أبواب الكفارات

১১. শপথ এবং কাফফারা সংক্রান্ত অধ্যায়

অধ্যায় ১১ · ৪৭ টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে কসম করতেন

بَاب يَمِينِ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّتِي كَانَ يَحْلِفُ بِهَا

২০৯০

- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ رِفَاعَةَ الْجُهَنِيِّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَلَفَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে ইরাবা জুহানী (রাঃ)

২০৯০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....রিফা'আ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন কসম করতেন, তখন বলতেনঃ সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ।

২০৯১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ عَرَابَةَ الْجُهَنِيِّ قَالَ كَانَتْ يَمِينُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي يَحْلِفُ بِهَا أَشْهَدُ عِنْدَ اللهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে ইরাবা জুহানী (রাঃ)

২০৯১। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ).... রিফা'আ ইবন ইরাবা জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিয়ে কসম করতেন, তা ছিলঃ আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ।

২০৯২

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الشَّافِعِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ عَنْ عَبَّادِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَتْ أَكْثَرُ أَيْمَانِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا وَمُصَرِّفِ الْقُلُوبِ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৯২। আবু ইসহাক শাফিয়ী ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আব্বাস (রাহঃ).... সালিমের পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর অধিকাংশ কসম ছিলঃ “না, অন্তরের পরিবর্তন সৃষ্টিকারীর কসম!”

২০৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ ح و حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَتْ يَمِينُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৯৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও ইয়াকুব ইবন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কসম এমন ছিলঃ “না, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।"

আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ أَنْ يُحْلَفَ بِغَيْرِ اللهِ

২০৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَهُ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ فَمَا حَلَفْتُ بِهَا ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا.

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২০৯৪। মুহাম্মাদ ইবন আবু উমর আদানী (রাহঃ).... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর (রাযিঃ)-কে তার পিতার নামে কসম করতে শুনলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি নিজে ইচ্ছা করে এবং অন্যের কথা উদ্ধৃতি দিতে গিয়েও আর পিতার নামে কসম করিনি।

২০৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَحْلِفُوا بِالطَّوَاغِي وَلاَ بِآبَائِكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

২০৯৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)..... আব্দুর রহমান ইবন সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা প্রতিমা ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করবে না।

২০৯৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي يَمِينِهِ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৯৬। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসম করতে গিয়ে যে এমন বললোঃ “লাত ও উযযার কসম!" সে যেন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু কালিমা পাঠ করে নেয়।

২০৯৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ حَلَفْتُ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ثُمَّ انْفُثْ عَنْ يَسَارِكَ ثَلاَثًا وَتَعَوَّذْ وَلاَ تَعُدْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২০৯৭। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও হাসান ইবন আলী খাল্লাল (রাহঃ).... সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার লা'ত ও উযযার নামে কসম করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি এই বাক্যটি পাঠ করে নাওঃ اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ পরে তিনবার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ কর ও শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। আর কখনো এরূপ করবে না।

ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মিল্লাতের কসম করা

بَاب مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ الْإِسْلَامِ

২০৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ سِوَى الْإِسْلَامِ كَاذِبًا مُتَعَمِّدًا فَهُوَ كَمَا قَالَ

বর্ণনাকারী: ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাঃ)

২০৯৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ).... ছাবিত ইবনু যাহ্হাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য মিল্লাতের মিথ্যা কসম করে, তবে সে তাই হয়ে যাবে, যা সে বলেছে।

২০৯৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَرَّرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يَقُولُ أَنَا إِذًا لَيَهُودِيٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০৯৯। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে এমন বলতে শুনলেনঃ আমি যদি এরূপ করি তবে আমি ইয়াহুদী। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সাব্যস্ত হয়ে গেল।[১]

[১] এ কথার মর্ম হলোঃ সে ইয়াহুদী সাব্যস্ত হয়ে গেল।
২১০০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الإِسْلاَمِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَإِنْ كَانَ صَادِقًا لَمْ يَعُدْ إِلَيْهِ الإِسْلاَمُ سَالِمًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২১০০। আমর ইবন রাফে বাযালী .... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে যে, আমি তো ইসলাম থেকে মুক্ত, সে যদি মিথ্যাও বলে থাকে, তবুও সে যেমন বলেছে, তেমনই হবে। আর যদি সে সত্য বলে থাকে, তবুও ইসলাম আর তার কাছে নিরাপদে ফিরে আসে না।

যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট হয়

بَاب مَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللهِ فَلْيَرْضَ

২১০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلاً يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ وَمَنْ لَمْ يَرْضَ بِاللَّهِ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১০১। মুহাম্মাদ ইবন ইসমায়ীল ইবন সামুরা (রাযিঃ).... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে তার পিতার নামে কসম করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন তা সত্যে পরিণত করে। আর যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে সন্তুষ্ট হয় না, তার আল্লাহর সাথে কোন সম্পর্ক থাকে না।

২১০২

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ النَّضْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ رَأَى عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَجُلاً يَسْرِقُ فَقَالَ أَسَرَقْتَ قَالَ لاَ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ ‏.‏ فَقَالَ عِيسَى آمَنْتُ بِاللَّهِ وَكَذَّبْتُ بَصَرِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০২। ইয়াকুব ইবন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ 'ঈসা ইবন মারয়াম জনৈক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি চুরি করলে? সে বললঃ “না! সে সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই।" তখন 'ঈসা (আ) বললেনঃ আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমার চোখকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলাম।

কসমের পরিণাম হলো গুনাহ অথবা অনুতাপ

بَاب الْيَمِينُ حِنْثٌ أَوْ نَدَمٌ

২১০৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ بَشَّارِ بْنِ كِدَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّمَا الْحَلِفُ حِنْثٌ أَوْ نَدَمٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১০৩। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বস্তুত কসমের পরিণাম হলো গুনাহ অথবা অনুতাপ।

কসমে ইসতিছনা শব্দ যুক্ত করা

بَاب الِاسْتِثْنَاءِ فِي الْيَمِينِ

২১০৪

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَلَهُ ثُنْيَاهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৪। আব্বাস ইবন আব্দুল আযীম আম্বরী (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করে এবং বলেঃ “ইনশাআল্লাহ,"— আল্লাহ চাহেন তো, তার এ ইসতিছনা কার্যকর হবে।

২১০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ وَاسْتَثْنَى إِنْ شَاءَ رَجَعَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ غَيْرُ حَانِثٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১০৫। মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ (রাহঃ)...ইবন 'উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছনঃ যে ব্যক্তি কসম করে, আর ইসতিছনা শব্দ যুক্ত করে (ইনশাআল্লাহ), সে ইচ্ছা করলে বক্তব্য থেকে ফিরে যেতে পারে, অথবা সে তা পরিত্যাগ করতে পারে। এতে সে শপথ ভঙ্গকারী বলে গণ্য হবে না।

২১০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رِوَايَةً قَالَ مَنْ حَلَفَ وَاسْتَثْنَى فَلَنْ يَحْنَثْ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১০৬। 'আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ যুহরী (রাহঃ)....ইবন 'উমর (রাযিঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বরাতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করে আর ইসতিছনা শব্দ যুক্ত করে, সে শপথ ভঙ্গকারী বলে গণ্য হবে না।

