أبواب الحدود

১৯. শরীআতের দন্ড বিধি অধ্যায়

অধ্যায় ১৯ · ৮২ টি হাদীস

তিন অবস্থা ব্যতিরেকে কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়

بَاب لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا فِي ثَلَاثٍ

২৫৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ فَسَمِعَهُمْ وَهُمْ، يَذْكُرُونَ الْقَتْلَ فَقَالَ إِنَّهُمْ لَيَتَوَاعَدُونِي بِالْقَتْلِ فَلِمَ يَقْتُلُونِي وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ فِي إِحْدَى ثَلاَثٍ رَجُلٌ زَنَى وَهُوَ مُحْصَنٌ فَرُجِمَ أَوْ رَجُلٌ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ رَجُلٌ ارْتَدَّ بَعْدَ إِسْلاَمِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَوَاللَّهِ مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ فِي إِسْلاَمٍ وَلاَ قَتَلْتُ نَفْسًا مُسْلِمَةً وَلاَ ارْتَدَدْتُ مُنْذُ أَسْلَمْتُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

২৫৩৩। আহমাদ ইবন 'আব্দা (রাহঃ) .... আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উছমান ইবন আফফান (রাযিঃ) বিদ্রোহীরা যখন তাঁকে ঘিরে ফেলেছিল, তখন ওপর থেকে তাদের প্রতি তাকালেন। তিনি তাদেরকে হত্যার আলোচনা করতে শুনে বললেনঃ তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু কেন তারা আমাকে হত্যা করবে? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনটি কারণের কোন একটি ছাড়া কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যিনা করে, তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হবে। অথবা যে কাউকে হত্যার অপরাধ ছাড়াই হত্যা করে, বা যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে যায়। আল্লাহর কসম! আমি জাহিলী যুগেও কখনো যিনা করিনি আর ইসলামী যুগেও না। আমি কোন মুসলিমকে হত্যা করিনি। আর আমি যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি, (সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত কখনো) মুরতাদ হইনি।

২৫৩৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ أَحَدُ ثَلاَثَةِ نَفَرٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫৩৪। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আবু বকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী (রাহঃ) …… 'আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কোন মুসলিমকে হত্যা করা জাইয নয়, যে এই বলে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল। কিন্তু তিন শ্রেণীর লোককে হত্যা করা যাবেঃ জানের বদলে জান, বিবাহিত যিনাকারী এবং জামাআত থেকে পৃথক হয়ে দীন পরিত্যাগ কারী।

যে ব্যক্তি দীন থেকে মুরতাদ হয়

بَاب الْمُرْتَدِّ عَنْ دِينِهِ

২৫৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏(‏مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ ‏)‏‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৩৫। মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ) ….. ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে তার দীন পরিবর্তন করে, তাকে কতল কর।

২৫৩৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ مُشْرِكٍ أَشْرَكَ بَعْدَ مَا أَسْلَمَ عَمَلاً حَتَّى يُفَارِقَ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

২৫৩৬। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....বাহয ইবন হাকীম এর দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ইসলাম গ্রহণ করার পর শিরক করে, মুশরিকদের থেকে পৃথক হয়ে মুসলিমদের দলে শামিল না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্ সে মুশরিকের আমল কবুল করেন না।

হদ্ কার্যকর করা

بَاب إِقَامَةِ الْحُدُودِ

২৫৩৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سِنَانٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ أَبِي شَجَرَةَ، كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ عَنِ ابِنْ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بِلاَدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৩৭। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ).... ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর শাস্তি সমূহের মধ্যে থেকে কোন শাস্তি কার্যকর করা, চল্লিশ রাত মহান আল্লাহর যমীনে বৃষ্টি বর্ষণের থেকে উত্তম।

২৫৩৮

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يَزِيدَ، أَظُنُّهُ عَنْ جَرِيرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ حَدٌّ يُعْمَلُ بِهِ فِي الأَرْضِ خَيْرٌ لأَهْلِ الأَرْضِ مِنْ أَنْ يُمْطَرُوا أَرْبَعِينَ صَبَاحًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৩৮। 'আমর ইবন রাফি' (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যমীনে একটি শাস্তি কার্যকর করা হলে তা তার অধিবাসীদের জন্য চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষণের থেকেও উত্তম।

২৫৩৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ جَحَدَ آيَةً مِنَ الْقُرْآنِ فَقَدْ حَلَّ ضَرْبُ عُنُقِهِ وَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَلاَ سَبِيلَ لأَحَدٍ عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ يُصِيبَ حَدًّا فَيُقَامَ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৩৯। নসর ইবন 'আলী জাহযামী (রাহঃ) ....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত অস্বীকার করে তার গর্দান উড়িয়ে দেয়া জাইয। আর যে বলেঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

(আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তার বান্দাও রাসূল) ; তার ওপর কারো কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। কিন্তু যে যদি শাস্তি যোগ্য কোন কাজ করে, তবে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে।
২৫৪০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ الْمَفْلُوجُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ نَاجِدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَقِيمُوا حُدُودَ اللَّهِ فِي الْقَرِيبِ وَالْبَعِيدِ وَلاَ تَأْخُذْكُمْ فِي اللَّهِ لَوْمَةُ لاَئِمٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৫৪০। 'আব্দুল্লাহ ইবন সালিম মাফলূজ (রাহঃ).... 'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর হদ কার্যকর করবে, চাই সে নিকটবর্তী আত্মীয় হোক বা দূরবর্তী। আল্লাহর কাজে কোন সমালোচনা কারীর সমালোচনা যেন তোমাদেরকে বিব্রত না করে।

যার ওপর হদ ওয়াজিব হয়নি

بَاب مَنْ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ الْحَدُّ

২৫৪১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيَّ، يَقُولُ عُرِضْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ قُرَيْظَةَ فَكَانَ مَنْ أَنْبَتَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ خُلِّيَ سَبِيلُهُ فَكُنْتُ فِيمَنْ لَمْ يُنْبِتْ فَخُلِّيَ سَبِيلِي ‏.‏

বর্ণনাকারী: আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ)

২৫৪১। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) …. আতিয়্যা কুরাজী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরায়জার দিন[১] আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির করা হলো। যার নাভীর নীচে পশম গজিয়েছিল, তাকে হত্যা করা হলো; আর যার গজায়নি তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। আমি পশম না গজানো দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, তাই আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

[১] অর্থাৎ যে দিন ইয়াহূদী গোত্র বনু কুরায়জাকে তাদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাস ঘাতকতার অপরাধে হত্যা করা হয়।
২৫৪২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيَّ يَقُولُ فَهَا أَنَا ذَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ

বর্ণনাকারী: আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ)

২৫৪২। মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ) আতীয়্যা কুরাজী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তখন আমি তোমাদের সম্মুখে ছিলাম।

২৫৪৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَأَبُو أُسَامَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ عُرِضْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُجِزْنِي وَعُرِضْتُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَنِي ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَحَدَّثْتُ بِهِ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي خِلاَفَتِهِ فَقَالَ هَذَا فَصْلُ مَا بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৪৩। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) … ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সামনে হাজির করা হয়, তখন আমি চৌদ্দ বছরের বালক। তিনি আমাকে (জিহাদে শরীক হতে) অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাকে তাঁর কাছে হাজির করা হয়। তখন আমি পনের বছরের বালক। এ সময় তিনি আমাকে অনুমতি দেন। নাফি' (রাহঃ) বলেনঃ আমি এ হাদীস উমার ইবন আব্দুল আযীযের কাছে তাঁর খিলাফাত আমলে বর্ণনা করি। তিনি বললেনঃ এটাই নাবালেগ ও বালেগের মধ্যে পার্থক্যের মানদন্ড।

মু'মিনের দোষ গোপন করা এবং সন্দেহের কারণে হদ মউকুফ হওয়া

بَاب السِّتْرِ عَلَى الْمُؤْمِنِ وَدَفْعِ الْحُدُودِ بِالشُّبُهَاتِ

২৫৪৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।

২৫৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ادْفَعُوا الْحُدُودَ مَا وَجَدْتُمْ لَهُ مَدْفَعًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪৫। আব্দুল্লাহ ইবন জাররাহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা শাস্তি দিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তা ফিরাবার কোন বাহানা পাও।

