كتاب الوصايا و الفرائض

২১. ওয়াসিয়্যাত ও উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধ্যায়

অধ্যায় ২১ · ৫৮ টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ্ কি ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন?

بَاب هَلْ أَوْصَى رَسُولُ اللهِ ﷺ

২৬৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَلاَ شَاةً وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ أَوْصَى بِشَىْءٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬৯৫। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ইবন নুমায়র, আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রেখে যাননি কোন দীনার না কোন দিরহাম না বকরী আর না কোন উট। আর তিনি ওয়াসিয়্যাতও করেন কোন জিনিসের।

২৬৯৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى أَوْصَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ قَالَ لاَ ‏.‏ قُلْتُ فَكَيْفَ أَمَرَ الْمُسْلِمِينَ بِالْوَصِيَّةِ قَالَ أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏
قَالَ مَالِكٌ وَقَالَ طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ قَالَ الْهُزَيْلُ بْنُ شُرَحْبِيلَ أَبُو بَكْرٍ كَانَ يَتَأَمَّرُ عَلَى وَصِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَّ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ وَجَدَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهْدًا فَخَزَمَ أَنْفَهُ بِخِزَامٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে মুসাররিফ (রহঃ)

২৬৯৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... তালহা ইবন মুসারিফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ্ ইবন আবু আওফা (রাযিঃ)-কে বললামঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি কোন জিনিসের ওসিয়্যাত করেছিলেন? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে মুসলিমদেরকে কিভাবে ওসিয়্যাতের হুকুম দিলেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহর কিতাবের ওসিয়্যাত করেছেন তিনি। তালহা ইবন মুসারিরফ বলেনঃ হুযায়ল ইবন শুরাহবীল বলেছেনঃ আবু বকর (রাযিঃ) কি রাসূল (ﷺ) এর ওসিয়্যাতকৃত ব্যক্তির উপর খিলাফাত করতে পারতেন? আবু বকর (রাযিঃ) এর অবস্থা তো এই ছিল যে, তিনি যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে কোন হুকুম পেতেন তাহলে (অনুগত উটের ন্যায়) নিজের নাকে তার লাগাম পরে নিতেন।

২৬৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَتْ عَامَّةُ وَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ وَهُوَ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ ‏ "‏ الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৯৭। আহমাদ ইবন মিক্‌দাম (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যখন ওফাত নিকটবর্তী হয়েছিল এবং তাঁর শ্বাস আটকে যাচ্ছিল, তখন তার সাধারণ ওয়াসিয়্যাত এই ছিল যে, সালাত এবং তোমাদের দাস-দাসীর প্রতি খেয়াল রাখবে।

২৬৯৮

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كَانَ آخِرُ كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৯৮। সাহাল ইবন আবু সাহল (রাহঃ)....'আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ঃ (শরয়ী-আহকাম সম্পর্কে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর শেষ কথা ছিলঃ সালাত এবং তোমাদের দাস-দাসীর (প্রতি খেয়াল রাখবে)।

ওয়াসিয়্যাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান

بَاب الْحَثِّ عَلَى الْوَصِيَّةِ

২৬৯৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَبِيتَ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৯৯। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমানের এটা উচিৎ নয় যে, সে দু'টি রাত কাটাবে অথচ তার কাছে ওয়াসিয়্যাত করার মত জিনিস থাকা সত্ত্বেও তার ওয়াসিয়্যাত তার কাছে লিখিত থাকবে না।

২৭০০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا دُرُسْتُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْمَحْرُومُ مَنْ حُرِمَ وَصِيَّتَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭০০। নসর ইবন 'আলী জাহ্যামী (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (প্রকৃত) বঞ্চিত সেই ব্যক্তি, যে ওয়াসিয়্যাত থেকে বঞ্চিত থাকে।

২৭০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ مَاتَ عَلَى وَصِيَّةٍ مَاتَ عَلَى سَبِيلٍ وَسُنَّةٍ وَمَاتَ عَلَى تُقًى وَشَهَادَةٍ وَمَاتَ مَغْفُورًا لَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭০১। মুহাম্মাদ ইবন মুসাফ্ফা হিমসী (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ওয়াসিয়্যাত করে মারা যাবে সে সঠিক পথে ওসুন্নতের উপরই মারা যাবে, পরহেযগারী এবং শহীদী দরজা নিয়ে সে মারা যাবে এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া অবস্থায় তার মৃত্যু হবে।

২৭০২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عَوْفٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي بِهِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭০২। মুহাম্মাদ ইবন মামার(রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলমানের এটা উচিৎ নয় যে, সে দুটি রাত কাটাবে অথচ তার কাছে ওয়াসিয়্যাতযোগ্য জিনিস থাকা সত্ত্বেও তার ওয়াসিয়্যাত তার কাছে লিখিত থাকবে না।

ওয়াসিয়্যাতের মধ্যে জুলুম করা

بَاب الْحَيْفِ فِي الْوَصِيَّةِ

২৭০৩

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ قَطَعَ اللَّهُ مِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭০৩। সুওয়াইদ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ওয়ারিছকে মীরাছ দেওয়া থেকে পালায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে জান্নাতের মীরাছ থেকে বঞ্চিত রাখবেন।

২৭০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْخَيْرِ سَبْعِينَ سَنَةً فَإِذَا أَوْصَى حَافَ فِي وَصِيَّتِهِ فَيُخْتَمُ لَهُ بِشَرِّ عَمَلِهِ فَيَدْخُلُ النَّارَ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الشَّرِّ سَبْعِينَ سَنَةً فَيَعْدِلُ فِي وَصِيَّتِهِ فَيُخْتَمُ لَهُ بِخَيْرِ عَمَلِهِ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ‏(تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ)‏ إِلَى قَوْلِهِ (عَذَابٌ مُهِينٌ)‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭০৪। আহমাদ ইবন আয্হার (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক সত্তর বছর যাবত ভাল কাজ করে অতঃপর যখন ওয়াসিয়্যাত করে তখন সে তার ওয়াসিয়াতে জুলম করে। এতে তার জীবন শেষ হয় খারাপ কাজের সাথে। পরিণামে সে জাহান্নামে যায়। আর কোন লোক সত্তর বছর যাবত খারাপ কাজ করে অতঃপর সে তার ওয়াসিয়্যাতের বেলায় ইনসাফ করে। এতে তার জীবন শেষ হয় ভাল কাজের সাথে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা ইচ্ছা করলে পড়তে পারتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ এই থেকে عَذَابٌ مُهِينٌ পর্যন্ত। (৪ঃ ১৩-১৪)

২৭০৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ أَبِي حَلْبَسٍ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ أَبِي خُلَيْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ فَأَوْصَى وَكَانَتْ وَصِيَّتُهُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا تَرَكَ مِنْ زَكَاتِهِ فِي حَيَاتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

২৭০৫। ইয়াহইয়া ইবন উসমান ইবন সা'ঈদ ইবন কাছীর ইবন দীনার হিমসী (রাহঃ).... কুররা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার মৃত্যু এসে যাবে তখন সে ওয়াসিয়্যাত করবে, আর তার ওয়াসিয়্যাত আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হবে তাহলে তা সে তার জীবনে যে যাকাত ছেড়ে দিয়েছে তার কাফ্ফারা হয়ে যাবে।

