كتاب الجهاد

২২. জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়

অধ্যায় ২২ · ১২৯ টি হাদীস

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার ফযীলত

بَاب فَضْلِ الْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৫৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَعَدَّ اللَّهُ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِهِ لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ جِهَادٌ فِي سَبِيلِي وَإِيمَانٌ بِي وَتَصْدِيقٌ بِرُسُلِي فَهُوَ عَلَىَّ ضَامِنٌ أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ أَرْجِعَهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ نَائِلاً مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ مَا قَعَدْتُ خِلاَفَ سَرِيَّةٍ تَخْرُجُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَبَدًا وَلَكِنْ لاَ أَجِدُ سَعَةً فَأَحْمِلَهُمْ وَلاَ يَجِدُونَ سَعَةً فَيَتَّبِعُونِي وَلاَ تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ فَيَتَخَلَّفُونَ بَعْدِي وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنْ أَغْزُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلَ ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ ثُمَّ أَغْزُوَ فَأُقْتَلَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৫৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে আল্লাহর রাস্তায় বের হয় (আল্লাহ্ বলেনঃ) আমার রাস্তায় জিহাদ করা, আমার উপর ঈমান আনা এবং আমার রাসূলগণের সত্যায়ন করার কর্তব্যবোধই তাকে এ পথে বের করে সে আমার জিম্মাদারীতে এসে যায়, হয় আমি তাকে জান্নাতে দাখিল করাবো, নতুবা তাকে তার বাসস্থানে যেখান থেকে সে বের হয়েছিল-ফিরিয়ে আনবো ছওয়াব এবং গনীমত লাভ করায়ে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জান! মুসলিমদের উপর যদি আমি কষ্ট মনে না করতাম তবে আল্লাহর রাস্তায় সংঘটিত কোন যুদ্ধেই আমি কখনো পেছনে পড়ে থাকতাম না। কিন্তু আমার এতটুকু সঙ্গতি নেই যে, আমি তাদের সবার জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থা করব। আর তাদেরও এ সঙ্গতি নেই যে প্রত্যেক যুদ্ধেই আমার সাথে থাকবে। আর এটাও তাদের ভাল লাগবে না যে, তারা আমার (সাথে না গিয়ে বরং) পেছনে থেকে যাবে।

সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জান! আমার মন চায় যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হই, তারপর আর জিহাদ করে শহীদ হই, তারপর আবার জিহাদ করে আবারো শহীদ হই।
২৭৫৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَضْمُونٌ عَلَى اللَّهِ إِمَّا أَنْ يَكْفِتَهُ إِلَى مَغْفِرَتِهِ وَرَحْمَتِهِ وَإِمَّا أَنْ يَرْجِعَهُ بِأَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ وَمَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الَّذِي لاَ يَفْتُرُ حَتَّى يَرْجِعَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৭৫৪। আবু কবর ইবন আবু শায়বা আবু কুরায়ব (রাহঃ).... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর যিম্মাদারী আল্লাহর উপর হয়। তিনি তাকে তার মাগফিরাত ও রহমাতের দিকে উঠিয়ে নেবেন। (অর্থাৎ শহীদ করবেন) অথবা তাকে ছওয়াব ও গনীমত দিয়ে ফিরিয়ে আনবেন। আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উদাহরণ হল সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে (দিনভর) রোযা রাখে এবং ( রাতভর) সালাত আদায় করে, যে (এতে) একটুও ক্লান্ত হয় না বা থামেনা। সে ফিরে আসা পর্যন্ত (এ রকম ছওয়াব পেতে থাকে)।

মহান আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল ও সন্ধ্যার ফযীলাত

بَاب فَضْلِ الْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ

২৭৫৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ غَدْوَةٌ أَوْ رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৫৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আব্দুল্লাহ্ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ) ....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিম্বা একটি সন্ধ্যা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।

২৭৫৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ غَدْوَةٌ أَوْ رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২৭৫৬। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি সকাল কিম্বা একটি সন্ধ্যা আল্লাহ্র রাস্তায় (ব্যয় করা) দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।

২৭৫৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لَغَدْوَةٌ أَوْ رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৫৭। নসর ইবন 'আলী জাহযামী ও মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্র রাস্তায় একটি সকাল কিম্বা একটা সন্ধ্যা দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।

যে ব্যক্তি কোন গাযীকে জিহাদের সরঞ্জাম যোগাড় করে দেয়

بَاب مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا

২৭৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُرَاقَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَسْتَقِلَّ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ حَتَّى يَمُوتَ أَوْ يَرْجِعَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৭৫৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....'উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন গাযীকে আল্লাহর রাস্তায় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেয়, যা দিয়ে সে জিহাদ করতে পূর্ণভাবে সক্ষম হয়, এতে তার সেই গাযীর মতই ছওয়াব হতে থাকবে যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে অথবা ফিরে আসে।

২৭৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَجْرِ الْغَازِي شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৭৫৯। আব্দুল্লাহ্ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ)....যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় কোন গাযীকে (যুদ্ধের) সরঞ্জাম যোগাড় করে দেয়, তার সেই গাযীর সমপরিমাণ ছওয়াব হবে, গাযীর ছওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না।

মহান আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার ফযীলাত

بَاب فَضْلِ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى

২৭৬০

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَفْضَلُ دِينَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى عِيَالِهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৭৬০। ‘ইমরান ইবন মুসা লাইছী (রাহঃ)......ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আর বলেছেনঃ মানুষ যে দীনার ব্যয় করে তার মধ্যে সব চেয়ে উত্তম দীনার সেটাই; যা সে তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে এবং সেই দীনার যা সে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া কিনতে ব্যয় করে আর সেই দীনার যা লোকে আল্লাহর রাস্তায় তার সাথী, সঙ্গীর উপর ব্যয় করে।

২৭৬১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ الْخَلِيلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَعِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ مَنْ أَرْسَلَ بِنَفَقَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَقَامَ فِي بَيْتِهِ فَلَهُ بِكُلِّ دِرْهَمٍ سَبْعُمِائَةِ دِرْهَمٍ وَمَنْ غَزَا بِنَفْسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْفَقَ فِي وَجْهِ ذَلِكَ فَلَهُ بِكُلِّ دِرْهَمٍ سَبْعُمِائَةِ أَلْفِ دِرْهَمٍ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ ‏(وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ)‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৭৬১। হারুন ইবন 'আব্দুল্লাহ্ হাম্মাল (রাহঃ)...আলী ইবন আবু তালিব, আবুদ দারদা, আবু হুরায়রা, আবু উমামা বাহিলী, আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর, জারির ইবন আব্দুল্লাহ ও ইমরান ইবন হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা সকলেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় খরচা পাঠিয়ে দেয় এবং নিজে ঘরে বসে থাকে, তার প্রত্যেক দিরহামের বিনিময়ে সাতশত দিরহামের ছওয়াব লাভ করবে। আর যে নিজে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে এবং এর জন্য খরচও করে তার প্রত্যেক দিরহামের বিনিময়ে সাত লাখ দিরহামের ছওয়াব হবে। এরপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন- وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ “আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন"।

জিহাদ পরিত্যাগ করায় কঠোরতা

بَاب التَّغْلِيظِ فِي تَرْكِ الْجِهَادِ

২৭৬২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذِّمَارِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ لَمْ يَغْزُ أَوْ يُجَهِّزْ غَازِيًا أَوْ يَخْلُفْ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ أَصَابَهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ بِقَارِعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৭৬২। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আবু উমামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে জিহাদ করবেনা অথবা কোন জিহাদ কারীর সামান তৈরী করে দেবেনা অথবা মুজাহিদ (যুদ্ধে) যাবার পর তার পরিবার-পরিজনের ভালভাবে খোঁজ-খবর নিবে না, মহান আল্লাহ্ তাকে কিয়ামাতের পূর্বে কোন এক ভীষণ মুসীবাতে ফেলবেন।

২৭৬৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، - هُوَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعٍ - عَنْ سُمَىٍّ، - مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ - عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ لَقِيَ اللَّهَ وَلَيْسَ لَهُ أَثَرٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَقِيَ اللَّهَ وَفِيهِ ثُلْمَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৬৩। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমতাবস্থায় যে, তার মধ্যে আল্লাহর রাস্তার কোন চিহ্ন থাকবে না- সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়।

উযরের কারণে জিহাদ থেকে বিরত থাকা

بَاب مَنْ حَبَسَهُ الْعُذْرُ عَنْ الْجِهَادِ

২৭৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَدَنَا مِنَ الْمَدِينَةِ قَالَ ‏"‏ إِنَّ بِالْمَدِينَةِ لَقَوْمًا مَا سِرْتُمْ مِنْ مَسِيرٍ وَلاَ قَطَعْتُمْ وَادِيًا إِلاَّ كَانُوا مَعَكُمْ فِيهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ قَالَ ‏"‏ وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৬৪। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন তাবুকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন এবং মদীনার নিকটবর্তী হলেন তখন বললেনঃ মদীনায় এমন কিছু লোক আছে যে, তোমরা যেখানেই গিয়েছে এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা (সাওয়াবের ক্ষেত্রে) তোমাদের সাথে ছিল। সাহাবায়ে কিরাম বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তারা মদীনায় থেকেও (আমাদের সাথে ছিলেন) তিনি বললেনঃ (হ্যাঁ) তারা মদীনায় থেকেও। উযর তাদেরকে আটকে রেখেছিল।

২৭৬৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ بِالْمَدِينَةِ رِجَالاً مَا قَطَعْتُمْ وَادِيًا وَلاَ سَلَكْتُمْ طَرِيقًا إِلاَّ شَرِكُوكُمْ فِي الأَجْرِ حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَاجَهْ أَوْ كَمَا قَالَ كَتَبْتُهُ لَفْظًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৬৫। আহমাদ ইবন সিনান (রাহঃ).... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মদীনায় এমন কিছু লোক রয়েছে যে, তোমরা যে উপত্যকায়ই গিয়েছ এবং যে পথেই চলছে তারা ছওয়াবের ক্ষেত্রে তোমাদের সাথে শরীক হয়েছে। উযর তাদেরকে আটকে রেখেছিল।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ্ ইবন মাজা (রাহঃ) বলেনঃ আহমাদ ইবন সিনান এই ধরনেরই কিছু বলেছিলেন। আমি তার শব্দ থেকে লিখে রেখেছি।

আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার ফযীলত

بَاب فَضْلِ الرِّبَاطِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৬৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ خَطَبَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ النَّاسَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ حَدِيثًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ بِهِ إِلاَّ الضِّنُّ بِكُمْ وَبِصَحَابَتِكُمْ فَلْيَخْتَرْ مُخْتَارٌ لِنَفْسِهِ أَوْ لِيَدَعْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ رَابَطَ لَيْلَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ كَانَتْ كَأَلْفِ لَيْلَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

২৭৬৬। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... 'আব্দুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উছমান ইবন আফফান (রাযিঃ) লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে একটি হাদীছ শুনেছি, যা তোমাদেরকে শুনানো থেকে বিরত রেখেছে তোমাদের সাথে এবং তোমাদের সাহচর্যের সাথে কৃপণতা। তাই এখন কেউ ইচ্ছা করলে নিজের জন্য তা গ্রহণ করুক অথবা পরিহার করুক। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধের জন্য) একরাত প্রস্তুত থাকে, তার এক হাজার রাত রোযা রাখা এবং সালাত আদায় করার পরিমাণ ছওয়াব লাভ হয়।

২৭৬৭

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ زُهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَجْرَى عَلَيْهِ أَجْرَ عَمَلِهِ الصَّالِحِ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ وَأَجْرَى عَلَيْهِ رِزْقَهُ وَأَمِنَ مِنَ الْفَتَّانِ وَبَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ آمِنًا مِنَ الْفَزَعِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৬৭। ইয়ূনুস ইবন 'আব্দুল আলা (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় প্রস্তুত থাকা অবস্থায় মারা যাবে, আল্লাহ্ তার উপর সে যে নেক আমল করত তা জারী রাখবেন এবং তার উপর রিযিক নির্ধারণ করে রাখবেন এবং ফিতনা থেকে থাকে নিরাপদে রাখবেন আর কিয়ামাতের দিন তাকে সব রকমের পেরেশানী থেকে নিরাপদ অবস্থায় উঠাবেন।

২৭৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْلَى السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ صُبْحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَرِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ وَرَاءِ عَوْرَةِ الْمُسْلِمِينَ مُحْتَسِبًا مِنْ غَيْرِ شَهْرِ رَمَضَانَ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ عِبَادَةِ مِائَةِ سَنَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا وَرِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ وَرَاءِ عَوْرَةِ الْمُسْلِمِينَ مُحْتَسِبًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ وَأَعْظَمُ أَجْرًا - أُرَاهُ قَالَ - مِنْ عِبَادَةِ أَلْفِ سَنَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا فَإِنْ رَدَّهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِهِ سَالِمًا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْهِ سَيِّئَةٌ أَلْفَ سَنَةٍ وَتُكْتَبُ لَهُ الْحَسَنَاتُ وَيُجْرَى لَهُ أَجْرُ الرِّبَاطِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

২৭৬৮। মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল ইবন সামুরা (রাহঃ).... উবাই ইবন কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ রামায়ন ছাড়া অন্য মাসে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানদের সীমান্তে একদিন প্রস্তুত থাকা একশত বছরের ইবাদাত-রোযা রাখা এবং সালাত আদায় করা থেকে অধিক ছওয়াবের কাজ। আর রামাযান মাসে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানদের সীমান্তে একদিন প্রস্তুত থাকা আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম এবং অধিক ছওয়াবের কাজ। তিনি বলেনঃ এক হাজার বছরের ইবাদাত রোযা রাখা এবং সালাত আদায় করা থেকেও। অতঃপর আল্লাহ্ যদি সহীহ সালামাতে তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনেন, তবে এক হাজার বছর পর্যন্ত তার কোন গুনাহ লেখা হবে না, তার জন্য নেকী লেখা হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য 'রিবাত' তথা আল্লাহর রাস্তায় প্রস্তুতির ছওয়াব লেখা হতে থাকবে।

আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেওয়া এবং তাকবীর এর ফযীলত

بَاب فَضْلِ الْحَرَسِ وَالتَّكْبِيرِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ رَحِمَ اللَّهُ حَارِسَ الْحَرَسِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৭৬৯। মুহাম্মাদ ইবন সাহব্বাহ (রাহঃ) 'উকবা ইবন আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা সেনাদলের পাহারাদারদের উপর রহম করেন।

আল্লাহ্‌র রাস্তায় পাহারা দেওয়া এবং তাকবীর এর ফযীলত

بَاب فَضْلِ الْحَرَسِ وَالتَّكْبِيرِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৭০

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدِ بْنِ أَبِي الطَّوِيلِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ حَرْسُ لَيْلَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ صِيَامِ رَجُلٍ وَقِيَامِهِ فِي أَهْلِهِ أَلْفَ سَنَةٍ السَّنَةُ ثَلاَثُمِائَةٍ وَسِتُّونَ يَوْمًا وَالْيَوْمُ كَأَلْفِ سَنَةٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৭০। 'ঈসা ইবন ইয়ূনুস রামলী (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাস্তায় একরাত পাহারা দেওয়া কোন লোকের তার পরিবারের কাছে থেকে এক হাজার বছর রোযা রাখা এবং সালাত আদায় করা থেকেও উত্তম। এক বছর হল তিনশ ষাট (৩৬০) দিনে, যার প্রতিটি দিন এক হাজার বছরের সমান।

