ঘৃণা করা সম্পর্কে।

باب فِي كَرَاهِيَةِ التَّقَذُّرِ لِلطَّعَامِ

৩৭৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي قَبِيصَةُ بْنُ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ مِنَ الطَّعَامِ طَعَامًا أَتَحَرَّجُ مِنْهُ . فَقَالَ " لاَ يَتَخَلَّجَنَّ فِي صَدْرِكَ شَىْءٌ ضَارَعْتَ فِيهِ النَّصْرَانِيَّةَ " .

বর্ণনাকারী: কাবীসা ইবনে হুলব (রহঃ)

৩৭৪২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... কাবীসা ইবনে হালব (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যখন এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করে যে, খাদ্যের মধ্যে এমন কোন জিনিস আছে কি, যা থেকে আমি পরহেয করব? তখন তিনি বলেনঃ কোন জিনিস সম্পর্কে তোমার মনে যেন কোনরূপ ঘৃণার সৃষ্টি না হয়। কেননা, নাসারারা জিনিসের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতো।

৪৭৬. নাপাক দ্রব্য ভক্ষণকারী জন্তুর গোশত না খাওয়া এবং দুধ পান না করা।

باب النَّهْىِ عَنْ أَكْلِ الْجَلاَّلَةِ، وَأَلْبَانِهَا

৩৭৪৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْجَلاَّلَةِ وَأَلْبَانِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৪৩. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাপাক দ্রব্য ভক্ষণকারী জীব-জন্তুর গোশত খেতে এবং এর দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন।*

* যে জীব-জন্তু অধিক পরিমাণে নাপাক দ্রব্য খায়, তার গোশত ও দুধে সেই নাপাক বস্তুর দুর্গন্ধ অনুভূত হয়। তাই তার গোশত ও দুধ খাওয়া উচিত নয়। - (অনুবাদক)
৩৭৪৪

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لَبَنِ الْجَلاَّلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৪৪. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নাপাক দ্রব্য ভক্ষণকারী পশুর দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন।

৩৭৪৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَهْمٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَلاَّلَةِ فِي الإِبِلِ أَنْ يُرْكَبَ عَلَيْهَا أَوْ يُشْرَبَ مِنْ أَلْبَانِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৪৫. আহমদ ইবনে আবী সূরায়হ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাপাক দ্রব্য ভক্ষণকারী উট বাহনরূপে ব্যবহার করতে এবং এর দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন।

৪৭৭. ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ لُحُومِ الْخَيْلِ

৩৭৪৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ وَأَذِنَ لَنَا فِي لُحُومِ الْخَيْلِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৪৬. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের খায়বরের (যুদ্ধের) দিন গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দেন।

৩৭৪৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذَبَحْنَا يَوْمَ خَيْبَرَ الْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ وَلَمْ يَنْهَنَا عَنِ الْخَيْلِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৪৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বরের (যুদ্ধের) দিন ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধা যবেহ করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের খচ্চর এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে মানা করেন নি।

৩৭৪৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شَبِيبٍ، وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحِمْصِيُّ، قَالَ حَيْوَةُ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْخَيْلِ وَالْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ - زَادَ حَيْوَةُ - وَكُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

৩৭৪৮. সা’ঈদ ইবনে শুবায়ব (রাহঃ) ..... খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। রাবী হায়ওয়া (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) প্রত্যেক দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

৪৭৮. খরগোশের গোশত খাওয়া।

باب فِي أَكْلِ الأَرْنَبِ

৩৭৪৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنْتُ غُلاَمًا حَزَوَّرًا فَصِدْتُ أَرْنَبًا فَشَوَيْتُهَا فَبَعَثَ مَعِي أَبُو طَلْحَةَ بِعَجُزِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَبِلَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৭৪৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একজন সুঠাম যুবক ছিলাম। একদিন আমি খরগোশ শিকার করে ভুনা করি। এ সময় আবু তালহা (রাযিঃ) আমার হাতে এর পেছনের অংশ নবী (ﷺ)-এর নিকট পাঠান। আমি সেটি নিয়ে তাঁর নিকট পৌছলে, তিনি তা গ্রহণ করেন।

৩৭৫০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي خَالِدَ بْنَ الْحُوَيْرِثِ، يَقُولُ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو كَانَ بِالصِّفَاحِ - قَالَ مُحَمَّدٌ مَكَانٌ بِمَكَّةَ - وَإِنَّ رَجُلاً جَاءَ بِأَرْنَبٍ قَدْ صَادَهَا فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو مَا تَقُولُ قَالَ قَدْ جِيءَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا جَالِسٌ فَلَمْ يَأْكُلْهَا وَلَمْ يَنْهَ عَنْ أَكْلِهَا وَزَعَمَ أَنَّهَا تَحِيضُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৭৫০. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ...... খালিদ ইবনে হুয়াইরিছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) সাফাহ নামক স্থানে ছিলেন। রাবী মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেনঃ এটি মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান। এ সময় জনৈক ব্যক্তি একটি খরগোশ শিকার করে তাঁর কাছে নিয়ে আসে এবং বলেঃ হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! আপনি এর ব্যাপারে কি বলেন? তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এটি আনা হয় এবং সে সময় আমি তাঁর কাছে বসা ছিলাম। তিনি তা খান নি, তবে অন্যদের তা খেতে নিষেধ করেন নি। তিনি বলেনঃ এর তো হায়য হয়েছে।*

* সম্ভবত : খরগোশটি স্ত্রী-জাতীয় ছিল এবং তার হায়য হয়েছিল। এজন্য নবী (ﷺ) তার গোশত খেতে অনীহা প্রকাশ করেন। খরগোশের গোশত খাওয়াতে কোন বাধা নেই। - (অনুবাদক)

৪৭৯. গুইসাপ খাওয়া।

باب فِي أَكْلِ الضَّبِّ .

৩৭৫১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ خَالَتَهُ، أَهْدَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمْنًا وَأَضُبًّا وَأَقِطًا فَأَكَلَ مِنَ السَّمْنِ وَمِنَ الأَقِطِ وَتَرَكَ الأَضُبَّ تَقَذُّرًا وَأُكِلَ عَلَى مَائِدَتِهِ وَلَوْ كَانَ حَرَامًا مَا أُكِلَ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৫১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তাঁর খালা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ঘি, পনীর এবং গুইসাপ হাদিয়া হিসাবে পাঠান। তখন তিনি ঘি ও পনীর হতে কিছু খান এবং গুইসাপ প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দস্তরখানে খাওয়া হয়। যদি তা হারাম হতো, তবে কখনো তা নবী (ﷺ)-এর দস্তরখানে খাওয়া হতো না।

৩৭৫২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتَ مَيْمُونَةَ فَأُتِيَ بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ فَأَهْوَى إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فَقَالَ بَعْضُ النِّسْوَةِ اللاَّتِي فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ أَخْبِرُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِمَا يُرِيدُ أَنْ يَأْكُلَ مِنْهُ فَقَالُوا هُوَ ضَبٌّ . فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ . قَالَ فَقُلْتُ أَحَرَامٌ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لاَ وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ " قَالَ خَالِدٌ فَاجْتَرَرْتُهُ فَأَكَلْتُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