জীবিত অবস্থায় কৃপণতা করা এবং মৃত্যুর সময় অপচয় করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ الْإِمْسَاكِ فِي الْحَيَاةِ وَالتَّبْذِيرِ عِنْدَ الْمَوْتِ

২৭০৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، وَابْنِ، شُبْرُمَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَبِّئْنِي بِأَحَقِّ النَّاسِ مِنِّي بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ فَقَالَ ‏"‏ نَعَمْ وَأَبِيكَ لَتُنَبَّأَنَّ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ أُمُّكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ أَبُوكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَبِّئْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ عَنْ مَالِي كَيْفَ أَتَصَدَّقُ فِيهِ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ وَاللَّهِ لَتُنَبَّأَنَّ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَأْمُلُ الْعَيْشَ وَتَخَافُ الْفَقْرَ وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ نَفْسُكَ هَاهُنَا قُلْتَ مَالِي لِفُلاَنٍ وَمَالِي لِفُلاَنٍ وَهُوَ لَهُمْ وَإِنْ كَرِهْتَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭০৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-র কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! আমাকে বলে দিন, লোকের মধ্যে আমার উত্তম সাহচর্যের বেশী হকদার কে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তোমার বাপের (রবের) কসম! তোমাকে অবশ্যই বলা হবে। সে হল তোমার মা (বেশী হকদার)। সে বললঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার মা। সে বললঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার মা। সে বললঃ তার পর কে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার বাবা। লোকটি বললঃ আমাকে বলে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমার মাল আমি কিভাবে দান করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তোমাকে অবশ্যই বলা হবে। তুমি দান কর এমন অবস্থায় যে, তুমি সুস্থ থাকবে, সম্পদের প্রতি তোমার মোহ থাকবে, তুমি বেঁচে থাকার আশা পোষণ করবে এবং দরিদ্রতার ভয় করবে। আর তুমি (দান করতে) সে পর্যন্ত দেরী করো না যখন তোমার জান এ পর্যন্ত এসে পৌঁছবে (মৃত্যুর নিকটবর্তী হবে) তখন তুমি বলবে, আমার (এই) সম্পদ অমুকের আমার (এই) সম্পদ অমুকের। অথচ সে সম্পদ তাদের (ওয়ারিছদের) জন্য হয়ে যাবে যদিও তুমি তা অপছন্দ কর।

২৭০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ جَحَّاشٍ الْقُرَشِيِّ، قَالَ بَزَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي كَفِّهِ ثُمَّ وَضَعَ أَصْبُعَهُ السَّبَّابَةَ وَقَالَ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّى تُعْجِزُنِي ابْنَ آدَمَ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ مِثْلِ هَذِهِ فَإِذَا بَلَغَتْ نَفْسُكَ هَذِهِ - وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ - قُلْتَ أَتَصَدَّقُ وَأَنَّى أَوَانُ الصَّدَقَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭০৭। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....বুসর ইবন জাহ্হাশ কুরাশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তার হাতের তালুতে থুথু ফেললেন। তারপর তার শাহাদাত আঙ্গুলী তার উপর রেখে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ তুমি কিভাবে আমাকে অক্ষম করবে। হে আদম সন্তান আমি তো তোমাকে সৃষ্টি করেছি এ রকম জিনিস থেকে। অতঃপর তোমার জান যখন এ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং তিনি তাঁর কণ্ঠনালীর দিকে ইশারা করলেন, তখন তুমি বলবেঃ আমি দান করব। অথচ তখন আর দানের সময় কোথায়?

সম্পদের এক তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়্যাত করা

بَاب الْوَصِيَّةِ بِالثُّلُثِ

২৭০৮

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، وَسَهْلٌ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرِضْتُ عَامَ الْفَتْحِ حَتَّى أَشْفَيْتُ عَلَى الْمَوْتِ فَعَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَىْ رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَتِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ ‏"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَالشَّطْرُ قَالَ ‏"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَالثُّلُثُ قَالَ ‏"‏ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَتْرُكَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

২৭০৮। হিশাম ইবন 'আম্মার হুসাইন ইবন হাসান মারূজী ও সাহল (রাহঃ)....সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের বছর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, এমন কি আমি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে শুশ্রূষা করেন। আমি বললাম! ইয়ারাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমার বহু সম্পদ রয়েছে। আর আমার একমাত্র কন্যা ব্যতীত আমার আর কোন ওয়ারিছ নেই। আমি কি আমার সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ দান করে দেব? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম ঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না । আমি বললামঃ তাহলে এক তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ (হ্যা) এক তৃতীয়াংশ । আর এক তৃতীয়াংশই যথেষ্ট। তুমি তোমার ওয়ারিছদেরকে ধনী হিসাবে রেখে যাবে এটাই উত্তম তাদেরকে নিঃস্ব হিসাবে রেখে যাবার চেয়ে যৈ, তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে।

২৭০৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ تَصَدَّقَ عَلَيْكُمْ عِنْدَ وَفَاتِكُمْ بِثُلُثِ أَمْوَالِكُمْ زِيَادَةً لَكُمْ فِي أَعْمَالِكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭০৯। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মৃত্যুর সময় আল্লাহ্ তোমাদের উপর তোমাদের সম্পদ থেকে এক তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়্যাত করার অধিকার দিয়েছেন, যা তোমাদের জন্য অতিরিক্ত তোমাদের আমলের ক্ষেত্রে।

২৭১০

حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا مُبَارَكُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَا ابْنَ آدَمَ اثْنَتَانِ لَمْ تَكُنْ لَكَ وَاحِدَةٌ مِنْهُمَا جَعَلْتُ لَكَ نَصِيبًا مِنْ مَالِكَ حِينَ أَخَذْتُ بِكَظَمِكَ لأُطَهِّرَكَ بِهِ وَأُزَكِّيَكَ وَصَلاَةُ عِبَادِي عَلَيْكَ بَعْدَ انْقِضَاءِ أَجَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭১০। সালিহ্ ইবন্ মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ কাত্তান (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (আল্লাহ্ বলেন) হে আদম সন্তান! দুটি জিনিস আমি তোমাকে দিয়েছি , যার একটিও তোমার পাওনা ছিলনা। তার একটি হল আমি তোমার সম্পদ থেকে তোমার জন্য একটা অংশ রেখে দিয়েছি। যখন আমি তোমার শ্বাস নিয়ে নিব-তা দিয়ে তোমাকে পাক-পবিত্র করার জন্য। (আর অপরটি হল) তোমার মৃত্যুর পর তোমার প্রতি আমার বান্দার দু'আ।

২৭১১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَدِدْتُ أَنَّ النَّاسَ، غَضُّوا مِنَ الثُّلُثِ إِلَى الرُّبُعِ لأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الثُّلُثُ كَبِيرٌ - أَوْ كَثِيرٌ - ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭১১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি পছন্দ করি যে, মানুষ (তাদের ওয়াসিয়্যাত) এক তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে কমিয়ে আনুক। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ এক-তৃতীয়াংশ অধিক অথবা যথেষ্ট।

