أبواب الديات

২০. নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়

অধ্যায় ২০ · ৮০ টি হাদীস

অন্যায়ভাবে কোন মুসলমানকে কতল করায় কঠোর শাস্তি

بَاب التَّغْلِيظِ فِي قَتْلِ مُسْلِمٍ ظُلْمًا

২৬১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬১৫। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়, 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) …. আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে প্রথম যে কাজের বিচার করা হবে, তা হল রক্তপাত সম্পর্কিত।

২৬১৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلاَّ كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬১৬। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) 'আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোককে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হলে আদম (আ)-এর প্রথম সন্তানের (কাবীলের) উপর তার (গুনাহের) একটি অংশ পৌঁছে। কেননা সে-ই প্রথম ব্যক্তি, যে হত্যার প্রচলন করেছিল।

২৬১৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الأَزْهَرِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬১৭। সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আযহার ওয়াসিতী (রাহঃ) …. 'আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে প্রথম যে কাজের বিচার হবে তা হল রক্তপাত সম্পর্কিত।

২৬১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِذٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا لَمْ يَتَنَدَّ بِدَمٍ حَرَامٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৬১৮। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ).... 'উকবা ইবন 'আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি, অবৈধভাবে কারো রক্তপাত করেনি সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

২৬১৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ جَنَاحٍ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ الْجُوزَجَانِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لَزَوَالُ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ قَتْلِ مُؤْمِنٍ بِغَيْرِ حَقٍّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৬১৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).....বারা ইবন 'আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া সহজ ও সাধারণ ব্যাপার একজন মু'মিনের না হক কতলের চেয়ে।

২৬২০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَعَانَ عَلَى قَتْلِ مُؤْمِنٍ بِشَطْرِ كَلِمَةٍ لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ آيِسٌ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬২০। 'আমর ইবন রাফি' (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একজন মু'মিনকে হত্যার ব্যাপারে সাহায্যে করবে সামান্য একটু কথার দ্বারা সে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে, আর দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) লেখা থাকবে-“আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত।”

মু'মিন হত্যাকারীকে তওবা কবূল হবে কি?

بَاب هَلْ لِقَاتِلِ مُؤْمِنٍ تَوْبَةٌ

২৬২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَمَّنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا ثُمَّ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى ‏.‏ قَالَ وَيْحَهُ وَأَنَّى لَهُ الْهُدَى سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ يَجِيءُ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُتَعَلِّقٌ بِرَأْسِ صَاحِبِهِ يَقُولُ رَبِّ سَلْ هَذَا لِمَ قَتَلَنِي ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّهِ لَقَدْ أَنْزَلَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّكُمْ ثُمَّ مَا نَسَخَهَا بَعْدَ مَا أَنْزَلَهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬২১। মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ) ….. সালিম ইবন আবু জা'দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আববাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল সে ব্যক্তি সম্পর্কে, যে কোন মু'মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে এরপর সে তওবা করে এবং ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারপর সে হিদায়াত মত চলে। তিনি বললেনঃ আফসোস তার জন্য! সে হিদায়াত কোথায় পাবে? আমি তোমাদের নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেনঃ কিয়মাতের দিন হত্যাকারী আসবে। আর নিহত ব্যক্তি তার মাথার সাথে ঝুলে থাকবে। সে বলবেঃ পরোয়ারদিগার! একে জিজ্ঞাসা করুন কেন আমাকে সে কতল করেছিল? আল্লাহর কসম, আল্লাহ তা'আলা কতলের আয়াত১ নাযিল করেছেন তোমাদের নবীর উপর। তারপর তিনি আর তা মানসুখ করেননি।

২৬২২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ فِي رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي إِنَّ عَبْدًا قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا ثُمَّ عَرَضَتْ لَهُ التَّوْبَةُ فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنِّي قَتَلْتُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ قَالَ بَعْدَ تِسْعَةٍ وَتِسْعِينَ نَفْسًا قَالَ فَانْتَضَى سَيْفَهُ فَقَتَلَهُ فَأَكْمَلَ بِهِ الْمِائَةَ ثُمَّ عَرَضَتْ لَهُ التَّوْبَةُ فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنِّي قَتَلْتُ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ وَيْحَكَ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَكَ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ اخْرُجْ مِنْ الْقَرْيَةِ الْخَبِيثَةِ الَّتِي أَنْتَ فِيهَا إِلَى الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ قَرْيَةِ كَذَا وَكَذَا فَاعْبُدْ رَبَّكَ فِيهَا فَخَرَجَ يُرِيدُ الْقَرْيَةَ الصَّالِحَةَ فَعَرَضَ لَهُ أَجَلُهُ فِي الطَّرِيقِ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ قَالَ إِبْلِيسُ أَنَا أَوْلَى بِهِ إِنَّهُ لَمْ يَعْصِنِي سَاعَةً قَطُّ قَالَ فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ إِنَّهُ خَرَجَ تَائِبًا
قَالَ هَمَّامٌ فَحَدَّثَنِي حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ فَبَعَثَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مَلَكًا فَاخْتَصَمُوا إِلَيْهِ ثُمَّ رَجَعُوا فَقَالَ انْظُرُوا أَيَّ الْقَرْيَتَيْنِ كَانَتْ أَقْرَبَ فَأَلْحِقُوهُ بِأَهْلِهَا قَالَ قَتَادَةُ فَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ احْتَفَزَ بِنَفْسِهِ فَقَرُبَ مِنْ الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ وَبَاعَدَ مِنْهُ الْقَرْيَةَ الْخَبِيثَةَ فَأَلْحَقُوهُ بِأَهْلِ الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ

حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِسْمَعِيلَ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৬২২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে অবহিত করব না সে সম্পর্কে, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মুখ থেকে শুনেছি? আমার দুই কানে তা শুনেছি? এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে। এক বান্দা নিরানব্বইটি লোক হত্যা করেছিল। এরপর তার তওবা করার খেয়াল হল। তাই সে জানতে চাইল পৃথিবীর মধ্যে কে সবচেয়ে বড় আলেম। তাকে একটি লোক দেখিয়ে দেওয়া হল। সে লোকটির কাছে এসে বললঃ আমি নিরাব্বইটি লোক হত্যা করেছি। আমার জন্য কি তওবার কোন পথ আছে? লোকটি বললঃ নিরাব্বইটি লোক হত্যা করার পর! (এখন আবার তওবা)। রাসূল (ﷺ) বলেনঃ অতঃপর সে তার তরবারী কোষ মুক্তর করল এবং তাকে হত্যা করে ফেলল, তাকে দিয়ে সে একশ হত্যা পূর্ণ করল। এরপর আবার তার তওবার খেয়াল হল। সে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম কে জানতে চাইল। তাকে এক লোক দেখিয়ে দেওয়া হল। লোকটির কাছে এসে বললঃ আমি একশ লোক হত্যা করেছি, আমার জন্য কি তওবার কোন পথ আছে? রাসূল (ﷺ) বলেন, তখন সে লোকটি বললঃ আফসোস তোমার জন্য! তোমার এবং তওবার মধ্যে কে প্রতিবন্ধক হতে পারে? তুমি যে ঘৃণ্য জনপদে রয়েছ, সেখান থেকে বের হয়ে যাও ভাল জনপদে। অমুক অমুক জনপদে। সেখানে তোমার রবের ইবাদত কর। অতঃপর সে বের হল সেই ভাল জনপদের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যেই তার মৃত্যু এসে গেল। তখন তার ব্যাপারে রহমতের ফিরিশতা ও আযাবের ফিরিশতা বিবাদ করতে লাগল। ইবলীস (শয়তান) বললঃ আমিই তার বেশী হকদার। সে এক মুহূর্তের তরে কখনো আমার অবাধ্য হয়নি। রাসূল (ﷺ) বলেন, তখন রহমতের ফিরিশতা বললঃ সেও তওবা কারী অবস্থায় বের হয়েছিল।

রাবী হাম্মাম (রাহঃ) ..... আবু রাফি' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তখন আল্লাহ তা'আলা একজন ফিরিশতা পাঠালেন। তারা (উভয় পক্ষের ফিরিশতা) তার কাছে মামলা দায়ের করল। সে ফিরিশতা বললেনঃ দেখ, উভয় জনপদের কোন্‌টি নিকটবর্তী। অতঃপর তাকে সেই জনপদের বাসিন্দার মধ্যেই শামিল করে নাও।

রাবী কাতাদা (রাহঃ) বলেনঃ রাবী হাসান (রাহঃ) আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যখন তার মৃত্যু এসে গেল তখন সে হামাগুড়ি দিয়ে ভাল জনপদের নিকটবর্তী হয়ে গেল এবং খারাপ জনপদ থেকে দূরে সরে গেল। অতঃপর ফিরিশতাগণ তাকে ভাল জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে শামিল করে নিল।

আবুল আব্বাস ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইসমাঈল বাগদাদী (রাহঃ) …. হাম্মাম (রাহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
যার কোন লোক নিহত হবে, তার তিনটি জিনিসের যে কোন একটি
গ্রহণ করার এখতিয়ার থাকবে

بَاب مَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِالْخِيَارِ بَيْنَ إِحْدَى ثَلَاثٍ

২৬২৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ فُضَيْلٍ، أَظُنُّهُ عَنِ ابْنِ أَبِي الْعَوْجَاءِ، وَاسْمُهُ، سُفْيَانُ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أُصِيبَ بِدَمٍ أَوْ خَبْلٍ - وَالْخَبْلُ الْجُرْحُ - فَهُوَ بِالْخِيَارِ بَيْنَ إِحْدَى ثَلاَثٍ فَإِنْ أَرَادَ الرَّابِعَةَ فَخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَنْ يَقْتُلَ أَوْ يَعْفُوَ أَوْ يَأْخُذَ الدِّيَةَ فَمَنْ فَعَلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَعَادَ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু শুরাইহ খুওয়াইলিদ ইবন আমর রাযি.