কোন কিছুর উপর কসম করার পর এর চেয়ে উত্তম দেখলে

بَاب مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا

২১০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَاللَّهِ مَا أَحْمِلُكُمْ وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أُتِيَ بِإِبِلٍ فَأَمَرَ لَنَا بِثَلاَثَةِ إِبِلٍ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَلاَّ يَحْمِلَنَا ثُمَّ حَمَلَنَا ارْجِعُوا بِنَا ‏.‏ فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَتَيْنَاكَ نَسْتَحْمِلُكَ فَحَلَفْتَ أَنْ لاَ تَحْمِلَنَا ‏.‏ ثُمَّ حَمَلْتَنَا فَقَالَ ‏"‏ وَاللَّهِ مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ حَمَلَكُمْ وَاللَّهِ مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ بَلِ اللَّهُ حَمَلَكُمْ إِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২১০৭। আহমদ ইবন 'আব্দা (রাহঃ)...... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আশ আরীদের একটি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে বাহন চাইতে এসেছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহন দিতে পারব না। আমার কাছে এমন কিছুই নেই, যার উপর আমি তোমাদের আরোহণ করাতে পারি। রাবী বলেনঃ আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এরপর (রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে) কিছু উট আনা হলো। তখন তিনি আমাদের জন্য তিনটি উজ্জ্বল কুঁজ বিশিষ্ট উট দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন ফিরে যাচ্ছিলাম, তখন আমাদের একজন অপরজনকে বললোঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বাহন চাইতে এসেছিলাম, তখন তিনি কসম খেয়ে বলেছিলেন যে, তিনি আমাদের বাহন দিতে পারবেন না। পরে আবার তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। তখন বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তো তোমাদের বাহন দেইনি, বরং আল্লাহই তো তোমাদের দিয়েছেন। আর আমি, আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ চান, যখন কোন ব্যাপারে কসম করার পর এরচেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাই, তখন আমি আমার কসমের কাফ্ফারা আদায় করি এবং আমি সেই ভাল কাজটি করি। অথবা তিনি বলেনঃ আমি সেই ভাল কাজটি করি এবং আমার কসমের কাফ্ফারা আদায় করে দেই।

২১০৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২১০৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আব্দুল্লাহ ইবন আমির ইবন যুরারা (রাহঃ).... 'আদী ইবন হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ কসম করার পর যদি অন্য কিছু এর চেয়ে উত্তম বিবেচনা করে, তবে সে যেন ঐ উত্তম কাজটি করে এবং তার কসমের কাফ্ফারা আদায় করে দেয়।

২১০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزَّعْرَاءِ، عَمْرُو بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَمِّهِ أَبِي الأَحْوَصِ، عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْجُشَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَأْتِينِي ابْنُ عَمِّي فَأَحْلِفُ أَنْ لاَ، أُعْطِيَهُ وَلاَ أَصِلَهُ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ كَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াহব জুশামী (রাঃ)

২১০৯। মুহাম্মাদ ইবন আবু উমর 'আদানী (রাহঃ).... মালিক জুশামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমার কাছে আমার চাচাতো ভাই আসলে আমি কসম খেয়ে বলি যে, আমি তাকে কিছু দেব না এবং আমি তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করব না। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার কসমের কাফ্ফারা আদায় করে দাও।

যারা বলে— মন্দ বিষয়ে কসমের কাফ্ফারা হলো কাজটি বর্জন করা

بَاب مَنْ قَالَ كَفَّارَتُهَا تَرْكُهَا

২১১০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ فِي قَطِيعَةِ رَحِمٍ أَوْ فِيمَا لاَ يَصْلُحُ فَبِرُّهُ أَنْ لاَ يَتِمَّ عَلَى ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১১০। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ অথবা অন্য কোন অনুচিত বিষয়ে কসম করে, তবে তার জন্য ঐ কাজটি সম্পন্ন না করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে।

২১১১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، ‏.‏ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَتْرُكْهَا فَإِنَّ تَرْكَهَا كَفَّارَتُهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২১১১। 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্দুল মু'মিন ওয়াসিতী (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করার পর দেখে যে, অন্যকিছু এর চাইতে উত্তম, তখন সে যে জন্য কসম করেছিল; তা যেন পরিত্যাগ করে। কেননা, এটা বর্জন করাই এর কাফফারা।

কসমের কাফ্ফারার পরিমাণ

بَاب كَمْ يُطْعَمُ فِي كَفَّارَةِ الْيَمِينِ

২১১২

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْلَى الثَّقَفِيُّ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَفَّرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ وَأَمَرَ النَّاسَ بِذَلِكَ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَنِصْفُ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১২। 'আব্বাস ইবন ইয়াযীদ (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা' খোরমা দিয়ে কাফ্ফারা আদায় করেছিলেন এবং লোকদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে, অবশ্য যদি তা না পায়, তবে অর্ধ সা' গম আদায় করবে।

তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনকে যে খাবার দাও, তার মধ্যম মান

بَاب مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ

২১১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ يَقُوتُ أَهْلَهُ قُوتًا فِيهِ سَعَةٌ وَكَانَ الرَّجُلُ يَقُوتُ أَهْلَهُ قُوتًا فِيهِ شِدَّةٌ فَنَزَلَتْ (مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ).