ওয়ারিছের জন্য কোন ওয়াসিয়্যাত নেই

بَاب لَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ

২৭১২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَهُمْ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَإِنَّ رَاحِلَتَهُ لَتَقْصَعُ بِجِرَّتِهَا وَإِنَّ لُغَامَهَا لَيَسِيلُ بَيْنَ كَتِفَىَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ قَسَمَ لِكُلِّ وَارِثٍ نَصِيبَهُ مِنَ الْمِيرَاثِ فَلاَ يَجُوزُ لِوَارِثٍ وَصِيَّةٌ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ عَدْلٌ وَلاَ صَرْفٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে খারিজা (রাঃ)

২৭১২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... 'আমর ইবন খারিজা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদা তাদেরকে খুতবা দেন; তিনি তখন তাঁর উটনীর উপর (সওয়ার) ছিলেন। আর তাঁর উটনী তখন জাবর কাটছিল। উটনীটির লালা আমার উভয় কাঁধের মাঝখানে পড়ছিল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক ওয়ারিছের জন্য মীরাছ থেকে তার অংশ বন্টন করে দিয়েছেন। তাই কোন ওয়ারিছের জন্য ওয়াসিয়্যাত করা জায়িয নয়। সন্তান তারই হবে, যার অধীনে সন্তানের মা রয়েছে। আর যিনাকারীর জন্য রয়েছে পাথর। আর যে তার বাপ ছাড়া অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয় অথবা নিজের মনিব ছাড়া অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয় তার উপর আল্লাহর ফিরিশতাকুলের এবং সকল মানুষের লা'নাত। তার থেকে কোন নফলও কবূল হবে না, ফরযও না। অথবা তিনি বলেছেনঃ তার থেকে না কোন ফরয কবুল হবে, আর না নফল।

২৭১৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حِجَّةِ الْوَدَاعِ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৭১৩। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....সারাহবীল ইবন মুসলিম খাওলানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বিদায় হজ্জের দিন তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই ওয়ারিছের জন্য কোন ওয়াসিয়্যাত চলবে না।

২৭১৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنِّي لَتَحْتَ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيلُ عَلَىَّ لُعَابُهَا فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ أَلاَ لاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৭১৪। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উটনীর নীচে ছিলাম। উটনীর লালা আমার উপর পড়ছিল। তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রত্যেক হকদারের জন্য তার হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জেনে রাখ, ওয়ারিছের জন্য কোন ওয়াসিয়্যাত চলবেনা।

ঋণ (আদায়) ওয়াসিয়্যাত থেকে অগ্রাধিকার পাবে

بَاب الدَّيْنِ قَبْلَ الْوَصِيَّةِ

২৭১৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالدَّيْنِ قَبْلَ الْوَصِيَّةِ وَأَنْتُمْ تَقْرَءُونَهَا ‏(مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ )‏ وَإِنَّ أَعْيَانَ بَنِي الأُمِّ لَيَتَوَارَثُونَ دُونَ بَنِي الْعَلاَّتِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৭১৫। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....'আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেন ওয়াসিয়্যাতের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করার। আর তোমরা এ আয়াত পাঠ করঃمِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ

(৪ঃ১২) (যা ওয়াসিয়্যাত করা হয় তা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোর্ধ করার পর) আর আপন ভাই ওয়ারিছ হবে, বৈমাত্রেয় ভাই নয়।

কেউ ওয়াসিয়্যাত না করে মারা গেলে, তার পক্ষ থেকে দান করা যাবে কি?

بَاب مَنْ مَاتَ وَلَمْ يُوصِ هَلْ يُتَصَدَّقُ عَنْهُ

২৭১৬

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهُ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭১৬। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন 'উছমান 'উছমানী (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে জিজ্ঞাসা করল যে, আমার পিতা ইনতিকাল করেছেন এবং সম্পদ রেখে গেছেন; কিন্তু ওয়াসিয়্যাত করে যাননি। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি তাহলে কি তার পক্ষ থেকে কাফফারা হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

২৭১৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ وَإِنِّي أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ لَتَصَدَّقَتْ فَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا وَلِيَ أَجْرٌ فَقَالَ ‏ "‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭১৭। ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ)....'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বললঃ আমার মা আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেছেন। আর তিনি ওয়াসিয়্যাত করেননি। আমার মনে হয় তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে অবশ্যই তিনি সাদকা করতেন। এখন তার কি ছওয়াব হবে যদি আমি তার পক্ষ থেকে সাদকা করি এবং আমারও কি ছওয়াব হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ

আল্লাহর বাণী-যে বিত্তহীন, সে যেন সংগত পরিমাণে ভক্ষণ করে প্রসঙ্গে

بَاب قَوْلِهِ { وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ }

২৭১৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لاَ أَجِدُ شَيْئًا وَلَيْسَ لِي مَالٌ وَلِي يَتِيمٌ لَهُ مَالٌ قَالَ ‏"‏ كُلْ مِنْ مَالِ يَتِيمِكَ غَيْرَ مُسْرِفٍ وَلاَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَالَ ‏"‏ وَلاَ تَقِي مَالَكَ بِمَالِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭১৮। আহমাদ ইবন আয্হার (রাহঃ)....আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ আমার কাছে কিছুই নেই। আর আমার সম্পদও নেই। অবশ্য আমার (অধীনে) এক-ইয়াতীম আছে; যার সম্পদ রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ইয়াতীমের মাল থেকে খাও অপচয় না করে এবং নিজের জন্য মাল জড় না করে। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, তার মাল থেকে তোমার প্রয়োজন মিটিয়ে তোমার মাল বাঁচিয়ে রেখো না।

ফারায়িয শিক্ষা দেওয়ার উৎসাহ প্রদান

بَاب الْحَثِّ عَلَى تَعْلِيمِ الْفَرَائِضِ

২৭১৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي الْعَطَّافِ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوهَا فَإِنَّهُ نِصْفُ الْعِلْمِ وَهُوَ يُنْسَى وَهُوَ أَوَّلُ شَىْءٍ يُنْتَزَعُ مِنْ أُمَّتِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭১৯। ইবরাহীম ইবন মুনযির হিযামী (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবু হুরায়রা! ফারায়েয শিখ এবং তা অন্যকে শিখাও। কেননা তা ইলমের অর্ধাংশ। আর তা ভুলিয়ে দেওয়া হবে এবং এটাই প্রথম জিনিস, যা আমার উম্মাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে (শেষ যামানায়)।