৩৭৫২. আল-কা’নবী (রাহঃ) ..... খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে যান। তখন সেখানে একটি ভুনা গুইশাপ আনা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খাওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ালে মায়মুনা (রাযিঃ)-এর ঘরে অবস্থানকারী জনৈক মহিলা বলেনঃ নবী (ﷺ) কে উক্ত বস্তু সম্পর্কে জানিয়ে দিন, যা তিনি খাওয়ার ইচ্ছা করেছেন।

তখন তাঁরা বলেনঃ এতো গুইশাপ। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত সরিয়ে নেন। খালিদ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বললামঃ এটা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, তবে যেহেতু এটা আমাদের দেশে হয় না, সেজন্য আমি এটাকে ঘৃণা করছি। খালিদ (রাযিঃ) বলেনঃ একথা শুনে আমি তা টেনে নেই এবং খেয়ে ফেলি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা প্রত্যক্ষ করেন।
৩৭৫৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ وَدِيعَةَ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَيْشٍ فَأَصَبْنَا ضِبَابًا - قَالَ - فَشَوَيْتُ مِنْهَا ضَبًّا فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعْتُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ - قَالَ - فَأَخَذَ عُودًا فَعَدَّ بِهِ أَصَابِعَهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ أُمَّةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُسِخَتْ دَوَابَّ فِي الأَرْضِ وَإِنِّي لاَ أَدْرِي أَىُّ الدَّوَابِّ هِيَ " . قَالَ فَلَمْ يَأْكُلْ وَلَمْ يَنْهَ .

বর্ণনাকারী: ছাবিত ইবনে ওদীআ (রাঃ)

৩৭৫৩. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... ছাবিত ইবনে ওয়াদিআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একটি সেনা বাহিনীতে ছিলাম। সেখানে আমরা কয়েকটি গুইশাপ শিকার করি এবং এর একটি ভুনা করে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে রাখি। তিনি একটি কাঠ দিয়ে তার আঙ্গুল গণনা করে বলেনঃ বনু ইসরাঈলের একটি দলের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যমীনের জন্তুতে পরিণত হয়েছিল। কিন্ত আমি জানি না, সেটি কোন জন্তু। রাবী বলেনঃ তিনি তা খান নি এবং অন্যকে খেতে নিষেধও করেননি।

৩৭৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ زُرْعَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ الْحُبْرَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ أَكْلِ لَحْمِ الضَّبِّ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে শিবল (রাঃ)

৩৭৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে শিবলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গুইশাপ খেতে নিষেধ করেছেন।

৪৮০. দাঁড়ি পাখির গোশত খাওয়া।

باب فِي أَكْلِ لَحْمِ الْحُبَارَى

৩৭৫৫

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنِي بُرَيْهُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَفِينَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ أَكَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَحْمَ حُبَارَى .

বর্ণনাকারী: সাফীনা (রাঃ)

৩৭৫৫. ফযল ইবনে সাহল (রাহঃ) ..... আমর ইবনে সাফীনা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে থাকাবস্থায় দাঁড়ি পাখির গোশত খেয়েছিলাম।

৪৮১. মাটির নীচের জীব খাওয়া সস্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ حَشَرَاتِ الأَرْضِ

৩৭৫৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا غَالِبُ بْنُ حَجْرَةَ، حَدَّثَنِي مِلْقَامُ بْنُ تَلِبٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَحِبْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ أَسْمَعْ لِحَشَرَةِ الأَرْضِ تَحْرِيمًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৭৫৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... তালাব (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি কোন দিন তাঁর থেকে মাটির নীচে বসবাসকারী প্রাণী হারাম হওয়া সম্পর্কে কিছু শ্রবণ করি নি।

৩৭৫৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الْكَلْبِيُّ أَبُو ثَوْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ نُمَيْلَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَسُئِلَ عَنْ أَكْلِ الْقُنْفُذِ، فَتَلاَ ( قُلْ لاَ أَجِدُ فِيمَا أُوحِيَ إِلَىَّ مُحَرَّمًا ) الآيَةَ قَالَ قَالَ شَيْخٌ عِنْدَهُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " خَبِيثَةٌ مِنَ الْخَبَائِثِ " . فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِنْ كَانَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا فَهُوَ كَمَا قَالَ مَا لَمْ نَدْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৫৭. আবু ছাওর ইবরাহীম (রাহঃ) .... ঈসা ইবনে নুমায়লা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। সে সময় তাঁকে সজারু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ (অর্থ) আপনি বলুন, যার সম্পর্কে আমার কাছে ওহী করা হয়েছে, আমি তার কোন কিছুই হারাম পাইনা আহারকারীর জন্য, তবে মৃত জানোয়ার, প্রবাহিত রক্ত, শূকর এবং আল্লাহর নাম ব্যতীত যবেহকৃত পশু (এসব হারাম)।

তখন তাঁর পাশের জনৈক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সজারু সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলেনঃ এটি খাবীছ জন্তুদের মধ্যে অন্যতম। তখন ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলে থাকেন, তবে তা এরূপ, যেরূপ তিনি বলেছেন। তবে এর সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।

৪৮২. বেজী খাওয়া* সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الضَّبُعِ

৩৭৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الضَّبُعِ فَقَالَ " هُوَ صَيْدٌ وَيُجْعَلُ فِيهِ كَبْشٌ إِذَا صَادَهُ الْمُحْرِمُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বেজী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ এটা তো শিকার মাত্র। ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে কেউ যদি একে শিকার করে, তবে এর বদলে একটি দুম্বা কুরবানী করতে হবে।

* নাসাঈ ও ভিরমিযীর বর্ণনায় আছে যে, বেজী খাওয়া যায়। ইমাম শাফি'ঈ (রাহঃ) এরূপ অভিমত পোষণ করেন।

৪৮৩. হিংস্র প্রাণীর গোশত খাওয়া।

باب النَّهْىِ عَنْ أَكْلِ السِّبَاعِ

৩৭৫৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

৩৭৫৯. কা’নবী (রাহঃ) ..... আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক দন্ত-বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (যথা শিয়াল, কুকুর, বিড়াল, বাঘ, ভালুক, সিংহ ইত্যাদি।)

৩৭৬০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৬০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক দন্ত-বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং প্রত্যেক নখর-বিশিষ্ট পাখির গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (যথা-কাক, চিল, বাজ ইত্যাদি।)

৩৭৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ رُؤْبَةَ التَّغْلِبِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ لاَ يَحِلُّ ذُو نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَلاَ الْحِمَارُ الأَهْلِيُّ وَلاَ اللُّقَطَةُ مِنْ مَالِ مُعَاهِدٍ إِلاَّ أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا وَأَيُّمَا رَجُلٍ ضَافَ قَوْمًا فَلَمْ يَقْرُوهُ فَإِنَّ لَهُ أَنْ يُعْقِبَهُمْ بِمِثْلِ قِرَاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

৩৭৬১. মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফফা (রাহঃ) .... মিকদাম ইবনে মা’দীকারীব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জেনে রাখ! কোন দন্ত-বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত হালাল নয়, আর না গৃহ-পালিত গাধার গোশত। আর কোন যিম্মী কাফিরের পড়ে থাকা মালও হালাল নয়, তবে যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দেয়, তবে তা খাওয়া জায়েয। আর যদি কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে মেহমান হয় এবং তারা তার মেহমানদারী না করে, তবে তাদের মাল হতে মেহমানদারীর অংশ মত গ্রহণ করা বৈধ।*

* এ হুকুম ইসালামের প্রথম যুগে বলবৎ ছিল, যখন কাফিরদের নিকট হতেও মেহমানদারী করার জন্য অঙ্গী কার গ্রহণ করা হয়েছিল। - (অনুবাদক)
৩৭৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ .

৩৭৬২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের দিন দন্ত-বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেন এবং তিনি নখর-বিশিষ্ট হিংস্র পাখির গোশত খেতেও নিষেধ করেন।

৩৭৬৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمِقْدَامِ، عَنْ جَدِّهِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ فَأَتَتِ الْيَهُودُ فَشَكَوْا أَنَّ النَّاسَ قَدْ أَسْرَعُوا إِلَى حَظَائِرِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ لاَ تَحِلُّ أَمْوَالُ الْمُعَاهِدِينَ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحَرَامٌ عَلَيْكُمْ حُمُرُ الأَهْلِيَّةِ وَخَيْلُهَا وَبِغَالُهَا وَكُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَكُلُّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ " .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

৩৭৬৩. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে খায়বরের যুদ্ধে শরীক ছিলাম। তখন ইয়াহুদীরা আসে এবং এরূপ অভিযোগ করে যে, (আপনার) লোকেরা আমাদের জীব-জন্তু লুটের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সাবধান! যে সব কাফির তোমাদের সাথে সন্ধি করেছে, তাদের ঘোড়া এবং খচ্চরের গোশত হারাম এবং প্রত্যেক দন্ত-বিশিষ্ট প্রাণী এবং নখর-বিশিষ্ট হিংস্র পাখির গোশত খাওয়াও হারাম।

৩৭৬৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ زَيْدٍ الصَّنْعَانِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْهِرِّ . قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ أَكْلِ الْهِرِّ وَأَكْلِ ثَمَنِهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৬৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বিড়াল বিক্রি করে তার মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

রাবী ইবনে আব্দিল মুলক (রাহঃ) বলেনঃ বিড়ালের গোশত খেতে এবং তার বিক্রির মূল্য খেতেও নিষেধ করেছেন।

৪৮৪. গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ

৩৭৬৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عُبَيْدٍ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ غَالِبِ بْنِ أَبْجَرَ، قَالَ أَصَابَتْنَا سَنَةٌ فَلَمْ يَكُنْ فِي مَالِي شَىْءٌ أُطْعِمُ أَهْلِي إِلاَّ شَىْءٌ مِنْ حُمُرٍ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَابَتْنَا السَّنَةُ وَلَمْ يَكُنْ فِي مَالِي مَا أُطْعِمُ أَهْلِي إِلاَّ سِمَانُ الْحُمُرِ وَإِنَّكَ حَرَّمْتَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ . فَقَالَ " أَطْعِمْ أَهْلَكَ مِنْ سَمِينِ حُمُرِكَ فَإِنَّمَا حَرَّمْتُهَا مِنْ أَجْلِ جَوَالِّ الْقَرْيَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৭৬৫. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী যিয়াদ (রাহঃ) ...... গালিব ইবনে আবজার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা দুর্ভিক্ষের করলে আপতিত হই এবং আমার কাছে আমার পরিবারের লোকদের খাওয়ানোর জন্য কয়েকটি পালিত গাধা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো দুর্ভিক্ষ কবলিত হয়েছি, অথচ আমার কাছে কয়েকটি মোটা-তাজা গৃহপালিত গাধা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা দিয়ে আমি আমার লোকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি। আর আপনি তো গাধার গোশত হারাম করে দিয়েছেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি তোমার পরিবারের লোকদের মোটা-তাজা গাধাগুলির গোশত খাওয়াও; আর আমি তো এদের গোশত খাওয়াকে এজন্য হারাম করেছিলাম যে, এরা নাপাকী খায়।

৩৭৬৬

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَسَنٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَخْبَرَنِي رَجُلٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ أَنْ نَأْكُلَ لُحُومَ الْحُمُرِ وَأَمَرَنَا أَنْ نَأْكُلَ لُحُومَ الْخَيْلِ قَالَ عَمْرٌو فَأَخْبَرْتُ هَذَا الْخَبَرَ أَبَا الشَّعْثَاءِ فَقَالَ قَدْ كَانَ الْحَكَمُ الْغِفَارِيُّ فِينَا يَقُولُ هَذَا وَأَبَى ذَلِكَ الْبَحْرُ يُرِيدُ ابْنَ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৬৬. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমদের গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রাবী আমর (রাহঃ) বলেনঃ আমি আবু শাছাআ (রাহঃ)-এর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেনঃ হাকাম গিফারী (রাযিঃ) আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা করতেন। তবে জ্ঞানের সাগর অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এ হাদীস অস্বীকার করেছেন।
৩৭৬৭

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ وَعَنِ الْجَلاَّلَةِ عَنْ رُكُوبِهَا وَأَكْلِ لَحْمِهَا .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৭৬৭. সাহল ইবনে বাককার (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের দিন গৃহ-পালিত গাধার গোশত এবং নাপাক জিনিস ভক্ষণকারী পশুর গোশত খেতে নিষেধ করেন। আর তিনি এদের উপর আরোহণ করতে এবং এদের গোশত খেতেও নিষেধ করেন।

৪৮৫. ফড়িং ধাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الْجَرَادِ

৩৭৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الزِّبْرِقَانِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَرَادِ فَقَالَ " أَكْثَرُ جُنُودِ اللَّهِ لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُعْتَمِرُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرْ سَلْمَانَ .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৩৭৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে ফারজ (রাহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ফড়িং সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ এরা আল্লাহর অগণিত সেনা। আমি তা খাই না এবং আমি একে হারামও বলি না।

৩৭৬৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي الْعَوَّامِ الْجَزَّارِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ فَقَالَ مِثْلَهُ فَقَالَ " أَكْثَرُ جُنْدِ اللَّهِ " . قَالَ عَلِيٌّ اسْمُهُ فَائِدٌ يَعْنِي أَبَا الْعَوَّامِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الْعَوَّامِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرْ سَلْمَانَ .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৩৭৬৯. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ...... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ফড়িং সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ এরা আল্লাহর অসংখ্য সেনা। আলী (রাহঃ) বলেনঃ আবুল আওয়ামের নাম হলো ফাইদ।

৪৮৬. মাছ মরে ভেসে উঠলে তা খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الطَّافِي مِنَ السَّمَكِ

