كتاب الذبائح

২৫. জবাইয়ের বিধান

অধ্যায় ২৫ · ৩৮ টি হাদীস

আকীকা

بَاب الْعَقِيقَةِ

৩১৬২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سِبَاعِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ كُرْزٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ عَنِ الْغُلاَمِ، شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ، شَاةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মে কুরয (রাঃ)

৩১৬২। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)......উম্মে কুরয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরী (আকীকার জন্য যবাহ করা) যথেষ্ট।[১]

[১] শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে হয়, মাথার চুল কামাতে হয় এবং আকীকা করতে হয়। চুলের ওজনের সমপরিমাণ সোনা বা রূপা দান-খয়রাত করা মুস্তাহাব। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে আকীকা করা মুস্তাহাব এবং ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী আকীকা করা সুন্নত। আর অপর মত অনুযায়ী তা ওয়াজিব। কোন কোন হাদীসে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি কোন হাদীসে উভয়ের পক্ষ থেকে একটি করে বকরী যবাহ করার কথা উল্লেখ আছে। ইমাম মালিক (রাহঃ) এই শেষোক্ত মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অবশ্য এটা কোন বাধ্যতামূলক ব্যাপার নয়। ছেলে বা মেয়ের পক্ষ থেকে এক বা একাধিক বকরী দিয়ে একবার বা একাধিকবার আকীকা করা যেতে পারে।
৩১৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نَعُقَّ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَيْنِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةً ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৬৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরী আকীকা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

৩১৬৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ مَعَ الْغُلاَمِ عَقِيقَةً فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا وَأَمِيطُوا عَنْهُ الأَذَى ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালমান ইবনে আমির যব্বী (রাঃ)

৩১৬৪। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... সালমান ইবন আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেনঃ শিশুর পক্ষ থেকে আকীকা করা উচিত। অতএব তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত কর (পশু যবাহ কর) এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূরীভূত কর।

৩১৬৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ كُلُّ غُلاَمٍ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩১৬৫। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রতিটি শিশু তার আকীকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবাহ করা হবে। তার মাথা কামানো হবে এবং নাম রাখা হবে।

৩১৬৬

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ يَزِيدَ بْنَ عَبْدٍ الْمُزَنِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ يُعَقُّ عَنِ الْغُلاَمِ وَلاَ يُمَسُّ رَأْسُهُ بِدَمٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আবদ মুযানী (রাঃ)

৩১৬৬। ইয়াকূব ইব্‌ন হুমাইদ, ইবন কাসির (রাহঃ)..... ইয়াযীদ ইবন আব্দ মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ শিশুর পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করা হবে (আকীকা করা হবে) এবং তার মাথা পশুর রক্তে রঞ্জিত করা যাবে না।

ফারাআ ও আতীরা

بَاب الْفَرَعَةِ وَالْعَتِيرَةِ

৩১৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ نُبَيْشَةَ، قَالَ نَادَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَعْتِرُ عَتِيرَةً فِي الْجَاهِلِيَّةِ فِي رَجَبٍ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ ‏"‏ اذْبَحُوا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي أَىِّ شَهْرٍ مَا كَانَ وَبَرُّوا اللَّهَ وَأَطْعِمُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نُفْرِعُ فَرَعًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ ‏"‏ فِي كُلِّ سَائِمَةٍ فَرَعٌ تَغْذُوهُ مَاشِيَتُكَ حَتَّى إِذَا اسْتَحْمَلَ ذَبَحْتَهُ فَتَصَدَّقْتَ بِلَحْمِهِ - أُرَاهُ قَالَ - عَلَى ابْنِ السَّبِيلِ فَإِنَّ ذَلِكَ هُوَ خَيْرٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: নুবায়শাহ হুযালী (রাঃ)

৩১৬৭। আবু বিশর (রাহঃ)... নুবাইশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলী যুগে রজব মাসে আতীরা করতাম। এখন আপনি আমাদের কি হুকুম করেন? তিনি বলেনঃ তোমরা যে কোন মাসে মহামহিম আল্লাহর জন্য পশু যবাহ কর, আল্লাহর সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে নেক কাজ কর এবং (দরিদ্রদের) আহার করাও। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমরা জাহিলী যুগে ফারা'আ করতাম। এখন এ সম্পর্কে আপনি আমাদের কি বলেন? তিনি বললেনঃ প্রতিটি চরে বেড়ানো পশুতে ফারা'আ রয়েছে- যাকে তোমার পশু আহার করে এবং যখন ভারবোঝা বহনের উপযুক্ত হবে। তখন তা যবেহ করে তার গোশত পথিকদের মধ্যে দান-খয়রাত করলে তা তোমার জন্য কল্যাণকর।