সন্তানের অংশ প্রসঙ্গে

بَاب فَرَائِضِ الصُّلْبِ

২৭২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةُ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ بِابْنَتَىْ سَعْدٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَاتَانِ ابْنَتَا سَعْدٍ قُتِلَ مَعَكَ يَوْمَ أُحُدٍ وَإِنَّ عَمَّهُمَا أَخَذَ جَمِيعَ مَا تَرَكَ أَبُوهُمَا وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لاَ تُنْكَحُ إِلاَّ عَلَى مَالِهَا ‏.‏ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمِيرَاثِ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَا سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ فَقَالَ ‏ "‏ أَعْطِ ابْنَتَىْ سَعْدٍ ثُلُثَىْ مَالِهِ وَأَعْطِ امْرَأَتَهُ الثُّمُنَ وَخُذْ أَنْتَ مَا بَقِيَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭২০। মুহাম্মাদ ইবন আবু 'উমর আদানী (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সা'দ ইবন রাবী' (রাযিঃ)-এর স্ত্রী সা'দ এর দুই কন্যা সাথে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! এ দু'টি সা'দ-এর কন্যা, যিনি আপনার সাথে (যুদ্ধে শরীক হয়ে) উহুদের দিন শহীদ হয়েছেন। আর এদের পিতা যা কিছু রেখে গেছেন, তার সবটিই এদের চাচা নিয়ে গেছেন। আর মেয়ে লোকের তো সম্পদ না হলে বিয়ে হয় না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চুপ করে রইলেন। অবশেষে মীরাছের আয়াত নাযিল হল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সা'দ ইবন রাবী'-এর ভাইকে ডাকালেন এবং বললেনঃ ‘সা'দ-এর কন্যাদ্বয়কে তার সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ দিয়ে দাও এবং তার স্ত্রীকে এক-অষ্টমাংশ দাও। আর তুমি নাও অবশিষ্ট যা থাকে।

২৭২১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ الأَوْدِيِّ، عَنِ الْهُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَسَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ الْبَاهِلِيِّ فَسَأَلَهُمَا عَنِ ابْنَةٍ وَابْنَةِ ابْنٍ وَأُخْتٍ، لأَبٍ وَأُمٍّ فَقَالاَ لِلاِبْنَةِ النِّصْفُ وَمَا بَقِيَ فَلِلأُخْتِ وَائْتِ ابْنَ مَسْعُودٍ فَسَيُتَابِعُنَا ‏.‏ فَأَتَى الرَّجُلُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ وَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالاَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ وَلَكِنِّي سَأَقْضِي بِمَا قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلاِبْنَةِ النِّصْفُ وَلاِبْنَةِ الاِبْنِ السُّدُسُ تَكْمِلَةَ الثُّلُثَيْنِ وَمَا بَقِيَ فَلِلأُخْتِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হুযাইল ইবনে শুরাহবীল (রহঃ)

২৭২১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....হুযায়ল ইবন শুরাহবীল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আবু মুসা আশ'আরী ও সালমান ইবন রাবীআ বাহিলী (রাযিঃ)-এর কাছে এসে কন্যা, ভাতিজী এবং আপন বোন (এর অংশ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তাঁরা বললেনঃ কন্যা অর্ধেক পাবে। আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা পাবে বোন। তুমি ইবন মাসউদ এর কাছে যাও। তিনিও (এ বিষয়ে) আমাদের সাথে একমত হবেন। অতঃপর লোকটি ইবন মাসউদ (রাযিঃ)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল এবং তাঁরা যা বলেছিলেন তাও তাকে জানাল। তখন আব্দুল্লাহ্ (ইবন মাসউদ রা) বললেনঃ (আমি যদি এরূপ হুকুম দেই) তাহলে আমি গোমরাহ হয়ে যাব আর আমি হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে থাকব না। তবে আমি ফায়সালা দেব যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফায়সালা দিয়েছিলেন— কন্যা পাবে অর্ধাংশ এবং ভাতিজীর থাকবে এক ষষ্ঠমাংশ-দুই তৃতীয়াংশ পূর্ণ করার জন্য। আর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা পাবে বোন।

দাদার অংশ প্রসঙ্গে

بَاب فَرَائِضِ الْجَدِّ

২৭২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ الْمُزَنِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِفَرِيضَةٍ فِيهَا جَدٌّ فَأَعْطَاهُ ثُلُثًا أَوْ سُدُسًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২৭২২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....মা'কিল ইবন ইয়াসার মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) র কাছে শুনেছি যে, (তার নিকট) একটি ফারায়িযের মামলা এল, যার মধ্যে দাদা ছিল । অতঃপর তিনি দাদাকে এক তৃতীয়াংশ বা এক ষষ্ঠাংশ দিলেন।

২৭২৩

قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَدٍّ كَانَ فِينَا بِالسُّدُسِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২৭২৩। আবু হাতিম (রাহঃ)......মা'কিল ইবন ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাদার ব্যাপারে যে আমাদরে মধ্যে ছিল, ফায়সালা দিয়েছেন এক ষষ্ঠাংশের।

দাদী-নানীর মীরাছ প্রসঙ্গে

بَاب مِيرَاثِ الْجَدَّةِ

২৭২৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خَرَشَةَ، عَنِ ابْنِ ذُؤَيْبٍ، قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ شَىْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ ‏.‏ فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ ثُمَّ جَاءَتِ الْجَدَّةُ الأُخْرَى مِنْ قِبَلِ الأَبِ إِلَى عُمَرَ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ شَىْءٌ وَمَا كَانَ الْقَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلاَّ لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ شَيْئًا وَلَكِنْ هُوَ ذَاكِ السُّدُسُ فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فِيهِ فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا ‏.‏

২৭২৪। আহমাদ ইবন 'আমর ইবন সারাহ মিসরী ও সুওয়াইদ ইবন সা'ঈদ (রাহঃ)....ইবন যুওয়াইব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মৃত ব্যক্তির নানী আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর নিকট এসে তার মীরাছ চাইল। আবু বকর (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ তোমার জন্য আল্লাহর কিতাবে কোন অংশ নেই। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর হাদীসেও তোমার জন্য কিছু আছে বলে আমি জানিনা। তুমি ফিরে যাও, আমি লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে নেই। অতঃপর তিনি লোকের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। মুগীরা ইবন শু'বা (রাযিঃ) বললেন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট হাজির ছিলাম। তিনি তাকে এক ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন তুমি ছাড়া তোমার সাথে (এ ব্যাপারে) আরো কেউ (সাক্ষী) আছে কি? তখন মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা আনসারী (রাযিঃ) দাঁড়ালেন। তিনিও মুগীরা ইবন শু'বা (রাযিঃ)-এর মতই বললেন । তখন আবু বকর (রাযিঃ) তার জন্য এ হুকুম জারী করে দিলেন।

এরপর উমার (রাযিঃ)-এর কাছে (মৃতের) দাদী এসে তার মীরাছ চাইল। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আল্লাহর কিতাবে কোন অংশ নেই এবং (এর পূর্বে) যে ফয়সালা করা হয়েছে, তাও তোমার জন্য নয় (বরং তা ছিল নানীর জন্য)। আর আমি (নিজের পক্ষ থেকে)- ফারায়িযে একটুও বৃদ্ধি করব না। বরং সেই এক ষষ্ঠাংশই থাকবে। যদি দাদী-নানী দু'জনই এক সাথে থাকে তবে তা-ই তোমাদের দু'জনের মধ্যে বন্টিত হবে। আর তোমাদের দু'জনের মধ্যে যে সে অংশ আগেই নিয়ে নিয়েছে, তা তার জন্যই থাকবে।
২৭২৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَّثَ جَدَّةً سُدُسًا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭২৫। আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাদীকে এক ষষ্ঠাংশের ওয়ারিছ বানিয়েছেন।

