كتاب الطلاق

১০. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়

অধ্যায় ১০ · ৭৪ টি হাদীস

সুওয়ায়দ ইবন সায়ীদের বর্ণনা

بَاب حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ

২০১৬

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ وَمَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحِ بْنِ حَيٍّ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَلَّقَ حَفْصَةَ ثُمَّ رَاجَعَهَا

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২০১৬। সুওয়ায়দ ইবন সায়ীদ আব্দুল্লাহ ইবন 'আমির ইবন ঘুরারা ও মাসরুক ইবনু মারযবান (রাহঃ).... উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাফ্সা (রাযিঃ)-কে তালাক দেন এবং পরে তাঁকে ফিরিয়ে দেন।

২০১৭

- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَلْعَبُونَ بِحُدُودِ اللهِ يَقُولُ أَحَدُهُمْ قَدْ طَلَّقْتُكِ قَدْ رَاجَعْتُكِ قَدْ طَلَّقْتُكِ

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২০১৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের কি হল যে, তারা আল্লাহর বিধান নিয়ে খেলা করে? তাদের কেউ এমন বলতে থাকেঃ তোমাকে তালাক দিলাম, তোমাকে আবার ফিরিয়ে নিলাম, তোমাকে তালাক দিলাম।

২০১৮

- حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيِّ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللهِ الطَّلَاقُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০১৮। কাছীর ইবন 'উবায়দ হিমসী (রাহঃ)..... 'আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট বৈধ কাজ হলো- তালাক ।

সুন্নত তরীকা অনুযায়ী তালাক

بَاب طَلَاقِ السُّنَّةِ

২০১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا فَإِنَّهَا الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০১৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিলাম । উমর (রাযিঃ) ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করেন। তখন তিনি 'উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে। সে যখন পবিত্র হবে ও দ্বিতীয় বার হায়য আসবে, এরপর আবার পবিত্র হবে, তখন সে ইচ্ছা করলে সহবাস ছাড়া ঐ সময় তাকে তালাক দিয়ে দেবে, আর ইচ্ছা করলে তাকে রেখে দেবে। এটাই হলো তালাকের ইদ্দত, যার বিধান আল্লাহ দিয়েছেন।

২০২০

- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ طَلَاقُ السُّنَّةِ أَنْ يُطَلِّقَهَا طَاهِرًا مِنْ غَيْرِ جِمَاعٍ.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০২০। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুন্নত পদ্ধতির তালাক হলো স্ত্রীকে সহবাসবিহীন তুহর অবস্থায় তালাক দেওয়া।

২০২১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ فِي طَلَاقِ السُّنَّةِ يُطَلِّقُهَا عِنْدَ كُلِّ طُهْرٍ تَطْلِيقَةً فَإِذَا طَهُرَتْ الثَّالِثَةَ طَلَّقَهَا وَعَلَيْهَا بَعْدَ ذَلِكَ حَيْضَةٌ.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০২১। আলী ইবন মায়মূন রকী (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুন্নত পদ্ধতির তালাক হলো স্ত্রীকে তার প্রতি তুহরে এক তালাক দেওয়া হবে। যখন সে তৃতীয় তুহরে পৌঁছবে, তখন তাকে শেষ তালাক দিয়ে দেবে। এরপর সে হায়যের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করবে।

২০২২

- حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ أَبِي غَلَّابٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ تَعْرِفُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا قُلْتُ أَيُعْتَدُّ بِتِلْكَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০২২। নসর ইবন আলী জাহযামী (রাহঃ).... ইয়ূনুস ইবন জুবায়র আবু গিলাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবন উমর (রাযিঃ) কে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যে তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আব্দুল্লাহ ইবন উমর কে চিন? সে তাঁর স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। পরে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) -এর কাছে আসেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দেন, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এটা কি তালাক হিসাবে গণ্য হবে? তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর, সে যদি অক্ষম হয়ে থাকে আর আহমকী করে থাকে?

গর্ভবতী মহিলার তালাক প্রসঙ্গে

بَاب الْحَامِلِ كَيْفَ تُطَلَّقُ

২০২৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُطَلِّقْهَا وَهِيَ طَاهِرٌ أَوْ حَامِلٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০২৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। উমর (রাযিঃ) ব্যাপারটি নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলে, তিনি বলেনঃ তাকে বল, সে যেন তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে। এরপর সে যেন তাকে তুহর অথবা গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দেয়।

একই বৈঠকে যে তিন তালাক দেয়

بَاب مَنْ طَلَّقَ ثَلَاثًا فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ

২০২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ قَالَ قُلْتُ لِفَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ حَدِّثِينِي عَنْ طَلَاقِكِ قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلَاثًا وَهُوَ خَارِجٌ إِلَى الْيَمَنِ فَأَجَازَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২০২৪। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ্ (রাহঃ).... 'আমির শা'বী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনত কায়সকে বলেছিলামঃ “তোমার তালাকের ঘটনাটি আমাকে বলতো।” সে বললঃ আমার স্বামী ইয়ামন যাবার প্রাক্কালে আমাকে তিন তালাক দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটাকে বৈধ গণ্য করেছিলেন।

তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া

بَاب الرَّجْعَةِ

২০২৫

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلَالٍ الصَّوَّافُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ الْحُصَيْنِ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثُمَّ يَقَعُ بِهَا وَلَمْ يُشْهِدْ عَلَى طَلَاقِهَا وَلَا عَلَى رَجْعَتِهَا فَقَالَ عِمْرَانُ طَلَّقْتَ بِغَيْرِ سُنَّةٍ وَرَاجَعْتَ بِغَيْرِ سُنَّةٍ أَشْهِدْ عَلَى طَلَاقِهَا وَعَلَى رَجْعَتِهَا.

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২০২৫। বিশর ইবন হিলাল সাত্তওয়াফ (রাহঃ).... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, এরপর তাকে ফিরিয়ে নেয়। অথচ তালাক দেওয়া এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় কোন সাক্ষী রাখেনি। তখন ইমরান (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি তালাক দিয়েছ সুন্নত পদ্ধতির বাইরে এবং ফিরিয়ে নিয়েছ সুন্নত পদ্ধতির বাইরে। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সময় এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় সাক্ষী রাখবে।

গর্ভবতী তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যখন সন্তান প্রসব করে তখনই বায়িন তালাক হয়ে যায়

بَاب الْمُطَلَّقَةِ الْحَامِلِ إِذَا وَضَعَتْ ذَا بَطْنِهَا بَانَتْ

২০২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ هَيَّاجٍ حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ أَنَّهُ كَانَتْ عِنْدَهُ أُمُّ كُلْثُومٍ بِنْتُ عُقْبَةَ فَقَالَتْ لَهُ وَهِيَ حَامِلٌ طَيِّبْ نَفْسِي بِتَطْلِيقَةٍ فَطَلَّقَهَا تَطْلِيقَةً ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ فَرَجَعَ وَقَدْ وَضَعَتْ فَقَالَ مَا لَهَا خَدَعَتْنِي خَدَعَهَا اللهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَبَقَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ اخْطُبْهَا إِلَى نَفْسِهَا

বর্ণনাকারী: হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)

২০২৬। মুহাম্মাদ ইবন উমর ইবন হায়্যাজ (রাহঃ).... যুবায়র ইবন আওয়াম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু কুলসুম বিনত উকবা ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তিনি তাঁর গর্ভাবস্থায় যুবায়র (রাযিঃ) কে বললেনঃ আমাকে এক তালাক দিয়ে সন্তুষ্ট করে দিন। তখন তিনি তাকে এক তালাক দিলেন এবং সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন। তিনি ফিরে এসে দেখতে পেলেন যে, তাঁর স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করেছে। তখন যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, তার কি হলো? সে আমাকে ধোঁকা দিল, আল্লাহ যেন তাকেও ধোঁকা দেন। এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট আসেন। তখন তিনি বলেনঃ কিতাবে বর্ণিত ইদ্দত পুরা হয়ে গেছে। এখন তাকে নতুন ভাবে বিয়ের প্রস্তাব দাও।

গর্ভবতী মহিলা, যার স্বামী মারা গিয়েছে, সন্তান প্রসবের পরই সে অন্য স্বামী
গ্রহণ করতে পারে

بَاب الْحَامِلِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتْ حَلَّتْ لِلْأَزْوَاجِ

২০২৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِي السَّنَابِلِ قَالَ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ الْأَسْلَمِيَّةُ بِنْتُ الْحَارِثِ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِبِضْعٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَشَوَّفَتْ فَعِيبَ ذَلِكَ عَلَيْهَا وَذُكِرَ أَمْرُهَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنْ تَفْعَلْ فَقَدْ مَضَى أَجَلُهَا

বর্ণনাকারী: আবুস সানাবিল (রাঃ)