২৫৪৬

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ كَشَفَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ كَشَفَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ حَتَّى يَفْضَحَهُ بِهَا فِي بَيْتِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৪৬। ইয়াকূব ইবন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ) …. ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গুপ্ত বিষয় গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন তার গুপ্ত বিষয় গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন বিষয় ফাঁস করে দিবে, আল্লাহ তার গোপন বিষয় ফাঁস করে দিবেন। এমন কি এর দ্বারা তাকে তার ঘরে অপদস্থ করে ছাড়বেন।

হদের ব্যাপারে সুপারিশ করা

بَاب الشَّفَاعَةِ فِي الْحُدُودِ

২৫৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ قُرَيْشًا، أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ سَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ قَدْ أَعَاذَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَسْرِقَ قَدْ أَعَاذَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَسْرِقَ وَكُلُّ مُسْلِمٍ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَقُولَ هَذَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৪৭। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ মিস্ত্রী (রাহঃ) .... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মাখযূম গোত্রের এক মহিলা (ফাতিমা বিনত আসওয়াদ) চুরি করেছিল। তার বিষয়টি কুরায়শদের খুবই বিচলিত করে তোলে। তখন তারা বললোঃ এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আলোচনা করতে পারবে? তারা বললোঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবন যায়দ ছাড়া আর কেউ এত সাহস করতে পারবে না। অতঃপর উসামা (রাহঃ) তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করছো? এরপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং বললেন হে লোক সকল! তোমাদের পূর্ববর্তীরা তো (এজন্যই) ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করতো, তখন তারা তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতো। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করতো, তাহলেও অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।

রাবী মুহাম্মাদ ইবন রুমহ বলেনেঃ আমি লায়ছ ইবন সাদ'কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে (হযরত ফাতিমাকে) চুরি করা থেকে হিফাজাত করেছেন। আর প্রত্যেক মুসলমানেরই এরূপ বলা উচিৎ।
২৫৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ مَسْعُودِ بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهَا، قَالَ لَمَّا سَرَقَتِ الْمَرْأَةُ تِلْكَ الْقَطِيفَةَ مِنْ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْظَمْنَا ذَلِكَ وَكَانَتِ امْرَأَةً مِنْ قُرَيْشٍ فَجِئْنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نُكَلِّمُهُ وَقُلْنَا نَحْنُ نَفْدِيهَا بِأَرْبَعِينَ أُوقِيَّةً ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تُطَهَّرَ خَيْرٌ لَهَا ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا سَمِعْنَا لِينَ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَيْنَا أُسَامَةَ فَقُلْنَا كَلِّمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ قَامَ خَطِيبًا فَقَالَ ‏"‏ مَا إِكْثَارُكُمْ عَلَىَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَعَ عَلَى أَمَةٍ مِنْ إِمَاءِ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ كَانَتْ فَاطِمَةُ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ نَزَلَتْ بِالَّذِي نَزَلَتْ بِهِ لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫৪৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) …. মাসউদ ইবন আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন সে মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘর থেকে সেই চাদরটি চুরি করলো, তখন তা আমাদেরকে খুবই বিচলিত করলো। কেননা সে ছিল কুরায়শ গোত্রের এক মহিলা। অতঃপর আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে তাঁর সঙ্গে ব্যাপারটি আলোচনা করতে এলাম। আমরা বললামঃ আমরা তার পক্ষ থেকে চল্লিশ উকিয়া ফিদ্‌য়া দিচ্ছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার জন্য পবিত্র হয়ে যাওয়াই উত্তম। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নরম সুর শুনলাম, তখন উসামার কাছে এসে বললামঃ তুমি রাসূলুল্লাহ -এর সঙ্গে আলোচনা কর। রাসূলুল্লাহ -এ অবস্থা দেখে খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আমার কাছে আল্লাহর একটি শাস্তির ব্যাপারে দেন দরবার করছো, যা তাঁর কোন এক বন্দীর জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে! সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জান! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমাও মহিলাটি যে স্তরে উপনীত হয়েছে সেই স্তরে উপনীত হতো, তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ তার হাত কেটে দিত।

যিনার হদ

بَاب حَدِّ الزِّنَا

২৫৪৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، وَشِبْلٍ، قَالُوا كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ خَصْمُهُ وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي حَتَّى أَقُولَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا وَإِنَّهُ زَنَى بِامْرَأَتِهِ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ فَسَأَلْتُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْمِائَةُ الشَّاةُ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা হিশাম ইবন 'আম্মারও মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ) ….. আবু হুরায়রা, যায়দ ইবন খালিদ ও শিবল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। ইতিমধ্যে তাঁর কাছে এক লোক এসে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, আমাদের মধ্যে কিতাবুল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বললো, আমার পুত্র এ ব্যক্তির চাকর ছিল, সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করেছে। আমি তার পক্ষ থেকে একশ বকরী এবং একটি গোলাম ফিদয়া হিসেবে দিয়েছি। অতঃপর আমি কিছু আলিমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি; তখন আমাকে বলা হয়েছে যে, আমার পুত্রকে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন দিতে হবে। আর এর স্ত্রীকে রজম (পাথরের আঘাতে মৃত্যু দন্ড) করতে হবে। এতদ শ্রবণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জান! আমি অবশ্যই তোমাদের দু'জনের মধ্যে কিতাবুল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করবো। তুমি তোমার একশ বকরী ও গোলাম ফিরিয়ে নেও এবং তোমার পুত্রকে একশ বেত্রাঘাত করা হবে এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দেওয়া হবে। আর হে উনায়স! তুমি আগামীকাল সকালে স্ত্রীর কাছে যাবে। সে যদি স্বীকার করে তবে তাকে রজম করবে।

হিশাম বলেনঃ উনায়স (রাযিঃ) পরদিন সকালে তার কাছে গেলে, সে (তার অপরাধ) স্বীকার করে। অতঃপর সে তাকে রজম করে।
২৫৫০

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৫৫০। বাকর ইবন খালাফ আবু বিশর (রাহঃ) .... 'উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে (দ্বীনের হুকুম) শিখে নেও। আল্লাহ তাদের জন্য (মহিলাদের) একটি পথ করে দিয়েছেনঃ যদি অবিবাহিত পুরুষ অবিবাহিত মহিলার সাথে যিনা করে তবে তাদের একশ বেত্রাঘাত করতে এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দিতে হবে। আর যদি বিবাহিত পুরুষ বিবাহিত মহিলার সাথে যিনা করে তবে তাদের একশ বেত্রাঘাত এবং রজম করতে হবে।

স্ত্রীর বাঁদীর সাথে যিনা করলে

بَاب مَنْ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ

২৫৫১

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، أَنْبَأَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، قَالَ أُتِيَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ بِرَجُلٍ غَشَى جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ فَقَالَ لاَ أَقْضِي فِيهَا إِلاَّ بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَهُ جَلَدْتُهُ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَذِنَتْ لَهُ رَجَمْتُهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

২৫৫১। হুমায়দ ইবন মাসআদা (রাহঃ).... হাবীব ইবন সালিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নুমান ইবন বাশীর (রাযিঃ) এর কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলো, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে যিনা করছিল। তিনি বললেনঃ আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ফয়সালার অনুরূপ ফয়সালা করে দেব। তিনি বললেনঃ যদি তার স্ত্রী বাদীকে তার জন্য হালাল করে দিয়ে থাকে, তবে এ যিনাকারীকে একশ বেত্রাঘাত করবো। আর যদি তার স্ত্রী তাকে অনুমতি না দিয়ে থাকে, তবে তাকে আমি রজম করব।

২৫৫২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُفِعَ إِلَيْهِ رَجُلٌ وَطِئَ جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ فَلَمْ يَحُدَّهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

২৫৫২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) ......... সালামা ইবন মুহাব্বিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলো, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে যিনা করেছিল । তিনি তাকে কোনরূপ শাস্তি দেননি।

রজম করা সম্পর্কে

بَاب الرَّجْمِ

২৫৫৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَطُولَ، بِالنَّاسِ زَمَانٌ حَتَّى يَقُولَ قَائِلٌ مَا أَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ أَلاَ وَإِنَّ الرَّجْمَ حَقٌّ إِذَا أُحْصِنَ الرَّجُلُ وَقَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ حَمْلٌ أَوِ اعْتِرَافٌ وَقَدْ قَرَأْتُهَا الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ ‏.‏ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৫৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন সাবাহ (রাহঃ).... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি ভয় পাচ্ছি যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হবার পর কেউ বলে বসবে, আমি আল্লাহর কিতাবের মধ্যে রজমের কথা পাই না। ফলে সে আল্লাহর ফরয সমূহের একটি ফরয তরক করার কারণে গোমরাহ হয়ে যাবে। জেনে রাখ, যখন পুরুষ বিবাহিত হবে এবং (যিনার সপক্ষে) দলীল পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ হবে অথবা স্বীকারোক্তি করবে, তখন রজম করাই হক। অতঃপর আমি রজমের এ আয়াত পাঠ করি; অর্থাৎ বয়োবৃদ্ধ (বিবাহিত) পুরুষ এবং বয়োবৃদ্ধা (বিবাহিতা) মহিলা যিনা করলে তোমরা তাদের উভয়কে অবশ্যই রজম করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রজম করেছেন এবং তার পরে আমরাও রজম করেছি।