৩১৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ فَرَعَةَ وَلاَ عَتِيرَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ وَالْفَرَعَةُ أَوَّلُ النَّتَاجِ ‏.‏ وَالْعَتِيرَةُ الشَّاةُ يَذْبَحُهَا أَهْلُ الْبَيْتِ فِي رَجَبٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৬৮। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ এখন আর ফারা'আ নেই আতীরাও নেই। হিশাম তাঁর বর্ণনায় বলেন, ফারা'আ হল- উট বা ছাগল-ভেড়ার প্রথম বাচ্চা। আর আতীরা হচ্ছে- কোন পরিবারের লোকেরা রজব মাসে যে বকরী যবাহ করে তা।

৩১৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ فَرَعَةَ وَلاَ عَتِيرَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَاجَهْ هَذَا مِنْ فَرَائِدِ الْعَدَنِيِّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১৬৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবু উমার আদানী (রাহঃ) ......ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ এখন আর ফারা'আ-ও নাই, আতীরাও নেই। ইবন মাজা (রাহঃ) বলেন, এটা কেবলমাত্র আদানী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।

যবাহ করার সময় উত্তমরূপে যবাহ কর

بَاب إِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ

৩১৭০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)

৩১৭০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না (রাযিঃ)......শাদ্দাদ ইব্‌ন আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ মহান আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য দয়া ও অনুগ্রহ নির্ধারণ করেছেন। অতএব যখন তোমরা হত্যা (যুদ্ধ) কর তা উত্তমভাবে কর, যখন যবাহ কর তাও উত্তমভাবে কর। তোমাদের প্রত্যেকে যেন নিজের ছুরি ধারালো করে নেয় এবং নিজের যবাহকৃত পশুকে আরাম দেয়।

৩১৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَجُرُّ شَاةً بِأُذُنِهَا فَقَالَ ‏ "‏ دَعْ أُذُنَهَا وَخُذْ بِسَالِفَتِهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৭১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ) ….. আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি তখন একটি বক্রীর কান ধরে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি এর কান ছেড়ে দাও এবং ঘাড় ধর।

৩১৭২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنُ أَخِي، حُسَيْنٍ الْجُعْفِيِّ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي قُرَّةُ بْنُ حَيْوَئِيلَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِحَدِّ الشِّفَارِ وَأَنْ تُوَارَى عَنِ الْبَهَائِمِ وَقَالَ ‏ "‏ إِذَا ذَبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجْهِزْ ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِثْلَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১৭২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছুরি ধারালো করতে এবং তা পশুর দৃষ্টির অগোচরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যবাহ করার সময় যেন দ্রুত যবাহ করে।

জা'ফর ইবন মুসাফির (রাহঃ)...... সালিম সূত্রে তাঁর পিতার থেকে নবী (ﷺ)-এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

যবাহ করার সময় বিসমিল্লাহ বলা

بَاب التَّسْمِيَةِ عِنْدَ الذَّبْحِ

৩১৭৩

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ‏(إِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ)‏ قَالَ كَانُوا يَقُولُونَ مَا ذُكِرَ عَلَيْهِ اسْمُ اللَّهِ فَلاَ تَأْكُلُوا وَمَا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلُوهُ ‏.‏ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏(وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ)‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৭৩। আমর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি “শয়তানেরা নিজেদের বন্ধুদের প্ররোচনা দেয়” (সূরা আন'আমঃ ২১) শীর্ষক আয়াত উল্লেখপূর্বক বলেন, শয়তানেরা বলে যে, যা আল্লাহর নাম নিয়ে যবাহ করা হয়েছে তা ভক্ষণ কর না এবং যা আল্লাহর নাম না নিয়ে যবাহ করা হয়েছে তা খাও। অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ “যাতে আল্লাহর নাম লওয়া হয়নি তার কিছুই আহার করো না" (সূরা আন'আমঃ ১২১)।