২০২৭। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু সানাবিল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুবায়আ আসলামিয়া বিনত হারিছ তার স্বামীর মৃত্যুর পঁচিশ দিন পর একটি সন্তান প্রসব করে। সে যখন নিফাস থেকে পবিত্র হলো, তখন বিয়ের জন্য সাজতে শুরু করলো। তার এ কাজটি দোষণীয় মনে করা হলো এবং বিষয়টি নবী (ﷺ) -এর গোচরে আনা হলো। তখন তিনি বললেনঃ সে এমন করতে চাইলে করতে পারে। কেননা, তার ইদ্দত পুরা হয়ে গেছে।

গর্ভবতী মহিলা, যার স্বামী মারা গিয়েছে, সন্তান প্রসবের পরই সে অন্য স্বামী গ্রহণ করতে পারে

بَاب الْحَامِلِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتْ حَلَّتْ لِلْأَزْوَاجِ

২০২৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ وَعَمْرِو بْنِ عُتْبَةَ أَنَّهُمَا كَتَبَا إِلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ يَسْأَلَانِهَا عَنْ أَمْرِهَا فَكَتَبَتْ إِلَيْهِمَا إِنَّهَا وَضَعَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ فَتَهَيَّأَتْ تَطْلُبُ الْخَيْرَ فَمَرَّ بِهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ فَقَالَ قَدْ أَسْرَعْتِ اعْتَدِّي آخِرَ الْأَجَلَيْنِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ اسْتَغْفِرْ لِي قَالَ وَفِيمَ ذَاكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ إِنْ وَجَدْتِ زَوْجًا صَالِحًا فَتَزَوَّجِي

বর্ণনাকারী: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

২০২৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... মসরূক ও আমর ইবন উতবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে সুরায়'আ ইবন হারিছ এর কাছে তার ব্যাপারটি জানতে চেয়ে পত্র লিখেছিলেন। তখন সুবায়'আ উত্তরে তাদের নিকট লিখেছিলেন যে, সে তার স্বামীর মৃত্যুর ২৫ দিন পর সন্তান প্রসব করেছিল এবং নূতন স্বামীর আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন সানাবিল ইবন বাকাক তার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বললোঃ তুমিতো খুব তাড়াতাড়ি করে ফেললে। তুমি ইদ্দতের দীর্ঘ মেয়াদটি পালন কর। অর্থাৎ চার মাস দশ দিন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) আমাকে মাফ করুন। তিনি বললেনঃ কি ব্যাপার? তখন আমি তাঁকে ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি যদি নেককার স্বামী পাও, তবে বিয়ে করে নাও।

২০২৯

- حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ سُبَيْعَةَ أَنْ تَنْكِحَ إِذَا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২০২৯। নসর ইবন 'আলী ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... মিসওয়ার ইবন মাখ্লামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) সুবায়'আকে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২০৩০

- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ وَاللهِ لَمَنْ شَاءَ لَاعَنَّاهُ لَأُنْزِلَتْ سُورَةُ النِّسَاءِ الْقُصْرَى بَعْدَ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০৩০। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর কসম! কেউ ইচ্ছা করলে আমি তার সাথে এ বিষয়ে ‘মুবাহালা' করতে সম্মত আছি যে, ছোট সূরা-ই-নিসা (অর্থাৎ সূরাহ তালাক) أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا সম্বলিত সূরাহ (অর্থাৎ সূরাহ বাকারাহ) এর পরে নাযিল করা হয়েছে।

যে স্ত্রীর স্বামী মারা গিয়েছে, সে ইদ্দত কোথায় পালন করবে

بَاب أَيْنَ تَعْتَدُّ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا

২০৩১

- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَكَانَتْ تَحْتَ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أُخْتَهُ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكٍ قَالَتْ خَرَجَ زَوْجِي فِي طَلَبِ أَعْلَاجٍ لَهُ فَأَدْرَكَهُمْ بِطَرَفِ الْقَدُومِ فَقَتَلُوهُ فَجَاءَ نَعْيُ زَوْجِي وَأَنَا فِي دَارٍ مِنْ دُورِ الْأَنْصَارِ شَاسِعَةٍ عَنْ دَارِ أَهْلِي فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ جَاءَ نَعْيُ زَوْجِي وَأَنَا فِي دَارٍ شَاسِعَةٍ عَنْ دَارِ أَهْلِي وَدَارِ إِخْوَتِي وَلَمْ يَدَعْ مَالًا يُنْفِقُ عَلَيَّ وَلَا مَالًا وَرِثْتُهُ وَلَا دَارًا يَمْلِكُهَا فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْذَنَ لِي فَأَلْحَقَ بِدَارِ أَهْلِي وَدَارِ إِخْوَتِي فَإِنَّهُ أَحَبُّ إِلَيَّ وَأَجْمَعُ لِي فِي بَعْضِ أَمْرِي قَالَ فَافْعَلِي إِنْ شِئْتِ قَالَتْ فَخَرَجْتُ قَرِيرَةً عَيْنِي لِمَا قَضَى اللهُ لِي عَلَى لِسَانِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ أَوْ فِي بَعْضِ الْحُجْرَةِ دَعَانِي فَقَالَ كَيْفَ زَعَمْتِ قَالَتْ فَقَصَصْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ امْكُثِي فِي بَيْتِكِ الَّذِي جَاءَ فِيهِ نَعْيُ زَوْجِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ قَالَتْ فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

বর্ণনাকারী: ফুরাইআ বিনতে মালিক (রাঃ)

২০৩১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ)-এর স্ত্রী যয়নব বিনত কা'ব ইবন উজরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ)-এর বোন ফুরায়'আ বিনত মালিক বলেনঃ আমার স্বামী তার (পলাতক) গোলামের খোঁজে বের হন এবং 'কাদূম' প্রান্তে তাদের ধরে ফেলেন। তখন তারা আমার স্বামীকে হত্যা করে। আমার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ যখন আসে, তখন আমি আমার পরিবার পরিজন থেকে অনেক দূরে আনসারদের বাড়ীতে অবস্থান করছিলাম। আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ(ﷺ)! আমার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ এসেছে- যখন আমি আমার পরিজন ও ভাইদের বাড়ী থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি। আর তিনি আমার খরচের জন্য কোন মাল রেখে যাননি এবং তার কোন মাল নেই, আমি যার উত্তরাধিকার হতে পারি। আর কোন ঘরও নেই, যার কেউ মালিক হয়। তাই, আপনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমি আমার পরিবার ও ভাইদের বাড়ীতে গিয়ে উঠতে পারি। আর এটাই আমার জন্য অধিক প্রিয় এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে সুবিধাজনক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ইচ্ছা হলে তাই কর। মহিলাটি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখে আল্লাহর এই ফায়সালা শুনে খুশি মনে বের হলাম। অবশেষে আমি যখন মসজিদ অথবা কোন এক হুজরাকর কাছে পৌছলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কেমন মনে কর? মহিলাটি বললোঃ আমি আমার অবস্থা তাকে বললাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি ঐ ঘরেই অবস্থান কর, যেখান তোমার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ এসেছিল, যতক্ষণ না তোমার ইদ্দত শেষ হয়। ফুরায়'আ বলেনঃ এরপর আমি সেখানেই চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করলাম।

ইদ্দত পালনের সময় মহিলা কি বের হতে পারবে?

بَاب هَلْ تَخْرُجُ الْمَرْأَةُ فِي عِدَّتِهَا

২০৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى مَرْوَانَ فَقُلْتُ لَهُ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِكَ طُلِّقَتْ فَمَرَرْتُ عَلَيْهَا وَهِيَ تَنْتَقِلُ فَقَالَتْ أَمَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ وَأَخْبَرَتْنَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ فَقَالَ مَرْوَانُ هِيَ أَمَرَتْهُمْ بِذَلِكَ قَالَ عُرْوَةُ فَقُلْتُ أَمَا وَاللهِ لَقَدْ عَابَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ وَقَالَتْ إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَسْكَنٍ وَحْشٍ فَخِيفَ عَلَيْهَا فَلِذَلِكَ أَرْخَصَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২০৩২। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....'উরওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার মারওয়ানের নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম যে, আপনার পরিবারের এক মহিলাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম সে বাড়ী ছেড়ে কোথায় যাচ্ছে। তখন সে বললোঃ ফাতিমা বিনত কায়স আমাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছে এবং সে আমাদের বলেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইদ্দত পালন কালে বাইরে যাবার অনুমতি দিয়েছিলেন। মারওয়ান বললেন যে, ফাতিমা বিনত কায়েস তো লোকদের এরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকেন। উরওয়া বলেনঃ আমি তখন বললামঃ আল্লাহর কসম আইশা (রাযিঃ) এরূপ করাটা দোষণীয় বলে মনে করেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ ফাতিমা নির্জন ঘরে বাস করতো বলে তার জান-মালের ক্ষতির আশংকা ছিল। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার বেলায় এরূপ অনুমতি দিয়েছিলেন।