২৫৫৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ ‏.‏ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ قَالَ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ إِنِّي زَنَيْتُ ‏.‏ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ قَدْ زَنَيْتُ ‏.‏ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى أَقَرَّ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ ‏.‏ فَلَمَّا أَصَابَتْهُ الْحِجَارَةُ أَدْبَرَ يَشْتَدُّ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ بِيَدِهِ لَحْىُ جَمَلٍ فَضَرَبَهُ فَصَرَعَهُ فَذُكِرَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِرَارُهُ حِينَ مَسَّتْهُ الْحِجَارَةُ قَالَ ‏ "‏ فَهَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মাইয ইবন মালিক নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বললোঃ আমি যিনা করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আবার সে বললোঃ আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে আবার বললোঃ আমি যিনা করেছি। এবারও তিনি তার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর সে আবার বললোঃ আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে আবারও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এমনি ভাবে সে চারবার স্বীকারুক্তি করলো। অতঃপর তিনি তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। যখন তার গায়ে পাথর লাগতে লাগলো তখন সে দ্রুত পলায়ন করতে থাকলো। তখন এক ব্যক্তি তাকে পেয়ে গেল, যার হাতে ছিল উটের চোয়ালের হাড়। সে তাকে আঘাত করে ধরাশায়ী করলো। নবী (ﷺ)-এর কাছে তার গায়ে পাথর লাগার সময় তার পলায়নের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?

২৫৫৫

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَرَفَتْ بِالزِّنَا فَأَمَرَ بِهَا فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ رَجَمَهَا ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৫৫৫। 'আব্বাস ইবন 'উছমান দিমাশকী (রাহঃ).... 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মহিলা নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে যিনার স্বীকারোক্তি করলো। তিনি তার দেহের ওপর তার কাপড় ভাল করে বেঁধে তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার ওপর জানাযার সালাত আদায় করলেন।

ইয়াহূদী পুরুষ ও মহিলাকে রজম করা

بَاب رَجْمِ الْيَهُودِيِّ وَالْيَهُودِيَّةِ

২৫৫৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجَمَ يَهُودِيَّيْنِ أَنَا فِيمَنْ رَجَمَهُمَا فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ وَإِنَّهُ يَسْتُرُهَا مِنَ الْحِجَارَةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৫৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ....ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দুইজন ইয়াহূদীকে রজম করেছিলেন। যারা তাদেরকে রজম করেছিল, আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। আমি পুরুষটিকে দেখলাম যে, সে মহিলাটিকে পাথর থেকে আড়াল করেছে।

২৫৫৭

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجَمَ يَهُودِيًّا وَيَهُودِيَّةً ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

২৫৫৭। ইসমায়ীল ইবন মুসা (রাহঃ).... জাবির ইবন সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একজন ইয়াহূদী এবং একজন ইয়াহূদীয়াকে রজম করেছিলেন।

২৫৫৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ بِيَهُودِيٍّ مُحَمَّمٍ مَجْلُودٍ فَدَعَاهُمْ فَقَالَ ‏"‏ هَكَذَا تَجِدُونَ فِي كِتَابِكُمْ حَدَّ الزَّانِي ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَدَعَا رَجُلاً مِنْ عُلَمَائِهِمْ فَقَالَ ‏"‏ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي قَالَ لاَ وَلَوْلاَ أَنَّكَ نَشَدْتَنِي لَمْ أُخْبِرْكَ نَجِدُ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِنَا الرَّجْمَ وَلَكِنَّهُ كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ وَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ ‏.‏ فَقُلْنَا تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَىْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ مَكَانَ الرَّجْمِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا أَمْرَكَ إِذْ أَمَاتُوهُ ‏"‏ ‏.‏ وَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৫৫৮। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... বারা ইবন আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এমন একজন ইয়াহূদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার মুখে কালি মাখিয়ে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ তোমরা কি যিনাকারীর শাস্তি তোমাদের কিতাবের মধ্যে এ রকমই পেয়েছ? তারা বললোঃ হ্যাঁ। তখন তিনি তাদের আলিমদের একজনকে ডেকে বললেনঃ আমি তোমাকে সেই সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি মুসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তোমরা কি যিনাকারীর শাস্তি এরকমই পেয়েছ? তখন সে বললোঃ না। আপনি যদি আমাকে শপথ দিয়ে না বলতেন, তবে আমি আপনাকে একথা বলতাম না। আমরা আমাদের কিভাবে যিনাকারীর শাস্তি পেয়েছি-রজম করা। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে রজম বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় আমরা আমাদের সম্ভ্রান্ত লোককে (এ অপরাধে) গ্রেপ্তার করলে তাকে ছেড়ে দিতাম আর আমাদের দুর্বল ও অসহায় লোককে (যিনার কারণে) গ্রেফতার করলে তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতাম। (এক পর্যায়ে) আমরা বললামঃ এস আমরা এমন একটা বিষয়ে একমত হই, যা আমরা সম্ভ্রান্ত ও দুর্বল সকলের ওপরই শাস্তি হিসেবে কার্যকর করতে পারি। তখন থেকে আমরা (শাস্তি লাঘব করে) রজমের স্থলে চেহারায় কালি মাখিয়ে বেত্রাঘাতের শাস্তির ওপর একমত হই। এতদ শ্রবণে নবী (ﷺ) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তোমার হুকুমকে জীবিত করেছি, তারা যাকে মেরে ফেলেছিল। অতঃপর তাঁর নির্দেশে ইয়াহূদীকে রজম করা হলো।

যে প্রকাশ্যভাবে অশ্লীলতা করে

بَاب مَنْ أَظْهَرَ الْفَاحِشَةَ

২৫৫৯

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَوْ كُنْتُ رَاجِمًا أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ لَرَجَمْتُ فُلاَنَةَ فَقَدْ ظَهَرَ فِيهَا الرِّيبَةُ فِي مَنْطِقِهَا وَهَيْئَتِهَا وَمَنْ يَدْخُلُ عَلَيْهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৫৯। 'আববাস ইবন ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ) ....ইবন 'আববাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম, তবে অবশ্যই অমুক মহিলাকে রজম করতাম। কেননা, তার কথাবার্তায় আচার আকৃতিতে এবং যারা তার কাছে যাতায়াত করে তাদের থেকে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়।

২৫৬০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ ذَكَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ ابْنُ شَدَّادٍ هِيَ الَّتِي قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَوْ كُنْتُ رَاجِمًا أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ لَرَجَمْتُهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تِلْكَ امْرَأَةٌ أَعْلَنَتْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

২৫৬০। আবু বকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী (রাহঃ)..... কাসিম ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন আব্বাস (রাযিঃ) দুজন লি'আন কারীর[১] কথা উল্লেখ করলেন। ইবন শাদ্দাদ তাঁকে বললেনঃ এ সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ আমি যদি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম, তবে অবশ্য তাকে (অসুস্থ মহিলাকে) রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ সে মহিলাতো প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করতো।

[১] লি'আন বলেঃ স্বামী স্ত্রীর প্রতি অবৈধ কাজের অভিযোগ আনলে, তার যদি কোন প্রমাণ না থাকে, তবে বিশেষ বাক্যের মাধ্যমে কসম করে স্বামীর তার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত করা এবং স্ত্রীর সে অভিযোগ খণ্ডন করাকে।

যে ব্যক্তি কওমে লূতের মত কাজ করে।[১]

بَاب مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ

২৫৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৬১। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ ও আবু বকর ইবন খাল্লাদ (রাহঃ)....ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যাকে কওমে লূত যে কাজ করত সে কাজে রত পাও, তবে তোমরা কতল কর তাকে এবং যার সাথে সে করা হয় তাকে।