৩৭৭০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَلْقَى الْبَحْرُ أَوْ جَزَرَ عَنْهُ فَكُلُوهُ وَمَا مَاتَ فِيهِ وَطَفَا فَلاَ تَأْكُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَيُّوبُ وَحَمَّادٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ أَوْقَفُوهُ عَلَى جَابِرٍ وَقَدْ أُسْنِدَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا مِنْ وَجْهٍ ضَعِيفٍ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৭০. আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সমুদ্র যে মাছকে বাইরে নিক্ষেপ করে, অথবা সমুদ্রের পানি কমে যাওয়ার কারণে যে মাছ উপরে চলে আসে, তোমরা তা ভক্ষণ করবে। কিন্তু যে মাছ সমুদ্রের মধ্যে মরে ভেসে উঠে, তোমরা তা খাবে না।

৩৭৭১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى، وَسَأَلْتُهُ، عَنِ الْجَرَادِ، فَقَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّ أَوْ سَبْعَ غَزَوَاتٍ فَكُنَّا نَأْكُلُهُ مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩৭৭১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আবু ইয়া-ফূর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে আবী আওফা (রাযিঃ)-কে ফড়িং (টিড্ডি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গী হয়ে ছয়টি বা সাতটি যুদ্ধে শরীক ছিলাম। এ সময় আমরা তাঁর সঙ্গে ফড়িং খেতাম।

৪৮৭. মৃত জন্তু খেতে বাধ্য হলে।

باب فِي الْمُضْطَرِّ إِلَى الْمَيْتَةِ

৩৭৭২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، نَزَلَ الْحَرَّةَ وَمَعَهُ أَهْلُهُ وَوَلَدُهُ فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّ نَاقَةً لِي ضَلَّتْ فَإِنْ وَجَدْتَهَا فَأَمْسِكْهَا . فَوَجَدَهَا فَلَمْ يَجِدْ صَاحِبَهَا فَمَرِضَتْ فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ انْحَرْهَا . فَأَبَى فَنَفَقَتْ فَقَالَتِ اسْلُخْهَا حَتَّى نُقَدِّدَ شَحْمَهَا وَلَحْمَهَا وَنَأْكُلَهُ . فَقَالَ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكَ غِنًى يُغْنِيكَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَكُلُوهَا " . قَالَ فَجَاءَ صَاحِبُهَا فَأَخْبَرَهُ الْخَبَرَ فَقَالَ " هَلاَّ كُنْتَ نَحَرْتَهَا " . قَالَ اسْتَحْيَيْتُ مِنْكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৩৭৭২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি হাররা নামক স্থানে অবতরণ করে এবং তার সাথে ছিল তার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি। সে সময় জনৈক ব্যক্তি তাকে বলেঃ আমার উট হারিয়ে গেছে, যদি তুমি সেটিকে পাও, তবে বেঁধে রাখবে। সে ব্যক্তি সে উটকে পেল, কিন্তু তার মালিককে আর পেল না। হঠাৎ সে উটটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তার স্ত্রী তাকে বলেঃ তুমি এটিকে নহর বা যবেহ কর। কিন্তু সে তা করতে অস্বীকার করে এবং পরে উটটি মারা যায়। এরপর তার স্ত্রী বলেঃ তুমি এর চামড়া ছুলে ফেল, যাতে আমরা এর গোশত ও চর্বি খেতে পারি, (কারণ আমরা উপোস ও ক্ষুধার্ত)।

তখন সে ব্যক্তি বলেঃ (অপেক্ষা কর) যাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি। তখন সে এসে নবী (ﷺ)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তোমার নিকট এমন কিছু (খাবার) আছে কি, যা তোমাকে এ মৃত জন্তু খাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী করতে পারে? তখন সে বলে আমার কাছে কিছুই নেই। তিনি বলেনঃ তবে তোমরা তা খেতে পার। রাবী বলেনঃ এ সময় উটের মালিক সেখানে আসলে, সে লোকটি তাকে ব্যাপারটি অবহিত করে। তখন উটের মালিক বলেঃ তুমি তাকে কেন নহর করলে না? সে লোকটি বলেঃ তোমার কথা চিন্তা করে আমি লজ্জানুভব করি (যে, তোমার বিনা অনুমতিতে সেটিকে কিভাবে যবেহ করবো?)
৩৭৭৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ وَهْبِ بْنِ عُقْبَةَ الْعَامِرِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنِ الْفُجَيْعِ الْعَامِرِيِّ، أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا يَحِلُّ لَنَا مِنَ الْمَيْتَةِ قَالَ " مَا طَعَامُكُمْ " . قُلْنَا نَغْتَبِقُ وَنَصْطَبِحُ . قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ فَسَّرَهُ لِي عُقْبَةُ قَدَحٌ غُدْوَةً وَقَدَحٌ عَشِيَّةً . قَالَ " ذَاكَ - وَأَبِي - الْجُوعُ " . فَأَحَلَّ لَهُمُ الْمَيْتَةَ عَلَى هَذِهِ الْحَالِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৩৭৭৩. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... ফাজী’ আমিরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাদের জন্য মৃত জন্তু কি হালাল নয়? তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের খাদ্য কি? তখন সে বলেঃ আমরা সকালে এক পেয়ালা দুধ এবং সন্ধ্যায় এক পিয়ালা দুধ পান করি মাত্র।

রাবী আবু নু’আয়ম (রাহঃ) বলেনঃ উকবা (রাহঃ) আমার কাছে এর ব্যাখ্যা করে বলেন যে, এক পেয়ালা সকালে এবং এক পেয়ালা সন্ধ্যায়। এরপর তিনি বলেনঃ আমার পিতার শপথ! আমি ক্ষুধার্ত থাকি। তখন নবী (ﷺ) তার জন্য মৃত জন্তু খাওয়াকে হালাল করে দেন, তার সেই অভুক্ত থাকার প্রেক্ষিতে।

৪৮৮. একই সময়ে কয়েক ধরনের মিশ্রিত খাদ্য খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي الْجَمْعِ بَيْنَ لَوْنَيْنِ

৩৭৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَدِدْتُ أَنَّ عِنْدِي خُبْزَةً بَيْضَاءَ مِنْ بُرَّةٍ سَمْرَاءَ مُلَبَّقَةً بِسَمْنٍ وَلَبَنٍ " . فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَاتَّخَذَهُ فَجَاءَ بِهِ فَقَالَ " فِي أَىِّ شَىْءٍ كَانَ هَذَا " . قَالَ فِي عُكَّةِ ضَبٍّ قَالَ " ارْفَعْهُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৭৪. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল আযীয (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাদা গমের সাদা রুটি, ঘি এবং দুধে মিশ্রিত খাবার আমার কাছে খুবই প্রিয়। তখন লোকদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি দাঁড়ায় এবং এ ধরনের রুটি এনে দেয়। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ঘি কোন পাত্রে ছিল? সে বলেঃ গুইসাপের চামড়ার তৈরী মশকের মধ্যে। তিনি বলেনঃ তুমি তা সরিয়ে নাও, (আমি খাব না)।

৪৮৯. পনীর খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الْجُبْنِ

৩৭৭৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَنْصُورٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِجُبْنَةٍ فِي تَبُوكَ فَدَعَا بِسِكِّينٍ فَسَمَّى وَقَطَعَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৭৫. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাবুকের যুদ্ধের সময় নবী (ﷺ)-এর নিকট একটি পনীরের মণ্ড পেশ করা হলে তিনি ছুরি চান এবং বিসমিল্লাহ বলে তা কেটে খান।