২০৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُقْتَحَمَ عَلَيَّ فَأَمَرَهَا أَنْ تَتَحَوَّلَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৩৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আয়েশা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনত কায়স বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ(ﷺ) ! আমার ভয় হয় যে, কেউ আমার ঘরে জোর করে ঢুকে আমার ক্ষতি করে বসে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অন্য স্থানে চলে যাওয়ার অনুমতি দেন।

২০৩৪

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ حَدَّثَنَا رَوْحٌ ح و حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ جَمِيعًا عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ طُلِّقَتْ خَالَتِي فَأَرَادَتْ أَنْ تَجُدَّ نَخْلَهَا فَزَجَرَهَا رَجُلٌ أَنْ تَخْرُجَ إِلَيْهِ فَأَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَلَى فَجُدِّي نَخْلَكِ فَإِنَّكِ عَسَى أَنْ تَصَدَّقِي أَوْ تَفْعَلِي مَعْرُوفًا

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২০৩৪। সুফয়ান ইবন ওকী' ও আহমদ ইবন মানুসর (রাহঃ).... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার খালাকে তালাক দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার খেজুর বাগানের ফল চয়নের জন্য বের হতে চেয়েছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে কঠোরভাবে নিষেধ করলো। তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। তখন তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার খেজুর বাগানের ফল চয়ন কর। সম্ভবতঃ তুমি সদকা আদায় করতে অথবা অন্য কোন সৎ কাজ করতে সক্ষম হবে।

তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা বাসস্থান ও আহারের অধিকার লাভ করে কি?

بَاب الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثًا هَلْ لَهَا سُكْنَى وَنَفَقَةٌ

২০৩৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ بْنِ صُخَيْرٍ الْعَدَوِيِّ قَالَ سَمِعْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ تَقُولُ إِنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلَاثًا فَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلَا نَفَقَةً

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২০৩৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... ফাতিমা বিনত কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্যও বাসস্থান ও আহারের অধিকার দেননি।

২০৩৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ طَلَّقَنِي زَوْجِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا سُكْنَى لَكِ وَلَا نَفَقَةَ

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২০৩৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... শাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনত কায়সা বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বলেছিলেনঃ তোমার জন্য বাসস্থান ও আহার নেই।

তালাকের উপঢৌকন

بَاب مُتْعَةِ الطَّلَاقِ

২০৩৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ أَبُو الْأَشْعَثِ الْعِجْلِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ عَمْرَةَ بِنْتَ الْجَوْنِ تَعَوَّذَتْ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أُدْخِلَتْ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ عُذْتِ بِمُعَاذٍ فَطَلَّقَهَا وَأَمَرَ أُسَامَةَ أَوْ أَنَسًا فَمَتَّعَهَا بِثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ رَازِقِيَّةٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৩৭। আহমদ ইবনু মিকদাস আবুল আশআছ আজ্লি (রাহঃ)..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা বিনতু জাওনকে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হলো, তখন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পানাহ চাইল । তিনি (ﷺ) বললেনঃ “উপযুক্ত স্থানেই তুমি পানাহ চাইলে।” এরপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং উসামা অথবা আনাস (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিলেন। সে মতে সে তাকে উপঢৌকন হিসাবে তিনখানা সাদা লম্বা কাপড় দেয়।

স্বামী তালাক অস্বীকার করলে

بَاب الرَّجُلِ يَجْحَدُ الطَّلَاقَ

২০৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ أَبُو حَفْصٍ التَّنِّيسِيُّ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا ادَّعَتْ الْمَرْأَةُ طَلَاقَ زَوْجِهَا فَجَاءَتْ عَلَى ذَلِكَ بِشَاهِدٍ عَدْلٍ اسْتُحْلِفَ زَوْجُهَا فَإِنْ حَلَفَ بَطَلَتْ شَهَادَةُ الشَّاهِدِ وَإِنْ نَكَلَ فَنُكُولُهُ بِمَنْزِلَةِ شَاهِدٍ آخَرَ وَجَازَ طَلَاقُه

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২০৩৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন স্ত্রী তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে বলে দাবি করে এবং এর পক্ষে একজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী পেশ করে, তখন তার স্বামীকে কসম খেতে বলা হবে। সে যদি কসম খায়, তবে সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল বলে গণ্য হবে। আর যদি স্বামী কসম খেতে অস্বীকার করে, তবে তার এ অস্বীকার একজন সাক্ষ্যের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তালাক সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

যে ব্যক্তি তামাসা করে তালাক দেয়, অথবা বিয়ে করে, অথবা তালাক প্রত্যাহার করে

بَاب مَنْ طَلَّقَ أَوْ نَكَحَ أَوْ رَاجَعَ لَاعِبًا

২০৩৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَرْدَكَ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرَّجْعَةُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৩৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি কাজ মনেপ্রাণে করা হোক অথবা তামাসাচ্ছলে করা হোক, তা কার্যকর হবে। তাহলোঃ বিবাহ, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।

যে ব্যক্তি মনে মনে তালাক দেয়, কিন্তু মুখে তা উচ্চারণ না করে

بَاب مَنْ طَلَّقَ فِي نَفْسِهِ وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِهِ

২০৪০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَعَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ ح و حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ جَمِيعًا عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ بِهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৪০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও হুমায়দ ইবন মাসআদা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না সে এই কল্পনাকে কাজে পরিণত করে অথবা মুখে উচ্চারণ করে।

পাগল, নাবালিকা ও ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক

بَاب طَلَاقِ الْمَعْتُوهِ وَالصَّغِيرِ وَالنَّائِمِ

২০৪১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبَرَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي حَدِيثِهِ وَعَنْ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৪১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা, মুহাম্মাদ ইবন খালিদ ইবন খিদাশ ও মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়; না-বালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয়; আর পাগল ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়। আবু বকর (রাহঃ) তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেনঃ বেহুঁশ ব্যক্তি যতক্ষণ না সে হুঁশ ফিরে পায়।

২০৪২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَنْبَأَنَا الْقَاسِمُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يُرْفَعُ الْقَلَمُ عَنْ الصَّغِيرِ وَعَنْ الْمَجْنُونِ وَعَنْ النَّائِمِ

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৪২। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)...আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ না-বালেগ, পাগল ও ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়।

বাধ্যকৃত ও ভুলকারী ব্যক্তির তালাক

بَاب طَلَاقِ الْمُكْرَهِ وَالنَّاسِي

২০৪৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২০৪৩। ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়ূসুফ ফিরয়াবী (রাহঃ).... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল-বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কোন কাজে বাধ্য করা হলে, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।

২০৪৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا تُوَسْوِسُ بِهِ صُدُورُهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَتَكَلَّمْ بِهِ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৪৪। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের মনের মন্দ কল্পনা, যতক্ষণ কিনা সে তা কার্যকরী করে, অথবা মুখে উচ্চারণ করে, ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর জোরপূর্বক কোন কাজে বাধ্য করা হলে, (তাও ক্ষমা করে দিয়েছেন)।

২০৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللهَ وَضَعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৪৫। মুহাম্মাদ ইবন মুসাফ্ফা হিমসী (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতকে ভুল-বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃত কাজের দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

২০৪৬

- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ ثَوْرٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ قَالَتْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৪৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)..... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাধ্যকৃত অবস্থায় তালাক ও আযাদকরণ নেই।

বিয়ের আগে তালাক নেই

بَاب لَا طَلَاقَ قَبْلَ النِّكَاحِ

২০৪৭

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَامِرٌ الْأَحْوَلُ ح و حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ جَمِيعًا عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا طَلَاقَ فِيمَا لَا تَمْلِكُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২০৪৭। আবু কুরায়ব (রাহঃ)....আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যেখানে তালাক দেওয়ার অধিকার নেই, সেখানে তালাক কার্যকর হয় না।

২০৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا طَلَاقَ قَبْلَ نِكَاحٍ وَلَا عِتْقَ قَبْلَ مِلْكٍ

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২০৪৮। আহমাদ ইবন সায়িদ দারিমী (রাহঃ).... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিয়ের আগে তালাক নেই। আর মালিকানার আগে দাস মুক্তি নেই।

২০৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ جُوَيْبِرٍ عَنْ الضَّحَّاكِ عَنْ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا طَلَاقَ قَبْلَ النِّكَاحِ

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৪৯। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (র.)....'আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিয়ের আগে তালাক নেই।