৩১৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ قَوْمًا، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ قَوْمًا يَأْتُونَا بِلَحْمٍ لاَ نَدْرِي ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَمْ لاَ قَالَ ‏ "‏ سَمُّوا أَنْتُمْ وَكُلُوا ‏"‏ ‏.‏ وَكَانُوا حَدِيثَ عَهْدٍ بِالْكُفْرِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১৭৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ) …. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদল লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! এক কাওমের লোক আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। জানি না, (যবাহ করার সময়) তার উপর আল্লাহর নাম লওয়া হয়েছে কি না? তিনি বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর এবং খাও। এটা ছিল তাদের কুফর পরিত্যাগের নিকটবর্তী কাল।

যে অস্ত্র দিয়ে যবাহ করা যায়

بَاب مَا يُذَكَّى بِهِ

৩১৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ، قَالَ ذَبَحْتُ أَرْنَبَيْنِ بِمَرْوَةٍ فَأَتَيْتُ بِهِمَا النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَمَرَنِي بِأَكْلِهِمَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সায়ফী (রাঃ)

৩১৭৫। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... মুহাম্মাদ ইবন সাইফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ধারালো সাদা পাথর দিয়ে দু'টি খরপোশ যবাহ করে তা নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি আমাকে তা আহারের নির্দেশ দিলেন।

৩১৭৬

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ حَاضِرَ بْنَ مُهَاجِرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ ذِئْبًا، نَيَّبَ فِي شَاةٍ فَذَبَحُوهَا بِمَرْوَةٍ فَرَخَّصَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي أَكْلِهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৩১৭৬। আবু বিশর বাকর ইবন খালাফ (রাহঃ).....যায়িদ ইবন সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একটি নেকড়ে বাঘ একটি বকরীকে কামড় দেয় লোকেরা তা ধারালো সাদা পাথর দিয়ে যবাহ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের তা খাওয়ার অনুমতি দেন।

৩১৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُرِّيِّ بْنِ قَطَرِيٍّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَصِيدُ الصَّيْدَ فَلاَ نَجِدُ سِكِّينًا إِلاَّ الظِّرَارَ وَشِقَّةَ الْعَصَا ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ أَمْرِرِ الدَّمَ بِمَا شِئْتَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৩১৭৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)...... আদী ইবন হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা শিকার ধরে থাকি এবং কখনও আমাদের সাথে ধারালো পাথর বা ধারালো লাঠি ব্যতীত ছুরি থাকে না। তিনি বললেনঃ যা দিয়ে পার রক্ত প্রবাহিত কর এবং যবাহ করার সময় আল্লাহর নাম লও।

৩১৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَكُونُ فِي الْمَغَازِي فَلاَ يَكُونُ مَعَنَا مُدًى فَقَالَ ‏ "‏ مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلْ غَيْرَ السِّنِّ وَالظُّفْرِ فَإِنَّ السِّنَّ عَظْمٌ وَالظُّفْرَ مُدَى الْحَبَشَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩১৭৮। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... রাফি ইন খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে থাকাকালীন আমাদের সাথে ছুরি থাকে না। তিনি বললেনঃ যা দিয়ে রক্ত প্রবাহিত করা যায় তা দিয়ে যবাহ কর এবং তার উপর আল্লাহর নাম স্মরণ কর, অতঃপর খাও। কিন্তু দাঁত ও নখ ব্যতীত (তা দিয়ে যবাহ করা জায়েয নয়)। কারণ দাঁত হল হাড় এবং নখ হল হাবশাবাসীদের ছুরি।

চামড়া তোলার বর্ণনা

بَاب السَّلْخِ

৩১৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ مَيْمُونٍ الْجُهَنِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، - قَالَ عَطَاءٌ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّ بِغُلاَمٍ يَسْلُخُ شَاةً فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ تَنَحَّ حَتَّى أُرِيَكَ ‏"‏ ‏.‏ فَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَدَهُ بَيْنَ الْجِلْدِ وَاللَّحْمِ فَدَحَسَ بِهَا حَتَّى تَوَارَتْ إِلَى الإِبْطِ وَقَالَ ‏"‏ يَا غُلاَمُ هَكَذَا فَاسْلُخْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ مَضَى وَصَلَّى لِلنَّاسِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৭৯। আবু কুরাইব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক যুবকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তখন একটি বকরীর খাল তুলছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তুমি সরে দাঁড়াও, আমি তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চামড়া ও গোশূতের মাঝখান দিয়ে হাত ঢুকালেন, এমন কি বগল পর্যন্ত তাঁর হাত অন্তর্হিত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে বৎস! এভাবে চামড়া ছাড়াও। অতঃপর তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন এবং লোকদের সালাত আদায় করালেন কিন্তু উযূ করেননি।