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন কোন লোক তার পরিবার-পরিজনকে খুব উদার হাতে আহার দান করত। আর কেউ কেউ খুব হিসাব করে খরচ করত। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ— مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ

অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের পরিজনদের যা খেতে দাও, তার মধ্যম ধরনের।"
কারো মন্দ কাজের কসম করে তার উপর অবিচল থাকা ও
কাফ্ফারা আদায় না করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ أَنْ يَسْتَلِجَّ الرَّجُلُ فِي يَمِينِهِ وَلَا يُكَفِّرَ

২১১৪
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الْمَعْمَرِيُّ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا اسْتَلَجَّ أَحَدُكُمْ فِي الْيَمِينِ فَإِنَّهُ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْكَفَّارَةِ الَّتِي أُمِرَ بِهَا ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْوُحَاظِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১১৪। সুফয়ান ইবন অকী' (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসিম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন অসঙ্গত কসমের উপর অটল থাকে, তখন সে আল্লাহর কাছে অপরাধী গণ্য হয়। তার উচিত আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত কাফফারা আদায় করে দেওয়া।
মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

কসমকারীর দায়মুক্তিতে সাহায্য করা

بَاب إِبْرَارِ الْمُقْسِمِ

২১১৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২১১৫। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....বারা ইবন আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কসমকারীর দায় মুক্তিতে সাহায্য করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

২১১৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَفْوَانَ، أَوْ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيِّ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ جَاءَ بِأَبِيهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لأَبِي نَصِيبًا فِي الْهِجْرَةِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّهُ لاَ هِجْرَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَانْطَلَقَ فَدَخَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ فَقَالَ قَدْ عَرَفْتَنِي فَقَالَ أَجَلْ ‏.‏ فَخَرَجَ الْعَبَّاسُ فِي قَمِيصٍ لَيْسَ عَلَيْهِ رِدَاءٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَرَفْتَ فُلاَنًا وَالَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ جَاءَ بِأَبِيهِ لِيُبَايِعَكَ عَلَى الْهِجْرَةِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّهُ لاَ هِجْرَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الْعَبَّاسُ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ ‏.‏ فَمَدَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَدَهُ فَمَسَّ يَدَهُ فَقَالَ ‏"‏ أَبْرَرْتُ عَمِّي وَلاَ هِجْرَةَ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ يَعْنِي لاَ هِجْرَةَ مِنْ دَارٍ قَدْ أَسْلَمَ أَهْلُهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২১১৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আব্দুর রহমান ইবন সফওয়ান অথবা সফওয়ান ইবন আব্দুর রহমান কুরাশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের দিন আব্দুর রহমান তার পিতাকে নিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমার পিতাকে হিজরতে শরীক রাখুন। তখন তিনি বললেনঃ আর তো হিজরত নেই। তখন তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আপনি কি আমাকে চেনেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর আব্বাস (রাযিঃ) একটি জামা গায়ে, চাদর বিহীন অবস্থায় বেরিয়ে পড়লেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আপনি তো এই লোকটিকে চিনেন এবং তার ও আমাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতাও আপনি জানেন। লোকটি তার পিতাকে নিয়ে এসেছে, যেন আপনি তাকে হিজরতের উপর বায়'আত করান। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এখন তো আর হিজরত নেই। তখন আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ আপনাকে কসম দিয়ে বলছি। তখন নবী তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন ও লোকটির হাত স্পর্শ করলেন এবং বললেনঃ আমি কেবল আমার চাচার শপথ পূর্ণ করলাম। আসলে এখন আর হিজরত নেই।
মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....ইয়াযীদ ইবন আবু যিয়াদ (রাহঃ) থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ
বর্ণিত।
ইয়াযীদ ইবন আবু যিয়াদ (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথার মর্ম এই যে, যে দেশের অধিবাসীগণ ইসলাম গ্রহণ করেছে, সে দেশ থেকে আর হিজরত করে অন্যত্র যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও এরূপ বলা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ أَنْ يُقَالَ مَا شَاءَ اللهُ وَشِئْتَ