যে কথা দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়।

بَاب مَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ مِنْ الْكَلَامِ

২০৫০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ أَيُّ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اسْتَعَاذَتْ مِنْهُ فَقَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَةَ الْجَوْنِ لَمَّا دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَدَنَا مِنْهَا قَالَتْ أَعُوذُ بِاللهِ مِنْكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عُذْتِ بِعَظِيمٍ الْحَقِي بِأَهْلِكِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫০। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...আউযায়ী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ নবী (ﷺ) এর কোন স্ত্রী তাঁর থেকে পানাহ চেয়েছিল? তখন যুহরী বলেনঃ আয়েশা (রাযিঃ) উরওয়া আমাকে জানিয়েছেন যে, জাওন এর কন্যা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল এবং তিনি তার কাছে গেলেন তখন সে বললোঃ "আমি আপনার থেকে আল্লাহর পানাহ চাই।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তুমি মহান সত্তার কাছে পানাহ চেয়েছ। তুমি তোমার পরিবারের সাথে মিলে যাও।”

চূড়ান্ত তালাক

بَاب طَلَاقِ الْبَتَّةِ

২০৫১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ مَا أَرَدْتَ بِهَا قَالَ وَاحِدَةً قَالَ اللهِ مَا أَرَدْتَ بِهَا إِلَّا وَاحِدَةً قَالَ اللهِ مَا أَرَدْتُ بِهَا إِلَّا وَاحِدَةً قَالَ فَرَدَّهَا عَلَيْهِ
قَالَ مُحَمَّد بْن مَاجَةَ سَمِعْت أَبَا الْحَسَنِ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ مَا أَشْرَفَ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ ابْن مَاجَةَ أَبُو عُبَيْدٍ تَرَكَهُ نَاجِيَةُ وَأَحْمَدُ جَبُنَ عَنْهُ.

বর্ণনাকারী: রুকানা (রাঃ)

২০৫১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... ইয়াযীদ ইবন রুকানা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীকে চূড়ান্ত তালাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি নিয়্যত করেছিলে? ইয়াযীদ বললেনঃ এক তালাকের। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি কি এক তালাকেরই নিয়্যত করেছিলে? ইয়াযীদ বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এক তালাকেরই ইচ্ছা করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীকে ফেরত আনতে বললেন।

মুহাম্মাদ ইবন মাজাহ বলেন যে, আমি আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ তানাফাসীকে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসটি কতইনা উত্তম!
ইবন মাজাহ আরও বলেন যে, আবু 'উবায়দা নাজিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। আর আহমদও তাঁর
ব্যাপারে দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন।

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের ইখতিয়ার দিলে

بَاب الرَّجُلِ يُخَيِّرُ امْرَأَتَهُ

২০৫২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ نَرَهُ شَيْئًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তালাকের ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন! কিন্তু আমরা তখন তাঁকেই গ্রহণ করেছিলাম। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একে তালাক গণ্য করেন নি।

২০৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ (وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ) دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلَا عَلَيْكِ أَنْ لَا تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ قَالَتْ قَدْ عَلِمَ وَاللهِ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ فَقَرَأَ عَلَيَّ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا) الْآيَاتِ فَقُلْتُ فِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ قَدْ اخْتَرْتُ اللهَ وَرَسُولَهُ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের এই আয়াতটি যখন নাযিল হলো وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি চাও....।" (৩৩ঃ২৯)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এসে বললেনঃ হে আয়েশা! আমি তোমাকে একটি কথা বলব। তুমি কিন্তু তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে সে সম্পর্কে কোনরূপ তাড়াতাড়ি করবে না। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি জানতেন আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমার পিতা-মাতা কখনো তাঁর থেকে আমার বিচ্ছেদের পক্ষে মত দেবেন না। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, এর পর তিনি এই আয়াতটি আমার কাছে তিলাওয়াত করলেনঃيَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا

“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ চাও......" (৩৩ঃ২৮)।
তখন আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ করতে হবে? আমি আল্লাহ ও তার রাসূলকেই গ্রহণ করে নিলাম।

স্ত্রী কর্তৃক বিবাহ বিচ্ছেদের দাবী নিন্দনীয়

بَاب كَرَاهِيَةِ الْخُلْعِ لِلْمَرْأَةِ

২০৫৪

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ عَمِّهِ عُمَارَةَ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَسْأَلُ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ فِي غَيْرِ كُنْهِهِ فَتَجِدَ رِيحَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৫৪। বকর ইবন খালাফ আবু বিশর (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে স্ত্রীলোক চরম অপারগতা ছাড়া, স্বামীর কাছে তালাকের আব্দার করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবেনা। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।

২০৫৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ فِي غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২০৫৫। আহমদ ইবনুল আযহার (রাহঃ)....ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মহিলা তার স্বামীর কাছে চরম অসুবিধা ছাড়া তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ হারাম।

খুলআ'কারী স্ত্রীকে প্রদত্ত সম্পদ ফেরত নেওয়া প্রসঙ্গ

بَاب الْمُخْتَلِعَةِ تَأْخُذُ مَا أَعْطَاهَا

২০৫৬

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ جَمِيلَةَ بِنْتَ سَلُولَ أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ وَاللهِ مَا أَعْتِبُ عَلَى ثَابِتٍ فِي دِينٍ وَلَا خُلُقٍ وَلَكِنِّي أَكْرَهُ الْكُفْرَ فِي الْإِسْلَامِ لَا أُطِيقُهُ بُغْضًا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ قَالَتْ نَعَمْ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْخُذَ مِنْهَا حَدِيقَتَهُ وَلَا يَزْدَادَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৫৬। আযহার ইবন মারওয়ান (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জামীলা বিনত সালুল নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি ছাবিতের দীনদারী এবং চরিত্রের ব্যাপারে কোন অভিযোগ করছিনা; কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার পর কোন কুফরী আচরণ আমি অপছন্দ করি। আমি যে তাকে মনের দিক থেকে মোটেই বরদাশত্ করতে পারছিনা। তখন নবী(ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি ছাবিতের বাগানটি ফেরত দেবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাবিতকে এই বাগানটি ফেরত নিতে বললেন; কিন্তু এর বেশী কিছু নেবে না।

২০৫৭

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَتْ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ وَاللهِ لَوْلَا مَخَافَةُ اللهِ إِذَا دَخَلَ عَلَيَّ لَبَصَقْتُ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ قَالَتْ نَعَمْ فَرَدَّتْ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ قَالَ فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم

২০৫৭। আবু কুরায়ব (রাহঃ).... আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাবীবা বিনত সাহল ছাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্‌মাস (রাযিঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। আর ছাবিত (রাহঃ) ছিলেন একজন কুৎসিত চেহারা বিশিষ্ট ব্যক্তি। হাবীবা (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর ভয় না থাকত, তবে ছাবিত যখন আমার কাছে আসে তখন অবশ্যই আমি তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফেরত দেবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর রাবী বলেনঃ উক্ত মহিলা তাকে তার বাগানটি ফেরত দিয়ে দিল। রাবী বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দু'জনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন।

খুলআ'কারী মহিলার ইদ্দত

بَاب عِدَّةِ الْمُخْتَلِعَةِ

২০৫৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَلَمَةَ النَّيْسَابُورِيُّ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ قَالَ قُلْتُ لَهَا حَدِّثِينِي حَدِيثَكِ قَالَتْ اخْتَلَعْتُ مِنْ زَوْجِي ثُمَّ جِئْتُ عُثْمَانَ فَسَأَلْتُ مَاذَا عَلَيَّ مِنْ الْعِدَّةِ فَقَالَ لَا عِدَّةَ عَلَيْكِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ حَدِيثَ عَهْدٍ بِكِ فَتَمْكُثِينَ عِنْدَهُ حَتَّى تَحِيضِينَ حَيْضَةً قَالَتْ وَإِنَّمَا تَبِعَ فِي ذَلِكَ قَضَاءَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرْيَمَ الْمَغَالِيَّةِ وَكَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ فَاخْتَلَعَتْ مِنْهُ

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২০৫৮। আলী ইবন সালামা নিশাপুরী (রাহঃ).... উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রবী' বিনত মু'আওয়িয ইবন আফরা (রাযিঃ)-কে বললামঃ তুমি তোমার ঘটনাটি আমাকে বলতো। তখন সে বললঃ “আমি 'খুলআ' করেছিলাম আমার স্বামী থেকে। এরপর উছমান (রাযিঃ)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আমার ইদ্দত কতদিন পালন করতে হবে? তখন তিনি বললেনঃ তোমার উপর কোন ইদ্দত নেই। তবে তোমার স্বামী যদি খুব কাছাকাছি সময়ে তোমার সাথে সহবাস করে থাকে, তবে এক হায়য পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।"রবী' বললোঃ উছমান এখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঐ সিদ্ধান্তেরই অনুসরণ করেছেন, যা তিনি মরয়ম মাগালিয়ার ব্যাপারে দিয়েছিলেন। সে ছিল ছাবিত ইবন কায়স-এর স্ত্রী। সে তার থেকে খুলআ' করেছিল।