কালালা[১] প্রসঙ্গে

بَاب الْكَلَالَةِ

২৭২৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمُرِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَامَ خَطِيبًا يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ خَطَبَهُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ إِنِّي وَاللَّهِ مَا أَدَعُ بَعْدِي شَيْئًا هُوَ أَهَمُّ إِلَىَّ مِنْ أَمْرِ الْكَلاَلَةِ وَقَدْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا أَغْلَظَ لِي فِي شَىْءٍ مَا أَغْلَظَ لِي فِيهَا حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي جَنْبِي أَوْ فِي صَدْرِي ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ يَا عُمَرُ تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي نَزَلَتْ فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মা'দান ইবনে তালহা (রহঃ)

২৭২৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....মা'দান ইবন আবু তাল্‌হা ইয়া'মূরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) জুমুআর দিন খুতবা দিতে দাঁড়ালেন অথবা তিনি বলেন....(রাবীর সন্দেহ) জুমু'আর দিন তাদেরকে খুতবা দিলেন। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার পরে কালালা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোন জিনিস রেখে যাচ্ছিনা। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি আমাকে এ বিষয়ে এত কাঠোরভাবে জবাব দিয়েছিলেন যেমন কঠোর জবাব অন্য কোন বিষয়ে দেননি। এমনকি তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে আমার উভয় পার্শ্ব দেশে অথবা (তিনি বলেন) আমার বুকে খোঁচা মারলেন। এরপর বললেনঃ হে উমার! তোমার জন্য গরমের (সময় অবতীর্ণ) আয়াতটিই যথেষ্ট, যা নাযিল হয়েছে সূরা নিসার শেষ ভাগে।

[১] কালালা শব্দের অর্থে মতভেদ রয়েছে। সাহাবী, তাবিঈ এবং আলিমগণের অধিকাংশের মত হল, যার কোন সন্তান বা পিতা মাতা থাকবে না।

কালালা প্রসঙ্গে

بَاب الْكَلَالَةِ

২৭২৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ بْنِ شَرَاحِيلَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَلاَثٌ لأَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيَّنَهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا الْكَلاَلَةُ وَالرِّبَا وَالْخِلاَفَةُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৭২৭। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....মুররা ইবন শারাহবীল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন; তিনটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যদি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতেন তবে তা-ই হত আমার কাছে দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সবের থেকে প্রিয়। তা হলঃ কালালাঃ সূদ এবং খিলাফাত।

২৭২৮

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ مَعَهُ وَهُمَا مَاشِيَانِ وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَىَّ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَبَّ عَلَىَّ مِنْ وَضُوئِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَصْنَعُ كَيْفَ أَقْضِي فِي مَالِي حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ الْمِيرَاثِ فِي آخِرِ النِّسَاءِ ‏(وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلاَلَةً‏)‏ الآيَةَ وَ ‏(يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ)‏ الآيَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭২৮। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বকরকে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমার কাছে এলেন আমার শুশ্রূষা করতে। তখন আমি বেহুশ হয়ে পড়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উযু করলেন। অতঃপর তাঁর উযূর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! আমি কি করব? আমি আমার সম্পদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেব? অবশেষে সূরা নিসার শেষ ভাগে মীরাছের আয়াত নাযিল হল, وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلاَلَةً ও يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ

মুশরিক থেকে মুসলিমের মীরাছ প্রাপ্তি

بَاب مِيرَاثِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ مِنْ أَهْلِ الشِّرْكِ

২৭২৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৭২৯। হিশাম ইবন 'আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)....উসামা ইবন যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমান কাফিরের ওয়ারিছ হবে না। আর না কাফির মুসলমানের।

২৭৩০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنْزِلُ فِي دَارِكَ بِمَكَّةَ قَالَ ‏ "‏ وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مِنْ رِبَاعٍ أَوْ دُورٍ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ عَقِيلٌ وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ هُوَ وَطَالِبٌ وَلَمْ يَرِثْ جَعْفَرٌ وَلاَ عَلِيٌّ شَيْئًا لأَنَّهُمَا كَانَا مُسْلِمَيْنِ وَكَانَ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ كَافِرَيْنِ ‏.‏ فَكَانَ عُمَرُ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ يَقُولُ لاَ يَرِثُ الْمُؤْمِنُ الْكَافِرَ ‏.‏
وَقَالَ أُسَامَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৭৩০। আহমাদ ইবন 'আমর ইবন সারাহ (রাহঃ)....উসামা ইবন যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! আপনি কি মক্কায় আপনার বাড়িতে অবতরণ করবেন? তিনি বললেনঃ আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর-বাড়ি বা ঠিকানা রেখেছে? আবু তালিবের ওয়ারিছ হয়েছিল সে এবং তালিব। জা'ফর এবং আলী তার কোন মীরাছই পায় নাই। কেননা তারা দু'জন তখন (আবু তালিবের মৃত্যুর সময়) মুসলমান ছিল। আর আকীল ও তালিব ছিল কাফির (আকীল অবশ্য পরে মুসলমান হন)। আর এ কারণে উমার (রাযিঃ) বলতেনঃ কোন মু'মিন কাফিরের ওয়ারিছ হবেনা। আর উসামা (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমান কাফিরের ওয়ারিছ হবে না; আর না কাফির মুসলমানের।

২৭৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ الْمُثَنَّى بْنَ الصَّبَّاحِ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৩১। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)....'আমর ইবন শু'আয়ব এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই জাতির লোক পরস্পরের ওয়ারিছ হবে না।