দুগ্ধবতী পশু যবাহ করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ ذَبْحِ ذَوَاتِ الدَّرِّ

৩১৮০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، جَمِيعًا عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَتَى رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَأَخَذَ الشَّفْرَةَ لِيَذْبَحَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِيَّاكَ وَالْحَلُوبَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৮০। আবু বাক্‌র ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসার ব্যক্তির নিকট এলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য পশু যবাহ করতে ছুরি নিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বললেনঃ সাবধান! দুগ্ধবতী পশু যবাহ করবে না।

৩১৮১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي قُحَافَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَهُ وَلِعُمَرَ ‏"‏ انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى الْوَاقِفِيِّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَانْطَلَقْنَا فِي الْقَمَرِ حَتَّى أَتَيْنَا الْحَائِطَ فَقَالَ مَرْحَبًا وَأَهْلاً ‏.‏ ثُمَّ أَخَذَ الشَّفْرَةَ ثُمَّ جَالَ فِي الْغَنَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِيَّاكَ وَالْحَلُوبَ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ ذَاتَ الدَّرِّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৩১৮১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....আবু বাকর ইবন আবু কুহাফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ও উমার (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তোমরা উভয়ে আমাদের সাথে ওয়াকিফীর নিকট চল। রাবী বলেন, আমরা চাঁদনি রাতে রওনা হলাম এবং অবশেষে (ওয়াকিফীর) বাগানে পৌঁছলাম। ওয়াকিফী বললেন, মারহাবা এবং সাদর সম্ভাষণ। অতঃপর তিনি একটি ছুরিসহ শেষ পালের মধ্যে চক্কর দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ সাবধান! দুগ্ধবতী পশু যবাহ করো না।

স্ত্রীলোকের যবেহকৃত পশুর বিধান

بَاب ذَبِيحَةِ الْمَرْأَةِ

৩১৮২

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنٍ لِكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، ذَبَحَتْ شَاةً بِحَجَرٍ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمْ يَرَ بِهِ بَأْسًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

৩১৮২। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ)...... কা'ব ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈকা স্ত্রীলোক ধারালো পাথরের সাহায্যে একটি বকরী যবাহ করল। তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানানো হলে তিনি তা দূষণীয় মনে করেননি।

পলায়নপর পশু যবাহ করার বর্ণনা

بَاب ذَكَاةِ النَّادِّ مِنْ الْبَهَائِمِ

৩১৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَنَدَّ بَعِيرٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ لَهَا أَوَابِدَ - أَحْسَبُهُ قَالَ - كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৩১৮৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... রাফি ইব্‌ন খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা কোন এক সফরে নবী (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। একটি উট পলায়নে তৎপর হল। এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করল। নবী (ﷺ) বললেনঃ এই চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও কোনটি জংলী পশুর ন্যায় বন্য হয়ে যায়। অতএব তোমরা তাকে কাবু করতে না পারলে তাকে এভাবেই করবে।

৩১৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْعُشَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَكُونُ الذَّكَاةُ إِلاَّ فِي الْحَلْقِ وَاللَّبَّةِ قَالَ ‏ "‏ لَوْ طَعَنْتَ فِي فَخِذِهَا لأَجْزَأَكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবুল উশারা' ↦ তার পিতা (রাঃ) থেকে

৩১৮৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আবুল উশারা (রাযিঃ)-এর পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! কণ্ঠনালী ও বুকের উপরিভাগের মাঝখান ছাড়া কি যবাহ হয় না? তিনি বললেনঃ তুমি যদি তার উরুতে বর্শা ঢুকিয়ে দিতে পার তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।[১]

[১] এখানে নিরূপায় অবস্থায় যবাহ করার কথা বলা হয়েছে। যেমন কোন পশু দেয়ালছাপা পড়েছে, অথবা কোন বন্য পশু ছুটে পালাচ্ছে- এরূপ অবস্থায় দেহের যে স্থানে সম্ভব আঘাত করে যবাহ করা জায়িয। অন্যথায় কণ্ঠনালীতেই যবাহ করা হবে।

কোন প্রাণীকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানানো ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ صَبْرِ الْبَهَائِمِ وَعَنْ الْمُثْلَةِ

৩১৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يُمَثَّلَ بِالْبَهَائِمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৮৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করতে নিষেধ করেছেন।

৩১৮৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ صَبْرِ الْبَهَائِمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১৮৬। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানাতে নিষেধ করেছেন।