৪৮৯. সির্কা বা আচার সম্পর্কে।

باب فِي الْخَلِّ

৩৭৭৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " نِعْمَ الإِدَامُ الْخَلُّ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৭৬. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম তরকারি হলো সির্কা বা আচার।

৪৮৯. পনীর খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الْجُبْنِ

৩৭৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " نِعْمَ الإِدَامُ الْخَلُّ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৭৭. আবু ওয়ালীদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ উত্তম তরকারি হলো সির্কা।

৪৯০. রসুন খাওয়া সম্পর্কে।

باب فِي أَكْلِ الثُّومِ

৩৭৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلاً فَلْيَعْتَزِلْنَا - أَوْ لِيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا - وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ " . وَإِنَّهُ أُتِيَ بِبَدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ مِنَ الْبُقُولِ فَوَجَدَ لَهَا رِيحًا فَسَأَلَ فَأُخْبِرَ بِمَا فِيهَا مِنَ الْبُقُولِ فَقَالَ " قَرِّبُوهَا " . إِلَى بَعْضِ أَصْحَابِهِ كَانَ مَعَهُ فَلَمَّا رَآهُ كَرِهَ أَكْلَهَا قَالَ " كُلْ فَإِنِّي أُنَاجِي مَنْ لاَ تُنَاجِي " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ بِبَدْرٍ فَسَّرَهُ ابْنُ وَهْبٍ طَبَقٌ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৭৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন বা পেয়াজ খাবে, সে যেন আমাদের থেকে পৃথক থেকে, অথবা আমাদের মসজিদ হতে দূরে থাকে। আর তার উচিত, সে যেন তার ঘরের মধ্যে থাকে। এরপর নবী (ﷺ)-এর নিকট একটি পাত্র পেশ করা হয়, যাতে সবজীর তরকারি ছিল। তিনি তরকারীর গন্ধ পেয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ এটি কিসের তৈরী? তখন তাঁকে তরকারি সম্পর্কে জানানো হয়। তখন তিনি সেটি তাঁর কোন সাহাবীর নিকট রাখার জন্য নির্দেশ দেন। উক্ত সাহাবী তা খেতে অনীহা প্রকাশ করলে তিনি বলেনঃ তুমি তা খাও। কেননা, আমি এমন জাতের সঙ্গে একান্তে কথাবার্তা বলি, যার সাথে তুমি কথা বল না, (অর্থাৎ ফিরিশতাদের সঙ্গে)।

৩৭৭৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَوَادَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا النَّجِيبِ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الثُّومُ وَالْبَصَلُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَشَدُّ ذَلِكَ كُلِّهِ الثُّومُ أَفَتُحَرِّمُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " كُلُوهُ وَمَنْ أَكَلَهُ مِنْكُمْ فَلاَ يَقْرَبْ هَذَا الْمَسْجِدَ حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهُ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৭৭৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে রসুন এবং পেয়াজ সম্পর্কে আলোচনা হয়। সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দুটির মধ্যে রসুনে তেজ বা ঝাঁঝ বেশী, আপনি কি একে হারাম মনে করেন? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তা খাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি তা খাবে, এর দুর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন মসজিদে না আসে।

৩৭৮০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَظُنُّهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَفَلَ تِجَاهَ الْقِبْلَةِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَفْلُهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَمَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ الْخَبِيثَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا " . ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৩৭৮০. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বলেন, আমার ধারণা তিনি হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (নামাযের মধ্যে) কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, সে কিয়ামতের দিন এমন ভাবে উপস্থিত হবে যে, তার নিক্ষিপ্ত থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে লেগে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এরূপ গন্ধ যুক্ত খাবার (রসুন, পেয়াজ) খাবে, সে যেন আমার মসজিদের কাছে না আসে। তিনি তিনবার এরূপ বলেন।

৩৭৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ الْمَسَاجِدَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৮১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ গাছ (রসুন, পেয়াজ) হতে কিছু খাবে, সে যেন মসজিদে না আসে।

৩৭৮২

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ أَكَلْتُ ثُومًا فَأَتَيْتُ مُصَلَّى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ سُبِقْتُ بِرَكْعَةٍ فَلَمَّا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رِيحَ الثُّومِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبْنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا " . أَوْ " رِيحُهُ " . فَلَمَّا قَضَيْتُ الصَّلاَةَ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَتُعْطِيَنِّي يَدَكَ . قَالَ فَأَدْخَلْتُ يَدَهُ فِي كُمِّ قَمِيصِي إِلَى صَدْرِي فَإِذَا أَنَا مَعْصُوبُ الصَّدْرِ قَالَ " إِنَّ لَكَ عُذْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৩৭৮২. শায়বান (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রসুন খাওয়ার পর মসজিদে গমন করি, যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করতেন। এ সময় এক রাক’আত নামায শেষ হয়েছিল। যখনই আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রসুনের গন্ধ পান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় শেষে বলেনঃ যে ব্যক্তি এ গাছ (পেয়াজ, রসুন) হতে কিছু খাবে, সে যেন ততক্ষণ আমাদের কাছে না আসে, যতক্ষণ না সে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।

আমার নামায আদায় শেষে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আপনি আপনার হাতখানা আমাকে দিন। এরপর আমি তাঁর হাত নিজের জামার নীচ দিয়ে আমার বুকের উপর রাখি। এ সময় আমার সীনা বাঁধা ছিল। তখন তিনি বলেনঃ তোমার তো উযর আছে, (অর্থাৎ প্রয়োজনের তাগিদে তুমি রসুন, পেয়াজ খেতে পার)।
৩৭৮৩

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَيْسَرَةَ، - يَعْنِي الْعَطَّارَ - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ وَقَالَ " مَنْ أَكَلَهُمَا فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا " . وَقَالَ " إِنْ كُنْتُمْ لاَ بُدَّ آكِلِيهِمَا فَأَمِيتُوهُمَا طَبْخًا " . قَالَ يَعْنِي الْبَصَلَ وَالثُّومَ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

৩৭৮৩. আব্বাস (রাহঃ) .... কুররা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’টি গাছ (পেয়াজ ও রসুন) হতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ দুটি জিনিস খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। তিনি আরো বলেনঃ যদি কোন কারণবশত তোমাদের তা খেতে হয়, তবে তোমরা তা রান্না করে এর দুর্গন্ধ দূর করে খাবে। রাবী বলেনঃ তা হলো রসুন ও পেয়াজ।

৩৭৮৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْجَرَّاحُ أَبُو وَكِيعٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ نُهِيَ عَنْ أَكْلِ الثُّومِ، إِلاَّ مَطْبُوخًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ شَرِيكُ بْنُ حَنْبَلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৭৮৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) রান্না করা ব্যতীত কাঁচা রসুন খেতে নিষেধ করেছেন।

৩৭৮৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي زِيَادٍ، خِيَارِ بْنِ سَلَمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ الْبَصَلِ، فَقَالَتْ إِنَّ آخِرَ طَعَامٍ أَكَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامٌ فِيهِ بَصَلٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭৮৫. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... খিয়ার ইবনে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে পেয়াজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ যে খাদ্য গ্রহণ করেন, তাতে পেয়াজ মিশ্রিত ছিল, (অর্থাৎ রান্না করা পেয়াজ)।

৪৯২. খেজুর সম্পর্কে।

باب فِي التَّمْرِ

৩৭৮৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ الأَعْوَرِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ كِسْرَةً مِنْ خُبْزِ شَعِيرٍ فَوَضَعَ عَلَيْهَا تَمْرَةً وَقَالَ " هَذِهِ إِدَامُ هَذِهِ " .