২৬২৩। 'উছমান ইবন আবু শায়বা ও আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) আবু শুরায়হ খুবাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে হত্যা করা হয় অথবা যখম করা হয়, তার (অথবা তার ওয়ারিছের) তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার থাকবে। সে যদি চতুর্থটি গ্রহণ করতে চায় তবে তার উভয় হাত ধরে রাখ (তাকে প্রতিহত কর)। বিষয় তিনটি হলঃ (হত্যাকারীকে) কতল করবে অথবা ক্ষমা করে দিবে অথবা দিয়াত (আর্থিক ক্ষতি পূরণ) গ্রহণ করবে। যে এর কোন একটি গ্রহণ করবে তারপর আবার কিছু (অতিরিক্ত) দাবী করবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে চিরস্থায়ী থাকবে।

যার কোন লোক নিহত হবে, তার তিনটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার থাকবে

بَاب مَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِالْخِيَارِ بَيْنَ إِحْدَى ثَلَاثٍ

২৬২৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ إِمَّا أَنْ يَقْتُلَ وَإِمَّا أَنْ يُفْدَى ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬২৪। 'আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার কোন লোককে হত্যা করা হয় সে দুটি জিনিসের যেটিকেই ভাল মনে করে গ্রহণ করতে পারে। হয় সে (হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ) কতল করবে আর না হয় ফিদয়া গ্রহণ করবে।

কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার পর, তার ওয়ারিছগণ
দিয়াত গ্রহণে সম্মত হলে

بَاب مَنْ قَتَلَ عَمْدًا فَرَضُوا بِالدِّيَةِ

২৬২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ضُمَيْرَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي وَعَمِّي، وَكَانَا، شَهِدَا حُنَيْنًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالاَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ ثُمَّ جَلَسَ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَقَامَ إِلَيْهِ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ - وَهُوَ سَيِّدُ خِنْدِفَ يَرُدُّ - عَنْ دَمِ مُحَلِّمِ بْنِ جَثَّامَةَ وَقَامَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ يَطْلُبُ بِدَمِ عَامِرِ بْنِ الأَضْبَطِ وَكَانَ أَشْجَعِيًّا فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تَقْبَلُونَ الدِّيَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَأَبَوْا فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي لَيْثٍ يُقَالُ لَهُ مُكَيْتِلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا شَبَّهْتُ هَذَا الْقَتِيلَ فِي غُرَّةِ الإِسْلاَمِ إِلاَّ كَغَنَمٍ وَرَدَتْ فَرُمِيَتْ فَنَفَرَ آخِرُهَا ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَكُمْ خَمْسُونَ فِي سَفَرِنَا وَخَمْسُونَ إِذَا رَجَعْنَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَبِلُوا الدِّيَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬২৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) …. যায়দ ইবন দুমায়রা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমার পিতা ও আমার চাচা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আর তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে হাজির ছিলেন। তাঁরা উভয়েই বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর একটি গাছের নীচে বসলেন। তখন তাঁর কাছে আকরা ইবন হাবিস আসলেন। তিনি ছিলেন খিনদিফ গোত্রের সর্দার। তিনি মুহাল্লিশ ইবন জাছছামা থেকে কিসাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এবং উয়ায়না ইবন হিসন দাঁড়িয়ে আমির ইবন আযবাত-এর খুনের বদলা দাবী করছিলেন। তিনি ছিলেন আশ্ জাইয়া বংশোদ্ভূত। নবী (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি দিয়াত গ্রহণ কর? তারা অস্বীকার করল। তখন লায়ছ গোত্রের এক ব্যক্তি দাঁড়াল। তাকে বলা হত মুকাইতিল। সে বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর কসম! ইসলামের বিজয় অবস্থায় এই কতলের একমাত্র উদাহরণ হল সেই বকরীর মত, যা পানি পান করতে আসল তখন তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল। অতঃপর তার শেষের দলটিও পলায়ন করল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশটি উট পাবে আমাদের সফরে থাকা অবস্থায়। আর পঞ্চাশটি উট পাবে যখন আমরা ফিরে যাব, তখন তারা দিয়াত কবূল করল।

কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার পর, তার ওয়ারিছগণ দিয়াত গ্রহণে সম্মত হলে

باب الْمُحْرِمِ يَمُوتُ كَيْفَ يُصْنَعُ بِهِ

২৬২৬

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ عَمْدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْقَتِيلِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوا وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ وَذَلِكَ ثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً وَذَلِكَ عَقْلُ الْعَمْدِ مَا صُولِحُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُمْ وَذَلِكَ تَشْدِيدُ الْعَقْلِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬২৬। মাহমুদ ইবন খালিদ দিমাশকী (রাহঃ) …… 'আমর ইবন শুআয়ব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে (কাউকে) ইচ্ছাকৃত হত্যা করবে, তাকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কাছে সোপর্দ করে দেওয়া হবে। তারা যদি চায় তাকে কতল করবে আর যদি চায় দিয়াত গ্রহণ করবে। আর দিয়াত হল ত্রিশটি হিক্কা (চার বছরের উট) ত্রিশটি জায'আ (পাঁচ বছরের উট) এবং চল্লিশটি গর্ভবতী উট। এটাই হল ইচ্ছাকৃত কতলের দিয়াত। আর যে কথার উপর মীমাংসা করা হবে নিহতের ওয়ারিছগণ তা-ই পাবে। আর ওটা হল শক্ত দিয়াত।

শিব্‌হে আমাদের[১] জন্য কঠোর দিয়াত

بَاب دِيَةِ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظَةً

২৬২৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ قَتِيلُ الْخَطَإِ شِبْهِ الْعَمْدِ قَتِيلُ السَّوْطِ وَالْعَصَا مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ أَرْبَعُونَ مِنْهَا خَلِفَةً فِي بُطُونِهَا أَوْلاَدُهَا ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬২৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) ….. আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ভুল বশতঃ কতল হলে শিবহে আমাদের কতল অর্থাৎ চাবুক বা বেতের আঘাতে মৃত্যু। এতে একশ'টি উট দিতে হবে। তার চল্লিশটি গর্ভবতী, যাদের পেটে তাদের বাচ্চা থাকবে ।মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।


[১] কতল তিন প্রকারঃ (১) কতলে 'আমাদ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্ত্র দিয়ে কাউকে হত্যা করা, (২) শিবহে 'আমাদ যা দিয়ে সাধারণত: মানুষ হত্যা করা হয় না, এমন কিছু দিয়ে আঘাত করার ফলে মৃত্যু ঘটা, (৩) কতলে খাতা বা ভুল বশতঃ হত্যা অন্য কাউকে মারার ইচ্ছায় আঘাত করার ফলে মৃত্যু অথবা জীবজন্তু মনে করে আঘাত করার ফলে মৃত্যু ইত্যাদি।

শিব্‌হে আমাদের জন্য কঠোর দিয়াত

بَاب دِيَةِ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظَةً

২৬২৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ، سَمِعَهُ مِنَ الْقَاسِمِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَهُوَ عَلَى دَرَجِ الْكَعْبَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَقَالَ ‏ "‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ أَلاَ إِنَّ قَتِيلَ الْخَطَإِ قَتِيلَ السَّوْطِ وَالْعَصَا فِيهِ مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ مِنْهَا أَرْبَعُونَ خَلِفَةً فِي بُطُونِهَا أَوْلاَدُهَا أَلاَ إِنَّ كَلَّ مَأْثُرَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَدَمٍ تَحْتَ قَدَمَىَّ هَاتَيْنِ إِلاَّ مَا كَانَ مِنْ سِدَانَةِ الْبَيْتِ وَسِقَايَةِ الْحَاجِّ أَلاَ إِنِّي قَدْ أَمْضَيْتُهُمَا لأَهْلِهِمَا كَمَا كَانَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬২৮। আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ যুহরী (রাহঃ) ....... ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন কা'বার সিড়ির উপর দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন।. আর বললেনঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তার ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং বিরাট দলকে পরাজিত করেছেন একাই। জেনে রাখ, খাতা (ভুল বশতঃ) এর নিহত ব্যক্তি সেই, যে নিহত হয় চাবুক এবং লাঠির আঘাতে। এতে একশ'টি উট দিতে হবে। তার চল্লিশটি হবে গর্ভবতী, যাদের পেটে তাদের বাচ্চা থাকবে। জেনে রাখ, জাহিলী যুগের সকল রীতিনীতি এবং রক্তপাত আমার এই দুই পায়ের নীচে। তবে বায়তুল্লাহর খিদমাত এবং হাজীদের পানি পান করানোর ব্যাপারে যা প্রচলিত ছিল তার কথা ভিন্ন। জেনে রাখ এ দু'টি বিষয়কে আমি তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্য বহাল রাখলাম যেমনটি ছিল।

কতলে খাতার দিয়াত

بَاب دِيَةِ الْخَطَإِ

২৬২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ جَعَلَ الدِّيَةَ اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬২৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) .... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দিয়াত নির্ধারণ করেন বার হাজার (দিরহাম)।