৩১৮৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَتَّخِذُوا شَيْئًا فِيهِ الرُّوحُ غَرَضًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১৮৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ......... কোন প্রাণীকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানাবে না।

৩১৮৮

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يُقْتَلَ شَىْءٌ مِنَ الدَّوَابِّ صَبْرًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৮৮। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ কোন প্রাণীকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

বিষ্ঠা খাওয়ায় অভ্যস্ত পশু-পাখী খাওয়া নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ لُحُومِ الْجَلَّالَةِ

৩১৮৯

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ لُحُومِ الْجَلاَّلَةِ وَأَلْبَانِهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১৮৯। সুওয়াইদ ইবন সাঈদ (রাহঃ).....ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষ্ঠা ভক্ষণ অভ্যস্ত পশুর গোশত খেতে ও তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন।

ঘোড়ার গোশত

بَاب لُحُومِ الْخَيْلِ

৩১৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ نَحَرْنَا فَرَسًا فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৩১৯০। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)..... আসমা বিনতে আবু বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর যুগে একটি ঘোড়া যবাহ করে তার গোশত খেয়েছি।

৩১৯১

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَكَلْنَا زَمَنَ خَيْبَرَ الْخَيْلَ وَحُمُرَ الْوَحْشِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৯১। বাকর ইবন খালাফ (রাহঃ)..... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধকালীন সময়ে আমরা ঘোড়া ও বন্য গাধার গোশত খেয়েছি।[১]

[১] ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর মতে ঘোড়ার গোশত আহার করা জায়িয। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ) ও হানাফী আলেমগণের মতে ঘোড়ার গোশত মাকরূপ তাহরিমী।

বন্য গাধার গোশত

بَاب لُحُومِ الْحُمُرِ الْوَحْشِيَّةِ

৩১৯২

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ، فَقَالَ أَصَابَتْنَا مَجَاعَةٌ يَوْمَ خَيْبَرَ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَقَدْ أَصَابَ الْقَوْمُ حُمُرًا خَارِجًا مِنَ الْمَدِينَةِ فَنَحَرْنَاهَا وَإِنَّ قُدُورَنَا لَتَغْلِي إِذْ نَادَى مُنَادِي النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنِ اكْفَئُوا الْقُدُورَ وَلاَ تَطْعَمُوا مِنْ لُحُومِ الْحُمُرِ شَيْئًا ‏.‏ فَأَكْفَأْنَاهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى حَرَّمَهَا تَحْرِيمًا قَالَ تَحَدَّثْنَا أَنَّمَا حَرَّمَهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَلْبَتَّةَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهَا تَأْكُلُ الْعَذِرَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩১৯২। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)..... আবু ইসহাক শাইবানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবু আওফা (রাযিঃ)-র নিকট গৃহপালিত গাধার গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, খায়বারের যুদ্ধকালীন আমরা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হই। আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। লোকেরা মদীনার বাইরে কিছু গাধা পেল। আমরা তা যবাহ করলাম। আমাদের হ্যাঁড়িতে গোশত টগবগ করছিল। ইতিমধ্যে নবী (ﷺ) -এর আহবানকারী ঘোষণা করল যে, হ্যাঁড়ীগুলো উল্টে ফেলে দাও এবং গাধার গোশত থেকে কিছুই খেও না। অতএব আমরা হ্যাঁড়িগুলো উল্টে ফেলে দিলাম। আমি আব্দুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাস করলাম, তিনি কি তা চূড়ান্তভাবে হারাম করেছেন? রাবী বলেন, আপনি আমাদের জানিয়ে দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা কি বিষ্ঠা খাওয়ার কারণে হারাম করেছেন ?

৩১৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ الْكِنْدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَرَّمَ أَشْيَاءَ حَتَّى ذَكَرَ الْحُمُرَ الإِنْسِيَّةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

৩১৯৩। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... মিকদাম ইন মা'দীকারাব কিন্দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতগুলো জিনিস হারাম ঘোষণা করেন, তার মধ্যে গৃহপালিত গাধার কথাও উল্লেখ করেন।

৩১৯৪

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نُلْقِيَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ نِيئَةً وَنَضِيجَةً ثُمَّ لَمْ يَأْمُرْنَا بِهِ بَعْدُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৩১৯৪। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)..... বারাআ ইব্‌ন আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে গৃহপালিত গাধার কাঁচা গোশত ও রান্না করা গোশত সব ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী কালে তিনি আর তা (খাওয়ার) হুকুম দেননি।