আযাদকৃত গোলাম-বাঁদীর সম্পদের মীরাছ প্রসঙ্গে

بَاب مِيرَاثِ الْوَلَاءِ

২৭৩২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ تَزَوَّجَ رِئَابُ بْنُ حُذَيْفَةَ بْنِ سُعَيْدِ بْنِ سَهْمٍ أُمَّ وَائِلٍ بِنْتَ مَعْمَرٍ الْجُمَحِيَّةَ فَوَلَدَتْ لَهُ ثَلاَثَةً فَتُوُفِّيَتْ أُمُّهُمْ فَوَرِثَهَا بَنُوهَا رِبَاعًا وَوَلاَءَ مَوَالِيهَا فَخَرَجَ بِهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ مَعَهُ إِلَى الشَّامِ فَمَاتُوا فِي طَاعُونِ عَمْوَاسَ فَوَرِثَهُمْ عَمْرٌو وَكَانَ عَصَبَتَهُمْ فَلَمَّا رَجَعَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ جَاءَ بَنُو مَعْمَرٍ يُخَاصِمُونَهُ فِي وَلاَءِ أُخْتِهِمْ إِلَى عُمَرَ فَقَالَ عُمَرُ أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ "‏ مَا أَحْرَزَ الْوَلَدُ أَوِ الْوَالِدُ فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقَضَى لَنَا بِهِ وَكَتَبَ لَنَا بِهِ كِتَابًا فِيهِ شَهَادَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَآخَرَ حَتَّى إِذَا اسْتُخْلِفَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ تُوُفِّيَ مَوْلًى لَهَا وَتَرَكَ أَلْفَىْ دِينَارٍ فَبَلَغَنِي أَنَّ ذَلِكَ الْقَضَاءَ قَدْ غُيِّرَ فَخَاصَمُوهُ إِلَى هِشَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ فَرَفَعَنَا إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ فَأَتَيْنَاهُ بِكِتَابِ عُمَرَ فَقَالَ إِنْ كُنْتُ لأَرَى أَنَّ هَذَا مِنَ الْقَضَاءِ الَّذِي لاَ يُشَكُّ فِيهِ وَمَا كُنْتُ أَرَى أَنَّ أَمْرَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ بَلَغَ هَذَا أَنْ يَشُكُّوا فِي هَذَا الْقَضَاءِ ‏.‏ فَقَضَى لَنَا بِهِ فَلَمْ نَزَلْ فِيهِ بَعْدُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৩২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাবাব ইবন হুযাইফা ইবন সাঈদ ইবন সাহম উম্মুওয়াইল বিনত মা'মার জুমাহিয়্যাকে বিয়ে করেন। তার থেকে সে তিনটি সন্তান জন্ম দেয়। এরপর তাদের মা ইন্তিকাল করে। তার সন্তানেরা তার ঘর-বাড়ি এবং তার আযাদকৃত গোলামের সম্পদের ওয়ারিছ হয়। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে আমর ইবন 'আস শাম (সিরিয়া) গমন করেন। সেখানে তারা আমওয়াস মহামারীতে মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর আমর তাদের ওয়ারিছ হন। তিনি ছিলেন তাদের আসাবা[১]। আমর ইবন 'আস (রাযিঃ) যখন ফিরে এলেন তখন মা'মারের পুত্ররা এসে তাদের বোনের আযাদকৃত গোলামের সম্পত্তি নিয়ে উমর (রাযিঃ) এর নিকট মুকাদ্দামা পেশ করল, তখন উমার (রাযিঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি, তা দিয়েই তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করব। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, পুত্র এবং পিতা (আযাদকৃত গোলামের সম্পত্তি থেকে) যা জমা করে রাখে তা তার যে আসাবা থাকবে, তারই প্রাপ্য হবে। রাবী বলেনঃ অতঃপর তিনি সে সম্পত্তির ফয়সালা আমাদের জন্যই করে দিলেন এবং আমাদেরকে এক পত্র লিখে দিলেন, যাতে আব্দুর রহমান ইবন আওফ, যায়দ ইবন ছাবিত এবং আরো একজনের সাক্ষ ছিল। এরপর যখন আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান খলীফা নিযুক্ত হলেন তখন উন্মু ওয়াইলের এক আযাদকৃত গোলাম মারা গেল এবং সে দুই হাজার দীনার রেখে গেল। অতঃপর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছল যে

(উমার এর) সেই ফয়সালা পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর তারা হিশাম ইবন ইসমাঈলের কাছে মামলা দায়ের করল। তিনি আমাদেরকে আব্দুল মালিকের কাছে পাঠালেন। আমরা তাঁর কাছে উমার (রাযিঃ)-এর পত্র নিয়ে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তো জানতাম যে, এটা এমন ফয়সালা, যাতে কোন সন্দেহ করা হবে না। আর আমি জানতাম না যে, মদীনা বাসীদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এই ফয়সালার ব্যাপারেও সন্দেহ করবে। আর তিনি এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষে ফয়সালা দিলেন এরপর সব সময়ই আমরা এই মীরাছের অধিকারী ছিলাম।

[১] যাদের অংশ কুরআন কারীমে বর্ণিত নাই এবং যারা আসাবাও নয়, মায়ের দিকের আত্মীয়, যথা: মামা, খালা, নানা প্রমুখ আত্মীয়বর্গ তাদেরকে বলে যাবিল আরহাম।
২৭৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ مُجَاهِدِ بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ مَوْلًى، لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَعَ مِنْ نَخْلَةٍ فَمَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يَتْرُكْ وَلَدًا وَلاَ حَمِيمًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَعْطُوا مِيرَاثَهُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ قَرْيَتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৩৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)-এর এক আযাদকৃত গোলাম খেজুর গাছ থেকে পড়ে মারা গেল। সে কিছু সম্পদ রেখে গিয়েছিল; কিন্তু সে কোন ছেলে বা কোন আত্মীয়-স্বজনও রেখে যায়নি। তখন নবী (ﷺ) বললেন যে, তার মীরাছ তার গ্রামের কোন লোককে দিয়ে দাও।

২৭৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ بِنْتِ حَمْزَةَ، - قَالَ مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي لَيْلَى وَهِيَ أُخْتُ ابْنِ شَدَّادٍ لأُمِّهِ - قَالَتْ مَاتَ مَوْلاَىَ وَتَرَكَ ابْنَةً فَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَالَهُ بَيْنِي وَبَيْنَ ابْنَتِهِ فَجَعَلَ لِيَ النِّصْفَ وَلَهَا النِّصْفَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৩৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....হাম্যা তনয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবন আবু লায়লা (রাহঃ) বলেনঃ তিনি বলেনঃ তিনি ছিলেন রাবী আব্দুল্লাহ্ ইবন শাদ্দাদ (রাহঃ)-এর বৈপিত্রেয় বোন। তিনি বলেন যে, আমার এক আযাদকৃত গোলাম মারা গেল এবং একটি কন্যা রেখে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার সম্পদ আমার এবং তার সে কন্যার মধ্যে বন্টন করে দিলেন। আমাকে দিলেন অর্ধেক এবং তাকে দিলেন অর্ধেক।

হত্যাকারীর মীরাছ প্রসঙ্গে

بَاب مِيرَاثِ الْقَاتِلِ

২৭৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ الْقَاتِلُ لاَ يَرِثُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৩৫। মুহাম্মাদ ইবন্ রুমহ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হত্যাকারীর ওয়ারিছ হবে না।

২৭৩৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، - وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَقَالَ ‏ "‏ الْمَرْأَةُ تَرِثُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا وَمَالِهِ وَهُوَ يَرِثُ مِنْ دِيَتِهَا وَمَالِهَا مَا لَمْ يَقْتُلْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فَإِذَا قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ عَمْدًا لَمْ يَرِثْ مِنْ دِيَتِهِ وَمَالِهِ شَيْئًا وَإِنْ قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ خَطَأً وَرِثَ مِنْ مَالِهِ وَلَمْ يَرِثْ مِنْ دِيَتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৩৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)....'আব্দুল্লাহ্ ইবন 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন দাঁড়িয়ে বললেন, স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াত এবং সম্পদের ওয়ারিছ হবে এবং স্বামী স্ত্রীর দিয়াত ও সম্পদের ওয়ারিছ হবে, যতক্ষণ না একজন অপরজনকে কতল করে। যখন তাদের একজন অপরজনকে কতল করবে ইচ্ছাকৃতভাবে, তখন তার দিয়াত ও সম্পদের একটুও ওয়ারিছ হবে না। আর যদি একজন অপরজনকে ভুল বশত: কতল করে তখন তার সম্পদের ওয়ারিছ হবে, কিন্তু দিয়াতের ওয়ারিছ হবে না।