২৭৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ ‏ "‏ أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৭১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বললেনঃ আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহ্ তাকওয়া অবলম্বর করার এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে উঠার সময় তাকবীর পাঠ করার।

দলের সাথে বের হওয়া

بَاب الْخُرُوجِ فِي النَّفِيرِ

২৭৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ ذُكِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ أَحْسَنَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَشْجَعَ النَّاسِ وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ لَيْلَةً فَانْطَلَقُوا قِبَلَ الصَّوْتِ فَتَلَقَّاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ سَبَقَهُمْ إِلَى الصَّوْتِ وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لأَبِي طَلْحَةَ عُرْىٍ مَا عَلَيْهِ سَرْجٌ فِي عُنُقِهِ السَّيْفُ وَهُوَ يَقُولُ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ لَنْ تُرَاعُوا ‏"‏ ‏.‏ يَرُدُّهُمْ ثُمَّ قَالَ لِلْفَرَسِ ‏"‏ وَجَدْنَاهُ بَحْرًا ‏"‏ ‏.‏ أَوْ ‏"‏ إِنَّهُ لَبَحْرٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حَمَّادٌ وَحَدَّثَنِي ثَابِتٌ أَوْ غَيْرُهُ قَالَ كَانَ فَرَسًا لأَبِي طَلْحَةَ يُبَطَّأُ فَمَا سُبِقَ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৭২। আহমাদ ইবন 'আব্দা (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (একদা) নবী (ﷺ)-এর কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি বললেনঃ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অধিক সুন্দর, সবচেয়ে অধিক দানশীল এবং সবচেয়ে অধিক সাহসী। কোন একরাতে মদীনাবাসী ঘাবড়ে গেল। তারা সেই আওয়াযটির দিকে চললো। অতঃপর (পথে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি তাদের পূর্বেই সেই আওয়াযটির দিকে গিয়েছিলেন। তিনি আবু তালহার একটি ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন, যার পিঠ ছিল খালী। তার উপর কোন জিন বা গদি ছিল না। তাঁর ঘাড়ের উপর ছিল তরবারী। তিনি বলছিলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ভীত হয়ো না। তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে আনছিলেন। এরপর তিনি ঘোড়া সম্পর্কে বললেনঃ আমি তো এটাকে সমুদ্রের মত পেয়েছি অথবা (বলেন) এটা তো একটি সমুদ্র।

রাবী হাম্মাদ (রাহঃ) বলেনঃ ছাবিত বা অন্য কেউ আমাকে বলেছেনঃ আবু তালহা (রাযিঃ)-র এই ঘোড়াটি খুবই মন্থর গতিতে চলত। কিন্তু এদিনের পর থেকে আর কোন ঘোড়া এর আগে যেতে পারেননি।
২৭৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ بُسْرِ بْنِ أَبِي أَرْطَاةَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنِي شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭৭৩। আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন বাক্কার ইবন আব্দুল মালিক ইবন ওয়ালীদ ইবন বুসর ইবন আবু আরতাত (রাহঃ)... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদেরকে (জিহাদের জন্য) বেরিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।

২৭৭৪

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ - عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ عَبْدٍ مُسْلِمٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৭৪। ইয়াকুব ইবন হুমাইদ ইবন কাসিব (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোন মুসলিম বান্দার পেটে এক সাথে জমা হবে না।

২৭৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ شَبِيبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ رَاحَ رَوْحَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَ لَهُ بِمِثْلِ مَا أَصَابَهُ مِنَ الْغُبَارِ مِسْكًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৭৫। মুহাম্মাদ ইবন সা'ঈদ ইবন ইয়াযীদ ইবন ইবরাহীম তুসতারী (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি সন্ধ্যা কাটায়, এতে যে ধুলা লাগে; কিয়ামাতের দিন তারজন্য এর সমপরিমাণ মিশক হবে।

নৌ-জিহাদের ফযীলত

بَاب فَضْلِ غَزْوِ الْبَحْرِ

২৭৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ حَبَّانَ، - هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ خَالَتِهِ أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ، أَنَّهَا قَالَتْ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا قَرِيبًا مِنِّي ثُمَّ اسْتَيْقَظَ يَبْتَسِمُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَضْحَكَكَ قَالَ ‏"‏ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ يَرْكَبُونَ ظَهْرَ هَذَا الْبَحْرِ كَالْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ ‏.‏ قَالَ فَدَعَا لَهَا ثُمَّ نَامَ الثَّانِيَةَ فَفَعَلَ مِثْلَهَا ثُمَّ قَالَتْ مِثْلَ قَوْلِهَا فَأَجَابَهَا مِثْلَ جَوَابِهِ الأَوَّلِ ‏.‏ قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ قَالَ ‏"‏ أَنْتِ مِنَ الأَوَّلِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَخَرَجَتْ مَعَ زَوْجِهَا عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ غَازِيَةً أَوَّلَ مَا رَكِبَ الْمُسْلِمُونَ الْبَحْرَ مَعَ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ فَلَمَّا انْصَرَفُوا مِنْ غَزَاتِهِمْ قَافِلِينَ فَنَزَلُوا الشَّامَ فَقُرِّبَتْ إِلَيْهَا دَابَّةٌ لِتَرْكَبَ فَصَرَعَتْهَا فَمَاتَتْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৭৬। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) এর খালা উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দুধ খালা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকটেই ঘুমিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের কিছু লোককে আমার কাছে এমন অবস্থায় দেখানো হয়েছে যে, তারা এই সমুদ্রের উপর সওয়ার হয়েছে, যেমনভাবে বাদশাহ্ সিংহাসনে আরোহন করে। উম্মু হারাম (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের দলভুক্ত করেন। (রাবী) আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি তার জন্য দু'আ করলেন। এরপর দ্বিতীয়বার আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর প্রথম বারের অনুরূপ করলেন। তারপর উম্মু হারাম (রাযিঃ) অনুরূপ বললেনঃ রাসূল (ﷺ) ও প্রথমবারের অনুরূপ জওয়াব দিলেন। উম্মু হারাম বললেনঃ আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ অতঃপর তিনি তাঁর স্বামী উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ)-এর সাথে বের হলেন জিহাদ করার জন্য, যখন মুসলিমগণ মু'আবিয়া ইবন আবু সুইয়ান (রাযিঃ)-এর সাথে সর্বপ্রথম সমুদ্রে সফর করে। অতঃপর যখন তারা জিহাদ থেকে ফিরে এসে শামে অবতরণ করলেন তখন সওয়ার হবার জন্য তাঁর কাছে একটি জানোয়ার আনা হল। জানোয়ারটি তাঁকে ফেলে দিল। এতেই তিনি ইন্তিকাল করলেন।

২৭৭৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ غَزْوَةٌ فِي الْبَحْرِ مِثْلُ عَشْرِ غَزَوَاتٍ فِي الْبَرِّ وَالَّذِي يَسْدَرُ فِي الْبَحْرِ كَالْمُتَشَحِّطِ فِي دَمِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২৭৭৭। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নৌ-পথে একটি জিহাদ করা স্থল পথে দশটি জিহাদ করার সমতুল্য। আর সমুদ্রে যার একটু মাথা ঘুরবে, সে সেই ব্যক্তির মত, যে আল্লাহর রাস্তায় রক্তে রঞ্চিত হয়।

২৭৭৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْجُبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُفَيْرُ بْنُ مَعْدَانَ الشَّامِيُّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ شَهِيدُ الْبَحْرِ مِثْلُ شَهِيدَىِ الْبَرِّ وَالْمَائِدُ فِي الْبَحْرِ كَالْمُتَشَحِّطِ فِي دَمِهِ فِي الْبَرِّ وَمَا بَيْنَ الْمَوْجَتَيْنِ كَقَاطِعِ الدُّنْيَا فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَلَ مَلَكَ الْمَوْتِ بِقَبْضِ الأَرْوَاحِ إِلاَّ شَهِيدَ الْبَحْرِ فَإِنَّهُ يَتَوَلَّى قَبْضَ أَرْوَاحِهِمْ وَيَغْفِرُ لِشَهِيدِ الْبَرِّ الذُّنُوبَ كُلَّهَا إِلاَّ الدَّيْنَ وَلِشَهِيدِ الْبَحْرِ الذُّنُوبَ وَالدَّيْنَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৭৭৮। উবায়দুল্লাহ্ ইবন ইয়ূসুফ জুবায়রী (রাহঃ).... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, নৌ-পথের একজন শহীদ স্থল পথে দুইজন শহীদের সমান (ছওয়াবের বেলায়) আর নৌ-পথে যার মাথা ঘুরে সে সেই ব্যক্তির মত, স্থল পথে যে রক্তে রঞ্জিত হয়। আর দুই ঢেউয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব অতিক্রমকারী আল্লাহর আনুগত্যে সারা দুনিয়া সফরকারীর সমান। আল্লাহ্ তা'আলা মৃত্যুর ফিরিশতা (আযরাঈল আ)-কে সকলের জান কবয করার দায়িত্ব প্রদান করেছেন, নৌ-পথে শহীদের জান ব্যতীত। কেননা আল্লাহ্ নিজেই তাদের জান নিয়ে নেন। স্থল পথে শহীদের সকল গুনাহ তিনি মাফ করে দেন (তার) ঋণ ব্যতীত আর নৌ-পথে শহীদের সকল গুনাহ এবং (তার) ঋণও তিনি মাফ করে দেন।

দায়লাম-এর বিবরণ এবং কার্যবীন-এর ফযীলত

بَاب ذِكْرِ الدَّيْلَمِ وَفَضْلِ قَزْوِينَ

২৭৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، كُلُّهُمْ عَنْ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ يَوْمٌ لَطَوَّلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَمْلِكُ جَبَلَ الدَّيْلَمِ وَالْقُسْطَنْطِينِيَّةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৭৯। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মালিক ওয়াসিতী ও আলী ইবন মুনযির (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়ার আয়ুষ্কাল যদি মাত্র একটি দিন ছাড়া আর মোটেও অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা সে দিনটিকে লম্বা করবেন সেই পর্যন্ত যে, আমার পরিবারের এক লোক দায়লাম এর পাহাড় এবং কুসতুনতুনিয়া (কন্সটানটিনোপল)-র মালিক হবে।

২৭৮০

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، أَنْبَأَنَا الرَّبِيعُ بْنُ صَبِيحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ سَتُفْتَحُ عَلَيْكُمُ الآفَاقُ وَسَتُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مَدِينَةٌ يُقَالُ لَهَا قَزْوِينُ مَنْ رَابَطَ فِيهَا أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً كَانَ لَهُ فِي الْجَنَّةِ عَمُودٌ مِنْ ذَهَبٍ عَلَيْهِ زَبَرْجَدَةٌ خَضْرَاءُ عَلَيْهَا قُبَّةٌ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ مِصْرَاعٍ مِنْ ذَهَبٍ عَلَى كُلِّ مِصْرَاعٍ زَوْجَةٌ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৮০। ইসমাঈ'ল ইবন আসাদ (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতিসত্ত্বর তোমরা কয়েকটি রাজ্য জয় করবে এবং অতি সত্তর তোমরা একটি শহর জয় করবে, যাকে বলা হবে কার্যবীন। সেখানে যে, চল্লিশ দিন (কিম্বা বলেছেন) চল্লিশ রাত (দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য) প্রস্তুত থাকবে, জান্নাতে তার জন্য একটি সোনার স্তম্ভ হবে, যার উপর সবুজ যবরজাদ পাথর থাকবে, তার উপর লাল ইয়াকুত পাথরের গম্বুজ থাকবে। এতে সত্তর হাজার সোনার দরজা থাকবে। প্রতিটি দরজায় একজন আয়ত নয়না হুর স্ত্রী থাকবে।

কোন ব্যক্তির পিতা-মাতা জীবিত থাকতে জিহাদ করা

بَاب الرَّجُلِ يَغْزُو وَلَهُ أَبَوَانِ

২৭৮১
حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ، مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السُّلَمِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الْجِهَادَ مَعَكَ أَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الآخِرَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَيْحَكَ أَحَيَّةٌ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْجِعْ فَبَرَّهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنَ الْجَانِبِ الآخَرِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الْجِهَادَ مَعَكَ أَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الآخِرَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَيْحَكَ أَحَيَّةٌ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ فَارْجِعْ إِلَيْهَا فَبَرَّهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنْ أَمَامِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الْجِهَادَ مَعَكَ أَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الآخِرَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَيْحَكَ أَحَيَّةٌ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَيْحَكَ الْزَمْ رِجْلَهَا فَثَمَّ الْجَنَّةُ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَمَّالُ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنْ أَبِيهِ طَلْحَةَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السُّلَمِيِّ أَنَّ جَاهِمَةَ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ بْن مَاجَةَ هَذَا جَاهِمَةُ بْنُ عَبَّاسِ بْنِ مِرْدَاسٍ السُّلَمِيُّ الَّذِي عَاتَبَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ

বর্ণনাকারী: জাহিমা সুলামী (রাঃ)

২৭৮১। আবু ইয়ূসুফ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ রাকী (রাহঃ) মু'আবিয়া ইবন জাহিমা সালামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-র কাছে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আর আমি আপনার সাথে জিহাদে শরীক হতে চাই, যাতে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের মঙ্গল লাভ করব। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য, তোমার মা কি জীবিত আছেন? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও, গিয়ে তার খিদমাত কর। এরপর আমি অপর দিক থেকে তাঁর কাছে এসে বললাম ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আপনার সাথে জিহাদে শরীক হতে চাই, যাতে আমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের মঙ্গল লাভ করতে পারি। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য, তোমার মা কি জীবিত আছেন? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ তাহলে ফিরে যাও। গিয়ে তার খিদমাত কর। এরপর আমি তাঁর সামনে দিয়ে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমি আপনার সাথে জিহাদে শরীক হতে চাই, যাতে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের মঙ্গল লাভ করতে পারি। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য, তোমার মা কি জীবিত আছেন? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য। তার পায়ের কাছে পড়ে থাক, সেখানেই জান্নাত ।হারুন ইবন আব্দুল্লাহ্ হাম্মাল (রাহঃ)....মু'আবিয়া ইবন জাহিমা সালামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জাহিমা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কাছে এলেন। এরপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ্ ইবন মাজা (রাহঃ) বলেনঃ ইনি হলেন জাহিমা ইবন আব্বাস ইবন মিরদাস সালামী, যিনি হুনাইনের দিন রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তার প্রতি ভৎর্সনা করছিল।
২৭৮২

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي جِئْتُ أُرِيدُ الْجِهَادَ مَعَكَ أَبْتَغِي وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الآخِرَةَ وَلَقَدْ أَتَيْتُ وَإِنَّ وَالِدَىَّ لَيَبْكِيَانِ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ فَارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৮২। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবন 'আলী (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্ (ﷺ) আমি আপনার সাথে জিহাদে শরীক হওয়ার আশা নিয়ে এসেছি, যাতে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারি। আর আমি এ অবস্থায় এসেছি যে, আমার মা-বাপ কাঁদছিলেন। তিনি বললেনঃ তাদের কাছে ফিরে যাও। গিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটাও যেমন ভাবে তুমি তাদেরকে কাঁদিয়েছিলে।

জিহাদের নিয়্যাত

بَاب النِّيَّةِ فِي الْقِتَالِ

২৭৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً وَيُقَاتِلُ رِيَاءً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৭৮৩। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ্ ইবন নুমাইর (রাহঃ)....আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে জিজ্ঞাসা করা হলো সেই লোক সম্পর্কে, যে জিহাদ করে বীরত্বের জন্য, যে জিহাদ করে জাতীয়তার জন্য এবং যে জিহাদ করে লোক দেখানোর জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে আল্লাহর কালেমা (দীন) বুলন্দ করার জন্য জিহাদ করে, সেটাই হল আল্লাহর পথে (জিহাদ)।