[১] সমকামিতা।

যে ব্যক্তি কওমে লূতের মত কাজ করে।

بَاب مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ

২৫৬২

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذِي يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ قَالَ ‏ "‏ ارْجُمُوا الأَعْلَى وَالأَسْفَلَ ارْجُمُوهُمَا جَمِيعًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬২। ইয়ূনুস ইবন আব্দুল 'আলা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি কওমে লূতের মত কাজ করে তার সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রজম কর উপরের এবং নীচের ব্যক্তিকে; তাদের উভয়কেই রজম কর।

২৫৬৩

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৬৩। আযহার ইবন মারওয়ান (রাহঃ) .... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের উপর যে সম্পর্কে বেশী ভয় করি তা হল কওমে লূতের কাজ।

যে ব্যক্তি মুহরাম নারী ও চতুষ্পদ জন্তুর সাথে সঙ্গম করে

بَاب مَنْ أَتَى ذَاتَ مَحْرَمٍ وَمَنْ أَتَى بَهِيمَةً

২৫৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ وَمَنْ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৬৪। 'আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুহরাম নারীর সাথে সঙ্গম করে, তাকে কতল কর। আর যে ব্যক্তি চতুষ্পদ জন্তুর সাথে সঙ্গম করে, তাকে কতল কর এবং সে জন্তুকেও কতল কর।

বাঁদীর উপর হদ্ কার্যকর করা

بَاب إِقَامَةِ الْحُدُودِ عَلَى الْإِمَاءِ

২৫৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، وَشِبْلٍ، قَالُوا كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنِ الأَمَةِ تَزْنِي قَبْلَ أَنْ تُحْصَنَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ اجْلِدْهَا فَإِنْ زَنَتْ فَاجْلِدْهَا فَإِنْ زَنَتْ فَاجْلِدْهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الرَّابِعَةِ ‏"‏ فَبِعْهَا وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা, যায়দ ইবন খালিদ ও শিবল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি যে বাঁদী বিয়ের আগে যিনা করে তার সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তাকে বেত্রাঘাত কর। যদি সে আবার যিনা করে তবে আবার তাকে বেত্রাঘাত কর। এর পর তৃতীয় অথবা চতুর্থবার বললেনঃ তাকে বিক্রি করে ফেল চুলের একটি রশির বিনিময়ে হলেও।

২৫৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ مُسْلِمٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عُرْوَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ عَمْرَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا زَنَتِ الأَمَةُ فَاجْلِدُوهَا فَإِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا فَإِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا فَإِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ بِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ ‏"‏ ‏.‏ وَالضَّفِيرُ الْحَبْلُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৬৬। মুহাম্মাদ ইবন রুমূহ (রাহঃ) .... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাঁদী যদি যিনা করে তবে তাকে বেত্রাঘাত কর। সে যদি আবার যিনা করে তবে আবার তাকে বেত্রাঘাত কর। সে যদি আবার যিনা করে তবে আবার তাকে বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে ফেল একটি রশির বিনিময়ে হলেও।

কযফ'[১] -এর হ্দ

بَاب حَدِّ الْقَذْفِ

২৫৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَلِكَ وَتَلاَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا نَزَلَ أَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৬৭। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমার পবিত্রতা প্রমাণ করে আয়াত নাযিল হল, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে এর উল্লেখ করলেন এবং কুরআন (সেই আয়াত) তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর মিম্বর থেকে দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে সে শাস্তি দেওয়া হল।

[১] কারো বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ এনে তা প্রমাণ করতে না পারলে যে শাস্তি দেওয়া হয়, তাকেই বলে কাফের শাস্তি। এ শাস্তি হল আশিটি বেত্রাঘাত।

কযফ' -এর হ্দ

بَاب حَدِّ الْقَذْفِ

২৫৬৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي حَبِيبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ يَا مُخَنَّثُ فَاجْلِدُوهُ عِشْرِينَ وَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ يَا لُوطِيُّ فَاجْلِدُوهُ عِشْرِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৬৮ 'আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে 'হে মুখান্নাছ' (নপুংসক) বললে তাকে বিশ বেত্রাঘাত লাগাবে। আর কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে 'হে লূতী’ (সমকামী) বললে তাকে বিশ ঘা বেত লাগাবে।

মাতালের হদ্

بَاب حَدِّ السَّكْرَانِ

২৫৬৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ، سَمِعْتُهُ عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ مَا كُنْتُ أَدِي مَنْ أَقَمْتُ عَلَيْهِ الْحَدَّ إِلاَّ شَارِبَ الْخَمْرِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسُنَّ فِيهِ شَيْئًا إِنَّمَا هُوَ شَىْءٌ جَعَلْنَاهُ نَحْنُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৬৯। ইসমাঈল ইবন মুসা ও 'আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ যুহরী (রাহঃ) …. উমাইর ইবন সা'ঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি যাকে শাস্তি দেব (সে মারা গেলে) আমি তার দিয়াত (জানের ক্ষতিপূরণ) দেবনা মদ পানকারী ছাড়া। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ব্যাপারে কোন শাস্তি নির্ধারণ করেননি। তার যে শাস্তি আছে, তা আমরাই নির্ধারণ করেছি।

২৫৭০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، جَمِيعًا عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْرِبُ فِي الْخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَالْجَرِيدِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৭০। নসর ইবন 'আলী জাহযামী ও 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদপান করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুতা ও লাঠি দিয়ে পিটাতেন।

২৫৭১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّانَاجِ، سَمِعْتُ حُضَيْنَ بْنَ الْمُنْذِرِ الرَّقَاشِيَّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ فَيْرُوزَ الدَّانَاجُ، قَالَ حَدَّثَنِي حُضَيْنُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ لَمَّا جِيءَ بِالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ إِلَى عُثْمَانَ قَدْ شَهِدُوا عَلَيْهِ قَالَ لِعَلِيٍّ دُونَكَ ابْنَ عَمِّكَ فَأَقِمْ عَلَيْهِ الْحَدَّ ‏.‏ فَجَلَدَهُ عَلِيٌّ وَقَالَ جَلَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ وَجَلَدَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ وَجَلَدَ عُمَرُ ثَمَانِينَ وَكُلٌّ سُنَّةٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৭১। 'উছমান ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন আবু শাওয়ারব (রাহঃ).... হুসাইন ইবন মুনযির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ওয়ালীদ ইবন উকবাকে যখন উছমান (রাযিঃ)-এর কাছে আনা হল এবং লোকজন তার বিরুদ্ধে (মদপান করার) সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি আলী (রাযিঃ) কে বললেন, নিন আপনার চাচাত ভাইকে এবং কায়েম করুন তার উপর হদ। অতঃপর আলী (রাযিঃ) তাকে বেত্রাঘাত করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মদপানকারীকে) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, আবু বকর (রাযিঃ) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং উমার (রাযিঃ) আশিটি বেত্রাঘাত করেছেন। এর সবটিই সুন্নত।

বারবার মদ পান করলে

بَاب مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ مِرَارًا

২৫৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ ‏"‏ فَإِنْ عَادَ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৭২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ মাতাল হলে তাকে বেত্রাঘাত কর। সে পুনরায় মাতাল হলে তাকে বেত্রঘাত কর। সে পুনরায় মাতাল হলে আবারো তাকে বেত্রাঘাত কর। এরপর চতুর্থবার বললেনঃ সে যদি পুনরায় মাতাল হয় তবে তার গর্দান উড়িয়ে দাও।

২৫৭৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا شَرِبُوا الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِذَا شَرِبُوا فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِذَا شَرِبُوا فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِذَا شَرِبُوا فَاقْتُلُوهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৫৭৩। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) ….. মুআবিয়া ইবন আবু সুফয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লোকেরা যখন মদপান করবে তখন তাদেরকে বেত্রাঘাত করবে। তারপর যদি আবার তারা মদপান করে তবে আবার তাদেরকে বেত্রাঘাত করবে। এরপর আবার মদপান করলে আবার তাদেরকে বেত্রাঘাত করবে। এরপর যদি তারা আবার মদপান করে তবে তাদেরকে কতল করবে।

বয়ঃবৃদ্ধ এবং রোগীর উপর হদ ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে

بَاب الْمُخَنَّثِينَ

২৫৭৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، قَالَ كَانَ بَيْنَ أَبْيَاتِنَا رَجُلٌ مُخْدَجٌ ضَعِيفٌ فَلَمْ يُرَعْ إِلاَّ وَهُوَ عَلَى أَمَةٍ مِنْ إِمَاءِ الدَّارِ يَخْبُثُ بِهَا فَرَفَعَ شَأْنَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ اجْلِدُوهُ ضَرْبَ مِائَةِ سَوْطٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ هُوَ أَضْعَفُ مِنْ ذَلِكَ لَوْ ضَرَبْنَاهُ مِائَةَ سَوْطٍ مَاتَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَخُذُوا لَهُ عِثْكَالاً فِيهِ مِائَةُ شِمْرَاخٍ فَاضْرِبُوهُ ضَرْبَةً وَاحِدَةً ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