২১১৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَجْلَحُ الْكِنْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا حَلَفَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَقُلْ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ ‏.‏ وَلَكِنْ لِيَقُلْ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১১৭। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... ইবন 'আববাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ শপথ করে, তখন সে যেন এমন না বলে, আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা ইচ্ছা কর । বরং সে যেন বলেঃ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, এরপর তুমি যা ইচ্ছা কর।

২১১৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الْمُسْلِمِينَ رَأَى فِي النَّوْمِ أَنَّهُ لَقِيَ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَقَالَ نِعْمَ الْقَوْمُ أَنْتُمْ لَوْلاَ أَنَّكُمْ تُشْرِكُونَ تَقُولُونَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ ‏.‏ وَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ "‏ أَمَا وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَعْرِفُهَا لَكُمْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ مُحَمَّدٌ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ سَخْبَرَةَ، أَخِي عَائِشَةَ لأُمِّهَا عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِنَحْوِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২১১৮। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ).... হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একজন মুসলমান স্বপ্নে দেখল যে, সে আহলে কিতাবের জনৈক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করেছে। আহলে কিতাবের লোকটি বললঃ তোমরা কতই ভাল জাতি। যদি তোমরা শিরক না করতে! তোমরা তো বলে থাকঃ “আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, আর মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন। পরে তিনি স্বপ্নের কথাটি নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করেন। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তো তোমাদের এরূপ কিছু বলতে শিখাইনি। বরং তোমরা বলবেঃ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, এরপর মুহাম্মাদ (ﷺ) যা চান।

মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ).... 'আয়েশা (রাযিঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভাই তুফায়ল ইবন সাখবারা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

শপথের সময় কেউ যদি মনের ইচ্ছা গোপন রাখে

بَاب مَنْ وَرَّى فِي يَمِينِهِ

২১১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ جَدَّتِهِ، عَنْ أَبِيهَا، سُوَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ خَرَجْنَا نُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَعَنَا وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ فَأَخَذَهُ عَدُوٌّ لَهُ فَتَحَرَّجَ النَّاسُ أَنْ يَحْلِفُوا فَحَلَفْتُ أَنَا أَنَّهُ أَخِي فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ الْقَوْمَ تَحَرَّجُوا أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَا أَنَّهُ أَخِي فَقَالَ ‏ "‏ صَدَقْتَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে হানযালা (রাঃ)

২১১৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও ইয়াইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ)..... সুওয়াদ ইবন হানযালা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খোঁজে বের হলাম। এ সময় আমাদের সাথে ছিলেন ওয়ায়েল ইবন হুজর। তার শত্রু তাকে ধরে ফেলল। তখন কেউ শপথ করতে রাযী হল না। আমি শপথ করে বললামঃ সে আমার ভাই। এ কথা বলায় শত্রুগণ তাকে ছেড়ে দিল। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে জানালাম যে, কাওমের লোকেরা কসম করতে রাযী হয়নি, আমি কসম করে বলেছিলাম, সে আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি সত্যই বলেছ, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই।

২১২০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّمَا الْيَمِينُ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২০। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসম হবে হলফ দানকারীর নিয়্যতের ভিত্তিতে।

২১২১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ بِهِ صَاحِبُكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২১। 'আমর ইবন রাফি' (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার কসম সে ভিত্তিতেই হবে, যা হলফদানকারী সত্যায়ন করে।

মানতের নিষিদ্ধতা

بَاب النَّهْيِ عَنْ النَّذْرِ

২১২২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنِ النَّذْرِ وَقَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ اللَّئِيمِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১২২। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, এর দ্বারা কেবল মাত্র কৃপণের কিছু ধন বের করে আনা হয়।