২৬৩০

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَرْوَزِيُّ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ قُتِلَ خَطَأً فَدِيَتُهُ مِنَ الإِبِلِ ثَلاَثُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَثَلاَثُونَ ابْنَةَ لَبُونٍ وَثَلاَثُونَ حِقَّةً وَعَشَرَةُ بَنِي لَبُونٍ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَوِّمُهَا عَلَى أَهْلِ الْقُرَى أَرْبَعَمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ عَدْلَهَا مِنَ الْوَرِقِ وَيُقَوِّمُهَا عَلَى أَزْمَانِ الإِبِلِ إِذَا غَلَتْ رَفَعَ فِي ثَمَنِهَا وَإِذَا هَانَتْ نَقَصَ مِنْ ثَمَنِهَا عَلَى نَحْوِ الزَّمَانِ مَا كَانَ فَبَلَغَ قِيمَتُهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَيْنَ الأَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ إِلَى ثَمَانِمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ عَدْلُهَا مِنَ الْوَرِقِ ثَمَانِيَةُ آلاَفِ دِرْهَمٍ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مَنْ كَانَ عَقْلُهُ فِي الْبَقَرِ عَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَىْ بَقَرَةٍ وَمَنْ كَانَ عَقْلُهُ فِي الشَّاءِ عَلَى أَهْلِ الشَّاءِ أَلْفَىْ شَاةٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৩০। ইসহাক ইবন মনসুর মারওয়াযী (রাহঃ) ......... 'আমর ইবন শুআয়ব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে খাতা বা ভুল বশতঃ কতল করা হবে তার দিয়াত হল, উট থেকে ৩০টি বিনতি মাখায (এক বছরের উটনী) ৩০টি বিনতি লাবূন (দুই বছরের উটনী) ৩০টি হিককা (চার বছরের উটনী) এবং দশটি ইবলিলাবূন (দুই বছরের উট)। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মূল্য ধরতেন গ্রাম বাসীদের উপর চারশ দীনার অথবা তার সমমূল্যের রূপা। তিনি দিয়াতের মূল্য নির্ধারণ করতেন উটের বাজার অনুসারে। যখন উটের মূল্য বৃদ্ধি পেত তখন দিয়াতের মূল্যও বেড়ে যেত। আর যখন উট সুলভে পাওয়া যেত তখন দিয়াতের মূল্যও হ্রাস পেত তখনকার বাজার দর অনুসারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে এর মূল্য চারশ দীনার থেকে আটশ' দীনার পর্যন্ত অথবা এর সম-মূল্যের রূপা আট হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এও ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, গরুর মালিক, যারা গরু দিয়ে তাদের দিয়াত পরিশোধ করতে চায় তারা দুইশ গরু এবং বকরীর মালিক, যারা বকরী দিয়ে দিয়াত আদায় করতে চায় তারা দুই হাজার বকরী দিবে।

২৬৩১

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا الصَّبَّاحُ بْنُ مُحَارِبٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ فِي دِيَةِ الْخَطَإِ عِشْرُونَ حِقَّةً وَعِشْرُونَ جَذَعَةً وَعِشْرُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَعِشْرُونَ بِنْتَ لَبُونٍ وَعِشْرُونَ بَنِي مَخَاضٍ ذُكُورٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৩১। আব্দুস সালাম ইবন 'আসিম (রাহঃ) .... 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কতলে খাতা-র দিয়াত হল বিশটি হিককা, বিশটি জায'আ, বিশটি বিনতি মাখায, বিশটি বিনতি লাবূন এবং বিশটি ইবন মাখায।

২৬৩২

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ الدِّيَةَ اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا قَالَ ذَلِكَ قَوْلُهُ ‏(وَمَا نَقَمُوا إِلاَّ أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ)‏ قَالَ بِأَخْذِهِمُ الدِّيَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৩২। 'আব্বাস ইবন জা'ফর (রাহঃ) .... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সুত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি দিয়াত নির্ধারণ করেছেন বার হাজার (দিরহাম)। আর আল্লাহর এ বাণীঃ (৯ঃ৭৪) وَمَا نَقَمُوا إِلاَّ أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ

(অর্থাৎ তারা বিরোধিতা করেছিল কেবল আল্লাহ ও তার রাসূল নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাব মুক্ত করেছিলেন বলেই) রাসূল (ﷺ) বলেনঃ দিয়াত গ্রহণের দ্বারা (তাদের অভাব মুক্ত করেছিলেন)।
দিয়াত ওয়াজিব হবে হত্যাকারীর অভিভাবকের উপর আর অভিভাবক
না থাকলে বায়তুল মাল থেকে

بَاب الدِّيَةِ عَلَى الْعَاقِلَةِ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ عَاقِلَةٌ فَفِي بَيْتِ الْمَالِ

২৬৩৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ نَضْلَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالدِّيَةِ عَلَى الْعَاقِلَةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

২৬৩৩। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... মুগীরা ইবন শু'বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিয়াতের ফয়সালা দিয়েছেন অভিভাবক বা নিকটাআত্মীয়ের উপর।

দিয়াত ওয়াজিব হবে হত্যাকারীর অভিভাবকের উপর আর অভিভাবক না থাকলে বায়তুল মাল থেকে

بَاب الدِّيَةِ عَلَى الْعَاقِلَةِ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ عَاقِلَةٌ فَفِي بَيْتِ الْمَالِ

২৬৩৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ دُرُسْتَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ، عَنِ الْمِقْدَامِ الشَّامِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَنَا وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ أَعْقِلُ عَنْهُ وَأَرِثُهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ يَعْقِلُ عَنْهُ وَيَرِثُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৬৩৪। ইয়াহইয়া ইবন দুরস্তা (রাহঃ) ..... মিক্‌দাম শামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, আমি তার উত্তরাধিকারী। তার পক্ষ থেকে আমি দিয়াত দিব এবং আমি তার মীরাছ গ্রহণ করব। আর মামু তার ওয়ারিছ, যার জন্য কোন ওয়ারিছ নেই। সে তার পক্ষ থেকে দিয়াত দেবে এবং তার মীরাছ গ্রহণ করবে।

নিহতের অভিভাবক এবং কিসাস বা দিয়াতের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা

بَاب مَنْ حَالَ بَيْنَ وَلِيِّ الْمَقْتُولِ وَبَيْنَ الْقَوَدِ أَوْ الدِّيَةِ

২৬৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ فِي عِمِّيَّةٍ أَوْ عَصَبِيَّةٍ بِحَجَرٍ أَوْ سَوْطٍ أَوْ عَصًا فَعَلَيْهِ عَقْلُ الْخَطَإِ وَمَنْ قَتَلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ وَمَنْ حَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৩৫। মুহাম্মাদ ইবন মা'মার (রাহঃ)- ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে জুলুম বশত অকারণে অথবা জাতীয়তার কারণে হত্যা করবে পাথরের দ্বারা অথবা চাবুকের দ্বারা অথবা লাঠির দ্বারা তার উপর কতলে খাতার দিয়াত ওয়াজিব হবে। আর যে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার উপর কিসাস আসবে। আর যে তার মধ্যে এবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তার উপর আল্লাহর ফিরিশতাকুলের এবং সকল মানুষের লা'নত। তার কোন তওবা এবং ফিদয়া কবূল করা হবে না।

যাতে কোন কিসাস নেই

بَاب مَا لَا قَوَدَ فِيهِ

২৬৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَعَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ دَهْثَمِ بْنِ قُرَّانَ، حَدَّثَنِي نِمْرَانُ بْنُ جَارِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، ضَرَبَ رَجُلاً عَلَى سَاعِدِهِ بِالسَّيْفِ فَقَطَعَهَا مِنْ غَيْرِ مَفْصِلٍ فَاسْتَعْدَى عَلَيْهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُ بِالدِّيَةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ الْقِصَاصَ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ خُذِ الدِّيَةَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ وَلَمْ يَقْضِ لَهُ بِالْقِصَاصِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৩৬। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও আম্মার ইবন খালিদ ওয়াসিতী (রাহঃ) নিমরান ইবন জারিয়া (রাযিঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে তরবারী দ্বারা বাহুতে আঘাত করে তা কেটে ফেলল জোড়া ছাড়া অন্যস্থান থেকে। আহত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর কাছে ফরিয়াদ করল। নবী (ﷺ) তাকে দিয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! আমি কিসাস চাই। তখন তিনি বললেনঃ দিয়াত গ্রহণ কর, আল্লাহ্ তোমাকে এতই বরকত দিবেন। তিনি তার জন্য কিসাসের ফায়সালা দিলেন না।

২৬৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ ابْنِ صُهْبَانَ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ قَوَدَ فِي الْمَأْمُومَةِ وَلاَ الْجَائِفَةِ وَلاَ الْمُنَقِّلَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

২৬৩৭। আবু কুরায়ব (রাহঃ).... 'আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (আঘাত) যখম মস্তিষ্কের মূলে না পৌঁছে যায় (আঘাত) যখন পেটের অভ্যন্তরে না পৌঁছে যায় এবং (আঘাত) যখন হ্যাঁড় ভেঙ্গে স্থানচ্যুত করে দেয়, তাতে কোন কিসাস নেই ।