২৫৭৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবন সা'দ ইবন উবাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ীতে এক লেংড়া দুর্বল থাকত। সে এ বাড়ীতে এক বাঁদীর সাথে অবৈধ কাজ করতে ভীত সংকীত হয়নি। সা'দ ইবন উবাদা (রাযিঃ) থেকে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উত্থাপন করলেন। তখন তিনি (রাসূল) বললেন তাকে একশ কোড়া মার। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া নবী আল্লাহ! সে এর জন্য খুবই দুর্বল। তাকে যদি আমরা একশ কোড়া মারি তাহলে সে মারা যাবে। তিনি বলেনঃ তাহলে একটি খেজুরের কাঁদি লও যাতে একশটি শাখা রয়েছে। অতঃপর তাকে তা দিয়ে একবার মার।

সুফইয়ান ইবন ওয়াকী (রাহঃ) …. সা'দ ইবন উবাদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।

যে ব্যক্তি অস্ত্র তাক করে ধরে

بَاب مَنْ شَهَرَ السِّلَاحَ

২৫৭৫

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ وَحَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ وَحَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، وَمُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৭৫। ইয়াকুব ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাসিব, মুগিরা ইবন আব্দুর রহমান ও আনাস ইবন ইয়ায (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে আমাদের প্রতি অস্ত্র তাক করে ধরবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২৫৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ الْبَرَّادِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৭৬। আব্দুল্লাহ ইবন 'আমির ইবন বাররাদ ইবন ইয়ূসুফ ইবন বুরায়দা ইবন আবু বুরদা ইবন আবু মুসা আশ'আরী (রাহঃ).... . ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২৫৭৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَيُوسُفُ بْنُ مُوسَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْبَرَّادِ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ شَهَرَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৫৭৭। মাহমুদ ইবন গায়লান, আবু কুরায়ব, ইয়ূসুফ ইবন মুসা ও আব্দুল্লাহ ইবন বাররাদ (রাহঃ) .... আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে আমাদের প্রতি অস্ত্র তাক করে ধরে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যে যুদ্ধ করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করে

بَاب مَنْ حَارَبَ وَسَعَى فِي الْأَرْضِ فَسَادًا

২৫৭৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أُنَاسًا، مِنْ عُرَيْنَةَ قَدِمُوا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَقَالَ ‏ "‏ لَوْ خَرَجْتُمْ إِلَى ذَوْدٍ لَنَا فَشَرِبْتُمْ مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا ‏"‏ ‏.‏ فَفَعَلُوا فَارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ وَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَاقُوا ذَوْدَهُ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ فِي طَلَبِهِمْ فَجِيءَ بِهِمْ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَرَ أَعْيُنَهُمْ وَتَرَكَهُمْ بِالْحَرَّةِ حَتَّى مَاتُوا ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৭৮। নসর ইবন 'আলী জাহযামী (রাহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উরায়না গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে (মদীনায়) এল, মদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না (এতে তারা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ল) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা যদি আমাদের উটের কাছে যেতে আর তার দুধ এবং পেশাব পান করতে (তাহলে তোমাদের রোগ নিরাময় হয়ে যেত)! তারা তাই করল। (ফলে তাদের অসুখ সেরে গেল।) অতঃপর তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর রাখালকে হত্যা করল ও তাঁর উটগুলি লুট করে নিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সন্ধানে লোক পাঠালেন। তাদেরকে ধরে আনা হল। অতঃপর তিনি তাদের হাত ও পা কেটে দিলেন। তপ্তলৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুড়ে দিলেন এবং উত্তপ্ত বালুতে ফেলে রাখলেন। অবশেষে তারা মারা গেল।

২৫৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ قَوْمًا، أَغَارُوا عَلَى لِقَاحِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৭৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রাহঃ) ..... 'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একটি কওম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুগ্ধবতী উট লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। অতঃপর নবী (ﷺ) তাদের হাত পা কেটে দেন এবং লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুড়ে দেন।

যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ

بَاب مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ

২৫৮০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫৮০। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) …. সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।

২৫৮১

حَدَّثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ الْجَزَرِيُّ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أُتِيَ عِنْدَ مَالِهِ فُقُوتِلَ فَقَاتَلَ فَقُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৮১। খলীল ইবন 'আমর (রাহঃ)........ইবন 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে তার সম্পদের কাছে আসে, অতঃপর কেউ তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় এবং সেও লড়াই করে এবং এতে সে নিহত হয়, সে শহীদ।

২৫৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أُرِيدَ مَالُهُ ظُلْمًا فَقُتِلَ فَهُوَ شَهِيدٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৮২। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার সম্পদ জুলুম করে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা হয় অতঃপর সে (তা রক্ষার্থে) নিহত হয়, সে শহীদ।

চোরের হদ্

بَاب حَدِّ السَّارِقِ

২৫৮৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৮৩। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লা'নাত করেন আল্লাহ চোরের প্রতি, সে ডিম চুরি করে এতে তার হাত কাটা যায় এবং একটি রশি চুরি করে এতে তার হাত কাটা যায়।

২৫৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بَنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৮৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) …. ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একটি ঢাল চুরিতে (চোরের) হাত কেটে দেন, যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম।

২৫৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَمْرَةَ، أَخْبَرَتْهُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تُقْطَعُ الْيَدُ إِلاَّ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৮৫। আবু মারওয়ান 'উছমানী (রাহঃ)...'আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক দীনারের এক চতুর্থাংশ বা তার বেশী (চুরি করা) ছাড়া হাত কাটা যাবে না।

২৫৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو وَاقِدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ فِي ثَمَنِ الْمِجَنِّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৫৮৬। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... সা'দ (ইবন আবু ওয়াককাস) (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ চোরের হাত কাটা যাবে একটি ঢালের মূল্যের পরিমাণ হলে।

হাত (কেটে) কাঁধে লটকিয়ে দেওয়া

بَاب تَعْلِيقِ الْيَدِ فِي الْعُنُقِ

২৫৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو بِشْرٍ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَأَبُو سَلَمَةَ الْجُوبَارِيُّ يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ قَالُوا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَطَاءِ بْنِ مُقَدَّمٍ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، قَالَ سَأَلْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ عَنْ تَعْلِيقِ الْيَدِ، فِي الْعُنُقِ فَقَالَ السُّنَّةُ قَطَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ رَجُلٍ ثُمَّ عَلَّقَهَا فِي عُنُقِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

২৫৮৭। আবু বকর ইবন আবু শায়বা, আবু বিশর বকর ইবন খালাফ, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও আবু সালামা জুবারী ইয়াহইয়া ইবন খালাফ (রাহঃ) .... ইবন মুহায়রীয (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাযালা ইবন উবায়দ (রাযিঃ) কে হাত কাঁধে লটকিয়ে দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির হাত কেটে দিয়েছিলেন। পরে তা তার কাঁধে লটকিয়ে দিয়েছিলেন।

চোর স্বীকারোক্তি করলে

بَاب السَّارِقِ يَعْتَرِفُ

২৫৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَعْلَبَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ سَمُرَةَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَرَقْتُ جَمَلاً لِبَنِي فُلاَنٍ فَطَهِّرْنِي ‏.‏ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّا افْتَقَدْنَا جَمَلاً لَنَا فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُطِعَتْ يَدُهُ ‏.‏ قَالَ ثَعْلَبَةُ أَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ حِينَ وَقَعَتْ يَدُهُ وَهُوَ يَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي طَهَّرَنِي مِنْكِ أَرَدْتِ أَنْ تُدْخِلِي جَسَدِي النَّارَ ‏.‏

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৫৮৮। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ) ..... ছা'লাবা আনসারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমর ইবন সামুরা ইবন হাবীব ইবন আব্দ শামস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমি অমুক গোত্রের একটি উট চুরি করেছি, আমাকে পবিত্র করুন। নবী (ﷺ) তাদের (সে গোত্রের) কাছে লোক পাঠালেন, তারা বললো, আমরা আমাদের একটি উট হারিয়েছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুকুম দিলে তার হাত কেটে ফেলা হল। রাবী ছা'লাবা বলেনঃ আমি দেখছিলাম যখন তার হাত (কেটে) পড়ে গেল তখন সে বলছিলঃ সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তোমার থেকে আমাকে পবিত্র করেছেন। তুমি চাচ্ছিলে আমার শরীরটাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাতে।