ঈলা প্রসঙ্গে

بَاب الْإِيلَاءِ

২০৫৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَقْسَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لَا يَدْخُلَ عَلَى نِسَائِهِ شَهْرًا فَمَكَثَ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ يَوْمًا حَتَّى إِذَا كَانَ مِسَاءَ ثَلَاثِينَ دَخَلَ عَلَيَّ فَقُلْتُ إِنَّكَ أَقْسَمْتَ أَنْ لَا تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا فَقَالَ الشَّهْرُ هَكَذَا يُرْسِلُ أَصَابِعَهُ فِيهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَأَرْسَلَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَمْسَكَ إِصْبَعًا وَاحِدًا فِي الثَّالِثَةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৯। হিশাম ইবন আম্মার (রাযিঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কসম খেয়েছিলেন যে, তিনি একমাস তাঁর স্ত্রীদের কাছে যাবেন না। এভাবে তিনি উনত্রিশ দিন কাটালেন। অবশেষে ত্রিশ দিনের বিকাল হলো, তখন তিনি আমার কাছে আসলেন। আমি বললামঃ আপনি তো কসম খেয়েছিলেন যে, একমাস আমাদের কাছে আসবেন না। তখন তিনি বললেনঃ মাস এভাবেও হয়, তিনি হাতের আঙ্গুলগুলো তিনবার সম্পূর্ণ খোলা রেখে ইশারা করলেন, আর মাস এভাবেও হয়, এই বলে তিনবার হাতের আঙ্গুল দ্বারা ঈশারা করলেন এবং তৃতীয়বার একটি আঙ্গুল বন্ধ করে রাখলেন।

২০৬০

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا آلَى لِأَنَّ زَيْنَبَ رَدَّتْ عَلَيْهِ هَدِيَّتَهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَقَدْ أَقْمَأَتْكَ فَغَضِبَ صلى الله عليه وسلم فَآلَى مِنْهُنَّ.

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৬০। সুওয়ায়দ ইবন সা'য়ীদ (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এ কারণে ঈলা করেছিলেন যে, যয়নাব (রাযিঃ) তার দেওয়া হাদিয়া ফেরত দিয়েছিলেন। তখন আয়েশা (রাযিঃ) বলেছিলেনঃ যয়নাব তো আপনাকে অপমান করল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগ করেছিলেন এবং তাদের থেকে ঈলা করেছিলেন।

২০৬১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم آلَى مِنْ بَعْضِ نِسَائِهِ شَهْرًا فَلَمَّا كَانَ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ رَاحَ أَوْ غَدَا فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّمَا مَضَى تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَقَالَ الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২০৬১। আহমদ ইবন ইয়ূসুফ সুলামী (রাহঃ).... উন্মু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কতিপয় স্ত্রী থেকে এক মাসের ঈলা করেছিলেন। উনত্রিশ দিন শেষ হলে, তিনি বিকালে অথবা সকালে আসেন। তখন বলা হলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! উনত্রিশ দিন তো অতিবাহিত হয়েছে? তিনি বললেনঃ উনত্রিশ দিনেও মাস হয়।

যিহার প্রসঙ্গে

بَاب الظِّهَارِ

২০৬২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ الْبَيَاضِيِّ قَالَ كُنْتُ امْرَأً أَسْتَكْثِرُ مِنْ النِّسَاءِ لَا أَرَى رَجُلًا كَانَ يُصِيبُ مِنْ ذَلِكَ مَا أُصِيبُ فَلَمَّا دَخَلَ رَمَضَانُ ظَاهَرْتُ مِنْ امْرَأَتِي حَتَّى يَنْسَلِخَ رَمَضَانُ فَبَيْنَمَا هِيَ تُحَدِّثُنِي ذَاتَ لَيْلَةٍ انْكَشَفَ لِي مِنْهَا شَيْءٌ فَوَثَبْتُ عَلَيْهَا فَوَاقَعْتُهَا فَلَمَّا أَصْبَحْتُ غَدَوْتُ عَلَى قَوْمِي فَأَخْبَرْتُهُمْ خَبَرِي وَقُلْتُ لَهُمْ سَلُوا لِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا مَا كُنَّا نَفْعَلُ إِذًا يُنْزِلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِينَا كِتَابًا أَوْ يَكُونَ فِينَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلٌ فَيَبْقَى عَلَيْنَا عَارُهُ وَلَكِنْ سَوْفَ نُسَلِّمُكَ لِجَرِيرَتِكَ اذْهَبْ أَنْتَ فَاذْكُرْ شَأْنَكَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَخَرَجْتُ حَتَّى جِئْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْتَ بِذَاكَ فَقُلْتُ أَنَا بِذَاكَ وَهَا أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ صَابِرٌ لِحُكْمِ اللهِ عَلَيَّ قَالَ فَأَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَصْبَحْتُ أَمْلِكُ إِلَّا رَقَبَتِي هَذِهِ قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ وَهَلْ دَخَلَ عَلَيَّ مَا دَخَلَ مِنْ الْبَلَاءِ إِلَّا بِالصَّوْمِ قَالَ فَتَصَدَّقْ أَوْ أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ بِتْنَا لَيْلَتَنَا هَذِهِ مَا لَنَا عَشَاءٌ قَالَ فَاذْهَبْ إِلَى صَاحِبِ صَدَقَةِ بَنِي زُرَيْقٍ فَقُلْ لَهُ فَلْيَدْفَعْهَا إِلَيْكَ وَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَانْتَفِعْ بِبَقِيَّتِهَا

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে সাখর বায়াযী (রাঃ)

২০৬২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....সালামা ইবন সাখর বায়াযী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি স্ত্রীদের প্রতি অধিক আসক্ত ছিলাম, অন্য পুরুষের তুলনায় আমি তাদের সাথে বেশী সহবাসে লিপ্ত হতাম। একবার রমযান মাস আসলো। আমি আমার স্ত্রী থেকে রমযান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত যিহার করেছিলাম। একদিন রাতের বেলায় সে আমার সাথে কথা বলছিল। এমন সময় তার দেহের একটি অংশ আমার সামনে খুলে গেল। আমি তখন তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হলাম। যখন সকাল হলো, তখন আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকেও আমার ঘটনাটি জানালাম। আর আমি তাদের বললামঃ তোমরা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর। তারা বললোঃ আমরা তা করতে পারব না। কেননা, হয়ত আল্লাহ আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল করে ফেলবেন, অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কিছু বলে ফেলবেন। ফলে আমরা চিরদিনের জন্য লজ্জিত হব। বরং আমরা তোমার অপরাধ সহ সোপর্দ করবো, তুমি নিজেই গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তোমার ঘটনাটি খুলে বল। রাবী বলেনঃ তখন আমি বেরিয়ে পড়লাম এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম এবং তাকে আমার ঘটনাটি জানালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমিই এরূপ করেছ? আমি বললামঃ আমি-ই এরূপ করেছি। আর আমি এখানে ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! সবরের সাথে, আমার প্রতি আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য প্রস্তুত। তিনি বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ করে দাও। আমি বললামঃ ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, আমি তো আমার এই দেহটি ছাড়া অন্য কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ক্রমাগত দু'মাস সাওম পালন কর। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর যে বিপদ এসেছে, তা তো সাওমের কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে সদকা কর অথবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। রাবী বলেন, আমি বললাম, সে সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন; আমরা এ রাতটি তো এভাবে অতিবাহিত করেছি যে, আমাদের রাতের খাবারও ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি বনু যুরায়ক এর সদকা বন্টনকারীর কাছে যাও এবং তাকে বল, সে যেন তোমাকে সদকার কিছু মাল প্রদান করে। এখান থেকে ষাটজন মিসকীনকে তুমি আহার দান কর ও অবশিষ্ট অংশ দ্বারা নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে নাও।

যিহার প্রসঙ্গে।

بَاب الظِّهَارِ

২০৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ تَبَارَكَ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ كُلَّ شَيْءٍ إِنِّي لَأَسْمَعُ كَلَامَ خَوْلَةَ بِنْتِ ثَعْلَبَةَ وَيَخْفَى عَلَيَّ بَعْضُهُ وَهِيَ تَشْتَكِي زَوْجَهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللهِ أَكَلَ شَبَابِي وَنَثَرْتُ لَهُ بَطْنِي حَتَّى إِذَا كَبِرَتْ سِنِّي وَانْقَطَعَ وَلَدِي ظَاهَرَ مِنِّي اللّٰهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ فَمَا بَرِحَتْ حَتَّى نَزَلَ جِبْرَائِيلُ بِهَؤُلَاءِ الْآيَاتِ (قَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللهِ)