২১২৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ النَّذْرَ لاَ يَأْتِي ابْنَ آدَمَ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَا قُدِّرَ لَهُ وَلَكِنْ يَغْلِبُهُ الْقَدَرُ مَا قُدِّرَ لَهُ فَيُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ فَيَتَيَسَّرُ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ يَتَيَسَّرُ عَلَيْهِ مِنْ قَبْلِ ذَلِكَ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২৩। আহমদ ইবন ইয়ূসুফ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানত আদম সন্তানকে তার জন্য নির্ধারিত বস্তুর অতিরিক্ত কিছু দেয় না। তবে, অনেক সময় তাকদীর বিলম্বিত হয় এবং অবসরে কৃপণ লোক থেকে কিছু সম্পদ বের করে আনা হয়। আর তখন তার জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে যায়, যা আগে সহজ ছিল না। অথচ আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তুমি খরচ কর, আমি তোমার উপর খরচ করব।"

পাপ কাজের মানত

بَاب النَّذْرِ فِي الْمَعْصِيَةِ

২১২৪

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَلاَ نَذْرَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২১২৪। সাহল ইবন আবু সাহল (রাহঃ)..... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাপ কাজে কোন মানত নেই; আর আদম সন্তান যে কাজের ক্ষমতা না। রাখে, সেখানে কোন মানত নেই।

২১২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ أَبُو طَاهِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১২৫। আহমদ ইবন আমর ইবন সারাহ মিসরী আবু তাহির (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গুনাহের কাজে কোন মানত নেই। আর এর কাফ্ফারা হলো কসমের কাফ্ফারার মত।

২১২৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১২৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ পালনের মানত করে, সে যেন তা আদায় করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতার মানত করে, সে যেন অবাধ্যতা না করে।

কেউ যদি কোন কিছুর নাম না নিয়ে শুধু মানত করে

بَاب مَنْ نَذَرَ نَذْرًا وَلَمْ يُسَمِّهِ

২১২৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ نَذَرَ نَذْرًا وَلَمْ يُسَمِّهِ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২১২৭। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... উকবা ইবন আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কিছুর উল্লেখ না করে শুধু মানত করে, তবে তার কাফফারা হবে কসমের কাফফারার মত।

২১২৮

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَارِجَةُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ نَذَرَ نَذْرًا وَلَمْ يُسَمِّهِ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُطِقْهُ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا أَطَاقَهُ فَلْيَفِ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১২৮। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন কিছুর উল্লেখ না করে মানত করে, তবে তার কাফ্ফারা হবে কসমের কাফফারার মত। আর যে ব্যক্তি এমন মানত করে, যা পূরণ করার সাধ্য তার নেই, তবে এর কাফফারা হবে কসমের কাফ্ফারার ন্যায়। আর যে ব্যক্তি এমন মানত করে, যা আদায়ের সে ক্ষমতা রাখে; তবে সে যেন তা পূরণ করে।

মানত আদায় প্রসঙ্গ

بَاب الْوَفَاءِ بِالنَّذْرِ

২১২৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ نَذَرْتُ نَذْرًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعْدَ مَا أَسْلَمْتُ فَأَمَرَنِي أَنْ أُوفِيَ بِنَذْرِي ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২১২৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....উমর ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়্যাত যুগে একটি মানত করেছিলাম। ইসলাম গ্রহণের পর আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি আমাকে মানত আদায় করার নির্দেশ দেন।

২১৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، أَنْبَأَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ بِبُوَانَةَ فَقَالَ ‏"‏ فِي نَفْسِكَ شَىْءٌ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَوْفِ بِنَذْرِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩০। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ও আব্দুল্লাহ ইবন ইসহাক জাওহারী (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমি 'বাওয়ানা' নামক স্থানে একটি কুরবানী করার মানত করেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার মধ্যে কি জাহিলিয়াতের কোন চিন্তাধারা অবশিষ্ট রয়েছে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমার মানত পুরা করে নাও।