যাবিল আরহাম প্রসঙ্গে

بَاب ذَوِي الْأَرْحَامِ

২৭৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الزُّرَقِيِّ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّ رَجُلاً، رَمَى رَجُلاً بِسَهْمٍ فَقَتَلَهُ وَلَيْسَ لَهُ وَارِثٌ إِلاَّ خَالٌ فَكَتَبَ فِي ذَلِكَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ إِلَى عُمَرَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لاَ مَوْلَى لَهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বিন সাহল (রাঃ)

২৭৩৭। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক লোক অন্য লোককে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করে ফেলল। এক মামা ছাড়া তার আর কোন ওয়ারিছ ছিল না। তখন আবু উবায়দা ইবন জাররাহ (রাযিঃ)-যিনি সেনাবাহিনীর আমীর ছিলেন এ ব্যাপারে উমার (রাযিঃ)-এর কাছে পত্র লিখলেন। জওয়াবে উমার (রাযিঃ) তার কাছে লিখে পাঠালেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যার কোন অভিভাবক নেই, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই তার অভিভাবক। আর মামাই তার ওয়ারিছ, যার আর কোন ওয়ারিছ নেই।

২৭৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي بُدَيْلُ بْنُ مَيْسَرَةَ الْعُقَيْلِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ، عَنِ الْمِقْدَامِ أَبِي كَرِيمَةَ، - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ وَمَنْ تَرَكَ كَلاًّ فَإِلَيْنَا - وَرُبَّمَا قَالَ فَإِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ - وَأَنَا وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ أَعْقِلُ عَنْهُ وَأَرِثُهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ يَعْقِلُ عَنْهُ وَيَرِثُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৭৩৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ (রাহঃ)... রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাহাবী শাম নিবাসী মিকদাম আবু কারীমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিছদের জন্য। আর যে বোঝা তথা ঋণ বা অসহায় সন্তান রেখে যাবে, তার দায়িত্ব আমাদের উপর। (আর কখনো কখনো বলতেনঃ তার দায়িত্ব আল্লাহ্ ও তার রাসূলের উপর) যার কোন ওয়ারিছ নেই, আমিই তার ওয়ারিছ। আমিই তার পক্ষ থেকে দিয়াত দেব এবং আমি তার মীরাছ গ্রহণ করব। আর সামাই তার ওয়ারিছ, যার অন্য কোন ওয়ারিছ নেই। সেই তার পক্ষ থেকে দিয়াত দেবে এবং তার মীরাছ গ্রহণ করবে।

আসাবার[১] মীরাছ প্রসঙ্গে

بَاب مِيرَاثِ الْعَصَبَةِ

২৭৩৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَعْيَانَ بَنِي الأُمِّ يَتَوَارَثُونَ دُونَ بَنِي الْعَلاَّتِ يَرِثُ الرَّجُلُ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ دُونَ إِخْوَتِهِ لأَبِيهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৭৩৯। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ).... 'আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেন যে, আপন ভাইয়েরা ওয়ারিছ হবে (তারা থাকতে) বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা নয় । লোকে তার আপন ভাইয়ের ওয়ারিছ হবে, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের নয়।

[১] যেসব আত্মীয়ের অংশ কুরআন কারীমে নির্ধারিত নাই, নির্ধারিত অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাই যারা পায়, তারই হল আসাবা। যথাঃ ছেলে বাপ-চাচা, ভাই প্রমুখ।

আসাবার মীরাছ প্রসঙ্গে

بَاب مِيرَاثِ الْعَصَبَةِ

২৭৪০

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭৪০। 'আব্বাস ইবন আব্দুল 'আজীম আমবারী (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যাবিল ফরূয' (অংশীদার) দের মধ্যে সম্পদ বন্টন করে দাও আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী। নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে; তা সবচে' নিকটতম আত্মীয় যে পুরুষ তারই হবে।

যার কোন ওয়ারিছ নাই

بَاب مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ

২৭৪১

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَوْسَجَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَاتَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَدَعْ لَهُ وَارِثًا إِلاَّ عَبْدًا هُوَ أَعْتَقَهُ فَدَفَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِيرَاثَهُ إِلَيْهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৭৪১। ইসমাঈল ইবন মুসা (রাহঃ)......ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সময়ে এক ব্যক্তি মারা যায়। সে তার কোন ওয়ারিছ রেখে যায় নি একটি গোলাম ছাড়া, যাকে সে আযাদ করে দিয়েছিল। অতঃপর নবী (ﷺ) তার মীরাছ সেই গোলামকেই দিয়ে দিলেন।

মহিলারা তিন শ্রেণীর লোকের মীরাছ পাবে

بَاب تَحُوزُ الْمَرْأَةُ ثَلَاثَ مَوَارِيثَ

২৭৪২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ رُؤْبَةَ التَّغْلِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّصْرِيِّ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمَرْأَةُ تَحُوزُ ثَلاَثَ مَوَارِيثَ عَتِيقِهَا وَلَقِيطِهَا وَوَلَدِهَا الَّذِي لاَعَنَتْ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ مَا رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ هِشَامٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ওয়াছিলা ইবনে আসকা‘ (রাঃ)

২৭৪২। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)....ওয়াছিলা ইবন আসকা' (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ মহিলারা তিন শ্রেণীর লোকের মীরাছ গ্রহণ করবে। তার আযাদকৃত দাস-দাসীর, তার কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চার (যাকে সে লালন-পালন করেছে) এবং সেই সন্তানের, যার সম্পর্কে সে স্বামীর সাথে লি'আন করেছে। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি হিশাম ছাড়া অন্য কেউ রিওয়ায়াত করেন নি।

আপন সন্তানকে অস্বীকার করা

بَاب مَنْ أَنْكَرَ وَلَدَهُ

২৭৪৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَلْحَقَتْ بِقَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَىْءٍ وَلَنْ يُدْخِلَهَا جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ أَنْكَرَ وَلَدَهُ وَقَدْ عَرَفَهُ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَشْهَادِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭৪৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরয়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন লি'আন এর আয়াত নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে মহিলা কোন কওমের সাথে এমন বাচ্চাকে শামিল করে দেয়, যে তাদের নয়-তার সাথে আল্লাহ্র কোন সম্পর্ক নেই এবং তিনি কখনো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ তার সন্তানকে অস্বীকার করবে অথচ সে তাকে চিনে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তার থেকে পর্দা করে নিবেন এবং উপস্থিত সকলের সামনে তাকে অপদস্থ করবেন।

২৭৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ كُفْرٌ بِامْرِئٍ ادِّعَاءُ نَسَبٍ لاَ يَعْرِفُهُ أَوْ جَحْدُهُ وَإِنْ دَقَّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৪৪। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ)...... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এমন লোককে নিজের বংশের বলে দাবী করা কুফরী, যাকে সে চিনেনা অথবা নিজের বংশের লোককে অস্বীকার করাও কুফরী, যদিও তার কারণ সূক্ষ্ম হয়।