২৭৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي عُقْبَةَ، - وَكَانَ مَوْلًى لأَهْلِ فَارِسَ - قَالَ شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ فَضَرَبْتُ رَجُلاً مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَقُلْتُ خُذْهَا مِنِّي وَأَنَا الْغُلاَمُ الْفَارِسِيُّ ‏.‏ فَبَلَغَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ أَلاَ قُلْتَ خُذْهَا مِنِّي وَأَنَا الْغُلاَمُ الأَنْصَارِيُّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৮৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু 'উকবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি ছিলেন পারস্যবাসীর আযাদকৃত গোলাম। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) -র সাথে উহুদের দিন হাজির ছিলাম। (সেদিন) আমি এক মুশরিককে তরবারীর আঘাত করে বললামঃ ধর, এটা আমার পক্ষ থেকে আর আমি হলাম পারস্য গোলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) র কাছে এ ঘটনা পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তুমি কেন বললে না যে, ধর (সামলাও) এটা আমার পক্ষ থেকে আর আমি হলাম আনসারী গোলাম।

২৭৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ إِنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنْ غَازِيَةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُصِيبُوا غَنِيمَةً إِلاَّ تَعَجَّلُوا ثُلُثَىْ أَجْرِهِمْ فَإِنْ لَمْ يُصِيبُوا غَنِيمَةً تَمَّ لَهُمْ أَجْرُهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৮৫। 'আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে সেনাদল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে অতঃপর গনীমতের মাল লাভ করে, তারা তাদের ছওয়াবের দুই-তৃতীয়াংশ নগদ উসুল করে নেয় (দুনিয়াতে)। আর যদি তারা গনীমতের মাল লাভ না করে তাহলে তাদের পূর্ণ ছওয়াব মিলবে (আখিরাতে)।

আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্য) ঘোড়া বেঁধে রাখা

بَاب ارْتِبَاطِ الْخَيْلِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْخَيْرُ مَعْقُودٌ بِنَوَاصِي الْخَيْلِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে আবু জা'দ বারিকী (রাঃ)

২৭৮৬। আবু বকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).... উরওয়া বারেকী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ খায়ের ও বরকত বাঁধা থাকবে ঘোড়ার কপালে কিয়ামাত পর্যন্ত।

২৭৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ الْخَيْلُ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৮৭। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ্ ইবন 'উমার (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ঘোড়ার কপালে খায়ের ও বরকত থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।

২৭৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْخَيْلُ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ - أَوْ قَالَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا قَالَ سُهَيْلٌ أَنَا أَشُكُّ الْخَيْرُ - إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْخَيْلُ ثَلاَثَةٌ فَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ فَأَمَّا الَّذِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيُعِدُّهَا لَهُ فَلاَ تُغَيِّبُ شَيْئًا فِي بُطُونِهَا إِلاَّ كُتِبَ لَهُ أَجْرٌ وَلَوْ رَعَاهَا فِي مَرْجٍ مَا أَكَلَتْ شَيْئًا إِلاَّ كُتِبَ لَهُ بِهَا أَجْرٌ وَلَوْ سَقَاهَا مِنْ نَهَرٍ جَارٍ كَانَ لَهُ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تُغَيِّبُهَا فِي بُطُونِهَا أَجْرٌ - حَتَّى ذَكَرَ الأَجْرَ فِي أَبْوَالِهَا وَأَرْوَاثِهَا - وَلَوِ اسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ تَخْطُوهَا أَجْرٌ ‏.‏ وَأَمَّا الَّذِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ فَالرَّجُلُ يَتَّخِذُهَا تَكَرُّمًا وَتَجَمُّلاً وَلاَ يَنْسَى حَقَّ ظُهُورِهَا وَبُطُونِهَا فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا ‏.‏ وَأَمَّا الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ فَالَّذِي يَتَّخِذُهَا أَشَرًا وَبَطَرًا وَبَذَخًا وَرِياءً لِلنَّاسِ فَذَلِكَ الَّذِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৮৮। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘোড়ার কপালে রয়েছে খায়ের ও বরকত অথবা তিনি বলেছেনঃ ঘোড়ার কপালে বাঁধা থাকবে খায়ের ও বরকত কিয়ামত পর্যন্ত। রাবী সাহল (রাহঃ) বলেনঃ আমার সন্দেহ হয় (এ দু'টি বাক্যের কোনটি বলেছিলেন)। (রাসূল (ﷺ) বলেন) ঘোড়া তিন ধরনেরঃ তা একজনের জন্য ছওয়াবের; আরেক জনের জন্য পর্দা স্বরূপ; আরেক জনের জন্য বোঝা (তথা আযাব) স্বরূপ।

ঘোড়া যার জন্য ছওয়াবের, সে হল সেই লোক, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য তা রাখে এবং সে ঘোড়াকে এজন্যই প্রস্তুত করে রাখে। তাই সে ঘোড়ার পেটে যা কিছুই যায়, তাতে সে লোকের জন্য ছওয়াব লেখা হয়। সে যদি তাকে প্রচুর ঘাসের মাঠে চরায় তাহলে সে ঘোড়া যা কিছুই খায় তার বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হয়। আর সে যদি তাকে প্রচুর ঘাসের মাঠে চরায় তাহলে সে ঘোড়া যা কিছুই খায় তার বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হয়। আর সে যদি ঘোড়াকে প্রবাহিত নদী থেকে পানি পান করায় তাহলে তার প্রত্যেক ফোটা পানি যা তার পেটে যায় তার বিনিময়ে তার জন্য একটি ছওয়াব লেখা হয়। (এমন কি সে ঘোড়ার পেশাব এবং গোবরেও ছওয়াবের কথাও উল্লেখ করেন)।
আর যদি তা এক মাইল বা দুই মাইল দৌড়ায় তাহলে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য ছাওয়াব লেখা হয়।
আর ঘোড়া যার জন্য পর্দা স্বরূপ, সে হল সেই লোক, যে ঘোড়া রাখে সম্মান ও সৌন্দর্যের জন্য। আর তার পিঠের সওয়ারীর এবং তার পেটের হক[১] বিস্তৃত হয় না-দুঃখের সময়েও না, সুখের সময়েও।
ঘোড়া রাখা যার জন্য বোঝা স্বরূপ সে হল সেই লোক, যে তা রাখে তাকাব্বুরী গর্ব ও অহঙ্কার ভরে এবং লোক দেখানোর জন্য। এই লোকের উপরই ঘোড়া বোঁঝা স্বরূপ।

[১] পিঠের তথা সওয়ারীর হক হল প্রয়োজনের সময় কোন মুসলমান চাইলে তাকে সওয়ারীর জন্য দেয় অথবা রাস্তায় ক্লান্ত কোন পথিককে দেখলে তার পিছে তুলে নেয়। আর পেটের হক হল তাকে ঠিকমত ঘাস-পানি খাওয়ানো।
২৭৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ خَيْرُ الْخَيْلِ الأَدْهَمُ الأَقْرَحُ الْمُحَجَّلُ الأَرْثَمُ طَلْقُ الْيَدِ الْيُمْنَى فَإِنْ لَمْ يَكُنْ أَدْهَمَ فَكُمَيْتٌ عَلَى هَذِهِ الشِّيَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৭৮৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... আবু কাতাদা আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ উত্তম ঘোড়া হল গাঢ় কালো রংয়ের কপাল সাদা হাত-পা সাদা, নাক এবং উপরের ঠোট সাদা, ডান হাত সারা শরীরের ন্যায়। যদি এরকম কালো ঘোড়া না হয় তবে এই আকৃতিরই কুমায়ত[১] ঘোড়া।

[১] লালের সাথে কালো মিশ্রিত ঘোড়া।
২৭৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلْمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّخَعِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُ الشِّكَالَ مِنَ الْخَيْلِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৯০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) শিকাল[১] ঘোড়া অপছন্দ করতেন।

[১] যে ঘোড়ার তিন পা সাদা এবং অপর পা ভিন্ন রং এর। অথবা যার এক পা সাদা অপর তিন পা ভিন্ন রং-এর।
২৭৯১

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْرٍ، عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ رَوْحٍ الدَّارِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُقْبَةَ الْقَاضِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنِ ارْتَبَطَ فَرَسًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ عَالَجَ عَلَفَهُ بِيَدِهِ كَانَ لَهُ بِكُلِّ حَبَّةٍ حَسَنَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত তামীম আদ-দারী রাযি.

২৭৯১। আবু উমায়র ঈসা ইবন মুহাম্মাদ রামলী (রাহঃ).... তামীমদারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদ করার জন্য) একটি ঘোড়া বেঁধে রাখে। এরপর সে নিজের হাত দিয়ে ঘোড়াকে ঘাস-দানা খাওয়ায়, তার জন্য প্রতিটি দানার বিনিময়ে একটি করে ছওয়াব হয়।

মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা

بَاب الْقِتَالِ فِي سَبِيلِ اللهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى

২৭৯২

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ يُخَامِرَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৭৯২। বিশর ইবন আদাম (রাহঃ)....মু'আয ইবন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, যে মুসলিম ব্যক্তি মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে একটি উটনী দোহনের সময় পরিমাণ, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

২৭৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ حَضَرْتُ حَرْبًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ يَا نَفْسِ أَلاَ أَرَاكِ تَكْرَهِينَ الْجَنَّهْ أَحْلِفُ بِاللَّهِ لَتَنْزِلِنَّهْ طَائِعَةً أَوْ لَتُكْرَهِنَّهْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭৯৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এক যুদ্ধে হাজির ছিলাম। তখন আব্দুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহা বললেনঃ হে নফস! আমি দেখছি যে, তুমি জান্নাতকে অপছন্দ করছ। আমি আল্লাহর কসম করছি যে, তুমি অবশ্যই জান্নাতে যাবে খুশীতে হোক বা অখুশীতে।

২৭৯৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ ‏ "‏ مَنْ أُهْرِيقَ دَمُهُ وَعُقِرَ جَوَادُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

২৭৯৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ).... 'আমর ইবন 'আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! কোন্ জিহাদ উত্তম? তিনি বললেনঃ যাতে মানুষের রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তার ঘোড়া যখম হয়।

২৭৯৫

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ، وَأَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا مِنْ مَجْرُوحٍ يُجْرَحُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجْرَحُ فِي سَبِيلِهِ - إِلاَّ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ جُرِحَ وَاللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرِّيحُ رِيحُ مِسْكٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৯৫। বিশর ইবন আহমাদ ইবন ছাবিত জাহ্দারী (রাহঃ)....আবু হূরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় যখম প্রাপ্ত ব্যক্তি আল্লাহ্ই ভাল জানেন কে তার রাস্তায় যখম হয়-কিয়ামাতের দিন সে এমতাবস্থায় উঠবে যে, তার যখম এমন (তাজা) হবে যেমনটি আহত হবার দিনে ছিল। তার রং হবে রক্তের রং-এর মত আর গন্ধ হবে মিশকের সুগন্ধের মত।

২৭৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الأَحْزَابِ فَقَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ اهْزِمِ الأَحْزَابَ اللَّهُمَّ اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৭৯৬। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ইবন নুমাইর (রাহঃ)....'আব্দুল্লাহ্ ইবন আবু আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কাফির দলের প্রতি বদদু'আ করেন। তিনি বলেনঃ হে কিতাব অবতীর্ণকারী! জলদী হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ্! আপনি (কাফিরদের) দলটিকে পরাস্ত করে দিন। আপনি তাদের পা উল্টায়মান করে দিন।

২৭৯৭

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو شُرَيْحٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ مِنْ قَلْبِهِ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

২৭৯৭। হারমালা ইবন ইয়াহইয়া মিসরী ও আহমাদ ইবন ঈসা মিসরী (রাহঃ)....সাহল ইবন হুনায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যে তার খালেস অন্তর থেকে শহীদ হতে চাইবে, আল্লাহ্ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যু বরণ করে।

আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার ফযীলত

بَاب فَضْلِ الشَّهَادَةِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৭৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذُكِرَ الشُّهَدَاءُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَجِفُّ الأَرْضُ مِنْ دَمِ الشَّهِيدِ حَتَّى تَبْتَدِرَهُ زَوْجَتَاهُ كَأَنَّهُمَا ظِئْرَانِ أَضَلَّتَا فَصِيلَيْهِمَا فِي بَرَاحٍ مِنَ الأَرْضِ وَفِي يَدِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا حُلَّةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৯৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) র কাছে শহীদের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ শহীদের রক্ত মাটিতে শুকিয়ে যাবার আগেই তার দুই স্ত্রী (জান্নাতের হূর) এসে তাকে উঠিয়ে নেয়। তারা যেন স্তন্যদান কারিণী দু'মহিলা, তাদের দুগ্ধ পোষ্য শিশুকে অনাবাদী জঙ্গলে হারিয়ে ফেলছে। আর তাদের প্রত্যেকের হাতে থাকবে একটি চাদর, যা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।

২৭৯৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي بَحِيرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ مِنْ دَمِهِ وَيُرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الأَكْبَرِ وَيُحَلَّى حُلَّةَ الإِيمَانِ وَيُزَوَّجُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ إِنْسَانًا مِنْ أَقَارِبِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৭৯৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... মিকদাম ইবন মা'দীকারিব (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ প্রথমবার তার রক্ত বের হলেই তিনি তাকে মাগরিফরাত (গুনাহ মাফ) দান করেন। এবং জান্নাতে তার ঠিকানা তাকে দেখান হয়। (২) কবরের আযাব থেকে তাকে রক্ষা করা হবে; (৩) (কিয়ামাতের দিন) বড় পেরেশানী থেকে সে নিরাপদে থাকবে; (৪) তাকে ঈমানের চাদর পরানো হয়; (৫) আয়ত নয়না হূরের সাথে তার বিয়ে দেওয়া হবে এবং (৬) তাকে তার নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তর ব্যক্তিকে সুপারিশ করার অধিকার দেওয়া হবে।

২৮০০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحَرَامِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَرَامِيُّ الأَنْصَارِيُّ، سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا قُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يَا جَابِرُ أَلاَ أُخْبِرُكَ مَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لأَبِيكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا إِلاَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَكَلَّمَ أَبَاكَ كِفَاحًا ‏.‏ فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَىَّ أُعْطِكَ ‏.‏ قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلُ فِيكَ ثَانِيَةً ‏.‏ قَالَ إِنَّهُ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لاَ يُرْجَعُونَ ‏.‏ قَالَ يَا رَبِّ فَأَبْلِغْ مَنْ وَرَائِي ‏.‏ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَذِهِ الآيَةَ ‏(وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا‏)‏ ‏"‏ ‏.‏ الآيَةَ كُلَّهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮০০। ইবরাহীম ইবন মুনযির হিযামী (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের দিন আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন হারাম' (জাবির রা এর পিতা) শাহাদাত বরণ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে জাবির! আল্লাহ্ তা'আলা তোমার বাপকে কি বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা আড়াল থেকে ছাড়া কারো সাথে কথা বলেন না। কিন্তু তোমার পিতার সাথে সামনা-সামনি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ হে আমার বান্দা! তুমি আমার কাছে কিছু আব্দার কর, আমি তোমাকে দেব। তিনি (তোমার পিতা) বললেনঃ হে আমার রব! আমাকে জীবিত করে দিন, আমি পুনরায় আপনার রাস্তায় শহীদ হই। আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই এটা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, (তারা আর সেখানে ফিরে যাবেনা) তিনি বললেনঃ হে আমার রব! তাহলে আমার পরে যারা (দুনিয়ায়) রয়েছে তাদের কাছে (আমার খবর) পৌঁছিয়ে দিন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ পূর্ণ আয়াতটি নাযিল করলেনঃوَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছে, তাদের কে তোমরা মৃত মনে করোনা (৩ঃ ১৬৯)।