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৬৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... উরওয়া ইবন যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ পবিত্র ঐ সত্তা, যার শ্রবণ সবকিছুকে আয়ত্ত করে রেখেছে। আমি খাওলা বিনত ছালাবা-এর কিছু বক্তব্য শুনছিলাম, আর কিছু অংশ আমার থেকে গোপন যাচ্ছিল, যখন সে রাসূলাল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে তার স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করছিল। সে বলছিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! স্বামী আমার যৌবনকে গ্রাস করেছে, আর আমি আমার উদর থেকে অনেক সন্তান উপহার দিয়েছি। এখন আমি যখন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি এবং সন্তান দানে অক্ষম হয়েছি, তখন স্বামী আমার সাথে যিহার করে বসেছে। হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে নালিশ পেশ করছি। এরপর বেশী সময় অতিবাহিত হয়নি; এমনকি জিবরাঈল (আ) এই আয়াতগুলো নিয়ে নাযিল হলেনঃقَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللهِ

"হে রাসূল আল্লাহ তো শুনেছেন সে নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সঙ্গে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করছে।" (৫৮ঃ১)।

বিহারকারী কাফফারা আদায়ের পূর্বে সহবাস করলে

بَاب الْمُظَاهِرِ يُجَامِعُ قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ

২০৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ الْبَيَاضِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُظَاهِرِ يُوَاقِعُ قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ قَالَ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে সাখর বায়াযী (রাঃ)

২০৬৪। আব্দুল্লাহ ইবন সা'য়ীদ (রাহঃ) সালাম ইবন সাখর বায়াযী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ যিহারকারী যদি কাফফারা আদায়ের পূর্বে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তবে তাকে একটি কাফফারা আদায় করতে হবে।

২০৬৫

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا ظَاهَرَ مِنْ امْرَأَتِهِ فَغَشِيَهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ رَأَيْتُ بَيَاضَ حِجْلَيْهَا فِي الْقَمَرِ فَلَمْ أَمْلِكْ نَفْسِي أَنْ وَقَعْتُ عَلَيْهَا فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ أَلَّا يَقْرَبَهَا حَتَّى يُكَفِّرَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৬৫। আব্বাস ইবন ইয়াযীদ (রাহঃ)..... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে এবং কাফফারা আদায়ের আগেই তার সাথে মিলিত হয়। এরপর সে নবী (ﷺ) কাছে এসে ব্যাপারটি তাঁকে অবহিত করে। তখন তিনি বলেনঃ এরূপ করতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছিল? সে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) চাঁদের আলোতে তার উরুদ্বয়ের উজ্জ্বলতা দেখে ফেলেছিলাম। তাই আমি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি। শেষে তার সাথে সহবাস করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা শুনে হেসে ফেললেন এবং তাকে কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত তার কাছে না যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

লি'আন প্রসঙ্গে

بَاب اللِّعَانِ

২০৬৬

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ جَاءَ عُوَيْمِرٌ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ فَقَالَ سَلْ لِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ أَيُقْتَلُ بِهِ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَعَابَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ ثُمَّ لَقِيَهُ عُوَيْمِرٌ فَسَأَلَهُ فَقَالَ مَا صَنَعْتَ فَقَالَ صَنَعْتُ أَنَّكَ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَابَ الْمَسَائِلَ فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللهِ لَآتِيَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَأَسْأَلَنَّهُ فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَهُ وَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ فِيهِمَا فَلَاعَنَ بَيْنَهُمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللهِ لَئِنْ انْطَلَقْتُ بِهَا يَا رَسُولَ اللهِ لَقَدْ كَذَبْتُ عَلَيْهَا قَالَ فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَصَارَتْ سُنَّةً فِي الْمُتَلَاعِنَيْنِ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم انْظُرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَسْحَمَ أَدْعَجَ الْعَيْنَيْنِ عَظِيمَ الْأَلْيَتَيْنِ فَلَا أُرَاهُ إِلَّا قَدْ صَدَقَ عَلَيْهَا وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أُحَيْمِرَ كَأَنَّهُ وَحَرَةٌ فَلَا أُرَاهُ إِلَّا كَاذِبًا قَالَ فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى النَّعْتِ الْمَكْرُوهِ

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২০৬৬। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন উছমান উছমানী (রাহঃ) .... সাহল ইবন সা'দ সা'য়িদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উয়ায়মির আসিম ইবন আদী (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করুন যে, কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর কাছে কোন লোককে দেখতে পেয়ে তাকে হত্যা করে, তখন কি তাকে হত্যা করা হবে, না অন্য কিছু করা হবে? তখন আসিম (রাযিঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নটি অপছন্দ করেন। পরে উয়ায়মির (রাযিঃ) আসিম (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে ব্যাপারটি জানতে চাইলেন। আসিম (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি কোন ভাল কাজ করনি এবং আমাকেও কোন ভাল কাজে জড়িত করনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; কিন্তু তিনি এ প্রসঙ্গটি অপছন্দ করেন। তখন উয়ায়মির (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি নিজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট যাব এবং এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করব। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন। গিয়ে দেখলেন যে, ইতিপূর্বেই এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হয়েছে। তাই তিনি দু'জনকে লিআন করতে বললেন। উয়ায়মির (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমি যদি তাকে এখন গ্রহণ করি, তবে আমি তার উপর মিথ্যা আরোপকারী সাব্যস্ত হব। রাবী বলেনঃ এই বলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশের আগেই তাকে তালাক দিলেন। পরবর্তীতে লি'আনকারীদের ব্যাপারে এটাই বিধান রূপে সাব্যস্ত হলো।

এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ মহিলাটির প্রতি লক্ষ্য রেখো। সে যদি কালো, বড় চোখ বিশিষ্ট, কাল দেহী ও মোটা নিতম্ব বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে আমি মনে করব যে, উয়ায়মির সত্যবাদী। আর যদি সে এমন লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে, যা মনে হয় লাল রংয়ের কীট, তবে আমি মনে করব যে, উয়ায়মির মিথ্যাবাদী। রাবী বলেনঃ এরপর সে মহিলাটি একটি কুৎসিত সন্তান প্রসব করে।
২০৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ فَقَالَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَصَادِقٌ وَلَيُنْزِلَنَّ اللهُ فِي أَمْرِي مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي قَالَ فَنَزَلَتْ (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ حَتَّى بَلَغَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ) فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَجَاءَا فَقَامَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْ تَائِبٍ ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الْخَامِسَةِ (أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ) قَالُوا لَهَا إِنَّهَا لَمُوجِبَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا سَتَرْجِعُ فَقَالَتْ وَاللهِ لَا أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم انْظُرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْلَا مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৬৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, হিলাল ইবন উমায়্যা (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে নবী (ﷺ)-এর কাছে এ মর্মে অপবাদ দিয়েছিলেন যে, সে শারীক ইবন সামহার সাথে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ সাক্ষী পেশ কর, অন্যথায় তোমার পিঠে (শরীয়ত নির্ধারিত) দন্ড পড়বে। হিলাল ইবন উমায়্যা বললেনঃ ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন; আমি অবশ্যই সত্যবাদী এবং আল্লাহ আমার ব্যাপারে এমন বিধান নাযিল করবেন, যা আমার পিঠকে দন্ড থেকে বাঁচাবে। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃوَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ حَتَّى بَلَغَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ

“আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর সঙ্গে চারবার শপথ করে বলবে, সে অবশ্যই সত্যবাদী, এবং পঞ্চমবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লানত" (২৪ঃ৬-৭)। তখন নবী (ﷺ) ফিরে আসলেন এবং তাদের দু'জনের কাছে লোক পাঠালেন। দুজনই উপস্থিত হলেন। প্রথম হিলাল ইবন উমায়্যা দাঁড়িয়ে শপথ করলেন। এদিকে নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ অবশ্যই জানেন যে, তোমাদের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। তাই তোমরা কেউ কি তওবা করবে? এরপর হিলালের স্ত্রী দাঁড়িয়ে গেল এবং সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বার এ কথাটি বলতে যাচ্ছিল যে, “আমার স্বামীর কথা যদি সত্য হয়, তবে আমার উপর আল্লাহর গযব আপতিত হোক", তখন লোকেরা বললো যে, এটি কিন্তু চূড়ান্ত কথা। ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ মহিলাটি তখন আর কিছু না বলে পিছনে ফিরে গেল। আর আমরা মনে করলাম যে, সে হয়ত তার কথা প্রত্যাহার করে নেবে। কিন্তু সে বললোঃ আল্লাহর কসম, আমি আমার সম্প্রদায়কে চিরদিনের জন্য অপমানিত করে যাব না। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য রাখ। সে যদি এমন সন্তান প্রসব করে, যার চোখগুলো দেখলে সুরমা মাখা চোখ মনে হয় ও নিতম্ব গোশতে ভরা, আর পাগুলো মোটা, তবে সন্তানটি শারীক ইবন সামার বলে মনে করবে। এরপর মহিলাটি এ ধরনের সন্তানই প্রসব করল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ "কুরআন যদি মিথ্যা লি'আনকারীকে শাস্তি দিতে নিষেধ না করত, তাহলে এই মহিলাটিকে আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ছাড়তাম।"
২০৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيُّ وَإِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا فِي الْمَسْجِدِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ رَجُلٌ لَوْ أَنَّ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ وَاللهِ لَأَذْكُرَنَّ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ آيَاتِ اللِّعَانِ ثُمَّ جَاءَ الرَّجُلُ بَعْدَ ذَلِكَ يَقْذِفُ امْرَأَتَهُ فَلَاعَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَقَالَ عَسَى أَنْ تَجِيءَ بِهِ أَسْوَدَ فَجَاءَتْ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০৬৮। আবু বকর ইবন খাল্লাদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন হাবীব (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা জুমআর রাত্রিতে মসজিদে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি বললোঃ কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর কাছে অপর কোন ব্যক্তিকে দেখতে পায় এবং তাকে হত্যা করে ফেলে, তখন তো তোমরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে। আর যদি সে অপবাদ দেয়, তবে তো তাকে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর কসম, আমি এ বিষয়টি নবী (ﷺ) -এর কাছে অবশ্যই পেশ করব। এরপর সে এ বিষয়টি নবী (ﷺ) এর কাছে বলল। তখন আল্লাহ লি'আন সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করলেন। এরপর লোকটি তার স্ত্রীর প্রতি অপবাদ নিয়ে এলো। তখন নবী(ﷺ) তাদেরকে লি'আন করতে বললেন এবং এও বললেনঃ সম্ভবতঃ মহিলাটি একটি কালো সন্তান প্রসব করবে। পরে সে কালো ও কুঁকড়া চুল বিশিষ্ট একটি সন্তান প্রসব করে।