গোলাম চুরি করলে

بَاب الْعَبْدِ يَسْرِقُ

২৫৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا سَرَقَ الْعَبْدُ فَبِيعُوهُ وَلَوْ بِنَشٍّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৮৯। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গোলাম যখন চুরি করবে, তখন তাকে বিক্রি করে ফেলবে, যদিও বিশ দিরহাম মূল্য হয়।

২৫৯০

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ تَمِيمٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عَبْدًا، مِنْ رَقِيقِ الْخُمُسِ سَرَقَ مِنَ الْخُمُسِ فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَقْطَعْهُ وَقَالَ ‏ "‏ مَالُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ سَرَقَ بَعْضُهُ بَعْضًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৯০। জুবারা ইবন মুগাল্লিস (রাহঃ) .... ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। গনিমত সূত্রে প্রাপ্ত[১] একটি গোলাম গনিমতের এক পঞ্চমাংশের সম্পদ থেকে চুরি করল। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উত্থাপন করা হল। তিনি তার হাত কাটলেন না। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার এক সম্পদ অন্য সম্পদ চুরি করেছে।

[১] অর্থাৎ গনীমাতের মাল থেকে যে এক পঞ্চমাংশ বায়তুল মালে জমা দেওয়া হত।

খিয়ানাতকারী, লুটেরা ও ছিনতাইকারী প্রসঙ্গে

بَاب الْخَائِنِ وَالْمُنْتَهِبِ وَالْمُخْتَلِسِ

২৫৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يُقْطَعُ الْخَائِنُ وَلاَ الْمُنْتَهِبُ وَلاَ الْمُخْتَلِسُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৫৯১। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).... জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খিয়ানাতকারী লুটেরা এবং ছিনতাইকারীর হাত কাটা হবে না।

২৫৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَاصِمِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَلِسِ قَطْعٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

২৫৯২। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ) .... 'আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ছিনতাইকারীর হাত কাটা যাবে না।

ফল এবং গাছের মাথী চুরিতে হাত কাটা যাবে না

بَاب لَا يُقْطَعُ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ

২৫৯৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৫৯৩। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....রাফি' ইবন খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফল এবং মাথি চুরিতে হাত কাটা যাবে না।

২৫৯৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৯৪। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) .......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফল এবং মাথি চুরিতে হাত কাটা যাবে না।

সংরক্ষিত স্থান থেকে চুরি করলে

بَاب مَنْ سَرَقَ مِنْ الْحِرْزِ

২৫৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ نَامَ فِي الْمَسْجِدِ وَتَوَسَّدَ رِدَاءَهُ فَأُخِذَ مِنْ تَحْتِ رَأْسِهِ فَجَاءَ بِسَارِقِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْطَعَ فَقَالَ صَفْوَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أُرِدْ هَذَا رِدَائِي عَلَيْهِ صَدَقَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ فَهَلاَّ قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ইবনে সাফওয়ান (রাঃ)

২৫৯৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....সাফওয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মসজিদে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তার চাদর বালিশ বানিয়ে নিয়েছিলেন। তার মাথার নিচ থেকে তা চুরি হলো। অতঃপর তিনি চোরকে নবী (ﷺ)-এর কাছে ধরে নিয়ে এলেন। নবী (ﷺ) তার হাত কাটার হুকুম দিলেন। সাফওয়ান তখন বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমি তো এটা চাইনি! আমার চাদর আমি তাকে দান করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে তাকে আমার কাছে আনার আগে কেন করলে না?

২৫৯৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ مُزَيْنَةَ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الثِّمَارِ فَقَالَ ‏"‏ مَا أُخِذَ فِي أَكْمَامِهِ فَاحْتُمِلَ فَثَمَنُهُ وَمِثْلُهُ مَعَهُ وَمَا كَانَ فِي الْجِرَانِ فَفِيهِ الْقَطْعُ إِذَا بَلَغَ ذَلِكَ ثَمَنَ الْمِجَنِّ وَإِنْ أَكَلَ وَلَمْ يَأْخُذْ فَلَيْسَ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الشَّاةُ الْحَرِيسَةُ مِنْهُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ ثَمَنُهَا وَمِثْلُهُ مَعَهُ وَالنَّكَالُ وَمَا كَانَ فِي الْمُرَاحِ فَفِيهِ الْقَطْعُ إِذَا كَانَ مَا يَأْخُذُ مِنْ ذَلِكَ ثَمَنَ الْمِجَنِّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৫৯৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আমর ইবন 'আয়বের দাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মুযায়না গোত্রের এক লোক নবী (ﷺ) কে ফল (চুরি যাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ (গাছে থাকা অবস্থায়) গুচ্ছ থেকে যা নিয়ে যাবে, তার মূল্য এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ মূল্য (দ্বিগুণ) দিতে হবে। আর খলিয়ান থেকে যা নিবে তার মূল্য যদি একটি ঢালের সমপরিমাণ হয় তবে হাত কাটা যাবে। আর যদি সে শুধু খায়, নিয়ে না যায় তবে তার উপর কিছু (কোন জরিমানা) আসবে না। লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! চারণভূমি থেকে বকরী নিয়ে গেলে? তিনি বললেনঃ তার মূল্য এবং সাথে আরো তার সমপরিমাণ মূল্য (অর্থাৎ দ্বিগুণ মূল্য) দিতে হবে আর শাস্তিও হবে। আর গোয়াল থেকে নিয়ে গেলে তার মূল্য যদি একটি ঢালের মূল্যের সমপরিমাণ হয় তবে হাতকাটা যাবে।

চোরকে শিক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে

بَاب تَلْقِينِ السَّارِقِ

২৫৯৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، سَمِعْتُ أَبَا الْمُنْذِرِ، - مَوْلَى أَبِي ذَرٍّ - يَذْكُرُ أَنَّ أَبَا أُمَيَّةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلِصٍّ فَاعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ الْمَتَاعُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بَلَى ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بَلَى ‏.‏ فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قُلْ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ مَرَّتَيْنِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

২৫৯৭। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) …. আবু 'উমাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এক চোরকে হাজির করা হল। সে স্বীকারোক্তি করল, কিন্তু তার কাছে কোন মাল পাওয়া গেল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি মনে করি না যে, তুমি চুরি করেছ। সে বললঃ হ্যাঁ (আমি চুরি করেছি)। তিনি আবার বললেনঃ আমি মনে করি না যে, তুমি চুরি করেছ। সে বললঃ হ্যাঁ (আমি চুরি করেছি)। অতঃপর তিনি হুকুম দিলেন আর তার হাত কাটা হল। এরপর নবী (ﷺ) লোকটিকে বললেনঃ বল, أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ "আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তার কাছে তওবা করছি।” সে বলল, أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তার কাছে তওবা করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন ইয়া আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল কর। দু’বার একথা বললেন।

যাকে বলাৎকার করা হয় তার প্রসঙ্গে

بَاب الْمُسْتَكْرَهِ

২৫৯৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، أَنْبَأَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَرَأَ عَنْهَا الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا ‏.‏

২৫৯৮। 'আলী ইবন মায়মূন রাক্কী, আইয়্যুব ইবন মুহাম্মাদ ওয়াযযান ও আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রাহঃ) ওয়াইল (ইবন হুজর) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সময়ে এক মহিলাকে বলাৎকার করা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে শাস্তি দিলেন না। বরং যে লোক তার সাথে অপকর্ম করেছিল তাকে শাস্তি দিলেন। তিনি মহিলাকে মোহরের ব্যবস্থা করে দিয়ে ছিলেন কিনা একথা রাবী উল্লেখ করেননি।

মসজিদে হদ কার্যকর করা নিষেধ

بَاب النَّهْيِ عَنْ إِقَامَةِ الْحُدُودِ فِي الْمَسَاجِدِ

২৫৯৯

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ الأَبَّارُ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ تُقَامُ الْحُدُودُ فِي الْمَسَاجِدِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৯৯। সুওয়াইদ ইবন সাঈদ ও হাসান ইবন আরাফা (রাহঃ) ইবন 'আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদে হদ কার্যকর করা যাবে না।