বর্ণনাকারী: ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)

৩৭৮৬. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) .... ইউসুফ ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে দেখেছি যে, তিনি এক ইকরা যবের রুটি নিয়ে তার উপর খেজুর রেখে বলেন, এ হলো এর (রুটির) তরকারি।

৩৭৮৭

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بَيْتٌ لاَ تَمْرَ فِيهِ جِيَاعٌ أَهْلُهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭৮৭. ওয়ালীদ ইবনে উতাবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে খেজুর নেই, সে ঘরের লোকেরা অভুক্ত রয়েছে।

৪৯৩. খেজুর খাওয়ার সময় তা পরিষ্কার করা।

باب فِي تَفْتِيشِ التَّمْرِ الْمُسَوَّسِ عِنْدَ الأَكْلِ

৩৭৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ أَبُو قُتَيْبَةَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِتَمْرٍ عَتِيقٍ فَجَعَلَ يُفَتِّشُهُ يُخْرِجُ السُّوسَ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৭৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ)-এর সামনে খেজুর আনা হলে তিনি তা পরিষ্কার করতে থাকেন এবং এর পোকা ধরে ফেলে দিতে থাকেন।

৩৭৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُؤْتَى بِالتَّمْرِ فِيهِ دُودٌ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৩৭৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... ইসহাক ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে আবী তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) এর সামনে পোকা ধরা খেজুর পেশ করা হয়। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৪৯৪. একবারে দু’তিনটা খেজুর খাওয়া।

باب الإِقْرَانِ فِي التَّمْرِ عِنْدَ الأَكْلِ

৩৭৯০

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ جَبَلَةَ بْنِ سُحَيْمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الإِقْرَانِ إِلاَّ أَنْ تَسْتَأْذِنَ أَصْحَابَكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭৯০. ওয়াসিল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় সাথীদের অনুমতি ব্যতীত দু’ তিনটি খেজুর একসাথে খেতে নিষেধ করেছেন। (কারণ একজন বেশী খেলে অপরজন বঞ্চিত হতে পারে)।

৪৯৫. দু’ধরনের খাদ্য একত্রে মিশিয়ে খাওয়া।

باب فِي الْجَمْعِ بَيْنَ لَوْنَيْنِ فِي الأَكْلِ

৩৭৯১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْكُلُ الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

৩৭৯১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) শসাফল তাজা খেজুরের সাথে মিলিয়ে খেতেন।

৩৭৯২

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نُصَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ الْبِطِّيخَ بِالرُّطَبِ فَيَقُولُ " نَكْسِرُ حَرَّ هَذَا بِبَرْدِ هَذَا وَبَرْدَ هَذَا بِحَرِّ هَذَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৭৯২. সা’ঈদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তরমুজ ফল তাজা খেজুরের সাথে খেতেন এবং বলতেনঃ আমি এর গরমকে ওর ঠাণ্ডার দ্বারা এবং এর ঠাণ্ডাকে ওর গরমের দ্বারা বিদূরিত করি।

৩৭৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مَزْيَدٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ جَابِرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، عَنِ ابْنَىْ، بُسْرٍ السُّلَمِيَّيْنِ قَالاَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدَّمْنَا زُبْدًا وَتَمْرًا وَكَانَ يُحِبُّ الزُّبْدَ وَالتَّمْرَ .

বর্ণনাকারী: সুলাইম ইবনে আমির (রহঃ)

৩৭৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াযীর (রাহঃ) ..... সুলায়ম ইবনে আমির (রাহঃ) বুসরের দু’ছেলে থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট আসেন, তখন আমরা তাঁর সামনে মাখন এবং খেজুর পেশ করি। আর তিনি মাখন এবং খেজুর খুবই পছন্দ করতেন।

৪৯৬. আহলে কিতাবদের পাত্রে খাওয়া।

باب الأَكْلِ فِي آنِيَةِ أَهْلِ الْكِتَابِ

৩৭৯৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، وَإِسْمَاعِيلُ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنُصِيبُ مِنْ آنِيَةِ الْمُشْرِكِينَ وَأَسْقِيَتِهِمْ فَنَسْتَمْتِعُ بِهَا فَلاَ يَعِيبُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৯৪. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গী হিসাবে জিহাদে শরীক হতাম এবং মুশরিকদের তৈজসপত্র পেতাম, যা দিয়ে আমরা পানি পান করতাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনও মিটাতাম। আর তিনি এরূপ করাকে দোষের মনে করতেন না।

৩৭৯৫

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ، مُسْلِمِ بْنِ مِشْكَمٍ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّا نُجَاوِرُ أَهْلَ الْكِتَابِ وَهُمْ يَطْبُخُونَ فِي قُدُورِهِمُ الْخِنْزِيرَ وَيَشْرَبُونَ فِي آنِيَتِهِمُ الْخَمْرَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَكُلُوا فِيهَا وَاشْرَبُوا وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا غَيْرَهَا فَارْحَضُوهَا بِالْمَاءِ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

৩৭৯৫. নসর ইবনে আসিম (রাহঃ) .... আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমরা আহলে কিতাবদের প্রতিবেশী এবং তারা তাদের হ্যাঁড়িতে শূকরের গোশত রান্না করে ও তাদের পাত্রে মদপান করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি তোমরা তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র পাও, তবে তোমরা তাতে পানাহার করবে। আর যদি তোমরা তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র না পাও, তবে তোমরা তা উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করে তাতে পানাহার করতে পার।