২০৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا لَاعَنَ امْرَأَتَهُ وَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৬৯। আহমদ ইবন সিনান (রাহঃ).... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে লি'আন করেছিল ও তার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন ও সন্তানটিকে মহিলার সাথে দিয়ে দিলেন।

২০৭০

- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَلَمَةَ النَّيْسَابُورِيُّ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ قَالَ ذَكَرَ طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ امْرَأَةً مِنْ بَلْعِجْلَانَ فَدَخَلَ بِهَا فَبَاتَ عِنْدَهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ مَا وَجَدْتُهَا عَذْرَاءَ فَرُفِعَ شَأْنُهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا الْجَارِيَةَ فَسَأَلَهَا فَقَالَتْ بَلَى قَدْ كُنْتُ عَذْرَاءَ فَأَمَرَ بِهِمَا فَتَلَاعَنَا وَأَعْطَاهَا الْمَهْرَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৭০। আলী ইবন সালাম নিশাপুরী (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসার ইজলান গোত্রের এক মহিলাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি তার কাছে গিয়ে রাত যাপন করেন। ভোর হলে তিনি বললেনঃ আমি তাকে কুমারী পাইনি। বিষয়টি তখন নবী (ﷺ) এর কাছে উত্থাপন করা হলো। তখন তিনি মহিলাটিকে ডেকে এ ব্যাপার জিজ্ঞাসা করেন। সে বললোঃ আমি তো কুমারী। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে লি'আন করার নির্দেশ দিলেন। তারা লি'আন করল এবং স্বামী মহিলাটির মাহর আদায় করে দিল।

২০৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحَضْرَمِيُّ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ ابْنِ عَطَاءٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعٌ مِنْ النِّسَاءِ لَا مُلَاعَنَةَ بَيْنَهُنَّ النَّصْرَانِيَّةُ تَحْتَ الْمُسْلِمِ وَالْيَهُودِيَّةُ تَحْتَ الْمُسْلِمِ وَالْحُرَّةُ تَحْتَ الْمَمْلُوكِ وَالْمَمْلُوكَةُ تَحْتَ الْحُرِّ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২০৭১। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....'আমর ইবন শু'আয়ব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ চার ধরনের মহিলার লি'আন নেই। মুসলমানের অধীনে খ্রীস্টান মহিলা, মুসলমানের অধীনে ইয়াহুদী মহিলা, গোলামের বিবাহে আযাদ মহিলা এবং আযাদ পুরুষের বিবাহে দাসী মহিলা।

হারামকরণ প্রসঙ্গে

بَاب الْحَرَامِ

২০৭২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزْعَةَ حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ آلَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نِسَائِهِ وَحَرَّمَ فَجَعَلَ الْحَلَالَ حَرَامًا وَجَعَلَ فِي الْيَمِينِ كَفَّارَةً

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭২। হাসান ইবন কাযা'আ (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের থেকে ঈলা করেছিলেন এবং হারাম সাব্যস্ত করেছিলেন। তিনি হালালকে হারাম করেছিলেন এবং কসমের কারণে কাফফারা প্রদান করেছিলেন।

২০৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي الْحَرَامِ يَمِينٌ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ).

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৭৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ).....সা'য়ীদ ইবন জুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ হালাল বস্তুকে নিজের উপর হারাম করণ- কসম বলে গণ্য হবে, ইবন আব্বাস (রাযিঃ) এ প্রসঙ্গে এ আয়াতটি উল্লেখ করতেনঃلَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

“তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ” (৩৩ঃ২১)।

দাসীকে আযাদ করা হলে সে বিবাহের বেলায় ইখতিয়ার লাভ করবে

بَاب خِيَارِ الْأَمَةِ إِذَا أُعْتِقَتْ

২০৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَعْتَقَتْ بَرِيرَةَ فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لَهَا زَوْجٌ حُرٌّ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বারীরাকে আযাদ করে দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (তার বিবাহ সম্পর্ক বহাল রাখা বা না রাখার ব্যাপারে) ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। আর তার স্বামী ছিল আযাদ।

২০৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى وَمُحَمَّدُ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ زَوْجُ بَرِيرَةَ عَبْدًا يُقَالُ لَهُ مُغِيثٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ يَطُوفُ خَلْفَهَا وَيَبْكِي وَدُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى خَدِّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْعَبَّاسِ يَا عَبَّاسُ أَلَا تَعْجَبُ مِنْ حُبِّ مُغِيثٍ بَرِيرَةَ وَمِنْ بُغْضِ بَرِيرَةَ مُغِيثًا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْ رَاجَعْتِيهِ فَإِنَّهُ أَبُو وَلَدِكِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ تَأْمُرُنِي قَالَ إِنَّمَا أَشْفَعُ قَالَتْ لَا حَاجَةَ لِي فِيهِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৭৫। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না ও মুহাম্মাদ ইবন খাল্লাদ বাহিলী (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার স্বামী ছিল গোলাম। তাকে মুগীছ বলা হতো। আমি যেন তাকে দেখছি যে, সে বারীরার পেছনে ঘুরছে এবং কাঁদছে। আর তার অশ্রু গণ্ড বেয়ে ঝরছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্বাসকে বলছিলেনঃ হে আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীছের ভালবাসা এবং মুগীছের প্রতি বারীরার ঘৃণা দেখে কি তুমি আশ্চর্য বোধ করছ না? এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরা কে বললেনঃ তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে; কেননা, সে তোমার সন্তানের পিতা। সে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আপনি কি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তো কেবল সুপারিশ করছি। তখন সে বললঃ আমার তার কোন প্রয়োজন নেই।

২০৭৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَضَى فِي بَرِيرَةَ ثَلَاثُ سُنَنٍ خُيِّرَتْ حِينَ أُعْتِقَتْ وَكَانَ زَوْجُهَا مَمْلُوكًا وَكَانُوا يَتَصَدَّقُونَ عَلَيْهَا فَتُهْدِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ وَقَالَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাবীরা থেকে শরীয়তের তিনটি বিধান চালু হয়েছে। তাকে যখন আযাদ করা হয়, তখন তাকে তার গোলাম স্বামীর বিবাহে থাকা না থাকার ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছিল। লোকেরা তাকে অনেক সদকা প্রদান করত, আর সে এ থেকে নবী (ﷺ) কে হাদিয়া দিত। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ এতো তার জন্য সাদকা, আর আমাদের বেলায় হাদিয়া। আর তার প্রসঙ্গেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ 'ওয়ালা' (অভিভাবকত্ব) আযাদকারী ব্যক্তিরই থাকবে।

২০৭৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أُمِرَتْ بَرِيرَةُ أَنْ تَعْتَدَّ بِثَلَاثِ حِيَضٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বারীরাকে তিন হায়য সময়কাল ইদ্দত পালন করতে বলা হয়েছিল।

২০৭৮

حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ تَوْبَةَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أُذَيْنَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَيَّرَ بَرِيرَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৭৮। ইসমায়ীল ইবন তাওবাহ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন।

বাঁদীর তালাক ও তার ইদ্দত প্রসঙ্গে

بَاب فِي طَلَاقِ الْأَمَةِ وَعِدَّتِهَا

২০৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبِيبٍ الْمُسْلِيُّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عِيسَى عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَلَاقُ الْأَمَةِ اثْنَتَانِ وَعِدَّتُهَا حَيْضَتَانِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৭৯। মুহাম্মাদ ইবন তরীক ও ইবরাহীম ইবন সা'য়ীদ জওহরী (রাহঃ)....ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাঁদীর তালাক হচ্ছে দু'টি আর তার ইদ্দত হচ্ছে দু' হায়য সময়কাল।