২৮০১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، فِي قَوْلِهِ ‏(وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ‏)‏ قَالَ أَمَا إِنَّا سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏"‏ أَرْوَاحُهُمْ كَطَيْرٍ خُضْرٍ تَسْرَحُ فِي الْجَنَّةِ فِي أَيِّهَا شَاءَتْ ثُمَّ تَأْوِي إِلَى قَنَادِيلَ مُعَلَّقَةٍ بِالْعَرْشِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذِ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ اطِّلاَعَةً فَيَقُولُ سَلُونِي مَا شِئْتُمْ ‏.‏ قَالُوا رَبَّنَا وَمَاذَا نَسْأَلُكَ وَنَحْنُ نَسْرَحُ فِي الْجَنَّةِ فِي أَيِّهَا شِئْنَا فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّهُمْ لاَ يُتْرَكُونَ مِنْ أَنْ يَسْأَلُوا قَالُوا نَسْأَلُكَ أَنْ تَرُدَّ أَرْوَاحَنَا فِي أَجْسَادِنَا إِلَى الدُّنْيَا حَتَّى نُقْتَلَ فِي سَبِيلِكَ ‏.‏ فَلَمَّا رَأَى أَنَّهُمْ لاَ يَسْأَلُونَ إِلاَّ ذَلِكَ تُرِكُوا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৮০১। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ আয়াত وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ সম্পর্কে বলেনঃ আমরা এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম (রাসূল (ﷺ) কে)। তিনি বললেনঃ তাদের (শহীদদের) রূহ সবুজ পাখীর আকৃতিতে জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই উড়ে বেড়ায়। তারপর ( সন্ধ্যায়) আরশের সাথে ঝুলন্ত ঝাড় বাতির কাছে এসে আশ্রয় নেয়। একবার তারা এ অবস্থায় ছিল, এমনি সময় তোমার রব তাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ তোমরা আমার কাছে চাও যা ইচ্ছা। তারা বললঃ হে আমাদের রব! আমরা আর আপনার কাছে কী চাইব? জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি। অতঃপর তারা যখন জানতে পারল যে, কোন কিছু না চাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে না তখন তারা বললঃ আমরা আপনার কাছে চাই যে, আমাদের আত্মা আমাদের দেহে ফিরিয়ে দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা আপনার রাস্তায় (আবার) শহীদ হতে পারি। অতঃপর আল্লাহ্ যখন দেখলেন যে, তারা এটা ছাড়া আর কিছুই চাচ্ছেনা,তখন তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হল।

২৮০২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَبِشْرُ بْنُ آدَمَ، قَالُوا حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا يَجِدُ الشَّهِيدُ مَسَّ الْقَتْلِ إِلاَّ كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ مَسَّ الْقَرْصَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮০২। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ শহীদ শাহাদাত বরণ করার সময় কোন কষ্টই অনুভব করে না এতটুকু ছাড়া, যেমন তোমাদের কাউকে পিঁপড়ায় কামড় দিলে তোমরা অনুভব কর।

যার সম্পর্কে শহীদের মর্যাদা লাভের আশা করা যায়

بَاب مَا يُرْجَى فِيهِ الشَّهَادَةُ

২৮০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي الْعُمَيْسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ مَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَقَالَ قَائِلٌ مِنْ أَهْلِهِ إِنْ كُنَّا لَنَرْجُو أَنْ تَكُونَ وَفَاتُهُ قَتْلَ شَهَادَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذًا لَقَلِيلٌ الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهَادَةٌ وَالْمَطْعُونُ شَهَادَةٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهَادَةٌ - يَعْنِي الْحَامِلَ - وَالْغَرِقُ وَالْحَرِقُ وَالْمَجْنُوبُ - يَعْنِي ذَاتَ الْجَنْبِ - شَهَادَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আতীক (রাঃ)

২৮০৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....জাবির ইবন 'আতীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন নবী (ﷺ) তাকে শুশ্রূষা করতে আসেন। জাবির (রাযিঃ)-এর পরিবারের একজন বলে উঠলঃ আমরা আশা করতাম যে, তার মৃত্যু হবে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ আমার উম্মাতের শহীদ তাহলে খুব কম হয়ে যাবে। আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া শহিদী কাজ। মহামারিতে নিহত ব্যক্তি শহীদ, যে মহিলা গর্ভাবস্থায় মারা যাবে সে শহীদ, পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে এবং নিউমোনিয়া রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ।

২৮০৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ مَا تَقُولُونَ فِي الشَّهِيدِ فِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذًا لَقَلِيلٌ مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَالْمَطْعُونُ شَهِيدٌ ‏"‏ ‏.‏
قَالَ سُهَيْلٌ وَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَزَادَ، فِيهِ ‏ "‏ وَالْغَرِقُ شَهِيدٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮০৪। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কারা শহীদ বলে তোমরা মনে কর? সাহাবায়ে কিরাম বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হয় (তারাই শহীদ)। তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের শহীদ তাহলে কম হয়ে যাবে। যে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, সে শহীদ, যে আল্লাহর রাস্তায় মারা যায়। সে শহীদ, পেটের পীড়ায় যে মারা যায় সে শহীদ এবং মহামারীতে যে মারা যায় সেও শহীদ।
রাবী সুহায়ল (রাহঃ) বলেনঃ উবায়দুল্লাহ্ ইবন মিকসাম (রাহঃ) আবু সালিহ (রাযিঃ) থেকে আমার কাছে এ হাদীছ রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি তার রিওয়ায়াতে আর একটি কথা বাড়িয়ে চলেছেন যে, পানিতে ডুবে মারা গেলে সেও শহীদ।

অস্ত্রশস্ত্র প্রসঙ্গে

بَاب السِّلَاحِ

২৮০৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮০৫। হিশাম ইবন আম্মার ও সুওয়াইদ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেন এমতাবস্থায় যে, মাথায় ছিল শিরস্ত্রান।

২৮০৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى ‏.‏ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ أَخَذَ دِرْعَيْنِ كَأَنَّهُ ظَاهَرَ بَيْنَهُمَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

২৮০৬। হিশাম ইবন সাওওয়ার (রাহঃ).....সায়েব ইবন ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) উহুদের দিন দু'ইটি লৌহ বর্ম পরিধান করেন একটি অপরটির উপরে।

২৮০৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَبِي أُمَامَةَ فَرَأَى فِي سُيُوفِنَا شَيْئًا مِنْ حِلْيَةِ فِضَّةٍ فَغَضِبَ وَقَالَ لَقَدْ فَتَحَ الْفُتُوحَ قَوْمٌ مَا كَانَ حِلْيَةُ سُيُوفِهِمْ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَكِنِ الآنُكُ وَالْحَدِيدُ وَالْعَلاَبِيُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانُ الْعَلاَبِيُّ الْعَصَبُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৮০৭। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)....সুলায়মান ইবন হাবীব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আবু উমামা (রাযিঃ)-র কাছে গেলাম। তিনি আমাদের তরবারীতে রূপার অলঙ্কার দেখতে পেয়ে রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ (তোমাদের পূর্ববর্তী) লোকেরা বহু বিজয় অর্জন করেছিল। তাদের তরবারীর অলঙ্কার সোনারও ছিল না, রূপারও ছিলনা বরং ছিল শিশা, লোহা এবং উটের রগ ।
আবুল হাসান কাততান (রাহঃ) বলেনঃ হাদীছে উল্লেখিত শব্দ علابى-এর অর্থ হল রগ।
২৮০৮

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الصَّلْتِ، عَنِ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَنَفَّلَ سَيْفَهُ ذَا الْفِقَارِ يَوْمَ بَدْرٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮০৮। আবু কুরায়ব (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর 'যুল ফাকার' নামক তরবারি খানি বদরের দিন গনিমত স্বরূপ গ্রহণ করেন।

২৮০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كَانَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِذَا غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَمَلَ مَعَهُ رُمْحًا فَإِذَا رَجَعَ طَرَحَ رُمْحَهُ حَتَّى يُحْمَلَ لَهُ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ لأَذْكُرَنَّ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَفْعَلْ فَإِنَّكَ إِنْ فَعَلْتَ لَمْ تُرْفَعْ ضَالَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৮০৯। মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল ইবন সামুরা (রাহঃ)....'আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুগীরা ইবন শু'বা (রাযিঃ) যখন নবী (ﷺ) এর সাথে জিহাদ করতেন তখন সঙ্গে একটি বর্শা নিয়ে নিতেন। যখন (জিহাদ থেকে) ফিরে আসতেন তখন তার বর্শাটি ছুড়ে ফেলে দিতেন যেন সেটা কুড়েিয় এনে তাকে দেয়া হয়। আলী (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ আমি অবশ্যই এটা রাসূলূল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে বলব। (এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একথা শুনে) বললেনঃ এ রকম করোনা। কেননা তুমি যদি এরকম কর তাহলে কেউ আর কোন পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেবেনা।

২৮১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَتْ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْسٌ عَرَبِيَّةٌ فَرَأَى رَجُلاً بِيَدِهِ قَوْسٌ فَارِسِيَّةٌ فَقَالَ ‏ "‏ مَا هَذِهِ أَلْقِهَا وَعَلَيْكُمْ بِهَذِهِ وَأَشْبَاهِهَا وَرِمَاحِ الْقَنَا فَإِنَّهُمَا يَزِيدُ اللَّهُ بِهِمَا فِي الدِّينِ وَيُمَكِّنُ لَكُمْ فِي الْبِلاَدِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৮১০। মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল ইবন সামুরা (রাহঃ)....'আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর হাতে একটি আরবী ধনুক ছিল। অতঃপর তিনি এক লোকের হাতে একটি ফারসী ধনুক দেখে বললেনঃ এটা কি? ফেলে দাও এটা। তোমরা এরকমটি এবং এর মত জিনিস রাখবে আর রাখবে বর্শা। কেননা এ দুটি জিনিস দিয়েই আল্লাহ্ তোমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের শক্তি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন দেশের শাসক বানাবেন।

আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করা

بَاب الرَّمْيِ فِي سَبِيلِ اللهِ

২৮১১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَزْرَقِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ لَيُدْخِلُ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ الثَّلاَثَةَ الْجَنَّةَ صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صَنْعَتِهِ الْخَيْرَ وَالرَّامِيَ بِهِ وَالْمُمِدَّ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ارْمُوا وَارْكَبُوا وَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا وَكُلُّ مَا يَلْهُو بِهِ الْمَرْءُ الْمُسْلِمُ بَاطِلٌ إِلاَّ رَمْيَهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ وَمُلاَعَبَتَهُ امْرَأَتَهُ فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৮১১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....'উকবা ইবন আমির জুহানী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ একটা তীরের কারণে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে দাখিল করাবেনঃ (১) তা প্রস্তুতকারী যে তা প্রস্তুত করার সময় ছওয়াব ও কল্যাণের নিয়্যাত করে; (২) তীর নিক্ষেপকারী এবং (৩) তা উচিয়ে দিয়ে সাহায্যকারী। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরো বলেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ কর এবং (ঘোড়ায়) সওয়ার হও। তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে অধিক প্রিয় (ঘোড়ায়) সওয়ার হওয়া থেকে। মুসলিমের প্রত্যেক খেলাই বাতিল, কিন্তু ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ করা, তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তার স্ত্রীর সাথে খেলা করার কথা ভিন্ন। কেননা এগুলিই সত্য ও সঠিক।

২৮১২

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ رَمَى الْعَدُوَّ بِسَهْمٍ فَبَلَغَ سَهْمُهُ الْعَدُوَّ أَصَابَ أَوْ أَخْطَأَ فَيَعْدِلُ رَقَبَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

২৮১২। ইয়ূনুস ইবন 'আব্দুল আলা (রাহঃ).....আমর ইবন আবাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে দুশমনকে একটি তীর নিক্ষেপ করে অতঃপর তার সে তীর দুশমন পর্যন্ত পৌঁছে যায় তা সঠিক নিশানায় লাগুক বা লক্ষ্যচ্যূত হউক, এতে একটি গোলাম আযাদ করার সমান (ছওয়াব) হবে।

২৮১৩

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَى الْمِنْبَرِ ‏"‏ ‏(وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ)‏ أَلاَ وَإِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْىُ ‏"‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৮১৩। ইয়ূনুস ইবন 'আব্দুল 'আলা (রাহঃ)....উকবা ইবন 'আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে পাঠ করতে শুনেছি (৮ঃ ৬০) وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ (তোমরা দুশমনদের বিরুদ্ধে যথা সম্ভব শক্তি সঞ্চয় কর) জেনে রাখ, এই قوت "তথা শক্তি হল তীর নিক্ষেপ করা। তিনবার তিনি একথা বললেন।

২৮১৪

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ نُعَيْمٍ الرُّعَيْنِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ نَهِيكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ تَعَلَّمَ الرَّمْىَ ثُمَّ تَرَكَهُ فَقَدْ عَصَانِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৮১৪। হারমালা ইবন ইয়াহইয়া মিসরী (রাহঃ).... 'উকবা ইবন 'আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে তীরান্দাযী শিক্ষা করে এরপর তা ছেড়ে দেয়, সে আমার নাফরমারী করে।

২৮১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِنَفَرٍ يَرْمُونَ فَقَالَ ‏ "‏ رَمْيًا بَنِي إِسْمَاعِيلَ فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮১৫। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদল লোকের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা তীরান্দাযী করছিল। তখন তিনি বললেনঃ হে ইসমা'ঈলের বংশধরেরা তোমরা তীরান্দাযী কর। কেননা তোমাদের বাপ ছিলেন একজন তীরান্দায়।

নিশান ও ঝান্ডা প্রসঙ্গে

بَاب الرَّايَاتِ وَالْأَلْوِيَةِ

২৮১৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ حَسَّانَ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا عَلَى الْمِنْبَرِ وَبِلاَلٌ قَائِمٌ بَيْنَ يَدَيْهِ مُتَقَلِّدٌ سَيْفًا وَإِذَا رَايَةٌ سَوْدَاءُ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ قَدِمَ مِنْ غَزَاةٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হারিছ ইবনে হাসসান (রাঃ)

২৮১৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....হারিছ ইবন হাসসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মদীনায় এলাম। তখন দেখলাম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিম্বর এর উপর দাঁড়িয়ে আছেন আর বিলাল তাঁর সামনে তরবারী গলায় ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আর একটি কালোপতাকাও ছিল। আমি বললামঃ এই লোক (পতাকাবাহী) কে? তারা বললেনঃ এ হল আমর্ ইবন' আস। তিনি একটি লড়াই থেকে ফিরে এসেছেন।

২৮১৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَعَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَلِوَاؤُهُ أَبْيَضُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮১৭। হাসান ইবন 'আলী খাল্লাল ও 'আব্দা ইবন আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ)... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেন এবং তাঁর পতাকা ছিল সাদা।