৪৯৭. সমুদ্রের জীব সম্পর্কে।

باب فِي دَوَابِّ الْبَحْرِ

৩৭৯৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَّرَ عَلَيْنَا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ نَتَلَقَّى عِيرًا لِقُرَيْشٍ وَزَوَّدَنَا جِرَابًا مِنْ تَمْرٍ لَمْ نَجِدْ لَهُ غَيْرَهُ فَكَانَ أَبُو عُبَيْدَةَ يُعْطِينَا تَمْرَةً تَمْرَةً كُنَّا نَمُصُّهَا كَمَا يَمُصُّ الصَّبِيُّ ثُمَّ نَشْرَبُ عَلَيْهَا مِنَ الْمَاءِ فَتَكْفِينَا يَوْمَنَا إِلَى اللَّيْلِ وَكُنَّا نَضْرِبُ بِعِصِيِّنَا الْخَبَطَ ثُمَّ نَبُلُّهُ بِالْمَاءِ فَنَأْكُلُهُ وَانْطَلَقْنَا عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ فَرُفِعَ لَنَا كَهَيْئَةِ الْكَثِيبِ الضَّخْمِ فَأَتَيْنَاهُ فَإِذَا هُوَ دَابَّةٌ تُدْعَى الْعَنْبَرَ فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَيْتَةٌ وَلاَ تَحِلُّ لَنَا ثُمَّ قَالَ لاَ بَلْ نَحْنُ رُسُلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدِ اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ فَكُلُوا فَأَقَمْنَا عَلَيْهِ شَهْرًا وَنَحْنُ ثَلاَثُمِائَةٍ حَتَّى سَمِنَّا فَلَمَّا قَدِمْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " هُوَ رِزْقٌ أَخْرَجَهُ اللَّهُ لَكُمْ فَهَلْ مَعَكُمْ مِنْ لَحْمِهِ شَىْءٌ فَتُطْعِمُونَا مِنْهُ " . فَأَرْسَلْنَا مِنْهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .فَأَكَلَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৭৯৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা (রাযিঃ)-কে আমাদের আমীর নিযুক্ত করে আমাদেরকে কুরাইশদের একটি কাফেলাকে পাঁকড়াও করে আনার জন্য প্রেরণ করেন এবং রাস্তায় খাওয়ার জন্য এক থলি খেজুরও প্রদান করেন। এ খেজুর ছাড়া আমাদের সাথে আর কোন খেজুর না থাকায় আবু উবাইদা (রাযিঃ) আমাদের মাত্র একটি করে খেজুর দিতেন, যা আমরা বাচ্চাদের মত চুষতাম এবং তা মুখে রেখে পানি পান করতাম। আর তা সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো।

এছাড়া আমরা আমাদের লাঠি দিয়ে গাছের পাতা পেড়ে তা পানিতে ভিজিয়ে খেতাম। এ অবস্থায় আমরা যখন সমুদ্রের নিকটবর্তী হই, তখন আমরা উঁচু বালুস্তূপের মত কিছু দেখতে পাই। যখন আমরা এর কাছে পৌছাই, তখন জানতে পারি যে, এটি একটি সমুদ্রের জীব, যাকে ’আম্বর’ বলা হয়। সেটিকে দেখে আবু উবাইদা (রাযিঃ) বলেনঃ এতো মৃত জীব, এটি খাওয়া আমাদের জন্য জায়েয নয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক প্রেরিত হয়েছি এবং আল্লাহর রাস্তায় সফর করছি। এখন তোমরা অসহায় অবস্থায় পরেছ, কাজেই তোমরা তা খাও।

জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা সেখানে এক মাসের মত অবস্থান করেছিলাম এবং আমাদের সংখ্যা ছিল তিন শ’তের মত। ফলে, আমরা তা খেতে থাকি, এমনকি আমরা সবাই মোটা-তাজা হয়ে যাই। এরপর আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ফিরে আসি, তখন এ বিষয়ে তাঁকে অবহিত করি। তিনি বলেনঃ এ ছিল একটি বিশেষ ধরনের খাদ্য, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য (সমুদ্র থেকে) বের করেছেন। কী, তোমাদের কাছে এর কোন গোশত আছে নাকি, যা তোমরা আমাকে খাওয়াবে? তখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সে মাছের গোশত প্রেরণ করি, (যা তিনি খান)।

৪৯৮. ঘি-এর মধ্যে ইঁদুর পড়লে।

باب فِي الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ

৩৭৯৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ فَأْرَةً، وَقَعَتْ، فِي سَمْنٍ فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلْقُوا مَا حَوْلَهَا وَكُلُوا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৩৭৯৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... মায়মুনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার ঘি-এর মধ্যে ইঁদুর পড়লে ব্যাপারটি নবী (ﷺ)-এর গোচরীভূত করা হয়। তখন তিনি বলেনঃ ইঁদুরের চারপাশ থেকে ঘি উঠিয়ে ফেলে দাও এবং বাকী অংশ খাও।

৩৭৯৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، - وَاللَّفْظُ لِلْحَسَنِ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَقَعَتِ الْفَأْرَةُ فِي السَّمْنِ فَإِنْ كَانَ جَامِدًا فَأَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا وَإِنْ كَانَ مَائِعًا فَلاَ تَقْرَبُوهُ " . قَالَ الْحَسَنُ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَرُبَّمَا حَدَّثَ بِهِ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৭৯৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি ঘি-এর মধ্যে ইঁদুর পড়ে এবং তা জমাট হয়, তবে তোমরা ইঁদুর এবং এর চারপাশ থেকে ঘি উঠিয়ে ফেলে দেবে। আর ঘি যদি গলানো হয়, তবে তোমরা এর নিকটবর্তী হবে না, (অর্থাৎ খাবে না)।

৩৭৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بُوذَوَيْهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৭৯৯. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মায়মুনা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪৯৯. খাবারে মাছি পড়লে সে সম্পর্কে।

باب فِي الذُّبَابِ يَقَعُ فِي الطَّعَامِ

৩৮০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَامْقُلُوهُ فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الآخَرِ شِفَاءً وَإِنَّهُ يَتَّقِي بِجَنَاحِهِ الَّذِي فِيهِ الدَّاءُ فَلْيَغْمِسْهُ كُلَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮০০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন খাবার পাত্রে মাছি পড়ে, তখন তোমরা তাকে পাত্রের মাঝে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে দেবে। কেননা, তার এক ডানায় রোগ এবং অপর ডানায় শিফা থাকে। আর মাছি খাবারে পতিত হওয়ার সময় ঐ ডানা নিক্ষেপ করে, যাতে রোগ-জীবাণু থাকে। কাজেই তোমরা তাকে পাত্রের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে।

৫০০. খাওয়ার সময় খাদ্যবস্তু পড়ে গেলে।

باب فِي اللُّقْمَةِ تَسْقُطُ

৩৮০১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَكَلَ طَعَامًا لَعِقَ أَصَابِعَهُ الثَّلاَثَ وَقَالَ " إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيُمِطْ عَنْهَا الأَذَى وَلْيَأْكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ " . وَأَمَرَنَا أَنْ نَسْلُتَ الصَّحْفَةَ وَقَالَ " إِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي فِي أَىِّ طَعَامِهِ يُبَارَكُ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮০১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাওয়ার পর তাঁর হাতের তিনটি আঙ্গুল চাটতেন এবং বলতেন যে, যখন তোমাদের কারো গ্রাস হতে কিছু পড়ে যায়, তখন তা পরিষ্কার করে খেয়ে নেবে এবং তা শয়তানের জন্য পরিত্যাগ করবে না। আর তিনি আমাদের খাওয়ার পাত্র পরিষ্কার করে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, আর বলেছেনঃ তোমাদের কেউ অবহিত নয় যে, তার জন্য কোন খাদ্যবস্তুতে বরকত রাখা হয়েছে।

৫০১. চাকরের মনিবের সাথে খাদ্যগ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي الْخَادِمِ يَأْكُلُ مَعَ الْمَوْلَى