সন্তানের দাবী করা

بَاب فِي ادِّعَاءِ الْوَلَدِ

২৭৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ عَاهَرَ أَمَةً أَوْ حُرَّةً فَوَلَدُهُ وَلَدُ زِنًا لاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৪৫। আবু কুরায়ব (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বাঁদী কিম্বা স্বাধীন মহিলার সাথে যিনা করবে-তার সন্তান হবে যিনার সন্তান। না সে ওয়ারিছ হবে (সন্তানের) আর না (সন্তানকে) তার ওয়ারিছ বানানো হবে না।

২৭৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ الدِّمَشْقِيُّ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ كُلُّ مُسْتَلْحَقٍ اسْتُلْحِقَ بَعْدَ أَبِيهِ الَّذِي يُدْعَى لَهُ ادَّعَاهُ وَرَثَتُهُ مِنْ بَعْدِهِ فَقَضَى أَنَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ يَمْلِكُهَا يَوْمَ أَصَابَهَا فَقَدْ لَحِقَ بِمَنِ اسْتَلْحَقَهُ وَلَيْسَ لَهُ فِيمَا قُسِمَ قَبْلَهُ مِنَ الْمِيرَاثِ شَىْءٌ وَمَا أَدْرَكَ مِنْ مِيرَاثٍ لَمْ يُقْسَمْ فَلَهُ نَصِيبُهُ وَلاَ يَلْحَقُ إِذَا كَانَ أَبُوهُ الَّذِي يُدْعَى لَهُ أَنْكَرَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ لاَ يَمْلِكُهَا أَوْ مِنْ حُرَّةٍ عَاهَرَ بِهَا فَإِنَّهُ لاَ يَلْحَقُ وَلاَ يُورَثُ وَإِنْ كَانَ الَّذِي يُدْعَى لَهُ هُوَ ادَّعَاهُ فَهُوَ وَلَدُ زِنًا لأَهْلِ أُمِّهِ مَنْ كَانُوا حُرَّةً أَوْ أَمَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ يَعْنِي بِذَلِكَ مَا قُسِمَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ قَبْلَ الإِسْلاَمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৭৪৬। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... 'আমর ইবন শু'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে সব সন্তানকে তার পিতার মৃত্যুর পর তার সাথে সম্পৃক্ত করা হবে, যার সম্পর্কে মৃতের ওয়ারিছরা তার মৃত্যুর পর এ দাবী করবে তার সম্পর্কে তিনি ফায়সালা দিয়েছেন যে, সে সন্তান যদি এমন দাসীর হয়, যার মালিক ছিল সে সঙ্গমের দিন, তাহলে সে সন্তান যার বলে দাবী করা হচ্ছে, তার সাথে সম্পৃক্ত হবে এবং সে ইতিপূর্বে (জাহিলী যুগে) যে মীরাছ বন্টন করা হয়েছে, তার একটুও পাবে না। আর যে মীরাছ এখনো বন্টন করা হয়নি, তা থেকে সে তার অংশ পাবে। আর যাকে বাপ বলে দাবী করা হয়, সে যদি সে সন্তানকে অস্বীকার করে তবে সে সন্তান তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না। আর যদি সে সন্তান এমন দাসীর হয়, যার সে মালিক নয় অথবা স্বাধীন মহিলার হয়, যার সাথে সে যিনা করেছে তাহলে সন্তান তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না এবং তার মীরাছও পাবে না, যদিও সে নিজে (জীবিত থাকা অবস্থায়) তার দাবী করে থাকে। সে হবে যিনার সন্তান। সে মহিলার পরিবারের সাথে থাকবে, চাই সে মহিলা স্বাধীনা হোক বা বাদী।

রাবী মুহাম্মাদ ইবন রাশিদ বলেনঃ এখানে বন্টন করার অর্থ হল যা ইসলামের পূর্বে জাহিলী যুগে বন্টন করা হয়েছে।

আযাদকৃত দাসের অভিভাবকত্ব বিক্রি বা দান করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ

২৭৪৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَسُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَعَنْ هِبَتِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৪৭। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন আযাদকৃত গোলামের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং দান করতে।

২৭৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَعَنْ هِبَتِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৪৮। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ)....ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন আযাদকৃত গোলামের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং দান করতে।

মীরাছ বন্টন

بَاب قِسْمَةِ الْمَوَارِيثِ

২৭৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُقَيْلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ نَافِعًا، يُخْبِرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَا كَانَ مِنْ مِيرَاثٍ قُسِمَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ عَلَى قِسْمَةِ الْجَاهِلِيَّةِ وَمَا كَانَ مِنْ مِيرَاثٍ أَدْرَكَهُ الإِسْلاَمُ فَهُوَ عَلَى قِسْمَةِ الإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৭৪৯। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)....'আব্দুল্লাহ্ ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সব মীরাছ জাহিলী যুগে বন্টন করা হয়েছে, তা সেই জাহিলী যুগের বন্টন অনুযায়ীই থাকবে। আর যে সব মীরাছ ইসলামী যুগে সৃষ্টি হয়েছে, তা ইসলামের বন্টন নীতি অনুযায়ীই বণ্টিত হবে।

শিশু ভূমিষ্ঠ হয়ে চীৎকার দিলে সে ওয়ারিছ হবে

بَاب إِذَا اسْتَهَلَّ الْمَوْلُودُ وَرِثَ

২৭৫০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا اسْتَهَلَّ الصَّبِيُّ صُلِّيَ عَلَيْهِ وَوَرِثَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৫০। হিশাম 'ইবন আম্মার (রাহঃ).... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ শিশু (ভূমিষ্ঠ হয়ে) চীৎকার দিলে তার উপর (জানাযার) সালাত আদায় করতে হবে এবং ওয়ারিছ হবে।

২৭৫১

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَالْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يَرِثُ الصَّبِيُّ حَتَّى يَسْتَهِلَّ صَارِخًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَاسْتِهْلاَلُهُ أَنْ يَبْكِيَ وَيَصِيحَ أَوْ يَعْطِسَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৭৫১। 'আব্বাস ইবন ও ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ্ ও মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ শিশু ওয়ারিছ হবে না যথক্ষণ না সে চীৎকার দিয়ে উঠে।

রাবী বলেনঃ আর চীৎকার দিয়ে উঠার অর্থ হল জোরে কেঁদে উঠা বা এমনিই চীৎকার দেওয়া অথবা হাঁচি দেওয়া ।

কোন ব্যক্তির অপর কোন ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করা

بَاب الرَّجُلِ يُسْلِمُ عَلَى يَدَيْ الرَّجُلِ

২৭৫২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ سَمِعْتُ تَمِيمًا الدَّارِيَّ، يَقُولُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا السُّنَّةُ فِي الرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ يُسْلِمُ عَلَى يَدَىِ الرَّجُلِ قَالَ ‏ "‏ هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِمَحْيَاهُ وَمَمَاتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত তামীম আদ-দারী রাযি.

২৭৫২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....তামীম দারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি বললাম, “ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আহলে কিতাব-এর কেউ অপর একজনের হাতে ইসলাম গ্রহণ করলে তার হুকুম কি? তিনি বললেনঃ সে (যার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছে) তার জীবনে এবং মরণে (ইসলাম গ্রহণকারীর) সবচেয়ে নিকটতর ব্যক্তি।