২০৮০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ مُظَاهِرِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ طَلَاقُ الْأَمَةِ تَطْلِيقَتَانِ وَقُرْؤُهَا حَيْضَتَانِ

قَالَ أَبُو عَاصِمٍ فَذَكَرْتُهُ لِمُظَاهِرٍ فَقُلْتُ حَدِّثْنِي كَمَا حَدَّثْتَ ابْنَ جُرَيْجٍ فَأَخْبَرَنِي عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ طَلَاقُ الْأَمَةِ تَطْلِيقَتَانِ وَقُرْؤُهَا حَيْضَتَانِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৮০। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বাঁদীর তালাক হচ্ছে দু'টি, আর তার ইদ্দত হচ্ছে দু' হায়য সময়কাল।
আবু 'আসিম বলেনঃ আমি মুযাহিরকে বললাম যে, আপনি ইবন জুরায়জের কাছে যেভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আমার কাছেও সেভাবেই বর্ণনা করুন। তখন তিনি কাসিম ও আয়েশা (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বাঁদীর তালাক দু'টি আর তার ইদ্দত হচ্ছে দু' হায়য সময়কাল।

গোলামের তালাক

بَاب طَلَاقِ الْعَبْدِ

২০৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৮১। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমার মনিব আমার কাছে তার বাঁদীকে বিয়ে দিয়েছিল। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরে আরাহণ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, তার গোলামের কাছে নিজের বাঁদীকে বিয়ে দেয় এবং পরে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? তালাকের অধিকার তো কেবল তারই, যে মহিলাকে স্পর্শ করার অধিকার রাখে।

কেউ যদি বাঁদীকে দু'তালাক দিয়ে দেয় এবং পরে তাকে ক্রয় করে নেয়

بَاب مَنْ طَلَّقَ أَمَةً تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ اشْتَرَاهَا

২০৮২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ زَنْجَوَيْهِ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ مُعَتِّبٍ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ مَوْلَى بَنِي نَوْفَلٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدٍ ’طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ أُعْتِقَا يَتَزَوَّجُهَا قَالَ نَعَمْ فَقِيلَ لَهُ عَمَّنْ قَالَ قَضَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم’.
قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ لَقَدْ تَحَمَّلَ أَبُو الْحَسَنِ هَذَا صَخْرَةً عَظِيمَةً عَلَى عُنُقِهِ.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৮২। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল মালিক ইবন যানজুয়াহ আবু বকর (রাহঃ)....বনু নওফলের আযাদকৃত গোলাম আবুল হাসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন আব্বাস (রাযিঃ)কে জনৈক গোলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো- যে তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছে, পরে তাদের উভয়কে আযাদ করা হয়েছে। সে কি উক্ত মহিলাকে বিয়ে করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ আপনি কর বরাতে বলছেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ এরূপ ফয়সালা দিয়েছেন।

রাবী আব্দুর রাযযাক বলেনঃ 'আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেছেন যে, আবুল হাসান নিজের ঘাড়ে একটি বিরাট পাথর উঠিয়ে নিল।

উম্মুল ওয়ালাদ-এর ইদ্দত

بَاب عِدَّةِ أُمِّ الْوَلَدِ

২০৮৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ لَا تُفْسِدُوا عَلَيْنَا سُنَّةَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم عِدَّةُ أُمِّ الْوَلَدِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২০৮৩। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... 'আমর ইবনুল 'আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর সুন্নতকে নষ্ট করো না। মনে রেখো, উম্মুল ওয়ালাদ-এর ইদ্দত চার মাস দশ দিন।

যে মহিলার স্বামী মারা গিয়েছে ইদ্দত অবস্থায় তার সাজসজ্জা গ্রহণ অপছন্দনীয়

بَاب كَرَاهِيَةِ الزِّينَةِ لِلْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا

২০৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ أَنَّهُ سَمِعَ زَيْنَبَ ابْنَةَ أُمِّ سَلَمَةَ تُحَدِّثُ أَنَّهَا سَمِعَتْ أُمَّ سَلَمَةَ وَأُمَّ حَبِيبَةَ تَذْكُرَانِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ ابْنَةً لَهَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَاشْتَكَتْ عَيْنُهَا فَهِيَ تُرِيدُ أَنْ تَكْحَلَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২০৮৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....যয়নাব বিনত উম্মূ সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মূ সালামা ও উন্মূ হাবীবা (রাযিঃ)কে বলতে শুনেছেন যে, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললোঃ আমার মেয়ের স্বামী মারা গিয়েছে। এখন তার চোখে অসুখ দেখা দিয়েছে, তাই সে তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের অবস্থা তো এমন ছিল যে, এক বৎসর পূর্ণ হলে পর গোবর ছিটিয়ে ইদ্দত পূর্ণ করতে। এখন তো তা কেবল চার মাস দশ দিন।

স্বামী ছাড়া অন্যের মৃত্যুতে মহিলারা কি সাজসজ্জা বর্জন করবে?

بَاب هَلْ تُحِدُّ الْمَرْأَةُ عَلَى غَيْرِ زَوْجِهَا

২০৮৫

- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৮৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...আয়েশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন মহিলার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী সাজসজ্জা বর্জন করা বৈধ নয়।

২০৮৬

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২০৮৬। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ)....নবী (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, তার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশী সাজসজ্জা বর্জন করা বৈধ নয়।

২০৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ’لَا تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا امْرَأَةٌ تُحِدُّ عَلَى زَوْجِهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلَا تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلَّا ثَوْبَ عَصْبٍ وَلَا تَكْتَحِلُ وَلَا تَطَيَّبُ إِلَّا عِنْدَ أَدْنَى طُهْرِهَا بِنُبْذَةٍ مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

২০৮৭। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... উন্মু আতিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক সাজসজ্জা পরিহার করবে না। তবে স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন সাজসজ্জা বর্জন করবে। সে রং্গীন বস্ত্র পরিধান করবে না। তবে ইয়ামনের বিশেষ ধরনের রং্গীন চাদর পরতে পারবে। সুরমা ও সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। তবে হায়য থেকে পবিত্র হওয়ার সময় গোসলের বেলায় সামান্য কস্তুরী ও চন্দন লাগাতে পারবে।

পিতা পুত্রকে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বললে

بَاب الرَّجُلِ يَأْمُرُهُ أَبُوهُ بِطَلَاقِ امْرَأَتِهِ

২০৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَعُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ خَالِهِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَتْ تَحْتِي امْرَأَةٌ وَكُنْتُ أُحِبُّهَا وَكَانَ أَبِي يُبْغِضُهَا فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَنِي أَنْ أُطَلِّقَهَا فَطَلَّقْتُهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৮৮। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... 'আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার এক স্ত্রী ছিল, যাকে আমি অত্যন্ত ভাল বাসতাম, কিন্তু আমার পিতা তাকে দেখতে পারতেন না। উমর (রাযিঃ) ব্যাপারটি নবী (ﷺ) -এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি তাকে তালাক দেওয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি তাকে তালাক দিলাম।

২০৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ رَجُلًا أَمَرَهُ أَبُوهُ أَوْ أُمُّهُ شَكَّ شُعْبَةُ أَنْ يُطَلِّقَ امْرَأَتَهُ فَجَعَلَ عَلَيْهِ مِائَةَ مُحَرَّرٍ فَأَتَى أَبَا الدَّرْدَاءِ فَإِذَا هُوَ يُصَلِّي الضُّحَى وَيُطِيلُهَا وَصَلَّى مَا بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ أَوْفِ بِنَذْرِكَ وَبِرَّ وَالِدَيْكَ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَحَافِظْ عَلَى وَالِدَيْكَ أَوْ اتْرُكْ

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২০৮৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... আবু আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তিকে তার পিতা অথবা তার মা তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বলল। এদিকে সে কসম খেয়ে বলল যে, আমি যদি স্ত্রীকে তালাক দেই তবে একশো গোলাম আযাদ করে দেব। এমতাবস্থায় সে আবু দারদা (রাযিঃ) এর কাছে এলো। তখন তিনি চাশতের সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি তা দীর্ঘায়িত করেন। আর যুহর ও আসরের মাঝেও তিনি সালাত আদায় করছিলেন। লোকটি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো। তখন আবু দারদা (রাযিঃ) বললেনঃ তোমার মানত পূরণ কর। আর তোমার পিতামাতার হুকুমও পালন কর।
আবুদ দারদা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পিত হচ্ছেন জান্নাতের উত্তম দ্বার। তুমি তোমার পিতা-মাতার অধিকার সংরক্ষণ কর, কিম্বা ছেড়ে দাও।