আহতকারীর কিসাসের বিনিময়ে ফিদয়া দেওয়া

بَاب الْجَارِحِ يُفْتَدَى بِالْقَوَدِ

২৬৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا جَهْمِ بْنَ حُذَيْفَةَ مُصَدِّقًا فَلاَجَّهُ رَجُلٌ فِي صَدَقَتِهِ فَضَرَبَهُ أَبُو جَهْمٍ فَشَجَّهُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا الْقَوَدَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَكُمْ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَلَمْ يَرْضَوْا فَقَالَ ‏"‏ لَكُمْ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَرَضُوا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَخَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ هَؤُلاَءِ اللَّيْثِيِّينِ أَتَوْنِي يُرِيدُونَ الْقَوَدَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِمْ كَذَا وَكَذَا أَرَضِيتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ فَهَمَّ بِهِمُ الْمُهَاجِرُونَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكُفُّوا فَكَفُّوا ثُمَّ دَعَاهُمْ فَزَادَهُمْ فَقَالَ ‏"‏ أَرَضِيتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَخَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَرَضِيتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَاجَهْ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى يَقُولُ تَفَرَّدَ بِهَذَا مَعْمَرٌ لاَ أَعْلَمُ رَوَاهُ غَيْرُهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৩৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু জাহম ইবন হুযায়ফা কে যাকাত আদায়কারী করে পাঠিয়েছিলেন। এক ব্যক্তি তার সাথে বিবাদ করে তার যাকাতের ব্যাপারে। তখন আবু জাহম তাকে আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তারা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ আমরা কিসাস চাই ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এত এত মাল পাবে। এতে তারা রাযী হয়ে গেল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি কি লোকদের সামনে খুতবা দেব এবং তোমাদের রাযী হবার খবরটি জানিয়ে দেব? তারা বলল হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) খুতবা দিলেন, তিনি বললেনঃ এই লায়ছ গোত্রের লোকেরা আমার কাছে এসেছে কিসাস চাইতে। আমি তাদেরকে প্রস্তাব দিলাম এত এত মাল পাবে এতে তোমরা কি রাযী? তারা বললঃ না, এ কারণে মুহাজিরগণ তাদেরকে ধরে ফেলতে উদ্যত হল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিলেন। তারা বিরত থাকল। এরপর তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং তাদেরকে (সম্পদ) আরো বাড়িয়ে দিয়ে বললেনঃ তোমরা কি রাযী? তারা বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি কি লোকদের সামনে খুতবা দেব এবং তাদেরকে তোমাদের রাষ্ট্রী হবার খবরটি জানিয়ে দেব? তারা বললঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) খুতবা দিলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা কি রাযী? তারা বলল ঃ হ্যাঁ।

ইমাম ইবন মাজা (রাহঃ) বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসটি শুধু মা'মার (রাহঃ) একাই বর্ণনা করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমার জানা নেই।

পেটের বাচ্চার দিয়াত

بَاب دِيَةِ الْجَنِينِ

২৬৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ فَقَالَ الَّذِي قُضِيَ عَلَيْهِ أَنَعْقِلُ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلْ وَلاَ صَاحَ وَلاَ اسْتَهَلّ وَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ هَذَا لَيَقُولُ بِقَوْلِ شَاعِرٍ فِيهِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৩৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি বাচ্চার ব্যাপারে ফয়সালা দিলেন একটি গোলাম অথবা একটি বাঁদী দিয়াত দেওয়ার। যার উপর তিনি ফয়সালা দিলেন, সে বললঃ আমরা কি দিয়াত দেব এমন শিশুর, যে পান করে নাই, খায় নাই। চিৎকার করেন নাই এবং কাঁদেও নাই? এরকম শিশুতো বেকার। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এ লোক তো কবি সুলভ কথা বলছে! শিশুর ব্যাপারে একটি গোলাম অথবা একটি বাঁদী দিয়াত দিতে হবে।

২৬৪০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ اسْتَشَارَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ النَّاسَ فِي إِمْلاَصِ الْمَرْأَةِ يَعْنِي سِقْطَهَا فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيهِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ ائْتِنِي بِمَنْ يَشْهَدُ مَعَكَ ‏.‏ فَشَهِدَ مَعَهُ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২৬৪০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) লোকদের কাছে পরামর্শ চাইলেন- মহিলার গর্ভপাতের ব্যাপারে অর্থাৎ আঘাতের কারণে তার গর্ভপাত হয়ে গেলে। তখন মুগীরা ইবন শু'বা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি এ ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন একটি গোলাম অথবা বাঁদী দিয়াত দেওয়ার। উমার (রাযিঃ) বললেনঃ এমন কোন ব্যক্তি হাজির কর, যে তোমার সাথে সাক্ষ্য দিবে। তখন মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রাযিঃ) (এ ব্যাপারে) তার সাথে সাক্ষ্য দিলেন।

২৬৪১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ نَشَدَ النَّاسَ قَضَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ يَعْنِي فِي الْجَنِينِ فَقَامَ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ فَقَالَ كُنْتُ بَيْنَ امْرَأَتَيْنِ لِي فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِمِسْطَحٍ فَقَتَلَتْهَا وَقَتَلَتْ جَنِينَهَا فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ وَأَنْ تُقْتَلَ بِهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৬৪১। আহমাদ ইবন সা'ঈদ দারিমী (রাহঃ).... 'উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মানুষের কাছে এ ব্যাপারে অর্থাৎ গর্ভচ্যূত বাচ্চার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ফয়সালা তালাশ করলেন। তখন হামল ইবন মালিক ইবন- নাবিগা উঠে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আমি আমার দুই স্ত্রীর মাঝখানে ছিলাম। তাদের একজন অপর জনকে তাবুর কাঠ দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেলল এবং তার পেটের বাচ্চাও মেরে ফেলল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পেটের বাচ্চার ব্যাপারে ফয়সালা দিলেন একটি গোলাম দেওয়ার এবং তাকে কতলের কিসাস স্বরূপ হত্যা করার।

দিয়াত থেকে মীরাছ

بَاب الْمِيرَاثِ مِنْ الدِّيَةِ

২৬৪২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ الدِّيَةُ لِلْعَاقِلَةِ وَلاَ تَرِثُ الْمَرْأَةُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا شَيْئًا حَتَّى كَتَبَ إِلَيْهِ الضَّحَّاكُ بْنُ سُفْيَانَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَرَّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضِّبَابِيِّ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا ‏.‏

২৬৪২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... সায়ীদ ইবন মুসায়্যাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাযিঃ) বলতেনঃ দিয়াত অভিভাবকদের জন্য। আর স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াত থেকে মীরাছ হিসাবে কিছুই পাবে না। নবী (ﷺ) আশইয়াম যাব্বাবী (রাহঃ)-এর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াত থেকে মীরাছ দিয়েছিলেন। এ সংবাদ যাহ্হাক ইবন সুফইয়ান (রাযিঃ) তার নিকট থেকে লেখা পর্যন্ত তিনি এ অভিমত পোষণ করতেন।

২৬৪৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ خَالِدٍ النُّمَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى لِحَمَلِ بْنِ مَالِكٍ الْهُذَلِيِّ اللِّحْيَانِيِّ بِمِيرَاثِهِ مِنَ امْرَأَتِهِ الَّتِي قَتَلَتْهَا امْرَأَتُهُ الأُخْرَى ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৬৪৩। আব্দ রাব্বিহি ইবন খালিদ নুমায়রী (রাহঃ)... 'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) হামল ইবন মালিক হুযালী লিহয়ানীকে তার সেই স্ত্রীর মীরাছ দিয়েছিলেন, যাকে তার অপর স্ত্রী হত্যা করেছিল।

কাফির-এর দিয়াত

بَاب دِيَةِ الْكَافِرِ

২৬৪৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ عَقْلَ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ نِصْفُ عَقْلِ الْمُسْلِمِينَ وَهُمُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৪৪। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাযিঃ)....'আমর ইবন শু'আয়ব-এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই ফয়সালা দিয়েছেন যে, দুই আহলে কিতাব অর্থাৎ ইয়াহূদী ও নাসারাদের দিয়াত হবে মুসলমানদের দিয়াতের অর্ধেক।

হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না।

بَاب الْقَاتِلُ لَا يَرِثُ

২৬৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْقَاتِلُ لاَ يَرِثُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৪৫। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ মিসরী (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ হত্যাকারী ওয়ারিছ হবে না।

২৬৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، - رَجُلٌ مِنْ بَنِي مُدْلِجٍ - قَتَلَ ابْنَهُ فَأَخَذَ مِنْهُ عُمَرُ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ ثَلاَثِينَ حِقَّةً وَثَلاَثِينَ جَذَعَةً وَأَرْبَعِينَ خَلِفَةً ‏.‏ فَقَالَ أَيْنَ أَخُو الْمَقْتُولِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لَيْسَ لِقَاتِلٍ مِيرَاثٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৬৪৬। আবু কুরায়ব ও আব্দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ কিনদী (রাহঃ)....'আমর ইবন শু'আয়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুদলাজ গোত্রের আবু কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তার ছেলেকে হত্যা করে। উমার (রাযিঃ) তার থেকে একশটি উট....যার মধ্যে ত্রিশটি হিককা, ত্রিশটি জায়'আ এবং চল্লিশটি গর্ভবর্তী উট নেন। এরপর তিনি বললেনঃ নিহতের ভাই কোথায়? (তার বাপকে তো দেওয়া যাবে না। কারণ,) আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, হত্যাকারী মীরাছ পাবে না।

মহিলার দিয়াত তাঁর আসাবার উপর বর্তাবে
এবং তার মীরাছ তার সন্তানের জন্য

بَاب عَقْلِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَصَبَتِهَا وَمِيرَاثِهَا لِوَلَدِهَا