২৮১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْوَاسِطِيُّ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، سَمِعْتُ أَبَا مِجْلَزٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَايَةَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ سَوْدَاءَ وَلِوَاؤُهُ أَبْيَضُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮১৮। 'আব্দুল্লাহ্ ইবন ইসহাক ওয়াসিতী নাকিদ (রাহঃ)...ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বড় পতাকা ছিল কালো এবং ছোট পতাকা ছিল সাদা।

যুদ্ধের ময়দানে রেশমের কাপড় পরিধান করা প্রসঙ্গে

بَاب لُبْسِ الْحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ فِي الْحَرْبِ

২৮১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، - مَوْلَى أَسْمَاءَ - عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا أَخْرَجَتْ جُبَّةً مُزَرَّرَةً بِالدِّيبَاجِ فَقَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُ هَذِهِ إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৮১৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আস্‌মা বিনত আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একটি সোনার বোতামধারী জামা বের করে বললেনঃ নবী (ﷺ) এটি পরিধান করতেন শত্রুদের সাথে মুকাবিলার সময়।

২৮২০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ، وَالدِّيبَاجِ، إِلاَّ مَا كَانَ هَكَذَا ثُمَّ أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ ثُمَّ الثَّانِيَةِ ثُمَّ الثَّالِثَةِ ثُمَّ الرَّابِعَةِ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا عَنْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৮২০। আবু বকর আবু শায়বা (রাহঃ)....'উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রেশমের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করতেন। কিন্তু, এতটুকু পরিমাণ হলে, (এতে কোন দোষ নেই) এরপর তিনি তার আংগুল দিয়ে ইশারা করলেন, তারপর দ্বিতীয় আংগুল দিয়ে তারপর তৃতীয় আংগুল দিয়ে, তারপর চতুর্থ আংগুল দিয়ে এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের তা থেকে নিষেধ করতেন।

যুদ্ধের ময়দানে পাগড়ী পরিধান করা

بَاب لُبْسِ الْعَمَائِمِ فِي الْحَرْبِ

২৮২১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُسَاوِرٍ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ قَدْ أَرْخَى طَرَفَيْهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবন হুরায়স (রাঃ)

২৮২১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....'আমর ইবন হুরায়ছ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে যে তাঁর মাথার উপর কালো পাগড়ি রয়েছে এবং তিনি সে পাগড়ির উভয় প্রান্ত তাঁর কাঁধের উপর ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

২৮২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮২২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মক্কায় প্রবেশ করেন এবং তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ি।

যুদ্ধের মধ্যে কেনা-বেচা করা

بَاب الشِّرَاءِ وَالْبَيْعِ فِي الْغَزْوِ

২৮২৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنَا سُنَيْدُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ حَيَّانَ الرَّقِّيِّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ عُرْوَةَ الْبَارِقِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً سَأَلَ أَبِي عَنِ الرَّجُلِ، يَغْزُو فَيَشْتَرِي وَيَبِيعُ وَيَتَّجِرُ فِي غَزْوِهِ فَقَالَ لَهُ أَبِي كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَبُوكَ نَشْتَرِي وَنَبِيعُ وَهُوَ يَرَانَا وَلاَ يَنْهَانَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২৮২৩। উবায়দুল্লাহ্ ইবন 'আব্দুল কারীম (রাহঃ)....খারিজা ইবন যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি এক লোক আমার পিতা (যায়দ ইবন ছাবিত রা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন সেই লোক সম্পর্কে, যে যুদ্ধে যায় অতঃপর সেই যুদ্ধের মধ্যেই কেনা-বেচা এবং ব্যবসা বাণিজ্য করে। আমার পিতা তাকে বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে তাবুকে ছিলাম। সেখানে আমরা কেনা-বেচা করতাম। তিনি আমাদেরকে দেখতেন কিন্তু নিষেধ করতেন না।

মুজাহিদ বাহিনীকে এগিয়ে দেওয়া এবং বিদায় জানানো

بَاب تَشْيِيعِ الْغُزَاةِ وَوَدَاعِهِمْ

২৮২৪

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لأَنْ أُشَيِّعَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَكُفَّهُ عَلَى رَحْلِهِ غَدْوَةً أَوْ رَوْحَةً أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী রাযি.

২৮২৪। জা'ফর ইবন মুসাফির (রাহঃ)...মু'আয ইবন আনাস (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একজন মুজাহিদকে বিদায় জানানো অতঃপর তাকে সকাল বা সন্ধ্যায় তার সওয়ারীতে তুলে দেওয়া আমার কাছে দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার থেকেও বেশী পছন্দনীয়।

২৮২৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ وَدَّعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ أَسْتَوْدِعُكَ اللَّهَ الَّذِي لاَ تَضِيعُ وَدَائِعُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮২৫। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে এই বলে বিদায় জানান যে, তোমাকে আমানত রাখলাম সেই আল্লাহর কাছে, যার আমানত নষ্ট বা ধ্বংস হয় না।

২৮২৬

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مِحْصَنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَشْخَصَ السَّرَايَا يَقُولُ لِلشَّاخِصِ ‏ "‏ أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮২৬। 'আব্বাদ ইবন ওয়ালীদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন সেনাদলকে বিদায় জানাতেন তখন বিদায়ী সৈন্যকে বলতেনঃ আমি আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম তোমার দীন, তোমার আমানাত এবং তোমার শেষ আমল।

সারিয়্যা[১] প্রসঙ্গে

بَاب السَّرَايَا

২৮২৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْعَامِلِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَكْثَمَ بْنِ الْجَوْنِ الْخُزَاعِيِّ ‏ "‏ يَا أَكْثَمُ اغْزُ مَعَ غَيْرِ قَوْمِكَ يَحْسُنْ خُلُقُكَ وَتَكْرُمْ عَلَى رُفَقَائِكَ يَا أَكْثَمُ خَيْرُ الرُّفَقَاءِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلاَفٍ وَلَنْ يُغْلَبَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮২৭। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আকছাম ইবন জাওন খুযাঈ (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে আকছাম! তুমি তোমার কওম ছাড়া অন্য কওমের সাথে মিশে জিহাদ কর, তাহলে তোমার চরিত্র সুন্দর হবে। তোমার বন্ধুদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কর। হে আকছাম! উত্তম বন্ধু হল চারজন। উত্তম সারিয্যা হল যাতে চারশ সৈন্য থাকে এবং উত্তম জায়শ[২] বা সৈন্যদল হল, যাতে চার হাজার সৈন্য থাকে। আর বার হাজার সৈন্য কখনো পরাজিত হবে না-সংখ্যা কম হবার কারণে।

[১] ছোট সেনাদলকে সারিয়্যা বলা হয়। যার সংখ্যা চারশ' এর অধিক নয়। আর কারো কারো মতে, গোপনে যে দলটি পাঠান হয়, তাকেই সারিয়্যা বলা হয়।
[২] বড় সেনা বাহিনীকে জায়শ বলা হয়।

সারিয়্যা প্রসঙ্গে

بَاب السَّرَايَا

২৮২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ أَصْحَابَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانُوا يَوْمَ بَدْرٍ ثَلاَثَمِائَةٍ وَبِضْعَةَ عَشَرَ عَلَى عِدَّةِ أَصْحَابِ طَالُوتَ مَنْ جَازَ مَعَهُ النَّهَرَ وَمَا جَازَ مَعَهُ إِلاَّ مُؤْمِنٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৮২৮। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)...বারা' ইবন 'আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আলোচনা করতাম যে, বদরের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিল তিনশ দশ এর উপর কয়েকজন (বে জোড়) লোক (৩১৩ জন)। এই সংখ্যা ছিল তালূতের সাথিদের সংখ্যার অনুরূপ, যারা তাঁর সাথে নদী পার হয়েছিল। তাঁর সাথে মু'মিন ছাড়া আর কেউ পার হতে পারেনি।

২৮২৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ لَهِيعَةَ بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْوَرْدِ، صَاحِبَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِيَّاكُمْ وَالسَّرِيَّةَ الَّتِي إِنْ لَقِيَتْ فَرَّتْ وَإِنْ غَنِمَتْ غَلَّتْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবুল ওয়ারদ (রাঃ)

২৮২৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....নবী (ﷺ) -এর সাহাবী আবু ওয়ারদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা সেই সেনাদল থেকে দূরে থাক, যারা (দুশমনের) মুখো-মুখি হলে পলায়ন করে, আর গনীমত পেলে তা খিয়ানত করে।

মুশরিকদের পাত্রে আহার করা

بَاب الْأَكْلِ فِي قُدُورِ الْمُشْرِكِينَ

২৮৩০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ طَعَامِ النَّصَارَى فَقَالَ ‏ "‏ لاَ يَخْتَلِجَنَّ فِي صَدْرِكَ طَعَامٌ ضَارَعْتَ فِيهِ نَصْرَانِيَّةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হুলব (রাঃ)

২৮৩০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন 'আলী (রাহঃ)...হুলব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থকে নাসারাদের খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার অন্তরে যেন কোন খাদ্য সম্পর্কে সন্দেহ না আসে, তাহলে তুমি নাসারাদের মত হয়ে যাবে।

২৮৩১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو فَرْوَةَ، يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ، رُوَيْمٍ اللَّخْمِيُّ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، - قَالَ وَلَقِيَهُ وَكَلَّمَهُ - قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قُدُورُ الْمُشْرِكِينَ نَطْبُخُ فِيهَا قَالَ ‏"‏ لاَ تَطْبُخُوا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَإِنِ احْتَجْنَا إِلَيْهَا فَلَمْ نَجِدْ مِنْهَا بُدًّا قَالَ ‏"‏ فَارْحَضُوهَا رَحْضًا حَسَنًا ثُمَّ اطْبُخُوا وَكُلُوا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

২৮৩১। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবু ছা'লাবা খুশানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী উরওয়া (রাহঃ) বলেন যে, আবু ছালা'বা (রাযিঃ) তার সাথে সাক্ষাত করেন এবং কথাবার্তা বলেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে প্রশ্ন করলাম। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! মুশরিকদের ডেকচিতে কি আমরা রান্না করব? তিনি বললেনঃ তোমরা তাতে রান্না করোনা। আমি বললামঃ আমাদের যদি এর প্রয়োজন হয়ে পড়ে; এ ছাড়া যদি আমাদের কোন গত্যন্তর না থাকে? তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা ভালোভাবে তা ধুয়ে নেবে এরপর তাতে রান্না করবে এবং আহার করবে।

(যুদ্ধে) মুশরিকদের সাহায্য নেওয়া

بَاب الِاسْتِعَانَةِ بِالْمُشْرِكِينَ

২৮৩২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ نِيَارٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّا لاَ نَسْتَعِينُ بِمُشْرِكٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ أَوْ زَيْدٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৩২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করি না।
রাবী আলী (রাহঃ) তাঁর রিওয়ায়াতে সনদ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ অথবা যায়দ।

যুদ্ধে প্রতারণা প্রসঙ্গে

بَاب الْخَدِيعَةِ فِي الْحَرْبِ

২৮৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْحَرْبُ خُدْعَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৩৩। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ইবন নু'মাইর (রাহঃ).... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন যুদ্ধঃ একটি প্রতারণা বিশেষ।

২৮৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مَطَرِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْحَرْبُ خُدْعَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৩৪। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ইবন নুমাইর (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যুদ্ধ একটি প্রতারণা বিশেষ।

লড়াই-এর জন্য বের হওয়া এবং (নিহতের) জিনিসপত্র প্রসঙ্গে

بَاب الْمُبَارَزَةِ وَالسَّلَبِ

২৮৩৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، وَحَفْصُ بْنُ عَمْرٍو، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ الرُّمَّانِيِّ، - قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ هُوَ يَحْيَى بْنُ الأَسْوَدِ - عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يُقْسِمُ لَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَاتُ فِي هَؤُلاَءِ الرَّهْطِ السِّتَّةِ يَوْمَ بَدْرٍ ‏(‏هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ‏:‏ ‏(‏ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ‏)‏ فِي حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعُبَيْدَةَ بْنِ الْحَارِثِ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ اخْتَصَمُوا فِي الْحُجَجِ يَوْمَ بَدْرٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৮৩৫। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম, হাফস ইবন 'আমর ও মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল (রাহঃ)....কায়স ইবন 'উবাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু যার (রাযিঃ)-কে কসম করে বলতে শুনেছিঃهَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ থেকে إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ (২২ঃ১৯) পর্যন্ত আয়াত নাযিল হয়েছে বদরের দিন ছয় ব্যক্তি সম্পর্কেঃ (মুসলমানদের) হামযা ইবন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) ও উবায়দা ইবন হারিছ (রাযিঃ) এবং (কাফিরদের) উতবা ইবন রাবী'আ, শায়বা ইবন রাবীআ ও ওয়ালীদ ইবন উতবা সম্পর্কে। বদেরর দিন তারা মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হন।

২৮৩৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ، وَعِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَارَزْتُ رَجُلاً فَقَتَلْتُهُ فَنَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَلَبَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৮৩৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....সালামা ইবন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাকে কতল করে ফেললাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার মাল আসবাব আমাকে দিয়ে দিলেন।

২৮৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَهُ سَلَبَ قَتِيلٍ قَتَلَهُ يَوْمَ حُنَيْنٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৮৩৭। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)....আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হুনায়নের দিন তিনি যাকে হত্যা করেছিলেন, তার মাল আসবাব রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে দেন।

২৮৩৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ ابْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ فَلَهُ السَّلَبُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৮৩৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) সামুরা ইবন জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে (যুদ্ধের ময়দানে দুশমনকে) হত্যা করে, নিহতের মাল আসবাব তারই প্রাপ্য।

রাতের বেলায় হঠাৎ আক্রমণ এবং মহিলা ও শিশুদের হত্যা প্রসঙ্গে

بَاب الْغَارَةِ وَالْبَيَاتِ وَقَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ

২৮৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَهْلِ الدَّارِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يُبَيَّتُونَ فَيُصَابُ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ قَالَ ‏ "‏ هُمْ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏

২৮৩৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....সা'আব ইবন জাছছামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হল রাতের বেলায় মুশরিকদের মহল্লায় আক্রমণ করা সম্পর্কে যে তাতে মহিলা এবং শিশুও মারা যায়। তিনি বলেনঃ তারাও (মহিলা এবং শিশু) তাদের মধ্যে শামিল।[১]

[১] রাতের বেলা মহিলা এবং শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখা এবং পার্থক্য করা যায় না বিধায় এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নতুবা দিনের বেলায় যুদ্ধ ক্ষেত্র বা কোন মহল্লায় আক্রমণের সময় মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করা কঠোরভাবে নিষেধ।
২৮৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ أَبِي بَكْرٍ هَوَازِنَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْنَا مَاءً لِبَنِي فَزَارَةَ فَعَرَّسْنَا حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ الصُّبْحُ شَنَنَّاهَا عَلَيْهِمْ غَارَةً فَأَتَيْنَا أَهْلَ مَاءٍ فَبَيَّتْنَاهُمْ فَقَتَلْنَاهُمْ تِسْعَةً أَوْ سَبْعَةَ أَبْيَاتٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৮৪০। মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ইল (রাহঃ)....সালামা ইবন আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ)-এর সময়ে আবু বকর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আমরা ফাযারা গোত্রের পানির কাছে এলাম। সেখানেই আমরা রাত কাটালাম। যখন সকাল হলো তখন আমরা তাদের উপর আক্রমণ করলাম। অতঃপর আমরা পানিওয়ালাদের কাছে এলাম। তাদেরকেও আক্রমণ করে তাদের নয় ঘর অথবা সাত ঘর লোককে হত্যা করলাম।