৩৮০২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَنَعَ لأَحَدِكُمْ خَادِمُهُ طَعَامًا ثُمَّ جَاءَهُ بِهِ وَقَدْ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ فَلْيُقْعِدْهُ مَعَهُ لِيَأْكُلَ فَإِنْ كَانَ الطَّعَامُ مَشْفُوهًا فَلْيَضَعْ فِي يَدِهِ مِنْهُ أَكْلَةً أَوْ أَكْلَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮০২. কা’নবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বঁলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো চাকর তার জন্য খাবার তৈরী করে আনে এবং সে তা পাকাবার সময় তাপ ও উত্তাপ সহ্য করে, তখন মনিবের উচিত, তাকে নিজের সাথে বসিয়ে খানা খাওয়ানো। আর যদি খাবারের পরিমাণ কম হয়, তবু তাকে এক বা দুই লোকমা খাদ্য দেওয়া উচিত।

৫০২. রুমাল দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।

باب فِي الْمِنْدِيلِ

৩৮০৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَمْسَحَنَّ يَدَهُ بِالْمِنْدِيلِ حَتَّى يَلْعَقَهَا أَوْ يُلْعِقَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৮০৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খাবে, তখন সে যেন ততক্ষণ তার হাত রুমাল দিয়ে পরিষ্কার না করে, যতক্ষণ না সে নিজের হাত চাটে বা অন্যকে দিয়ে চাটায়।

৩৮০৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْكُلُ بِثَلاَثِ أَصَابِعَ وَلاَ يَمْسَحُ يَدَهُ حَتَّى يَلْعَقَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৩৮০৪. নুফায়লী (রাহঃ) .... কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তিন আঙ্গুল দিয়ে খাবার খেতেন এবং আঙ্গুল চাটার আগে রুমাল দিয়ে পরিষ্কার করতেন না।

৫০৩. খাবার খেয়ে কি দুআ পাঠ করবে?

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا طَعِمَ

৩৮০৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رُفِعَتِ الْمَائِدَةُ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلاَ مُوَدَّعٍ وَلاَ مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبُّنَا " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩৮০৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দস্তরখান উঠিয়ে নেয়ার পর এরূপ দুআ পড়তেনঃ (অর্থ) আল্লাহর জন্য অসংখ্য প্রশংসা, বরকতময় শুকরিয়া এ খাদ্যের মধ্যে, যা একবার যথেষ্ট নয় এবং পরিত্যাগযোগ্যও নয়, আর না এ হতে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়, হে আমাদের রব! সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্য।

৩৮০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ الْوَاسِطِيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ غَيْرِهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنْ طَعَامِهِ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৮০৬. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ...... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খানা খাওয়ার পর এরূপ দুআ পড়তেনঃ (অর্থ) সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন এবং আমাদেরকে তাঁর অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

৩৮০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي عَقِيلٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَ وَسَقَى وَسَوَّغَهُ وَجَعَلَ لَهُ مَخْرَجًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৩৮০৭. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খানা খাওয়ার এবং পানি পান করার পর এরূপ দুআ পাঠ করতেনঃ (অর্থ) সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য, যিনি খাওয়ালেন, পান করালেন এবং খাদ্য বস্তুকে হযম করিয়ে তা বের হওয়ার জন্য রাস্তা তৈরী করেছেন (পেশাব পায়খানার মাধ্যমে)।

৫০৪. খাওয়ার পর হাত ধোয়া সম্পর্কে।

باب فِي غَسْلِ الْيَدِ مِنَ الطَّعَامِ

৩৮০৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَامَ وَفِي يَدِهِ غَمَرٌ وَلَمْ يَغْسِلْهُ فَأَصَابَهُ شَىْءٌ فَلاَ يَلُومَنَّ إِلاَّ نَفْسَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮০৮. আহমদ ইবনে য়ূনুস (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় শয়ন করে যে, তার হাতে তরকারি বা গোশতের ঝোল লেগে থাকে এবং সে তা ধোয় না; এর ফলে যদি তার কোন ক্ষতি হয়, তবে তার উচিত হবে নিজেকে দোষারোপ করা।

৫০৫. খানা খাওয়ার পর মেজবানের জন্য দুআ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ لِرَبِّ الطَّعَامِ

৩৮০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَنَعَ أَبُو الْهَيْثَمِ بْنُ التَّيْهَانِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا فَدَعَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ فَلَمَّا فَرَغُوا قَالَ " أَثِيبُوا أَخَاكُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِثَابَتُهُ قَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا دُخِلَ بَيْتُهُ فَأُكِلَ طَعَامُهُ وَشُرِبَ شَرَابُهُ فَدَعَوْا لَهُ فَذَلِكَ إِثَابَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮০৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু হায়ছাম ইবনে তায়হান (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর জন্য খানা পাক করেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের দাওয়াত দেন। সকলের খানা-পিনা শেষ হলে তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের বিনিময় প্রদান কর। সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার জন্য বিনিময় কি? তখন তিনি বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তি কারো বাড়ীতে গিয়ে তার খাবার খায় এবং পানি পান করে, তখন তার জন্য দুআ করা উচিত। এ হলো তার বিনিময়।

৩৮১০

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَاءَ إِلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَجَاءَ بِخُبْزٍ وَزَيْتٍ فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮১০. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) এর নিকট যান। তিনি রুটি এবং যয়তুনের তেল তাঁর সামনে পেশ করেন। নবী (ﷺ) তা খেয়ে এরূপ বলেনঃ রোযাদার ব্যক্তি তোমাদের কাছে এসে ইফতার করুক, নেককার লোক তোমাদের খানা খাক, আর ফিরিশতারা তোমাদের উপর রহমত প্রেরণ করুক।

৫০৬. যে সব জন্তু হারাম হওয়ার কথা কুরআন-হাদীসে নেই।

৩৮১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ صُبَيْحٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ شَرِيكٍ الْمَكِّيَّ - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ وَأَحَلَّ حَلاَلَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلاَلٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ وَتَلاَ ( قُلْ لاَ أَجِدُ فِيمَا أُوحِيَ إِلَىَّ مُحَرَّمًا ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৮১১. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জাহিলী যুগের লোকেরা কোন কোন বস্তু খেত এবং কোন কোন বস্তুকে খারাপ মনে করে পরিহার করতো। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে প্রেরণ করেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করেন, আর তাঁর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম নির্ধারণ করে দেন। ফলে তিনি যা হালাল করেন তা হালাল এবং যা হারাম করেন তা হারাম। আর তিনি যে সম্পর্কে চুপ থাকেন, তা ক্ষমার যোগ্য।

এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ (অর্থ) আপনি বলুন! আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়েছে তাতে, লোকে যা আহার করে, তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাই না। মরা, বহমান রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা, এ অবশ্যই অপবিত্র অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে; তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালংঘন না করে তা গ্রহণে নিরূপায় হলে, (সে আলাদা ব্যাপার)। নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।*

* ইফাবার ৩৮১২,৩৮১৩ ও ৩৮১৪ নং হাদীসত্রয় এ অধ্যায়ের নয়, হাদীস তিনটি পরবর্তী অধ্যায়ের ৩৮৫৬ ও ৩৮৬১ নং হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। তাই আমরা সেগুলো (পুনঃউল্লেখ না করে) এখান থেকে হযফ করে দিয়েছি। (টিকাকার)