২৬০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، أَنَّهُ سَمِعَ عَمْرَو بْنَ شُعَيْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ جَلْدِ الْحَدِّ فِي الْمَسْجِدِ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬০০। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (রাহঃ) .... 'আমর ইবন শুআয়বের দাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে হদ কার্যকর করতে নিষেধ করেছেন।

তা'যীর[১] প্রসঙ্গে

بَاب التَّعْزِيرِ

২৬০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يُجْلَدُ أَحَدٌ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلاَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা ইবনে নিয়ার আনসারী (রাঃ)

২৬০১। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ) .... আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ কাউকে দশ ঘা-র অধিক বেত লাগানো যাবে না। তবে আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির বেলায় ভিন্ন কথা।

[১] যে সব অপরাধের জন্য শরীআতে কোন নির্দিষ্ট শাস্তি নির্ধারিত নেই, সরকার বা কাযীর পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারণ করে দেওয়ায় নাম হল তাযীর। এর জন্য শর্ত হল শরীআত নির্ধারিত শাস্তির কম হতে হবে। তাই ইমাম আবু হানীফার মতে ৩৯ ঘা-বেত এর অধিক মারা যাবে না।

তা'যীর প্রসঙ্গে

بَاب التَّعْزِيرِ

২৬০২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تُعَزِّرُوا فَوْقَ عَشَرَةِ أَسْوَاطٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬০২। হিশাম ইবন 'আম্মার (রাহঃ) …. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দশ বেত্রাঘাত এর অধিক তাযীর করা যাবে না।

হদ (গুনাহের) কাফফারা

بَاب الْحَدُّ كَفَّارَةٌ

২৬০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَصَابَ مِنْكُمْ حَدًّا فَعُجِّلَتْ لَهُ عُقُوبَتُهُ فَهُوَ كَفَّارَتُهُ وَإِلاَّ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৬০৩। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রাহঃ) .... উবাদা ইবন সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে শাস্তিযোগ্য কাজ করে তারপর তাড়াতাড়ী তার শাস্তি দেওয়া হয়, সেটাই হয় তার কাফ্ফারা। নতুবা তার বিষয়টি আল্লাহর প্রতি সোপর্দ।

২৬০৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَصَابَ فِي الدُّنْيَا ذَنْبًا فَعُوقِبَ بِهِ فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عُقُوبَتَهُ عَلَى عَبْدِهِ وَمَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَىْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬০৪। হারুন ইবন আব্দুল্লাহ হাম্মাল (রাহঃ) ..... 'আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে দুনিয়াতে কোন পাপ কাজ করে? অতঃপর এর কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়, তবে আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাকে দ্বিতীয় বার শাস্তি দেওয়া থেকে অধিক ইনসাফ কার। আর যে দুনিয়াতে কোন পাপ কাজ করে। অতঃপর আল্লাহ তা গোপন করে ফেলেন, তবে আল্লাহ যা একবার মাফ করে দিয়েছেন পুনরায় সে কাজের জন্য পাকরাও করা থেকে অধিক সমমানী।

নিজের স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষ পেলে

بَاب الرَّجُلِ يَجِدُ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا

২৬০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَدِينِيُّ أَبُو عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَجِدُ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَعْدٌ بَلَى وَالَّذِي أَكْرَمَكَ بِالْحَقِّ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اسْمَعُوا مَا يَقُولُ سَيِّدُكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬০৫। আহমাদ ইবন 'আব্দা ও মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ মদীনী আবু উবায়দ (রাহঃ) ….. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবন উবাদা আনসারী বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ! যে লোক তার স্ত্রীর সাথে (অবৈধ কাজে লিপ্ত অবস্থায়) অন্য কোন লোক পায়, সে কি তাকে কতল করে ফেলবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, না। সা'দ বললেনঃ হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন (সে তাকে অবশ্যই কতল করে ফেলবে)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের নেতা যা বলছেন, তা শুন।

২৬০৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ دَلْهَمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ، قَالَ قِيلَ لأَبِي ثَابِتٍ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْحُدُودِ وَكَانَ رَجُلاً غَيُورًا أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّكَ وَجَدْتَ مَعَ أُمِّ ثَابِتٍ رَجُلاً أَىَّ شَىْءٍ كُنْتَ تَصْنَعُ قَالَ كُنْتُ ضَارِبَهُمَا بِالسَّيْفِ أَنْتَظِرُ حَتَّى أَجِيءَ بِأَرْبَعَةٍ إِلَى مَا ذَاكَ قَدْ قَضَى حَاجَتَهُ وَذَهَبَ ‏.‏ أَوْ أَقُولُ رَأَيْتُ كَذَا وَكَذَا فَتَضْرِبُونِي الْحَدَّ وَلاَ تَقْبَلُوا لِي شَهَادَةً أَبَدًا ‏.‏ قَالَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ كَفَى بِالسَّيْفِ شَاهِدًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ لاَ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَتَايَعَ فِي ذَلِكَ السَّكْرَانُ وَالْغَيْرَانُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَاجَهْ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يَقُولُ هَذَا حَدِيثُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيِّ وَفَاتَنِي مِنْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

২৬০৬। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... সালামা ইবন মুহাব্বিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, শাস্তির আয়াত নাযিল হলে আবু ছাবিত সা'দ ইবন উবাদাকে বলা হল। আর তিনি ছিলেন আত্ম সম্ভ্রমবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি; তুমি যদি তোমার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন লোক পাও তাহলে কি করবে? তিনি বললেনঃ আমি তাদের উভয়কেই তরবারী দিয়ে মেরে ফেলব। আমি কি অপেক্ষা করব যে চারজন সাক্ষী নিয়ে আসব তার কাছে আর সে কাজ সেরে চলে যাবে? অথবা আমি বলব যে, আমি এমন এমন দেখেছি। আর (সাক্ষী না থাকায়) তোমরা আমাকে (কাযফের) শাস্তি দেবে এবং আর কখনো আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না? রাবী বলেনঃ একথা নবী (স)-এর কাছে বলা হল। তিনি বললেনঃ তরবারীই সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। এরপর বললেনঃ না (আমি এর অনুমতি দিচ্ছি না, কারণ) আমি ভয় করছি যে, মাতাল এবং আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি এভাবে বারবার করেই যেতে থাকবে।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবন মাজা (রাহঃ) বলেনঃ আমি আবু যুরআ (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এটা হল আলী ইবন মুহাম্মাদ তানাফিসীর হাদীছ। এ থেকে আমার কিছু খোয়া গেছে।

পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিয়ে করা

بَاب مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ مِنْ بَعْدِهِ

২৬০৭

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، جَمِيعًا عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرَّ بِي خَالِي - سَمَّاهُ هُشَيْمٌ فِي حَدِيثِهِ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو - وَقَدْ عَقَدَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِوَاءً فَقُلْتُ لَهُ أَيْنَ تُرِيدُ فَقَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ مِنْ بَعْدِهِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৬০৭। ইসমাঈল ইবন মুসা ও সাহল ইবন আবু সাহল (রাহঃ)....বারা ইবন 'আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার মামু আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। (রাবী) হুশাইম তার রিওয়ায়াতে তাঁর নাম হারিছ ইবন আমর বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একটি ঝান্ডা বেঁধে দিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললামঃ কোথায় চলেছেন? তিনি বললেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন, যে তার বাপের স্ত্রীকে বিয়ে করেছে তার মৃত্যুর পর। তিনি আমাকে হুকুম দিয়েছেন আমি যেন তার গর্দান উড়িয়ে দেই।

২৬০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنُ أَخِي الْحُسَيْنِ الْجُعْفِيِّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مَنَازِلَ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ وَأُصَفِّيَ مَالَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

২৬০৮। মুহাম্মাদ ইবন 'আব্দুর রহমান ইবন আখী হুসায়ন জু'ফী (রাহঃ).... কুররা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক ব্যক্তির কাছে পাঠালেন, যে তার পিতার স্ত্রীকে বিয়ে করেছিল তার গর্দান উড়িয়ে দিতে এবং তার মাল ক্রোক করতে।

নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যকে পিতা বানানো এবং নিজের মনিবকে
বাদ দিয়ে অন্যকে মনিব বানানো

بَاب مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ

২৬০৯

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الضَّيْفِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنِ انْتَسَبَ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬০৯। আবু বিশর বকর ইবন খালাফ (রাহঃ).... ইবন 'আববাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সম্পর্ক স্থাপন করে নিজের বাপকে বাদ দিয়ে অন্যের সাথে এবং যে নিজের মানব ছাড়া অন্যকে মনিব বানিয়ে নেয়, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাকুল এবং সকল মানুষের লা'নাত।

নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যকে পিতা বানানো এবং নিজের মনিবকে বাদ দিয়ে অন্যকে মনিব বানানো

بَاب مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ

২৬১০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدًا، وَأَبَا، بَكْرَةَ وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا يَقُولُ سَمِعَتْ أُذُنَاىَ، وَوَعَى، قَلْبِي مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আবু উসমান নাহদী (রহঃ)

২৬১০। 'আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... সা'দ ও আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাদের প্রত্যেকেই বলেনঃ আমার উভয় কান শুনেছে এবং আমার কলব মুখস্থ রেখেছে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, যে নিজের বাপ ছাড়া অন্যকে বাপ বলে পরিচয় দেয়। অথচ সে জানে যে, সে তার বাপ নয়, তবে জান্নাত তার জন্য হারাম।

২৬১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬১১। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ).... 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে নিজের বাপ ছাড়া অন্যকে বাপ বলে পরিচয় দেয়, সে জান্নাতের খুশবুও পাবে না। আর জান্নাতের খুশবু পাঁচশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।

কাউকে নিজের গোত্রভুক্ত নয় বলা

بَاب مَنْ نَفَى رَجُلًا مِنْ قَبِيلَتِهِ

২৬১২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ حَيَّانَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ طَلْحَةَ السُّلَمِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ هَيْصَمٍ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَفْدِ كِنْدَةَ وَلاَ يَرَوْنِي أَفْضَلَهُمْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْتُمْ مِنَّا ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ نَحْنُ بَنُو النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ لاَ نَقْفُو أُمَّنَا وَلاَ نَنْتَفِي مِنْ أَبِينَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَكَانَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ يَقُولُ لاَ أُوتَى بِرَجُلٍ نَفَى رَجُلاً مِنْ قُرَيْشٍ مِنَ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ إِلاَّ جَلَدْتُهُ الْحَدَّ ‏.‏

বর্ণনাকারী: আশআস ইবনে কায়স (রাঃ)

২৬১২। আবু বকর ইবন আবু শায়বা মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ও হারুন ইবন হায়্যান (রাহঃ)....আশ'আছ ইবন কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কিনদা গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। তারা (কিনদা গোত্র) আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করত। আমি বললামঃ ইয়া রাসূল্লাল্লাহ (ﷺ)! আপনারা কি আমাদের মধ্যে (আমাদের গোত্রভূক্ত) নন? তখন তিনি বললেনঃ আমরা বানূ' নাযর ইবন কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মাকে তোহমাত দিই না এবং আমাদের বাপ থেকে পৃথক হইনা।

রাবী বলেনঃ (এরপর থেকে) আশআছ ইবন কায়স বলতেনঃ যে ব্যক্তি কুরায়শ গোত্রের কোন লোককে সে নায়র ইবন কিনানা গোত্রের লোক নয় বলে দাবী করবে, আমি অবশ্যই তাকে (কযফ-এর) শাস্তি দেব।

নপুংসকদের প্রসঙ্গে

بَاب الْمُخَنَّثِينَ

২৬১৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ الْجُرْجَانِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّهُ سَمِعَ بِشْرَ بْنَ نُمَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مَكْحُولاً، يَقُولُ إِنَّهُ سَمِعَ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ عَمْرُو بْنُ قُرَّةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَتَبَ عَلَىَّ الشِّقْوَةَ فَمَا أُرَانِي أُرْزَقُ إِلاَّ مِنْ دُفِّي بِكَفِّي فَأْذَنْ لِي فِي الْغِنَاءِ فِي غَيْرِ فَاحِشَةٍ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ آذَنُ لَكَ وَلاَ كَرَامَةَ وَلاَ نُعْمَةَ عَيْنٍ كَذَبْتَ أَىْ عَدُوَّ اللَّهِ لَقَدْ رَزَقَكَ اللَّهُ طَيِّبًا حَلاَلاً فَاخْتَرْتَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْكَ مِنْ رِزْقِهِ مَكَانَ مَا أَحَلَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ مِنْ حَلاَلِهِ ‏.‏ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكَ لَفَعَلْتُ بِكَ وَفَعَلْتُ قُمْ عَنِّي وَتُبْ إِلَى اللَّهِ أَمَا إِنَّكَ إِنْ فَعَلْتَ بَعْدَ التَّقْدِمَةِ إِلَيْكَ ضَرَبْتُكَ ضَرْبًا وَجِيعًا وَحَلَقْتُ رَأْسَكَ مُثْلَةً وَنَفَيْتُكَ مِنْ أَهْلِكَ وَأَحْلَلْتُ سَلَبَكَ نُهْبَةً لِفِتْيَانِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَامَ عَمْرٌو وَبِهِ مِنَ الشَّرِّ وَالْخِزْىِ مَا لاَ يَعْلَمُهُ إِلاَّ اللَّهُ فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَؤُلاَءِ الْعُصَاةُ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ بِغَيْرِ تَوْبَةٍ حَشَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَمَا كَانَ فِي الدُّنْيَا مُخَنَّثًا عُرْيَانًا لاَ يَسْتَتِرُ مِنَ النَّاسِ بِهُدْبَةٍ كُلَّمَا قَامَ صُرِعَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ)

২৬১৩। হাসান ইবন আবু রাবী' জুরজানী (রাহঃ).... সাফওয়ান ইবন উমায়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর কাছে আমর ইবন মুররা এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহ আমার নসীবে দুর্ভাগ্য লিখে দিয়েছেন। তাই আমি আমার রিযিকের আর কোন পথ দেখি না আমার হাতের দফ বাজানো ছাড়া। সুতরাং অশ্লীশ গান ছাড়া অন্য গান গাওয়ার আমাকে অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাকে অনুমতি দেব না আর (তোমার) চোখও শীতল করব না। তুমি মিথ্যা বলেছ, হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহ তোমাকে পবিত্র হালাল রিযিক দিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহ তার রিযিক থেকে যা তোমার উপর হারাম করেছেন, তাই গ্রহণ করেছ তার হালাল রিযিকের পরিবর্তে। আমি যদি তোমাকে পূর্বে নিষেধ করে থাকতাম তবে অবশ্যই (এখন) তোমাকে শাস্তি দিতাম। আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও এবং আল্লাহর নিকট তওবা কর। সাবধান! তোমাকে নিষেধ করার পর আবার যদি তুমি এ কাজ কর তবে অবশ্যই আমি তোমাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেব, তোমার মাথা মুড়ে দেব মুছলা স্বরূপ, তোমাকে নির্বাসিত করব তোমার পরিবার থেকে এবং তোমার সহায় সম্পত্তি মদীনার যুবকদের জন্য হালাল করে লুটিয়ে দেব।

একথা শুনে আমর উঠে দাঁড়াল আর তার সাথে ছিল লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা, যা জানত না আল্লাহ ছাড়া (কেউ)।
সে যখন চলে গেল, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এরা সব পাপিষ্ঠ। এদের মধ্যে যে বিনা তওবায় মারা যাবে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামাতের দিন তার হাশর করবেন দুনিয়াতে সে যে অবস্থায় ছিল সে ভাবেই- নপুংসক করে উলঙ্গ করে। মানুষের থেকে কাপড়ের এক কোণা দিয়েও সে লজ্জা নিবারণ করবে না। যখনই সে দাঁড়াবে সাথে সাথে পড়ে যাবে।
২৬১৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَسَمِعَ مُخَنَّثًا وَهُو يَقُولُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ إِنْ يَفْتَحِ اللَّهُ الطَّائِفَ غَدًا دَلَلْتُكَ عَلَى امْرَأَةٍ تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৬১৪। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত (একবার) নবী (ﷺ) তার কাছে এলেন। তখন তিনি শুনলেন একজন নপুংসক আব্দুল্লাহ ইবন আবু উমাইয়্যাকে বলছেঃ আল্লাহ যদি আগামীতে তাইফ বিজয় করে দেন তবে তোমাকে এমন এক মহিলা দেখাব, যে সামনে আসে চার ভাঁজ সহ[১] এবং পেছনে যায় আট ভাঁজ সহ । তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ ওদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।

[১] ভাঁজ বলতে এখানে স্বাস্থ্যবতী মহিলার পেটে চামড়ার যে ভাঁজ পড়ে, তাই বুঝানো হয়েছে। সামনের দিকে এলে চার ভাঁজ দেখা যায় এবং পেছনে গেলে দু'পাশ থেকে চার চার করে আট ভাঁজ দেখা যায়।