৩১৯৫

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ غَزْوَةَ خَيْبَرَ فَأَمْسَى النَّاسُ قَدْ أَوْقَدُوا النِّيرَانَ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ عَلاَمَ تُوقِدُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا عَلَى لُحُومِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ فَقَالَ ‏"‏ أَهْرِيقُوا مَا فِيهَا وَاكْسِرُوهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَوْ نُهَرِيقُ مَا فِيهَا وَنَغْسِلُهَا فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَوْ ذَاكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৩১৯৫। ইয়াকূব ইব্‌ন হুমাইদ ইবন কাসির (রাহঃ)...... সালামা ইব্‌ন আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাথে খায়বারের যুদ্ধ করেছি। সন্ধ্যা হলে লোকেরা চুলায় আগুন ধরালো। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাস করলেনঃ তোমরা কী রান্না করছ ? তারা বল্লেন, গৃহপালিত গাধার গোশত। তিনি বললেনঃ হ্যাঁড়ীতে যা কিছু আছে তা ফেলে দাও এবং হ্যাঁড়িগুলো ভেঙ্গে ফেল। দলের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, হ্যাঁড়ির মধ্যে যা আছে আমরা তা ফেলে দিয়ে হ্যাঁড়ী ধুয়ে নিতে পারি? তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আচ্ছা তাই কর।

৩১৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ مُنَادِيَ النَّبِيِّ، ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَادَى إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ فَإِنَّهَا رِجْسٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১৯৬। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর আহবানকারী ঘোষণা করলেন- নিশ্চিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কারণ তা নাপাক।

খচ্চরের গোশত

بَاب لُحُومِ الْبِغَالِ

৩১৯৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا الثَّوْرِيُّ وَمَعْمَرٌ جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا نَأْكُلُ لُحُومَ الْخَيْلِ قُلْتُ فَالْبِغَالُ قَالَ لَا

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩১৯৭। আমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ঘোড়ার গোশত আহার করতাম। (রাবী আতা বলেন) আমি বললাম, খচ্চরের গোশত? তিনি বললেন, না।

৩১৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ لُحُومِ الْخَيْلِ وَالْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

৩১৯৮। মুহাম্মাদ ইবন মুসাফ্ফা (রাহঃ)...... খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ার গোশত, খচ্চরের গোশত ও গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

পেটের বাচ্চার জন্য তার মায়ের যবাহ-ই যথেষ্ট

بَاب ذَكَاةِ الْجَنِينِ ذَكَاةُ أُمِّهِ

৩১৯৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ وَعَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَأَلْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْجَنِينِ فَقَالَ كُلُوهُ إِنْ شِئْتُمْ فَإِنَّ ذَكَاتَهُ ذَكَاةُ أُمِّهِ’ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ سَمِعْتُ الْكَوْسَجَ إِسْحَقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ فِي قَوْلِهِمْ فِي الذَّكَاةِ لَا يُقْضَى بِهَا مَذِمَّةٌ قَالَ مَذِمَّةٌ بِكَسْرِ الذَّالِ مِنْ الذِّمَامِ وَبِفَتْحِ الذَّالِ مِنْ الذَّمِّ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১৯৯। আবু কুরাইব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গর্ভবতী পশুর পেটের বাচ্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা ইচ্ছা করলে তা খেতে পার। কেননা তার মায়ের যবাহ তার যবাহ-এর জন্য যথেষ্ট।[১]

[১] গর্ভবতী পশু যবাহ করা হাদীসে নিষেধ আছে। কিন্তু অজান্তে অথবা অসতর্কতা বশত তা যবাহ করা হলে এবং তার পেট থেকে পূর্ণাংগ বাচ্চা বের হলে- এই বাচ্চার গোশত খাওয়ায় কোন দোষ নেই। বাচ্চা জীবন্ত বের হলে সকল বিশেষজ্ঞের মতেই তা যবাহ করতে হবে। একক্ষেত্রে তার মায়ের যবাহ তার জন্য যথেষ্ট হবে না। বাচ্চা পূর্ণাঙ্গ না হলে তা ফেলে দেবে। ইমাম মালিকেরও এই মত। কিন্তু ইমাম আযম আবু হানীফা ও যুফারের মতে, পেট থেকে বাচ্চা মৃত বের হলে তা খাওয়া যাবে না। ইমাম আহমাদ ও শাফিঈর মতে অপূর্ণাঙ্গ বাচ্চা হলেও তার গোশত খাওয়া যাবে।