২৬৪৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَعْقِلَ الْمَرْأَةَ عَصَبَتُهَا مَنْ كَانُوا وَلاَ يَرِثُوا مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ مَا فَضَلَ عَنْ وَرَثَتِهَا وَإِنْ قُتِلَتْ فَعَقْلُهَا بَيْنَ وَرَثَتِهَا فَهُمْ يَقْتُلُونَ قَاتِلَهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৪৭। ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ)...আমর ইবন শু'আয়ব-এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেন যে, মহিলার দিয়াত তার আসাবা লোকেরা (নিকট আত্মীয় ) দেবে। তারা তার থেকে কোন মীরাছ পাবে না তার ওয়ারাছ থেকে যা উদ্বৃত্ত থাকবে তাছাড়া। তাকে যদি হত্যা করা হয় তাহলে তার দিয়াত তার ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টিত হবে। তারাই (কিসাস স্বরূপ) হত্যা করবে তার হন্তাকে।

মহিলার দিয়াত তাঁর আসাবার উপর বর্তাবে এবং তার মীরাছ তার সন্তানের জন্য

بَاب عَقْلِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَصَبَتِهَا وَمِيرَاثِهَا لِوَلَدِهَا

২৬৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدِّيَةَ عَلَى عَاقِلَةِ الْقَاتِلَةِ فَقَالَتْ عَاقِلَةُ الْمَقْتُولَةِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِيرَاثُهَا لَنَا ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ لاَ مِيرَاثُهَا لِزَوْجِهَا وَوَلَدِهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬৪৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হত্যকারিণীর অভিভাবকের উপরে দিয়াত ওয়াজিব করেন। তখন নিহতের অভিভাবকগণ বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! তার মীরাছ কি আমরা পাব? তিনি বললেনঃ না তার মীরাছ তার স্বামীর এবং তার সন্তানের জন্য।

দাঁতের কিসাস

بَاب الْقِصَاصِ فِي السِّنِّ

২৬৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى أَبُو مُوسَى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَسَرَتِ الرُّبَيِّعُ عَمَّةُ أَنَسٍ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَطَلَبُوا الْعَفْوَ فَأَبَوْا فَعَرَضَ عَلَيْهِمُ الأَرْشَ فَأَبَوْا فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِالْقِصَاصِ ‏.‏ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৪৯। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না আবু মুসা (রাহঃ).... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রুবায়্যি'.... আনাস (রাযিঃ)-এর ফুফু একটি বালিকার দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। অতঃপর তারা (রুবায়্যি -র ক্ষমা করে দিতে) অস্বীকার করল। তখন তারা তাদেরকে দিয়াত দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করল। তারা এটাও অস্বীকার করল। অতঃপর তারা নবী (ﷺ) -এর কাছে আসল। তিনি কিসাস-এর নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবন নাযর বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! রুবায়্যি'-র দাঁত ভেঙ্গে ফেলা হবে! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হক দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তার দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আনাস! আল্লাহর বিধান হল কিসাস। রাবী বলেনঃ বালিকার কওম তখন রাযী হয়ে গেল, তারা (কিসাস) ক্ষমা করে দিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কিছু এমন আছে, যে আল্লাহর নামে কসম খেলে আল্লাহ্ তা পূর্ণ করে দেন।

দাঁতের দিয়াত

بَاب دِيَةِ الْأَسْنَانِ

২৬৫০

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الأَسْنَانُ سَوَاءٌ الثَّنِيَّةُ وَالضِّرْسُ سَوَاءٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৫০। 'আব্বাস ইবন 'আব্দুল 'আজীম আমবারী (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দাঁত সবই সমান-সামনের দাঁত এবং মাড়ির দাঁত সমান সমান।

২৬৫১

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَضَى فِي السِّنِّ خَمْسًا مِنَ الإِبِلِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৫১। ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম বালিসী (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দাঁতের ব্যাপারে (তার দিয়াত) পাঁচটি উট দেওয়ার ফয়সালা করেন।

আঙ্গুলের দিয়াত

بَاب دِيَةِ الْأَصَابِعِ

২৬৫২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالُوا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي الْخِنْصَرَ وَالإِبْهَامَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৫২। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এটা এবং এটা অর্থাৎ কনিষ্ঠা, অমানিকা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি সমান সমান (দিয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে)।

২৬৫৩

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الأَصَابِعُ سَوَاءٌ كُلُّهُنَّ فِيهِنَّ عَشْرٌ عَشْرٌ مِنَ الإِبِلِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৫৩। জামীল ইবন হাসান 'আতাকী (রাহঃ)....আমর ইবন.... শুআয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আঙ্গুল সবগুলি সমান সমান। তার প্রত্যেকটির জন্য দশ দশটি উট (দিয়াত দিতে হবে)।

২৬৫৪

حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى السَّمَرْقَنْدِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ غَالِبٍ التَّمَّارِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الأَصَابِعُ سَوَاءٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৬৫৪। রজা' ইবন মুরজা সামারকান্দী (রাহঃ).... আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আঙ্গুল সবগুলি সমান।

হ্যাঁড় বের হয়ে যাওয়া যখম

بَاب الْمُوضِحَةِ

২৬৫৫

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسٌ خَمْسٌ مِنَ الإِبِلِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৫৫। জামীল ইবন হাসান (রাহঃ)....... 'আমর ইবন শু'আয়ব-এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ হ্যাঁড় বের হয়ে যাওয়া প্রতিটি যখমের জন্য পাঁচ পাঁচটি করে উট।

কেউ কামড় দিলে যার হাত টান দেওয়ার কারণে তার সামনের
দাঁত দু'টো উপড়ে পড়লে

بَاب مَنْ عَضَّ رَجُلًا فَنَزَعَ يَدَهُ فَنَدَرَ ثَنَايَاهُ

২৬৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمَّيْهِ، يَعْلَى وَسَلَمَةَ ابْنَىْ أُمَيَّةَ قَالاَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَمَعَنَا صَاحِبٌ لَنَا فَاقْتَتَلَ هُوَ وَرَجُلٌ آخَرُ وَنَحْنُ بِالطَّرِيقِ ‏.‏ قَالَ فَعَضَّ الرَّجُلُ يَدَ صَاحِبِهِ فَجَذَبَ صَاحِبُهُ يَدَهُ مِنْ فِيهِ فَطَرَحَ ثَنِيَّتَهُ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْتَمِسُ عَقْلَ ثَنِيَّتِهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ فَيَعَضُّهُ كَعِضَاضِ الْفَحْلِ ثُمَّ يَأْتِي يَلْتَمِسُ الْعَقْلَ لاَ عَقْلَ لَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَبْطَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৫৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... ইয়া'না ও সালামা ইবন উমায়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে তবুক যুদ্ধের বের হই আমাদের এক সাথী ছিল। সে এবং আরেক ব্যক্তি মারামারি করল। আমরা তখন রাস্তায় ছিলাম। তিনি বলেনঃ অতঃপর একজন তার সাথীর হাত কামড়ে ধরল। তার সে সাথী নিজের হাত ঝাড়া দিল তার মুখ থেকে, ফলে তার সামনের দাঁত ছিটকে পড়ল । সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে তার দাঁতের দিয়াত চাইল । তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের একজন তার ভাইকে কামড়ায় পুরুষ জন্তুর কামড়েরর ন্যায়, এরপর আসে দিয়াত চাইতে, এর কোন দিয়াত নেই। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর দাঁতের (দিয়াত) বাতিল করে দিলেন।

কেউ কামড় দিলে যার হাত টান দেওয়ার কারণে তার সামনের দাঁত দু'টো উপড়ে পড়লে

بَاب مَنْ عَضَّ رَجُلًا فَنَزَعَ يَدَهُ فَنَدَرَ ثَنَايَاهُ

২৬৫৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، عَضَّ رَجُلاً عَلَى ذِرَاعِهِ فَنَزَعَ يَدَهُ فَوَقَعَتْ ثَنِيَّتُهُ فَرُفِعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَبْطَلَهَا ‏.‏ وَقَالَ ‏ "‏ يَقْضَمُ أَحَدُكُمْ كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৬৫৭। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... ইমরান ইবন হুসায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতের বাজু কামড়ে ধরল। লোকটি তার হাত টান দিল। এতে তার সামনের দাঁত পড়ে গেল। বিষয়টি নবী (ﷺ) -এর কাছে উত্থাপিত হলে তিনি তা বাতিল করে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের কেউ অপরজনকে এমনভাবে কামড়ায়, যেমনভাবে কামড়িয়ে থাকে পুরুষ জন্তু।

কোন মুসলিম-কে কোন কাফিরের কতল করা হবে না

بَاب لَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ

২৬৫৮

حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ عَمْرٍو الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ مِنَ الْعِلْمِ لَيْسَ عِنْدَ النَّاسِ قَالَ لاَ وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا إِلاَّ مَا عِنْدَ النَّاسِ إِلاَّ أَنْ يَرْزُقَ اللَّهُ رَجُلاً فَهْمًا فِي الْقُرْآنِ أَوْ مَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ فِيهَا الدِّيَاتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْ لاَ يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

২৬৫৮। 'আলকামা ইবন 'আমর দারিমী (রাহঃ).... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ)-কে বললামঃ আপনাদের কাছে কি এমন কোন ইলম আছে, যা অন্য লোকের কাছে নেই? তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! আমাদের কাছে ভিন্ন কিছু নাই, মানুষের কাছে যা আছে তাছাড়া। তবে আল্লাহ্ কোন লোককে কুরআনের জ্ঞান দান করেন। (যা সকলকে দেননা; সে তার দ্বারা কুরআন থেকে অনেক কিছু বের করতে পারে)। আর এই সহীফার মধ্যে যা কিছু আছে; এতে রয়েছে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে দিয়াতের বিবরণ। আরো রয়েছে যে, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে কতল করা যাবে না।

২৬৫৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৫৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে কতল করা যাবে না কোন কাফিরের বদলে।

২৬৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَلاَ ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৬০। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আ'লা সান'আনী (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কতল করা যাবে না কোন মু'মনিকে কোন কাফিরের পরিবর্তে। আর না অঙ্গীকারাবদ্ধ (কাফির) কে তার অঙ্গীকারে থাকাবস্থায়।

বাপকে তার সন্তানের বদলে কতল করা যাবে না

بَاب لَا يُقْتَلُ الْوَالِدُ بِوَلَدِهِ

২৬৬১

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يُقْتَلُ بِالْوَلَدِ الْوَالِدُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৬১। সুওয়াইদ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সন্তানের বদলে বাপকে কতল করা যাবে না।

২৬৬২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يُقْتَلُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৬৬২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)... 'উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, বাপকে কতল করা যাবে না সন্তানের বদলে।

স্বাধীন ব্যক্তিকে গোলামের বদলে কতল করা যাবে কি?