২৮৪১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى امْرَأَةً مَقْتُولَةً فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ فَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৪১। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কোন এক রাস্তায় একজন মহিলাকে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি মহিলা এবং শিশুদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করলেন।

২৮৪২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْمُرَقَّعِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الْكَاتِبِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَرْنَا عَلَى امْرَأَةٍ مَقْتُولَةٍ قَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا النَّاسُ فَأَفْرَجُوا لَهُ فَقَالَ ‏(‏مَا كَانَتْ هَذِهِ تُقَاتِلُ فِيمَنْ يُقَاتِلُ‏)‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لِرَجُلٍ ‏(‏انْطَلِقْ إِلَى خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَقُلْ لَهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ يَقُولُ لاَ تَقْتُلَنَّ ذُرِّيَّةً وَلاَ عَسِيفًا‏)‏‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْمُرَقَّعِ، عَنْ جَدِّهِ، رَبَاحِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ يُخْطِئُ الثَّوْرِيُّ فِيهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত হানযালা ইবনে রাবী উসাইদী (রাঃ)

২৮৪২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....হানজালা কাতিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে জিহাদ করেছিলাম। তখন আমরা একজন নিহত মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যার পাশে লোকজন জড়ো হয়েছিল। (রাসূল (ﷺ) সেখানে পৌঁছলে) লোকেরা তাঁকে জায়গা করে দিল। তিনি বললেনঃ এতো যারা যুদ্ধ করে তাদের মধ্যে থেকে যুদ্ধ করত না (একে কেন হত্যা করা হয়েছে?) তারপর তিনি এক লোককে বললেনঃ যাও, খালিদ ইবন ওয়ালীদ-কে গিয়ে বল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তোমাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, তোমরা কখনো শিশু (চতুষ্পদ জন্তুর রাখাল) মযদূরকে কতল করোনা।

আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....রাবাহ ইবন রাবী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) বলেনঃ ছাওরী তার এই রিওয়ায়াতে ভুল করেছেন।

দুশমনদের জনপদ জালিয়ে দেওয়া

بَاب التَّحْرِيقِ بِأَرْضِ الْعَدُوِّ

২৮৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي الأَخْضَرِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا أُبْنَى فَقَالَ ‏ "‏ ائْتِ أُبْنَى صَبَاحًا ثُمَّ حَرِّقْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৮৪৩। মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল ইবন সামুরা (রাহঃ)....উসামা ইবন যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে একটি জনপদে পাঠালেন, যার নাম ছিল উবনা। তিনি বললেনঃ তুমি সকালে উবনা যাও। তারপর আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দাও।

২৮৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ ‏.‏ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏(مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً )‏ الآيَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৪৪। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (ইয়াহূদী গোত্র) বানূ নাযীর-এর খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দেন এবং বুওয়ায়রা (নামক খেজুরের বাগান) কেটে ফেলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ

مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً -
(তোমরা যে খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলেছ এবং যেগুলি কান্ডের উপর স্থির রেখেছ (৫৯ঃ ৫)।
২৮৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ ‏.‏ وَفِيهِ يَقُولُ شَاعِرُهُمْ فَهَانَ عَلَى سَرَاةِ بَنِي لُؤَىٍّ حَرِيقٌ بِالْبُوَيْرَةِ مُسْتَطِيرُ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৪৫। 'আব্দুল্লাহ্ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বানূ নযীরদের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেন এবং কেটে ফেলেন। এ ব্যাপারে তাদের (মুসলিমদের) কবি (হাসসান ইবন ছাবিত রা) বলেনঃ

فَهَانَ عَلَى سَرَاةِ بَنِي لُؤَىٍّ حَرِيقٌ بِالْبُوَيْرَةِ مُسْتَطِيرُ -
অর্থাৎ লুআয়্যি (কুরায়শ) গোত্রের নেতৃবৃন্দের পক্ষে যুওয়ায়রা নামক বাগানটি ব্যাপকভাবে জালিয়ে দেওয়া সহজ।

বন্দীদের মুক্তিপণ

بَاب فِدَاءِ الْأُسَارَى

২৮৪৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ أَبِي بَكْرٍ هَوَازِنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَفَّلَنِي جَارِيَةً مِنْ بَنِي فَزَارَةَ مِنْ أَجْمَلِ الْعَرَبِ عَلَيْهَا قِشْعٌ لَهَا فَمَا كَشَفْتُ لَهَا عَنْ ثَوْبٍ حَتَّى أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ فَقَالَ ‏ "‏ لِلَّهِ أَبُوكَ هَبْهَا لِي ‏"‏ ‏.‏ فَوَهَبْتُهَا لَهُ فَبَعَثَ بِهَا فَفَادَى بِهَا أُسَارَى مِنْ أُسَارَى الْمُسْلِمِينَ كَانُوا بِمَكَّةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৮৪৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন ইসমা'ঈল (রাহঃ)-সালামা ইবন আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সময়ে আবু বকর (রাযিঃ)-এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলাম। অতঃপর তিনি বানূ ফাযারা গোত্রের একটি কন্যা পুরস্কার স্বরূপ আমাকে দেন সে ছিল আরবের সেরা সুন্দরী। তার পরনে ছিল চামড়ার পোশাক। আমি তার কাপড় উন্মোচন করিনি। (মেলা মেশা করিনি) এমতাবস্থায় আমি মদীনায় পৌঁছি। বাজারে আমার সাথে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাক্ষাত হলে তিনি বললেনঃ তোমার বাপ আল্লাহরই জন্য (অর্থাৎ খুবই ভাল লোক ছিলেন)। ওকে (সেই কন্যাটি) আমাকে দিয়ে দাও। আমি সে কন্যাটি তাঁকে দিয়ে দিলাম। অতঃপর তিনি তাকে পাঠিয়ে দিলেন। উক্ত কন্যাটি মুসলমান বন্দী যারা মক্কায় ছিল, তাদের বিনিময়ে মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেন।

শত্রুপক্ষ কোন জিনিস নিয়ে যাওয়ার পর মুসলিমগণ
তার উর আধিপত্য বিস্তার করলে

بَاب مَا أَحْرَزَ الْعَدُوُّ ثُمَّ ظَهَرَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ

২৮৪৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ذَهَبَتْ فَرَسٌ لَهُ فَأَخَذَهَا الْعَدُوُّ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرُدَّ عَلَيْهِ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ وَأَبَقَ عَبْدٌ لَهُ فَلَحِقَ بِالرُّومِ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৪৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর একটি ঘোড়া চলে গিয়ে ছিল। তখন শত্রুপক্ষ তা নিয়ে গেল। এরপর মুসলমানগণ তাদের উপর বিজয়ী হলে তাঁর ঘোড়া তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হল। এটা হয়েছিল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সময়ে তিনি (ইবন উমার রা) বলেনঃ তাঁর একটি গোলাম পালিয়ে রূম-এ চলে যায়। অতঃপর মুসলিমগণ তাদের উপর বিজয়ী হলে (এবং গোলামকে গ্রেফতার করে আনা হল) খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাযিঃ) গোলামটি তাঁকে ফেরৎ দেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর ইনতিকালের পর (এটা ঘটেছিল)

গনীমতের মাল চুরি করা

بَاب الْغُلُولِ

২৮৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنْ أَشْجَعَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَأَنْكَرَ النَّاسُ ذَلِكَ وَتَغَيَّرَتْ لَهُ وُجُوهُهُمْ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ إِنَّ صَاحِبَكُمْ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زَيْدٌ فَالْتَمَسُوا فِي مَتَاعِهِ فَإِذَا خَرَزَاتٌ مِنْ خَرَزِ يَهُودَ مَا تُسَاوِي دِرْهَمَيْنِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৮৪৮। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ)....যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আশজা' গোত্রের এক ব্যক্তি খায়বারের যুদ্ধের দিন মারা গেল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর উপর (জানাযার) সালাত আদায় কর। তখন লোকের কাছে এটা খুব খারাপ লাগল এবং এর কারণে তাদের চেহারা পাল্টে গেল। তিনি এ দেখে বললেনঃ তোমাদের সাথী আল্লাহর রাস্তায় চুরি করেছে। যায়দ (রাযিঃ) বলেনঃ অতঃপর তারা তার সমানপত্র তালাশ করল। তাতে ইয়াহূদীদের কয়েকটি আংটির পাথর বা মণি পাওয়া গেল, যার মুল্য দুই দিরহাম পরিমাণ।

২৮৪৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ ‏.‏ فَمَاتَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ هُوَ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ فَوَجَدُوا عَلَيْهِ كِسَاءً أَوْ عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৮৪৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মাল-সামান পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে এক ব্যক্তি নিয়োজিত ছিল, যাকে কিরকিরা বলা হত । সে মৃত্যুবরণ করলে নবী (ﷺ) বললেনঃ সে জাহান্নামী। অতঃপর তারা তাকে দেখতে লাগল তখন তার কাছে একটি কম্বল অথবা একটি আবা (বিশেষ ধরনের জামা) পেল, যা সে (গনীমতের মাল থেকে) চুরি করেছিল।

২৮৫০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عِيسَى بْنِ سِنَانٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ إِلَى جَنْبِ بَعِيرٍ مِنَ الْمَقَاسِمِ ثُمَّ تَنَاوَلَ شَيْئًا مِنَ الْبَعِيرِ فَأَخَذَ مِنْهُ قَرَدَةً - يَعْنِي وَبَرَةً - فَجَعَلَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ هَذَا مِنْ غَنَائِمِكُمْ أَدُّوا الْخَيْطَ وَالْمِخْيَطَ فَمَا فَوْقَ ذَلِكَ فَمَا دُونَ ذَلِكَ فَإِنَّ الْغُلُولَ عَارٌ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشَنَارٌ وَنَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৮৫০। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিয়ে গনীমতের উটের পাশে সালাত আদায় করলেন। তারপর উট থেকে কিছু নিলেন অর্থাৎ তিনি তা থেকে একটি পশম নিলেন এবং তা তার দুই আঙ্গুলের মাঝে রেখে বললেনঃ হে লোক সকল! অবশ্য এটা তোমাদের গনীমতের মাল। সুতা এবং সুই আর যা তার চেয়ে বেশী দামী এবং যা তার চেয়ে কম দামী সবই তোমরা গনীমতের মালের মধ্যে জমা দিয়ে দাও। কেননা গনীমতের মাল চুরি করার ফলে কিয়ামতের দিন সে চোরের উপর অপমান ও গ্লানী এবং জাহান্নাম এর শাস্তি নেমে আসবে।

নাফল[১] প্রসঙ্গে

بَاب النَّفْلِ

২৮৫১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ جَارِيَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ الثُّلُثَ بَعْدَ الْخُمُسِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হাবীব ইবনে মাসলামা (রাঃ)

২৮৫১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....হাবীব ইবন মাসলামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এক পঞ্চমাংশ নেওয়ার[২] পর অবশিষ্ট মালের এক তৃতীয়াংশ থেকে নাফল বা অতিরিক্ত পুরস্কার দিয়েছেন।

[১] নাফল শব্দের অর্থ অতিরিক্ত। যুদ্ধের ময়দানে বিশেষ বীরত্ব রণকুশলতা প্রদর্শনের কারণে তার স্বীকৃতি স্বরূপ এক ব্যক্তিকে অথবা কয়েক ব্যক্তিকে ইমাম তাদের গনীমতের অংশের অতিরিক্ত যে পুরস্কার দেন, তাকেই বলে নাফল।
[২] গনীমতের মাল আসার পর তা থেকে এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য আলাদা করে ফেলতে হবে। বাকী চার অংশ সকল মুজাহিদদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে। তবে এই চার অংশের এক তৃতীয়াংশ ইমাম ইচ্ছা করলে পুরস্কার স্বরূপ দিতে পারেন।

নাফল প্রসঙ্গে

بَاب النَّفْلِ

২৮৫২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ الزُّرَقِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ فِي الْبَدْأَةِ الرُّبُعَ وَفِي الرَّجْعَةِ الثُّلُثَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৮৫২। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) প্রাম্ভিক[১] যুদ্ধে গনীমতের মালের এক-চতুর্থাংশ এবং ফিরতি যুদ্ধে এক তৃতীয়াংশ থেকে (পুরস্কার স্বরূপ) অতিরিক্ত দেন।

[১] কোন নির্দিষ্ট স্থানে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে পথিমধ্যে যদি কোন যুদ্ধের সম্মুখীন হয়, তবে এর গনীমাতের মধ্যে এক চতুর্থাংশ থেকে এবং যুদ্ধ থেকে ফিরার সময় কোন গনিমাতপ্রাপ্ত হয়, তবে এর এক তৃতীয়াংশ থেকে, অতিরিক্ত হিসাবে দেওয়া যাবে।
২৮৫৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَنْبَأَنَا رَجَاءُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ لَا نَفَلَ بَعْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرُدُّ الْمُسْلِمُونَ قَوِيُّهُمْ عَلَى ضَعِيفِهِمْ قَالَ رَجَاءٌ فَسَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ مُوسَى يَقُولُ لَهُ حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ فِي الْبَدْأَةِ الرُّبُعَ وَحِينَ قَفَلَ الثُّلُثَ فَقَالَ عَمْرٌو أُحَدِّثُكَ عَنْ أَبِي عَنْ جَدِّي وَتُحَدِّثُنِي عَنْ مَكْحُولٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৮৫৩। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....'আমর ইবন 'শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর পরে আর কোন নাফল বা অতিরিক্ত দেওয়া হবে না। শক্তিশালী মুসলমান দুর্বল মুসলমানকে গনীমতের মাল ফেরৎ দিবে।
রাবী রাজা' বলেনঃ আমি সুলায়মান ইবন মুসা (রাহঃ) থেকে শুনেছি, তিনি আমর ইবন শু'আয়ব (রাযিঃ)-কে বলছিলেন, মাকহূল (রাহঃ) হাবীব ইবন মাসলামা (রাযিঃ) থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) প্রথম যুদ্ধে গনীমতের মালের এক চতুর্থাংশ এবং যখন ফিরে আসতেন তখনকার যুদ্ধে এক তৃতীয়াংশ পুরস্কার স্বরূপ দিতেন। আমর (রাযিঃ) বললেনঃ আমি তোমাকে আমার দাদার সূত্রে হাদীছ শুনাচ্ছি আর তুমি আমাকে মাকহূল থেকে হাদীছ শুনাচ্ছ?[১]

[১] আমর (রাহঃ) মাকহূল (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত হাসান বলে মন্তব্য করেছেন অথচ মাকহূল একজন বিশ্বস্ত রাবী এবং এ হাদীছ প্রমাণিত ও নির্ভরযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং উলামায়ে কিরাম সকলেই পুরস্কার দেয়ার পক্ষপাতি।

গনীমাতের মাল বন্টন প্রসঙ্গে

بَاب قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ

২৮৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَارِسِ ثَلاَثَةَ أَسْهُمٍ لِلْفَرَسِ سَهْمَانِ وَلِلرَّجُلِ سَهْمٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৫৪। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বারের দিন গনীমতের মাল বন্টন করেন অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশ। শুধু ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক লোকের জন্য এক অংশ[১]।

[১] এটাই হল ইমাম আবু ইয়ূসুফ, মুহাম্মাদ ও ইমাম শাফিঈ এর অভিমত। ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত এক হাদীছে পাওয়া যায় যে, নবী (ﷺ) অশ্বারোহীকে দুই অংশ এবং পদাতিক যোদ্ধাকে এক অংশ দিয়েছেন। এটাই হল ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর অভিমত।

গোলাম ও মহিলারা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে শরীক হলে

بَاب الْعَبِيدِ وَالنِّسَاءِ يَشْهَدُونَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ

২৮৫৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَيْرًا، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ - قَالَ وَكِيعٌ كَانَ لاَ يَأْكُلُ اللَّحْمَ - قَالَ غَزَوْتُ مَعَ مَوْلاَىَ يَوْمَ خَيْبَرَ وَأَنَا مَمْلُوكٌ فَلَمْ يَقْسِمْ لِي مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأُعْطِيتُ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ سَيْفًا فَكُنْتُ أَجُرُّهُ إِذَا تَقَلَّدْتُهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উমায়র (রাঃ)

২৮৫৫। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবুল-লাহম (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (রাবী ওয়াকী'র বলেন, আবু লাহম (রাযিঃ) গোশত খেতেন না) আবু লাহম (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আমার মনিবের সাথে খায়বারের দিন যুদ্ধ করেছিলাম। তখন আমি গোলাম ছিলাম। তাই আমাকে গনীমতের মালের কোন অংশ দেওয়া হয়নি। আমাকে ঘরের আসবাবপত্র থেকে একখানি তরবারি দেওয়া হয়। আমি যখন তা কোমরে বাঁধতাম, তখন তা মাটিতে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যেতাম।

২৮৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ الأَنْصَارِيَّةِ، قَالَتْ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ غَزَوَاتٍ أَخْلُفُهُمْ فِي رِحَالِهِمْ وَأَصْنَعُ لَهُمُ الطَّعَامَ وَأُدَاوِي الْجَرْحَى وَأَقُومُ عَلَى الْمَرْضَى ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

২৮৫৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....উম্মু আতিয়্যা আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে সাতটি যুদ্ধে শরীক হয়েছি। আমি তাদের সওয়ারী ও মাল সামানের (হিফাযতের) জন্য পশ্চাদে থাকতাম, তাদের জন্য খাবার তৈরী করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং রুগীদের সেবা-শুশ্রূষা করতাম।

ইমামের উপদেশ দেওয়া

بَاب وَصِيَّةِ الْإِمَامِ

২৮৫৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي عَطِيَّةُ بْنُ الْحَارِثِ أَبُو رَوْقٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو الْغَرِيفِ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ خَلِيفَةَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ فَقَالَ ‏ "‏ سِيرُوا بِاسْمِ اللَّهِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ وَلاَ تُمَثِّلُوا وَلاَ تَغْدِرُوا وَلاَ تَغُلُّوا وَلاَ تَقْتُلُوا وَلِيدًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

২৮৫৭। হাসান ইবন 'আলী খালাল (রাহঃ)...সাফওয়ান ইবন আসসাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে সারিয়া অর্থাৎ একটি ছোট সেনাদলে প্রেরণ করেছিলেন। (আমরা রওয়ানা হবার সময়) তিনি বললেনঃ বেরিয়ে যাও আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায়। যুদ্ধ কর তাদের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ্র সাথে কুফরী করে। আর (দুশমনদের) নাক-কান কেটোনা, প্রতারণা করোনা, গনীমতের মাল চুরি করোনা এবং শিশুদেরকে হত্যা করোনা।

২৮৫৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمَّرَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا فَقَالَ ‏ "‏ اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ اغْزُوا وَلاَ تَغْدِرُوا وَلاَ تَغُلُّوا وَلاَ تُمَثِّلُوا وَلاَ تَقْتُلُوا وَلِيدًا وَإِذَا أَنْتَ لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاَثِ خِلاَلٍ أَوْ خِصَالٍ فَأَيَّتُهُنَّ أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَخْبِرْهُمْ إِنْ هُمْ فَعَلُوا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ وَإِنْ أَبَوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَكُونُ لَهُمْ فِي الْفَىْءِ وَالْغَنِيمَةِ شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا أَنْ يَدْخُلُوا فِي الإِسْلاَمِ فَسَلْهُمْ إِعْطَاءَ الْجِزْيَةِ فَإِنْ فَعَلُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ عَلَيْهِمْ وَقَاتِلْهُمْ وَإِنْ حَاصَرْتَ حِصْنًا فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّكَ فَلاَ تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَلاَ ذِمَّةَ نَبِيِّكَ وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَبِيكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ فَإِنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ آبَائِكُمْ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ وَإِنْ حَاصَرْتَ حِصْنًا فَأَرَادُوكَ أَنْ يَنْزِلُوا عَلَى حُكْمِ اللَّهِ فَلاَ تُنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لاَ ‏"‏ ‏.‏
قَالَ عَلْقَمَةُ فَحَدَّثْتُ بِهِ، مُقَاتِلَ بْنَ حَيَّانَ فَقَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمُ بْنُ هَيْصَمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৮৫৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন লোককে সেনাদলের আমীর বানিয়ে পাঠাতেন তখন বিশেষভাবে তার নিজের জন্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং তার সঙ্গীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন। তিনি বলতেনঃ আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। জিহাদ কর তবে চুক্তি ভঙ্গ করোনা, কারো অঙ্গহানী করোনা এবং শিশুদেরকে হত্যা করোনা। যখন তুমি শত্রুপক্ষের মুশরিকদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিবে। তারা যে কোন একটি বিষয়ের প্রতি সাড়া দিলে তুমি তা গ্রহণ করবে এবং তাদের থেকে ফিরে থাকবে। সে তিনটি বিষয় হল (প্রথমে) তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে। তারা যদি তা কবূল করে তবে তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নেবে এবং তাদের ফিরে থাকার তারপর তাদেরকে স্বদেশ ছেড়ে মুহাজিরদের দেশে চলে আসার দাওয়াত দেবে এবং তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, তারা যদি এ কাজ করে তবে যে সব সুযোগ সুবিধা মুহাজিরগণ পেয়ে থাকে, তারাও তা পাবে। আর যে সব শাস্তি মুহাজিরদের উপর এসে থাকে (অপরাধ করার কারণে) সে সব শাস্তি তাদের উপরও আসবে (যদি তারা সে অপরাধ করে)। আর যদি তারা (হিজরাত করতে) অস্বীকার করে তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা গ্রামে বসবাসকারী মুসলমানদের সম মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই সব হুকুম জারী হবে যা মু'মিনদের উপর হয়ে থাকে। আর তারা গনীমতের মাল-যুদ্ধ করে এবং বিনা যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে মিলে জিহাদ করে তার কথা ভিন্ন (সেমতাবস্থায় ভাগ পাবে) আর তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযয়া কর চাও। তারা যদি দেয় তাহলে তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ কর এবং তাদের থেকে বিরত থাক। তারা যদি এটাও অস্বীকার করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আর যদি তুমি কোন দুর্গ অবরোধ কর, অতঃপর তারা তোমার কাছে আল্লাহর যিম্মাদারী এবং তোমার নবীর যিম্মাদারী লাভ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তাহলে তুমি তাদের জন্য আল্লাহর যিম্মাদারী এবং তোমার নবীর জিম্মাদারী দিওনা বরং তোমার নিজের, তোমার বাপের এবং তোমার সাথী-সঙ্গীদের যিম্মাদারী দাও। কারণ তোমার নিজের এবং তোমার বাপ-দাদার যিম্মাদারী বিনষ্ট করা বেশী সহজ আল্লাহ্ এবং তার রাসূলের যিম্মাদারী বিনষ্ট করার চেয়ে। আর যদি তুমি কোন দুর্গ অবরোধ কর, অতঃপর তারা তোমার কাছে আল্লাহর হুকুমে বেরিয়ে আসার আবেদন করে তবে তাদেরকে আল্লাহর হুকুমে বেরিয়ে আসার অনুমতি দিওনা; বরং তাদেরকে তোমার নিজের হুকুমে বেরিয়ে আসার অনুমতি দাও। কারণ তুমি জাননা যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম চলবে কিনা।

রাবী 'আলকমা (রাহঃ) বলেনঃ আমি মুকাতিল ইবন হাইয়্যান (রাহঃ)-এর কাছে এ হাদীছ বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ মুসলিম ইবন হায়ছাম (রাহঃ) নু'মান ইবন মুকরিন (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আমার কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমামের অনুগত্য করা

بَاب طَاعَةِ الْإِمَامِ

২৮৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ الإِمَامَ فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَى الإِمَامَ فَقَدْ عَصَانِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৫৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে মুলত: আল্লাহর আনুগত্য করলো। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যাচরণ করলো- সে প্রকারান্তরে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করল। যে ব্যক্তি ইমামের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি ইমামের অবাধ্যাচরণ করল, সে আমারই অবাধ্যাচরণ করল।

২৮৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَبُو بِشْرٍ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَإِنِ اسْتُعْمِلَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ كَأَنَّ رَأْسَهُ زَبِيبَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৬০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার ও আবু বিশর বকর ইবন খালাফ (রাহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (ইমামের আদেশ) শ্রবণ কর ও আনুগত্য কর, যদিও আংগুর ফল সদৃশ মস্তক বিশিষ্ট হাবশী গোলামকে তোমাদের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

২৮৬১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ الْحُصَيْنِ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ مُجَدَّعٌ فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا مَا قَادَكُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে হুসাইন ↦ উম্মে হুসাইন (রাঃ)

২৮৬১। আবু বকর ইব্ন আবু শায়বা (রাহঃ) উম্মুল হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ নাক-কান কর্তিত কোন হাবশী গোলামকে তোমাদের নেতা নিয়োগ করা হলেও তোমরা তার নির্দেশ শুনো ও আনুগত্য করো-যতক্ষণ সে তোমাদের আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অনুযায়ী পরিচালনা করে।

২৮৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى الرَّبَذَةِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَإِذَا عَبْدٌ يَؤُمُّهُمْ فَقِيلَ هَذَا أَبُو ذَرٍّ ‏.‏ فَذَهَبَ يَتَأَخَّرُ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم أَنْ أَسْمَعَ وَأُطِيعَ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعَ الأَطْرَافِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৮৬২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ) আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যখন (নির্বাসনে) রাবাযা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন নামাযের ইকামত দেয়া হলো। সে সময় এক গোলাম লোকদের নামাযে ইমামতি করছে। তখন বলা হলো, ইনি আবু যার (রাযিঃ)। (একথা শুনে) গোলাম পেছনে সরে আসতে থাকলে আবু যার (রাযিঃ) বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু (মহানবী (ﷺ)) আমাকে ওসিয়াত করেছেন যে, আমি যেন শ্রবণ করি ও আনুগত্য করি-যদিও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত হাবশী গোলাম (নেতা)[১] হয়।

[১] উপরোক্ত হাদীসে নেতার আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। পিতৃ আদেশ শ্রবণ ও তা মান্য করার উপরই সামাজিক শৃংখলা, শান্তি ও নিরাপত্তা নির্ভর করে। কুরআন মাজীদেও নেতার আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তার আনুগত্য, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মত নিঃশর্ত নয়। নেতার বৈধ নির্দেশ অবশ্যই পালন করতে হবে, তা মনোপূত হোক বা না হোক; কিন্তু তার নির্দেশ যদি শরীআতের বিধানের পরিপন্থী হয়, তবে তা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে (অনুবাদক)।

আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজে আনুগত্য নেই

بَاب لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ

২৮৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ عَلْقَمَةَ بْنَ مُجَزِّزٍ عَلَى بَعْثٍ وَأَنَا فِيهِمْ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى رَأْسِ غَزَاتِهِ أَوْ كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ اسْتَأْذَنَتْهُ طَائِفَةٌ مِنَ الْجَيْشِ فَأَذِنَ لَهُمْ وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسٍ السَّهْمِيَّ فَكُنْتُ فِيمَنْ غَزَا مَعَهُ فَلَمَّا كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ أَوْقَدَ الْقَوْمُ نَارًا لِيَصْطَلُوا أَوْ لِيَصْنَعُوا عَلَيْهَا صَنِيعًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ - وَكَانَتْ فِيهِ دُعَابَةٌ - أَلَيْسَ لِي عَلَيْكُمُ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ فَمَا أَنَا بِآمِرِكُمْ بِشَىْءٍ إِلاَّ صَنَعْتُمُوهُ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أَعْزِمُ عَلَيْكُمْ إِلاَّ تَوَاثَبْتُمْ فِي هَذِهِ النَّارِ ‏.‏ فَقَامَ نَاسٌ فَتَحَجَّزُوا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّهُمْ وَاثِبُونَ قَالَ أَمْسِكُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَإِنَّمَا كُنْتُ أَمْزَحُ مَعَكُمْ ‏.‏ فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَمَرَكُمْ مِنْهُمْ بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلاَ تُطِيعُوهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৮৬৩। আবু বকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আলকামা ইন মুজাযযিয (রাযিঃ)-কে একটি বাহিনীর অধিনায়ক নিয়োগ করেন। আমিও তাতে শরীক ছিলাম। তিনি যখন তাঁর জিহাদের শেষ গন্তব্যে পৌঁছেন অথবা পথিমধ্যে ছিলেন, তখন একদল সৈন্য তাঁর নিকট অনুমতি চাইল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন এবং আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন হুয়াফা ইব্‌ন কায়স আস-সাহমী (রাযিঃ)-কে তাদের অধিনায়ক নিযুক্ত করলেন। যেসব লোক আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-র সঙ্গী হয়ে জিহাদ করেছে, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। লোকেরা পথিমধ্যে ছিল। এই অবস্থায় একদল লোক উত্তাপ গ্রহণের জন্য অথবা অন্য কোন কাজে আগুন প্রজ্জ্বলিত করলো। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) তাদের বলেন, (তিনি কিছু রসিক প্রকৃতির ছিলেন), আমার নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা কি তোমাদের উপর অপরিহার্য নয়? তারা বললো হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের যা করার নির্দেশ দেব, তোমরা কি তাই করবে? তারা বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা এই আগুনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়। কতিপয় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল এবং কোমর বাঁধল (আগুনে ঝাঁপ দেয়ার জন্য)। তিনি যখন দেখলেন, লোকরা বাস্তবিকই আগুনে ঝাঁপ দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে তখন তিনি বললেনঃ থাম। আমি তোমাদের সাথে ঠাট্টা করছি। (রাবী বলেন) আমরা ফিরে এলে লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ “যে কেউ তোমাদের আল্লাহর নাফরমানি করার নির্দেশ দেবে, তোমরা তার আনুগত্য করবে না"।

২৮৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ الطَّاعَةُ فِيمَا أَحَبَّ أَوْ كَرِهَ إِلاَّ أَنْ يُؤْمَرَ بِمَعْصِيَةٍ فَمَنْ أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৬৪। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ ও মুহাম্মাদ ইবনুস-সাব্বাহ্....সুওয়াইদ ইবন সাঈদ (রাহঃ), ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন কাজে মুসলিম ব্যক্তির উপর আগত্য অপরিহার্য তা তার মনঃপূত হোক বা না হোক। কিন্তু পাপ কাজের নির্দেশ দিলে (তা স্বতন্ত্র)। অতঃএব পাপ কাজের নির্দেশ দেয়া হলে কোনরূপ শ্রবণও নাই, আনুগত্যও নাই।

২৮৬৫

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، ح وَحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ سَيَلِي أُمُورَكُمْ بَعْدِي رِجَالٌ يُطْفِئُونَ السُّنَّةَ وَيَعْمَلُونَ بِالْبِدْعَةِ وَيُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ مَوَاقِيتِهَا ‏"‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُهُمْ كَيْفَ أَفْعَلُ قَالَ ‏"‏ تَسْأَلُنِي يَا ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ كَيْفَ تَفْعَلُ لاَ طَاعَةَ لِمَنْ عَصَى اللَّهَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৮৬৫। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ ও হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই আমার পরে এমন সব লোক তোমাদের নেতা হবে, যারা সুন্নতকে মিটিয়ে দেবে, এবং বিদ্আতের অনুসরণ করবে এবং সালাত নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে আদায় করবে। আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমি যদি তাদের পাই, তবে কি করবো? তিনি বললেনঃ হে উম্মু আব্দ-এর পুত্র! তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করছো যে, তুমি কি করবে? যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে, তার আনুগত্য করবে না।