২১৩১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطَّائِفِيِّ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ كَرْدَمٍ الْيَسَارِيَّةِ، أَنَّ أَبَاهَا، لَقِيَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهِيَ رَدِيفَةٌ لَهُ فَقَالَ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ بِبُوَانَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ هَلْ بِهَا وَثَنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَوْفِ بِنَذْرِكَ ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مِقْسَمٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ كَرْدَمٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِنَحْوِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২১৩১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....মায়মুনা বিনত কুরদাম ইয়াসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা একবার নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তখন মায়মূনা তার পিতার সাথে একই বাহনে পিছনে বসা ছিলেন। মায়মূনার পিতা বলেনঃ আমি 'বাওয়ানা' নামক স্থানে একটি কুরবানী করার মানত করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ সেখানে কি কোন প্রতিমা আছে? তিনি বললেনঃ না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার মানত আদায় করে নাও। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....মায়মূনা বিনত কুরদাম (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

মানত আদায় না করে যে মারা যায়

بَاب مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ نَذْرٌ

২১৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ تُوُفِّيَتْ وَلَمْ تَقْضِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اقْضِهِ عَنْهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩২। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবন 'উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার মায়ের একটি মানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন- যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমিই তার পক্ষ থেকে মানত আদায় করে দাও।

২১৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ‏.‏ أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَتْ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرُ صِيَامٍ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لِيَصُمْ عَنْهَا الْوَلِيُّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৩৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললোঃ আমার মায়ের উপর সাওমের মানত ছিল। কিন্তু তা আদায় করার আগেই তিনি মারা গিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার পক্ষ থেকে ওলী যেন সাওম আদায় করে নেয়।

যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে হজ্জ করার মানত করে

بَاب مَنْ نَذَرَ أَنْ يَحُجَّ مَاشِيًا

২১৩৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الرُّعَيْنِيِّ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَالِكٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ حَافِيَةً غَيْرَ مُخْتَمِرَةٍ وَأَنَّهُ ذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ "‏ مُرْهَا فَلْتَرْكَبْ وَلْتَخْتَمِرْ وَلْتَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২১৩৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... উকবা ইবন আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর বোন একবার মানত করেছিলেন যে, তিনি খালি পায়ে হেঁটে মুখ খোলা অবস্থায় হজ্জ আদায় করবেন। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে বল, সে যেন বাহনে আরোহন করে ও মুখ ঢেকে রাখে। আর তিন দিন সাওম পালন করে।

২১৩৫

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَأَى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ شَيْخًا يَمْشِي بَيْنَ ابْنَيْهِ فَقَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنَاهُ نَذْرٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْكَبْ أَيُّهَا الشَّيْخُ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكَ وَعَنْ نَذْرِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৩৫। ইয়াকুব ইবন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একবার এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সে তার দু'ছেলেকে ধরে হেঁটে যাচ্ছে। তখন তিনি বললেনঃ এ ব্যক্তির কি হয়েছে? ছেলেরা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! এটা তার মানত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে বুড়ো! তুমি কোন যানবাহনে আরোহণ কর; কেননা, আল্লাহ তোমার এই কষ্ট ও মানতের মুখাপেক্ষী নন।

যে ব্যক্তি মানতের মধ্যে পাপের সাথে পূণ্য মিলিয়ে নেয়

بَاب مَنْ خَلَطَ فِي نَذْرِهِ طَاعَةً بِمَعْصِيَةٍ

২১৩৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّ بِرَجُلٍ بِمَكَّةَ وَهُوَ قَائِمٌ فِي الشَّمْسِ فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَذَرَ أَنْ يَصُومَ وَلاَ يَسْتَظِلَّ إِلَى اللَّيْلِ وَلاَ يَتَكَلَّمَ وَلاَ يَزَالَ قَائِمًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لِيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَجْلِسْ وَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَنَبَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ وُهَيْبٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৩৬। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, লোকটি রোদে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কি? লোকেরা বললোঃ এ লোকটি মানত করেছে যে, সে সাওম পালন করবে, আর সারাদিন ছায়া গ্রহণ করবে না, কথা বলবে না এবং সারাক্ষণ দাঁড়িয়েই থাকবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে যেন কথা বলে, ছায়া গ্রহণ করে, বসে যায় এবং সাওম পূর্ণ করে নেয়।
হুসায়ন ইবন মুহাম্মাদ ইবন শায়বা ওয়াসিতী (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।