بَاب هَلْ يُقْتَلُ الْحُرُّ بِالْعَبْدِ

২৬৬৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَهُ جَدَعْنَاهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৬৬৩। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... সামুরা ইবন জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন যে তার গোলামকে কতল করবে আমরা তাকে কতল করব। আর যে তার অঙ্গহানী করবে (নাক-কান কাটবে) আমরাও তার অঙ্গহানী করব।

২৬৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَتَلَ رَجُلٌ عَبْدَهُ عَمْدًا مُتَعَمِّدًا فَجَلَدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةً وَنَفَاهُ سَنَةً وَمَحَا سَهْمَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৬৪। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... 'আলী (রাযিঃ) এবং আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ এক ব্যক্তি তার গোলামকে ইচ্ছাকৃত ভাবে হত্যা করেছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে একশ' কোড়া মারেন এবং তাকে নির্বাসন দেন এক বছরের জন্য আর মুসলমানদের মধ্য থেকে তার অংশ বিলোপ করে দেন।

হত্যাকারী থেকে সেভাবে কিসাস নেওয়া হবে, যেভাবে সে হত্যা করেছিল

بَاب يُقْتَادُ مِنْ الْقَاتِلِ كَمَا قَتَلَ

২৬৬৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ يَهُودِيًّا، رَضَخَ رَأْسَ امْرَأَةٍ بَيْنَ حَجَرَيْنِ فَقَتَلَهَا فَرَضَخَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৬৫। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী এক মহিলার মাথা দুই পাথরের মাঝেখানে রেখে পিষ্ট করে তাকে হত্যা করেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার মাথা দুই পাথরের মাঝখানে রেখে পিষ্ট করেন।

২৬৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ يَهُودِيًّا، قَتَلَ جَارِيَةً عَلَى أَوْضَاحٍ لَهَا فَقَالَ لَهَا ‏ "‏ أَقَتَلَكِ فُلاَنٌ ‏"‏ ‏.‏ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لاَ ثُمَّ سَأَلَهَا الثَّانِيَةَ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لاَ ثُمَّ سَأَلَهَا الثَّالِثَةَ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ نَعَمْ فَقَتَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ حَجَرَيْنِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৬৬। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী একটি দাসীকে তার অলঙ্কারের কারণে হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাসীটিকে (তখনো জীবিত ছিল) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কি অমুকে মেরেছে? সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করল যে, না। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করলো যে, না। এরপর তৃতীয়বার তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এবার সে মাথা দিয়ে ইশারা করল যে, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইয়াহূদীকে কতল করলেন দু'টি পাথরের মাঝে পিষ্ট করে।

তরবারী দ্বারা কতল করা ব্যতীত কিসাস ওয়াজিব হবে না

بَاب لَا قَوَدَ إِلَّا بِالسَّيْفِ

২৬৬৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُسْتَمِرِّ الْعُرُوقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي عَازِبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ قَوَدَ إِلاَّ بِالسَّيْفِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

২৬৬৭। ইবরাহীম ইবন মুসতামির উরূকী (রাহঃ).... নূ'মান ইবন বাশীর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তরবারীর দ্বারা (হত্যা করা) ছাড়া কোন কিসাস নেওয়া যাবে না।

২৬৬৮

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُسْتَمِرِّ، حَدَّثَنَا الْحُرُّ بْنُ مَالِكٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ قَوَدَ إِلاَّ بِالسَّيْفِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২৬৬৮। ইবরাহীম ইবন মুসতামির (রাহঃ).... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তরবারী দ্বারা কতল করা ব্যতীত কিসাস ওয়াজিব হবে না।

একজনের আর একজনের উপর বর্তাবে না

بَاب لَا يَجْنِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ

২৬৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ ‏ "‏ أَلاَ لاَ يَجْنِي جَانٍ إِلاَّ عَلَى نَفْسِهِ لاَ يَجْنِي وَالِدٌ عَلَى وَلَدِهِ وَلاَ مَوْلُودٌ عَلَى وَالِدِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আহওয়াস রাযি.

২৬৬৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... 'আমর ইবন আহ্ওয়াস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বিদায় হজ্জের দিন বলতে শুনেছি যে, তোমরা জেনে রাখ! অপরাধী তার নিজের উপরই অপরাধ করে থাকে। পিতার অপরাধ তার পুত্রের উপর গড়াবে না আর না পুত্রের অপরাধ তার পিতার উপর।

২৬৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ طَارِقٍ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ يَقُولُ ‏ "‏ أَلاَ لاَ تَجْنِي أُمٌّ عَلَى وَلَدٍ أَلاَ لاَ تَجْنِي أُمٌّ عَلَى وَلَدٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: তারিক মুহারিবী (রাঃ)

২৬৭০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... তারিক মুহারিবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে তাঁর উভয় হাত উঠাতে দেখেছি। এ পর্যন্ত যে, আমি তাঁর উভয় বগলের সাদা অংশ দেখেছি। তিনি (হাত উঠিয়ে) বলছিলেনঃ জেনে রাখ, মায়ের অপরাধ ছেলের উপর গড়ায় না (অর্থাৎ মায়ের অপরাধে ছেলেকে শাস্তি দেওয়া হবে না) জেনে রাখ, মায়ের অপরাধ ছেলের উপর বর্তাবে না।

২৬৭১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ أَبِي الْحُرِّ، عَنِ الْخَشْخَاشِ الْعَنْبَرِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي ابْنِي فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَجْنِي عَلَيْهِ وَلاَ يَجْنِي عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: খাশখাশ আম্বারী (রাঃ)

২৬৭১। 'আমর ইবন রাফি' (রাযিঃ)....খাশখাশ্ আমবারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলাম, আর এ সময় আমার সাথে আমার ছেলে ছিল। তিনি বললেনঃ তোমার অপরাধ তার উপর বর্তাবে না। আর না তার অপরাধ তোমার উপর।

২৬৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عَقِيلٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ الْقَطَّانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَجْنِي نَفْسٌ عَلَى أُخْرَى ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উসামা ইবনে শরীক (রাঃ)

২৬৭২। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ইবন উবায়দ ইবন 'আকীল (রাহঃ) উসামা ইবন শারীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ অপরাধ করলে তা অন্যের উপর গড়ায় না।

নিষ্ফল (যার দিয়াত বা কিসাস কোনটাই নেই) হওয়া

بَاب الْجُبَارِ

২৬৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৭৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নির্বাক প্রাণীর প্রথম নিষ্ফল (অর্থাৎ তার আঘাতে যখম হলে তার বদলে কারো থেকে দিয়াত বা কিসাস নেওয়া যাবে না।), খনি নিষ্ফল (অর্থাৎ খনিতে পড়ে কেউ মারা গেলে তার বদলেও কারো কাছ থেকে কিসাস নেওয়া হবে না।) এবং কৃপও নিষ্ফল (অর্থাৎ কূপে পড়ে কেউ মারা গেলে তার মালিক বা কারো কাছ থেকে দিয়াত বা কিসাস নেওয়া যাবে না)।

২৬৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আওফ (রাঃ)

২৬৭৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... 'আমর ইবন আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, নির্বাক প্রাণীর যখম নিষ্ফল এবং খনি নিষ্ফল।

২৬৭৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ خَالِدٍ النُّمَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْمَعْدِنَ جُبَارٌ وَالْبِئْرَ جُبَارٌ وَالْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ ‏.‏ وَالْعَجْمَاءُ الْبَهِيمَةُ مِنَ الأَنْعَامِ وَغَيْرِهَا ‏.‏ وَالْجُبَارُ هُوَ الْهَدَرُ الَّذِي لاَ يُغَرَّمُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৬৭৫। 'আব্দ রাব্বিহী ইবন খালিদ নুমায়রী (রাহঃ).... 'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফয়সালা করেছেন যে, খনির মৃত্যু নিষ্ফল, কূপের মৃত্যু নিষ্ফল, নির্বাক প্রাণীর যখম নিষ্ফল।

নির্বাক প্রাণী বলতে চতুষ্পদ জন্তু বুঝায়। আর জুবার তথা নিষ্ফল বলতে বুঝায় যার কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
২৬৭৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ النَّارُ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৭৬। আহমাদ ইবন আযহার (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আগুনের মৃত্যু নিষ্ফল এবং কূপের মৃত্যুও নিষ্ফল।