বায়'আত গ্রহণ

بَاب الْبَيْعَةِ

২৮৬৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَابْنِ، عَجْلاَنَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَالأَثَرَةِ عَلَيْنَا وَأَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ وَأَنْ نَقُولَ الْحَقَّ حَيْثُمَا كُنَّا لاَ نَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৮৬৬। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....'উবাদা ইব্‌ন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুঃসময় ও সুসময়, আনন্দ ও বিষাদে এবং নিজেদের উপর অন্যদের অগ্রাধিকার প্রদানে (নেতৃ-আদেশ) শ্রবণ ও আনুগত্য করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট থেকে বায়'আত গ্রহণ করেন। তিনি আমাদের নিকট থেকে এ বিষয়েও বায়'আত নেন যে, (রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ) আমরা যেন যোগ্য ব্যক্তির সাথে (গদি নিয়ে) ঝগড়ায় লিপ্ত না হই; আর যেখানেই থাকি না কেন, আমরা যেন সত্য কথা বলি এবং আল্লাহর ব্যাপারে নিন্দুকের নিন্দার যেন ভয় না করি।

২৮৬৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّنُوخِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، - أَمَّا هُوَ إِلَىَّ فَحَبِيبٌ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ - عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَبْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ تِسْعَةً فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ فَقَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا - وَأَسَرَّ كَلِمَةً خُفْيَةً - وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ فَلاَ يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৬৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ) আওফ ইবন মালিক আশজাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা সাত আট অথবা নয় ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহর রাসূলের কাছে বায়'আত হবে না? অতএব আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে দিলাম। এক ব্যক্তি বললো ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমরা তো আপনার নিকট (ইতিপূর্বে) বায়'আত হয়েছি, এখন (আবার) কিসের জন্য আপনার নিকট বায়'আত হবো? তখন তিনি বললেন; (তোমরা এই বিষয়ে বায়'আত হবে যে,) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্তের নামায কায়েম করবে, শ্রবণ করবে ও আনুগত্য করবে। (একটি কথা তিনি গোপনে বললেন)ঃ মানুষের কাছে কিছু চাবে না। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাদের কাউকে দেখেছি যে, তার চাবুক পড়ে যেত, কিন্তু কাউকে তা তুলে দেয়ার জন্য বলতেন না।

২৮৬৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَتَّابٍ، - مَوْلَى هُرْمُزَ - قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فَقَالَ ‏ "‏ فِيمَا اسْتَطَعْتُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৬৮। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....হুরমুযের মুক্ত দাস আত্তাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্য করার জন্য বায়'আত হলাম। তিনি বলেনঃ "যতদূর তোমাদের সাধ্যে কুলায়।"

২৮৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْهِجْرَةِ وَلَمْ يَشْعُرِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ يُرِيدُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ بِعْنِيهِ ‏"‏ ‏.‏ فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ ثُمَّ لَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدَ ذَلِكَ حَتَّى يَسْأَلَهُ أَعَبْدٌ هُوَ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৬৯। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটি গোলাম এসে নবী (ﷺ)-এর নিকট হিজরত করার শপথ নেয়। কিন্তু নবী (ﷺ) জানতেন না যে, সে গোলাম। তার মনিব তাকে ফেরত নিতে এলে নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তিনি দুটি কৃষ্ণ গোলামের বিনিময়ে তাকে খরিদ করেন। এরপর থেকে তিনি কাউকে বায়'আত করার পূর্বেই জিজ্ঞেস করে নিতেন যে, সে ক্রীতদাস কি না?

বায়'আত পূর্ণ করা

بَاب الْوَفَاءِ بِالْبَيْعَةِ

২৮৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءٍ بِالْفَلاَةِ يَمْنَعُهُ مِنِ ابْنِ السَّبِيلِ وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلاً بِسِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَحَلَفَ بِاللَّهِ لأَخَذَهَا بِكَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لاَ يُبَايِعُهُ إِلاَّ لِدُنْيَا فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا وَفَى لَهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا لَمْ يَفِ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৭০। আবু বকর ইব্‌ন আবু শায়বা, আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আহমাদ ইবন সিনান (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন প্রকারের লোকের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে পীড়াদায়ক শাস্তি। (১) যে ব্যক্তি মাঠে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রাখে কিন্তু তা পথিকদের ব্যবহার করতে দেয় না ; (২) যে ব্যক্তি আসরের নামাযের পর অপর কোন ব্যক্তির নিকট পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, সে তা এত এত মূল্যে খরিদ করেছে এবং ক্রেতা তার কথা বিশ্বাস করলো, অথচ তার কথা বাস্তবের বিপরীত এবং (৩) যে ব্যক্তি পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে নেতার হাতে আনুগত্যের শপথ নিল, নেতা যদি তাকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয় তবে সে শপথ পূর্ণ করে, আর যদি কিছু না দেয় তবে শপথ পূর্ণ করে না।

২৮৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ حَسَنِ بْنِ فُرَاتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ تَسُوسُهُمْ أَنْبِيَاؤُهُمْ كُلَّمَا ذَهَبَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ وَأَنَّهُ لَيْسَ كَائِنٌ بَعْدِي نَبِيٌّ فِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَمَا يَكُونُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ تَكُونُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَكَيْفَ نَصْنَعُ قَالَ ‏"‏ أَوْفُوا بِبَيْعَةِ الأَوَّلِ فَالأَوَّلِ أَدُّوا الَّذِي عَلَيْكُمْ فَسَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنِ الَّذِي عَلَيْهِمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৭১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলদের মধ্যে তাদের নবীগণ তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন। একজন নবী অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আরেকজন নবীর আগমন হত। কিন্তু আমার পরে তোমাদের মাঝে আর কোন নবীর আবির্ভাব হবে না। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে অতঃপর কি হবে, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বলেন, খলীফা হবে এবং তাদের সংখ্যা অনেক হবে। তাঁরা বলেন, তখন আমরা কি করব? তিনি বলেনঃ প্রথমে যে খলীফা হবে, তার প্রতি আনুগত্যের শপথ করবে, তার পরে যে খলীফা হবে, তার প্রতি আনুগত্যের শপথ করবে, তার পরে যে খলীফা হবে, তার আনুগত্য করবে। তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তোমরা পালন করবে। যারা জনগণের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে অচিরেই মহামহিম আল্লাহ্ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

২৮৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يُنْصَبُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৮৭২। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন ও মুহাম্মাদ ইব্‌ন নুমায়র মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে। অতঃপর বলা হবে- এটা অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা।

২৮৭৩

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَلاَ إِنَّهُ يُنْصَبُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَدْرِ غَدْرَتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৮৭৩। ইমরান ইব্‌ন লায়সী (রাহঃ).... আবু সাঈদ খুরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান, প্রত্যেক প্রতারকের জন্য কিয়ামতের দিন একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে-তার প্রতারণার পরিমাণ অনুযায়ী।

মহিলাদের বায়'আত গ্রহণ

بَاب بَيْعَةِ النِّسَاءِ

২৮৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ أُمَيْمَةَ بِنْتَ رُقَيْقَةَ، تَقُولُ جِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي نِسْوَةٍ نُبَايِعُهُ فَقَالَ لَنَا ‏ "‏ فِيمَا اسْتَطَعْتُنَّ وَأَطَقْتُنَّ إِنِّي لاَ أُصَافِحُ النِّسَاءَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ)

২৮৭৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) উমায়মা বিনতে রুকায়কা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কতিপয় মহিলা সমভিব্যাহারে মহানবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম-বায়'আত হওয়ার জন্য। তখন তিনি আমাদের বলেনঃ যতদূর তোমাদের সাধ্যে কুলায় ও শক্তিতে কুলায় (এর প্রতি অটল থাকবে)। আমি মহিলাদের সাথে মুসাফাহা করি না।

২৮৭৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَتِ الْمُؤْمِنَاتُ إِذَا هَاجَرْنَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُمْتَحَنَّ بِقَوْلِ اللَّهِ ‏(يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ )‏ إِلَى آخِرِ الآيَةِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَنْ أَقَرَّ بِهَا مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ فَقَدْ أَقَرَّ بِالْمِحْنَةِ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَقْرَرْنَ بِذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِنَّ قَالَ لَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انْطَلِقْنَ فَقَدْ بَايَعْتُكُنَّ ‏"‏ ‏.‏ لاَ وَاللَّهِ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ غَيْرَ أَنَّهُ يُبَايِعُهُنَّ بِالْكَلاَمِ ‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ وَاللَّهِ مَا أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النِّسَاءِ إِلاَّ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ وَلاَ مَسَّتْ كَفُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَفَّ امْرَأَةٍ قَطُّ وَكَانَ يَقُولُ لَهُنَّ إِذَا أَخَذَ عَلَيْهِنَّ ‏"‏ قَدْ بَايَعْتُكُنَّ ‏"‏ ‏.‏ كَلاَمًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৭৫। আহমাদ ইবন আমর ইবন সারাহ মিসরী (রাহঃ) মহানবী (ﷺ)-এর সহধর্মীণি আয়েশা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ঈমানদার মহিলাগণ হিজরত করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের পরীক্ষা করা হতোঃ “হে নবী! ঈমানদার মহিলাগণ যখন আপনার নিকট এসে বায়'আত করে....." (সূরা মুমতাহানাঃ ১২)। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ যে কোন ঈমানদার মহিলা উপরোক্ত আয়াত অনুযায়ী স্বীকার করত সে যেন পরীক্ষাকে স্বীকার করে নিত। মহিলাগণ এসব কথা স্বীকার করে নিলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের বলতেনঃ তোমরা চলে যাও, আমি তোমাদের বায়'আত গ্রহণ করলাম। (রাবী বলেন) না, আল্লাহ্ত্র শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর হাত কখনও কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতো না। বরং তিনি শুধু কথার মাধ্যমে তাদের বায়'আত করতেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মহিলাদের নিকট থেকে কেবলমাত্র সেইসব কথার স্বীকৃতি নিতেন, যার নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা দান করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর হাত কখনও কোন মহিলার হাত স্পর্শ করেনি। তিনি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর বলতেনঃ আমি কথার মাধ্যমে তোমাদের বায়'আত করলাম।

ঘোড় দৌড়ের বর্ণনা

بَاب السَّبَقِ وَالرِّهَانِ

২৮৭৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَدْخَلَ فَرَسًا بَيْنَ فَرَسَيْنِ وَهُوَ لاَ يَأْمَنُ أَنْ يَسْبِقَ فَلَيْسَ بِقِمَارٍ وَمَنْ أَدْخَلَ فَرَسًا بَيْنَ فَرَسَيْنِ وَهُوَ يَأْمَنُ أَنْ يَسْبِقَ فَهُوَ قِمَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৭৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ), আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একটি ঘোড়া দুটি ঘোড়ার সাথে (দৌঢ় প্রতিযোগিতায়) শরীক করলো, তার ঘোড়া জিতবে কিনা এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত নয়-তবে তা জুয়ার পর্যায়ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি একটি ঘোড়া দুটি ঘোড়ার সাথে (দৌঢ় প্রতিযোগিতায়) শরীক করল এবং তার ঘোড়া জিতবে বলে সে নিশ্চিত, তবে তা জুয়ার পর্যায়ভুক্ত।

২৮৭৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ضَمَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخَيْلَ فَكَانَ يُرْسِلُ الَّتِي ضُمِّرَتْ مِنَ الْحَفْيَاءِ إِلَى ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ وَالَّتِي لَمْ تُضَمَّرْ مِنْ ثَنِيَّةِ الْوَدَاعِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৭৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘোড়াকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিলেন।[১] বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব ঘোড়ার দ্বারা তিনি 'আল-হাফয়া' নামক স্থান থেকে সানিয়্যাতুল ওয়াদা পর্যন্ত ঘোড় দৌড়ের ব্যবস্থা করেন। আর যেসব ঘোড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল না, তার দ্বারা সানিয়্যাতুল ওয়াদা থেকে যুরায়ক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত (ঘোড়দৌড়ের ব্যবস্থা করেন)।

[১] “বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেয়া" মূলে রয়েছে 'দাম্মারা' (ضمر)। অর্থাৎ, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত ঘোড়াকে প্রথমে পর্যাপ্ত আহার দেয়া হয় এবং তা মোটাতাজা হয়ে যায়। অতঃপর খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার পর তাকে ঘর্মাক্ত করার জন্য একটি কোঠায় আব্দ্ধ করা হয়। ঘাম বের হয়ে তার গোশত কমে যায় এবং হালকা পাতলা হয়ে দ্রুত দৌড়ানোর উপযোগী হয়।
২৮৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي الْحَكَمِ، - مَوْلَى بَنِي لَيْثٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ سَبَقَ إِلاَّ فِي خُفٍّ أَوْ حَافِرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৭৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলে (মাল অথবা অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয়), কিন্তু উট ও ঘোড়া ব্যতীত।

শত্রু রাষ্ট্রে কুরআন নিয়ে সফর করা নিষিদ্ধ

بَاب النَّهْيِ أَنْ يُسَافَرَ بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ

২৮৭৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، وَأَبُو عُمَرَ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُسَافَرَ بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ مَخَافَةَ أَنْ يَنَالَهُ الْعَدُوُّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৭৯। আহমাদ ইন সিনান ও আবু উমর (রাহঃ).....ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরআন মজীদ সাথে নিয়ে শত্রু এলাকায় সফর করতে নিষেধ করেছেন-এই আশংকায় যে, তা দুশমনদের হস্তগত হয়ে যেতে পারে।

২৮৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى أَنْ يُسَافَرَ بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ مَخَافَةَ أَنْ يَنَالَهُ الْعَدُوُّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৮০। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)....ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি কুরআন সাথে নিয়ে শত্রুর দেশে সফর করতে নিষেধ করতেন, এই আশংকায় যে, তা দুশমনদের হস্তগত হয়ে যেতে পারে।

গনীমতের পঞ্চমাংশ বন্টনের বিবরণ

بَاب قِسْمَةِ الْخُمُسِ

২৮৮১

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، جَاءَ هُوَ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَلِّمَانِهِ فِيمَا قَسَمَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ لِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ فَقَالاَ قَسَمْتَ لإِخْوَانِنَا بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ وَقَرَابَتُنَا وَاحِدَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا أَرَى بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ شَيْئًا وَاحِدًا ‏"‏ ‏.‏

২৮৮১। ইউনুস ইব্‌ন আব্দুল আলা (রাহঃ)..... সা'ঈদ ইব্‌ন মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, জুবায়র ইব্‌ন মুতঈম (রাযিঃ) তাঁকে অবহিত করেন যে, তিনি ও উসমান ইবন আফ্ফান (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন খায়বারে প্রাপ্ত গনীমতের পঞ্চমাংশ বন্টনের বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলার জন্য। তারা উভয়ে বললেনঃ আপনি আমাদের ভাই বানু হাশিম ও বানু মুত্তালিবের মধ্যে বন্টন করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি বানু হাশিম ও বানু মুত্তালিবকে একই মনে করি।