কাসামা[১] প্রসঙ্গে

بَاب الْقَسَامَةِ

২৬৭৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، حَدَّثَنِي أَبُو لَيْلَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ رِجَالٍ، مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ أَنَّ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَأُلْقِيَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ بِخَيْبَرَ فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ ‏.‏ قَالُوا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ ثُمَّ أَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُمْ ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ يَتَكَلَّمُ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمُحَيِّصَةَ ‏"‏ كَبِّرْ كَبِّرْ ‏"‏ ‏.‏ يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذِنُوا بِحَرْبٍ ‏"‏ ‏.‏ فَكَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏"‏ تَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةَ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ فَقَالَ سَهْلٌ فَلَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

২৬৭৭। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ).... সাহল ইবন আবু হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে তার কওমের কয়েকজন সম্ভ্রান্ত লোক জানিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহাইয়িসা (রাযিঃ) তাদের প্রতি আপত্তি, কষ্ট ও অভাবের কারণে খায়বার গেলেন। অতঃপর মুহাইয়িসার কাছে লোক এসে খবর দিল যে, আব্দুল্লাহ্ ইবন সাহলকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছে খায়বারের একটি গর্তে অথবা একটি কূপে। তিনি ইয়াহূদীদের কাছে গিয়ে বললেনঃ তোমার আল্লাহর কসম! তোমরাই তাকে হত্যা করেছ। তারা বললঃ আল্লাহর কসম! আমরা তাকে হত্যা করিনি। এরপর তিনি চলে আসলেন। তার কওমের কাছে এবং তাদের নিকট এ ঘটনা উল্লেখ করলেন। তারপর তিনিও তার ভাই হওয়াইয়াসা, যিনি তার চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন এবং আব্দুর রহমান ইবন সাহল (রাযিঃ) রাসূলের কাছে এলেন। অতঃপর মুহাইয়িসা কথা বলতে যাচ্ছিলেন, যিনি (আব্দুল্লাহ্ ইবন সাহলের সাথে) খায়বারে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুহাইয়িসাকে বললেনঃ বড়কে অগ্রাধিকার দাও। তিনি বয়সে বড় বুঝাতে চাচ্ছিলেন তখন হওয়াইযিসা কথা বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হয়তো তোমরা তোমাদের সঙ্গীর দিয়াত পাবে, আর না হয় তোমরা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে দিবে। এপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ ব্যাপারে (ইয়াহূদীদেরকে) চিঠি লিখে, পাঠালেন। উত্তরে তারা লিখে পাঠালো, “আল্লাহর কসম! আমরা তাকে হত্যা করিনি।" রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হুওয়াইয়িসা মুহাইয়িসা ও আব্দুর রহমানকে বললেনঃ তোমরা কি কসম করবে এবং তোমাদের সঙ্গীর হত্যার দায়ভার (ইয়াহূদীদের উপর) প্রমাণিত করবে? তারা বললঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীদের তোমাদের কাছে কসম করবে। তারা বলল! তারা তো মুসলিম নয় (ফলে মিথ্যা কসম করবে।) অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে তার দিয়াত দিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের কাছে একশটি উটনী পাঠালেন। এমন কি সেগুলি তাদের ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। সাহল (রাযিঃ) বলেনঃ সেগুলির মধ্য থেকে একটি লাল উটনী আমাকে লাথি মেরেছিল।

[১] কোন ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেলে এবং তার হত্যকারীর কোন সন্ধান না মিললে, কাযী নিহত ব্যক্তির দাশ যে মহল্লায় পাওয়া গিয়েছে, সেখানকার ৫০জন মুত্তাকী ব্যক্তির এই মর্মে সাক্ষ্য নেবে যে, আমরা একে হত্যা করিনি এবং এর হত্যাকারী-কে তাও জানি না, একেই বলে কাসামা।

কাসামা প্রসঙ্গে

بَاب الْقَسَامَةِ

২৬৭৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ حُوَيِّصَةَ، وَمُحَيِّصَةَ، ابْنَىْ مَسْعُودٍ وَعَبْدَ اللَّهِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ ابْنَىْ سَهْلٍ خَرَجُوا يَمْتَارُونَ بِخَيْبَرَ فَعُدِيَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقُتِلَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ تُقْسِمُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُقْسِمُ وَلَمْ نَشْهَدْ قَالَ ‏"‏ فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا تَقْتُلُنَا ‏.‏ قَالَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৭৮। 'আব্দুল্লাহ্ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ).... আমর ইবন শু'আইব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মাসউদ-এর দুই পুত্র হুওয়াইয়িসা ও মুহাইয়িসা এবং সাহল এর দুই পুত্র আব্দুল্লাহ্ ও আব্দুর রহমান খায়বারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। অতঃপর আব্দুল্লাহর উপর অত্যাচার করে তাকে হত্যা করা হল। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জানানো হল। তিনি বললেনঃ তোমরা কি কসম করবে এবং প্রমাণ করবে? তারা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমরা কি করে কসম করব? আমরা তো (সেখানে) উপস্থিত ছিলাম না। তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীরা (কসম করে) তোমাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! তাহলে তো তারা আমাদেরকে হত্যা করবে (আর কসম করে পার পেয়ে যাবে)! রাবী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে তার দিয়াত দিয়ে দিলেন।

গোলামের কোন অঙ্গহানী করলে সে আযাদ

بَاب مَنْ مَثَّلَ بِعَبْدِهِ فَهُوَ حُرٌّ

২৬৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ رَوْحِ بْنِ زِنْبَاعٍ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ خَصَى غُلاَمًا لَهُ فَأَعْتَقَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْمُثْلَةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৭৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... যিনবা' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এলেন। অথচ তিনি তার এক গোলামকে খাসী করে দিলেন। নবী (ﷺ) তাকে এই অঙ্গহানীর কারণে আযাদ করে দিলেন।

২৬৮০

حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى السَّمَرْقَنْدِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ الصَّيْرَفِيُّ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَارِخًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَيِّدِي رَآنِي أُقَبِّلُ جَارِيَةً لَهُ فَجَبَّ مَذَاكِيرِي ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ عَلَىَّ بِالرَّجُلِ ‏"‏ ‏.‏ فَطُلِبَ فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَلَى مَنْ نُصْرَتِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ يَقُولُ أَرَأَيْتَ إِنِ اسْتَرَقَّنِي مَوْلاَىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ أَوْ مُسْلِمٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৮০। রজা ইবন মুরাজ্জা সামার কানদী (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আইব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি চীৎকার দিতে দিতে নবী (ﷺ)-র কাছে এল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বললঃ আমার মনিব তার এক দাসীকে চুমু খেতে দেখে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ সে লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাকে তালাশ করা হলো, কিন্তু পাওয়া গেলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যাও, তুমি আযাদ। সে বললঃ আমাকে সাহায্য করবে কে ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমার মনিব যদি আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ প্রত্যেক মু'মিন বা মুসলিমের উপর (তোমাকে রক্ষা করার) দায়িত্ব।

মানুষের মধ্যে হত্যার ব্যাপারে উত্তম ক্ষমাকারী হল ঈমানদার

بَاب أَعَفُّ النَّاسِ قِتْلَةً أَهْلُ الْإِيمَانِ

২৬৮১

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ شِبَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ مِنْ أَعَفِّ النَّاسِ قِتْلَةً أَهْلَ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৮১। ই'য়াকূব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ)....'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে হত্যার ব্যাপারে উত্তম ক্ষমাকারী হল ঈমানদার লোক।

২৬৮২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ شِبَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هُنَىِّ بْنِ نُوَيْرَةَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ أَعَفَّ النَّاسِ قِتْلَةً أَهْلُ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৮২। 'উছমান ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... 'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে হত্যার ব্যাপারে উত্তম ক্ষমাকারী হল ঈমানদার লোক।

মুসলিমদের রক্ত সব সমান

بَاب الْمُسْلِمُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ

২৬৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمُسْلِمُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَيُرَدُّ عَلَى أَقْصَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬৮৩। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল আ'লা সান'আনী (রাহঃ).....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুসলিমদের রক্ত সব সমান। তারা অন্য সব জাতির বিরুদ্ধে একটি হাত স্বরূপ। তাদের নিম্ন পর্যায়ের এক লোকও শত্রুপক্ষের কাউকে (যুদ্ধকালে) নিরাপত্তা দিতে পারবে এবং তাদের দূরবর্তী লোকও গনীমতে শরীক হবে (আমীর যদি তাকে অন্যত্র যুদ্ধের জন্য পাঠিয়ে থাকে)।

২৬৮৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ أَبِي الْجَنُوبِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْمُسْلِمُونَ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ وَتَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২৬৮৪। ইবরাহীম ইবন সা'ঈদ জাওহারী (রাহঃ).... মা'কিল ইবন ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম অন্যের বিরুদ্ধে একটি হাত স্বরূপ, তাদের রক্ত সব সমান।

২৬৮৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَدُ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَيُجِيرُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَدْنَاهُمْ وَيَرُدُّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَقْصَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৮৫। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সকল মুসলিমের হাত অন্যদের উপর (অর্থাৎ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্য জাতি তথা শত্রুর বিরুদ্দে লড়বে) তাদের সকলের জান ও মাল সমান। মুসলিমদের নিম্নপর্যায়ের ব্যক্তিও অন্যকে আশ্রয় দিতে পারবে এবং মুসলমানদের দূরবর্তী ব্যক্তি ও তাদের গনীমাতে শরীক হবে।

চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করা

بَاب مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا

২৬৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৮৬। আবু কুরায়ব (রাহঃ).... 'আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে নিরাপত্তার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ লোককে হত্যা করবে, সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না। আর তার সুগন্দ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।

২৬৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مَعْدِيُّ بْنُ سُلَيْمَانَ أَنْبَأَنَا ابْنُ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَهُ ذِمَّةُ اللهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ سَبْعِينَ عَامًا

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৮৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে যার দায়িত্ব নিয়েছেন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)! সে জান্নাতরে সুগন্ধও পাবে না। আর তার সুগন্ধ পাওয়া যাবে সত্তর বছরের দূরত্ব থেকে।

কাউকে জানের নিরাপত্তা দেওয়ার পর তাকে হত্যা করলে

بَاب مَنْ أَمِنَ رَجُلًا عَلَى دَمِهِ فَقَتَلَهُ

২৬৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ شَدَّادٍ الْقِتْبَانِيِّ، قَالَ لَوْلاَ كَلِمَةٌ سَمِعْتُهَا مِنْ، عَمْرِو بْنِ الْحَمِقِ الْخُزَاعِيِّ لَمَشَيْتُ فِيمَا بَيْنَ رَأْسِ الْمُخْتَارِ وَجَسَدِهِ سَمِعْتُهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَمِنَ رَجُلاً عَلَى دَمِهِ فَقَتَلَهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ لِوَاءَ غَدْرٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৮৮। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ).... রিফা'আ ইবন শাদদাদ কিতবানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি সেই বাক্যটি (হাদীসটি) না থাকত, যা আমি আমর ইবন হামিক খুযাঈ (রাযিঃ) থেকে শুনেছি, তাহলে আমি মুখতারের মাথা ও দেহের মধ্যে চলতাম (অর্থাৎ তার দেহ থেকে মাতা আলাদা করে ফেলতাম।) আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে জানের নিরাপত্তা দেওয়ার পরে তাকে কতল করবে, সে কিয়ামাতের দিন ধোঁকা ও প্রতারণার ঝান্ডা বয়ে নিয়ে বেড়াবে।

২৬৮৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبُو لَيْلَى، عَنْ أَبِي عُكَّاشَةَ، عَنْ رِفَاعَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى الْمُخْتَارِ فِي قَصْرِهِ فَقَالَ قَامَ جِبْرَائِيلُ مِنْ عِنْدِي السَّاعَةَ ‏.‏ فَمَا مَنَعَنِي مِنْ ضَرْبِ عُنُقِهِ إِلاَّ حَدِيثٌ سَمِعْتُهُ مِنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ إِذَا أَمِنَكَ الرَّجُلُ عَلَى دَمِهِ فَلاَ تَقْتُلْهُ ‏"‏ ‏.‏ فَذَاكَ الَّذِي مَنَعَنِي مِنْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৬৮৯। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... বিফা'আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুখতারের কাছে তার প্রাসাদে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, "এই মাত্র জিবরাঈল (আ) আমার কাছ থেকে চলে গেলেন,” তখন তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া থেকে আমাকে একটি হাদীসই ফিরিয়ে রেখেছে যা আমি সুলায়মান ইবন সুরদ (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমার কাছ থেকে কেউ তার জানের নিরাপত্তা নেবে, তখন তুমি তাকে হত্যা করোনা।-এ হাদীসটি আমাকে তার থেকে ফিরিয়ে রেখেছে।

হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়া

بَاب الْعَفْوِ عَنْ الْقَاتِلِ

২৬৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَتَلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْوَلِيِّ ‏ "‏ أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا ثُمَّ قَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَخَلَّى سَبِيلَهُ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ فَسُمِّيَ ذَا النِّسْعَةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৯০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আবু হুবায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) -এর সময়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়। বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে পেশ করা হল। তিনি তাকে (হন্তাকে) নিহতের অভিভাবকদের হাতে সোপর্দ করলেন। হত্যাকারী বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আল্লাহর কসম! আমি তাকে হত্যা করার ইচ্ছা করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিহতের অভিভাবকদের বললেনঃ সে যদি সত্যবাদী হয় এরপরও যদি তুমি তাকে কতল কর তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। রাবী বলেনঃ তারা তাকে ছেড়ে দিল। সে একটি রশি দ্বারা পিঠ মোড়া দিয়ে বাঁধা ছিল। তখন সে তার রশি মাটির সাথে ঘষে টানতে টানতে বেরিয়ে গেল। সেই থেকে তার নাম হয়ে গেল 'রশিধারী'।

২৬৯১
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْرٍ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ وَالْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي السَّرِىِّ الْعَسْقَلَانِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنْ ابْنِ شَوْذَبٍ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ أَتَى رَجُلٌ بِقَاتِلِ وَلِيِّهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اعْفُ فَأَبَى فَقَالَ خُذْ أَرْشَكَ فَأَبَى قَالَ اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ قَالَ فَلُحِقَ بِهِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ اقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ فَخَلَّى سَبِيلَهُ قَالَ فَرُئِيَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ذَاهِبًا إِلَى أَهْلِهِ قَالَ كَأَنَّهُ قَدْ كَانَ أَوْثَقَهُ
قَالَ أَبُو عُمَيْرٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ ابْنُ شَوْذَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ فَلَيْسَ لِأَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُولُ اقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ قَالَ ابْن مَاجَةَ هَذَا حَدِيثُ الرَّمْلِيِّينَ لَيْسَ إِلَّا عِنْدَهُمْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৯১। আবু 'উমাইর, ঈসা ইবন মুহাম্মাদ নাহাস, ঈসা ইবন ইয়ূনুস ও হুসায়ন ইবন আবুস-সূরা আসকালীন (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক হত্যাকারীকে নিহতের অভিভাবক রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কাছে নিয়ে এল। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ ক্ষমা করে দাও। সে তা অস্বীকার করল। তিনি বলেনঃ তাহলে যাও তাকে কতল কর। কেননা তুমিও তারমত। রাবী বলেনঃ তার কাছে গিয়ে তাকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তাকে কতল কর। কেননা তুমিও তার মতই। অতঃপর সে তাকে ছেড়ে দিল।

রাবী বলেনঃ তাকে দেখা গেল সে তার রশি টানতে টানতে তার পরিবারের কাছে চলে যাচ্ছে। সম্ভবত নিহতের অভিভাবক তাকে বেঁধে ছিল। রাবী আবু উমায়র তার হাদীসে বলেনঃ ইবন শাওয়াব আব্দুর রহমান ইবন কাসিম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এর পর আর কারো জন্য একথা বলা যায়েয নয় যে, “তাকে হত্যা কর, কেননা তুমিও তার মতই”

ইমাম ইবন মাজা (রাহঃ) বলেনঃ এটা হল রামলা বাসীদের হাদীস, যা তাদের ছাড়া আর কারো কাছে নেই।

কিসাস ক্ষমা করে দেওয়া

بَاب الْعَفْوِ فِي الْقِصَاصِ

২৬৯২

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا رُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَىْءٌ فِيهِ الْقِصَاصُ إِلاَّ أَمَرَ فِيهِ بِالْعَفْوِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৯২। ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে কিসাসের যে কোন মামলাই আনা হত, তিনি ক্ষমা করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন (সুপারিশ মূলকভাবে)।

২৬৯৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي السَّفَرِ، قَالَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنْ رَجُلٍ يُصَابُ بِشَىْءٍ مِنْ جَسَدِهِ فَيَتَصَدَّقُ بِهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً أَوْ حَطَّ عَنْهُ بِهِ خَطِيئَةً ‏"‏ ‏.‏ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২৬৯৩। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যার শরীরের কোন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হল অতঃপর সে তা সদকা করে দিল (অর্থাৎ আঘাত দাতাকে কিসাসের পরিবর্তে মাফ করে দিল) আল্লাহ্-এর বিনিময়ে তার একটি দরজা বুলন্দ করে দেবেন এবং তার থেকে একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। এ হাদীস আমার দুই কান শুনেছি এবং আমার অন্তর তা হিফাযাত করেছে।

গর্ভবতী মহিলার উপর কিসাস ওয়াজিব হলে

بَاب الْحَامِلِ يَجِبُ عَلَيْهَا الْقَوَدُ

২৬৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ وَشَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمَرْأَةُ إِذَا قَتَلَتْ عَمْدًا لاَ تُقْتَلُ حَتَّى تَضَعَ مَا فِي بَطْنِهَا إِنْ كَانَتْ حَامِلاً وَحَتَّى تُكَفِّلَ وَلَدَهَا وَإِنْ زَنَتْ لَمْ تُرْجَمْ حَتَّى تَضَعَ مَا فِي بَطْنِهَا وَحَتَّى تُكَفِّلَ وَلَدَهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৬৯৪। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... মু'আয ইবন জাবাল, আবু উবায়দা ইবন জাররাহ, উবাদা ইবন সামিত । শাদ্দাদ ইবন আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহিলা যখন ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তখন সে যদি গর্ভবর্তী হয় তবে পেটে যা আছে তা খালাস না করা পর্যন্ত এবং তার বাচ্চার লালন পালনের দায়িত্বভার না নেওয়া পর্যন্ত তাকে কতল করা যাবে না। আর সে যদি যিনা করে তবে তাকে রজম করা যাবে না। যতক্ষণ না সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করা হয়।